আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু আইন
শিশু আইন

ঢাকা, ২২ জুন, ১৯৭৪ সংসদ কর্তৃক নিম্নলিখিত আইনটি ২১ জুন ১৯৭৪ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছে :
শিশুদের হেফাজত,রক্ষণ ও পরিচালনা এবং বাল-অপরাধীদের বিচার ও সাজা সম্পর্কিত আইন একীভূত ও সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু শিশুদের হেফাজত, রক্ষণ ও পরিচালনা এবং বাল-অপরাধীদের বিচার ও সাজা সম্পর্কিত আইন একীভূত ও সংশোধন করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন সমীচীন ; (1)
সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।-
(১) এই আইন শিশু আইন, ১৯৭৪ নামে অভিহিত হইবে ।
(২) সরকার সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যেইরূপ নির্ধারণ করিবেন সেইরূপ এলাকাসমূহে এবং সেই সকল তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে ।
২। সংজ্ঞাসমূহ।-
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ এইরূপ ব্যক্তি যিনি শিশু নহেন ।
(খ) ‘অনুমোদিত আবাস’ অর্থ এইরূপ কোন প্রতিষ্ঠান যাহা শিশুদেরকে গ্রহণ ও হেফাজত করার জন্য অথবা তাহাদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নিরোধের উদ্দেশ্যে এবং উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত কোন শিশুকে তাহার জন্মগত ধর্মের বিধান মোতাবেক পালন করিবার বা করিবার সুযোগ প্রদানের জন্য কোন সমিতি অথবা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং সরকার কর্তৃক স্বীকৃত;
(গ) ‘ভিক্ষা করা’ অর্থ-
(অ) গান গাওয়া, নাচ দেখানো, ভাগ্য গণনা করা, পবিত্র স্তবক পাঠ করা অথবা কলাকৌশল দেখানো, ভান করিয়া হউক বা না হউক, প্রভৃতি দ্বারা, কোন প্রকাশ্য স্থানে ভিক্ষা চাওয়া বা গ্রহণ করা ;
(আ) ভিক্ষা চাহিবার বা গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন বেসরকারী আঙিনায় প্রবেশ করা
(ই) কোন ক্ষত, ঘা, জখমী, বিকলাঙ্গতা কিংবা ব্যধি, ভিক্ষা প্রাপ্তি বা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করা বা অনাবৃত করিয়া রাখা ;
(ঈ) জীবন ধারণের দৃশ্যত: কোন উপায় নাই বলিয়া প্রকাশ্য স্থান সমূহে এইরূপ অবস্থায় ও পন্থায় ঘুরিয়া বেড়ানো বা অবস্থান করা যাহা দ্বারা বুঝা যায় এইরূপ ভাবেই ভিক্ষা চাহিয়া বা গ্রহণ করিয়া তিনি বাঁচিয়া আছেন, এবং
(উ) ভিক্ষা চাওয়া বা গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে নিজেকে আলামত হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া,
(ঘ) ‘প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ‘ অর্থ সরকার কর্তৃক স্থাপিত কোন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অথবা ১৯ ধারার অধীনে সরকার কর্তৃক প্রত্যায়িত কোন প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, শিল্প বিদ্যালয় অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(ঙ) ‘প্রধান পরিদর্শক ‘ অর্থ ৩০ ধারার অধীনে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের প্রধান পরিদর্শক;
(চ) ‘শিশু ‘ অর্থ ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি এবং প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে বা অনুমোদিত আবাসে প্রেরিত অথবা আদালত কর্তৃক কোন আত্নীয় বা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির হেফাজতে সোপর্দকৃত শিশুর ক্ষেত্রে সেই শিশু যে তাহার পূর্ণ সময়কাল আটক থাকে, উক্ত সময়ে তাহার বয়স ১৬ বৎসর পূর্ণ হইলেও;
(ছ) ‘কার্যবিধি ’ অর্থ ১৮৯৮ সনের ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন);
(জ) ‘অভিভাবক’ বলিতে কোন শিশু কিংবা বাল-অপরাধীর ক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত যিনি আদালতের মতে, শিশু বা বাল-অপরাধী সম্পর্কে গৃহীত কার্যধারা মানিয়া লইতে উক্ত শিশু বা বাল-অপরাধীর যথার্থ দায়িত্ব অথবা নিয়ন্ত্রণের ভার সাময়িকভাবে গ্রহণ করেন;
(ঝ) — কিশোর আদালত ‘ অর্থ ৩ ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত আদালত ;
(ঞ) নিরাপদ স্থান ‘ বলিতে রিমান্ড হোম অথবা এইরূপ অন্য কোন উপযুক্ত স্থান কিংবা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত যাহার দখলদার বা ব্যবস্থাপক সাময়িকভাবে শিশুকে গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক অথবা যেখানে অনুরূপ রিমান্ড হোম বা অন্য উপযুক্ত স্থান কিংবা প্রতিষ্ঠান নাই সেখানে, কেবল পুরুষ শিশুদের ক্ষেত্রে, এইরূপ ব্যবস্থা সম্পন্ন থানা যাহার মধ্যে শিশুগণকে অন্যান্য অপরাধী হইতে পৃথকভাবে হেফাজতে রাখার বন্দোবস্ত রহিয়াছে;
(ট) ‘ নির্ধারিত ‘ অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত
(ঠ) ‘প্রবেশন অফিসার’ অর্থ ৩১ ধারার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসার;

(ড) ‘তত্ত্বাবধান’ অর্থ শিশুর পিতা-মাতা, অভিভাবক, আত্নীয় কিংবা কোন উপযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক শিশুর যথাযথ দেখাশুনা ও হেফাজত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোন প্রবেশন অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে শিশুকে ন্যস্ত রাখা; এবং
(ণ)’বাল-অপরাধী ‘ অর্থ এইরূপ কোন শিশু যাহাকে অপরাধ করিতে দেখা গিয়াছে


