বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আজও জমির হিসাব করতে কাচ্চা কানি, গণ্ডা, কড়া ও ক্রান্তি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পুরনো দলিল, খতিয়ান, দানপত্র ও বণ্টননামায় এই পরিমাপ বহুল প্রচলিত। আধুনিক একক যেমন একর, শতক বা বর্গফুটে রূপান্তর না জানলে এসব হিসাব বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই লেখায় আমরা জানবো—
- কাচ্চা কানি পদ্ধতির এককসমূহ
- এককগুলোর বর্গফুটে রূপান্তর
- কাচ্চাকানি ↔ বিঘা–কাঠা ↔ একর–শতক
- বাস্তব সমস্যার সমাধান

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ
কাচ্চাকানি পদ্ধতির একক
| একক | মান (৮ হাতি নলের মাপে) |
|---|---|
| ১ কানি | ১৭,২৮০ বর্গফুট |
| ১ কানি = ২০ গণ্ডা | |
| ১ গণ্ডা | ৮৬৪ বর্গফুট |
| ১ গণ্ডা = ৪ কড়া | |
| ১ কড়া | ২১৬ বর্গফুট |
| ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি | |
| ১ ক্রান্তি | ৭২ বর্গফুট |

সমস্যা–১ : কাচ্চাকানি ও বিঘা–কাঠার বিনিময়ে লাভ-ক্ষতি
বিপ্লব দেয়:
১০ কানি ১২ গণ্ডা ৩ কড়া ২ ক্রান্তি
রূপান্তর:
-
১০ কানি = ১৭,২৮০ × ১০ = ১,৭২,৮০০
-
১২ গণ্ডা = ৮৬৪ × ১২ = ১০,৩৬৮
-
৩ কড়া = ২১৬ × ৩ = ৬৪৮
-
২ ক্রান্তি = ৭২ × ২ = ১৪৪
মোট দেয় = ১,৮৩,৯৬০ বর্গফুট
বিপ্লব নেয়:
১২ বিঘা ১৪ কাঠা ৮ ছটাক
-
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
১২ বিঘা = ১,৭২,৮০০ -
১৪ কাঠা = ৭২০ × ১৪ = ১০,০৮০
-
৮ ছটাক = ৪৫ × ৮ = ৩৬০
মোট নেয় = ১,৮৩,২৪০ বর্গফুট
ক্ষতি = ৭২০ বর্গফুট (১ কাঠা)

সমস্যা–২ : একর থেকে কাচ্চাকানি ও বিঘা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট
৪.৭ একর = ৪৭০ শতক
১ শতক = ৪৩২ বর্গফুট
৪৭০ × ৪৩২ = ২,০৩,০৪০ বর্গফুট
দেওয়া জমি:
কাচ্চাকানি অংশ
২ কানি = ৩৪,৫৬০
৫ গণ্ডা = ৪,৩২০
৩ কড়া = ৬৪৮
২ ক্রান্তি = ১৪৪
মোট = ৩৯,৬৭২
বিঘা–কাঠা অংশ
৫ বিঘা = ৭২,০০০
৭ কাঠা = ৫,০৪০
১২ ছটাক = ৫৪০
মোট = ৭৭,৫৮০
মোট দেওয়া = ১,১৭,২৫২
অবশিষ্ট = ৮৫,৭৮৮ বর্গফুট

সমস্যা–৩ : ত্রিভুজ → বর্গক্ষেত্র → একর
ক্ষেত্রফল = ২৫,৯২১ বর্গমিটার
বর্গক্ষেত্রের বাহু = √২৫,৯২১ ≈ ১৬১ মিটার
রূপান্তর করলে ≈ ৬ একর ৪০.৫০ শতক
জমির ক্ষেত্রফল একর শতকে নিম্নরূপঃ

সমস্যা–৪ : অংশীদারদের জমি বণ্টন
মোট জমি = ৮৭৫ মি × ১৬০ মি
আনা অনুযায়ী প্রস্থ বণ্টন:
-
জহির (৭ আনা): ১৬০ × ৭/১৬ = ৭০ মি
-
রহিম (৬ আনা): ৬০ মি
-
জামাল (৩ আনা): ৩০ মি

সমস্যা–৫ : বিষমবাহু ত্রিভুজ জমি
আইল = ১৩, ১৪, ১৫ চেইন
s = (১৩+১৪+১৫)/২ = ২১
ক্ষেত্রফল = √{২১(২১−১৩)(২১−১৪)(২১−১৫)}
= √(২১×৮×৭×৬)
= ৮৪ বর্গচেইন
১০ বর্গচেইন = ১ একর
অতএব = ৮.৪ একর = ৮ একর ৪০ শতক
কাচ্চাকানি পদ্ধতি বুঝতে পারলে পুরনো দলিল, বণ্টননামা ও গ্রামীণ হিসাব সহজ হয়ে যায়। আধুনিক এককে রূপান্তরের দক্ষতা থাকলে জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব।