গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন
চুক্তি আইন একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কিত আইন। এর উদ্দেশ্য হলো একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা। প্রধানত দুটি উপাদানের সমন্বয়ে একটি চুক্তির জন্ম হয়, প্রথমত একটি ঐকমত্য, দ্বিতীয়ত একটি আইনগত দায়িত্ব যা আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য।
এদেশে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে মুসলিম আইনে চুক্তির নীতিগুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের উপর প্রযোজ্য ছিল। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিশেষ বিধিবিধান বিঘ্নিত করা হতো না। সyুপ্রম কোর্ট কর্তৃক প্রেসিডেন্সি টাউন কোলকাতায় ইংলিশ আইনের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে দেশীয় লোকের অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এ সমস্যা নিরসনকল্পে ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা এক আইন পাশ করে যা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার জন্য মুসলিম চুক্তি আইন এবং হিন্দুদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার ব্যাপারে হিন্দু চুক্তি আইন প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।
কিন্তু ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী প্রসিডেন্সি শহরে বসবাসরত ইংরেজ নরনারীসহ সকল বিদেশী এবং যারা প্রেসিডেন্সি শহরের বাইরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ছিলেন তাদের সবার ক্ষেত্রে সাধারণ ইংলিশ আইনের নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। ব্রিটিশরা ক্রমান্বয়ে তাদের নীতি পরিবর্তন করা শুরু করে এবং বিধিমালা জারীর মাধ্যমে ইংলিশ কমন ল’য়ের কিছু কিছু নীতি চালু করে। বিধিগুলো প্রণয়ন করেন গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা দেশের আইনকে বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
এভাবেই ১৮৭২ সালে ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টের প্রবর্তন হয় যা অল্পবিস্তর পরিবর্তন সহ এখনও বাংলাদেশে কার্যকর। এ আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিগুলো বিধৃত আছে। গোড়াতে এ আইনে ৭২-১২৩ নং ধারায় পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত বিধান সন্নিবেশিত ছিল যা পণ্য বিক্রি আইন, ১৯৩০ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ২৩৯-২৬৬ নং ধারায় ছিল অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিধান যা অংশীদারিত্ব আইন, ১৯৩২ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়।
উপরোক্ত তিনটি আইন বিধিবদ্ধ হওয়া ছাড়াও পণ্য পরিবহন আইন, ১৮৬৫, রেলওয়েজ আইন, ১৮৯০, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫, বিমান পরিবহন আইন, ১৯৩৪ চুক্তির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উপরিউক্ত ধারাগুলোর পরিবর্তনের পর চুক্তি আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিমালা সন্নিবেশিত আছে (ধারা ১-৭৫) এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের চুক্তির বিধান আছে। যেমন, ক্ষতিপূরণ ও জামানত চুক্তি (ধারা ১২৪-১৪৭), জিম্মা ও অস্থাবর বন্ধক চুক্তি (ধারা ১৪৮-১৮১) এবং প্রতিনিধিত্ব চুক্তি (ধারা ১৮২-২৩৮)
প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন [ Law of Contracts on Proposals ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন
প্রস্তাব উপস্থাপনের বিধানাবলী (Rules regarding offer)
একটি পক্ষ অপর পক্ষের কাছ থেকে সম্মতি/ স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় প্রস্তাব পেশ করা হয়। তাই একটি প্রস্তাব নিয়ম অনুযায়ী পেশ করতে হয়। চুক্তি আইন অনুযায়ী প্রস্তাব পেশ বা উপস্থাপনের বিধান বা নিয়মাবলী নিচে আলোচনা করা হলোঃ
১। ব্যক্ত বা অব্যক্ত উভয় প্রকারের প্রস্তাব হতে পারে ((Proposal can be both expressed or implied)
চুক্তি আইন অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রস্তাব ব্যক্ত অব্যক্ত দুই রকম ভাবেই পেশ করা যায়ঃ যেমন-
ক) ব্যক্ত প্রস্তাব (expressed Proposal) যখন কোন প্রস্তাব লিখিত কিংবা মৌখিক কথা/ ভাষা সাহায্যে পেশ করা হয় তখন সেই প্রস্তাব কে ব্যক্ত প্রস্তাব বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি সাক্ষাৎকার/ টেলিফোন/ চিঠি/ বিজ্ঞাপন প্রভৃতির মাধ্যমে প্রস্তাব ব্যক্ত করা যেতে পারে।
খ) অব্যক্ত বা ধারণামূলক প্রস্তাব ((implied Proposal) অনেক সময় দেখা যায় যে কোন ব্যক্তি তার আচার-আচরণ কিংবা হাবভাব এর মাধ্যমে প্রস্তাব রেখে থাকেন, এ ধরনের প্রস্তাবকে অব্যক্ত বা ধারণাগত প্রস্তাব বলা হয়।
২. কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি/শ্রেণী/জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রস্তাব রাখা যায় (Offer can be made for particular person, class or people at large)
চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি প্রস্তাব নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণী অথবা জনগণের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন –
ক. নির্দিষ্ট ব্যক্তিঃ ইহান আয়ানকে বললো আমার গাড়িটি তুমি দশ লক্ষ টাকায় কিনবে? তবে এটি হবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট প্রস্তাব।
খ. নির্দিষ্ট শ্রেণীঃ একটি ক্লাসে বই হারানো গিয়েছে। এ অবস্থায় ক্লাসে সকলের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হলো যে বইটি পাওয়া গেলে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
গ. সর্বসাধারণঃ জনগণ কে উদ্দেশ্য করে এমন প্রস্তাব করা হলো যে অমুক ব্যক্তি কে ধরিয়ে দিন কিংবা একটি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মুখের সন্ধানে করা হচ্ছে, ইচ্ছুক আগ্রহীগণ অতিসত্বর যোগাযোগ করুন। এরূপ প্রস্তাব হল জনগণ বা সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে পেশকৃত প্রস্তাব।
৩. প্রস্তাব শর্তাধীন হতে পারে(Offer can be conditional)
চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি চুক্তির প্রস্তাব শর্তাধীনও হতে পারে। এক বা একাধিক শর্ত জুড়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে জুড়ে দেওয়া শর্ত যুক্তিহীন বা অন্যায় বলে বিবেচিত হবে না।তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে-
ক. চুক্তির প্রস্তাবের শর্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এমন ক্ষেত্রে অপর পক্ষ দেখে নাই কিংবা বুঝে নাই এরূপ কথা বলে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার কোন সুযোগ নেই।
খ. শর্ত অবশ্যই যুক্তি সঙ্গতভাবে পেশ করা লাগবে। যাতে অন্য পক্ষটি সহজেই সব জানতে ও বুঝতে পারে। অন্যথায় এই ধরনের শর্ত কার্যকর ও প্রযোজ্য হবে না।
গ. চুক্তির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিহীন কিংবা অন্যায়মূলক শর্ত কখনোই জুড়ে দেওয়া যাবে না। তাই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য শর্ত বা শর্তসমূহ অবশ্যই থাকতে হবে। অন্যথায় শর্ত বা শর্তসমূহ বলবৎযোগ্য করা যাবে না।
৪. প্রস্তাবের শর্ত সুনির্দিষ্ট রাখা উচিত (Terms of offer must be defined):
প্রস্তাবের শর্ত বা শর্তাবলী সব সময়ই সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত হওয়া উচিত। অনির্দিষ্ট কিংবা অস্পষ্ট প্রস্তাব কখনোই প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন- কোন চিত্রকরকে বলা হলো যে আমার একটি ছবি এঁকে দিন, আপনাকে কিছু টাকা দেবো। এখানে টাকার পরিমাণ অস্পষ্ট, তাই এটি প্রস্তাব নয়।
৫. শুধুমাত্র ইচ্ছা প্রকাশ বা বিবৃতি দিলেই প্রস্তাব হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না (An intention or statement alone cannot be accepted as offer)
সম্মতি লাভের উদ্দেশ্য ব্যতিত কোন ইচ্ছা, বক্তব্য বা বিবৃতি আইনত প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন – বাবা তার মেয়ের হবু জামাইকে বললো, আমার মৃত্যুর পর সকল সম্পত্তিই মেয়ে পাবে। এটা তার শুধুই ইচ্ছে প্রকাশ। এটিকে প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৬. প্রস্তাব ও প্রস্তাবের আমন্ত্রণ পাওয়া এক বিষয় নয় (Offer & invitation to an offer isn’t be same thing)
একটি প্রস্তাব ও কোন প্রস্তাবের আমন্ত্রণ এক বিষয় নয়। যদি দোকানি কোন মূল্য তালিকা বিলি করে থাকে তবে এটি এক্ষেত্রে প্রস্তাবের আমন্ত্রণ হিসেবে গন্য হবে, প্রস্তাব হিসেবে নয়। যেমন- ঘোষণা করা হলো একটি কুকুর হারিয়ে গিয়েছে, কেউ পেলে তাকে ৫০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে, এমন হলে এটা একটা প্রস্তাব।
৭. প্রস্তাবগ্রহীতাকে অবশ্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানাতে হবে (Offer must be communicated to be offeree):
যার উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাকে অবশ্যই তা জানাতে হবে অন্যথায় তিনি তাতে স্বীকৃতি দিতে পারবেন না। কেউ যদি প্রস্তাব না জেনে প্রস্তাবিত কাজ করে দিলেও চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে না এবং পারিশ্রামিকও পাবেন না। এক্ষেত্রে Lalmon Vs Gouri Dutt 11 A.L.J. 489 মামলার বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। গৌরী দত্তের ভ্রাতুস্পুত্র হারিয়ে গেলে ৫০১ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
এদিকে বাচ্চা হারিয়ে গেছে বলে কাজের ছেলে-লালমনের খারাপ লাগলো। তাই সে খুঁজতে বের হলো। কিন্তু সে এই পুরস্কারের ঘোষণা জানতো না। তাই যখন বাচ্চাটি খুঁজে নিয়ে এসে লালমন টাকা দাবি করলেও আদালত বললো- যেহেতু পুরস্কারের ঘোষণা সম্পর্কে লালমন কিছুই জানেন না; তাই লালমন পুরস্কারও পাবেন না।
৮. প্রস্তাবে আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় থাকা উচিত (Proposal should have the intention of establishing a legal relationship)
একটি প্রস্তাবকে আইনগত ভিত্তির উপর ধার করাতে হলে প্রস্তাবের দ্বারা আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় বা ইচ্ছা অবশ্যই থাকতে হবে। উদাহারন হিসেবে বলা যায়, কোন বাসায় খাবার নিমন্ত্রণ করা হলো। এখানে একে অপর পক্ষ রাজী হয়ে নিমন্ত্রণে এসেছে তার পরও এটি চুক্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ এরূপ নিমন্ত্রণে চুক্তির ইচ্ছা থাকে না।
৯. গৃহীত হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যায় (The proposal can be revoked before it is accepted)
চুক্তি আইন-১৮৭২ এর ৫ ধারার বিধানানুসারে প্রস্তাব স্বীকৃত হওয়ার এবং প্রস্তাবকের বিপক্ষে স্বীকৃতির স্থাপন কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করন্দ্র সুযোগ থাকে, কিন্তু এর পরে আর সে সুযুগ থাকে না। প্রস্তাব প্রত্যাহার ব্যতিত বিশেষ ক্ষেত্রে তামাদি কিংবা বাতিলের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
১০. কোন প্রস্তাব চিরদিন বজায় থাকে না (Any offer isn’t stand for ever)
প্রস্তাবে স্বীকৃতির একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হবে, সময়সীমা না থাকলে যুক্তিসঙ্গত সময়ের পর এমনিতেই প্রস্তাবের বিলুপ্ত ঘটে যেতে পারে। তাই যুক্তিসঙ্গত সময়, পরিবেশ- পরিস্থিতির অবস্থা বিবেচনা এনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব রাখা উচিত।
উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, কিছু নিয়মের মধ্য দিয়েই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হয়। তা না হলে চুক্তি আইন-১৮৭২ অনুযায়ী প্রস্তাব আলোর মুখ দেখে না, আইনগত চুক্তি হিসেবেও পরিগণিত হয় না।
চুক্তি আইন আধুনিক দেওয়ানী আইনের ভিত্তি। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্র—সকল আর্থিক ও সামাজিক লেনদেনের মূলভিত্তি হলো চুক্তি। বাংলাদেশে চুক্তিসংক্রান্ত সকল আইনি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে চুক্তি আইন, ১৮৭২।
এই আইনের মৌলিক ধারণা সহজভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” প্রণয়ন করেছে “চুক্তি আইন (Contract Law)” সিরিজ, যেখানে ধাপে ধাপে চুক্তি আইনের প্রতিটি অধ্যায় আলোচনা করা হয়।
চুক্তি আইন পরিচিতি
১. চুক্তি আইন, ১৮৭২ : ঐতিহাসিক পটভূমি
চুক্তি আইন, ১৮৭২ মূলত ইংরেজি কমন ল ও ব্রিটিশ ভারতীয় চুক্তি আইনের ভিত্তিতে প্রণীত। উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে এটি প্রবর্তিত হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পুনরায় জাতীয় সংসদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।
বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রধান চুক্তি আইন হিসেবে বলবৎ রয়েছে।
২. চুক্তি আইনের পরিসর
চুক্তি আইন, ১৮৭২–এ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
প্রস্তাব ও গ্রহণযোগ্যতা
বৈধ ও অবৈধ চুক্তি
বাতিলযোগ্য ও বাতিল চুক্তি
কন্টিনজেন্ট চুক্তি
চুক্তির বাস্তবায়ন
চুক্তি ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ
জামিন (Guarantee)
সংস্থা (Agency)
অংশীদারিত্ব (Partnership)
বিবেচনা (Consideration)
ভুল উপস্থাপনা ও প্রতারণা
৩. চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা
চুক্তি আইন একটি মৌলিক দেওয়ানী আইন। অন্যান্য দেওয়ানী আইন যেমন—পণ্য বিক্রয় আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন—সবগুলোর ভিত্তি হিসেবে চুক্তি আইন কাজ করে।
চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ—
অধিকার ও দায় নিশ্চিতকরণ চুক্তির মাধ্যমে পক্ষগণের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়।
লেনদেনের নিরাপত্তা পণ্য, সেবা, সম্পত্তি ও অর্থ লেনদেনে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
বিবাদ নিষ্পত্তির পথ চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৪. চুক্তি আইনের উদ্দেশ্য
চুক্তি আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
পক্ষগণ যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে
অপর পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ করা
চুক্তি ভঙ্গ হলে ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা
চুক্তি আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে চুক্তিসংক্রান্ত মৌলিক বিষয়ের সংজ্ঞা, নীতিমালা ও আইনি কাঠামো নির্ধারণের জন্য। যেমন— প্রস্তাব, প্রতিদান, অঙ্গীকার, বাতিল চুক্তি, কন্টিনজেন্ট চুক্তি ইত্যাদি।
৫. চুক্তি আইনের সীমাবদ্ধতা
চুক্তি আইন, ১৮৭২ একটি মৌলিক আইন হলেও এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্যান্য আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়—
বিষয়
প্রযোজ্য আইন
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, চুক্তি বাতিল
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
পণ্য ক্রয়-বিক্রয়
পণ্য বিক্রয় আইন, ১৯৩০
স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২
অতএব, চুক্তি আইন একা সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং এটি অন্যান্য দেওয়ানী আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে চুক্তি আইন একটি অপরিহার্য ভিত্তি। এটি পক্ষগণের স্বাধীনতাকে সীমার মধ্যে এনে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। চুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক আইনসম্মত ও সুসংহত হয়।
চুক্তি আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা একজন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি চাইলে আমি এই লেখাটি নোট, লেকচার স্ক্রিপ্ট বা প্রশ্নোত্তর আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।
মানুষ বিচার চায় না কেন? শিরনামে বিশিষ্ট সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন:
জায়েদুল আহসান পিন্টু
১. বেশ ক’বছর ধরে শুনছি বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা। শুনতে শুনতে ক্লিশে হয়ে গেছে শব্দটা। সুশীল সমাজ আর বিরোধী পক্ষ অনেকদিন ধরেই একথা বলছে। আর আজকাল সাধারণ নাগরিকদের কেউ কেউ বিচারই চাইছেন না। তারা বলছেন বিচার চেয়ে কী হবে। সাধারণ নাগরকিদের মনের এই ভাবনা উদ্বেগেরই না। রীতিমত ভয়ানক ভবিষ্যতের ঈঙ্গিত দেয়।
২. তার মানে কি দেশে বিচার হচ্ছে না? বিচার চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না? বিষয়টা কি সত্যি তাই? আমরাতো দেখছি গড়ে প্র্রতিদিন একজন করে মানুষের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হচ্ছে। এখনো কারাগারের কনডেমড সেলে দুই হাজারেরও বেশি আসামী মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে বন্দি আছে। প্রতিদিন সারাদেশে বিচারকরা শত শত রায় দিচ্ছেন। তাহলে বিচারটা হচ্ছে না বা পাচ্ছি না বলছি কেন? উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা করা যাক।
[ মানুষ বিচার চায় না কেন? – জায়েদুল আহসান পিন্টু ]
৩. বিচার বিভাগ যে বছর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয় সেবছর অর্থাৎ ২০০৭ সালে দেশে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৫ লাখের একটু বেশি। আর বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের কাছাকাছি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ অনিষ্পন্ন মামলা যুক্ত হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা বানরের পিচ্ছিল বাশ বেয়ে ওপরে উঠার মতো। ১০টা নতুন মামলা হলে ৮টার নিষ্পত্তি হয়। ২টা জমে যায়। পরের বার ১১টা মামলা হলে ৮ নিস্পত্তি হয় জমে যায় আরো ৩টা। সাথে পুরানো ২টাতো আছেই। এভাবে জমতে জমতে ১৫ বছরে ২৫ লাখ মামলা যুক্ত হয়ে এখন ৪০ লাখ হয়েছে।
৪. দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য বিচারক একজন। তার মাথায় ২০০০ মামলা। এসব তথ্য আমরা সবাই জানি। সংসদে প্রায় প্রতি অধিবেশনেই কোন না সাংসদ এই প্রশ্নটি করেন। আর আইনমন্ত্রী মামলা জটের হিসাব দেন। পাশাপাশি এটাও বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কার্যক্রম নিয়েছে। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন আদালত গঠন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ মামলা নিষ্পত্তিতে তদারকি বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনমন্ত্রীদেরও এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ হয়ে গেছে।
৫. সরকারগুলো কী যে পদক্ষেপ নিয়েছে/নিচ্ছে তাতো দেশবাসী দেখতেই পাচ্ছে। আমারতো মনে হয় স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই একটি মন্ত্রণালয় তেমন কোন কাজই করেনি। দেশের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে যে আমূল পরিবর্তন আনা দরকার সেটা কেউই করেননি। সবাই শুধু বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই দেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ ক্রসফায়ারের পক্ষে কথা বলেন। কিছুদিন আগ পর্যন্ত সরকারগুলোও ক্রসফায়ারের পক্ষে ছিল। যার অর্থ হলো বিচারে আস্থা নেই। এই আস্থাহীনতা একটা সময় অরাজকর পরিস্থিতির জন্ম দিবে কোন সন্দেহ নেই।
৬. গত বছর এক ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বলতে হয়েছিল, ‘বিচার বিভাগ পৃথককরণ হয়েছে ২০০৭ সালে, আজ ২০২১ সালেও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবনের জন্য সব জায়গা অধিগ্রহণ হয়নি, তারপর বিল্ডিং করতে হবে। আমি আর কত বলবো?’ তাইতো প্রধান বিচারপতি আর কত বলবেন?
৭. তবে আমি বলি ভিন্ন কথা। শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ালেই বিচারের জট কমবে না। পাশাপাশি কমাতে হবে মামলার উৎপত্তিস্থল। মামলা সৃষ্টির কারণ বন্ধ করতে হবে। আর সেজন্য দরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন।
৮. হ্যা, এটা ঠিক বিচারকের সঙ্কট তাৎক্ষণিকভাবে মিটানো সম্ভব না। তাই বলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকবে না? কিছুই যদি না পারেন অবসরপ্রাপ্ত জজদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগতো দিতে পারতেন। আমলাদেরতো চুক্তিতে নিয়োগ দিতে কার্পণ্য করতে দেখি না।
৯. শুরুতে বলেছিলাম, বিচারের রায় হতে দেখি প্রতিদিন। কিন্তু যেটা দেখি না সেটা হলো রায় কার্যকর হওয়া। আবার যেটা ভাইরাল হয় না সেটার খবর রাখি না। আর বলছিলাম ফাঁসির আদেশ নিয়ে বন্দি আছে দুই হাজারেরও বেশি। হিসেব করে দেখা গেছে ২০-২৫ বছর লাগে একটি খুনের মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে। রায় পেতে যদি দুই যুগ লেগে যায় বিচারের কী দরকার। বিচার হয় কেন? সমাজে যেন অপরাধ না বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারের রায়ের কোন প্রভাবই নেই সমাজে। যে কারণে আজ দেশের মানুষ মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নীতি নির্ধারকরা এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না তাতো নয়। কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই কেন?
১০. এবার একটি পুরানো গল্প নতুন করে বলি। বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক বৃদ্ধ আসামীকে তিরস্কার করে বলছেন, আপনার মতো সিনিয়র সিটিজেন এক তরুনীর দিকে কুদৃষ্টি দিলেন কী করে? সমাজ আপনাদের কাছ থেকে কী শিখবে? তরুণ বয়স হলেও বুঝতাম বয়সের দোষ! জবাবে ওই বৃদ্ধ বলছেন, মাই লর্ড, ঘটনাটা তিন যুগ আগের, তখন আমার কাঁচা বয়সই ছিল, ওই যে দেখছেন না মামলার বাদিনী তার নাতি নাতনি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে আসছেন।
১১. উপরের গল্পটা রুপক হলেও এবার একটা আসল খবর দেই। একটা সংবাদ দেখেছিলাম মাস দুয়েক আগে। চ্যানেল ২৪ এ। খবরটা এরকম: ২০১০ সালে বগুড়ায় আড়াই হাজার টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন সরকারি এক প্রকৌশলী। দুদক মামলা করলো তার নামে। ২০১৩ সালে আদালত তাকে দুই বছরের সাজা দেয়। তিন বছর পর তাকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। মামলা যায় আপিল বিভাগে। সেই আপিল নিষ্পত্তি হয় চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে। দণ্ডাদেশ বহাল থাকে। ২৫০০ টাকার এই দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তিতে দুদকের খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা। সময় লেগেছে এক যুগ। আসামি কিন্তু লাপাত্তা।
চুক্তি আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো চুক্তির বাস্তবায়ন। একটি চুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবে পালন করা হয়। শুধুমাত্র চুক্তি সম্পাদনই যথেষ্ট নয়; বরং চুক্তির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় তখনই, যখন উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।
চুক্তি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে চুক্তি আইন (Contract Law) সিরিজ। এই সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— চুক্তির বাস্তবায়ন।
চুক্তির বাস্তবায়ন
১. চুক্তির বাস্তবায়ন কী?
চুক্তি পালনের অর্থ হলো, চুক্তির পক্ষসমূহের উপর আরোপিত দায় ও প্রতিশ্রুতিসমূহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
চুক্তি আইনের ধারা ৩৭ অনুসারে:
“The parties to a contract must either perform or offer to perform their respective promises, unless such performance is dispensed with or excused under the provisions of this Act or of any other law.”
অর্থাৎ— চুক্তির প্রত্যেক পক্ষকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে অথবা পালনের প্রস্তাব দিতে হবে, যদি না কোনো আইনগত বিধান তাদেরকে সেই দায় থেকে অব্যাহতি দেয়।
এই সংজ্ঞা থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের দুটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়—
প্রতিশ্রুতি পালন
প্রতিশ্রুতি পালনের প্রস্তাব
২. চুক্তি পালনের প্রস্তাব (Tender)
চুক্তি পালনের প্রস্তাবকে দাখিল (Tender) বলা হয়। দাখিল মানে চুক্তি বাস্তবে পালন নয়; বরং চুক্তি পালনের জন্য আন্তরিক ও বৈধ প্রয়াস।
চুক্তি আইনের ধারা ৩৮ অনুসারে, নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলে একটি দাখিল আইনসম্মত বলে গণ্য হবে—
(ক) প্রস্তাব অবশ্যই শর্তহীন হতে হবে
যদি প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত থাকে, তবে তা চুক্তি পালনের বৈধ প্রস্তাব হিসেবে গণ্য হবে না।
(খ) সঠিক সময় ও সঠিক স্থানে প্রস্তাব
চুক্তিতে নির্ধারিত সময় ও স্থানে দাখিল করতে হবে। এই বিষয় নির্ধারণে ধারা ৪৬–৫০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(গ) যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান
প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে অবশ্যই যুক্তিসংগত সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যেন তিনি প্রস্তাব গ্রহণ বা যাচাই করতে পারেন।
(ঘ) পরীক্ষার সুযোগ
যদি দ্রব্য সরবরাহের বিষয় থাকে, তবে প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে তা পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে।
৩. কে চুক্তি পালন করবে?
চুক্তি কে পালন করবে—এ বিষয়ে চুক্তি আইনে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
১. ব্যক্তিগতভাবে পালন (ধারা ৪০)
যদি চুক্তি প্রতিশ্রুতিদাতার দক্ষতা, সুনাম, নৈপূণ্য বা রুচি–র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেই ব্যক্তি নিজেই চুক্তি পালন করতে বাধ্য।
২. প্রতিনিধি দ্বারা পালন
যেসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা আবশ্যক নয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিদাতা তার প্রতিনিধি দ্বারা চুক্তি পালন করাতে পারেন।
৩. তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পালন
প্রতিশ্রুতি গ্রহীতা যদি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে চুক্তি পালনের বিষয় গ্রহণ করেন, তবে তিনি মূল প্রতিশ্রুতিদাতার বিরুদ্ধে আর দাবি তুলতে পারবেন না।
৪. প্রতিশ্রুতিদাতার মৃত্যু
যদি চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তির দায় শেষ হয়।
অন্য ক্ষেত্রে, প্রতিশ্রুতিদাতার আইনগত প্রতিনিধি বা উত্তরাধিকারী তার সম্পত্তির সীমার মধ্যে চুক্তি পালনে বাধ্য থাকবেন।
৫. যৌথ প্রতিশ্রুতি
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তারা যৌথভাবে বা পৃথকভাবে চুক্তি পালনে দায়বদ্ধ থাকবেন।
চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত ঃ
চুক্তির বাস্তবায়ন চুক্তি আইনের প্রাণভিত্তি। প্রতিশ্রুতি পালনের মাধ্যমেই চুক্তির উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং আইনগত সম্পর্ক কার্যকর রূপ পায়। ধারা ৩৭ থেকে ৪৫ পর্যন্ত বিধানসমূহ চুক্তির বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করে এবং পক্ষসমূহকে আইনের আলোকে তাদের দায় পালনে পথনির্দেশ দেয়।
আপনি চাইলে আমি পরবর্তী অংশে চুক্তি বাস্তবায়নের অব্যাহতি, অসম্ভবতা, ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ বিষয়গুলোও সংযোজন করে সম্পূর্ণ অধ্যায় তৈরি করে দিতে পারি।
ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। সেই ধারণা স্পষ্ট করতে আজকের আয়োজন। খুব সাধারণ ভাবে বললে – যে মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিচার চাওয়া হয়, সেটা দেওয়ানী মামলা। আর যেসব অপরাধ কে সাধারণত রাষ্ট্রবিরোধী ধরে নেয়া হয় যার, বা যার সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে দেওয়া আছে, সেসবের বিচার চাইতে হলে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।
ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য
দেওয়ানী মামলা:
দেওয়ানী মামলার উদাহরণ হল পারিবারিক বিষয়, অফিসিয়াল পদ সংক্রান্ত, চুক্তি সংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার উদাহরণ হল অপহরণ, চুরি, খুন। দেওয়ানী মামলা ব্যক্তি নিজে করে, ফৌজদারি মামলা দায়ের করে রাষ্ট্র পক্ষ। দেওয়ানী মামলার পক্ষদের নাম হল বাদী-বিবাদী, ফৌজদারি মামলায় বলা হয় রাষ্ট্র পক্ষ বনাম আসামী।
Suits of Civil Nature —মোটামুটিভাবে কোন অধিকার বা দায়বদ্ধতা নিয়ে। চুক্তি বা দলিল দ্বারা, পদ বা অধিকার। বৈধ ঘোষণা। নিষেধাজ্ঞা। নিরোধক প্রতিকার। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। সরকারি দলিল। রেকর্ড অফ রাইটস। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব।
দেওয়ানী মামলার সচরাচর কারাদণ্ড ৬ মাসের বেশি হয়না। দেওয়ানী মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ করতে হতে পারে ৬০%।
তবে দেওয়ানি মামলায় বাদী বা বিবাদী যদি কোন তথ্য উপাত্ত মিথ্যা/ভুল/ জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং সেটা যদি আদালত কর্তৃক মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তখন ঐ মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যিনি এ অপরাধ করেছেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে মামলা করা যাবে। এধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবার জন্য আদালতের রায় রয়েছে।
দেওয়ানি মামলার ধরন:
দেওয়ানি মামলার অনেক ধরন রয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা, সব ধরনের স্বত্ব, মানবিক সম্পর্ক (পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক) নিয়ে বিরোধ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি।
আর্থিক ক্ষতিপূরনের মামলা:
কোনো ব্যক্তি অন্য কারো দ্বারা শারীরিকভাবে বা অন্য কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ছাড়া মানহানিকর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও মামলা দায়ের করা যায়।
সম্পত্তির অধিকারের মামলা:
নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে তিনি সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।
স্বত্ব মামলা:
কোনো ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য বা ট্রেড লাইসেন্স এবং বইয়ের স্বত্ব কাউকে দেওয়ার পর যদি ওই ব্যক্তি এসব স্বত্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হোন তাহলে তিনি এ অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।
ভরণপোষণের অধিকার বিষয়ক মামলা:
মা-বাবা বৃদ্ধ হলে ছেলে যদি তাঁদের জন্য কোনো ভরণপোষণ না দেয় তাহলে আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন।
প্রার্থনার অধিকার মামলা:
কোনো ব্যক্তি মসজিদে নামাজ পড়তে না পারলে এবং মন্দিরে পূজা করতে না পারলে এবং গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সে অধিকার চেয়ে তিনি মামলা দায়ের করতে পারেন।
ভোটাধিকারের মামলা:
দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তিনি সে অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। যা দেওয়ানি আদালতের মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
যেসব আদালতে দেওয়ানি মামলায় করা যায়:
দেওয়ানী প্রকৃতির মামলাসমূহ (জায়গা জমি, অর্থসংক্রান্ত, পদের অধিকার সংক্রান্ত) যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে দেওয়ানী আদালত বলা হয়। এই আদালতের বিচারককে জেলা জজ বলা হয়। দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা করার জন্য প্রথমেই বিচারকের নিকট পিটিশন দাখিল করতে হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে ও দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হয়। তবে নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের পর কেবল উচ্চ আদালতে আপিল অথবা রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা পরিচালিত হয়।
ফৌজদারী মামলা:
ফৌজদারী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্র’ সংঘটিত অপরাধটির প্রতিকার/বিচার চায়। এখানে মুল পক্ষ হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম ‘অভিযুক্ত’। যেমন, আপনি হয়তো এমন অনেক ঘটনার কথা শুনে থাকবেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বলে, “আমরা মামলা করতে চাই না”। এমন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এফআইআর দাখিল করে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থাকে। সুতরাং, বাদী বা এফআইআর দাখিলকারী পরিবর্তন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এমন অনেক মামলার নজীর আছে যে, তথাকথিত ‘বাদী’র বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
এমন ক্ষেত্রে প্রসিডিউরটা হলো, তদন্তকারী ‘বাদী যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে’ তদন্তকালে স্বাক্ষ্য প্রমান পান, তবে মামলাটি চুড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) দাখিল করেন। একইসাথে, নতুন ‘সংবাদদাতা’ বা ‘বাদী’ নির্বাচন করে নতুন করে FIR দাখিল করে তদন্তকার্য শুরু করেন। আর বাদী যদি অভিযুক্ত না হয়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তাকে পরিবর্তন করতে চান; সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কগনিজেন্ট কোর্টে আবেদন দাখিল করবেন। বিজ্ঞ আদালত এক্ষেত্রে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত (Competent Authority).
