জেল কোড অনুযায়ী জেল সুপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা জেল সুপার সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

জেল সুপার
জেল সুপার

 

জেল সুপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-৭০। জেল সুপার নিয়োগ- বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।

বিধি-৭১। কারা বিভাগের চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন কোন কর্মকর্তাকে কোন জেলা কারাগারের সার্বক্ষণিক জেল সুপার পদের দায়িত্ব প্রদানের পূর্বে কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্বাচিত জেল সুপারের অধীনে ৬ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করতে হবে। সেখানে তিনি সকল বিভাগের কাজ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং সকল বিধি-বিধান সম্পর্কে অধ্যয়ন করবেন।

শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শকের সুপারিশ ক্রমে সরকার কোন বিশেষ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমিয়ে তিন মাস করতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে সম্ভব হলে, পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শককে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রার্থী কারাগারের জেল সুপারের দায়িত্ব পালনের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করছেন।

তাকে কৌশলী এবং ভাল স্বভাবের লোক হতে হবে। তা না হলে এবং কোন অসদাচরণ করলে কারা মহাপরিদর্শক তাকে অপসারণের জন্যে সুপারিশ করতে পারবেন। তাকে এ সকল বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে, সময়ে সময়ে কার্যকর আইন কানুনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তার উপর ন্যস্ত সকল বন্দীর সাজা কার্যকর করতে হবে।

বিধি-৭২। (১) কারা মহাপরিদর্শকের আদেশ সাপেক্ষে জেল সুপার কারাগারের শৃঙ্খলা, শ্রম, ব্যয়, শাস্তি এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের ব্যবস্থাপনা করবেন

(২) সরকারের সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগার ব্যতীত অন্য কারাগারের জেল সুপার কারা আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারাগার সংক্রান্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের এমন সকল নির্দেশ প্রতিপালন করবেন এবং তা কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

বিধি-৭৩। জেল সুপার একটি মিনিট বই (রেজিষ্টার নম্বর ১) সংরক্ষণ করবেন যাতে বাম পৃষ্ঠায় তার সকল আদেশ এবং মিনিট লিপিবন্ধ হবে। ডান পাশে নির্দেশ পালনকারী কর্তৃক কিভাবে নির্দেশটি প্রতিপালিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করবেন। 

বিধি-৭৪। অকার্যকর।

বিধি-৭৫ । কারাগারের অভ্যন্তরে কোন বন্দীর কৃত অপরাধ সম্পর্কে জেল সুপার তদন্ত করবেন এবং ঊনবিংশ অধ্যায় অনুসারে শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি নিজ হাতে সকল শাস্তি লিপিবদ্ধ করবেন এবং দেখবেন তা প্রতিপালিত হয়েছে কিনা; শর্ত থাকে যে, বন্দী শাস্তি গ্রহণের শারীরিক ভাবে সামর্থ্য আছে কিনা সে সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।

বিধি-৭৬। আরোপিত শাস্তি রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার ১৯) রেকর্ড করা হবে এবং কারা আইনের ৫১(১) ধারা মোতাবেক সকল তথ্যাদি উল্লেখ করতে হবে। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটেও শাস্তি লিখা হবে। প্রত্যেক মারাত্মক কারা অপরাধের ক্ষেত্রে, যে সকল সাক্ষী অপরাধ প্রমাণ করেছে তাদের নাম রেকর্ড করতে হবে এবং জেল সুপার সাক্ষীদের সাক্ষ্যের সারবস্তু, বন্দীর জবাব এবং কারণ সম্বলিত প্রাপ্ত তথ্যাদি রেকর্ড করবেন। শাস্তি সংক্রান্ত প্রত্যেক অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে উক্ত অন্তর্ভুক্তির সঠিকতা সম্পর্কে জেল সুপার এবং জেলার তাদের স্বাক্ষর প্রদান করবেন।

 

জেল সুপার
জেল সুপার

 

বিধি-৭৭। কারা মহাপরিদর্শক এবং পরিদর্শক বোর্ড কর্তৃক কারাগার পরিদর্শন কালে জেল সুপার তাদের সঙ্গে থাকবেন: জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তার পরিদর্শন কালেও জেল সুপার তার সঙ্গে থাকবেন ।

বিধি-৭৮। জেল সুপার প্রত্যেক দিন সকালে যথাসম্ভব সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কারাগার ভিজিট করবেন। তার প্রথম কাজ হবে, যে সকল বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে যথাযথ নিয়ম-বিধি অনুসরণ করে তাদেরকে মুক্তি প্রদান করা, তাদের কোন সম্পত্তি থাকলে ফেরত প্রদান করা এবং বাড়ী যাবার ভাতা প্রদান (বিধি ৫৭০-৫৮০ অনুযায়ী) করা। যদি অসুস্থতার কারণে তিনি কোন দিন উপস্থিত হতে না পারেন তা হলে তিনি মিনিট বইতে তা রেকর্ড করবেন। তিনি কমপক্ষে সপ্তাহে একবার সম্পূর্ণ কারাগার পরিদর্শন করবেন। তিনি দৈনিক একবার সেলে আটক বন্দীদেরকে দেখবেন।

বিধি-৭৯। ৬৪৬ বিধি অনুসরণে জেল সুপার প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি প্যারেড আয়োজন করবেন।

বিধি-৮০। জেল সুপার নিম্নোক্ত রেকর্ড সমূহ সংরক্ষণ করবেন-

(১) বন্দীদের ভর্তির একটি রেজিষ্টার:

(২) প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময়ের বর্ণনা সম্বলিত একটি বই:

(৩) কারা অপরাধের দায়ে বন্দীদেরকে আরোপিত শাস্তি অন্তভূক্তির জন্য একটি শান্তি বই:

(৪) ভিজিট কালে কারাগারের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিজিটরের কোন মতামত অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি ভিজিটর বই 

(৫) বন্দীদের থেকে গৃহীত টাকা এবং দ্রব্যাদির একটি রেকর্ড; এবং কারা আইনের ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত বিধান মোতাবেক অনুরূপ অন্যান্য রেকর্ড।

বিধি-৮১। জেল সুপার কারাগারের মধ্যে তার কার্যাবলী সম্পাদন করবেন এবং প্রয়োজন না হলে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং কারা সহকারীকে কারাগারের বাহিরে কোথাও পাঠাবেন না।

বিধি-৮২। প্রত্যেক অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদত্ত বিশেষত অফিসের কাজের দায়িত্ব জেল সুপার মিনিট বইতে রেকর্ড করবেন, ফলে কোন ভুল হলে তা সহজে নির্ধারণ করা যাবে। জেলা কারাগারে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং কারা সহকারীদের মধ্যে কে কোন কাজ করবেন তার লিখিত বিবরণ থাকা প্রয়োজন।

বিধি-৮৩। জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে সকল বার্ষিক এবং অন্যান্য রিটার্ন প্রতিবেদন, বিল এবং ভাউচার প্রেরণ করবেন। প্রত্যেক বছর শেষে পরবর্তী ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে তিনি কারাগার সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। উক্ত প্রতিবেদনে বৎসরের কারা পরিসংখ্যান এবং প্রশাসন পরিচালনার কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি রেকর্ড এবং হিসাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান যথাযথ পদ্ধতিতে প্রতিপালন করবেন।

বিধি-৮৪। কারাগারের শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি, পলায়ন, পুনঃধৃত, আত্ম- হত্যা, মৃত্যু বা দুর্ঘটনার কারণে কোন বন্দীর মারাত্মক ক্ষতি, কোন মহামারী বা অস্বাভাবিক রোগের প্রাদুর্ভাব এবং তার প্রতিকারের জন্যে গৃহীত ব্যবস্থা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন ।

 

 

জেল সুপার
জেল সুপার

 

বিধি-৮৫ ৷ জেল সুপার কারাগারের আয়-ব্যয়ের উপর সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। তিনি সকল বিভাগ যথাসম্ভব অর্থনৈতিক ভাবে পরিচালনা করবেন এবং তার কাছে পেশকৃত সকল দাবী এবং চাহিদা অনুমোদনের পূর্বে বা অনুমোদনের জন্যে পেশ করার পূর্বে সতর্কতার সাথে যাচাই করে দেখবেন। রেকর্ড ও রেজিষ্টার সমূহ নিয়মিত লিপিবন্ধ হচ্ছে কিনা তিনি তা নিশ্চিত করবেন। হাতে রাখা টাকা সংশ্লিষ্ট বইয়ের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন; দৈনিক হিসাব সমূহ দৈনিক বইতে লিপিবন্ধ নিশ্চিত করবেন এবং পাওনা অনাদায় রাখবেন না ।

