আজকে আমরা কারাবন্দীর শ্রেণী প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

কারাবন্দীর শ্রেণী । জেল কোড
বিধি-৬১৬। প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ৬ প্রকারের বন্দী থাকবে, প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার হতে আলাদা ভাবে রাখতে হবে-
(১) সিভিল বন্দী
(২) বিচারাধীন বন্দী
(৩) মহিলা বন্দী
(৪) ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী
(৫) পুরুষ বন্দী যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি
(৬) অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।
বিচারাধীন বন্দী, মহিলা বন্দী এবং কিশোর বন্দীদের বিষয়ে যথাক্রমে সপ্তবিংশ, ঊনত্রিংশ এবং ত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

বিধি-৬১৭। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন I, II ও III- এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবো-
(১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ ডিভিশন-] প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-
(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী;
(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের ; এবং
(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজা প্রাপ্ত নয়-
(এ) নৃশংসতা,নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ;
(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা;
(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ;
(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা;
(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।
(২) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন-II প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হবে না; সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণী বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীর চরিত্র এবং প্রাক- পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে।
(৩) যে সকল বন্দী ডিভিশন I এবং ডিভিশন II এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন- III এর আওতাভুক্ত হবে।
(৪) {হাই কোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, স্পেশাল জজ, সহকারী দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন- | বা ডিভিশন- II প্রদানের জন্যে প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্যে (সহকারী দায়রা জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবে বা পুনর্বিবেচনা করবে।}

(৫) সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায়, সুপারিশকৃত যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন- | বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয় তা হলে তারা ডিভিশন- | সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন- II সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন- II বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন III সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।
(৬) ডিভিশন- I এবং ডিভিশন- II বন্দীদেরকে যথাসম্ভব বিধি ১০৬৮(৩) অনুযায়ী পৃথক রাখতে হবে।} নোট- ডিভিশন- । এবং ডিভিশন- II বন্দীদের বিষয়ে পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
বিধি-৬১৮ । – নিম্নোক্ত বন্দীদেরকে “অভ্যাসগত অপরাধী” বলে গণ্য করা হবে :-
(১) যে ব্যক্তি দণ্ড বিধির দ্বাদশ,ষোড়শ,সপ্তদশ,বা অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছে কিংবা বর্তমান মামলার অবস্থায় দৃশ্যমান হয় যে সে উক্ত পরিচ্ছেদ সমূহের যে কোনটি বা সব কয়টির অধীনে এক বা একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।
(২) যে ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (ধারা ১০৯ এবং ১১০ সহপঠিত) কারাগারে সোপর্দ বা আটক রাখা হয়েছে।
টীকা- ১। ফৌজদারি কার্যবিধি। ধারা-১২৩- মুচলেকা খেলাপ করার দরুন কারাদণ্ড, ধাতু ১০৯-ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা, ধারা-১১০. অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণের মুচলেকা।
(৩) উপ-বিধি (১)-এ বর্ণিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, এমনকি পূর্বে দণ্ডিত না হলেও বর্তমান মামলার ঘটনা হতে যদি দেখা যায় যে, সে স্বভাবগতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাত বা চোর দলের সদস্য কিংবা দাস ব্যবসা বা চোরাইমালের এজেন্ট;
(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তবে তা সরকারের বিবেচনা সাপেক্ষ
(৫) – (৬) অকার্যকর।
{(৭) এই বিধিতে অভ্যাসগত অপরাধী হিসাবে শ্রেণীভুক্ত বন্দীদেরকে বি শ্রেণীর বন্দী বলা হবে। ব্যাখ্যা- আলোচ্য সংজ্ঞার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “দণ্ড” বলতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১১৮ ধারা (১১০ ধারা সহ পঠিত) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশেকেও বুঝাবে।
II. – একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করার দায়িত্ব সাজা প্রদানকারী আদালতের, যদি আদালত তা না করেন, তবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারেন, বা সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হলে, সাধারণত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে নিজেই শ্রেণীক্ত করবেন। শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে পারে।
III. কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ পূর্বক এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (১০৯ ও ১১০ ধারাসহ পঠিত) আটক কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা যাবে না এবং এরূপ আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
IV – কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যে ক্ষেত্রে যিনি হন, তাদের নিজেদের দ্বারা ধার্য শ্রেণী বিভাজন সংশোধন করতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের প্রদর শ্রেণী বিভাগও পরিবর্তন করতে পারেন, শর্ত থাকে যে এ ধরনের পরিবর্তন সে সব কারণের উপর ভিত্তি করে করতে হবে, যে সব কারণ ইতোপূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয় নি।
নোট- উপরের II, III এবং IV প্যারায় জেলা ম্যাজিট্রেট বলতে সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝায় যে জেলায় আসামী দণ্ডিত হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করেছে কিংবা আটক আছে ।
V – প্রত্যেক অভ্যাসগত অপরাধীকে সম্ভব হলে এমন বিশেষ কারাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে অভ্যাসগত অপরাধী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে রাখা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শক কারণ লিপিবদ্ধ করে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীকেও এ ধরনের বিশেষ কারাগারে পাঠাতে পারেন, যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী খুব দুর্ধর্ষ বা অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, সে অন্যান্য বন্দীদের খারাপ ইন্ধন জোগাচ্ছে বা জোগাতে পারে, তাই তাকে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীদের সাথে রাখা উচিত হবে না।
VI. উপবিধি II III এবং IV এ ” জেলা ম্যাজিট্রেট” বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটও অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
নং- ৫৫৬৬ এইচ জে তারিখ ৩-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত।
বিধি ৬১৯-৬৩২ । উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।