বন্দীদের পরিচালনার বিধি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের পরিচালনার বিধি।

বন্দীদের পরিচালনার বিধি

 

পরিচ্ছেদ – ডিভিশন বন্দী

 

ডিভিশন ১ বন্দী

 

বিধি-১০৫০।

শ্রেণী বিভাগ।-সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে ৬১৭ বিধিতে নির্দেশিত উপায়ে এবং পটভূমিতে ডিভিশন I এ ভর্তি করতে হবে।

বিধি-১০৫১।

আবাসন।-ডিভিশন । বন্দীদেরকে যখন সম্ভব হবে সেল বরাদ্দ করতে হবে, তবে কারা অপরাধের জন্য আরোপিত শাস্তি ব্যতীত, তাদের কারাবাস কোন ক্ষেত্রেই পৃথক কারাবাসের ন্যায় কোন কিছুর সংশ্লিষ্টতা থাকবে না ।

বিধি-১০৫২।

আসবাবপত্র এবং সরঞ্জাম ।- ডিভিশন | বন্দীদের বরাদ্দকৃত সেলে তাদের সাধারণ সরঞ্জাম থাকবে- একটি চেয়ার, একটি টেবিল,রাত দশটা পর্যন্ত ব্যবহারের জন্যে একটি বাতি, খাদ্য গ্রহণের জন্য এলুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, একটি আয়রন খাট, একটি পাতলা মেট্রেস, দুটি বালিশ, দুটি চাদর, চারটি বালিশের কভার, প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি কম্বল, একটি মশারী, একটি ছোট হাত আয়না এবং চিরুণী।

যদি প্রয়োজন হয়, এই ডিভিশনের প্রত্যেক বন্দীকে একটি টুথ ব্রাশ বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে এবং তার অতিরিক্ত, বন্দীর সাধারণ অভ্যাস এবং কারাগারের আবাসন সুবিধার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজ খরচে অন্যান্য আসবাবপত্র, বেডিং, তৈজসপত্র এবং চুলের তেল প্রভৃতি রাখার জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

বিধি-১০৫৩।

আটক অবস্থায় ভ্রমণ। যখন ডিভিশন | বন্দীর আটক অবস্থায় ভ্রমণ প্রয়োজন হয়, তাদেরকে {দ্বিতীয়} শ্রেণীর ভ্রমণ সুবিধা দেয়া হবে। যদি তারা পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে ভ্রমণ করে তবে দ্বিতীয় শ্রেণী পাবেন। এই শ্রেণীর বন্দী উচ্চ শ্রেণীতে ভ্রমণ করতে চাইলে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে তবে,

অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করবেন। রাতের বেলায় ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দীকে নিজের বেডিং এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেয়া যাবে। যদি বন্দীকে বিপদজনক মনে হয়, তবে একটি রিজার্ভ কামরার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিভিশন I বন্দীর দৈনিক ভাতা হবে {দশ} টাকা ।

 

বিধি-১০৫৪ ।

পোশাক-পরিচ্ছদ ।-প্রত্যেক বন্দী নিজস্ব পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে, তা পর্যাপ্ত ও ব্যবহারের যোগ্য হতে হবে এবং আপত্তিকর হবে না। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে সময়ে সময়ে নিজ খরচে অতিরিক্ত পোশাক-পরিচ্ছদ সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সুযোগে কোন রাজনৈতিক পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি যদি সরকারী খরচে পোশাক-পরিচ্ছদ নিতে আগ্রহী হন, তবে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হবে। বন্দীকে তাদের কাপড় চোপড় ধোয়ার সাবান দেয়া হবে, তবে যদি তিনি নিজে পোশাক- পরিচ্ছদ ধোয়ায় অভ্যস্ত না হন, তবে জেল সুপার, সে সব নিয়মিত ধোয়ার ব্যবস্থা করবেন, এ জন্যে বন্দীকে কোন খরচ প্রদান করতে হবে না ।

{প্রত্যেক ডিভিশন I বন্দ বা ডিভিশন II বন্দীকে পছন্দ মোতাবেক মাসে অনধিক পাঁচ আনা মূল্যের তিনটি টয়লেট সাবান অথবা তার পরিবর্তে দৈনিক এক ছটাকের পাঁচ ভাগের একভাগ পরিমাণ সরিষা বা নারিকেল তেল এবং মাসে একটি টয়লেট সাবান দেয়া হবে।}

নং- ৩৬২ এইচ জে, তারিখ ১৬-২-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১০৫৫।

পরিদর্শকগণ। যে সকল কারাগারে ডিভিশন | বন্দী থাকে, সে সব প্রত্যেক কারাগারের জন্যে সরকার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে নিয়োগকৃত দুইজন বেসরকারী ভিজিটর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিদর্শক বোর্ড গঠন করবেন। অন্যান্য বেসরকারী ভিজিটরগণকে ডিভিশন । বন্দী বা তারা যে সেল বা ওয়ার্ডে থাকেন তা ভিজিট করতে অনুমতি দেয়া হবে

বিধি-১০৫৬।

লেখার সরঞ্জাম। ১০৭৪ বিধিতে বর্ণিত বই, ম্যাগাজিন এবং পত্রিকার অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে এক্সারসাইজ খাতা, পেন্সিল, কলম ও কালি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। এক্সারসাইজ খাতা সাধারণ স্কুলের সম মানের হবে এবং পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া থাকবে। খাতার কোন পাতা নিরুদ্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে কিনা মাঝে মাঝে পরিদর্শন করা হবে। এসব পাতা চিঠি লেখার জন্যে ব্যবহার করা যাবে না।

বিধি-১০৫৭।

চুল ছাঁটাই ।- মেডিকেল অফিসার কর্তৃক কোন বন্দীর চুল ছোট করা বা কামানো প্রয়োজন বলে তার হিস্ট্রি টিকেটে উল্লেখ না করা সাপেক্ষে ডিভিশন | বন্দীরা ৬৫২ বিধিতে বর্ণিত নিয়ম হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হবে ।

 

ডিভিশন ১ বন্দী

 

বিধি-১০৫৮।

খাবার ।-ডিভিশন । প্রাপ্ত বন্দী ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার পাবেন। তা ছাড়া সাধারণ বাধা-নিষেধ ও পরীক্ষা এবং জেল সুপারের অনুমতি সাপেক্ষে তারা নিজ খরচে কোন প্রকার মদ বা লিকার জাতীয় বস্তু ব্যতীত সাধারণ ধরনের আহার সংগ্রহ করতে পারবেন। মদ বা লিকার জাতীয় বস্তু কেবল মাত্র মেডিকেল অফিসারের আদেশে নিজ খরচে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নিজ খরচে যুক্তি সংগত পরিমান সিগারেট ও তামাকের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার একটি গাইড লাইন হিসাবে বিবেচনা করবেন এবং অনুমোদিত স্কেলের মধ্যে সম্ভব রদবদল করবেন।

 

ডিভিশন ২ বন্দী

 

পরিচ্ছেদ – ডিভিশন বন্দী

 

বিধি-১০৫৯।

শ্রেণী বিভাগ।- সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে ৬১৭ বিধিতে নির্দেশিত উপায়ে এবং পটভূমিতে ডিভিশন II এ ভর্তি করতে হবে।

বিধি-১০৬০ ।

আবাসন । – ডিভিশন II বন্দীদেরকে লভ্যতা সাপেক্ষে ডিভিশন | বন্দীদের অনরূপ শর্তে সেল বরাদ্দ করতে হবে, তবে তা না হলে জেল সুপারের বিবেচনা মতে তাদেরকে একই শ্রেণীর সঙ্গে রাখতে হবে ।

বিধি-১০৬১।

আসবাবপত্র।- ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগারের সাধারণ বেডিং ছাড়াও একটি পাতলা মেট্রেস, একটি বালিশ, দুটি বিছানা চাদর, দুটি বালিশের কভার এবং একটি মশারী দেয়া হবে । তাদেরকে একটি টুল বা চেয়ার, একটি ছোট টেবিল বা সেলফ, এবং রাত দশটা পর্যন্ত তাদের সেল বা ওয়ার্ডে একটি বাতি দেয়া হবে ।

বিধি-১০৬২।

আটক অবস্থায় ভ্রমণ। যখন ডিভিশন II বন্দীর আটক অবস্থায় ভ্রমণ প্রয়োজন হয়, তাদেরকে {দ্বিতীয়} শ্রেণীর ভ্রমণ সুবিধা দেয়া হবে। যদি তারা পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে ভ্রমণ করে তবে দ্বিতীয় শ্রেণী পাবেন। রাতের বেলায় ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দীকে নিজের বেডিং এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেয়া যাবে। যদি বন্দীকে বিপদজনক মনে হয়, তবে একটি রিজার্ভ কামরার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিভিশন II বন্দীর দৈনিক ভাতা হবে (দশ) টাকা ।

বিধি-১০৬৩।

পোশাক-পরিচ্ছদ ।-(১) ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হবে।

(২) ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দী কয়েদী ওভারশিয়ার বা রক্ষী হিসাবে নিয়োগ পেলে, প্লেন সুতির পোশাক দেয়া হবে।

(৩) ডিভিশন II প্রাপ্ত এ এবং বি শ্রেণীর বন্দীকে বুকের ডান পাশে ২ ইঞ্চি x ২ ইঞ্চি সাইজের এ শ্রেণীর জন্য সবুজ এবং বি শ্রেণীর জন্য লাল রঙের সনাক্তকরণ বেজ লাগাতে হবে। 

 

বিধি-১০৬৪।

সেল প্রভৃতি পরিষ্কার রাখা। -ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীগণ তাদের সেল,ওয়ার্ড,তৈজসপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বেডিং পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখবে। তাদেরকে নিজেদের এবং পোশাক-পরিচ্ছদ ধোয়ার জন্য সাবান ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। তবে, জেল সুপারের বিবেচনায়,যে সকল বন্দী তাদের তৈজসপত্র এবং পোশাক পরিচ্ছদ ধোয়ায় অভ্যস্ত নয়,সে সব ধোয়ার ব্যবস্থা করবেন ।}

নং- ২৭৬৪ এইচ জে তারিখ ৩০-১১১৯৪০ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১০৬৫।

লেখার সরঞ্জাম। ১০৫৬ বিধিতে ডিভিশন। বন্দীদেরকে প্রদত্ত সুবিধা ডিভিশন II বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তবে এক্সারসাইজ খাতা, পেন্সিল, কলমের মূল্য নিজেদেরকে বহন করতে হবে।

বিধি-১০৬৬।

চুল ছাঁটাই।- ৬৫২ বিধি সাপেক্ষে, ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে চুল ছাঁটাই করতে হবে এবং দাড়ি, গোঁফ মুণ্ডন করতে হবে। 

 

ডিভিশন ২ বন্দী

 

বিধি- ১০৬৭।

খাবার।- ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীগণ ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার পাবেন ।{সদাচারকারী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নিজ খরচে যুক্তি সঙ্গত পরিমাণ বিড়ি,সিগারেট,পাইপ টোবাকো এবং তামাক পাতা সরবরাহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।} জেল সুপার বর্ণিত স্কেল একটি গাইড লাইন হিসাবে বিবেচনা করবেন এবং অনুমোদিত স্কেলের মধ্যে এটাকে যথা সম্ভব রদবদল করবেন।

নং- ৫০ এইচ জে তারিখ ১৩-১-১৯৫৪ মূলে সংযেজিত।

 

সাধারণ বন্দী আইন

 

পরিচ্ছেদ – সাধারণ বন্দী

 

বিধি-১০৬৮।

কারাগার এবং আবাসন।-(১) ডিভিশন । বন্দীদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে কিংবা এই শ্রেণীর বন্দীদের জন্যে বিশেষভাবে ব্যবহৃত কারাগারে আটক রাখতে হবে। ডিভিশন II বন্দীদেরকেও সাধারণত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখতে হবে, তবে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশ মোতাবেক অন্য কারাগারেও তাদেরকে রাখা যাবে, তবে শর্ত থাকে যে, তাদেরকে যে কারাগারে প্রেরণ করা হবে সে কারাগারে এ ধরনের প্রয়োজনীয় সুবিধাদি থাকতে হবে।

(২) যে কারাগারে অনুরূপ সুবিধা নেই, যখন কোন ডিভিশন। বা II প্রাপ্ত বন্দী ভর্তি হয়, জেল সুপার তাকে অন্তরীণ রাখার স্থান সম্পর্কে আদেশ প্রদানের উদ্দেশ্যে তার ডিসক্রিপটিভ রোল কারা মহা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী আপীল করতে চায় তাকে তার বন্ধু-বান্ধব বা আইনজীবির সঙ্গে পরামর্শের সুবিধার জন্যে দুই বা তিন দিন আটক রাখা যেতে পারে। তবে আপীলের ফলাফল জানা পর্যন্ত তাকে ঐ কারাগারে আটক রাখা যাবে না ।

(৩) ডিভিশন বা II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন III বন্দীদের থেকে পৃথক ওয়ার্ডে রাখতে হবে, বিনাশ্রম বন্দীদেরকে সশ্রম বন্দীদের থেকে এবং স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। আবাসনের সুবিধা অনুযায়ী এ সকল ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-১০৬৯।

টাস্ক।-জেল সুপার ডিভিশন I ও II বন্দীদেরকে যে কাজ দেয়া হয়েছে তারা সে সকল কাজ ঠিক ভাবে করছে কিনা, মেডিকেল পটভূমি, সামর্থ্য,চরিত্র, পূর্ববর্তী জীবনমান, প্রাক পরিচিতি বিবেচনা পূর্বক সতর্কতার সাথে যাচাই করে দেখবেন। বন্দীগণ অধ্যায়ন বা বিনোদনে সময় বরাদ্দের পূর্বে তাদেরকে প্রদত্ত কাজ সম্পূর্ণ ভাবে সমাপ্ত করবেন।

বিধি-১০৭০।

বন্দীদের নিকট দ্রব্যাদি সরবারাহ করা।- কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহ করা হবে না, যে পর্যন্ত তা তার হিস্ট্রি টিকেটে তা লিপিবন্দ করা না হয় এবং জেল সুপার অনুমোদন না করেন ।

বিধি-১০৭১।

পৃথক রান্না।- ডিভিশন I ও II ভূক্ত বন্দীদের খাবার ডিভিশন III

বন্দীদের থেকে পৃথক ভাবে রান্না করতে হবে । 

বিধি-১০৭২।

সাক্ষাত । -ডিভিশন I ও II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে তাদের সাজা ভোগ কালে নিম্নোক্ত বিধি সমূহ অনুযায়ী ব্যতীত সাক্ষাত করতে দেয়া হবে না ঃ-

(1) জেল সুপারের অনুমতিক্রমে ডিভিশন I প্রাপ্ত বন্দীদেরকে ১৫ দিনে একবার এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে মাসে একবার পারিবারিক ও সাংসারিক বিষয়াদি আলোচনার উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

(2) {এ ধরনের সাক্ষাত জেলার বা জেল সুপার কর্তৃক নিয়োজিত একজন ডেপুটি জেলারের উপস্থিতিতে হবে। কোন ব্যক্তি অনুরূপ সাক্ষাতের সময় বন্দীর সাথে রাজনৈতিক ধরনের বা পারিবারিক ও সাংসারিক বিষয়াদির বাহিরে কোন আলোচনা করবেন না এবং এ বিধানের বরখেলাপকারী ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ৪২ ধারা মোতাবেক দণ্ডনীয় হবে।}

(3) কোন ব্যক্তিকে বন্দী সম্পর্কে রাজনৈতিক উস্কানি বা পত্রিকায় ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ নেয়ার উদ্দেশ্যে সাক্ষাত করতে চায় মর্মে সন্দেহ করা হলে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হবে না । 

(8) যদি সাক্ষাতে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়বস্তু বা বন্দী থেকে প্রাপ্ত পত্রের বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন এবং সরকার কোন নির্দিষ্ট বন্দীকে প্রদত্ত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুবিধা রহিত করবেন কিনা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

(৫)

অন্যান্য ক্ষেত্রে জেল সুপার সপ্তদশ অধ্যায়ে বর্ণিত সাক্ষাতের বিধান অনুসরণ করবেন।

নং- ১৯৬৩ এইচ জে তারিখ ২১-৫-১৯৩৮ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৭৩।