তিনি ক্যাশ বহিতে দৈনিক সমাপ্তি এবং ব্যালান্স মিলানো হয় কিনা তা দেখবেন এবং হাতে রাখা টাকা মাসের শেষে সকল কলামের সাথে যাচাই করে দেখবেন । { মাসের শেষ কার্য দিবসে হিসাব বন্ধ হবার পর কিংবা পরবর্তী মাসের প্রথম দিনে ব্যয় পরিশোধের আগে, তিনি নিজ হাতে নগদ টাকা গুণে দেখবেন এবং ক্যাশ বইতে তার পরিমাণ রেকর্ড করবেন এবং যাচাইয়ের প্রমাণ স্বরূপ স্বাক্ষর করবেন} । তিনি কারাগারের যে কোন প্রকার তহবিল অপচয়ের জন্যে দায়ী হবেন, যদি দেখা যায় যে এই বিধি বা প্রযোজ্য অন্য বিধি মোতাবেক তার অবহেলার জন্যে তা হয়েছে।

বিধি-৮৭। জেল সুপার প্রত্যেক ছয় মাস অন্তর ১৫ জুন এবং ১৫ ডিসেম্বরের অনতিবিলম্বে সকল ভান্ডার, মেশিনারী, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল তৈরী মালামাল প্রভৃতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করবেন। ১ লা জুলাই ও ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন ৫ এবং রিটার্ন ৬ এর মাধ্যমে তিনি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন।

যে কোন ধরনের নুতন সংগ্রহ আদেশ প্রদানের আগে তিনি বর্তমান মজুত যাচাই করবেন, সে সঙ্গে অতিরিক্ত মজুত রোধ করার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ করবেন। অর্ধ-বাৎসরিক যাচাইকালে তিনি সুনির্দিষ্ট ভাবে তদন্ত করে দেখবেন কোন খাতে অতিরিক্ত মজুত রয়েছে কিনা, যদি থাকে তবে নষ্ট হয়ে যাবার আগেই বিনা বিলম্বে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

তিনি কোন অকেজো জিনিস পত্র রয়েছে কিনা তা দেখবেন এবং সে সব নিষ্পত্তি বা অবলোপনের ব্যবস্থা করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনের জন্যে প্রেরণকালে এ ধরনের অতিরিক্ত বা অকেজো দ্রব্যের মূল্য সম্পর্কে একটি বিবরণী প্রেরণ করবেন এ ছাড়া তিনি কারাগারের অভ্যন্তরে সরকারী সম্পদ প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করবেন।

বিধি-৮৮। জেল সুপার বদলি হলে, নুতন যোগদানকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ কালে ক্যাশ ব্যালান্স, স্থায়ী অগ্রিম এবং হিসাব নির্ভুল কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। ষ্টোর, মেশিনারী, রেজিষ্টার হাল নাগাদ করা আছে কিনা তা দেখে নিবেন । সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগের মজুত, মেশিনারী প্লান্ট প্রভৃতি রেজিষ্টারের সাথে মিলিয়ে দেখবেন এবং কারা মহাপরিদর্শকের নিকট কোন প্রতিবেদন প্রেরণ বাকী রয়েছে কিনা তা দেখবেন। এ সব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব প্রদানকারী কর্মকর্তার দায় অবসান হবে না ।

জেল কোডের পরিদর্শকগণ

আজকে আমরা জেল কোডের পরিদর্শকগণ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

জেল কোডের পরিদর্শকগণ
জেল কোডের পরিদর্শকগণ

 

জেল কোডের পরিদর্শকগণ

বিধি-৫৫। [নিম্নোক্ত কর্মকর্তাগণ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নিয়োজিত অনুরূপ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ পদাধিকার বলে কারাগারের পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন –

(১) স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

(২) বিভাগীয় কমিশনার

(৩) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট

(৪) জেলা জজ

(৫) সিভিল সার্জন, এবং অধ্যক্ষ মেডিকেল কলেজ চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলার জন্য, 

(৬) জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক।

নোট বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক পদাধিকার বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিদর্শক হবেন।

নং ৮১০ এইচ জে, তারিখ ১৮-৫-১৯৫৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।

{ পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকার জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট জেলার কারাগারের জন্যে পদাধিকার বলে পরিদর্শক নিয়োগ করেছেন। যে সকল জেলায় শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নেই সে সকল জেলায় উক্ত পদ সৃজন না হওয়া পর্যন্ত জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পরিদর্শক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকবেন।}

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং স্বম: ১ম-৯৬/৯৭-জেল-১/২৩২ তারিখ ৪-৬-২০০২ মূলে সংযোজিত।

 

জেল কোডের পরিদর্শকগণ
জেল কোডের পরিদর্শকগণ

 

বিধি-৫৬। (১) দুই জন সংসদ সদস্যকে তাদের সংসদীয় আসনে বা তারা সাধারণত যে জেলায় বসবাস করেন সে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারের বেসরকারী কারা পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে। যদি সদস্য সংখ্যা অনুরূপ সংখ্যার চেয়ে বেশী হয় তবে সুবিধাজনক মেয়াদে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ উক্ত নিয়োগ প্রদান করবেন এবং তা গেজেটে প্রকাশিত হবে। যদি কোন সংসদ সদস্যের সদস্যপদ অবসান হয়ে যায় তবে বেসরকারী পরিদর্শক পদও অবসান হবে।

(২) ধনীদের কল্যাণ এবং বেসরকারী কারা পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী এমন অন্যান্য ভদ্রলোক ও তন্ত্র মহিলাগণকেও বিভাগীয় কমিশনারগণ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারী কারা পরিদর্শক নিয়োগ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্যে ভদ্রলোকের সংখ্যা |

আট জন এবং ভদ্র মহিলার সংখ্যা চারজন পর্যন্ত, জেলা কারাগারের জন্যে ভদ্র লোকের সংখ্যা ( পাঁচ) জন এবং ভদ্র মহিলার সংখ্যা দুইজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। তাদেরকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে এবং বিধি ৫৭ অনুযায়ী নিয়োগ বাতিল না হলে অনুরূপ মেয়াদ শেষে যতদিন তাদের সামর্থ্য থাকে এবং তারা উক্ত পদে কাজ করতে আগ্রহী থাকেন, ততদিন পর্যন্ত পুন:নিয়োগের যোগ্য হবেন।

(৩) অকার্যকর।

টীকা-১। নং ৪৬১৮ এইচ. জে. তারিখ ১৪-১২-১৯৩৭ মূলে সংশোধিত ।

টীকা-২। নং ৩৪৪/১ এইচ, জে, তারিখ ৫-৩-১৯৫৭ মূলে প্রতিস্থাপিত। 

টীকা-৩। নং ১৮৮ এইচ.জে. তারিখ ১৩-২-১৯৫৯ মূলে নং ৩৪৪/১ এইচ,জে, তারিখ ৫-৩- ১৯৫৭ বাতিল ।

বিধি-৫৭। একজন বেসরকারী কারা পরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে যদি তিনি অবিরাম তিন মাস কারাগার পরিদর্শন না করেন কিংবা পরিদর্শক বোর্ডের পর পর দুইটি ত্রৈমাসিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন কিংবা অন্য কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ থাকে।

বিধি-৫৮। স্থানীয় কর্মস্থলে বসবাসকারী সরকারী পরিদর্শকগণ এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণ সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠিত হবে, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পদাধিকার বলে উক্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের সাপ্তাহিক পরিদর্শন রোষ্টার তৈরী করবেন এবং পরবর্তী সপ্তাহে যে পরিদর্শকের পরিদর্শন নির্ধারিত রয়েছে তা তাকে পত্রের মাধ্যমে জানাবেন।

বোর্ড প্রতি তিন মাসে একটি বৈঠকে মিলিত হবেন। বোর্ড কারাগারে মিলিত হবেন, সকল ভবন এবং বন্দীদেরকে পরিদর্শন করবেন, বন্দীদের অভিযোগ এবং আবেদন শুনবেন, খাবার পরিদর্শন করবেন, সেগুলো মান সম্মত কিনা যাচাই করবেন এবং শাস্তি বই দেখবেন এবং তা হালনাগাদ করা আছে কিনা নিশ্চিত হবেন।

পরিদর্শন শেষ হলে কারাগার ত্যাগ করার পূর্বে বোর্ড পরিদর্শকদের মিনিট বইতে ত্রৈমাসিক সভার কার্য বিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন। জেল সুপার বোর্ডের কার্য বিবরণীর উপর তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক উক্ত কার্য বিবরণী তার মন্তব্যসহ, যদি থাকে সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন। 

 

 

জেল কোডের পরিদর্শকগণ
জেল কোডের পরিদর্শকগণ

 

বিধি-৫৯। পরিদর্শকগণকে কারাগারে প্রবেশ এবং কারাগার হতে বাহির হবার সময় গেইট রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৬) স্বাক্ষর করতে হবে। পরিদর্শকগণের একটি তালিকা প্রত্যেক কারা ফটকের প্রবেশ পথের ভিতরে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৬০। পরিদর্শকগণ কারাগারের সকল বিভাগের বই. কাগজ এবং রেকর্ড দেখতে পারবেন। তবে জেল সুপার যদি মনে করেন যে কোন বেসরকারী পরিদর্শককে কোন রেকর্ড দেখানো উচিত হবে না, তা হলে তার কারণ লিপিবদ্ধকরণ পূর্বক তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে পারেন। পরিদর্শকগণ যদি সম্ভব হয় তা হলে তাদের পরিদর্শন কালে সকল আঙিনা, ওয়ার্ড, কারখানা এবং ডিটেন্যু ও ডিভিশন।

