Tag Archives: সহকারী সার্জন

সহকারী সার্জন

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট

 

কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

নোট। কারা আইনের ৩(৮) ধারায় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বলতে সহকারী সার্জন, ঔষধ প্রস্তুতকারী বা উপ-সহকারী সার্জন বুঝানো হয়েছে।

বিধি-১০৬। কারাগারে সেবা প্রদানের জন্যে উপ-সহকারী সার্জন { মহা- পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | কর্তৃক প্রণীত রোষ্টার অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। যে সকল উপ-সহকারী সার্জনের । দুই বৎসর ধারবাহিকভাবে অস্থায়ী বা স্থায়ী } চাকরিকাল পূর্ণ হয়েছে তাদের নাম এই রোষ্টার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তারা কারা বিভাগে তাদের চাকরির পর্ব শুরু করবেন। উপ-সহকারী সার্জনগণ কারা বিভাগে ছুটিসহ সর্বাধিক ৫ বছর প্রেষণে কাজ করবেন।

এ সময়ে তারা কারা মহাপরিদর্শকের অধীনে ন্যস্ত থাকবেন এবং তার সম্মতি ব্যতীত তাদেরকে প্রত্যাহার করা যাবে না। সাধারণত: কোন উপ-সহকারী সার্জনকে দ্বিতীয়বার কারা বিভাগে ন্যস্ত করা হবে না। এমন হতে পারে যে কোন উপ-সহকারী সার্জন চাকরির প্রাথমিক পর্যায়ে কারা বিভাগে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। সে কারণে রোষ্টার করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্নদেরকে যেন মনোনীত করা হয়।

কারাগারে সংযুক্ত উপ-সহকারী সার্জনকে কারাগারের দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে কেবল মাত্র অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। কোন অবস্থাতেই তাকে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর দপ্তরের বাহিরের কোন হাসপাতালে নিয়োজিত করা যাবে না।

অনুরূপভাবে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারী সার্জনকে সিভিল সার্জন কর্তৃক কারাগারের হাসপাতালে প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। নৈমত্তিক ছুটিসহ উপ-সহকারী সার্জনের যে কোন প্রকার ছুটির আবেদন জেল সুপারের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে এবং এ সময় পূর্বেই জেল সুপারের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নং- ৩০৬৬ এইচ জে তারিখ ৩১-১২-১৯৪০ মূলে সংশোধিত।

নং- ৭২০ এইচ জে তারিখ ৩-৫-১৯৫৫ মূলে সংযোজিত।

নোট-১। উপ-সহকারী সার্জন পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদ। পূর্বে এল এম এফ ডিপ্লোমাধারী উপ-সহকারী সার্জনগণকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে কারা হাসপাতালে প্রেষণে নিয়োগ করা হতো। বর্তমানে এল এম এফ কোর্স চালু না থাকায় উপ-সহকারী সার্জন নিয়োগ করা হয় না।

নোট-২। জেল কোডে উল্লেখ থাকলেও কারাগার সমূহে মেডিকেল অফিসারের কোন বাস্তব পদ নেই। বর্তমানে প্রত্যেক কারাগারে একজন প্রথম শ্রেণীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছেন, তার পদবী সহকারী সার্জন সহকারী সার্জনের অধীনে ফার্মাস্টি ও ডিপ্লোমা নার্স রয়েছে।

 

কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট

 

বিধি-১০৭-১০৮। অকার্যকর।

বিধি-১০৯। (১) কারা হাসপাতালের রোগী এবং অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত লোকদের খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মান্য করবেন এবং সময়ে সময়ে মেডিকেল অফিসার কর্তৃক তার উপর আইন সম্মতভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। কারাগারের শৃঙ্খলা এবং সাধারণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি যথাক্রমে জেল সুপার এবং জেলারের আদেশ পালন করবেন।

(২) প্রত্যেক কারাগারে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার রিপোর্ট বইতে (রেজিষ্টার নম্বর-১) রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপার ও জেলার যে সকল আদেশ প্রদান করবেন তা মেডিকেল অফিসারকে দেখাবেন।