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সেই কারাদণ্ড ৩০ বছর ও হতে পারে। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে সন্দেহাতীতভাবে, অর্থাৎ সাজা দেবার জন্য ১০০% সাক্ষ্য আসামীর বিপক্ষে প্রমাণিত হতে হবে।
ফৌজদারী মামলাতে বাদী হাজিরা না দিলে ওই মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য আইনগত বিধান রয়েছে। ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিন – যদি বাদী এক তিন মাস ধরে হাজিরা না দেয় তবে মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ১ বছর – যদি বাদী এক বছর ধরে হাজিরা না দেয় তবেও মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ৩ বছর – সর্বোচ্চ মামলা তিন বছর ধরে বহাল থাকতে পারে যদি বাদী একটি কারণ দেখায় যে তিনি কোনো কারণে হাজিরা দিতে পারেননি। সুতরাং, ফৌজদারী মামলায় বাদী হাজিরা না দিলে ৯০ দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তবে যতক্ষণ না নিষ্পত্তি হয়, সে মামলা বহাল থাকে।
ফৌজদারি মামলার ধরণ:
ফৌজদারি অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ বোঝায় যেগুলো দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য। এই অপরাধের বিচার হয় ফৌজদারি আদালত।
অপরাধের আমলযোগ্যতা:
যে অপরাধ সমূহ সংগঠিত হলে পরে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে, ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে, ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জামিন-যোগ্য অপরাধ:
ফৌজদারি কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিন-যোগ্য অপরাধের বা “Bailable Offence’ কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ‘জামিন-যোগ্য অপরাধ’ হচ্ছে সে সকল অপরাধ যা ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে জামিন-যোগ্য বলে দেখানো হয়েছে, অথবা যা বর্তমানে বলবত কোন আইন দ্বারা জামিন যোগ্য করা হয়েছে।
মামলা গ্রহণে আদালত ও থানার এখতিয়ার:
আদালতের দুই ধরনের মামলা ও মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার আছে। আরজি ও পিটিশন অফ কম্পলেইন্ট। থানা দেওয়ানী মোকদ্দমা দূরের কথা, সালিসি কার্যক্রমও করতে পারে না। এজাহার আর এফআইআর ছাড়া। আর তদন্ত কার্যক্রমে মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে পারে অপর্যাপ্ত সাক্ষের উপস্থিতিতে।
অপরাধ সম্পর্কিত মামলাসমূহ যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে আমরা ফৌজদারি আদালত ক্রিমিনাল কোর্ট বলে থাকি। আর এই আদালতের বিচারকে দায়রা জজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করার পরে প্রথমে তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জেলা জজ আদালতের এখতিয়ার:
জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা পরিচালিত হয়। এ আদালতে দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হলে তাকে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হলে তাকে ফৌজদারি আদালত বলে। সাধারণত এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলার আপিল জেলা জজ আদালতে দায়ের করতে হয়। জেলা জজ আদালত তাঁর নিম্ন আদালতের মোকদ্দমা স্থানান্তর সম্পর্কিত দরখাস্ত, রিভিশন শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন। পারিবারিক আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে থাকেন।
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত:
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারিক ক্ষমতা জেলা জজের সমান। তবে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল এ আদালতে সরাসরি দায়ের করা যায় না। জেলা জজ আদালতে দাখিল করলে জেলা জজ আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য এ আদালতে প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।
যুগ্ম জেলা জজ আদালত:
প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক যুগ্ম জেলা জজ থাকেন। তিনি দেওয়ানি মোকদ্দমার সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচারক। এ আদালত চার লাখ এক টাকা থেকে অসীম মূল্যমানের বিষয় বস্তুর মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও বিচার নিষ্পত্তি করতে পারেন।
সিনিয়র সহকারী জজ আদালত:
দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রয়েছে। সম্পত্তি, অফিস, ব্যক্তিগত অপকার, ক্ষতিপূরণ ও ধর্মীয় অধিকারসংক্রান্ত যাবতীয় মোকদ্দমা সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা হয়। এ আদালত দুই লাখ এক টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন।
সহকারী জজ আদালত:
এ আদালতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা মূল্যমানের বিষয় বস্তুর ওপর মামলা দায়ের করা যায়। এ আদালতের নিজস্ব কোনো আপিল এখতিয়ার নেই। সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চুক্তি কার্যকর, দলিল, চুক্তিপত্র, লিখিত অঙ্গীকারপত্র ইত্যাদি রদ ও রহিত, যেকোনো কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ রদ ও রহিত, দখল পাওয়া, সম্পত্তি বা অফিস সংক্রান্ত কোনো অধিকার সম্পর্কে ঘোষণা পাওয়া, টাকা আদায়, সম্পত্তি অগ্রক্রয়, নির্বাচন সংক্রান্ত মোকদ্দমা দায়ের করা যায়।
ফৌজদারি মামলা দায়ের:
বর্তমান বলবৎযোগ্য ফৌজদারি কার্যবিধি তে বলা আছে কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য নয়। আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ সেই অভিযোগ টি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রেরণ করবে আর আমল যোগ্য মামলায় পুলিশ আপনাকে মামলা দায়ের এর সাথে সাথে গ্রেফতার করতে পারবে আর আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা দায়ের করতে পারবে। আপনার নামে মামলা হতে পারে ২ ভাবে প্রথমত থানায় সরাসরি এজাহার দায়ের এর মাধ্যমে দ্বিতীয়ত আদালতে আর্জি দাখিলের মাধ্যমে।
থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে বা গ্রেফতার না করেও আপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারে এর পর আদালত আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে। এছাড়াও আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আপনাকে সমনের মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বা ওয়ারেন্ট বলে আটক করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। এখন এমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় যে আপনার নামে মামলা হতে পারে তাহলে আপনি সংশ্লিষ্ট থানায় এবং সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন মামলা হয়েছে কি না।
থানায় অভিযোগ দায়ের করলেই মামলা হয়ে যায় না। যদি তা এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা না হয়। আর অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনও সুযোগ নেই। যদি থানার ওসি বিষয় টি নিয়ে সন্দেহ আছে মনে করেন তাহলে একজন এস আই কে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি অপরাধ টি আমলযোগ্য হয় তাহলে এজাহার দায়ের হবে , আমল অযোগ্য হলে আদালতে অনুমতি নিয়ে মামলা দায়ের হবে যদি মিথ্যা হয় তাহলে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। আর মামলা দায়ের হয়ে গেলে ফৌজদারি কার্যবিধি র দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখ আছে কোন টি আপোষ যোগ্য কোনটি আপোষ যোগ্য নয় কোনটি আদালতে অনুমতি সাপেক্ষে আপোষ যোগ্য সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ফৌজদারি মামলার ধাপ:
১. থানায় এজাহার এর মাধ্যমে অথবা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট নালিশ দায়ের মাধ্যমে।
২. জি আর মামলা / সি আর মামলা।
৩. ওয়ারেন্ট, আসামী জামিন প্রাপ্ত অথবা জেলে হাজতে প্রেরণ।
৪. পুলিশ কর্তৃক চার্জশীট দাখিল অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল
৫. আদালত কর্তৃক আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জ ঘটন অথবা আসামীদের অব্যাহতি।
৬. বাদী পক্ষে সাক্ষীর জবান বন্দি। আসামী কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা।
৭. যুক্তিতর্ক
৮. রায়
৯. রায়ের বিরুদ্ধে আপীল অথবা রিভিশন।
১০. উচ্চ আদালতে আপীল অথবা রিভিশন মুঞ্জর অথবা না মুঞ্জর।
অন্যান্য মামলা:
সাধারণত যেকোনো বিষয়ে হোক সেটা দেওয়ানী অথবা ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টের অধীনস্থ দেওয়ানী/ফৌজদারি আদালতে করা হয় শুধু মাত্র কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়। যেমন, কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, কপি রাইট মামলা, এডমিরালটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।
রিট মামলা:
রিট সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যেকোনো নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মত হলেও মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। আমরা মামলা করি প্রচলিত আইনের অধীনে হাইকোর্টের অধীনস্থ কোর্টে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন আইনের অধীনে উক্ত সমস্যার কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ জনস্বার্থে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে যাকে রিট বলা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
আবার কেউ যদি মনে করেন সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।যিনি মামলা করার যোগ্যতা রাখেন তিনি রিট ও করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়ে রিট করতে চান সে বিষয়ের প্রতিকার সরাসরি অন্য আইনে উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, কিছু কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দু’টিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
উকিল নোটিশ (Legal Notice) এক ধরনের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। কোনো ব্যক্তি দ্বারা মৌখিক, লেখালেখি বা আর্থিক অথবা অন্য যেযকোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে পারেন। কারো বিরুদ্ধে মামলা করার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এ নোটিশ দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না এলে, বা জবাব সন্তুষ্টিজনক না হলে মামলা দায়ের করতে হয়।
উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
Notice শব্দের অর্থ সতর্কীকরণ এবং সংবাদজ্ঞাপন। তাহলে, সাধারণত উকিল নোটিশ (Legal Notice) বলতে বোঝায়, যখন নোটিশ-দাতা একজন বিজ্ঞ উকিল বা আইনজীবীর মাধ্যমে কোন নোটিশ গ্রহীতাকে অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন অভিযোগ জানায়, বা, দায়িত্ব পালনের জন্য আহবান জানায়, বা, কোন অধিকার খর্ব হয়েছে কিংবা হবার উপক্রম হয়েছে সেটা জানায়, এবং সেটা করতে ব্যর্থ হলে তর্কিত বিষয় নিয়ে মোকদ্দমা দাখিল করার আগাম বার্তাও জানায়। উকিল নোটিশকে Legal Notice, এডভোকেট নোটিশ, আইনী নোটিশ ও আইনী বিজ্ঞপ্তি-ও বলা হয়।
মনে রাখবেন উকিল নোটিশ বা Legal Notice কোন মামলা নয়। উকিল নোটিশ (Legal Notice)-কে মামলা বা কোন আইনী প্রক্রিয়ার পূর্ব পদক্ষেপ বলা যেতে পারে।
উকিল নোটিশ কি ?
কতিপয় মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিপক্ষকে উকিল নোটিশ দিতে হয়। সাধারণত মামলার বাদীপক্ষ নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ প্রেরণ করে। আপনি যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন সে ব্যক্তি যদি লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত বিষয়বস্তুর সমাধান উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে না করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোন আইনে এবং কোন ধারায় মামলা করা হবে, সবকিছু সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে৷
লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ হলো কোন সংস্থা বা ব্যাক্তিকে এমন কোন বিষয়ে আইনগত ভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে অবহিত করা যা পালন না করলে নোটিশদাতা নোটিশ গ্রহিতার বিরূদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মর্মে ঘোষনা দেন। এই রূপ লিগ্যাল নোটিশ মূলত কারো বিরূদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের চুড়ান্ত সংকেত। এবং এর উদ্দেশ্য হলো নোটিশ গ্রহিতাকে নোটিশে উল্লিখিত বিষয় সর্ম্পকে অবহিত করা। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উৎসাহিত করা
উকিল নোটিশের সময়:
উকিল নোটিশে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে কত দিন সময় দিতে হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সরকার প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর পর সরকারি ডাকযোগে প্রতিপক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা বরাবর পাঠাতে হয়।
সবসময় মনে রাখবেন আপনি যে বিষয়ে বিরোধ উত্থাপন করছেন এবং ওই বিরোধের প্রতিকার যে আইনের অধীনে দাবি করছেন বা যে আইনে মামলা করবেন বলে ভাবছেন, সে আইনে যদি নির্দিষ্টভাবে বলা থাকে লিগ্যাল নোটিশে কতদিন সময়সীমা প্রদান করতে হবে? তাহলে আইনে উল্লেখিত ওই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই দিতে হবে প্রতিপক্ষকে৷
ধরুন – আপনি যদি চেক ডিজঅনারের মামলা করতে চান, তাহলে নেগোসিয়েটেবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনাকে অবশ্যই মামলা করার আগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে এবং লিগ্যাল নোটিশে প্রতিপক্ষকে বা যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে ৩০ দিন সময় প্রদান করতে হবে৷ লিগ্যাল নোটিশে এই সময় প্রদানের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে সে লিগ্যাল নোটিশের উল্লেখিত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারে৷ আর যদি সে এই ৩০ দিনের মধ্যে টাকা প্রদান না করে বা বিরোধটি নিষ্পত্তি না করে, তাহলে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আপনি মামলা করতে পারবেন৷
উকিল নোটিশ (Legal Notice) কাকে দেওয়া যায়:
Legal Notice যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যায়। এখানে কোন সীমাবদ্ধতা রাখা হয় নি। এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করে।
উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে কত টাকা লাগে:
Legal Notice লিখতে কত লাগবে সেটা নির্ভর করবে বিজ্ঞ আইনজীবীর ওপর। সাধারণত ঘটনার জটিলতা, গুরুত্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে একজন বিজ্ঞ আইনজীবী তার ফি নির্ধারণ করেন।
উকিল নোটিশ (Legal Notice) দেবার জন্য কি লাগে:
উকিল নোটিশ দিতে হলে নিম্নোক্ত তথ্য সংগ্রহ করুন –
আপনার পূর্ণ নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা
যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবেন তার পূর্ণ নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
ঘটনার পূর্ণ বিবরণ
ঘটনার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এই তথ্যগুলো নিয়ে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। তার সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
উকিল নোটিশ পেলে করণীয়:
আপনার নামে কেউ উকিল নোটিশ পাঠালে আপনার তাৎক্ষণাত করণীয় হচ্ছে সে নোটিশের জবাব দেয়া। কেননা, নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তীতে মামলার বিচারকালে অনুমান সৃষ্টি হয় যে আপনি নোটিশের বিষয় স্বীকার করে নিয়েছে। আমাদের কাছে ওয়েব সাইট এবং ফেইসবুকে মাধ্যমে আসা বিভিন্ন কাজের মধ্যে উকিল নোটিশ এর কাজ সবচেয়ে বেশী পরিমানে আসে।
উকিল নোটিশের পরে মামলা দায়ের:
উকিল নোটিশ পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উকিল নোটিশের সঠিক জবাব বা প্রতিকার না পেলে নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করতে পারবেন। নোটিশে উল্লেখ করা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের আগে মামলা করা যায় না।
উকিল নোটিশ ও মামলার জন্য আইনজীবী:
দক্ষ আইনজীবীকে দিয়ে উকিল নোটিশ দেয়া উচিৎ। উকিল নোটিশ প্রেরণের ক্ষেত্রে আইনজীবীকে ফি দিতে হয়। অধিকাংশ আইনজীবী দায়মুক্তির জন্য উকিল নোটিশ দেওয়ার আগে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেন। তবে উকিল নোটিশের সঙ্গে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা পরিচালনার জন্য যেকোনো আইনজীবীর কাছেই যাওয়া যেতে পারে।আইনজীবীরা বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন। কাজেই কোন আইনজীবী কোন বিষয়ে দক্ষ, সেটি জেনে আইনজীবী বাছাই করা ভালো।
মামলার খরচ
মামলায় খরচ হয় সাধারণত দুই ভাবে। একটি আইনজীবীর ফি বাবদ, অন্যটি দাপ্তরিক খরচ বাবদ। আইনজীবীর ফির অঙ্ক নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন আইনজীবী নানা ধরনের মামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্কের ফি নেন। স্বাভাবিকভাবেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ফির অঙ্কটা বেশি হয়। মামলার ধরণ বুঝে দাপ্তরিক খরচ নির্ধারিত হয়।
মামলা শুরু করা
এ কাজটি আইনজীবী বা তার সহকারী করে থাকেন। কোর্ট অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করলে সেখানে একটি নম্বর দেওয়া হয়। এর পর কোর্টের একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করাতে হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। মামলার একাধিক দিন শুনানি হতে পারে। প্রতিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেওয়া হতে পারে। তবে এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলে পুনরায় অন্য একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ কার্যতালিকাকে কজলিস্ট বলা হয়।
প্রেরকঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান
পিতাঃ সামসুর রহমান
গ্রামঃ মিঠাপুকুর, দিনাজপুর
এর পক্ষেঃ
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
এডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, দিনাজপুর
জনাব,
আমার মক্কেল যিনি নোটিশ দিচ্ছেন তার অনুরোধে আমি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে আপনার অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে,আপনি আমার মক্কেলের নিকট দিনাজপুরের বাড়ববাজার সংলগ্ন এলাকায় ৫০,০০,০০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ শতক জমি বিক্রয় করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, আপনি চুক্তিবদ্ধ টাকার ২০% অগ্রীম হিসেবে দাবী করেছিলেন এবং আমার মক্কেল জমির রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনাকে সেই টাকা দিয়ে দেয় এবং বাকি টাকা দেয়ার জন্য কয়েকসপ্তাহ সময় চেয়ে নেয়। কিন্তু এর তিনদিন পরেই কাগজপত্রের জালিয়াতিসহ জমির বিষয়ে নানান ধরনের জটিলতা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আপনার আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করার নিমিত্তে আমি আমার মক্কেলের তরফ হইতে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করছি। উক্ত বিষয়ে আপনি যদি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়া সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে আপনার বিরুদ্ধে এন. আই এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেগ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমার মক্কেল বাধ্য হবেন।
বিঃদ্রঃ ভবিষ্যৎ কার্যার্থে লিগ্যাল নোটিশটির এক কপি আমার নিকট সংরক্ষিত থাকবে।
ধন্যবাদান্তে-
মোঃ…………
এডভোকেট
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
জেলা ও দায়রা জজ,দিনাজপুর
উকিল নেটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ লেখার নমুনা ২-
হইতে,
মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রুম নং -৬
জর্জ কোট,গাজীপুর।
বিষয়ঃ স্ত্রীকে স্বামী গৃহে ফিরে আশার জন্য লিগ্যাল নোটিশ্।
জনাব,
আমি আমার উপরোক্ত মোয়াক্কেল মোঃ মোশারফ হোসেন কর্তৃক আদৃষ্ট ও ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া মোসাঃ কল্পনা বেগম আপনাকে এই মর্মে অভিহিত করিতেছি যে,
১। যেহেতু আমার মোয়াক্কেলের সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনার সহিত বিবাহ হয় বটে। বিবাহের পর হইতে আপনি নোটিশ গ্রহিত্রী নোটিশ দাতার সংসারে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করিয়া আসিতেছেন এবং আমার মোয়াক্কেল ও আপনার সংসারে দুইজন পুত্র সন্তান রয়েছে। বিগত ১৫/০২/২০১৫ তারিখে আমার মোয়াক্কেল কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে গেলে এবং তার পুত্র স্কুলে চলিয়া গেলে আপনার বাপের বাড়ীর লোকজনের কু পরামর্শ মতে আপনি এই সুযোগে আমার মোয়াক্কেলের ঘরে রাখা নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণে চেইন,একটি আঙটি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সহ মোয়াক্কেলের কোলের সন্তানকে রাখিয়া আপনার বাপের বাড়ী আসিয়া পড়েন।
আপনার সহিত আমার মোয়াক্কেলের কোন ঝগড়া বিবাদ, মারা মারি ও কথা কাটা কাটি পর্যন্ত হয় নাই। পরবর্তীতে আমার মোয়াক্কেল আপনার পরিবারের লোকজনকে ও আপনি নোটিশ গ্রহীতাকে আমার মোয়াক্কেলের সাথে জঘন্য খারাপ ব্যহার করেন এবং উপরোল্লেখিত টাকা ও সোনা গহনা দাবী করলে আমার ও আমার সন্তানের জানের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন।
২। যেহেত আপনি আমার মোয়াক্কেলেল বিবাহিতা স্ত্রী বটে। মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক প্রত্যেক স্ত্রী তাহার স্বামীর নির্দেশে পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ মানিয়া মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক জীবন যাপন করিবেন ইহাই কাম্য। কিন্তÍ আপনি আমার মোয়াক্কেলের কোন কথারই কর্ণপাত করিতেছেনা। তাহার কথাকে অমান্য করিয়া তাহাকে স্বামীর অধিকার হইতে বঞ্চিত করিয়া নিজের ইচ্ছায় চলাফেরা করিতেছেন।
৩। অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে স্বামী গৃহে ফিরিয়া আসিবেন অন্যথায় নোটিশ দাতা আপনার বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হইবেন। এরূপ ক্ষেত্রে সকল পরিনতি জন্য আপনি নিজেই দায়ী থাকিবেন।
(বিঃদ্রঃ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য অত্র নোটিশের ১ কপি আমার সেরেস্তায় জমা রহিল)।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রোম নং -১২,জর্জ কোট,গাজীপুর।
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফেসবুক পাতায় অনেকেই সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন। এই দুটি বিষয় মূলত নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠার সাথে সম্পর্কিত।
শব্দার্থ
সিকস্তি (Diluvion) ফার্সি শব্দ। অর্থ— নদীর ভাঙনে জমি বিলীন হওয়া।
পয়স্তি (Alluvion) এটিও ফার্সি শব্দ। অর্থ— ভেঙে যাওয়া জমি আবার চর হিসেবে নতুন করে উত্থিত হওয়া।
নদী ভাঙ্গন
ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি
নদী ভাঙন ও ভূমির সিকস্তি–পয়স্তি বিষয়ে আইনসমূহ
বাংলাদেশে সিকস্তি ও পয়স্তি সংক্রান্ত আইনগুলো সময়ের সঙ্গে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। নিচে ধারাবাহিকভাবে তা তুলে ধরা হলো—
১. ১৮২৫ সাল
Alluvion & Diluvion Regulation এই আইনের মাধ্যমেই প্রথমবার নদীভাঙন ও চরজমির বিষয়ে আইন করা হয়। বর্তমানে এটি কার্যকর নেই।
২. ১৯২৩ সাল
The Bengal Alluvion Lands Act এই আইনটিও বর্তমানে বলবৎ নেই।
৩. ১৯৫০ সাল
প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ – ধারা ৮৬ এখানে বলা হয়—
সিকস্তি জমি যদি ২০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক ৪ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমির মালিকানা ফিরে পাবেন।
৪. ১৯৭২ সাল
পি. ও. ১৩৫/১৯৭২ এই আদেশে বলা হয়—
সিকস্তি জমিতে পূর্ব মালিকের স্বত্ব চিরদিনের জন্য বিলোপ হবে।
৫. ১৯৯১ সাল
অধ্যাদেশ নং ৩/১৯৯১ এতে বলা হয়—
যদি সিকস্তি জমি ২০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিকের মালিকানা বহাল থাকবে।
কিন্তু একই বছর—
অধ্যাদেশ নং ২৫/১৯৯১ দ্বারা ৩/১৯৯১ বাতিল করে আবার পি. ও. ১৩৫/১৯৭২ পুনর্বহাল করা হয়।
৬. ১৯৯৪ সাল
আইন নং ১৫/১৯৯৪ এটি প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৬ ধারার সর্বশেষ সংশোধনী।
১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইনের মূল রূপরেখা
সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশরা নিম্নোক্ত শর্তে মালিকানা ফিরে পাবেন—
পয়স্তি অবশ্যই স্বস্থানে হতে হবে (Reformation in situ)
পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশদের মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হলে তারা সুবিধা পাবেন না।
জেলা প্রশাসক বাস্তব অবস্থা যাচাই করে জমি বরাদ্দ দেবেন।
বরাদ্দের পরেও মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হতে পারবে না।
এই আইন ১৩ জুলাই ১৯৯৪-এর পর সিকস্তি/পয়স্তিকৃত জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আইন কার্যকর থাকবে।
স্বস্থানে পয়স্তি (Reformation in situ) কী?
