Tag Archives: জেল কোড

জেল কোড

জেল কোড অনুযায়ী শ্রম ও কারা শিল্প

আজকে আমরা আলোচনা করবো শ্রম ও কারা শিল্প সম্পর্কে

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

শ্রম ও কারা শিল্প । জেল কোড

বিধি-৭৮২। জেল সুপার কর্তৃক মিনিট বইতে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ কোন প্রয়োজন লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বা স্বেচ্ছায় কাজে নিয়োজিত বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাবে না। মেনিয়াল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতীত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে ঘোষিত সরকারী ছুটির দিনে কোন কাজ করা হবে না ।

টীকা, কোন কারখানার কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করানো যাবে না বা করতে দেয়া যাবে না। তবে ৫০.৫৪,৫৫ বা ৫৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে কোন কারখানার একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করতে পারে কিন্তু দশ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না (ধারা-৫৩, কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

বিধি-৭৮৩। সকালের প্যারেড এবং বন্দীদের গ্যাং বন্টন সম্পন্ন করার পর বন্দীরা দিনের কাজ শুরু করবে। সাধারণত ওয়ার্ড খোলার এক ঘন্টার মধ্যে দিনের কাজ শুরু করা উচিত। কাজের সময় সূচী নিম্নরূপ হবে-

মৌসুম সময়
পূর্বাহ্ন অপরাহ্ন
হতে পর্যন্ত কাজ শুরু কাজ বন্ধ কাজ শুরু কাজ বন্ধ
১৬ মার্চ ৩০ এপ্রিল ভোরের আনুমানিক এক ঘন্টা পর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১ লা মে ৩১ আগস্ট ১১ টা ১-৩০ টা ৫-৩০ টা
১ লা সেপ্টেম্বর ৩১ অক্টোবর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১৬ অক্টোবর ১৫ মার্চ ১১-৪৫ টা ১-০০ টা ৪-৩০ টা

কিন্তু স্পেশাল গ্যাং ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ ই মার্চের মধ্যে দুপুর দুইটা এবং বৎসরের বাকী সময় দুপুর ২-৩০ টা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করবে না। বিশ্রামের সময় বন্দীরা তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকবে ।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি-৭৮৪। কাজের জন্যে যে শারীরিক শক্তির প্রয়োজন, তা অনুসারে সকল কাজকে ‘শক্ত’, ‘মাঝারি’, এবং ‘হাল্কা’ কাজ হিসেবে বিভক্ত করা হবে। কোন বন্দী সর্বোচ্চ কি পরিমাণ কাজ করতে সক্ষম তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোন বন্দী কোন কাজের জন্যে উপযুক্ত তা মেডিকেল অফিসার নির্ধারণ করে দিবেন। মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ ছাড়া কোন বন্দীকে তার জন্যে নির্ধারিত কাজ অপেক্ষা শক্ত কাজ দেয়া যাবে না। মহিলা ও কিশোর বন্দীকে একজন পুরুষ বন্দীকে প্রদত্ত কাজের দুই তৃতীয়াংশের বেশী শক্ত বা মাঝারী কাজ দেয়া যাবে না।

বিধি-৭৮৫। প্রত্যেক কারাগারে শক্ত কাজে নিয়োজিত বন্দীদের কাজের উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। মাঝারী এবং হাল্কা কাজের উপযোগী কোন বন্দীকে লাভের আশায় কোন শক্ত কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না।

বিধি-৭৮৬। কোন বন্দীকে প্রথম বারের মত কোন প্রকার কাজে নিয়োজিত করার পর একটি যুক্তি সংগত পরিমাণ সময় দিতে হবে যাতে সে ঐ কাজে পারদর্শী হতে সক্ষম হয়। এই সময়ের মধ্যে সে অধ্যবসায় এবং সন্তোষজনক কাজের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হলে তাকে শ্রমের জন্যে রেয়াত মঞ্জুর করা যেতে পারে | এবং মুক্তির সময় ১২৪ নম্বর জেল ফরমে একটি সার্টিফিকেট দেয়া যেতে পারে}। কোন কাজে পূর্ণ মাত্রায় দক্ষতা অর্জনের জন্যে কি পরিমাণ সময় প্রয়োজন তা নির্ভর করবে কাজের ধরনের উপর। ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন পরিহার করা উচিত, তবে একই শক্ত কাজে কোন বন্দীকে অনির্দিষ্ট কাল নিয়োজিত না রেখে মাঝে মাঝে কাজের পরিবর্তন করা উচিত। বন্দীরা কাজ নির্ধারণ করার পূর্বে তার পাক্ষিক ওজন যাচাই করে দেখতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি- ৭৮৭। কোন বন্দীকে ওজন বা পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত কোন কাজ প্রদানের আগে তাকে কি পরিমাণ কাজ করতে হবে দিনের কাজ শুরুর আগে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যাতে বন্দী এবং রক্ষী উভয়ে কাজের অগ্রগতি বুঝতে পারে।

বিধি-৭৮৮। যখন দিনের শেষে বন্দী কাজ শেষ করবে, জেলার বা প্রধান কারারক্ষী বা টাস্ক টেকার বন্দীর সম্পাদিত কাজ পরিমাপ করবেন এবং বন্দীর টাস্ক টিকেটে তা রেকর্ড করবেন। কোন বন্দী তার নির্ধারিত কাজ কম করলে তা তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে এবং তাকে জেল সুপারের সামনে হাজির করতে হবে।

বিধি-৭৮৯। বিভিন্ন কাজের তালিকা, পরিমান ও মাত্রা।

বিধি-৭৯০। কোন বন্দীকে কাজে নিয়োজিত রাখার উদ্দেশ্য হ’ল তাকে অপরাধ থেকে সংশোধন করা। অনুৎপাদনশীল কাজ পরিহার করা উচিত। স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে অদক্ষ কাজে নিয়োজিত করা উচিত হবে। তবে যদি কোন কাজে বন্দীর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, সম্ভব হলে তাকে সে কাজ দেয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদেরকে কারা প্রাচীরের ভিতরের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। বন্দীদেরকে কাজের আধুনিক কলা কৌশল শিক্ষা নিতে হবে যাতে তারা মুক্তি পাবার পরে আধুনিক পরিস্থিতিতে যোগ্যতার সাথে কাজ করতে পারে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বড় কারাগারে একটি বা দুইটি প্রধান শিল্প স্থাপন করতে হবে।

কারা শিল্প প্রধানত: কারা বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে, দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন সরকারী বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে পণ্য উৎপাদনের উপযোগী হতে হবে। এ সব বিভাগ কারাগারে উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য থাকবে, যদি সেগুলি তাদের জন্যে সুবিধাজনক হয় এবং খোলা বাজারের চেয়ে নিম্নমানের বা উচ্চমূল্যের না হয়।

বিধি-৭৯১। কারাগারের উৎপাদন বিভাগের পণ্যের পূর্ণ এবং বিস্তারিত তালিকা বৎসরের শুরুতে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারী বিভাগ সমূহে প্রেরণ করতে হবে। পণ্যের মূল্য যথাসম্ভব এক বৎসরের জন্যে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা পরিবর্তন করা যাবে না।

বিধি-৭৯২ । অকার্যকর।

বিধি-৭৯৩। বাবুর্চী, নাপিত, পানিবাহক, সুইপার প্রভৃতি কাজে কারাগারের গার্হস্থ্য শ্রমিক (menial servants) হিসেবে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী হবে না। জেল সুপার লক্ষ্য রাখবেন যাতে অনুমোদিত হারের চেয়ে বেশী বন্দীকে গার্হস্থ্য শ্রমিক বা কয়েদী কর্মচারী নিয়োগ করা না হয়। যদি কোন গার্হস্থ্য শ্রমিকের দিন ব্যাপী কাজ না থাকে, তবে তাকে দিনের অবশিষ্ট সময় অন্য কোন কাজে নিয়াজিত করা যেতে পারে।

বিধি-৭৯৪। অকার্যকর।

 

বিধি-৭৯৫ । {আঠারো মাস বা তার তর কম সময়ের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বাহির প্রাচীরের কাজের জন্য যোগ্য হবে। যাদের দণ্ডের মেয়াদ বেশী,এক তৃতীয়াংশ মেয়াদ শেষ করলে তারাও যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু এখনও এক বছরের বেশী মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি ব্যতীত বাহির প্রাচীরের কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।}

নং- ৪৬৯ এইচ জে তারিখ ২১-৩-৪৭ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৭৯৬। সাধারণত অল্প মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বাগানের কাজ দেয়া হবে এবং জেল সুপার হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ ভাবে কাজ পাশ করবেন। কোন বন্দীকে শক্ত বা মাঝারী কাজ পাশ করা হলে তাকে বাগান বা কৃষির হাল্কা কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। যদি কোন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কারাগার এলাকায় সরকারী বাসায় বসবাস করেন তার বাসার বাগানের কাজে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের গ্রহরায় ৫ জন বন্দীর গ্যাংকে নিয়োজিত করা যেতে পারে। যদি ডেপুটি সুপার বা জেলারের বাসা সংলগ্ন অনুরূপ বাগান থাকে, তবে বাগানের কাজ নিয়মিত বাগানের গ্যাং যারা করতে হবে, গ্যাং ছুট কোন বন্দীকে কাজে লাগানো যাবে না ।

বিধি ৭৯৭-৭৯৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৯৯। কোন বন্দীকে কারাগারের করণিক কর্মে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ প্রয়োজনে একজন শিক্ষিত বন্দীকে কারাগারের চিঠির নকল, রোল ও রেজিষ্টার লিখার কাজে নিয়োজিত করতে পারেন। সে সব কাজ ওয়ারেন্ট, রেয়াত বা আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত হতে পারবে না। জেলারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে যে, ঐ বন্দী লেখার কাজে এমন জায়গায় বসবে, যা কারাগারের অফিস হতে বেশ দূরে হয়, গেইটের ভিতরে হয় এবং একজন কারারক্ষীর নজরদারীর আওতায় হয়।

বিধি-৮০০। বিনা অনুমোদিত কোন কাজ কারাগারের কারখানার ভিতরে বা বাহিরে করা যাবে না। জেলারের রিপোর্ট বইতে বা জেল সুপার বা ডেপুটি জেল সুপারের মিনিট বইতে আদেশ রেকর্ড না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বা মেরামত জাতীয় কোন কাজ শুরু করা যাবে না। কোন বন্দীর পোশাক রিপেয়ার করার পূর্বে তার হিস্ট্রি টিকেটে তা রেকর্ড করতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি ৮০১। উৎপাদন কাজের কাঁচামাল একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে রাখতে হবে। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ঘুরে দেখবেন ঐ দিনের জন্যে কী পরিমাণ জিনিসপত্র প্রয়োজন হবে এবং যে সকল কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়নি বিকালে তা গুদামে রেখে দিবেন। যে পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে সে পরিমাণ কাজ হয়েছে কিনা, তিনি তা নিশ্চিত করবেন।

বিধি-৮০২। কাঁচামাল সরবরাহের জন্যে প্রযোজ্য উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে জেল সুপার ঠিকাদারের মর্যাদার বিষয়টি দেখবেন এবং ঠিকাদার ও কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসাধু সম্পর্ক যাতে গড়ে না উঠে তা দেখবেন ।

বিধি-৮০৩। উৎপাদন বিভাগের সকল হিসাব জেলার বা ডেপুটি জেলারের তত্ত্বাবধানে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংরক্ষণ করবেন, যিনি হিসাবের নির্ভুলতার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-৮০৪ । যখন কারাগারের কোন উৎপাদিত পণ্যের জন্যে কোন প্রদর্শনীতে নগদ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে, কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা যেতে পারে।

