আজকে আমরা কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি ২৯৪- ২৯৮। প্রয়োগ নেই ।
বিধি ২৯৯-৩০৭। কারারক্ষী ও প্রধান কারারক্ষী নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত – বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।
বিধি-৩০৮ । কোন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে তিন বছরের বেশী একই কারাগারে কর্মরত রাখা যাবে না।
বিধি ৩০৯-৩১৩। কারারক্ষী ও প্রধান কারারক্ষী বদলি সংক্রান্ত ।
বিধি-৩১৪। কারাগার এলাকার মধ্যে প্রত্যেক প্রধান কারারক্ষীকে নিজের ও পরিবারের জন্যে স্বতন্ত্র বাসা প্রদান করতে হবে এবং সকল কারারক্ষীর জন্যে রাত্রিবাস এবং রান্না করার জায়গার সংস্থান করতে হবে। সম্ভব হলে কিছু সংখ্যক কারারক্ষীর পারিবারিক স্বতন্ত্র বাসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তবে তা গার্ড রুম থেকে বেশ দূরে হতে হবে।
বিধি-৩১৫ ৷ প্রয়োগ নেই।
বিধি-৩১৬। পৃথক কোন হাসপাতাল না থাকলে অসুস্থ কারারক্ষীগণ কারা হাসপাতালে রোগী হিসেবে ভর্তি পূর্বক চিকিৎসা পাবে এবং সরকারী খরচে ডায়েট পাবেন।
আজকে আমরা মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-২৮২। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে, একজন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী থাকবে। কেন্দ্রীয় কারাগারে অতিরিক্ত এক বা দুইজন মহিলা কারারক্ষী থাকতে পারে।
বিধি-২৮৩ । যদি কোন মহিলাকে এ কাজে না পাওয়া যায়, তবে অর্ধেক সাজা ভোগ হয়েছে এমন ভাল চরিত্রের একজন সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে দায়িত্ব দেয়া যতে পারে। তবে মহিলা বন্দীকে নিয়োগের বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।
বিধি-২৮৪। জেল সুপার এবং জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেট্রন মহিলা বন্দীদের যাবতীয় দেখাশুনা এবং তত্ত্বাবধান করবেন।
বিধি-২৮৫। মহিলা কারারক্ষী একজন হলে তিনি মেট্রনের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন এবং মেট্রনের অনুপস্থিতিতে মেট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মহিলা কারারক্ষীগণ মহিলা বন্দীদের প্রহরার কাজ করবেন।
বিধি-২৮৬। মহিলা বন্দী কারাগারে ভর্তির সময় মেট্রন তাদেরকে তল্লাশী করবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পেলে অপসারণ করবেন। তিনি মেডিকেল অফিসারের নির্দেশে মহিলা বন্দীদের শরীরে কোন জখম বা চিহ্ন রেকর্ড করার জন্যে পরীক্ষা করবেন। তাদের কাছে কোন টাকা পাওয়া গেলে তা জেলারের কাছে জমা দিবেন। তিনি কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে মহিলা বন্দীদের তল্লাশী করবেন। মহিলাদের তল্লাশী কেবল মাত্র মহিলাদের উপস্থিতিতে করতে হবে ।
বিধি-২৮৭। মহিলা বন্দীদের ওয়ার্ড লক-ইন এবং লক-আপের সময় মেট্রন উপস্থিত থাকবেন। দিনের বেলায় চাবি তার দায়িত্বে থাকবে এবং রাতের বেলায় তা জেলারের নিকট হস্তান্তর করবেন ।
বিধি-২৮৮ । মেট্রন ওয়ার্ডের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।
বিধি-২৮৯। জেল সুপার এবং জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেট্রন সশ্রম সাজা প্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের কাজ পরিচালনা করবেন।
বিধি-২৯০ । মহিলা বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রভৃতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে কিনা মেট্রন তা নিশ্চিত করবেন। । এই উদ্দেশ্যে মেট্রন মহিলা বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রভৃতি নিয়মিত তল্লাশী করবেন} ।
নং- ৬৪৭৪ এইচ জে তারিখ ২৬-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত। বিধি-২৯১ । মেট্রন মহিলা বন্দীদের খাদ্য বিতরণ তত্ত্বাবধান করবেন। নিম্নমানের খাদ্যের ব্যপারে তিনি জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
বিধি-২৯২। কোন পুরুষ বন্দী মহিলা বন্দীদের এলাকায় অনুমোদিত কর্মকর্তা- কর্মচারী ছাড়া যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে মেট্রন লক্ষ্য রাখবেন। কোন কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ও বিনা প্রয়োজনে মহিলা বন্দীদের এলাকায় প্রবেশ করলে বা প্রবেশের চেষ্টা করলে মেট্রন তা জেল সুপারকে জানাবেন।
বিধি-২৯৩। যদি কোন মহিলা বন্দী সেলে আটক তাকে তখন মেট্রন বা মহিলা রক্ষী সেলের চাবি নিজের সঙ্গে রাখবেন এবং বন্দীর কাছাকাছি অবস্থান করবেন, যাতে তার প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারেন এবং আত্মহত্যা প্রতিহত করতে পারেন।
আজকে আমরা করণিক কর্মচারী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
করণিক কর্মচারী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
(সহকারী জেলার, প্রধান করণিক, সহকারী করণিক)
বিধি-২৭৭। করণিক কর্মচারী নিয়োগ বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।
বিধি-২৭৮। প্রত্যেক কারাগারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক করণিক নিয়োগ করা হবে। কেবলমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে কারাগারের করণিকদেরকে নির্বাহী দায়িত্বে বদলি করতে হবে ।
বিধি-২৭৯। জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে উৎপাদন বিভাগ সহ কেন্দ্রীয় কারাগারে করণিকদেরকে দায়িত্ব বন্টন করবেন। সাধারণত জ্যেষ্ঠ করণিক উৎপাদন বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন এবং ষ্টোর কিপার হিসাবে পরিচিত হবেন। প্রধান করণিক হিসাব, রিটার্ণ এবং সাধারণ পত্র যোগাযোগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য করণিকগণ ডেপুটি জেলার, ষ্টোর কিপার এবং প্রধান করণিকের সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভর্তি করণিক, রিলিজ করণিক, সহকারী ষ্টোর কিপার প্রভৃতি নামে অভিহিত হবেন ।
বিধি-২৮০। জেলা কারাগারে যদি একাধিক করণিক থাকে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে তাদেরকে ষ্টোর কিপার এবং প্রধান করণিকের দায়িত্ব প্রদান করবেন ।
বিধি-২৮১। কারাগারের কর-ণিকগণ জেলার এবং ডেপুটি জেলারের অধস্তন হবেন এবং তাদের আদেশ প্রতিপালন করবেন। তারা কারাগারের সকল বই কাগজপত্র, রেকর্ড ঠিকভাবে সঠিক জায়গায় এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে রাখার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।
বিধি-২৭৩। ডেপুটি জে-লার কারাগারে জেলারের পরবর্তী অধস্তন ও জেলারের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি জেলারের অনুপস্থিতিতে জেলারের দায়িত্ব পালন করবেন এবং উপস্থিতিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত জেলারের দায়িত্বের অংশ বিশেষ পালন করবেন।
বিধি-২৭৪। ডেপুটি জে-লারকে জেলারের দায়িত্ব এমনভাবে ভাগ করে দিতে হবে যা তিনি জেলারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতিপালন করতে পারেন। ডেপুটি জে-লারকে যে দায়িত্ব প্রদান করা হবে তা জেল সুপার মিনিট বইতে লিপিবন্ধ করবেন।
বিধি-২৭৫। জেলারের অনুপস্থিতিতে যখন ডেপুটি জে-লার অস্থায়ী ভাবে জেলারের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তিনি জেলারের সকল ক্ষমতা ও দায়িত্বের অধিকারী হবেন।
বিধি-২৭৬। জেল সুপার ২৭৪ বিধিতে বর্ণিত মিনিট বইতে রেকর্ডকৃত দায়িত্বের অতিরিক্ত ২৪২,247,288,2৫১ এবং ২৬২ বিধি ব্যতীত জেলারের অন্যান্য কাজের অংশ বিশেষ ডেপুটি জে-লারকে প্রদান করতে পারবেন। ডেপুটি জে-লার শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলারের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জেলারের অনুমতি ব্যতীত রাতে বাসা হতে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না ।
আজকে আমরা জেলারের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-২৪১। এ কোডের যে কোন বিধিতে জেলার বলতে ডেপুটি জেলার এবং জেলারের দায়িত্ব পালনকারী অন্য ব্যক্তিকেও বুঝাবে। ডেপুটি জেলার হতে জেলার পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
বিধি-২৪২। জেলার কারাগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং জেল সুপারের নির্দেশ মোতাবেক কারাগারের সকল সংস্থাপনাদি নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং জেল সুপারকে তার কাজে সাহায্য করবেন এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা দেখবেন। জেলার কারাগার পরিচালনার জন্যে জেল কোডে বর্ণিত সকল বিধি বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্যে দায়ী থাকবেন। এ উদ্দেশ্যে সকল বিধি বিধান এবং কারা মহাপরিদর্শকের সকল সার্কুলার সম্পর্কে তিনি নিজেকে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী করবেন।
{বিধি-২৪২এ। জেলার পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে একটি বিভাগীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সিলেবাস নিম্নরূপ হবে-
(১) জেল কোড বিধি সমূহ ১ম ও ২য় খন্ড এবং কারাগার সমূহের সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, কারাগারে বন্দী আটক এবং তাদের পরিচালনা এবং শৃঙ্খলার বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী আইন ও বিধি সমূহ,
(২) বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ১ম ও ২য় খন্ড এবং ফিন্যান্সিয়াল রুলস
উপরের প্রতিটি বিষয় ১০০ নম্বরের হবে এবং ৫০ নম্বর পাস নম্বর বলে গণ্য হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন। বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কাউকে স্থায়ী করা হবে না।
বিধি-২৪৩। জেলারের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সরাসরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবেন এবং তার নির্দেশ প্রতি পালনে বাধ্য থাকবেন ।
বিধি-২৪৪। জেলার জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে অনুপস্থিত থাকার জন্যে ছুটি প্রদান করতে পারেন, তবে এই ছুটির মেয়াদ চার ঘন্টার বেশী হবে না। অধস্তনের অনুপস্থিত কালে জেলার তার দায়িত্বের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-২৪৫। যদি জেল সুপার অন্যত্র বসবাসের জন্যে লিখিত অনুমতি প্রদান না করেন তবে জেলারকে কারাগারের অভ্যন্তরে বসবাস করতে হবে। আদালতে হাজির হওয়ার জন্যে অথবা জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বাহিরে যাওয়া ব্যতীত জেলার সার্বক্ষণিকভাবে কারাগার এলাকায় উপস্থিত থাকবেন। এরূপ বাহিরে যাবার প্রাক্কালে উপস্থিত অধস্তন সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন এবং তা রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী তাতে প্রতিস্বাক্ষর করবেন।
প্রত্যুষের আন-লক সময় হতে অপরাহ্নের লক-আপ সময় পর্যন্ত জেলার এবং ডেপুটি জেলার একই সময়ে কারাগারে অনুপস্থিত থাকবেন না। এ উদ্দেশ্যে তাদের আহার এবং বিশ্রামের সময় সমন্বয় করতে হবে।
বিধি-২৪৬। যদি প্রয়োজন হয়, তিনি কারাগার পরিদর্শনে আগত ম্যাজিষ্ট্রেট, মেডিকেল অফিসার, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শকগণের কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সংগে থাকবেন। জেল সুপারের কারাগার পরিদর্শনকালীন সময়ে তিনি তার সংগে থাকবেন।
বিধি-২৪৭। জেলার কারাগারের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী তার জন্য নির্ধারিত রিপোর্ট বহিতে (রেজিষ্ট্রার নং-১) লিপিবদ্ধ করে জেল সুপারের নিকট উপস্থাপন করবেন। এ ধরনের বহিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে :-
ক) কারাগারের আন-লকের সময়,
খ) এ সময় উপস্থিত কারা কর্মচারীদের সংখ্যা:
গ) বন্দীদের প্রাত্যহিক কাজ শুরুর সময়;
ঘ) দিনের মধ্যবর্তীকালীন সময়ে কাজ বন্ধের এবং আবার কাজ শুরুর সময়:
ঙ) কারাগারের কাজ বন্ধের সময় এবং লক আপের সময়।