নদীভাঙনের ফলে যদি এক পাড়ের জমি ভেঙে—
নদীর অপর পাড়ে, বা
ডানে বা বামে
সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে
চর হিসেবে আবার জেগে ওঠে, তবে সেটিকে স্বস্থানে পয়স্তি বলা হয়।
নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনগুলো জানা থাকলে ভূমি হারানোর ভয় অনেকটাই কমে আসে এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
আপনার ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা বা প্রশ্ন থাকলে জানালে যথাসাধ্য দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমি আনন্দিত হব।
নতুন চর
পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস:
বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম নদীগঠিত বদ্বীপ অঞ্চলগুলোর একটি। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের কিছু পার্বত্য এলাকা বাদ দিলে দেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডই নদী দ্বারা গঠিত। তিনটি প্রধান নদী—গঙ্গা/পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র/যমুনা ও মেঘনা—হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি বহন করে আনে।
প্রতিবছর এই নদীগুলো কোটি কোটি টন পলি জমা করে নদীর তলদেশ উঁচু করে তোলে। কোথাও নদীর পাড় ভেঙে যায়, আবার কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে। এভাবেই একদিকে ভূমিক্ষয় (শিকস্তি বা Diluvion) ঘটে, অন্যদিকে নতুন ভূমিগঠন (পয়স্তি বা Alluvion) হয়। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চরজমি ও নদীভাঙন কবলিত অঞ্চল।
নদীভাঙন ও চরজাগার এই চক্র প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও অধিকার। ফলে এই পরিবর্তিত জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ধীরে ধীরে পয়স্তি ও শিকস্তি সংক্রান্ত আইন ও প্রথা গড়ে ওঠে।
১৮২৫ সালের প্রবিধান: প্রথম আইনগত স্বীকৃতি
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে, বিশেষ করে বিচার-আদালত প্রতিষ্ঠার পর চরজমির মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে থাকে। তখন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় আদালতগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৮২৫ সালে “Bengal Alluvion and Diluvion Regulation” জারি করা হয়।
এই প্রবিধানের উদ্দেশ্য নতুন আইন তৈরি করা নয়, বরং তখনকার প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের স্বীকৃতি দেওয়া। যেখানে স্পষ্ট প্রথা ছিল, সেগুলোকেই বৈধতা দেওয়া হয়। আর যেখানে প্রথা স্পষ্ট ছিল না, সেখানে এই প্রবিধানের মূলনীতিকে আদালতের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে রাখা হয়।
এই আইনে দুই ধরনের জমির কথা বলা হয়—
স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি (Reformation in situ) অর্থাৎ, যেই জমি নদীতে ভেঙে গেছে, সেটি আবার সেই একই স্থানে জেগে উঠলে পূর্ব মালিক তার অধিকার ফিরে পাবেন।
নতুন ভূমিগঠন বা চরজমি অর্থাৎ, যেই জমি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে এবং আগে কোনো মালিকানার আওতায় ছিল না।
এই দুই ধরনের জমির মালিকানা আলাদা নীতির অধীনে নির্ধারিত হবে।
শিকস্তি জমির মালিকানার ধারণা
১৮২৫ সালের প্রবিধানের একটি মৌলিক ধারণা হলো— জমি পানির নিচে গেলেও মালিকের অধিকার নষ্ট হয় না।
অর্থাৎ, শিকস্তি হওয়ার পর যতদিন জমি পানির নিচে থাকে, আইনগতভাবে ধরা হয় যে মালিক এখনও তার জমির দখলেই আছেন। যখন সেই জমি আবার দৃশ্যমান হয়, তখন তিনি তার মালিকানা দাবি করতে পারেন।
এই নীতিটি প্রিভি কাউন্সিলের বিচারব্যবস্থায়ও স্বীকৃত হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
১৮৫৯ ও ১৮৮৫ সালের আইন
১৮৫৯ সালের বঙ্গীয় খাজনা আইন এবং ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন— এই দুই আইনে শিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক নীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এখানে বলা হয়—
যদি কোনো প্রজার জমি পয়স্তির কারণে বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে অতিরিক্ত খাজনা দিতে হবে।
আর যদি শিকস্তির কারণে জমি কমে যায়, তবে তার খাজনাও অনুপাতে কমবে।
১৮৮৫ সালের আইনে পরবর্তীতে ৮৬-ক ধারা যুক্ত হয়, যেখানে বলা হয়—
যদি কোনো প্রজা শিকস্তির কারণে খাজনা কমানোর সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা এই অর্থে ধরা হবে যে তিনি ঐ শিকস্তি জমির অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। তবে ১৯৩৮ সালের সংশোধনীতে বলা হয়— ২০ বছরের মধ্যে জমি পুনরায় জেগে উঠলে প্রজা তার অধিকার ফিরে পাবেন।
নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর
১৯৫০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত আইনগত পরিবর্তন
১. ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন
১৯৫০ সালে প্রণীত হয় “জমিদারি তালুক হুকুমদখল ও প্রজাস্বত্ব আইন”। এই আইনে প্রথমবারের মতো পয়স্তি ও শিকস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ও পৃথক বিধান যুক্ত করা হয়।
ধারা ৮৬ – শিকস্তি জমি
এখানে বলা হয়—
শিকস্তির কারণে যদি জমি নষ্ট হয়, তবে প্রজা খাজনা হ্রাসের সুবিধা পাবে।
জমি পুনরায় জেগে উঠলে (স্বস্থানে) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজা তার অধিকার ফিরে পেতে পারে।
ধারা ৮৭ – পয়স্তি জমি
এখানে বলা হয়—
নদী বা সমুদ্র থেকে ধীরে ধীরে যে জমি গঠিত হয়, সেটি পয়স্তি জমি।
এই জমি তখনকার আইনে মূলত নদীতীরবর্তী মালিকের জমির সম্প্রসারণ বলে ধরা হতো।
এই দুটি ধারা ১৮২৫ সালের প্রবিধানের মূল নীতিকে আধুনিক আইনি কাঠামোতে যুক্ত করে।
২. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি. ও. ১৩৫/১৯৭২)
১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট জারি হয় রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৩৫/১৯৭২। এটি ছিল একটি বড় মোড়।
এতে বলা হয়—
শিকস্তি জমিতে প্রজার মালিকানা বিলুপ্ত হবে। জমি যদি পরে পুনরায় গঠিত হয়, তবে তা সরকারি খাসজমি হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থাৎ, আগে যেখানে প্রজার অধিকার বজায় থাকতো, সেখানে এখন সরকার মালিক হবে—এই নীতিই কার্যকর হয়।
তবে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়—
যদি ১৮২৫ সালের প্রবিধানের আলোকে পূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রজাকে মালিক বলে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তাহলে সে অধিকার বাতিল হবে না।
৩. ১৯৯৪ সালের সংশোধনী (আইন নং ১৫/১৯৯৪)
দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও বাস্তব সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার আবার আইন সংশোধন করে।
১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইন দ্বারা বলা হয়—
শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত হয়,
এবং প্রজার মোট জমি ৬০ বিঘার কম হয়,
তবে প্রজা বা তার ওয়ারিশ মালিকানা ফিরে পাবেন।
তবে—
৩০ বছর পার হলে জমি পুনর্গঠিত হলে তা সরকারের সম্পত্তি হবে।
প্রজাকে খাজনা হ্রাসের প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হবে।
এই আইনই বর্তমানে মূল অবস্থানে পুনর্গঠিত জমির মালিকানা নির্ধারণে প্রযোজ্য।
৪. ১৯৫৬ সালের পর নদীতলের মালিকানা
জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর (১৯৫৬)—
ছোট ও অগভীর নদী যেগুলোর জলকর (মাছ ধরার) অধিকার ছিল,
সেগুলোও সরকার অধিগ্রহণ করে।
ফলে এরপর থেকে এসব নদীতে জেগে ওঠা চরও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
নদী ভাঙ্গন
চর দখল, সহিংসতা ও বর্তমান বাস্তবতা:
১. বড় নাব্য নদীর চর ও মালিকানা
বড় নাব্য নদী (যেমন পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) এবং সমুদ্রে গঠিত চরগুলোর ক্ষেত্রে নদীতল বা সমুদ্রতল রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই এসব নদীতে গঠিত চরকে কোনো ব্যক্তির মূল জমির সম্প্রসারণ বলা যায় না।
তবে ১৮২৫ সালের প্রবিধানে তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে—
ক) ধীরে ধীরে গঠিত চর
যদি অলক্ষ্যে ও ধীরগতিতে চর গঠিত হয়, তবে সেটিকে নদীতীরবর্তী জমির সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
খ) প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন চর
যদি চরটি মূল ভূখণ্ড থেকে একটি নাব্য প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেটি সারা বছর নৌচলাচলযোগ্য হয়, তবে চরটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে। কিন্তু যদি প্রণালীটি পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়, তবে চরটি মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
গ) এভালশান (Avulsion)
যদি নদীর আকস্মিক প্রবাহে একটি জমিখণ্ড হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জমির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে চিহ্নিত করা গেলে সেই জমি মূল মালিকেরই থাকবে।
২. চর দখল ও সহিংসতা
নতুন চর অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এগুলো দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বলপ্রয়োগে চর দখলকে সাধারণভাবে “চর দখল” বলা হয়।
এতে দেখা যায়—
ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষকে প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করে
বিনিময়ে তাদের জমি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়
ফলে সহিংসতা, দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে
৩. ১৯২০ সালের বঙ্গীয় পলিগঠিত ভূমি আইন
এই সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯২০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে।
এই আইনে বলা হয়—
যদি কোনো চর নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকে,
তবে কালেক্টর লিখিত আদেশে সেই জমি ক্রোক করতে পারবেন
রিসিভার নিয়োগ করে জমি ব্যবস্থাপনা করবেন
দাবিদারদের আবেদন নিয়ে জেলা জজ স্বত্ব নির্ধারণ করবেন
কিন্তু বাস্তবে এই আইন খুব কম প্রয়োগ হয়েছে।
৪. বর্তমান বাস্তবতা
আজকের আইন অনুযায়ী—
শিকস্তির ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি ছাড়া সকল চরভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি।
এই জমিগুলো সরকার বিধি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারে।
পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস শুধু আইনের গল্প নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের গল্প। নদী যেমন ভূমি গড়ে, তেমনি ভূমি ভেঙে জীবনও ভেঙে দেয়। সঠিক আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ জরিপই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।
একটি রাষ্ট্রের সকল আইন, শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকারের মূল ভিত্তি হলো সংবিধান। সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, ক্ষমতার উৎস কোথায়, নাগরিকদের অধিকার কী—এসব প্রশ্নের উত্তরই সংবিধানে নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশের সংবিধান
