জেল কোড অনুযায়ী কারাবন্দীর শ্রেণী

আজকে আমরা কারাবন্দীর শ্রেণী  প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

কারাবন্দীর শ্রেণী । জেল কোড

বিধি-৬১৬। প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ৬ প্রকারের বন্দী থাকবে, প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার হতে আলাদা ভাবে রাখতে হবে-

(১) সিভিল বন্দী

(২) বিচারাধীন বন্দী

(৩) মহিলা বন্দী

(৪) ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী

(৫) পুরুষ বন্দী যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি

(৬) অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।

বিচারাধীন বন্দী, মহিলা বন্দী এবং কিশোর বন্দীদের বিষয়ে যথাক্রমে সপ্তবিংশ, ঊনত্রিংশ এবং ত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

বিধি-৬১৭। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন I, II ও III- এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবো-

(১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ ডিভিশন-] প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-

(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী;

(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের ; এবং

(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজা প্রাপ্ত নয়-

(এ) নৃশংসতা,নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ;

(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা;

(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ;

(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা;

(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।

(২) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন-II প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হবে না; সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণী বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীর চরিত্র এবং প্রাক- পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে।

(৩) যে সকল বন্দী ডিভিশন I এবং ডিভিশন II এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন- III এর আওতাভুক্ত হবে।

(৪) {হাই কোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, স্পেশাল জজ, সহকারী দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন- | বা ডিভিশন- II প্রদানের জন্যে প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্যে (সহকারী দায়রা জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবে বা পুনর্বিবেচনা করবে।}

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

(৫) সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায়, সুপারিশকৃত যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন- | বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয় তা হলে তারা ডিভিশন- | সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন- II সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন- II বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন III সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৬) ডিভিশন- I এবং ডিভিশন- II বন্দীদেরকে যথাসম্ভব বিধি ১০৬৮(৩) অনুযায়ী পৃথক রাখতে হবে।} নোট- ডিভিশন- । এবং ডিভিশন- II বন্দীদের বিষয়ে পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৬১৮ । – নিম্নোক্ত বন্দীদেরকে “অভ্যাসগত অপরাধী” বলে গণ্য করা হবে :-

(১) যে ব্যক্তি দণ্ড বিধির দ্বাদশ,ষোড়শ,সপ্তদশ,বা অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছে কিংবা বর্তমান মামলার অবস্থায় দৃশ্যমান হয় যে সে উক্ত পরিচ্ছেদ সমূহের যে কোনটি বা সব কয়টির অধীনে এক বা একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

(২) যে ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (ধারা ১০৯ এবং ১১০ সহপঠিত) কারাগারে সোপর্দ বা আটক রাখা হয়েছে।

টীকা- ১। ফৌজদারি কার্যবিধি। ধারা-১২৩- মুচলেকা খেলাপ করার দরুন কারাদণ্ড, ধাতু ১০৯-ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা, ধারা-১১০. অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণের মুচলেকা।

(৩) উপ-বিধি (১)-এ বর্ণিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, এমনকি পূর্বে দণ্ডিত না হলেও বর্তমান মামলার ঘটনা হতে যদি দেখা যায় যে, সে স্বভাবগতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাত বা চোর দলের সদস্য কিংবা দাস ব্যবসা বা চোরাইমালের এজেন্ট;

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তবে তা সরকারের বিবেচনা সাপেক্ষ

(৫) – (৬) অকার্যকর।

{(৭) এই বিধিতে অভ্যাসগত অপরাধী হিসাবে শ্রেণীভুক্ত বন্দীদেরকে বি শ্রেণীর বন্দী বলা হবে। ব্যাখ্যা- আলোচ্য সংজ্ঞার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “দণ্ড” বলতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১১৮ ধারা (১১০ ধারা সহ পঠিত) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশেকেও বুঝাবে।

II. – একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করার দায়িত্ব সাজা প্রদানকারী আদালতের, যদি আদালত তা না করেন, তবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারেন, বা সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হলে, সাধারণত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে নিজেই শ্রেণীক্ত করবেন। শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

 

III. কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ পূর্বক এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (১০৯ ও ১১০ ধারাসহ পঠিত) আটক কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা যাবে না এবং এরূপ আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

IV – কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যে ক্ষেত্রে যিনি হন, তাদের নিজেদের দ্বারা ধার্য শ্রেণী বিভাজন সংশোধন করতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের প্রদর শ্রেণী বিভাগও পরিবর্তন করতে পারেন, শর্ত থাকে যে এ ধরনের পরিবর্তন সে সব কারণের উপর ভিত্তি করে করতে হবে, যে সব কারণ ইতোপূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয় নি।

নোট- উপরের II, III এবং IV প্যারায় জেলা ম্যাজিট্রেট বলতে সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝায় যে জেলায় আসামী দণ্ডিত হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করেছে কিংবা আটক আছে ।

V – প্রত্যেক অভ্যাসগত অপরাধীকে সম্ভব হলে এমন বিশেষ কারাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে অভ্যাসগত অপরাধী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে রাখা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শক কারণ লিপিবদ্ধ করে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীকেও এ ধরনের বিশেষ কারাগারে পাঠাতে পারেন, যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী খুব দুর্ধর্ষ বা অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, সে অন্যান্য বন্দীদের খারাপ ইন্ধন জোগাচ্ছে বা জোগাতে পারে, তাই তাকে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীদের সাথে রাখা উচিত হবে না।

VI. উপবিধি II III এবং IV এ ” জেলা ম্যাজিট্রেট” বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটও অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
নং- ৫৫৬৬ এইচ জে তারিখ ৩-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত।

বিধি ৬১৯-৬৩২ । উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

জেল কোড অনুযায়ী আপীল ও পিটিশন

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন । জেল কোড

নোট- আপীল সম্পর্কে ফৌজদারি কার্য বিধির একত্রিংশ অধ্যায়ের বিধানাবলীর ধর মনোযোগ দিতে হবে।

বিধি-৫৯৯। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইচ্ছা করলে আপীল করতে পারবে, আদালতে আপীল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছবে বা না পৌঁছবে, তা সত্ত্বেও আপীলকারীকে আপীল করার উদ্দেশ্যে সকল যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে এবং তার অনুরোধ অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি আপন আবেদন এমন বিলম্বে পেশ করা হয় যে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্বে আপীল পেশের কারণ সম্পর্কে আপীলকারী বন্দীর বক্তব্যসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার মতামত। বিবৃ করে (যদি থাকে) আপীল আবেদনটি প্রেরণ করবেন।

টীকা-। যে সব ক্ষেত্রে আপীল চলে না-

(১) আসামীর দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে (ধারা ৪১২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(২) দায়রা জজ প্রদত্ত অনুর্ধ্ব এক মাস কারাদণ্ড; দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব পঞ্চাশ টাকা জরিমানা (ধারা-৪১৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৩) সামারী ট্রায়ালে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুইশত টাকা জরিমানা করা হলে (ধারা-৪১৪,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০০। দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে আপীল দায়েরের সময় সীমা :-

  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৭দিন (ধারা-১৫০,তামাদি আইন)
  • মৃত্যুদণ্ড ভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৬০দিন (ধারা-১৫৫, তামাদি আইন)
  • অন্য কোন আদালতে আপীল -৩০দিন (ধারা-১৫৪,তামাদি আইন)

টীকা-১। তামাদি প্রশ্নে কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তি যে দিন জেল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন দাখিল করবেন সেদিন আপীল আদালতের কাছে দায়ের হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। (৯ মাস ২৫৮)।

টীকা-২। যে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপীল করতে হবে (ধারা ৪০৭- ৪১০, ফৌজদারি কার্যবিধি)-

আদেশ প্রদানকারী আদালত আপীল আদালত
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট দায়রা জজ
সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ৫ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা হাইকোর্ট বিভাগ
দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগ

 

টীকা-৩। আপীল সাপেক্ষে আদালত দণ্ড স্থগিত এবং আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন (ধারা ৪২৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৪। সি আর মামলায় ফরিয়াদি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার খালাসের বিরুদ্ধে কিংবা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন (ধারা ৪১৭,৪৭১-ক, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৫। খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদালত আসামীকে পুনরায় গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন (ধারা-৪২৭, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৬০১। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল প্রস্তুতির জন্যে আগত আত্মীয়-স্বজন এবং আইনজীবির সঙ্গে সাক্ষাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে; এ ধরনের সাক্ষাত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে, কিন্তু শ্রুতির অগোচরে হতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার পক্ষে কাজ করার জন্যে কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করে আম-মোক্তার নামায় স্বাক্ষর প্রদানের অনুমতি দেয়া যাবে; আম-মোক্তার নামা ষ্ট্যাম্প আইন অনুসারে যথাযথ ষ্ট্যাম্পে প্রদান করতে হবে এবং আম-মোক্তার নামায় বন্দীর স্বাক্ষর জেলার বা ডেপুটি জেলার কর্তৃক অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০২। জেল সুপারের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন বন্দী বা কাৱা কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোন বন্দীর পক্ষে আপীল বা আবেদন লিখতে বা প্রস্তুত করতে বা পেশ করতে পারবেন না।

বিধি-৬০৩। (১) যদি কোন বন্দী জানায় যে সে আপীল করতে আগ্রহী কিন্তু আপীল প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করার জন্যে তার পক্ষে আগ্রহী কোন আত্মীয়,বন্ধু বা এজেন্ট নেই, সে ক্ষেত্রে জেল সুপার ২৭ নম্বর জেল ফরমে আদালতের কাছে রায়ের বা আদেশের একটি কপি চেয়ে আবেদন প্রেরণ করবেন।

(২) রায়ের বা আদেশের কপি পাবার পর, বন্দী যদি লিখতে পারে তবে তারে তার আপীল লিখার অনুমতি দেয়া হবে। যদি বন্দী নিজে লিখতে অক্ষম হয় তা হলে জেল সুপার অন্য একজন বন্দী বা একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়ে তা লিখার ব্যবস্থা করবেন।

(৩) যদি ৭ দিনের মধ্যে রায়ের কপি না আসে তা হলে জেল সুপার একটি তাগিদ প্রদান করবেন এবং অতিরিক্ত বিলম্ব ঘটলে বিষয়টি কার মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

(৪) যে বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আপীলকারী বন্দীর পক্ষে আপীল লিখবেন, তিনি আপীল কারীর নির্দেশ মোতাবেক লিখবেন, কি লিখা উচিত এ ধরনের কোন পরামর্শ প্রদান করবেন না ।

(৫) জেল সুপার কোন প্রকার বিলম্ব না করে রায় বা আদেশের কপিসহ প্রস্তুতকৃত আপীলটি আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন।

(৬) যদি কোন রায় বা আদেশের কপি পাবার পর তা বন্দীর কোন আত্মীয়- স্বজন,বন্ধু বা আইনজীবি তার পক্ষে আপীল প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করতে চায় তা হলে বন্দীর সম্মতিতে তা হস্তান্তর করা যাবে।

(৭) যদি একাধিক বন্দীকে একই মামলায় সাজা প্রদান করা হয়, একই সঙ্গে একই আদালতে তাদের পেশকৃত আপীলের সঙ্গে রায়ের একটি কপি সংযুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন একজনের জন্য আপীলে । প্রদত্ত আদেশ একই সঙ্গে আপীলকারী একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

টীকা- যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেওয়া হয়, তখন এইরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে (ধারা ৪১৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৮) কোন বন্দীকে রায়ের কপি পাবার আগে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে, রায়ের কপি যখন পাওয়া যাবে তখন যে কারাগারে সে আটক আছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট তাড়াতাড়ি তা প্রেরণ করতে হবে।

(৯) কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত সামরিক বন্দীর আপীল আবেদন দণ্ডাদেশের কপিসহ কমাণ্ড হেড কোয়ার্টার্সে প্রেরণের উদ্দেশ্যে যে জেলায় কারাগার অবস্থিত সে জেলার জিওসি’র নিকট পাঠাতে হবে।

টীকা- আপীলকারী কারাগারে থাকলে সে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের আবেদনপত্র কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দাখিল করতে পারবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত আবেদনপত্র ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবে (ধারা-৪২০. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৪। সকল আপীল এম ৯৭ বি বা সি নম্বর হাইকোর্ট ক্রিমিনাল ফরমে পিটিশন আকারে লিখিত ভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আপীলকারী কারাগারে অন্তরীণ থাকলে কারাগার হতে তার প্রেরিত আপীল স্ট্যাম্প ফি মুক্ত হবে। সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে যে আপীলকারী কর্তৃক যথাযথভাবে আপীলটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা।

আপীলকারীর স্বাক্ষর জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সকল আপীল আবেদন জেল সুপার কর্তৃক প্রেরিত হবে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরের জন্যে আপীল এম ১০৪ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে প্রেরণ করতে হবে। কারাগারে অন্তরীণ একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সকল বন্দী একরে কিংবা পৃথক পৃথক ভাবে আপীল বা রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

বিধি-৬০৫ । যখন কোন বন্দী হাইকোর্টে আপীল করে, তখন জেল সুপার উক্ত আপীলের বিষয়ে দায়রা আদালতকে (এম) ১০৫ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে অবহিত করবেন।

বিধি-৬০৬। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আপীল করার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সম্পর্কে তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে ।

বিধি-৬০৭। ডিভিশন I এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে বিধি ১০৬৮ অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্র ব্যতীত এবং সাক্ষ্য প্রদান ও অন্য মামলার অভিযোগের কারণে স্থানান্তরের প্রয়োজন ব্যতীত এবং বিধি ৮৪৩ অনুযায়ী এ বিধি অকার্যকর হবার ক্ষেত্র সমূহ ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল দায়েরের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপীল দায়ের হয়ে থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে, সেখান থেকে অন্য কারাগারে সাধারণত স্থানান্তর করা যাবে না।

কোন বন্দীকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং বেত্রদণ্ড অনিষ্পন্ন অবস্থায় কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা যাবে না।

কোন বন্দীকে বদলি করার পূর্বে সে আপীল করতে ইচ্ছুক কিনা জেল সুপার তা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বন্দী জানায় যে, কারাগারের বাহির থেকে তার জন্যে আপীল করা হবে তবে আপীল দায়েরের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বদলি করা যাবে না।

নোট- যদি কোন কারণে কোন বন্দীকে আপীলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বদলি করা প্রয়োজন হয়, তবে একই দণ্ডাদেশে একাধিক বন্দী থাকলে তাদের দল ছুট করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে তারা যে যে কারাগারে থাকবে সেখান থেকে পৃথকভাবে আপীল করতে হবে।

বিধি-৬০৮ । কারা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আপীল প্রস্তুতকারী কোন বন্দী আপীল দায়েরের সময় সীমার মধ্যে অন্য কারাগারে বদলি হয়ে গেলে, তার বদলি সম্পর্কে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী সর্বশেষ আদালতকে জানাতে হবে। যখন কোন বদলিকৃত বন্দীর মুক্তি, বা সংশোধিত ওয়ারেন্ট বা তার আপীলের বিষয়ে আপীল আদালতের কোন পত্র জেল সুপার কর্তৃক গৃহীত হয়, তা তাড়াতাড়ি ডাক যোগে বদলিকৃত কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৯। যদি আপীল দায়েরের পর পনর দিনের মধ্যে বা হাইকোর্ট বিভাগ হতে এক মাসের মধ্যে জেল সুপারকে কোন ফলাফল জানানো না হয়, জেল সুপার ১৫ নম্বর জেল ফরমে দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেটের নিকট একটি তাগিদ পত্র প্রেরণ করে আপীলের ফলাফল জানানোর জন্যে অনুরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে যুক্তি সংগত বিরতিতে পুনরায় পত্র দিবেন। যখন আপীলের ফলাফল জানা যাবে তা বন্দীকে জানাতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে লিখিত হবে। নোট- এই বিধিতে বর্ণিত কার্যক্রম বন্দীকে বদলি করা হলে বদলিকৃত কারাগার হতেও গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৬১০। (১) সাজা বাতিলের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আপীল আদালত নির্ধারিত ফরমে ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন। আদালত একই সময়ে মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। উক্ত ওয়ারেন্ট এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ সম্বলিত আপীল আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর জেল সুপার দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন।

(২) যখন আপীলে দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়, আপীল আদালত পরিবর্তিত আদেশ সম্বলিত একটি নুতন ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। অনুরূপ ওয়ারেন্ট দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

যখন ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর আপীল আদালতে প্রেরণ করা হবে, আপীল আদালত তা দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন। তবে যখন কোন আপীলকারী বন্দীকে আপীল অনিম্পন্ন অবস্থায় জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়, সে আদালতে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপীল আদালত জেল সুপারের নিকট নুতন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন না ।

(৩) যখন আপীল আদালত সাজা বহাল রাখেন তখন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। উপরের বিধি মোতাবেক আপীল আদালত আপীলকারী বন্দীকে ফলাফল জানানোর জন্যে জেল সুপারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

