আজকের আলোচনার বিষয়ঃ সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র । জেল কোড
সাধারণ নিয়মাবলী
বিধি-৬৬৩। (১) প্রত্যেক নুতন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারে আগমনের পর তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাতের যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দিতে হবে, যাতে করে সে আপীল প্রস্তুত কিংবা জামিন লাভের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে পরামর্শ করতে পারে। তাকে তার সম্পত্তি বা পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত করার বা চিঠিপত্র লিখার জন্যে এক বা দুইবার বা জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে আরো বেশী বার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।
(২) জরিমানা বা ফৌজদারি কার্যবিধির অষ্টম অধ্যায়ের অধীনে মুচলেকা খেলাপের জন্যে সোপর্দকৃত বন্দীকে চিঠিপত্র লিখার এবং জরিমানা পরিশোধ করার বা মুচলেকা প্রস্তুতির জন্যে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ সাক্ষাতের সময় দিতে হবে।
(৩) বর্তমানে প্রয়োগ নেই ।
(৪) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সঙ্গে সে পরিমান সাক্ষাতের এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে জেল সুপার যে পরিমাণ সঙ্গত মনে করেন।

বিধি-৬৬৪। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত সুবিধাদি ছাড়াও একজন সাজাপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেনীর বন্দী তার আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাত এবং চিঠি পত্র আদান প্রদানের জন্যে দুই মাসে একবার সুযোগ পাবেন এবং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার মাসে একবার সুযোগ পাবে। এ সুযোগ সদাচারের সঙ্গে শর্তযুক্ত এবং অসদাচরণের জন্যে জেল সুপার তা বাতিল বা রহিত করতে পারবেন।
নোট-১। কেবল মাত্র সাক্ষাত প্রার্থনার জন্যে প্রেরিত পত্র এই বিধিতে পত্র যোগাযোগ গণনার জন্যে ধরা হবে না।
নোট-২। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সাক্ষাতের সুযোগকে চিঠিপত্র আদান প্রদাম কিংবা চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগকে সাক্ষাতে পরিবর্তন করতে পারবে।
বিধি-৬৬৫। বিশেষ বা জরুরী প্রয়োজনে জেল সুপার বিধি-৬৬৪ এ বর্ণিত বিধান ছাড়াও এবং বন্দীর অসদাচরণ সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম বিরতিতে সাক্ষা এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। যেমন-বন্দীর মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা কোন আত্মীয় স্বজন এমন দূর হতে আসে যে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে পুনরায় আসা তাদের জন্যে কষ্টকর হবে কিংবা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তি আসন্ন এবং সে চাকরির খোঁজ করছে বা অন্যান্য যুক্তি সঙ্গত কারণ।
আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সংবাদ যে কোন সময় আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব কর্তৃক জেল সুপারের কাছেও দেয়া যেতে পারে, জেল সুপার সমীচীন মনে করলে সংবাদের বিষয়বস্তু বন্দীকে জানাবেন ।
বিধি-৬৬৬। জেল সুপারের অনুমতি ছাড়া কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে কারো সাথে সাক্ষাত কিংবা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে না। এ ধরনের অনুমতির লিখিত রেকর্ড থাকবে।
বিধি-৬৬৭। জেল সুপারের বিবেচনা মতে, বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি লিখিত বা মৌখিক যে কোন প্রকারে চাওয়া যেতে পারে। বন্দী যদি সাক্ষাতের উপযুক্ত না হয় তা হলে সাক্ষাত প্রার্থীকে তা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিতে হবে।
বিধি-৬৬৮। জেল সুপার সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় নির্ধারণ করবেন। ঐ সময়ের বাহিরে জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাক্ষাত করা যাবে না। সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় সংক্রান্ত একটি নোটীশ কারাগারের বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৬৬৯। প্রত্যেক সাক্ষাত যথাসম্ভব জেল গেইটের নিকটে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা বেশী না হলে একই কক্ষে একই সময়ে একটি সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে। মহিলা বন্দীদের সাক্ষাত সম্ভব হলে মহিলা বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হবে। যদি বন্দী মারাত্মক অসুস্থ হয় তবে জেল সুপার হাসপাতালে বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাধারণত তার সেলে সাক্ষাত হবে। বিশেষ কারণে, কারণ লিপিবদ্ধ করে, জেল সুপার কারাগারের যে কোন স্থানে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।
বিধি-৬৭০। প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দীর সাক্ষাত জেলার কর্তৃক লিখিত ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে হবে যিনি সাক্ষাত কালে কোন অনিয়ম হলে তার জন্যে দায়ী থাকবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে তিনি দেখতে এবং শুনতে পান এবং যেন কোন দ্রব্যাদি আদান প্রদানে বাধা দিতে পারেন। শর্ত থাকে যে, কোন পুলিশ অফিসারকে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত ছাড়াই একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন ।
[ কোন আফটার কেয়ার বা প্রবেশন অফিসার কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন কোন বন্দীর সাক্ষাত কালে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হবে না।]
বিধি-৬৭১। সাক্ষাতের সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে যে কোন সাক্ষাত যে কোন সময়ে অবসান করে দেয়া যেতে পারে। এরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে | অবসানের। কারণ তাৎক্ষণিক ভাবে কারাগারে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার আদেশের জন্যে জানাতে হবে। | সাক্ষাত পর্বে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনা কিংবা বন্দীর নিকট রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান কিংবা পারিবারিক বা সাংসারিক বিষয়ের বাহিরে অন্য কোন আলোচনা করার অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিধি লংঘনকারীকে কারা আইনের ৪২ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।
নং-১৯৬৩ এইচ জে, তারিখ-২১-৫-১৯৩৮। সঙ্গে
বিধি-৬৭২। প্রতিটি সাক্ষাতের অনুমোদিত সময় সাধারণত ২০ মিনিটের বেশী হবে না, তবে জেল সুপারের বিবেচনা মোতাবেক এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।
বিধি-৬৭৩। যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দী এবং { বিচারাধীন ফৌজদারি | বন্দীকে প্রতিটি সাক্ষাতের পূর্বে এবং পরে সতর্কতার সাথে তল্লাশী করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে জেলার একজন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে লিখিত নির্দেশে দায়িত্ব প্রদান করবেন।
বিধি-৬৭৪ । কোন আইনজীবি কোন ফৌজদারি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সাথে সাক্ষাত করতে চাইলে ২৪ ঘন্টা পূর্বে তাকে আবেদন করতে হবে এবং সাক্ষাতের কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে। জেল সুপারের আদেশ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। যদি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়, তবে তা বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য নিয়মে হবে।
বিধি-৬৭৫। জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগত কোন সাক্ষাত প্রার্থীর নাম এবং ঠিকানা জানতে চাইতে পারবেন, এবং যদি সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, সাক্ষাত প্রার্থী বন্দীর জন্যে কোন নিষিদ্ধ বস্তু সঙ্গে এনেছেন, তা হলে জেলার ঐ ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ বা বন্দীর সাথে দেখা করার পূর্বে তল্লাশী করতে পারবেন; তল্লাশী অন্য কোন বন্দী বা সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে হবে না।
যদি সাক্ষাত প্রার্থী মহিলা হয় তা হলে একজন মহিলা দ্বারা তল্লাশী করতে হবে। যদি সাক্ষাত প্রার্থী তল্লাশী প্রদানে রাজী না হন, তা হলে জেলার তাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করা হলে কিংবা কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানের অস্বীকৃতি জানানো হলে জেলার পরিস্থিতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার কারণ রিপোর্ট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং পরবর্তী ডিজিটের সময় জেল সুপারকে জানাবেন।
বিধি-৬৭৬। জেল সুপার বা জেলার বা জেল সুপারের নির্দেশিত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দ্বারা পরীক্ষা ও স্বাক্ষর করা ব্যতীত কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিলি করা হবে না, কিন্তু পত্র বিলিতে কোন অনাবশ্যক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। জেল সুপার অপিরিচিত ভাষায় লিখিত কোন পত্র বিলির পূর্বে অনুবাদ করার ব্যবস্থা করবেন। সাংকেতিক লেখা পত্র অনুমোদিত হবে। না। জেল সুপার আপত্তিকর লেখা কিংবা ঘষা মাজা করা পত্র আটক করতে পারবেন। পত্র প্রাপক বন্দীর নিকট কোন নগদ অর্থ না থাকলে অস্ট্যাম্পকৃত বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত পত্রের ডাকমাশুল জেল সুপার “বন্দীদের সম্পত্তি” খাত হতে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৬৭৭। কোন বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিধিগত কারণে ঐ বন্দী কর্তৃক গ্রহণের উপযুক্ত না হলে জেল সুপার তা নিজের কাছে রেখে দিবেন। আপত্তিকর না হলে বন্দী পত্র প্রাপ্তির উপযুক্ততা অর্জন করলে বা মুক্তির সময় তার কাছে পত্রটি হস্তান্তর করা হবে।
বিধি-৬৭৮। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর নিকট বিলিকৃত কোন পত্র যথাযথ অনুমতি ক্রমে সে নিজের কাছে রাখতে পারবে, যদি জেল সুপার অন্য প্রকার কোন নির্দেশ প্রদান না করেন।
বিধি-৬৭৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী চিঠি লিখার অনুমতি প্রাপ্ত তাদেরকে পোস্ট কার্ড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। একজন বন্দী বি.জে ফরম ৪১-এ চিঠি লিখবে এবং ফরমের এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।
বিধি-৬৮০। এ বিধি সমূহের অধীনে সাক্ষাতের সাধারণ অধিকার আছে এমন কোন বন্দীর সঙ্গে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোন কারণে জেল সুপার কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সাক্ষাত প্রদান না করার কারণ তিনি লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-৬৮১। কোন বন্দী সাক্ষাত বা পত্রালাপের সুযোগের কোন প্রকার অপ- ব্যবহার করলে পরবর্তী কালে তার সাক্ষাতের সুযোগ রহিত করা হবে।