তিনি কারাগারের যে কোন ধরনের বিদ্রোহ, মারাত্নক ধরনের অপরাধ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু অথবা মহামারির প্রাদুর্ভাবের বিষয় রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করবেন । তিনি যদি কখনো তার উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, ব্যর্থতার কারণ উল্লেখ পূর্বক রিপোর্ট বহিটি জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। জেল সুপার জেলারের সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট বহিটি মনোযোগ সহকারে পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন ।
বিধি-২৪৮ ৷ জেলারের মূখ্য দায়িত্ব হ’ল কারাগারে আটক বন্দীদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করা এবং বন্দী ও তার অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল অবস্থা বজায় রাখা, সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের নিকট হতে বিধিবদ্ধ নিয়মে কাজ আদায় করা এবং কারাগারে আটক বন্দীদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও সরবরাহকৃত খাদ্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। তিনি কারাগারের সেল এবং হাসপাতালসহ প্রতিটি অংশ প্রতিদিন পরিদর্শন করবেন যাতে করে প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রতিটি বন্দীকে তিনি দেখতে পান।
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-২৪৯। জেলারকে বন্দীদের আন-লক এবং লক-আপ সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। একমাত্র অসুস্থতা এবং দায়িত্ব পালনে অসমর্থ না হলে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করতে পারবেন না। সাময়িক অনুমতিক্রমে এ ধরনের দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিষয়টি রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
বৃহৎ কারাগারগুলোতে আন-লক এবং লক-আপ সময়ে ডেপুটি জেলার বা প্রধান কারারক্ষীদেরকে কারাগারের বিভিন্ন অংশে এমনভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে যাতে করে জেলার নিশ্চিত হতে পারেন যে, প্রতিটি বন্দীকে সঠিকভাবে আন-লক এবং লক-আপ করা হয়েছে। লক-আপের পরে জেলার পরীক্ষা করে দেখবেন কারাগারের প্রতিটি চাবি সঠিকভাবে তার নিকট জমা হয়েছে কিনা ।
বিধি-২৫০। কোন বন্দী কারগারে আগমনের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বন্দীর রীট, ওয়ারেন্ট অথবা আদেশ পরীক্ষা করে এর বৈধতা সম্পর্কে জেলারকে নিশ্চিত হতে হবে। বন্দীর সাথে আনীত নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্য যে কোন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী অথবা যে সমস্ত পোশাক বন্দীর প্রয়োজন নেই তা সংশ্লিষ্ট বন্দীর { সম্পত্তির বিবরণী ( ফরম নং ৫১৫৮) ফরমে এবং অন্যান্য রেজিষ্টারে} লিপিবদ্ধ করে জমা রাখবেন।
তিনি বন্দীর সম্পত্তি নিরাপদে রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন। তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্দীকে জেল সুপার ও মেডিকেল অফিসারের নিকট হাজির করবেন।
বিধি-২৫১। বন্দীদের আটক রাখার ওয়ারেন্ট সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর খালাসের তারিখ সঠিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করা হয় কিনা, তিনি তা পরীক্ষা করে দেখবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির বিষয়টি তিনি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন যাতে করে কোন বন্দী অতিরিক্ত সময়ের জন্য আটক না থাকে বা সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই খালাস না পায়।
রেয়াত ব্যবস্থায় একজন বন্দীর মুক্তির তারিখ সঠিকভাবে জেলারকে নির্ধারণ করতে হবে। কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড দেয়া হলে তিনি তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করবেন। নির্জন কারাবাসের দণ্ড প্রদান করা হলে তা নিয়ম মোতাবেক বিরতিসহ কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখবেন।
বিধি-২৫২। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জেলার সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের কারাগারে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দান করবেন। কার্য বন্টনের ক্ষেত্রে তাকে প্রতি পাক্ষিকে একবার করে বন্দীদের ওজন পরিমাপ করে দেখতে হবে। কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পেয়েছে দেখা গেলে তার কাজ পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিধি-২৫৩। কারাগারের নিয়ম ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা জেলার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখে রাখবেন এবং জেল সুপারের সামনে অপরাধীকে হাজির করবেন, কিন্তু নিজে শাস্তি প্রদান করবেন না। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে বন্দীকে হ্যান্ড ক্যাপ বা ডান্ডা বেড়ী লাগাবেন কিংবা সেলে তালাবদ্ধ করে রাখবেন এবং অতি সত্বর তা জেল সুপারকে জানাবেন।
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-২৫৪। কারাগারে যাতে কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ তথা কোন বন্দীর নিকট এ ধরনের অবৈধ মালামাল না থাকতে পারে সে জন্য জেলার ন্যূনপক্ষে সপ্তাহে
বিধি-২৫৫। বন্দীদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ অথবা চিঠি পত্র প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পর্কে জেলার জেল কোডের সপ্তদশ অধ্যায়ের নির্দেশাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলবেন। তবে জেল কোডের চতুর্থ অধ্যায়ে মোতাবেক অনুমোদিত ব্যতীত কোন আগন্তুক অথবা বহিরাগতকে জেল সুপারের লিখিত নির্দেশ ব্যতীত কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিবেন না ।
বিধি-২৫৬। জেলার বন্দীদের রেশন সামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ এবং যথাযথভাবে রান্না ও পরিবেশনের জন্যে দায়ী থাকবেন। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ দায়িত্ব অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদান করতে পারবেন।
বিধি-২৫৭। জেলার কোন অসুস্থ বন্দী অথবা চিকিৎসার্থে মেডিকেল অফিসারের নিকট যেতে ইচ্ছুক বন্দীদের কারা হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন। কোন বন্দীর মানসিক অসুস্থতা পরিলক্ষিত হলে তাকেও অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কারা হাসপাতালে বন্দী প্রেরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিষ্টী টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
বিধি-২৫৮। কোন বন্দীর চিকিৎসা বিষয়ে মেডিকেল অফিসার অথবা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট যে সমস্ত নির্দেশাবলী প্রদান করবেন জেলার তা যথা নিয়মে তামিল করার ব্যবস্থা করবেন। এ সমস্ত নির্দেশাবলীর মধ্যে যেগুলো তিনি তামিল করবেন সে গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিন্ত্রী টিকেটে লিখে রাখবেন। আইন গত কারণে যে সমস্ত নির্দেশ প্রতিপালন করতে তিনি অপরাগ হবেন, তার কারণ হিস্ট্রী টিকেটে লিপিবদ্ধ করে অনতিবিলম্বে জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। তবে কোন বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের জরুরী লিখিত নির্দেশগুলো তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপালনে বাধ্য থাকবেন।
বিধি-২৫৯। কারাগারে কোন বন্দী মারা গেলে জেলার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে অবহিত করবেন। কারাগার এলাকায় কোন বন্দী মারা গেলে জেলারকে এ মৃত্যুর বিষয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভা না থাকলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবহিত করতে হবে। মৃত্যুর সংবাদ সংশ্লিষ্ট বন্দীর আত্মীয়-স্বজনকেও জানাতে হবে ।
বিধি-২৬০। প্রতি সপ্তাহে একটি সুবিধাজনক দিবসে জেলার মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে কারাগারে আটক সমস্ত বন্দীদেরকে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করবেন ঃ-
ক) সর্তকতার সাথে প্রতিটি বন্দীকে পরিদর্শন করবেন;
খ) প্রতিটি বন্দীর কাপড়-চোপড়, বিছানা-পত্র পরীক্ষা করে দেখবেন:
গ) সকল বন্দী উপস্থিত রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন; বন্দীদের কাপড়-চোপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করে উহার ফলাফল সম্পর্কে রিপোর্ট বহিতে প্রতিবেদন লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-২৬১। কারারক্ষীদের ড্রীল, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি জেলার দেখবেন। রিজার্ভ গার্ডের কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ যথাযথ ভাবে সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে কিনা তাও তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। কারারক্ষীগণ যাতে রাতে তাদের নির্ধারিত কোয়ার্টার পরিত্যাগ করতে না পারে, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য প্রতি মাসের কোন একদিন জেলার উক্ত কোয়ার্টারগুলো পরিদর্শন করবেন এবং কোন রক্ষী কোয়ার্টারে অনুপস্থিত নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন।
নোট- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর স্ব:ম: ২৭১ (জেল-১) তারিখ ২৮-৫-১৯৮২ মোতাবেক কারারক্ষীদের জন্যে ৬ সপ্তাহের একটি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে।
বিধি-২৬২। কারাগারের যাবতীয় রেজিষ্টার, রেকর্ড ইত্যাদি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। জেলারকে অধস্তন কর্মচারীদের কার্যাবলী তদারকী তথা যাবতীয় কাজ সঠিক সময়ে আদায় করে নিতে হবে। তিনি কারাগারের যাবতীয় ক্যাশ বহি সংরক্ষণ করবেন এবং ক্যাশ বহি অনুসারে নদগ অর্থ সঠিকভাবে জমা রাখবেন।
বিধি-২৬৩। ব্যক্তিগত ক্যাশ হতে কারাগারের অগ্রিম খরচ মেটানো জেলারের জন্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । এ কোন্ডের একচল্লিশতম অধ্যায় এবং সিভিল একাউন্ট কোড কঠোর ভাবে অনুসরণ করে তিনি সকল আর্থিক লেনদেন করবেন।
বিধি-২৬৪। জেলার কারাগারের যাবতীয় ষ্টোর সংরক্ষণ করবেন। ষ্টোরে সংরক্ষিত যাবতীয় মালামাল যত্ন সহকারে মওজুদ রাখার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। তিনি ষ্টোরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখার ব্যবস্থা করবেন। তবে কাজের সুবিধার্থে ষ্টোরের দায়িত্ব তিনি একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও জেলার ষ্টোরের সামগ্রিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন না।
বিধি-২৬৫। বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, পদত্যাগ এবং ছুটিতে যাবার প্রাক্কালে জেলার কারাগারের যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি, ষ্টোরের যাবতীয় মালামাল এবং অন্যান্য সামগ্রী ইনভেন্টরী সীট (বিজি ফর্ম নং ৮৭) এর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারকে বুঝিয়ে দিবেন। অনুরূপভাবে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারও সরেজমিনে পরীক্ষা করে যাবতীয় বিষয়ের সঠিকতা যাচাই করে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
টীকা- বদলির ক্ষেত্রে ভান্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার তাঁর হেফাজতে রক্ষিত ভান্ডার তাঁর উত্তরসূরীর নিকট সঠিকভাবে হস্তান্তর করে তাঁর নিকট থেকে একটি যথাযথ রসিদ গ্রহণ করবেন (প্যারা-১৫০, জেনারেল ফাইন্যান্সিয়াল রুলস)।
বিধি-২৬৬। নুতন কোন জেল সুপার কারাগারে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, জেলার তাকে কারাগারের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকার বিধি ও আদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে অবহিত করবেন।
