জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী রক্ষী

আজকের আলোচনার বিষয় কয়েদী রক্ষী প্রসঙ্গে

 

কয়েদী রক্ষী

 

কয়েদী রক্ষী । জেল কোড

বিধি-৪০৮। ৪ বৎসর বা ততোধিক মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদেরকে বিধি মোতাবেক ওভারশিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তারা ওভারশিয়ার পদে ১ বৎসর কাজ করেছে তারা কয়েদী রক্ষী হিসেবে নিয়োগ যোগ্য। এমন কোন বন্দীকে কয়েদী রক্ষী হিসেবে নিয়োগ অত্যন্ত বিপদজনক হবে, যার কোন বাড়ীঘর নেই, বা যার প্রাক-পরিচিতি যাচাই করা হয়নি।নিয়োগের আগে তার বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য, সেখানে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় প্রভৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

এ সব তথ্য বন্দীর বাসস্থানের জেলার পুলিশ সুপারের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। এ সব নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার চেয়ে যোগ্যতাকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে এবং জেল সুপার নিজে বাছাই কাজ করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের কাছে প্রেরিত পত্রে তিনি কোন বন্দীকে কেন বাছাই করলেন তার ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।

বিধি-৪০৯। এই বিধি মোতাবেক কোন কয়েদী ওভারশিয়ার কয়েদী রক্ষী পদে পদোন্নতির জন্যে পুরোপুরিভাবে যোগ্য না হলেও জেল সুপারের বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শক তাকে পদোন্নতি প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-৪১০। ক-য়েদী রক্ষীর সংখ্যা সারাদেশের মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১ ভাগের বেশী হবে না। কোন কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে তাদের কত জনকে সংযুক্তি প্রদান করা হবে তা কারা মহাপরিদর্শক নির্ধারণ করবেন।

 

কয়েদী রক্ষী

 

বিধি-৪১১। কয়েদী রক্ষীদেরকে কর্মচারী রক্ষীদের মতই কারাগারের ভিতরে একই নিয়মে এবং একই ধরনের দায়িত্ব প্রদান করা হবে, তবে তাদের নিকট প্রধান গেইট, সেল, স্লিপিং ব্যারাক, হাসপাতাল বা বন্দীদেরকে শাস্তি প্রদান বা নিরাপত্তার জন্যে আটক রাখার অন্যান্য স্থানের তালার চাবি দেয়া যাবে না। তাদেরকে কারাগারের দেয়ালের বাহিরে বন্দীদের একক দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না।

কারাগারের আন লক বা লক আপের সময় সকল কয়েদী রক্ষী বেষ্টনীর ভিতরে সমবেত হবে এবং লক আপের পর কোন কয়েদী রক্ষীকে গেইটের বাহিরে থাকতে দেয়া হবে না। ৪১৪ বিধি মোতাবেক বেত বা লাঠি ব্যতীত তাদেরকে কোন অস্ত্র দেয়া হবে না। তাদেরকে কোন অবস্থাতেই কারাগার চৌহদ্দীর বাহিরে যেতে দেয়া হবে না এবং কারারক্ষীদের সঙ্গে তাদের ব্যারাকে বা রন্ধনশালায় মেলামেশা করতে দেয়া হবে না ।

বিধি-৪১২ ৷ কোন ক-য়েদী রক্ষীর কাজ জেল সুপারের নিকট সম্পূর্ণ সন্তোষজনক মনে হলে তিনি তাকে মাসে ৮ দিন রেয়াত এবং চার আনা আনুতোষিক প্রদান করবেন এবং তাকে যুক্তিসঙ্গত অতিরিক্ত খাবার দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৪১৩। কারা মহাপরিদশকের অনুমোদন সাপেক্ষে জেল সুপার কোন কয়েদী রক্ষীকে অপসারণ করতে পারবেন। এসব প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার একজন ক-য়েদী রক্ষীকে লঘু অপরাধের শাস্তি প্রদান করতে পারবেন এবং রেয়াত থেকে সাময়িক বঞ্চিত করতে পারবেন।

বিধি-৪১৪। তারা একটি চামড়ার বেল্ট পরিধান করবে যার পিতলের বকলেসে ” কয়েদী ওয়ার্ডার” কথাটি লেখা থাকবে। টহলের সময় কিংবা একাকী পোস্টে দায়িত্ব পালনের সময়ে তাদের নিকট সাধারণ রক্ষীদের বেত থাকবে।

বিধি-৪১৫। তারা সশ্রম বন্দীদের স্কেলে খাবার পাবে। অসুস্থ হলে মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ মোতাবেক তারা হাসপাতাল ডায়েট পাবে।

বিধি ৪১৬। এ বিধি যথা সম্ভব মহিলা কয়েদী রক্ষীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তাদেরকে মহিলা বেষ্টনীর বাহিরে যেতে দেয়া হবে না।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী নৈশ প্রহরী

আজকের আলোচনার বিষয় কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী । জেল কোড

বিধি-৪০৩। যেখানে কারারক্ষীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম সেখানে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে ওভারশিয়ারদেরকে নৈশ প্রহরী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে।

বিধি-৪০৪ । কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক কোন কয়েদী ওভারশিয়ারকে নৈশ প্রহরী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে, শর্ত থাকে যে-

(ক) যদি সে তিন মাস মেয়াদ ওভারশিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকে;

খ) যদি সে চন্ডাল,বার্মিজ প্রভৃতি পলায়ন প্রবৃত্তি সম্পন্ন গোষ্ঠির লোক না হয়, স্থায়ী নিবাসহীন এবং অজ্ঞাত দলের লোক না হয় এবং তার বাড়ী সীমান্তের কাছাকাছি না হয়;

(গ) যদি তার প্রাক-পরিচিতি বিধি ৪০৮ অনুসারে যাচাই করা হয়ে থাকে।

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

বিধি-৪০৫। কোন কয়েদী ওভারশিয়ারকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ৯ নম্বর জেল ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৪০৬। নৈশ প্রহরীর কাজ হবে কারারক্ষী এবং কয়েদী রক্ষীদেরকে রাতের বেলা ওয়ার্ড টহলের দায়িত্ব পালন কালে সাহায্য করা। দিনের বেলায় তারা কয়েদী ওভারশিয়ারের সাধারণ দায়িত্ব পালন করবে।

