Tag Archives: জমির হিসাব

জমির হিসাব

এক নজরে বিঘা, কাঠা, একর, শতক ও মেট্রিক একক রূপান্তর সূত্র

ভূমি বা জমাজমির পরিমাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমি কেনা-বেচা, নামজারি, দলিল, খতিয়ান, কিংবা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যেকোনো কাজে জমির পরিমাপের সঠিক হিসাব জানা না থাকলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আপনি পেশাদার সার্ভেয়ার না হলেও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, বর্গফুট ও বর্গমিটার—এই এককগুলোর মৌলিক সূত্র জানা অত্যন্ত জরুরি।

নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত ভূমি পরিমাপের প্রয়োজনীয় সূত্রগুলো এক নজরে দেওয়া হলো।

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

একর ও শতক (Square Meter ভিত্তিক)

  • ১ চেইন = ২০.১২ মিটার
  • ১০ বর্গচেইন = ১ একর
  • ১ একর = ৪০৪৭ বর্গমিটার
  • ১ একর = ১০০ শতক
  • ১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার

বিঘা ও কাঠার মৌলিক সূত্র

  • ১ বিঘা = ২০ কাঠা
  • ১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ বিঘা = ৩৩ শতক (প্রায়)
  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিংক

বর্গহাত হিসাবে

  • ১ বিঘা (২০ কাঠা) = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ কাঠা = ৩২০ বর্গহাত
  • ১ ছটাক = ২০ বর্গহাত

প্রচলিত ভাঙন একক

  • ৪ কাক = ১ কড়া
  • ৪ কড়া = ১ গণ্ডা
  • ২০ গণ্ডা = ১ ছটাক
  • ১৬ ছটাক = ১ কাঠা
  • ২০ কাঠা = ১ বিঘা
  • ১ বিঘা = ১০২,৪০০ কাক

রৈখিক পরিমাপ (হাত ভিত্তিক)

  • ১ কাঠা = ৪ হাত
  • ১ ছটাক = ০.২৫ হাত
  • ১ গণ্ডা = ০.০১২৫ হাত
  • ১ কড়া = ০.০০৩১ হাত
  • ১ কাক = ০.০০০৭ হাত

বর্গফুট হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
  • ১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

বর্গগজ হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ
  • ১ ছটাক = ৫ বর্গগজ

বর্গমিটার হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ কাঠা = ৬৬.৯ বর্গমিটার
  • ১ ছটাক = ৪.১৮ বর্গমিটার

হেক্টর ও এয়ার রূপান্তর

  • ১ হেক্টর = ১০,০০০ বর্গমিটার
  • ১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
  • ১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
  • ১ হেক্টর = ১০০ এয়ার
  • ১ এয়ার ≈ ২৪.৯ বিঘা

দৈর্ঘ্য রূপান্তর

  • ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
  • ১ মিটার = ৩.২৮ ফুট
  • ১ মিটার = ১.০৯ গজ

 

এক নজরে বিঘা কাঠার সূত্র

 

এই রূপান্তর সূত্রগুলো জানা থাকলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময়, দলিল লেখার সময় কিংবা নামজারি ও জরিপ সংক্রান্ত কাজে আপনি সহজেই সঠিক হিসাব করতে পারবেন এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। ভূমি বিষয়ে সচেতন থাকাই আপনার সম্পদের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ।

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি নিয়ে আজকের আলোচনা। ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:
(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান”( Standerd Measurement) বলে পরিচিত।

উক্ত পরিমাপের কতিপয় নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
ইঞ্চি, ফুট ও গজঃ
১২” ইঞ্চি = ১ ফুট
৩ ফুট= ১ গজ
(৩) ভূমি যে কোন সাইজের কেন ভূমির দের্ঘ্য ও প্রস্থে যদি ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে এটা ১.০০ একর (এক একর) হবে।
যেমনঃ ভূমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০ গজ×২২ গজ= ৪৮৪০ বর্গগজ।

 

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

 

গান্টার শিকল জরীপঃ

ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্যে ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই শিকলের নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা জমি জরিপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একর, শতক এবং মাইলষ্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট।

গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে একে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় থাকে। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

প্রতি এক লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি
দৈর্ঘ্য ১০ চেইন ×প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর
গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয় (নস ফুলি)
২০ লিঙ্ক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৩০ লিঙ্ক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-

আমাদের দেশে জমি-জমা মাপ ঝোকের সময় চেইনের সাথে ফিতাও ব্যবহার করা হয় সরকারি ভাবে ভূমি মাপার সময় চেইন ব্যবহার করা হয় এবং আমিন সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ ভূমি মাপার সময় ফিতা ব্যবহার করেন ভূমির পরিমান বেশি হলে চেইন এবং কম হলে ফিতা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনকবিভিন্ন প্রকারের আঞ্চলিক পরিমাপ।

 

কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে পরিমাপ:

আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয় সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান

কানিঃ

কানি দুই প্রকার যথা-

(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি

 

মৌজা:

ভূমি জরিপের ভৌগলিক ইউনিটকে মৌজা রাজস্ব নির্ধারণ এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য এক ইউনিট জমির ভৌগোলিক আভিব্যক্তি হলো মৌজা একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট-বড় হয় ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের(CS) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিতি নম্বর নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০ টিদাগ নম্বর।

একটি মৌজার বিভিন্ন মালিকের বা একই মালিকের বিভিন্ন শ্রেণিভূক্ত জমিকে নকশায় যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকে দাগ বলে মৌজা মাপের উত্তর-পশ্চিম কোন থেকে দাগ নম্বর প্রদান শুরু হয় এব দক্ষিন-পূর্ব কোনে এসে শেষ হয়।

 

দাখিলা:

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের পর তহসিল অফিস হতে ভূমি মালিককে যে রশিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

 

পর্চা:

জরিপের খানাপুরি স্তর পযন্ত কাজ শেষ করে খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করে এর অনুলিপি মালিকের নিকট বিলি করা হয় খতিয়ানের এই অনুরিপি ‘পর্চা’ নামে পরিচিত।

 

খতিয়ান:

একটি মৌজায় এক বা একাধিক ভূমি মালিকানার বিবরণ তথা ভূমির পরিমান, শ্রেণি,হিস্যা ইত্যাদি যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

হাল খতিয়ান:

কোন এলাকার সর্বশেষ জরিপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার দ্বারা বিঙ্গপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে এমন খতিয়ানকে হাল খতিয়ান বলে

সাবেক খতিয়ান:

হাল খতিয়ানের পূর্ব পযন্ত চালু খতিয়ানকে সাবেক খতিয়ান বলে,যা বর্তমানে চালু নেই তবে এর গুরুত্ব অনেক বিধায় এর সংরক্ষন দরকার
সিএস খতিয়ান: সিএস খতিয়ানের পূর্ণরুপ Cadastral Survey (দেশব্যাপি জরিপ) খতিয়ান ১৯১০-১৯২০ সালে জরিপ করে এই খতিয়ান তৈরী করা হয়েছিল।

এস এ খতিয়ান:

এসএ খতিয়ান এর পূর্নরুপ State Acquisition (রাষ্ট্রকতৃক অর্জন) খতিয়ান টেস্ট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি আইন প্রণয়ন করে ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয় জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর যে খতিয়ান তৈরী করা হয় তাকে বলে এসএ খতিয়ান ১৯৫৬ সালের জরিপে এ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

আরএস খতিয়ান:

আরএস-এর অর্থ হলো Revisional Settlement বা সংশোধণী জরিপ এসএ খতিয়ানের পর ঐ আইনের ১৪৪ ধারা অনুসারে যে খতিয়ান প্রকাশিত হয় (বা হবে) তাকে আর এস খাতয়য়ান বলে।

হোল্ডিং নম্বার:

খতিয়ান শব্দের অর্থ যা হোল্ডিং শব্দের অর্থ তাই ১৯৫০ সালে State Acquisition(SA) আইন অনুসারে ‘হোল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহন:

কোন স্থবর সম্পত্তি সরকারী প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে আবশ্যক হলে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রসাসক কতৃক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহনের বিধান ভূমি অধিগ্রহন নামে পরিচিত।

 

অর্পিত সম্পত্তি:

১৯৫৬ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্থনি নাগরিক দেশ ছেড়ে ভারকে গমন করে পাকিস্থান প্রতিরক্ষা সার্ভিস কতৃক বিধি মোতাবেক তাদের শত্রু বলে ঘোসণা করা হয় এবং তাদের এদেশে রেখে যাওযা সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলে ১৯৭৪ সালে উক্ত সম্পুত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি নামকরণ করা হয়
জমির পরিমাপ:-কোন অজানা কারনে বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন কাজই কঠিন ও পেঁচানো এক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হল দেশের একেক জাইগায় একেক পরিমানগত ভিত্তির উপর নির্ভর করে ভূমি পরিমাপ করা হয় তবে সর্বজজৱনগ্রাহ এ সরকার ঘোষিত পরিমান পদ্ধাতি নিচে উটস্থাপন করা হয়।

 

ভূমি পরিমপ করা হয়:

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ক. ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক,
খ. কাঠা,
গ. বিঘা ও
ঘ. এককের ভিত্তিতেভূমি যদি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয়, তাহলে ১ একর হবে যেমন: দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০*২২ গজ=৪৮৪০ বর্গগজ বা এক একর। একরএই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান” ( Standard Measurement) বলে পরিচিত।

 

একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক

(২) কাঠা,

(৩) বিঘা এবং

(৪)  ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক।

 

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক:

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট
১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট
১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০ বর্গফুট

 

কাঠা পরিমাপঃ

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট
১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ
১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
২০ কাঠা = ১ বিঘা
৬০.৫ কাঠা =১ একর।

 

একরের পরিমাপঃ

১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

 

বিঘা পরিমাপঃ

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ
১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ
১ বিঘা = ২০ কাঠা
৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর।

 

লিঙ্ক পরিমাপঃ

১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি
১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর

 

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

১ কানি = ২০ গন্ডা
১ গন্ডা = ২ শতক
১ শতক =২ কড়া
১ কড়া = ৩ কন্ট
১ কন্ট = ২০ তিল

 

ফুট এর হিসাব:

১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু
১ শতক= ৪৩২ বফু
১ কড়া = ২১৬ বফু
১ কন্ট = ৭২ বফু
১ তিল= ৩.৬ বফুবর্গগজ

 

বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
৪৫.০৯ বর্গফুট= ১ কাঠা
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

এবার আপনি নিজেই হিসাব করে দেখুন আপনার ক্রয়কৃত বা পৈত্রিক জায়গা-জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন কত?

নিন্মে কিছু সব সময় আলোচনা হয় এমন জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন বা পরিমাপ সর্ম্পকে ধারনা দেওয়া হলোঃ-

১. একটি ৩ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ২১৬০ স্কয়ার বর্গফুট
২. একটি ৫ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৩৬০০ স্কয়ার বর্গফুট
৩. একটি ১০ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৭২০০ স্কয়ার বর্গফুটএখন আপনি ভেবে দেখুন আপনি কত স্কয়ার বর্গফুটের বাসা তৈরী করবেন বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ইমারত নিমার্ণ আইনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হয় তাহলে এই এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রেখে আপনি যে প্লট কিনেছেন তাতে কত স্কয়ার বর্গফুটের একটি বাড়ী তৈরী করা যাবে তা ভেবে দেখুন অর্থাৎ আপনি ৩ কাঠার প্লটে ১৪৪০ স্কয়ার বর্গফুটের বাড়ী করে বাকী ৭২০ স্কয়ার বর্গফুট জায়গা খালি রাখতে হবে বাড়ীর চারপাশে ড্রেন ও আলো বাতাসের জন্যধরুন বর্তমানে যারা ফ্ল্যাট কেনেন তাদের ক্ষেত্রে-

যেমন:-
১. ৯০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৬০০ থেকে ৬৫০ স্কয়ার বর্গফুট
২. ১২০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৭৮০ থেকে ৮৫০ স্কয়ার বর্গফুট৩. ১৬০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ১২০০ থেকে ১২৫০ স্কয়ার বর্গফুট।

 

সরকারি ভূমি সেবা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান:

– রেকর্ডরুম হতে কি কি সেবা প্রদান করা হয় ?

উত্তরঃ রেকর্ডরুম হতে সি.এস, পেটি, এস.এ , আর.এস পর্চার সত্যায়িত অনুলিপি, নক্শার মুদ্রিত কপি এবং নির্বাহী কোর্টের অবিকল সত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করা হয়

– সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা কত দিনে সরবরাহ করা হয় ?

উত্তরঃ সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা ৭ কার্য দিবস এবং জরুরী নক্শা/পর্চা ৩ কার্য দিবসে সরবরাহ করা হয়।

– প্রশ্নঃ জরুরী পর্চা/নক্শা ও সাধারণ পর্চা/নক্শায় কত টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয় ?

উত্তরঃ জরুরী পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (১৬+২)= ১৮/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (৮+১)= ৯/- টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। মুদ্রিত নক্শা জরুরী ১০/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ ৫/- টাকার কোর্ট ফি আবেদনের সাথে জমাসহ চালানের মাধ্যমে নক্শা প্রতি ৩৫০/- টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়কালেক্টরেট রেকর্ডরুম থেকে পর্চার (খতিয়ান) জাবেদা নকল/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ সরবরাহের নিয়মাবলীঃ

০১. প্রতিদিন (বৃহস্পতিবার বাদে) সকাল ১১.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রেকর্ডরুম এর কক্ষের সামনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। সাথে সাথে পর্চা (খতিয়ান)/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) সরবরাহের তারিখ আবেদনকারীকে সীল মোহরকৃত রশিদে জানিয়ে দেয়া হয়।

০২. প্রস্ত্তুতকৃত পর্চা (খতিয়ান) অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত একই স্থানে আবেদনকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কোন কারণে আবেদন বাতিল হলে বা বিবেচনা করা না গেলে তা বিতরণের সময় আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়:

ক)সাধারণ সময়ে অর্থা আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ৮ (আট) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ১ (এক) টাকা