বিধি-৮০৫। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে কাজ বন্টনের জন্যে বন্টন রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-৫) সংরক্ষণ করতে হবে।
টীকা- বর্তমানে কারাগার সমূহে এলুমিনিয়াম থালা, এলুমিনিয়াম বাটি, এলুমিনিয়াম গ্লাস, উলেন জাম্পার, মোজা, মোড়া, কয়েদী কাপড়, জামা, পায়জামা/ট্রোউজার, গামছা, চাদর, টুপি, মার্কিন কাপড়, পাপোষ, ঝাড়ু, ফুড কভার, কার্পেট, কলম দানি, বুক সেল্ফ, ফিনাইল, শাড়ী, লুংগী প্রভৃতি পণ্য উৎপাদন হয় ।

জেল কোড অনুযায়ী রেয়াত ব্যবস্থা

আজকে আমরা রেয়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

রেয়াত ব্যবস্থা । জেল কোড

কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৫৯ ধারার উপ-ধারা (৫) মোতাবেক রেয়াত মঞ্জুরীর মাধ্যমে দণ্ডের মেয়াদ হ্রাসের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধি-৭৫০। এই বিধিসমূহ সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে।

বিধি-৭৫১। (ক) ‘ বন্দী ‘ বলতে শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ ব্যক্তিকেও বুঝাবে ।

(খ) ‘শ্রেণী- ১ বন্দী: অর্থ বিষাক্ত ড্রাগ ব্যবসায়ী বা পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী, বা ডাকাতির মতো জঘন্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত বন্দী।

(গ) ‘শ্রেণী- ২ বন্দী ‘ অর্থ ডাকাতি বা অন্যান্য জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দী, কিন্তু পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী নয় ।

(ঘ) ‘শ্রেণী- ৩ বন্দী ‘ অর্থ শ্ৰেণী-১ বা শ্রেণী -২ বহির্ভূত বন্দী ।

(ঙ) ‘দণ্ড ‘ বলতে আপীল, রিভিশন বা অন্যভাবে চূড়ান্তকৃত দণ্ড, এবং একাধিক দণ্ডের সমষ্টি এবং শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ করার আদেশকেও বুঝাবে ।

(চ) ‘যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অর্থ (৩০ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দী)।

টীকা- ধারা ৫৭, দণ্ড বিধি মোতাবেক।

বিধি-৭৫২। অকার্যকর।

বিধি-৭৫৩। নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সাধারণ রেয়াত পাওয়া যাবে না –

(১) জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বাদে ৬ মাসের কম মেয়াদের যে কোন প্রকারের কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে

(২) বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, অবিরাম এক মাসের কম মেয়াদে স্বেচ্ছায় শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত ।

নোট- এ বিধির উদ্দেশ্য এই যে, কোন বন্দীর দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম হয় কিংবা আপীলের মাধ্যমে মোট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম নির্ধারণ করা হয়, সে সাধারণ রেয়াতের যোগ্যতা থেকে বাদ পড়বে এবং আপীলের রায় ঘোষিত হবার পূর্বে কোন রেয়াত অর্জন করে। থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

বিধি-৭৫৪। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় দণ্ড বিধির ১৪৭ ১৪৮, ১৫২, ২২৪, ৩০২, ৩০৪, ৩০৪এ, ৩০৬, ৩০৭, ৩০৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫২, ৩৫৩ বা ৩৭৭ ধারায় অপরাধ করার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা কোন কারারক্ষী বা কারা কর্মচারী কর্মকর্তাকে আক্রমণ করার কারণে কার মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে দত্ত প্রদানের তারিখ পর্যন্ত অর্জিত রেখা। বাতিল হয়ে যেতে পারে।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৫৫ । কারা আইনের ৫৯(৩) ধারার অধীনে কোন বন্দীর রেয়াত সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে উক্ত বন্দীতে রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এ বিধিতে বর্ণিত বন্দীর রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হবার পরবর্তী মাস হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৬। সাধারণ রেয়াত নিম্নোক্ত হারে অর্জিত হবে।

(ক) অবিরামভাবে সদাচার এবং কারাগারের বিধি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন;

(খ) শিল্প ও অন্যান্য দৈনিক কাজ সঠিকভাবে পালন করার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন ।

ব্যাখ্যা- কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে কাজ করতে না পারলে,যেমন – আদালতে হাজিরা প্রদান, কারাগার বদলির ট্রানজিটে থাকলে, হাসপাতালে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকলে এবং তার আচরণ পূর্ব মাসের ন্যায় চলতি মাসেও রেয়াত প্রাপ্তির যোগ্য হলে পূর্ববর্তী মাসের হারে তাকেও (ব) উপ-বিধি অনুসারে রেয়াত দেয়া হবে।

সে পূর্ব মাসের হারে উপ-বিধি (খ) অনুসারে রেয়াত পাবে যদি সে সময় কারাগারে থাকে; যদি মাসে দুই দিন হারে না হয়। শর্ত থাকে যে, কর্মে অনুপস্থিতি বন্দীর অসদাচরণের জন্যে হলে (খ) উপ-বিধির অধীনে কর্মে অনুপস্থিত সময়ের জন্যে কোন রেয়াত পাবে না। আরে শর্ত থাকে যে, সে যদি হাসপাতালে থাকে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকে (খ) উপ- বিধি মোতাবেক রেয়াত পাবে না, যদি মেডিকেল অফিসার এ মর্মে প্রত্যায়ন না। করেন যে, কাজ হতে বন্দীর অনুপস্থিতির কারণ তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল এবং কাজ হতে বিরত থাকার বা হাসপাতলে ভর্তি হবার ব্যাপারে সে কোন চেষ্টা করেনি।

নোট-“হাসপাতাল” বলতে মানসিক হাসপাতালকেও বুঝাবে ।

বিধি- ৭৫৭। বিধি ৭৫৬ মোতাবেক রেয়াত অনুমোদন সত্ত্বেও, কয়েদী কারারক্ষী ৮ দিন, কয়েদী নৈশ প্রহরী ৭ দিন, কয়েদী ওভারশিয়ার ৬ দিন এবং কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান ৫ দিন হারে প্রতি মাসে সাধারণ রেয়াত পাবে।

বিধি-৭৫৮ । বন্দীকে দণ্ড প্রদানের পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের ১ম দিন থেকে বিধি ৭৫৫ এর শর্তে, বিধি ৭৫৬ এর আওতায় রেয়াত গণনা করা হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জামিনে মুক্ত হবার বা সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত থাকার পর পুনরায় কারাগারে (অবশিষ্ট সাজা ভোগের জন্যে) অন্তরীণ হলে রেয়াত সুবিধা পুন:অন্তরীণের পরবর্তী মাসের ১ম দিন হতে গণনা শুরু হবে।

জামিনে মুক্ত হবার পূর্বে অর্জিত রেয়াতও যোগ হবে। বিধি ৭৫৭ অনুসারে কোন বন্দীকে কয়েদী রক্ষী, কয়েদী ওভারশিয়ার বা কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান নিয়োগ করার পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের প্রথম তারিখ হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগারে বাবুর্চী, সুইপার প্রভৃতি কাজে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনেও কাজ করে, এ. বিধিসমূহ মোতাবেক অন্যান্য রেয়াত পাওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে প্রতি কোয়ার্টারে তিন দিন অতিরিক্ত সাধারণ রেয়াত দেয়া যেতে পারে।

ব্যাখ্যা- কারাগারের কাজে নিয়োজিত থাকা কালে প্রতি মাসের শেষে একদিন রেয়াত যোগ হবে।

বিধি-৭৬০। এই বিধিসমূহ মোতাবেক রেয়াতের যোগ্য কোন বন্দী দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের এক তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে এবং কোন কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি ভোগের সর্বশেষ তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে বা ঐ সময়ে কোন অপরাধ না করলে অন্যান্য অর্জিত রেয়াতের অতিরিক্ত আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবে । ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সতর্ক করাকে কারা অপরাধের শাস্তি হিসেবে ধরা হবে না।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৬১। সাধারণ রেয়াত জেল সুপার কর্তৃক প্রদত্ত হবে কিংবা তার নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বিধি ৭৬২ অনুসারে ডেপুটি সুপার, জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কিংবা বিশেষ ভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা তার পক্ষে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৭৬২ । কোন কর্মকর্তা সাধারণ রেয়াত প্রদানের পূর্বে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট পর্যালোচনা করবেন, যার মধ্যে বন্দীর প্রত্যেক প্রমাণিত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত না হয়, তাকে পূর্ণ রেয়াত মঞ্জুর করা হবে।

যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তার রেয়াতের বিষয়টি জেল সুপারের নিকট পেশ করতে হবে। জেল সুপার বন্দীর শাস্তি বিবেচেনা করে রেয়াত নির্ধারণ করবেন। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সকল ত্রৈমাসিক রেয়াতের বিবরণ রেয়াত কার্ডে ( রেজিষ্টার নম্বর ১৮) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৩। সাধারণ রেয়াত জানুয়ারী, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসের ১২ তারিখের যথাসম্ভব কাছাকাছি সময়ে গণনা করতে হবে এবং তার পরিমাণ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জানাতে হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। বিধি ৭৬০ এর অধীনে প্রদত্ত রেয়াত যথাসম্ভব অবিলম্বে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৪। যে পঞ্জিকা মাসে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পাবে, সে মাসের জন্যে কোন সাধারণ রেয়াত প্রদান করা হবে না ।

বিধি-৭৬৫ । সাধারণ রেয়াতের যোগ্য হোক বা না হোক, যে কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বিশেষ কাজের জন্যে বিশেষ রেয়াত দেয়া যেতে পারে । যেমন-

(১) কারাগারের শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের কাজ খুঁজে বের করা বা প্রতিরোধে সহায়তা করা;

(২) হস্তশিল্প শিক্ষা প্রদানে কৃতিত্বের জন্যে;

(৩) বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ, বা বিরাট আয় সম্পন্ন ভাল মানের কাজের জন্যে .