আজকে আমরা অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
নোট- “ অধস্তন কর্মচারী ” বলতে কোন কারাগারের সকল নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বুঝাবে (কয়েদী কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবে না)।
বিধি ১৬০-১৬৫। নিয়োগ সংক্রান্ত। বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।
টীকা-১। সরকারী কর্মচারীদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ সম্পর্কে ১৮ মে ১৯৭৯ হতে সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং ২০ আগস্ট ১৯৮৫ হতে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ কার্যকর রয়েছে।
টীকা-২। সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ কারাগারের ডেপুটি জেলার এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টরের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ জেলারের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। উল্লেখিত বিধি দুটি যে সকল অধস্তন কারা কর্মচারীর জন্যে প্রযোজ্য নয়, তাদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ জেল কোড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে ।
টীকা-৩। জেল কোডে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল মাত্র “অফিসার” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সামান্য কিছু ক্ষেত্রে “সার্ভেন্ট” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। “অফিসার” বলতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী শব্দটি ব্যবহার করা সমীচীন হবে।
বিধি-১৬৬। প্রয়োগ নেই ।
বিধি-১৬৭। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তার দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবেন। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার স্থলাভিষিক্ত কর্মচারীকে দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করবেন। জেলার এবং ডেপুটি জেলার তাদের হাতে একটি নোট বই রাখবেন এবং এতে জেল সুপারের মৌখিক নির্দেশ সমূহ লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-১৬৮। জেলার বা তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অন্য কোন চাকরি করতে পারবেন না।
বিধি-১৬৯ । কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করা যাবে না বা তার সাথে কোন আর্থিক লেনদেনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না।
বিধি-১৭০। কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধ নিষিদ্ধ। অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন কাজ সংক্রান্ত বিরোধ জেলারকে কিংবা প্রয়োজনে জেল সুপারকে জানাতে হবে। সকল অভিযোগ জেল সুপার বা জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তুচ্ছ এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকে শাস্তি পেতে হবে।
বিধি-১৭১।কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে একত্রীকরণ করা যাবে না এবং এরূপ চেষ্টা শাস্তি যোগ্য হবে।
বিধি-১৭২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরকারী বাসা দেয়া হলে তাতে বসবাস করতে হবে। যারা সরকারী বাসা পাবেন না তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি থাকতে হবে। সরকারী বাসা সাব-লেট দেয়া যাবে না।
বিধি-১৭৩। প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে প্রবেশ ও বাহিরের সময় গেইট রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৬ ) স্বাক্ষর করতে হবে।
বিধি-১৭৪। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারাগারের অভ্যন্তরে কোন ভিজিটর নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। কোন মহিলাকে কোন অবস্থাতেই রক্ষীদের ব্যারাক, গার্ডরুম, রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।
বিধি-১৭৬। জেল সুপারের অনুমতি কিংবা আদালতের সমন ব্যতীত কোন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনে বা রাত্রে কারাগার এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন না কিংবা তার নির্ধারিত দায়িত্বকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না ।
বিধি-১৭৭। অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন এবং যাদের জন্যে প্রযোজ্য তারা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিফর্মের সাথে সিভিল পোশাকের সমন্বয় করে পরিধান করা নিষিদ্ধ।
বিধি-১৭৮। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক কারাগারে কর্তব্যরত অবস্থায় ধুমপান করা বা মদপান করা বা গান করা বা উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ এবং কারাগারে কোন মাদক দ্রব্য প্রবেশ করানো নিষেধ।
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
বিধি-১৭৯। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তির কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের সরবরাহ কাজের ঠিকাদারীতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন না, কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হতে কোন সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
বিধি-১৮০। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তিয় কোন ব্যক্তি, কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান করবেন না, বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান হতে অর্জিত সুবিধা বা কোন টাকা গ্রহণ করবেন না বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন বন্দীর সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়িক কারবার করবেন না।
বিধি-১৮১। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না বা কারাগার সংক্রান্ত কোন তথ্য আদান প্রদান করবেন না এবং কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনকে বা মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত নিজের বাসায় থাকতে দিবেন না।
বিধি-১৮২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগারের শৃঙ্খলার বিষয়ে বিনা প্রয়োজনে কোন বন্দীর সঙ্গে আলোচনা করবেন না এবং তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করবেন না।
বিধি-১৮৩। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগার বা সরকারের স্বার্থে ব্যতীত তার ব্যক্তিগত কাজে বা ব্যক্তিগত লাভের জন্যে বা সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে নিয়োজিত করবেন না ।
বিধি-১৮৪। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বন্দীদের সঙ্গে মানবিক, দয়াশীল এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আচরণ করবেন, তাদের অভিযোগ ও আবেদন মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন। একই সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন এবং বিধি-বিধান কার্যকর করবেন।
বিধি-১৮৫। জেল সুপারের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে অন্য কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন শাস্তি প্রদান করবেন না কিংবা শাস্তি প্রদানের ভয় দেখাবেন না, বা রুঢ় দুর্ব্যবহার, অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করবেন না ।
বিধি-১৮৬। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত কিংবা উপদ্রব দমনের ন্যূনতম প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করা যাবে না।
বিধি-১৮৭। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দী বা অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোন বিধি ভঙ্গের বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হবেন না।
বিধি-১৮৮। অকার্যকর
বিধি-১৮৯। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিকট রক্ষিত চাবি দায়িত্ব শেষে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত অন্য কারো নিকট অর্পণ করবেন না; এবং অনুরূপভাবে তার দায়িত্ব স্থলও পরিত্যাগ করবেন না। কোন সেল, ওয়ার্ড বা গেইটের চাবি কারাগারের বাহিরে নেয়া যাবে না এবং কোন বন্দীর নিকট দেয়া। যাবে না। যদি কোন তালার চাবি কোন কারণে হারিয়ে যায়, ঐ তালা বাদ দিতে হবে এবং এর জন্যে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট হতে এর মূল্য আদায় করা হবে।
বিধি- ১৯০ ৷ কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন কারণেই রাতের বেলা একাকী কোন ওয়ার্ডে বা বন্দী সেলে যাবেন না। অসুস্থতা বা অন্য কোন জরুরী প্রয়োজনে যেতে হলে আরও একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিতে হবে।
বিধি-১৯১। সকল কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন-
(১) বন্দী পলায়ন রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক প্রহরা নিশ্চিত করতেঃ বন্দীরা পলায়নের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে এমন ভাবে যেন কোন মই, দড়ি,বাঁশ,পয়:নিষ্কাশন পাইপ এবং অন্যান্য বস্তু কারাগারের অভ্যন্তরে না থাকে জেলার ও তার অধস্তনদের তা দেখতে হবে;
(২) কারাবন্দীদের নিকট || আফিম, গাঁজা, বা অন্য কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ রোধ করতে;
(৩) বিধি সম্মত অনুমতি ব্যতীত বাহিরের লোকজনের সঙ্গে বন্দীদের যোগাযোগের চেষ্টা রোধ করতে; এবং কোন সন্দেহ জনক গতিবিধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করতে ।
বিধি-১৯২। সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন-
(১) কারাগার পরিচালনায় সাহায্য করতে এবং কারাগারের শৃংখলা বজায় রাখতে এবং কারাগারের প্রহরা বজায় রাখতে এবং কোন বেআইনী বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করতে;
(২) উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সকল আইন সম্মত আদেশ কঠোরভাবে পালন করতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণকে সম্মান করতে,
(৩) সকল আইন, বিধি, বিধান, আদেশ এবং নির্দেশ যথাযথ ভাবে প্রতিপালন করতে:
(৪) তাদের দায়িত্বে অর্পিত সম্পত্তির যত্ন নিতে।
বিধি-১৯৩। প্রত্যেক জেলার বা তার অধস্তন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন দায়িত্ব বরখেলাপ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নিয়ম বা বিধি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইন সম্মত আদেশ ভঙ্গ বা অবহেলার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া বা দুই মাস পূর্বে তার অভিপ্রায় সম্পর্কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করে দপ্তরের কাজ পরিত্যাগ করার জন্যে, বা অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত অবস্থান করার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া কারাগারের কাজ ছাড়া অন্য কাজে নিয়োজিত হবার জন্য, বা কাপুরুষতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন।
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
বিধি-১৯৪ । প্রত্যেক অধস্তন কর্মচারী কোন অপরাধের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হলে নিম্নোক্ত এক বা একাধিক বিভাগীয় শাস্তি প্রাপ্ত হবেন-
(১) আনুষ্ঠানিক কঠোর তিরস্কার বা ভর্ৎসনা
(২) মাসিক বেতনের অনধিক অর্ধেক জরিমানা করা:
(করণিক বা করণিক সংস্থাপনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না) }
(৩)পাওনা ছুটি বাতিল করে দেয়া;
(8) পাওনা ছুটি প্রদান বিলম্ব করা;
(৫) দৈনিক এক ঘন্টা করে অনধিক ৭ দিন অতিরিক্ত ড্রিল করানো;
(কারারক্ষী সংস্থাপনের রক্ষীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
(৬) অনধিক ৬ মাস পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্তকরণ;