বিধি-১১০। যখন কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এবং একজন কম্পাউন্ডার থাকেন, মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করবেন তারা পালাক্রমে সে রকমভাবে ডিউটি করবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, তাদের যে কোন একজনকে দিনের যে কোন সময় কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে এবং অসুস্থ বা কাজের অযোগ্য না হলে অপরজন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কারাগার ত্যাগ করতে পারবেন না। তাদেরকে পালা ক্রমে রাত ১০-০০ টা থেকে সকালে আন-লক না হওয়া পর্যন্ত কারা হাসপাতালে ঘুমাতে হবে। মেডিকেল অফিসার যখন রোগী দেখবেন সে সময়ে এবং তিনি যেরূপ উচিত বিবেচনা করবেন সে সময়ে তাদেরকে কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে।

যখন কারাগারে একজন মাত্র মেডিকেল সাব অর্ডিনেট থাকেন এবং যদি কেবল কারাগারে রোগী দেখা তার একমাত্র কাজ হয় তা হলে তিনি খাবার গ্রহণের সময় ব্যতীত দিনের বেলায় অবশিষ্ট সকল সময়ের জন্যে কারাগারে উপস্থিত থাকবেন। যদি পার্শ্ববর্তী কোন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কারাগারে সংযুক্ত থাকেন তবে তিনি সকালে দিনের অন্য কাজ শুরু করার আগে একবার এবং বিকালে লক-আপের আগে আরেকবার কারাগারের রোগীদেরকে দেখবেন।

কোন রোগীর মারাত্মক অসুস্থতার সময়ে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রাতের বেলায় ঘন ঘন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং যে সকল ঔষধ এবং পথ্য ব্যবস্থাপত্রে লিখা হয়েছে সেগুলো ঠিক মতো বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা তা দেখবেন। তাকে আহবান করা মাত্র কাজে যাবার জন্যে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে ।

বিধি-১১১। ওয়ার্ড খোলার প্রাক্কালে তিনি দেখবেন বন্দীদের কেউ অসুস্থতার কথা বলছে কিনা। যদি প্রয়োজন হয় তিনি তাদেরকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে। পাঠাবেন, যদি তা প্রয়োজন মনে না করেন তবে তাদেরকে তিনি মেডিকেল অফিসার আসার পর তার সামনে উপস্থিত করবেন। তিনি রেজিষ্টারের ফরমে বা একটি তালিকায় দৈনিক মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা সকল বন্দীর হিসাব রাখবেন।

তিনি আরও দেখবেন বাহির কাজে যাওয়া গ্যাংয়ের বন্দীদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বারদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা। অতঃপর তিনি হাসপাতালে যাবেন এবং রোগীদেরকে ভিজিট করবেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল অফিসারের অবগতির জন্যে বেড হেড টিকেটে রোগীদের অবস্থা বা উন্নতির রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-১১২। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ‘কনভাল্যাসেন্ট’ ও ‘স্পেশাল’ গ্যাং এবং পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের ভিজিট করবেন। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা এবং নির্দেশ মোতাবেক তারা খাদ্য, পোশাক বেডিং এবং অন্যান্য সকল জিনিস পাচ্ছে কিনা দেখবেন। যদি মেডিকেল অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোন বন্দী কনভাল্যাসেন্ট বা স্পেশাল গ্যাং হতে বাহির হয়ে যায়, তা হলে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। 

বিধি-১১৩। তিনি সেলে আটক বন্দীদেরকে দৈনিক একবার ভিজিট করবেন এবং তাদের কোন অনুযোগ থাকলে তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।

 

কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট

 

বিধি-১১৪। সকল ঔষধ ঠিকভাবে প্রস্তুতের জন্যে, ঔষধ আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখার জন্যে এবং বিষাক্ত ঔষধ পৃথক ভাবে রাখার জন্যে তিনি দায়ী। থাকবেন। তিনি হাসপাতাল ডায়েট বই লিখবেন এবং যথোপযুক্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট চাহিদাপত্র পেশ করবেন। অসুস্থদের খাদ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত এবং বিতরণ হচ্ছে কিনা তিনি দেখবেন।

বিধি-১১৫। তিনি সকল হাসপাতাল রেজিষ্টার ও রিটার্ন হালনাগাদ লিপিবন্ধ করবেন, নিয়মিত প্রস্তুত রাখবেন এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট মাসে একবার পেশ করবেন ।

বিধি-১১৬। সার্জিকেল যন্ত্রপাতি ভাল ও নিরাপদে রাখার রাখার জন্যে এবং হাসপাতালের ব্যবহারের জন্যে বরাদ্দকৃত পোশাক, বেডিং, কম্বল প্রভৃতি পরিষ্কার রাখার জন্যে তিনি দায়ী থাকবেন। ষ্টকে কোন ঘাটতি থাকলে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।

বিধি-১১৭। তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম-বিধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন এবং লক্ষ্য রাখবেন সকল বিধি মানা হচ্ছে কিনা, কম্পাউন্ডার এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টেরা ঠিক মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কিনা এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টের সংখ্যা ঘাটতি বা অতিরিক্ত রয়েছে কিনা।

বিধি-১১৮। যখন কোন বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে যে তার জন্যে বিশেষ অসুস্থতার এটেন্ডেন্ট প্রয়োজন হয় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তখন মেডিকেল অফিসারের নিকট থেকে এ বিষয়ে আদেশ গ্রহণ করবেন। মেডিকেল অফিসার এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগের জন্যে জেল সুপারের নিকট আবেদন করবেন।

যদি মেডিকেল অফিসার নিজেই জেল সুপার হন তবে তিনি এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগ করবেন এবং বিষয়টি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন। কোন অসুস্থ বন্দীর এটেন্ডেন্টকে জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা যাবে না। যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে হাসপাতালে সাধারণ বা অসুস্থ

বন্দীর এটেন্ডেন্ট নিয়োগের জন্যে মনোনীত করা হবে তা রেকর্ড করতে হবে এবং অনুরূপ দায়িত্বের বিবরণ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করত েহবে। জেল সুপারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এ তালিকা বাতিল করা যাবে না।

বিধি-১১৯। যে সকল বন্দীর অসুস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের প্রতি তিনি সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন এবং এ ধরনের ঘটনা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। মানসিক অসুস্থ হিসেবে সন্দিগ্ধ বন্দীদেরকে তিনি দৈনিক পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।

বিধি-১২০। তিনি প্রায়শ: বিভিন্ন প্যারেডে উপস্থিত থাকবেন এবং যে সকল বন্দীকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় তাদেরকে চিকিৎসার জন্যে পৃথক করবেন।

বিধি-১২১। তিনি অস্ত্রের রোগে আক্রান্ত সকল বন্দীদেরকে পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করবেন এবং এ সব অফিসারের মল মেডিকেল অফিসারের দ্বারা ভিজিটের ব্যবস্থা করবেন। মেডিকেল অফিসারের ভিজিটের পর মল যথানিয়মে জীবাণুমুক্ত করে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করবেন। যখন মেডিকেল অফিসার কারাগার ভিজিট করবেন তখন মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট তার সঙ্গে থাকবেন এবং রোগীদের চিকিৎসা ও স্যানিটেশন বিষয়ে তার আদেশ নোট করবেন।

বিধি-১২২। তিনি কারাগারে নুতন ভর্তিকৃত সকল বন্দীকে সতর্কতার সথে পরীক্ষা করবেন এবং মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে ভর্তি রেজিষ্টারে বন্দীদের শারীরিক অবস্থা, ওজন, সনাক্তকরণ চিহ্ন, জখমী চিহ্ন, প্রতিষেধক বা টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। বিচারাধীন বন্দীদের জখমী বা পোড়া চিহ্ন বা এমন কোন জিনিস যা আদালতের জন্যে প্রয়োজন হতে পারে তা বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা যথাযথভাবে রেকর্ড করতে হবে এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাতে হবে।

যখন কোন বন্দীকে পুলিশের নিকট হতে পাওয়া যায় এবং জখমী অবস্থায় থাকে কিন্তু পুলিশ রিপোর্টে ঐ জখমের কোন উল্লেখ না থাকে তখন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অতি সত্বর বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন। জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে রিপোর্ট করবেন।

তিনি দেখবেন যেন বিধি ৫৫৩ এবং ৫৫৪ এর চাহিদা মোতাবেক যে সকল রেকর্ড হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করার কথা সে গুলো ঠিকভাবে নোট করা হয়েছে কিনা। যদি নুতন ভর্তিকৃত বন্দীর পোশাক গুদামে রাখা প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিশ্চিত হবেন সেগুলো পরিষ্কার ও সংক্রামন মুক্ত রয়েছে। 

