Tag Archives: জেল কোড

জেল কোড

বন্দী-বিবিধ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দী-বিবিধ।

বন্দী-বিবিধ

 

বন্দী-বিবিধ

 

৫৫। বন্দীদের বাহির প্রাচীরে আটক, নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ করানো।-

একজন বন্দীকে কোন কারাগারে বা কারাগার হইতে যেখানে তাহাকে আইন সম্মত ভাবে আটক রাখা যাইতে পারে, বাহিরে নেওয়া হয় বা কারাগারের বাহিরে বা কারাগারের সীমানার বাহিরে ঐ কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইন সম্মত প্রহরায় বা নিয়ন্ত্রণে যখন সে কর্মরত থাকে, তখন সে কারাগারে রহিয়াছে বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং সে প্রকৃতপক্ষে কারাগারে থাকিলে যেরূপ হইত, সেইরূপ সকল কিছুর আওতায় থাকিবে।

৫৬। লৌহ-শৃঙ্খলে আটক।-

যখন সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রয়োজন মনে করেন যে, (বন্দীর অবস্থার কারণে বা চরিত্রের কারণে) কোন বন্দীকে নিরাপদ প্রহরার জন্যে লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখিতে হইবে, সরকারের অনুমোদনক্রমে মহাপরিদর্শক নির্ধারিত বিধি এবং নির্দেশাবলী সাপেক্ষে তিনি উক্ত বন্দীকে সেভাবে আটক রাখিতে পারিবেন।

৫৭। দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে লৌহ-শৃঙ্খলে আটক।-

(১) দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে, ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত কোন বিধান সাপেক্ষে, কারাগারে ভর্তির প্রথম তিন মাস লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখা যাইতে পারে।

(২) যদি সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রয়োজন মনে করেন যে,বন্দীর নিজের নিরাপদ প্রহরা বা অন্য কোন কারণে, কোন বন্দীকে তিন মাসের অধিক কাল লৌহ-শৃংখলে আটক রাখিতে হইবে,তিনি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট যেই রকম প্রয়োজন মনে করেন সেই রকম মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করিবেন,এবং কারা মহাপরিদর্শক সেই অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারেন।

৫৮। প্রয়োজন ব্যতীত বন্দীদেরকে জেলার কর্তৃক লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখা যাইবে না।-

জেলারের নিজ কর্তৃত্বে কোন বন্দীকে লৌহ-শৃঙ্খলে বা যান্ত্রিক উপায়ে আবদ্ধ করা যাইবে না, জরুরী প্রয়োজনের ব্যতিক্রম ব্যতীত,যে ক্ষেত্রে বিষয়টি অবিলম্বে সুপারিনটেন্ডেন্টকে জানাইতে হইবে।

 

৫৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।

সরকার এই আইনের সামঞ্জস বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন-

(১) কাজ সমূহকে কারা-অপরাধ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য;

(২) কারা-অপরাধকে গুরু এবং লঘু শ্রেণীতে নির্ধারনের জন্য;

(৩) কারা অপরাধের জন্য যে সকল শাস্তি দেওয়া হইবে তাহা নির্ধারণ করা;

(8) এই আইনের অধীনে যে পরিস্থিতিতে কোন কাজ কারা অপরাধ এবং দণ্ড বিধির আওতায়ও অপরাধ, তাহা কারা অপরাধের আওতায় বিবেচনা করা বা না করা ঘোষণা করার জন্য;

(৫) দণ্ডের সীমানা বা মেয়াদ হ্রাস করিবার জন্য ; 

(৬) বিদ্রোহ বা পলায়নকালে কোন বন্দী বা বন্দীর শরীরের বিরুদ্ধে অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য;

(৭) মরণাপন্ন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পরিস্থিতি নির্ধারণ এবং শর্তাদি নিয়ন্ত্রণ; 

(৮) কারাগারের শ্রেণী বিভাগ, ওয়ার্ড,সেল এবং কারাগারের অন্যান্য আটক রাখিবার স্থানের ধরন ও নির্মাণের জন্য;

(৯) প্রত্যেক শ্রেণীর কারাগারে কত সংখ্যক, কি মেয়াদের বা প্রকারের সাজা বা অন্যভাবে বন্দী আটক রাখা হইবে এই সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য;

(১০) কারাগার পরিচালনা এবং এই আইনের অধীনে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য; 

(১১) ফৌজদারি বন্দীদের এবং নিজেদের টাকায় ভরণ পোষণ করে না এমন সিভিল বন্দীদের খাদ্য,বেডিং এবং পোশাক ব্যবস্থাকরণ;

(১২) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে কাজে নিয়োগ,নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য;

(১৩) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে আনা-নেওয়া করা নিষিদ্ধ, এমন দ্রব্যাদি নির্ধারনের জন্য;

(১৪) কারাগারে শ্রমের শ্রেণী বিভাজন এবং শ্রমের ধরন নির্দিষ্ট করণ এবং বিশ্রাম করিবার সময় নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য;

(১৫) বন্দীদের কাজের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির জন্য;

(১৬) দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বেড়ী পরানোর বিধানের জন্য; 

(১৭) বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন এবং পৃথকীকরণের জন্য;

(১৮) ২৮ ধারার অধীনে সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের আটক নিয়ন্ত্রণের জন্য; 

(১৯) হিস্ট্রি টিকেট প্রস্তুতি এবং সংরক্ষণের জন্য;

(২০) বন্দীদেরকে কর্মচারীরূপে বাছাই এবং নিয়োগ করিবার জন্য;

(২১) সদাচারের জন্য পুরস্কার;

(২২) যে সকল বন্দীর দ্বীপান্তর বা কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে আসিয়াছে, তাহাদের বদলি নিয়ন্ত্রণের জন্য; 

(২৩) কারাগারে আটক ফৌজদারি উম্মাদ বন্দী বা আরোগ্য লাভকারী ফৌজদারি উম্মাদ বন্দীদেরকে পরিচালনা, স্থানান্তর এবং হস্তান্তরিত করিবার জন্য;

(২৪) বন্দীদের আপীল এবং আবেদন অগ্রগামী করিবার এবং তাহাদের বন্ধু- বান্ধবদের সাথে সাক্ষাত নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য; 

(২৫) কারাগারের পরিদর্শকগণের নিয়োগ এবং নির্দেশনার জন্য;

(২৬) এই আইনের কোন বা সকল বিধানকে বা তাহার অধীনে কোন বিধিকে সাব-সিডিয়ারী কারাগার সমূহের জন্য বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪১ ধারার অধীনে আটক রাখিবার বিশেষ স্থান সমূহের ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য এবং সে সকল স্থানে কর্মকর্তা নিয়োগ এবং বন্দী আটক রাখিবার জন্য;

(২৭) বন্দীদের ভর্তি,প্রহরা, কাজ,খাবার,পরিচালনা এবং মুক্তি সংক্রান্ত;এবং

(২৮) সাধারণভাবে এই আইনের উদ্দেশ্য সমূহের কার্যকরীতার জন্য ।

৬০ । বাতিল ।

৬১। বিধির কপিসমূহ প্রদর্শন।-

৫৯ ধারার অধীনে বিধি সমূহের কপি, যতদূর সরকার কর্তৃক কার্যকরী করিবার পর, ইংরেজী এবং বাংলা উভয় ভাষায় এমন জায়গায় প্রদর্শন করিতে হইবে, যেখানে একটি কারাগারে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রবেশ অধিকার রহিয়াছে।

 

বন্দী-বিবিধ

 

৬২। সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল অফিসারের ক্ষমতা প্রয়োগ।

এই আইন দ্বারা কোন সুপারিনটেন্ডেন্ট বা কোন মেডিকেল অফিসারের উপর ন্যস্ত এবং অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা এবং দায়িত্ব, তাহার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য কর্মকর্তা দ্বারা প্রয়োগ এবং কার্যকরী করা যাইবে, সরকার যাহাদেরকে এই উদ্দেশ্যে নামে বা তাহাদের দাপ্তরিক পদবীতে নিয়োগ করেন।

কারা অপরাধসমূহ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা অপরাধসমূহ ।

কারা অপরাধসমূহ

 

কারা - অপরাধসমূহ ।

 

৪৫। কারা-অপরাধসমূহ।-

নিম্নোক্ত কার্যাবলী কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হইল, যখন সে গুলি কোন বন্দী করিবে-

          (১) ,, ৫৯ ধারা অধীনে প্রণীত বিধানে কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হইয়াছে কারাগারের এমন বিধানের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা করা;

          (2) কোন আক্রমণ বা অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ করা; 

          (৩) অপমানজনক বা ভয় দেখানোর ভাষা ব্যবহার করা;

          (8) অনৈতিক বা অশোভন বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা;

          (৫)ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেকে কাজের অযোগ্য করা;

          (৬)কাজ করিতে অবজ্ঞা সহকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা;

          (৭) অনুমতি ব্যতীত হ্যান্ডকাপ, বেড়ী বা ডান্ডা ঘষা, কাটা, পরিবর্তন বা অপসারণ করা;

          (৮) কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের প্রতি ইচ্ছাকৃত অলসতা বা অবহেলা;

          (৯)কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক কাজের ইচ্ছাকৃত অব্যবস্থাপনা করা;

          (10) কারাগারের সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করা;

          (১১) হিস্ট্রি টিকেট, রেকর্ড, দলিলপত্র বিনষ্ট করা বা পরিবর্তন করা;

          (১২) কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ, দখলে রাখা বা হস্তান্তর করা; 

          (১৩) অসুস্থতার ভান করা;

          (১৪) কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বন্দীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা; 