বিধি-৪০৭। তারা কয়েদী ওভারশিয়ারদের অনুরূপ পোশাক পরিধান করবে, তবে তাদেরকে মাসে ৬ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন রেয়াত সুবিধা দেয়া হবে ।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী ওভারশিয়ার

আজকের আলোচনার বিষয়  হচ্ছে কয়েদী ওভারশিয়ার

 

কয়েদী ওভারশিয়ার

 

কয়েদী ওভারশিয়ার । জেল কোড

বিধি-৩৯৫। জেল সুপার একজন কয়েদী ওয়াচম্যানকে ওভারশিয়ার পদে পদোন্নতি দিতে পারবেন, যদি-

(ক) সে তিন মাস ওয়াচম্যান হিসেবে কাজ করে থাকে; এবং

(খ) সে রেয়াত ব্যতীত তার মোট সাজার অর্ধেক অথবা ৭ বৎসর ( রেয়াত ব্যতীত), যা কম হয়, অতিবাহিত করে থাকে ।

{নোট- কয়েদী ওভারশিয়ার পদে কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর যোগ্যতা নির্ধারণের জন্যে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজাকে ১৪ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড গণ্য করতে হবে।}

নং ২২ এইচ জে তারিখ ৯-৫-১৯৪০ মোতাবেক সংযোজিত।

বিধি-৩৯৬। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন বন্দীকে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে ওভারশিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা যাবে না।

বিধি-৩৯৭ । অকার্যকর।

বিধি-৩৯৮ । কয়েদী ওভারশিয়ারের সংখ্যা কারাগারের মোট বন্দীর শতকরা ৫ ভাগের বেশী হবে না, কিন্তু দেখতে হবে যে এ হার শতকরা ৪ ভাগের নিচে যেন না নামে। যদি বেশী সংখ্যক ওভারশিয়ার প্রয়োজন হয় তা হলে কারা মহাপরিদর্শকের বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

 

কয়েদী ওভারশিয়ার

 

বিধি-৩৯৯। এ কোডের অন্যত্র দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও প্রত্যেক কয়েদী ওভারশিয়ারের দায়িত্ব হবে-

(ক) বিধি ১৯১.১৯২ এবং ৪৬৩ বিশেষভাবে প্রতিপালন করা,

(খ) জেল সুপার, ডেপুটি জেল সুপার, জেলার বা অন্য যে কোন কর্মকর্তা বা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা (যাদের অধীনে তাদেরকে নাস্ত করা হতে পারে) প্রভৃতি কর্মকর্তাদের মান্য করা।

(গ) বন্দীদের কাজের সময়ে গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত রক্ষীকে সাহায্য করা;

(ঘ) ওয়াচম্যানারা রাতে যখন টহল দিবে তখন তাদের কাজে সহায়তা করা:

(ঙ) কোন বন্দীকে কারাগারের ভিতরে বন্দীদের স্কট প্রদান এবং প্রয়োজনে কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া;

(চ) গ্যাংয়ের বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট রাখা;

(খ) তাদের দায়িত্বে ন্যস্ত বন্দীদের গণনা করা এবং কোন নিষিদ্ধ বস্তু সম্পর্কে তল্লাশী করা:

(গ) বন্দীদের দ্বারা কারাগারের বিধি বিধানের লঙ্ঘন, গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে খবর দেয়া;

(ঘ) বন্দীদের শ্রম তদারকী করা;

(ঙ) বন্দীদের ডায়রিয়া প্রভৃতি কারণে ঘন ঘন পায়খানায় যাওয়া সম্পর্কে জানানো

(চ) বন্দীদের বিছানাপত্র ঠিক ভাবে রাখা তদারকী করা:

(ছ) বন্দীদের পরিচ্ছন্নতা এবং পোশাক-পরিচ্ছেদের যত্ন ও তদারকী করা

(জ) বিদ্রোহ দমন বা কোন আক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করা;

(ঝ) প্রয়োজন হলে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন, বা কারাগারের ভিতরে কোন গ্যাংয়ের দায়িত্ব পালন।

বিধি-৪০০। তারা একটি চামড়ার বেল্ট পরিধান করবে যার পিতলের বকলেসে কয়েদী ওভারশিয়ার” কথাটি লেখা থাকবে। তাদের হাতে কোন লাঠি বা বেত থাকবে না, তবে বৃষ্টির সময় দায়িত্ব পালন কালে তাদেরকে একটি ছাতা দেয়া হবে।

বিধি-৪০১। কয়েদী ওভারশিয়াররা ৭৫৭ বিধি মোতাবেক রেয়াত পাবে। কয়েদী রক্ষী হিসাবে তাদের পদোন্নতি লাভের সম্ভাবনা আছে। তারা বিধি ৬৬৪ মোতাবেক পত্র যোগাযোগ এবং সাক্ষাতের বিশেষ সুবিধা পাবে।

বিধি-৪০২। কয়েদী ওভারশিয়ারকে লঘু অপরাধ বা অবহেলার জন্যে রেয়াত কাটা, পদাবনতি, বেড়ি পরানো বা সেলে আটক রাখার শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী ওয়াচম্যান

আজকের আলোচনার বিষয়  হচ্ছে  কয়েদী ওয়াচম্যান

 

কয়েদী ওয়াচম্যান

 

কয়েদী ওয়াচম্যান । জেল কোড

বিধি-৩৯০। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দী ৩৮৪ বিধি মোতাবেক যোগ্য হলে জেল সুপার কর্তৃক ওয়াচম্যান হিসেবে নিয়োজিত হবে, তবে শর্ত থাকে যে:-

(১) ঐ ব্যক্তি ৬ মাসের কম মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত নয়, (জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে ৪ মাস); এবং

(২) রেয়াত ব্যতীত সে তার সাজার এক চতুর্থাংশ শেষ করেছে।

এক বৎসরের কম সময়ের জন্যে সাজা প্রাপ্ত বন্দীদেরকে তখনই নিয়োগ দেয়া যাবে যখন এর চেয়ে বেশী মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বন্দী পাওয়া না যায়। অভ্যাসগতদের ব্যারাকে নৈশ ওয়াচম্যান হিসেবে। অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত তাকে এর উপরের কোন পদে পদোন্নতি দেয়া যাবে না। তবে দুই বারের বেশী সাজাপ্রাপ্ত কোন অভ্যাসগত বন্দীকে নৈশ ওয়াচম্যানের দায়িত্ব দেয়া যাবে না।