পত্র এবং যোগাযোগ ।- ডিভিশন I ও II প্রাপ্ত বন্দীদের থেকে বা তাদের কাছে কোন পত্র বা যোগাযোগ করার অনুমতি দেয়া হবে না। তবে সদাচারকারী ডিভিশন । বন্দীদেরকে পনর দিনে একবার এবং ডিভিশন II বন্দীদেরকে মাসে একবার, সাক্ষাতকারে যে সকল শর্তাদি পালন করা হয় অনুরূপ শর্তে, { আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের} নিকট পত্র প্রেরণ বা তাদের নিকট প্রেরিত পত্র গ্রহণের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি জরুরী ক্ষেত্রে জেল সুপার এ বিধি শিথিল করতে পারেন।

পত্রের বিষয় বস্তু সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়ে সীমিত থাকবে, কারাগারের প্রশাসন বা শৃংখলা, বা অন্য কোন বন্দী বা রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকবে না। এ সকল পত্র জেল সুপার কর্তৃক সেন্সর সাপেক্ষ হবে এবং কোন পত্র সম্পর্কে জেল সুপারের সন্দেহ হলে তিনি তা অপরাধ তদন্ত বিভাগে যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন, অনুরূপভাবে উক্ত বিভাগ কোন ডিভিশন | ও II প্রাপ্ত বন্দীর কোন পত্র পরীক্ষার জন্য চেয়ে নিতে পারে।

{নোট- একজন বন্দী জেল সুপারের অনুমতিক্রমে, একটি সাক্ষাতের পরিবর্তে একটি পত্র দিতে পারেন কিংবা একটি পত্রের পরিবর্তে একটি সাক্ষাততের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

নং-১৪১৪ এইচ জে, তারিখ ২৭-৬-১৯৪৬ মূলে সংশোধিত । নং-২৭৪৮ এইচ জে তারিখ ২৮-১১-১৯৪০ মূলে নোট সংযোজিত ।

বিধি-১০৭৪ ।

বই এবং পত্রিকা।-(১) ডিভিশন I বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগার লাইব্রেরী হতে কিংবা বাহির হতে সর্বাধিক ৫ টি বই এক সঙ্গে রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে বাহির থেকে সাময়িকী ও ম্যাগাজিন সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন বই বা ম্যাগাজিনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেল সুপারের কোন সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে পারেন। {} সরকারের খরচে সাময়িকী কারাগার সংবাদপত্র রূপে প্রকাশ করা যেতে পারে এবং শিক্ষিত ডিভিশন।

বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীদের নিকট সরবরাহ করা যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয়, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা হতে {দৈনিক বা} সাপ্তাহিক পত্রিকা দেয়া যেতে পারে,তবে শর্ত থাকে যে জেল সুপার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কোন লেখা সেন্সর করতে পারবেন।

(২) প্রত্যেক ডিভিশন। বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নিজ নিজ ধর্মের বই রাখতে পারবেন, এ সকল ধর্মীয় বই পূর্ব অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৫ টি বইয়ের অতিরিক্ত হবে।

{নোট- ডিটেন্যু এবং রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যারা কোন পাবলিক লাইব্রেরীর সদস্য, তাদেরকে লাইব্রেরী হতে বইয়ের জন্য সকল রিকুইজিশন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।}

নং ৪৩১১ এইচ জে তারিখ ২১-১১-১৯৩৮ এবং নং ৩৩ এইচ জে তারিখ ১০-৫-১৯৪০ মূলে সংশোধিত ।

নং- ৭৩৩ এইচ জে, তারিখ ২৩-২-১৯৪২ মূলে নোট সংযোজিত । 

বিধি-১০৭৫।

ব্যায়াম। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেডিকেল অফিসার যেরূপ প্রয়োজন মনে করেন সেরূপ ভাবে প্রত্যেক বন্দীকে সকালে মুক্ত বাতাসে ব্যয়াম করতে হবে।

বিধি-১০৭৬।

ব্যারাক খোলা।- ১২২৬ বিধি সাপেক্ষে ব্যারাক এবং সেল সারা বছর প্রত্যহ ভোরে খোলা হবে। খোলার বিশ মিনিট আগে ঘন্টা বাজানো হবে এবং ওয়াচম্যান বন্দীদেরকে ডেকে উঠাবে। প্রত্যেক বন্দী তার বিছানা পত্র সুন্দরভাবে ভাঁজ করে রাখবে এবং ওয়ার্ডের বাহিরে নেয়ার পূর্বে গণনার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ডের মাঝখানে সারিবদ্ধভাবে বসবে। একই ভাবে সেলের বন্দীরা সেলের গেইটের দিকে মুখ করে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। কোন বন্দী অসুস্থ কিনা বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সাথে দেখা করতে চায় কিনা কয়েদী কর্মচারারীরা তা নিশ্চিত করবে।

বিধি-১০৭৭।

লেট্রিন ব্যবস্থাপনা।-

(ক) যদি সম্ভব হয়, ডিভিশন। বা II ভুক্ত বন্দীদের জন্য পৃথক লেট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে বন্দীরা জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে নিজ খরচে একটি কামরা এবং কমোডের ব্যবস্থা করতে পারবে। 

(খ) ওয়ার্ড খোলার পর লেট্রিনের সংখ্যা অনুসারে বন্দীরা লেট্রিনে যাবে, অন্যরা তখন ওয়ার্ডে অবস্থান করবে। অসুস্থ বন্দীদেরকে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট ওয়ার্ডে দেখবেন। 

(গ) বন্দীদেরকে কমপক্ষে ৫ মিনিট করে এবং প্রয়োজনে আরো বেশী সময় লেট্রিন ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে। তবে সকল লেটিন পর্ব আধ ঘন্টার মধ্যে শেষ করতে হবে ।

বিধি-১০৭৮।

গোসল এবং ধোয়ার ব্যবস্থা।-

(ক) ডিভিশন বা II ভুক্ত বন্দী- দের জন্য পৃথক গোসলের স্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। লেট্রিন শেষে বন্দীরা গোসলের স্থানে যাবে, সেখানে { তারা } হাতমুখ ধুবে এবং ডিভিশন । বন্দী গোসল সেরে নিতে পারবে। প্রত্যেক বন্দীর ন্যায় ডিভিশন। বন্দীও গোসলের জন্য ১০ মিনিট সময় পাবে।

(খ) ধোয়া এবং গোসলের পর, সকালের খাবার পরিবেশন করা হবে। এ সময় জেলার প্রয়োজনে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করে গ্যাংয়ের কোন পরিবর্তন করে নিতে পারবেন ।

(গ) সকালের খাবার গ্রহণের পর বন্দীদের রোল ডাকা হবে এবং বন্দীরা তাদের কাজের স্থানে চলে যাবে।

নং- ২৯০০ এইচ জে তারিখ-১৪-১২-১৯৪০ মূলে সংশোধিত ।

 

বিধি-১০৭৯।

শোভনীয় ব্যবহার।- ডিভিশন | বা II ভুক্ত বন্দীগণ সব সময় শোভনীয় ব্যবহার করবেন,তবে কর্মকর্তা বা পরিদর্শকগণকে স্যালুট দিতে হবে না এবং ডিভিশন I ভূক্ত বন্দীদেরকে সারি বদ্ধভাবে হাটতে হবে না। তবে তাদেরকে জেল সুপার, জেলার, মেডিকেল অফিসার, ডেপুটি জেলার, মেডিকেল অফিসার এবং পরিদর্শকগণের সামনে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে, তবে করমর্দন করার প্রয়োজন হবে না। ডিভিশন। ভুক্ত বন্দীদেরকে খাবার গ্রহণের সময় সারিবদ্ধভাবে বসতে হবে না।

যদি ডিভিশন I বা II ভুক্ত কোন কয়েদী কর্মচারী না থাকে তবে জেল সুপার একজন বিশ্বস্ত ( অনভ্যাসগত) সাধারণ কয়েদী কর্মচারীকে এই শ্রেণীর বন্দীদের কাজের দায়িত্ব প্রদান করবেন, তবে যথাসম্ভব বন্দীদেরকে বেতনভূক রক্ষীর প্রহরায় রাখতে হবে।

বিধি-১০৮০।

সরঞ্জামাদি।- বন্দীদেরকে তাদের সরঞ্জামাদি সঙ্গে বহন করতে হবে না। কাজের সময় সরঞ্জামাদি ওয়ার্ডে বা সেলে কয়েদী কর্মচারীর দায়িত্বে রেখে আসতে হবে।

বিধি-১০৮১।

দুপুরের খাবার এবং ধোয়ার ব্যবস্থা।- বন্দীদেরকে শেড বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে খাবার দেয়া হবে। দুপুরের ঘন্টা বাজার পর বন্দীরা খাবার শেডে যাবে। তারপর তারা বিধি ১০৭৮ 

(ক) বর্ণিত গোসলের স্থানে যাবে। এ সময় সকল ডিভিশনের বন্দীদেরকে গোসলের অনুমতি দেয়া হবে। গোসলের পর তারা খাবার শেডে চলে আসবে এবং একজন কয়েদী কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে তাদেরকে খাবার দেয়া হবে। {তারা নিজেদের বাসন কোসন পরিষ্কার করবে, তবে জেল সুপার সাধারণ শ্রেণীর কোন বন্দীকে সে সকল বন্দীদের কাজে লাগাতে পারবেন, যারা বাসন কোসন ধোয়ায় অভ্যস্ত নয়।}

নং-২৭৬৪ এইচ জে তারিখ ৩০-১১-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৮২।

কাজের শুরু এবং বিরতি ।- দুপুরের পরে ঘন্টা বাজার পর বন্দীরা কাজ শুরু করবে এবং বিকালে পুনরায় ঘন্টা বাজার পর কাজ বন্দ করবে এবং সকালের ন্যায় চলে যাবে। {গরম আবহাওয়ায় ডিভিশন। বন্দীদের ন্যায় ডিভিশন II ভুক্ত বন্দীদেরকেও জেল সুপারের বিবেচনামতে এবং পানির পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে গোসলের সুযোগ দেয়া যাবে। }

নং- ২৯৫০ এইচ জে তারিখ ১৪-১২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৮৩।

নাইট ল্যাট্রিন। প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি নাইট ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা থাকবে এবং সৌন্দর্যের খাতিরে তা পর্দা দ্বারা আড়াল করা থাকবে। কেবল মাত্র আমাশয় আক্রান্ত বন্দীরা প্রকৃত প্রয়োজনে নাইট ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারবে।

বিধি-১০৮৪।

অভিযোগ। অভিযোগ শুনার জন্য সোমবার সকালে প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে,কিন্তু তা কোন বন্দীকে জেল সুপারের সঙ্গে আইনগত অভিযোগের বিষয়ে অন্য সময়ে সাক্ষাতের সুযোগ হতে বঞ্চিত করবে না ।

বিধি-১০৮৫।

কাজের সময় নীরবতা।- কেবল মাত্র কাজের বিষয়ে আলাপ করার প্রয়োজন ব্যতীত কাজের সময় নীরবতা বজায় রাখতে হবে। জোরে কথা বলা, গান করা বা ঝগড়া করা নিষেধ, তবে বন্দীরা শান্তভাবে কাজের সময় পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবে। লক আপ হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত বন্দীরা লাইব্রেরী থেকে দেয়া বই শব্দ করে পড়তে পারবে।

বিধি-১০৮৬।

অসদাচরণ। অসদাচরণের কারণে জেল সুপার এ বিধি সমূহে প্রদত্ত সুবিধা থেকে কোন বন্দীকে বঞ্চিত করতে পারেন এবং তিন মাসের বেশী সময়ের জন্যে হলে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে। কোন বন্দীর ডিভিশন। বা ডিভিশন II সুবিধা প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত ।

বিধি-১০৮৭।

পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভৃতি এবং মুক্তির ক্ষেত্রে।-(১) ডিভিশন। বা ডিভিশন II বন্দীদেরকে ৫৭৮ এবং ৫৭৯ বিধির বিধান সাপেক্ষে একটি সার্ট,ধুতি এবং টুপি বা পাগড়ী, কিংবা তার পরিবর্তে একটি কোট, একজোড়া ট্রাউজার এবং পশমী টুপি বন্দীর পছন্দ অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে এবং ডিভিশন। বন্দীর ক্ষেত্রে একটাকা চার আনা এবং ডিভিশন II বন্দীর ক্ষেত্রে বার আনা দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে।

{যে সব বন্দীর ব্যবহার যোগ্য এক জোড়া স্যাণ্ডেল বা জুতা কারাগারে জমা দেয়া নেই,তাদেরকে এক জোড়া স্যান্ডেল বা জুতা দেয়া যেতে পারে (বন্দী কর্তৃক কারাগারে ব্যবহারকৃতগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে)। }

(২) মুক্তি প্রাপ্ত ডিভিশন | বা ডিভিশন II বন্দী নিজের বাড়ীর উদ্দেশ্যে ট্রেনে ভ্রমণের প্রয়োজন হলে তাদেরকে রেলওয়ে ক্রেডিট নোট পদ্ধতিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকেট দেয়া হবে ।

নং- ৬ এইচ জে তারিখ-১৯-৪-১৯৪০ মূলে সংযোজিত । III

বিধি-১০৮৮ ।

ওজন গ্রহণ।- ডিভিশন I বা ডিভিশন II বন্দীদেরকে ১২১৬ বিধি সাপেক্ষে সার্ট, ট্রাউজার বা ধুতি এবং মোজা পরা অবস্থায় ওজন গ্রহণ করা যাবে। ওজনের সময় অন্য সকল পোশাক-পরিচ্ছদ বাদ দিতে হবে।

বিধি-১০৮৯।

অন্য সকল ক্ষেত্রে জেল কোড মূখ্য হবে।- ডিভিশন ] বা ডিভিশন II বন্দীদের অন্য সকল বিষয়ে, যদি ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকে, জেল কোডের সাধারণ বিধান অনুযায়ীই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিজের বিবেচনায় জেল কোডের কোন বিধানের রূপান্তর,শিথিল বা পরিবর্তনের কোন ক্ষমতা জেল সুপারের নেই ।

বিধি-১০৯০।

সেল এবং ওয়ার্ডে বিধি সমূহের সারাংশ ঝুলিয়ে রাখতে হবে।- ডিভিশন I এবং ডিভিশন II বন্দীদের জন্য প্রযোজ্য শৃঙ্খলা এবং আচরণ, পুরস্কার এবং শাস্তি সংক্রান্ত বিধি সমূহের সারাংশ জেল সুপার প্রত্যেক সেল এবং ওয়ার্ডে ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবেন।

 

ডিভিশন ৩ সাধারণ

 

বিধি-১০৯১।

কতিপয় সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আন্দামান বদলির যোগ্যতা।- অকার্যকর। 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

বিধি-১০৪৬।

যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন এবং অন্য বন্দীদের থেকে তাকে পৃথক রাখা প্রয়োজন কিনা সে সম্পর্কে মতামত প্রদান করবেন।

বিধি-১০৪৭।

যখন মেডিকেল অফিসার কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছে মর্মে রেকর্ড করেন এবং ঐ বন্দীকে জরুরী ভিত্তিতে অন্যদের থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন মর্মে মতামত প্রদান করেন, তখন জেল সুপার বন্দীকে অন্যত্র স্থানান্তরের আদেশের জন্য বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক পঞ্চবিংশ অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে বন্দীকে এমন কোন কারাগারে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করবেন যেখানে কুষ্ঠ রোগীদেরকে অন্তরীণ রাখা হয়।

বিধি-১০৪৮ ।

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে পূর্ব বিধি মতে কোন কারাগারে বদলি করার পর সে যদি মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যুর হিসাব প্রেরণকারী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড করা হবে।

টীকা-১।

পূর্বে অবিভক্ত বাংলায় কুষ্ঠ রোগীদেরকে মেদেনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হত। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যক্ষা রোগীদের জন্যে বিশেষ ওয়ার্ড রয়েছে, তবে কুষ্ঠ রোগীদের জন্যে বিশেষ কোন ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোন কারাগারে নেই।

 

টীকা-২।

পূর্বে কুষ্ঠ রোগকে অনিরাময় অযোগ্য মনে করা হত। বর্তমানে কুষ্ঠ রোগ সহজে নিরাময় যোগ্য। তবে কুষ্ঠ রোগীদের সঙ্গে অন্যদের মেলামেশায় প্রবল আপত্তি লক্ষণীয়, তাই কুষ্ঠ রোগীকে পৃথক রাখাই শ্রেয়।

বিধি-১০৪৯।

কোন বিচারাধীন বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে মেডিকেল অফিসার তাকে পৃথক রাখার সুপারিশ করলে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কুষ্ঠ রোগীদের কারাগারে স্থানান্তরের সুপারিশ করলে বা মুক্তি প্রদানের আদেশ পাওয়া গেলে, স্থানান্তর বা মুক্তি স্থগিত রাখা হলে, তাকে পৃথক একটি সেলে আটক রাখতে হবে, তবে তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়। সে অন্য বন্দীদের সাথে কথা বলতে পারবে, তবে মেলামেশা করতে দেয়া হবে না।