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। এটি প্রণয়ন করেন গণপরিষদের সদস্যরা, যার নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন। সংবিধানটি চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত—
জাতীয়তাবাদ
সমাজতন্ত্র
গণতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতা
এই চার মূলনীতি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা ও আদর্শ নির্ধারণ করে।
সংবিধানের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—
এটি একটি লিখিত সংবিধান
এটি কঠোর ও সুপ্রিম সংবিধান, অর্থাৎ সব আইনের ঊর্ধ্বে
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে
ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (বিধান, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ)
মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার সংযোজন
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
মৌলিক অধিকার
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। উল্লেখযোগ্য অধিকারসমূহ—
আইনের দৃষ্টিতে সমতা
জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
চলাচলের স্বাধীনতা
সংগঠন গঠনের অধিকার
সম্পত্তির অধিকার
ন্যায়বিচার লাভের অধিকার
এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচার রোধ করে এবং নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসমূহ উল্লেখ আছে। এগুলো সরাসরি আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। যেমন—
সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
শ্রমিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা
নারীর অধিকার ও সমতা নিশ্চিতকরণ
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন
সংবিধান সংশোধনীসমূহ
এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
পঞ্চম সংশোধনী: সামরিক শাসন বৈধকরণ (পরে বাতিল)
অষ্টম সংশোধনী: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা
ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
এসব সংশোধনী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা
বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষায় বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মামলা—
পঞ্চম সংশোধনী মামলা: সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
মাসদার হোসেন মামলা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত
ইলিয়াস আলী বনাম রাষ্ট্র: মৌলিক অধিকার রক্ষা
এই মামলাগুলো সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।
সংবিধান শুধু একটি আইনি দলিল নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। তাই সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা নাগরিক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ব্রিটিশ আমলের অনেক দলিলে আগেকার কাঠার নিয়মে জমির কাত দেখিয়েছেন। যেমন ২১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় ১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় । হয়ত এমনও লেখা থাকতে পারে ॥ ৪ কাঠার কাত ।।২ কাঠা। আগের দিনে সের যেভাবে লেখার নিয়ম ছিল কাঠাও একই প্রণালীতে লেখার নিয়ম ছিল । শুধু দশ সেরে ১ চৌক হতে ৪ চৌকে ১ মণ হত কিন্তু কাঠার বেলায় ৫ কাঠায় ১ চৌক হত এভাবে ৪ চৌকে বা ২০ কাঠায় ১ বিঘা হত ।
দলিল ও খতিয়ান ছক
ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, গ = ৪ আনা, ১ আনা = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।
মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক— ২ আনা + ৩ আনা +8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা’।
এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল।
মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে
ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল এভাবে—
৫ গন্ডা বা ৩ পাই এ ১ পয়সা = ৫২ পয়সা (১০
৪ পয়সা বা ১২ পাই এ ১ আনা =) ৩ পয়সা ১৫
পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।
খতিয়ান নং ৩০
এই খতিয়ানে মোট জমি ৩ একর ৫২ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা দেখান হল।
৩ একর ৫২ শতাংশ = ৩00 + 2 = ৩৫২ শতাংশ। এখন মোট জমি অর্থাৎ ৩৫২ শতাংশকে ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলেই মালিকের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যাবে।
সুতরাং (ক) ০.১২ ভাগে পায় (৩৫২x.১২) = ৪২.২৪ শতাংশ বা সোয়া ৪২ শতাংশ (খ) ০.১৭ ভাগে পায় (৩৫২.১৭) = ৫৯.৮৪ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ
(গ) ০.১৯ ভাগে পায় (৩৫২.১৯) = ৬৬.৮৮ শতাংশ বা ৬৭ শতাংশ
(ঘ) ০.২৫ ভাগে পায় (৩৫২.২৫) = ৮৮ শতাংশ
(ঙ) ০.০৭ ভাগে পায় (৩৫২.০৭) = 24.64 শতাংশ বা ২৫ শতাংশ
(চ) ০.০৬ ভাগে পায় (৩৫২.০৬) = ২১.১২ শতাংশ বা ২১ শতাংশ
(ছ) ০.০৪ ভাগে পায় (৩৫২×.০৪) = ১৪.০৮ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ
(জ) ০.০২ ভাগে পায় (৩৫২.০২) = ০৭.০৪ শতাংশ বা ৭ শতাংশ (ঝ) ০.০৮ ভাগে পায় (৩৫২.০৮) = ২৮.১৬ শতাংশ বা ২৮ শতাংশ
খতিয়ানে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি দেয়া আছে। ধরে নিতে হবে যে, অক্ষরগুলোই কোন ব্যক্তি বা মালিকের নাম বুঝানোর জন্য দেয়া হয়েছে ।
খতিয়ান নং ৪০
মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি :
১০ গণ্ডা + ১৭ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা +১২ গণ্ডা + ২ গন্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৬ পা + ১২ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা মোট ১০০ গণ্ডা ১০০ গণ্ডায় ৫ আনা (যেহেতু ২০ গণ্ডায় এক আনা) হওয়ার দরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ৫ আনা এখন আনা যোগ করি = ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ৩ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা = হাতের ৫ আনা মোট = ১৬ আনা বা ১.০০ টাকা।
এখন মোট জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে অংশীদারের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ বের হবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট জমিকে শতাংশ করি এবং মালিকের অংশের ঘরকেও গন্ডায় পরিণত করি। মোট জমি ২ একর ৪০ শতাংশকে সব শতাংশ করলে হয় (১০০ শতাংশে ১ একর)। সুতরাং, ১০০ x ২ +৪০ = ২০০+৪০ = ২৪০ শতাংশ।
মালিকের অংশগুলো গণ্ডায় পরিণত করলে মোট গন্ডার পরিমাণ হয় ১ টাকা =১৬ আনা ।
আবার ২০ গন্ডায় ১ আনা। সুতরাং ১ টাকা = মোট গণ্ডা হয় ১৬×২০ = ৩২০ গণ্ডা। মোট জমিকে ৩২০ দ্বারা ভাগ করে দেখি প্রতি গণ্ডায় কি পরিমাণ জমি হয়। হিসাবের সুবিধার্থে মালিকের অংশগুলো সর্বনিম্ন এককে পরিণত করি (এখানেগণ্ডা হচ্ছে সর্বনিম্ন একক)।
খুব ভাল করে মনে রাখবেন, আনার ডানে বসে গন্ডা, গন্ডার ডানে বসে কড়া, কড়ার ডানে বসে কাপ অথবা ক্রান্তি। এক এক খতিয়ানে এক এক রকম থাকে অর্থ কাগে থাকলে সে খতিয়ান কাগের সূত্রে হিসাব হয়। ক্রান্তি থাকলে সে খতিয়ান ক্রান্তি সূত্রে হিসাব হয়। কাগ ক্রান্তির ডানে যথাক্রমে তিল/দন্তি সেই অনুসারে হিসাব। তিলের ডানে রেনু, রেনুর ডানে ঘুন বসে। এদের মধ্যে গণ্ডা, দণ্ডি, তিল এই সংকেতগুলো বাংলায় পাওয়া যায়।
খতিয়ান নং ৫০
৫০নং খতিয়ানের মোট জমি ৯ একর ৭৫ শতাংশ। মালিকের অংকের ঘরটা যোগ করি
(.১২+.১০+.১৩+.১৩+.১৪+.১৬+.১২+.০৫ +.০৩ +.০২) =১.০০
মোট জমি ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে কে কতটুকু পায় তা বের হবে।
ক, ১২ অংশ পায় ১৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
খ, ১০ অংশ পায় ৯৭৫x১০ = ৯৭.৫ শতাংশ বা ৯৭ শতাংশ
গ, ১৩ অংশ পায় ৯৭৫X ১৩ = ১২৬.৭৫ শতাংশ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঘ, ১৩ অংশ পায় ১৭৫X ১৩ = ১৬.৫ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঙ, ১৪ অংশ পায় ৯৭৫x১৪ = ১৩৬.৫ বা ১ একর ৩৬ শতাংশ
চ, ১৬ অংশ পায় ৯৭৫x১৬ = ১৫৬ শতাংশ বা ১ একর ৫৬ শতাংশ
ছ, ১২ অংশ পায় ৯৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
জ, ০৫ অংশ পায় ৯৭৫.০৫ = ৪৮.৭৫ শতাংশ ঝ, ০৩ অংশ পায় ৯৭৫.০৩ = ২৯.২৫ শতাংশ
ঞ. .০২ অংশ পায় ৯৭৫×.০২ = ১৯.৫ শতাংশ
[বিঃ দ্রঃ দশমিকের ডানে ৩ অংকের পর যদি ৫ হতে উপরে সংখ্যা থাকে তা হলে ঐ সংখ্যা উঠিয়ে ০.০১ যোগের নিয়ম রয়েছে।]
খতিয়ান নং ৬০
৬০নং খতিয়ানে মালিকের অংশ
ক = ) ৮। (১ আনা সোয়া ৮ গন্ডা)
খ)১০।। (২ আনা সাড়ে ১০ গন্ডা)
গ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা) ঘ = ) ১৭(১ আনা পৌনে ১৮ গন্ডা)
ঙ = / ১১। (১ আনা সোয়া ১১ গন্ডা) fe
চ = /১৩।। (১ আনা সাড়ে ১৩ গন্ডা)
ছ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা)
জ = ) ১৩। (১ আনা সোয়া ১৩ গন্ডা)
ঝ =)। (২ আনা ১ কড়া
ঞ = (! (১ কড়া)
এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১২ একর ৮০ শতাংশ; তার মধ্যে এই খতিয়ানে পায় (আট আনা) ১২.৮০ / ১৬ = ০.৮X৮=৬.৪
আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে।
আট আনায় জমির পরিমাণ হয় ৬ একর ৪০ শতাংশ।
এখন এই ৬ একর ৪০ শতাংশ জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে, কোন মালিক কটটুকু পায় তা জানা যাবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ নিম্নদিকে কড়ায় পরিণত করি (যেহেতু সর্বনিম্ন একক কড়া)।
মনে করা যাক, আমি ৬নং এই খতিয়ান বর্তমান দশমিকের হিসাবে দেখতে চাই এবং সবাইকে বুঝাতে চাই।
কারণ দশমিক সব শিক্ষিত লোকের জানা আছে ।
বইয়ের ৬নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কড়া। এখন এই খতিয়ানে ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত মোট ১ টাকা হিসাবে বণ্টন করা আছে।
সেই অনুসারে ১ টাকাতে মোট ১২৮০ কড়া (কড়া, ক্রান্তি বিশ্লেষণ এর সূত্র দেওয়া আছে।)
সুতরাং ৭ নং কলামে দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের অংশ লিখতে হবে ০.৫০। এখন মালিকের অংশ অর্থাৎ ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত এর হিসাব করি । আমাদের জানা আছে যে, ১২৮০ কড়াকে ১.০০ টাকা বা ১ এর উপর বন্টিত
আছে।
বিঃ দ্রঃ ০.০০০৭৮ সংখ্যাটি ভাগ হওয়ার দরুন ০.০০০৭৮ কে উঠাইয়া .00 ধরা হয়েছে সূক্ষভাবে।
ধরতে গেলে এতে ০.০০০২২ যোগ করা হয়েছে।
সুতরাং ৬নং খতিয়ানে সকলের বুঝার জন্য এখন বর্তমান দশমিক অংশ হবে
ক = ০.০৮৮
খ = ০.১৫৮
গ=০.১০২
ঘ = ০.১১৮
৫ = ০.০৯৮
চ = 0.১০৪
ছ = ০.১০১
জ = .১০৪
ঝ = 0.১২৫
ঞ = ০.00১
[পূর্বকার এবং বর্তমান উভয়টি ঠিক আছে কিনা বা কারও কম বেশি হয়েছে কিনা
তা জানার জন্য এই হিসাব জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।]
বিঃ দ্রঃ- দশমিক উঠানোর সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দশমিকের জন্য ১ ধরা এবং দশমিকের ডানে যত সংখ্যা থাকে ততটি শূন্য ১ এর ডানে বসাতে হবে। অংকের নিয়মমত কাজ করতে হবে।