(৭)পদবী বা বেতন-ভাতাদি বা উভয়ই হ্রাস করণ;
(৮) {প্রদত্ত জামানত বাতিল করণ:
(৯) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করণ, }
(১০) অফিস এবং বেতন-ভাতাদি হতে বাদ দেয়া;
(১১) চাকরি হতে বরখাস্তকরণ,
(১২) উপরের যে কোন গুলোর সমন্বয়ে প্রদত্ত শাস্তি ।
নোট। বিভাগীয় শাস্তি ফৌজদারি আইনে প্রদত্ত সাজা হতে ভিন্ন হিসেবে গণ্য হবে, তবে কাউকে একই অপরাধের জন্যে দু’বার শাস্তি দেয়া হবে না। বিধি-২০১ এর আওতায় বরখাস্ত এ বিধিতে দ্বিতীয় শাস্তি বলে গণ্য হবে না।
টীকা- সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কাজেই বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের জন্যে জেলার এবং তদু কর্মকর্তাদের জন্যে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য হবে এবং জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য হবে। যে সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য তাদেরকে জেল কোডে বর্ণিত ধারায় শাস্তি আরোপ করা যাবে না।
বিধি-১৯৫। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদাবনতি, অপসারণ বা বরখাস্তে র শান্তি তার নিয়োগ এবং বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কার্যকর করা যাবে না ।
বিধি ১৯৬-১৯৯ ৷ অকার্যকর।
বিধি-২০০। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত যে কোন অপরাধের জন্যে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, শর্ত থাকে যে, সম্ভাব্য শাস্তি প্রদানের জন্যে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকতে হবে; যদি যথেষ্ট প্রমাণাদি না থাকে কিন্তু অপরাধী অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট যুক্তি সংগত ভাবে প্রতীয়মান হলে তিনি ২০৪ বিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
(১) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা মূলক বন্দী পলায়ন করতে দেয়া;
(২) কারাভ্যন্তরে নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করানো, বা বন্দীদের কাছে সে সব সরবরাহ করা, বা বন্দীদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ রাখা এবং এ সব কাজে সহায়তা করা;
(৩) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারে সরবরাহের ঠিকাদারীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহণ করা:
(৪) দণ্ড বিধি বা অন্যান্য ফৌজদারি আইনের আওতায় দণ্ডনীয় উপর্যুপরি কোন অপরাধ করা।
এ ধরনের কোন অপরাধকে তুচ্ছ জ্ঞান বা মার্জনা করা যাবে না, শান্তির মাধ্যমে নাম মাত্র জরিমানা বা শাস্তি দেয়া যাবে না। এ ধরনের কোন বা বিভাগীয় বিষয়ে কোন ফৌজদারি কার্যক্রম গৃহীত না হলে তা কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।
বিধি-২০১। গুরুতর অপরাধের জন্যে ফৌজদারি আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তার কৃত অপরাধের দায়ে অন্য কোন বিভাগীয় শান্তির বিবেচনা না করে চাকরি হতে সরাসরি বরখাস্ত করা হবে এবং কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা যাবে না।
বিধি-২০২। যে সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিম্নোক্ত অপরাধ করবে সাধাণরত তাদেরকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে কিংবা আরও গুরুতর অপরাধের প্রমাণ থাকলে কারা আইনের ৫৪(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে হবে-
(১) যদি মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত হয়,
(২) যদি প্রহরা কালে ঘুমায়,
(৩) যদি আত্মরক্ষার প্রয়োজন বা গোলযোগ দমনের প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করে বা বেআইনী সাজা প্রদান করে,
(৪) যদি মহিলা বন্দীদের বেষ্টনীতে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বা অন্য কাউকে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রদান করে বা কোন মহিলা বন্দীর সাথে বিধি বহির্ভূতভাবে যোগাযোগ করে,
(৫) যদি খাদ্য সরবরাহ বা বরাদ্দকালে অনিয়ম করে বা অনিয়মের সময় তা না দেখার ভান করে,
(৬) যদি বিধি ১৮৩ ভঙ্গ করে কোন বন্দীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করে,
(৭) যদি জেলার বা অন্য কোন উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবজ্ঞা বা অপমান করে।
বিধি-২০৩। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে লঘু দণ্ডের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জেল সুপার কর্তৃক কেবলমাত্র উক্ত কর্মচারীর সার্ভিস বইতে তার উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে
বিধি-২০৪ । (১) যখন কোন অধস্তন কর্মচারী এমন কোন অপরাধ করে যে যার জন্য সে চাকরি হত বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনতি হতে পারে, তখন জেল সুপার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত করবেন।
(২) এ সমস্ত বিভাগীয় তদন্তের রেকর্ড ২০৫ বিধিতে বর্ণিত উপায়ে হবে এবং অন্তর্ভুক্ত থাকবে-
(ক) অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে গঠিত সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগসমূহ, যার একটি কপি অভিযুক্তকে প্রদান পূর্বক ব্যাখ্যা তলব করতে হবে;
(খ) সাক্ষীদের (যদি থাকে) প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী, কোন অসুবিধা না থাকলে অভিযুক্তের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে এবং সাক্ষীদের জেরা করার জন্যে অভিযুক্তকে সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ কোন পরিস্থিতি ব্যতীত অভিযুক্তের পক্ষে বা সরকারের পক্ষে নিযুক্ত কোন আইনজীবিকে তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা আপীল কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যাবে না।
(গ) অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি সংগত সুযোগ দিতে হবে এবং তা লিখিত আকারে হবে। তা ছাড়া তাকে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রমাণের রেকর্ড দেখার সুযোগ দিতে হবে।
(ঘ) অভিযুক্তের চাকরি বহিতে বা অফিস রেকর্ডে পূর্ব চরিত্র সংক্রান্ত তথ্যাদির বিবরণী:
(ঙ) গঠিত প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ;
(চ) যে শাস্তি আরোপ করা হবে তার সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট উল্লেখ: অথবা তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তার শাস্তি আরোপের ক্ষমতা না থাকলে কি ধরনের শাস্তি আরোপ করা উচিত হবে মর্মে তিনি মনে করেন সে সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বিবরণী।
(৩) অকার্যকর ।
(৪) সাব্যস্ত শাস্তির রেকর্ড প্রস্তুত করতে হবে: সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে কোন করণিক যারা রেকর্ড তৈরী করা যাবে না।
(৫) যখন শাস্তি প্রদানের আদেশ হবে তখন শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারী উক্ত আদেশের একটি কপি বিনা মূল্যে পাবেন।
(৬) অকার্যকর।
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
বিধি-২০৫। বিভাগীয় মামলার কার্য বিবরণীতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি ধারাবাহিক ভাবে থাকবে-
(১) অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম, পদবী এবং গ্রেড;
(২) অভিযোগ সমূহ-(অভিযোগ সমূহ সুনির্দিষ্ট হবে, প্রতিটি অভিযোগ পৃথক ভাবে লিখতে হবে এবং পৃথক ক্রমিক নম্বর প্রদান করতে হবে এবং অপরাধ সংঘটনের তারিখ, বর্ণনা এবং ধরন উল্লেখ করতে হবে)।
(৩) সাক্ষ্য প্রমাণাদি- সাক্ষ্য গৃহীত হলে তার কপি কার্য বিবরণীর সংগে সংযুক্ত করতে হবে।
(৪) অভিযুক্তের জবার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন ।
(৫) মন্তব্য (সাক্ষ্য প্রমাণ এবং অভিযুক্তের জবাবের উপর মন্তব্য) ।
(৬) চরিত্র- (অভিযুক্তের চাকরিতে নিয়োগের তারিখ পূর্ব শাস্তি সমূহ এবং পুরস্কার প্রভৃতি)।
(৭) আদেশ।
(৮) আদেশসমূহ-যদি খোৱাকী ভাতা, পেনশন প্রভৃতি সম্পর্কে কোন আদেশ থাকে।
বিধি-২০৬। তদন্ত কার্যের সকল বিবরণী আদেশের জন্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তবে যে ক্ষেত্রে জেল সুপার নিজেই নিয়োগকারী সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই আদেশ প্রদান করবেন।
বিধি-২০৭। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারের বাসা ছেড়ে দিতে হবে এবং তাদেরকে কারাগার আস্তিনায় পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারীর বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন থাকলে এবং তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান না করা হলে তিনি সরকারী বাসায় থাকতে পারবেন। সাময়িক বরখাস্তকৃত কোন কর্মচারীকে কারাগারে বা কারাগার অফিসে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং কোন বন্দীর সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হবে না।
বিধি-২০৮। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে অধস্তন কর্মচারীগণের দাবীকৃত ভাতা ফান্ডামেন্টাল রুলস ৪২,৪৩ এবং ৫৩ দ্বারা নির্ধারিত হবে ।
টীকা-১। ফান্ডামেন্টাল রুল ৪১ ও ৪৩ বর্তমানে কার্যকর নেই। একজন অধস্তন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তার বেতনের এক-তৃতীয়াংশ পরিমান ভাতা প্রাপ্য হবেন (ফান্ডামেন্টাল রুলস ৫৩)।
বিধি-২০৯। কারা মহাপরিদর্শক স্বেচ্ছায় কিংবা কোন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে জেল সুপার কর্তৃক ২০৪ ধারায় গৃহীত কোন কার্যক্রমের রেকর্ড তলব করতে পারবেন এবং পুনর্বিবেচনা পূর্বক প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারবেন ।
বিধি-২১০। জেল সুপারে আদেশের বিরুদ্ধে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আপীল করতে হবে। চাকরিরত কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে তাদের আবেদন লিখিতভাবে করতে হবে এবং জেল সুপারের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে। প্রত্যেক আবেদনের সঙ্গে জেল সুপারের আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
বিধি-২১১। আদেশ প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে ২১২ বিধি মোতাবেক আপীল করতে হবে। আপীলকারীর অপ্রয়োজনীয় এবং বিরক্তিকর বক্তব্য কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক অবাধ্যতা বলে গণ্য করা হবে।
বিধি-২১২ । অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপীলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে-
(১) বিভাগীয় শান্তি হিসেবে (ক) বরখাস্ত (খ) অপসারণ (গ) সাময়িক বরখাস্ত (ঘ)পদাবনতি (ঙ) পদোন্নতি বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত (চ) জরিমানা করা হলে আপীল করা যাবে
(২) যে কর্তৃপক্ষ শাস্তি প্রদান করছেন তার এক ধাপ উপরের কর্তৃপক্ষের নিকট শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারীর একবার আপীল পেশ করার অধিকার রয়েছে।
(৩) দ্বিতীয় বার আপীল করা যাবে না।
(৪) কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারী কর্তৃক স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আপীল করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক যে ক্ষেত্রে আপীল কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে আপীল আবেদনের উপর তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