(৪) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে;

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদ্রোহ, অগ্নিকান্ড বা অনুরূপ জরুরী কাজে সহায়তা করার জন্যে;

(৬) পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতার জন্যে;

(৭) { কারাগারের বিধি বিধানের প্রতি মনোযোগ প্রদান এবং পূর্ববর্তী তিন বছরে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন সাজা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ না থাকা । }

নং- ১৬৩৯ এইচ জে তারিখ- ২৯৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৭৬৬। বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে-

(১) জেল সুপার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৩০ দিন;

(২) কারা মহাপরিদর্শক বা সরকার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৬০ দিন।
ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে দত্ত প্রদানের তারিখ হতে বছর গণনা করা হবে এবং বছরের কোন অংশকে পূর্ণ বছর গণ্য করা হবে।

বিধি-৭৬৭। বিশেষ রেয়াত প্রদান করার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তা বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে, এবং জেল সুপার কর্তৃক বিশেষ রেয়াত প্রদানের কারণ সংক্ষেপে হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

 

বিধি-৭৬৮। এই বিধিসমূহে কোন বন্দীকে প্রদত্ত মোট রেয়াতের পরিমাণ সরকারের বিশেষ অনুমোদন ব্যতীত দণ্ডের মেয়াদের এক চতুর্থাংশের বেশী হবে না।

বিধি-৭৬৯। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির জন্যে তারিখ গণনার ক্ষেত্রে অর্জিত রেয়াতের দিবস সংখ্যাকে ত্রিশ দিনে একমাস হারে মাস এবং দিনে রূপান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৭০। যখন কোন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী-

(ক) একজন শ্রেণী- বন্দী, বা

(খ) একজন একাধিক সাজাপ্রাপ্ত শ্ৰেণী || বা শ্ৰেণী III বন্দী, বা

(গ) একজন এমন বন্দী যাকে সরকারের অনুমতি ব্যতীত মুক্তি দেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ থাকে,

এমন রেয়াত অর্জন করেছে যে, সে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়েছে, তখন এ বিধির নিয়মের কারণে জেল সুপার সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আলোকে তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিধি-৭৭১। যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াত অর্জনের ফলে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়, তখন ৭৭০ বিধি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে জেল সুপার তাকে মুক্তি প্রদান করবেন।

বিধি-৭৭২ । যখন বিধি ৭৭১ মোতাবেক কোন বন্দী মুক্তি লাভ করে, তখন তার ওয়ারেন্টে অর্জিত রেয়াতের মোট পরিমাণ উল্লেখ করে জেল সুপার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বিধি-৭৭৩। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে পূর্ব মাসের শেষ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণী তার ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে উল্লেখ করতে হবে এবং জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষর করতে হবে।

যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা সে ব্যপারে গ্রহণকারী কারাগার দায়ী থাকবেন। যে সকল কারাগারে বন্দী তার দণ্ডের অংশ ভোগ করেছে সে সব কারাগার তার অর্জিত রেয়াত সঠিক ভাবে গণনার জন্যে দায়ী থাকবে।

বিধি-৭৭৪। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পেয়ে যাবে তাদের রেয়াত কার্ড (জেল ফরম-১৮) এক বছর কারাগারে সংরক্ষণ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে বদলির তারিখ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণ সহ রেয়াত কার্ড সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭৭৫। পূর্বে বর্ণিত রেয়াত ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত সার ৩৬ নম্বর জেল ফরমে প্রত্যেক ব্যারাকে লাগিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৭৭৬। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কয়েদী ওয়াচম্যান, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী কারারক্ষী পদে নিয়োগের উপর তাদের অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ নির্ভর করে। এসব পদ এবং সুযোগ কারা আইনের ৪৬(৪) ধারায় বর্ণিত “রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে সুযোগ” এর আওতায় পাওয়া যায়।

বিধি ৭৭৭-৭৭৮। অকার্যকর

বিধি ৭৭৯-৭৮১। রেয়াত কার্ড লিখার পদ্ধতি।

জেল কোড অনুযায়ী সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ ২৬৩, ৯৪৭, ৯৫০, ৯৮২ এবং ১৮৫ বিধি মোতাে মহিলাদেরকে সেলে আটক রাখার ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বিধি-৭৩৫ । সম্ভব হলে সকল কারাগারে নির্জন কারাবাস ও সেলে আটকের জন্যে একাধিক সেলের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সেগুলো প্রমিত মানের না কারা মহাপরিদর্শক সেগুলো পরীক্ষা করে সেল হিসেবে ব্যবহারের জন্যে উপযুক্ত মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।

প্রত্যেক সেলের সাথে একটি আঙিনা থাকে যাতে সেলে আটক বন্দী অন্য কোন বন্দীর মাধ্যম ছাড়াই মুক্ত বাতাস পেতে পারে। সেলে আটক বন্দীদের গোসল, খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সেল এলাকায় একটি সাধারণ আঙিনা থাকবে। আঙিনা সংলগ্ন সেলের বাহিরে দরজায় একটি অক্ষি-ছিদ্র থাকবে যাতে বন্দী বাহিরে দেখতে পায়।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৬। সেল নিম্নোক্ত বন্দীদের জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে-

(১) দণ্ড বিধি ৭৩ ও ৭৪ মোতাবেক নির্জন কারাবাসের সাজা কার্যকরী করার জন্যে;

(২) কারা আইনের ৪৬ (৮), (১০) ধারায় পৃথক এবং সেলে আটক রাখার জন্যে;

(৩) ৬২৭ বিধি অনুযায়ী অভ্যাসগতদের পৃথক রাখার জন্যে;

(৪) ৯৬৫ বিধি মোতাবেক কিশোর বন্দীদের রাত্রিতে পৃথক রাখার জন্যে;

(৫) দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে ;

(৬) কারা অপরাধীকে ২৫৩ বিধি মোতাবেক সাময়িক আটক রাখার জন্যে;

(৭) পর্যবেক্ষণাধীন পাগল বন্দীকে ১০৩৮ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে;

(৮) চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণাধীন সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে;

(৯) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ৯৮০ বিধি মোতাবেক আটক রাখার জন্যেঃ

(১০) ৫০৫ এবং ১২৪৬ মোতাবেক সঙ্গ নিরোধের জন্যে;

(১১) বিচারাধীন বন্দীদেরকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে।

নোট-কোন কিছুর সাথে বেঁধে হ্যান্ড কাপ আরোপের শাস্তি সেলে কার্যকরী করা যাবে না।

বিধি-৭৩৭। অকার্যকর।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৮ । কেবল মাত্র স্থায়ী রক্ষীদেরকে সেলের প্রহরার দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। সেলের চাবি সাধারণত দিনের বেলায় রক্ষীর নিকট এবং রাতের বেলায় উহলরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট থাকবে। তবে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীর ক্ষেত্রে সেলের চাবি রক্ষীর নিকট থাকবে। সেলের চাবি কখনই কয়েদী কর্মচারীদের নিকট দেয়া যাবে না। সেলের তালা প্রধান কারারক্ষী দৈনিক এবং জেলার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন।

বিধি-৭৩৯। সেলে আটক বন্দীদের প্রহরা এমনভাবে নিয়োজিত থাকবে যে, বন্দী সেখান থেকে যে কোন সময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। সেলে আটক প্রত্যেক বন্দীকে প্রধান কারারক্ষী প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর একবার ভিজিট করবেন ।

বিধি-৭৪০। আত্মহত্যা বা নিজেদের জখমকরণ প্রতিহত করার জন্য সেলে আটক বন্দীদের উপর কড়া নজর রাখতে হবে। পাগল, সন্দিগ্ধ পাগল এবং মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীকে দিবা-রাত্র নজরে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪১। সেলে আটক কোন বন্দী অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৪২। ২৪ ঘন্টার বেশী সময়ের জন্যে সেলে আটক বন্দীকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার প্রত্যেক দিন ভিজিট করবেন। জেলারও দৈনিক সেল ভিজিট করবেন।

বিধি-৭৪৩। জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কারারক্ষী কোন বন্দীকে সেলে গ্রহণ করবেন না। চিকিৎসক কর্তৃক উপযুক্ত ঘোষণা না করলে কাউকে নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

 

বিধি-৭৪৪। প্রত্যেক সেলের সামনে বন্দীর কারাবাসের মেয়াদ এবং উ কারাবাস শুরুর তারিখ একটি টিকেটে লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৫। প্রত্যেক সেলের বন্দীর কারাবাস সংক্রান্ত একটি রেজিষ্টার সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কারারক্ষী সংরক্ষণ করবেন।

বিধি-৭৪৬। সেলে নেয়ার আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করে দেখতে হবে যাতে তার কাছে যেন পলায়ন বা আত্মহত্যার সহায়ক কোন বস্তু না থাকে। প্রত্যেক সেল দৈনিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বিধি-৭৪৭। মেডিকেল পর্যবেক্ষণ এবং অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যদের সেলে ব্যবহৃত বেডিং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দিনের বেলায় বের করে রোদে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৮। নির্জন কারাবাসে রাখা শ্রম বন্দীদেরকে তাদের উপযোগী কাজ দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৭৪৯। সেলে আটক বন্দীরা কঠোর নীরবতা পালন করবে।

নোট-মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের পরিচালনার বিষয়ে একত্রিংশ অধ্যায় অনুসরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের ধর্মীয় আচার

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের ধর্মীয় আচার সম্পর্কে।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার । জেল কোড

বিধি-৬৮৯। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিম্নোক্ত গেজেটেড ছুটি প্রদান করা হবে-

  • দুর্গা পূজা- ১ দিন
  • ঈদুল আজহা – ২ দিন
  • শহীদ দিবস – ১ দিন
  • স্বাধীনতা দিবস – ১ দিন
  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী – ১ দিন
  • ঈদুল ফিতর – ২ দিন
  • বিজয় দিবস- ১ দিন
  • বড় দিন – ১ দিন
  • বুদ্ধ পূর্ণিমা – ১ দিন
  • মে দিবস – ১ দিন

টীকা- নং ২৩৫-স্ব ম:-জে (১) তারিখ ৩০-১০-১৯৭২ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৯০ । উৎসবের দিবসে বন্দীদেরকে তাদের নিজের খরচে কিংবা আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক প্রেরিত ফল এবং দুধসহ অরান্নাকৃত খাবার গ্রহণের জন্যে জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। ঈদুল ফিতর এবং দুর্গা পূজার দ্বিতীয় দিনে দৈনিক খোরাকী ভাতা বৃদ্ধি করে জেল সুপার কর্তৃক উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

টীকা- বর্তমানে সরকার কর্তৃক বিশেষ অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে দুই ঈদে, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

 

বিধি-৬৯১। একজন হিন্দু ধর্মীয় বন্দী ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ধর্মীয় তিথিতে উপবাস করতে পারে। তবে এ কারণে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শ্রম লাঘব করা হবে না, তবে উপবাস শেষে তার জন্যে বিশেষ উন্নত মানের খাবার দেয়া যেতে পারে। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্তি খাবারের ব্যয়ের পরিমাণ উপবাসকালীন সময়ে তার প্রাপ্য খোরাকী মূল্য অপেক্ষা বেশী হবে না।

বিধি-৬৯২। যে সকল মুসলমান বন্দী রমজানে রোজা রাখতে ইচ্ছুক তারা তা রাখতে পারবে। এ সকল বন্দীদেরকে দেয়া হবে-

(১) সকালের নাস্তার পরিবর্তে ইফতারের সময় শরবত এবং কিছু হাল্কা খাবার (ছোলা ভুনা বা এক টুকরো পাউরুটি),

(২) রাতের বেলায় দুই বার খাবার, একটি (সেহরী) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে খেতে হবে এবং সাধারণ খাবারের চেয়ে হাল্কা হবে।
খাবারের মোট ব্যয় অন্যান্য বন্দীদের খাবারের বায়ের চেয়ে বেশী হবে না। কোন শ্রম লাঘব অনুমোদিত হবে না, তবে সকালে আধ ঘন্টা কাজ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং বিকালে আধ ঘন্টা কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।

কাজের এই পরিবর্তীত সময়সূচী সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জন্যে প্রযোজ্য হবে। যে সব ওয়ার্ডে মুসলমান বন্দীরা আছে সেখানে এ সময় পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলা কোন ওয়ার্ড বা সেল খোলা হবে না। তবে বন্দীরা ওয়ার্ডের ভিতর তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবে।

টীকা- বর্তমানে বন্দী প্রতি ৭ টাকা হারে ইফতারী বরাদ্দ করা হয়।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বিধি-৬৯৩। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন বন্দীর রোজা অব্যাহত রাখা তার শরীরের জন্যে ক্ষতিকর বা বিপদজ্জনক, তা হলে তিনি ঐ বন্দীকে রোজা অব্যাহত না করার জন্যে পরামর্শ দিতে পারেন।