এ ধরনের কক্ষ পরবর্তীতে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পূর্বে সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণ মুক্ত করতে হবে, দেয়াল ঘষামাজা করে চুনকাম করতে হবে। কক্ষের বেডিং পত্র অন্য কোন কুষ্ঠ রোগী ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। কোন সিভিল বন্দী কুষ্ঠ চিহ্নসহ কারাগারে ভর্তি হলে, তাকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশের জন্যে সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

পৃথক রাখার আদেশ হয়েছে, এমন কোন কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্ব দিন পুলিশের নিকট রিপোর্ট করতে হবে, যাতে তারা ১৮৯৮ সালের ৩ নং আইনের ৭ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তির আদেশ প্রসঙ্গে বিধি ৮৫১ অনুসরণ করতে হবে।

পাগল বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পাগল বন্দী

পাগল বন্দী

 

পাগল বন্দী

 

বিধি-১০২৪।

যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসাবে সন্দিগ্ধ এবং যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্থ হিসাবে পরিচিত, তাদেরকে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে এবং ৫ শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে :-

(১) কোন অপরাধ করেনি এমন ব্যক্তি যাকে ১৯১২ সালের পাগল আইনের আওতায় পাগল সন্দেহে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;

(২) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত এমন ব্যক্তি যাকে পাগল সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;

(৩) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত কিন্তু নিজেকে নিরাপরাধ বলে দাবী করার মানসিক সামর্থ্যহীন ব্যক্তি যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটক রাখা হয়েছে;

(৪) কোন অপরাধ সংঘটন করেছে কিন্তু অপরাধ সংঘটন কালে পাগল ছিল বিধায় খালাস প্রাপ্ত ব্যক্তি, যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বা সরকারের সদিচ্ছায় আটক রাখা হয়েছে।

(৫)সে সকল ব্যক্তি যারা দণ্ডের পরে পাগল হয়েছে এবং কারাগারে ভর্তি হয়েছে।

শ্রেণী (১) ভুক্ত ব্যক্তিগণ নিরাপরাধ পাগল । অন্যান্য শ্রেণীর ব্যক্তিগণ ফৌজদারি পাগল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

টীকা-১।

ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন যে, আসামী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ, তা হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-২।

দায়রা আদালতের বিচারের সময় কোন ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৫, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-৩ ।

আদালত যদি মনে করেন যে, জামিন প্রদান করা উচিত নয় তা হলে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সে রূপ স্থানে উম্মাদ আসামীকে নিরাপদ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে রিপোর্ট দিবেন (ধারা -৪৬৬, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-৪।

১৯১২ সালের উম্মাদ আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুসারে ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে আসামীকে কোন পাগলা গারদে আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা -৪৭১, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

বিধি-১০২৫ ।

যখন কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন সন্দিগ্ধ পাগল বন্দীকে পরীক্ষা করার জন্যে মেডিকেল অফিসারকে অনুরোধ করেন, ঐ অনুরোধের একটি কপি জেল সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যাতে ঐ পরীক্ষা কালে পাগল বন্দী নিজের বা অন্যদের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মতে জেল সুপার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।

বিধি-১০২৬।

১৯১২ সালের পাগল আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক কোন নিরাপরাধী সন্দিগ্ধ পাগল ব্যক্তিকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে অনধিক ১৫ দিনের জন্য আটক রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; তবে মেডিকেল অফিসার যদি সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, ঐ আইন মোতাবেক পর্যবেক্ষণের জন্যে পুনরায় আটক রাখা প্রয়োজন তা হলে ম্যাজিষ্ট্রেট আটকের মেয়াদ প্রথম আটকের তারিখ থেকে ত্রিশ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।

এ মেয়াদ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার ম্যাজিষ্ট্রেট বা যে কর্মকর্তার আদেশে আটক রাখা হয়েছে তাকে জানাবেন যে, এই আইনের আওতায় অনুমোদিত আটক রাখার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং আটক ব্যক্তিকে খালাস দেয়ার জন্যে বা মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন। যদি মেয়াদ শেষ হবার পর ৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায় এবং জেল সুপার আদালত হতে কোন আদেশ না পেয়ে থাকেন, তবে তিনি বিহিত ব্যবস্থার জন্যে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

কোন নিরাপরাধী পাগল ব্যক্তিকে ত্রিশ দিনের বেশী কারাগারের আটক রাখার প্রত্যেক ক্ষেত্রে জেল সুপার কারা মহা পরিদর্শককে বিষয় সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

টীকা-

পাগল সন্দেহে কোন ব্যক্তিকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে ঐ ব্যক্তি পাগল কিনা তা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ঐ ব্যক্তিকে কোন সুবিধাজনক স্থানে অনধিক দশ দিন আটক রাখার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন। ম্যাজিষ্ট্রেট একই উদ্দেশ্যে সময়ে সময়ে ঐ ব্যক্তিকে একসঙ্গে অনধিক দশ দিন করে পুনরায় আটকের অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু কোন ব্যক্তিকে এই আইনে প্রথম আটকের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা-১৬, পাগল আইন, ১৯১২)।

বিধি-১০২৭।

নিরাপরাধী পাগলদেরকে কারাগারের সকল পরিসংখ্যান হতে বাদ রাখা হবে এবং তাদের ভরণ পোষণ এবং পোষাক (যদি দেয়া হয়) ও মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের খরচ ওয়ারেন্ট প্রদানকারী আদালত হতে আদায় করতে হবে।

বিধি-১০২৮।

শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত ফৌজদারি পাগল ব্যক্তিদেরকে • মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিষ্ট্রেট বা আদালতের আদেশে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে; এবং শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত কোন পাগলকে কোন কারাগারে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখা হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে।

বিধি-১০২৯।

(১) কারাগারে আটক কোন বন্দীর পাগল হবার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে, জেল সুপার ঐ বন্দীকে ৭৪০ বা ৯৯৩ বিধিতে বর্ণিত পদ্ধতিতে একটি সেলে মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করবেন। (২) যদি কোন সন্দিগ্ধ পাগল-

(ক) একজন বিচারাধীন বন্দী হলে জেল সুপার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেটকে অনুরোধ জানাবেন;

(খ) একজন মৃত্যুদণ্ড আদেশ প্রাপ্ত বন্দী হলে ৯৯৩ বিধি মোতাবেক জেল সুপার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন;

(গ) কোন আদালতের দণ্ড আদেশ মোতাবেক আটক বা অন্তরীণ ব্যক্তি হলে যে জেলা হতে আদেশ দেয়া হয়েছে সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে নির্ধারিত ফরমে বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

নোট- ডিসক্রিপটিভ রোল সাধারণত: ১৪ দিনের মধ্যে গৃহীত হবে। বিধি-১০৩০। কোন বন্দী কারাগারে ভর্তি হবার পর পাগল হয়ে গেলে বন্দীকে কোন মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে সরকারের আদেশ লাভের উদ্দেশ্যে। জেল সুপার অবিলম্বে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনি দুই কপি করে প্রেরণ করবেন-

(১) একটি ডিসক্রিপটিভ রোল ‘সি’, (বেঙ্গল ফরম নম্বর ২১৬);

(২) বন্দীর পাগল হওয়া সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট (ফরম নম্বর ২১৫);

(৩) বন্দীর স্থানান্তরের উপযুক্ততা সম্পর্কে সার্টিফেকেট, (জেল ফরম

(৪) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি ডিসক্রিপটিভ রোল (ফরম নম্বর ৫০৬৯)। নোট- যদি পাগল ব্যক্তি উগ্র, ভয়ংকর, বা আত্মহত্যা প্রবণ হয় সার্টিফিকেটে তার উল্লেখ করতে হবে।

 

বিধি-১০৩১।

কোন পাগল বন্দীকে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে নির্দেশ প্রদান করা হলে জেল সুপার তাকে প্রেরণের সময় আদেশের কপি,হিস্ট্রি সিট, মেডিকেল অফিসার প্রদত্ত স্থানান্তরের জন্যে উপযুক্ততার দুই কপি সার্টিফিকেট এবং পাগল বন্দী যদি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হয় তবে দণ্ডের মূল ওয়ারেন্টের কপি এবং ৮৭২ বিধিতে বর্ণিত অন্যান্য দলিলপত্র সঙ্গে দিবেন। কোন পাগলকে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়া যাবে না,

যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করেন যে, সে শারীরিক বা মানসিক ভাবে স্থানান্তরের উপযুক্ত। ঐ সার্টিফিকেটের একটি কপি তিনি ডাক যোগে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের সময় প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং তাকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

টীকা-

অপরাধী এবং অনিষ্টকর নয় এমন সনাক্তকৃকত পাগলকে পাগলা গারদে এস্কট করে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ সাদা কাপড় পরিধান করবে(প্রবিধান ৭২৪,পিআরবি)।{বিধি-১০৩১এ। যদি মানসিক হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হয়, পাগল ব্যক্তিকে কোন কারাগারে আটক রাখতে হবে। তাকে কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শককে অনুরোধ জানাবেন।

কারা মহাপরিদর্শক হতে অনুমতি পাওয়া গেলে ১০৩১ বিধিতে বর্ণিত প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করে তাকে স্থানান্তর করতে হবে। গ্রহণকারী কারাগারে পাগল ব্যক্তিকে যে তারিখে বা সময়ে গ্রহণ করতে হবে তার আগাম সংবাদ টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে যাতে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাকে গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত থাকেত পারেন।

বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগল ব্যক্তির মেডিকেল হিস্ট্রির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো আগেই প্রেরণ করতে হবে। বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগলকে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রেরণকারী কারাগারের মেডিকেল অফিসার বন্দীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় উপায় নির্ধারণ করে দিবেন। পাগল ব্যক্তি যাতে নিজের বা স্কটের বা অন্য কারো ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি লক্ষ্য রাখবেন।

কারাগারে আগমনের পর জেলার বা ডেপুটি জেলার গাগল বন্দীকে ভর্তি করার পূর্বে তার পূর্ববর্তী কারাগারের হিস্ট্রি টিকেট ভাল ভাবে পর্যালোচনা করে দেখবেন। বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে, যিনি তাকে পরীক্ষা করে এবং তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আটক রাখার নিরাপত্তা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করবেন। উগ্র প্রকৃতির পাগল বন্দীকে কারাগারে থাকা অবস্থায় বা কারাগার হতে কোথাও নেয়ার সময় সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে।

বিধি-১০৩২ ।

প্রয়োগ নেই।

বিধি-১০৩৩।

যখন কোন পাগল মহিলাকে কোন কারাগারে প্রেরণ বা কারাগার হতে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় বা মুক্তির কারণে আত্মীয় স্বজনের নিকট অর্পণ করা হয়, তখন অবশ্যই একজন মহিলা কারারক্ষী বা সঙ্গী থাকতে হবে।

বিধি-১০৩৪ ।

সরকারের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে জেল সুপার কোন পাগল বন্দীকে জরুরী ও বিশেষ অবস্থায় মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত ।

বিধি-১০৩৫ ।

কোন পাগল ব্যক্তিকে স্থানান্তরের উপযুক্ততার সার্টিফিকেট প্রদান কালে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন অক্ষমতা বা উগ্রতা সম্পর্কে রেকর্ড করবেন।

বিধি-১০৩৬।

কোন পাগল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট জেলার কর্তৃক হস্তান্তর কালে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট উপস্থিত থাকবেন। তিনি স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝিয়ে দেবেন।

বিধি-১০৩৭।

যখন শ্রেণী(৫)ভুক্ত ফৌজদারি পাগলকে সরকারের আদেশে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা যাবে না, তাকে সাজার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখতে হবে এবং নিরাপরাধী পাগল হিসাবে গণ্য করতে হবে।

বিধি-১০৩৮।

যখন কোন পাগল ভয়ংকর, কোলাহলকারী, বা নোংরা স্বভাবের হয়, তাকে একটি সেলে আটক রাখতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রেণী (১) থেকে শ্রেণী (৪) ভুক্ত পাগলদেরকে কারা হাসপাতালে কিংবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুযায়ী রাখতে হবে। সেলে আটক পাগলকে নজর রাখার বিষয়ে ৭৪০ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-১০৩৯।

মেডিকেল অফিসার ভিন্নরূপ নির্দেশ না প্রদান করলে, প্রত্যেক পাগল বন্দী কারাগারের স্বাভাবিক খাবার পাবে, তবে শ্রেণী (১)ভুক্ত ব্যক্তিদেরকে বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য ৯২৩ থেকে ৯২৫ বিধি মোতাবেক বাহির হতে খাদ্য সরবরাহ করা যেতে পারে।

বিধি-১০৪০ ।

যখন সরকারের নিকট প্রতীয়মান হবে যে, শ্রেণী (৫) ভুক্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত পাগল বন্দী আরোগ্য লাভ করেছে, তাকে যে কারাগার হতে স্থানান্তর করা হয়েছিল সে কারাগারে পুনরায় প্রেরণের জন্যে ওয়ারেন্ট জারী করবেন। জেল সুপার বন্দীর মানসিক হাসপাতালে থাকার সময়কে তার কারা ভোগের অংশ হিসাবে গণনা করবেন।

বিধি ১০৪১-১০৪৩।

প্রয়োগ বিরল ।

বিধি-১০৪৪।

ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৭১(২) ধারায় এবং ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(২) ধারায় সরকার জেল সুপারগণকে পাগল বন্দীদের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের উপর অর্পিত ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(১) ধারার এবং ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৬৬ বা ৪৭১ ধারায় কারাগারে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে উক্ত বিধির ৪৭৩ ও ৪৭৪ ধারার সকল কাজের নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন। ()

টীকা-১।

যে কারাগারে কোন ব্যক্তি ৪৬৬ ধারা ৪৭১ ধারা অনুসারে আটক রযেছে, সরকার সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৪৭৩ বা ৪৭৪ ধারা অনুসারে কারাগার সমূহের মহা পরিদর্শকের সমস্ত বা যে কোন কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে পারবেন (ধারা ৪৭১ (২)- ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-২।

সরকার কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মহা পরিদর্শকের (১) উপ-ধারার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন যে কারাগারে অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক রাখা হবে( ধারা ৩০(২), পাগল আইন,১৯১২)।

 

পাগল বন্দী

 

বিধি-১০৪৫ ।

প্রত্যেক ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে জেল সুপার তার কারাগারে আটক প্রত্যেক পাগল বন্দীর বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ৯ নম্বর রিটার্ন দাখিল করবেন এবং ঐ ব্যক্তির সেই সময়ের এবং পূর্ববর্তী সময়ের তুলনা তুলে ধরবেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৭৯।

আদালত কোন বন্দীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে, যে পুলিশ কর্মকর্তা বিচার কাজে হাজির থাকেন, তিনি জেল সুপারকে লিখিত ভাবে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড সম্পর্কে জানাবেন। দণ্ড দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত হলে হাইকোর্ট বিভাগ হতে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে আটক রাখার একটি ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী বিচারক কর্তৃক জেল সুপারকে প্রদান করবেন।

যখন দায়রা আদালতের দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন প্রদান করবে কিংবা দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদান করা হয়, দায়রা জজ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যে ক্ষেত্রে যিনি হন, বন্দী যে কারাগারে আটক রয়েছে, সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট দণ্ড কার্যকর করার ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন।

টীকা-১।

দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের নিকট কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত উক্ত দণ্ড কার্যকর করা হবে না (ধারা -৩৭৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা- ২।

হাইকোর্ট বিভাগ (দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড) দণ্ড বহাল করতে বা আইন সমর্থিত অপর কোন দণ্ড দিতে পারেন, অথবা দণ্ড বাতিল করতে পারেন এবং আসামীকে এমন কোন অপরাধের জন্যে দণ্ডিত করতে পারেন, যে অপরাধের জন্য দায়রা আদালত আসামীকে দণ্ডিত করতে পারতেন অথবা একই অভিযোগে বা সংশোধিত অভিযোগে নুতন করে বিচারের আদেশ দিতে পারেন, অথবা আসামীকে খালাস দিতে পারেন (ধারা-৩৭৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা- ৩।

দায়রা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহালের জন্য পেশকৃত মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বহালের আদেশ বা অন্য কোন আদেশ দানের পর হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবিলম্বে উক্ত আদেশের একটি অনুলিপি হাইকোর্ট বিভাগের সীল মোহরকৃত ও তার সরকারী স্বাক্ষর দ্বারা সত্যায়িত করে দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন(ধারা-৩৭৯,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা- ৪।

দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করা হলে উক্ত দায়রা আদালত সে সম্পর্কে হাইকোর্ট বিভাগের বহাল আদেশ বা অন্য কোন আদেশ পাবার পর ওয়ারেন্ট প্রদান করে বা প্রয়োজনীয় অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে উক্ত আদেশ কার্যকর করবেন (ধারা-৩৮১, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৯৮০। প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে, দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে,

হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষা না করে অন্যান্য বন্দীদের আলাদা করে কারাগারের ভিতরে একটি স্বতন্ত্র সেলে বা কক্ষে পূর্ণ নিরাপদে। রাখতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে অনুরূপ সেলে বা কক্ষে আটক রাখার পূর্বে জেলার নিজে কক্ষটি পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কক্ষের ফিটনেস এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৯৮১।

কারাগারে আসার সঙ্গে সঙ্গে বন্দী যদি পুরুষ হয়, জেলার তার উপস্থিতিতে তার জামাকাপড় খুলে তল্লাশী করবেন এবং তার সঙ্গে আনা জামা কাপড় বা অন্য সকল জিনিস পত্র সরিয়ে ফেলবেন। তাকে এক সেট জেল পোশাক, তিনটি কম্বল, একটি এলুমিনিয়ামের মগ, প্লেট ও বাটি দিবেন। বন্দী মহিলা হলে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী কর্তৃক অনুরূপ ভাবে তল্লাশী করতে হবে। যদি প্রহরার স্বার্থে প্রয়োজন না হয়, এবং যদি বন্দী উগ্র প্রকৃতির না হয়, কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

যদি কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে এ সম্পর্কে পরিস্থিতি কারা মহা পরিদর্শককে জানাতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন-I বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীকৃত হলে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত প্রত্যেক দ্রব্য একটি করে তাকে দেয়া হবে। পরিবর্তনের জন্য দেয়া জামা কাপড় দায়িত্বরত প্রহরীর নিকট থাকবে।

{জেল সুপার তার বিবেচনা মতে অনুরূপ বন্দীকে একটি আয়রন খাট, একটি মেট্রেস, একটি বালিশ, একটি বিছানা চাদর, একটি বালিশের কভার, একটি মশারী, একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল ইস্যু করতে পারেন। অনুরূপ প্রত্যেক সেলে আটক বন্দীর জন্য একজন করে পৃথক প্রহরী স্থাপন করতে হবে, এমনকি সেলগুলি যদি পরস্পর লাগোয়াও হয় । }

নং- ৪১৮১ এইচ জে তারিখ ৮-১১-১৯৩৮

বিধি-৯৮২।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে মহিলা এলাকায় সেলে আটক রাখতে হবে এবং মহিলা প্রহরীর মাধ্যমে প্রহরা প্রদান করতে হবে ।

বিধি-৯৮৩ ।

দণ্ড প্রদানের পর বন্দী আদালত হতে কারাগারে ফিরে আসার পর, তাকে দিবারাত্র একজন কারারক্ষীর সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে। এ কাজে কোন কয়েদী কর্মচারীকে রাখা যাবে না। বিধি মতে কারাগারের সাধারণ রক্ষী মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার জন্যে যথেষ্ট হবে। তবে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকলে অতিরিক্ত দুই একজন লোক দিতে হবে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিশ্বস্ত ও স্থায়ী কর্মচারীর উপর অর্পণ করতে হবে। অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হলে তাদেরকে কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৯৮৪ ।

সেলের সম্মুখে, সম্ভব হলে দরজার বাহিরে রক্ষী অবস্থান করবে। সেলের তালার চাবি কর্তব্যরত রক্ষী বা মেট্রনের নিকট থাকবে। কারাগারের অন্য কোন চাবি দিয়ে খোলা যাবে না, এমন একটি তালা সেলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। রক্ষী এমন ভাবে থাকবেন যেন, যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি বন্দীকে দেখতে পান এবং সেলের সম্পূর্ণ অংশও দেখতে পান। রাতের বেলায় এমনভাবে বাতির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তার আলো ভালভাবে বন্দীর উপর পড়ে।

পুরুষ বন্দীর সেল, বন্দীর আত্মহত্যার উপক্রমের পরিস্থিতি ব্যতীত অন্য সময়ে তিন জন ব্যক্তির উপস্থিতি ব্যতীত খোলা যাবে না, যেন বন্দী উগ্র কোন আচরণ করলে তা ঠেকানো যায়।

বিধি-৯৮৫।

যখন একই সময়ে একাধিক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে স্বল্প দূরত্বের সেলে আটক রাখা হয়, প্রত্যেক সেলের জন্য পৃথক রক্ষী নিয়োগ করতে হবে। যদি এইরূপ সেল লাগোয়া হয়, তবে তিনজন বন্দীর জন্য একজন রক্ষী প্রহরায় দিতে হবে। বন্দী সংখ্যা তিনজনের বেশী হলে অতিরিক্ত একজন প্রহরী বেশী দিতে হবে, এমন কি সেল লাগোয়া হলেও।

বিধি-৯৮৬।

প্রধান কারারক্ষী নির্ধারিত সময়ে দিনে বা রাত্রে মাঝে মাঝে প্রহরীদের ভিজিট করবেন এবং বন্দীদের সন্দেহ জনক কোন আচরণ বা প্রহরীদের কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা জেল সুপারকে জানানোর জন্যে জেলারকে অবহিত করবেন।

বিধি-৯৮৭।

সকাল এবং বিকালে জেলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের তল্লাশী করবেন এবং সেল পরীক্ষা করবেন এবং আত্মহত্যা বা পলায়নের কোন কিছু নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন। কোন অবস্থাতেই এ দায়িত্ব অন্য কারো নিকট ন্যস্ত করা যাবে না। অনুরূপ ভাবে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের একান্ত ভাবে মেট্রন তল্লাশী করবেন, তবে সেল জেলার পরীক্ষা করবেন।

বিধি-৯৮৮।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের সাধারণ শ্রম বন্দীদের হারে খাবার দেয়া হবে। যদি সে পূর্বে ডিভিশন- II বা ডিভিশন- I বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণী পেয়ে থাকে, তবে বিধি ১১০০ অনুসারে খাবার পাবে। অতিরিক্ত খাবার বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের আকারে কোন আনুকূল্য দেখানো যাবে না।

বিধি-৯৮৯।

একজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আত্মীয় স্বজন তার অনুরোধ মোতাবেক জেল সুপারের লিখিত অনুমতিক্রমে দেখা করতে পারবেন। সকল সাক্ষাত বন্দীর সেলে জেলার বা ডেপুটি জেলারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাতের সময় বন্দীর নিকট কোন কিছু যাতে না দেয়া হয় তা দেখতে হবে। জেল সুপার, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট, জেলার, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শক, খাদ্য পরিবেশন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মচারী,

এবং বন্দীর চাহিদা মোতাবেক ধর্মীয় উপদেষ্টা বা গুরু ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি সেলে প্রবেশ অধিকার পাবে না। কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী পড়তে পারলে তাকে জেল সুপারের মাধ্যমে তার ব্যবহারের জন্যে সুবিধাজনক বই বা সাময়িকী, সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়তে দেয়া যেতে পারে। একটি এক্সারসাইজ খাতা এবং পেন্সিল ১০৫৬ বিধিতে বর্ণিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে দেয়া যেতে পারে। বন্দী ধুমপায়ী হলে তাকে সিগারেট বা তামাকের অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৯৯০।

দায়রা আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সংবাদ পাবার পর বন্দী আপীল করবে কিনা জেলার তা বন্দীকে জিজ্ঞাসা করবেন। বন্দী আপীল করতে চাইলে জেলার তৎক্ষনাৎ আপীল প্রস্তুতের সহায়তা করবেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রেরণ করবেন। এ ধরনের আপীলের সঙ্গে দণ্ডাদেশের কপি সংযোজনের প্রয়োজন নেই।

বিধি-৯৯১।

প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার অধিকার থাকবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার বা আপীলের জন্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে জেল সুপার নিম্নোক্ত বিধি সমূহ অনুসরণ করবেন :-

(1) হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার

ওয়ারেন্ট পাবার পর বা {স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হয়ে যাবার সংবাদ পাবার পর} জেল সুপার বন্দীকে তা জানাবেন এবং বন্দী ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে ইচ্ছুক কিনা তা জানতে চাইবেন। যদি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে চায় তবে অনুরূপ সংবাদ জানার ৭ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে করতে হবে।

নং- ১২৪৮ এইচ জে তারিখ ৫-৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।

(II) যদি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিধি I মোতাবেক ৭ দিনের মধ্যে আবেদন পেশ করে, উক্ত আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সরকার উভয়কে সম্বোধন করতে হবে। জেল সুপার আবেদনটি সঙ্গে সঙ্গে সরকারের স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল,এবং যে তারিখে বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।

জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, আবেদনের উপর সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড-কার্যকরী করা স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন,কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

(III)

যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিধি I এ বর্ণিত সময় সীমার পরে আবেদন পেশ করে, জেল সুপার তৎক্ষণাৎ তা সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং একই সময়ে বিষয়টির উল্লেখ পূর্বক টেলিগ্রামে সরকারের আদেশ চাইবেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, না কি স্থগিত রাখবেন এবং উল্লেখ করবেন যে, সরকারের জবাব না পেলে দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।

তবে, যদি দণ্ড কার্যকর করার ধার্য তারিখের পূর্ব দিন দুপুরের পর জেল সুপার আবেদন প্রাপ্ত হন, তা তৎক্ষণাৎ সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং টেলিগ্রাম করবেন, এতে দণ্ড কার্যকরের জন্যে ধার্য তারিখ উল্লেখ করবেন এবং আরও উল্লেখ করবেন যে, যদি সরকারের ভিন্ন কোন আদেশ না পাওয়া যায়, তা হলে ধার্য তারিখে দণ্ড কার্যকর করা হবে।

(IV) অকার্যকর ।

(V) যদি বন্দী বা তার পক্ষে জেল সুপারকে জানানো হয় যে, বন্দী আপীলের উদ্দেশ্যে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়ের করবে, জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে এ সংবাদ সরকারের { স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ যে তারিখে জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।

জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, সংবাদের প্রেক্ষিতে সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর ( স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন, কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

(VI) সরকার স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হবার সংবাদ পাবার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেল সুপারকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে তা জানাবেন এবং জেল সুপারকে উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির ২১ দিন পূর্বে নয় কিংবা ২৮ দিনের পরে নয়, এমন তারিখ দণ্ড কার্যকর করার জন্যে ধার্য করার জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হবে। তাকে সে সঙ্গে নির্দেশ প্রদান করা হবে যে, টেলিগ্রামে প্রদত্ত সংবাদের ডাক কপি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দণ্ড স্থগিত রাখবেন।

নোট- যদি বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন পাওয়া যায় তা হলে তা উপরের বিধি III মোতাবেক নিস্পত্তি করা হবে।

(VII) দণ্ড-কার্যকরী করার পূর্বে যে কোন সময় জেল সুপারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, এমন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে যে, যার কারণে দণ্ড পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে, পূর্ববর্তী বিধি সমূহে যাই বলা হোক না কেন, তিনি স্বাধীনভাবে বিষয়ের উপর স্বীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পূর্বক সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন, এবং আদেশ প্রার্থনা করবেন, এবং আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড বিলম্বিত করবেন।

(VIII) {স্বরাষ্ট্র} সচিব কর্তৃক জেল সুপারের নিকট প্রেরিত ক্ষমার আবেদন সম্পর্কে নির্দেশ সম্বলিত সকল টেলিগ্রাম যোগাযোগ প্রাপ্তির প্রমাণ হিসেবে জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে সে গুলো পুনরায় ফেরত টেলিগ্রাম করবেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর আবেদন সম্বলিত পত্রের খামের উপর “ক্ষমার জন্য আপীল” এবং “জরুরী ” লিখিত থাকবে এবং তা রেজিষ্ট্রি ডাক যোগে প্রেরিত হবে।

টীকা-১।

প্রাসঙ্গিক বিধিসমূহঃ

(ক) কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে (অনুচ্ছেদ ৪৯- বাংলাদেশের সংবিধান)।

(খ) রাষ্ট্রপতি শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমা মঞ্জুর করলে উক্ত শর্ত যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন উপযুক্ত আদালতের দণ্ড দ্বারা আরোপিত শর্ত বলে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যকরের যোগ্য হবে (ধারা- ৪০১(৫-ক),ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(গ) সরকার মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অন্য যে কোন দণ্ড দিতে পারেন। এ জন্য

দণ্ডিত ব্যক্তির অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই (ধারা ৫৪-দণ্ডবিধি)।

(ঘ) সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীতই মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারা দণ্ডে রূপান্ত র করতে পারেন (ধারা ৪০২- ফৌজদারি কার্যবিধি)। টীকা-২। কার্যবিধিমালা, ১৯৯৬ মোতাবেক সরকারের কার্যবন্টন তালিকায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। সে জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশকৃত ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন জেল সুপার কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপনের পূর্বে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে থাকে।

বিধি-৯৯২।

(১) একটি বিশেষ ধরনের লাল রঙের খাম মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত পত্র যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে, খামের উপর বাম এবং ডান কোনে যথাক্রমে “ মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক” এবং “ অবিলম্বে” লিখা থাকবে। সকল জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক যোগাযোগের জন্যে এ ধরনের খামের ব্যবহার নিশ্চিত করবেন এবং দিনে বা রাত্রে কারাগারে এ ধরনের পত্র জেলার কিংবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি জেলার গ্রহণ করবেন,যিনি-

(ক) প্রাপ্তির রেজিষ্ট্রারে প্রাপ্তির তারিখ এবং সময় উল্লেখ করবেন;

(খ) অবিলম্বে জেল সুপারের নিকট আদেশের জন্য পেশ করবেন।

(২) জেল সুপার দেখবেন যে দ্রুত জবাব এবং প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে কিনা এবং দণ্ড স্থগিত রাখার কোন আদেশ হলে বিশেষ বাহক মারফত বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে সরকারের নিকট তার প্রাপ্তি স্বীকার প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৯৩।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে বা তা মিথ্যা ভান কিনা পরীক্ষার জন্যে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে,বিষয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।

মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন এবং তাকে বন্দীর অনুরূপ অবস্থা সম্পর্কে জানানোর ৩০ দিনে মধ্যে, যদি তিনি কোন মতে উপনীত হতে পারেন, তাড়াতাড়ি রিপোর্ট প্রদান করবেন যে বন্দী মানসিক ভরাসাম্যহীন কি না। মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট তাৎক্ষণিক ভাবে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে প্রেরণ করতে হবে। সরকারের নির্দেশ পাবার পর নির্দেশ মোতাবেক জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

যদি সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ প্রদান করে, তা হলে দণ্ড কার্যকর করার জন্যে জেল সুপার তৎক্ষণাৎ আদেশ প্রাপ্তির পর হতে ৭ দিনের কম নয় এবং এক পক্ষ কালের বেশী নয়, এমন তারিখ নির্ধারণ করবেন। কোন কারণে এ বিধি মোতাবেক দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, সরকারের চূড়ান্ত আদেশ এবং দণ্ড কার্যকর করা প্রয়োজন হলে তার জন্যে ধার্য নুতন তারিখ মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী আদালত এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে।

বিধি-৯৯৪ ।

কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী গর্ভবতী মর্মে যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন, তখন ওয়ারেন্টের উপর তা রেকর্ড করে জেল সুপার ওয়ারেন্টটি দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করবেন এবং ফৌজাদারি কার্যবিধি ৩৮২ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ প্রদানের জন্যে দায়রা জজকে অনুরোধ জানাবেন ।

টীকা-

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রী লোককে গর্ভবর্তী পাওয়া গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন (ধারা-৩৮২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৯৯৫।

কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী যদি গর্ভবতী মর্মে নিজে দাবী করেন এবং মেডিকেল অফিসার তার সত্যতা সম্পর্কে সার্টিফাই করতে অসম্মত হন এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্যে সময় প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে লিখিতভাবে জানান, তখন ওয়ারেন্টের সাথে তার বক্তব্য সংযোজন করে পূর্ববর্তী বিধির ন্যায় কার্যক্রমের জন্য দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯৯৬।