প্রাপ্ত বন্দী আটক আছে এমন সেল ব্যতীত, সকল সেল ভিজিট করবেন, এবং ডিটেন্যু ও ডিভিশন। প্রাপ্ত বন্দী ব্যতীত সকল বন্দীকে দেখবেন। প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগ সম্পর্কে বিদ্যমান নিয়ম বিধি অনুসন্ধান করে দেখবেন এবং সে সব প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা দেখবেন। কারাগারে আগমনকালে তারা রিজার্ভ গার্ড সমাবেশ পরিদর্শন করবেন এবং রিজার্ভ গার্ড যথাযথ সংখ্যায় এবং অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সজ্জিত আছে কিনা দেখবেন।

বিধি-৬১। প্রত্যেক কারাগারে পরিদর্শকদের একটি মিনিট বই (রেজিষ্টার নম্বর ১) রাখতে হবে এবং প্রত্যেক সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শক কর্তৃক পরিদর্শন শেষে তার সামনে তা উপস্থাপন করতে হবে। প্রত্যেক পরিদর্শক মিনিট বইতে তার পরিদর্শনের তারিখ এবং সময় উল্লেখ করবেন এবং মন্তব্য লিখবেন। মন্তব্য বাস্তব ঘটনা ভিত্তিক হবে এবং জেল সুপার বা কারা মহাপরিদর্শকের জন্যে কোন পরামর্শ থাকলে তা লিখবেন।

মন্তব্য পরিদর্শক বইয়ের বাম পৃষ্ঠায় লিখতে হবে। জেল সুপার পরিদর্শকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে নোট লিপিবদ্ধ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যখন কোন পরিদর্শক কোন বিচারাধীন বন্দীর দীর্ঘদিন আটক থাকার বিষয়ে কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন, তার মন্ত বোর এই অংশটুকু জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট কিংবা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে জেলা জজের নিকট প্রেরণ করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক প্রয়োজন মনে করলে কোন পরিদর্শকের মন্তব্য সরকারের নিকট প্রেরণ করতে পারেন।

বিধি-৬২। মহিলা পরিদর্শকগণের কার্যক্রম শুধু মাত্র মহিলা বন্দী এবং মহিলা আস্তিনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। কেবল মহিলা অংশে পৌঁছানোর পথ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ব্যতীত তারা পুরুষদের অংশে যেতে পারবেন না।

বিধি-৬৩। পূর্ত, কৃষি, কল-কারখানা, শিক্ষা প্রভৃতি বিভাগের কর্মকর্তাগণ শুধুমাত্র তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব সম্পাদনের প্রয়োজনে কারাগারের নির্দিষ্ট এলাকায় যেতে পারবেন ।

বিধি-৬৪। পুলিশ অফিসার কর্তৃক কারাগারে রুটিন ভিজিট সংক্রান্ত বিধান ৬২৪ বিধিতে বর্ণিত আছে। উক্ত বিধির বাহিরে কারা মহাপরিদর্শক কিংবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ অনুমতি ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয়া হবে না। অনুমতি জেল সুপার বা জেলারের উদ্দেশ্যে লিখিত ভাবে প্রদান করতে হবে। কোন বন্দীকে বিধি মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে সাব-ইনস্পেক্টরের নিম্ন মর্যাদার কোন অফিসারকে অনুমতি দেয়া যাবে না।

সাক্ষাৎকার জেলার বা কারাগারের অন্য কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে সাক্ষাৎকারের কোন আলোচনা তার শ্রুতিগোচর না হয়। শুল্ক এবং | মাদক | সংক্রান্ত বিষয়ে কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে উক্ত বিভাগের অনুমতি প্রাপ্ত সাব-ইনস্পেক্টরের নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তাকে অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।

নোট-শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের ইনস্পেক্টর এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন একজন সহকারীকে মাদক আইনে আটক বন্দীর ছবি তোলা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের অনুমতিক্রমে শুল্ক এবং মাদক বিষয়ক অপরাধে আটক বন্দীদের ছবি তোলার জন্যে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফটোগ্রাফারকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যেতে পারে।} নং- ৪৪৮২ এইচ জে তারিখ ৯-১২-১৯৩৮ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৬৫। এই বিধি সমূহে উল্লেখিত নিয়মের বাহিরে, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না, যদি জেল সুপার তার সঙ্গে না থাকেন, কিংবা তাকে জেল সুপার বা কারা মহাপরিদর্শক বা জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অনুমতি প্রদান না করেন।

বিধি-৬৬। সাময়িক পরিদর্শকগণের সঙ্গে কোন বন্দীর আলাপ-আলোচনা নিষেধ, এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোন বন্দীকে তাদের সামনে উপস্থিত করানো বা তার অপরাধ সম্পর্কে তাদের কাছে বর্ণনা করা নিষেধ।

 

জেল কোডের পরিদর্শকগণ
জেল কোডের পরিদর্শকগণ

 

বিধি-৬৭। পরিদর্শকগণের স্কট রিজার্ভ গার্ড থেকে দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ জন রক্ষী স্কট প্রদান করবে এবং অন্য ক্ষেত্রে ২ জন রক্ষী স্কট প্রদান করবে। পরিদর্শনকারী কর্তৃক কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্কট এবং উপস্থিত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শ্রবণ সীমার বাহিরে সরিয়ে রাখা যেতে পারে। কিন্তু কোন সরকারী বা বেসরকারী পরিদর্শককে কারাগারে স্কট ছাড়া যেতে দেয়া হবে না ।

বিধি-৬৮। জেল সুপার পরিদর্শক বোর্ডের ত্রৈমাসিক সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং বোর্ড সদস্য কর্তৃক কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সঙ্গে থাকবেন । অন্য সকল ভিজিটরের সঙ্গে যদি সম্ভব হয় জেলার এবং তা না হলে ডেপুটি জেলার উপস্থিত থাকবেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে সহায়তা করবেন।

বিধি-৬৯। এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ ছাপিয়ে প্রত্যেক সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের নিকট সরবরাহ করতে হবে। এর একটি কপি সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যে কারাগারের গেইটে প্রস্তুত রাখতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট 

আজকে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড

 

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

বিধি-৪৪। কেন্দ্রীয় কারাগার নয় এমন জেলা কারাগারের উপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে। তিনি যে কোন সময় প্রয়োজন মনে করলে কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজ দায়িত্বে নিতে পারবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার কারণ কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন। জেল সুপার কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ করবেন; তবে কারা আইন, ১৮৯৪ বা তার অধীনে প্রণীত বিধির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এমন সকল নির্দেশ তিনি প্রতিপালন করবেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের  মাধ্যম ব্যতীতই জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সরাসরি পত্রালাপ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক সরাসরি জেল সুপারকে তার নির্দেশ প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে তার জেলার সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে জেলা কারাগারের মতই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে।

বিধি-৪৫। জরুরী ক্ষেত্র ব্যতীত, কারা আইনের ১১(২) ধারা মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দেশ প্রতিপালনের পূর্বে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে কারা মহাপরিদর্শকের মতামত গ্রহণ করতে পারেন ।

বিধি-৪৬। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জেল সুপার ব্যতীত কারাগারের অন্য কোন কর্মকর্তার উপর সরাসরি নির্দেশ প্রদান করবেন না। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সকল নির্দেশ লিখিত আকারে হবে। 

বিধি-৪৭। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি এমন কার্যক্রম গ্রহণ পরিহার করবেন যার ফলে অধস্তনদের উপর জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বিধি-৪৮ ৷ কেন্দ্রীয় কারাগার নয় এমন জেলা কারাগার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সপ্তাহে একবার ভিজিট করবেন, যদি কোন কারণে তিনি তা না পারেন, তবে তার অধস্তন কোন কর্মকর্তাকে উক্ত দায়িত্ব প্রদান করবেন। অনুরূপ ভিজিট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্ধারিত ভিজিটের অতিরিক্ত হবে।

বিধি-৪৯। যদি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রমণ জনিত কারণে সদর দপ্তরের বাহিরে থাকেন, তবে তার পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা অনুরূপ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড

 

বিধি-৫০। অকার্যকর।

বিধি-৫১। যদি কাজের উদ্দেশ্যে জেল সুপার সাময়িকভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বা অসুস্থতার জন্যে বা অন্য কোন কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তা হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিজেই জেল সুপারের সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কিংবা সিভিল সার্জন বা ষ্টেশনের সিনিয়র সহকারী সার্জনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন বা, যদি কোন সিভিল সার্জন বা সহকারী সার্জন না থাকেন, তা হলে নিজের অধস্তনদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শককে তা জানাবেন। অনুরূপ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল সুপারের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তবে ১৫ দিনের বেশী না হলে বিশেষ ভাতা প্রাপ্য হবেন না । }