          (১৫) অগ্নিকান্ড, কোন গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র, কোন পলায়ন বা পলায়নের প্রস্তুতি,এবং কোন বন্দী বা কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীর উপর কোন আক্রমণ বা আক্রমণের প্রস্তুতির সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানানো বা জানাইতে অসম্মতি জ্ঞাপন;

          (১৬) পলায়নের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা পলায়ন বা পূর্ব বর্ণিত অন্য কোন অপরাধ করিতে সাহায্য করা।

৪৬। অনুরূপ অপরাধের শাস্তি।-কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন অপরাধ করিলে সুপারিনটেন্ডেন্ট পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন, এবং অনুরূপ অপরাধের জন্য, নিম্নোক্ত শাস্তি নির্ধারণ করিতে পারিবেন-

         (১) আনুষ্ঠানিক সতর্ক করা;

ব্যাখ্যা।- আনুষ্ঠানিক সতর্ক বলিতে বুঝাইবে সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক বন্দীকে ব্যক্তিগত ভাবে সতর্ক করিয়া দেওয়া এবং শাস্তি বইতে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তাহা রেকর্ড করা।

         (2) শ্রম পরিবর্তন করিয়া সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য আরও গুরু বা কষ্টদায়ক শ্রম প্রদান করা ;

         (৩) সাজাপ্রাপ্ত বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীকে অনধিক ৭ দিনের জন্য কঠোর শ্রম প্রদান করা;

         (8) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানের অধীনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ;

         (৫) অনধিক তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের জন্য সাধারণ পোশাকের পরিবর্তে চট বা উলেন নয় এমন অন্যান্য উপাদানের মোটা কাপড়ের পোশাক পরানো ;

         (৬) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানে নির্ধারিত সময়ের জন্য অনুরূপ উপায়ে এবং অনুরূপ ধরন ও ওজনের হ্যান্ড কাপ আরোপ করা;

         (৭) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানে নির্ধারিত সময়ের জন্য অনুরূপ উপায়ে এবং অনুরূপ ধরন ও ওজনের বেড়ী আরোপ করা; 

         (৮) অনধিক তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের পৃথক কারাবাস;

ব্যাখ্যা- পৃথক কারাবাস অর্থ এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাবাস,যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সহিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হইবে,কিন্তু তাহাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হইবে না এবং বন্দীকে দৈনিক কমপক্ষে এক ঘন্টা ব্যায়াম করিতে দেওয়া হইবে এবং এক বা একাধিক বন্দীর সহিত খাবার গ্রহণের সুযোগ পাইবে;

         (৯) শাস্তিমূলক খাবার- অর্থাৎ, পরিশ্রমের বিবেচনা সাপেক্ষে সরকার যেইরূপ নির্ধারন করিবেন সেই রকম উপায়ে খাবার গ্রহণে বাধা-নিষেধ আরোপ;

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ খাবার গ্রহণের বাধা-নিষেধ কোন ভাবেই কোন বন্দীর উপর ধারাবাহিকভাবে ৯৬ ঘন্টার বেশী প্রয়োগ করা যাইবে না, এবং নুতন অপরাধের জন্য এক সপ্তাহের বিরতি অতিবাহিত না হইলে পুনরায় প্রয়োগ করা যাইবে না ।

         (১০) অনধিক ১৪ দিন পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের জন্য একক সেলে আটক রাখা; তবে শর্ত থাকে যে, যে মেয়াদের জন্য একজন বন্দীকে একক সেলে আটক রাখা হইবে, সেই মেয়াদের কম নয়, এমন বিরতি অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত নুতন অপরাধের জন্য তাহাকে পুনরায় একক সেলে বা নির্জন কারাবাসে আটক রাখা যাইবে না ।

ব্যাখ্যা।- সেলে আটক বলিতে এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম আটককে বুঝাইবে, যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সহিত সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হইবে, কিন্তু তাহাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হইবে না।

             (১১) ৯ উপ-ধারায় সংজ্ঞায়িত শাস্তি মূলক খাবার এবং সেই সঙ্গে সেলে আটক; 

(১২)বেত্রাঘাত, শর্ত থাকে যে, আঘাতের সংখ্যা ত্রিশের বেশী হইবে না; তবে তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারায় কোন মহিলা বা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে হ্যান্ডকাপ বা বেড়ী এবং বেত্রাঘাত আরোপ করা হইবে না ।

৪৭। ৪৬ ধারার অধীনে একাধিক শাস্তি।-

(১) নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া, পূর্ববর্তী ধারায় বিবৃত যে কোন দুইটি শাস্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য এক সাথে আরোপ করা যাইতে পারে-

(ক) আনুষ্ঠানিক সতর্ক উক্ত ধারার (৪) উপ-ধারায় বর্ণিত রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তির সাথে একত্রে দেয়া যাইবে না ; 

