Tag Archives: জেল কোড

জেল কোড

কারা আইন প্রাথমিক ১

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা আইন প্রাথমিক ১

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

কারাগার সংক্রান্ত আইন সংশোধনের নিমিত্ত একটি আইন। যেহেতু বাংলাদেশের কারাগার সংক্রান্ত আইনসমূহ সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, এবং কারাগারগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধি প্রণয়ন আবশ্যক; সেহেতু নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

১। শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন।-

           (১) এই আইন কারা আইন, ১৮৯৪ নামে অভিহিত হইবে ।

          (২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ।

          (৩) ইহা ১৮৯৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম তারিখ হইতে বলবৎ হইবে ।

          (৪) বাতিল ।

২ । বাতিল।

 

৩। সংজ্ঞাসমূহ।- এই আইনে-

      (১) “কারাগার” অর্থ কোন জেলখানা বা স্থান যাহা স্থায়ী বা সাময়িক ভাবে সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে বন্দীদের আটক রাখিবার জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং এই উদ্দেশ্যে ইহার অংশ স্বরূপ ব্যবহৃত সকল সকল জমি এবং স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হইবে, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত হইবে না- 

(ক) কেবল মাত্র পুলিশের হেফাজতে বন্দীদের আটকের জন্য কোন স্থান;

(খ) কোন স্থান, যাহা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৪১ ধারার অধীনে সরকারের বিশেষ আদেশে স্থাপিত; বা

(গ) কোন স্থান, যাহা সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে সাব-সিডিয়ারী জেল হিসেবে ঘোষিত হইবে; 

        (২) ‘ফৌজদারি বন্দী’ অর্থ কোন আদালত বা ফৌজদারি কর্তৃত্ব সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে বা কোর্ট মার্শালের আদেশে যথাযথভাবে আটক কোন বন্দী; 

        (৩) ‘সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী’ অর্থ কোন আদালত বা কোর্ট মার্শাল কর্তৃক সাজা প্রাপ্ত কোন ফৌজদারি বন্দী, এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর অষ্টম অধ্যায়ের বিধানের অধীনে, বা, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের অধীনে কারাগরে আটক কোন বন্দী।

        (৪) ‘সিভিল বন্দী’ অর্থ কোন বন্দী যে ফৌজদারি বন্দী নয়; 

        (৫) ‘রেয়াত ব্যবস্থা’ অর্থ চলমান সময়ে কার্যকর বিধান অনুযায়ী কারাগারে আটক বন্দীদের দণ্ডের মেয়াদ হ্রাস করিবার ব্যবস্থা;

        (৬) ‘হিস্ট্রি – টিকেট’ অর্থ এই আইনে বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধানের চাহিদা মতে প্রত্যেক বন্দীর তথ্যাদি প্রদর্শন করে এমন টিকেট;

        (৭) ‘মহাপরিদর্শক’ অর্থ কারাগার সমূহের মহাপরিদর্শক;  

 

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

        (৮) ‘মেডিকেল অধস্তন’ অর্থ একজন সহকারী সার্জন, ঔষধ প্রস্তুত কারী বা যোগ্যতা সম্পন্ন হাসপাতাল সহকারী; এবং 

        (৯) ‘নিষিদ্ধ দ্রব্য 9 অর্থ কোন দ্রব্য যা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করানো অথবা কারাগার হইতে বাহির করা এই আইনের অধীনে যে কোন বিধিতে নিষেধ ।

শিশু আইন বিবিধ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু আইন বিবিধ

শিশু আইন বিবিধ

 

শিশু আইন বিবিধ

 

৬৬। বয়স অনুমান ও নির্ধারণ।-

(১) অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হইয়া বা না হইয়া কোন ব্যক্তি সাক্ষ্যদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত প্রকারান্তরে কোন ফৌজদারি আদালতে আনীত হইলে, এবং আদালতের নিকট তাহাকে শিশু বলিয়া প্রতীয়মান হইলে আদালত উক্ত ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং তদুদ্দেশ্যে মামলার শুনানিকালে যে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় তাহা গ্রহণ করিবেন এবং তাহার বয়সের যতদূর সম্ভব কাছাকাছি বর্ণনা দিয়া উক্ত তদন্ত ফল লিপিবদ্ধ করিবেন।

(২) আদালতের আদেশ অথবা রায় এইরূপ ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে আদালত কর্তৃক বর্ণিত হয় নাই বলিয়া পরবর্তীকালে প্রমাণ পাওয়া গেলেও বাতিল হইবে না এবং আদালতে হাজিরকৃত ব্যক্তির বয়স বলিয়া আদালত কর্তৃক অনুমিত বা ঘোষিত বয়স এই আইনের উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তির প্রকৃত বয়স বলিয়া গণ্য হইবে এবং যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, হাজিরকৃত ব্যক্তির বয়স ১৬ বৎসর বা তদূর্ধ সেক্ষেত্রে এই ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্যে শিশু বলিয়া গণ্য হইবে না ।

৬৭। খালাস।-

(১) সরকার যে কোন সময়ে কোন শিশু অথবা বাল- অপরাধীকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে সম্পূর্ণভাবে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে খালাসের আদেশ প্রদান করিতে পারেন। 

(২) সরকার যে কোন সময়ে, কোন শিশুকে যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এই আইনের অধীনে সোপর্দ করা হয়, তাহার নিকট হইতে সম্পূর্ণভাবে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে মুক্তি দিতে পারেন। 

৬৮ । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বদলি।-

(১) সরকার কোন শিশু অথবা বাল-অপরাধীকে এক প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে অন্য প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাসে বদলির আদেশ দিতে পারেন।

(২) প্রধান পরিদর্শক কোন শিশুকে এ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে অন্য প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাসে বদলির আদেশ দিতে পারেন ।

৬৯। মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য ক্ষতিপূরণ।-

(১) ৬১ ধারার বিধানের অধীনে কোন ব্যক্তি যে মামলা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করিয়াছে সেই মামলা সম্পর্কে আদালত ইহার মতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করিবার পর যদি মনে করেন যে, এইরূপ তথ্য মিথ্যা এবং তুচ্ছ এবং বিরক্তিকর তাহা হইলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া নির্দেশ দিবেন যে এইরূপ তথ্য সরবরাহকারী, যাহার বিপক্ষে উক্ত তথ্য প্রদান করিয়াছে তাহাকে অনূর্ধ্ব ১০০ টাকা পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ আদালত নির্ধারণ করিবে সেই পরিমান অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদান করিবে ।

(২) ক্ষতিপূরণ দানের আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত, তথ্য প্রদানকারী উক্ত ক্ষতিপুরণ কেন প্রদান করিবেন না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য তাহাকে আহবান জানাইবেন এবং তথ্য প্রদানকারী কোন কারণ দর্শাইলে তাহা বিবেচনা করিয়া দেখিবেন।

(৩) ক্ষতিপূরণ দানের নির্দেশমূলক আদেশ দ্বারা আদালত আরও আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অনুরূপ ক্ষতিপুরণ দানে ব্যর্থ ব্যক্তি অনধিক ৩০ দিনের মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করিবে ।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীনে কোন ব্যক্তি কারাদণ্ড প্রাপ্ত হইলে দণ্ড বিধির (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) ৬৮ ও ৬৯ ধারার বিধানাবলী যতদূর সম্ভব ততদূর প্রযোজ্য হইবে।

(৫) এই ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ দানের জন্য আদিষ্ট ব্যক্তি এইরূপ আদেশ প্রাপ্তির কারণে উক্ত তথ্য সংক্রান্ত কোন দেওয়ানী দায়-দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি পাইবে না, তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদত্ত যে কোন অর্থ এহেন বিষয় সম্পর্কিত কোন পরবর্তীকালীন দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে হিসাবের অর্ন্তভুক্ত হইবে, বিবেচনা করা হইবে।

৭০। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অযোগ্যতা নিরসন।-

শিশু কোন অপরাধ করিয়া ফেলিয়াছে এই অবস্থায় তাহাকে পাওয়া গেলে তাহার অপরাধ সংঘটনের ঘটনা দণ্ড বিধির ৭৫ ধারার অধীনে অথবা কার্যবিধির ৫৬৫ ধারার অধীনে কার্যকর হইবে না, অথবা কোন অফিসে চাকরি বা আইনের অধীনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসাবে কাজ করিবে না । 

৭১। ‘সাজা’ এবং ‘দণ্ডিত’ শব্দগুলি শিশুদের সম্পর্কে ব্যবহৃত হইবে না।-

এই আইনে যেইরূপ বিধান করা হইয়াছে সেইরূপে ব্যতীত, এই আইনের অধীনে যে সকল শিশু ও বাল অপরাধী সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহাদের ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত এবং দণ্ডিত শব্দগুলির ব্যবহার চলিবে না এবং কোন আইনে কোন ব্যক্তির সম্পর্কে দোষী সাব্যস্ত অথবা দণ্ডাদেশ বলিতে শিশু অথবা বাল-অপরাধীর ক্ষেত্রে কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্তকরণ অথবা উহার উপর প্রদত্ত কোন আদেশ বুঝিতে হইবে বা ব্যাখাত হইবে ।

৭২। শিশুর উপর জিম্মাদারের নিয়ন্ত্রণ।-

এই আইনের বিধানাবলীর অধীনে যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে শিশুকে সোপর্দ করা হইয়াছে, সেই ব্যক্তি শিশুটিকে উহার পিতার ন্যায় নিয়ন্ত্রণ করিবেন এবং তাহার ভরণপোষণের জন্য দায়ী থাকিবেন, এবং শিশুটিকে তাহার পিতামাতা অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি দাবী করা সত্ত্বেও আদালত কর্তৃক বর্ণিত সময়ের জন্য শিশুটি অব্যাহত ভাবে উক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকিবে ।

৭৩। এই আইনের অধীনে গৃহীত মুচলেকা।

কার্যবিধির ৪২ অধ্যায়ের বিধানাবলী যতদূর সম্ভব, হইবে । এই আইনের অধীনে গৃহীত মুচলেকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

 

৭৪ । প্রধান পরিদর্শক, প্রবেশন অফিসার, প্রভৃতি সরকারী কর্মচারী।-

প্রধান পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শকগণ, প্রবেশন অফিসারগণ এবং এই আইনের কোন বিধানের অধীনে কাজ করিতে অনুমতি প্রদত্ত অথবা অধিকার প্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি দণ্ড বিধির (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ২১ ধারার অর্থ অনুযায়ী গণ কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।

৭৫। এই আইনে গৃহীত ব্যবস্থার হেফাজত।-

এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন কাজ করিয়া থাকিলে বা করার অভিপ্রায় করিলে তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা মামলা অথবা আইনানুগ কার্যধারা রুজু করা চলিবে না ।

৭৬। আপীল ও পুনর্বিচার।-

(১) কার্যবিধিতে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই আইনের বিধানাবলীর অধীনে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের উপর আপীল করা চলিবে-

(ক) দায়রা আদালতে, যদি আদেশটি কোন শিশু আদালত অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত কোন ম্যাজিষ্ট্রেট প্রদান করিয়া থাকেন ; এবং 

(খ) হাইকোর্ট বিভাগে, যদি আদেশটি কোন দায়রা জজ আদালত অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজের আদালত অথবা সহকারী দায়রা জজের আদালত প্রদান করিয়া থাকেন। 

(২) এই আইনের অধীনে কোন আদালত-কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ পুনর্বিচার করার জন্যে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করিবে না ।

৭৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।-

(১)সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

(২) পূর্বোক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া বিশেষ করিয়া নিম্ন লিখিত বিষয়ে বিধান করিতে পারিবেন –

                (ক) কিশোর আদালত এবং ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত অন্যান্য আদালত-কর্তৃক এই আইনের অধীনে মামলার বিচার ও কার্যধারার শুনানির জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি ;

                (খ) ধারা ৭(১) এর অধীনে কিশোর আদালতের এজলাসের স্থান, তারিখ ও পদ্ধতি ; 

                (গ) এই আইনের উদ্দেশ্যে যে সকল শর্ত সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহ শিল্প বিদ্যালয়সমূহ অথবা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রত্যায়ন অথবা অনুমোদিত আবাসকে স্বীকৃতিদান করা যাইবে সেই শর্তাবলী             

                (ঘ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের সংস্থাপন, প্রত্যয়ন, ব্যবস্থাপনা রক্ষনাবেক্ষণ, রেকর্ড ও হিসাব রক্ষণ সংক্রান্ত ;

                (ঙ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের বাসিন্দাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং তাহাদের অনুপস্থিতি হেতু ছুটি ;

                (চ) পরিদর্শকগণের নিয়োগ ও চাকরির মেয়াদ ;

                (ছ) প্রত্যায়িত ইষ্টিটিউট ও অনুমোদিত আবাসসমূহের পরিদর্শন ; 

                (জ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অনুমোদিত আবাসসমূহের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা ; 

                (ঝ) যে সকল শর্ত সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহকে ১৪ (২) ধারার উদ্দেশ্যে অনুমোদিত স্থানরূপে স্বীকৃতি দান করা হইবে ; ;

                (ঞ) প্রধান পরিদর্শক ও প্রবেশন অফিসারের ক্ষমতা ও কতর্ব্য

                (ট) ৩২ ও ৫৫ ধারার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান পদ্ধতি; 

                (ঠ) ৫৮ ধারার অনুবিধির অধীনে প্রদেয় মুচলেকার ফরম;

                (ড) শিশুকে ৬১ (১) ধারার অধীনে নিরাপদ স্থানে পাঠাইবার পদ্ধতি ;

                (ঢ) শিশুর ভরণ পোষণের জন্য অবদান রাখিতে ;

                (ণ) ৬৪ ধারার অধীনে শিশুকে লাইসেন্সমূলে খালাস দেওয়ার শর্তাবলী এবং এইরূপ লাইসেন্সের ফরম;

                (ত) শিশুকে এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের শর্তাবলী এবং সোপর্দকৃত শিশুর প্রতি এইরূপ ব্যক্তির বাধ্যবাধকতা ; এবং 

                (থ) গ্রেফতারকৃত অথবা বিচারের জন্য পুলিশ হেফাজতে প্রেরিত শিশুকে আটক রাখার পদ্ধতি।

৭৮ । রহিতকরণ, ইত্যাদি।-

(১) বেঙ্গল চিলড্রেন এ্যাক্ট, ১৯২২(১৯২২ সনের ২ নং আইন) এতদ্বারা রহিত করা হইল ।

(২) যে এলাকায় এই আইন ১(২) ধারার অধীনে বলবৎ করা হয় সেই এলাকায় বলবৎ এর তারিখ হইতে রিফরমেটরী স্কুল আইন,১৮৯৭(১৮৯৭ সনের ৮ নং আইন) রহিত করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

 

শিশু আইন বিবিধ

 

(৩) যে এলাকায় এই আইন বলবৎ করা হইবে সেই এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯-খ এবং ৩৯৯ ধারার বিধানাবলীর প্রয়োগ রহিত হইবে।

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

৬২। পিতা-মাতার অবদান।-

(১) যে আদালত কোন শিশু বা বাল- অপরাধীকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে আটক রাখা অথবা তাহার কোন আত্মীয় কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করার আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত উক্ত শিশু বা বাল-অপরাধীকে ভরণপোষণের জন্য দায়ী পিতা-মাতা বা অন্য ব্যক্তিকে তাহার ভরণপোষণের জন্য সমর্থ হইলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অবদান রাখিতে আদেশ প্রদান করিতে পারেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত শিশু বা বাল অপরাধীর ভরণ পোষণের জন্য দায়ী পিতা-মাতা অথবা অন্য ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং যদি কোন সাক্ষাৎ প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তাহা ক্ষেত্রমত পিতামাতা অথবা এইরূপ অন্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে লিপিবদ্ধ করিবেন।

(৩) এই ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ, আদালতের নিকট দায়ীপক্ষের আবেদনক্রমে বা পক্ষান্তরে আদালত কর্তৃক রদবদল হইতে পারে। 

(৪) শিশু কিংবা বাল-অপরাধীকে ভরণপোষণ করার জন্য দায়ী ব্যক্তির মধ্যে এই ধারার উদ্দেশ্যে জারজত্বের ক্ষেত্রে অনুমিত পিতা অর্ন্তভুক্ত হইবে : 

তবে শর্ত থাকে যে, শিশু বা বাল অপরাধী জারজ হইলেও তাহার ভরণপোষণের জন্য কার্যবিধির ৪৮৮ ধারার অধীনে আদেশ প্রদান করা হইয়া থাকিলে আদালত সাধারণত অনুমিত পিতার বিরুদ্ধে অবদান রাখার আদেশ দিবেন না কিন্তু ভরণপোষণ জন্য উক্ত আদেশের অধীনে পাওনা সমুদয় অর্থ কিংবা উহার অংশ বিশেষ আদালত যাহার নাম উল্লেখ করিবেন তাহাকে প্রদান করিতে পারেন এবং এই অর্থ শিশু অথবা বাল-অপরাধীর ভরণপোষণের জন্য প্রয়োগ করিতে হইবে।

৬৩। ধর্ম সংক্রান্ত বিধান।-

(১) এই আইনের অধীনে শিশুকে যে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অনুমোদিত আবাস অথবা উপযুক্ত ব্যক্তি অথবা অন্য ব্যক্তির নিকট শিশুকে সোপর্দ করা হইবে তাহা নির্ধারণের জন্য আদালত শিশুর ধর্মীয় নাম বা আখ্যা নিরূপণ করিবেন এবং এইরূপ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট, অনুমোদিত আবাস অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নিবার্চনকালে শিশুর নিজ ধর্মে শিক্ষা-দীক্ষার জন্য যে সকল সুবিধা প্রদত্ত হয় উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে।

(২) শিশুকে যে ক্ষেত্রে এইরূপ কোন প্রত্যায়ত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করা হয় যেখানে তাহার নিজ ধর্ম সংক্রান্ত শিক্ষা-দীক্ষার কোন সুযোগ-সুবিধা নাই অথবা এইরূপ কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা হয় যিনি শিশুকে তদীয় ধর্মমতে পালন করিবার জন্য কোন বিশেষ সুযোগ দিতে পারেন না সে ক্ষেত্রে এইরূপ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের কর্তৃপক্ষ অথবা উপযুক্ত ব্যক্তি শিশুকে তাহার নিজ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম অনুযায়ী লালন-পালন করিবেন না ।

(৩) যে ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শকের দৃষ্টিগোচর করা হয় যে, (২) উপ- ধারার বিধান ভঙ্গ করা হইয়াছে সে ক্ষেত্রে তিনি প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অনুমোদিত আবাস অথবা উপযুক্ত ব্যক্তির জিম্মা হইতে শিশুটিকে তাহার মতে অন্য কোন উপযুক্ত প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে বদলি করিবেন।

 

৬৪ । লাইসেন্সমূলে বাহিরে প্রেরণ।-

(১) কোন বাল-অপরাধী বা শিশু কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাসে আটক থাকাকালে, উক্ত ইনষ্টিটিউটে অথবা আবাসের ব্যবস্থাপকগণ যে কোনা সময়ে প্রধান পরিদর্শকের সম্মতি লইয়া, লাইসেন্সমূলে, শিশুকে হিতকর বৃত্তি বা পেশায় গ্রহণ করিতে আগ্রহী লাইসেন্সে উল্লেখিত কোন বিশ্বাসভাজন এবং সম্মানিত ব্যক্তির সহিত বাস করিতে নির্ধারিত শর্তে অনুমতি দিতে পারিবেন। 

(২) এইরূপে মঞ্জুরকৃত কোন লাইসেন্স, যে সকল শর্তে উহার মঞ্জুর করা হইয়াছিল উহার কোন একটি শর্ত ভঙ্গের কারণে প্রত্যাহারকৃত অথবা বাজেয়াপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে । 

(৩) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের ব্যবস্থাপকগণ যে কোন সময় লিখিত আদেশ দ্বারা এইরূপ কোন লাইসেন্স প্রত্যাহার করিতে এবং বাল অপরাধী বা শিশুকে ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে ফিরিয়া যাইতে আদেশ দিতে পারেন এবং বাল অপরাধী বা শিশুকে, যাহার দায়িত্বে ন্যস্ত করার লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে তাহার অভিপ্রায় অনুযায়ী অনুরূপ আদেশ প্রদত্ত হইবে ।

(৪) যদি বাল-অপরাধী বা শিশু প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে ফিরিয়া যাইতে অস্বীকার করে বা ব্যর্থ হয় তাহা হইলে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে ব্যবস্থাপকগণ প্রয়োজন হইলে শিশুকে গ্রেফতার করিতে অথবা করাইতে পারিবে এবং তাহাকে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে ফেরত লইতে বা লইবার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।

(৫) এই ধারা অধীনে প্রদত্ত লাইসেন্স অনুসরণে কোন বাল-অপরাধী বা শিশু যতদিন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে অনুপস্থিত থাকে সেই সময় কাল ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে তাহার আটক থাকাকালের অংশ বিশেষ বলিয়া গণ্য হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, লাইসেন্স প্রত্যাহার বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার কারণে যখন বাল-অপরাধী বা শিশু ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট বা আবাসে ফিরিয়া যাইতে ব্যর্থ হয় এইরূপ ব্যর্থতার পর যে সময় অতিবাহিত হয় তাহা, যে সময়ে সে ক্ষেত্র মত ইনষ্টিটিউটে বা আবাসে আটক ছিল সেই সময়ের সহিত একত্রে হিসাব করা হইতে বাদ যাইবে ।

৬৫। পলাতক শিশু সম্পর্কে পুলিশের কার্য ব্যবস্থা।-

(১) আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের বিপরীতে কিছু থাকা সত্ত্বেও কোন পুলিশ অফিসার, কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস অথবা যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকার জন্য শিশুকে নির্দেশ দান করা হইয়াছিল তাহার তত্ত্বাবধান হইতে পলাতক শিশু অথবা বাল-অপরাধীকে পরোয়ানা ব্যতীতই গ্রেফতার করিতে পারিবেন,

এবং উক্ত শিশু বা বাল-অপরাধীর কোন অপরাধ রেজিস্ট্রিভূক্ত না করিয়া বা তাহার বিরুদ্ধে মামলা না চালাইয়া তাহাকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাস কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিকট ফেরত পাঠাইবেন এবং এইরূপে পলাতক হওয়ার কারণে উক্ত শিশু অথবা বাল-অপরাধী কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

 

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

(২) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাস হইতে পলাতক শিশুকে গ্রেফতার করা হইলে তাহাকে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট বা আবাসে অপসারণ করা সাপেক্ষে কোন নিরাপদ স্থানে আটক রাখা হইবে।

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

৫৫। শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখা।-

(১) কোন প্রবেশন অফিসার অথবা কম পক্ষে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরের পদমর্যাদা সম্পন্ন পুলিশ অফিসার অথবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি যে কোন শিশু যাহার সম্পর্কে এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছে যে, সে অপরাধ করিয়াছে বা করিতে পারে বলিয়া সম্ভাবনা রহিয়াছে তাহাকে কোন নিরাপদ স্থানে লইয়া যাইতে পারে ।

(২) যে শিশু কোন নিরাপদ-স্থানে এরূপে আনীত হইয়াছে তাহাকে এবং যে শিশু নিরাপদ স্থানে আশ্রয় লাভ করিতে চায় তাহাকেও আদালতে হাজির না করা পর্যন্ত আটক রাখা যাইতে পারে :

তবে শর্ত থাকে যে, আদালতের কোন বিশেষ আদেশ না থাকিলে, এইরূপ আটক রাখার মেয়াদ ২৪ ঘন্টার অধিক হইবে না, আটক স্থান হইতে আদালত পর্যন্ত যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় উক্ত মেয়াদ বর্হিভূত থাকিবে । 

(৩) আদালত তাহার উপর অতঃপর বর্ণিত আদেশ প্রদান করিতে পারেন।

৫৬। শিশুর যত্ন এবং আটক রাখার ব্যাপারে আদালতের ক্ষমতা।-

(১) যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উহার সমক্ষে হাজিরকৃত কোন শিশু সম্পর্কে এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছে যে, সে ৫৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করিয়াছে বা করিবে বলিয়া সম্ভাবনা রহিয়াছে এবং তাহার স্বার্থে এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন তাহা হইলে আদালত,

শিশুটি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটনের অপরাধে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য যুক্তি সঙ্গত সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে তত্ত্বাবধান করা ও আটক রাখার জন্য অথবা প্রয়োজন মোতাবেক অন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয় উহার চাহিদা অনুযায়ী আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন ।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত আটকাদেশ, উক্ত উপধারায় উল্লিখিত অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলার পরিসমাপ্তি, দোষী সাব্যস্ত হওয়া, অব্যাহতি প্রদান কিংবা খালাস দেওয়ার মাধ্যমে না ঘটা পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে ।

(৩) কোন ব্যক্তি শিশুর অভিভাবকত্ব দাবী করা সত্ত্বেও এই ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ কার্যকর করা হইবে।

৫৭। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে।-শিশু সম্পর্কে অপরাধ সংঘটনের জন্য কোন ব্যক্তি যে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয় অথবা অনুরূপ কোন অপরাধের বিচারের জন্য কোন ব্যক্তিকে যে আদালতে হাজির করা হয় সেই আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে কোন কিশোর আদালতে অথবা যেখানে কোন কিশোর আদালত নাই ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালতে হাজির হইবার নির্দেশ দিবেন, যাহাতে উক্ত আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারেন ।

 

৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুকে সোপর্দের আদেশ।

যে আদালতে ৫৭ ধারা অনুযায়ী কোন শিশুকে পেশ করা হয় সেই আদালত আদেশ দিতে পারেন যে,

                (ক) শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আরও সংশ্লিষ্ট মেয়াদের জন্য এইরূপ সংক্ষিপ্ততর মেয়াদের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া শিশুটিকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা কোন অনুমোদিত আবাসে সোপর্দ করিতে হইবে, অথবা

                (খ) শিশুর আত্নীয় কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তি শিশুর যথা যথ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ এবং হেফাজত করিতে এবং প্রয়োজন হইলে অনধিক ৩ বৎসরের জন্য তত্ত্বাবধান করা সহ অন্যান্য যে সকল শর্ত আদালত শিশুর স্বার্থে আরোপ করিতে পারে সেই সকল শর্ত পালন করিতে আগ্রহী এবং সক্ষম এই মর্মে

জামিনে আদালত যেরূপ নির্দেশ দিবেন সেইরূপে মুচলেকা দানের পর শিশুকে উক্ত আত্মীয় বা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিতে হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, যদি শিশুটির পিতামাতা অথবা অভিভাবক থাকে যিনি,

আদালতের মতে শিশুর যথাযথ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজত করার জন্য উপযুক্ত বা সক্ষম তবে আদালত শিশুটিকে তাহার জিম্বায় রাখিতে অনুমতি দিতে পারেন অথবা তিনি নির্ধারিত ফরমে এবং যে সকল শর্ত আদালত শিশুর স্বার্থে আরোপ করিতে পারেন সেই সকল শর্ত পূরণের জন্য জামানতসহ বা বিনা জামানতে একটি মুচলেকা প্রদান করিলে আদালত শিশুকে তাহার তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিতে পারে।

৫৯। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের তত্ত্বাবধান।

যে আদালত পূর্ববর্তী বিধানাবলীর অধীনে শিশুকে তাহার পিতা-মাতা অভিভাবক অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত আরও আদেশ দিতে পারেন যে, তাহাকে তত্ত্বাবধানে রাখিতে হইবে ।

৬০। তদারক ভঙ্গ।

প্রবেশন অফিসারের নিকট হইতে অন্য প্রকারে রিপোর্ট পাইয়া যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, যে শিশু সম্পর্কে তদারকী আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, সেই শিশু সম্পর্কিত আদেশ ভঙ্গ করা হইয়াছে তাহা হইলে আদালত যেরূপ তদন্ত করা উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ তদন্তের পর কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে শিশুটিকে আটক রাখিবার আদেশ দিতে পারেন ।

৬১। শিশুর তল্লাশী পরোয়ানা।-

(১) কিশোর আদালত অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালতের নিকট যদি যে ব্যক্তি শিশুর স্বার্থে কাজ করিতেছে তৎকর্তৃক শপথ গ্রহণ পূর্বক ও দৃঢ়চিত্তে ঘোষিত তথ্য হইতে প্রতীয়মান হয় যে, শিশুটি সম্পর্কে একটি অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে অথবা জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে সংঘটিত হইবে বলিয়া সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে তাহা হইলে আদালত এইরূপ শিশুকে তল্লাশী করিবার জন্য এবং যদি দেখা যায় যে,

ইতিপূর্বে বর্ণিত পন্থায় শিশুর সহিত ইচ্ছাকৃত ভাবে দুর্ব্যবহার করা বা তাহাকে অবহেলা করা হইয়াছে বা হইতেছে অথবা শিশুটি সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে তবে তাহাকে আদালতে হাজির করিতে না পারা পর্যন্ত কোন নিরাপদ স্থানে লইয়া যাইয়া আটক রাখিবার জন্য কোন পুলিশ অফিসারকে কর্তৃত্ব প্রদান করিয়া একটি পরোয়ানা উহাতে তাহার নাম উল্লেখ পূর্বক জারী করিতে পারিবেন। যে আদালতে শিশুটিকে হাজির করা হয় সেই আদালত প্রথমতঃ তাহাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন নিরাপদ স্থানে প্রেরণ করিতে পারেন।

(২) এই ধারার অধীনে সমন প্রদানকারী আদালত উক্ত সমন দ্বারা নির্দেশ দিতে পারেন যে শিশুটি সম্পর্কে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়া উহার নিকট হাজির করিতে হইবে অথবা নির্দেশ দিতে পারেন যে, যদি এইরূপ ব্যক্তি এই মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করেন যে, তিনি আদালত কর্তৃক অন্য কোন প্রকার নির্দেশ প্রদত্ত না হওয়া পর্যন্ত সময়ে এবং তাহার পর আদালত হাজিরা দিতে থাকিবেন তাহা হইলে যে অফিসারের নিকট সমনটি প্রদান করা হইয়াছে তিনি উক্ত জামানত গ্রহণ করিবেন এবং সেই ব্যক্তিকে হাজত হইতে মুক্তি দেবেন।

(৩) তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি সমন কার্যকরী পুলিশ অফিসারের সঙ্গে থাকিবেন। যদি তিনি ইহা চাহেন এবং সমন প্রদানকারী আদালত যদি নির্দেশ দেন তাহা হইলে তাহার সঙ্গে একজন যথাযথভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তারও থাকিবেন।

 

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

(৪) এই ধারার অধীনে কোন তথ্য অথবা সমনে শিশুটির নাম জানা থাকিলে উল্লেখ করিতে হইবে।

বাল অপরাধীগণ | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বাল অপরাধীগণ

বাল অপরাধীগণ

 

বাল-অপরাধীগণ

 

৪৮। গ্রেফতারকৃত শিশুর জামিন।

যে ক্ষেত্রে আপাতঃ দৃষ্টিতে ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে জামিনের অযোগ্য অপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয় এবং অবিলম্বে আদালতে হাজির করা যায় না, সে ক্ষেত্র পর্যন্ত জামানত পাওয়া গেলে, তাহাকে যে থানায় আনা হইয়াছে সেই থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার জামিনে খালাস দিতে পারেন,

কিন্তু যে ক্ষেত্রে খালাস দেওয়া হইলে উক্ত ব্যক্তি কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিবে অথবা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইবে অথবা যে ক্ষেত্রে তাহাকে খালাস দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে বা অভিপ্রায় ব্যাহত হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে খালাস দেওয়া যাইবে না।

৪৯। জামিনে খালাস প্রাপ্ত নহে এইরূপ শিশুর হেফাজত।-

(১) যে ক্ষেত্রে আপাতঃ দৃষ্টিতে ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর ৪৮ ধারার অধীনে খালাস না পায়, সে ক্ষেত্রে যত দিন তাহাকে আদালতে হাজির করা না যায় তত দিন পর্যন্ত তাহাকে রিমান্ড হোম অথবা কোন নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। 

(২) যে শিশু জামিনে খালাসপ্রাপ্ত হয় নাই তাহাকে বিচারে প্রেরণ করিয়া আদালত তাহাকে কোন রিমাণ্ড হোম অথবা নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার জন্য আদেশ দিবেন ।

৫০। গ্রেফতারের পর প্রবেশন অফিসারের নিকট পুলিশ কর্তৃক তথ্য পেশ।

কোন শিশুকে গ্রেফতারের পর অবিলম্বে তাহা প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করা পুলিশ অফিসার অথবা অন্য কোন গ্রেফতারকারী ব্যক্তির কর্তব্য, যাহার উদ্দেশ্য হইতেছে আদালতকে উহার আদেশ প্রদানে সহায়তার নিমিত্ত উক্ত শিশুর পূর্ব পরিচয় এবং পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য অবিলম্বে উদ্যোগ লইতে প্রবেশন অফিসারকে সামর্থ্য করা ।

৫১। শিশুকে সাজা প্রদানে বাধা-নিষেধ।-

(১) অন্য কোন আইনে . বিপরীত কিছু থাকা সত্ত্বেও কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে যখন এইরূপ মারাত্বক ধরনের অপরাধ করিতে দেখা যায় যে, তজ্জন্য এই আইনের অধীনে প্রদান যোগ্য কোন শাস্তি আদালতের মতে পর্যাপ্ত নহে, অথবা আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিশুটি এত বেশী অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্রের যে তাহাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে প্রেরণ করা চলে না এবং অন্যান্য যে সকল আইনানুগ পন্থা মামলাটির সুরাহা হইতে পারে উহাদের কোন একটিও তাহার জন্য উপযুক্ত নহে, তাহা হইলে আদালত শিশুটিকে কারাদণ্ড প্রদান অথবা যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ স্থানে বা শতে আটক রাখিবার আদেশ দিতে পারেন;

আরও শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশে আটকের মেয়াদ তাহার অপরাধের জন্য প্রদেয় দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদের অধিক হইবে না : আরও শর্ত থাকে যে, এইরূপ আটক থাকাকালে কোন সময়ে আদালত উপযুক্ত মনে করিলে নির্দেশ দিতে পারেন যে, এইরূপে আটক রাখার পরিবর্তে বা অপরাধীকে তাহার বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে রাখিতে হইবে।

(২) কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন বাল-অপরাধীকে প্রাপ্ত বয়স্ক বন্দীর সঙ্গে মেলামেশা করিতে দেওয়া যাইবে না ।

 

৫২। শিশুকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে সোপর্দ।

কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইলে আদালত তাহার ক্ষেত্রে সমীচীন বিবেচনা করিলে অন্যূন দুই বৎসর এবং অনধিক দশ বৎসর মেয়াদে আটক রাখিবার জন্য কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে সোপর্দ করিতে আদেশ দিতে পারেন কিন্তু কোন ক্রমেই আটকের মেয়াদ শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর আর বৃদ্ধি করা যাইবে না ।

৫৩। বাল-অপরাধীকে খালাস দেওয়া অথবা উপযুক্ত হেফাজতে সোপর্দ করার ক্ষমতা।-

(১) আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন বাল- অপরাধীকে ৫২ ধারার অধীনে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে আটক রাখিবার নির্দেশদানের পরিবর্তে তাহাকে – –

              (ক) যথাযথ সাবধান করার পর খালাস দিতে পারিবেন, অথবা 

              (খ) সদাচরণের উদ্দেশ্যে প্রবেশনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন এবং তাহার পিতা-মাতা বা অন্য প্রাপ্ত বয়স্ক আত্মীয় অথবা অন্য উপর্যুক্ত ব্যক্তি উক্ত বাল অপরাধীর অনধিক তিন বৎসর কাল সদাচারণের জন্য দায়ী থাকিবেন এই মর্মে জামিনসহ অথবা বিনা জামিনে, আদালত যেরূপ নির্দেশ দিবেন সেইরূপ মুচলেকা দানের পর বাল অপরাধীকে তাহার পিতা-মাতা অথবা অন্য প্রাপ্ত বয়স্ক কোন আত্মীয় অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিতে পারিবেন এবং আদালত আরও আদেশ দিতে পারিবেন যে, বাল অপরাধীকে প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখিতে হইবে।

(২) প্রবেশন অফিসারের নিকট হইতে রিপোর্ট পাওয়া অথবা প্রকারান্ত রে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বাল অপরাধী তাহার প্রবেশন কালে সদাচারণ করে নাই, তাহা হইলে আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ তদন্ত করিবার পর বাল অপরাধীকে প্রবেশন কালের অসমাপ্ত সময়ের জন্য প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে আটক রাখিবার আদেশ দিতে পারিবেন ।

৫৪। পিতা-মাতাকে জরিমানা, ইত্যাদি পরিশোধের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা।-(১) যে ক্ষেত্রে কোন শিশু অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়, যে ক্ষেত্রে আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট না হন যে, শিশুর পিতা মাতা অথবা অভিভাবককে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না অথবা শিশুর প্রতি যথাযথ যত্নবান হইতে অবহেলা করিয়া তিনি শিশুকে অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করেন নাই, তাহা হইলে আদালত শিশুর পিতা মাতা অথবা অভিভাবককে জরিমানা পরিশোধের আদেশ প্রদান করিবেন।

 

বাল-অপরাধীগণ

 

(২) যে ক্ষেত্রে শিশুর পিতা-মাতা অথবা অভিভাবক (১) উপ-ধারার অধীনে জরিমানা প্রদানের আদেশ প্রাপ্ত হইয়াছেন সে ক্ষেত্রে কার্যবিধির বিধান মোতাবেক উক্ত অর্থ আদায় করা যাইবে।

শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধসমূহ | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধসমূহ

শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধসমূহ

 

শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধসমূহ

 

৩৪। শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার দণ্ড।-

যাহার হেফাজত, দায়িত্ব বা তত্ত্বাবধানে কোন শিশু রহিয়াছে এইরূপ কোন ১৬ বৎসরের উপর বয়স্ক ব্যক্তি যদি অনুরূপ শিশুকে এইরূপ পন্থায় আক্রমন, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন অথবা অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ করে অথবা করায় যাহার ফলে শিশুটির অহেতুক দুর্ভোগ হয় কিংবা তাহার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এবং তাহার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোন অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় এবং কোন মানসিক বিকৃতি ঘটে তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে ।

৩৫ । শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দণ্ড।

কোন ব্যক্তি যদি শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন অথবা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান ও দেখাশুনার জন্য দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তি যদি ভিক্ষার উদ্দেশ্যে শিশুর নিয়োগদানে অজ্ঞতার ভান করে কিংবা উৎসাহ প্রদান করে, অথবা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে আলামতরূপে ব্যবহার করেন তাহা হইলে তিনি এক বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা তিনশত টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

৩৬। শিশুর দায়িত্বে থাকাকালে পানোম্মত হওয়ার দণ্ড।-

কোন শিশুর দায়িত্বে থাকাকালে কোন ব্যক্তিকে যদি কোন প্রকাশ্য স্থানে, তাহা কোন ভবন হউক বা না হউক, পানোন্মত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাহার মাতলামির কারণে তিনি শিশুটির তত্ত্বাবধান করিতে সমর্থ না হন তাহা হইলে তিনি একশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। 

৩৭। শিশুকে নেশাজাতীয় পানীয় কিংবা বিপজ্জনক ঔষধ প্রদানের দণ্ড।-

যদি কোন শিশুকে শিশুর অসুস্থতা অথবা অন্য জরুরী কারণে, যথাযথ যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তারের আদেশ ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে, তাহা ভবন হউক বা না হউক, কোন নেশাগ্রস্তকারী সুরা অথবা বিপজ্জনক ঔষধ প্রদান করেন বা করান, তিনি এক বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

৩৮। শিশুকে সুরা কিংবা বিপজ্জনক ঔষধ বিক্রয়ের স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের দণ্ড।-

যিনি শিশুকে সুরা কিংবা বিপদজ্জনক ঔষধ বিক্রয়ের স্থানে লইয়া যান, অথবা এইরূপ স্থানের স্বত্বাধিকারী, মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হইয়াও শিশুকে যিনি অনুরূপ স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেন অথবা যিনি অনুরূপ স্থানে শিশুর যাওয়ার কারণ ঘটান তিনি পাঁচ শত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।

৩৯। শিশুকে বাজী ধরিতে বা ঋণ লইতে উস্কানি দেওয়ার দণ্ড।

যে ব্যক্তি উচ্চারিত বা লিখিত শব্দ দ্বারা কিংবা ইঙ্গিত দ্বারা বা প্রকারান্তরে কোন শিশুকে কোন বাজী ধরিতে বা পণ রাখিতে অথবা কোন বাজী বা পণ ভিত্তিক লেনদেনে অংশ গ্রহণ করিতে অথবা শেয়ার লইতে বা স্বার্থসম্পন্ন হইতে উস্কানি দেন কিংবা দেওয়ার চেষ্টা করেন অথবা অনুরূপভাবে কোন শিশুকে ঋণ গ্রহণ করিতে কিংবা ঋণ গ্রহণমূলক লেনদেনে অংশ গ্রহণ করিতে উস্কানি দেন, তিনি ছয় মাস পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।

৪০। শিশুর নিকট হইতে দ্রব্যাদি বন্ধক গ্রহণ বা ক্রয় করার দণ্ড।

যে ব্যক্তি কোন শিশুর নিকট হইতে কোন দ্রব্য, তাহা উক্ত শিশু কর্তৃক নিজ তরফ হইতে বা অন্য ব্যক্তির তরফ হইতে প্রদেয় হউক না কেন, বন্ধক গ্রহণ করেন তিনি এক বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।

৪১। শিশুকে পতিতালয়ে থাকার অনুমতি প্রদানের দণ্ড।-

যে ব্যক্তি চার বৎসরের বেশী বয়স্ক শিশুকে পতিতালয়ে বাস করিতে কিংবা প্রায়শঃ যাতায়াত করিতে সুযোগ বা অনুমতি দেয় তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।

 

৪২। অসৎ পথে পরিচালনা করানো বা করিতে উৎসাহ প্রদানের দণ্ড।-

যে ব্যক্তি ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন বালিকার সত্যিকার দায়িত্ব সম্পন্ন হইয়া বা তাহার নিয়ন্ত্রণকারী হইয়া তাহাকে অসৎ পথে পরিচালিত কিংবা বেশ্যাবৃত্তিতে প্রবৃত্ত করায় তা তজ্জন্য উৎসাহ দেয় অথবা তাহার স্বামী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে তাহার সহিত যৌন সহবাস করায় বা তজ্জন্য উৎসাহ দেয়, তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ।

ব্যাখ্যা ঃ এই ধারার উদ্দেশ্যে, সেই ব্যক্তি কোন বালিকাকে অসৎ পথে পরিচালিত করাইয়াছেন বা তজ্জন্য উৎসাহ দিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি সেই ব্যক্তি বালিকাটিকে কোন পতিতা কিংবা ভ্রষ্ট চরিত্র বলিয়া জ্ঞাত ব্যক্তির সহিত বাস করিতে বা তাহার অধীনে চাকরিতে নিয়োজিত হইতে বা থাকিতে জ্ঞাতসারে অনুমতি দিয়া থাকেন ।

৪৩। অল্পবয়স্ক বালিকাকে অসৎপথে ঝুঁকির সম্মুখীন করা।-

কোন ব্যক্তির নালিশের প্রেক্ষিতে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন বালিকা তাহার পিতা-মাতা বা অভিভাককের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অসৎ পথে পরিচালিত হওয়া বা বেশ্যা বৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন হইয়াছে তাহা হইলে আদালত এইরূপ বালিকার ব্যাপারে উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং তদারকী করিবার জন্য একটি মুচলেকা সম্পাদন করিতে পিতা-মাতা অথবা অভিভাবককে নির্দেশ দিতে পারিবেন ।

৪৪। শিশু কর্মচারীকে শোষণের দণ্ড।-

(১) যে ব্যক্তি শিশুকে ভৃত্যের চাকরি অথবা কারাখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের কাজে নিয়োগের ভান করিয়া কোন শিশুকে হস্তগত করে কিন্তু কার্যতঃ শিশুটিকে তাহার নিজ স্বার্থে শোষণ করে বা কাজে লাগায়, আটকাইয়া রাখে অথবা তাহার উপার্জন ভক্ষণ করেন তিনি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) যে ব্যক্তি (১) উপ-ধারায় বর্ণিত কোন একটি উদ্দেশ্যের জন্য ভান করিয়া কোন শিশুকে হস্তগত করে কিন্তু তাহাকে অসৎ পথে চালিত হওয়া, সমকাম, বেশ্যাবৃত্তি কিংবা অন্যান্য নীতি বিগর্হিত পরিবেশে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড কিংবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।

(৩) কোনো ব্যক্তি (১) উপ-ধারায় বা (২) উপ-ধারায় উল্লিখিত পদ্ধতিতে শোষিত বা কাজে লাগানো শিশুর শ্রমের ফল যে ব্যক্তি ভোগ করে অথবা যাহার নৈতিকতা বিরোধী বিনোদনের জন্য শিশুকে ব্যবহার করা হয় তিনি দুষ্কর্মে সহায়তার জন্য দায়ী হইবেন। 

৪৫ । শিশু অথবা বাল-অপরাধীর পলায়নে সহায়তার দণ্ড।-

যে ব্যক্তি-

              (ক) কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে কিংবা অনুমোদিত আবাসে আটক কিংবা তথা হইতে লাইসেন্সমূলে অন্য স্থানে প্রদত্ত কোন শিশু বা বাল অপরাধীকে ইনষ্টিটিউট আবাস অথবা যে ব্যক্তির নিকট শিশুকে লাইসেন্সমূলে রাখা হইয়াছিল তাহার নিকট হইতে পলায়ন করিতে অথবা এই আইনের অধীনে যে ব্যক্তির হেফাজতে সোপর্দ করা হয় তাহার নিকট হইতে পলায়নে জ্ঞাতসারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে বা প্রলুদ্ধ করে; বা

               (খ) কোন শিশু বা বাল-অপরাধী প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাস হইতে অথবা তাহাকে লাইসেন্সমূলে যাহার তত্ত্বাবধানে রাখা হইয়াছিল কিংবা এই আইনের অধীনে যাহার হেফাজতে সোপর্দ করা হইয়াছিল, তাহার নিকট হইতে পালাইয়া যাওয়ার পর তাহাকে পুনরায় উক্ত স্থান বা ব্যক্তির নিকট প্রত্যাবর্তন করা হইতে জ্ঞাতসারে আশ্রয় দেয়, লুকাইয়া রাখে কিংবা বা অনুরূপ কাজে সাহায্য করে;

দুই মাস পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড কিংবা দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে ।

৪৬। শিশু সম্পর্কিত রিপোর্ট অথবা ছবি প্রকাশের দণ্ড।

যিনি ১৭ ধারায় বিধানাবলী লংঘন করিয়া কোন রিপোর্ট বা ছবি প্রকাশ করেন তিনি দুইমাস পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।

 

শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধসমূহ

 

৪৭। এই ভাগে বর্ণিত অপরাধ আমলযোগ্য অপরাধ। কার্যবিধিতে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই ভাগের অধীনে কৃত সকল অপরাধ আমলযোগ্য হইবে।

 দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের যত্ন ও হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের যত্ন ও হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা

দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের যত্ন ও হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা

 

দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের যত্ন ও হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা

 

৩২। যে সকল শিশুকে গৃহহীন, দুস্থ ইত্যাদি অবস্থায় পাওয়া যায়। –

(১) কোন প্রবেশন অফিসার কিংবা সাব-ইন্সপেক্টরের নিম্ন পদমর্যাদার নয় এমন পুলিশ অফিসার অথবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রদত্ত অন্য কোন ব্যক্তি কিশোর আদালত বা ৪ ধারা অধীনে ক্ষমতা প্রাপ্ত আদালতে, তাহার মতে শিশু বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে হাজির করিতে পারিবেন, যাহার –

              (ক) কোন গৃহ, নির্দিষ্ট কোন বাসস্থান অথবা জীবন ধারণের কোন

দৃশ্যমান উপায় নাই, অথবা নিয়মিত ও যথাযথভাবে অভিভাবকের ক্ষমতা

প্রয়োগ করিতে পারেন এইরূপ কোন পিতা মাতা বা অভিভাবক নাই; অথবা

              (খ) ভিক্ষা করিতে দেখা গিয়াছে অথবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন কাজ এইরূপ অবস্থায় করিতে দেখা যায় যাহা উক্ত শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী ; (গ) দুস্থ অবস্থায় নিপতিত দেখা যায় অথবা যাহার পিতা মাতা বা অভিভাবক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা কারাদণ্ড ভোগ করিতেছে ; অথবা

              (ঘ) এইরূপ পিতা-মাতা অথবা অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে, যিনি প্রায়ই স্বভাবতঃ শিশুটিকে অবহেলা করে অথবা তাহার সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করে; অথবা

              (ঙ) যাহাকে সাধারণত কোন কুখ্যাত অপরাধী অথবা পতিতার সংগে পাওয়া যায় যে তাহার পিতা মাতা কিংবা অভিভাবক নহে; অথবা

              (চ) যে এইরূপ কোন বাড়িতে অবস্থান করিতেছে অথবা প্রায়ই যাতায়াত করিতেছে যাহা পতিতা বৃত্তির কাজে কোন পতিতার ব্যবহারের অধীনে রহিয়াছে এবং সে উক্ত পতিতার শিশু নহে; অথবা 

              (ছ) যে প্রকারান্তরে কোন অসৎ সঙ্গে পতিত হইতে পারে অথবা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে অথবা অপরাধের জীবনে প্রবেশ করিতে পারে । (২) উপ-ধারা (১)-এ উল্লেখিত কোন শিশুকে যে আদালতে হাজির করা হয় সে আদালত তথ্যাদি পরীক্ষা করিবেন এবং এইরূপ পরীক্ষার সারমর্ম লিপিবদ্ধ করিবেন এবং যদি মনে করেন যে, আরও তদন্ত করিবার পর্যাপ্ত কারণ রহিয়াছে তবে তদুদ্দেশ্যে তারিখ ধার্য করিবেন।

 

              (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে তদন্তের জন্য ধার্য দিবসে অথবা অন্য কোন পরিবর্তিত তারিখ যে পর্যন্ত কার্যধারা মূলতবি থাকে সেই তারিখে আদালত এই আইনের অধীনে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে উহার পক্ষে এবং বিপক্ষে যে সকল প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রদত্ত হইতে পারে তাহা শুনিবেন এবং লিপিবদ্ধ করিবেন এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপে পুনরায় তদন্ত করিতে পারেন ।

              (৪) এইরূপ তদন্ত করিয়া আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যক্তি (১) উপ-ধারায় বর্ণিত একটি শিশু এবং তদানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন তাহা হইলে আদালত তাহাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাসে প্রেরণের আদেশ দিতে পারিবেন অথবা তাহাকে কোন আত্মীয় কিংবা আদালত কর্তৃক উল্লেখিত এবং শিশুটির বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা কোন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তত্ত্বাবধান করিতে ইচ্ছুক অন্য কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সোপর্দ করিবার আদেশ দিতে পারিবেন ।

              (৫) যে আদালত শিশুকে কোন আত্মীয় অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে প্রেরণের আদেশ দেন,আদেশ প্রদানকালে এইরূপ আত্মীয় অথবা অন্য ব্যক্তিকে জামিনদারসহ অথবা জামিনদার ছাড়া এই মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারিবেন যে, তিনি শিশুটির সদাচারণের জন্য এবং শিশুটির সৎ এবং পরিশ্রমী জীবন যাপনের নিশ্চয়তা বিধানের অন্যান্য যে সকল শর্ত আদালত আরোপ করিবেন সেই সকল শর্ত পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন।

              (৬) যে আদালত শিশুটিকে আত্মীয় অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের জন্য এই ধারার অধীনে আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত অতিরিক্ত আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, শিশুকে প্রবেশন অফিসার অথবা আদালত কর্তৃক উল্লেখিত অন্য ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে রাখা যাইতে পারে ।

৩৩। অবাধ্য শিশু।-

(১) যে ক্ষেত্রে কোন শিশুর পিতা মাতা বা অভিভাবক কোন কিশোর আদালতে অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রাপ্ত আদালতে অভিযোগ করেন যে তিনি শিশুটিকে নিয়ন্ত্রণ করিতে অক্ষম,সে ক্ষেত্রে আদালত তদন্তের পর যদি সন্তুষ্ট হন যে শিশুটি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন তবে অনধিক তিন বৎসর মেয়াদে তাহাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে প্রেরণের আদেশ দিতে পারেন ।

 

দুস্থ ও অবহেলিত শিশুদের যত্ন ও হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা

 

(২) আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে, শিশুটির বাড়ির পরিবেশ সন্তোষজনক, শিশুটিকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাসে প্রেরণের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাহাকে তত্ত্বাবধান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে শিশুটিকে অনধিক তিন মাসের মেয়াদে কোন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করিতে পারিবেন।

অফিসারবৃন্দ, তাহাদের ক্ষমতা ও কর্তব্য | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় অফিসারবৃন্দ, তাহাদের ক্ষমতা ও কর্তব্য

অফিসারবৃন্দ, তাহাদের ক্ষমতা ও কর্তব্য

 

অফিসারবৃন্দ, তাহাদের ক্ষমতা ও কর্তব্য

 

৩০। প্রধান-পরিদর্শক, ইত্যাদি নিয়োগ।-

(১) সরকার, প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের জন্য একজন প্রধান-পরিদর্শক এবং তাহার সহায়তাকল্পে সরকারী বিবেচনামতে উপযুক্ত সংখ্যক পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শক নিয়োগ করিবেন ।

(২) প্রধান-পরিদর্শকের এই আইনে বর্ণিত এবং যেরূপ নির্ধারণ করা হয় সেইরূপ ক্ষমতা ও কর্তব্য থাকিবে।

(৩) প্রত্যেক পরিদর্শক বা সহকারী পরিদর্শক, প্রধান-পরিদর্শকের সেইরূপ ক্ষমতা লাভ করিবেন ও কর্তব্য পালন করিবেন যেরূপ সরকার নির্দেশ দিবেন এবং প্রধান-পরিদর্শকের নির্দেশানুযায়ী কাজ করিবেন ।

 

৩১। প্রবেশন অফিসার নিয়োগ।-

(১) সরকার প্রত্যেক জেলায় একজন প্রবেশন অফিসার নিয়োগ করিতে পারিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কোন জেলায় এইরূপ নিযুক্ত কোন ব্যক্তি না থাকে যে ক্ষেত্রে মামলা বিশেষের জন্য এই জেলায় আদালত কর্তৃক সময়ে সময়ে অন্য যে, কোন ব্যক্তি প্রবেশন অফিসার রূপে নিযুক্ত হইবেন। 

(২) প্রবেশন অফিসার স্থানীয় কিশোর আদালত অথবা সেখানে এইরূপ আদালত নাই সেখানে দায়রা আদালতের তত্ত্বাবধানে এবং পরিচালনায় এই আইনের অধীন তদীয় কর্তব্য সম্পাদন করিবেন। 

(৩) প্রবেশন অফিসার, এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি এবং আদালতের নির্দেশাবলী সাপেক্ষ- 

             (ক) যুক্তিসঙ্গত বিরতিতে নিজে শিশুকে পরিদর্শন করিবেন অথবা করিতে সুযোগ দিবেন ;

             (খ) লক্ষ্য রাখিবেন যে, শিশুটিকে আত্মীয় অথবা যাহার তত্ত্বাবধানে রাখা হইয়াছে তিনি মুচলেকার শর্ত পালন করিতেছেন;

             (গ) শিশুর আচরণ সম্পর্কে আদালত রিপোর্ট দিবেন ;

 

অফিসারবৃন্দ, তাহাদের ক্ষমতা ও কর্তব্য

 

             (ঘ) উপদেশ দিবেন, সহায়তা করিবেন এবং বন্ধু ভাবাপন্ন করিয়া তুলিবেন এবং প্রয়োজনে তাহার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের চেষ্টা করিবেন; এবং 

             (ঙ) অন্য কোন নির্ধারিত কর্তব্য পালন করিবেন।

প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ

প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ

 

প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ

 

১৯। ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও প্রত্যায়ন।-

(১) সরকার শিশু এবং বাল- অপরাধীদেরকে গ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করিতে পারিবেন।

 (২) সরকার প্রত্যায়ন করিতে পারিবেন যে (১) উপ-ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত নহে এইরূপ কোন প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট অথবা কোন শিশু বিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশু অথবা বাল-অপরাধীগণের অভ্যর্থনার জন্য উপযুক্ত।

২০। রিমান্ড হোম।-

কোন আদালত অথবা পুলিশ কর্তৃক প্রেরিত শিশুদের আটক রাখা, রোগ নির্ণয় এবং শ্রেণী বিভাগের উদ্দেশ্যে সরকার রিমান্ড হোম প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা করিতে পারিবেন।

২১। ইনষ্টিটিউট ইত্যাদি প্রত্যায়ন অথবা স্বীকৃতি দানের শর্তাবলী।-

এই আইনের উদ্দেশ্যে কোন প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, শিল্প বিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা অনুমোদিত আবাসকে যে শর্তাবলী সাপেক্ষ প্রত্যায়ন অথবা স্বীকৃতি দান করা যাইবে সরকার সেই সকল শর্তাবলী নির্ধারণ করিবেন ।

২২। প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের ব্যবস্থাপনা। –

(১) নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯(১) ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেকটি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের জন্যে সরকার একজন তত্ত্বাবধায়ক এবং একটি পরিদর্শক কমিটি নিয়োগ করিবেন, এবং অনুরূপ তত্ত্বাবধায়ক এবং কমিটি এই আইনের উদ্দেশ্যে ইনষ্টিটিউটের ব্যবস্থাপক বলিয়া গণ্য হইবেন।

(২) ১৯(২) ধারার অধীনে প্রত্যায়িত প্রতিটি ইনষ্টিটিউট, বিদ্যালয় অথবা প্রতিষ্ঠান উহার গভর্ণিং বডির ব্যবস্থাধীন থাকিবে এবং উহার সদস্যগণ এই আইনের উদ্দেশ্যে ইনষ্টিটিউট, বিদ্যালয় অথবা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বলিয়া গণ্য হইবেন ।

২৩। ব্যবস্থাপকগণের সহিত পরামর্শ।

কোন শিশুকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে প্রেরণের পূর্বে আদালত উহার ব্যবস্থাপকগণের সহিত পরামর্শ করিবেন।

২৪। প্রত্যয়িত ইনষ্টিটিউট ও অনুমোদিত আবাস সমূহে ডাক্তারী পরিদর্শন।-

সরকার কর্তৃক এতদ্‌সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রদত্ত কোন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাসের স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থাদি এবং উহার বাসিন্দাগণের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রধান পরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট প্রদানের উদ্দেশ্যে উহার ব্যবস্থাপক বা অন্যান্য ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণকে নোটিশ প্রদান পূর্বক বা বিনা নোটিশে যে কোন সময়ে যে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

 

২৫। সরকারের প্রত্যায়নপত্র প্রত্যাহারের ক্ষমতা।-

সরকার কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট হইলে, উহার ম্যানেজারের প্রতি নোটিশ জারি করিয়া যে কোন সময়ে ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, উক্ত ইনষ্টিটিউটের প্রত্যয়ন পত্র নোটিশে উল্লেখিত তারিখে প্রত্যাহার করা হইল এবং উক্ত তারিখ হইতে উক্ত প্রত্যাহার কার্যকর হইবে এবং ইনষ্টিটিউট অতঃপর প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বলিয়া গণ্য হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ নোটিশ জারির পূর্বে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের ম্যানেজারকে প্রত্যায়ন পত্র কেন প্রত্যাহার করা হইবে না, তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করা হইবে ।

২৬। ব্যবস্থাপকগণ কর্তৃক প্রত্যায়ন পত্র সমপর্ণ।-

কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের ব্যবস্থাপকগণ, প্রধান পরিদর্শকের মাধ্যমে তাহাদের অভিপ্রায় উল্লেখ করিয়া সরকারকে ছয় মাসের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া ইনষ্টিটিউটের প্রত্যায়ন পত্র সমর্পণ করিতে পারিবেন এবং তদনুসারে নোটিশ প্রদানের তারিখ হইতে ছয় মাস অতিবাহিত হইলে এবং উক্ত সময়ের পূর্বে নোটিশটি প্রত্যাহার না করা হইলে, প্রত্যায়ন পত্রের সমর্পণ কার্যকর হইবে এবং ইনষ্টিটিউটের প্রত্যায়িত মর্যাদা লোপ পাইবে ।

২৭। প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার অথবা সমর্পণের ফলাফল। –

কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের ব্যবস্থাপকগণ উহার প্রত্যায়নপত্র প্রত্যাহার বা সমপর্ণ সংক্রান্ত নোটিশ ক্ষেত্রমত প্রাপ্তি বা প্রদানের তারিখের পর এই আইনের অধীনে কোন শিশু কিংবা বাল-অপরাধীকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে গ্রহণ করিবেন না ঃ

তবে শর্ত থাকে যে উপরি উক্ত তারিখে প্রত্যায়ন পত্রের প্রত্যাহার বা সমপর্ণ কার্যকর না হওয়া অবধি ইনষ্টিটিউটে আটক কোন শিশু অথবা বাল- অপরাধীকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, বস্ত্র ও খাদ্য প্রদানের ব্যাপারে ব্যবস্থাপকগণের দায় দায়িত্ব যতক্ষণ সরকার অন্য প্রকার নির্দেশ প্রদান না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকিবে।

২৮। প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার বা সমর্পণের পর নিবাসীগণ সম্পর্কে ব্যবস্থা।-

কোন ইনষ্টিটিউটের প্রত্যায়িত মর্যাদা লোপ পাইলে সেখানে আটক শিশু অথবা বাল অপরাধীকে সম্পূর্ণরূপে অথবা সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্তে খালাস দিতে হইবে অথবা এই আইনের খালাস ও বদলি সংক্রান্ত বিধানাবলী মোতাবেক প্রধান পরিদর্শকের আদেশক্রমে অন্য কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে বদলি করা যাইতে পারে। 

২৯। প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট এবং অনুমোদিত আবাস পরিদর্শন।-

প্রত্যেকটি প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট এবং অনুমোদিত আবাস ও উহার সকল বিভাগ সকল সময়ে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটের প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক অথবা সহকারী পরিদর্শক কর্তৃক পরিদর্শনের জন্য উম্মুক্ত থাকিবে এবং প্রতি ছয় মাসে অন্ততঃ একবার পরিদর্শন করা হইবে ।

 

প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ

 

তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বালিকাদের অভ্যর্থনার জন্য এইরূপ কোন ইনষ্টিটিউট থাকে এবং প্রধান পরিদর্শক এইরূপে পরিদর্শন না করেন, সে ক্ষেত্রে, সম্ভব হইলে, প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে অনুমোদিত কোন মহিলা এইরূপ পরিদর্শন করিবেন

এই আইনের অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহের ক্ষমতা ও দায়িত্ব | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় এই আইনের অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

এই আইনের অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

 

এই আইনের অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

 

৩। কিশোর আদালতসমূহ।

কার্যবিধিতে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা কোন স্থানীয় এলাকার জন্য এক বা একাধিক কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবেন।

৪। কিশোর আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহ।-

এই আইন দ্বারা, কোন কিশোর আদালতের উপর অর্পিত ক্ষমতা সমূহ প্রয়োগ করিতে পারিবেন –

              (ক) হাই কোর্ট বিভাগ

              (খ) দায়রা আদালত

              (গ) অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং সহকারী দায়রা জজের আদালত

              (ঘ) মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট, এবং

              (ঙ) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট,

তাহা, মূল মামলার বিচারিক আদালত বা আপীল আদালত অথবা পুনর্বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত যাহাই হউক না কেন। 

৫। কিশোর আদালতের ক্ষমতাসমূহ, প্রভৃতি।-

(১) কোন স্থানীয় এলাকার জন্য কিশোর আদালত গঠন করা হইলে এইরূপ আদালত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কোন শিশুর সকল মামলার বিচার করিবেন এবং এই আইনের অধীনে অন্যান্য সকল কার্যধারার কাজ-কর্মও নিষ্পত্তি করিবেন, কিন্তু এই আইনের ৬ষ্ঠ ভাগে উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত কোন প্রাপ্ত বয়স্কের মামলার বিচার করিবার ক্ষমতা এইরূপ আদালতের থাকিবে না ।

(২) কোন স্থানীয় এলাকার জন্য কিশোর আদালত গঠন করা না হইলে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শিশুর বিরুদ্ধে আনীত কোন মামলার বিচার করা অথবা এই আইনের অধীন অন্য কোন কার্যধারার কাজকর্ম অথবা নিষ্পত্তি কারার ক্ষমতা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালত ব্যতীত অন্য কোন আদালতের থাকিবে না ।

(৩) কোন কিশোর আদালত অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দায়রা আদালতের অধস্তন কোন আদালতের নিকট যখন প্রতীয়মান হয় যে, কোন শিশু যে অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে তাহা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য, তখন উহা মামলাটি অবিলম্বে দায়রা আদালতে, এই আইনে বিধৃত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বদলি করিবেন ।

৬। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কের একত্রে বিচার অনুষ্ঠিত হইবে না।-

( ১ ) কার্যবিধির ২৩৯ ধারা বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও কোন শিশুকে কোন প্রাপ্ত বয়স্কের সঙ্গে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বা বিচার করা চলিবে না ।

(২) যদি কার্যবিধির ২৩৯ ধারা অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনের অধীনে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কোন শিশুকে কোন প্রাপ্ত বয়স্কের সঙ্গে একত্রে বিচার করা যাইত কিন্তু (১) উপ-ধারার বিধানাবলীর কারণে তা করা যায় না, তাহা হইলে আদালত উক্ত অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিয়া উক্ত শিশুর এবং উক্ত প্রাপ্ত বয়স্কের বিচার পৃথকভাবে করিবার নির্দেশ দিবেন ।

৭। কিশোর আদালতের অধিবেশন, প্রভৃতি।-

(১) কিশোর আদালত নির্ধারিত স্থানে, দিনে এবং পদ্ধতিতে উহার অধিবেশনে বসিবে।

(২) কোন শিশু অভিযুক্ত রহিয়াছে এমন কোন মামলার বিচারের ক্ষেত্রে, আদালত যে ভবনে বা কামরায়, যে দিবসে বা যে সময়ে সাধারণত অধিবেশন বসে, তৎভিন্ন অন্য কোন ভবন বা কামরায় অথবা অন্য দিবস বা সময়ে অধিবেশন বসিবে।

৮। দায়রায় বিচার্য মামলায় প্রাপ্ত বয়স্ককে দায়রায় সোপর্দ করিতে হইবে।-

(১) কোন শিশু কোন অপরাধ সংঘটনের দায়ে কোন প্রাপ্ত বয়স্কের সহিত একত্রে অভিযুক্ত হইলে এবং উক্ত অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণকারী আদালতের মতে মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণের উপযুক্ত বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, আদালত মামলাটির শিশু সম্পর্কিত অংশ উহার প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কিত অংশ হইতে পৃথক করিয়া ফেলিবার পর নির্দেশ দিবেন যে, শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্ককে দায়রা আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করিতে হইবে।

(২) অতঃপর শিশু সম্পর্কিত মামলাটি উক্ত স্থানীয় এলাকার জন্য কোন কিশোর আদালত থাকিলে, উক্ত আদালতে অথবা না থাকিলে এবং উক্ত অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণকারী আদালত ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রাপ্ত না হইয়া থাকিলে ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন আদালতে বদলি করিতে হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, শিশু সম্পর্কিত মামলাটি যদি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসীল অনুসারে শুধুমাত্র দায়রা আদালতে বিচার্য হয় তাহা হইলে ৫(৩) ধারা অধীনে দায়রা আদালতে বদলি করিতে হইবে ।

৯। কিশোর আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিগণ।

এই আইনের বিধান ব্যতীত, নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি কিশোর আদালতের এজলাসে উপস্থিত থাকিবেন না :

              (ক) আদালতের সদস্যগণ ও অফিসারগণ;

              (খ) আদালতের উত্থাপিত মামলা অথবা কার্যধারার পক্ষগণ এবং পুলিশ অফিসারগণসহ মামলা অথবা কার্যধারার সহিত সরাসরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিগণ;

              (গ) শিশুর পিতা-মাতা অথবা অভিভাবক ; এবং

              (ঘ) উপস্থিত হইবার জন্য আদালত কর্তৃক বিশেষ ভাবে অনুমোদিত অন্যান্য ব্যক্তিগণ

১০। আদালত হইতে যে সেকল ব্যক্তি প্রত্যাহারিত হইবে।-

কোন মামলা বা কার্যধারার শুনানির কোন পর্যায়ে আদালত যদি শিশুটির স্বার্থে তাহার পিতা-মাতা, অভিভাবক অথবা দম্পত্তি অথবা শিশু নিজে সমেত কোন ব্যক্তিকে আদালত হইতে প্রত্যাহার করা সমীচীন মনে করেন তাহা হইলে আদালত এইরূপ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিবেন এবং অনুরূপ ব্যক্তিগণ আদালত ত্যাগ করিবেন।

১১। হাজিরা হইতে শিশুর অব্যাহতি।

কোন মামলা বা কার্যধারার শুনানির কোন পর্যায়ে আদালত যদি উক্ত শুনানির উদ্দেশ্যে শিশুটির হাজির থাকা অনাবশ্যক বলিয়া মনে করেন, তবে আদালত তাহাকে হাজিরা হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে এবং তাহার অনুপস্থিতিতেই উক্ত মামলা বা কার্যধারার শুনানি চালাইয়া যাইতে পারিবেন।

১২। শিশুর সাক্ষ্য প্রদানকালে কতিপয় ব্যক্তির আদালত হইতে প্রত্যাহার।-

শালীনতা অথবা নৈতিকতা বিরোধী কোন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা বা কার্যধারার শুনানির কোন পর্যায়ে যদি কোন শিশুকে সাক্ষী হিসাবে তলব করা হয়, তবে উক্ত মামলা বা কার্যধারার শুনানিকারী আদালত উহার মতে উপযুক্ত ব্যক্তিগণকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিবেন এবং তদনুসারে তাহারা প্রত্যাহার হইবেন। তবে উক্ত মামলা বা কার্যধারার পক্ষগণ, তাহাদের আইন-উপদেষ্টাগণ এবং মামলা বা কার্যধারা সংশ্লিষ্ট অফিসারগণকে এই ধারার অধীনে প্রত্যাহার করিতে হইবে না ।

 

১৩। অভিযুক্ত শিশুর পিতা-মাতার আদালতে হাজিরা, প্রভৃতি।-

(১) এই আইনের অধীনে আদালতে নীত শিশুর পিতা-মাতা অথবা অভিভাবক বর্তমান থাকিলে, এবং তাহার সন্ধান পাওয়া গেলে অথবা তিনি যুক্তিসংগত দূরত্বে বসবাস করিলে, এই আইনের অধীনে যে আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা হয় সেই আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ দেওয়া যাইতে পারে, যদি না আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে তাহাকে হাজির হইতে নির্দেশ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হইবে না ।

(২) শিশুটিকে গ্রেফতার করা হইলে যে থানায় তাহাকে আনা হয় সেই থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার অবিলম্বে শিশুর পিতা-মাতা অথবা অভিভাবককে, যদি তাহাকে খুঁজিয়া পাওয় যায়, এইরূপ গ্রেফতার সম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং যে আদালতে শিশুটিকে হাজির করা হইবে সেই আদালতে হাজির হইবার জন্য তারিখ নির্দিষ্ট করিয়া তাহার প্রতি নির্দেশদানের ব্যবস্থা করাইবেন

(৩) যে পিতা-মাতা বা অভিভাবককে এই ধারার অধীনে হাজির হইবার নির্দেশ দেওয়া হইবে তাহাকে শিশুটির যথার্থ দায়িত্বশীল বা নিয়ন্ত্রণকারী পিতা-মাতা বা অভিভাবক হইতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ পিতা-মাতা বা অভিভাবক যদি পিতা না হইয়া থাকেন তবে পিতাকেও হাজির হইতে নির্দেশ দেওয়া যাইতে পারে। 

(৪) যে ক্ষেত্রে এই কার্যধারা রুজু হওয়ার পূর্বে শিশুটিকে আদালতের আদেশ দ্বারা তাহার পিতা-মাতার হেফাজত বা দায়িত্ব হইতে অপসারণ করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে কোন প্রকারেই এই ধারার অধীনে শিশুটির পিতা-মাতাকে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ দেওয়া যাইবে না ।

(৫) এই ধারার কোন কিছু শিশুর মাতা বা মহিলা অভিভাবককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দান করে বলিয়া গণ্য হইবে না, তবে এইরূপ কোন মাতা বা মহিলা অভিভাবক কোন উকিল বা এজেন্টের মাধ্যমে আদালতে হাজির হইতে পারেন ।

১৪ । মারাত্মক রোগাক্রান্ত শিশুকে অনুমোদিত স্থানে প্রেরণ।-

(১) এই আইনের কোন বিধান অনুযায়ী আদালতে নীত কোন শিশু যদি এইরূপ রোগাক্রান্ত থাকে যে তাহাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করা প্রয়োজন, অথবা এইরূপ শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত হয় যে তাহার চিকিৎসা প্রয়োজন, তাহা হইলে আদালত শিশুটিকে কোন হাসপাতাল অথবা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি অনুযায়ী স্বীকৃত কোন স্থানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য যতদিন আবশ্যক মনে করেন ততদিনের জন্য প্রেরণ করিবেন ।

(২) যে ক্ষেত্রে আদালত (১) উপ-ধারা অধীনে কোন সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত শিশুর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সেই ক্ষেত্রে আদালত শিশুটির বৈবাহিক সূত্রে কোন অংশীদার বা তাহার অভিভাবকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যাহা হয়,তাহাকে ফেরত দেওয়ার পূর্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শিশুটির স্বার্থের অনুকূল হইবে বলিয়া সন্তুষ্ট হইলে, শিশুটির অনুরূপ বৈবাহিক সূত্রে অংশীদার অথবা অভিভাবককে এই মর্মে নির্দেশ দিবেন যে, তাহাদের দ্বারা শিশুটি পুনঃ সংক্রামিত হইবে না এই মর্মে ডাক্তারী পরীক্ষা দাখিল পূর্বক আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করিতে হইবে।

১৫। আদেশ প্রদান কালে আদালত যে সকল বিষয় বিবেচনা করিবেন।-

এই আইনের অধীনে কোন আদেশ প্রদানের উদ্দেশ্যে আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি লক্ষ্য রাখিবেন-

                (ক) শিশুর চরিত্র ও বয়স ;

                (খ) শিশুর জীবন যাপনের পরিবেশ ; 

                (গ) প্রবেশন অফিসার কর্তৃক প্রণীত রিপোর্ট ; এবং

                (ঘ) শিশুটির স্বার্থে যে সকল বিষয় বিবেচনায় গ্রহণ করিতে হইবে বলিয়া আদালত মনে করেন সে সকল বিষয় : 

তবে শর্ত থাকে যে, যখন কোন শিশু কোন অপরাধ করিয়াছে মর্মে পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করিবার পর উপরি উক্ত বিষয়াদি বিবেচনার্থ গ্রহণ করিবেন।

১৬। প্রবেশন অফিসারের রিপোর্ট এবং অন্যান্য রিপোর্ট গোপনীয় গণ্য করিতে হইবে।-

১৫ ধারায় আদালত কর্তৃক বিবেচিত প্রবেশন অফিসারের রিপোর্ট অথবা অন্য কোন রিপোর্ট গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ রিপোর্ট যদি শিশুটি বা তাহার পিতা-মাতা কিংবা অভিভাবকের চরিত্র, স্বাস্থ্য অথবা আচরণ অথবা জীবন যাপনের পরিবেশ সংক্রান্ত হয় তবে আদালত সমীচীন মনে করিলে উক্ত রিপোর্টের সারমর্ম, উক্ত শিশু কিংবা সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতা অথবা অভিভাবককে জানাইতে পারিবেন এবং তাহাদিগকে রিপোর্টে বর্ণিত বিষয়াদির সহিত প্রাসঙ্গিক হয়, এইরূপ সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ দিতে পারিবেন।

১৭। মামলায় জড়িত শিশুর পরিচয়, ইত্যাদি প্রকাশ নিষিদ্ধ।-

কোন সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন বা সংবাদ ফলক প্রভৃতি অথবা কোন সংবাদ এজেন্সী এই আইনের অধীনে কোন আদালতে উত্থাপিত কোন মামলা বা কার্যধারায় কোন শিশু জড়িত থাকিলে উহার বিস্তারিত বর্ণনা এবং এইরূপ শিশুকে সনাক্তকরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে এইরূপ কিছু বা শিশুর ছবি প্রকাশ করিবে না;

তবে শর্ত থাকে যে, মামলার বিচারকারী অথবা কার্যধারা গ্রহণকারী আদালত,যদি উহার মতে এইরূপ রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশু কল্যাণের স্বার্থে অনুকূল হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শিশুর স্বার্থের কোন ক্ষতি হইবে না বলিয়া মনে করেন, তবে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত আদালত এইরূপ কোন রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি দিতে পারিবেন ।

 

এই আইনের অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

 

১৮। আওতা বহির্ভূত না হইলে ১৮৯৮ সনের ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।-

এই আইন অথবা ইহার অধীনে প্রণীত বিধির সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, এই আইনের অধীনে মামলার বিচার এবং কার্যধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যবিধিতে বর্ণিত বিধানাবলী অনুসরণ করিতে হইবে।