(৪) এই বিধি কোন আদালতের প্রদত্ত দত্ত হ্রাসকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের কপি বন্দীর ওয়ারেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বিধি-৬১১ । যখন কোন আপীল আদালত কোন বন্দীর দণ্ড বাতিল ঘোষণা করে পুন:বিচারের আদেশ প্রদান করেন, বন্দীকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কোন ওয়ারেন্ট পাওয়া না গেলে ( এবং সে অন্য কোন দণ্ডাদেশ মূলে সাজারত না থাকলে), তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে পুন:আটক রাখা হবে। জেল সুপার বন্দীকে আটকাদেশ প্রদানের ওয়ারেন্ট জারীর জন্য আদেশদানকারী আদালতকে অনুরোধ জানাবেন। ওয়ারেন্ট পাবার পর তা সে আদালতে প্রদর্শন করতে হবে, যে আদালতে বন্দীর পুনর্বিচার হবে।

বিধি-৬১২। ((এ) একজন বন্দী আদালতে আপীল করতে পারে। যদি বন্দী উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়েরের জন্য অগ্রসর হয়, তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তার নিকটজন বা এজেন্ট দ্বারা করতে হবে, কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে কিছু করবে না ।

(বি) (১) একজন বন্দী আপীলের জন্যে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরেরও অধিকারী। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে সে রায়ের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করতে হবে।

(২) একজন বন্দী আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের উদ্দেশ্যে তার আবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারেন, যিনি তা সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(৩) আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে-

(ক) আপীলের যৌক্তিকতা,

(খ) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(গ) যে ক্ষেত্রে দায়রা আদালত আবেদনকারীকে খালাস প্রদাহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সরকারের আপীলের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে দণ্ড প্রদান করেছে, সে ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(ঘ) যদি আবেদন করতে বিলম্ব হয়, বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বক বিলম্ব প্রমার্জনের আবেদন।।

নং- ৬৩০ এইচ জে তারিখ ২১-৪-১৯৫৪ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বিধি-৬১৩। (১) যদি কোন বন্দীর আপীল হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়, বা যাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সাজা প্রদান করেছেন, তিনি হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার প্রদর আদেশের তিন মাসের মধ্যে সাজা মার্জনা বা হ্রাসের জন্যে | রাষ্ট্রপতির} নিকট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক দায়ের করা না হলে পিটিশন আটক করা হবে, যদি না কোন বিশেষ কারণ উদ্ভব হয় ।

(৩) বন্দীর পারিবারিক দুর্দশা বা শারীরিক বা সদাচারের কারণ সম্বলিত পিটিশন সাধারণত আটক করা হবে।

(৪) উপ-বিধি(৩) এর আওতায় আটককৃত কোন পিটিশন অগ্রগামী করা যেতে পারে, যদি কোন সরকারী পরিদর্শক তা প্রেরণের জন্যে পরামর্শ প্রদান করেন।

নোট-১। এই কোডের ৯৯১ বিধিতে বর্ণিত শর্তাধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ক্ষমার পিটিশন দায়ের করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে ।

নোট-২। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীর স্বাস্থ্যগত খারাপ অবস্থা বা ভাল আচরণের কারণে সাজা হ্রাসের সুপারিশ করতে পারবেন, কিন্তু তা রাষ্ট্রপতির নিকট বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হবে না।

বিধি-৬১৪। অর্ধ মার্কিন ফুলস্কেপ কাগজে এবং বন্দীর মাতৃভাষায় লিখতে হবে। বন্দীর স্বাক্ষর বা টিপসহি একজন কারা কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পিটিশন হবে । পিটিশন জেল সুপার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর পিটিশন সরাসরি সরকারের {স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী পিটিশনে তার শারীরিক খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তবে তার সাথে মেডিকেল অফিসারের একটি বক্তব্য পেশ করতে হবে।

যদি বন্দীর পক্ষে কোন পিটিশন প্রস্তুতের পর জেল সুপারের নিকট বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্যে পেশ করা হয়, বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণ করার পর পিটিশন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট তা আর ফেরত দেয়া যাবে না। জেল সুপার পিটিশন যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব বা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, প্রেরণ করবেন।

বিধি-৬১৫। যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা পূর্বতন অফিস কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার নিকট জরুরী পারিবারিক বিষয়াদি, দেওয়ানী মামলা, বিষয়-সম্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে পিটিশন করতে চায়, তা হলে জেল সুপার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক তা প্রতিস্বাক্ষরান্তে প্রাপকের নিকট প্রেরণ করে দিবেন, শর্ত থাকে যে, এ ধরনের কোন আবেদন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা সরকারের নিকট প্রেরণ করা যাবে না ।

সাজাপ্রাপ্ত {বিদেশী নাগরিকদেরকে } কোন জরুরী বিষয়ে তাদের সরকারের রাষ্টদূতের নিকট জেল সুপারের বিবেচনা মতে আবেদন করার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে; কিন্তু অনুরূপ আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বা { মেট্রাপলিটান শহরের কারাগারের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

আজকে আমরা  বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড । জেল কোড

{বিধি ৫৯৮-ক । (১)দণ্ডের যথেষ্ট পরিমাণ মেয়াদ অতিবাহিত করার পর সমাজে নিরাপদে মুক্তি প্রদান করা যায়, অন্যদিকে একই সঙ্গে কারা প্রশাসনের অর্থ সাশ্রয় করা যায়, এমন কতিপয় শ্রেণীর কিছু সংখ্যক সাজাপ্রাপ্ত সংশোধিত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি উপদেষ্টা বোর্ড নিয়োগ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের ধার্য তারিখ মোতাবেক বোর্ড প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বছরে কমপক্ষে দুইবার বসবে।

(২) { বোর্ডের গঠন নিম্নরূপ হবে-

  • চেয়ারম্যান -. কারা মহাপরিদর্শক ।
  • ভাইস চেয়ারম্যান – সংশ্লিষ্ট জেলা জজ / অতিরিক্ত জেলা জজ (জেলা জজ সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)
  • সদস্য – সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক / অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেলা প্রশাসক সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)।
  • সদস্য – কারা পরিদর্শকগণ হতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দু’জন বেসরকারী সদস্য।
  • সদস্য-সচিব – কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক।}

নং ৪৪-এইচ.জে (১) তারিখ ২৪-১-১৯৭০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-খ ৷ (১) তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্যে সাজাপ্রাপ্ত অনভ্যাস গত কোন বন্দী রেয়াতসহ দুই বৎসর বা দণ্ডের অর্ধেক, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর এবং কোন অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ আড়াই বৎসর কিংবা দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর তার অকালীন মুক্তির বিষয় বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।

(২) মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্যে বিশেষ রেয়াতসহ অর্জিত মোট রেয়াত গণনা করতে হবে, তবে তা দণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশী কিংবা অতিবাহিত সময়ের বেশী হবে না।

(৩) ধর্ষণ, জালিয়াতি, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসমূলক অপরাধে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয় বোর্ডের নিকট উপস্থাপিত হবে না। দণ্ড বিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, 472,473, ৪৭৪, ৩৯৬, ৩৯৭,৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০, ৪০১ এবং ৪০২ এবং ৪৮৯-এ, ৪৮৯-বি, ৪৮৯-সি এবং ৪৮৯-ডি ধারায় দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বোর্ডের বিবেচনার যোগ্য হবে না।

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ভবঘুরে বা গুণ্ডা শ্রেণীর সদস্য এমন অভ্যাসগত অপরাধী, তিনটির বেশী সাজা পেয়েছে এমন অভ্যাসগত অপরাধী এবং ৬১৮ বিধির আওতায় অভ্যাসগত অপরাধীদেরকে বোর্ডের বিবেচনার আওতা বহির্ভূর্ত রাখা হবে।

বিধি ৫৯৮-গ ৷ বোর্ড দণ্ডবিধির ১৪৭ ৩৬৩ ৩৬৪ ৩৬৫ ৩৬৬ ৩৬৭ ৩৬৮, 1 ৩৬৯ (অপহরণ এবং হরণ), ৩৭৭ (অস্বাভাবিক অপরাধ) এবং ৪১২ ধারা এবং মুদ্রা জাল করার দায়ে দণ্ডিত অভ্যাসগত এবং অনাভ্যাসগত উভয় প্রকার সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয়ও বিবেচনা করবে। তা ছাড়া বোর্ড নারী সংক্রান্ত অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত অভ্যাসগত বন্দীদের বিষয়ও বিবেচনা করবে, তবে শর্ত থাকে যে, সে সকল অপরাধ এমন যেখানে পাশবিকতা ছিল না, দণ্ডিত ও (ভিকটিম) মহিলা পরস্পর সম্মতিতে ছিল।

বিধি ৫৯৮ ঘ ৷ অকার্যকর।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-ঙ। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের বিষয়েও বোর্ড পর্যালোচনা করবে, এ ক্ষেত্রেও বোর্ড সাধারণ আদালতে দণ্ডিতদের প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

বিধি ৫৯৮-চ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বহির্ভূত রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয়ও বোর্ড বিবেচনা করবে, তবে এরূপ বিবেচনার পূর্বে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৫৯৮-ছ। বোর্ড বৈঠক চলাকালে দণ্ডের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হয়নি কিন্তু পরবর্তী বোর্ড বৈঠকের আগে পূর্ণ হবে, এমন যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মুক্তির জন্যে বোর্ড সুপারিশ করতে পারবে।

বিধি ৫৯৮-জ। (১) যে সকল বন্দী কুষ্ঠ, যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের বিষয়েও বোর্ড বিবেচনা করবে।

নোট-(ক) যদি কুষ্ঠ রোগ অন্যদের জন্য বিপদজনক হতে পারে মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রতিবেদন প্রদান করেন এবং যদি বন্দী এই শর্তে রাজী থাকে যে, তাকে মুক্তি প্রদান করা হলে তার আত্মীয় স্বজনরা যদি তাকে গ্রহণ না করে তা হলে সে কুষ্ঠ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হবে তবে তাকে মুক্তি প্রদানের বিষয় বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় তাকে এরূপ শর্তে মুক্তি দেয়া হবে, মেডিকেল অফিসার তার প্রতিবেদনে যেরূপ উল্লেখ করেন।

নোট-(খ) অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

বিধি ৫৯৮-ঝ। (১) বোর্ড কেবলমাত্র অপরাধের ধরন বিবেচনা করবে না, সে সঙ্গে বন্দীর চরিত্র এবং পূর্ব ইতিহাস, কারাগারে তার আচরণ এবং ইতিমেধ্যে অতিবাহিত কারা ভোগের ফলাফল এবং তাকে মুক্তি প্রদান সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে কিনা প্রভৃতি বিবেচনা করবে। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীর পূর্ব পরিচিতি যাচাই সাধারণত আবশ্যক হবে না: কারাগারে তার আচরণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট হবে।

(২) সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকে নিম্নোক্ত তথ্যাদি পেশ করবেন-

(ক) দণ্ড প্রদানকারী আদালতের রায়;

(খ) বন্দী যে জেলার বাসিন্দা সে জেলার অফিসার হতে প্রাপ্ত বন্দীর পূর্ব ইতিহাস এবং চরিত্র; এবং

(গ) বন্দীর কারাগারের রেকর্ড।

সদস্য-সচিব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশ সুপারের মতামতও গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা ঐচ্ছিক হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার বোর্ডের নিকট বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং মুক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি উপস্থাপন করবেন।

নোট, কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীদের বিষয়ে বোর্ডের সদস্য-সচিব বন্দীর প্রাক-পরিচিতি, চরিত্র, অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণী এডজুট্যান্ট জেনারেল থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিধি ৫৯৮-ঞ। আওতা ভূক্ত জেলা কারাগারের জেল সুপারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের { সিনিয়র) জেল সুপারের নিকট এ বিধি সমূহে বর্ণিত উপায়ে তাদের কারাগারে আটক মুক্তির যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয় প্রেরণ করবেন।

বিধি ৫৯৮-ট। বোর্ডের সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকের কার্যবিবরণী রেকর্ড করবেন এবং ১২৩ নম্বর জেল ফরমে অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে সুপারিশকৃত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বর্ণনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্রসহ সরকারের আদেশের জন্যে পেশ করার উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দী মুক্তি

আজকে আমরা  বন্দী মুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বন্দী মুক্তি । জেল কোড

নোট- মুক্তির তারিখ গণনার জন্যে একাদশ অধ্যায়ের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিধি-৫৬৬। পরবর্তী মাসে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির তারিখ রয়েছে, পূর্ববর্তী মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে তার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

বিধি-৫৬৭। পরবর্তী পক্ষ সমূহে মুক্তি পেতে পারে এমন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দীদের স্লিপ (পি. আর, স্লিপ) প্রত্যেক মাসের ১ম এবং ৩য় রবিবারে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করতে হবে।

বিধি-৫৬৮। ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৬৫ ধারার বিধানমতে আদেশাধীন সাজা প্রাপ্ত বন্দী মুক্তির পর কোথায় বসবাস করবে মুক্তির পূর্বে জেলার তার রিলিজ ডাইরীতে সে ঠিকানা লিপিবদ্ধ করবেন। উক্ত ঠিকানা রিলিজ নোটিশেও লিখতে হবে এবং এর তিন কপি ঠিকানায় বর্ণিত জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

টীকা– কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির ২১৫,৪৮৯-ক, ৪৮৯-খ, ৪৮৯-গ, ৪৮৯-ঘ ধারা অথবা দ্বাদশ বা সপ্তদশ অধ্যায় অনুসারে তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে একবার দণ্ডিত হবার পর যদি একই ধারা সমূহ বা অধ্যায়দ্বয়ের যে কোনটি অনুসারে পুনরায় তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সময় আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, এই দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার তারিখ হতে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত তার বাসস্থান ও বাসস্থানের পরিবর্তন বা বাসস্থান হতে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানাতে হবে (ধারা eve, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৬৯। ১। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ ১৪ বৎসর সাজা অতিবাহিত করার পর তার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে, প্রস্তাব সম্ভাব্য মুক্তির তারিখের দুই মাসের কম বা তিন মাসের বেশী পূর্বে প্রেরণ করা যাবে না।

নোট-১। সকল প্রকার বিশেষ রেয়াত গণনায় ধরতে হবে।

নোট-২। অকার্যকর।

নোট-৩। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত না হলে ১৪ বৎসর সাজা ভোগের পর সরকার মুক্তি প্রদান না করলে বিধি ৭৭১ অনুসরণ করা হবে এবং পূর্ণ মেয়াদ শেষে মুক্তি দেয়া হবে। সরকারের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে সে সময় সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে না।

 

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭০। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টসহ জেল সুপারের নিকট নিয়ে আসবেন এবং জেল সুপারের উপস্থিতিতে তাকে জেল গেইটে মুক্তি দেয়া হবে । বন্দীর চূড়ান্ত মুক্তির সকল কাগজ জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়ে থাকলে তার মুক্তির আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাকে যে কারাগারে বদলি করা হয়েছে সে কারাগারে রেজিস্টার্ড ডাক যোগে পাঠাতে হবে।

বিধি-৫৭১। কোন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে ভর্তি রেজিষ্টারে বর্ণিত তথ্যাদি মিলিয়ে দেখতে হবে। জেল সুপার বা জেলার আরো নিশ্চিত হবেন যে, সঠিক লোককেই হাজির করানো হয়েছে এবং রেয়াতের ব্যতিক্রম ব্যতীত তার দণ্ডাদেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হয়েছে। মুক্তি প্রদানের সময় বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসার তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৫৭২। মুক্তির তারিখে বন্দী যে কারাগারে আটক ছিল সাধারণত সে কারাগার হতে মুক্তি পাবে,তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, কোন বন্দীকে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে এবং সেখান থেকে মুক্তি প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৭৩৷ লক আপ সময়ের পর কোন কারণেই কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না ৷ কোন আদালত থেকে মুক্তির আদেশ সূর্যাস্তের পরে জারী করা উচিত হবে না এবং যদি করা হয় তাতে উল্লেখ করতে হবে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরদিন সকালে মুক্তি প্রদান করতে হবে। সাধারণত বন্দীদের সকালের নাস্তা খাবার শেষ হবার পর এবং সূর্যোদয়ের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বন্দী মুক্তি প্রদান করতে হবে । বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে অফিসে হাজির করতে হবে এবং তার কাছ থেকে কারাগারের পোশাক ও জিনিসপত্র বুঝে নিতে হবে।

বিধি-৫৭৪। কোন বন্দীর মুক্তির তারিখ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলে তাকে পূর্ব দিন মুক্তি দিতে হবে। তবে বিচারে-দেনদারকে দাবী প্রাপকের সম্মতিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুক্তি দেয়া যাবে যদি সে দিন মাসের প্রথম তারিখ হয়।

বিধি-৫৭৫। টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশে কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না।

বিধি-৫৭৬। ছয় মাস বা ততোধিক মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময় জেল সুপার ৩১ নম্বর ফরমে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী তার সাজার পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করেছে। বন্দী কোন রেয়াত অর্জন করে থাকলে সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৫৭৭। বন্দী যে সকল জিনিস পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিল মুক্তি প্রদানের সময় সে গুলো এবং তার আনীত কোন জিনিস বিক্রি করা হয়ে থাকলে তার টাকা এবং নগদ জমা টাকা জেল সুপার বা জেলার বন্দীকে ফেরত প্রদান করবেন। জিনিসপত্র ফেরত প্রদানের প্রাপ্তি স্বীকার বন্দী থেকে স্বাক্ষর করে রাখতে হবে।

