Tag Archives: আপীল ও পিটিশন

আপীল ও পিটিশন

জেল কোড অনুযায়ী আপীল ও পিটিশন

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন । জেল কোড

নোট- আপীল সম্পর্কে ফৌজদারি কার্য বিধির একত্রিংশ অধ্যায়ের বিধানাবলীর ধর মনোযোগ দিতে হবে।

বিধি-৫৯৯। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইচ্ছা করলে আপীল করতে পারবে, আদালতে আপীল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছবে বা না পৌঁছবে, তা সত্ত্বেও আপীলকারীকে আপীল করার উদ্দেশ্যে সকল যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে এবং তার অনুরোধ অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি আপন আবেদন এমন বিলম্বে পেশ করা হয় যে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্বে আপীল পেশের কারণ সম্পর্কে আপীলকারী বন্দীর বক্তব্যসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার মতামত। বিবৃ করে (যদি থাকে) আপীল আবেদনটি প্রেরণ করবেন।

টীকা-। যে সব ক্ষেত্রে আপীল চলে না-

(১) আসামীর দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে (ধারা ৪১২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(২) দায়রা জজ প্রদত্ত অনুর্ধ্ব এক মাস কারাদণ্ড; দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব পঞ্চাশ টাকা জরিমানা (ধারা-৪১৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৩) সামারী ট্রায়ালে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুইশত টাকা জরিমানা করা হলে (ধারা-৪১৪,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০০। দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে আপীল দায়েরের সময় সীমা :-

  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৭দিন (ধারা-১৫০,তামাদি আইন)
  • মৃত্যুদণ্ড ভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৬০দিন (ধারা-১৫৫, তামাদি আইন)
  • অন্য কোন আদালতে আপীল -৩০দিন (ধারা-১৫৪,তামাদি আইন)

টীকা-১। তামাদি প্রশ্নে কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তি যে দিন জেল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন দাখিল করবেন সেদিন আপীল আদালতের কাছে দায়ের হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। (৯ মাস ২৫৮)।

টীকা-২। যে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপীল করতে হবে (ধারা ৪০৭- ৪১০, ফৌজদারি কার্যবিধি)-

আদেশ প্রদানকারী আদালত আপীল আদালত
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট দায়রা জজ
সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ৫ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা হাইকোর্ট বিভাগ
দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগ

 

টীকা-৩। আপীল সাপেক্ষে আদালত দণ্ড স্থগিত এবং আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন (ধারা ৪২৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৪। সি আর মামলায় ফরিয়াদি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার খালাসের বিরুদ্ধে কিংবা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন (ধারা ৪১৭,৪৭১-ক, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৫। খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদালত আসামীকে পুনরায় গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন (ধারা-৪২৭, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৬০১। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল প্রস্তুতির জন্যে আগত আত্মীয়-স্বজন এবং আইনজীবির সঙ্গে সাক্ষাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে; এ ধরনের সাক্ষাত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে, কিন্তু শ্রুতির অগোচরে হতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার পক্ষে কাজ করার জন্যে কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করে আম-মোক্তার নামায় স্বাক্ষর প্রদানের অনুমতি দেয়া যাবে; আম-মোক্তার নামা ষ্ট্যাম্প আইন অনুসারে যথাযথ ষ্ট্যাম্পে প্রদান করতে হবে এবং আম-মোক্তার নামায় বন্দীর স্বাক্ষর জেলার বা ডেপুটি জেলার কর্তৃক অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০২। জেল সুপারের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন বন্দী বা কাৱা কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোন বন্দীর পক্ষে আপীল বা আবেদন লিখতে বা প্রস্তুত করতে বা পেশ করতে পারবেন না।

বিধি-৬০৩। (১) যদি কোন বন্দী জানায় যে সে আপীল করতে আগ্রহী কিন্তু আপীল প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করার জন্যে তার পক্ষে আগ্রহী কোন আত্মীয়,বন্ধু বা এজেন্ট নেই, সে ক্ষেত্রে জেল সুপার ২৭ নম্বর জেল ফরমে আদালতের কাছে রায়ের বা আদেশের একটি কপি চেয়ে আবেদন প্রেরণ করবেন।