বিধি-৫২। যদি কোন কারাগারের জেল সুপারের পদ শূন্য থাকে বা জেল সুপার অনুপস্থিত থাকেন, বা অসুস্থতার জন্যে বা অন্য কোন কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তা হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিজেই জেল সুপারের সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কিংবা ষ্টেশনের সিনিয়র সহকারী সার্জনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন বা, যদি কোন সহকারী সার্জন না থাকেন, তা হলে নিজের অধস্তনদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শককে তা জানাবেন । অনুরূপ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল সুপারের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তবে বিশেষ ভাতা প্রাপ্য হবেন না।

 

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  । জেল কোড

 

বিধি-৫৩। অকার্যকর।

বিধি-৫৪। যখন সিভিল সহকারী সার্জন উপর্যুক্ত বিধি সমূহ মোতাবেক অনুরূপ সাময়িক দায়িত্ব প্রাপ্ত হন, তিনি তা নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে পালন করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী কারা উপ মহাপরিদর্শক

আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

কারা উপ মহাপরিদর্শক
কারা উপ মহাপরিদর্শক

কারা উপ মহাপরিদর্শক

কারাগার পরিচালনার দায়িত্ব হলো জিম্মাদারীর দায়িত্ব। আদালতের আদেশে কোন ব্যক্তিকে আটক রাখা কিংবা ছেড়ে দেয়া কারাগার প্রশাসনের কাজ। যতক্ষণ কোন ব্যক্তি কারাগারে আটক থাকবে ততক্ষণ তার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের। তাই কারাগার পরিচালনার কাজ প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত- প্রথমত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, দ্বিতীয়ত কারাগারের নিরাপত্তা বিধান, তৃতীয়ত বন্দীদের স্বাস্থ্য রক্ষা।

কারাগারের নিরাপত্তার প্রধান দিক হলো বন্দী পলায়ন ও কারা বিদ্রোহ রোধ করা। ১৯৭৪ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ১৫৩ জন বন্দী পলায়ন করেছে, যার মধ্যে ৬৭ জন কয়েদী, ৮১ জন হাজতী এবং ৫ জন ডিটেন্যু। আমাদের কারাগারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে রাজশাহী কারাগারে বিদ্রোহ হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত ছোট বড় ২৫ টি কারা বিদ্রোহ হয়েছে।

 

কারা উপ মহাপরিদর্শক
কারা উপ মহাপরিদর্শক

 

আইনের স্বাভাবিক নীতি এই যে, অভিযুক্তকে যতক্ষণ দোষী প্রমাণ না করা যায় ততক্ষণ সে নির্দোষ। কিন্তু একজন ব্যক্তি গ্রেফতার হবার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার রহিত হয়ে যায়। জামিন না পেলে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীনকে হাজতবাস করতে হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণে খালাস পায়, তবুও হাজত বাসের ধ জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাবার অপূরণীয় ক্ষতি প্রভৃতি তার মনে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অধিকন্ত তার সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এমন কি পারিবারিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুরূপভাবে কারাদণ্ডে দণ্ডিতকেও একই দুর্বিপাক ভোগ করতে হয়।

কারা উপ মহাপরিদর্শক

বিধি-৩৯। কারা উপ মহাপরিদর্শক ।

টীকা-১। পূর্বে কেবল কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্যে ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল পদ ছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগে একটি ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল বা কারা উপ মহাপরিদর্শকের পদ রয়েছে।

টীকা-২। কারা প্রশাসনে আরো উন্নতি ও গতি সঞ্চার করণের উদ্দেশ্যে কারা উপ মহা পরিদর্শকগণ অন্তত: বৎসরে একবার তাদের অধিক্ষেত্রাধীন জেলা ও উপ কারাগার সমূহ পরিদর্শন করবেন। (নং বিধি-১২৯/৯৩-কারা-২/১৩৫ (১৫০), তারিখ ১৫-২-৯৫ ।

বিধি-৪০। প্রয়োগ নেই। 

পরিচ্ছেদ III-IV, 

বিধি ৪১-৪৩। প্রয়োগ নেই।

জেল কোড অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শক

আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

কারা মহাপরিদর্শক 

বিধি ২১। সরকার একজন মহাপরিদর্শক নিয়োগ করবেন। সরকারের নির্দেশাবলী সাপেক্ষে তিনি দেশের কারাগার সমূহের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করবেন।

টীকা- ১৮৫৫ সালে ইনস্পেক্টর জেনারেল অব প্রিজন্স বা কারা মহাপরিদর্শক পদ সৃষ্টি হয় । 

বিধি-২২। কারাগারের সার্বিক প্রশাসনের দায়িত্ব কারা মহাপরিদর্শকের উপর ন্যস্ত থাকবে । সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারের অভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার সকল নির্দেশ প্রতিপালন করবেন। কারাগার সমূহে সকল বিধি বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করবেন। জেল সুপার কর্তৃক কোন বিধি বা কারা মহাপরিদর্শকের কোন আদেশ লংঘন করা হলে এবং সতর্ক করার পরও অব্যাহত রাখলে, কারা মহাপরিদর্শক তা সরকারের নিকট উপস্থাপন করবেন ।

বিধি-২৩। কারা মহাপরিদর্শক কারাগার সমূহের সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন ও প্রযোজ্য নিয়মানুসারে কারাগার সমূহ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্যে চাহিদা মোতাবেক বাজেট বরাদ্দের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

বিধি-২৪ ৷ নিম্নোক্ত ব্যয় সমূহ ব্যতীত কারাগারের ব্যয় সংক্রান্ত সকল মাসিক ও অন্যান্য বিল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করতে হবে এবং তার দ্বারা নিরীক্ষিত হবে –

(ক) গণপূর্ত বিভাগের নিয়ন্ত্রিত পূর্ত কাজের ব্যয় 

(খ) ফরম বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত রেজিষ্টার এবং ফরমের ব্যয়।

(গ) মেডিকেল স্টোর বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত ঔষধের বায়।

বিধি ২৫। নিম্নোক্ত সীমাবদ্ধতায় বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সাধারণ এবং উৎপাদন বিভাগের কাজের সকল ব্যয় অনুমোদনের জন্য কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতাবান- 

(ক) খাদ্য বা উৎপাদন কাজের প্রয়োজনে কোন দ্রব্য সরকারের অনুমতি ছাড়া পনর মাসের অধিক সময়ের জন্যে মজুত রাখার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা যাবে না:

(খ) কোন একটি দ্রব্যের মূল্য ২৫০০) টাকার অধিক হলে সরকারের অনুমতি ছাড়া ক্রয় করা যাবে না। কারা বিভাগের নিয়মের অন্তর্গত কোন দ্রব্য ক্রয়ের তিনি অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, তবে তার মুল্য ২৫০০ টাকার অধিক হবে না। সিভিল কোড এবং সরকারের বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে তিনি আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব সমূহ নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি কোটেশন আহবান এবং নমুনা যাচাই করে বার্ষিক চুক্তির মাধ্যমে একই দরে দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্যে এবং (৫০.০০০/ টাকার অধিক মূল্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে অনুমোদিত ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠান, কারখানা, প্রভৃতি নিয়োগ করতে পারবেন। ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমেও ক্রয় করা যাবে। 

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

টীকা-পারচেজ ম্যানুয়েল মোতাবেক সংশোধিত ।

বিধি-২৬। সরকারের নিকট প্রেরণ ছাড়াই কারা মহাপরিদর্শক নষ্ট বা অকেজো হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়া সম্পদ অবলোপন করতে পারবেন- 

(১) ক্ষতির পরিমাণ প্রতিক্ষেত্রে অনধিক | ৫০,০০০) টাকা হলে 

(২) নিয়মের ত্রুটির জন্যে ক্ষতি না হয়ে থাকলে, সে ক্ষেত্রে নিয়ম সংশোধনের জন্যে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে 

(৩) কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, এমন কোন মারাত্মক অবহেলা না ঘটে থাকলে।

টীকা, আর্থিক ক্ষমতা পূন: অর্পণ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের স্মারক নং অম/অবি/বানি:- ১/ডিপি- ১/২০০০/৬৩ তারিখ ৭-৩-২০০০ এবং তদানুযায়ী জারীকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর মমঃ(প্র: ১) বিধি-১৬/৯৮-৭০ তারিখ ২৫-১-২০০০ মোতাবেক।

বিধি-২৭। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন কর্মকর্তা পেটি চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি করতে পারবেন না।

বিধি-২৮। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কারা মহাপরিদর্শক অনধিক ১১০ টাকা বেতনে অনধিক ছয় মাসের জন্যে অস্থায়ী নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন। তবে তিনি নিজের অফিসে অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না, বা এমন কোন অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না যে পদের বেতন অনুরূপ স্থায়ী পদের মূল বেতনের চেয়ে বেশী। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কষ্ট সাধ্য ও বিশেষ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি কারা বিভাগের কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে অনুরূপ প্রতি কাজের জন্যে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সম্মানী প্রদান করতে পারবেন।

