আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা । জেল কোড
বিধি-৮০৬। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু, বা দুর্ঘটনা বা সন্দিগ্ধ আত্মহত্যা জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা মৃত দেহের সুরতহাল করতে হবে। মৃত্যুর ঘটনা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা তার নিয়োজিত অন্য কোন কর্মকর্তা যথাযথভাবে তদন্ত করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব না থাকলে, বা ঘটনার সঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকষর্ণ যোগ্য কারা প্রশাসনের কোন ত্রুটি না থাকলে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণের আবশ্যকতা নেই। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু সম্পর্কে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।
বিধি-৮০৭। আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীদের ক্ষেত্রে বিধি ৭৪০ এবং ৭৪৬ অনুসরণ করতে হবে। চাকু, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, দড়ি প্রভৃতি বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। ওয়ার্কশপ, নাপিতের দোকান বা দর্জি খানায় ব্যবহৃত কাঁচি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কাজ শেষে একজন কারারক্ষী কর্তৃক গণনা পূর্বক নিরাপদ স্থানে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে। বিষাক্ত ঔষধ বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। সে সব জিনিস ডিসপেনসারীর আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে এবং চাবি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের কাছে রাখতে হবে।
বিধি ৮০৮-৮০৯। প্রয়োগ নেই ।
বিধি-৮১০। যে সব কারাগারে উৎপাদন কাজে বাষ্প, পানি বা অন্যান্য যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার হয় সে সব কারাগারে | কারখানা আইন, ১৯৬৫ এর চতুর্থ পরিচ্ছেদে বর্ণিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে} ।

বিধি-৮১১। নিম্নোক্ত দুর্ঘটনার রিপোর্ট অতিদ্রুত টেলিগ্রাম বা বাহকের মাধ্যমে কারখানা যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এবং কারখানা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে-
(১) মৃত্যু, বা
(২) এমন জখম যার ফলে মৃত্যু হতে পারে, বা
(৩) এমন জখম যার ফলে পরবর্তী ২০ দিন কাজ করা সম্ভব হবে না, বা
(8) স্থায়ীভাবে কোন অংগহানি, বা
(৫) স্থায়ী ভাবে দৃষ্টি বা শ্রবণ ইন্দ্রীয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।
দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যু হলে নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি দুর্ঘটনার কারণে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাজ করতে সক্ষম হবে না, এমন দুর্ঘটনার খবর ‘সামান্য দুর্ঘটনা’ হিসাবে রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। টেলিগ্রাম বা টেলিফোনে প্রেরিত দুর্ঘটনার সংবাদ পত্র দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে। কোন দুর্ঘটনার সংবাদ প্রথমে ‘সামান্য’ হিসাবে প্রেরণের পরে যদি দেখা যায় যে তা ‘গুরুতর’ তবে সংশোধিত রিপোর্ট প্রেরণ করতে হবে। অনুরূপভাবে প্রথমে ‘গুরুতর’ এবং পরে ‘সামান্য’ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিধি-৮১২। প্রত্যেক দুর্ঘটনার রিপোর্ট কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। উক্ত রিপোর্টে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং মেডিকেল অফিসারের কোন রিপোর্ট থাকলে তা সঙ্গে দিতে হবে।