{ নোট-ওয়াচম্যান পদে কোন কয়েদীর যোগ্যতা নির্ধারণের জন্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ১৪ বৎসর গণ্য করতে হবে।}

নং- ২২ এইচ জে-ডি, তারিখ ৯-৫-১৯৪০ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৩৯১। প্রকৃত প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারাগারের শিপিং ওয়ার্ড সমূহ গ্রহবার জন্যে কয়েদী ওভারশিয়ারের অতিরিক্ত হিসাবে কয়েদী ওয়াচম্যান নিয়োগ করতে হবে ৷ তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারাগারের দৈনিক গড় বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী সংখ্যক বন্দীকে কয়েদী কর্মচারী রূপে নিয়োগ করা যাবে না।

 

 

কয়েদী ওয়াচম্যান

 

বিধি-৩৯২। এ কোডের অন্যত্র দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও প্রত্যেক কয়েদী ওয়াচম্যানের দায়িত্ব হবে-

(ক) বিধি ১৯১ ১৯২ এবং ৪৬৩ প্রতিপালন করা;

( খ)ওয়ার্ডের ভিতরে টহল দেয়া এবং রাতের বেলায় ওয়াডের শৃঙ্খলা রক্ষাক করা:

(গ) বন্দীদেরকে তাদের নিজের শোবার স্থান ত্যাগ করতে বাধা দেয়া;

(ঘ) তার দায়িত্বে থাকা বন্দীদেরকে গণনা করা এবং সকলে উপস্থিত রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া এবং বাহির টহল থেকে জিজ্ঞাসার জবাবে তা জানানো;

(ঙ) তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী বন্দীদের বিধি ভঙ্গ প্রতিরোধ এবং এ সম্পর্কে রিপোর্ট করা:

(চ) কোন উপদ্রব দমনে সাহায্য করা;

(ছ) অসুস্থ বন্দীদের সম্পর্কে রিপোর্ট করা:

(জ) দিনের বেলায় অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং গ্যাংয়ের কারারক্ষী এবং কয়েদী ওভারশিয়ারকে কাজে সাহায্য করা এবং

(ঝ) কারাগারের ভিতরে বার্তাবাহক এবং বন্দীদের স্কটের কাজ করা;

(ঞ) কারাগারের দেয়ালের দিকে নজর রাখা এবং সেখানে বন্দীদের ওত পেতে থাকা প্রতিহত করা,

(ট) যদি প্রয়োজন হয়, বিচারাধীন ওয়ার্ড বা কারাগারের ভিতরে কোন গ্যাংয়ের অংশের দায়িত্ব গ্রহণ, এবং

(ঠ) কয়েদী ওভারশিয়ারের অবর্তমানে তার গ্যাংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ।

(8) নোট- (জ) এবং (ঠ) দায়িত্ব অভ্যাসগতদের থেকে নিয়োজিত ওয়াচম্যানকে প্রদান করা যাবে না।

 

বিধি-৩৯৩। বন্দীদেরকে রাতে লক আপ করার আগে জেলার প্রধান কারারক্ষীর সাহায্যে কয়েদী ওয়াচম্যানদের দায়িত্বের সময় নির্ধারণ করে দিবেন এবং লক আপ রিপোর্ট বইতে রাতে টহলের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচাৰীৰ নাম লিপিবদ্ধ করবেন। কয়েদী ওয়াচম্যানদের রাতের দায়িত্ব সম্পর্কে সপ্তম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৩৯৪ । কয়েদী ওয়াচম্যানের পোশাকের ডান হাতায় একটি নীল কাপড়ের ব্যান্ড লাগানো থাকবে। বার্তাবাহক হিসাবে নিযুক্তদের ব্যান্ডের রঙ লাল হবে। তারা সাক্ষাত এবং পত্র যোগাযোগের জন্যে কতিপয় সুবিধা পাবে এবং যদি ভাল ভাবে কাজ করে তবে ৭৫৭ বিধি মোতাবেক রেয়াতের সুবিধা পাবে। কর্তব্যরত অবস্থায় কোন অপরাধের জন্যে তারা কয়েদী ওভাশিয়ারদের অনুরূপ শান্তি পাবে।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী কর্মচারী

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কয়েদী কর্মচারী

 

কয়েদী কর্মচারী

 

কয়েদী কর্মচারী । জেল কোড

বিধি-৩৮৩। কয়েদী কর্মচারী তিন প্রকারের হবে- কয়েদী ওয়াচম্যান, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী রক্ষী। দণ্ড বিধির সংজ্ঞানুসারে তারা গণ কর্মচারী বলে গণ্য হবে।

বিধি-৩৮৪। (১) নিম্নোক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কয়েদীকে কর্মচারী রূপে নিয়োগ করা যাবে না-

(ক) ঠগ, মাদকদ্রব্য বা অপ্রাকৃতিক অপরাধের জন্যে সাজাপ্রাপ্ত;

(খ) দপ্তরের দায়িত্ব পালনের জন্যে শারীরিক ভাবে অযোগ্য হলে;

(গ) সম্ভাব্য রেয়াতের তিন-চতুর্থাংশ অর্জিত না হলে

(২) বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ব্যারাক এবং আঙিনার জন্যে সম্ভব হলে বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হতে কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। সম্ভব না হলে ‘এ’ ক্যাটাগরির (অনভ্যাসগত) সাজাপ্রাপ্ত সম্ভ্রম বন্দী হতে নিয়োগ করতে হবে।

(৩) অনভ্যাসগত প্রথম অপরাধী এবং সমাজের মর্যাদা সম্পন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের দায়িত্বে নিয়োগ করতে হবে।

(৪) অভ্যাসগত শ্রেণী হতে নিয়োজিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বেতনভুক্ত কারারক্ষীদের সাথে কাজে দিতে হবে।

নোট- অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অনভ্যাসগতদের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ করা নিষেধ।

 

কয়েদী কর্মচারী

 

বিধি- ৩৮৫। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ওভারশিয়ার হিসেবে নিযুক্ত করা হলে জেল সুপার ঐ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তা লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেল সুপারের মিনিট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৩৮৬। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত কিংবা কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীকে রক্ষা করার প্রয়োজন ব্যতীত বা উপদ্রব দমনের ন্যূনতম প্রয়োজন ব্যতীত কোন কয়েদী কর্ম-চারী কোন অবস্থাতেই কোন বন্দীকে আঘাত করবে না। কোন কয়েদী কর্ম-চারী এই বিধি লংঘন করলে তাকে সাধারণ বন্দীতে স্থায়ীভাবে পদাবনতি করা হবে।

বিধি-৩৮৭। কোন কয়েদী কর্মচারী কারাগারে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য লেনদেনে জড়িত হবার প্রমাণ পাওয়া গেলে কারা আইনের ৪২ ধারা মোতাবেক ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডনীয় হবে। এবং কোন ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার মাধ্যমে কোন বন্দীকে পলায়নে সাহায্য করলে দণ্ড বিধির ২২২ এবং ২২৩ ধারা মোতাবেক দণ্ডনীয় হবে। কয়েদী কর্মচারীরা বন্দী পলায়ন রোধে তাদের সর্ব শক্তি নিয়োগে বাধ্য থাকবে ।

বিধি-৩৮৮ । যদি কোন কয়েদী কর্মচারী তার উপর অর্পিত সকল বা কোন দায়িত্ব পালনে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে যায়, তা হলে জেল সুপার কোন কয়েনী ওভারশিয়ার বা ওয়াচম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা অপসারণ করতে পারবেন, তবে কয়েনী রক্ষীর ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে।

বিধি-৩৮৯। কোন কয়েদী ওভারশিয়ার বা ওয়াচম্যানকে অন্য কোন কারাগার হতে এনে নিয়োগ করার পর যদি মারাত্মক কোন অপরাধের জন্যে সাধারণ বন্দীতে পদাবনতি করা হয়, তাকে যে কারাগার হতে প্রেরণ করা হয়েছিল সে কারাগারে ফেরত প্রদান করা হবে।

জেল কোড অনুযায়ী রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা রিজার্ভ গার্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী । জেল কোড

বিধি-৩৪৮ ৷ প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ভাবে রিজার্ভ গার্ড থাকবে-

  • প্রধান কারারক্ষী
  • কারারক্ষী
  • কেন্দ্রীয় কারাগার
  • জেলা কারাগার

ড্রিল ও আগ্নেয়াস্ত্র চালনার দক্ষতা বিবেচনা করে রিজার্ভ গার্ড বাছাই করতে হবে।

বিধি-৩৪৯। রিজার্ভ গার্ড সব সময় প্রস্তুত থাকবে যাতে তাৎক্ষণিক অস্ত্র এবং সরঞ্জাম নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্যে নিয়োজিত হতে পারে। যে কোন গোলযোগ বা বিদ্রোহ এবং যৌথ পলায়ন চেষ্টা দমন করার জন্যে যে কোন সময় রিজার্ভ গার্ডকে কাজে লাগানো প্রয়োজন হতে পারে।

বিধি-৩৫০। জেলার এবং রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী লক্ষ্য রাখবেন যেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে রিজার্ভ গার্ডের রক্ষীর সংখ্যা ৩৪৮ বিধিতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম না হয়। কোন রক্ষীকে দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া হলে জেলার তার স্থান অন্য কোন সাধারণ রক্ষী দ্বারা পূরণ করার ব্যবস্থা করবেন। যখন কোন রক্ষীকে অনুরূপ দায়িত্বে ন্যস্ত করা হবে, তাকে রিজার্ভ গার্ডের জন্যে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বিধি-৩৫১। রিজার্ভ গার্ড বিশেষভাবে দক্ষ একজন প্রধান কারারক্ষীর অধীনে থাকবে, যিনি তাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানে সক্ষম হবেন।

 

রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৫২। এ কোডের অন্যত্র দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও রিজার্ভ গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্ব হবে-

(ক) জেল সুপার এবং জেলারের অনুমোদন সাপেক্ষে কারাগারের এবং বন্দীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা;

(খ) বিভিন্ন ওয়াচ, চৌকি, সেন্ট্রি, এবং কয়েদী নাইট গার্ডদের দায়িত্ব তদারকী করা;

(গ) অস্ত্রগারের দায়িত্ব পালন এবং সকল অস্ত্র সদা ব্যবহারের উপযুক্ত করে রাখা;

(ঘ) মজুত গোলাবারুদের হিসাব রাখা

(ঙ) গার্ডদের সামরিক দক্ষতা বজায় রাখা;

(চ) সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত অন্যান্য দিন গার্ডদেরকে কমপক্ষে আধঘন্টা করে ড্রিল করানো;

(ছ) অনুপস্থিত গার্ড সম্পর্কে রিপোর্ট করা;

(জ) জেল সুপার প্রদত্ত ড্রিলের শাস্তি কার্যকর করা;

(ঝ) অনুমতি ব্যতীত কোন রক্ষী যাতে কারাগারের সীমানা ত্যাগ না করে নিশ্চিত করা,

(ঞ) কর্তব্যকালে সকল গার্ড সঠিক ভাবে ইউনিফর্ম পরিধান করেছে কিনা নিশ্চিত করা;

(ট) রাত্রে এক চক্কর ওয়াচ করা;

(ঠ) গার্ড রুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা তা দেখা;

(ড) প্রত্যেক সেন্ট্রি তার পোস্টের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন কিনা তা নিশ্চিত করা;

 

রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৫৩। জেল সুপার দৈনিক রিজার্ভ গার্ড পরিদর্শন করবেন এবং তার কারাগারে আগমনের সময় গার্ড পূর্ণ সংখ্যায় সকল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দন্ডায়মান থাকবে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করবে, কোন সরকারী বা বেসরকারী ভিজিটর সকাল ৯ টার মধ্যে এলে তার ক্ষেত্রেও তা করা হবে। এ সময়ের পর অর্ধেক গার্ড চলে। যাবে।

বিধি-৩৫৪। জেল সুপার সকালে কারাগারে আসার পর রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী তার সামনে নিম্নোক্ত রিপোর্ট সমূহ পেশ করবেন-

প্রথমত :গত ২৪ ঘন্টায় রিজার্ভ গার্ড পূর্ণ সংখ্যায় হাজির ছিল কিনা, না থাকলে তার কারণ;

দ্বিতীয়ত: কোন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা রাতে কারাগার ভিজিট করেছিলেন কিনা এবং রাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

তৃতীয়ত: অস্ত্র এবং গোলাবারুদ তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্যে প্রস্তুত রয়েছে কিনা;

চতুর্থত: রক্ষীদের কোন অসদাচরণ বা বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি।

বিধি-৩৫৫। রিজার্ভ গার্ড ৬৭ বিধি মোতাবেক ভিজিটরদের স্কট করবে। রিজার্ভ গার্ড হতে বিধি ৩৪০ মোতাবেক গেইট সেন্ট্রির দায়িত্ব দিতে হবে এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে আরো কতিপয় পোস্টে রিজার্ভ গার্ড হতে সেন্ট্রির দায়িত্ব প্রদান করতে হবে, যেখান হতে কারাগারের ভিতর সম্পূর্ণ ভাবে দেখা যায় এবং এলার্মের মাধ্যমে প্রয়োজনে অন্যান্য রিজার্ভ গার্ড ডাকা যায় ।

 

বিধি-৩৫৬ ৷ সেন্ট্রির সাধারণ দায়িত্ব হবেঃ-

(ক) বেয়নেট স্থাপন পূর্বক গার্ড দিবেন, রাইফেলের বাট নিচের দিকে এবং নল নিজের কাঁধে রেখে পোস্টের মধ্যেদ্রুত চলাচল করবেন, প্রতি দুই ঘন্টায় পনর মিনিটের বেশী ‘আরামে’ দাঁড়াবেন না: (ক)

(খ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশ্নের জবার প্রদান করা ব্যতীত অন্য কারো সাথে কোন কথা বলবেন না;

(গ) কোন বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবেন না;

(ঘ) কোন অবস্থাতেই নিয়ম মোতাবেক অন্য আরেক জন দায়িত্ব গ্রহণ না

(ঙ) করলে পোস্ট ত্যাগ করবেন না; যদি কোন ব্যক্তি সূর্যাস্ত হতে সূর্যোদয়ের মাঝের সময়ে সেন্ট্রি পোস্ট দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করে তাকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ করতে হবে এবং থামার জন্যে আদেশ প্রদান করবেন। যদি ঐ ব্যক্তি থেকে কোন জবাব না পাওয়া যায়, সেন্ট্রি রাইফেল ‘প্রস্তুত’ করবেন এবং একই সময়ে প্রধান কারারক্ষী এবং অন্যান্য গার্ডকে ডাকবেন।

যদি অনধিকার প্রবেশকারী না পাড়ায় এবং পোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করে, সেন্ট্রি তাকে বেয়নেট দেখিয়ে ভয় দেখাবেন। যদি অনধিকার প্রবেশকারী বল প্রয়োগের চেষ্টা করে বা কোন অস্ত্র দেখায়, সেন্ট্রি গুলি করার পূর্বে শেষ অবলম্বন হিসাবে বেয়নেট ব্যবহার করবেন। যদি সেখানে একাধিক অনুপ্রবেশকারী থাকে এবং তারা সেন্ট্রির আদেশ অমান্য করে এবং কারাগারের কোন অংশের দিকে ধাবিত হতে চায়, তিনি কোন প্রকার দ্বিধা না করে গুলি করবেন।

(চ) তার চারপাশে লোকজনকে ভিড় করতে দিবেন না,

(ছ) যদি তিনি দেখেন যে কোন বন্দী পলায়ন করছে, তিনি তাকে দাঁড়াতে বলবেন এবং যদি সে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেখানে কোন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকে এবং লোকটিকে অন্য কোন ভাবে ঠেকানোর উপায় না থাকে, তিনি তাকে গুলি করবেন।

(জ) যদি লোকটি তার ডাকার সীমানার দূরে হয় এবং গার্ডদেরকে সংকেত দেয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি সংকেত হিসাবে ফাঁকা গুলি করবেন: সে সঙ্গে ৪৬৫ বিধি মোতাবেক তার হুইসেল বাজাবেন।

(ঝ) যদি তিনি কারাগারের ভিতরে বা কাছাকাছি পলায়নের সহায়তা হতে পারে এমন কোন দ্রব্য দেখেন সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান কারারক্ষীকে জানাবেন।

(ঞ) সেন্ট্রি তার দায়িত্ব কঠোরভাবে প্রয়োগ করবেন এবং কোন ব্যক্তি বিশেষের জন্যে ব্যতিক্রম করবেন না।

 

রিজার্ভ গার্ড । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৫৭। সপ্তম অধ্যায়ের বর্ণনা মোতাবেক রিজার্ভ গার্ড রাত্রে প্রহরায় সহায়তা করবে। যখন কোন রিজার্ভ গার্ড স্কট বা অন্য কোন কাজে কারাগারের ভিতরে নিয়োজিত থাকে সমান সংখ্যক সাধারণ রক্ষী দিয়ে তার স্থান পূরণ করতে হবে। যারা পরবর্তী প্রহরায় যাবে বা পূর্ববর্তী প্রহরা থেকে এসেছে, তাদের থেকে রক্ষী নির্বাচন করতে হবে।

যদি রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী রাতের প্রহরায় থাকেন, তবে অন্য একজন প্রধান কারারক্ষী বা জ্যেষ্ঠ রক্ষী তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

জেল কোড অনুযায়ী কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা কারারক্ষীর দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী । জেল কোড

বিধি-৩৪৫। প্রত্যেক কারারক্ষীর জন্যে জেল সুপার কিংবা জেলার কর্তৃক নির্ধারিত একটি নিজস্ব কাজের দায়িত্ব থাকবে; যেমন নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্ব কিংবা একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব, একটি নির্দিষ্ট কারখানার দায়িত্ব কিংবা একাধিক কারখানার দায়িত্ব, কিংবা কারাগারের ভিতরে কিংবা বাহিরে বন্দীদের একটি নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের দায়িত্ব। কারারক্ষীদের প্রহরা পোষ্ট এবং দায়িত্ব ঘন ঘন রদবদল করতে হবে যাতে করারাক্ষীরা কোন নির্দিষ্ট বন্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়তে না পারে। যে সব কারারক্ষী ওয়ার্ক শেডে কাজ করবেন তারা সকল যন্ত্রপাতি এবং তাদের জিম্মায় রাখা জিনিস হেফাজতের জন্যে দায়ী থাকবেন ।

বিধি-৩৪৬। এ কোডের অন্যত্র কারারক্ষীদের দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও সকল কারারক্ষীর দায়িত্ব হবে-

(১) তাদের দায়িত্বে ন্যস্ত বন্দীদের গণনা করা এবং প্রধান কারারক্ষীকে সংখ্যা জানানো

(২) ডিউটি কালে দাঁড়িয়ে থাকা বা টহলরত থাকা। কর্তব্যরত অবস্থায় কোন অবস্থাতেই একজন রক্ষী বেল্ট খুলবেন না এবং হেলানোরত থাকবেন না বা বসবেন না:

(৩) তাদের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের সংখ্যা জানা; ডিউটির প্রতি দফায় তাদের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ঘন ঘন গণনা করা এবং নিশ্চিত হওয়া যে তাদের দায়িত্বে বন্দী সংখ্যা সঠিক রয়েছে;

(8) তাদের নিকট ন্যস্ত করার পর গ্যাংয়ের সকল বন্দীকে তল্লাশী করা এবং অনুরূপ ভাবে অন্য কারো নিকট দায়িত্ব হস্তাস্তরের পূর্বে গণনা করা এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য থাকলে তা খুঁজে বের করা;

(৫) কোন প্রকার {} মাদকদ্রব্য,) টাকা বা অনুমোদন বহির্ভূত খাদ্য দ্রব্য বন্দীদের দ্বারা ব্যবহার বা তাদের কাছে রাখা প্রতিরোধ করা। বন্দীদেরকে যতটুকু সরবরাহ করা হয় যেন তার বেশী খাদ্যশস্য, শাক- সব্জি, ফলমূল খেতে বা চুরি করতে না পারে তা দেখবেন;

 

কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

(৬) সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কাজে আলস্য দেখালে বা কাজ কম করলে রিপোর্ট করা;

(৭) জোরে কথা বলা, হাসাহাসি করা, গান গাওয়া, খেলা বা ঝগড়া করা এবং অন্যান্য অশোভন আচরণ প্রতিহত করা;

(৮) বন্দীরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবার সময় ডাবল লাইনে চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিজেদের স্থান ত্যাগ এবং কারাগারের ভিতরে বিক্ষিপ্ত ঘুরাফিরা না করা নিশ্চিত করা। কোন বন্দীকে গ্যাং বহির্ভূত পাওয়া গেলে দায়িত্ব প্রাপ্ত রক্ষীকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

(৯) কোন বন্দীর বিনা অনুমতিতে নিজের সীমানা বেষ্টনী পরিত্যাগ বা অন্য গ্যাংয়ের বন্দীর সাথে যোগাযোগ প্রতিহত করা;

(১০) কোন ময়লা আবর্জনা কারাগারে পড়ে আছে কিনা দেখা এবং ড্রেন পরিষ্কার আছে কিনা দেখা, মেথর বা সুইপারকে এ ব্যাপারে জানানো।

 

কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
কারারক্ষীর দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

(১১) বন্দী কর্তৃক ড্রেনে প্রস্রাব করা বা অন্য কোন স্থানের সৌন্দর্য্য হানি করা সম্পর্কে রিপোর্ট করা;

(১২) অনুমোদিত সময় ব্যতীত বন্দী কর্তৃক টয়লেট ব্যবহার না করা;

(১৩) বিধি ১৯১, ১৯২, এবং ৪৬৩ প্রতিপালন করানো;

(১৪) বিছানা পত্র, পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখা;

(১৫) কোন বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে জেলারকে জানানো

(১৬) পলায়ন, বিদ্রোহ, আক্রমণের কোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে রিপোর্ট করা;

(১৭) পোশাক বা জেল সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি সম্পর্কে রিপোর্ট করা:

(১৮) কোন বন্দী নিখোজ হলে সঙ্গে সঙ্গে জেলার বা কর্তৃপক্ষকে জানানো;

(১৯) কোন বন্দী কোন খাবার যাতে না লুকাতে পারে।

(২০) নিজ হাতিয়ার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্যে উপযুক্ত করে রাখা।

 

টীকা-নং ১৯৭৫ এইচ, জে তারিখ ২৭-৭-১৯৩৭ এবং নং ৫০ এইচ জে তারিখ ১৩-১-১৯৫৪ ভুলে সংশোধিত।

বিধি-৩৪৭। প্রত্যেক কারারক্ষী ডিউটি অবস্থায় সকল সময় যথাযথ নিয়েমে পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম ও বেল্ট পরিধান অবস্থায় থাকবেন এবং জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে হাতে ব্যাটন বা লাঠি থাকবে। ব্যাটন বেল্টের সাথে লুফ বা স্প্রিং দিয়ে ঝুলানো থাকবে যাতে সহজে খোলা যায়।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা কারাগারের গেইট সেন্ট্রি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী । জেল কোড

বিধি-৩৪০। রিজার্ভ গার্ড থেকে কারাগারের মূল ফটকে দিনে এবং রাত্রে একজন করে সেন্ট্রি দায়িত্ব পালন করবেন। লোকের প্রাপ্যতা অনুসারে তারা ২-৩ ঘন্টা করে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। দিনে সেন্ট্রি বেয়নেট যুক্ত রাইফেল সঙ্গে নিয়ে মূল লৌহ ফটকের সন্নিহিত বাহিরে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি-৩৪১। নাইট সেন্ট্রি দুই গেইটের মাঝখানে অবস্থান করবেন যাতে ভিতর বা বাহিরের আকস্মিক কোন ঘটনা মোকাবেলা করতে পারেন এবং তিনি ভিতরের গেইটের উইকেটের এবং বাহির গেইটের চাবি তার কাছে রাখবেন।

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

রাতের বেলায় কারাগার ভিজিটের প্রাধিকার প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ হলেন- জেল সুপার, ম্যাজিষ্ট্রেট সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণ, ডেপুটি সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার, কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্ব প্রাপ্ত টহল কর্মচারী, মেডিকেল অফিসার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট।

বিধি-৩৪২। রাতে কোন কর্মকর্তা ভিজিট করলে নাইট সেন্ট্রি কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীকে তা জানাবেন। তার দায়িত্বের সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ অস্বাভাবিক কিছু ঘটে থাকলে তা রিজার্ভ গার্ডের কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীকে জানাবেন, যাতে তিনি পরদিন সকালে জেল সুপারের ভিজিটের সময় তাকে অবহিত করতে পারেন।

 

বিধি-৩৪৩। রাতের বেলা গেইটের ভিতরে সার্বক্ষণিক একটি বাতি জ্বলবে।

বিধি-৩৪৪। নাইট সেন্ট্রি একটি রাইফেল এবং ২০ রাউন্ড গুলিসহ ডিউটি করবেন। কোন বিদ্রোহ বা গোলযোগ দেখা দিলে তিনি এলার্ম বাজাবেন এবং ৪৬৬ বিধি মোতাবেক গেইট রক্ষা করবেন। তার কাছে অস্ত্রাগারের একটি ডুপ্লিকেট চাবি থাকবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে কারাগারের গেইট কিপার । যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-৩২৬। গেইট কিপার হিসেবে দু’জন জ্যেষ্ঠ কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারগণ উত্তম লোককে গেইট কিপার হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নবান হবেন।

বিধি-৩২৭। গেইট কিপার কারাগার খোলার সময়ে ডিউটিতে আসবেন এবং দায়িত্ব হতে অব্যহতি না পাওয়া পর্যন্ত গেইটে থাকবেন। গেইট কিপারের দায়িত্ব পালনের জন্যে একটি দিনকে সুবিধামত দুই বা চার অংশে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রত্যেক গেইট কি-পার তার আগমন এবং প্রস্থান রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৩২৮। গেইট কি-পার দুটি গেইট রেজিষ্টার রাখবেন (রেজিষ্টার-২৪ এবং ২৫)। একটিতে কারাগারের ভিতরে আসা যাওয়া করেছে এমন সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, বন্দী এবং অন্যান্যদের নাম লিখবেন। অন্যটিতে কারাগারে মালামাল প্রবেশ ও বাহির হবার তালিকা রাখবেন। তিনি লোকজন এবং মালামাল যাতায়াতের সময় রেকর্ড করবেন। তিনি নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ রোধের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

বিধি-৩২৯। তিনি নুতন বন্দীদেরকে ভর্তির জন্য জেলার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাহায্য করবেন। তিনি গেইটের ভিতরের পরিষ্কার পচ্ছিন্নতা বজায় রাখবেন।

বিধি-৩৩০। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে প্রধান প্রবেশ পথে দুটি গেইট থাকবে, দুটি গেইটের মাঝে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকবে। প্রত্যেক গেইটের মধ্যে একটি উইকেট (ক্ষুদ্র দরজা) থাকবে।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৩১। গেইট কি-পার একই সময়ে মাত্র একটি গেইট খুলবেন এবং কোন অবস্থাতেই দুটি গেইট একই সময়ে খোলা যাবে না। কোন লোক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা বন্দী যেই হোক, প্রথম গেইট অতিক্রম করার পর গেইটটি সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে তালাবদ্ধ করতে হবে এবং তার পর দ্বিতীয় গেইট খুলতে হবে। এ কাজে অবহেলার জন্যে দায়ী গেইট কি-পারকে শাস্তি স্বরূপ প্রথমবার মাসিক বেতনের অর্ধেক কাটা হবে এবং দ্বিতীয়বার চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে।

বিধি-৩৩২ । প্রধান গেইটের চাবি অনুরূপ ৮ টি নকল চাবিসহ একটি তোড়ার মধ্যে রাখতে হবে এবং চেইন দিয়ে গেইট কি-পারের কোমরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৩৩৩। গেইট কিপার চাবি ডিউটি শেষে তার নিজের কাছে রাখবেন না। জেলারের উপস্থিতিতে তিনি প্রধান কারারক্ষীর নিকট অর্পন করবেন।

বিধি-৩৩৪। কারাগারের প্রধান গেইটের ভিতরের বারান্দায় নিম্নোক্ত জিনিসপত্র থাকবে-

  1. একটি দেয়াল ঘড়ি
  2. চাবি রাখার বক্স
  3. ব্যবহারের জন্যে প্রস্তুত রাখার উদ্দেশ্যে বেড়ী এবং হ্যান্ডকাপ
  4. গেইট রেজিষ্টারের জন্যে একটি উঁচু পাটাতন এবং লেখার দ্রব্য
  5. পরিদর্শকদের ব্যবহারের জন্যে জেল কোডের চতুর্থ অধ্যায়ের পুনঃমুদ্রিত কপি ।

 

বিধি-৩৩৫। কোন বন্দী কারাগারের গেইট দিয়ে বাহির হবার সময় গেইট কিপার তাকে প্রথমে ভিতরের গেইটে নিয়ে যাবেন এবং তা লক করবেন। তারপর বন্দীর নাম, যে গ্যাং ভুক্ত সে গ্যাংয়ের নাম, যে কয়েদী রক্ষী এবং ওভারশিয়ারের অধীনে ছিল তার নাম লিখতে হবে।

বিধি-৩৩৬। যে সব বন্দী কারাগারের বাহিরে যাবে জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে তারা জেলার কর্তৃক বিশেষভাবে নির্বাচিত হবে। যদি গেইট কিপারের গোচরে আসে যে কোন বন্দীকে নিয়মের পরিপন্থীভাবে কারাগারের বাহিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা হলে তিনি বিষয়টি বইতে নোট করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জেলারকে জানাবেন, পাশাপাশিভাবে সুযোগ পাওয়া মাত্র জেল সুপারকেও জানাবেন।

বিধি-৩৩৭। কারাগারে প্রবেশের প্রাধিকারপ্রাপ্ত সকল সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকের একটি তালিকা গেইট কিপারের কাছে রাখতে হবে। তারা কারাগারের গেইটে নিজেদের পরিচয় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেইট কিপার তাদেরকে প্রবেশ করতে দিবেন।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৩৮। যাদের নাম সরকারী এবং নিয়োগকৃত পরিদর্শকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে এবং জেল সুপারের বিশেষ আদেশে যাদেরকে তল্লাশী হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাদেরকে ছাড়া অন্য সকল ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ করার সময় ও কারাগার হতে বাহির হবার সময় দেহ তল্লাশী করার জন্য গেইট কিপার ক্ষমতা প্রাপ্ত।

সকল সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শক এবং প্রধান কারারক্ষীসহ কারাগারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সাধারণত তল্লাশী হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন। যদি গেইট কিপারের কাছে সন্দেহ হয় যে, তল্লাশী হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি আপত্তিকর কিছু বহন করছেন, তবে তিনি তাকে উভয় গেইটের মধ্যবর্তী স্থানে আটকাবেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে জেলারকে সংবাদ জানাবেন। জেলার উক্ত ব্যক্তিকে তল্লাশী করবেন।

এরূপ তল্লাশী কোন বন্দী বা অন্য পরিদর্শকের সামনে করা যাবে না। তল্লাশী সংক্রান্ত এ সব বিধান মূল গেইটের সামনে সাধারণের অবগতির জন্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। গেইট কিপার গেইট দিয়ে যাতায়াতকারী সকল বন্দীকে তল্লাশী করবেন।

যদি গেইট দিয়ে যাতায়াতকারী বন্দীর সংখ্যা বা বাহির কাজে যাবার এবং ফিরে আসার সময় বন্দী সংখ্যা বেশী হয় তবে জেলার গেইট কিপারকে তল্লাশী কাজে সাহায্য করার জন্যে সে সময় অতিরিক্ত কারারক্ষী নিয়োগ করতে পারবেন। তল্লাশী কালে আপত্তিকর কিছু পাওয়া গেলে তা জেলারকে জানাতে হবে।

বিধি-৩৩৯। কারাগারের গেইটের অভ্যন্তরে কোন কুকুর প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এই বিধি বাধ্যতামূলক, সরকারী বা বেসরকারী পরিদর্শকদের কিংবা কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কোন কুকুর থাকলে সে ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

জেল কোড অনুযায়ী প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা প্রধান কারারক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-৩১৭। জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষীর উপর কারাগারের প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব ন্যস্ত হবে। তিনি তার অধস্তন এবং বন্দীদের এই কোড প্রতিপালন বিষয়ে তদারকী করবেন এবং তা কোন ভাবে লংঘিত হলে জেলার বা জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-৩১৮। প্রত্যেক প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্ব হবে-

(১) তার অধীনস্থ রক্ষীদের দায়িত্ব দেখাশুনা করা;

(২) তার অধীনস্থ রক্ষীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে তিনি দায়ী থাকবেন:

(৩)কোন কারারক্ষী যথাযথ ভাবে ইউনিফর্ম পরিধান না করলে প্রধান কারারক্ষী সে ব্যাপারে রিপোর্ট করবেন।

(8) রক্ষী ও বন্দী উভয় তরফ থেকে বিধি পালন কঠোর ভাবে কার্যকর করবেন এবং এর কোন প্রকার ব্যতিক্রম হলে তত্ত্বাবধায়ক ও জেলারকে অবহিত করবেন।

(৫)বিধি ১৯১ ১৯২ ও ৪৬৩ প্রতিপালন;

(৬) জেলারকে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করবেন;

(৭) জেলারের উপস্থিতিতে প্রত্যেকদিন সকালে ওয়ার্ড, সেল খুলবেন এবং বন্দী গণনা করবেন।

(৮) সম্ভ্রম বন্দীদের প্রত্যহ কাজ বন্টন

(৯) শ্রম বহিতে বন্দীর কাজ বন্টনের কারণ উল্লেখ করবেন

(১০) কাজের প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করবেন

(১১) সে সব মালামাল সংগ্রহ করণ

(১২) বন্দীকে প্রদত্ত কাজ ঠিক ভাবে করেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন

(১৩) ড্রেন, টয়লেট বাথরুম ওয়ার্ড ও খাবার ঘরের পরিচ্ছন্নতা তদারকী করন

(১৪) গার্ড পরিবর্তন কালে বন্দী পরীক্ষা করে দেখা

(১৫) দরজা, ফ্রেম প্রভৃতি নিরাপদ কিনা পরীক্ষা করা

(১৬) পলায়নে সহায়ক দ্রব্যাদি বন্দীর নাগালের বাহিরে নিশ্চিত করা

(১৭) জেলারের উপস্থিতিতে বন্দী গণনা করে লক করা।

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩১৯। (১) প্রহরা বদলের সময় দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রধান কারারক্ষী তার রক্ষীদেরকে ডিউটি শুরু হবার কমপক্ষে ১০ মিনিট পূর্বে একত্রিত করবেন এবং ডিউটি পোষ্টে প্রেরণ করবেন; অতঃপর দায়িত্ব সমাপ্তকারী প্রহরী তার স্থান ত্যাগ করবেন।

(২) কারাগারের বাহিরে বন্দীদের গ্যাংয়ের দায়িত্ব পালনকালে প্রহরা বদলের সময় প্রধান কারারক্ষী বন্দীদেরকে সমবেত করবেন এবং গুণে দেখবেন তারা সকলে উপস্থিত রয়েছে কিনা এবং তা গ্যাং বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৩২০ । রক্ষীরা দুই সারিতে মার্চ করে দায়িত্বে যাবে বা দায়িত্ব শেষে ফিরে আসবে।

বিধি-৩২১ ৷ সেন্ট্রি এবং গেইট কিপার নির্দেশ মোতাবেক পরিবর্তন হয়েছে কিনা প্রধান কারা-রক্ষী তা দেখবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্তব্যরত প্রধান কারা-রক্ষী গেইট সেন্ট্রি পরিবর্তন করবেন ।

বিধি-৩২২ । (১) প্রত্যেক প্রধান কারা-রক্ষী সাধারণত দিনের অর্ধেক এবং এক রাতের ওয়াচের দায়িত্ব পালন করবেন; এবং ওয়ার্ড, সেল এবং অন্যান্য কম্পার্টমেন্ট খোলা বা বন্ধের সময় উপস্থিত থাকবেন।

(২) দায়িত্ব এমন ভাবে বন্টন করতে হবে যাতে প্রধান কারা-রক্ষী রক্ষীদের দায়িত্ব বদলের সময় উপস্থিত থাকতে পারেন।

বিধি-৩২৩ ৷ প্রত্যেক দায়িত্ব বদলের সময় প্রধান কারারক্ষী বা গেইটম্যান মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ না করে বাহির থেকে কয়েদী ওয়াচম্যানকে জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হবেন যে সকল মহিলা বন্দী উপস্থিত রয়েছে কিনা ।

বিধি-৩২৪ ৷ (১) কোন চাবি অব্যবহৃত অবস্থায় কারো নিকট অর্পিত না থাকলে চাবি রাখার স্থানে থাকবে। উক্ত স্থান বা আলমারী দিনের বেলায় কর্তব্যরত জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্বে থাকবে এবং রাতের বেলায় কর্তব্যরত টহল অফিসারের দায়িত্বে থাকবে।

(২) যখন কোন ব্যক্তির নিকট দায়িত্ব পালনের সময় কোন চাবি থাকবে, তখন তা একটি শক্ত চেইন দিয়ে তার শরীরের সঙ্গে আটকিয়ে রাখতে হবে।

(৩) ডুপ্লিকেট চাবি সঠিক লেবেল লাগিয়ে পৃথক আলমারীতে জেলারের দায়িত্বে থাকবে।

 

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩২৫। কোন পলায়ন ঘটনার জন্যে প্রধান কারারক্ষীগণ প্রাথমিকভাবে নারী থাকবেন, যতক্ষণ না তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class