পূর্ববর্তী দুই বিধিতে বর্ণিত যে কোনটির কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, পুনরায় সরকারের নুতন আদেশ ব্যতীত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। অনুরূপ আদেশের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট আবেদন করবেন।

বিধি-৯৯৭।

৯৯১ বিধির অধীনে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন, বা স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের কারণ ব্যতীত অন্য কোন বিশেষ বা অনিবার্য কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিলম্ব ঘটলে, জেল সুপার মূল ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান পূর্বক অবিলম্বে বিষয়টি দায়রা জজের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং নুতন ওয়ারেন্ট জারীর জন্যে, বা কতদিন পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখা হবে ঐ ওয়ারেন্টের উপর তার তারিখ উল্লেখ পূর্বক আদেশ প্রদানের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

নোট-১। আলোচ্য বিধি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮১ ধারা মোতাবেক প্রণীত এবং হাইকোর্ট বিভাগ জারীকৃত ওয়ারেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। যদি কোন কারণে অনুরূপ ওয়ারেন্টে নির্ধারিত তারিখে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না যায়, তা হলে সরকারের নির্দেশ প্রাপ্তির পর

নোট-২। যখন জেল সুপার ৯৯১ বিধি মোতাবেক ক্ষমার আবেদন বা স্পেশাল লিভ পিটিশনের কারণে দণ্ড স্থগিত করেন, ওয়ারেন্ট অপরিবর্তীত থাকলে নিজেই দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করবেন।

{বিধি-৯৯৭এ । মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মারা গেলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং যে জেলায় দণ্ড প্রদান করা হয়েছে সে জেলার দায়রা জজের নিকট সে সম্পর্কে অবিলম্বে নোটিশ প্রেরণ করতে হবে। যদি মৃত ব্যক্তির আপীল অনিষ্পন্ন তাকে তবে, হাই কোর্ট বিভাগকেও জানাতে হবে। যদি আপীল শুনানীর তারিখ সন্নিকটে থাকে তবে, টেলিগ্রাম বা বিশেষ বাহক মারফত জানাতে হবে। যে কারাগারে বন্দীকে স্থানান্তরের কথা ছিল সে কারাগারকেও জানাতে হবে। কারা মহাপরিদর্শককেও অবিলম্বে বন্দীর মৃত্যুর সংবাদ জানাতে হবে।}

নং- ২৭৬২ এইচ, জে তারিখ ২৭-৭-১৯৩৮ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯৯৮।

যখন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়, তখন আদালত কারাগার হতে তার সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে না; তবে শর্ত থাকে যে, যদি দায়রা আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্য বিধির ৪২৮ ধারা মোতাবেক অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে।

বিধি-৯৯৯।

ওয়ারেন্টে বিশেষ ভাবে নির্দেশ না থাকলে, বা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তর হয়ে থাকলে, মৃত্যুদণ্ড প্রদানের তারিখে বন্দী যে জেলার কারাগারে আটক ছিল সে জেলা সদরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট পাবার পর অবিলম্বে তা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন এবং তিনি যদি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার বা সিভিল সার্জন বা সিভিল মেডিকেল অফিসার হন,

তা হলে মৃত্যুদণ্ড যথাযথ ভাবে কার্যকর করার আয়োজনের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। জল্লাদের দায়িত্ব পালনের জন্যে একজন লোক ঠিক করতে হবে, ফাঁসীমঞ্চ ব্যবহার উপযোগী করতে হবে, দড়ি, টুপি এবং বাঁধার রশি প্রভৃতি প্রস্তুত রাখতে হবে। ১ ইঞ্চি ব্যাসের ইউরোপে তৈরী ম্যানিলা দড়ি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে ব্যবহার করতে হবে এবং এরূপ ২ টি দড়ি প্রস্তুত রাখতে হবে। দড়ি নুতন হবার প্রয়োজন নেই, তবে তা বন্দীর দেড়গুণ ওজনের ভার বহনে সক্ষম হতে হবে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এক সপ্তাহ আগে বালি বা মাটির বস্তা দিয়ে দড়ির অনুরূপ কার্যকারীতা পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার পর দড়ি তালা বদ্ধ করে নিরাপদে রেখে দিতে হবে। ফাঁসী মঞ্চ অস্থায়ী হলে তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বদিন বিকালে জেল সুপারের উপস্থিতিতে, সম্ভব হলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সেলের সন্নিকটে বন্দী দেখতে না পায় এমন স্থানে প্রস্তুত করতে হবে। জেল সুপার দড়ি যাচাই করে নিশ্চিত হবেন যে, পরীক্ষার সময় তার কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা ।

যখন কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়, তখন প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী উভয় কারাগারের জেল সুপার নিজ নিজ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তা জানাবেন।

বিধি-১০০০।

ব্যবহৃত দড়ির ঝুলন্ত দূরত্ব (ড্রপ) নিম্নোক্ত হারে বন্দীর দেহের ওজনের অনুপাতে নির্ধারণ করতে হবে, তবে জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা অনুসারে, তিনি নিজে মেডিকেল অফিসার না হলে, মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এটা বাড়ানো কমানোর ক্ষমতা রাখেন:-

বন্দীর ওজন ৯৮ পাউন্ডের নিম্নে হলে                -৬ ফুট ৬ ইঞ্চি

বন্দীর ওজন ১২৬ পাউন্ডের নিম্নে হলে              -৬ ফুট

বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ডের নিম্নে হলে              – ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি

বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ড বা তার উর্ধ্বে হলে ৫ ফুট

বিধি-১০০১।

মৃত্যুদণ্ড কারা প্রাচীরের ভিতরের আঙিনায় দিনে বা রাত্রে যে কোন সময় কার্যকরী করতে হবে; কিন্তু গৃহীত কার্যক্রমে গোপনীয় ধরনের কোন কিছু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বন্দীর প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ আত্মীয় এবং অন্যান্য মর্যাদাবান প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ,মোট ১২ জনের বেশী নয়, যদি থাকে, গেইট রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড লিখতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তাদেরকে প্রয়োজনে সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে ডাকা যেতে পারে।

এ ধরনের কোন ব্যক্তিকে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এদের সকলকে বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রবেশের অসম্মতি প্রদানের বিষয়ে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কারাগারের অন্যান্য বন্দীদেরকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হবে না, এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে লক-আপ রাখতে হবে।

টীকা- নং৪০৫ / জেল-১ তারিখ ৮-১০-৭৭ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০০২।

কমপক্ষে ১২ জন বন্দুকধারী রক্ষী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে রিজার্ভ গার্ড থেকে এবং জেলা কারাগারে পুলিশ সুপারকে গার্ড এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ করতে হবে।

বিধি-১০০৩।

প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে উপ-কারা মহাপরিদর্শক কিংবা ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেল সুপার উপস্থিত থাকবেন এবং অনুরূপভাবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা তার নিযুক্ত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার উপস্থিত থাকবেন।

বিধি-১০০৪ ৷

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে তার সেল থেকে বের করার পূর্বে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার উচ্চশব্দে ইংরেজী / বাংলায় দণ্ডাদেশ পাঠ করে শুনাবেন এবং জেলার বা অন্য কোন কর্মকর্তা তা বন্দীর মাতৃভাষায় অনুবাদ করে পাঠ করবেন। অতঃপর উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টে উল্লেখিত নাম অনুসারে সনাক্ত করবেন এবং জল্লাদের নিকট অর্পণ করবেন।

বিধি-১০০৫ ।

ফাঁসী মঞ্চে বন্দীকে নেয়ার পর জল্লাদের দায়িত্ব-

() বীমের যে অংশে দড়ি বাঁধা আছে তার ঠিক

দাঁড় করাতে হবে ;

(২) পা দুটি শক্ত করে বাঁধতে হবে;

(৩) সুতি কাপড়ের টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দিতে হবে;

(8) দড়ির ফাঁস গলায় মৃদু কষে লাগাতে হবে, ফাঁসের গিট বা ধাতব রিং (মেটাল আই)সামনের দিকে চোয়ালের নীচে থাকবে :

(৫) জল্লাদ দ্রুত লিভারে গিয়ে দাঁড়াবে;

(৬) উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপারের ইঙ্গিত পাবার সঙ্গে সঙ্গে লিভার টেনে ফাঁসী মঞ্চের গুপ্ত দরজা সরিয়ে দিতে হবে।

বিধি-১০০৬।

মৃত দেহ আধঘন্টা ঝুলে থাকবে। কারাগারের মেডিকেল অফিসার বা অতিরিক্ত সিভিল সার্জন কর্তৃক মৃত ঘোষণা করা না পর্যন্ত মৃত দেহ নামানো যাবে না। মৃত দেহের পোস্টমর্টেম করতে হবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ পূর্বক উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার কর্তৃক নত কার্যকরের ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান করতে হবে।)

টীকা-১।

নং ৪২৫ / জেল-১/৭৭ তারিখ ১৫-১০-৭৭ মূলে বিধি ১০০৩ – ১০০৬ প্রতিস্থাপিত

টীকা-২।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতকে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ (১) ধারা কর্তৃক নির্দেশিত। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দণ্ডে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ।

টীকা-৩।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ১৪ নং আইন)-এর ৩৪-ক ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ সাপেক্ষে ফাঁসি দিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতি অনুসৃত হবে জেল কোডে তার উল্লেখ নেই ।

বিধি-১০০৭।

দণ্ড কার্যকরের পর মৃত দেহ হস্তান্তরের ফলে জন অসন্তোষের সৃষ্টি না হলে-

(১) মৃতের আত্মীয় স্বজনের অনুরোধ মোতাবেক তাদের নিকট হস্তান্তর করা যেতে পারে, বা

(২) কোন আত্মীয় স্বজনের নিকট (১) উপ-বিধি মোতাবেক হস্তান্তর করা না হলে, পৌরসভা বা অন্য কোন স্থানীয় ব্যবস্থায় অর্পণ করা হবে।

বিধি-১০০৮।

যখন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট মনে করেন যে মৃতদেহ আত্মীয় স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা সঙ্গত হবে না, অনুরূপ মৃত দেহ ম্যাজিষ্ট্রেটের লিখিত আদেশে যতটুকু সম্ভব কারাগারের মধ্যে মৃতের ধর্মীয় পদ্ধতিতে উপযুক্তভাবে সৎকার করা হবে। মৃতের অনধিক ৪ জন বন্ধু-বান্ধবকে ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতিক্রমে এবং শর্ত সাপেক্ষে সৎকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং তাদেরকে ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত না থাকলে মৃত যে ধর্মের অনুসারী ছিলেন, সে ধর্মের সর্ব জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তা ধর্মীয় আচারের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-১০০৯।

এ বাবত সকল ব্যয় কারা বিভাগ থেকে বহন করা হবে।

টীকা-

কোর্ট মার্শাল ব্যতীত অন্যান্য আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অব্যবহিত পরে তা সংবাদ পত্রে প্রকাশ করা যেতে পারে। কারা মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে ক্ষমতা প্রাপ্ত। (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-৪৪৩/পি-১০২/৮৫-জেল- II, তারিখ ৩-৮-১৯৮৬)।

দ্বাত্রিংশ অধ্যায় । রাজবন্দী। বিধি ১০১০-১০২৩ ঃ বাতিল ।

টীকা-

রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫০ এবং রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫৮ এর আওতায় আটক বন্দীদের সংক্রান্ত বিধান যা পূর্বেই বেঙ্গল স্টেট প্রিজনার্স রুলস, ১৯৪৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ১৯৭৩ সনের ৮ম আইন দ্বারা এ দুটো আইন বাতিল করা হয়েছে।

কিশোর বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কিশোর বন্দী

কিশোর বন্দী

 

কিশোর বন্দী

 

বিধি-৯৬২।

একুশ বৎসর বয়স পর্যন্ত কোন বন্দীকে তরুণ বা কিশোর বন্দী বলে গণ্য করা হবে। কারা আইনের ২৭ ধারা মোতাবেক, একুশ বৎসরের কম বয়সের পুরুষ বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যে সকল তরুণ বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়নি, সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন উভয় ক্ষেত্রেই তাদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোরীদেরকে মহিলা ‘এ’ শ্রেণীর ওয়ার্ডে রাখা যেতে পারে, তবে প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে পৃথক রাখতে হবে।

বিধি-৯৬৩।

(১) ‘বাল-অপরাধী’ অর্থ কোন বালক যে দ্বীপান্তর বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ১৫ বৎসরের কম ছিল।

(২) যেহেতু বাল-অপরাধীদেরকে কারাগারে আটক রাখা বিভিন্ন ভাবে আপত্তিজনক, সেহেতু ১৫ বৎসরের কম বয়সের কোন কিশোরকে যখন কারাগারে ভর্তি করা হয়, তাকে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রদান না করা হলে এবং যদি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পূর্বেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে থাকেন যে, তাকে সংশোধনী স্কুলে প্রেরণ করা হবে না, তা হলে জেল সুপার এ উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ প্রদান করবেন

বিধি-৯৬৪ ।

(১) বর্তমান প্রয়োগ ভিন্ন রকম

(২) কোন বালককে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার সাজা প্রদান করা হলে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখতে হবে।

(৩) সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রাপ্ত বালকদেরকে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাদের নিজেদের সুবিধাজনক পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যাবে।

(৪) বাল-অপরাধীদেরকে অন্যান্য অপরাধীদের থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।

(৫) অকার্যকর।

বিধি-৯৬৫ ।

যে কারাগারে কিশোর বন্দীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড আছে, সে সকল ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ বানাতে হবে। যদি সকলের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ না থাকে তবে যারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়েছে, তাদেরকে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে রাখার অগ্রাধিকার দিতে হবে।

যেখানে আলাদা কিশোর ওয়ার্ড নেই, সেখানে, একমাস বা তার কম মেয়াদের সাজা প্রাপ্তদেরকে বা বদলির অপেক্ষাধীনদেরকে রাতে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে বা পৃথক ঘুমানোর জায়গায় রাখতে হবে এবং দিনের বেলায় একজন বয়স্ক ও বিশ্বস্ত কারারক্ষীর নজরদারীতে রাখতে হবে,যার দায়িত্ব হবে তাদের সাথে বয়স্ক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ঘনিষ্ঠতায় বাধা দেয়া ।

বিধি ৯৬৬-৯৬৭।

অকার্যকর।

বিধি-৯৬৮ ।

কোন সাজাপ্রাপ্ত কিশোরীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ পূর্বে জেল সুপার তার পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের নাম-ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। তিনি ঐ তথ্য ঐ ঠিকানার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কিশোরীর মুক্তির তারিখে ঐ জেলার কারাগার থেকে তাকে গ্রহণের জন্যে তাদেরকে সংবাদ প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানাবেন।

বিধি-৯৬৯।

জেল সুপার একজন মহিলা রক্ষীর দায়িত্বে মেয়েটিকে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলির ব্যবস্থা করবেন যাতে অন্তত: মুক্তির এক সপ্তাহ পূর্বে সে সেখানে পৌঁছতে পারে।

বিধি-৯৭০।

যদি কোন আত্মীয় স্বজন মেয়েটিকে গ্রহণের জন্য না আসেন, তবে জেল সুপার তাকে বাড়ীতে পৌঁছাতে সুবিধা হয় এমন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৭১।

কিশোর বন্দীরা পূর্ণ কঠোর শ্রম হতে অব্যাহতি পাবে। তারা লেখা পড়া করবে এবং সহজ হাতের কাজে নিয়োজিত হবে, যাতে কারাগার হতে বের হয়ে প্রয়োজনে এটাকে পেশা হিসাবে চালিয়ে যেতে পারে। কা

বিধি-৯৭২।

কিশোর বন্দীরা তাদের বয়স এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবার পাবে। ১৬ বৎসরের বেশী বয়সের বালকরা প্রাপ্ত বয়স্কদের সমান খাবার পাবে।

বিধি-৯৭৩।

যে সকল কিশোর বন্দী এক বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের জন্য সাজাপ্রাপ্ত, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে এক ঘন্টা করে লিখতে,পড়তে এবং গাণিতিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে এ জন্য কারা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে।

বিধি-৯৭৪ ।

তাদেরকে ব্যবহারিক জ্ঞানের সুবিধাজনক বই, স্লেট এবং পেন্সিল দেয়া হবে। স্লেট ও অন্যান্য ব্যয় “বিধি সেবা ও সরবরাহ খাত” হতে এবং বই “ বই ক্রয়” খাত হতে নির্বাহ করা হবে।

 

বিধি-৯৭৫।

শ্রেণী কক্ষে লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোন আলাপের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন কিশোর বন্দী পড়ায় আগ্রহী না হলে রিপোর্ট করা যেতে পারে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মাঝে মাঝে ক্লাশ ভিজিট করবেন এবং মাসে একবার অগ্রগতি পরীক্ষা করবেন।