(২) রায়ের বা আদেশের কপি পাবার পর, বন্দী যদি লিখতে পারে তবে তারে তার আপীল লিখার অনুমতি দেয়া হবে। যদি বন্দী নিজে লিখতে অক্ষম হয় তা হলে জেল সুপার অন্য একজন বন্দী বা একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়ে তা লিখার ব্যবস্থা করবেন।

(৩) যদি ৭ দিনের মধ্যে রায়ের কপি না আসে তা হলে জেল সুপার একটি তাগিদ প্রদান করবেন এবং অতিরিক্ত বিলম্ব ঘটলে বিষয়টি কার মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

(৪) যে বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আপীলকারী বন্দীর পক্ষে আপীল লিখবেন, তিনি আপীল কারীর নির্দেশ মোতাবেক লিখবেন, কি লিখা উচিত এ ধরনের কোন পরামর্শ প্রদান করবেন না ।

(৫) জেল সুপার কোন প্রকার বিলম্ব না করে রায় বা আদেশের কপিসহ প্রস্তুতকৃত আপীলটি আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন।

(৬) যদি কোন রায় বা আদেশের কপি পাবার পর তা বন্দীর কোন আত্মীয়- স্বজন,বন্ধু বা আইনজীবি তার পক্ষে আপীল প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করতে চায় তা হলে বন্দীর সম্মতিতে তা হস্তান্তর করা যাবে।

(৭) যদি একাধিক বন্দীকে একই মামলায় সাজা প্রদান করা হয়, একই সঙ্গে একই আদালতে তাদের পেশকৃত আপীলের সঙ্গে রায়ের একটি কপি সংযুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন একজনের জন্য আপীলে । প্রদত্ত আদেশ একই সঙ্গে আপীলকারী একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

টীকা- যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেওয়া হয়, তখন এইরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে (ধারা ৪১৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৮) কোন বন্দীকে রায়ের কপি পাবার আগে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে, রায়ের কপি যখন পাওয়া যাবে তখন যে কারাগারে সে আটক আছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট তাড়াতাড়ি তা প্রেরণ করতে হবে।

(৯) কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত সামরিক বন্দীর আপীল আবেদন দণ্ডাদেশের কপিসহ কমাণ্ড হেড কোয়ার্টার্সে প্রেরণের উদ্দেশ্যে যে জেলায় কারাগার অবস্থিত সে জেলার জিওসি’র নিকট পাঠাতে হবে।

টীকা- আপীলকারী কারাগারে থাকলে সে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের আবেদনপত্র কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দাখিল করতে পারবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত আবেদনপত্র ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবে (ধারা-৪২০. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৪। সকল আপীল এম ৯৭ বি বা সি নম্বর হাইকোর্ট ক্রিমিনাল ফরমে পিটিশন আকারে লিখিত ভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আপীলকারী কারাগারে অন্তরীণ থাকলে কারাগার হতে তার প্রেরিত আপীল স্ট্যাম্প ফি মুক্ত হবে। সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে যে আপীলকারী কর্তৃক যথাযথভাবে আপীলটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা।

আপীলকারীর স্বাক্ষর জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সকল আপীল আবেদন জেল সুপার কর্তৃক প্রেরিত হবে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরের জন্যে আপীল এম ১০৪ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে প্রেরণ করতে হবে। কারাগারে অন্তরীণ একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সকল বন্দী একরে কিংবা পৃথক পৃথক ভাবে আপীল বা রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

বিধি-৬০৫ । যখন কোন বন্দী হাইকোর্টে আপীল করে, তখন জেল সুপার উক্ত আপীলের বিষয়ে দায়রা আদালতকে (এম) ১০৫ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে অবহিত করবেন।

বিধি-৬০৬। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আপীল করার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সম্পর্কে তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে ।

বিধি-৬০৭। ডিভিশন I এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে বিধি ১০৬৮ অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্র ব্যতীত এবং সাক্ষ্য প্রদান ও অন্য মামলার অভিযোগের কারণে স্থানান্তরের প্রয়োজন ব্যতীত এবং বিধি ৮৪৩ অনুযায়ী এ বিধি অকার্যকর হবার ক্ষেত্র সমূহ ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল দায়েরের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপীল দায়ের হয়ে থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে, সেখান থেকে অন্য কারাগারে সাধারণত স্থানান্তর করা যাবে না।