খ)জরুরী ভিত্তিতে অর্থাৎ আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ১৬ (ষোল) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ২ (দুই) টাকা

গ)হাল (মুদ্রিত) পর্চা পেতে যা লাগবে
আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে, জরুরী ১৬/- টাকার কোর্ট ফি, প্রতিটি পর্চার জন্য ৬০/- টাকার কোর্ট ফি।

০৩ মৌজা নকশার (ম্যাপ) জন্য সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ০৫(পাঁচ) টাকা, জরুরী আবেদনের ক্ষেত্রে ১০/-(দশ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন বিবেচনা করা গেলে ম্যাপের জন্য যা খরচ লাগবেঃ-

মৌজা নক্সা প্রতিটি ৩৫০/- টাকা, জেলা ম্যাপ প্রতিটি (সাদা) ৫০০-টাকা, (রঙ্গিন) ৭৫০/- টাকা, বাংলাদেশ ম্যাপ প্রতিটি ১২৫০/- টাকা চালান জমা দিতে হয়। সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখে নকশা সরবরাহ করা হয় বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

# রেকর্ড রুমে কোন নগদ টাকা পয়সার বিনিময়ে পর্চা/সার্টিফাইড কপি দেয়া হয় না। শুধু কোর্ট ফি দিয়ে নকল নিতে হয়
# কেউ টাকা পয়সা চাইলে বা দালাল চক্র উৎপাত করলে নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরাসরি অবহিত করুনস ং ক্ষি প্ত ত থ্য

খতিয়ান হলো জরিপ শেষে প্রস্তুতকৃত জমির লিখিত হিসাবের দলিল এখানে জমির পরিমাণ, মালিক ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষিত থাকে

– সিএস (CS)-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.

– CS জরিপ সম্পন্ন হয়- ১৯১০-১৯২০.

– SA খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান

– SA খতিয়ান প্রস্তুত হয় ১৯৫৬ সালে

– ২০ বছর পর পর ভূমি জরিপ (ভূমিশুমারি) করা হয়

– বাংলাদেশে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হয় ১৯৫০ সালে

– আরএস খতিয়ান মানে হলো Revisional Survey.

– RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে

– নামজারি অর্থ হলো জমির সর্বশেষ মালিকের নামে দলিলপত্র হালনাগাদ করা

– কোনো পরিবার বা সংস্থা ১০০ বিঘার বেশি জমি দখলে রাখতে পারবে না

– ১০০ বিঘা সমান ৩৩.৩৩ একর

– ভূমির পরিমাপ হলো ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক, কাঠা, বিঘা ও একর

– ভূমির যদি দৈর্ঘ্য প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে ১ একর হবে

– ৪৮৪০ বর্গগজে ১০০ শতাংশ বা ১ একর

 

সার্টিফিকেট কেস:

ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়ার দায়ে আপনার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট কেস হতে পারে। এতে আপনার বাপ দাদার ভোগ দখলকৃত জমি নিলাম হয়ে যেতে পারে। সুতরাং এ দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করুন। প্রয়োজনে সার্টিফিকেট অফিসার/সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করুন।
২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনা মওকুফ
হাল নাগাদ জমির বিবরণী দাখিল করেছেন, শুধুমাত্র কৃষিজমি যদি ২৫ বিঘা বা তার নিচে হয় তাহলে খাজনা মওকুফের সুযোগ নিন। আর এ কাজে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ৫ (পাঁচ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করুন।

খতিয়ানে (Record of Rights) খতিয়ান নম্বর, জেলা ও মৌজার নাম লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়া একাধিক কলামে জমির মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, দাগ নং (Plot Number), জমির শ্রেণী, পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। খতিয়ানে কোন এক মৌজায় কোন একজন মালিকের জমির বিবরণ থাকে। আবার একটি খতিয়ানে একাধিক মালিকের জমির বিবরণও থাকতে পারে। এ খতিয়ানগুলো সাধারণত মৌজা ওয়ারী তৈরী করা হয়। অর্থাৎ কোন একটি মৌজার সকল খতিয়ান একসাথে বাধাই করা হয়। এজন্য রেকর্ড বইকে অনেকে সাধারণ বা প্রচলিতভাবে Volume- ও বলে থাকেন।

পরচাযখন পৃথক একটি কাগজে খতিয়ানের অনুলিপি তৈরী করা হয় তখন তাকে পরচা বলা হয়। এই অনুলিপি সাধারণত হাতে লিখে বা কম্পোজ করে তৈরী হয়ে থাকে। অনুলিপি যখন রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয় তখন তাকে নকল বা Certified Copy বলে। সহজ কথায় পরচা হল হাতে লিখিত বা Compose কৃত খতিয়ানের কপি বা খসড়ার রূপ।আমরা সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা’র নাম শুনে থাকি। এগুলো কী?

পরচা কী, সে সম্বন্ধে আমরা একটি ধারণা ইতোমধ্যেই পেয়েছি। সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা হল আসলে বিভিন্ন রেকর্ডের খসড়া বা অনুলিপি বা কপি। কাজেই পরচা সিএস, এসএ, আরএস বা মহানগরে জরিপ এই ৪ প্রকার হতে পারে। এছাড়া জরিপ চলা কালে প্রাথমিকভাবে হাতে লেখা একটি খসড়া বিবরণ যাচাইয়ের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়। একে মাঠ পরচা বা হাত পরচা বলে।

পরচা কোথায় পাওয়া যায়?

পরচা বা রেকর্ডের সহি মুহুরী নকল (Certified Copy) পাওয়া যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (DC office)- এর রেকর্ডরুমে। নির্ধারিত ফী সহ আবেদন করলে রেকর্ড রুম থেকে পরচা সরবরাহ করা হয়। পরচা কখনো কোন দালালের কাছ থেকে নেওয়া যৌক্তিক নয়। এতে ভুল থাকতে পারে। কেবলমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ পরচা-ই আসল বা Authentic.পরচা কেন প্রয়োজন?

জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবরণ, জমির খতিয়ান-দাগ, অংশ, হিসসা, শ্রেণী ইত্যাদি জানার জন্য পরচা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার সময় পরচা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। পরচা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি (ল্যান্ড) অফিস বা রের্কডরুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়ারিশ সনদ

উত্তরাধিকার মুসলিম আইনের গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পরেই তার সম্পদের উপর উত্তরাধিকার প্রাপ্তি/ অপ্রাপ্তির প্রশ্ন আসে। তখন ওয়ারিশ সনদের গুরুত্বও মুখ্য হয়ে ওঠে।ওয়ারিশ সনদ সাধারণত দেওয়ানী আদালত প্রেরিত যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনী উত্তরাধিকারগণ পেয়ে থাকে। যদি উইল না করেই কোন ব্যক্তি মারা যান, কোর্ট ওয়ারিশ সনদ প্রদান পূর্বক মৃত ব্যক্তির ঋণ/কর্জ নির্ধারণ করতে পারে।কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পাওয়ার অব এটর্নি কী?

হাবিব সাহেব চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। কিন্তু দেশে কিছু জরুরী কাজ রয়েছে যেখানে তাকে প্রয়োজন হতে পারে। কী করবেন কী করবেন ভাবতে ভাবতে মাথায় এলো পাওয়ার অব এটর্নির চিন্তা। এর মাধ্যমে হতে পারে তার সমস্যার সমাধান। পাওয়ার অব এটর্নি এমন এক ধরণের দলিল যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে কোন কাজ করার ক্ষমতা দিতে পারে তার পক্ষ থেকে।

সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া আদায় করা, আইনগত কাজ পরিচালনা করা সহ আরো নানা ক্ষমতা এর মাধ্যমে দেয়া যায়। পাওয়ার অব এটর্নিতে মূল মালিকের মতো প্রায় একই ক্ষমতা পাওয়ার গ্রহীতার থাকতে পারে।সবাই এই ক্ষমতা নিতে পারেনা। চুক্তি করার যোগ্যতা ( নির্দিষ্ট বয়স, সুস্থতা ) থাকলেই শুধুমাত্র এই ক্ষমতা নেয়া সম্ভব।

মৃত্যু, উদ্দেশ্য সাধন, মেয়াদের অবসান প্রভৃতি কারণে পাওয়ার অব এটর্নির অবসান হতে পারে।তফসিল (Schedule)।

 

তফসিল (Schedule):

জমিজমার ক্ষেত্রে তফসিল বলতে আসলে ভূমির পরিচয়কে বুঝায়। অর্থাৎ জমিটি কোথায়, এর মালিক কে ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। তফসিলে জেলার নাম, উপজেলা বা থানার নাম, মৌজার নাম, জমির দাগ-খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করা হয়।এতে অনেক সময় জমির পরিমাণ, শ্রেণী এবং মালিকানার বর্ণনাও থাকে।

দাগনম্বর :

এটি আসলে কোন সরলরেখা বা বক্ররেখা নয়। দাগ হচ্ছে আসলে জমির Plot Number। আমরা জানি সাধারণত মাপজোকের মাধ্যমে জমিকে একাধিক অংশে বিভক্ত করা হয়। এর প্রতিটি খন্ডকে দাগ বা Plot বলে। জরিপের সময় এরকম প্রত্যেক খন্ড জমিকে একটি নম্বর দ্বারা সূচিত করা হয়। এই নম্বরকেই দাগ নম্বর বলে।

কড়া বিভাগ – জমির হিসাব (সম্পূর্ণ গাইড)

বাংলাদেশে জমির হিসাব ও পরিমাপের ইতিহাস বহু প্রাচীন। আজ আমরা একর–শতক, হেক্টর ইত্যাদি আন্তর্জাতিক এককে জমির মাপ করি। কিন্তু এই আধুনিক ব্যবস্থার আগে গ্রামবাংলা ও উপমহাদেশে ভূমির হিসাব হতো বিঘা–কাঠা, কানি–গণ্ডা, আনা–কড়া প্রভৃতি দেশীয় ও প্রথাগত পদ্ধতিতে।
এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলোর অন্যতম একটি হলো কড়া বিভাগ

আজও বহু মৌজায়, জরিপ নকশা, পুরোনো খতিয়ান ও আমিনদের মুখে আমরা এই শব্দগুলো শুনে থাকি—

“দুই কড়া”, “সাড়ে তিন গণ্ডা”, “পৌনে এক আনা” ইত্যাদি।

এই প্রাচীন হিসাব-পদ্ধতিটি বোঝা গেলে জমির হিসাব অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

কড়া বিভাগ

 

গান্টার শিকল (কড়া) এর ইতিহাস

ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী Edmund Gunter (১৫৮১–১৬২৬) ভূমি পরিমাপ সহজ করার জন্য একটি ধাতব শিকল তৈরি করেন। এটি পরিচিত হয়—

Gunter’s Chain
বাংলায়: গান্টার শিকল / কড়া / চেইন

ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জরিপ চালানোর সময় এই শিকল ব্যবহৃত হয়। সেই সময় জমিদারি প্রথা, নীলচাষ ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য জমির নির্ভুল মাপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তখন থেকেই বাংলায় এই চেইন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয় এবং গ্রামাঞ্চলে এটি “কড়া” নামে পরিচিত হয়।

গান্টার শিকলের পরিমাপ

বিষয় পরিমাণ
দৈর্ঘ্য ৬৬ ফুট
মিটার ২০.১২ মিটার (প্রায়)
ভাগ ১০০ লিংক
১০ চেইন × ১ চেইন = ১ একর

অর্থাৎ—

১০ বর্গ চেইন = ১ একর

কড়া বিভাগের মূল ধাপ

সূক্ষ্ম স্তর

ধাপ রূপান্তর
২০ বিন্দু = ১ ধূলা
৪ ধূলা = ১ রেণু
৪ রেণু = ১ তিল
২০ তিল = ১ কাগ
৪ কাগ = ১ কড়া
৪ কড়া = ১ গণ্ডা
২০ গণ্ডা = ১ আনা
১৬ আনা = ১ কাঠা
২০ কাঠা = ১ বিঘা

 

 

কড়া → গণ্ডা  গজ রূপান্তর

কড়া গণ্ডা
১ কড়া = ৫ পৌনে এক গণ্ডা
২ কড়া = ৫½ এক গণ্ডা
৩ কড়া = ৫¾ পৌনে দুই
৪ কড়া = ৬ দুই
৫ কড়া = ৬½ সোয়া দুই
৬ কড়া = ৬¾ আড়াই
৭ কড়া = ৭ সাড়ে দুই
৮ কড়া = ৭½ তিন
৯ কড়া = ৮ সোয়া তিন
১০ কড়া = ৮½ সাড়ে তিন
১১ কড়া = ৯ চার
১২ কড়া = ৯½ সোয়া চার
১৩ কড়া = ১০ সাড়ে চার
১৪ কড়া = ১০½ পাঁচ
১৫ কড়া = ১১ সোয়া পাঁচ
১৬ কড়া = ১১½ সাড়ে পাঁচ
১৭ কড়া = ১২ ছয়
১৮ কড়া = ১২½ সোয়া ছয়
১৯ কড়া = ১৩ সাড়ে ছয়
২০ কড়া = ১৩½ সাত
২১ কড়া = ১৪ সোয়া সাত
২২ কড়া = ১৪½ সাড়ে সাত
২৩ কড়া = ১৫ আট
২৪ কড়া = ১৫½ সোয়া আট
২৫ কড়া = ১৬ সাড়ে আট
২৬ কড়া = ১৬½ নয়
২৭ কড়া = ১৭ সোয়া নয়
২৮ কড়া = ১৭½ সাড়ে নয়
২৯ কড়া = ১৮ দশ
৩০ কড়া = ১৮½ সোয়া দশ
৩১ কড়া = ১৯ সাড়ে দশ
৩২ কড়া = ১৯½ এগারো
৩৩ কড়া = ২০ সোয়া এগারো
৩৪ কড়া = ২০½ সাড়ে এগারো
৩৫ কড়া = ২১ বারো
৩৬ কড়া = ২১½ সোয়া বারো
৩৭ কড়া = ২২ সাড়ে বারো
৩৮ কড়া = ২২½ তের
৩৯ কড়া = ২৩ সোয়া তের
৪০ কড়া = ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া = আনা

আনা পর্যন্ত কড়া বিভাগ

কড়া গজ প্রচলিত নাম
১ কড়া পৌনে এক গণ্ডা
৪ কড়া দুই গণ্ডা
৮ কড়া ৭½ তিন গণ্ডা
১৬ কড়া ১১½ সাড়ে পাঁচ
২০ কড়া ১৩½ সাত
৪০ কড়া ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া ১ আনা

 

কেন কড়া বিভাগ জানা জরুরি?