বিধি-৯৭৬।

কেন্দ্রীয় কারাগারে কিশোর বন্দীরা দিনে অন্তত: আধ ঘন্টা ব্যয়াম,ড্রিল বা জিমন্যাস্টিক প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যয় করবে।

বিধি-৯৭৭।

প্রত্যেক শ্রেণীর ১৮-২১ বৎসর বয়সের পুরুষ বন্দীরা যাদেরকে পৃথক রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে অন্য পুরুষ বন্দীদের থেকে পৃথক ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বয়স্ক পুরুষ ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ থাকে, এসব বন্দীকে রাত্রে সেখানে রাখা যেতে পারে ।

টীকা-১।

জেল কোডের ৯৬২-৯৭৮ বিধান কিশোর বন্দীদের কারাবাস সংক্রান্ত। শিশুদের T হেফাজত, রক্ষণ ও তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার এবং কিশোর অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত আইন একীভূত ও সংশোধন করে প্রণীত শিশু আইন, ১৯৭৪ ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর এবং সারা বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের ১লা জুন বলবৎ হয়েছে।

উক্ত আইনের আওতায় সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় এস আরও নম্বর ১৬২-আইন/৯৯ সকম / প্রতি: শাখা/ কিশোর-১/৯১ তারিখ ২০ জুলাই ১৯৯৯ মূলে কিশোর অপরাধীদের বিচার ও সংশোধনের জন্যে গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলের হাটে দুটি পৃথক কিশোর আদালত এবং কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্র (Correctional Institute for Young Offenders ) স্থাপন করেছে। নিম্নে শিশু আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা সমূহ ও এ সংক্রান্ত নির্দেশ/ বিধি সমূহ তুলে ধরা হ’ল : –

(১) অন্য কোন আইনে বিপরীত কিছু থাকা সত্বেও কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ড দান করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিশুটি এত বেশী অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্রের যে তাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে প্রেরণ করা চলে না, তা হলে আদালত শিশুটিকে কারাদণ্ড দান অথবা যে রুপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ স্থানে বা মতে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন কিশোর অপরাধীকে প্রাপ্ত বয়স্ক আসামীর সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া যাবে না (ধারা-৫১, শিশু আইন)।

(২) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তার ক্ষেত্রে সমীচীন বিবেচনা করলে অন্যূন দুই বৎসর এবং অনধিক দশ বৎসর মেয়াদে আটক রাখার জন্যে কোন প্রত্যায়িত ইনস্টিটিউটে সোপার্দ করতে আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু কোন ক্রমেই আটকের মেয়াদ শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর আর বৃদ্ধি করা যাবে না (ধারা- ৫২. শিশু আইন)।

(৩) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় অথবা সন্দেহ জনক গতিবিধির জন্য ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের আওতায় কোন শিশু কিশোরকে গ্রেফতার করা হলে আইনের বিধান মতে তাদেরকে থানা হাজত থেকেই জামিন প্রদান কিংবা জামিনের অযোগ্য হলে আদালতে হাজির করার পূর্ব পর্যন্ত তাদেরকে নিকটবর্তী রিমান্ড হোম / নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

একই মামলায় বয়স্ক অপরাধী থাকলে শিশু কিশোরদের জন্য পৃথক ফরোয়ার্ডিং প্রদান এবং অভিযুক্ত কিশোরদেরকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করতে হবে। প্রতি থানায় কিশোর অপরাধীদের জন্যে পৃথক রেজিষ্টার খোলা এবং প্রত্যেক পরিদর্শনে সে সম্পর্কে বিশেষভাবে তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। চার্জশীট দাখিল কালে কিশোর অপরাধীদের নাম আসামীদের কলামের নিম্নভাগে লেখা এবং তা নীচে লালকালির রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।

একইভাবে জেনারেল রেজিষ্টারেও কোর্টের পুরিশ কর্মকর্তা কর্তৃক কিশোর আসামীদের নামের নীচে লাল রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। শিশুদের মামলা তদন্ত ও শিশু অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে সর্বত্র পুলিশের মহিলা ইউনিটকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৫১৮, তারিখ-৪-৮-৯৭)

(৪) প্রত্যেক জেলায় একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে চিহ্নিত করে কিশোর অপরাধীদের পৃথক বিচারের ব্যবস্থা, শিশু আইনের বিধান মতে কিশোর অপরাধীদের জামিনের ব্যবস্থা, বিচারে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ অথবা প্রবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সকল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষ করে তাদের অধীনস্থ ম্যাজিষ্ট্রেটগণনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো । { স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৬৭৫, তারিখ-২১-৯-৯৭)

(৫) শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারী উদ্যেগের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাও সংশোধন প্রতিষ্ঠান বা সার্টিফাইড হোম প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

{স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-২৫/৮৬-জেল-১/(অংশ-১)/৮৬৩, তারিখ ১৭-১২- ৯৭} (৬) রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোর অপরাধীদের যশোরস্থ কিশোর সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে হবে । {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-৬/৯৭-জেল-১/২২৮, তারিখ ২৩-৩-২০০০)

 ৭) সংশোধন বা কয়েদখানা বিশেষ স্কুল হতে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর স্কুল জীবন বা তারপর তাদের আচরণ নিরীক্ষণের প্রয়োজন হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদনক্রমে কিশোর অপরাধীদের পুলিশ সুপারের অধীনে নিরীক্ষণে রাখা যেতে পারে(প্রবিধান-৩৪৬, পিআরবি)।

টীকা-২।

বিভিন্ন বাস্তব কারণে শিশু আইনের উল্লেখিত বিধান সমূহ সম্পূর্ণ ভাবে এখনও কার্যকর করা যায় নি, ফলে কিশোরদেরকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন হয়ে থাকে। কোন কিশোর বা কিশোরী যখন কারাগারে থাকে, জেল কোডের বর্ণিত বিধানাবলী দ্বারাই তাকে পরিচালিত করতে হবে। কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রের বিধানাবলী কারাগারে প্রয়োগ করা সম্ভব ও সমীচীন হবে না।

 

কিশোর বন্দী

 

টীকা-৩ ।

বাংলাদেশে কার্যকর বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়স নিম্নরূপ:-

(১) কোন ব্যক্তি ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর সাবালকত্ব (Majority) লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে (ধারা-৩, সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫)।

(২) ‘অপিরণত’ (Minor) বলতে পুরুষের ক্ষেত্রে একুশ বৎসরের কম এবং নারীর ক্ষেত্রে আঠারো বৎসরের কম বয়সের কোন ব্যক্তিকে বুঝাবে (ধারা-২, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯)।

(৩) ‘শিশু’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স ষোল বৎসর পূর্ণ হয়নি (ধারা-২,কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

(৪) ‘শিশু’ অর্থ ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি (ধারা-২, শিশু আইন, ১৯৭৪)।

(৫) ‘শিশু’ অর্থ অনধিক চৌদ্দ বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি (ধারা-২, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০)।

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মহিলা বন্দী এবং সন্তান

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৪৫ ।

মহিলা বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে, এবং যদি সম্ভব হয় বিচারাধীন মহিলা বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলাদেরকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরুষ ওয়ার্ড থেকে দেখা না যায়; মহিলাদের জন্যে মহিলা বেষ্টনী এলাকায় বা তৎসংলগ্ন এলাকায় আলাদা হাসপাতাল থাকবে। মহিলাদেরকে কারাগারের অফিসে ডাকা যাবে না। তাদের সকল তদন্ত ও ভেরিফিকেশন জেলার কর্তৃক মহিলা বেষ্টনীতে করতে হবে।

বিধি-৯৪৬।

সেলে শাস্তি হিসাবে ব্যবহারের জন্য এবং বিচারাধীন মহিলা-বন্দীদেরকে আলাদা রাখার জন্য প্রত্যেক কারাগারের মহিলা বিভাগে যথেষ্ট সংখ্যক সেল স্থাপন করতে হবে। যদি সেল খালি থাকে, একজন বিচারাধীন মহিলা-বন্দীকে তার আগ্রহ অনুসারে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের পরিবর্তে সেলে রাখা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, ৯৫৪ বিধি মোতাবেক প্রহরা মেনে চলতে হবে।

বিধি-৯৪৭।

স্থান সংকুলান সম্ভব হলে দীর্ঘ মেয়াদী অভ্যাসগত ব্যতীত, যে মেয়াদেরই হোক সকল মহিলা সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে নিজ জেলা কারাগারে রাখতে হবে। তবে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীর সাথে ছোট সন্তান আছে তাদের সন্তানকে কোন আত্মীয় স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর না করে ঐ সব সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীকে সাধারণত কেন্দ্রীয়-কারাগারে-স্থানান্তর করা যাবে না ।

বিধি-৯৪৮।

যখন কোন কারাগারে মাত্র একজন মহিলা-বন্দী থাকে এবং সেখানে যদি কোন মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে জেল সুপার সে মহিলা-বন্দীর একজন পরিচিত মহিলাকে তার সাথে কারাগারে থাকার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। যদি ঐ মহিলার সাথে থাকার জন্যে এরূপ নিজস্ব কোন মহিলা না থাকে, তবে জেল সুপার নিজেই একজন মহিলাকে সাময়িক ভাবে কারারক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত করে কারা মহাপরিদর্শকের ঘটনাত্তোর অনুমোদন গ্রহণ করবেন।

বিধি-৯৪৯।

কোন মহিলা-বন্দীকে কোন কারণেই কারাগারের মহিলা বেষ্টনী এলাকা ত্যাগ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-৯৫০।

কারাগারের কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন কারণেই মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় একাকী প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোন কাজে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে হয়, তা হলে একজন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাতে কোন কাজে প্রবেশ করার প্রয়োজন হলে কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী এবং জেলার দুজন এক সঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৯৫১।

কোন পুলিশ অফিসার কোন মহিলা-বন্দীর হাত বা পায়ের ছাপ বা দৈহিক পরিমাপ নেয়ার প্রয়োজনে একজন ডেপুটি জেলার এবং মেট্রনের উপস্থিতিতে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।

 

বিধি-৯৫২।

কারাগারের মহিলা বিভাগের চাবি দিনের বেলায় মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীর নিকট থাকবে, লক আপের পর জেলারের নিকট দিয়ে দিতে হবে। রাত্রে সেল খোলার জন্য বিধি ২৯৩ এবং ৯৫৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯৫৩।

মহিলা বিভাগের সেল ও ওয়ার্ডের তালা কারাগারের অন্য অংশ অপেক্ষা ভিন্ন রকমের হবে এবং একই রকমের চাবি মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের তালা খোলার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। যদি কারাগারে কোন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে দিনের বেলায় কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট মহিলা ওয়ার্ডের চাবি থাকবে; তিনি জেল সুপার এবং ভিজিটরের সঙ্গে ব্যতীত মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ করবেন না। বয়স্ক রক্ষীকে এ কাজের জন্য দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

বিধি-৯৫৪।

যদি মহিলা বেষ্টনীতে সেলে কাউকে আটক রাখা হয়, তা হলে রাতের বেলায় একজন মহিলা কর্মচারী এবং দিনের বেলায় মহিলা কয়েদী কর্মচারীকে বন্দীর শ্রবণ সীমার মধ্যে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে। মহিলা কর্মচারী না থাকলে মহিলা-বন্দীকে সেলে রাখা যাবে না, সে ক্ষেত্রে তাকে অন্য কোন কারাগারে প্রেরণের জন্য কারা মহা পরিদর্শককে অনুরোধ জানাতে হবে।

বিধি-৯৫৫ ।

রান্নার কাজে নিয়োজিত মহিলা কয়েদী কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোন মহিলা-বন্দীকে নিজের জন্য রান্না করার অনুমতি দেয়া হবে না। রান্নাকৃত খাবার তাদের ওয়ার্ডে একজন কয়েদী বাবুর্চী এবং দায়িত্বরত কারারক্ষীসহ সরবরাহ করবে। মহিলা ওয়ার্ডের মেনিয়াল কাজ সম্ভব হলে মহিলা-বন্দীদের দ্বারা করতে হবে।

বিধি-৯৫৬।

{বিধি ৬৪৫ অনুযায়ী জেল সুপার কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠানে মহিলা-বন্দীগণ তাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখবেন, তবে তাদেরকে শাড়ী দিয়ে মাথা ঢেকে রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।} নং-৬৪৭৪ এইচ জে তারিখ ২৬-১০-১৯৪২ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

বিধি-৯৫৭।

মহিলা-বন্দীরা অনুর্ধ ৪ বৎসর বা জেল সুপার অনুমতি প্রদান করলে ৬ বৎসর পর্যন্ত বয়সের সন্তান নিজের কাছে রাখতে পারবে। তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের অনুমোদন মোতাবেক খাবার দেয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পোশাক দেয়া হবে ।

বিধি-৯৫৮ ।

প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৯৫৯।

যদি কোন মহিলা-বন্দীর সন্তানের বয়স ৪ বৎসর বা ৯৫৭ বিধি মতে জেল সুপারের অনুমতি প্রাপ্ত কোন সন্তানের বয়স ৬ বৎসরে উপনীত হয়,বা কোন মহিলা-বন্দী তার সঙ্গীয় সন্তান রেখে কারাগারে মৃত্যুবরণ করে, এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আত্মীয় স্বজনকে খবর দিয়ে শিশুটিকে তাদের কাছে অর্পণের ব্যবস্থা করবেন,যদি কেউ নিতে না চায় তবে তিনি কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির জিম্মায় দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৬০।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে চুল কাটার প্রয়োজন উল্লেখ না করা হলে কোন মহিলা-বন্দীকে চুল ছাঁটাই করতে হবে না। একজন মহিলা-বন্দীকে একটি চিরুণী,৪ টি তোয়ালে বা ন্যাপকিন এবং চুলের যত্নের জন্য যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে। প্রত্যেক মহিলা সেলে একটি এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি বা দুইটি আয়না দেয়া যেতে পারে।

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৩৪।

বিনাশ্রম ‘এ’ শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের এবং ‘বি’ শ্রেণীর বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে,যদি তারা শ্রমের জন্য নির্বাচিত না হয়ে থাকে (সে ক্ষেত্রে তাকে সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীদের সঙ্গে কাজের সময় একত্রে থাকতে হবে)। যদি সম্ভব হয়, ‘বি’ শ্রেণীর বিনাশ্রম বন্দীদেরকেও পৃথক রাখতে হবে,যদি সম্ভব না হয় তাদেরকে ‘বি’ শ্রেণীর সশ্রম বন্দীদের সঙ্গে রাখতে হবে।

বিধি-৯৩৫ ।

যদি কোন ডিভিশন-III সাজাপ্রাপ্ত বিনাশ্রম বন্দীকে নৈতিক অসৎ চরিত্রের কারণে জেলা-ম্যাজিষ্ট্রেট পৃথক ব্যতিক্রম স্থানে রাখা প্রয়োজন মনে করেন,তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি কারা মহাপরিদর্শক জেলা -ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তবে, তিনি ঐ বন্দীকে “প্রথম ডিগ্রীর খারাপ স্বভাবের” শ্রেণীভুক্ত করে যেরূপ প্রয়োজন মনে করেন,সেরূপ পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করবেন। যদি তিনি জেলা-ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে একমত পোষণ না করেন, তা হলে বিষয়টি তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৩৬।

ডিভিশন-III বন্দীকে “প্রথম ডিগ্রীর খারাপ স্বভাবের” শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে ১০৯৫ বিধিতে বর্ণিত দ্বিতীয় শ্রেণীর খাবার পাবে।

বিধি- ৯৩৭।

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে দিনের বেলায় কারাগারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকতে দেয়া হবে, কিন্তু সশ্রম বন্দীদের ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সাথে মিশতে দেয়া হবে না। যদি তারা কাজের জন্যে নির্বাচিত হয়ে থাকে,সে ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত গ্যাংয়ের সাথে থাকবে।

বিধি-৯৩৮ ।

কিছুটা নমনীয়তা সাপেক্ষে তাদেরকে কারাগারের-নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। বিনাশ্রম বন্দীদেরকে নিজের পোশাক পরিধানের অনুমতি দেয়া হবে। চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যতীত তাদেরকে চুল দাঁড়ি কাটার বাধ্য বাধকতা পালন করতে হবে না। কোন বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর নিজের পোশাক পর্যাপ্ত না থাকলে জেল সুপার কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করবেন।

 