নোট- বাজেট সাপেক্ষে কোন সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মহিলা বন্দীর স্কট বা সঙ্গে থাকার প্রয়োজনে অনধিক ৭৫ টাকা বেতনে একাধিক্রমে এক মাসের জন্যে অস্থায়ী মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ প্রদানের জন্যে কারা মহাপরিদর্শক সাধারণ বা বিশেষ আদেশে জেল সুপারকে ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।। নং- ৩৫৯ এইচ কে তারিখ ১৮-৩-১৯৫৯ এবং নং ১৯৪ এইচ জে তারিখ ৬-৪৭০ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত ও সংশোধিত।

বিধি-২৯। কর্মচারী নিয়োগ বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।

বিধি-৩০। কারা আইনের ২৯(২) ধারা মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদানের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত। মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে তিনি সরকারের অনুমোদন ব্যতীতই স্থায়ী আবাস হতে বন্দীদেরকে অস্থায়ী আবাসে স্থানান্তর করার অনুমোদন প্রদানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।

বিধি-৩১। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগার বছরে একবার এবং প্রত্যেক জেলা কারাগার কমপক্ষে দুই বছরে একবার পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোন সময় পরিদর্শন করবেন। প্রত্যেক পরিদর্শনের সময় তিনি আঙিনা, ওয়ার্ড, সেল এবং অন্যান্য বেষ্টনী দেখবেন। পরিদর্শনকালে তিনি সকল বন্দীকে দেখবেন এবং তাদের আবেদন বা অভিযোগ শ্রবনের সুযোগ দিবেন এবং সে সংক্রান্ত শৃঙ্খলার বিষয়াদি তদন্ত করবেন এবং নিষ্পত্তি করবেন। সকল হিসাব, রেকর্ড, রেজিষ্টার নিয়ম মত সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা এবং রেকর্ড নিরাপদে রাখা হয় কিনা সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হবেন।

বিধি-৩২। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিলক্ষিত বিষয়ের উপর পরিদর্শন বইতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপারের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী রেকর্ড করবেন। যদি কারাগারের পরিস্থিতি অসন্তোষজনক হয়, তবে তিনি জেল সুপারের মতামতসহ তার মন্তব্য সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন।

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

বিধি-৩৩। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক বছর শেষ হবার পর যথাসম্ভব অবিলম্বে, তবে ৩০শে এপ্রিলের পরে নয়, সরকারের কাছে কারাগার সমূহের পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। প্রতিবেদনে তিনি বন্দীদের পরিসংখ্যান উল্লেখ করবেন এবং কারাগারের প্রশাসন বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত এবং মন্তব্য প্রদান করবেন। তিনি ঐ সময়ের মধ্যে কোন কোন কারাগার পরিদর্শন করেছেন এবং সে সকল পরিদর্শনের সাধারণ ফলাফল কি তা উল্লেখ করবেন।

বিধি-৩৪। কারা মহাপরিদর্শক কারাগারের সীমানার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। 

বিধি-৩৫। তিনি পদাধিকার বলে সকল মানসিক হাসপাতালের পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি-৩৬। পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(১) ধারা মতে কারা মহাপরিদর্শক কমপক্ষে প্রতি ৬ মাসে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ এবং ৪৭১ ধারা মোতাবেক কারাগারে আটক পাগল ব্যক্তিদের পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিবেদন প্রদান করবেন: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৩ এবং ৪৭৪ ধারা অনুরূপ ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শককে সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ (২) ধারা এবং পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(২) ধারা মোতাবেক সরকার জেল সুপারকে অনুরূপ দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

বিধি-৩৭। কতিপয় বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারের সঙ্গে বিভাগীয় সকল পত্র যোগাযোগ কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে করতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পত্র তার মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৩৮। অকার্যকর

টীকা- কারা অধিদপ্তরে বর্তমানে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের একটি পদ রয়েছে।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পদের দায়িত্ব নিম্নরূপ-

(১) ভ্রমণ, ছুটি, অসুস্থতা জনিত কারণে কারা মহাপরিদর্শকের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন; 

(২) সদর দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কার্যাবলীর তত্ত্বাবধান ও কর্মকর্তাদের নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করণ;

(৩) কারা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বদলি করণ, 

(৪) কারা মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন সভায় যোগদান:

(৫) বৎসরে অন্তত ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৮টি জেলা কারাগার পরিদর্শন;

(৬) জেল কোডের ৩০ বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ,

(৭) জেল কোডের ৫৬৯ বিধি অনুযায়ী রেয়াতসহ যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর ২০ বৎসর সাজা খাটা হয়েছে, তাদের মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের কার্যক্রম গ্রহণ;

(৮) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী মহিলা কারারক্ষীদের শৃঙ্খলা জনিত কারণে দেয় শাস্তির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপীলের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;

(৯) কারা বিভাগের দরপত্র কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন এবং দরপত্র সংক্রান্ত কাজে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;

(১০) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষীদের এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ:

(১১) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষী ব্যতীত সকল তৃতীয় শ্রেণীর পদের কর্মচারীদের এক মাস পর্যন্ত অর্জিত ছুটি (চিত্ত বিনোদন ছুটিসহ) মঞ্জুর করণ

সূত্র- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-১ ই-১৫/৮৫-জেল-১/২৯৫ তারিখ ৩-৬-৯৭।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

আজকে আমরা কারাগারের শ্রেণী বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

বিধি-২ কারাগারের শ্রেণী বিভাগ  নিম্নরূপ হবে- 

(১) কেন্দ্রীয় কারাগার : ৬ মাস বা ততোধিক মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দীদের আটক রাখার জন্য;

(২) জেলা কারাগার : জেলা সদরে স্থাপিত ফৌজদারি ও দেওয়ানী বন্দীদের আটক রাখার জন্য;

(৩) সাবসিডিয়ারি কারাগার : মহকুমা সদরে স্থাপিত কেবল মাত্র ফৌজদারি বন্দীদের আটক রাখার জন্য; এবং

(৪) বিশেষ কারাগার : বিশেষ শ্রেণীর বন্দীদের আটক রাখার জন্য ।

টীকা-১। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫ টি জেলা কারাগার রয়েছে। মহকুমা বিলুপ্ত হবার ফলে বাংলাদেশে এখন কোন সাবসিডিয়ারি কারাগার (সাব-জেল) নেই। সকল মহকুমা কারাগার জেলা কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে।

টীকা-২। বাংলাদেশে বর্তমানে কোন বিশেষ কারাগার নেই। 

টীকা-৩। কারা আইনের ৩(১) ধারা মোতাবেক কোন স্থান কারাগার হিসেবে গণ্য হবার জনে ঐ স্থানকে সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

টীকা-৪। থানা হাজত, জিজ্ঞাসা (ইন্টোরোগেশন) সেল, কোর্ট হাজত, সামরিক হাজত, কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার জন্যে গঠিত আশ্রয় কেন্দ্র বা ‘সেফ কাষ্টডী’, উম্মাদ আশ্রয় কেন্দ্র, মানসিক হাসপাতাল প্রভৃতি কারাগার নয় বিধায় ঐ সব ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য নয়।

টীকা-৫। বাংলাদেশে ১৬ টি থানা কারাগার রয়েছে, বর্তমানে এসব কারাগারে কোন বন্দী রাখা হয় না।

বিধি ৩-৬। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭। আইনের শর্ত এই যে, সিভিল বন্দীদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে ৷ সিভিল বন্দীদের জন্যে কারাগারের যে কোন একটি অংশকে পৃথকভাবে স্থাপন করা যেতে পারে যাতে সেখানে কেবল মাত্র সিভিল বন্দীদেরকে রাখা যায়।

বিধি-৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৯। প্রত্যেক কারাগারে একজন সুপারিনটেন্ডেন্ট, একজন মেডিকেল অফিসার (যিনি সুপারিনটেন্ডেন্টও হতে পারবেন), একজন মেডিকেল সাব- অর্ডিনেট, একজন জেলার এবং সরকার যে রূপ প্রয়োজন মনে করে সেরূপ সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

 

টীকা-১। বর্তমানে কারাগারসমূহে নিম্নোক্ত পদবীর কমকর্তা-কর্মচারী রয়েছে –

সাধারণ বিভাগ

১। সিনিয়র জেল সুপার ( শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)

২। জেল সুপার (জেলা কারাগারে)

৩। ডেপুটি জেল সুপার (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)

৪। জেলার

৫। ডেপুটি জেলার

৬। সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)

৭। সর্বপ্রধান কারারক্ষী 

৮। প্রধান কারারক্ষী

৯। কারারক্ষী

১০। মেট্রন / মহিলা কারারক্ষী

১১। মহিলা কারারক্ষী

১২। উচ্চমান সহকারী (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)

