আজকে আমরা বন্দী মুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো

বন্দী মুক্তি । জেল কোড
নোট- মুক্তির তারিখ গণনার জন্যে একাদশ অধ্যায়ের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিধি-৫৬৬। পরবর্তী মাসে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির তারিখ রয়েছে, পূর্ববর্তী মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে তার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
বিধি-৫৬৭। পরবর্তী পক্ষ সমূহে মুক্তি পেতে পারে এমন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দীদের স্লিপ (পি. আর, স্লিপ) প্রত্যেক মাসের ১ম এবং ৩য় রবিবারে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করতে হবে।
বিধি-৫৬৮। ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৬৫ ধারার বিধানমতে আদেশাধীন সাজা প্রাপ্ত বন্দী মুক্তির পর কোথায় বসবাস করবে মুক্তির পূর্বে জেলার তার রিলিজ ডাইরীতে সে ঠিকানা লিপিবদ্ধ করবেন। উক্ত ঠিকানা রিলিজ নোটিশেও লিখতে হবে এবং এর তিন কপি ঠিকানায় বর্ণিত জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।
টীকা– কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির ২১৫,৪৮৯-ক, ৪৮৯-খ, ৪৮৯-গ, ৪৮৯-ঘ ধারা অথবা দ্বাদশ বা সপ্তদশ অধ্যায় অনুসারে তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে একবার দণ্ডিত হবার পর যদি একই ধারা সমূহ বা অধ্যায়দ্বয়ের যে কোনটি অনুসারে পুনরায় তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সময় আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, এই দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার তারিখ হতে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত তার বাসস্থান ও বাসস্থানের পরিবর্তন বা বাসস্থান হতে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানাতে হবে (ধারা eve, ফৌজদারি কার্যবিধি)।
বিধি-৫৬৯। ১। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ ১৪ বৎসর সাজা অতিবাহিত করার পর তার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে, প্রস্তাব সম্ভাব্য মুক্তির তারিখের দুই মাসের কম বা তিন মাসের বেশী পূর্বে প্রেরণ করা যাবে না।
নোট-১। সকল প্রকার বিশেষ রেয়াত গণনায় ধরতে হবে।
নোট-২। অকার্যকর।
নোট-৩। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত না হলে ১৪ বৎসর সাজা ভোগের পর সরকার মুক্তি প্রদান না করলে বিধি ৭৭১ অনুসরণ করা হবে এবং পূর্ণ মেয়াদ শেষে মুক্তি দেয়া হবে। সরকারের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে সে সময় সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে না।

বিধি-৫৭০। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টসহ জেল সুপারের নিকট নিয়ে আসবেন এবং জেল সুপারের উপস্থিতিতে তাকে জেল গেইটে মুক্তি দেয়া হবে । বন্দীর চূড়ান্ত মুক্তির সকল কাগজ জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়ে থাকলে তার মুক্তির আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাকে যে কারাগারে বদলি করা হয়েছে সে কারাগারে রেজিস্টার্ড ডাক যোগে পাঠাতে হবে।
বিধি-৫৭১। কোন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে ভর্তি রেজিষ্টারে বর্ণিত তথ্যাদি মিলিয়ে দেখতে হবে। জেল সুপার বা জেলার আরো নিশ্চিত হবেন যে, সঠিক লোককেই হাজির করানো হয়েছে এবং রেয়াতের ব্যতিক্রম ব্যতীত তার দণ্ডাদেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হয়েছে। মুক্তি প্রদানের সময় বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসার তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।
বিধি-৫৭২। মুক্তির তারিখে বন্দী যে কারাগারে আটক ছিল সাধারণত সে কারাগার হতে মুক্তি পাবে,তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, কোন বন্দীকে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে এবং সেখান থেকে মুক্তি প্রদান করতে হবে।
বিধি-৫৭৩৷ লক আপ সময়ের পর কোন কারণেই কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না ৷ কোন আদালত থেকে মুক্তির আদেশ সূর্যাস্তের পরে জারী করা উচিত হবে না এবং যদি করা হয় তাতে উল্লেখ করতে হবে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরদিন সকালে মুক্তি প্রদান করতে হবে। সাধারণত বন্দীদের সকালের নাস্তা খাবার শেষ হবার পর এবং সূর্যোদয়ের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বন্দী মুক্তি প্রদান করতে হবে । বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে অফিসে হাজির করতে হবে এবং তার কাছ থেকে কারাগারের পোশাক ও জিনিসপত্র বুঝে নিতে হবে।
বিধি-৫৭৪। কোন বন্দীর মুক্তির তারিখ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলে তাকে পূর্ব দিন মুক্তি দিতে হবে। তবে বিচারে-দেনদারকে দাবী প্রাপকের সম্মতিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুক্তি দেয়া যাবে যদি সে দিন মাসের প্রথম তারিখ হয়।
বিধি-৫৭৫। টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশে কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না।
বিধি-৫৭৬। ছয় মাস বা ততোধিক মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময় জেল সুপার ৩১ নম্বর ফরমে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী তার সাজার পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করেছে। বন্দী কোন রেয়াত অর্জন করে থাকলে সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করতে হবে।
বিধি-৫৭৭। বন্দী যে সকল জিনিস পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিল মুক্তি প্রদানের সময় সে গুলো এবং তার আনীত কোন জিনিস বিক্রি করা হয়ে থাকলে তার টাকা এবং নগদ জমা টাকা জেল সুপার বা জেলার বন্দীকে ফেরত প্রদান করবেন। জিনিসপত্র ফেরত প্রদানের প্রাপ্তি স্বীকার বন্দী থেকে স্বাক্ষর করে রাখতে হবে।
বিধি-৫৭৮। বন্দী যে পোশাকে কারাগারে এসেছিল সে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাধারণত তাকে মুক্তি দেয়া হবে। সে সব পোশাক ইতোমধ্যে নষ্ট বা নোংরা হয়ে গেলে তার নিজের কেনা পোশাক বা কারাগার থেকে দেয়া সাধারণ কাপড় পরিহিত অবস্থায় মুক্তি দেয়া হবে। মুক্তি প্রদানের আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করতে হবে।

বিধি-৫৭৯। (১) কোন বন্দীর বাড়ি কারাগার থেকে ৫ মাইলের বেশী দূরে অবস্থিত হলে এবং তার কাছে দুই টাকার বেশী না থাকলে প্রতি পনর মাইল দূরত্বের জন্যে তাকে ২৫ পয়সা হারে ভাতা দেয়া হবে ।
(২) রেল বা ষ্টিমারে যাবার জন্যে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে তার বাড়ির ষ্টেশন পর্যন্ত নিম্নতম শ্রেণীর একটি ফ্রি পাস দেয়া হবে।
(৩) নৌকা যোগে পাঠাতে হলে নৌকা ভাড়া করে দিতে হবে।
(৪) ৫ মাইলের কম দূরত্বের জন্যে কোন ভাতা দেয়া যাবে না।
(৫) শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে গাড়ি বা বাস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
(৬) প্রয়োগ নেই।
(৭) কোন মহিলা বন্দীকে মুক্তি প্রদানের কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে তার নিজ জেলায় বদলি করতে হবে। যথাসময়ে বন্দীকে জেল গেইট থেকে নেয়ার জন্যে প্রেরণ করতে হবে। তাকে নেয়ার জন্যে কেউ না এলে এবং তার বয়স ২৫ মুক্তির । একমাস আগে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ বছরের কম হলে একজন মহিলা কারারক্ষীর জিম্মায় তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে।
{(৮) উপ-বিধি (১) এবং (২) কোন বিচারাধীন বন্দীর জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিংবা রেলওয়ে আইনের অধীনে এক মাসের কম মেয়াদে কারাদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।}
(৯) এ বিধি এবং পরবর্তী বিধিতে বর্ণিত ভাতা জেল সুপারের উপস্থিতিতে প্রদান করতে হবে।
বিধি-৫৮০। সকল সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দীকে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। জেল সুপার এ জন্যে একদিন আগে পুলিশ সুপারকে জানাবেন। এদের ভাতা পুলিশের নিকট দিতে হবে।
নোট- এ উদ্দেশ্যে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দী বলতে ১৬ বৎসরের কম বয়সের বন্দীকে বুঝাবে।
বিধি ৫৮১-৫৮২। অকার্যকর।

বিধি-৫৮৩। কোন বন্দী মারা গেলে বা দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি পেলে বা জামিনে মুক্তি পেলে দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে এবং সে সঙ্গে মৃত্যু বা মুক্তি বা জামিনের কারণ ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক আদেশে দত্ত প্রাপ্ত হলে মোট দণ্ড ভোগ করার পর ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং পুনরায় ধৃত না হলে পলায়নের দশ বছর পর কিংবা দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর, যা শেষে ঘটে, তার দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে।
টীকা- দণ্ড সম্পূর্ণরুপে কার্যকর হওয়ার পর যে অফিসার তা কার্যকর করেন তিনি যে ভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজ স্বাক্ষর যুক্ত সার্টিফিকেটসহ ওয়ারেন্টটি যে আদালত প্রদান করেছিলেন সে আদালতে প্রত্যার্পণ করবেন (ধারা-৪০০, ফৌজদারি কার্যবিধি)।
বিধি-৫৮৪। যখন কোন বন্দীকে তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি প্রদানের জন্য কোন আদালত হতে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়, তখন জেল সুপার বন্দীর নিকট হতে তার উপস্থিতিতে বন্ডে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন। যদি ওয়ারেন্টে অন্য কোন ব্যক্তির মুচলেকা প্রদানের আদেশ থাকে তবে, ব্যক্তি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট মুচলেকা প্রদান করেছেন এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদান উল্লেখিত করা হউক, এই মর্মে আরেকটি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করা যাবে না।
বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পর ওয়ারেন্ট এবং মুচলেকা বন্ড, যদি থাকে, ঐ আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। মুক্তি প্রদানের কারণ, তারিখ এবং যে আদালতের আদেশে মুক্ত প্রদান করা হয়েছে তার নাম উল্লেখ পূর্বক কারাবাসের ওয়ারেন্ট সে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে, যে আদালত তা জারী করেছিল।