(খ) শাস্তিমূলক খাবার উক্ত ধারার (২) উপ-ধারায় বর্ণিত শ্রম পরিবর্তনের সাথে একত্রে দেয়া যাইবে না, কিংবা এককভাবে আরোপিত অতিরিক্ত সময়ের জন্য শাস্তিমূলক খাবার এবং সেলে আটকের সঙ্গে কোন শাস্তি মূলক খাবার একত্রিত করা যাইবে না ।

(গ) অন্যান্য বন্দীদের হইতে বন্দীর নি:সঙ্গতার মোট মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সেলে আটকের সঙ্গে পৃথক কারাবাস একত্রিত করা যাইবে না; 

(ঘ) একক কারাবাস এবং পৃথক কারাবাস এবং রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ ব্যতীত অন্যান্য শাস্তির সহিত বেত্রাঘাত একত্রে দেওয়া যাইবে না;

(ঙ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিধি লংঘন করিয়া কোন শাস্তি অন্য শাস্তির সহিত এক সাথে দেওয়া যাইবে না। 

(২) দুইটি শাস্তির কোনটি একত্রে অন্য শাস্তির সহিত আরোপ করা যাইবে না,যার একটি অনরূপ কোন অপরাধের জন্য আরোপ করা হইয়াছে।

৪৮। ৪৬ এবং ৪৭ ধারার অধীনে শাস্তি আরোপ।-

(১) পূর্ববর্তী দুইটি ধারায় বর্ণিত শাস্তি আরোপের জন্য সুপারিনটেন্ডেন্টের ক্ষমতা থাকিবে, শর্ত থাকে যে, একমাসের অতিরিক্ত পৃথক কারাবাস প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে। 

(২) সুপারিনটেন্ডেন্টের অধস্তন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোন প্রকারের শাস্তি আরোপের ক্ষমতা থাকিবে না।

৪৯। পূর্ববর্তী ধারা সমূহ অনুসারে শাস্তি হইতে হইবে।

বিচার আদালতের আদেশের ব্যতিক্রম ছাড়া, পূর্ববর্তী ধারা সমূহে বর্ণিত শাস্তি ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি কোন বন্দীর উপর প্রয়োগ করা যাইবে না, এবং কোন শাস্তি কোন বন্দীর উপর পূর্ববর্তী ধারা সমূহে বর্ণিত উপায় ব্যতীত অন্য কোন ভাবে প্রয়োগ করা যাইবে না । 

 

৫০। বন্দী শাস্তির জন্য সক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট প্রদান।-

(১) শাস্তি মূলক খাবার একক, বা যৌথভাবে, কিংবা বেত্রাঘাত, কিংবা ৪৬ ধারার (২) উপ-ধারার অধীন শ্রমের পরিবর্তনের কোন শাস্তি সেই পর্যন্ত আরোপ করা যাইবে না, যেই পর্যন্ত মেডিকেল অফিসার যে বন্দীকে শাস্তি দেওয়া হইবে তাহাকে পরীক্ষা না করেন, যিনি, যদি মনে করেন যে বন্দী উক্ত শাস্তি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত, তাহা হইলে ১২ ধারায় বর্ণিত শাস্তি বইয়ের যথোপযুক্ত কলামে সেই অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন ।

        (২) যদি তিনি মনে করেন যে, বন্দী শাস্তি গ্রহণের জন্য অনুপযুক্ত, তাহা হইলে তিনি যথোপযুক্ত রেকর্ডে তাহার মতামত লিপিবদ্ধ করিবেন এবং বর্ণনা করিবেন                   যে, বন্দীকে যে ধরনের শাস্তি প্রদান করা হইয়াছে তাহার জন্য সে একেবারেই অনুপযুক্ত, বা তিনি কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেন কিনা ।

        (৩) শেষের ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনা করিবেন যে, কি ধরণের শাস্তি বন্দী কোন প্রকার শারীরিক ক্ষতি ছাড়া গ্রহণ করিতে পারিবে।

৫১। শাস্তি বইতে অন্তর্ভুক্তকরণ।-

(১) ১২ ধারায় বর্ণিত শাস্তি বইয়ে রেকর্ড করিতে হইবে, যে সকল শাস্তি প্রয়োগ করা হইয়াছে, বন্দীর নাম, রেজিষ্টার নম্বর এবং তাহার শ্রেণী (অভ্যাসগত না অনভ্যাসগত), যে কারা অপরাধে তাহার শাস্তি হইয়াছে, উক্ত কারা অপরাধ সংঘটনের তারিখ, বন্দীর বিরুদ্ধে পূর্বে রেকর্ডকৃত শাস্তির সংখ্যা, এবং তাহার সর্বশেষ কারা অপরাধের তারিখ, এবং শাস্তি প্রয়োগের তারিখ।

(২) প্রত্যেক মারাত্মক কারা অপরাধের ক্ষেত্রে,যে সকল সাক্ষী অপরাধ প্রমাণ করিতেছে তাহাদের নাম রেকর্ড করিতে হইবে,এবং, যে অপরাধের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত প্রদান করা হইয়াছিল, সুপারিনটেন্ডেন্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্যের সারবস্তু, বন্দীর জবাব এবং কারণ সম্বলিত প্রাপ্ত তথ্যাদি রেকর্ড করিবেন ।