বিধি-৬৯৪। সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা পালনের জন্যে যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে, তবে প্রার্থনা পালনের বিষয়টি ঐচ্ছিক হবে। মুসলমানদের একত্রে (নামাজ) আদায় করতে দেয়া হবে তবে জেল সুপার ঠিক করে নিবেন কত জন বন্দীকে এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুমতি প্রদান করবেন। প্রার্থনার স্থান জেল সুপার নির্ধারণ করে দিবেন। কোন ধর্মীয় মাতম অনুমোদন করা হবে না ।

নোট– নামাজের) আগে আযান দেয়া ধর্মীয় মাতম হিসেবে গণ্য হবে না এবং গুরুত্ব পূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

নং- ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৬৯৫। ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে বন্দীদের মধ্যে ভেদাভেদ বা কলহ পরিহার করতে হবে। ধর্মীয় বিষয়ে কলহ সৃষ্টি করে বন্দী পলায়নের সুযোগ তৈরী করা হয় কিনা, তা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি ৬৯৬-৬৯৭। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৬৯৮ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে লভ্যতা সাপেক্ষে একজন মুসলিম এবং একজন হিন্দু, দুইজন অবৈতনিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ কর্তৃক তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন এবং নিয়োগ আদেশ গেজেটে প্রকাশিত হবে । এ সকল শিক্ষক বন্দীদেরকে নৈতিক উপদেশ দেয়ার জন্যে নিয়োজিত হবেন। যখন কোন কারাগারে (শিক্ষকের) পদ শূন্য হয় তখন জেল সুপার জেলা ম্যাজিট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একজন উপযুক্ত অবৈতনিক শিক্ষককে উক্ত শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন।

অনুরূপ শিক্ষকগণ দুই বৎসরের জন্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং ৬৯৯ বিধি মোতাবেক তাদের নিয়োগ বাতিল না হলে, অনুরূপ মেয়াদ শেষে তারা নিয়োগ লাভে সামর্থ্য থাকলে এবং আগ্রহী হলে পুন:নিয়োগের যোগা হবেন। জেল সুপার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করবেন সেরূপ ভাবে (শুক্রবার। বা অন্যান্য গেজেটেড ছুটির দিনে তারা উপদেশ প্রদানের অনুমতি পাবেন। অনুমোদিত ধর্মীয় গ্রন্থ কারাগারের লাইব্রেরীতে সরবরাহ করতে হবে।

{ অন্য কোন ধর্মের বন্দীদের জন্যেও অনুরূপ অবৈতনিক শিক্ষক ও অবৈতনিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে, যদি ঐ ধর্মের ৪ জন বা ততোধিক সংখ্যক যথাক্রমে পুরুষ বা মহিলা বন্দী থাকে । নং ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে বিলুপ্ত ।
নং ১৫৬ এইচ জে তারিখ ৩০-১-১৯৩৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

টীকা- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জি.ও নম্বর ১ম-৩-৯২-জেল-১/৩২৭ তারিখ ৬-৬-৯৩ মোতাবেক একজন অবৈতনিক শিক্ষক প্রতিবার পরিদর্শনের জন্যে ২০ (বিশ) টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিধি-৬৯৯। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্ববর্তী বিধি মোতাবেক নিয়োজিত অবৈতনিক শিক্ষকের নিয়োগ সাধারণত: বাতিল করা হবে যদি তার মেয়াদ কালে তিনি অবিরাম তিন মাস যাবত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকেন ।

বিধি-৭০০। কোন যাজক বা পাদ্রী বা ধর্মীয় উপদেষ্টা নিজ ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের বন্দীদের নিকট গমন করবেন না। কোন বন্দী অন্য ধর্মীয় উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী হলে এ বিষয়ে কারা মহা পরিদর্শকের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭০১। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭০২। অকার্যকর।

বিধি-৭০৩। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে মৃতের ধর্মীয় রীতিতে মৃতদেহের সৎকার করার জন্যে জেল সুপার নির্দেশ প্রদান করবেন। মৃতের আত্মীয় স্বজ মৃতদেহ গ্রহণ না করলে আগ্রহী স্থানীয় ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৎকারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি মৃতদেহ সৎকারের জন্যে সর্বোচ্চ ১০ টাকা প্রদান করা যেতে পারে। উক্ত টাকা ” বিবিধ সেবা এং সরবরাহ খাত হতে ব্যয় করা হবে। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে এ বিষয়ে বিধি ৯৮ অনুসরণ করতে হবে।

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

আজকে আমরা আলোচনা করবো বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

বিধি-৬৮২। বিচারাধীন ফৌজাদারি বন্দী এবং সিভিল বন্দীদেরকে যথোপযুক্ত সময় এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সাথে সাক্ষাত বা মৌখিক বা লিখিত যোগাযোগের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

বিধি-৬৮৩। বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের আলাপ- আলোচনা দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রবণ সীমানার বাহিরে কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। বন্দীর নিকট আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের সময়েও অনুরূপ সুবিধা দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৬৮৪ । কোন বিচারাধীন বন্দীর আইনজীবি হিসেবে কোন ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছুক হলে তিনি নাম, ঠিকানা এবং পেশার বিবরণ দিয়ে লিখিত আবেদন করবেন। তিনি যে ঐ বন্দীর প্রকৃত আইনজীবি সে ব্যাপারে জেল সুপারকে নিশ্চিত হতে হবে। সাক্ষাত অনুমোদন করা হলে ঐ আইনজীবির নাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে এবং অনুষ্ঠিত সকল সাক্ষাত হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

বিধি- ৬৮৫। জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে ৬৮৪ বিধিতে বর্ণিত সাক্ষাতের কোন আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ সুপারের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে পারবেন।

বিধি- ৬৮৬। কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হলে, সাক্ষাত যত শীঘ্র সম্ভব অনুষ্ঠিত হবে এবং একজন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তা তত্ত্বাবধান করার জন্য উপস্থিত থাকবেন।

বিধি- ৬৮৭। বিচারাধীন বন্দী কর্তৃক তার আইনজীবির উদ্দেশ্যে লিখিত মামলা পরিচালনার নির্দেশ সম্বলিত একান্ত গোপনীয় পত্র জেল সুপার কর্তৃক পূর্ব পরীক্ষা ছাড়াই আইনজীবির নিকট ব্যক্তিগত ভাবে প্রেরণ করা যেতে পারে।

বিধি- ৬৮৮। সিভিল বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব জেল সুপার নির্ধারিত সময়ে এবং তার প্রদত্ত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সাক্ষাত করতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই ।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

টীকা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তরীণ (ডিটেন্যু) ব্যক্তিদের সাক্ষাত করার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নং ৬২৮৬- স্ব:ম: (নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ৮-১০-৯১ এবং স্মারক নং ৭৫৬১- স্ব:ম:(নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ২৬-১১-৯১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হবেঃ-

(ক) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়- স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি ১৫ (পনর) দিনে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন:

(খ) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত ব্যতীত অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়-স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি পঞ্জিকা মাসে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন;

(গ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় পৃথক পৃথক লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে:

(ঘ)প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশী হবে না;

(ঙ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় জেল কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং পুলিশের বিশেষ শাখার একজন প্রতিনিধি আলাপ-আলোচনা শ্রবণ সীমানার বাহিরে, কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন;

(চ) সাক্ষাতের সময় পারিবারিক বিষয় সমূহ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হলে অথবা কোন কিছু আদান-প্রদান করা হলে সাক্ষাতের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের প্রদত্ত সুবিধা রহিত করতে পারবেন; এবং

(ছ) সাক্ষাতের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

২। ঢাকা মহানগর এলাকা ব্যতীত সারা দেশে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সম্মতিক্রমে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করবেন।

৩। ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্তসহ অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক, বিশেষ শাখা প্রদান করবেন।

৪। অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য সকল সাক্ষাতের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেল কোডের বিধান অনুযায়ী সে সকল সাক্ষাতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

আজকের  আলোচনার বিষয়ঃ সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র । জেল কোড

সাধারণ নিয়মাবলী

বিধি-৬৬৩। (১) প্রত্যেক নুতন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারে আগমনের পর তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাতের যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দিতে হবে, যাতে করে সে আপীল প্রস্তুত কিংবা জামিন লাভের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে পরামর্শ করতে পারে। তাকে তার সম্পত্তি বা পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত করার বা চিঠিপত্র লিখার জন্যে এক বা দুইবার বা জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে আরো বেশী বার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

(২) জরিমানা বা ফৌজদারি কার্যবিধির অষ্টম অধ্যায়ের অধীনে মুচলেকা খেলাপের জন্যে সোপর্দকৃত বন্দীকে চিঠিপত্র লিখার এবং জরিমানা পরিশোধ করার বা মুচলেকা প্রস্তুতির জন্যে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ সাক্ষাতের সময় দিতে হবে।

(৩) বর্তমানে প্রয়োগ নেই ।

(৪) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সঙ্গে সে পরিমান সাক্ষাতের এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে জেল সুপার যে পরিমাণ সঙ্গত মনে করেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৪। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত সুবিধাদি ছাড়াও একজন সাজাপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেনীর বন্দী তার আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাত এবং চিঠি পত্র আদান প্রদানের জন্যে দুই মাসে একবার সুযোগ পাবেন এবং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার মাসে একবার সুযোগ পাবে। এ সুযোগ সদাচারের সঙ্গে শর্তযুক্ত এবং অসদাচরণের জন্যে জেল সুপার তা বাতিল বা রহিত করতে পারবেন।

নোট-১। কেবল মাত্র সাক্ষাত প্রার্থনার জন্যে প্রেরিত পত্র এই বিধিতে পত্র যোগাযোগ গণনার জন্যে ধরা হবে না।

নোট-২। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সাক্ষাতের সুযোগকে চিঠিপত্র আদান প্রদাম কিংবা চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগকে সাক্ষাতে পরিবর্তন করতে পারবে।

বিধি-৬৬৫। বিশেষ বা জরুরী প্রয়োজনে জেল সুপার বিধি-৬৬৪ এ বর্ণিত বিধান ছাড়াও এবং বন্দীর অসদাচরণ সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম বিরতিতে সাক্ষা এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। যেমন-বন্দীর মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা কোন আত্মীয় স্বজন এমন দূর হতে আসে যে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে পুনরায় আসা তাদের জন্যে কষ্টকর হবে কিংবা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তি আসন্ন এবং সে চাকরির খোঁজ করছে বা অন্যান্য যুক্তি সঙ্গত কারণ।

আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সংবাদ যে কোন সময় আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব কর্তৃক জেল সুপারের কাছেও দেয়া যেতে পারে, জেল সুপার সমীচীন মনে করলে সংবাদের বিষয়বস্তু বন্দীকে জানাবেন ।

বিধি-৬৬৬। জেল সুপারের অনুমতি ছাড়া কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে কারো সাথে সাক্ষাত কিংবা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে না। এ ধরনের অনুমতির লিখিত রেকর্ড থাকবে।