বিধি-২১৩ । নিয়োগ লাভের পর প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিজ খরচে একটি সার্ভিস বই সংরক্ষণ করবেন। এতে সে সব সকল বিষয় রেকর্ড করতে হবে যার উপর তার পেনশন নির্ভর করে এবং তার চাকরির সকল পর্যায় তাতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এতে নিয়োগের সকল তথ্যাদি এবং বদলি, ছুটি, বেতন প্রভৃতির পরিবর্তন, অপরাধ এবং শাস্তি (ধারাবাহিক ক্রমিকে) শাস্তির সক্ষিপ্ত কারণসহ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চরিত্র বা তার সম্পর্কে ভাল মন্দ বিষয় কিংবা তার কাজের ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন সার্ভিস বইতে লিপিবদ্ধ করা হবে না। তবে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক বা তার মাধ্যমে প্রদত্ত অফিসিয়াল কোন প্রশংসা বা পুরস্কার প্রদানের বিষয় তাতে লিপিবদ্ধ করা হবে।
(২) সার্ভিস বইতে সকল রেকর্ড জেল সুপারের পূর্ণ স্বাক্ষরে লিপিবদ্ধ হবে এবং কারারক্ষী সংস্থাপনের জন্যে সার্ভিস রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে।
(৩) সার্ভিস বই জেলারের এবং উৎপাদন বিভাগের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেল সুপারের হেফাজতে অফিসে রাখতে হবে। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলি হলে সকল প্রয়োজনীয় অর্ন্তভুক্তি শেষে এবং যাচাইতে তার সার্ভিস বই সাত দিনের মধ্যে বদলিকৃত কারাগারের জেল সুপারের নিকট রেজিষ্টার্ড খামে প্রেরণ করতে হবে।
নোট- নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্যে সার্ভিস বইয়ের পরিবর্তে সার্ভিস রোল সংরক্ষণ করতে হবে।
নং-২৯৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত।
বিধি-২১৪ । এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যেক সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোল যত্নের সাথে এবং নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবর্তন যথাযথভাবে সত্যায়ন করে রাখতে হবে, না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পেনশনের আবেদন যাচাই কালে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিধি-২১৫ ৷ প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে একটি সার্ভিস রেকর্ড (জেল ফরম নং-৯৬) সংরক্ষণ করতে হবে যা সার্ভিস বইয়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এ বইতে থাকবে-
(১) “ডিক্লারেশন ফরম”-জেল ফরম নং-৮৯
(২) “ভেরিফিকেশন রোল”-জেল ফরম নং-৯৫
(৩) “ ইউনিফর্ম ইস্যুর রেকর্ড”
(৪) “সার্ভিস ভেরিফিকেশন”
(৫) “পরীক্ষার ফলাফল”
(৬) “পেনাল্টি বন্ড”–জেল ফরম নং-৯০ ।
কভারের উপরের নির্দেশাবলীর প্রতি জেলারকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বিধি-২১৬। জেল সুপার সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ড লিপি বদ্ধ করবেন এবং পে লিস্ট ও একুইটেন্স রোল হতে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য স্বাক্ষর প্রদান পূর্বক তাতে রেকর্ড করবেন। জেলার লক্ষ্য রাখবেন কোন কারারক্ষী বদলি হলে যেন তার সার্ভিস রোল এবং সার্ভিস রেকর্ড যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার পর প্রেরণ করা হয়।
বিধি-২১৭। {কারারক্ষীর উপরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের দপ্তরে ব্যক্তিগত নথির আকারে একটি চারিত্রিক রোল সংরক্ষণ করতে হবে যার মধ্যে জেল সুপার প্রেরিত ত্রৈমাসিক গোপনীয় প্রতিবেদন হতে কারা মহাপরিদর্শক মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন। এতে পুরস্কার, শাস্তি, বদলি, ছুটি এবং পদোন্নতি প্রভৃতি বিষয়ের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) চারিত্রিক রোলে রেকর্ড সন্নিবেশ করার জন্যে প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গোপনীয় প্রতিবেদন ১২১ নম্বর জেল ফরমে এবং সকল প্রধান করণিক, করণিক, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, কম্পাউন্ডার, সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগের টেকনিক্যাল স্টাফ প্রভৃতির গোপনীয় প্রতিবেদন ১২২ নম্বর জেল ফরমে জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে প্রেরণ করতে হবে।
(৩) জেল সুপার গোপনীয় প্রতিবেদন প্রদান করবেন- (ক) বৎসরান্তে জানুয়ারি মাসে এবং (খ) জেল সুপার কিংবা যার প্রতিবেদন প্রদান করা হবে তিনি বদলি হলে সে সময়।
(৪) জেল সুপার যথাযথ সতর্ক বিবেচনাপূর্বক গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন যাতে কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে রক্ষিত চারিত্রিক রোলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতিবেদনকালীন সময়ের কাজ সম্পর্কে সঠিক চিত্র ফুটে উঠে।
(৫) কারা মহাপরিদর্শক বার্ষিক পরিদর্শনের সময় গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।
(৬) সকল বিরূপ মন্তব্য এবং ত্রুটি সম্পর্কে প্রতিবেদন অধীন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে লিখিতভাবে সরাসরি জানাতে হবে। এ সময় তাকে বিরূপ মন্তব্য বা ত্রুটি উল্লেখিত প্রতিবেদনের কপি প্রেরণ করতে হবে।
(৭) সকল সর্ব প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী এবং সার্কেল রক্ষী (মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষীসহ) এর সার্ভিস রেজিষ্টার (জেল রেজিষ্টার নম্বর-৪) সার্কেল কারাগারের অফিসে রক্ষিত হবে।।
নং-২১৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত।
বিধি -২১৮। প্রত্যেক বছর ১লা অক্টোবর তারিখে জেলার, ডেপুটি জেলার, প্রধান করণিক, জেল করণিক, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষী প্রভৃতি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
বিধি-২১৯। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্যে ফান্ডামেন্টাল রুলসের ২৪ এবং ২৫ বিধি অনুসরণ করতে হবে।
টীকা-১ স্থগিত না করা হলে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই উত্তোলন যোগ্য হবে। একজন সরকারী কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কেবলমাত্র সরকার কিংবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কর্তৃপক্ষ স্থগিত করতে পারে, যদি তার আচরণ ভাল না হয় কিংবা তার কাজ সন্তে াষজনক না হয়। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের আদেশ প্রদানকালে কত মেয়াদের জন্য তা স্থগিত থাকবে এবং এই স্থগিতাদেশের ফলে ভবিষ্যতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা তার উল্লেখ করতে হবে (বিধি-২৪, ফান্ডামেন্টাল রুলস)।
টীকা-২। যখন কোন টাইম স্কেলে দক্ষতা সীমা বিদ্যমান থাকে তখন দক্ষতা সীমা অতিক্রম করে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা যাবে না, যতক্ষণ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার ক্ষমতা সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা অনুমোদন দেয়া না হয় (বিধি-২৫. ফাণ্ডামেন্টাল রুলস)।
বিধি-২২০। কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রে বেসামরিক চাকরি বিধির নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে। কারারক্ষীদের পেনশনের জন্যে উচ্চতর স্কেল গণনা করা হবে। অবসর গ্রহণের পর পেনশন বা গ্রাচ্যুইটির জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোলসহ আবেদন পত্র দাখিল করতে হবে। পেশকৃত সার্ভিস বই জেল সুপার কর্তৃক প্রতিপাদন করা থাকতে হবে। এ উদ্দেশ্যে অবসর গ্রহণকারী যে কারাগারে হতে অবসর গ্রহণ করবেন সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট অবসর গ্রহণের অনধিক ছয় মাস পূর্বে সার্ভিস বই প্রতিপাদনের জন্যে পেশ করবেন যাতে চাকরি পরিত্যাগের পূর্বেই সকল কিছু যাচাই করা যায়।
বিধি-২২১। কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক ফান্ডামেন্টাল রুলস মোতাবেক অধস্তন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি (নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত) মঞ্জুর করা হবে। মেডিকেল অফিসার ব্যতীত অন্য যে যে কান অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জেল সুপার নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে এক বছরে মোট মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির পরিমাণ {বিশ} দিনের বেশী হবে না।
এক সঙ্গে কত দিন নৈমত্তিক ছুটি দেয়া হবে তা জেল সুপারের বিবেচনাধীন থাকবে। মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির হিসাব নৈমত্তিক ছুটি রেজিষ্টারে ( ১০৭ নম্বর ফরমে) সংরক্ষণ করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক জেল সুপারগণকে এক পঞ্জিকা বছরে অনধিক {বিশ } দিন নৈমত্তিক ছুটি প্রদানে ক্ষমতাবান।
বিধি-২২২। নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অপরাপর ছুটির জন্যে জেলার, ডেপুটি জেলার বা জেল করণিক কর্তৃক ছুটি ভোগ শুরু হবার তিনমাস পূর্বে ৪০ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন পেশ করতে হবে। অসুস্থতা এবং জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে যখন বার্ষিক পরিসংখ্যান এবং রিপোর্ট প্রনয়নের কাজ চলে তখন তা দাখিল না হওয়া পর্যন্ত কোন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না।
বিধি-২২৩। বিধিতে অনুমোদন থাকলে জেলা কারাগারের জেল সুপার তার কারাগারের কারারক্ষীকে অনুরূপ ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে, (১) মঞ্জুরীকৃত ছুটির পরিমাণ চার মাসের বেশী হবে না এবং (২) ছুটিকালীন কাজের দায়িত্ব প্রয়োজনে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালিয়ে নিতে হবে।
যদি স্থানীয় ব্যস্থাপনায় চালিয়ে নেয়া সম্ভব না হয় কিংবা প্রার্থীত ছুটির পরিমাণ চার মাসের অধিক হয় তখন বিষয়টি সার্কেল জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে যিনি প্রয়োজনে ছুটিকালে প্রতিস্থাপক প্রদান করতে পারেন। সার্কেল জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত কোন প্রধান কারা রক্ষীর নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অন্য কোন ছুটি প্রদান করা যাবে না ৷ জেল সুপার কোন ছুটির আবেদন অগ্রগামী করার সময় তিনি তাতে সুপারিশ করেছেন কিনা তার উল্লেখ করবেন। অসুস্থতা জনিত ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল অফিসারের মতামত প্রয়োজন হবে।
বিধি-২২৪। অকার্যকর
বিধি-২২৫। কারাগারে কোন অস্বাভাবিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব ঘটলে বা সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিত থাকা আবশ্যক এমন অবস্থার উদ্ভব হলে সকল প্রকার ছুটি বন্ধ করার এবং যারা ছুটি ভোগরত রয়েছে তাদেরকে ডেকে নেয়ার জন্যে জেল সুপারের ক্ষমতা থাকবে।
আজকে আমরা ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি ১৫১ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে যেখানে বিশেষ ধরনের শিল্প কারাখানা রয়েছে সেখানে উৎপাদন বিভাগের সকল শাখার কাজ তত্ত্বাবধানে পারদর্শী একজন উৎপাদনকারী থাকবেন। এ ধরনের নিয়োগ সরকারের বিশেষ অনুমোদনক্রমে বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী হবে।
বিধি-১৫২। এই কর্মকর্তাকে ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে অভিহিত করা হবে। পদ মর্যদায় তিনি জেলারের ঊর্ধ্বতন হবেন। কারাগারের বিধি-বিধান এবং জেল সুপারের নির্দেশনাবলী সাপেক্ষে নিজের বিভাগ সম্পর্কিত তার প্রদত্ত সকল আদেশ জেলার প্রতিপালন করতে বাধ্য থাকবেন।
বিধি-১৫৩। কারাগারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে কারাগারের সকল বিধি বিধান সম্পর্কে তিনি সমাক জ্ঞান লাভ করবেন এবং তিনি তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন এবং জেল সুপার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করবেন। জরুরী প্রয়োজনে যে কোন সময়ে তিনি সহযোগিতা প্রদান করবেন।
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
বিধি-১৫৪। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে এবং তার আদেশ প্রতিপালন সাপেক্ষে কারাগারের সুবিধাজনক উৎপাদন কাজে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে তিনি বাধ্য থাকবেন ।