(৩) শাস্তি সংক্রান্ত প্রত্যেক অন্তর্ভূক্তির বিপরীতে অন্তর্ভূক্তির সঠিকতা সম্পর্কে জেলার এবং সুপারিনটেন্ডেন্ট তাহাদের স্বাক্ষর সংযোজন করিবেন।

৫২। জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পদ্ধতি।-

যদি কোন বন্দী কারা-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তাহার এই উপর্যুপরি অপরাধসমূহের জন্য বা অন্য কারণে, সুপারিনটেন্ডেন্টের মতে, এই আইনে শাস্তি প্রদানের যে ক্ষমতা তাহার আছে তাহা যথেষ্ট নয় বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট পরিস্থিতির একটি বর্ণনাসহ এই ধরনের বন্দীকে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে বা এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করিতে পারেন,

এবং ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করিবেন এবং বন্দীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হইয়াছে, তাহার বিচার করিবেন, এবং, তাহাকে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন, এই কারাদণ্ডের মেয়াদ বন্দীর ভোগরত কারাদণ্ডের মেয়াদের অতিরিক্ত হইবে,কিংবা তাহাকে ৪৬ ধারায় বর্ণিত যে কোন শাস্তি প্রদান করিতে পারিবেন। :

শর্ত থাকে যে, এই ধরনের যে কোন মামলা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তদন্ত এবং বিচারের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন,এবং

আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি প্রদান করা যাইবে না ।

৫৩। বেত্রাঘাত।-

(১) কোন বেত্রাঘাতের শাস্তি কিস্তিতে বা সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের উপস্থিতিতে ছাড়া প্রয়োগ করা যাইবে না ।

(২) আধা ইঞ্চির বেশী পরিধি হইবে না, এমন একটি হাল্কা বেত দ্বারা বেত্রাঘাত প্রয়োগ করিতে হইবে, এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আরও হাল্কা বেত দ্বারা স্কুলে বেত্র দেয়ার মতো প্রয়োগ করিতে হইবে ।

৫৪ । কারা অধস্তনদের কর্তৃক অপরাধ।-

(১) প্রত্যেক জেলার বা তাহার অধস্তন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন দায়িত্ব বরখেলাপ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নিয়ম বা বিধি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইন সম্মত আদেশ ভঙ্গ বা অবহেলার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া বা দুই মাস পূর্বে তাহার অভিপ্রায় সম্পর্কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করিয়া দপ্তরের কাজ ছাড়িয়া চলিয়া যাইবার জন্য, বা অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত অবস্থান করিবার জন্য,

বা অনুমতি ছাড়া কারাগারের কাজ ছাড়া অন্য কাজে নিয়োজিত হইবার জন্য,বা কাপুরুষতার জন্য দোষী হইবে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা, বা অনধিক তিন মাসের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 

 

কারা - অপরাধসমূহ ।

 

(২) এই ধারার অধীনে কোন ব্যক্তি একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি পাইবে না ।

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ।

 

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ

 

৪২। নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে প্রবেশ বা কারাগার হইতে বাহির করিবার এবং বন্দীদের সাথে লেনদেন করিবার শাস্তি।

যে কেহ, ৫৯ ধারা বা তাহার অধীনের বিধানের পরিপন্থী কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করাইলে বা কারাগার হইতে বাহির করিলে বা প্রবেশ বা বাহির করিবার চেষ্টা করিলে, কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করিলে বা সরবরাহ করিবার চেষ্টা করিলে, এবং কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী, এইরূপ বিধানের পরিপন্থী ভাবে, সজ্ঞানে অনুরূপ কোন দ্রব্য কোন কারাগারে প্রবেশ করাইলে বা কারাগার হইতে বাহির করিলে,

কোন বন্দীর নিকট রাখিলে বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করিলে, এবং যে কেহ, এইরূপ বিধানের পরিপন্থী ভাবে, কোন বন্দীর সহিত যোগোযোগ করিলে বা যোগাযোগের চেষ্টা করিলে, এবং যে কেহ, এই ধারায় শাস্তি যোগ্য কোন অপরাধের সহায়তা করিলে, ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, বা অনধিক দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।

 

৪৩। ৪২ ধারায় অপরাধ করিলে গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা।

যখন কোন ব্যক্তি, কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে, পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত কোন অপরাধ করে, এবং অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবী অনুযায়ী নাম-ঠিকানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়,অথবা অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট কোন নাম- ঠিকানা প্রদান করে,যাহা ঐ কর্মকর্তা-কর্মচারী মিথ্যা বলিয়া জানে বা বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে, অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাহাকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই তাহাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিবেন, এবং অতঃপর অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা এই ভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন অপরাধটি তাহার উপস্থিতিতে সংঘটিত হইয়াছে ।

৪৪। শাস্তি সম্পর্কে প্রচার।-

সুপারিনটেন্ডেন্ট কারাগারের বাহিরে কোন দৃষ্টি গোচর স্থানে ৪২ ধারার অধীনে নিষিদ্ধ কার্যাবলী এবং সে সকল কাজের শাস্তির বর্ণনা সম্বলিত ইংরেজী এবং বাংলা ভাষায় লিখিত একটি নোটীশ টাঙাইয়া রাখিবার ব্যবস্থা করিবেন।

 

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত

 

৪০। সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সহিত সাক্ষাত।

প্রত্যেক কারাগারে যথাযথ সময়ে এবং যথাযথ বাধা-নিষেধের অধীনে প্রত্যেক সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সহিত আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগ করিবার ব্যবস্থা রাখিতে হইবে হইবে, লক্ষ্য রাখিতে হইবে যে, তাহা যেন ন্যায়ের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; বিচারাধীন বন্দীরা তাহাদের যোগ্যতা সম্পন্ন আইনজীবিদের সহিত অন্য কাহারো উপস্থিতি ছাড়া সাক্ষাত করিতে পারিবে।

 

৪১। সাক্ষাত প্রার্থীদের তল্লাশী ।-

(১) জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাত প্রার্থীর নাম ও ঠিকানা দাবী করিতে পারিবেন, এবং, যখন জেলারের সন্দেহ করিবার ভিত্তি থাকিবে, কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করিতে পারিবেন বা তল্লাশীর ব্যবস্থা করিতে পারিবেন, তবে তল্লাশী কোন বন্দী বা অন্য কোন সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হইবে না ।

 

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

 

(২) অনুরূপ কোন সাক্ষাত প্রার্থী তাহাকে তল্লাশী করিতে অনুমতি প্রদান না করিলে, জেলার তাহাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অসম্মতি জানাইতে পারিবেন, এবং এই কার্যক্রমের কারণ সম্বলিত বিবরণী, সরকার যেই রূপ বিধান করিবেন সেইরূপে রেকর্ড করিবেন।

বন্দীদের স্বাস্থ্য | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের স্বাস্থ্য

বন্দীদের স্বাস্থ্য

বন্দীদের স্বাস্থ্য

 

৩৭। বন্দীদের অসুস্থতা।-

(১) মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সহিত দেখা করিতে আগ্রহী বন্দীদের নাম বা শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়ে হাজির হইতে আগ্রহী বন্দীর নাম,কোন প্রকার বিলম্ব ব্যতীত, যে কর্মকর্তা-কর্মচারারী বন্দীদের দায়িত্বে রয়েছেন, সে অফিসার কর্তৃক জেলারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

(২) জেলার, কোন বিলম্ব ব্যতীত, দেখানোর আগ্রহী বন্দী, বা কোন অসুস্থ বন্দী, বা কোন বন্দীর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবেন, এবং, অনুরূপ কোন বন্দীর শৃঙ্খলা বা পরিচালনার বিকল্প উপায়ে মেডিকেল-অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সকল লিখিত নির্দেশ কার্যকরী করিবেন।

 

৩৮। মেডিকেল অফিসারের নির্দেশের রেকর্ড।

কোন বন্দী সম্পর্কে মেডিকেল-অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সকল নির্দেশ, ঔষধ সরবরাহের আদেশ বা যে সকল আদেশ মেডিকেল-অফিসার নিজে বাস্তবায়ন করিবেন বা তাহার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হইবে, সে সকল ছাড়া, বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে দৈনিক রেকর্ড করিতে হইবে বা সরকার বিধি দ্বারা যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং নির্দেশ বাস্তবায়িত হইয়াছে কি হয় নাই, ঘটনার উল্লেখ পূর্বক জেলার তাহার মন্তব্যসহ (যদি থাকে) সঠিক জায়গায় তারিখ উল্লেখ পূর্বক রেকর্ড করিবেন ।

 

বন্দীদের স্বাস্থ্য

 

৩৯। হাসপাতাল।-

প্রত্যেক কারাগারে একটি হাসাতাল কিংবা অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসাপত্র প্রদানের জন্য যথাযথ স্থানের ব্যবস্থা করিতে হইবে।

বন্দীদের কাজে নিয়োগ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের কাজে নিয়োগ

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

৩৪। সিভিল বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।-

(১) সিভিল বন্দীগণ সুপারিনটেন্ডেন্টের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হইতে পারিবেন ।

(২) সিভিল বন্দীগণ নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিলে এবং কারাগরের ব্যয় হইতে তাহাদের ভরণ-পোষণ করা না হইলে, তাহাদের সম্পূর্ণ আয় তাহারা গ্রহণ করিতে পারিবেন; কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগরের ভরণ-পোষণ ব্যয় হইয়া থাকিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাহাদের আয় হইতে কর্তন করা হইবে ।

৩৫। ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।-

(১) সশ্রম দণ্ডে দণ্ডিত কিংবা নিজের ইচ্ছায় শ্রমে নিয়োজিত কোন ফৌজদারি বন্দীকে, সুপারিনটেন্ডেন্টের লিখিত অনুমতিক্রমে জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত, দৈনিক ৯ ঘন্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাইবে না ।

 

(২) মেডিকেল অফিসার শ্রমে নিয়োজিত বন্দীদের সময়ে সময়ে পরীক্ষা করিবেন, এবং কমপক্ষে প্রতি পাক্ষিকে একবার শ্রমে নিয়োজিত প্রত্যেক বন্দীর ওজন হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডের ব্যবস্থা করিবেন।

(৩) যখন মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করেন যে, শ্রমে নিয়োজিত কোন বন্দী কোন প্রকার বা শ্রেণীর শ্রমের কারণে পীড়িত হইতেছে, সে বন্দীকে ঐ শ্রমে নিয়োজিত রাখা যাইবে না, তবে মেডিকেল অফিসারের বিবেচনা মতে অন্য কোন প্রকার সুবিধাজনক শ্রমে তাহাকে নিয়োজিত করা যাইবে ।

৩৬। বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।

 

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

সকল বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিয়োজিত (যতক্ষণ পর্যন্ত তাহারা আগ্রহ প্রকাশ করে) করিবার জন্য সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক নিয়ম করা যাইবে; কিন্তু সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হইলে কোন বন্দীকে কাজে অবহেলার করিবার জন্য ডায়েট স্কেল পরিবর্তন, যাহা অনুরূপ কোন বন্দীর কাজে অবহেলার জন্যে কারাগারের নিয়ম হিসেবে চালু করা যাইতে পারে, ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে না ।

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

৩১। কতিপয় বন্দীর ব্যক্তিগত উৎস হইতে ভরণ পোষণ।-

একজন সিভিল বন্দী বা একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেওয়া হইবে, এবং ব্যক্তিগত উৎস হইতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হইবে, কিন্তু পরীক্ষা করিবার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায় ।

 

৩২। কতিপয় বন্দীর মধ্যে খাদ্য এবং পোশাক হস্তান্তর নিষেধ।-

কোন সিভিল বা অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেওয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাইবে না; এবং কোন বন্দী এই ধারার লংঘন করিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট যে রকম উচিত মনে করিবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হইতে তাহা গ্রহণ করিবার সুযোগ হারাইবেন।

৩৩। সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পোশাক এবং বেডিং সরবরাহ।-

(১) প্রত্যেক সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিং এর সংস্থান না করিতে পারিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট যে রকম প্রয়োজন হইবে, সে রকম পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করিবেন।

 

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

(২) যখন কোন সিভিল বন্দীকে কোন বেসরকারী ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রী জারীর জন্য কারাগারে সোপর্দ করা হয়, ঐ ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি, বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিং এর মূল্য সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক পেশকৃত লিখিত দাবী প্রাপ্তির ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সুপারিনটেন্ডেন্টের নিকট পরিশোধ করিবেন; এবং পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হইতে পারে।

বন্দীদের শৃঙ্খলা | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়  বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

২৭। বন্দীদের পৃথকীকরণ।-

এই আইনের চাহিদা মতে বন্দীদের নিম্নোক্ত ভাবে পৃথক করিতে হইবে ঃ-

(১) যে কারাগারে মহিলা এবং পুরুষ উভয় প্রকার বন্দী আছে, সেখানে মহিলাদেরকে পৃথক ভবনে অথবা একই ভবনের পৃথক অংশে এমনভাবে অন্তরীণ রাখিতে হইবে যে, পুরুষ বন্দীদের সঙ্গে তাদের দেখা, কথা বলা বা কোন যৌন সহবাস করা না যায়;

(২) যে কারাগারে একুশ বৎসরের কম বয়সের পুরুষ বন্দী আটক রহিয়াছে, তাহাদেরকে অন্যান্য বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিবার ব্যবস্থা করিতেহইবে এবং তাদের মধ্যে যাহারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হইয়াছে তাহাদেরকে যাহারা উপনীত হয় নাই তাহাদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে;

(৩) অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে; এবং

(৪) সিভিল বন্দীদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা

 

 ২৮। বন্দীদের একত্রীকরণ এবং পৃথক রাখা।-

পূর্ববর্তী ধারার চাহিদা সাপেক্ষে,সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদেরকে একত্রে কিংবা পৃথকভাবে সেলে কিংবা একটির আংশিক উপায়ে এবং অপরটির আংশিক উপায়ে আটক রাখা যাইতে পারে ।

 

২৯। নির্জন কারাবাস।-

নির্জন কারাবাসের জন্য কোন সেল ব্যবহার হইবে না, যদি তাহা এমনভাবে তৈরী করা না হয় যে, বন্দী সেখান হইতে যে কোন সময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহিত যোগাযোগ করিতে সক্ষম হয়, এবং সাজার অংশ হিসাবে বা অন্য যে কারণেই হউক, ২৪ ঘন্টার বেশী সময় এইরূপ সেলে আটক প্রত্যেক বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব- অর্ডিনেট দৈনিক কমপক্ষে একবার ভিজিট করিবেন।

৩০। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী।-

(১) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন বন্দীকে, দণ্ড প্রদানের পর কারাগারে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে, জেলার কর্তৃক, বা জেলারের নির্দেশে, তল্লাশী করিতে হইবে, এবং তাহার নিকট হইতে সে সকল জিনিস সরাইয়া লইতে হইবে জেলারের বিবেচনায় যে সকল জিনিস মারাত্মক বা তাহার দখলে রাখা সমীচীন হইবে না ।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

(২) অনুরূপ প্রত্যেক বন্দীকে অন্য বন্দীদের হইতে আলাদা একটি সেলে আটক রাখিতে হইবে, এবং দিবারাত্র একজন প্রহরীর দায়িত্বে ন্যস্ত রাখিতে হইবে।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

২৪। ভর্তিকালে বন্দীদেরকে পরীক্ষা করিতে হইবে।-

(১) যখনই একজন বন্দীকে কারাগরে ভর্তি করা হইতেছে, তাহাকে তল্লাশী করিতে হইবে, এবং সকল অস্ত্র এবং নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি তাহার নিকট হইতে রাখিয়া দিতে হইবে। 

 (২) প্রত্যেক ফৌজদারি বন্দীকে, ভর্তির যথা শীঘ্র পরে, মেডিকেল অফিসারের সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশেও পরীক্ষা করা হইবে। মেডিকেল অফিসার জেলারের নিকট রক্ষিত একটি বইতে বন্দীর শারীরিক অবস্থার একটি বর্ণনা এবং কোন জখম বা চিহ্ন, সে যদি সশ্রম কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় কোন শ্রেণীর কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করিবেন বা করাইবেন এবং উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করিলে অন্য যে কোন বিষয় উল্লেখ করিবেন।

(৩) মহিলা বন্দীদের ক্ষেত্রে তল্লাশী এবং পরীক্ষা মেডিকেল অফিসার এর সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশে মেট্রন দ্বারা করিতে হইবে।

 

২৫। বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

সকল টাকা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি সম্পর্কে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হইলে, এবং যে সকল জিনিস যথাযথ কতৃত্ব বলে ফৌজদারি বন্দী কর্তৃক কারাগারে নিয়ে আসে বা তাহার ব্যবহারের জন্য তাহার নিকট প্রেরিত হয়, তাহা জেলারের হেফাজতে রাখিতে হইবে ।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস

২৬। বন্দী স্থানান্তর এবং খালাস।-

(১) সকল বন্দীকে, অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পূর্বে, মেডিকেল অফিসার কর্তৃক পরীক্ষা করিতে হইবে।

(২) কোন বন্দীকে এক কারাগার হইতে অন্য কারাগারে সরানো যাইবে না, যদি না মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী সরানোর অযোগ্য করিতে পারে এমন ভীষণ অসুস্থতা হইতে মুক্ত।

 

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

(৩) কোন মারাত্মক বা বিপদজনক রোগ ভোগ করিতেছে এমন কোন বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারাগার হইতে অবমুক্তি প্রদান করা যাইবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই বিষয়ে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান না করেন ।

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

২১। গেইট কিপারের কর্তব্য ।-

গেইট কিপার হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী, বা অন্য কোন কারা কর্মচারী, কারাগারের ভিতরে বা কারাগার হইতে বাহিরে বহনকৃত যে কোন জিনিস পরীক্ষা করিতে পারিবেন, এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে বা কারাগার হইতে বাহিরে বহনের কিংবা কারাগারের কোন সম্পত্তি বাহিরে বহনের সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে থামাইতে ও তল্লাশী করিতে বা করাইতে পারিবেন, এবং, যদি এ ধরনের কোন দ্রব্য বা সম্পত্তি পাওয়া যায়, তাহা হইলে সঙ্গে সঙ্গে উহার সম্পর্কে জেলারকে জানাইতে হইবে।

 

২২। ছুটি ব্যতীত অধস্তন কর্মচারীগণ অনুপস্থিত থাকিবেন না।-

জেলারের অধস্তন কোন কর্মচারী সুপারিনটেন্ডেন্ট কিংবা জেলার হইতে ছুটি গ্রহণ না করিয়া কারাগারে অনুপস্থিত থাকিতে পারিবেন না ।

২৩। কয়েদী কর্মচারী ।-

 

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

যে সব বন্দীকে কারাগারের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দণ্ড বিধিতে উল্লেখিত অর্থ মোতাবেক তাদেরকে গণ কর্মচারী বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।