বিধি-৬৬৭। জেল সুপারের বিবেচনা মতে, বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি লিখিত বা মৌখিক যে কোন প্রকারে চাওয়া যেতে পারে। বন্দী যদি সাক্ষাতের উপযুক্ত না হয় তা হলে সাক্ষাত প্রার্থীকে তা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৬৬৮। জেল সুপার সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় নির্ধারণ করবেন। ঐ সময়ের বাহিরে জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাক্ষাত করা যাবে না। সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় সংক্রান্ত একটি নোটীশ কারাগারের বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৯। প্রত্যেক সাক্ষাত যথাসম্ভব জেল গেইটের নিকটে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা বেশী না হলে একই কক্ষে একই সময়ে একটি সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে। মহিলা বন্দীদের সাক্ষাত সম্ভব হলে মহিলা বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হবে। যদি বন্দী মারাত্মক অসুস্থ হয় তবে জেল সুপার হাসপাতালে বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাধারণত তার সেলে সাক্ষাত হবে। বিশেষ কারণে, কারণ লিপিবদ্ধ করে, জেল সুপার কারাগারের যে কোন স্থানে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

বিধি-৬৭০। প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দীর সাক্ষাত জেলার কর্তৃক লিখিত ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে হবে যিনি সাক্ষাত কালে কোন অনিয়ম হলে তার জন্যে দায়ী থাকবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে তিনি দেখতে এবং শুনতে পান এবং যেন কোন দ্রব্যাদি আদান প্রদানে বাধা দিতে পারেন। শর্ত থাকে যে, কোন পুলিশ অফিসারকে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত ছাড়াই একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন ।

[ কোন আফটার কেয়ার বা প্রবেশন অফিসার কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন কোন বন্দীর সাক্ষাত কালে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হবে না।]

বিধি-৬৭১। সাক্ষাতের সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে যে কোন সাক্ষাত যে কোন সময়ে অবসান করে দেয়া যেতে পারে। এরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে | অবসানের। কারণ তাৎক্ষণিক ভাবে কারাগারে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার আদেশের জন্যে জানাতে হবে। | সাক্ষাত পর্বে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনা কিংবা বন্দীর নিকট রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান কিংবা পারিবারিক বা সাংসারিক বিষয়ের বাহিরে অন্য কোন আলোচনা করার অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিধি লংঘনকারীকে কারা আইনের ৪২ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

নং-১৯৬৩ এইচ জে, তারিখ-২১-৫-১৯৩৮। সঙ্গে

বিধি-৬৭২। প্রতিটি সাক্ষাতের অনুমোদিত সময় সাধারণত ২০ মিনিটের বেশী হবে না, তবে জেল সুপারের বিবেচনা মোতাবেক এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

বিধি-৬৭৩। যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দী এবং { বিচারাধীন ফৌজদারি | বন্দীকে প্রতিটি সাক্ষাতের পূর্বে এবং পরে সতর্কতার সাথে তল্লাশী করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে জেলার একজন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে লিখিত নির্দেশে দায়িত্ব প্রদান করবেন।

বিধি-৬৭৪ । কোন আইনজীবি কোন ফৌজদারি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সাথে সাক্ষাত করতে চাইলে ২৪ ঘন্টা পূর্বে তাকে আবেদন করতে হবে এবং সাক্ষাতের কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে। জেল সুপারের আদেশ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। যদি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়, তবে তা বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য নিয়মে হবে।

 

বিধি-৬৭৫। জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগত কোন সাক্ষাত প্রার্থীর নাম এবং ঠিকানা জানতে চাইতে পারবেন, এবং যদি সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, সাক্ষাত প্রার্থী বন্দীর জন্যে কোন নিষিদ্ধ বস্তু সঙ্গে এনেছেন, তা হলে জেলার ঐ ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ বা বন্দীর সাথে দেখা করার পূর্বে তল্লাশী করতে পারবেন; তল্লাশী অন্য কোন বন্দী বা সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে হবে না।

যদি সাক্ষাত প্রার্থী মহিলা হয় তা হলে একজন মহিলা দ্বারা তল্লাশী করতে হবে। যদি সাক্ষাত প্রার্থী তল্লাশী প্রদানে রাজী না হন, তা হলে জেলার তাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করা হলে কিংবা কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানের অস্বীকৃতি জানানো হলে জেলার পরিস্থিতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার কারণ রিপোর্ট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং পরবর্তী ডিজিটের সময় জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-৬৭৬। জেল সুপার বা জেলার বা জেল সুপারের নির্দেশিত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দ্বারা পরীক্ষা ও স্বাক্ষর করা ব্যতীত কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিলি করা হবে না, কিন্তু পত্র বিলিতে কোন অনাবশ্যক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। জেল সুপার অপিরিচিত ভাষায় লিখিত কোন পত্র বিলির পূর্বে অনুবাদ করার ব্যবস্থা করবেন। সাংকেতিক লেখা পত্র অনুমোদিত হবে। না। জেল সুপার আপত্তিকর লেখা কিংবা ঘষা মাজা করা পত্র আটক করতে পারবেন। পত্র প্রাপক বন্দীর নিকট কোন নগদ অর্থ না থাকলে অস্ট্যাম্পকৃত বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত পত্রের ডাকমাশুল জেল সুপার “বন্দীদের সম্পত্তি” খাত হতে প্রদান করতে পারবেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৭৭। কোন বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিধিগত কারণে ঐ বন্দী কর্তৃক গ্রহণের উপযুক্ত না হলে জেল সুপার তা নিজের কাছে রেখে দিবেন। আপত্তিকর না হলে বন্দী পত্র প্রাপ্তির উপযুক্ততা অর্জন করলে বা মুক্তির সময় তার কাছে পত্রটি হস্তান্তর করা হবে।

বিধি-৬৭৮। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর নিকট বিলিকৃত কোন পত্র যথাযথ অনুমতি ক্রমে সে নিজের কাছে রাখতে পারবে, যদি জেল সুপার অন্য প্রকার কোন নির্দেশ প্রদান না করেন।

বিধি-৬৭৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী চিঠি লিখার অনুমতি প্রাপ্ত তাদেরকে পোস্ট কার্ড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। একজন বন্দী বি.জে ফরম ৪১-এ চিঠি লিখবে এবং ফরমের এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।

বিধি-৬৮০। এ বিধি সমূহের অধীনে সাক্ষাতের সাধারণ অধিকার আছে এমন কোন বন্দীর সঙ্গে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোন কারণে জেল সুপার কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সাক্ষাত প্রদান না করার কারণ তিনি লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৬৮১। কোন বন্দী সাক্ষাত বা পত্রালাপের সুযোগের কোন প্রকার অপ- ব্যবহার করলে পরবর্তী কালে তার সাক্ষাতের সুযোগ রহিত করা হবে।

জেল কোড অনুযায়ী নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

আজকে আমরা নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা সম্পর্কে  আলোচনা করবো।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

(১) এলকোহল বা স্পিরিট জাতীয় যে কোন প্রকারের তরল পদার্থ:

(২) (নস্যি, কক্ষে প্রভৃতি )

(৩) গাঁজা,আফিম বা অন্য কোন ড্রাগ বা বিষাক্ত পদার্থ;

(৪) বিষাক্ত দ্রব্যাদি, আগুন জ্বালানোর দ্রব্যাদি, বা চেহারা বিকৃত করতে পারে এমন দ্রব্যাদি;

(৫) স্বর্ণ বা রুপার বাট, ধাতু, টাকা, মুদ্রা, মূল্যবান সিকিউরিটি, জুয়েলারী বা অলংকার কিংবা যে কোন প্রকারের মূল্যবান বস্তু;

(৬) বই, ছাপানো বস্তু, চিঠিপত্র বা যে কোন প্রকার লেখার দ্রব্য যা জেল সুপার কর্তৃক অনুমোদিত নয়;

(৭) ছোৱা, অস্ত্র, দড়ি, কলকাঠি, বাঁশ, মই লাঠি, পলায়নের কাজের সহায়ক এরূপ অন্য যে কোন প্রকার দ্রব্য: কারাগারের কাজের জন্যে ইস্যুকৃতগুলি ব্যতীত এবং সেগুলো কেবলমাত্র কাজের সময় এবং নির্ধারিত স্থানে অনুমোদিত।

(৮) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে সরবরাহ করা হয়নি এমন যে কোন দ্রব্য ।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

বিধি-৬৬১। কোন দ্রব্য কারা আইনের ৪২ ধারা এবং ৪৫ ধারার (১২) উপ- ধারার মর্ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে, যদি তা-

(১) কোন বন্দী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা গ্রহণ, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে ইস্যু করা হয়নি বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিকট প্রেরিত হয়নি;

(খ) যদি তাকে ব্যবহারের জন্যে দেয়া হয় কিন্তু সে অনুমোদন বহির্ভূত সময় বা স্থানে তা দখলে রাখে বা ব্যবহার করে

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার জন্য বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

(২) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু বা বরাদ করা হয়নি;

(খ) যদি তার ব্যক্তিগত পরিধানের জন্যে কোন পোশাক না হয়।

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি;

(৩) কোন পরিদর্শক সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার ব্যবহারের জন্যে প্রয়োজন নয় এবং কারাগারে প্রবেশের সময় ঘোষণা প্রদান করেননি বা সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা দখলে রাখার জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন প্রদান করা হয়নি।

(খ) অনুমতিতে বা বিনানুমতিতে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার পর কারাগার হতে বাহির হবার সময় যদি তার সঙ্গে না থাকে;

(গ) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার দখলে আসে এবং অতঃপর তিনি তা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান।

(৪) যদি অন্য কোন ব্যক্তি সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা কারাগারের ভিতর বা বাহিরে কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করে।

 

বিধি-৬৬২। ধর্ম, বর্ণ, সংস্কার, বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে বন্দীদের মধ্যে বিতর্ক নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে জেল সুপার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন। কাজের নিয়ম পরিবর্তনের অনুমতি দেয়া হবে না, তবে বন্দীদেরকে সুবিধাজনক সময়ে তাদের ধর্মীয় প্রার্থনা করার সুযোগ দেয়া হবে। হিন্দু ব্রাহ্মণদের মধ্যে যারা পৈতা পরিধান করেন তাদের জন্যে হিন্দু প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীর নিকট পৈতা রাখা যেতে পারে ।

জেল কোড অনুযায়ী শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

বিধি-৬৩৩। ব্যারাক এবং সেল বৎসর ব্যাপী প্রত্যুষে খোলা হবে। ব্যারাক এবং সেল খোলার ২০ মিনিট আগে ঘন্টা বা গং বাজানোর পর ওয়াচম্যানরা বন্দীদেরকে ডেকে উঠাবে এবং তাদের বেডিং গুছিয়ে রাখাবে। তারপর গাছ অনুসারে বন্দীরা ব্যারাকের মাঝখানে সারিবদ্ধ ভাবে বসবে। বন্দীদের কেউ অসুস্থ কিনা এবং মেডিকেল অফিসারের সাথে দেখা করতে চায় কিনা কয়েদী কর্মচারীরা তা নিশ্চিত করবে। নোট- বিধি ১২২৬ অনুসারে মেডিকেল অফিসার শীতের কারণে ওয়ার্ড খোলার সময় নির্ধারণে ক্ষমতাবান।

বিধি ৬৩৪-৬৩৬। সকালের প্রাকৃতিক কার্যাদি ।

বিধি-৬৩৭। সকালের নাস্তা খাওয়ার পর বন্দীদের হাজিরা নেয়া হবে এবং প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানের উদ্দেশ্যে চলে যাবে।

বিধি-৬৩৮ । বন্দীরা দুই সারিতে চলাচল করবে।

বিধি-৬৩৯। বন্দীরা কাজে যাবার সময় কম্বল ও বেডিং ছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাবে।

বিধি-৬৪০। যদি কোন আবদ্ধ ওয়ার্ক শপ থাকে এবং তাতে গেইট থাকে কাজের সময় তা তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৬৪১। প্রত্যেক ওয়ার্ক শেডে একটি প্রস্রাবখানা রাখতে হবে।