১৩। কারা সহকারী-কাম- মুদ্রাক্ষরিক 

১৪ । কারা শিক্ষক (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে )

১৫। সহকারী-কাম-বিক্রেতা (রেশন দোকান)

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

 

স্বাস্থ্য বিভাগ

১৬। সহকারী সার্জন

১৭। উপ-সহকারী সার্জন

১৮। ফার্মাসিস্ট

১৯। ডিপ্লোমা নার্স

২০। পুরুষ সেবক

উৎপাদন বিভাগ

২১। হিসাব রক্ষক

২২। সহকারী হিসাব রক্ষক

২৩। ফ্যাক্টরী ওভারশিয়ার

২৪। টাস্ক টেকার

২৫। ব্লাক স্মিথ

২৬। ষ্টোর কিপার

২৭। বুক বাইন্ডিং ইনস্টাক্টর

২৮। নিম্নমান সহকারী-কাম- মুদ্রাক্ষরিক

২৯। দর্জি মাষ্টার

৩০। দর্জি

৩১। সহকারী-কাম-বিক্রেতা শো রুম

টীকা-২। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যক্ষা রোগীদের চিকিৎসার জন্যে একটি জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে।

টীকা-৩। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত সম্ভ্রম বন্দীদের মধ্যে হতে ওভারশিয়ার, প্রহরী, নাইট ওয়াচম্যান, রাইটার, বাবুর্চী, সুইপার, ধোপা নাপিত, মালী প্রভৃতি নিয়োগ করা হয়।

বিধি-১০। কারা মহাপরিদর্শক নিয়োগ- বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়।

বিধি ১১-১৬। অকার্যকর।

বিধি-১৭। সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কোন স্থায়ী পদ গ্রহণ যোগ্য হবে না। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত অস্থায়ী নিয়োগ যোগ্য কোন পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না। 

বিধি ১৮-২০। অকার্যকর।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ

আজকে আমরা কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

 

কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ

বিধি-১। নিম্নোক্ত আইন এবং বিধিসমূহ কারাগার সমূহের সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, কারাগারে বন্দী আটক রাখা এবং তাদের পরিচালনা এবং শৃঙ্খলার বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করে ঃ-

  • প্রিজন্স এ্যাক্ট, ১৮৯৪ ( ১৮৯৪ সালের IX নম্বর আইন)
  • প্রিজনার্স এ্যাক্ট, ১৯০০ ( ১৯০০ সালের ।।। নম্বর আইন)
  • বেত্রাঘাত আইন,১৯০৯ ( ১৯০৯ সালের IV নম্বর আইন)
  • উম্মাদ আইন, ১৯১২ (১৯১২ সালের IV নম্বর আইন)
  • কারখানা আইন, ১৯৬৫ (১৯৬৫ সালের IV নম্বর আইন)
  • শিশু আইন, ১৯৭৪ ( ১৯৭৪ সালের XXXIX নম্বর আইন)

দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দণ্ড বিধিতে বন্দী আটক রাখা, দণ্ডাদেশ বাস্তবায়ন, আপীল, উম্মাদ এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়ে যে সব বিধান রয়েছে, কারা প্রশাসন পরিচালনার জন্যে সে সব বিধানও প্ৰতিপালন করতে হবে।

 

কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ

 

নোট দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দণ্ড বিধি ব্যতীত উপরে বর্ণিত আইন সমূহ জেল কোড দ্বিতীয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। 

টীকা-১। জেল কোড, ৭ম সংস্করণে আরো কতিপয় আইনের উল্লেখ রয়েছে, বর্তমানে সে সকল আইনের কার্যকারীতা নেই। আইন সমূহ 

  • প্রিজনার্স এ্যাক্ট, ১৮৭১ (১৮৭১ সালের / নম্বর আইন)
  • স্টেট প্রিজনার্স রেগুলেশন, ১৯১৮ (১৯১৮ সালের III নম্বর রেগুলেশন)
  • পেনাল সার্ভিট্যড এ্যাক্ট, ১৮৫৫(১৮৫৫ সালের XXIV নম্বর আইন)
  • রিফরমেটরী স্কুলস এ্যাক্ট, ১৮৯৭ (১৮৯৭ সালের VIII নম্বর আইন)
  • বেঙ্গল বোরস্ট্যাল স্কুল এ্যাক্ট, ১৯২৮(১৯২৮ সালের। নম্বর আইন)

টীকা-২। কারাখানা আইন, ১৯৩৪ এর পরিবর্তে ১৯৬৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর কারখানা আইন, ১৯৬৫ বলবৎ হয়েছে।

টাকা ৩। শিশু আইন, ১৯৭৪ ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর এবং সারা বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের ১লা জুন বলবৎ হয়েছে। উক্ত আইনের ৭৮ ধারায় চিলড্রেন এ্যাক্ট ১৯২২ এবং রিফরমেটরী স্কুলস আইন, ১৮৯৭ রহিত করা হয়েছে।

জেল কোডের সূচিপত্র

আজকে আমরা জেল কোডের সূচিপত্র নিয়ে আলোচনা করবো। জেল কোড কারাগার ও অধস্তন কারাগারের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত আইনবিধান। কারাগার আইন ১৮৯৪ এবং এ আইনের ৫৯ ও ৬০(ক) ধারার অধীনে প্রণীত বিধিসমূহ, কারাবন্দি আইন ১৯০০ এবং কারাবন্দি শনাক্তকরণ আইন ১৯২০-এর বিধান সমন্বয়ে জেল কোড গঠিত।

 

জেল কোডের সূচিপত্র
জেল কোডের সূচিপত্র

 

জেল কোডের সূচিপত্র

জেল কোড, প্রথম খন্ড

  • কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ
  • কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
  • কারা মহাপরিদর্শক
  • কারা উপ মহাপরিদর্শক
  • জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
  • জেল কোডের পরিদর্শকগণ
  • জেল সুপার
  • কারাগারের মেডিকেল অফিসার
  • কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
  • কারাগারের কম্পাউন্ডার
  • ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
  • অধস্তন কর্মচারীদের জন্যে বিধান
  • জেলারের দায়িত্ব
  • ডেপুটি জেলার
  • করণিক কর্মচারী
  • মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী
  • কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা
  • প্রধান কারারক্ষী
  • কারাগারের গেইট কিপার
  • কারাগারের গেইট সেন্ট্রি
  • কারারক্ষীর দায়িত্ব
  • রিজার্ভ গার্ড
  • কয়েদী কর্মচারী
  • কয়েদী ওয়াচম্যান
  • কয়েদী ওভারশিয়ার
  • কয়েদী নৈশ প্রহরী
  • কয়েদী রক্ষী
  • কারাগারের প্রহরা
  • এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
  • কারাগারে বন্দী ভর্তি
  • বন্দীদের সম্পত্তি
  • বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট
  • বন্দীদের নির্জন কারাবাস
  • বন্দী মুক্তি
  • বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
  • আপীল এবং পিটিশন
  • কারাবন্দীর শ্রেণী
  • শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন কাজ
  • বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
  • বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী
  • বন্দীদের ধর্মীয় আচার
  • কারা অপরাধ ও শাস্তি
  • সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
  • রেয়াত ব্যবস্থা
  • শ্রম ও কারাশিল্প
  • দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা
  • বন্দীদের কারাগার বদলি
  • সিভিল বন্দী
  • বিচারাধীন বন্দী
  • বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী
  • মহিলা বন্দী এবং তাদের সন্তান
  • কিশোর বন্দী
  • মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী
  • রাজবন্দী বাতিল
  • পাগল বন্দী
  • কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত বন্দী
  • ডিভিশন i এবং ডিভিশন ii বন্দীদের পরিচালনা
  • ডিভিশন i বন্দী
  • ডিভিশন ii বন্দী
  • সাধারণ
  • খাদ্য
  • ডায়েট
  • খাদ্য প্রস্তুতকরণ
  • খাদ্য সংগ্রহ ও গুদামজাতকরণ
  • কারা বাগান ও কৃষি
  • পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম
  • সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ
  • ব্যারাক ভবন সংক্রান্ত
  • কনজারভেন্সী
  • পানি সরবরাহ
  • মেডিকেল প্রশাসন
  • সাধারণ বিষয়াদি
  • হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা
  • কারাগারের পূর্ত কাজ
  • অফিস পদ্ধতি
  • সাধারণ নিয়ন্ত্রণ
  • পত্র যোগাযোগ
  • হিসাব

 

জেল কোডের সূচিপত্র
জেল কোডের সূচিপত্র

 

কারা আইন,১৮৯৪

  • শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
  • সংজ্ঞাসমূহ
  • বন্দীদের আবাসন
  • মহা পরিদর্শক
  • কারা কর্মকর্তা কর্মচারীগণ
  • বন্দীদের অস্থায়ী আবাসন
  • কারা কর্মকর্তা কর্মচারীগণের নিয়ন্ত্রণ এবং কর্তব্য
  • কর্মচারীগণের বন্দীদের সঙ্গে ব্যবসা থাকিবে না
  • কর্মকর্তা কর্মচারীগণ ঠিকাদারীতে আগ্রহী হইবেন না
  • সুপারিনটেন্ডেন্ট
  • সুপারিনটেন্ডেন্ট যে সকল রেকর্ড রাখিবেন
  • মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব
  • কিছু বিশেষ বিষয়ে মেডিকেল অফিসারের প্রতিবেদন
  • বন্দীর মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্ট
  • জেলার
  • জেলার বন্দীর মৃত্যুর নোটীশ প্রদান করবেন
  • জেলারের দায়িত্ব
  • জেলারকে রাত্রে উপস্থিত থাকিতে হইবে
  • ডেপুটি এবং সহকারী জেলারের ক্ষমতা
  • গেইট কিপারের কর্তব্য
  • ছুটি ব্যতীত অধস্তন কর্মচারীগণ অনুপস্থিত থাকিবে না
  • কয়েদী কর্মচারী
  • ভর্তিকালে বন্দীদেরকে পরীক্ষা করিতে হইবে
  • বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি
  • বন্দী স্থানান্তর এবং খালাস
  • বন্দীদের পৃথকীকরণ
  • বন্দীদের একত্রীকরণ এবং পৃথক রাখা
  • নির্জন কারাবাস
  • মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী
  • কতিপয় বন্দীর ব্যক্তিগত উৎস হইতে ভরণ পোষণ
  • কতিপয় বন্দীর মধ্যে খাদ্য এবং পোশাক হস্তান্তর নিষেধ
  • সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পোশাক এবং বেডিং
  • সিভিল বন্দীদের কাজে নিযুক্তি
  • ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি
  • বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি
  • বন্দীদের অসুস্থতা
  • মেডিকেল অফিসারের নির্দেশের রেকর্ড
  • হাসপাতাল
  • সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সহিত সাক্ষাত
  • সাক্ষাত প্রার্থীদের তল্লাশী
  • নিষিদ্ধ দ্রব্য লেনদেন করিবার শাস্তি
  • ৪২ ধারায় অপরাধ করিলে গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা
  • শাস্তি সম্পর্কে প্রচার
  • কারা অপরাধ সমূহ
  • অনুরূপ অপরাধের শাস্তি
  • ৪৬ ধারার অধীনে একাধিক শাস্তি
  • ৪৬ এবং ৪৭ ধারার অধীনে শাস্তি আরোপ
  • পূর্ববর্তী ধারা সমূহ অনুসারে শাস্তি হইতে হইবে
  • শাস্তির জন্য মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট
  • শাস্তি বইতে অন্তর্ভুক্তকরণ
  • জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পদ্ধতি
  • বেত্রাঘাত
  • কারা অধস্তনদের অপরাধ
  • বন্দীদের বাহির প্রাচীরে আটক, নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ
  • লৌহ-শৃঙ্খলে আটক
  • দ্বীপান্তর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে লৌহ-শৃংখলে আটক
  • জেলার কর্তৃক লৌহ-শৃংখলে আটক রাখা যাইবে না
  • বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
  • বিধির কপিসমূহ প্রদর্শন
  • সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল অফিসারের ক্ষমতা

জেল কোডের সূচিপত্র
জেল কোডের সূচিপত্র

বন্দী আইন, ১৯০০

  • সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ
  • সংজ্ঞাসমূহ
  • সোপর্দকৃত ব্যক্তিগণকে আটক রাখিতে হইবে
  • রীট, প্রভৃতি, কার্যকরী বা খালাস প্রদানের পর ফেরত
  • কারাগার উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে
  • কতিপয় আদালতের দণ্ড কার্যকর করিবার ক্ষমতা
  • আদালতের কর্মকর্তার ওয়ারেন্ট যথেষ্ট হইবে
  • ওয়ারেন্টের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহ হইলে পদ্ধতি
  • কতিপয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করণ
  • কারাগার উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে
  • বন্দীদের স্থানান্তর
  • উম্মাদ বন্দীদেরকে কিভাবে পরিচালনা করিতে হইবে
  • দ্বীপান্তর সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের আটক রাখা
  • হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে মুক্তি প্রদান
  • কারাগার উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে
  • বন্দীকে হাজির করিতে দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা
  • জেলা জজ কর্তৃক কতিপয় আদেশ প্রতিস্বাক্ষর
  • বন্দীকে হাজির করিতে ফৌজদারি আদালতের ক্ষমতা
  • আদেশ জেলা ম্যাজিষ্টেটের মাধ্যমে অগ্রগামী করণ
  • দূরে আটক ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান পদ্ধতি
  • আপীল এখতিয়ারের বাহিরে অন্তরীণ ব্যক্তি
  • বন্দীকে লইয়া আসিতে হইবে
  • কতিপয় বন্দীকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
  • যখন আদেশ প্রতিপালনে বিরত থাকিতে হইবে
  • বন্দীদের জবান বন্দীর জন্য কমিশন
  • আপীল এখতিয়ার বহির্ভূত বন্দীদের জবানবন্দী
  • কমিশন যে ভাবে পরিচালিত হইবে
  • বন্দীদের নিকট কিভাবে সমন জারী করিতে হইবে
  • বন্দীর অনুরোধে জারীকৃত সমন অগ্রগামী করণ
  • খরচ জমা প্রদান
  • বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
  • কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘোষণা প্রদানের ক্ষমতা

জেল কোডের সূচিপত্র
জেল কোডের সূচিপত্র

বন্দী সনাক্তকরণ আইন, ১৯২০

  • সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ
  • সংজ্ঞাসমূহ
  • সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মাপ, প্ৰভৃতি গ্রহণ
  • সাজাপ্রাপ্ত নয় এমন অন্যান্য ব্যক্তির মাপ, প্রভৃতি গ্রহণ
  • মাপ বা ফটোগ্রাফ গ্রহণের আদেশ প্রদানের জন্য
  • ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা।
  • মাপ,প্রভৃতি গ্রহণে বাধা দেওয়া
  • খালাসের কারণে ফটোগ্রাফ এবং রেকর্ড নষ্ট করা
  • বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
  • মামলা দায়েরে নিষেধাজ্ঞা

শিশু আইন, ১৯৭৪

  • সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
  • সংজ্ঞাসমূহ
  • কিশোর আদালতসমূহ
  • কিশোর আদালতের এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতসমূহ
  • কিশোর আদালতের ক্ষমতাসমূহ, প্রভৃতি
  • শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কের একত্রে বিচার অনুষ্ঠিত হইবে না
  • কিশোর আদালতের অধিবেশন, প্রভৃতি
  • দায়রায় বিচার্য মামলায় দায়রায় সোপর্দ করিতে হইবে
  • কিশোর আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিগণ
  • আদালত হইতে যে সকল ব্যক্তি প্রত্যাহারিত হইবে
  • হাজিরা হইতে শিশুর অব্যাহতি
  • শিশুর সাক্ষ্য প্রদানকালে কতিপয় ব্যক্তিকে প্রত্যাহার
  • অভিযুক্ত শিশুর পিতা-মাতার আদালতে হাজিরা
  • মারাত্মক রোগাক্রান্ত শিশুকে অনুমোদিত স্থানে প্রেরণ
  • আদালত যে সকল বিষয় বিবেচনা করিবেন
  • প্রবেশন অফিসারের রিপোর্ট এবং অন্যান্য রিপোর্ট গোপনীয় গণ্য করিতে হইবে
  • মামলায় জড়িত শিশুর পরিচয়, ইত্যাদি প্রকাশ নিষিদ্ধ
  • ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে
  • ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও প্রত্যায়ন
  • রিমাণ্ড হোম
  • ইনষ্টিটিউট প্রত্যায়ন অথবা স্বীকৃতি দানের শর্তাবলী
  • প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের ব্যবস্থাপনা
  • ব্যবস্থাপকগণের সহিত পরামর্শ
  • প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ডাক্তারী পরিদর্শন
  • সরকারের প্রত্যায়নপত্র প্রত্যাহারের ক্ষমতা
  • ব্যবস্থাপকগণ কর্তৃক প্রত্যায়ন পত্র সমপর্ণ
  • প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার অথবা সমর্পণের ফলাফল
  • প্রত্যায়ন পত্র সমর্পণের পর বাসিন্দাগণ সম্পর্কে
  • প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট পরিদর্শন
  • প্রধান পরিদর্শক, ইত্যাদি নিয়োগ
  • প্রবেশন অফিসার নিয়োগ
  • শিশুকে গৃহহীন, দুস্থ ইত্যাদি অবস্থায় পাওয়া
  • অবাধ্য শিশু
  • শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার দণ্ড
  • শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দত্ত
  • শিশুর দায়িত্বে থাকাকালে পানোম্মত হওয়ার দণ্ড
  • শিশুকে নেশাজাতীয় পানীয় প্রদানের দণ্ড
  • সুরা বিক্রয়ের স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের দণ্ড
  • বাজী ধরিতে বা ঋণ লইতে উস্কানি দেওয়ার দণ্ড
  • শিশুর নিকট হইতে দ্রব্যাদি বন্ধক গ্রহণ বা ক্রয়
  • শিশুকে পতিতালয়ে থাকার অনুমতি প্রদানের দত্ত
  • অসৎ পথে পরিচালনার দত্ত
  • অল্পবয়স্ক বালিকাকে অসৎপথে ঝুঁকির সম্মুখীন করা
  • শিশু কর্মচারীকে শোষণের দণ্ড
  • শিশু অথবা বাল-অপরাধীর পলায়নে সহায়তার দণ্ড
  • শিশু সম্পর্কিত রিপোর্ট অথবা ছবি প্রকাশের দণ্ড
  • এই ভাগে বর্ণিত অপরাধ আমলযোগ্য অপরাধ
  • গ্রেফতারকৃত শিশুর জামিন
  • জামিনে খালাস প্রাপ্ত নহে এইরূপ শিশুর হেফাজত
  • প্রবেশন অফিসারের নিকট পুলিশ কর্তৃক তথ্য পেশ
  • শিশুকে সাজা প্রদানে বাধা-নিষেধ
  • শিশুকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে সোপর্দকরণ
  • খালাস অথবা হেফাজতে সোপর্দ করার ক্ষমতা
  • পিতা-মাতাকে জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেওয়া
  • শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখা
  • শিশুর যত্ন এবং আটক বিষয়ে আদালতের ক্ষমতা
  • শিশুকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে
  • ক্ষতিগ্রস্ত শিশুকে সোপর্দের আদেশ
  • ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের তত্ত্বাবধান
  • তদারক ভঙ্গ
  • শিশুর তল্লাশী পরোয়ানা
  • পিতামাতার অবদান
  • ধর্ম সংক্রান্ত বিধান
  • লাইসেন্সমূলে বাহিরে প্রেরণ
  • পলাতক শিশু সম্পর্কে পুলিশের কার্য ব্যবস্থা
  • বয়স অনুমান ও নির্ধারণ
  • খালাসবিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বদলি
  • মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য ক্ষতিপূরণ
  • দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অযোগ্যতা নিরসন
  • ‘সাজা’ এবং ‘দণ্ডিত’ শব্দ গুলি ব্যবহৃত হইবে না
  • শিশুর উপর জিম্মাদারের নিয়ন্ত্রণ
  • এই আইনের অধীনে গৃহীত মুচলেকা
  • প্রধান পরিদর্শক, প্রবেশন অফিসার প্রভৃতি কর্মচারী
  • এই আইনে গৃহীত ব্যবস্থার হেফাজত
  • আপীল ও পুনর্বিচার
  • বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
  • রহিতকরণ, ইত্যাদি

বাংলাদেশের মানবাধিকার ও সামাজিক আইন

মানবাধিকার ও সামাজিক আইন একটি দেশের নৈতিক ও আইনি কাঠামোর মূলভিত্তি। এগুলো নাগরিকের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সংবিধান, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিশেষ আইনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সুরক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, ডিজিটাল অপরাধ, ভোক্তা প্রতারণা, তথ্য গোপন, পরিবেশ দূষণ—এসব সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্র বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনগুলো সমাজকে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক করতে সহায়তা করে।

১. মানবাধিকার আইন

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার যেমন জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত। এ ছাড়াও বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR), ICCPRICESCR সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

২০০৯ সালে প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন অনুযায়ী একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করে। যদিও কমিশনের শাস্তিমূলক ক্ষমতা নেই, তবুও এটি সচেতনতা বৃদ্ধি ও নৈতিক চাপ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। মানবাধিকার আইন নাগরিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

২. নারী ও শিশু আইন

নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আইন হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০। এই আইনে ধর্ষণ, পাচার, যৌন নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, অপহরণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পান।

শিশুদের সুরক্ষায় রয়েছে শিশু আইন, ২০১৩। এই আইনে শিশু অপরাধীদের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা, শিশু আদালত, প্রবেশন অফিসার এবং শিশু সুরক্ষা সেবার কথা বলা হয়েছে। এসব আইন নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সাইবার অপরাধ দমন ও ডিজিটাল পরিবেশ নিরাপদ রাখতে প্রণীত হয়েছে। হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল মানহানি, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধ এর উদ্দেশ্য।

তবে এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এর অপব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই এই আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করা জরুরি।

৪. ভোক্তা অধিকার আইন

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ ভোক্তাদের প্রতারণা, ভেজাল, অতিরিক্ত মূল্য ও ভুল বিজ্ঞাপন থেকে সুরক্ষা দেয়। এই আইনের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর অভিযোগ গ্রহণ ও জরিমানা আরোপ করতে পারে। এটি বাজারে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

৫. তথ্য অধিকার আইন

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নাগরিককে সরকারি তথ্য পাওয়ার অধিকার দেয়। এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি কমাতে সহায়ক।

৬. পরিবেশ আইন

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, বায়ু ও পানি সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পরিবেশ অধিদপ্তর এই আইনের বাস্তবায়ন করে। এই আইন টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।

মানবাধিকার ও সামাজিক আইন রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে ন্যায়ের সেতুবন্ধন। সঠিক প্রয়োগই একটি মানবিক সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও শ্রম আইন

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতি, যেখানে শিল্প, ব্যবসা ও শ্রমিক শ্রেণি একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এই তিনটি খাতকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে আইনগুলো কার্যকর, সেগুলোকেই মূলত বাণিজ্যিক ও শ্রম আইন বলা হয়। বাণিজ্যিক আইন ব্যবসা, ব্যাংকিং, কোম্পানি ও চুক্তি নিয়ন্ত্রণ করে, আর শ্রম আইন শ্রমিকের অধিকার ও কর্মসংস্থানের ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করে। এই দুটি শাখা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।

১. কোম্পানি আইন

বাংলাদেশে কোম্পানি সংক্রান্ত প্রধান আইন হলো Companies Act, 1994। এই আইন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কোম্পানি গঠন, পরিচালনা, শেয়ার ইস্যু, বোর্ড অব ডিরেক্টরসের দায়িত্ব, বার্ষিক সভা, হিসাব রক্ষণ, অডিট, লভ্যাংশ বণ্টন ও কোম্পানি বিলুপ্তির বিধান এই আইনে নির্ধারিত।

এই আইনের অধীনে প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা যায়। প্রতিটি কোম্পানিকে RJSC-এ নিবন্ধন করতে হয়। পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহি করে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বার্ষিক অডিট ও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। কোম্পানি আইন বিনিয়োগকারীর আস্থা ও কর্পোরেট শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

২. চুক্তি ও ব্যবসায়িক বিরোধ

বাংলাদেশে ব্যবসায়িক চুক্তি পরিচালিত হয় Contract Act, 1872 দ্বারা। এই আইনে একটি বৈধ চুক্তির জন্য প্রস্তাব, গ্রহণযোগ্যতা, বিবেচনা ও আইনসম্মত উদ্দেশ্য থাকা আবশ্যক। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ, নির্মাণ, পরিবহন, এজেন্সি, ফ্র্যাঞ্চাইজি—সবই চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

চুক্তি ভঙ্গ হলে ক্ষতিপূরণ, নির্দিষ্ট কর্মসম্পাদন অথবা চুক্তি বাতিলের আবেদন করা যায়। ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দেওয়ানি আদালত, সালিশ (Arbitration) ও ADR পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। Arbitration Act, 2001 দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. শ্রম আইন

বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর রয়েছে Bangladesh Labour Act, 2006। এই আইনে শ্রমিকের মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি, নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ওভারটাইম ভাতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কল্যাণমূলক তহবিল গঠনের বিধান রয়েছে। এই আইন শ্রমিকের মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায় নিশ্চিত করে।

৪. চাকরি ও বরখাস্ত

চাকরি ও বরখাস্ত শ্রম আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়োগপত্রে শর্তাবলি উল্লেখ থাকতে হবে। কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করার আগে নোটিশ, কারণ দর্শানো ও ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক। অন্যায় বরখাস্ত হলে শ্রম আদালতে মামলা করা যায়। এই বিধান শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

৫. শিল্প বিরোধ

শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে মজুরি, কর্মঘণ্টা বা সুবিধা নিয়ে বিরোধ হলে তা শিল্প বিরোধ হিসেবে গণ্য হয়। সমঝোতা ব্যর্থ হলে শ্রম আদালতে মামলা হয়। এই প্রক্রিয়া শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক।

৬. ব্যাংকিং ও আর্থিক আইন

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত পরিচালিত হয় Bank Companies Act, 1991 এবং Bangladesh Bank Order, 1972 দ্বারা। এই আইন ঋণ, আমানত, আর্থিক শৃঙ্খলা ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ব্যাংকিং আইন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।

 

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও শ্রম আইন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য। সঠিক প্রয়োগই একটি স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class