১. পুরোনো দলিল ও খতিয়ান বুঝতে
২. আমিন/সার্ভেয়ারদের হিসাব বুঝতে
৩. জমির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করতে
৪. প্রতারণা থেকে বাঁচতে
৫. জমি কেনাবেচায় দরদাম বুঝতে

আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক

আজ আমরা ব্যবহার করি—

  • একর
  • শতক
  • বর্গমিটার
  • হেক্টর

কিন্তু এই সবের ভিত্তিতেই রয়েছে গান্টারের কড়া পদ্ধতি।
অতএব, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থার শিকড় এই প্রাচীন কড়া বিভাগেই নিহিত।

 

 

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ কেবল একটি গণনাপদ্ধতি নয়, এটি বাংলার ভূমি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের ডিজিটাল যুগেও এই প্রাচীন সূত্র আমাদের শেখায় কীভাবে জমিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাপা যায়।

যদি আপনি জমির প্রকৃত মালিকানা বুঝতে চান, প্রতারণা থেকে বাঁচতে চান— তাহলে কড়া বিভাগ জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ভূমি জরিপ হলো জমির সীমানা নির্ধারণ, পরিমাণ নির্ণয় এবং নকশা তৈরির একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার বণ্টন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি—সবক্ষেত্রেই সঠিক জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল জরিপের কারণে জমি নিয়ে বিবাদ, মামলা ও আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই মাঠে কাজ করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কীভাবে পরিমাপ করতে হবে এবং কীভাবে নকশা তৈরি করতে হবে—তা জানা অত্যাবশ্যক।

এই লেখায় ভূমি জরিপের ধাপে ধাপে করণীয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং খতিয়ান পাঠের কৌশল সহজভাবে আলোচনা করা হলো।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ধাপ–১ : প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Reconnaissance)

জরিপ শুরুর আগে প্রথম কাজ হলো পুরো জমিটি ঘুরে দেখা। একে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলা হয়।

কেন এটি জরুরি?

কারণ মাঠে কী কী বাধা আছে, কোথা দিয়ে চেইন বা ফিতা টানা সহজ হবে, কোথায় গাছ, পুকুর, ঘর, নালা, খাল বা রাস্তা রয়েছে—এসব না জানলে পরিমাপে ভুল হবে।

কী কী দেখবেন?

  • জমির চারপাশে কোন প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বাধা আছে কি না
  • জমির আকৃতি (আয়তাকার, ত্রিভুজ, অনিয়মিত)
  • কোথায় ভাঙা বা বাঁকা সীমানা
  • কীভাবে জমিটিকে ২, ৩ বা ৪ ভাগে ভাগ করলে সহজে পরিমাপ করা যাবে

এই ধাপে আপনি ঠিক করবেন—জমিটিকে কতগুলো ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজে ভাগ করবেন।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

 

ধাপ–২ : স্টেশন ও স্টেশন লাইন নির্বাচন

জরিপে স্টেশন মানে হলো এমন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু, যেখান থেকে মাপ নেওয়া শুরু হবে।

কীভাবে করবেন?

  • সুবিধাজনক ও খোলা জায়গা নির্বাচন করুন
  • সেখানে একটি খুঁটি পুঁতে দিন
  • এটিই হবে আপনার প্রথম স্টেশন
  • এরপর অপর একটি পয়েন্ট বেছে নিয়ে তার সঙ্গে একটি স্টেশন লাইন তৈরি করুন

এইভাবে পুরো জমিটিকে কয়েকটি ছোট প্লটে ভাগ করুন, যেন প্রতিটি অংশ সহজে মাপা যায়।

ধাপ–৩ : কাগজে নকশা (Field Sketch)

মাঠে মাপ নেওয়ার আগে কাগজে একটি খসড়া নকশা আঁকুন।

কী করবেন?

  • প্রতিটি স্টেশন চিহ্নিত করুন
  • প্রতিটি অংশকে A, B, C, D নামে চিহ্ন দিন
  • ফিতা বা চেইন দিয়ে মাপ নিয়ে কাগজে লিখুন
  • সব অংশের ক্ষেত্রফল বের করে যোগ করুন
  • এভাবেই পুরো জমির মোট ক্ষেত্রফল পাবেন

 

জরিপ কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি

যন্ত্র ব্যবহার
গান্টার চেইন / ফিতা দৈর্ঘ্য মাপার জন্য
তিন পায়া টেবিল নকশা রাখার জন্য
লগি দূরত্ব মাপতে
থ্রি-থার্টি স্কেল স্কেল তৈরিতে
খুঁটি স্টেশন চিহ্নিত করতে
রুলার দাগ টানতে
চাঁদা চিহ্ন দিতে
ওলন দিক নির্ণয়ে
পেন্সিল লিখতে
আলামত তালিকা সীমানা চিহ্নের বিবরণ
শিট ও কাগজ নকশা আঁকতে

খতিয়ানে কড়া–ক্রান্তি হিসাব বোঝা

বাংলাদেশে খতিয়ান সাধারণত দুইভাবে লেখা হয়:

  • দশমিক পদ্ধতি
  • কড়া–ক্রান্তি পদ্ধতি

অনেকে দশমিক বোঝেন, কিন্তু কড়া–ক্রান্তি বুঝতে পারেন না।

কড়া–ক্রান্তির সম্পর্ক:

  • ১ কানি = ২০ গণ্ডা
  • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
  • ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি

খতিয়ানের মালিকানা যোগ করার সময় প্রথমে যোগ করে দেখবেন — বিন্দু সূত্রে মিলছে, না যব সূত্রে মিলছে। যে কোনো একটি সূত্রে মিললেই হিসাব সঠিক ধরা হবে।

ভূমি জরিপ একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ। সামান্য ভুল বড় আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা, সঠিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও হিসাব যাচাই—এই চারটি ধাপ মেনে চললেই একটি নির্ভুল জরিপ সম্ভব।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী 

জমির পরিমাপে আজ বিশ্বব্যাপী যে এককগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে হেক্টর (Hectare)এয়র (Are) অন্যতম। এই এককগুলো আন্তর্জাতিক মেট্রিক পদ্ধতির অংশ, যা মিটার ভিত্তিক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখন জমির হিসাব সরকারিভাবে একর–শতক ও হেক্টর–এয়র উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তাই জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড, ম্যাপিং ও সার্ভেতে এই এককগুলোর রূপান্তর জানা অত্যন্ত জরুরি।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী

 

এয়র ও হেক্টরের উৎপত্তি

এয়র ও হেক্টর উভয়ই মেট্রিক সিস্টেম থেকে উদ্ভূত।

  • Are (এয়র) = ১০০ বর্গমিটার
  • Hectare (হেক্টর) = ১০,০০০ বর্গমিটার
    অর্থাৎ,

১ হেক্টর = ১০০ এয়র

মৌলিক দৈর্ঘ্য রূপান্তর

একক রূপান্তর
১ মিটার ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
১ মিটার ৩.২৮ ফুট
১ মিটার ১.০৯ গজ

 

বর্গমিটার হিসাবে

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার

 

শতক হিসাবে

জানা আছে:

১ হেক্টর = ২.৪৭১০৫ একর = ২৪৭.১০৫ শতক

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ এয়র ২.৪৭১০৫ শতক

 

বর্গহাত হিসাবে

১ হেক্টর = ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত

একক মান
১ হেক্টর ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত
১ এয়র ৪৭৮.৩৯ বর্গহাত

 

বর্গফুট হিসাবে

১ হেক্টর = ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট

একক মান
১ হেক্টর ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট
১ এয়র ১,০৭৬.৩৯ বর্গফুট

 

বর্গগজ হিসাবে

১ হেক্টর = ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ

একক মান
১ হেক্টর ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ
১ এয়র ১১৯.৫১৯ বর্গগজ

 

বর্গলিংক হিসাবে

১ হেক্টর = ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক
১ এয়র ২,৪৭১.০৫ বর্গলিংক

 

বিঘা–কাঠা হিসাবে

বাংলাদেশের মান অনুযায়ী:

১ বিঘা ≈ ১৩৩৮ বর্গমিটার

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ≈ ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ≈ ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এক নজরে এয়র–হেক্টর

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ হেক্টর ১০০ এয়র
১ হেক্টর ২.৪৭ একর
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ হেক্টর ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার
১ এয়র ২.৪৭ শতক
১ এয়র ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এয়র ও হেক্টর হলো আধুনিক ভূমি পরিমাপের আন্তর্জাতিক মান। এই সূত্রগুলো জানা থাকলে—

  • জমির প্রকৃত আয়তন নির্ণয়
  • দলিল যাচাই
  • জরিপ বোঝা
  • এবং প্রতারণা থেকে বাঁচা
    অনেক সহজ হয়ে যায়।

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

বাংলাদেশে জমির পরিমাণ নির্ণয়ে আজও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, লিংক, হাত, গন্ডা ইত্যাদি প্রাচীন ও আধুনিক একক ব্যবহৃত হয়। সরকারি দলিল, রেজিস্ট্রি, খতিয়ান, নামজারি, মৌজা ম্যাপ—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান, বণ্টন কিংবা ভিটির হিসাব করতে হলে বিঘা–কাঠা রূপান্তর ও ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র জানা আবশ্যক।

এই লেখায় আমরা:

  • প্রচলিত জমির একক
  • রূপান্তর সূত্র
  • ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র ও অনিয়মিত জমির হিসাব
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

সবকিছু ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

প্রচলিত জমির একক (বাংলাদেশ)

একক মান
১ কাঠা ৭২০ বর্গফুট
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ১০০ শতক = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ বিঘা ২০ কাঠা
১ কাঠা ২০ ছটাক
১ শতক ১০০০ লিংক
১ মাইল ৫২৮০ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

 

১. ত্রিকোণাকার জমির উচ্চতা নির্ণয়

সমস্যা:
একটি ত্রিভুজাকার জমির ক্ষেত্রফল ৩০ শতক। ভূমি ২৫০ লিংক হলে উচ্চতা কত?

সমাধান:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
৩০ শতক = ৩০ × ১০০০ = ৩০,০০০ বর্গলিংক

ত্রিভুজের সূত্র:
উচ্চতা = (ক্ষেত্রফল × ২) / ভূমি

= (৩০,০০০ × ২) / ২৫০
= ২৪০ লিংক

উত্তর: ২৪০ লিংক

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

২. খাল খননের খরচ নির্ণয়

সমস্যা:
১ মাইল দীর্ঘ একটি খালের উপর বিস্তার ৩৫ ফুট, নিচে ২৫ ফুট, গভীরতা ১০ ফুট। প্রতি ১০০০ ঘনফুটে ২৫০ টাকা খরচ হলে মোট খরচ কত?

সূত্র:
মাটির আয়তন = (উপর + নিচ) × গভীরতা × দৈর্ঘ্য / ২

= (৩৫+২৫) × ১০ × ৫২৮০ / ২
= ১৫,৮৪,০০০ ঘনফুট

প্রতি ঘনফুট = ২৫০ / ১০০০ টাকা
= ০.২৫ টাকা

মোট খরচ = ১৫,৮৪,০০০ × ০.২৫
= ৩,৯৬,০০০ টাকা

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৩. পুকুরের মাটি দিয়ে ভিটির উচ্চতা

পুকুর: ৬০ × ৪০ × ১০ ফুট
মাটির আয়তন = ২৪,০০০ ঘনফুট

ভিটি: ৮০ × ৫০ ফুট

উচ্চতা = আয়তন / (দৈর্ঘ্য × প্রস্থ)
= ২৪,০০০ / (৮০ × ৫০)
= ৬ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৪. মই ও টাওয়ারের উচ্চতা

পাইথাগোরাস সূত্র:
কর্ণ² = ভূমি² + উচ্চতা²

টাওয়ার: মই = ১০০ মিটার, ভূমি = ৬০ মিটার

উচ্চতা = √(১০০² − ৬০²)
= √(১০,০০০ − ৩৬০০)
= √৬৪০০
= ৮০ মিটার

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৫. আয়তাকার জমি → কাঠা/বিঘা

সমস্যা: ১৩০ ফুট × ৯০ ফুট জমি
ক্ষেত্রফল = ১১,৭০০ বর্গফুট

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট

১১,৭০০ ÷ ৭২০ = ১৬ কাঠা ৪ ছটাক

 

৬. অনিয়মিত জমির হিসাব (লিংক)

দৈর্ঘ্য গড় = (১৫০+১৪৫+১৫৫)/৩ = ১৫০
প্রস্থ গড় = (৮০+৮৫+৯০)/৩ = ৮৫

ক্ষেত্রফল = ১৫০ × ৮৫ = ১২,৭৫০ বর্গলিংক

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

জমির পরিমাণ নির্ণয় শুধু অঙ্ক নয়—এটি একটি বাস্তব জীবনের দক্ষতা। দলিল, খাজনা, খতিয়ান, বিক্রয় দলিল, ভিটি নির্মাণ—সব ক্ষেত্রে এই হিসাব জানা জরুরি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই বিঘা–কাঠা–শতক রূপান্তরে দক্ষ হতে পারে।

একর শতকে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশে জমির পরিমাপে একর ও শতক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক একক। সরকারি রেকর্ড, দলিল, খাজনা, নামজারি, জরিপ নকশা, খতিয়ান—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। অথচ অনেকেই একর–শতকের সঠিক রূপান্তর, চেইন, লিংক, হাত, নল, গন্ডা ইত্যাদির সাথে সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানবো—

  • একর ও শতকের সংজ্ঞা
  • চেইন ও লিংক থেকে একরে রূপান্তর
  • অনিয়মিত জমির গড় মাপ নির্ণয়
  • ত্রিভূজ ও সমবাহু জমির ক্ষেত্রফল
  • বাস্তব জীবনের গণিতভিত্তিক সমস্যা

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

১. একর ও শতকের মৌলিক ধারণা

একক মান
১ একর ১০০ শতক
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১০ বর্গ চেইন ১ একর
১ বর্গ চেইন ০.১ একর

উদাহরণ:
৮৪ বর্গ চেইন = (৮৪ × ১) / ১০ = ৮.৪ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

২. পুকুরের পাড় ভাগ করে জমি বণ্টন

সমস্যা:
দৈর্ঘ্য ১৭০ হাত, প্রস্থ ১৫০ হাত একটি পুকুরের চারদিকে ৫ হাত চওড়া পাড় আছে। এই পাড় তিনজনের মধ্যে ৮ আনা, ৫ আনা ও ৩ আনা হিসেবে ভাগ করতে হবে।

সমাধান:
পাড়ের মোট পরিমাপ =
১৭০ + ১৭০ + ১৪৫ + ১৪৫ = ৬৩০ হাত

বণ্টন:

  • A পায় = ৬৩০ × ৮/১৬ = ৩১৫ হাত

  • B পায় = ৬৩০ × ৫/১৬ = ১৯৭ হাত

  • C পায় = ৬৩০ × ৩/১৬ = ১১৮ হাত

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৩. নল ও হাত থেকে কাচ্চা কানি

দৈর্ঘ্য = ৪০ নল ৫ হাত
= (৪০ × ৮) + ৫ = ৩২৫ হাত

প্রস্থ = ২৮ নল ৩ হাত
= (২৮ × ৮) + ৩ = ২২৭ হাত

ক্ষেত্রফল = ৩২৫ × ২২৭
= ৭২,৮০০ বর্গহাত

রূপান্তর অনুযায়ী:
৯ গণ্ডা ২ কড়া ১ কান্তি

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৪. অনিয়মিত জমি একর–শতকে

দৈর্ঘ্য:
(২৫৫+২৫০+২৪৫)/৩ = ২৫০ লিংক

প্রস্থ:
(১৭৫+১৭০+১৬৮)/৩ = ১৭১ লিংক

ক্ষেত্রফল = ২৫০ × ১৭১
= ৪২,৭৫০ বর্গলিংক

রূপান্তর:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
= ৪২.৭৫ শতক = ০.৪২৭৫ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৫. টেলিগ্রাফ পোস্ট ও রাস্তার প্রস্থ

কর্ণ (তার) = ৫০ ফুট
উচ্চতা = ৪০ ফুট

ভূমি = √(৫০² − ৪০²)
= √(২৫০০ − ১৬০০)
= √৯০০
= ৩০ ফুট

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৬. সমবাহু ত্রিভূজ জমি → একর/হেক্টর

এক বাহু = ১৬০ ফুট

সূত্র:
ক্ষেত্রফল = a² × √৩ / ৪

= ১৬০² × ১.৭৩২ / ৪
= ১১,০৮৪ বর্গফুট

১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
অতএব = ১১,০৮৪ ÷ ৪৩,৫৬০
= ০.২৫ একর ≈ ১০.৩০ এয়ার

৭. ত্রিভুজ জমি → বিঘা/কাঠা

ভূমি = ২৫০ হাত
উচ্চতা = ২১০ হাত

ক্ষেত্রফল = (২৫০ × ২১০) / ২
= ২৬,২৫০ বর্গহাত

রূপান্তর করে বিঘা–কাঠায় প্রকাশ করা যাবে।

একর ও শতকে জমির পরিমাণ নির্ণয় একটি অপরিহার্য দক্ষতা। জমি কেনা-বেচা, উত্তরাধিকার বণ্টন, রাস্তা, পুকুর, ভিটি, খাল—সব ক্ষেত্রেই এই হিসাব কাজে লাগে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই এই হিসাব আয়ত্ত করতে পারে।

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আজও জমির হিসাব করতে কাচ্চা কানি, গণ্ডা, কড়া ও ক্রান্তি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পুরনো দলিল, খতিয়ান, দানপত্র ও বণ্টননামায় এই পরিমাপ বহুল প্রচলিত। আধুনিক একক যেমন একর, শতক বা বর্গফুটে রূপান্তর না জানলে এসব হিসাব বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই লেখায় আমরা জানবো—

  • কাচ্চা কানি পদ্ধতির এককসমূহ
  • এককগুলোর বর্গফুটে রূপান্তর
  • কাচ্চাকানি ↔ বিঘা–কাঠা ↔ একর–শতক
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানি পদ্ধতির একক

একক মান (৮ হাতি নলের মাপে)
১ কানি ১৭,২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ২০ গণ্ডা
১ গণ্ডা ৮৬৪ বর্গফুট
১ গণ্ডা = ৪ কড়া
১ কড়া ২১৬ বর্গফুট
১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
১ ক্রান্তি ৭২ বর্গফুট

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ
কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–১ : কাচ্চাকানি ও বিঘা–কাঠার বিনিময়ে লাভ-ক্ষতি

বিপ্লব দেয়:
১০ কানি ১২ গণ্ডা ৩ কড়া ২ ক্রান্তি

রূপান্তর:

  • ১০ কানি = ১৭,২৮০ × ১০ = ১,৭২,৮০০

  • ১২ গণ্ডা = ৮৬৪ × ১২ = ১০,৩৬৮

  • ৩ কড়া = ২১৬ × ৩ = ৬৪৮

  • ২ ক্রান্তি = ৭২ × ২ = ১৪৪

মোট দেয় = ১,৮৩,৯৬০ বর্গফুট

বিপ্লব নেয়:
১২ বিঘা ১৪ কাঠা ৮ ছটাক

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
    ১২ বিঘা = ১,৭২,৮০০

  • ১৪ কাঠা = ৭২০ × ১৪ = ১০,০৮০

  • ৮ ছটাক = ৪৫ × ৮ = ৩৬০

মোট নেয় = ১,৮৩,২৪০ বর্গফুট

ক্ষতি = ৭২০ বর্গফুট (১ কাঠা)

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–২ : একর থেকে কাচ্চাকানি ও বিঘা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট

৪.৭ একর = ৪৭০ শতক
১ শতক = ৪৩২ বর্গফুট

৪৭০ × ৪৩২ = ২,০৩,০৪০ বর্গফুট

দেওয়া জমি:

কাচ্চাকানি অংশ
২ কানি = ৩৪,৫৬০
৫ গণ্ডা = ৪,৩২০
৩ কড়া = ৬৪৮
২ ক্রান্তি = ১৪৪
মোট = ৩৯,৬৭২

বিঘা–কাঠা অংশ
৫ বিঘা = ৭২,০০০
৭ কাঠা = ৫,০৪০
১২ ছটাক = ৫৪০
মোট = ৭৭,৫৮০

মোট দেওয়া = ১,১৭,২৫২
অবশিষ্ট = ৮৫,৭৮৮ বর্গফুট

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

 