বিধি-৬৪২। মধ্যাহ্নে কর্ম বিরতির ঘন্টা বাজলে কাজ বন্ধ করে বন্দীরা গোসল সারবে, খাবার গ্রহণ করবে। যখন তারা খাবার গ্রহণ করবে তখন কারারক্ষীরা তাদের পিছনে খাবার প্লাটফর্মের চারদিকে দাঁড়ানো থাকবে যাতে কোন বন্দী তার খাবার অন্যকে না দিয়ে দেয় বা কোন খাবার না লুকিয়ে নেয়।

বিধি-৬৪৩। দুপুরের পর যখন আবার কাজ শুরু করার ঘন্টা বাজবে তখন প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানে চলে যাবে এবং বিকালে কাজ শেষের ঘন্টা না বাজানো পর্যন্ত কাজ করবে। কাজ শেষের ঘন্টা বাজার পর গ্যাং কাজ বন্ধ করবে এবং নিজেদের কাপড় চোপড়সহ নিজ নিজ ওয়ার্ডে বা নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসবে ।

সেখানে তাদের গণনা করা হবে এবং গ্যাং বইতে রেকর্ডকৃত সংখ্যার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। এর পর তারা টয়লেট ব্যবহার, হাত মুখ ধোয়া এবং খাবার গ্রহণ প্রভৃতি কাজ সারবে। তারপর ব্যারাক গেইটে হাজির হবে, গণনা এবং লক-আপ না করা পর্যন্ত তারা বসে থাকবে।

বিধি-৬৪৪। কারাগারের বাহিরে কাজে নিয়োজিত বন্দীর গ্যাং-কে ভিতরে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের বাহিরে গোসল করা এবং খাবার গ্রহণ নিষেধ।

বিধি-৬৪৫। বন্দীদের রাত্রিকালীন ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে নাইট- লেট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৪৬। জেল সুপার সপ্তাহে একবার সকাল বেলায় সকল বন্দীদের প্যারেড অনুষ্ঠান করবেন। সেখানে তিনি তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা শুনবেন। প্যারেডে প্রত্যেক শ্রেনীর বন্দী পৃথক পৃথক ভাবে লাইনে দাঁড়াবে ।

বিধি-৬৪৭। জেল সুপার বা জেলারের কাছে কোন বক্তব্য প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দী নিজের কাজ ছেড়ে আসবে না। জেলার দিনে কমপক্ষে একবার প্রত্যেক বন্দীকে ভিজিট করবেন এবং তাদেরকে আবেদন বা নালিশ জানানোর সুযোগ দিবেন।

বিধি-৬৪৮। বন্দীরা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ পালন করবে। তারা কয়েদী কর্মচারীদের নির্দেশও পালন করবে, যদি না তারা কারা বিধানের পরিপন্থী কোন নির্দেশ প্রদান করে।

বিধি-৬৪৯। কারাগারের ভিতর সব সময় কঠোর নীরবতা বজায় রাখতে হবে, কেবল মাত্র কাজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোন আলোচনার ক্ষেত্রে ছাড়া। রাতের বেলা ওয়ার্ডে যে কোন প্রকার কথা বলা, গান গাওয়া বা ঝগড়া করা একেবারে নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫০। কারাগারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করা এবং করলে তার পরিণতি সম্পর্কে বন্দীদেরকে সতর্ক করে দিতে হবে।

বিধি-৬৫১। জেল সুপারের প্যারেড পরিদর্শনের পূর্ব দিন বন্দীরা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার ভাবে ধৌত করবে। হাসপাতালের কাপড় ও বেডিং ধৌত করার জন্যে একজন কয়েদী ধোপা নিয়োগ করা যেতে পারে। কম্বল, কোর্তা এবং বেডিং ১১৭৩ বিধি মোতাবেক ধৌত করতে হবে।

বিধি-৬৫২। (১) এক মাসের বেশী মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সকল তৃতীয় শ্রেণীর বন্দী মাথার চুল ছোট করে ছাঁটাই করে রাখবে, গোঁফ, হাত ও পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে এবং প্রতি ১৫ দিনে একবার তা করতে হবে। প্রত্যেক কয়েদী কর্মচারী এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী স্বাস্থ্যের জন্যে যেরূপ উপযুক্ত সেরূপ পরিমাণ চুল দাঁড়ি ছোট রাখবে। তবে-

(ক) জেল সুপার এ সুবিধা থেকে যে কাউকে বাদ দিতে পারেন;

(খ) শিখ, লুসাই, বুটিয়া, চাইনিজ এবং মগ-দের চুল এভাবে ছোট করতে হবে না, তারা চিরুণী ব্যবহার করবে;

(গ) হিন্দুরা শিখি বা শিখা রাখতে পারবে;

(ঘ) মুসলমানরা যে রকম খুশী সে রকম লম্বা দাড়ি রাখতে পারবে, তাদেরকে প্রয়োজনে চিরুণী ব্যবহার করতে হবে;

(ঙ) মহিলাদের চুল কাটতে হবে না।

(চ) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ৩০ দিন বাকী থাকা অবস্থায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল কাটা যাবে না।

(ছ) জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বন্দীর চুল কাটা বা কামানোর ব্যবস্থা করবেন, এ জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত আদেশ প্রয়োজন হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তা লিখতে হবে।

(২) বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের চুল একবারে ছোট করে ছাঁটতে দেয়া হবে না বা তাদের বাহ্যিক চেহারার এমন কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না, যাতে তাদেরকে সনাক্ত করতে অসুবিধা হয়। এটা প্রতিরোধ করার জন্যে কাঁচি বা এ ধরনের কোন যন্ত্র তাদের ওয়ার্ডে রাখতে দেয়া হবে না।

এক মাসের বেশী সময় কারাগারে আছে এমন বিচারাধীন বন্দীদের চুল তারা কারাগারে আগমনের সময় যে রকম লম্বা ছিল সে রকম করে কাটতে হবে। জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বিচারাধীন বন্দীর চুল কাটার ব্যবস্থা করতে পারবেন, তবে তা প্রয়োজনের চেয়ে ছোট হবে না।

(৩) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে একটি চুল কাটার দোকান স্থাপন করতে হবে।। এ দোকানের ব্যবহার কেবলমাত্র কয়েদী কর্মচারী, বিচারাধীন বন্দী এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এর ব্যবহার অন্যান্য অস্ত্র আচরণকারী বন্দীদের জন্যেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। সেলুনে ব্যবহৃত রেজর, কাঁচি প্রভৃতি প্রত্যেক রাত্রে এবং দুপুরের বিশ্রামের সময় জেলার তার হেফাজতে রাখবেন।}

নং ১২১৩.এইচ জে তারিখ ১৬-৫-১৯৩৯ মুলে সংযোজিত। বিধি-৬৫৩। পূর্ববর্তী বিধি সমূহে বর্ণিত দৈনিক রুটিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে পালিত গেজেটেড ছুটির দিনেও অনুসরণ করা হবে, তবে সে সকল দিনে মেনিয়াল ও কারাগার চত্ত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ প্রয়োজনীয় কাজে নিয়োজিত বন্দীগণ ব্যতীত অন্যান্য বন্দীদের কাজ করতে হবে না।

তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদের গ্যাংকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০ টা পর্যন্ত কারাগার আঙিনায় ব্যয়াম করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে এবং বিকালের প্যারেডের জন্যে আরও একঘন্টা অনুমতি দেয়া হবে। এর মাঝের সময় তারা তাদের ওয়ার্ডে থাকবে। কোন ইহুদি বন্দীকে শনিবারে কাজ করতে হবে না।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৫৪। (১) শিক্ষিত এবং ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা বিশ্রামের সময়ে কারাগরের লাইব্রেরী হতে কিংবা জেল সুপার উপযুক্ত মনে করলে তার অনুমতিক্রমে বাহির হতে একটি বা দুইটি বই পড়ার জন্যে অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

(২) জেল সুপার তার ক্ষমতা বলে বিশেষ বিবেচনায় ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে বিভিন্ন প্রকার বই কারাগার লাইব্রেরী হতে প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে এক সঙ্গে ৫টির বেশী বই দেয়া যাবে না। জেল সুপার তাদেরকে নিজেদের খরচে সময়ে সময়ে অনুমোদিত ম্যাগাজিন, সাময়িকী, বই এবং খবরের কাগজ কেনার অনুমতিও প্রদান করতে পারেন, সে সব জেল সুপার কর্তৃক প্রয়োজনীয় সেন্সর করে তাদের কাছে দেয়া হবে। নিরাপত্তা বন্দী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে সরকারী খরচে প্রদত্ত খবরের কাগজ তাদের প্রয়োজন শেষে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে পড়তে দেয়া যেতে পারে।

নং- ২৫৯৬ এইচ জে, তারিখ ১৫-১২-১৯৫১ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

(৩) একজন বন্দীকে ইস্যুকৃত বই অন্য বন্দীর নিকট হস্তান্তর করা যাবে না, যদি করা হয় বরাদ্দ প্রাপকের এ সুবিধা রহিত করা হবে এবেং সে সঙ্গে শাস্তি পেতে হবে।

(৪) আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে তাদের নিজ খরচে একটি এক্সারসাইজ খাতা রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন পেন্সিল অনুমতি দেয়া হবে না, তবে কলম এবং কালি কারা কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন। এক্সারসাইজ খাতাটি সাধারণ স্কুল এক্সারসাইজ খাতা হবে, তবে তার প্রতিটি পাতায় পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া থাকবে এবং কোন পাতা খুলে ফেলা হয়েছে কিনা মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ সব কাগজে পত্র লিখার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

(৫){কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত পূর্ব অনুমতিক্রমে ভদ্র আচরণকারী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং বিচারাধীন বন্দীদেরকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই এমন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বা সরকার অনুমোদিত অন্যান্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; শর্ত থাকে যে, বই কেনা বা পরীক্ষা বা অন্য কোন ফি বাবদ এ উপলক্ষ্যে সরকারের অতিরিক্ত কোন খরচ হবে না। পরীক্ষা কারাগারের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে ।

নং- ২৭৭ এইচ জে, তারিখ ১১-২-১৯৪৬ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৫৫ । কারারক্ষীর সঙ্গে বা সঙ্গবিহীন সকল অবস্থায় বন্দীদেরকে বাজারে যেতে দেয়া নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫৬। যতজন বন্দী সাজা খাটার কথা রয়েছে ততজন ঐ দিন উপস্থিত আছে কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্যে প্রত্যেক মাসের শেষ দিনে কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা গণনা করতে হবে।

বিধি-৬৫৭। এই কোডে অনুমোদিত না হলে-

(১) কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(২) কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(৩) কোন ব্যক্তি কোন বন্দীর সাথে পত্র যোগাযোগ করবে না বা যোগাযোগের চেষ্টা করবে না।
কোন ব্যক্তি এ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করলে বা অপরাধের সহায়তা করলে, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক দুইশত ঢাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

 

বিধি-৬৫৮। যখন কোন ব্যক্তি কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত অবস্থায় ৬৫৭ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করে, এবং অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারীর দাবী অনুযায়ী নাম-ঠিকানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, অথবা অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট কোন নাম-ঠিকানা প্রদান করে, যা ঐ কর্মকর্তা- কর্মচারী মিথ্যা বলে জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারী তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই তাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করবেন, এবং অতঃপর অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা এমন ভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন যেন অপরাধটি তার উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়েছে ।