বিধি-৫৮৫। মুক্তির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় প্রেরিত বন্দীর বিষয়ে যথাযথ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন ৫৬৭ বিধি অনুযায়ী পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী রেয়াত বিধির অধীনে পূর্ণ রেয়াত প্রাপ্ত হয়েছে কিনা ।
বিধি ৫৮৬-৫৯০। অকার্যকর।
বিধি-৫৯১। (১) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সংক্রামক ব্যাধি ব্যতীত অন্য কোন অসুস্থতার কারণে যদি এমন মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয় যে, কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে তার আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাকে নিজ বাড়িতে স্বস্তিতে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দান করাই শ্রেয়, এবং সে যদি কোন জঘন্য অপরাধ বা সমাজের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের দায়ে ৭ বছরের অধিককাল দণ্ডিত না হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।
(২) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর অবশিষ্ট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের বেশী না হয়, তা হলে তিনি তাকে অবিলম্বে যুক্তির আদেশ দিতে পারবেন।
(৩) অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্যে সুপারিশসহ জরুরী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।
(৪) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আত্মীয়-স্বজন গ্রহণ করতে আগ্রহী না হলে এ পদ্ধতিতে মুক্তি দেয়া যাবে না ।
(৫) এ ধরনের মুক্তি প্রদত্ত বন্দীকে কারা পরিসংখ্যানে মৃত বন্দীর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে ।

বিধি-৫৯২। (১) যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শারীরিক অবস্থা এমন মরণাপন্ন হয় যে, কারাগারে থাকলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যুক্তি প্রদান করা হলে বাঁচার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা আছে, তা হলে জেল সুপার যে জেলায় বন্দী অপরাধ করেছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান করবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিম্নোক্ত শর্তাধীনে উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তির অনুমতি প্রদান করতে পারেন-
(ক) যখন বন্দীর অনতিবাহিত সাজার পরিমাণ ৬ মাসের বেশী নেই;
(খ) যখন তাকে মুক্তি প্রদান করলে আরোগ্য লাভের যুক্তি সঙ্গত কারণ রয়েছে;
(গ) যখন রোগটি বন্দীর নিজ ইচ্ছায় অর্জিত না হয়।
(২) {মুক্তির পূর্বে বন্দীকে ১০৬এ নম্বর ফরমে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে এবং তাকে জানাতে হবে। যে, তার এ ধরনের মুক্তি প্রদানের বিষয়টি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে, যদি সরকার অনুমোদন প্রদান না করেন তবে তাকে আবার কারাগারে ফিরে এসে অবশিষ্ট অনতিবাহিত সাজা ভোগ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দীর আত্মীয়-স্বজন হতে মুচলেকা রাখতে হবে এবং তাদের পরিচয় ও ঠিকানা রেকর্ড করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি দিয়ে ধাতব্য খানায় বা হাসপাতালে প্রেরণ করা যাবে না।
(৩) যদি জেলা ম্যাজিট্রেট জেল সুপারের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, জেল সুপার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উপস্থাপনের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করতে পারেন। বিভাগীয় কমিশনার এ বিধিতে উল্লেখিত শর্তাধীনে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারেন অথবা বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্যে প্রেরণ করতে পারেন।
নোট– কুষ্ঠ,যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে গণ্য হবে।
নং- ২১৮২ এইচ জে, তারিখ ২২-১০-১৯৪৫ মূলে সংশোধিত মার
বিধি-৫৯৩। শান্তি রক্ষা কিংবা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্য সাজা ভোগরত কোন বন্দীর অসুস্থতার জন্যে মরণাপন্ন অবস্থা দেখা দিলে তার অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ যাহাই হোক না কেন, জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় প্রদত্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন।
টীকা– জেলা ম্যাজিট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিট্রেট যখন মনে করেন যে, মুচলেকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যে ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাকে মুক্তি দেয়া হলে সমাজের বা কোন লোকের কোন বিপদ ঘটবে না, তখন তিনি তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন। ( ধারা ১২৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি)।