সমস্যা–৩ : ত্রিভুজ → বর্গক্ষেত্র → একর

ক্ষেত্রফল = ২৫,৯২১ বর্গমিটার

বর্গক্ষেত্রের বাহু = √২৫,৯২১ ≈ ১৬১ মিটার

রূপান্তর করলে ≈ ৬ একর ৪০.৫০ শতক

জমির ক্ষেত্রফল একর শতকে নিম্নরূপঃ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৪ : অংশীদারদের জমি বণ্টন

মোট জমি = ৮৭৫ মি × ১৬০ মি

আনা অনুযায়ী প্রস্থ বণ্টন:

  • জহির (৭ আনা): ১৬০ × ৭/১৬ = ৭০ মি

  • রহিম (৬ আনা): ৬০ মি

  • জামাল (৩ আনা): ৩০ মি

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৫ : বিষমবাহু ত্রিভুজ জমি

আইল = ১৩, ১৪, ১৫ চেইন

s = (১৩+১৪+১৫)/২ = ২১

ক্ষেত্রফল = √{২১(২১−১৩)(২১−১৪)(২১−১৫)}
= √(২১×৮×৭×৬)
= ৮৪ বর্গচেইন

১০ বর্গচেইন = ১ একর
অতএব = ৮.৪ একর = ৮ একর ৪০ শতক

কাচ্চাকানি পদ্ধতি বুঝতে পারলে পুরনো দলিল, বণ্টননামা ও গ্রামীণ হিসাব সহজ হয়ে যায়। আধুনিক এককে রূপান্তরের দক্ষতা থাকলে জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব।

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

১ বিঘা = ৮০ হাত

১ বিঘা = ৮০ X ৮০ = ৬৪০০ বর্গহাত।

বর্গহাত হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সাধারণ সূত্র :

৪ কাক = ১ কড়া

৪ কড়া = ১ গণ্ডা

২০ গণ্ডা = ১ ছটাক

১৬ ছটাক = ১ কাঠা

২০ কাঠা = ১ বিঘা

বিঘা কাঠার রৈখিক পরিমাপের সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গলিংক হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

বর্গফুট হিসাবে বিঘা কাঠার সুত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গগজ হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গমিটার হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

এক নজরে বিঘা কাঠার সূত্র :

১ বিঘা = ২০ কাঠা

১ বিঘা = ৩৩ শতক

১ বিঘা = ৩৩০০০ বর্গলিংক

১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত

১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ

১ বিঘা = ১৪৪০০ বর্গফুট

১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গফুট

১ বিঘা = ৮০ হাত।

১ বিঘা = ১৬ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ।

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

সমস্যা ও সমাধান :

সমস্যা : কোন শহরের দৈর্ঘ্য ২০ মাইল, প্রস্থ ১২ মাইল, শহরের আয়তন একরে প্রকাশ করুন।

সমাধান: 

শহরের দৈর্ঘ্য ২০ মাইল, 

শহরের প্রস্থ ১২ মাইল

শহরের ক্ষেত্রফল

 = ২০ মাইল × ১২ মাইল 

= ২৪০ বর্গমাইল।

আমরা জানি,

১ বর্গমাইল = ৬৪০ একর

২৪০ বর্গমাইল = ৬৪০ X ২৪০ একর = ১,৫৩,৬০০ একর।

নির্ণেয় ১,৫৩,৬০০ একর (উত্তর)।

 

সমস্যা : আয়তকার কোন জমির দৈর্ঘ্য ২৬ নল ৪ হাত, প্রস্থ ২১ নল ৫ হাত, ৮ হাতি নলের মাপে কাচ্চা কানিতে জমির পরিমাণ বুঝিয়ে দিন ।

সমাধান : প্রশ্নানুসারে

দৈর্ঘ্য = {( ২৬ নল x ৮) + ৪ হাত}

= (২০৮ + ৪) হাত

= ২১২ হাত

প্রস্থ= { (২১ নল x ৮) + ৫}

= (১৬৮ + ৫) = ১৭৩ হাত 

জমির ক্ষেত্রফল = (২১২ × ১৭৩) হাত = ৩৬,৬৭৬ বর্গহাত

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

আজকে আমরা প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

  কিলো মিটার হেক্টো মিটার ডেকা মিটার মিটার ডেসি মিটার সেন্টি মিটার মিলিমিটার
১ ইঞ্চিতে   — ০.০২৫ ০.২৫ ২.৫৪ ২৫.৪
১ ফুটে   —   — ০.০৩ ০.৩০৫ ৩.০৫ ৩০.৪৮ ৩০৪.৮
১ গজে   — ০.০১ ০.০৯ ০.৯১৪ ৯.১৪ ৯১.৪৪ ৯১৪.৪
১ফার্লং-এ ০.২ ২.০১ ২০.১২ ২০১.১৭ ২০১১.৬৮ ২০১১৬.৮ ২০১১৬৮
১ মাইল ১.৬১ ১৬.০৯ ১৬০.৯৩ ১৬০৯.৩৪ ১৬০৯৩.৪৪ ১৬০৯৩৪.৪ ১৬০৯৩৪৪

 

  ইঞ্চি ফুট গজ
১ কিলোমিটার ৩৯৩৭৮.২৪ ৩২৮১.২৫ ১০৯৩.৮৪
১ হেক্টোমিটারে ৩৯৩৭.৮২ ৩২৮.১৫ ১০৯.৩৮
১ ডেকামিটারে ৩৯৩.৭৮ ৩২.৮২ ১০.৯৪
১ মিটারে ৩৯.৩৮ ৩.২৮ ১.০৯
১ ডেসিমিটারে ৩.৯৪ ০.৩৩ ০.১১
১ সেন্টিমিটারে ০.৩৯ ০.০৩ ০.০১
১ মিলিমিটারে ০.০৪   —   —

 

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

সমস্যাঃ আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট, প্রস্থ ৮০ ফুট, জমির পরিমাণ দেশীয় কানি গণ্ডা ও ৪০ শতকের কানি গণ্ডায় প্রকাশ করুন।

সমাধান:

ক্ষেত্রফল = ১২০ × ৮০ = ১৬০০ বর্গফুট।

দেশীয় কানি গণ্ডায় জমিটির পরিমাপ :

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

নির্ণেয় ১১ কানি ১ ক্রান্তি ৬ তিল।

৪০ শতকের কানি গণ্ডায় জমির পরিমাণ :

(সরকারী হিসাব)

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

৪.৭৫ তিল = ৫ তিল প্রায়

নির্ণেয় ১১ গণ্ডা ৫ তিল

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

সমস্যা : আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক, প্রস্থ ২২০ লিংক, জমির পরিমাণ একর শতক ও কানি গণ্ডায় বের করুন।

সমাধান

 জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক

 জমির প্রস্থ ২২০ লিংক

জমিটির ক্ষেত্রফল = ২৫০ x ২২০ = ৫৫০০০ বর্গলিংক।

একর শতকে জমির পরিমাণ

১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক ) ৫৫০০০ ( ৫৫ শতক

                                               ৫৫০০০

————————————————

                                                 ০

নির্ণেয় ৫৫ শতক ।

 

কানি গণ্ডায় জমিটির পরিমাণ

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

নির্ণেয় জমির পরিমাণ একর শতকে ৫৫ শতক, কানিগণ্ডায় ১ কানি ৭ গণ্ডা ২ কড়া