বিধি-১২৩। মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দেখবেন সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং শিশুকে কারাগারে ভর্তির পরে যথাশীঘ্র সম্ভব প্রতিষেধক টীকা দেয়া হয়েছে কিনা।

বিধি-১২৪। যদি কোন মহিলা বন্দী অন্তঃসত্ত্বা মর্মে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, তবে তিনি বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।

 

বিধি-১২৫। তিনি যে কোন সংক্রামক রোগের বিষয়ে অতি সত্ত্বর মেডিকেল অফিসার এবং জেল সুপারকে জানাবেন। দুর্ঘটনা জনিত মারাত্মক জখম হবার ক্ষেত্রে বা কোন বড় অপারেশনের প্রয়োজন হলে তিনি অতি সত্বর মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। কারখানা দুর্ঘটনা বা অন্য কোন দুর্ঘটনার কারণে কোন বন্দী মারাত্মক আহত হলে তিনি বিষয়টি অতি সত্ত্বর জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-১২৬। তিনি খাদ্যগুদাম এবং রান্নাঘর দৈনিক পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি দেখবেন খাদ্য রাখা বা বিতরণের সকল পাত্র পরিষ্কার আছে কিনা, খাদ্য দ্রব্য, শাকসব্জি প্রভৃতির মান সম্মত কিনা, ঠিকভাবে ভাঙ্গা হয়েছে কিনা, ধোয়া হয়েছে কিনা এবং সঠিক পরিমাণে প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা।

কোন দ্রব্যকে স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে তার কাছে মনে হলে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্যে ঐ দ্রব্যের তার নমুনা সংগ্রহ করবেন। যদি খাদ্যের পরিমাণ এবং মান সন্তোষজনক নয় বলে তার কাছে মনে হয়, তবে তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন। বন্দীদের জন্যে যে কোন উৎস হতে সরবরাহকৃত সকল মাংশ, মাছ এবং দুধ পরিদর্শন করবেন এবং যদি কোন কিছু খাওয়ার অনুপযোগী হয় তৎক্ষণাৎ তা বাদ দেয়ার জন্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন।

বন্দীদেরকে দেয়ার আগে দুধ ঠিকমতো ফুটানো হয়েছে কিনা তিনি দেখবেন এবং সিভিল ও বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের সরবরাহকৃত খাবারও তিনি পরিদর্শন করবেন ।

বিধি-১২৭। খাবার সরবরাহ করার পূর্বে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তা পরীক্ষা করে দেখবেন। তা ছাড়া সে সব ঠিক মতো রান্না করা হয়েছে কিনা, সঠিক পরিমাপের তেল, লবন দেয়া হয়েছে কিনা দেখবেন। কোন বন্দী স্বাস্থ্য অনুপযোগী হবার কারণে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের ওজন হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কোন খাবারের নির্দিষ্ট অংশ বার বার খাওয়া থেকে বিরত থাকলে তিনি তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন ।

বিধি-১২৮। তিনি নলকূপ, ট্যাংক বা পানি সরবরাহের অন্যান্য উৎস সমূহ ত্রৈমাসিক পরিদর্শন করবেন। কোন প্রকার সরবরাহের ঘাটতি আছে কিনা বা পানি দূষিত হবার মতো কিছু ঘটেছে কিনা সে দিকে মনোযোগ দিবেন। যে সব ছাঁকনি এবং পাত্র পানি বহন বা রাখার কাজে ব্যবহৃত হয় তিনি দৈনিক সেগুলো পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার এবং ব্যবহার উপযোগী রয়েছে কিনা  দেখবেন।

বিধি-১২৯। তিনি দৈনিক সকল লেট্রিন এবং প্রস্রাবখানা পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখবেন। তিনি আরও দেখবেন হাসপাতাল ওয়ার্ড, স্লিপিং ব্যারাক এবং ওয়ার্কশপের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা মৌসুম অনুযায়ী সঠিকভাবে রয়েছে কিনা। আরও দেখবেন বন্দীদের ঘুমানোর ব্যবস্থা যাতে এমনভাবে করা হয় যেন সরাসরি দমকা বাতাস বা বৃষ্টির ফোটা তাদেরকে স্পর্শ না করে এবং সকল দরজা দিনের বেলায় যাতে খোলা যায়।