বিধি-৬৫৯। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারা মোতাবেক কারাগারে নিষিদ্ধ কাজের তালিকা এবং শাস্তি উল্লেখ করে জেল সুপার কারাগারের বাহিরে সহজ দৃষ্টি গোচর স্থানে ইংরেজী এবং বাংলা ভাষায় লিখিত একটি নোটিশ বোর্ড টানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবেন ।

বিধি-৬৬০। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৬০ (এফ) ধারা অনুসারে নিম্নোক্ত দ্রব্যাদি উক্ত আইনের ৪২ এবং ৪৫ (১২) ধারার অর্থ অনুসারে কারাগারে প্রবেশ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি বলে গণ্য হবে, যদি না এ ধরনের কোন দ্রব্য-

(ক) কর্তপক্ষের অনুমোদন মোতাবেক কোন কারাগারে প্রবেশ করানো হয় বা কারাগার হতে বাহির করা হয়,

(খ) জেল সুপার বা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সেগুলো গ্রহণ করে, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাবন্দীর শ্রেণী

আজকে আমরা কারাবন্দীর শ্রেণী  প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

কারাবন্দীর শ্রেণী । জেল কোড

বিধি-৬১৬। প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ৬ প্রকারের বন্দী থাকবে, প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার হতে আলাদা ভাবে রাখতে হবে-

(১) সিভিল বন্দী

(২) বিচারাধীন বন্দী

(৩) মহিলা বন্দী

(৪) ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী

(৫) পুরুষ বন্দী যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি

(৬) অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।

বিচারাধীন বন্দী, মহিলা বন্দী এবং কিশোর বন্দীদের বিষয়ে যথাক্রমে সপ্তবিংশ, ঊনত্রিংশ এবং ত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

বিধি-৬১৭। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন I, II ও III- এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবো-

(১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ ডিভিশন-] প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-

(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী;

(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের ; এবং

(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজা প্রাপ্ত নয়-

(এ) নৃশংসতা,নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ;

(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা;

(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ;

(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা;

(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।

(২) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন-II প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হবে না; সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণী বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীর চরিত্র এবং প্রাক- পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে।

(৩) যে সকল বন্দী ডিভিশন I এবং ডিভিশন II এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন- III এর আওতাভুক্ত হবে।

(৪) {হাই কোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, স্পেশাল জজ, সহকারী দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন- | বা ডিভিশন- II প্রদানের জন্যে প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্যে (সহকারী দায়রা জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবে বা পুনর্বিবেচনা করবে।}

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

(৫) সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায়, সুপারিশকৃত যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন- | বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয় তা হলে তারা ডিভিশন- | সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন- II সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন- II বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন III সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৬) ডিভিশন- I এবং ডিভিশন- II বন্দীদেরকে যথাসম্ভব বিধি ১০৬৮(৩) অনুযায়ী পৃথক রাখতে হবে।} নোট- ডিভিশন- । এবং ডিভিশন- II বন্দীদের বিষয়ে পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৬১৮ । – নিম্নোক্ত বন্দীদেরকে “অভ্যাসগত অপরাধী” বলে গণ্য করা হবে :-

(১) যে ব্যক্তি দণ্ড বিধির দ্বাদশ,ষোড়শ,সপ্তদশ,বা অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছে কিংবা বর্তমান মামলার অবস্থায় দৃশ্যমান হয় যে সে উক্ত পরিচ্ছেদ সমূহের যে কোনটি বা সব কয়টির অধীনে এক বা একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

(২) যে ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (ধারা ১০৯ এবং ১১০ সহপঠিত) কারাগারে সোপর্দ বা আটক রাখা হয়েছে।

টীকা- ১। ফৌজদারি কার্যবিধি। ধারা-১২৩- মুচলেকা খেলাপ করার দরুন কারাদণ্ড, ধাতু ১০৯-ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা, ধারা-১১০. অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণের মুচলেকা।

(৩) উপ-বিধি (১)-এ বর্ণিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, এমনকি পূর্বে দণ্ডিত না হলেও বর্তমান মামলার ঘটনা হতে যদি দেখা যায় যে, সে স্বভাবগতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাত বা চোর দলের সদস্য কিংবা দাস ব্যবসা বা চোরাইমালের এজেন্ট;

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তবে তা সরকারের বিবেচনা সাপেক্ষ

(৫) – (৬) অকার্যকর।

{(৭) এই বিধিতে অভ্যাসগত অপরাধী হিসাবে শ্রেণীভুক্ত বন্দীদেরকে বি শ্রেণীর বন্দী বলা হবে। ব্যাখ্যা- আলোচ্য সংজ্ঞার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “দণ্ড” বলতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১১৮ ধারা (১১০ ধারা সহ পঠিত) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশেকেও বুঝাবে।

II. – একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করার দায়িত্ব সাজা প্রদানকারী আদালতের, যদি আদালত তা না করেন, তবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারেন, বা সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হলে, সাধারণত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে নিজেই শ্রেণীক্ত করবেন। শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

 

III. কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ পূর্বক এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (১০৯ ও ১১০ ধারাসহ পঠিত) আটক কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা যাবে না এবং এরূপ আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

IV – কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যে ক্ষেত্রে যিনি হন, তাদের নিজেদের দ্বারা ধার্য শ্রেণী বিভাজন সংশোধন করতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের প্রদর শ্রেণী বিভাগও পরিবর্তন করতে পারেন, শর্ত থাকে যে এ ধরনের পরিবর্তন সে সব কারণের উপর ভিত্তি করে করতে হবে, যে সব কারণ ইতোপূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয় নি।

নোট- উপরের II, III এবং IV প্যারায় জেলা ম্যাজিট্রেট বলতে সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝায় যে জেলায় আসামী দণ্ডিত হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করেছে কিংবা আটক আছে ।

V – প্রত্যেক অভ্যাসগত অপরাধীকে সম্ভব হলে এমন বিশেষ কারাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে অভ্যাসগত অপরাধী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে রাখা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শক কারণ লিপিবদ্ধ করে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীকেও এ ধরনের বিশেষ কারাগারে পাঠাতে পারেন, যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী খুব দুর্ধর্ষ বা অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, সে অন্যান্য বন্দীদের খারাপ ইন্ধন জোগাচ্ছে বা জোগাতে পারে, তাই তাকে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীদের সাথে রাখা উচিত হবে না।

VI. উপবিধি II III এবং IV এ ” জেলা ম্যাজিট্রেট” বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটও অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
নং- ৫৫৬৬ এইচ জে তারিখ ৩-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত।

বিধি ৬১৯-৬৩২ । উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

জেল কোড অনুযায়ী আপীল ও পিটিশন

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন । জেল কোড

নোট- আপীল সম্পর্কে ফৌজদারি কার্য বিধির একত্রিংশ অধ্যায়ের বিধানাবলীর ধর মনোযোগ দিতে হবে।

বিধি-৫৯৯। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইচ্ছা করলে আপীল করতে পারবে, আদালতে আপীল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছবে বা না পৌঁছবে, তা সত্ত্বেও আপীলকারীকে আপীল করার উদ্দেশ্যে সকল যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে এবং তার অনুরোধ অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি আপন আবেদন এমন বিলম্বে পেশ করা হয় যে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্বে আপীল পেশের কারণ সম্পর্কে আপীলকারী বন্দীর বক্তব্যসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার মতামত। বিবৃ করে (যদি থাকে) আপীল আবেদনটি প্রেরণ করবেন।

টীকা-। যে সব ক্ষেত্রে আপীল চলে না-

(১) আসামীর দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে (ধারা ৪১২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(২) দায়রা জজ প্রদত্ত অনুর্ধ্ব এক মাস কারাদণ্ড; দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব পঞ্চাশ টাকা জরিমানা (ধারা-৪১৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৩) সামারী ট্রায়ালে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুইশত টাকা জরিমানা করা হলে (ধারা-৪১৪,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০০। দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে আপীল দায়েরের সময় সীমা :-

  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৭দিন (ধারা-১৫০,তামাদি আইন)
  • মৃত্যুদণ্ড ভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৬০দিন (ধারা-১৫৫, তামাদি আইন)
  • অন্য কোন আদালতে আপীল -৩০দিন (ধারা-১৫৪,তামাদি আইন)

টীকা-১। তামাদি প্রশ্নে কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তি যে দিন জেল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন দাখিল করবেন সেদিন আপীল আদালতের কাছে দায়ের হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। (৯ মাস ২৫৮)।

টীকা-২। যে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপীল করতে হবে (ধারা ৪০৭- ৪১০, ফৌজদারি কার্যবিধি)-

আদেশ প্রদানকারী আদালত আপীল আদালত
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট দায়রা জজ
সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ৫ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা হাইকোর্ট বিভাগ
দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগ

 

টীকা-৩। আপীল সাপেক্ষে আদালত দণ্ড স্থগিত এবং আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন (ধারা ৪২৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৪। সি আর মামলায় ফরিয়াদি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার খালাসের বিরুদ্ধে কিংবা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন (ধারা ৪১৭,৪৭১-ক, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৫। খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদালত আসামীকে পুনরায় গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন (ধারা-৪২৭, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৬০১। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল প্রস্তুতির জন্যে আগত আত্মীয়-স্বজন এবং আইনজীবির সঙ্গে সাক্ষাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে; এ ধরনের সাক্ষাত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে, কিন্তু শ্রুতির অগোচরে হতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার পক্ষে কাজ করার জন্যে কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করে আম-মোক্তার নামায় স্বাক্ষর প্রদানের অনুমতি দেয়া যাবে; আম-মোক্তার নামা ষ্ট্যাম্প আইন অনুসারে যথাযথ ষ্ট্যাম্পে প্রদান করতে হবে এবং আম-মোক্তার নামায় বন্দীর স্বাক্ষর জেলার বা ডেপুটি জেলার কর্তৃক অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০২। জেল সুপারের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন বন্দী বা কাৱা কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোন বন্দীর পক্ষে আপীল বা আবেদন লিখতে বা প্রস্তুত করতে বা পেশ করতে পারবেন না।

বিধি-৬০৩। (১) যদি কোন বন্দী জানায় যে সে আপীল করতে আগ্রহী কিন্তু আপীল প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করার জন্যে তার পক্ষে আগ্রহী কোন আত্মীয়,বন্ধু বা এজেন্ট নেই, সে ক্ষেত্রে জেল সুপার ২৭ নম্বর জেল ফরমে আদালতের কাছে রায়ের বা আদেশের একটি কপি চেয়ে আবেদন প্রেরণ করবেন।

(২) রায়ের বা আদেশের কপি পাবার পর, বন্দী যদি লিখতে পারে তবে তারে তার আপীল লিখার অনুমতি দেয়া হবে। যদি বন্দী নিজে লিখতে অক্ষম হয় তা হলে জেল সুপার অন্য একজন বন্দী বা একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়ে তা লিখার ব্যবস্থা করবেন।

(৩) যদি ৭ দিনের মধ্যে রায়ের কপি না আসে তা হলে জেল সুপার একটি তাগিদ প্রদান করবেন এবং অতিরিক্ত বিলম্ব ঘটলে বিষয়টি কার মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

(৪) যে বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আপীলকারী বন্দীর পক্ষে আপীল লিখবেন, তিনি আপীল কারীর নির্দেশ মোতাবেক লিখবেন, কি লিখা উচিত এ ধরনের কোন পরামর্শ প্রদান করবেন না ।