বিধি-৫৯৪। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যদি সম্পূর্ণ ও আরোগ্যের অতীত অস্ব হয়ে যায়, যা তার স্বেচ্ছায় আরোপিত নয়, কিংবা এমন জরাজীর্ণ কিংবা বৈকল্য হয়ে যায় যে মুক্তি প্রদান করা হলে তার দ্বারা পুনরায় কোন অপরাধ সংঘটন করা সম্ভব হবে না এবং মুক্তি প্রদান করা হলে কোন ঝামেলা বা বিপদের উদ্ভব ঘটবে না, তা হলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট উক্ত বন্দীর ব্যাপারে ১০৫ নম্বর জেল ফরমে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, তবে প্রতিবেদন প্রণয়নের পূর্বে যে জেলায় বন্দী দণ্ডিত হয়েছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মতামত গ্রহণ করতে হবে।
নোট-১। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণীয়।
নোট-২। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর ব্যপারে বিধি ১২৬৫, এবং গুরুতর অসুস্থ বা মরণাপন্ন সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৯৫ এবং ৯৩১ অনুসরনীয়। নোট-৩। যে ক্ষেত্রে এ বিধিসমূহ পর্যাপ্ত নয় সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুসারে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
বিধি-৫৯৫। বিধি ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ মোতাবেক মুক্তি প্রদানের প্রতিটি বিষয় সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১০৫ বা ১০৬ নম্বর জেল ফরমে প্রেরণ করতে হবে, তিনি এসব মুক্তি প্রদানের বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।
বিধি-৫৯৬। কোন অসুস্থ বা মরণাপন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ বিধি মোতাবেক মুক্তির নির্দেশ প্রদানের পর তার আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যে কারাগারে আটক আছে সেখান থেকে তাকে নেয়ার খরচ বহনের অপরাগতা প্রকাশ করে, তা হলে ঐ সকল আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যে জেলায় বসবাস করে জেলার কারাগারে প্রেরণ করা যাবে। স্থানান্তরের পর এবং মুক্তি প্রদানের আগেই যদি বন্দী মৃত্যুবরণ করে তবে যে কারাগার হতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছিল ঐ কারাগারের পরিসংখ্যানে মৃত্যু রেকর্ডভুক্ত হবে।
বিধি-৫৯৭। {(i) জেল সুপার যদি মনে করেন যে, কোন বন্দীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন প্রয়োজন, কিন্তু যে কারাগারে সে আছে তাতে তজ্জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুবিধাদি নেই, তা হলে যে কারাগারে এরূপ হাসপাতাল আছে সেখানে বন্দীকে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন।
(ii) যদি তা সম্ভব না হয় তবে জেল সুপার বন্দীকে গ্রহরা দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করবেন এবং বন্দী কারাগারে ফেরত না আসা পর্যন্ত কারারক্ষী দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।বাহিরের হাসপাতালে পাঠানোর পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে জরুরী ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়া সম্ভব না হলে কারা মহাপরিদর্শককে অবহিত রেখে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করার পর পরই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্যে লিখতে হবে।
(iii) জেল সুপার কারাগারের বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দীদের প্রহরার জন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ভয়ংকর এবং উগ্র বন্দীর ক্ষেত্রে কারারক্ষীকে পুলিশের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার জন্যে তিনি পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করবেন ।
(iv) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার বন্দীর চিকিৎসার জন্যে এবং তারে হাসপাতালে রাখা বা হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে দায়ী হবেন। হাসপাতালের নিয়ম কানুন বিষয়ে বন্দীর নিয়ন্ত্রণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। অন্যান্য বিষয়াদি (যেমন-পত্র যোগাযোগ, সাক্ষাত এবং অন্যান্য সুবিধাদি) কারাগার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। এতদুদ্দেশ্যে জেল সুপার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করবেন এবং মাঝে মাঝে কারা কর্মকর্তাগণ বন্দীকে ভিজিট করবেন।
নোট-১। উপ-বিধি (১) এবং (২) বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে তখন প্রযোজ্য হবে যখন তার জামিন না মঞ্জুর হবে।
নোট-২। হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দীর হাসপাতালে অবস্থান কাল ৭৫৬ বিধি মোতাবেক রেয়াত গণনার জন্য যোগ্য হবে।।
নং ৩৪৭ এইচ জে তারিখ ১৯-২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।
বিধি-৫৯৮। ডিটেন্যু বা রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত অন্যান্য বন্দীদেরকে সিভিল হাসপাতালে প্রেরণের পূর্বে তাদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে জেল সুপার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলকে প্রয়োজনীয় বিশেষ পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করার জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।