বিধি-১৫৫। উৎপাদন বিভাগের কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্য উভয় প্রকারের সকল ষ্টোর, হিসাব প্রভৃতি তার তত্ত্বাবধানাধীন থাকবে এবং তিনি সে সবের নির্ভুল হিসাব সংরক্ষনের জন্যে দায়ী থাকবেন।
বিধি-১৫৬। তার কাছে একটি রিপোর্ট বা আদেশের বই (রেজিষ্টার নং-১) থাকবে যাতে তিনি জেল সুপারের আদেশ প্রয়োজন এমন বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করবেন, যেমন-বন্দীর চাহিদাপত্র, দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট, স্কেল এবং মালামাল বাহিরে পাঠানো এবং তার বিভাগ সংক্রান্ত যে কোন প্রকারের সুপারিশ। তিনি তার বিভাগ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে জেলার বা অন্য কোন অধস্ত নকে প্রদত্ত যে কোন গুরুত্বপূর্ণ আদেশও তাতে লিপিবদ্ধ করবেন।
ডান দিকের পৃষ্ঠায় জেল সুপার তার আদেশসমূহ রেকর্ড করবেন কিংবা সংশ্লিষ্ট অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে প্রদত্ত আদেশের উপর তিনি যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা নোট করবেন। উৎপাদন সম্পর্কে জেল সুপারের যে কোন আদেশও এই বইতে লিপিবন্ধ করা হবে।
বিধি-১৫৭। তিনি তার অধীনে কাজ করা প্রত্যেক বন্দীর চরিত্র এবং শ্রম সম্পর্কে নিজেকে যথাসম্ভব অভিজ্ঞজ্ঞ করবেন এবং বন্দীর রেয়াত প্রদান ও ভাল কাজের জন্যে বিশেষ পুরস্কার প্রদানের জন্যে জেল সুপারকে সাহায্য করবেন। তিনি কোন বন্দীর কাজের অলসতা করার জন্যে কিংবা কারাগারের নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে শাস্তি প্রদানের জন্যেও জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
বিধি-১৫৮। কারাগারের সীমানায় তার জন্যে বিনা ভাড়ায় বাসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তিনি সেখানে বসবাস করবেন। জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত তিনি তার কাজ হতে অনুপস্থিত থাকবেন না, যদি তিনি অসুস্থ না থাকেন, সে ক্ষেত্রে তাকে মেডিকেল অফিসার প্রদত্ত অসুস্থতার সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।
বিধি-১৫৯। চুক্তিতে অন্যরূপ উল্লেখ না থাকলে ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্টের ছুটি, ভ্রমণভাতা প্রভৃতি ফান্ডামেন্টাল ও সাবসিডিয়ারি রুলস দ্বারা হবে এবং পেনশন বেসামরিক কর্মচারীদের বিধানের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হবে।
আজকে আমরা কারাগারের কম্পাউন্ডার সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
কারাগারের কম্পাউন্ডার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-১৩৭। কারাগার সমূহের জন্যে নিয়োগকৃত কম্পাউন্ডাদেরকে যথাযথভাবে মান সম্মত হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কারাগারের মেডিকেল অফিসারগণ কম্পাউন্ডার পদ শূণ্য হলে ঐ পদের জন্যে প্রার্থীদের নাম কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে পারেন।
বিধি-১৩৮। কারা মহাপরিদর্শকের আদেশ মোতাবেক কম্পাউন্ডারগণ যে কোন কারাগারে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকবেন।
বিধি-১৩৯। বিধি ১০৯ ও ১১০ এবং অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলী কম্পাউন্ডারদের জন্যেও প্রযোজ্য হবে যদি বিধিগত কোন পার্থক্য না থাকে। কম্পাউন্ডার কোন সময় কারাগারে কাজ করবেন এবং কি কি কাজ করবেন মেডিকেল অফিসার তার মিনিট বইতে তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করবেন ।
বিধি-১৪০। কম্পাউন্ডার মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সকল আদেশ প্রতিপালন করবেন যদি তা মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ এবং এই কোডের বিধি-বিধানের সাথে অসামঞ্জস না হয়।
নোট। কারা আইনের ৩(৮) ধারায় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বলতে সহকারী সার্জন, ঔষধ প্রস্তুতকারী বা উপ-সহকারী সার্জন বুঝানো হয়েছে।
বিধি-১০৬। কারাগারে সেবা প্রদানের জন্যে উপ-সহকারী সার্জন { মহা- পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | কর্তৃক প্রণীত রোষ্টার অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। যে সকল উপ-সহকারী সার্জনের । দুই বৎসর ধারবাহিকভাবে অস্থায়ী বা স্থায়ী } চাকরিকাল পূর্ণ হয়েছে তাদের নাম এই রোষ্টার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তারা কারা বিভাগে তাদের চাকরির পর্ব শুরু করবেন। উপ-সহকারী সার্জনগণ কারা বিভাগে ছুটিসহ সর্বাধিক ৫ বছর প্রেষণে কাজ করবেন।
এ সময়ে তারা কারা মহাপরিদর্শকের অধীনে ন্যস্ত থাকবেন এবং তার সম্মতি ব্যতীত তাদেরকে প্রত্যাহার করা যাবে না। সাধারণত: কোন উপ-সহকারী সার্জনকে দ্বিতীয়বার কারা বিভাগে ন্যস্ত করা হবে না। এমন হতে পারে যে কোন উপ-সহকারী সার্জন চাকরির প্রাথমিক পর্যায়ে কারা বিভাগে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। সে কারণে রোষ্টার করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্নদেরকে যেন মনোনীত করা হয়।
কারাগারে সংযুক্ত উপ-সহকারী সার্জনকে কারাগারের দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে কেবল মাত্র অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। কোন অবস্থাতেই তাকে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর দপ্তরের বাহিরের কোন হাসপাতালে নিয়োজিত করা যাবে না।
অনুরূপভাবে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারী সার্জনকে সিভিল সার্জন কর্তৃক কারাগারের হাসপাতালে প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। নৈমত্তিক ছুটিসহ উপ-সহকারী সার্জনের যে কোন প্রকার ছুটির আবেদন জেল সুপারের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে এবং এ সময় পূর্বেই জেল সুপারের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নং- ৩০৬৬ এইচ জে তারিখ ৩১-১২-১৯৪০ মূলে সংশোধিত।
নং- ৭২০ এইচ জে তারিখ ৩-৫-১৯৫৫ মূলে সংযোজিত।
নোট-১। উপ-সহকারী সার্জন পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদ। পূর্বে এল এম এফ ডিপ্লোমাধারী উপ-সহকারী সার্জনগণকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে কারা হাসপাতালে প্রেষণে নিয়োগ করা হতো। বর্তমানে এল এম এফ কোর্স চালু না থাকায় উপ-সহকারী সার্জন নিয়োগ করা হয় না।
নোট-২। জেল কোডে উল্লেখ থাকলেও কারাগার সমূহে মেডিকেল অফিসারের কোন বাস্তব পদ নেই। বর্তমানে প্রত্যেক কারাগারে একজন প্রথম শ্রেণীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছেন, তার পদবী সহকারী সার্জন সহকারী সার্জনের অধীনে ফার্মাস্টি ও ডিপ্লোমা নার্স রয়েছে।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১০৭-১০৮। অকার্যকর।
বিধি-১০৯। (১) কারা হাসপাতালের রোগী এবং অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত লোকদের খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মান্য করবেন এবং সময়ে সময়ে মেডিকেল অফিসার কর্তৃক তার উপর আইন সম্মতভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। কারাগারের শৃঙ্খলা এবং সাধারণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি যথাক্রমে জেল সুপার এবং জেলারের আদেশ পালন করবেন।
(২) প্রত্যেক কারাগারে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার রিপোর্ট বইতে (রেজিষ্টার নম্বর-১) রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপার ও জেলার যে সকল আদেশ প্রদান করবেন তা মেডিকেল অফিসারকে দেখাবেন।
বিধি-১১০। যখন কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এবং একজন কম্পাউন্ডার থাকেন, মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করবেন তারা পালাক্রমে সে রকমভাবে ডিউটি করবেন ।
তবে শর্ত থাকে যে, তাদের যে কোন একজনকে দিনের যে কোন সময় কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে এবং অসুস্থ বা কাজের অযোগ্য না হলে অপরজন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কারাগার ত্যাগ করতে পারবেন না। তাদেরকে পালা ক্রমে রাত ১০-০০ টা থেকে সকালে আন-লক না হওয়া পর্যন্ত কারা হাসপাতালে ঘুমাতে হবে। মেডিকেল অফিসার যখন রোগী দেখবেন সে সময়ে এবং তিনি যেরূপ উচিত বিবেচনা করবেন সে সময়ে তাদেরকে কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে।
যখন কারাগারে একজন মাত্র মেডিকেল সাব অর্ডিনেট থাকেন এবং যদি কেবল কারাগারে রোগী দেখা তার একমাত্র কাজ হয় তা হলে তিনি খাবার গ্রহণের সময় ব্যতীত দিনের বেলায় অবশিষ্ট সকল সময়ের জন্যে কারাগারে উপস্থিত থাকবেন। যদি পার্শ্ববর্তী কোন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কারাগারে সংযুক্ত থাকেন তবে তিনি সকালে দিনের অন্য কাজ শুরু করার আগে একবার এবং বিকালে লক-আপের আগে আরেকবার কারাগারের রোগীদেরকে দেখবেন।
কোন রোগীর মারাত্মক অসুস্থতার সময়ে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রাতের বেলায় ঘন ঘন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং যে সকল ঔষধ এবং পথ্য ব্যবস্থাপত্রে লিখা হয়েছে সেগুলো ঠিক মতো বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা তা দেখবেন। তাকে আহবান করা মাত্র কাজে যাবার জন্যে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে ।
বিধি-১১১। ওয়ার্ড খোলার প্রাক্কালে তিনি দেখবেন বন্দীদের কেউ অসুস্থতার কথা বলছে কিনা। যদি প্রয়োজন হয় তিনি তাদেরকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে। পাঠাবেন, যদি তা প্রয়োজন মনে না করেন তবে তাদেরকে তিনি মেডিকেল অফিসার আসার পর তার সামনে উপস্থিত করবেন। তিনি রেজিষ্টারের ফরমে বা একটি তালিকায় দৈনিক মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা সকল বন্দীর হিসাব রাখবেন।
তিনি আরও দেখবেন বাহির কাজে যাওয়া গ্যাংয়ের বন্দীদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বারদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা। অতঃপর তিনি হাসপাতালে যাবেন এবং রোগীদেরকে ভিজিট করবেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল অফিসারের অবগতির জন্যে বেড হেড টিকেটে রোগীদের অবস্থা বা উন্নতির রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-১১২। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ‘কনভাল্যাসেন্ট’ ও ‘স্পেশাল’ গ্যাং এবং পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের ভিজিট করবেন। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা এবং নির্দেশ মোতাবেক তারা খাদ্য, পোশাক বেডিং এবং অন্যান্য সকল জিনিস পাচ্ছে কিনা দেখবেন। যদি মেডিকেল অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোন বন্দী কনভাল্যাসেন্ট বা স্পেশাল গ্যাং হতে বাহির হয়ে যায়, তা হলে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১১৩। তিনি সেলে আটক বন্দীদেরকে দৈনিক একবার ভিজিট করবেন এবং তাদের কোন অনুযোগ থাকলে তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১১৪। সকল ঔষধ ঠিকভাবে প্রস্তুতের জন্যে, ঔষধ আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখার জন্যে এবং বিষাক্ত ঔষধ পৃথক ভাবে রাখার জন্যে তিনি দায়ী। থাকবেন। তিনি হাসপাতাল ডায়েট বই লিখবেন এবং যথোপযুক্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট চাহিদাপত্র পেশ করবেন। অসুস্থদের খাদ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত এবং বিতরণ হচ্ছে কিনা তিনি দেখবেন।
বিধি-১১৫। তিনি সকল হাসপাতাল রেজিষ্টার ও রিটার্ন হালনাগাদ লিপিবন্ধ করবেন, নিয়মিত প্রস্তুত রাখবেন এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট মাসে একবার পেশ করবেন ।