কোন বন্দীকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং বেত্রদণ্ড অনিষ্পন্ন অবস্থায় কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা যাবে না।

কোন বন্দীকে বদলি করার পূর্বে সে আপীল করতে ইচ্ছুক কিনা জেল সুপার তা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বন্দী জানায় যে, কারাগারের বাহির থেকে তার জন্যে আপীল করা হবে তবে আপীল দায়েরের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বদলি করা যাবে না।

নোট- যদি কোন কারণে কোন বন্দীকে আপীলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বদলি করা প্রয়োজন হয়, তবে একই দণ্ডাদেশে একাধিক বন্দী থাকলে তাদের দল ছুট করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে তারা যে যে কারাগারে থাকবে সেখান থেকে পৃথকভাবে আপীল করতে হবে।

বিধি-৬০৮ । কারা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আপীল প্রস্তুতকারী কোন বন্দী আপীল দায়েরের সময় সীমার মধ্যে অন্য কারাগারে বদলি হয়ে গেলে, তার বদলি সম্পর্কে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী সর্বশেষ আদালতকে জানাতে হবে। যখন কোন বদলিকৃত বন্দীর মুক্তি, বা সংশোধিত ওয়ারেন্ট বা তার আপীলের বিষয়ে আপীল আদালতের কোন পত্র জেল সুপার কর্তৃক গৃহীত হয়, তা তাড়াতাড়ি ডাক যোগে বদলিকৃত কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৯। যদি আপীল দায়েরের পর পনর দিনের মধ্যে বা হাইকোর্ট বিভাগ হতে এক মাসের মধ্যে জেল সুপারকে কোন ফলাফল জানানো না হয়, জেল সুপার ১৫ নম্বর জেল ফরমে দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেটের নিকট একটি তাগিদ পত্র প্রেরণ করে আপীলের ফলাফল জানানোর জন্যে অনুরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে যুক্তি সংগত বিরতিতে পুনরায় পত্র দিবেন। যখন আপীলের ফলাফল জানা যাবে তা বন্দীকে জানাতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে লিখিত হবে। নোট- এই বিধিতে বর্ণিত কার্যক্রম বন্দীকে বদলি করা হলে বদলিকৃত কারাগার হতেও গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৬১০। (১) সাজা বাতিলের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আপীল আদালত নির্ধারিত ফরমে ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন। আদালত একই সময়ে মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। উক্ত ওয়ারেন্ট এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ সম্বলিত আপীল আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর জেল সুপার দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন।

(২) যখন আপীলে দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়, আপীল আদালত পরিবর্তিত আদেশ সম্বলিত একটি নুতন ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। অনুরূপ ওয়ারেন্ট দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

যখন ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর আপীল আদালতে প্রেরণ করা হবে, আপীল আদালত তা দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন। তবে যখন কোন আপীলকারী বন্দীকে আপীল অনিম্পন্ন অবস্থায় জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়, সে আদালতে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপীল আদালত জেল সুপারের নিকট নুতন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন না ।

(৩) যখন আপীল আদালত সাজা বহাল রাখেন তখন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। উপরের বিধি মোতাবেক আপীল আদালত আপীলকারী বন্দীকে ফলাফল জানানোর জন্যে জেল সুপারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

(৪) এই বিধি কোন আদালতের প্রদত্ত দত্ত হ্রাসকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের কপি বন্দীর ওয়ারেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বিধি-৬১১ । যখন কোন আপীল আদালত কোন বন্দীর দণ্ড বাতিল ঘোষণা করে পুন:বিচারের আদেশ প্রদান করেন, বন্দীকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কোন ওয়ারেন্ট পাওয়া না গেলে ( এবং সে অন্য কোন দণ্ডাদেশ মূলে সাজারত না থাকলে), তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে পুন:আটক রাখা হবে। জেল সুপার বন্দীকে আটকাদেশ প্রদানের ওয়ারেন্ট জারীর জন্য আদেশদানকারী আদালতকে অনুরোধ জানাবেন। ওয়ারেন্ট পাবার পর তা সে আদালতে প্রদর্শন করতে হবে, যে আদালতে বন্দীর পুনর্বিচার হবে।