খতিয়ান নং ৭০
৭০নং খতিয়ানে মোট জমি ২ একর, (২ একর = ২X১০০=২০০ শতাংশ) মধ্যে ৮৯০ অংশ এই খতিয়ানে প্রায় (২০০/১০০০=২০০x.৮৯০) = ১৭৮ শতাংশ বা ১ একর ৭৮ শতাংশ। এখন এই ১ একর ৭৮ শতাংশকে ১.০০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেক মালিকের অংশ পাওয়া যাবে।
খতিয়ান নং ৮০
এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৩৯ একর, ১ শতাংশ তার মধ্যে ( ।।৯১০) সাড়ে ১০ আনা এই খতিয়ানের দাবী। { ১টাকা= ৩২০ গন্ডা) ৩৯০১/ ৩২০= ১২.১৯ প্রতি গন্ডায় পায় (সাড়ে দশ আনা = ২১০ গন্ডা)। সুতরাং সাড়ে দশ আনায় পায় = ১২.১৯×210 = ২৫.৬০ শতাংশ}
এতে এ খতিয়ান পেয়েছে ২৫ একর ৬০ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার্থে এ খতিয়ানের মোট জমিকে শতাংশে পরিণত করি। ২৫ একর ৬০ শতাংশ = (২৫×১০০+৬০) = (২৫০০+৬০) = ২৫৬০ শতাংশ হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ সব একই জাতীয় রাশি বা কাগে পরিণত করি, যেহেতু সর্বনিম্ন একক কাগ।
২০ গণ্ডায় ১ আনা, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৪ কাগে ১ কড়া
ক এর মোট কাগ= ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১ গণ্ডা = ২১ গণ্ডা। ২১ গণ্ডা × ৪ = ৮৪ কড়া + ২ কড়া = ৮৬কড়া। ৮৬ কড়া x 8 = ৩৪৪ কাগ + ২ কাগ = ৩৪৬ কাগ ।
খ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১২ গণ্ডা = ৩২ গণ্ডা। ৩২ গণ্ডা ×৪ = ১২৮ কড়া। ১২৮ কড়া + ১ কড়া = ১২৯ কড়া। ১২৯ কড়া × ৪ = ৫১৬ কাগ। ৫১৬ কাগ + ১ কাগ = ৫১৭ কাগ ।
গ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গণ্ডা। ২৩ গণ্ডা × ৪ = ৯২ কড়া + ২ কড়া = ৯৪ কড়া। ৯৪ কড়া ×৪ = ৩৭৬ কাগ। ৩৭৬ কাগ + ৩ কাগ = ৩৭৯ কাগ।
ঘ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ =৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ২ কড়া = ৯৮ কড়া। ৯৮ কড়া x ৪ = ৩৯২ কাগ। ৩৯২ কাগ + ১ কাগ = ৩৯৩ কাগ ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০×১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা। ২৫ গণ্ডা x 8 = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ১ কড়া = ১০১ কড়া। ১০১ কড়া x ৪ = ৪০৪ দাগ। ৪০৪ কাগ + ২=৪০৬ কাদ।
চ এর মোট কাগ = ২০ x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা । ২৫ গণ্ডা X ৪ = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ২ কড়া = ১০২ কড়া। ১০২ কড়া x 4 = ৪০৮ কাগ। ৪০৮ কাগ + ৩ কাগ = ৪১১ কাগ।
ছ = এর মোট কাগ = ২০ x ৩ = ৬০ গণ্ডা। ৬০ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা = ৬৬ গণ্ডা ।
৬৬ গণ্ডা × ৪ কড়া = ২৬৪ কড়া। ২৬৪ কড়া + ২ কড়া। ২৬৬ কড়া ×৪ = ১০৬৪ কাগ। ১০৬৪ কাগ + ১ কাগ = ১০৬৫ কাগ ।
জ এর মোট কাগ= ২০x২ = ৪০ গণ্ডা ৪০ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা = ৪৭ গণ্ডা। ৪৭ গণ্ডা × ৪ = ১৮৮ কড়া। ১৮৮ কড়া + ১ কড়া = ১৮৯ কড়া। ১৮৯ কড়া x ৪ = ৭৫৬ কাগ। ৭৫৬ কাগ + ২ কাগ = ৭৫৮ কাগ।
ঝ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা + = ২৮ গণ্ডা। ২৮ গণ্ডা X ৪ = ১১২ কড়া। ১১২ কড়া + ১ কড়া = ১১৩ কড়া। ১১৩ কড়া x 4 = ৪৫২ কাগ ৪৫২ কাগ + ৩ কাগ = ৪৫৫ কাগ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০ x ১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ = ৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ১ কড়া = ৯৭ কড়া। ৯৭ ×৪ = ৩৮৮ কাগ। ৩৮৮ কাগ + ২ কাগ = ৩৯০ কাগ ।
১ টাকা = ১৬ আনা x ২০ = ৩২০ গন্ডা। ৩২০ গণ্ডা X ৪ = ১২৮০ কড়া।
১২৮০x৪ = ৫১২০ কাগ । এই খতিয়ানে আসা মোট জমিকে ৫১২০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ জানা যাবে।
মনে করা যাক এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানকে সকালে বুঝার জন্য দশমিক জানতে চাইল।
৮নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কাগ। সুতরাং ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত (১নং কলামের) কে, কত কাগ করে পেয়েছে তা প্রথমে বের কারতে হবে।
আর খতিয়ানের ৭নং কলামে কাগের খতিয়ানের অংশটাকে সর্বনিম্ন একক গভা
থাকার দরুন গন্ডার উপর হিসাব করতে হবে। নিম্নে তা দেখানো হল ।
এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানের মালিকদের মোট যে কাগের হিসাব করা আছে তা হতে আমাদের এটা জানা আছে যে,
কড়া ক্রান্তি বিশ্লেষণ হতে আমাদের জানা আছে যে, ৫১২০ কাগ = ১.০০ টাকা বা ১ অংশ হয়েছে। এবং এর মধ্যেই এই খতিয়ানে বন্টিত আছে।
সুতরাং ৭নং কলামে বসবে ০.৬৫৬
৮নং খতিয়ানে দেখতে পাচ্ছি এই খতিয়ানের দাগে জমির পরিমাণ ৩৯ একর ১ শতাংশ তার মধ্যে এই খতিয়ানে এসেছে ০.৬৫৬ অংশ আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে। এখন এই মোট জমি ৩৯ একর ১ শতাংশকে ১,০০০ দ্বারা ভাগ করলে বুঝা যাবে এই খতিয়ানে কত জমি এসেছে তা দেখান হল হিসাব সুবিধার জন্য একরকে শতাংশ করে ।
সুতরাং খতিয়ানের ৭নং কলামের অংশে পায় জমির পরিমাণ (৩৯০১ x ০.৬৫৬) = ২৫৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ একর ৫৯ শতাংশ যেহেতু ১০০ শতাংশে ১ একর) এখন এই ২৫৫৯ শতাংশকে আবার মালিকের মোট অংশ অর্থাৎ ১০০০ দ্বারা ভাগ ঘরে মালিকের স্ব স্ব অংশ দ্বারা গুণ করলে তা জানা যাবে। যেহেতু এখানে হাজারের রে বন্টন রয়েছে ।
মালিকের অংশের ভাগ
২৫৫৯ = ১০০০ = ২৫৫৯ শতাংশ
সুতরাং
ক পায় ২৫৫৯ × ০.০৬৮ = ১৭৪.০১ শতাংশ
খ পায় ২৫৫৯ × 0. 101 = 258.4৫ শতাংশ
গ পায় ২৫৫৯ × ০.০৭৪ = ১৮৯.৩৬ শতাংশ
ঘ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = ১৯৭.০৪ শতাংশ
ঙ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = 202.১৬ শতাংশ
চ পায় ২৫৫৯ × ০.০৮০ = ২০৪.৭২ শতাংশ
ছু পায় ২৫৫৯ × ০.২০৮ = ৫৩২.২৭ শতাংশ
জ পায় ২৫৫৯ × ০.১৪৮ = ৩৭৮.৭৩ শতাংশ
ঝ পায় ২৫৫৯ × 0.089 = 22৭.৭৫ শতাংশ
ঞ পায় ২৫৫৯ × 0.0१৬ = ১৯৪.৪৮ শতাংশ
এভাবে পূর্বকার এবং বর্তমান তুলনা করলে কোন ভুল আছে কিনা রেকর্ডে তা বুঝা সম্ভব । তবে তুলনার ক্ষেত্রে দশমিকের সংখ্যাতে সামান্য গড়মিল থাকতে পারে।”
সাধারণত দশমিকের ৩ ঘর পরে ৫ এর উপরে সংখ্যা থাকলে ঐ সংখ্যাটি উঠিয়ে ১ যোগের নিয়ম রয়েছে যেমন কোন হিসাবে দেখা গেছে যে .২৫৬৭ শতাংশ বা ২৫৬৭ কাঠা বা যাই হোক না কেন শতাংশটার অর্থ হচ্ছে ১ শতাংশ জমিকে ১০,০০০ ভাগে ভাগ করে তার .২৫৬৭ ভাগ। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ৭ কে উঠিয়ে যদি ১ যোগ করে ৬কে ৭ করি তবে যোগ করা হয়।
০.০০১ – .০০০৭ = .০০০৩ অর্থাৎ ১ শতাংশ বা কাঠা এর দশ হাজার ভাগের ৩ ভাগ মাত্র। ইহা এ জন্যই নগন্য হিসাবে ধরে হিসাবের সুবিধার জন্য যোগ বা বিয়োগ করা হয় ।
আবার এমনও হতে পারে যে এই ৮০নং নতুন খতিয়ানেরই ছ নামক ব্যক্তি ৭২ শতাংশ জমি প নামক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেছে। সে এই খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে জানতে চাওয়া হলে। তার হিসাব নিম্নরূপ হবে ।
আমরা ৮০নং নতুন খতিয়ানে দশমিকের হিসাবে দেখতে পাই ছ ব্যক্তি মোট জমি পায় ৫৩২.২৭ শতাংশ। তা হতে ৭২ শতাংশ বিক্রয় করলে থাকে (৫৩২.২৭ – ৭২) = ৪৬০.২৭ শতাংশ ।
ছ এই খতিয়ানের অংশ পেয়েছে ০.২০৮ এবং তাতে মোট জমি পেয়েছে ৫৩২.২৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যায়। (প এর খতিয়ানের অংশ বের করবার জন্য)
নতুন ক্রেতা ব্যক্তি প এই ৮০নং নতুন খতিয়ানের বর্তমান অংশীদার হবে ০.০২৮ আর ছ ব্যক্তির থাকবে (০.২০৮ – ০.০২৮) = ০.১৮ অংশ ।
খতিয়ান নং ৯০
৯০নং খতিয়ান
এই খতিয়ানে মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি।
১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি+ ১ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি মোট ১৫ ক্রান্তি। ১৫ ক্রান্তিতে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) = ৫ কড়া হয় (হাতে থাকে) এখন কড়া যোগ করি । ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ৫ কড়া (হাতের) মোট ২০ কড়া (৪ কড়া = ১ গন্ডা বিধায়) ৫ গন্ডা হল (হাতে)।
এখন গন্ডা যোগ করি ১০ গন্ডা + ১২ গন্ডা + ৩ গন্ডা + ১৪ গন্ডা + ৬ গন্ডা + ৮ গন্ডা + ২ গন্ডা + ৪ গন্ডা + ৭ গন্ডা + ৯ গন্ডা এবং হাতের ৫ গন্ডা মোট ৮০ গন্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৪ আনা হাতে রইল। এখন আনা যোগ করি ১ আনা + ১ আনা + ১ আনা +১ আনা + ২ আনা + ২ আনা + ১ আনা +১ আনা +১ আনা + ১ আনা এবং হাতের ৪ আনা মোট ১৬ আনা ১৬ আনা= ১ টাকা।
হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশকে ক্রান্তিতে পরিণত করি। (যেহেতু সর্বনিম্ন
একক ক্রান্তি)।
১ আনা = ২০ গন্ডা
৪ কড়া = ১ গন্ডা
৩ ক্রান্তি = ১ কড়া
এভাবে ১ গণ্ডা = ০.০০৩১২৫ টাকা
১ কড়া = ০.০০০৭৮১২ টাকা
১ কাগ = ০.০০০১৯৫৩ টাকা
১ তিল = ০.০০০০০৯৭ টাকা
১ রেনু = ০.০০০০০২৪ টাকা
১ ঘুন = ০.০০০০০০৬ টাকা
১ ক্রান্তি – = ০.০০০২৬০৪ টাকা
১ দন্তি = ০.০০০০৮৬৮ টাকা
১ যব = ০.০০০০২৮৯ টাকা
এ খতিয়ানে মোট জমি ৪৬ একর ০৮ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার জন্য একরকে
শতাংশে পরিণত করি :
খতিয়ান নং ১০০
১০০ নং খতিয়ানের মালিকের অংশের ঘর যোগ করি । ২তিল + ১০তিল + ৮তিল + ১৬তিল + ৪তিল মোট ৪০ তিল ।
(২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) কিছু বসে নাই (হাতে ২ কাগ)। এখন কাগ যোগ করি। ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ + ১ কাগ + ১ কাগ এবং হাতের ২ কাগ মোট ৮ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ২ কড়া) এখন কড়া যোগ করি ১ কড়া + ২ কড়া +১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া+ ২ কড়া+ ২ কড়া এবং হাতের ২ কড়া মোট ১৬ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার দরুন) কিছু বসে নাই (হাতে ৪ গণ্ডা) এখন গণ্ডা যোগ করি।
৪ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ১০ গণ্ডা + ৮গণ্ডা + ২ গণ্ডা + ৪ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ২ গণ্ডা+ হাতের ৪ গণ্ডা মোট = ৬০ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ৩ আনা) এখন আনা যোগ করি। ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ১আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা এবং হাতে ৩ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।
মনে করা যাক, এই খতিয়ান থেকে চ-এর অংশ বের করব। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়।
মোট জমিকে ১৬ আনার উপর ভাগ করে দেখি প্রতি আনায় কি পরিমাণ হয় ।
খতিয়ান নং ১১০
এই খতিয়ানে দুটি দাগ রয়েছে। ১ম দাগ নং ৭৬। এতে মোট জমি ১৫ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে ।)(ছয় আনা) (১৫৩৬ =১৬ = ৯৬ শতাংশ ×৬ = = ৫৭৬) অংশে ৫ একর ৭৬ শতাংশ এসেছে। আর অবশিষ্ট জমি অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।
দ্বিতীয় দাগ নং ১৮ এতে মোট জমি ৭২ শতাংশ এর মধ্যে ০(১২ আনা) অংশে ৫৪ শতাংশ এই খতিয়ানে পেয়েছে। অবশিষ্ট অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class