বিধি-৯৩৯।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীদের মতো কম্বল এবং বেডিং, কাপ এবং প্লেট সরবরাহ করা হবে। যখন ব্যবহারে থাকবে না কম্বল ভাঁজ করে রাখতে হবে এবং কাপ-প্লেট পরিষ্কার করে ধৌত করে রেখে দিতে হবে।

বিধি-৯৪০।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে তাদের পরিধেয় পরিষ্কার এবং ভাল অবস্থায় রাখতে হবে। তাদেরকে তাদের ওয়ার্ডের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। তাদেরকে অন্য কোন কাজ করতে হবে না এবং অন্যদের জন্যে কোন মেনিয়াল সার্ভিসে নিয়োজিত হতে হবে না বা নিম্ন শ্রেণীর কোন কাজ করতে হবে না ।

বিধি-৯৪১।

প্যারেড,ব্যয়াম এবং রাত্রে ছাড়া অন্য সময় তাদেরকে তাদের ওয়ার্ডে একত্রে পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া হবে।

বিধি-৯৪২।

কোন বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগারে স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী হলে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট মোতাবেক দৈহিক সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে উপযুক্ত কাজ দেয়া যেতে পারে। যদি সে সন্তোষজনক ভাবে কাজ করতে পারে তবে তাকে প্রথম শ্রেণীর স্কেলে খাবার দেয়া হবে। যদি সে সন্তোষজনক ভাবে কাজ করতে না পারে তবে জেল সুপার তাকে বিনাশ্রম স্কেলে খাবার দেয়ার শাস্তি প্রদান করতে পারবেন।

যদি সে কাজ করতে না চায় এবং তার নিজের মূল শ্রেণীতে ফেরত যেতে চায়, তবে তাকে অনুমতি দেয়া হবে । বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের জন্যে রেয়াতে বিষয়ে ৭৫৩ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯৪৩।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে অনধিক সকালে এক ঘন্টা এবং বিকালে এক ঘন্টা হাঁটতে হবে, যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার উপযুক্ত মনে করেন।

 

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৪৪।

এ অধ্যায়ে বর্ণিত ব্যতিক্রম এবং খাবার সংক্রান্ত অধ্যায়ের ব্যতিক্রম ব্যতীত এই কোডে বর্ণিত সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের সকল বিধি বিনাশ্রম বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে; তবে শর্ত থাকে যে, বিনাশ্রম বন্দীদের জন্য ২, ৫ এবং ৭ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ২ নম্বর গুরু শাস্তি প্রযোজ্য হবে না, যদি না তারা রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে থাকে ।

বিচারাধীন বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিচারাধীন বন্দী

বিচারাধীন বন্দী

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯০৯।

কোন আদালত কোন অভিযুক্তকে হাজতে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, দায়রা আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিক্রমে ১৫ দিনের বেশী হাজতে রাখার আদেশ দেয়া যাবে না, এবং আরও শর্ত থাকে যে, হাইকোর্ট বিভাগ। যাতীত অন্য কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত এবং বিচারকারী জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

(নোট- অনুরূপভাবে হাজতে আটক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই কোডে ‘ বিচারাধীন বন্দী ‘ বলা হবে।

টীকা-১।

আসামীকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্র থাকুক বা না থাকুক তিনি তাঁর বিবেচনামত আসামীকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট পনর দিনের অধিক হবে না [ ধারা -১৬৭(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

টীকা-২।

সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণে যদি কোন ইনকোয়ারি বা বিচারের আরম্ভ কাজ স্থগিত রাখা অথবা ইনকোয়ারি বা বিচার মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে কারণ উল্লেখ পূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে উপযুক্ত মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যুক্তিসংগত মনে করেন সে সময়ের জন্যে তা বিভিন্ন সময়ে স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে ওয়ারেন্ট দ্বারা তাকে পুনরায় হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এ ধারা অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন আসামীকে এক সময়ে পনর দিনের অধিক মেয়াদের জন্যে হাজতে পাঠাতে পারবেন না [ধারা -৩৪৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

বিধি-৯১০।

(১) বিচারাধীন বন্দীকে ২ ভাগে বিভক্ত করা হবে-

ডিভিশন-I ঃ- শিক্ষিত,সামাজিক মর্যাদা ও উচ্চতর জীবন যাপনেঅভ্যস্ত ব্যক্তি;

ডিভিশন- II:- সাধারণ মানের ব্যক্তি

বিচারাধীন বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে বিচারিক আদালত নির্ধারণ করবেন। 

(২) ডিভিশন-I প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীদেরকে ডিভিশন- II বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে 

(৩) বিচারাধীন বন্দী পুরুষ বা মহিলা, উভয়কে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের। আলাদা রাখতে হবে। 

বিধি ৯১১।

দায়রা আদালতে সোপর্দকৃত বন্দী ব্যতীত, প্রত্যেক ওয়ারেন্টে বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেট বা অন্য কোন ওয়ারেন্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট তারিখে হাজির করতে হবে তার উল্লেখ থাকতে হবে। দায়রা আদালতে বন্দীকে হাজির করার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে জেলার তা লিখে রাখবেন। বন্দীকে আদালতে হাজির হবার তারিখ জানাতে হবে যাতে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।

প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম ও নম্বর প্রাথমিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লেখা যেতে পারে, যে তারিখে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে, তা পৃষ্ঠার উপরের দিকে দিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় কারাগারে, বন্দীর সংখ্যা বেশী থাকায় সেখানে ওয়ারেন্টগুলি প্রত্যেক দিন এবং মাসের হিসাবে পৃথক খোপ বিশিষ্ট বিশেষ আলমারিতে রাখা যেতে পারে।

টীকা-১।

বিচারাধীন বন্দীদের কারাগার হতে পাহারায় কোর্টে নেয়ার, কোর্ট হতে কারাগারে ফেরত আনার এবং কোর্টে তাদেরকে নজর রাখার দায়িত্ব কোর্ট পুলিশের (প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

টীকা-২।

বন্দীদের কারাগার হতে কোর্টে নেয়ার এবং কোর্ট হতে করাগারে ফেরত আনার সময় যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাস্তা অনুসরণ করতে হবে, তবে বাজার, অধিক জন সমাগমপূর্ণ রাস্তা পরিহার করা উচিত। সম্ভব হলে তাদেরকে গাড়ীতে করে আনা-নেয়া করতে হবে। প্রথম শ্রেণীর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রিজন ভ্যান বা ভাড়া করা গাড়ীতে আনা-নেয়া করতে হবে এবং তাদের যাতায়াতে যুক্তিসঙ্গত আরাম ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

 

টীকা-৩।

যাদের মামলা নিষ্পত্তি হয় নি তাদের জন্যে অপেক্ষা না করে সকল বন্দীকে সূর্যাস্তের এক ঘন্টা পূর্বে কারাগারে ফেরত নিয়ে আসতে হবে। যাদেরকে কোর্টে আটক রাখা হয়েছে তাদের জন্যে অতিরিক্ত পাহারা দেয়ার জন্যে কোর্ট অফিসার আর্মড ইন্সপেক্টরের নিকট আবদেন করবেন (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

টীকা-৪।

প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে কোর্ট পুলিশ লক্ষ্য রাখবে যে, কারাগারে রাতের খাবার দেয়ার সময়ের, যা সন্ধ্যার এক ঘন্টা পূর্বে দেয়া হয়, পরে বন্দীদের কারাগারের পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলে তাদেরকে কারাগারে নেয়ার পূর্বেই খাবার দিতে হবে(প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

বিধি-৯১২।

দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে একই মামলার অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যখন বিচারাধীন ওয়ার্ডে পৃথক সেল বা কম্প থাকে তখন সেগুলো এ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যদি পৃথক কম্পার্টমেন্ট না থাকে তবে দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে দিনের বেলায় পৃথক সেলে এবং রাতের বেলায় ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়।

বিধি-৯১৩।

পারাস্থাত অনুমোদন করলে বন্দী সনাক্তকরণ কারাগারের ভিতরে হবে। উপরের বিধিসমূহ কারাগারে বিচারাধীন বন্দী এবং সন্দিগ্ধ বন্দীর জন্য প্রযোজ্য। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত, জামিনে থাকা ব্যক্তিকে বিচারাধীন বন্দীদের সাথে মেশানো যাবে না।

দোষ স্বীকারকারী অভিযুক্তের ক্ষেত্রে পৃথক সনাক্তকরণ মহড়ার আয়োজন করতে হবে, যদি না ম্যাজিষ্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন যে, দোষ স্বীকারকারীর সাথে দোষ অস্বীকারকারীদের মেশানোর প্রয়োজন রয়েছে এবং সনাক্তকরণ মহড়া একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিধি-৯১৪।

কোন বিচারাধীন বন্দী পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য অবশ্যই পুলিশ সুপারকে ২৩ নম্বর জেল ফরমে জানাতে হবে। এ ফরম ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও দাখিল করতে হবে। সম্ভব হলে অভ্যাসগত বিচারাধীন বন্দীদেরকে অনভ্যাসগতদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে লঘু অপরাধে অভিযুক্তদেরকে দায়রায় সোপর্দকৃত বিচারাধীন বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।

বিধি-৯১৫।

জেল সুপার জামিনযোগ্য ধারায় আটক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার প্রতি পাক্ষিকে ২৭ নম্বর ফরমে ১৪ দিনের বেশী আটক বিচারাধীন বন্দীদের ব্যপারে একটি তাগিদ প্রদান করবেন। তবে দায়রা আদালতে বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে তাগিদ প্রদান করা যাবে না।{তা ছাড়া জেল সুপার তিন মাসের অধিক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ২৭ নম্বর ফরমে প্রত্যেক মাসের প্রথম সপ্তাহে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। }

নং-৬২১ এইচ জে তারিখ ১৩-৫-১৯৪৭ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-৯১৬।

ওয়ারেন্টে-ধার্য তারিখে বা পরবর্তী আদেশে উল্লেখিত তারিখে বিচারাধীন বন্দীদেরকে আদালতে হাজির করার জন্যে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। যদি কোন বিচারাধীন বন্দী ইচ্ছা প্রকাশ করে যে তাকে আদালতে প্রেরণকালে জেলারের নিকট রক্ষিত তার নগদ টাকা প্রদানের জন্যে তাকে ফেরত দেয়া প্রয়োজন, তবে জেলার প্রাপ্তি স্বীকার রেখে তাকে তা ফেরত প্রদান করবেন। অন্যান্য ক্ষে ে টাকা জেলারের নিকট গচ্ছিত থাকবে।

যদি বন্দী আদালত হতে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে তার আবেদন মোতাবেক জেল গেইটে তাকে তার টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি ে প্রদান করতে হবে।

নোট- অদাবীকৃত সম্পত্তির বিষয়ে বিধি ৫৪৭ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯১৭।

দৈনিক যে সকল বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তাদের নাম কোর্ট অফিসার হাজত রেজিষ্টারে (ফরম নম্বর ৩৮৩১) লিখবেন। বন্দীদেরকে ধার্য তারিখ মোতাবেক আদালতে হাজির করার জন্যে তিনি পাঠ্য থাকবেন। উক্ত তালিকা জেলার দেখবেন এবং বন্দী হাজির করণের বিষয় অবহিত হবেন।

বিধি-৯১৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী একাধিক মামলার আসামী হলে তার ওয়ারেন্টে সকল মামলার রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করা হবে।

বিধি-৯১৯।

মুক্তির আদেশ দানের পর (লক আপের পরে ছাড়া) সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি

দিতে হবে। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আদেশ কার্যকর হয়েছে মর্মে উল্লেখ পূর্বক

ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। বন্দীর কোন সম্পত্তি থেকে থাকলে

তা তাকে ফেরত দিতে হবে।

বিধি-৯২০।

আদালতে হাজিরকৃত বিচারাধীন বন্দীকে আদালত হতে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ কর্তৃক সরাসরি খালাস কিংবা জামিনে মুক্তি প্রদান করা হলে, খালাস বা মুক্তিদানকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ একই দিনে জেলারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯২১।

মুক্তি প্রদানের প্রাক্কালে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর ওজন বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড করতে হবে। আদালত হতে মুক্তি প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সর্বশেষ ওজন মুক্তিকালীন ওজন বলে গণ্য হবে।

বিধি-১২২।

(১) কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী কারাগারের বিধি এবং শৃঙ্খলা সাপেক্ষে কারাগারে আটক থাকবে। তাকে নিজের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে, তবে তার নিজের চেহারার কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। তাকে জুতা পরিধান করতে দেয়া হবে।

(২) জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে তার প্রমত কোন পেশা বা বৃত্তিতে কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে এবং তা থেকে প্রাপ্ত কোন আয় গ্রহণ করতে দেয়া হবে। যদি কারাগারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তবে তার ভাড়া কেটে রাখা হবে এবং সরকারের খরচে সে গুলি মেরামত করা হলে সে খরচও কেটে রাখা হবে। তাকে তার ওয়ার্ড, সেল ও মাতিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।

(৫) যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার পরামর্শ প্রদান করেন তবে তাকে সকালে এবং বিকালে অনধিক একঘন্টা হাঁটার ব্যয়াম করতে হবে। (8) কোন অসম্মান জনক কাজ কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দেয়া যাবে না এবং স্কিনার বাহিরে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-১২৩।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেয়া হবে এবং ব্যক্তিগত উৎস হতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে, কিন্তু পরীক্ষা করার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায়। শর্ত থাকে যে, কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বাহির হতে খাদ্য সরবরাহের জন্যে অনুমতি প্রদান করা হলে কারাগার হতে তাকে কোন খাদ্য সরবরাহ করা হবে না ।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই সরবরাহ করা যেতে পারে। জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে তাকে বাহির হতে যুক্তিসংগত পরিমাণ বই, সংবাদপত্র, ষ্টেশনারী এবং লেখার দ্রব্যাদি সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। {বন্দীর নিজ ব্যয়ে ক্ষতিকর নয় এমন ঘরোয়া খেলারও অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। }

নং ১০৯২ এইচ জে ১০৯২ তারিখ ৩-৪-১৯৪১ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯২৪।

কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাবে না এবং কোন বন্দী এ বিধির লঙ্ঘন করলে, জেল সুপার যে রকম উচিত মনে করবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণ করার সুযোগ হারাবেন।

বিধি-৯২৫।

প্রত্যেক অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিংয়ের সংস্থান না করতে পারলে, জেল সুপার প্রয়োজন মোতাবেক পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করবেন, তবে খাদ্য,পোশাক,বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলারের মাধ্যমে ক্রয় করা হবে এবং বিচারাধীন বন্দীর নিকট প্রেরণের পূর্বে জেলার তা পরীক্ষা করে দেখবেন। স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর এবং নেশা বা সুরা জাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করা যাবে না।

বাহির থেকে সরবরাহ করা খাদ্য জেলার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পাওয়া গেলে জেল সুপারকে জানাবেন। কোন বন্দীর নিকট পূর্ববর্তী দুই বিধি মোতাবেক প্রেরিত খাদ্য বা কোন দ্রব্যের সঙ্গে গোপনে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সরবরাহ করা হলে ৯২৩ বিধিতে প্রদত্ত সুবিধা রহিত করে দেয়া হবে। ৬৬০ বিধিতে বর্ণিত নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে তাদেরকে নিজেদের খরচে যুক্তি সংগত পরিমাণ পান, সুপারি এবং তামাক রাখার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। জেল সুপার অপ্রয়োজনীয় এবং অনুপযুক্ত মনে করলে কোন বিচারাধীন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

বিধি-৯২৬।

বিচারাধীন বন্দীদেরকে ছত্রিশ অধ্যায় অনুসারে খাবার দেয়া হবে। ডিভিশন-I বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন -I এবং ডিভিশন -II সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে, এবং ডিভিশন-II বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন-III সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে খাবার প্রদান করা হবে।

বিধি-৯২৭।

ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, কারা অপরাধ এবং শাস্তি বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, কিন্তু বেত্রাঘাত প্রয়োগের পূর্বে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং বেড়ী প্রয়োগ করা হলে, তার পরিপ্রেক্ষিত কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি- ৯২৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী পলায়নের চেষ্টা করলে দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় বিচারের জন্যে তাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে। টীকা- হাজতে আটক কোন ব্যক্তি যদি হাজত হতে পলায়ন করে বা পলায়নের উদ্যেগ গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উক্ত দণ্ড তার কারাবাসের মূল দন্ডের অতিরিক্ত হবে (ধারা-২২৪, দণ্ডবিধি)। বিধি-৯২৯। বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ড একজন কয়েদী-কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা নিয়মিত দেখাশুনা করবেন।