বিধি-১১৬। সার্জিকেল যন্ত্রপাতি ভাল ও নিরাপদে রাখার রাখার জন্যে এবং হাসপাতালের ব্যবহারের জন্যে বরাদ্দকৃত পোশাক, বেডিং, কম্বল প্রভৃতি পরিষ্কার রাখার জন্যে তিনি দায়ী থাকবেন। ষ্টকে কোন ঘাটতি থাকলে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
বিধি-১১৭। তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম-বিধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন এবং লক্ষ্য রাখবেন সকল বিধি মানা হচ্ছে কিনা, কম্পাউন্ডার এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টেরা ঠিক মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কিনা এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টের সংখ্যা ঘাটতি বা অতিরিক্ত রয়েছে কিনা।
বিধি-১১৮। যখন কোন বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে যে তার জন্যে বিশেষ অসুস্থতার এটেন্ডেন্ট প্রয়োজন হয় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তখন মেডিকেল অফিসারের নিকট থেকে এ বিষয়ে আদেশ গ্রহণ করবেন। মেডিকেল অফিসার এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগের জন্যে জেল সুপারের নিকট আবেদন করবেন।
যদি মেডিকেল অফিসার নিজেই জেল সুপার হন তবে তিনি এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগ করবেন এবং বিষয়টি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন। কোন অসুস্থ বন্দীর এটেন্ডেন্টকে জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা যাবে না। যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে হাসপাতালে সাধারণ বা অসুস্থ
বন্দীর এটেন্ডেন্ট নিয়োগের জন্যে মনোনীত করা হবে তা রেকর্ড করতে হবে এবং অনুরূপ দায়িত্বের বিবরণ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করত েহবে। জেল সুপারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এ তালিকা বাতিল করা যাবে না।
বিধি-১১৯। যে সকল বন্দীর অসুস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের প্রতি তিনি সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন এবং এ ধরনের ঘটনা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। মানসিক অসুস্থ হিসেবে সন্দিগ্ধ বন্দীদেরকে তিনি দৈনিক পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১২০। তিনি প্রায়শ: বিভিন্ন প্যারেডে উপস্থিত থাকবেন এবং যে সকল বন্দীকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় তাদেরকে চিকিৎসার জন্যে পৃথক করবেন।
বিধি-১২১। তিনি অস্ত্রের রোগে আক্রান্ত সকল বন্দীদেরকে পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করবেন এবং এ সব অফিসারের মল মেডিকেল অফিসারের দ্বারা ভিজিটের ব্যবস্থা করবেন। মেডিকেল অফিসারের ভিজিটের পর মল যথানিয়মে জীবাণুমুক্ত করে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করবেন। যখন মেডিকেল অফিসার কারাগার ভিজিট করবেন তখন মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট তার সঙ্গে থাকবেন এবং রোগীদের চিকিৎসা ও স্যানিটেশন বিষয়ে তার আদেশ নোট করবেন।
বিধি-১২২। তিনি কারাগারে নুতন ভর্তিকৃত সকল বন্দীকে সতর্কতার সথে পরীক্ষা করবেন এবং মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে ভর্তি রেজিষ্টারে বন্দীদের শারীরিক অবস্থা, ওজন, সনাক্তকরণ চিহ্ন, জখমী চিহ্ন, প্রতিষেধক বা টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। বিচারাধীন বন্দীদের জখমী বা পোড়া চিহ্ন বা এমন কোন জিনিস যা আদালতের জন্যে প্রয়োজন হতে পারে তা বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা যথাযথভাবে রেকর্ড করতে হবে এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাতে হবে।
যখন কোন বন্দীকে পুলিশের নিকট হতে পাওয়া যায় এবং জখমী অবস্থায় থাকে কিন্তু পুলিশ রিপোর্টে ঐ জখমের কোন উল্লেখ না থাকে তখন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অতি সত্বর বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন। জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে রিপোর্ট করবেন।
তিনি দেখবেন যেন বিধি ৫৫৩ এবং ৫৫৪ এর চাহিদা মোতাবেক যে সকল রেকর্ড হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করার কথা সে গুলো ঠিকভাবে নোট করা হয়েছে কিনা। যদি নুতন ভর্তিকৃত বন্দীর পোশাক গুদামে রাখা প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিশ্চিত হবেন সেগুলো পরিষ্কার ও সংক্রামন মুক্ত রয়েছে।
বিধি-১২৩। মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দেখবেন সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং শিশুকে কারাগারে ভর্তির পরে যথাশীঘ্র সম্ভব প্রতিষেধক টীকা দেয়া হয়েছে কিনা।
বিধি-১২৪। যদি কোন মহিলা বন্দী অন্তঃসত্ত্বা মর্মে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, তবে তিনি বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১২৫। তিনি যে কোন সংক্রামক রোগের বিষয়ে অতি সত্ত্বর মেডিকেল অফিসার এবং জেল সুপারকে জানাবেন। দুর্ঘটনা জনিত মারাত্মক জখম হবার ক্ষেত্রে বা কোন বড় অপারেশনের প্রয়োজন হলে তিনি অতি সত্বর মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। কারখানা দুর্ঘটনা বা অন্য কোন দুর্ঘটনার কারণে কোন বন্দী মারাত্মক আহত হলে তিনি বিষয়টি অতি সত্ত্বর জেল সুপারকে জানাবেন।
বিধি-১২৬। তিনি খাদ্যগুদাম এবং রান্নাঘর দৈনিক পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি দেখবেন খাদ্য রাখা বা বিতরণের সকল পাত্র পরিষ্কার আছে কিনা, খাদ্য দ্রব্য, শাকসব্জি প্রভৃতির মান সম্মত কিনা, ঠিকভাবে ভাঙ্গা হয়েছে কিনা, ধোয়া হয়েছে কিনা এবং সঠিক পরিমাণে প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা।
কোন দ্রব্যকে স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে তার কাছে মনে হলে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্যে ঐ দ্রব্যের তার নমুনা সংগ্রহ করবেন। যদি খাদ্যের পরিমাণ এবং মান সন্তোষজনক নয় বলে তার কাছে মনে হয়, তবে তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন। বন্দীদের জন্যে যে কোন উৎস হতে সরবরাহকৃত সকল মাংশ, মাছ এবং দুধ পরিদর্শন করবেন এবং যদি কোন কিছু খাওয়ার অনুপযোগী হয় তৎক্ষণাৎ তা বাদ দেয়ার জন্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন।
বন্দীদেরকে দেয়ার আগে দুধ ঠিকমতো ফুটানো হয়েছে কিনা তিনি দেখবেন এবং সিভিল ও বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের সরবরাহকৃত খাবারও তিনি পরিদর্শন করবেন ।
বিধি-১২৭। খাবার সরবরাহ করার পূর্বে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তা পরীক্ষা করে দেখবেন। তা ছাড়া সে সব ঠিক মতো রান্না করা হয়েছে কিনা, সঠিক পরিমাপের তেল, লবন দেয়া হয়েছে কিনা দেখবেন। কোন বন্দী স্বাস্থ্য অনুপযোগী হবার কারণে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের ওজন হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কোন খাবারের নির্দিষ্ট অংশ বার বার খাওয়া থেকে বিরত থাকলে তিনি তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন ।
বিধি-১২৮। তিনি নলকূপ, ট্যাংক বা পানি সরবরাহের অন্যান্য উৎস সমূহ ত্রৈমাসিক পরিদর্শন করবেন। কোন প্রকার সরবরাহের ঘাটতি আছে কিনা বা পানি দূষিত হবার মতো কিছু ঘটেছে কিনা সে দিকে মনোযোগ দিবেন। যে সব ছাঁকনি এবং পাত্র পানি বহন বা রাখার কাজে ব্যবহৃত হয় তিনি দৈনিক সেগুলো পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার এবং ব্যবহার উপযোগী রয়েছে কিনা দেখবেন।
বিধি-১২৯। তিনি দৈনিক সকল লেট্রিন এবং প্রস্রাবখানা পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখবেন। তিনি আরও দেখবেন হাসপাতাল ওয়ার্ড, স্লিপিং ব্যারাক এবং ওয়ার্কশপের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা মৌসুম অনুযায়ী সঠিকভাবে রয়েছে কিনা। আরও দেখবেন বন্দীদের ঘুমানোর ব্যবস্থা যাতে এমনভাবে করা হয় যেন সরাসরি দমকা বাতাস বা বৃষ্টির ফোটা তাদেরকে স্পর্শ না করে এবং সকল দরজা দিনের বেলায় যাতে খোলা যায়।
বিধি-১৩০। যে সকল শেডে দুধের গাভী রাখা হয় সেগুলো তিনি দিনে একবার পরীক্ষা করবেন। এ সব স্থান পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধমুক্ত রয়েছে কিনা তা দেখবেন। দুধ রাখার ও সিদ্ধ করার পাত্রগুলো পরিষ্কার ও ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে কিনা দেখবেন। তিনি কারাগারের গাভীগুলো হতে কি পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় এবং এ বাবদ খরচের দৈনিক হিসাব রাখবেন, যদি বন্দীদের উপকারে না আসে বা তাদের ডায়েট উন্নত না করার মতো কোন বিষয় থাকে তবে তিনি তা জেল সুপারকে জানাবেন ।
বিধি-১৩১। সকল বন্দীর পাক্ষিক ওজন এবং ওজন হ্রাস প্রাপ্তদের সাপ্তাহিক ওজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে, তিনি বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেটে ওজন নিজ হাতে রেকর্ড করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি জুনিয়র সাব এ্যাসিস্টেন্ট সার্জন (যদি থাকে) বা কম্পাউন্ডার বা জেল সুপার কর্তৃক নিযুক্ত ডেপুটি জেলারের সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন। যে সকল বন্দীর ক্রমান্বয়ে ওজন কমছে তাদের বিষয়ে ওজন গ্রহণের একদিনের মধ্যে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
বিধি-১৩২। তিনি সকল মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গে জেলার এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন মৃত দেহটি মৃত স্থান হতে সুন্দর ভাবে অপসারণ করা হয়, পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার জন্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন, মেডিকেল অফিসারকে পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার কাজে সাহায্য করবেন এবং পোস্ট মর্টেমের পর মৃতদেহ সঠিকভাবে সেলাই করা এবং ঢেকে দেয়ার জন্যে দায়ী থাকবেন।
বিধি-১৩৩। তিনি সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী, গ্রহরী এবং কারাগারের সীমানায় বসবাসকারী অন্যান্যদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। কোন সমস্যার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১৩৪। তিনি উপরে বর্ণিত তার নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও মেডিকেল অফিসারের প্রয়োজন মাফিক কারাগারের বন্দীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি বন্দীদের স্বাস্থ্য বিধি লংঘিত হবার যে কোন বিষয় সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট প্রদান করবেন, যেমন :
(ক) ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য স্থানে অতিরিক্ত বন্দীর অবস্থান,
(খ) অশুদ্ধ ওজন বা খাদ্য বিতরণ,
(গ) মৌসুমের অনুপযোগী, পরিধানের অনুপযুক্ত এবং নোংরা পোশাক,
(ঘ) ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি অবহেলা,
(ঙ) বন্দীদের বিনা কারণে আর্দ্র আবহাওয়ায় বা রোদে নেয়া,
(চ) খাদ্যে অনিয়মানুবর্তিতা কিংবা খাদ্য কম দেয়া,
(ছ) বায়ু চলাচল, শুষ্ক ও পরিষ্কার বিছানাপত্রের প্রতি অবহেলা,
(জ) অনুপযোগী কাজ বিশেষত দুর্বল লোকদের ক্ষেত্রে,
(ঝ) ওয়ার্কশপকে ডরমেটরী বা ডরমেটরীকে ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার,
(ঞ) লবন, মসলা, তেল প্রভৃতি গুরুত্ব খাদ্য উপাদান ঘাটতি বা ঠিকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া।