বিধি-১৩০। যে সকল শেডে দুধের গাভী রাখা হয় সেগুলো তিনি দিনে একবার পরীক্ষা করবেন। এ সব স্থান পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধমুক্ত রয়েছে কিনা তা দেখবেন। দুধ রাখার ও সিদ্ধ করার পাত্রগুলো পরিষ্কার ও ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে কিনা দেখবেন। তিনি কারাগারের গাভীগুলো হতে কি পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় এবং এ বাবদ খরচের দৈনিক হিসাব রাখবেন, যদি বন্দীদের উপকারে না আসে বা তাদের ডায়েট উন্নত না করার মতো কোন বিষয় থাকে তবে তিনি তা জেল সুপারকে জানাবেন ।

বিধি-১৩১। সকল বন্দীর পাক্ষিক ওজন এবং ওজন হ্রাস প্রাপ্তদের সাপ্তাহিক ওজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে, তিনি বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেটে ওজন নিজ হাতে রেকর্ড করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি জুনিয়র সাব এ্যাসিস্টেন্ট সার্জন (যদি থাকে) বা কম্পাউন্ডার বা জেল সুপার কর্তৃক নিযুক্ত ডেপুটি জেলারের সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন। যে সকল বন্দীর ক্রমান্বয়ে ওজন কমছে তাদের বিষয়ে ওজন গ্রহণের একদিনের মধ্যে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।

বিধি-১৩২। তিনি সকল মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গে জেলার এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন মৃত দেহটি মৃত স্থান হতে সুন্দর ভাবে অপসারণ করা হয়, পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার জন্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন, মেডিকেল অফিসারকে পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার কাজে সাহায্য করবেন এবং পোস্ট মর্টেমের পর মৃতদেহ সঠিকভাবে সেলাই করা এবং ঢেকে দেয়ার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-১৩৩। তিনি সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী, গ্রহরী এবং কারাগারের সীমানায় বসবাসকারী অন্যান্যদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। কোন সমস্যার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

 

কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট

 

 

বিধি-১৩৪। তিনি উপরে বর্ণিত তার নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও মেডিকেল অফিসারের প্রয়োজন মাফিক কারাগারের বন্দীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি বন্দীদের স্বাস্থ্য বিধি লংঘিত হবার যে কোন বিষয় সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট প্রদান করবেন, যেমন :

(ক) ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য স্থানে অতিরিক্ত বন্দীর অবস্থান,

(খ) অশুদ্ধ ওজন বা খাদ্য বিতরণ, 

(গ) মৌসুমের অনুপযোগী, পরিধানের অনুপযুক্ত এবং নোংরা পোশাক, 

(ঘ) ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি অবহেলা,

(ঙ) বন্দীদের বিনা কারণে আর্দ্র আবহাওয়ায় বা রোদে নেয়া, 

(চ) খাদ্যে অনিয়মানুবর্তিতা কিংবা খাদ্য কম দেয়া,

(ছ) বায়ু চলাচল, শুষ্ক ও পরিষ্কার বিছানাপত্রের প্রতি অবহেলা,

(জ) অনুপযোগী কাজ বিশেষত দুর্বল লোকদের ক্ষেত্রে,

(ঝ) ওয়ার্কশপকে ডরমেটরী বা ডরমেটরীকে ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার,

(ঞ) লবন, মসলা, তেল প্রভৃতি গুরুত্ব খাদ্য উপাদান ঘাটতি বা ঠিকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া।

বিধি-১৩৫। কেন্দ্রীয় কারাগারসমূহে যেখানে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট জেলা কারাগারের চেয়ে নিয়মিত হাসপাতাল দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সেখানে ওয়ার্ড, লেট্রিন, প্রস্রাবখানা, পানি ও দুধের পাত্র প্রভৃতি নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই; সেগুলো মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করেন সে রকম বিরতিতে পরিদর্শন করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে এ সকল বিষয়ে সব সময় মনোযোগ রাখতে হবে এবং কোন প্রকার নিয়মের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

বিধি-১৩৬। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন ঔ করা আবশ্যক তা হলে তার লিখিত অনুমতিক্রমে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বাজার হতে ঔষধ ক্রয় করতে পারবেন। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অসুস্থ রোগীদের পথ্য বাৰত কোন ক্রয় করবেন না, তা বন্দীদের খাদ্য সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা হবে। মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ভাউচার আনুষঙ্গিক বিলের সাথে দাখিল করতে হবে।