আজকে আমরা কারারক্ষীর দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী । জেল কোড
বিধি-৩৪৫। প্রত্যেক কারারক্ষীর জন্যে জেল সুপার কিংবা জেলার কর্তৃক নির্ধারিত একটি নিজস্ব কাজের দায়িত্ব থাকবে; যেমন নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্ব কিংবা একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব, একটি নির্দিষ্ট কারখানার দায়িত্ব কিংবা একাধিক কারখানার দায়িত্ব, কিংবা কারাগারের ভিতরে কিংবা বাহিরে বন্দীদের একটি নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের দায়িত্ব। কারারক্ষীদের প্রহরা পোষ্ট এবং দায়িত্ব ঘন ঘন রদবদল করতে হবে যাতে করারাক্ষীরা কোন নির্দিষ্ট বন্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়তে না পারে। যে সব কারারক্ষী ওয়ার্ক শেডে কাজ করবেন তারা সকল যন্ত্রপাতি এবং তাদের জিম্মায় রাখা জিনিস হেফাজতের জন্যে দায়ী থাকবেন ।
বিধি-৩৪৬। এ কোডের অন্যত্র কারারক্ষীদের দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও সকল কারারক্ষীর দায়িত্ব হবে-
(১) তাদের দায়িত্বে ন্যস্ত বন্দীদের গণনা করা এবং প্রধান কারারক্ষীকে সংখ্যা জানানো
(২) ডিউটি কালে দাঁড়িয়ে থাকা বা টহলরত থাকা। কর্তব্যরত অবস্থায় কোন অবস্থাতেই একজন রক্ষী বেল্ট খুলবেন না এবং হেলানোরত থাকবেন না বা বসবেন না:
(৩) তাদের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের সংখ্যা জানা; ডিউটির প্রতি দফায় তাদের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ঘন ঘন গণনা করা এবং নিশ্চিত হওয়া যে তাদের দায়িত্বে বন্দী সংখ্যা সঠিক রয়েছে;
(8) তাদের নিকট ন্যস্ত করার পর গ্যাংয়ের সকল বন্দীকে তল্লাশী করা এবং অনুরূপ ভাবে অন্য কারো নিকট দায়িত্ব হস্তাস্তরের পূর্বে গণনা করা এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য থাকলে তা খুঁজে বের করা;
(৫) কোন প্রকার {} মাদকদ্রব্য,) টাকা বা অনুমোদন বহির্ভূত খাদ্য দ্রব্য বন্দীদের দ্বারা ব্যবহার বা তাদের কাছে রাখা প্রতিরোধ করা। বন্দীদেরকে যতটুকু সরবরাহ করা হয় যেন তার বেশী খাদ্যশস্য, শাক- সব্জি, ফলমূল খেতে বা চুরি করতে না পারে তা দেখবেন;

(৬) সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কাজে আলস্য দেখালে বা কাজ কম করলে রিপোর্ট করা;
(৭) জোরে কথা বলা, হাসাহাসি করা, গান গাওয়া, খেলা বা ঝগড়া করা এবং অন্যান্য অশোভন আচরণ প্রতিহত করা;
(৮) বন্দীরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবার সময় ডাবল লাইনে চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিজেদের স্থান ত্যাগ এবং কারাগারের ভিতরে বিক্ষিপ্ত ঘুরাফিরা না করা নিশ্চিত করা। কোন বন্দীকে গ্যাং বহির্ভূত পাওয়া গেলে দায়িত্ব প্রাপ্ত রক্ষীকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
(৯) কোন বন্দীর বিনা অনুমতিতে নিজের সীমানা বেষ্টনী পরিত্যাগ বা অন্য গ্যাংয়ের বন্দীর সাথে যোগাযোগ প্রতিহত করা;
(১০) কোন ময়লা আবর্জনা কারাগারে পড়ে আছে কিনা দেখা এবং ড্রেন পরিষ্কার আছে কিনা দেখা, মেথর বা সুইপারকে এ ব্যাপারে জানানো।

(১১) বন্দী কর্তৃক ড্রেনে প্রস্রাব করা বা অন্য কোন স্থানের সৌন্দর্য্য হানি করা সম্পর্কে রিপোর্ট করা;
(১২) অনুমোদিত সময় ব্যতীত বন্দী কর্তৃক টয়লেট ব্যবহার না করা;
(১৩) বিধি ১৯১, ১৯২, এবং ৪৬৩ প্রতিপালন করানো;
(১৪) বিছানা পত্র, পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখা;
(১৫) কোন বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে জেলারকে জানানো
(১৬) পলায়ন, বিদ্রোহ, আক্রমণের কোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে রিপোর্ট করা;
(১৭) পোশাক বা জেল সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি সম্পর্কে রিপোর্ট করা:
(১৮) কোন বন্দী নিখোজ হলে সঙ্গে সঙ্গে জেলার বা কর্তৃপক্ষকে জানানো;
(১৯) কোন বন্দী কোন খাবার যাতে না লুকাতে পারে।
(২০) নিজ হাতিয়ার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্যে উপযুক্ত করে রাখা।
টীকা-নং ১৯৭৫ এইচ, জে তারিখ ২৭-৭-১৯৩৭ এবং নং ৫০ এইচ জে তারিখ ১৩-১-১৯৫৪ ভুলে সংশোধিত।
বিধি-৩৪৭। প্রত্যেক কারারক্ষী ডিউটি অবস্থায় সকল সময় যথাযথ নিয়েমে পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম ও বেল্ট পরিধান অবস্থায় থাকবেন এবং জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে হাতে ব্যাটন বা লাঠি থাকবে। ব্যাটন বেল্টের সাথে লুফ বা স্প্রিং দিয়ে ঝুলানো থাকবে যাতে সহজে খোলা যায়।