বিধি-৬১২। ((এ) একজন বন্দী আদালতে আপীল করতে পারে। যদি বন্দী উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়েরের জন্য অগ্রসর হয়, তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তার নিকটজন বা এজেন্ট দ্বারা করতে হবে, কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে কিছু করবে না ।

(বি) (১) একজন বন্দী আপীলের জন্যে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরেরও অধিকারী। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে সে রায়ের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করতে হবে।

(২) একজন বন্দী আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের উদ্দেশ্যে তার আবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারেন, যিনি তা সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(৩) আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে-

(ক) আপীলের যৌক্তিকতা,

(খ) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(গ) যে ক্ষেত্রে দায়রা আদালত আবেদনকারীকে খালাস প্রদাহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সরকারের আপীলের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে দণ্ড প্রদান করেছে, সে ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(ঘ) যদি আবেদন করতে বিলম্ব হয়, বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বক বিলম্ব প্রমার্জনের আবেদন।।

নং- ৬৩০ এইচ জে তারিখ ২১-৪-১৯৫৪ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বিধি-৬১৩। (১) যদি কোন বন্দীর আপীল হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়, বা যাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সাজা প্রদান করেছেন, তিনি হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার প্রদর আদেশের তিন মাসের মধ্যে সাজা মার্জনা বা হ্রাসের জন্যে | রাষ্ট্রপতির} নিকট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক দায়ের করা না হলে পিটিশন আটক করা হবে, যদি না কোন বিশেষ কারণ উদ্ভব হয় ।

(৩) বন্দীর পারিবারিক দুর্দশা বা শারীরিক বা সদাচারের কারণ সম্বলিত পিটিশন সাধারণত আটক করা হবে।

(৪) উপ-বিধি(৩) এর আওতায় আটককৃত কোন পিটিশন অগ্রগামী করা যেতে পারে, যদি কোন সরকারী পরিদর্শক তা প্রেরণের জন্যে পরামর্শ প্রদান করেন।

নোট-১। এই কোডের ৯৯১ বিধিতে বর্ণিত শর্তাধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ক্ষমার পিটিশন দায়ের করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে ।

নোট-২। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীর স্বাস্থ্যগত খারাপ অবস্থা বা ভাল আচরণের কারণে সাজা হ্রাসের সুপারিশ করতে পারবেন, কিন্তু তা রাষ্ট্রপতির নিকট বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হবে না।

বিধি-৬১৪। অর্ধ মার্কিন ফুলস্কেপ কাগজে এবং বন্দীর মাতৃভাষায় লিখতে হবে। বন্দীর স্বাক্ষর বা টিপসহি একজন কারা কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পিটিশন হবে । পিটিশন জেল সুপার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর পিটিশন সরাসরি সরকারের {স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী পিটিশনে তার শারীরিক খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তবে তার সাথে মেডিকেল অফিসারের একটি বক্তব্য পেশ করতে হবে।

যদি বন্দীর পক্ষে কোন পিটিশন প্রস্তুতের পর জেল সুপারের নিকট বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্যে পেশ করা হয়, বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণ করার পর পিটিশন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট তা আর ফেরত দেয়া যাবে না। জেল সুপার পিটিশন যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব বা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, প্রেরণ করবেন।

বিধি-৬১৫। যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা পূর্বতন অফিস কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার নিকট জরুরী পারিবারিক বিষয়াদি, দেওয়ানী মামলা, বিষয়-সম্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে পিটিশন করতে চায়, তা হলে জেল সুপার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক তা প্রতিস্বাক্ষরান্তে প্রাপকের নিকট প্রেরণ করে দিবেন, শর্ত থাকে যে, এ ধরনের কোন আবেদন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা সরকারের নিকট প্রেরণ করা যাবে না ।

সাজাপ্রাপ্ত {বিদেশী নাগরিকদেরকে } কোন জরুরী বিষয়ে তাদের সরকারের রাষ্টদূতের নিকট জেল সুপারের বিবেচনা মতে আবেদন করার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে; কিন্তু অনুরূপ আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বা { মেট্রাপলিটান শহরের কারাগারের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।