বিধি-৫৭৮। বন্দী যে পোশাকে কারাগারে এসেছিল সে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাধারণত তাকে মুক্তি দেয়া হবে। সে সব পোশাক ইতোমধ্যে নষ্ট বা নোংরা হয়ে গেলে তার নিজের কেনা পোশাক বা কারাগার থেকে দেয়া সাধারণ কাপড় পরিহিত অবস্থায় মুক্তি দেয়া হবে। মুক্তি প্রদানের আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করতে হবে।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭৯। (১) কোন বন্দীর বাড়ি কারাগার থেকে ৫ মাইলের বেশী দূরে অবস্থিত হলে এবং তার কাছে দুই টাকার বেশী না থাকলে প্রতি পনর মাইল দূরত্বের জন্যে তাকে ২৫ পয়সা হারে ভাতা দেয়া হবে ।

(২) রেল বা ষ্টিমারে যাবার জন্যে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে তার বাড়ির ষ্টেশন পর্যন্ত নিম্নতম শ্রেণীর একটি ফ্রি পাস দেয়া হবে।

(৩) নৌকা যোগে পাঠাতে হলে নৌকা ভাড়া করে দিতে হবে।

(৪) ৫ মাইলের কম দূরত্বের জন্যে কোন ভাতা দেয়া যাবে না।

(৫) শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে গাড়ি বা বাস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

(৬) প্রয়োগ নেই।

(৭) কোন মহিলা বন্দীকে মুক্তি প্রদানের কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে তার নিজ জেলায় বদলি করতে হবে। যথাসময়ে বন্দীকে জেল গেইট থেকে নেয়ার জন্যে প্রেরণ করতে হবে। তাকে নেয়ার জন্যে কেউ না এলে এবং তার বয়স ২৫ মুক্তির । একমাস আগে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ বছরের কম হলে একজন মহিলা কারারক্ষীর জিম্মায় তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে।

{(৮) উপ-বিধি (১) এবং (২) কোন বিচারাধীন বন্দীর জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিংবা রেলওয়ে আইনের অধীনে এক মাসের কম মেয়াদে কারাদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।}

(৯) এ বিধি এবং পরবর্তী বিধিতে বর্ণিত ভাতা জেল সুপারের উপস্থিতিতে প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৮০। সকল সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দীকে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। জেল সুপার এ জন্যে একদিন আগে পুলিশ সুপারকে জানাবেন। এদের ভাতা পুলিশের নিকট দিতে হবে।
নোট- এ উদ্দেশ্যে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দী বলতে ১৬ বৎসরের কম বয়সের বন্দীকে বুঝাবে।

বিধি ৫৮১-৫৮২। অকার্যকর।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৮৩। কোন বন্দী মারা গেলে বা দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি পেলে বা জামিনে মুক্তি পেলে দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে এবং সে সঙ্গে মৃত্যু বা মুক্তি বা জামিনের কারণ ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক আদেশে দত্ত প্রাপ্ত হলে মোট দণ্ড ভোগ করার পর ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং পুনরায় ধৃত না হলে পলায়নের দশ বছর পর কিংবা দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর, যা শেষে ঘটে, তার দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে।

টীকা- দণ্ড সম্পূর্ণরুপে কার্যকর হওয়ার পর যে অফিসার তা কার্যকর করেন তিনি যে ভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজ স্বাক্ষর যুক্ত সার্টিফিকেটসহ ওয়ারেন্টটি যে আদালত প্রদান করেছিলেন সে আদালতে প্রত্যার্পণ করবেন (ধারা-৪০০, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৮৪। যখন কোন বন্দীকে তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি প্রদানের জন্য কোন আদালত হতে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়, তখন জেল সুপার বন্দীর নিকট হতে তার উপস্থিতিতে বন্ডে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন। যদি ওয়ারেন্টে অন্য কোন ব্যক্তির মুচলেকা প্রদানের আদেশ থাকে তবে, ব্যক্তি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট মুচলেকা প্রদান করেছেন এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদান উল্লেখিত করা হউক, এই মর্মে আরেকটি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করা যাবে না।

বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পর ওয়ারেন্ট এবং মুচলেকা বন্ড, যদি থাকে, ঐ আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। মুক্তি প্রদানের কারণ, তারিখ এবং যে আদালতের আদেশে মুক্ত প্রদান করা হয়েছে তার নাম উল্লেখ পূর্বক কারাবাসের ওয়ারেন্ট সে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে, যে আদালত তা জারী করেছিল।

বিধি-৫৮৫। মুক্তির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় প্রেরিত বন্দীর বিষয়ে যথাযথ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন ৫৬৭ বিধি অনুযায়ী পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী রেয়াত বিধির অধীনে পূর্ণ রেয়াত প্রাপ্ত হয়েছে কিনা ।

বিধি ৫৮৬-৫৯০। অকার্যকর।

বিধি-৫৯১। (১) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সংক্রামক ব্যাধি ব্যতীত অন্য কোন অসুস্থতার কারণে যদি এমন মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয় যে, কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে তার আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাকে নিজ বাড়িতে স্বস্তিতে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দান করাই শ্রেয়, এবং সে যদি কোন জঘন্য অপরাধ বা সমাজের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের দায়ে ৭ বছরের অধিককাল দণ্ডিত না হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

(২) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর অবশিষ্ট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের বেশী না হয়, তা হলে তিনি তাকে অবিলম্বে যুক্তির আদেশ দিতে পারবেন।

(৩) অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্যে সুপারিশসহ জরুরী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

(৪) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আত্মীয়-স্বজন গ্রহণ করতে আগ্রহী না হলে এ পদ্ধতিতে মুক্তি দেয়া যাবে না ।

(৫) এ ধরনের মুক্তি প্রদত্ত বন্দীকে কারা পরিসংখ্যানে মৃত বন্দীর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে ।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৯২। (১) যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শারীরিক অবস্থা এমন মরণাপন্ন হয় যে, কারাগারে থাকলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যুক্তি প্রদান করা হলে বাঁচার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা আছে, তা হলে জেল সুপার যে জেলায় বন্দী অপরাধ করেছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান করবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিম্নোক্ত শর্তাধীনে উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তির অনুমতি প্রদান করতে পারেন-

(ক) যখন বন্দীর অনতিবাহিত সাজার পরিমাণ ৬ মাসের বেশী নেই;

(খ) যখন তাকে মুক্তি প্রদান করলে আরোগ্য লাভের যুক্তি সঙ্গত কারণ রয়েছে;

(গ) যখন রোগটি বন্দীর নিজ ইচ্ছায় অর্জিত না হয়।

(২) {মুক্তির পূর্বে বন্দীকে ১০৬এ নম্বর ফরমে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে এবং তাকে জানাতে হবে। যে, তার এ ধরনের মুক্তি প্রদানের বিষয়টি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে, যদি সরকার অনুমোদন প্রদান না করেন তবে তাকে আবার কারাগারে ফিরে এসে অবশিষ্ট অনতিবাহিত সাজা ভোগ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দীর আত্মীয়-স্বজন হতে মুচলেকা রাখতে হবে এবং তাদের পরিচয় ও ঠিকানা রেকর্ড করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি দিয়ে ধাতব্য খানায় বা হাসপাতালে প্রেরণ করা যাবে না।

(৩) যদি জেলা ম্যাজিট্রেট জেল সুপারের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, জেল সুপার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উপস্থাপনের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করতে পারেন। বিভাগীয় কমিশনার এ বিধিতে উল্লেখিত শর্তাধীনে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারেন অথবা বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্যে প্রেরণ করতে পারেন।

নোট– কুষ্ঠ,যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে গণ্য হবে।

নং- ২১৮২ এইচ জে, তারিখ ২২-১০-১৯৪৫ মূলে সংশোধিত মার

বিধি-৫৯৩। শান্তি রক্ষা কিংবা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্য সাজা ভোগরত কোন বন্দীর অসুস্থতার জন্যে মরণাপন্ন অবস্থা দেখা দিলে তার অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ যাহাই হোক না কেন, জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় প্রদত্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন।

টীকা– জেলা ম্যাজিট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিট্রেট যখন মনে করেন যে, মুচলেকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যে ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাকে মুক্তি দেয়া হলে সমাজের বা কোন লোকের কোন বিপদ ঘটবে না, তখন তিনি তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন। ( ধারা ১২৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৯৪। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যদি সম্পূর্ণ ও আরোগ্যের অতীত অস্ব হয়ে যায়, যা তার স্বেচ্ছায় আরোপিত নয়, কিংবা এমন জরাজীর্ণ কিংবা বৈকল্য হয়ে যায় যে মুক্তি প্রদান করা হলে তার দ্বারা পুনরায় কোন অপরাধ সংঘটন করা সম্ভব হবে না এবং মুক্তি প্রদান করা হলে কোন ঝামেলা বা বিপদের উদ্ভব ঘটবে না, তা হলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট উক্ত বন্দীর ব্যাপারে ১০৫ নম্বর জেল ফরমে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, তবে প্রতিবেদন প্রণয়নের পূর্বে যে জেলায় বন্দী দণ্ডিত হয়েছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

নোট-১। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণীয়।

নোট-২। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর ব্যপারে বিধি ১২৬৫, এবং গুরুতর অসুস্থ বা মরণাপন্ন সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৯৫ এবং ৯৩১ অনুসরনীয়। নোট-৩। যে ক্ষেত্রে এ বিধিসমূহ পর্যাপ্ত নয় সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুসারে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বিধি-৫৯৫। বিধি ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ মোতাবেক মুক্তি প্রদানের প্রতিটি বিষয় সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১০৫ বা ১০৬ নম্বর জেল ফরমে প্রেরণ করতে হবে, তিনি এসব মুক্তি প্রদানের বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

বিধি-৫৯৬। কোন অসুস্থ বা মরণাপন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ বিধি মোতাবেক মুক্তির নির্দেশ প্রদানের পর তার আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যে কারাগারে আটক আছে সেখান থেকে তাকে নেয়ার খরচ বহনের অপরাগতা প্রকাশ করে, তা হলে ঐ সকল আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যে জেলায় বসবাস করে জেলার কারাগারে প্রেরণ করা যাবে। স্থানান্তরের পর এবং মুক্তি প্রদানের আগেই যদি বন্দী মৃত্যুবরণ করে তবে যে কারাগার হতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছিল ঐ কারাগারের পরিসংখ্যানে মৃত্যু রেকর্ডভুক্ত হবে।

বিধি-৫৯৭। {(i) জেল সুপার যদি মনে করেন যে, কোন বন্দীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন প্রয়োজন, কিন্তু যে কারাগারে সে আছে তাতে তজ্জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুবিধাদি নেই, তা হলে যে কারাগারে এরূপ হাসপাতাল আছে সেখানে বন্দীকে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন।

(ii) যদি তা সম্ভব না হয় তবে জেল সুপার বন্দীকে গ্রহরা দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করবেন এবং বন্দী কারাগারে ফেরত না আসা পর্যন্ত কারারক্ষী দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।বাহিরের হাসপাতালে পাঠানোর পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে জরুরী ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়া সম্ভব না হলে কারা মহাপরিদর্শককে অবহিত রেখে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করার পর পরই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্যে লিখতে হবে।

(iii) জেল সুপার কারাগারের বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দীদের প্রহরার জন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ভয়ংকর এবং উগ্র বন্দীর ক্ষেত্রে কারারক্ষীকে পুলিশের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার জন্যে তিনি পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করবেন ।

(iv) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার বন্দীর চিকিৎসার জন্যে এবং তারে হাসপাতালে রাখা বা হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে দায়ী হবেন। হাসপাতালের নিয়ম কানুন বিষয়ে বন্দীর নিয়ন্ত্রণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। অন্যান্য বিষয়াদি (যেমন-পত্র যোগাযোগ, সাক্ষাত এবং অন্যান্য সুবিধাদি) কারাগার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। এতদুদ্দেশ্যে জেল সুপার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করবেন এবং মাঝে মাঝে কারা কর্মকর্তাগণ বন্দীকে ভিজিট করবেন।

নোট-১। উপ-বিধি (১) এবং (২) বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে তখন প্রযোজ্য হবে যখন তার জামিন না মঞ্জুর হবে।

নোট-২। হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দীর হাসপাতালে অবস্থান কাল ৭৫৬ বিধি মোতাবেক রেয়াত গণনার জন্য যোগ্য হবে।।
নং ৩৪৭ এইচ জে তারিখ ১৯-২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৫৯৮। ডিটেন্যু বা রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত অন্যান্য বন্দীদেরকে সিভিল হাসপাতালে প্রেরণের পূর্বে তাদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে জেল সুপার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলকে প্রয়োজনীয় বিশেষ পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করার জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের নির্জন কারাবাস

আজকে আমরা  বন্দীদের নির্জন কারাবাস  সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস । জেল কোড

নোট-১। নির্জন কারাবাস অর্থ কোন বন্দীকে এমন ভাবে সেলে আটক রাখা যাতে সে অন্য বন্দীদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে বা তাদেরকে দেখতে না পায়।

নোট-২। মহিলাদের নির্জন কারাবাস সম্পর্কে ৯৫৪ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫৫৯ । (১) নির্জন কারাবাসের মেয়াদ –

(ক) একমাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক না হয়;

(খ) দুই মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক কিন্তু এক বছরের অধিক না হয়;

(গ) তিন মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের বেশী হয়।

টীকা- দণ্ড বিধির ৭৩ ধারা অনুযায়ী ।

(২) আদেশে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ যদি মাস হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে এক মাসকে ৪ সপ্তাহ, দুই মাসকে ৮ সপ্তাহ এবং তিন মাসকে ১২ সপ্তাহ গণনা করা হবে।

নোট-এক মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ১৪ দিন, ৭ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৭ সপ্তাহ এবং ৮ থেকে ১২ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৮ সপ্তাহ নির্জন কারাবাসের মেয়াদ হবে।

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস
বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বিধি-৫৬০। একটানা ১৪ দিনের বেশী নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না। নির্জন কারাবাসের পূর্বে ও পরে বিরতি থাকবে। কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের অধিক হলে নির্জন কারাবাস কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশী হবে না এবং দুইটি মেয়াদের মধ্যে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।

টীকা- দত্ত বিধির ৭৪ ধারা অনুযায়ী ।

বিধি-৫৬১। নির্জন কারাবাসের আদেশ দণ্ড বিধির ৭৩ ও ৭৪ ধারার সাথে অসঙ্গতি পূর্ণ হলে ৫০১ বিধি মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে ।

বিধি-৫৬২। (১) বন্দী দৈহিক ও মানসিকভাবে সক্ষম আছে এ মর্মে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নির্জন কারাবাসে প্রবেশ করানো যাবে না।

(২) প্রয়োগ বিরল।

(৩) কোন বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে সাময়িক অক্ষম হলে পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে নির্জন কারাবাসে আটক রাখা যেতে পারে।

(৪) আপীলের কারণে নির্জন কারাবাস স্থগিত করার প্রয়োজন নেই ।

(৫) নির্জন কারাবাসে থাকা প্রত্যেক বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দৈনিক ভিজিট করবেন।

(৬) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা কারা মহাপরিদর্শক এবং দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে।

(৭) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে স্থায়ীভাবে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে এবং নির্জন কারাবাসের আদেশ কার্যকরী করা যাবে না ।

বিধি-৫৬৩। কোন বন্দীকে একাধিক পৃথক ওয়ারেন্টে নির্জন কারাবাসের আদেশ প্রদান করা হলে সাজা ভোগ কালে যে কোন একটি ওয়ারেন্টের আদেশ কার্যকরী করা হবে।

বিধি-৫৬৪ । নির্জন কারা-বাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর জেল সুপার ওয়ারেন্টে সাজা কার্যকরী করার সার্টিফিকেট প্রদান করবেন, নির্জন কারাবাসে রাখার মোট সপ্তাহ উল্লেখ করবেন এবং সাজার কোন অংশ যদি কার্যকরী করা না হয় তবে তার কারণ ব্যাখ্যা করবেন ।

বিধি-৫৬৫ । কোন বন্দী যে মেয়াদ নির্জন কারাভোগ করেছে, অনুরূপ মেয়াদের সম পরিমান বিরতির মধ্যে তাকে কারা অপরাধের জন্যে পৃথক কারাবাস বা সেলে আটক রাখার শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট
বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট । জেল কোড

বিধি-৫৪৯। প্রত্যেক বন্দীকে কারাগারে গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার একটি হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণ করা হবে (ফরম নম্বর ২০, ২১ বা ২২), যার মধ্যে তার সমগ্র কারা জীবনের সকল ঘটনা এবং তার সম্পর্কে প্রদত্ত সকল আদেশ ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হবে।

বিধি-৫৫০। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার যে সকল আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন সে গুলো ব্যতীত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণের জন্যে জেলার বা জেল সুপার কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

বিধি-৫৫১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিস্ট্রি টিকেটে কোন কিছু লিখতে পারবে না। তবে ব্রাইটার হিসাবে যে সকল বন্দী দায়িত্ব পালন করবে, তারা বিভিন্ন আদেশ হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে পারবে এবং এর সঠিকতা সম্পর্কে তারা দায়ী থাকবে। কোন ঘটনার বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে বা যথাসম্ভব দ্রুত হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিধি-৫৫২। জেল সুপার কোন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন-

(ক) বন্দীর পরিচালনা সম্পর্কে কোন বিশেষ আদেশ,

(খ) কোন বন্দীকে প্রদত্ত শাস্তি (আনুষ্ঠানিক সতর্কতাসহ),

(গ) বাহির প্রাচীরের কোন কাজ পাশ করা,

(ঘ) কয়েদী ওয়াচম্যান,ওভারশিয়ার বা নৈশ প্রহরীর পদোন্নতি সংক্রান্ত, () বিশেষ রেয়াত প্রদান।

 

 

বিধি-৫৫৩। মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে ভর্তির সময় বন্দীর বয়স, উচ্চতা এবং ওজন, তার শারীরিক অবস্থা এবং সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হলে সে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত এবং কোন সংক্রামক রোগের টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি লিখবেন বা লিখার ব্যবস্থা করবেন। রোগের উল্লেখসহ হাসপাতালে ভর্তি এবং হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের প্রতিটি ঘটনা, বন্দীর পরিচালনা, কাজের ধরন বা ডায়েট প্রভৃতি পরিবর্তন সম্পর্কে নির্দেশাবলীও তিনি লিখবেন ।

যখন হাসপাতাল থেকে বন্দীকে অব্যাহতি দেয়া হবে বা সে আরোগ্য লাভ করবে, ঐ বন্দীকে পূর্বের কাজে নিয়োগ করা যাবে কিনা বা অন্য কোন কাজ দিতে হবে কিনা বা কি কাজে নিয়োজিত করতে হবে মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। তিনি আরো দেখবেন বন্দীর প্রত্যেক পাক্ষিকে ওজন গ্র করা হয় কিনা এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করা হয় কিনা। বন্দী কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত কিনা তিনি তা দেখবেন এবং সে ক্ষেত্রে বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন ।

কোন বিনাশ্রম বন্দী স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে সে কি ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। কোন বন্দীকে শাস্তি প্রদান করা হলে প্রদত্ত শাস্তি ভোগের জন্যে সে দৈহিকভাবে সক্ষম কিনা, নির্জন কারাবাস ভোগের জন্য বন্দী সামর্থ্য কিনা, বদলির জন্যে দৈহিক সামর্থ্য আছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। রোগের চিকিৎসার অংশ হিসাবে কোন মহিলা বন্দী বা অন্য কারো চুল কাটার প্রয়োজন হলে তিনি এতদ সংক্রান্ত আদেশ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

 

বিধি-৫৫৪। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার প্রতিটি ভিজিটে প্রাপ্ত ফলাফল, অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন। তিনি বন্দীর চিকিৎসার বিষয় লিখবেন, তবে মেডিকেল অফিসার হতে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। তিনি প্রতি পনর দিন অন্তর ডেপুটি জেলার বা কম্পাউন্ডারের সহযোগীতায় বন্দীদের ওজন গ্রহণ করবেন এবং তা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫৫৫। জেলার বা ডেপুটি সুপার প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন-

(ক) বন্দীকে যে কাজ দেয়া হয়েছে তার বিবরণ,

(খ) কাজের পরিবর্তন,

(গ) মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়ন না হলে তার কারণ,

(ঘ) বন্দীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত,

(ঙ) বন্দী সম্পর্কে কোন বিশেষ সুপারিশ,

(চ) জেল সুপারের রেকর্ডকৃত কোন আদেশের উপর গৃহীত ব্যবস্থা,

(ছ) বি শ্রেণীর বন্দীদেরকে দিনে বা রাতে সেলে আটকের স্থান সম্পর্কে,

(জ)কারা বিধি লংঘনের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে রেকর্ড,

(ঝ) কোন বন্দীকে জেল সুপারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িক অবরুদ্ধ রাখার জন্যে হ্যান্ডকাপ, বেড়ী পরানো বা সেলে আটক রাখা,

(ঞ) ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক নিরাপদে আটক রাখার জন্যে বেড়ী আরোপ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৬। ডেপুটি সুপার (কেন্দ্রীয় কারাগারে বা জেলার ডেপুটি জেলার বিধি জল সুপারের আদেশ মোতাবেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত করবেন-

(১)কারাগারের ভর্তির তারিখ:

(২)কারাগার হতে বন্দীকে প্রদত্ত পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সরঞ্জামের তালিকা:

(৩)বন্দী কর্তৃক অসুস্থতা সম্পর্কে কোন অভিযোগ:

(৪)আপীল করার উদ্দেশ্যে রায়ের কপির জন্যে বন্দীর আবেদন:

(৫) রায়ের কপি প্রাপ্তির স্বীকার:

(৬) আপীল প্রেরণ;

(৭) আপীল আদালতের আদেশের বিষয়বস্তু:

(৮) আপীলের জন্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপীল না করার কারণ:

(৯)আপীল না করার জন্যে বন্দীর অনিচ্ছা:

(১০) মঞ্জুরকৃত রেয়াতের পরিমাণ;

(১১)প্রতি কোয়ার্টার শেষে মোট অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ;

(১২) কাজ না করাসহ কোন অপরাধ করলে তার বিবরণী:

(১৩) বন্দীর সাক্ষাৎ অনুমোদন এবং ব্যক্তিগত পত্র প্রেরণ বা গ্রহণ

(১৪) কয়েদী রক্ষী বা নৈশ প্রহরী হিসাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন;

(১৫) আদালতে প্রেরণ, বদলি বা খালাস বা মৃত্যু:

(১৬) নির্ধারিত সময়ের বাহিরে লেট্রিন ব্যবহার;

(১৭) বিধি ৬২৩ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞাপিত কোন বন্দীর ক্ষেত্রে “অসনাক্তকৃত” শব্দ লিপিবদ্ধ করণ;

(১৮) বন্দীকে আরোপিত বেড়ীর ওজন:

(১৯) পোশাক-পরিচ্ছদ রিপেয়ার সংক্রান্ত ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৭। প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট বন্দীদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারী কোন স্থানে রেখে দিবে এবং প্রয়োজনের সময় উপস্থাপন করবে। বন্দীর গ্যাং পরিবর্তন হলে বা বন্দীকে হাসপাতাল প্রেরণ করা হলে হিস্ট্রি টিকেটও তার সঙ্গে প্রেরিত হবে। প্রত্যেক সাপ্তাহিক প্যারেডে জেল সুপারের পরিদর্শনের জন্যে প্রত্যেক বন্দী তার হিস্ট্রি টিকেট বাম হাতে রাখবে।

বিধি-৫৫৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে তার হিস্ট্রি টিকেট মৃত্যুর পর দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির পর এক বা দুই বছর পর্যন্ত তার হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষিত থাকবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে হিস্ট্রি টিকেট তার সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সম্পত্তি

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি । জেল কোড

বিধি-৫৪৩। সকল টাকা বা অন্যান্য দ্রব্যাদি আদালতের কোন আদেশ না থাকলে বা যথাযথ অনুমোদনক্রমে কোন বন্দী কর্তৃক কারাগারে আনীত হলে কিংবা বন্দীর নিকট ব্যবহারের জন্যে প্রেরিত হলে জেলারের হেফাজতে জমা দিতে হবে। বন্দীর নিকট হতে বিধি মোতাবেক গৃহীত কিংবা পরে তার কাছে প্রেরিত সকল জিনিস পত্রের তালিকা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে তার ওয়ারেন্টে এবং সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণীতে ৫১৫৮ নম্বর ফরমে লিখে জেল সুপার এবং জেলার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বন্দীদের সম্পত্তি বা টাকা তার কারাবাসের যে কোন সময়ে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বন্দীর লিখিত সম্মতিতে তার কোন নিকটজনের নিকট হস্তান্তর করা যাবে। তবে নিজের জামাকাপড়ের অভাব সৃষ্টি করে জামাকাপড় হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না। এবং কারাবাস অবস্থায় বা মুক্তির প্রাক্কালে অন্য কোন বন্দীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না।}

টীকা- নং ১৩৪৪ এইচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে প্রতিস্থাপিত

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৪। পূর্ববর্তী বিধি সাপেক্ষে বন্দীদের সম্পত্তির বিষয়ে জেলার নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন-

(ক) বন্দীদের সম্পত্তির মধ্যে নিষিদ্ধ কোন বস্তু থাকলে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(খ) বিক্রয় যোগ্য কোন পচনশীল দ্রব্য থাকলে বিক্রি করে দিতে হবে।

(গ) মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুসারে পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রামক রোগাক্রান্ত হলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(ঘ)ব্যবহার অনুপযুক্ত জামাকাপড় জেল সুপারের নির্দেশ মতে ধ্বংস করে দিতে হবে।

(ঙ) দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জামাকাপড় বিক্রয় করে দিতে হবে। অন্যান্য বন্দীদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে গুদামে বান্ডেল করে তার উপর বন্দীর নাম লিখে রেখে দিতে হবে।

(চ) মূল্যবান স্বর্ণালংকার থাকলে তা আলাদা প্যাকেটে জেলারের অফিসে নিরাপদ বাক্সে রেখে দিতে হবে।

(ছ) নগদ টাকা জেলারের কাছে রাখতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নগদ টাকা সিকিউরিটিসে বিনিয়োগ বা ব্যাংকে জমা রাখতে চাইলে সে জন্যে তাকে অনুমতি দেয়া যাবে।

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৫ । কেবলমাত্র বন্দীর যে সকল দ্রব্য কারাগারের গুদামে রাখা যায় সে সকল সম্পত্তি রাখা হবে। জামেলা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বা গবাদি পশু বিক্রয় করে দিতে হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীর নগদ টাকার সঙ্গে জেলারের নিকট রেখে দিতে হবে। সিভিল বন্দী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে ভর্তির পর তল্লাশী করে কোন দ্রব্য বা টাকা পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এর মূল্যের একটি অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়া হবে, এবং অনধিক এক তৃতীয়াংশ মূল্য জেল সুপার কর্তৃক সন্ধানকারীকে প্রদান করা যাবে ।

বিধি-৫৪৬। কোন বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হয়ে যাবার সময় তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি সঙ্গেই দিয়ে দিতে হবে, কোন বন্দী বদলি হয়ে যাবার পর কোন সম্পত্তি প্রেরণ করা যাবে না।

 

বিধি-৫৪৭। কোন বন্দী মুক্তি পেলে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ৫৭৭ এবং ৫৭৮ বিধি মোতাবেক তাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। কোন মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীর অদাবীকৃত সম্পত্তি তার মুক্তির এক বছর পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে। এর মধ্যে দাবী না করা হলে তা বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে ।

বিধি-৫৪৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। বন্দী মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি বন্টনের ব্যাপারে কোন ইচ্ছা জানিয়ে গেলে তা পত্রের মাধ্যমে থানায় জানাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং এক বছরের মধ্যে পুনঃধৃত না হলে তার সম্পত্তি বিক্রয় করে দিতে হবে এবং আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে বন্দী ভর্তি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ে “ওয়ারেন্ট” অর্থ কোন বন্দীকে কারাগারে আটক রাখার জন্যে কোন আদালতের প্রদত্ত আদেশ।

বিধি-৪৯৩। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কারাদণ্ড এবং আদেশ কার্যকর করার জন্যে জেল সুপারগণের ক্ষমতা ১৯০০ সালের বন্দী আইনে বর্ণিত আছে।

বিধি ৪৯৪-৪৯৫ । অকার্যকর।

বিধি-৪৯৬। কারাগার খোলার পর হতে সূর্যাস্তে লক-আপ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে জেলার সাধারনত কারাগারে নুতন বন্দী ভর্তি করবেন। আদালতের বিশেষ আদেশ ছাড়া লক-আপ সময়ের পর বন্দী গ্রহণ করা যাবে না। সাজাপ্রাপ্ত নুতন বন্দীকে লক আপের পর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ওয়ার্ডে ভর্তি করা যাবে না। কোন বন্দীকে সাজা প্রদানের কারণে লক-আপ সময়ের পরে কারাগারে হাজির করা হলে রাতের জন্যে তাকে একটি সেলে অথবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখা হবে।

টীকা-১। আসামীকে যখন কারাগারে আটক রাখতে হবে তখন ওয়ারেন্ট জেলারের নিকট অর্পণ করতে হবে (ধারা-৩৮৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। যে জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট সাজা প্রদান করেছেন তিনি বা তাঁর স্থলাভিষিক্ত জজ বা ম্যাজিট্রেট উক্ত সাজা কার্যকর করার জন্য ওয়ারেন্ট দিতে পারবেন (ধারা-৩৮৯, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৪৯৭। দুর্দান্ত চরিত্রের কিংবা জঘন্য অপরাধের জন্যে অভিযুক্ত কোন বন্দীকে কারাগারে প্রেরণের প্রাক্কালে কোর্ট অফিসারের দায়িত্ব হ’ল জেল সুপারকে অবহিত কারার জন্যে এ বিষয়ে জেলারকে জানানো। প্রেরিত তথ্য পৃথক পত্রে লিখিত হবে, জেল ওয়ারেন্টে লিখা যাবে না।

টীকা, কোর্ট অফিসার জেল সুপারকে অবহতি করার জন্যে একটি পৃথক রিপোর্টে জেলারকে জানাবেন যে, জেলে প্রেরিত কোন বিচারাধীন বন্দী বা দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী বেপরোয়া বা তার অপরাধ বিশেষভাবে সাংঘাতিক বা সে পূর্বে পাগল ছিল (প্রবিধান-৪৮৩, পিআরবি)।

বিধি-৪৯৮। নুতন আনীত বন্দীকে ভর্তি করার সময় জেলার বন্দীকে জিজ্ঞাসা করে তার নাম এবং ওয়ারেন্টে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। যদি বন্দী কোন জবাব প্রদান না করে এবং সঠিক তথ্য প্রদান না করে, তবে যে পুলিশ স্কট বন্দীকে কারাগারে নিয়ে এসেছে তার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দী সনাক্ত করার জন্যে জেলার অনুরোধ করবেন। যদি পুলিশ অফিসার আনীত বন্দীকে সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন তবে জেলার বন্দীকে গ্রহণে অসম্মতি জানাবেন।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৪৯৯ । উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরকৃত রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে কারাগারে গ্রহণ করা যাবে না। ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ প্রতিপালিত হয়েছে কিনা । রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে কারাগারে পাঠানো হলে জেলার তাকে ভর্তি করতে অসম্মতি জানাবেন এবং পরবর্তী ভিজিটের সময় বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি- ৫০০। ফৌজদারি আদালত সমূহের ক্ষমতা ঃ-

  • হাইকোর্ট বিভাগ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড ।
  • দায়রা জজ/ অতিরিক্ত দায়রা জজ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড, মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষ।
  • সহকারী দায়রা জজ – মৃত্যুদণ্ড অথবা দশ বছরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড । ফৌ: কা: বি: ৯(৩) ধারা মতে কোন সহকারী দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়রা জজ হিসেবে নিযুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারবেন।
  • মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট / প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ পাঁচ বছরের অনধিক কারাদণ্ড; দশ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা: বেত্রদণ্ড। ফৌ: কা: বি: ২৯-গ ধারা মতে বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড বা সাত বৎসরের অধিক কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারেন ।
  • দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ তিন বছরের অনধিক কারাদণ্ড; পাঁচ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।
  • তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – দুই বছরের অনধিক কারাদণ্ড: দুই হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।

এ ছাড়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত জরিমানা অনাদায়ে আইনে অনুমোদিত পরিমাণ কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।
টীকা ১৯৮২ সালের ২৪ নং অধ্যাদেশ মূলে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩১-৩৩ক।

বিধি-৫০১। (১) যেখানে কোন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার নিকট কার্যকর করার জন্য প্রেরিত কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশের বৈধতা সম্পর্কে বা, যে কর্মকর্তার সীল বা স্বাক্ষরে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং ওয়ারেন্ট বা আদেশ জারী হয়েছে তার উপযুক্ততা সম্পর্কে সন্দেহ করেন, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন, অতঃপর সরকারের আদেশে তিনি এবং অন্যান্য সরকারী কর্মচারীগণ বন্দীর ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তি করবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সরকারের নিকট প্রেরিত বিষয় অনিষ্পন্ন থাকা পর্যন্ত বন্দীকে রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে বর্ণিত উপায়ে এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আটক রাখতে হবে।

(৩) যদি জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ত্রুটি বশত: রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে কোন অসংগতি বা অনিয়ম রয়েছে, তা হলে তিনি অনুরূপ আদেশ দানকারী আদালত বা কর্তৃপক্ষকে জানানো সাপেক্ষে বন্দীকে গ্রহণ করবেন।

(৪) কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ত্রুটি সম্পর্কে জেল সুপারের পরের উপর কোন জবাব পাওয়া না গেলে, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট জানাবেন এবং তার মাধ্যমে সরকারের নিকট জানাতে পারবেন ।

নোট। কারাদণ্ডের আদেশে সশ্রম বা বিনাশ্রম সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকলে, তারিখ না থাকলে, সিল না থাকলে, বা, আদেশ পেন্সিল দ্বারা স্বাক্ষরিত হলে তা সংশোধনের জন্যে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে (স্বাক্ষর বিহীন ওয়ারেন্ট গ্রহণ করা যাবে না)।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫০২। যখন কোন ওয়ারেন্ট সংশোধনের জন্যে প্রেরিত হয়, মূল ওয়ারেন্টটি ফেরত না আসা পর্যন্ত তার একটি কপি সংশ্লিষ্ট আলমারীতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ পত্রের মাধ্যমে সংশোধিত কপির প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।

বিধি-৫০৩। বন্দীকে কারাগারে ভর্তির তারিখ এবং তাকে যে ক্রমিক নম্বর প্রদান করা হয়েছে তা বন্দীর ওয়ারেন্টের গায়ে লিখে জেলার স্বাক্ষর করবেন। ওয়ারেন্ট সমূহ রিলিজের ক্রম অনুসারে মাসিক বান্ডেল আকারে সাজিয়ে রাখতে হবে,বান্ডেলের বাহিরের দিকে মাস এবং বছর লিখে রাখতে হবে। একই মাসে মুক্তি পাবে এমন বন্দীদের ওয়ারেন্ট একটি বান্ডেলে রাখতে হবে।

প্রতিটি বান্ডেল মাসওয়ারী পিজিয়ন হোল বা খোপযুক্ত আলমারীতে রাখতে হবে। আলমারীর চাবি জেলার বা ডেপুটি জেলারের হেফাজতে থাকবে। পরবর্তী যে কোন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বন্দীর নামের বানান ওয়ারেন্ট অনুসারে লিখিত হবে, যদি তা ভুলও থাকে। প্রত্যেক জেল রেকর্ডে অপরাধের নাম এবং আইনের ধারা একই সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-৫০৪। কারাগারে গ্রহনের সময় বন্দীকে সম্পূর্ণরূপে তল্লাশী করতে হবে। সম্ভ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আনা জামা-কাপড়, টাকা, জুয়েলারী, ডকুমেন্টস বা অন্য সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে। বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জামা কাপড় ব্যতীত সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে ৷ বিচারাধীন বন্দীর জামাকাপড়, বেডিং এবং জুতা ব্যতীত অন্যান্য জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে।

সিভিল বন্দীর কাছে বিপদজনক কোন অস্ত্র, পলায়নের কোন জিনিস, স্পিরিট, ড্রাগ এবং অনৈতিক বই থাকলে নিয়ে নিতে হবে। সিভিল বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের সামনে তল্লাশী করা যাবে না। মহিলাদেরকে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী দ্বারা শুধুমাত্র মহিলাদের উপস্থিতিতে তল্লাশী করতে হবে। বন্দীদের কাছ থেকে গৃহীত সকল সম্পত্তির বিষয়ে নবম অধ্যায় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৫০৫। নুতন আগত বন্দীকে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে। দেখবেন, কোন বন্দী অসুস্থ থাকলে তাকে চিকিৎসার জন্যে কারা হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। যদি নুতন আগত বন্দীদেরকে পর্যবেক্ষণে বা পৃথক রাখার জন্যে কোন ওয়ার্ড থাকে, মেডিকেল অফিসার তাদেরকে অন্য বন্দীদের সাথে রাখার আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে রাখতে হবে।

বিধি-৫০৬। কারাগারে ভর্তির পর পরই বন্দীরা তাদের জামা কাপড় এবং নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ধৌত করবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে আটত্রিশতম অধ্যায়ের বর্ণনা মোতাবেক কারাগারের পোশাক ও সরঞ্জাম দেয়া হবে। তাদের নিজেদের পোশাক নিয়ে নেয়া হবে এবং সিদ্ধ ও দৌত করে ষ্টোরে রেখে দেয়া হবে ।

বিধি-৫০৭। সাধারণত কারাগারে গ্রহণের পরবর্তী সকালে সকল নুতন বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে। তিনি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং ভর্তির রেজিষ্টারে এবং হিস্ট্রি টিকেটে তাদের বয়স, ভর্তিকালীন স্বাস্থ্য, ওজন, কোন অসুখ আছে কিনা, সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত হলে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রভৃতি লিখবেন।

বিধি ৫০৮-৫০৯। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৫১০। প্রত্যেক বন্দীর একটি ক্রমিক নম্বর থাকবে এবং যতদিন সে কারাগারে থাকবে ততদিন এ নম্বর দ্বারা পরিচিত হবে। যে কোন যোগাযোগ পত্রে তার নামের সঙ্গে এ নম্বর উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক কারাগারে বন্দীদের ক্রমিক নম্বর ১ হতে ১০,০০০ পর্যন্ত হবে। বন্দীর নম্বর এবং তার শ্রেণী বুঝানোর জন্যে একটি অক্ষর তার নামের আগে উল্লেখ করতে হবে। যেমন- “বন্দী নং ২৩৬ এ, রুপ রাম”। ডিসক্রিপটিভ রোলে বন্দীর পিতার নাম উল্লেখ করতে হবে। কোন বন্দী সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের সাথে পত্র যোগাযোগের সময় তার ডিসক্রিপটিভ রোল সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৫১১। সনাক্তকরণের প্রয়োজনে ভর্তি রেজিষ্টারে প্রত্যেক বন্দীর ব্যক্তিগত বিবরণী, তার বাহ্যিক চেহারা, গায়ের রঙ, দেহ সৌষ্ঠব এবং সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্ন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কিংবা কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেলার ব্যক্তিগত বিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫১২। প্রত্যেক বন্দীর শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ভর্তি রেজিষ্টারে লিখে রাখতে হবে। এই তথ্য তিন প্রকারের হবে-

  • ইংরেজী এবং বাংলা ভালভাবে লিখতে ও পড়তে পারে,
  • বাংলা লিখতে ও পড়তে পারে,
  • অশিক্ষিত।

বিধি-৫১৩। কারাগারের আচার-আচরণ সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আগত নন্দীকে শুনাতে হবে এবং তার একটি সংক্ষিপ্ত সার প্রত্যেক ওয়ার্ডে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৫১৪ । (১) ভর্তি রেজিষ্টার এবং রিলিজ ডাইরী পূর্ববর্তী বিধি সমূহ অনুসারে প্রয়োজনীয় লিপিবদ্ধকরণ শেষে সাধারণত ভর্তির পরদিন জেলার বন্দীর ওয়ারেন্ট ও রেজিষ্টারসহ বন্দীকে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। জেল সুপার প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে লেখার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং স্বাক্ষর করবেন।

(২) প্রত্যেক বন্দীর সম্পত্তির তালিকা | সম্পত্তির তালিকা ফরমে (৫১৫৮ নম্বর ফরমে) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৮ এবং ৪৮. এ) লিপিবদ্ধ করার পর) জেল সুপারের উপস্থিতিতে বন্দীকে পাঠ করে শুনাতে হবে, যদি সে তা সঠিক বলে সম্মতি প্রদান করে তবে জেল সুপার তা স্বাক্ষর করবেন। একই সময়ে জেল সুপার প্রয়োজনে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে যে কোন বিশেষ নির্দেশ প্রদান করবেন।

নং- ১৫৮৭ এইচ জে, তারিখ ১৯-৪ ১৯৩৮ এবং নং- ১৩৪৪ এইচ জে, তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে সংশোধিত ।

বিধি-৫১৫। (১) যখন কোন ব্যক্তিকে একই বিচারে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্যে একাধিক সাজা প্রদান করা হয়, তখন একটির মেয়াদ শেষ হবার পর আরেকটি শুরু হবে, যদি আদালত নির্দেশ প্রদান না করেন যে সাজা সমূহ একসঙ্গে চলবে।

(২) পূর্ব থেকে সাজা ভোগরত কোন ব্যক্তিকে পৃথক মামলায় সাজা প্রদান করা হলে তা পর পর চলবে, যদি না আদালত আদেশে উল্লেখ করেন যে, প্রদত্ত সাজা পূর্বের সাজার সঙ্গে একই সঙ্গে চলবে। যদি ঐ ব্যক্তি জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত হয়, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৬ ধারা প্রযোজ্য হবে।

(৩) আদালতের কোন আদেশ কার্যকর সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হলে সর্বশেষ দণ্ডাদেশে প্রদত্ত নির্দেশ কার্যকর হবে।

টীকা-। কোন বাক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে যদি এক সঙ্গে চলবে নির্দেশ না থাকে তা হলে একটির পর অপরটি চলবে (ধারা ৩৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৫১৬। কোন অবস্থাতেই কোন বন্দীকে দণ্ডাদেশে উল্লেখিত সময়ের বেশী আটক রাখা হবে না। তবে অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫১৭। (১) কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় মুচলেকা খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড প্রদান করা হলে, উক্ত দণ্ডের মেয়াদ মূল সাজার পরে কার্যকরী হবে, যদি না আদালত নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত দও একই সঙ্গে কার্যকরী হবে।
যেহেতু সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে প্রদত্ত কারাদণ্ড জন সাধারণের নিরাপত্তার জন্যে একটি প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা মাত্র, কৃত অপরাধের জন্যে সাজা নয়, সেহেতু বন্দীর মূল দণ্ডের মেয়াদ শেষে জেল সুপার সমীচীন মনে করলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় বন্দীকে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

(২) ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় জামানত খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড ভোগরত কোন বন্দীকে উক্ত দণ্ডের আদেশ প্রদানের পূর্বে কৃত কোন মূল অপরাধের জন্য কারাদণ্ড প্রদান করা হলে তা ঐ আদেশের তারিখ হতে কার্যকরী হবে এবং দুটি কারাদণ্ড একই সঙ্গে চলবে ।

টীকা- যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, জামানত দিতে ব্যর্থ দণ্ডিত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়া হলে কোন বিপদ নেই, তা হলে তিনি মুক্তির আদেশ দিতে পারেন (ধারা-১২৪ ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি ৫১৮-৫১৯। প্রয়োগ বিরল

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫২০। কোন জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অতিরিক্ত কোন সাজা প্রদান। করা হলে পলায়ন কালে সে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে বন্দীর মুক্তির তারিখ ৪৭৭, 528. ৫২৫ এবং ৫২৮ বিধি অনুসারে গণনা করতে হবে।

টীকা-। জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী পলায়ন কালে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে (ধাৱা– ৩৯৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দুটি পৃথক দণ্ডাদেশের মাধ্যমে কারাগারে অন্তরীণ রাখা হলে পূর্বে প্রদত্ত দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর দ্বিতীয় দণ্ড ভোগ শুরু হবে। যদি প্রথম দণ্ডটি আপীলের মাধ্যমে অকার্যকর হয়ে যায় তবে যে তারিখ হতে প্রথম দণ্ডটি ভোগ করছিল দ্বিতীয় দণ্ড ভোগের মেয়াদ ঐ তারিখ থেকেই গণনা করা হবে ।

টীকা- ১। একটি দণ্ডের সাথে অপর দণ্ড যুক্ত করে যে কোন আইন সংগত দণ্ড দেয়া যায় (ধারা ৩২(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ।)

টীকা-২। আদালত অপরাধীকে সশ্রম বা বিনাশ্রম যে কোন প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। এরুপ কারাদণ্ড সম্পূর্ণ অংশ সম্ভ্রম কিংবা সম্পূর্ণ অংশ বিনাশ্রম কিংবা আংশিক সম এবং আংশিক বিনাশ্রম হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিতে পারেন (ধারা ৬০: দণ্ডবিধি)।

টীকা ৩। যদি কারাদণ্ডের প্রকৃতি উল্লেখ না থাকে তা হলে তা অবশ্যই বিনাশ্রম হবে (১১ ক্যাল, ডব্লিউ, এন ৭৪০ ডি.বি)।

টীকা-৪। শুধু মাত্র জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বিনাশ্রম হবে (ধারা ৬৭, দণ্ডবিধি)।

টীকা- ৫। জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় তা জরিমানা পরিশোধ করা বা আইনের প্রক্রিয়াধীনে আদায় করার সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হয়ে যাবে (ধারা ৬৮ দণ্ডবিধি)।

বিধি-৫২২ । (১) কোন ব্যক্তিকে কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় সে কারাগারে আটক না থাকলে যে তারিখে সে কারাগারে নীত হবে সে তারিখ হতে তার সাজা ভোগের মেয়াদ শুরু হবে।

(২) যদি সে দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখে কারাগারে আটক থাকে তবে আদালত অন্য রকম আদেশ প্রদান না করলে দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে তার সাজা ভোগ চলমান রয়েছে মর্মে গণ্য করতে হবে।

টীকা-। যে ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় আসামী হাজতে রয়েছে এবং যে অপরাধের জন্যে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড শাস্তির যোগ্য নয়, সে ক্ষেত্রে আদালত কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেবার সময়, পূর্বে যে মেয়াদে সে হাজতে ছিল তা বিবেচনা করতে পারেন (ধারা ৩৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৩। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কোন তারিখে মুক্তি পাবে সে তারিখ জেল সুপার এবং জেলার হিসাব করবেন এবং রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করবেন। আদালত কর্তৃক অতিরিক্ত সাজা আরোপ অথবা হ্রাস করার কারণে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন হলে তদনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।

বিধি-৫২৪। কোন বন্দীর আটকের মেয়াদ পঞ্জিকা বছর অনুসারে বা মাস হিসেবে গণনা করতে হবে, যদি আদেশে দিন অনুসারে উল্লেখ না থাকে। যে দিন আদেশ দেয়া হয়েছে এবং যে দিন মুক্তি দেয়া হবে উভয় দিনকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে একদিনের কারাদণ্ড দেয়া হলে একই দিনে আটক রাখতে হবে ও মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু আদেশে ২৪ ঘণ্টা উল্লেখ থাকলে তাকে ২৪ ঘন্টা আটক রাখতে হবে।

টীকা- ১। “মাস” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে মাস গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল রুজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭) ।

টীকা- ২। “বৎসর” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে বৎসর গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।

বিধি-৫২৫। কারাদণ্ড প্রদানের পর কোন বন্দী আপীল সাপেক্ষে কিছু মেয়াদ জামিনে মুক্ত থাকার পর সাজা ভোগের জন্যে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হলে কিংবা কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগার হতে পলায়নের কারণে কিছু মেয়াদ মুক্ত থাকার পর পুনঃধৃত হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হলে তাদের মুক্তির তারিখ নিম্নরূপ ভাবে গণনা করতে হবে:-

  • জামিনে মুক্ত থাকার মেয়াদ বা পলায়নের কারণে মুক্ত থাকার মেয়াদের পঞ্জিকা বৎসর, মাস এবং দিন মূল সাজার মেয়াদের সাথে যোগ করতে হবে: দণ্ডের তারিখ হতে ঐ যোগফলের মেয়াদ যে তারিখে অতিবাহিত হবে ঐ তারিখ বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার তারিখ হবে।
  • জামিন শেষে যে আদালতে বন্দী আত্মসমর্পণ করবে, সে আদালত বন্দীর ওয়ারেন্টে তার জামিনে মুক্তির তারিখ এবং পুনরায় অন্তরীণ রাখার তারিখ লিপিবদ্ধ করবেন।

নোট- । কোন বন্দীকে কারাদণ্ড প্রদানের তারিখে কারাগারে প্রেরণ না করে আদালত হতে জামিনে মুক্ত প্রদান করা হলে ঐ বন্দী তার সাজার কোন অংশ ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে

 

বিধি-৫২৬। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক শর্তাধীনে মুক্তি প্রাপ্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির আদেশ বাতিল করা হলে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হবার কালে দণ্ডাদেশের মূল কপি এবং সরকারী আদেশের কপি সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

টীকা- যে সমস্ত শর্তে দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছে, তার কোনটি পালন করা হয়নি বলে মনে করলে সরকার উক্ত দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আদেশ বাতিল করতে পারবেন এবং অতঃপর যে ব্যক্তির দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছিল সে মুক্ত থাকলে যে কোন পুলিশ অফিসার তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবেন এবং তার দণ্ডের অনতিবাহিত অংশ ভোগ করার জন্য তাকে কারাগারে প্রেরণ করা যাবে (ধারা ৪০১ (৩), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৭। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হলে সবগুলো দণ্ডের মেয়াদকে যোগ করে একটি দণ্ড হিসেবে গণনা করে তার মুক্তির দিন ধার্য করতে হবে।

বিধি-৫২৮। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জরিমানা অনাদায়ে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজা দেয়া হলে, ধার্য জরিমানা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে সে অনুপাতে মুক্তির তারিখ ধার্য হবে।

টীকা-১। অর্থ দণ্ডের কোন অংশ দণ্ডিত ব্যক্তি প্রদান করলে আনুপাতিক হারে অনাদায় জনিত কারাদণ্ড ভোগের মেয়াদ কমে যাবে (ধারা-৬৯. দণ্ডবিধি)।

টীকা-২। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ১ জানুয়ারীতে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৬০০ টাকা জরিমানা প্রদান হলে এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলে উক্ত বন্দী ২০০ টাকা পরিশোধ করতে সমর্থ হলো। তার কারা ভোগের মেয়াদ হবে ৬ মাস + ৪ মাস ১০ মাস।

বিধি-৫২৯। জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ মাস হিসাবে আদেশে বর্ণিত থাকলে আংশিক জরিমানা পরিশোধের কারণে দত্ত হ্রাসের হিসাব মাস হিসাবেই করতে হবে, দিনের হিসাবে নয়। কোন মাসের ভগ্নাংশ অবশিষ্ট থাকলে দিনে পরিবর্তন করা হবে। কোন দিনের ভগ্নাংশ গণনায় ধরা হবে না।

বিধি-৫৩০। কোন বন্দী সাজা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে জরিমানার কোন অংশ পরিশোধ করলে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়ারেন্টের গায়ে তা উল্লেখ করবেন।

বিধি-৫৩১। কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাভোগ অবস্থায় অন্য কারাগারে বদলি হলে দণ্ডাদেশের পর প্রথম যে কারাগারে সে অন্তরীণ ছিল সে কারাগারকে বন্দীর বদলি সম্পর্কে গ্রহণকারী কারাগার অবহিত করবে।

বিধি-৫৩২ । কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ প্রাপ্ত হলে এবং একই সময়ে বা পাশাপাশিভাবে অন্য মেয়াদের জন্যে মূল সাজাপ্রাপ্ত হলে, মূল সাজা শেষ না হলে জরিমানা অনাদায়ের দায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ভোগের আদেশ কার্যকরী করা হবে না।

বিধি-৫৩৩। জেল সুপার বা জেলার জরিমানা গ্রহণের জন্যে অনুমোদিত নয়। জরিমানা যে আদালতে তা আরোপ করা হয়েছে সে আদালতে কিংবা দায়রা আদালতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-৫৩৪। যখন কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয় এবং আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত সময় ও স্থানে হাজির হওয়ার জন্য তাকে জামিন প্রদান করা হয় কিংবা কারাদণ্ড ছাড়াও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দণ্ডের তারিখ হতে পনেরো দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বা আপীল করা হলে আপীল আদালত কর্তৃক সাজা বহাল না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

তবে পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যথাশীঘ্র বা আপীল আদালত হতে সাজা বহালের আদেশ লাভের পর যথাশীঘ্র বেদেও কার্যকরী করতে হবে। যদি কোন বন্দী কর্তৃক পনেরো দিনের মধ্যে আপীল মা করা হয় এবং অতঃপর তাকে বেত্রাঘাত প্রদানের জন্যে হাজির করার পর সে আপীল করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে তখন তাকে আপীল করতে দেয়া হবে এবং বেত্রাঘাত প্রদান স্থগিত করে আপীলের রায়ের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ।

বিধি-৫৩৫। (১) জেল সুপার বা মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব- অর্ডিনেটের সামনে বেত্রদণ্ড কার্যকর করার প্রাক্কালে এই মর্মে মেডিকেল অফিসারকে অবশ্যই সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে যে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে শারীরিক ভাবে সামর্থ্য রয়েছে। যদি বন্দী সাময়িকভাবে বেত্রাঘাত সহ্য করতে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন তবে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে সামর্থ্য রয়েছে মর্মে পুনরায় মেডিকেল অফিসার কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদান না করা পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখতে হবে।

যদি বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে স্থায়ীভাবে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন কিংবা বেত্রাঘাত প্রয়োগ কালে মেডিকেল অফিসার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী অবশিষ্ট বেত্রাঘাত ভোগ করতে শারীরিক ভাবে অসামর্থ্য তখন বেত্রাঘাত চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মতে কার্যক্রমের জন্যে সাজা প্রদানকারী আদালতে ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে।

(২) বেত্রাঘাত প্রদানকালে বন্দীর নিতম্বের উপরে জীবাণুনাশক মিশ্রিত একটি পাতলা কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে।

(৩) ষোল বৎসর বা তার বেশী বয়সের ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মোতাবেক বেতের পরিধি আধ ইঞ্চির বেশী হবে না এবং বাল- অপরাধীদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে হাল্কা বেত ব্যবহার করতে হবে, বা যদি স্কুলে শাস্তি দেয়ার মতো করে শাস্তি প্রদানের আদেশ দেয়া হয় তবে হাত দ্বারা দণ্ড কার্যকর করতে হবে।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫৩৬। যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে যদি কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয়, দণ্ড প্রদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে রাখতে হবে ।

টীকা- যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে দণ্ডদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে হাজতে রাখতে হবে এবং উক্ত আদালত নিজ বিবেচনায় দত্ত মওকুফ করতে পারবেন অথবা অপরাধীকে বেত্রদণ্ডের পরিবর্তে বার মাসের অনধিক কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারবেন এবং একই অপরাধের জন্য সে অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডিত হলে সে দণ্ড ছাড়াও এ দণ্ড দেয়া যাবে (ধারা-৩৯৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৩৭ ৷ কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে এবং কোন কারাদণ্ড প্রদান না করা হলে কারাগারে বা আদালত ভবনের নিকটবর্তী কোন বেষ্টনীতে একান্তে বেত্রাঘাত পরিচালনা করতে হবে।

বিধি-৫৩৮ । যখন কোন বন্দীকে একটি মামলায় কোন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং দ্বিতীয় আরেকটি মামলায় কারাদণ্ড ও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত আদেশ প্রাপ্তির পনেরো দিন অতিবাহিত হবার পর যথাশীঘ্র বেত্রদণ্ড কার্যকর করতে হবে, যদিও প্রথম মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ না হবার কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা মোতাবেক দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের আদেশ কার্যকর স্থগিত রয়েছে।

বিধি-৫৩৯। বেত্রাঘাতের সংখ্যা কোন ক্ষেত্রেই ত্রিশের অধিক হবে না এবং ষোল বৎসরের কম বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পনেরোর অধিক হবে না। ফলে যদি কোন বন্দীকে দুইটি মামলায় একই সময়ে বেত্রাদণ্ড প্রদান করা হয় তবে, মোট ত্রিশ বা পনেরো, যে ক্ষেত্রে যা হয়, বেত্রাঘাত করা যাবে। তবে যদি কোন বন্দী একবার বেত্রদণ্ড ভোগ করে থাকে এবং পুনরায় একই দণ্ড পেয়ে তাকে পুনরায় বেত্রঘাত প্রদানে কোন বাধা নেই ।

বিধি-৫৪০। বেত্রদণ্ড কার্যকরী করার পর কার্যকরী করার তারিখ উল্লেখ পূর্বক জেল সুপার ওয়ারেন্টের পৃষ্ঠাঙ্কন করে তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন।

টীকা- কোন বেত্রদণ্ড কিস্তিতে কার্যকরী করা যাবে না এবং স্ত্রীলোক, মৃত্যুদণ্ড বা পাঁচ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত পুরুষ কিংবা পয়তাল্লিশ বৎসরের অধিক বয়সের পুরুষকে বেত্রদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না (ধারা-৩৯৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৪১। পুলিশ রেজিষ্ট্রার বন্দী দু প্রকার ঃ-

(১) সে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তি প্রদানের আগে তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে;

(২) যে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তির আগে বদলি করা হবে না, মুক্তির তারিখে যে কারাগারে রয়েছে সেখান থেকেই মুক্তি পাবে।

বিধি-৫৪২। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ রাখতে হবে-

(১) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নং-৬)

(২) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নামীয় বর্ণমালা অনুযায়ী ইনডেক্স (রেজিষ্টার নং-৭)

(৩) রিলিজ ডাইরী (রেজিষ্টার নং-১০)

(৪) দৈনিক সার সংক্ষেপ (রেজিষ্টার নং-১৪)।

জেল কোড অনুযায়ী এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন । জেল কোড

বিধি-৪৬৩। কারাগারে গোলযোগ বা বন্দী বিদ্রোহ, পলায়নের চেষ্টা কিংবা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে আক্রান্ত হবার ক্ষেত্রে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে বা তার শরীরের উপর বা অন্য লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের জন্যে নিম্নলিখিত নিয়ম সমূহ মেনে চলতে হবে-

(১) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী পলায়নরত বা পলায়নের চেষ্টারত কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন: তবে শর্ত থাকে যে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের শেষ উপায়। গ্রহন ছাড়া পলায়ন প্রতিরোধ করার জন্যে অন্য কোন উপায় নেই মর্মে তাকে বিশ্বাস করতে হবে।

(২) যৌথ বিদ্রোহ বা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে জোর পূর্বক প্রধান ফটক খোলা বা প্রধান ফটক অথবা কারাগারের দেয়াল ভেংগে ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত কোন বন্দী বা অন্য কোন ব্যক্তির উপর কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারবেন যতক্ষণ অনুরূপ যৌথ বিদ্রোহ বা চেষ্টা চলতে থাকে।

(৩) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন যদি বন্দী কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে: তবে শর্ত থাকে যে, তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে আক্রান্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তির জীবন হানি বা অঙ্গহানি বা মারাত্মক জখম হওয়ার কারণ বিদ্যমান।

(৪) ১ নং উপ-বিধির ক্ষমতাবলে কোন বন্দীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পূর্বে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দীকে সতর্ক করবেন যে তিনি ঐ বন্দীকে গুলি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তার সিনিয়র কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঐ কর্মকর্তার আদেশ ব্যতীত বিদ্রোহ বা পলায়ন চেষ্টা কালে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে কোনরূপ অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।

নোট- বহিরাক্রমণের ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিধি ৪৬৩, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৪৭০ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত অনুসৃত হবে।

টীকা কোন কারাগারের প্রকৃত জরুরী অবস্থা ব্যতীত এবং কারা মহাপরিদর্শকের অজ্ঞাতসারে এবং রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন গার্ড সরবরাহ করা যাবে না। যে কোন জরুরী অবস্থায় যদি পুলিশ সুপার মনে করেন যে, একটি গার্ড সরবরাহ করা তার দায়িত্ব তা হলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যাপারটি উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শককে জানাবেন (প্রবিধান ৬৯৭, পিজারবি)।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৬৪। প্রতিটি কারাগারে ‘এলার্ম’ নামে পরিচিত পূর্ব পরিকল্পিত সংকেত ব্যবস্থা থাকবে যা দ্বারা কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশকে কারাগারের বিদ্রোহ, গোলযোগ, পলায়ন বা যে কোন অনভিপ্রেত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা যেতে পারে। এলার্মের ধরন হবে কারাগারের মূল গেইটের ভবন বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক বা একাধিক ঘন্টা বা ধাতব বেল (গং) অবিরাম বাজানো অথবা গেইট সেন্ট্রির নিকটস্থ স্থানে ড্রাম পিটানো অথবা বাষ্পচালিত হুইসেল বাজানো।

যদি ঘন্টা বা বেল বাজানো হয় তবে তার আওয়াজ হবে নিয়মিত প্যারেডে ব্যবহৃত আওয়াজ হতে ভিন্ন, যাতে পৃথক ইঙ্গিত বুঝতে কোন সংশয় সৃষ্টি না হয়। যদি একাধিক বেল বা গং থাকে তবে প্রথমটির শব্দ শুনার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত সেন্ট্রি দ্বিতীয়টি বাজানো শুরু করবেন এবং উভয় সংকেত ধ্বনি সম্ভব হলে উপস্থিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বন্ধের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবিরাম চলবে ।

বিধি-৪৬৫। গুরুতর কোন সংকট কালে কারারক্ষীর হুইসেলের একটি দীর্ঘ যাত্রার ধ্বনির অর্থ হ’ল সাহায্য প্রয়োজন। পর পর তিনটি হ্রস্ব ধ্বনির অর্থ হ’ল ‘এলার্ম বাজানো হোক’।

বিধি-৪৬৬। এলার্ম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে গেইট সেন্ট্রি তার বন্দুকে গুলি ভর্তি করবেন। তিনি প্রধান গেইটের বাহিরে দাঁড়ানো থাকলে গেইটের মধ্যে প্রবেশ করবেন না। তিনি সকল ঝুঁকি সত্ত্বেও বাহির ফটকটি বল প্রয়োগ থেকে রক্ষা করবেন এবং গেইট রক্ষী ও অন্যদেরকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন।

বিধি-৪৬৭। রিজার্ভ গার্ড সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেবে এবং বাহির গেইট রক্ষায় সেন্ট্রিকে সাহায্য করবে। দুই জন রক্ষী গুলি ভর্তি রাইফেল নিয়ে প্রধান গেইটের ছাদে অবস্থান গ্রহণ করবেন। তারা বন্দীদের গতি বিধি লক্ষ্য করবেন এবং ভিতর গেইটের দিকে অগ্রসরমান কোন বন্দী থাকলে সেখান থেকে সরে যাবার হুঁশিয়ারী প্রদান করবেন। কোন ব্যক্তির জীবন রক্ষার প্রয়োজনে তারা ৪৬০ বিধি | মোতাবেক গুলি বর্ষণ করতে পারবেন।

বিধি-৪৬৮। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী (বন্দীদের বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত গণ ব্যতীত), ইউনিফর্ম পরিহিত অথবা ইউনিফর্ম ছাড়াই তৎক্ষণাৎ অস্ত্রাগারে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সজ্জিত হবেন, বেয়নেট সংযুক্ত করবেন এবং উপস্থিত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে প্রধান গেইটে সমবেত হবেন। সরাসরি নির্দেশ ব্যতীত তিনি রাইফেলে গুলি ভরবেন না।

জেল সুপারকে সংবাদ দিতে হবে, দুটি দল কারা এলাকার বিপরীত প্রান্তে প্রাচীরের বাহিরে প্রেরিত হবে, তারা কারাভ্যন্তর হতে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়নের কোন চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করবেন। একটি ফাঁকা গুলি বর্ষণ হলে বুঝতে হবে যে সাহায্যের প্রয়োজন বা যে দিকে শব্দ হয়েছে সেদিকে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়ন করছে। এ সংকেত শুনার সঙ্গে সঙ্গে সিনিয়র প্রধান কারারক্ষী অবশিষ্ট রক্ষীদল সহ দৌড়ে ঘটনা স্থলে যাবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪৬৩ বিধি মোতাবেক কাজ করবেন।

নোট- একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রক্ষী বন্দুকের পরিবর্তে লাঠি হাতে থাকবে, এ সংখ্যানুপাত জেল সুপার নির্ধারণ করবেন।

বিধি-৪৬৯ ৷ এলার্ম অবস্থায় বাহির প্রাচীরের গ্যাংয়ে নিয়োজিত বন্দীদের দায়িত্ব পালনকারী রক্ষীগণ সে সকল বন্দীদেরকে সংগ্রহ করে এবং এক জায়গায় সমবেত করে বসিয়ে রাখবেন, তবে ঐ স্থান গেইটের কাছে হবে না। গোলযোগ না থামা পর্যন্ত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশ ব্যতীত তাদেরকে কারাগারে প্রবেশ করানো যাবে না। কারাগারের সকল বন্দীকেও নিকটবর্তী এবং অত্যন্ত সুবিধাজনক ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য ভবনে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৪৭০। সেন্ট্রিরা নিয়োজিত হওয়ার পর এবং কারা কর্মচারী এবং রক্ষীরা সমবেত হবার পর, জেল সুপার বা তার অনুপস্থিতিতে জেলার কিংবা উপস্থিত সর্বজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কারাগারের উভয় গেইটের ভিতরে প্রবেশ করবেন। অতঃপর বাহিরের গেইট তালাবদ্ধ করা হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে ভিতরের গেইট খোলা হবে এবং রক্ষীরা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন পূর্বক ৪৬৩ বিধি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী গোলযোগের অকুস্থলে উপস্থিত হয়ে উচ্চস্বরে বন্দীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করবেন যে তারা অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের উপর গুলি বর্ষিত হবে। যদি বিলম্ব করার মত পরিস্থিতি থাকে তা হলে এই হুঁশিয়ারী তিন বার উচ্চারণ করতে হবে। তারপরও যদি দেখা যায় যে, গোলযোগ দমনের জন্যে আর কোন উপায় নেই, তবে তিনি অবাধ্য বন্দীদের উপর গুলি চালাতে পারেন।

যদি দেখা যায় যে বন্দীরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বা আত্মসমর্পণ করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে গুলি বন্ধ করতে হবে। জেল সুপার বা কারাগারের অন্য কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আগমনের পর তার আদেশ মোতাবেক রক্ষীরা কাজ করবেন। গোপনে পলায়ন রত কোন বন্দীর উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। বন্দীরা ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক কোন কিছু না করলে বা কোন প্রকার অপরাধমূলক বল প্রয়োগ না করলে তাদের উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। কিংবা বিদ্রোহের কারণে রক্ষীদেরকে গুলি করার জন্যে আহবান না করা হলে তারা গুলি করবেন না।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৭১। পরিস্থিতির ব্যাপকতার উপর ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি নির্ভর করবে। নীরবতা বজায় রাখতে হবে এবং সকল কিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অগ্রিম নির্দেশ প্রদান করতে হবে যাতে তারা উপলব্দি করতে পারেন তাদেরকে কি করতে হবে এবং কোথায় যেতে হবে। যখন এলার্ম বাজবে তখন অবাধ্য বন্দীদেরকে আটকানোর জন্যে রক্ষীরা কিছু হ্যান্ডকাপ সঙ্গে রাখবেন।

বিধি-৪৭২। গোলযোগ, বিদ্রোহ প্রভৃতি বিপদের প্রাদুর্ভাব মুহুর্তে নিজ নিজ কর্তব্য সম্পর্কে কারা কর্মচারীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে মাসে একবার এলার্ম মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপরে বর্ণিত সকল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, তবে রক্ষীরা প্রকৃত গুলি বর্ষণের পরিবর্তে ফাঁকা আওয়াজ করবেন। জেলার মহড়ার একটি লিখিত সময় নির্ধারণ করবেন যে সময় এলার্ম বাজলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্তব্যে হাজির হবেন।

মহড়ার তারিখ এবং সময় জেলার তার রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। অনুরূপভাবে রিজার্ভ গার্ড মূল গেইটে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, অধস্তন ও অনান্য রক্ষীরা সমাবেশে হাজির হবার জন্যে এবং তাদের পোস্টে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, যারা দেরীতে উপস্থিত হয়েছে তাদের নাম এবং সম্পূর্ণ মহড়া শেষ করতে কত সময় লেগেছে প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। যদি মহড়া সফল ভাবে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে কোন অসুবিধার কারণে এবং কার ত্রুটির জন্যে তা ঠিক ভাবে হয়নি তিনি বর্ণনা করবেন।

বিধি-৪৭৩। এলার্ম প্রকৃত বা কৃত্রিম যাই হোক না কেন, প্রাথমিক সিগন্যাল থেকে শেষে হারিয়ে যাওয়া বন্দী খুঁজে বের করা পর্যন্ত উপদ্রব দমনের জন্যে যা যা করতে হয় সকল কার্যক্রম একই ভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৭৪ ৷ যেখানে পুলিশ লাইন কারাগারের খুব কাছে থাকে, কারাগার হতে এলার্ম শুনবার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লাইনে অবস্থিত কনষ্টেবলগণ এলার্ম প্যারেডে অংশ গ্রহন করবেন এবং যদি সেখানে বিদ্রোহ ঘটে থাকে তারা তা দমনে সহায়তার জন্যে মার্চ করে কারাগারে যাবেন। গোলযোগের বিষয়ে জেল সুপার পুলিশ সুপারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমন্বিত ও যুক্তি যুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিধি-৪৭৫। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব হবে কোন বন্দী পলায়ন কালে বা পলায়নের চেষ্টা কালে তাকে গ্রেফতার করা। যদি ঐ কর্মচারী কোন গ্যাংয়ের দায়িত্বরত কারারক্ষী হন, তা হলে তিনি তার গ্যাংকে অন্য কোন রক্ষীর নিকট বা কোন জ্যেষ্ঠ কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত করে পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টারত বন্দীকে অনুসরণ করবেন।

বিধি-৪৭৬। কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়েছে জানার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জেলারকে এবং তার মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাতে হবে। যদি কারাগারের চৌহদ্দীর বাহিরে কর্মরত কোন গ্যাং থেকে ঐ বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়ে থাকে তবে সেখানে কর্মরত সকল গ্যাংকে একত্রিত করে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের চৌহদ্দীর মধ্যে বাহির কাজের গ্যাং থেকে কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হলেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

যদি বন্দী দেয়াল টপকিয়ে পালিয়ে থাকে এবং মনে হয় যে, সে আশে পাশে কোথাও ওতপেতে রয়েছে, ঐ বন্দীকে খোঁজার জন্যে জেলার যত জন সম্ভব রক্ষীকে নিয়োগ করবেন এবং একই সময়ে তিনি নিকটবর্তী থানা, জেলা ম্যাজিষ্টেট ও পুলিশ সুপারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করবেন এবং বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল ও সে সাধারণত যে ঠিকানায় বসবাস করে সে ঠিকানা প্রেরণ করবেন যাতে তাকে চিনতে বা তার সম্পর্কে জানতে সুবিধা হয়।

যদি ওয়ার্ড থেকে রাতের বেলায় বা সকল গ্যাং কারাগারে ফেরত আসার পর কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়, তা হলে এলার্ম বাজাতে হবে। প্রাচীর সমূহ এলার্ম প্যারেডের সময়ের মতো গ্রহরা দিতে হবে। জেলার রিজার্ভ গার্ডকে সঙ্গে নিবেন এবং বন্দীকে খুঁজে বের করার জন্যে নিরস্ত্র রক্ষীদেরকে নিয়োজিত করবেন। যদি মনে হয় যে, বন্দী এখনও কারা দেয়ালের ভিতরে ওতপেতে বা লুকিয়ে রয়েছে, বিশ্রামরত কয়েদী রক্ষী এবং নাইট ওয়াচম্যানদেরকে কাজে নিয়োজিত করতে হবে এবং কারাগারের বাহির প্রাচীর ঘিরে রাখতে হবে।

তাদেরকে টর্চ লাইট প্রদান করতে হবে এবং কোন বন্দী দেয়ালের দিকে অগ্রসর হলে সে খবর জানানোর জন্যে তাদেরকে নির্দেশ দিতে হবে ( এ উদ্দেশ্যে কারাগারে টর্চ লাইট মজুত রাখতে হবে) যদি মনে হয় যে বন্দী দেয়াল টপকে চলে গিয়েছে তবে তা অবিলম্বে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।

বন্দী যে জেলার কারাগার হতে পলায়ন করেছে যদি সে অন্য জেলার বাসিন্দা হয় তবে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিষ্ট্রেটকে সংবাদ জানাতে হবে এবং তার নিজ জেলায় পৌঁছতে যে সকল জেলা অতিক্রম করতে হবে সে সকল জেলার ম্যাজিস্ট্রেটকেও জানাতে হবে। একটি নোটিশ রেলওয়ে পুলিশ সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যদি প্রতীয়মান হয় যে বন্দী রেল পথে যেতে পারে। যদি সমীচীন মনে হয়, টেলিগ্রামে অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদেরকেও সংবাদ জানানো যেতে পারে।

বিধি-৪৭৭। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত যে সকল কর্মকর্তাদেরকে পলায়নের ঘটনা জানানো হয়েছে বন্দী পুন:ধৃত হলে সে সংবাদ তাদেরকে জানাতে হবে। প্রত্যেক পুনঃধৃত বন্দীকে তার মূল ওয়ারেন্ট অনুসারে কারাগারে ফেরত গ্রহণ করা হবে। যতটুকু সময় সে মুক্ত ছিল ততটুকু সময় তার সাজাভোগ বলে গণনা করা হবে না। তার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ বিধি ৫২০, ৫২৪ এবং ৫২৫ অনুযায়ী হিসাব করা হবে।

বিধি-৪৭৮। পলায়ন এবং পুনঃধৃত হবার পৃথক পৃথক রিপোর্ট ২৫ এবং ২৬ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। যদি পলায়নের ঘটনা কেবলমাত্র অবহেলার কারণে ঘটে না থাকে এবং কারা ভবনের বা কারা বিধির কোন ত্রুটির কারণে ঘটে থাকে তবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৪৭৯। জেল সুপার কোন পলাতক বন্দীকে ধৃত করার জন্যে পুরস্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে পারবেন। প্রতি ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ অনধিক একশত টাকা হবে। পুলিশের প্রহরা থেকে কোন আসামী পলায়ন করলে তাকে ধৃত করণের জন্যে কারা বাজেট থেকে পুরষ্কার প্রদান করা যাবে না।

যখন কোন ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার কারণে বড় অংকের পুরস্কার প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করতে হবে, যিনি ২৫০ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করতে পারেন । তিনি যদি তার চেয়ে বেশী টাকার পুরস্কার প্রদান করা উচিৎ মনে করেন, তবে এ বিষয়ে আদেশের জন্যে সরকারের নিকট লিখতে পারেন।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৮০। পুনঃত হয়নি এমন প্রত্যেক পলাতক বন্দীর নাম, রেজিষ্টার নম্বর পারেন। এবং পলায়নের তারিখ প্রত্যেক বৎসরের চলতি রিলিজ ডাইরীর ভিতরের কভারে লিখে রাখতে হবে। যখন কোন বন্দী পুনঃধৃত হবে তার নাম কেটে দিতে হে এবং পুনঃধৃত হবার তারিখ লিখে রাখতে হবে। এর ফলে প্রত্যেক নুতন জেল সুপার এবং জেলার বুঝতে পারবেন কতজন বন্দী পলাতক অবস্থায় রয়েছে। বদলি পথ হতে পলাতক বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৮৪ এবং ৮৮৫ এবং পলাতক বন্দীর ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তির জন্যে বিধি ৫৮৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৮১। পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টাকারী প্রত্যেক বন্দীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। কোন অবস্থাতেই বিষয়টি কারাগারের বিধি ভঙ্গের পর্যায়ে গণ্য করা যাবে না।

বিধি-৪৮২। কোন বন্দীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে পলায়নের সহায়তা করণ সম্পর্কে ২০০ এবং ৩৮৭ বিধিতে বর্ণিত শাস্তির বিধান সম্পর্কে প্রত্যেক কারা কর্মচারী এবং কয়েদী কর্মচারীকে জেল সুপার এবং জেলার প্রতিনিয়ত সতর্ক করবেন। এ ধরনের অপরাধের জন্যে কোন কারারক্ষী একবার বরখাস্ত হলে আর কোন দিন কারা বিভাগে চাকরি পাবে না। পলায়ন রোধ করা প্রত্যেক বন্দীর কর্তব্য এবং যদি কোন বন্দী পলায়নে সাহায্যকারী কোন বন্ধ সংগ্রহে রাখে বা পলায়নের উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

বিধি-৪৮৩। যদি কোন বন্দী অপর কোন বন্দীর পলায়নে বাধা দেয় বা পলায়নের প্রস্তুতি বা আশংকা সম্পর্কে কোন তথ্য প্রদান করে এবং এর ফলে পলায়ন রোধ করা সম্ভব হয়, তার সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং যদি সে রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে থাকে, তবে তাকে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে বা প্রদানের জন্যে সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৪৮৪। যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে বা পলায়নের ষড়যন্ত্র করে, তাদেরকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ক্রমে ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ৫৬ ধারা মোতাবেক বেড়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। কারাগার হতে পলায়ন করা বা পলায়নের চেষ্টা করার কারণে কোন বন্দীকে অভ্যাসগত বলে গণ্য করা যাবে না, তবে অন্য বন্দী থেকে পার্থক্য করার জন্যে তাকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদনক্রমে জেল সুপার এ ধরনের কোন বন্দীকে সাধারণ টুপি পরিধানের অনুমতি প্রদান করতে পারেন, যদি সে আচরণের মাধ্যমে নিজেকে তজ্জন্য উপযুক্ত প্রমাণ করতে পারে।

নোট- যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে, দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় সাজা প্রদানের তারিখ পর্যন্ত কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে তাদের অর্জিত রেয়াত বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। পুলিশ প্রহরা বা কারাগার হতে হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কিন্তু সাজা প্রদানের আগে পুলিশ প্রহরা হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে কারাগারে কৃত প্রকৃত আচরণের দ্বারা অর্জিত এই বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধার বহির্ভূত করা উচিত হবে না।

বিধি-৪৮৫। ক্যাম্প জেল বা অস্থায়ী কারাগার ব্যতীত কারাগারের ভিতরে কোন বন্দীকে বেড়ী পরানো যাবে না, যদি না ঐ সে উগ্র, বা ভয়ংকর বা পলাতক বা পলায়নের চেষ্টাকারী বা পলায়নের প্রস্তুতি গ্রহণকারী না হয় ।

বিধি-৪৮৬। যদি জেল সুপার মনে করেন যে, কোন বন্দীকে ৪৮৫ বিধি মোতাবেক বেড়ী আরোপ করা প্রয়োজন তবে তিনি বন্দীর নম্বর, নাম, বেড়ী আরোপের এবং অপসারণের তারিখ এবং বেড়ী আরোপের প্রয়োজনীয়তার কারণ রেকর্ড করবেন। জেল সুপার নিরাপদ মনে করলে যে কোন সময় বেড়ী অপসারণের আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৪৮৭। নিরাপদ আটকের জন্যে ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক আরোপিত বেড়ী জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষী প্রত্যেক দিন এবং জেলার সপ্তাহে একবার পরীক্ষা করে দেখবেন এবং রিপোর্ট বইতে তা রেকর্ড করবেন। খেয়াল রাখতে হবে যে বেড়ীর রিং গুলি গোড়ালীর গিটের সাথে এমনভাবে লেগে থাকবে যার ফলে পা তোলা না যায়, বল্টু গুলো ছিদ্রের সাথে খাপ খায় এবং উভয় পাশে তাদের উপযুক্ত পরিমাণ মাথা বের হয়ে থাকে। আরও লক্ষ্য করতে হবে যে, বল্টুর মাথা ঘষানো বা ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়ে যায়। বেড়ী পরানোর জন্যে বন্দীকে চামড়ার পট্টি লাগাতে হবে।

 

বিধি-৪৮৮। কারাগারের বাহিরের দেয়ালের উপরে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো লাগানো যাবে না। কারণ এতে কম্বল বা কাপড় আটকিয়ে বন্দী পলায়নে সুবিধা হতে পারে। দেয়ালের উপরে কোন কার্নিশ বা অন্য কোন প্রসারিত অংশ থাকবে না। বাহিরের দেয়ালের প্রত্যেকটি সংযোগস্থল অতিরিক্ত অর্থ-গোলাকার করতে হবে যাতে কোন বন্দী তা দিয়ে আরোহণ করতে না পারে।

বিধি ৪৮৯-৪৯০। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৯১। ওয়ার্ড,সেল এবং মেইন গেইটের ব্যবহৃত সকল তালা সর্বপ্রধান কারারক্ষী বা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীগণ তাদের দায়িত্বাধীন অংশ প্রত্যেক দিন পরীক্ষা করে দেখবেন। অকেজো তালা সঙ্গে সঙ্গে জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তালায় ভোজ্য তেল ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে লিভার চটচটে হয়ে গেলে সহজে খুলে যাবার আশংকা থাকে।

ওয়ার্ড, সেল, গুদাম বা অন্যান্য অংশের কোন তালার চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি সাময়িকভাবে ব্যবহৃত সাধারণ তালার কোন চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট দিনের বেলায় থাকে তবে লক আপের আগে তা নিয়ে নিতে হবে।

বিধি-৪৯২। কোন বন্দী কর্তৃক কোন কারারক্ষী বা কয়েদী কর্মচারীর উপর কোন মারাত্মক আক্রমণ বা বন্দীদের যৌথ বিদ্রোহ সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে। বদরাগী, খিটখিটে মেজাজ বা এ স্বভাবের কোন বন্দীর নিকট কোন কারণেই চাকু বা অন্য কোন জিনিস রাখা যাবে না, যা অপরাধ সংঘটনে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হতে পারে।

টীকা-। বর্তমানে কারাগারে গোলযোগ দমনের জন্যে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেটসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি কারারক্ষীদের নিকট মজুত থাকে, সে গুলোর প্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। কোন বিদ্রোহের ঘটনা ঘটলে নিকটবর্তী থানায় এবং জেলা ম্যাজিট্রেট, পুলিশ সুপার, দমকল বিভাগ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণকে টেলিফোনে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রেরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের প্রহরা

আজকের আলোচনার বিষয় কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা । জেল কোড

বিধি-৪১৭। একটি কারাগারের প্রহরা ব্যবস্থার মূলনীতি হচ্ছে কারাগারে আটক প্রত্যেক বন্দীকে দিনে-রাত্রে সব সময়ে কোন না কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে ন্যস্ত রাখা, যাদের অবহেলার ফল স্বরূপ কোন বন্দী পলায়ন করলে যেন ফৌজদারি আদালতে তা প্রমাণ করা যায়। এটা কার্যকর করার জন্যে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অর্পিত বন্দীদের নাম একটি গ্যাং বইতে রেকর্ড করতে হবে এবং বন্দীদের গ্যাং পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডও পরিবর্তন করতে হবে। কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দায়িত্বে বন্দীদের অর্পণ করার বিষয়টি প্রধান কারারক্ষী উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করবেন এবং যাচাই করে দেখবেন।

বিধি-৪১৮। প্রত্যেক কারাগারের বন্দীদেরকে কতগুলো গ্যাংয়ে বিভক্ত করা হবে। প্রত্যেক বন্দী তার সমগ্র কারাভোগ কাল এক বা একাধিক গ্যাংয়ের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীর গ্যাংয়ের পরিবর্তন করা যাবে না। কোন বন্দী মুক্তি পাবার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য গ্যাংয়ে বদলি হবে না, যদি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ তার নাম বদলিকৃত গ্যাং বইয়ে লিখা না হয়।

বিধি-৪১৯। গ্যাং দুটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত হবে-

(১) এক্সটা মিউরাল বা দেয়ালের বাহিরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে;

(২) ইন্ট্রা মিউরাল বা দেয়ালের ভিতরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪২০। একটি গ্যাংয়ে কয়েদী কর্মচারীসহ নিম্নোক্ত সংখ্যার বেশী বন্দী থাকবে না-

(১) এক্সটা মিউরাল

(ক) কারা বেষ্টনীর বাহিরে – ২১ জন
(খ) কারা বেষ্টনীর ভিতরে – ২৫ জন

(২) ইন্ট্রা মিউরাল – ৪২ জন

বিধি-৪২১। এক্সটা মিউরাল গ্যাং অবশ্যই একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে থাকবে, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং ওয়াচম্যান তাকে সাহায্য করবে। প্রতি দশ জন বন্দীর জন্যে এক জন ওয়াচম্যান থাকবে। ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ারের দায়িত্বে কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে কয়েদী ওয়াচম্যানের দায়িত্বে থাকতে পারে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪২২। কয়েদী ওভারশিয়ারের কাছে ৩৮ নম্বর জেল ফরমে একটি গ্যাং বই থাকবে যাতে সকল বন্দীর নাম, নম্বর এবং গ্যাংয়ে যোগদানের তারিখ প্রধান কারারক্ষীর আদেশ ও স্বাক্ষরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিধি-৪২৩। একটি গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। কোন একটি গ্যাংয়ের দায়-দায়িত্ব একই সময়ে একাধিক কর্মচারীর উপর ভাগ করা যাবে না।

বিধি-৪২৪। একটি গ্যাংয়ের সদস্যরা পরবর্তী বিধি-বিধানে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া সব সময় একত্রে থাকবে; তারা একই ওয়ার্ডে ঘুমাবে এবং এক সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করবে এবং তাদের জন্যে বিশেষ নির্ধারিত স্থানে কাজ করবে।

বিধি-৪২৫। কয়েদী ওভারশিয়ার ওয়ার্ডের দরজা আন লকের সময় দাঁড়ানো থাকবে এবং তার গ্যাংকে কাজের জন্যে প্রধান কারারক্ষী হতে বুঝে নিবে। সে দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের সাথে অবস্থান করবে। সে বন্দীদের শৃঙ্খলা এবং বিধি প্রতিপালনের দিকে লক্ষ্য রাখবে। সে তার গ্যাংকে প্রধান কারারক্ষীর নিকট অর্পণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পাবে না

বিধি-৪২৬। যদি কোন কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার কোন কারণে তার গ্যাংকে সাময়িকভাবে ছেড়ে কোথাও যেতে হয়, তবে প্রধান কারারক্ষীর অনুমোদন গ্রহণ করে তার গ্যাংকে অন্য কোন কয়েদী রক্ষী বা জ্যেষ্ঠ ওয়াচম্যানের দায়িত্বে প্রদান করবেন।

বিধি-৪২৭। যদি ভিতর প্রাচীরের কোন গ্যাংয়ের কোন বন্দী তার গ্যাং থেকে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থেকে কোন প্রয়োজনে কোথাও যেতে চায়, যেমন লেট্রিন বা হাসপাতালে, সে সময় প্রধান কারারক্ষীর অনুমতিক্রমে, সে ওয়াচম্যানের তদারকীতে থাকবে।

বিধি-৪২৮। বাহিরের প্রাচীরে নিয়োজিত গ্যাংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী এবং কয়েদী রক্ষী এক সাথে কাজ করবে এবং কোন কারণেই তাদের অধীনস্থ বন্দীদেরকে চোখের আড়ালে কোথাও যেতে দিবে না। বিশেষ কারণে কোন বন্দী গ্যাং থেকে কোথাও যেতে হলে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের তদারকীতে যেতে হবে ।

বিধি-৪২৯। যদি একসঙ্গে ৪২ জনের বেশী বন্দীকে কারাগরের চৌহদ্দীর বাহিরে নেয়া হয়, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করার জন্যে দুইজন সশস্ত্র রিজার্ভ গার্ড তাদের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে।

বিধি-৪৩০। যদি কোন গ্যাংয়ের একটি অংশ কোন কারণে অন্য অংশ থেকে রাত্রে পৃথক অবস্থান করে, তখন একজন কয়েদী ওভারশিয়ার বা একজন জ্যেষ্ঠ কয়েদী ওয়াচম্যানকে প্রধান কারারক্ষী ঐ অংশ সমূহের দায়িত্ব প্রদান করবেন।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৩১। গ্যাং নিম্নোক্ত সুবিধাজনক ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে-

(১) এক্সটা মিউরাল গ্যাং

(ক) বাগান

(খ) জেল সার্ভেন্ট

(গ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

(২) ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং-

(ক) সিভিল বন্দী

(খ) বিচারাধীন বন্দী

(গ) পৃথকীকরণ

(ঘ) বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

(ঙ) হাসপাতাল

(চ) প্রাচীরের পাহারা

(ছ) দ্বাররক্ষী এবং নির্জন বন্দী

(জ) জেল সার্ভেন্ট

(ঝ) ম্যানুফ্যাকচার

(ঞ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

বিধি-৪৩২। যদি কারারক্ষী সহজলভ্য না থাকে, তবে বিশ্বস্ত কোন কয়েদী কর্মচারীকে দিনে এবং রাত্রে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের প্রহরার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৪৩৩। দিনের বেলায় বন্দীরা যখন কারাগারের ভিতরে চলাফেরা করে, তখন বাহিরের প্রাচীরের দিকে নজর রাখার জন্যে কয়েদী কর্মচারীদেরকে প্রাচীরের ভিতরে টহল প্রদান করা সমীচীন হবে।

বিধি-৪৩৪। কারারক্ষী, কয়েদী রক্ষী এবং কয়েদী নৈশ বন্দীদের সাপ্তাহিক ডিউটি রোষ্টার জেলার তৈরী করবেন এবং গার্ড রুমে ঝুলিয়ে রাখবেন। দিনের এবং রাতের ডিউটির একটি রোষ্টারও প্রস্তুত করতে হবে।

বিধি-৪৩৫। রিজার্ভ গার্ড এবং গেইট রক্ষী ব্যতীত দিনের কাজে নিয়োজিত সকল প্রধান কারারক্ষী এবং রক্ষীদেরকে দুইটি স্কোয়াডে বিভক্ত করা হবে। প্রথম স্কোয়াড ওয়ার্ড খোলার সময় কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪৩৬। সকালে ওয়ার্ড খোলার পূর্বে জেলার (এবং প্রয়োজনে ডেপুটি জেলার) এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল প্রধান কারারক্ষী রক্ষীদের নিয়ে কারাগারে একসঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৪৩৭। জেলার (বা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে সর্বপ্রধান কারারক্ষী) যে সকল কয়েদী কর্মচারী ওয়ার্ডে এবং প্রথম রাউন্ডের ডিউটিতে প্রাচীরের প্রহরায় থাকবে তাদেরকে ডেকে উঠাবেন। একজন প্রধান কারারক্ষী কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে লেট্রিনে নিয়ে যাবেন এবং পরে তাদেরকে কারা প্রাচীরের মধ্যে চারিদিকে নিয়োজিত করবেন।

বিধি-৪৩৮ । যখন প্রধান কারারক্ষী জানাবে যে, কারা প্রাচীরের প্রহরা প্রস্তুত তারপর ওয়ার্ড খোলা হবে। প্রধান কারারক্ষী এবং সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষী বন্দীদেরকে গুনবেন । গণনায় সঠিক পাওয়া গেলে বন্দীদেরকে গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী ওভারশিয়ারের নিকট ন্যস্ত করা হবে।

বিধি-৪৩৯ । তারপর একই রক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ারের অধীনে তারা লেট্রিন, বাথিং সারবে এবং খাবার গ্রহণ করবে।

বিধি-৪৪০। সকালের প্যারেড শেষে প্রধান কারারক্ষী বন্দীদের হাজিরা নেবেন এবং গ্যাং সমূহকে তাদের নির্দিষ্ট কাজের স্থানে প্রেরণ করবেন। সকালে যে কয়েদী ওভারশিয়ার বন্দীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তার অধীনেই তারা সারাদিনের জন্যে ন্যস্ত থাকবে।

বিধি-৪৪১৷ প্রত্যেক গ্যাং কারারক্ষী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারীর উপস্থিতিতে গণনা করা হবে এবং তার নাম গ্যাং বইতে লেখা হবে। দিনের বেলায় প্রতিবার দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় অনুরূপভাবে গণনা করতে হবে।

বিধি-৪৪২। প্রাচীরের প্রহরারত কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে দুপুর বেলায় পরিবর্তন করতে হবে এবং তাদের আহার গোসল প্রভৃতির জন্য সাময়িকভাবে অন্য প্রহরা নিযুক্ত করতে হবে ।

বিধি-৪৪৩। বিকালে কাজ বন্ধের ঘন্টা বাজলে দায়িত্বরত কারারক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ার কাজ বন্ধের পর তাদেরকে পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনীয় লেট্রিন এবং বাথিং সারার পর এবং আহার গ্রহণের পর ওয়ার্ডে লক আপ না করার পর্যন্ত তারা ঐ রক্ষীর দায়িত্বে থাকবে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৪৪। গ্যাং তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডের সামনে দুই সারিতে সমবেত হবে।

বিধি-৪৪৫। অতঃপর বন্দীদেরকে লক আপ করা হবে এবং প্রথম নাইট ওয়াচম্যানের দায়িত্বে অর্পণ করা হবে, যে ওয়ার্ডের ভিতরে ওয়াচ করবে।

বিধি-৪৪৬। রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষীর নেতৃত্বে প্রথম নৈশ টহল দল তাদের দায়িত্ব শুরু করবে। জেলার (কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেলার এবং প্রধান কারারক্ষীগণ) বন্দীদেরকে তাদের ওয়ার্ডের ভিতরে গণনা করবেন।

বিধি-৪৪৭। যদি অতিরিক্ত রক্ষী নেয়া হয়, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে ডিউটি করতে হবে। জরুরী প্রয়োজন না পড়লে অতিরিক্ত রক্ষীদেরকে রাতের ডিউটি দেয়া হবে না।

বিধি-৪৪৮। লক-আপের পর ওয়ার্ডের চাবিগুলো সংগ্রহ করা হবে এবং জেলারের সম্মুখে গণনা করা হবে: বন্দীর সংখ্যা এবং চাবির সংখ্যা লক-আপ রিপোর্টে (২৪ নম্বর জেল ফরমে) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৪৪৯। ওয়ার্ড লক-আপের পর প্রত্যেক পৃথক ওয়ার্ডে আটক বন্দীদের মোট সংখ্যা ১২ নম্বর লক-আপ রেজিষ্টারে লিখতে হবে। এ রেজিষ্টারের উদ্দেশ্য হ’ল ওয়ার্ড জনাধিক্য হয়ে গিয়েছে কিনা তা দেখা। রেজিষ্টারে প্রত্যেক মাসের জন্যে একটি পৃষ্ঠা এবং প্রতি দিবসের জন্যে একটি লাইন থাকবে। শিরোনামে বিভিন্ন ওয়ার্ড চিহ্নিত করা লেখা থাকবে, যেমন-‘মহিলা ওয়ার্ড”, “কিশোর ওয়ার্ড”,‘কয়েদী ওয়ার্ড নম্বর-১’ প্রভৃতি।

বিধি-৪৫০। নৈশ প্রহরীর সংখ্যা কারাগারের আকার-আকৃতি এবং আটক বন্দীদের সংখ্য ও প্রকার অনুসারে কম বেশী হতে পারে। এসব বিবেচনায় সময়ে সময়ে কারা মহাপরিদর্শক নির্দেশ প্রদান করবেন।

বিধি-৪৫১। যখন কোন কারারক্ষী ছুটিতে থাকে, কয়েদী রক্ষী তার স্থলে দায়িত্ব পালন করবে। কয়েদী কর্মচারীদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের প্রহরার দায়িত্বে এবং কারাগারের দেয়ালের বাহিরের বন্দীদের প্রহরায় নিয়োজিত করা যাবে না। নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে একজন কয়েদী রক্ষীর সাথে কমপক্ষে দুইজন কারারক্ষী থাকবে।

বিধি-৪৫২ । দেয়ালের প্রহরায় নিয়োজিত প্রহরী কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড এর দিকে দৃষ্টি রাখবেন, এ দিক সেদিক নয়। কয়েদী রক্ষী এবং নৈশ প্রহরীদের যখন রাতে দায়িত্বে না থাকে,তাদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক লক আপ করতে হবে।

বিধি-৪৫৩। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ওয়ার্ডের ভিতরে দায়িত্ব পালনকালে কো বন্দী তার জায়গা বদল করা প্রতিরোধ করবে এবং কোন বিধি লংঘন করে কিনা। লক্ষ্য রাখবে। তারা বন্দীদেরকে গণনা করবে এবং কোন অনিয়মের বিষয়ে টে দলকে জানাবে। কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটলে টহল দল প্রধান কারারক্ষীে ডেকে আনবে, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিধি ৪৫৪-৪৫৫। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৬। রাতের বেলায় কোন ওয়ার্ড খোলার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গেইট বা দরজা আন লক করার পূর্বে একটি চেইন দরজা এবং পোস্টের সাথে এমনভাবে লাগাতে হবে যেন দরজা দিয়ে একবারে মাত্র একজন লোক যাওয়া আসা করতে পারে। কোন যৌথ আক্রমণ বা বিদ্রোহ রোধের জন্যে এটা খুবই জরুরী।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৫৭। রাতের বেলায় টহল দল সার্বক্ষণিক ব্যারাকের বাহিরে চারপার্শ্বে প্রহরায় থাকবে, কোন ভাবেই তারা বসতে পারবে না এবং তাদের স্থান ত্যাগ করবে না। বৃষ্টির সময়ে তাদের ছাতা ব্যবহার করতে হবে। খারাপ আবহাওয়ার অজুহাতে দিনে বা রাত্রে অন্যত্র আশ্রয় নিতে পারবে না (কারাগারের ভিতরে কোন সেন্ট্রি বক্ষ অনুমোদিত হবে না)।

প্রত্যেক টহলদারের হাতে বেত বা লাঠি থাকবে এবং বাতি (টর্চ লাইট) থাকবে। তারা দরজা ঠিক ভাবে আছে কিনা দেখবেন,ওয়ার্ডের ভিতরে তাকাবেন এবং বন্দীরা নিজ নিজ স্থানে আছে কিনা দেখবেন। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ঠিকভাবে সতর্ক রয়েছে কিনা দেখবেন এবং তাদের কাছে বন্দীর সংখ্যা জানতে চাইবেন।

বিধি-৪৫৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৯। দিনে বা রাতে টহলের দায়িত্ব পালনকারী প্রধান কারারক্ষী কারাগারের ভিতরে টহল রক্ষী, কয়েদী নৈশ প্রহরী এবং কয়েদী ওয়াচম্যানদের কাজ ভিজিট করবেন। তিনি ওয়ার্ডের চাবি এবং উইকেটের ভিতরের তালার চাবি তার শরীরের সাথে বেঁধে রাখবেন। কোন বন্দীর গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে সংবাদ প্রদান করবেন।

রক্ষী কিংবা বন্দীদের যারা কোন অনিয়ম সংঘটিত হলে তিনি তা তদন্ত করে দেখবেন এবং লক আপ বইতে রেকর্ড করবেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এমন বিষয় যেমন- পলায়ন, দাঙ্গা,গুলি বা মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি সঙ্গে সঙ্গে জেলারকে জানাবেন।
প্রধান গেইটের সেন্ট্রি দুই গেইটের মাঝখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা এবং উত্তর গেইট বন্ধ আছে কিনা তিনি দেখবেন।

বিধি-৪৬০। যদি সকালের খাবার রান্নার কাজের জন্যে কিছু বন্দীকে ভোরের আগেই ওয়ার্ডের বাহিরে যেতে দিতে হয়, প্রধান কারারক্ষী তাদেরকে যেতে দিবেন এবং একজন কয়েদী রক্ষীর জিম্মায় তাদেরকে ন্যস্ত করবেন। খুব অল্প সময় সাজার মেয়াদ বাকী আছে এমন লোকদেরকে এ কাজের জন্যে বাছাই করতে হবে।

বিধি-৪৬১। কেবল মাত্র অনুমোদিত প্যাটার্নের তালা ব্যবহার করতে হবে। ইন্ডেন্ট মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তালা সরবরাহ করা হবে। প্রধান গেইটের জন্যে তিন ইঞ্চি এবং ওয়ার্ড ও সেলের জন্যে আড়াই ইঞ্চি তালা উত্তম হবে।

বিধি-৪৬২। জেলার এবং ডেপুটি জেলারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার এবং জেলা কারাগারের জন্যে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই বার বিভিন্ন রাত্রে বিভিন্ন সময়ে কারাগার পর্যবেক্ষণের জন্যে বের হবেন। পর্যবেক্ষণ কালে তারা দেখবেন কয়েদী ওয়াচম্যান এবং প্রহরীরা সতর্ক আছে কিনা, টহল ঠিকভাবে হয় কিনা এবং বন্দীরা ঠিকমত আছে কিনা।

পর্যবেক্ষণের রাত এবং সময় পূর্ব থেকে জানানো যাবে না, কিন্তু বিষয়টি জেলারের রিপোর্ট বইতে উল্লেখ থাকবে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কমপক্ষে মাসে দুবার (জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে মাসে একবার) লক-আপের পর কারাগার ভিজিট করবেন এবং বিধি বিধান ঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা দেখবেন এবং মিনিট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class