বিধি-১৩৫। কেন্দ্রীয় কারাগারসমূহে যেখানে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট জেলা কারাগারের চেয়ে নিয়মিত হাসপাতাল দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সেখানে ওয়ার্ড, লেট্রিন, প্রস্রাবখানা, পানি ও দুধের পাত্র প্রভৃতি নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই; সেগুলো মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করেন সে রকম বিরতিতে পরিদর্শন করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে এ সকল বিষয়ে সব সময় মনোযোগ রাখতে হবে এবং কোন প্রকার নিয়মের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
বিধি-১৩৬। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন ঔ করা আবশ্যক তা হলে তার লিখিত অনুমতিক্রমে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বাজার হতে ঔষধ ক্রয় করতে পারবেন। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অসুস্থ রোগীদের পথ্য বাৰত কোন ক্রয় করবেন না, তা বন্দীদের খাদ্য সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা হবে। মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ভাউচার আনুষঙ্গিক বিলের সাথে দাখিল করতে হবে।
বিধি-৮৯। মেডিকেল অফিসার অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসা ব্যতীত অন্যান্য সকল কাজ জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে সম্পাদন করবেন এবং তিনি কারাগারের সেনিটরী প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন এবং এই কোড অনুযায়ী বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। তার দায়িত্ব বন্দীদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের সাধারণ স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কীত তিনি কারা মহাপরিদর্শকের সাধারণ নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবেন।
বিধি-৯০। যদি কোন কারাগারের জেল সুপার নিজেই একজন মেডিকেল অফিসার হন, তবে তিনি কারাগারের মেডিকেল অফিসার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন। যদি তিনি মেডিকেল অফিসার না হন, তবে সিভিল সার্জন, সম্ভব হলে, অনুরূপ কারাগারের মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধি-৯১। যখন কোন জেলা কারাগারের মেডিকেল অফিসার সাময়িকভাবে স্টেশনে অনুপস্থিত থাকেন, স্টেশনের সিনিয়র মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধি-৯২। মেডিকেল অফিসার ১ নম্বর রেজিষ্টারে একটি মিনিট বই সংরক্ষণ করবেন। মিনিট বইয়ের বাম পাশে তার পরিদর্শনের তারিখ, পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্যাদি, সুপারিশ, আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন। ডান পাশে জেলার উক্ত আদেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে তা লিখবেন। জেল সুপার তা অনুমোদন করবেন এবং কোন আপত্তি থাকলে তাও লিখবেন। যদি জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের কোন সুপারিশ বাস্তবায়নে অসম্মত হন কিংবা তা বাস্তবায়ন করা সমীচীন মনে না করেন, তিনি মিনিটের একটি কপি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার কারণ উল্লেখ করবেন।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি-৯৩। মেডিকেল অফিসার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত (প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও) প্রত্যহ একবার কারাগার ভিজিট করবেন। ভিজিট কালে তিনি কারাগারের প্রতিটি স্থানে যাবেন; বন্দীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা, পয় ব্যবস্থা সন্তোষজনক কিনা, সরবরাহকৃত পানি বিশুদ্ধ কিনা প্রভৃতি দেখবেন । তিনি খাবার ঘরে যাবেন, রান্নার পরিবেশ এবং রান্নার আগে ও পরে খাবারের ওজন এবং মান পরীক্ষা করে দেখবেন।
বিধি-৯৪। প্রত্যহ সূর্যোদয়ের পর মেডিকেল অফিসার কারা হাসপাতালে রোগীদের ভিজিট করবেন। তিনি রোগীদের অসুস্থতার বিবরণ শুনবেন, পরীক্ষা করে দেখবেন এবং প্রয়োজনে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করবেন। কোন বন্দী অহেতুক অসুস্থতার ভান করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনি জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন ।
বিধি- ৯৫। মেডিকেল অফিসার প্রতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বন্দীদের প্যারেডে ভিজিট করবেন, সশ্রম বন্দীদের সময়ে সময়ে পরীক্ষা করবেন এবং তাদের হিস্ট্রি টিকেটে কমপক্ষে প্রতি পক্ষকালে একবার রেকর্ড লিখবেন। যদি মেডিকেল অফিসার দেখেন যে, কোন প্রকারের বা শ্রেণীর পরিশ্রমের কারণে কোন বন্দী শারীরিক অসুবিধা ভোগ করছে, তিনি তা বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন এবং অনুরূপ বন্দীকে ঐ কাজ হতে সরিয়ে আনা হবে, তবে মেডিকেল অফিসার যেরূপ মনে করেন সেরূপ উপযুক্ত কাজে তাকে নিয়োগ করা হবে।
বিধি-৯৬ ৷ যদি মেডিকেল অফিসার দেখেন যে শৃঙ্খলা বা অন্য কোন বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে কোন বন্দী দৈহিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলে তিনি বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পূর্বক জেল সুপারকে লিখিত পরামর্শ প্রদান করবেন। জেল সুপার উক্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ঐ বন্দীর ব্যপারে চলমান ব্যবস্থা রহিত বা পরিবর্তনের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট সুপারিশ করবেন। অতঃপর কারা মহাপরিদর্শক প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন। এরূপ প্রতিটি আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের অবগতির জন্যে প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-৯৭। মেডিকেল অফিসার বন্দীদের খাদ্য সরবরাহ ও প্রস্তুতি তদারকী করবেন এবং যে কোন খাদ্য দ্রব্য খাওয়ার জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করতে পারবেন । তিনি অসুস্থ বন্দী, বিশেষ গ্যাং, সদ্য আরোগ্য প্রাপ্ত বন্দী, বয়স্ক বন্দী এবং শিশুদের খাদ্য তালিকার যে কোন প্রকার সংযোজন বা পরিবর্তন করতে পারবেন।
বিধি-৯৮ । কোন বন্দী কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত্যুবরণ করলে, যদি উক্ত মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে নয় বলে সন্দেহ হয় বা মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত হয়, তা হলে মেডিকেল অফি-সার মৃত দেহের একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট-মর্টেম করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি মৃত দেহ দেখবেন এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন; যদি তিনি নিজেই জেল সুপার হন তবে মৃত দেহ হস্তান্তর বা অপসারণের জন্যে যথাবিহিত নির্দেশ প্রদান করবেন। যদি তিনি নিজে জেল সুপার না হন, তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট প্রদান করবেন। অতঃপর জেল সুপার মৃত দেহ হস্তান্তর বা অপসারণের জন্যে যথাবিহিত নির্দেশ প্রদান করবেন।
বিধি-৯৯। কোন বন্দীর মৃত্যু হলে সে সম্পর্কে মেডিকেল অফি-সার হাসপাতাল রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর-২৭) নিম্নোক্ত তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করবেনঃ
(১) প্রথম কোন দিন ঐ বন্দী অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিল বা তাকে অসুস্থ হতে দেখা গিয়েছিল;
(২) যে দিন মারা গিয়েছিল, সেদিন তাকে কি কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল;
(৩)সে দিন কি ধরনের খাদ্য খেয়েছিল;
(8) হাসপাতালে ভর্তি হবার তারিখ;
(৫) কোন দিন মেডিকেল অফিসারকে বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে প্রথম জানানো হয়েছিল;
(৬) রোগের ধরন;
(৭) মৃত্যুর পূর্বে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট সর্বশেষ কখন তাকে দেখেছিলেন; (৮) বন্দী কখন মারা গিয়েছিল; এবং
(৯) পোস্ট মর্টেম করা হলে রিপোর্ট,
সে সঙ্গে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বিশেষ মন্তব্যও উল্লেখ করতে পারেন। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট ও হাসাপাতাল বেড-হেড টিকেট (তাপমাত্রার চার্ট সহ,যদি থাকে) দুই বৎসর সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি- ১০০। প্রয়োগ নেই।
বিধি- ১০১। প্রয়োগ বিরল।
বিধি-১০২। বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পূর্বে মেডিকেল অফিসার পরীক্ষা করে দেখবেন। কোন বন্দী অন্য কারাগারে স্থানান্তরের যোগ্য শারীরিক অসুস্থতা মুক্ত- এ মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রত্যায়ন না করা পর্যন্ত তাকে স্থানান্তর করা যাবে না। কোন বন্দী মারাত্মক অসুস্থ থাকলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কারাগার হতে খালাস দেয়া যাবে না। যদি মেডিকেল অফিসার মনে করেন যে, কোন বন্দী এমন কোন রোগে ভুগছে যে, তাকে খালাস প্রদান করা ঐ বন্দীর জন্যে ও সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে না তা হলে তাকে খালাস দেয়া যাবে না।
বিধি-১০৩। মেডিকেল অফিসার কারাগার এলাকায় অবস্থিত সকল কারা কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করবেন। কারা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঔষধ কারা ষ্টোর থেকে দেয়া হবে
বিধি-১০৪। মেডিকেল অফিসার-
(ক)প্রত্যেক জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ঔষধ এবং মেডিকেল সরঞ্জামাদির চাহিদা (এম এস ডি ১৩৫ ) প্রেরণ করবেন;
(খ) ঔষধ ও সরঞ্জামাদির দৈনিক হিসাব রাখার ব্যবস্থা করবেন;
(গ) অন্যান্য ঔষধ থেকে বিষ পৃথক রাখা নিশ্চিত করবেন;
(ঙ) বিষ এবং প্রতিষেধকের তালিকা ডিসপেন্সারীতে ঝুলিয়ে রাখবেন
(চ) মাঝে মাঝে যাচাই করে দেখবেন যে ষ্টোরের ঔষধ ব্যবহারের উপযুক্ত রয়েছে কিনা,
(ছ) বাজার থেকে জন্য কৃত ঔষধের হিসাব পরীক্ষা করে দেখবেন;
(জ) অকার্যকর
(ঝ) মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কর্তৃক রোগীদের রেকর্ড সঠিক ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করবেন।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি-১০৫। মেডি-কেল অফিসার জেল সুপারের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের সাথে পত্রালাপ করবেন।
টীকা- বর্তমানে প্রত্যেক কারা হাসপাতালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন সহকারী সার্জন কর্মরত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ই-১/৯৭/জেল-১/৭২৪(৩) তারিখ ৮-১০-৯৭ মোতাবেক কারা হাসপাতালে নিয়োজিত সহকারী সার্জনদের চাকরি নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের জন্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে.
(ক) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হবার পর সহকারী সার্জনগণ প্রথমে স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট যোগদান পত্র দাখিল করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদায়ন আদেশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বীয় কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
(খ) কারা হাসপাতাল সমূহে সহকারী সার্জনদের পারস্পরিক বদলির আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারী হবে ।
(ঘ) উক্ত চিকিৎসকগণের অর্জিত ছুটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এরূপ ছুটির আবেদন কারা মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।
(ঙ) সংশ্লিষ্ট সহকারী সার্জনদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন প্রদানকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক এবং তা প্রতিস্বাক্ষর করবেন কারা মহাপরিদর্শক।
(চ) এ সকল সহকারী সার্জনের সাময়িক অনুপস্থিতি, ছুটি ও বদলিজনিত শূন্যতার সময় সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন সাময়িকভাবে কাজ চালানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবেন ।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class