Tag Archives: সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

আজকে আমরা আলোচনা করবো বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

বিধি-৬৮২। বিচারাধীন ফৌজাদারি বন্দী এবং সিভিল বন্দীদেরকে যথোপযুক্ত সময় এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সাথে সাক্ষাত বা মৌখিক বা লিখিত যোগাযোগের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

বিধি-৬৮৩। বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের আলাপ- আলোচনা দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রবণ সীমানার বাহিরে কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। বন্দীর নিকট আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের সময়েও অনুরূপ সুবিধা দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৬৮৪ । কোন বিচারাধীন বন্দীর আইনজীবি হিসেবে কোন ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছুক হলে তিনি নাম, ঠিকানা এবং পেশার বিবরণ দিয়ে লিখিত আবেদন করবেন। তিনি যে ঐ বন্দীর প্রকৃত আইনজীবি সে ব্যাপারে জেল সুপারকে নিশ্চিত হতে হবে। সাক্ষাত অনুমোদন করা হলে ঐ আইনজীবির নাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে এবং অনুষ্ঠিত সকল সাক্ষাত হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

বিধি- ৬৮৫। জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে ৬৮৪ বিধিতে বর্ণিত সাক্ষাতের কোন আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ সুপারের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে পারবেন।

বিধি- ৬৮৬। কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হলে, সাক্ষাত যত শীঘ্র সম্ভব অনুষ্ঠিত হবে এবং একজন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তা তত্ত্বাবধান করার জন্য উপস্থিত থাকবেন।

বিধি- ৬৮৭। বিচারাধীন বন্দী কর্তৃক তার আইনজীবির উদ্দেশ্যে লিখিত মামলা পরিচালনার নির্দেশ সম্বলিত একান্ত গোপনীয় পত্র জেল সুপার কর্তৃক পূর্ব পরীক্ষা ছাড়াই আইনজীবির নিকট ব্যক্তিগত ভাবে প্রেরণ করা যেতে পারে।

বিধি- ৬৮৮। সিভিল বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব জেল সুপার নির্ধারিত সময়ে এবং তার প্রদত্ত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সাক্ষাত করতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই ।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

টীকা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তরীণ (ডিটেন্যু) ব্যক্তিদের সাক্ষাত করার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নং ৬২৮৬- স্ব:ম: (নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ৮-১০-৯১ এবং স্মারক নং ৭৫৬১- স্ব:ম:(নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ২৬-১১-৯১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হবেঃ-

(ক) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়- স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি ১৫ (পনর) দিনে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন:

(খ) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত ব্যতীত অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়-স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি পঞ্জিকা মাসে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন;

(গ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় পৃথক পৃথক লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে:

(ঘ)প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশী হবে না;

(ঙ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় জেল কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং পুলিশের বিশেষ শাখার একজন প্রতিনিধি আলাপ-আলোচনা শ্রবণ সীমানার বাহিরে, কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন;

(চ) সাক্ষাতের সময় পারিবারিক বিষয় সমূহ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হলে অথবা কোন কিছু আদান-প্রদান করা হলে সাক্ষাতের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের প্রদত্ত সুবিধা রহিত করতে পারবেন; এবং

(ছ) সাক্ষাতের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

২। ঢাকা মহানগর এলাকা ব্যতীত সারা দেশে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সম্মতিক্রমে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করবেন।

৩। ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্তসহ অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক, বিশেষ শাখা প্রদান করবেন।

৪। অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য সকল সাক্ষাতের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেল কোডের বিধান অনুযায়ী সে সকল সাক্ষাতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে।