আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র
বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র
সমস্যা : আয়তকার একখন্ড জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক, প্রস্থ ২২০ লিংক, জমির পরিমাণ বের করুন ।
সমাধান :
ক্ষেত্রফল = ২৫০ x ২২০ = ৫৫,০০০ বর্গলিংক
এবার, একর শতকে জমির পরিমাণ = ১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
= (৫৫০০০/১০০০)
= ৫৫ শতক।
[ বিঃদ্রঃ লিংক এর বেলায় ১০০,০০০ = ১০০ শতক, ১.০০০০০ = ১ একর ডানদিক থেকে তঘর পরে দশমিক দিলে শতক নির্ণীত হয় এবং ৫ ঘর পর দশমিক দিলে একর নির্ণীত হয় ।]
কানি গণ্ডায় জমির পরিমাণ :
১ কানি = ৪০,০০০ বর্গলিংক
১ কানি = ৪০,০০০) ৫৫,০০০ (১ কানি
৪০,০০০
১ গণ্ডা = ২০০০ ) ১৫,০০০ ( ৭ গণ্ডা
১৪,০০০
১ কড়া = ৫০০ ) ১,০০০ (২ কড়া
১,০০০
সুতরাং নির্ণেয় জমির পরিমাণ একর শতকে ৫৫ শতক, কানি গণ্ডায় ১ কানি ৭ গন্ডা ২ কড়া ।
বিভিন্ন প্রকার কানি :
কানিগন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি হলো আঞ্চলিক মাপ। সরকারী হিসাবে একর শতক ব্যবহার হয়। তাই একর শতকের হিসাব সারাদেশে একই। কিন্তু আঞ্চলিক মাপগুলো একেক অঞ্চলে একেক রকমের। কানি সাধারণত ২ প্রকার, যথা-
১। সাইকানিঃ
সাধারণত ১২০ শতক / ১৬০ শতকে হয়ে থাকে।
২। কাচ্চা কানি :
এই কানিকে কোথাও কোথাও মঘীকানি, তিপরা কানি, ছোট কানি কিংবা ৪০ শতকের কানি বলা হয়ে থাকে।
বর্গহাত হিসাবে ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানির সূত্র :
সমস্যা : আয়তকার কোন জমির দৈর্ঘ্য ৩২০ হাত, প্রস্থ ১৪০ হাত, জমির পরিমাণ ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানিতে বের করুন।
সমাধানঃ
ক্ষেত্রফল = ৩২০ x ১৪০ = ৪৪৮০০ বর্গহাত।
১ কানি = ৭৬৮০ হাত) ৪৪,৮০০ ( ৫ কানি
৩৮,৪০০
১ গণ্ডা = ৩৮৪ হাত ) ৬,৪০০ (১৬ গন্ডা
৩৮৪
১ কড়া = ৯৬) ২৫৬ (২ কড়া
১ ক্রান্তি = ৩২ ) ৬৪ (২ ক্রান্তি
৬৪
০
:. নির্ণেয় ৫ কানি ১৬ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ।
বর্গফুট হিসাবে ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানির সূত্র :
সমস্যা : আয়তাকার একটি জমির দৈর্ঘ্য ২৬০ ফুট, প্রস্থ ১৮০ ফুট, জমির পরিমাণ ৮ হাতি নলের রেণু ধুলের সূত্রে বের করুন।
সমাধান : জমিটির ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ২৬০ x ১৮০ = ৪৬৮০০ বর্গফুট ।
১ কানি = ১৭২৮০ )৪৬৮০০ ( ২ কানি
৩৪৫৬০
১ গন্ডা = ৮৬৪) ১২২৪০ ( ১৪ গণ্ডা
১২০৯৬
১ কণ্ঠ = ৭২ ) ১৪৪ (২ কণ্ঠ
১৪৪
০
নির্ণেয় জমির পরিমাণ ২ কানি ১৪ গণ্ডা ২ কণ্ঠ ।
বর্গগজ হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র :
সমস্যা : আয়তকার একখন্ড জমির দৈর্ঘ্য ১২০ গজ, প্রস্থ ৮০ গজ জমির পরিমাণ একর শতক ও কানি গণ্ডায় প্রকাশ করুন।
সমাধান
ক্ষেত্রফল ১২০ × ৮০ গজ = ৯৬০০ বর্গগজ।
একর শতকে জমিটির পরিমাণ
১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ ) ৯৬০০ বর্গগজ ( ১ একর
৪৮৪০ বর্গগজ
১ শতক = ৪৮.৪০, ) ৪৭৬০ বর্গগজ ( ৯৮.৩৪৭
৪৭৬০ বর্গগজ
০
১ একর ৯৮.৩৫ শতক ।
কানি গণ্ডা হিসাবে জমিটির পরিমাণ
১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ ) ৯৬০০ বর্গগজ ( ৪ কানি
৭৭৪৪ বর্গগজ
১ গন্ডা = ৯৬.৮ বর্গগজ ) ১৮৫৬.০০ বর্গগজ ( ১৯ গন্ডা
১৮৩৯.২০ বর্গগজ
১ ক্রান্তি = ৮.০৬ ) ১৬.৮০ ( ২ ক্রান্তি
১৬.১২
১ তিল = .৪০ বর্গগজ ) .৬৮ (১ তিল প্রায়
.২৮
:. নির্ণের জমির পরিমাণ ৪ কানি ১৯ গল্প ২ ক্রান্তি ১ ভিল।
বর্গমিটার হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র (দেশীয় মাপ) :
(80.87 মি. x ৩৯.৬৭ = ১৬০৫ বর্গমিটার)
বর্গমিটার হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র :
১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার
১ কানি বা ৪০ শতক = 80.89 x 80 = ১৬১৮.৮ বা ১৬১৯ বর্গমিটার।
সমস্যা : আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার, প্রস্থ ৬০ মিটার। জমির পরিমাণ কানি গণ্ডায় নির্ণয় করুন।
আজকের আলোচনার বিষয়ঃ বর্গফুট হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র (দেশীয় হিসাব)
বর্গফুট হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র (দেশীয় হিসাব)
১০ চেইন = ১০০০ লিংক
১ চেইন = ১০০ লিংক
১ লক্ষ বর্গলিংক = ১ একর
১০০০ বর্গলিংক = ১ শতক
ধরা যাক, ত্রিকোণ আকৃতির কোন জমির ভূমি ও উচ্চতা যথাক্রমে ৩২০ ও ২৮০ লিংক। জমির পরিমাণ একর শতকে কত হবে?
ক্ষেত্রফল হবে = (৩২০*২৮০)/২
= ৪৪৮০০ বর্গলিংক।
এবার ৪৪৮০০ বর্গলিংককে সংক্ষেপে শতকে পরিণত করার উপায় হলো, ডান দিক থেকে তিন ঘর পরে দশমিক দেয়া ।
যেমন, ৪৪.৮ শতক
[ ৫ ঘর ডানে দশমিক সরালে একর হবে। যেমন, ৪৪৮০০ একর।]
৮০০ বর্গলিংক = ৮ শতক = ০০৮০০ একর ।
ভূমি পরিমাপের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে বর্তমানে একাধারে চেইন ও ফিতা উভয়ই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারী পরিমাপে সাধারণত চেইন ব্যবহার করতে দেখা যায়। আমিন-সার্ভেয়ার ও জরিপকারীরা ফিতা ব্যবহার করেন।
কানি গন্ডার সূত্রাবলী
৮ হাতি নলের মাপে কানি গন্ডার সূত্র :
দৈর্ঘ্য ১২ নল
প্রস্থ ১০ নল
১২ নল x ১০ নল = ১২০ বর্গনল।
দৈর্ঘ্য ১২ নল × প্রস্থ ১০ নল
দৈর্ঘ্য ৮ হাত × প্রস্থ ৮ হাত
মোট = ৯৬ হাত × প্রস্থ ৮০ হাত
১ ।। ফুট X ১ ।। ফুট
১৪৪ ফুট X ১২০ ফুট
= ১৭২৮০ বর্গফুট ।
বর্গফুট হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র (দেশীয় হিসাব)
সমস্যাঃ আয়তকার একখন্ড জমির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১২০ ফুট, জমির পরিমাণ কানি গণ্ডায় প্রকাশ করুন।
সমাধান:
দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ক্ষেত্রফল ।
= ১৮০ × ১২০ = ২১৬০০ বর্গফুট ।
১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট ) ২১৬০০ বর্গফুট (১ কানি
১৭২৮০ বর্গফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বর্গফুট ) ৪৩২০ ( ৫ গণ্ডা
৪৩২০
০
নির্ণেয় জমির পরিমাণ = ১ কানি ৫ গন্ডা।
সমস্যাঃ কোন জমির উত্তর আইল ৮০ ফুট, মধ্য মাপ ৮৫ ফুট এবং দক্ষিণ আইল ৮০ ফুট, আবার পূর্বের আইল ৬০ ফুট, মধ্যমাপ ৬৫ ফুট, পশ্চিম আইল ৬০ ফুট। জমির পরিমাণ কানি গণ্ডায় নির্ণয় করুন।
নির্ণেয় জমির পরিমাণ ৫ গণ্ডা ৩ কড়া ১৯ তিল (প্রায়)।
সমস্যা : কোন জমির উত্তর আইল ১৪০ লিংক, দক্ষিণ আইল ১৪৫ লিংক এবং পূর্ব আইল ১২০ লিংক, পশ্চিম আইল ১১৫ লিংক, জমির পরিমাণ একর শতক ও কানি গণ্ডায় নির্ণয় করুন ।
আর.এস, পি.এস ও বি. এস খতিয়ানের ১ম পৃষ্টার হিস্যাংশ থেকে জমির পরিমাণ বের করার নিমিত্তে নিম্নের হিসাব জানা অত্যন্ত জরুরী। এটি জানা থাকলে খতিয়ান থেকে খুব সহজেই হিস্যাংশ বের করা যায় ।
(ক) গন্ডা’র হিসাব
১৬ আনা = ৩২০ গন্ডা
১ আনা = ২০ গন্ডা
(খ) কড়া’র হিসাব
১৬ আনা = ১২৮০ কড়া
১ আনা = ৮০ কড়া
১ গন্ডা = ৪ কড়া
(গ) ক্রান্তি/কণ্ঠ’র হিসাব
১৬ আনা = ৩৮৪০ ক্রান্তি
১ আনা = ২৪০ ক্রান্তি
১ গন্ডা = ১২ ক্রান্তি
১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
(ঘ) দত্ত’র হিসাব
১৬ আনা = ২৩০৪০ দন্ত
১ আনা বা ২০ গন্ডা = ১৪৪০ দন্ত
১ গন্ডা = ৭২ দন্ত
১ কড়া = ১৮ দন্ত
১ ক্রান্তি = ৬ দন্ত
(১২ বর্গফুট = ১ দন্ত)
(ঙ) তিলের হিসাব
১৬ আনা = ৭৬৮০০ তিল
১ আনা = ৪৮০০ তিল
১ গন্ডা = ২৪০ তিল
১ কড়া = ৬০ তিল
১ ক্রান্তি = ২০ তিল
*ক্যালকুলেটার মেশিনে ফুট/ইঞ্চিকে ফুট ইঞ্চি দ্বারা গুণ করার সূত্র
১২” = ১’
৬” = .৫০ ফুট
৩” = .২৫ফুট
১” = ০৮ ফুট
বিস্তারিত :
.০৮ = ১”
.১৬ = ২”
.২৫ = ৩”
.৩৩ = ৪”
.৪১ = ৫”
.৫০ = ৬”
.৫৮ = ৭”
.৬৬ = ৮”
.৭৫ = ৯”
.৮৩ = ১০”
.৯১ = ১১”
১.০০ = ১২”
খতিয়ানের হিস্যাভাগ
পুরো সম্পত্তিকে ১৬ আনা বা ১ টাকা ধরে হিস্যা বন্টন করা হয়। নিজে এক থেকে ষোল আনা পর্যন্ত হিসাবের প্রতিটিকে ১০ ভাগে ভাগ করে দেখানো হলো :
আজকে আমরা খতিয়ানের অংশ অনুযায়ী প্রকৃত জমির পরিমাণ বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো।
খতিয়ানের অংশ অনুযায়ী প্রকৃত জমির পরিমাণ বের করার পদ্ধতি
খতিয়ানের হিস্যা অংশে সর্বশেষ ইউনিট যেটি থাকবে পুরো ষোল আনাকে সে ইউনিটে পরিণত করে তা দিয়ে জমির মোট পরিমাণকে ভাগ করে নিয়ে তারপর প্রত্যেকের অংশ বের করতে হবে। নিচের খতিয়ানে লক্ষ্য করুন। এর সর্বশেষ ইউনিট হচ্ছে “তিল” । অতএব প্রত্যেকের অংশকে তিলে পরিণত করে নেয়া হয়েছে ।
একটি খতিয়ানে জমির হিস্যা বলতে বুঝায় ঐ খতিয়ানে যে কয়জন মালিক আছেন তাদের প্রত্যেকে ঐ খতিয়ানে মোট যে পরিমাণ জমি আছে তার কতটুকু জমির মালিক। ধরি একটি খতিয়ানে ১ জন মালিক- রহিম মিয়া। তাহলে রহিম মিয়া একা ঐ খতিয়ানের সকল জমির মালিক। কিন্তু যদি কোন খতিয়ানে ৪ জন মালিক থাকেন তাহলে প্রত্যেকের নামের পাশে তিনি কত ভাগ জমির মালিক তা লেখা থাকবে। একে জমির হিস্যা বলে।
কোন খতিয়ানের মালিকগণ কে কতটুকু জমির মালিক তা যা দিয়ে বুঝানো হয় তাকে জমির হিস্যা বা অংশ বলে এবং জমির মোট পরিমাণ কে হিস্যা দিয়ে গুণ করে কোন মালিকের জমির পরিমাণ জানা যায়।
খতিয়ান
মোট ১১ জন
হিস্যা মোট ১৩১২ শতাংশ
ব্যাখ্যা :
১৬ আনা = ৭৬৮০০ তিল।
এবার জমির মোট পরিমাণকে ৭৬৮০০ দ্বারা ভাগ করা হয়েছে।
(১৩১২ / ৭৬৮০০) = .০১৭০৮৩৩
এবার প্রত্যেকের অংশানুযায়ী যত তিল হয়েছে তা দিয়ে গুণ করলেই প্রকৃত পরিমাণ বের করা যাবে।
√৫।।//১২ = দুই আনা ৫গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ১২ তিল ।
খতিয়ানে ভগ্নাংশ প্রযোজ্য নয় বিধায় কাউকে ১ তিল করে বাড়িয়ে দিয়ে খতিয়ান তৈরী করা হয় (উপরোক্ত নিয়মে)। তবে এর অর্থ কাউকে জমি কম বা বেশী দেয়া নয়।
ইলেক এর ব্যবহার :
।/৫ ।।//১৩ তিল= ৫ আনা ৫ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ১৩ তিল ।
।/৬।। = ৫ আনা ৬ গণ্ডা ২ কড়া
।/১ = ৫ আনা ১ গণ্ডা
(১ = ১ গণ্ডা
।।= ২ কড়া
।।// = ২ কড়া ২ ক্রান্তি
১৩ = ১৩ গণ্ডা
উপরে একটি ব্যাপার লক্ষ করুন। প্রথমে আনা তারপর ক্রমান্বয়ে গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এভাবে সাজানো হয়েছে। কিন্তু এ ক্রমের ব্যত্যয় ঘটলেই (ইলেক চিহ্ন) ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ সিরিয়াল ঠিক থাকলে ইলেক চিহ্ন ব্যবহার করার দরকার নেই। কিন্তু প্রথম দিক থেকে সিরিয়াল ঠিক না থাকলে ইলেক চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় ।
উদাহরণ :
ক্রমিক
মালিক
অংশ
দাম
দাগের মধ্যে খতিয়ানের অংশ
শতাংশ
১
কালাম
.৫০
২৩০
১.০০
২০
২
সালাম
.১৮৭
২৩১
১.০০
২৫
৩
জামাল
.৩১
২৩২
১.০০
১৮
৪২০
.৫০
১৬
৪৩০
.৭৫
৭
৩ জন ১.০০ ৫ দাগ ৮৬ শতক
এখানে কালামের হিস্যা ৮ আনা, অর্থাৎ সমস্ত সম্পত্তিকে ১ ধরলে ৫০ অংশ হয়। সালামের হিস্যা ৩ আনা মানে এক টাকার ১৮৭ অংশ, জামালের হিস্যা ৫ আনা যা এক টাকার হিসাবে ৩১ পয়সা হয়।
এবার মোট জমির পরিমাণ হলো ৮৬ শতক। এই ৮৬ শতককে ২ দিয়ে অংশ দ্বারা গুণ ভাগ করে {(৮৬ + ১) = ৮৬} তাকে তাদের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
কালাম পাবে = ৮৬ x .৫০ = ৪৩ শতক
সালাম পাবে = ৮৬X.১৮৭ = ১৬ শতক
জামাল পাবে = ৮৬ × .৩১ = ২৭ শতক
মোট = ৮৬ শতক
ভিন্ন নিয়মে :
(৮৬ / ১৬ আনা) = ৫.৩৭৫
কালাম = ৫.৩৭৫ × ৮ = ৪৩ শতক
সালাম = ৫.৩৭৫ x ৩ = ১৬.১২৫ শতক
জামাল = ৫.৩৭৫ × ৫ = ২৬.৮৭৫ শতক
মোট = ৮৬ শতক
বিঃ দ্রঃ এখানে একক / শতকের ঘরটি লক্ষ্যণীয় ২০, ২৫, ১৮ এগুলো ১৬ আনা বলে সরাসরি ১৬ আনা বা সম্পূর্ণ বসে গেছে। কিন্তু ৪২০ নং দাগে ৮ আনা বিধায় ৩২ এর স্থলে তার অর্ধেক অর্থাৎ ১০ শতক বসেছে এবং ৪৩০ নং দাগের ৯ শতকের ১২ আনা হয় ৭ শতক ।
আজকে আমরা আলোচনা করবো বিভিন্ন খতিয়ান দেখে এর হিস্যা বা অংশ বন্টন পদ্ধতি সম্পর্কে
বিভিন্ন খতিয়ান দেখে এর হিস্যা বা অংশ বন্টন পদ্ধতি
খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের পাকা বইতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় লেনদেনগুলোর বিভন্ন প্রকার পক্ষসমূহকে পৃথক পৃথক শিরোনামের আওতায় শ্রেনীবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্তকারে লিপিবদ্ধ করা। এক কথায় খতিয়ান হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাবের সমষ্টিগত রুপ।
খতিয়ানের অর্থ হইল “হিসাব”।সাধারণভাবে স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, ঠিকানা, হিস্যা(অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগসমূহের নম্বরসহ বূমির পরিমাণ, ম্রেণী, এদের জন্য দেয় খাজনা ইত্যাদি বিবরণ সহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাদের প্রত্যেকটিকে খতিয়ান বলা হয় এবং উক্ত রেকর্ডকে স্বত্ত্বের রেকর্ড বা রেকর্ড অব রাইটস(ROR)বলা হয়।
এব বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিমাণ ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে স্মরনীয় বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।
খতিয়ানগুলো ১,২,৩,৪,৫ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক খতিয়ানে একটি সংখ্যা রয়েছে। ইহাদেরকে খতিয়ান নম্বর বলা হয়। প্রত্যেক মৌজার খতিয়ান ১(এক) হতে শুরু হয়। কোন কোন মৌজার কয়েক হাজারের বেশি থাকতে পারে। কোন মৌজার কতটি খতিয়ান রয়েছে তা উক্ত স্বত্বের রেকর্ড (ROR) পাওয়া যায়।
বিভিন্ন খতিয়ান দেখে অংশ বন্টন পদ্ধতি
বিভিন্ন খতিয়ানের মালিক বা রায়তের নামের পাশে তার হিস্যাংশ দেয়া থাকে। এখানে মোট জমির মধ্যে তার হিস্যা কতটুকু তা বুঝায়। নিচে হিস্যাংশের হিসাব বের করার পদ্ধতি দেয়া হলো :
ক্রমিক
মালিকের নাম
সাবেক হিস্যা
বর্তমান হিস্যা
১
রহিম মিয়া
।/৬।।//
.৩৩৩
২
ধলা মিয়া
।/৬।।//
.৩৩৩
৩
করিম মিয়া
।/৬।।//
.৩৩৩
1/৬।///; = ৫ আনা ৬ গন্ডা ২ কড়া ২ক্রান্তি
১ = ১ (সম্পূর্ণ) বা ১৬ আনা ৷
তৎকালে ৬৪ পয়সায় ১ টাকা ধরা হতো। বর্তমানে ১০০ পয়সায় ১ টাকা ধরা হয় ।
আজকের আলোচনার বিষয় বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন। আদালতের অধিক্ষেত্র ও কোর্ট ফি নির্ণয়ের জন্য মামলার মূল্যায়ন নির্ধারণ করতে হয়। কোর্ট ফি আইনের ৭ এর ৫ ও ৬ উপ-ধারা এবং ১০ উপ-ধারার (খ) দফায় বর্ণিত মোকদ্দমাসমূহের এখতিয়ার নিরূপণকল্পে ভূমির মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারে। এই বিধি বলে কোর্ট এলাকার ভূমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন স্থানের ভূমির মূল্য বিভিন্নরূপ হতে পারে। ভূমির গুণাগুণের উপর জমির মূল্য কম বা বেশি হতে পারে। যে সম্পত্তির বাটোয়ারা চাওয়া হয় তার সমস্ত অংশের মূল্যের উপর কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
বিবাদী পক্ষও বাটোয়ারা চাইতে পারেঃ
বিবাদীর আলাদা পার্টিশন মামলা রুজু করার প্রয়োজন নাই। বিবাদী তার দাবী মোতাবেক দখলে থাকলে নির্ধারিত কোর্ট ফি দিয়ে বাটোয়ারা চাইতে পারে। বিবাদীর জবাবকেই প্রিডিং ধরা হয়ে থাকে। উভয়ের দাবী আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। দাবী মোতাবেক বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রী হয়। বাদী ও বিবাদী একই ফুটিং ধরা হয়।
বাদীর দাবী অগ্রগণ্য বিবাদীর দাবী নয়ঃ
মামলার বিষয়বস্তু বা মামলার কারণ বাদীরটা ধরা হয়। বিবাদীর দাবী বা বিষয়বস্তু নয়। ঘটনাক্রমে বিবাদীর দাবী মামলায় আনয়ন করা হয়ে থাকে। বাদীর দাবীই মামলার কারণ হিসাবে বিচার হবে। মোকদ্দমার মূল্যায়ন আদালত যেটা করবেন সেটাই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হবে ( 13 DLR (SC) 1911.
যৌথ সম্পত্তিতে বাদীর ছাহামের জন্য আনীত মামলায় নির্ধারিত কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়। মামলা ও আপিল উভয় ক্ষেত্রের কোর্ট ফির ব্যাপারে মামলার আকার- আকৃতির উপর নির্ভরশীল হবে।
বাদীর দাবীকৃত ভূমির মূল্য আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে থাকলে বিবাদীপক্ষের দাবী আর্থিক অধিক্ষেত্র অতিক্রম করলেও মামলা অচল হবে না। বিবাদীর দাবী আপীলে কার্যকর হবে এবং আর্থিক এখতিয়ার মোতাবেক চলবে। বাদীর দখলে জমি না থাকলে কেসের ধরনের উপর কোর্ট ফি দিতে হবে এবং সেভাবে আর্থিক এখতিয়ার নির্ণয় করা হবে। বাদীর দাবী যদি অর্ধেক সম্পত্তি বাবদ হয় তবে আর্থিক দাবীও অর্ধেক সম্পত্তির উপর বর্তাবে।
বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
যৌথ সম্পত্তিতে বাদীর বাটোয়ারাঃ
নালিশী ভূমি বাদীর যদি দখলে থাকে তবে বাদীর দাবী অনুসারে সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত হবে ( 13 DLR (SC) 191 12 DLR- 329. PLD 1961 (SC)-349]
বাটোয়ারা মামলায় প্রাথমিক ডিক্রীতে বাণীর দানী আপীলেও একইরূপ নির্ণিত হবে JAIR 1947 (SAD) 407 |
বিবাদীর দাবী অনুসারে আপীলে মূল্যায়ন স্থির করতে হবে।
বেদখলী ভূমির বাবদ বাদীর পার্টিশন মামলাঃ
নালিশী সম্পত্তি হতে বাদী বেদখল হলে সম্পত্তির মূল্যের উপর কোর্ট ফি দিয়ে বাটোয়ারা মামলা রুজু করতে হবে। কোর্ট ফি নির্ধারণের পরে আর্থিক ক্ষেত্র নির্ণয় করা হবে 19 DLR 190, 1956 PLR 628].
পুনরায় পার্টিশন মামলাঃ
পূর্বের মামলায় দেখানো মূল্য বাদ দিয়ে। মূল্য নির্ধারিত হবে। কারণ ইতিমধ্যে পূর্বের একটি বাটোয়ারা মামলায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ভোগাধিকারের বিষয় নিয়ে পুনরায় মামলা হতে পারে।
বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
স্ট্যাম্প আইন এবং বাটোয়ারা দলিল:
এই আইনটি ১৮৯৯ সালের ২নং আইন দ্বারা প্রণীত ও প্রবর্তিত হয়েছে। স্ট্যাম্প আইনটি বাটোয়ারা দলিলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেখানে ৭৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল আছে।
বাটোয়ারা দলিলঃ
স্ট্যাম্প আইনের ২(১৫) ধারায় স্ট্যাম্প দলিলের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে৷ বাটোয়ারা দলিল বলতে যেখানে শরীকগণ কোন সম্পত্তি বণ্টন করে নিতে স্বীকৃত হয় যা কোন রেভেনিউ কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে আদেশপ্রাপ্ত হয় এবং শরিকদারের নির্দেশে রোয়েদাদ সম্পর্কিতভাবেও বাটোয়ারা দলিল হতে পারে।
আইনের মাধ্যম ব্যতিরেকে কোন শরীকগণ সুসম্পর্কের মাধ্যমে সম্পত্তি বাটোয়ারা করে নিলেও বাটোয়ারা দলিল হবে। এ সমস্ত দলিল অত্র আইনের ৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি চার্জযোগ্য। স্ট্যাম্প চার্জ না নিলে অত্র আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে দলিল সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করবে না।
একশত টাকার নিম্নের সম্পত্তির কোন রেজিট্রেশন না লাগলেও অত্র আইনের বিধান মতে প্রয়োজনীয় মূল্যমানের স্ট্যাম্প অবশ্যই লাগাতে হবে। বণ্টন দলিলের মাধ্যমে সহ-মালিকগণ তাহাদের অংশ ভাগ করে নিয়ে ভোগদখল করার অধিকার পেয়ে থাকে।
কোর্টের মাধ্যমে বাটোয়ারাঃ
কোর্টের মাধ্যমে বাটোয়ারার দু’টি ধরন লক্ষ করা যায় যা উক্ত আইনের ২(১৫) ধারায় প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্পের বিষয় উল্লেখ থাকে। দুটি ধরন হচ্ছে- (১) সম্পত্তি বণ্টনের নিমিত্ত চূড়ান্ত ডিক্রী, (২) চূড়ান্ত আদেশ দ্বারা সম্পত্তির পার্টিশন।
(১) চূড়ান্ত ডিক্রী দ্বারা সম্পত্তি বণ্টনঃ
প্রাথমিক ডিক্রীর চূড়ান্ত রূপ ফাইনাল ডিক্রী । দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২০ আদেশের ১৯(২) রুলের বিধানমতে যেখানে অধিকতর তদন্ত ব্যতিরেকে সুবিধাজনক ছাহাম বণ্টন সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণের অধিকার ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে আদেশ দিয়ে থাকেন।
দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৩ ও ১৪ রুলের বিধানমতে একজন কমিশনার নিযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কমিশনার বাস্তবভিত্তিক ছাহাম চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফয়সালার সুপারিশ করতে পারেন। শুনানী অন্তে আদালত চূড়ান্তভাবে আদেশ দিয়ে থাকেন।
অধিক তদন্ত ছাড়াও প্রাথমিক ডিক্রীর দ্বারা কার্যকর ছাহাম চিহ্নিত করা যায়। বাটোয়ারা মামলা রুজুর পর পক্ষগণের মধ্যে মামলা সোলে বা মীমাংসা হইলে সোলের শর্ত মোতাবেক পক্ষগণ ছাহাম চিহ্নিত করে নিলে আদালত বৈধ শর্ত মোতাবেক চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ দিতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে অধিক তদন্তের প্রয়োজন নেই।
তবে পক্ষগণের মধ্যে কিভাবে ছাহাম বণ্টন হয়েছে তার বাবদ দখলনামা নেয়া হয়। দখলনামা সোলের মর্মানুযায়ী হয়। পার্টিশনকে কার্যকর করার জন্য দখলনামা অনুসারে আদালত চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করে থাকেন।
(২) চূড়ান্ত আদেশ দ্বারা সম্পত্তির পার্টিশনঃ
চূড়ান্ত ডিক্রী বা চূড়ান্ত আদেশ পার্টিশনকে কার্যকর করার নির্মিত হয়ে থাকে। দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৪(৩) রুলের বিধান সম্পন্ন অন্তে ডিক্রী চূড়ান্ত হয়। পাস এ ডিক্রী এর অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৮ (৩) রুলের বিধান সম্পন্ন হওয়া। আদালত যখন দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৮ (১) রুলের বিধান মতে কমিশনারের রিপোর্ট গ্রহণ করে চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ প্রদান করেন। যার দরুন প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে বণ্টনকৃত ছাহাম বাবদ দখলনামা প্রদান করা হয়ে থাকে ।
কিন্তু যখন কমিশনার রিপোর্ট এর বিরুদ্ধে কোন পক্ষ আপত্তি দেয় তখন বৈধ কারণ সাপেক্ষে আদালত কমিশনার রিপোর্ট গ্রহণ নাও করতে পারেন। কোর্টের বিবেচনায় যা সঠিকরূপে সাব্যস্ত হবে সেই মোতাবেক চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ হবে।
অন্যান্য আইনের মত ভাগ-বাটোয়ারার মামলার ক্ষেত্রেও তামাদি আইন প্রযোজ্য। সর্বাধিক প্রযোজ্য অনুচ্ছেদসমূহ
আর্টিকেল ১১(ক), ৯১, ১১৩, ১২০, ১২৭, ১৪৪, ১৮২
(১) আর্টিকেল ১১ (ক)ঃ
এতে বলা হয়েছে যে, কোন স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য ডিক্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা ডিক্রীজারীতে অনুরূপ সম্পত্তির ক্রেতা যদি উক্ত সম্পত্তির দখল অর্পণে বাধাদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ করে দরখাস্ত করে কিংবা ডিক্রীদার বা ক্রেতাকে সম্পত্তির দখল অর্পণের দরুন যে ব্যক্তি সম্পত্তি হতে বেদখল হয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে যদি কোন দরখাস্ত করে এবং অনুরূপ দরখাস্তের ফলে ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে সেই ব্যক্তির উপর কোন আদেশজারী হয়, সেই ব্যক্তি কর্তৃক আনীত মামলা আদেশদানের এক বছরের মধ্যে করতে হবে।দেওয়ানী কার্যবিধি ২১ আদেশের বিধি ১০৩ প্রযোজ্য। মোকদ্দমা কেবল স্বত্ত্বের, দখলেরই মামলা হবে না।
(২) আর্টিকেল ৯১ঃ
১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের বিধান বর্ণিত হয়েছে কেবল সেক্ষেত্রে এ আর্টিকেলটি প্রযোজ্য। নাবালকের কোন বাটোয়ারা দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে আর্টিকেল ৯১ বা ৯৫ টি প্রযোজ্য ।
(৩) আর্টিকেল ১১৩ঃ
চুক্তি প্রবলের জন্য নির্ধারিত তারিখ অথবা অনুরূপ কোন তারিখ নির্দিষ্ট না থাকে, তখন চুক্তি পালনে অস্বীকৃতির বিষয় বাদী যখন অবগত হয়, তা থেকে তিন বৎসরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়। সরল বিশ্বাসে বাটোয়ারা দলিলে যদি কোন বৈষম্য পরিলক্ষিত হয় তবে তা দলিল হিসাবে নয়, চুক্তি হিসাবে গণ্য হবে বিধায় অনুচ্ছেদ ১২০ বা ১৪৪ নয়, অনুচ্ছেদ ১১৩ প্রযোজ্য হবে (১৫৬ আই. সি. ৮৭৯ মাদ্রাজ)। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দখলের ক্ষেত্রে তিন বৎসরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে ।
(৪) অনুচ্ছেদ ১২০ঃ
এ অনুচ্ছেদ অনুসারে তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে অব তফসিলের অন্য কোথাও কোন বিধান নেই, সেই মামলার মেয়াদ গণনা করা যাবে। মামলা করার অধিকার যখন সৃষ্টি হয় তখন থেকে ছয় বৎসরের মধ্যে তামাদি গণনা করা হয়।
তামাদি আইন
(৫) অনুচ্ছেদ ১২৭ঃ
যৌথ পরিবারের সম্পত্তির অংশ হতে বহির্ভূত ব্যক্তি কর্তৃক তার অধিকার বলবৎ করার জন্য বাদী যখন বহির্ভূত হয় তখন হতে বার বৎসরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে। এ অনুচ্ছেদ কোন বহিরাগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যৌথ সম্পত্তির সহ-মালিককে বুঝানো হয়েছে। যৌথ সম্পত্তির কোন সহ-মালিক দখলচ্যুত হলে সেক্ষেত্রে অত্র অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়। আংশিক বাটোয়ারার ক্ষেত্রেও এ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। দীর্ঘকাল যাবৎ কোন যৌথ সম্পত্তির সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তার স্বত্ব নষ্ট হবে না। যখন বহির্ভূত জানা যাবে তখন থেকে অত্র অনুচ্ছেদের তামাদি গণনা হবে।
(৬) তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৪ঃ
তামাদি আইনের ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেলে বলা হয়েছে যে, স্থাবর সম্পত্তি বা তৎসংশ্লিষ্ট কোন স্বত্ত্বের দখল লাভের জন্য অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক বার বছরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে।
অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক বিবাদী যখন একটি সম্পত্তি নিরবচ্ছিন্নভাবে দখলে থাকে, বিবাদীর দখল বাদীর প্রতিকূলে হতে হবে, বাদী ১২ বৎসরের মধ্যে মামলা করবে, মামলা না করলে বিবাদী ঐ সম্পত্তিতে স্বত্বলাভ করবে, বাদী তার স্বত্ব হারাবে, বিবাদীর দখল প্রকাশ্যভাবে হতে হবে ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা করা হবে।
বেদখলকার অনুমান লাভ বা কোন সুবিধা হতে বঞ্চিত এটি বর্তমানে স্বীকৃত নীতি যে খাজনা দিলে বা কোনরূপ উপস্বত্ব ভোগ না করলে যৌথ সম্পত্তির একজন সহ- শরিক দীর্ঘকাল বিচ্যুত থাকলে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হলে বেদখলকার হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। বৈরী দখল (Adverse possession) প্রকৃত প্রকাশ্য এবং জবর দখল হলেও চলবে। বৈরী দখল সৃষ্টি করতে হলে অন্যের দখল অস্বীকার করে প্রকাশ্য এবং প্রকৃতভাবে জবরদখলে থাকতে হবে। এরূপ জবরদখল অন্যের বিরুদ্ধে ১২ বছরের ঊর্ধ্বকাল কার্যকর করতে হবে [26 CWN 65].
তামাদি আইন
বৈরী দখল দৃশ্যতঃ
বিরূপভাবে জবরদখল, যা অন্যকে বেদখল করে, প্রমাণ করতে হবে- একজন সহ-শরীক যাতে বুঝতে পারে বা জ্ঞাতসারে বেদখল আছে মর্মে বুঝতে পারে, এরূপভাবে হতে হবে [PLD 1962 Kar 209].
একজন শরীকের দখল সকল শরীকের দখল বুঝাবে। এটি বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি। বিশেষ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম প্রমাণিত হলে বৈরী দখলের সুবিধা আসবে। প্রতিটি কেসই নিজস্ব পারিপার্শ্বিক অবস্থার ও ঘটনার উপর নির্ভর করবে একটি কেসের সঙ্গে অন্যটির তুলনা হবে না।
নিম্নে বৈরী দখল (Adverse possession) এর কিছু উল্লেখযোগ্য নজির প্রদত্তঃ
(১) স্বত্ববিহীন ব্যক্তির দখল অবশ্যই সুনির্দিষ্ট একক এবং প্রকৃত দখল হতে হবে 12 BLD (HC)-43)
(২) বায়নাপত্র মূলে বার বৎসরের ঊর্ধ্বকাল দখল হবে। বাদীর বায়নাপত্র সঠিকভাবে প্রমাণিত না হলেও প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে দখল প্রমাণিত হলে দখলী স্বত্ত্বের ডিক্রী হওয়ায় কোন বাধা নেই। [ 3 BLD (AD) 315)
(৩) প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে বৈরী দখল হয় না, এককভাবে দখল করলেই বৈরী দখল হবে না । সনসন খাজনা দেওয়া প্রমাণিত না হলেও মালিক প্রজা সম্পর্ক ক্ষুন্ন হবে 14 BLD (AD). 15).
(৪) তামাদি আইনের ১৪৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক একজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে একক দখল করতে হবে (6 BLD (HC)-63)
(৫) ভাড়াটিয়া বৈরী দখল দাবী করতে পারে না [ 6 BLD (AD) 297 38 DLR (AD)-22; 39 CWN-552].
(৬) এমনকি একজন অনুপ্রবেশকারীর দখলও প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধ ছাড়া অন্যের বিরুদ্ধে বৈরী দখল হবে। আইনের মাধ্যম ব্যতিরেকে তাকে উচ্ছেদ করা যায় না। [11 BLD (AD) 144].
(৭) শরীকের নিকট হতে খরিদ করে ১২ বৎসরের ঊর্ধ্বকাল অন্যান্য শরীকগণের জ্ঞাতসারে ভোগদখল করলে বৈরী দখল হবে | 45 DLR (HC)-5411.
(৮) সরকারের বিরুদ্ধে ৬০ বৎসরের ঊর্ধ্বকালের বৈরী দখল প্রমাণ করতে হবে [20 CWN-311].
(৯) প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে দখল বৈধ ও আইনানুগ | 3 BLD (AD) 315].
(১০) বৈরী দখলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিরূপ দখল, জবরদখল, বিরতিহীন চলমান দখল এবং প্রকৃত দখল (6 BLT (HC)-311.
(১১) অনুমতি সূত্রে দখল বৈরী দখল হবে না [5 MLR (AD) 72 79].
(১২) প্রকৃত মালিকের দখল যদি আইনানুগ হয় তবে তার বিরুদ্ধে বৈরী দখল হয়
(১৩) মৌখিকভাবে দখল থাকলেও তামাদি আইনের ২৮ ধারা মতে হবে। ঢোল-[20 BLD (HC)-407]. সহরতের প্রয়োজন নেই | 10 BLT (HC)-235 54 DLR (HC) -523].
(১৪) শরীকের নিকট হতে খরিদ করে নাম পত্তনে আলাদাভাবে দখল করলে বৈরী দখল হবে | 10 BLT (HC)-339).
(১৫) পণের টাকার রশিদ যদিও স্বত্বাগম ঘটায় না তবুও ১২ বৎসরের ঊর্ধ্বকালের দখল প্রমাণিত হলে বৈরী দখল হবে | 12 BLT (AD)-27).
তামাদি আইন
(৭) অনুচ্ছেদ ১৮২ঃ
দেওয়ানী মামলার ডিক্রীর পর ডিক্রী বা আদেশের তারিখ হতে তিন বৎসরের মধ্যে অথবা যেকোন ক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটির সহিমোহরকৃত নকল রেজিস্টারী করা হয়েছে, সেই তারিখ হতে তিন বৎসরের মধ্যে ডিক্রীজারী দিতে হবে।
এ অনুচ্ছেদ বিবেচনায় নিম্নের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য
(ক) ডিগ্রী বা আদেশের তারিখ:
(খ) যেখানে আপীল হয়েছে, আপীল আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রী বা আদেশের তারিখ বা আপীল খারিজের তারিখ অথবা
(গ) যেখানে রায় পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের তারিখ, অথবা
(ঘ) যেক্ষেত্রে ডিক্রী সংশোধন করা হয়েছে সেই সংশোধনের তারিখ হতে,
(ঙ) যে দরখাস্ত করা হয়েছে, আইন অনুসারে উপযুক্ত আদালত ডিক্রীজারীর সুবিধার্থে যে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দরখাস্ত করা হয় সেই সম্পর্কে চূড়ান্ত আদেশের তারিখ, অথবা
(চ) টাকার ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল হইয়া থাকলে ডিক্রীতে টাকা ফেরৎদানের নির্দেশ দেওয়া হলে আপীল আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রীর তারিখ বা আপীল প্রত্যাহারের তারিখ, অথবা
(ছ) যেখানে ডিক্রী বা আদেশবলে কোন নির্দিষ্ট তারিখে কোন অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই নির্দেশ কার্যকরী করবার জন্য দরখাস্তের ব্যাপারে উক্ত নির্দিষ্ট তারিখ ।
ব্যাখ্যা (১)।
যেক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির অনুকূলে পৃথক পৃথকভাবে ডিক্রী বা আদেশ প্রদত্ত হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের ডিক্রীর বিষয়বস্তুর যে অংশ প্রদান বা অর্পণ করতে হবে তা পৃথক করে দেখানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে অত্র অনুচ্ছেদের ৫ দফায় যে যে দরখাস্তের বিষয় উল্লেখ আছে তা কেবল অনুরূপ দরখাস্তকারীদের বা তাদের প্রতিনিধিদের অনুকূলে কার্যকরী হবে।
কিন্তু যেক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটি একাধিক ব্যক্তির অনুকূলে যৌথভাবে প্রদত্ত হয়েছে সেক্ষেত্রে অনুরূপ দরখাস্ত তাদের একজন বা একাধিক জন অথবা তার বা তাদের প্রতিনিধি কর্তৃক দেওয়া হয়ে থাকলে তাদের সকলের অনুকূলে কার্যকরী হবে।
যেক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটি একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেক ডিক্রী বা আদেশের বিষয়বস্তুর যে অংশ প্রদান বা আপীল করবে তা স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে। ডিক্রী সকলের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে।
ব্যাখ্যা (২)।
উপযুক্ত আদালত বলতে সে আদালতকে বুঝাবে যার কর্তব্য হচ্ছে ডিক্রীজারী করা বা আদেশ কার্যকরী করা।
বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রীর কোন তামাদি শত নেই। তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ কার্যকরী হবে।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class