(৫) জেল সুপার কোন প্রকার বিলম্ব না করে রায় বা আদেশের কপিসহ প্রস্তুতকৃত আপীলটি আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন।

(৬) যদি কোন রায় বা আদেশের কপি পাবার পর তা বন্দীর কোন আত্মীয়- স্বজন,বন্ধু বা আইনজীবি তার পক্ষে আপীল প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করতে চায় তা হলে বন্দীর সম্মতিতে তা হস্তান্তর করা যাবে।

(৭) যদি একাধিক বন্দীকে একই মামলায় সাজা প্রদান করা হয়, একই সঙ্গে একই আদালতে তাদের পেশকৃত আপীলের সঙ্গে রায়ের একটি কপি সংযুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন একজনের জন্য আপীলে । প্রদত্ত আদেশ একই সঙ্গে আপীলকারী একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

টীকা- যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেওয়া হয়, তখন এইরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে (ধারা ৪১৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৮) কোন বন্দীকে রায়ের কপি পাবার আগে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে, রায়ের কপি যখন পাওয়া যাবে তখন যে কারাগারে সে আটক আছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট তাড়াতাড়ি তা প্রেরণ করতে হবে।

(৯) কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত সামরিক বন্দীর আপীল আবেদন দণ্ডাদেশের কপিসহ কমাণ্ড হেড কোয়ার্টার্সে প্রেরণের উদ্দেশ্যে যে জেলায় কারাগার অবস্থিত সে জেলার জিওসি’র নিকট পাঠাতে হবে।

টীকা- আপীলকারী কারাগারে থাকলে সে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের আবেদনপত্র কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দাখিল করতে পারবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত আবেদনপত্র ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবে (ধারা-৪২০. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৪। সকল আপীল এম ৯৭ বি বা সি নম্বর হাইকোর্ট ক্রিমিনাল ফরমে পিটিশন আকারে লিখিত ভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আপীলকারী কারাগারে অন্তরীণ থাকলে কারাগার হতে তার প্রেরিত আপীল স্ট্যাম্প ফি মুক্ত হবে। সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে যে আপীলকারী কর্তৃক যথাযথভাবে আপীলটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা।

আপীলকারীর স্বাক্ষর জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সকল আপীল আবেদন জেল সুপার কর্তৃক প্রেরিত হবে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরের জন্যে আপীল এম ১০৪ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে প্রেরণ করতে হবে। কারাগারে অন্তরীণ একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সকল বন্দী একরে কিংবা পৃথক পৃথক ভাবে আপীল বা রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

বিধি-৬০৫ । যখন কোন বন্দী হাইকোর্টে আপীল করে, তখন জেল সুপার উক্ত আপীলের বিষয়ে দায়রা আদালতকে (এম) ১০৫ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে অবহিত করবেন।

বিধি-৬০৬। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আপীল করার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সম্পর্কে তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে ।

বিধি-৬০৭। ডিভিশন I এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে বিধি ১০৬৮ অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্র ব্যতীত এবং সাক্ষ্য প্রদান ও অন্য মামলার অভিযোগের কারণে স্থানান্তরের প্রয়োজন ব্যতীত এবং বিধি ৮৪৩ অনুযায়ী এ বিধি অকার্যকর হবার ক্ষেত্র সমূহ ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল দায়েরের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপীল দায়ের হয়ে থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে, সেখান থেকে অন্য কারাগারে সাধারণত স্থানান্তর করা যাবে না।

কোন বন্দীকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং বেত্রদণ্ড অনিষ্পন্ন অবস্থায় কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা যাবে না।

কোন বন্দীকে বদলি করার পূর্বে সে আপীল করতে ইচ্ছুক কিনা জেল সুপার তা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বন্দী জানায় যে, কারাগারের বাহির থেকে তার জন্যে আপীল করা হবে তবে আপীল দায়েরের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বদলি করা যাবে না।

নোট- যদি কোন কারণে কোন বন্দীকে আপীলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বদলি করা প্রয়োজন হয়, তবে একই দণ্ডাদেশে একাধিক বন্দী থাকলে তাদের দল ছুট করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে তারা যে যে কারাগারে থাকবে সেখান থেকে পৃথকভাবে আপীল করতে হবে।

বিধি-৬০৮ । কারা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আপীল প্রস্তুতকারী কোন বন্দী আপীল দায়েরের সময় সীমার মধ্যে অন্য কারাগারে বদলি হয়ে গেলে, তার বদলি সম্পর্কে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী সর্বশেষ আদালতকে জানাতে হবে। যখন কোন বদলিকৃত বন্দীর মুক্তি, বা সংশোধিত ওয়ারেন্ট বা তার আপীলের বিষয়ে আপীল আদালতের কোন পত্র জেল সুপার কর্তৃক গৃহীত হয়, তা তাড়াতাড়ি ডাক যোগে বদলিকৃত কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৯। যদি আপীল দায়েরের পর পনর দিনের মধ্যে বা হাইকোর্ট বিভাগ হতে এক মাসের মধ্যে জেল সুপারকে কোন ফলাফল জানানো না হয়, জেল সুপার ১৫ নম্বর জেল ফরমে দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেটের নিকট একটি তাগিদ পত্র প্রেরণ করে আপীলের ফলাফল জানানোর জন্যে অনুরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে যুক্তি সংগত বিরতিতে পুনরায় পত্র দিবেন। যখন আপীলের ফলাফল জানা যাবে তা বন্দীকে জানাতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে লিখিত হবে। নোট- এই বিধিতে বর্ণিত কার্যক্রম বন্দীকে বদলি করা হলে বদলিকৃত কারাগার হতেও গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৬১০। (১) সাজা বাতিলের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আপীল আদালত নির্ধারিত ফরমে ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন। আদালত একই সময়ে মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। উক্ত ওয়ারেন্ট এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ সম্বলিত আপীল আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর জেল সুপার দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন।

(২) যখন আপীলে দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়, আপীল আদালত পরিবর্তিত আদেশ সম্বলিত একটি নুতন ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। অনুরূপ ওয়ারেন্ট দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

যখন ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর আপীল আদালতে প্রেরণ করা হবে, আপীল আদালত তা দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন। তবে যখন কোন আপীলকারী বন্দীকে আপীল অনিম্পন্ন অবস্থায় জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়, সে আদালতে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপীল আদালত জেল সুপারের নিকট নুতন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন না ।

(৩) যখন আপীল আদালত সাজা বহাল রাখেন তখন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। উপরের বিধি মোতাবেক আপীল আদালত আপীলকারী বন্দীকে ফলাফল জানানোর জন্যে জেল সুপারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

(৪) এই বিধি কোন আদালতের প্রদত্ত দত্ত হ্রাসকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের কপি বন্দীর ওয়ারেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বিধি-৬১১ । যখন কোন আপীল আদালত কোন বন্দীর দণ্ড বাতিল ঘোষণা করে পুন:বিচারের আদেশ প্রদান করেন, বন্দীকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কোন ওয়ারেন্ট পাওয়া না গেলে ( এবং সে অন্য কোন দণ্ডাদেশ মূলে সাজারত না থাকলে), তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে পুন:আটক রাখা হবে। জেল সুপার বন্দীকে আটকাদেশ প্রদানের ওয়ারেন্ট জারীর জন্য আদেশদানকারী আদালতকে অনুরোধ জানাবেন। ওয়ারেন্ট পাবার পর তা সে আদালতে প্রদর্শন করতে হবে, যে আদালতে বন্দীর পুনর্বিচার হবে।

বিধি-৬১২। ((এ) একজন বন্দী আদালতে আপীল করতে পারে। যদি বন্দী উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়েরের জন্য অগ্রসর হয়, তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তার নিকটজন বা এজেন্ট দ্বারা করতে হবে, কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে কিছু করবে না ।

(বি) (১) একজন বন্দী আপীলের জন্যে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরেরও অধিকারী। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে সে রায়ের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করতে হবে।

(২) একজন বন্দী আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের উদ্দেশ্যে তার আবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারেন, যিনি তা সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(৩) আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে-

(ক) আপীলের যৌক্তিকতা,

(খ) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(গ) যে ক্ষেত্রে দায়রা আদালত আবেদনকারীকে খালাস প্রদাহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সরকারের আপীলের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে দণ্ড প্রদান করেছে, সে ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(ঘ) যদি আবেদন করতে বিলম্ব হয়, বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বক বিলম্ব প্রমার্জনের আবেদন।।

নং- ৬৩০ এইচ জে তারিখ ২১-৪-১৯৫৪ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বিধি-৬১৩। (১) যদি কোন বন্দীর আপীল হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়, বা যাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সাজা প্রদান করেছেন, তিনি হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার প্রদর আদেশের তিন মাসের মধ্যে সাজা মার্জনা বা হ্রাসের জন্যে | রাষ্ট্রপতির} নিকট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক দায়ের করা না হলে পিটিশন আটক করা হবে, যদি না কোন বিশেষ কারণ উদ্ভব হয় ।

(৩) বন্দীর পারিবারিক দুর্দশা বা শারীরিক বা সদাচারের কারণ সম্বলিত পিটিশন সাধারণত আটক করা হবে।

(৪) উপ-বিধি(৩) এর আওতায় আটককৃত কোন পিটিশন অগ্রগামী করা যেতে পারে, যদি কোন সরকারী পরিদর্শক তা প্রেরণের জন্যে পরামর্শ প্রদান করেন।

নোট-১। এই কোডের ৯৯১ বিধিতে বর্ণিত শর্তাধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ক্ষমার পিটিশন দায়ের করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে ।

নোট-২। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীর স্বাস্থ্যগত খারাপ অবস্থা বা ভাল আচরণের কারণে সাজা হ্রাসের সুপারিশ করতে পারবেন, কিন্তু তা রাষ্ট্রপতির নিকট বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হবে না।

বিধি-৬১৪। অর্ধ মার্কিন ফুলস্কেপ কাগজে এবং বন্দীর মাতৃভাষায় লিখতে হবে। বন্দীর স্বাক্ষর বা টিপসহি একজন কারা কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পিটিশন হবে । পিটিশন জেল সুপার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর পিটিশন সরাসরি সরকারের {স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী পিটিশনে তার শারীরিক খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তবে তার সাথে মেডিকেল অফিসারের একটি বক্তব্য পেশ করতে হবে।

যদি বন্দীর পক্ষে কোন পিটিশন প্রস্তুতের পর জেল সুপারের নিকট বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্যে পেশ করা হয়, বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণ করার পর পিটিশন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট তা আর ফেরত দেয়া যাবে না। জেল সুপার পিটিশন যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব বা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, প্রেরণ করবেন।

বিধি-৬১৫। যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা পূর্বতন অফিস কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার নিকট জরুরী পারিবারিক বিষয়াদি, দেওয়ানী মামলা, বিষয়-সম্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে পিটিশন করতে চায়, তা হলে জেল সুপার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক তা প্রতিস্বাক্ষরান্তে প্রাপকের নিকট প্রেরণ করে দিবেন, শর্ত থাকে যে, এ ধরনের কোন আবেদন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা সরকারের নিকট প্রেরণ করা যাবে না ।

সাজাপ্রাপ্ত {বিদেশী নাগরিকদেরকে } কোন জরুরী বিষয়ে তাদের সরকারের রাষ্টদূতের নিকট জেল সুপারের বিবেচনা মতে আবেদন করার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে; কিন্তু অনুরূপ আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বা { মেট্রাপলিটান শহরের কারাগারের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।