বিধি-৯৩০।

বিচারাধীন বন্দীদের সকল তথ্যাদি, সঙ্গে আনা জিনিসপত্রসহ বিচারাধীন বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্ট্রারে (রেজিষ্ট্রার-৮) লিপিভুক্ত করতে হবে। একটি হিস্ট্রি টিকেটে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম, আদালতে হাজির করার প্রথম তারিখ, কারাগারে ভর্তির তারিখ, যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, পূর্ববর্তী সাজা (যদি থাকে), মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, দোষ স্বীকারকারী বন্দী কিনা, বিচারের তারিখ সমূহ, ভর্তির সময়ে ওজন, প্রতি ১৫ দিন পরে ওজন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে।

কোন জখমী চিহ্ন আছে কিনা, থাকলে সেগুলো সম্পর্কে বন্দীর বক্তব্যসহ, সতর্কতার সঙ্গে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। এই টিকেট সব সময় পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে।

বিধি-৯৩১।

(১) কোন বিচারাধীন বন্দীর অবস্থা মরণাপন্ন হলে, জেল সুপার বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন বা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে দায়রা আদালতকে জানাবেন, আদালত আইনানুগ মনে করলে বন্দী জামিনে মুক্তি পেতে পারে। যদি জামিন অগ্রাহ্য হয়,তবে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বন্দীকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করবেন এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৫৯৭ বিধির {(i) এবং (ii) উপ-বিধি এবং নোট (১)} অনুসরণ করতে হবে। বিধি ৫৯১ এবং ৫৯২ বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। না ।

(২) কোন বিচারাধীন বন্দী অসুস্থতার কারণে আদালতে ধার্য তারিখে হাজির হতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হলে জেল সুপার আদালতকে এ ব্যপারে অবহিত করবেন। এর পর বন্দী আরোগ্য লাভ করলে বা অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হলে তিনি পুনরায় তা আদালতকে জানাবেন ।

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯৩২।

বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু বা উম্মাদ গ্রস্ততার সংবাদ জেল সুপার কর্তৃক সে আদালতকে জানাতে হবে যে আদালতের নির্দেশে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল।

বিধি-৯৩৩।

বিচারাধীন বন্দীদের জন্য “বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্টার’ (রেজিষ্ট্রার-৮) ব্যবহার করতে হবে। 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

আজকে আমরা সিভিল বন্দী সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

সিভিল বন্দী

 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

বিধি-৮৮৬৷

প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে সিভিল ওয়ার্ড বা কারাগারে আটক রাখতে হবে এবং তাদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মেলামেশার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

বিধি-৮৮৭।

প্রয়োগ নেই।

 

বিধি-৮৮৮।

সিভিল বন্দী ৬ প্রকারের-

(১) দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ (ডি) ধারায় দেওয়ানী আদালত কর্তৃক দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত ব্যক্তি,

(২) রায়ের পূর্বে সিভিল কারাগারে সোপর্দকৃত বিবাদী

(৩) দেওয়ানী আদালতের আদেশ মোতাবেক ডিক্রীজারীর জন্য আটক বিচারে-দেনদার,

(৪) সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশ মোতাবেক সরকারী পাওন আদায় আইন, ১৯১৩ অধীনে আটক বিচারে দেনদার,

(৫) ফৌজদারি কার্য বিধির { } ৫১৪ ধারায় ফৌজদারি আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড প্রদত্ত ব্যক্তি,

(৬) প্রযোজ্য অন্য কোন আইনে সিভিল কারাগারে আটককৃত ব্যক্তি।

 

বিধি-৮৮৯।

লক আপের শেষে সূর্যাস্তের পর কোন সিভিল বন্দীকে ভর্তি করা যাবে না।

 

বিধি-৮৯০।

দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার XXI, রুল ৩৯ মোতাবেক বিচারে- দেনদার সিভিল বন্দীর খাবার খরচ ডিক্রীদার বহন করবেন। ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় প্রেরিত সিভিল বন্দীর খাবার খরচ সার্টিফিকেট অফিসার বন্দীর সঙ্গে প্রেরণ করবেন অথবা বিনাশ্রম স্কেলে তাদেরকে সরকার কর্তৃক খাওয়ানো হবে মর্মে আদেশ প্রদান করবেন।

 

সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯১।

যখন ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে কোন সিভিল বন্দীকে কারাগারে সোপর্দ করা হয়, তখন প্রেরণকারী আদালত হাইকোর্ট অনুমোদিত হারে বন্দীর মাসিক খোরপোষ ভাতা ধার্য করে দিবেন। প্রথম পেমেন্ট কোর্ট অফিসারের নিকট প্রদান করতে হবে। চলতি মাসের যতদিন অবশিষ্ট আছে সে হিসাব করে, কোর্ট অফিসার তা জেলারের নিকট প্রেরণ করবেন।

যথাযথ ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত কোন বিচারে দেনদারকে সিভিল কারাগারে গ্রহণ করা হবে না। সম্পূর্ণ পরিমাণ আনুষঙ্গিক ভাতা (যদি থাকে) মাস শুরু হবার পূর্বেই জেলারের নিকট অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। ডিক্রীদার ভাতা পরিশোধ না করলে জেল সুপার আদালতকে না জানিয়ে বিচারে দেনদারকে মুক্তি দিবেন। মুক্তি সে দিন সকালে দিতে হবে, যে দিনের জন্য কোন ভাতা পরিশোধ করা হয় নি। ডিক্রীদারকে ৭৬ নম্বর জেল ফরমে তার পরিশোধকৃত টাকার প্রাপ্তি প্রদান করতে হবে।

 

বিধি-৮৯২।

আদালত দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত বন্দীর মাসিক ভাতা কেবল মাত্র শ্রেণী অনুযায়ী ধার্য করবেন, বন্দীর বংশ বা জাতীয়তা বিবেচনা করবেন না (হাইকোর্ট রুল ১৫ (সিভিল), ১৯৩২।

 

বিধি-৮৯৩।

(১) সিভিল বন্দীর মুক্তির তারিখ ৫২৪ বিধি অনুযায়ী গণনা করতে হবে এবং তার নাম রিলিজ ডাইরীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) একাধিক ওয়ারেন্ট মূলে কোন সিভিল বন্দীকে আটকের আদেশ হলে, প্রত্যেক ওয়ারেন্ট পূর্ণ ভাবে কার্যকর করতে হবে, যদিও এতে বন্দীর আটকের মেয়াদ ৬ মাস অতিক্রান্ত হতে পারে। বিধি-৮৯৪। ডিক্রীজারীর জন্যে আটককৃত প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে আটক রাখতে হবে-

(ক) যখন ৫০ টাকার বেশী পরিশোধের ডিক্রী হয়, ৬ মাস; এবং

(খ) অন্য যে কোন ক্ষেত্রে, ৬ সপ্তাহ: তবে শর্ত থাকে যে, সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে মুক্তি পেতে পারে যদি-

(১) দেওয়ানী কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ওয়ারেন্টে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করলে, বা

(২) ডিক্রী অন্য ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেলে, বা

(৩) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল তার অনুরোধ ক্রমে, বা

(৪) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল, সে খোরপোষ ভাতা পরিশোধ হতে বিচ্যুত হলে, বা

(৫) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল সে ব্যক্তি জেল সুপার কর্তৃক বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিংয়ের মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে।

আরও শর্ত থাকে যে, ঐ বন্দী আদালতের আদেশ ব্যতীত উপ-বিধি (২) এবং (৩) অনুযায়ী মুক্তি পাবে না। এই বিধান সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশে দেওয়ানী কারাগারে আটক বিচারে- দেনদারদের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব অনুসরণ করা হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯৫।

কোন বিচারে দেনদার দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

(ক) কোন সংক্রামক রোগের কারণে সরকার কর্তৃক,

(খ) গুরুতর অসুস্থতার জন্যে রায় প্রদানকারী আদালত বা তার উচ্চ আদালতের নির্দেশে।

 

বিধি-৮৯৬।

সিভিল বন্দীর মুক্তির পরে, যদি তার খাবার বাবদ কোন টাকা জেলারের হাতে অব্যয়িত থাকে, জেলার তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন। খাবার টাকা ফেরত দেয়ার প্রত্যেক প্রাপ্তি রাখতে হবে এবং ক্যাশ বইতে হিসাবের বিপরীতে লাগিয়ে রাখতে হবে।

 

বিধি-৮৯৭।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজের জামা-কাপড়, খাবার ও তৈজসপত্র ব্যবহারের এবং ক্রয় করা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে। যদি কোন সিভিল বন্দী পর্যাপ্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর ব্যবস্থা না করতে অপারগ হয়,তা হলে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে তা তাকে সরবরাহ করবেন।

 

বিধি-৮৯৮।

কোন ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে সোপর্দকৃত সিভিল বন্দীকে পূর্বোক্ত ভাবে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হলে, জেল সুপার সে ব্যক্তির নিকট বন্দীকে প্রদত্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর মূল্য বাবদ খরচের হিসাব প্রেরণ পূর্বক তা পরিশোধের জন্যে লিখিত দাবী জানাবেন। লিখিত দাবী পাবার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা পরিশোধ করা না হলে, জেল সুপার ঐ সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন।

ডিক্রীদারের নাম ঠিকানা আদালত হতে নিশ্চিত হয়ে রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে ডিক্রীদারের ঠিকানায় দাবী প্রেরণ করতে হবে। পর প্রাপ্তির যুক্তি সঙ্গত সময় অপেক্ষা করার পর পাওনা পরিশোধ না হলে জেলার সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে জেল সুপার নিশ্চিত হবেন যে, দাবী মানা হয়নি বা পরিশোধ করা হয়নি।

 

বিধি-৮৯৯।

যদি ডিক্রীদারের খরচে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হয়,বিচারে-দেনদারকে মুক্তি প্রদানের সময়, রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে ডিক্রীদারকে জানাতে হবে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জামা-কাপড় বা বেডিং দাবী না করেন তবে তা জেল সুপার নিজ দায়িত্বে বিক্রয় করে দিবেন। জামা-কাপড় বা বেডিং তদনুযায়ী বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং বিক্রয়ের আর আদালতে জমা প্রদান করা হবে।

 

বিধি-৯০০।

সিভিল বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জেল সুপারের নির্ধারিত সময় মোতাবেক কারাগারের বাহির হতে খাবার সরবরাহ করতে দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিক্রীদার কর্তৃক জমাকৃত ভাঙা বন্দীদের বন্ধুদের কাছে দেয়া যেতে পারে।

 

বিধি-৯০১।

সকল জন্মকৃত বা সরবরাহকৃত খাবার, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেলারের মাধ্যমে এবং জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এবং পরীক্ষা করে কারাগারে প্রবেশ করানো হবে।

 

বিধি-৯০২।

কোন সিভিল বন্দীর খাদ্য, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য সামগ্রী অন্য কোন বন্দীর নিকট বিক্রয় বা ভাড়ায় দেয়া যাবে না। এ বিধির লংঘনকারীকে খাদ্য কেনা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের সুযোগ রহিত করা হবে এবং কোন সিভিল বন্দী কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারায় কোন অপরাধ করলে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক বিচারে দণ্ডনীয় হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৯০৩।

বিধির পরিপন্থী না হলে, সিভিল বন্দীদের নিকট ড্রাগ বা মদ ব্যতীত টাকা বা অন্যান্য সামগ্রী দাতার ইচ্ছানুযায়ী দান বা অনুদান হিসাবে বিতরণ করা যেতে পারে। তাদেরকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই দেয়া যেতে পারে এবং তাদের নিজ খরচে জেল সুপার অনুমোদিত আপত্তিহীন বই বা সংবাদ পত্র রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে নিরাপদ ঘরোয়া খেলার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে সিভিল বন্দীর জন্য জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত মিষ্টি বা অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

 

বিধি-৯০৪।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজেদের ভরণ-পোষণের জন্য জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হবার অনুমতি দেয়া যাবে। সিভিল বন্দীরা নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে এবং কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় না হলে, সম্পূর্ণ আয় গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় হলে যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাদের আয় হতে কেটে রাখা হবে ৷ কোন সিভিল বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু, তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য চাপ দেয়া যাবে।

 

বিধি-৯০৫ ৷

সিভিল বন্দীগণ যখন দিনে কক্ষে বা ওয়ার্ডে থাকবে তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যথাযথ পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। কোন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা বা অনুমোদিত ভিজিটর সিভিল ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তারা উঠে দাঁড়াবে, সম্মান করবে এবং কাজ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিবে।

তারা কারাগারের নিয়ম এবং জেল সুপারের নির্দেশ প্রতিপালন করবে। কোন সিভিল বন্দী অপর কোন বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণ বা অপমান করলে বা ঝগড়া করলে বা জোরে কথা বললে এবং হৈ চৈ করলে কিংবা অশোভন বা অনৈতিক কোন অপরাধ করলে বা বিনা অনুমতিতে বাহিরের কারো সাথে যোগাযোগ করলে বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ প্রদান করলে বা করার চেষ্টা করলে বা জুয়া খেললে এবং ওয়ার্ডের বারান্দা নোংরা করলে এবং আদেশ অমান্য করলে বা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোন ভাবে অসম্মান প্রকাশ করলে ১,৭ এবং ৮ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ৪ নম্বর গুরু শাস্তি অথবা বলবৎ আইন মোতাবেক অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

বিধি-৯০৬।

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন সিভিল বন্দীকে পলায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা করে সুযোগ প্রদান করলে দণ্ড বিধির ২২২ বা ২২৩ ধারায় দণ্ডনীয় হবেন। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে দও বিধির ২২৫বি ধারায় দণ্ডনীয় হবে। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে ডিক্রীদারকে অবহিত করতে হবে, যিনি, বন্দীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি কারা কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে পুনঃধৃতকরণে সাহায্য করবেন। পুনঃধৃত করা গেলে বা পলায়নের চেষ্টা করলে, বন্দীর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ২২৫বি ধারায় বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা করা হবে।

 

টীকা- যে ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হয়ে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতায় কোন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিতকে আইনানুগভাবে আটক করে রাখতে আইনত বাধ্য থেকে অবহেলাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, সে ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। (ধারা-২২৩, দণ্ডবিধি)।

 

বিধি-৯০৭।

যে সকল বন্দী নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আগ্রহী, তাদেরকে জেল সুপার সকল তথ্য ও সহায়তা করবেন-এ মর্মে প্রত্যেক সিভিল ওয়ার্ডের সামনে নোটীশ টানিয়ে রাখতে হবে। দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা লেখা যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় লেখার কাগজ ও জিনিসপত্র সরবরাহ করা যেতে পারে ।

বিধি-৯০৮।

সিভিল বন্দীদের জন্য সিভিল জেল রেজিষ্টার (৯ নম্বর রেজিষ্টার) ব্যবহৃত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের কারাগার বদলি

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের কারাগার বদলি প্রসঙ্গে

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বন্দীদের কারাগার বদলি । জেল কোড

বিধি-৮৪০। একজন সাজা ভোগরত বন্দীকে কারা মহা পরিদর্শকের আদেশক্রমে সাজার মেয়াদ শেষ হবার একমাস পূর্বে বন্দীর বাড়ীর নিকটবর্তী কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে। কিন্তু বিশেষ কারণ ব্যতীত এরূপ স্থানান্তর করা উচিত হবে না। বন্দীরা সাধারণত আটক থাকার কারাগার হতেই মুক্তি পাবে। মুক্তির সময় তাদেরকে তাদের বাড়ীর নিকটবর্তী রেল ষ্টেশন পর্যন্ত ভ্রমনের জন্যে রেল টিকেট এবং দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-৮৪১। অকার্যকর।

বিধি-৮৪২। নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ব্যতীত যে কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হবে-

(১) অন্য জেলায় সাক্ষ্য প্রদান বা বিচারের প্রয়োজনে প্রেরণ,

(২) কিশোর অপরাধীকে সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ,

(৩) পি আর টি বন্দী,

টীকা-১। বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্ন বিধান না থাকলে কারাদণ্ড বা হাজতবাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে, সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন (ধারা- ৫৪১, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। ডিটেন্যুদের স্থানান্তরের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।

টীকা-৩। স্বীকারোক্তির যথার্থতা নির্ণয়ের জন্য একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে ইনস্পেক্টর জেনারেলের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পিআরবি)।

টীকা-৪। বিচারাধীন বন্দীকে প্রথমে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল সে কারাগার হতে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে কোর্ট অফিসার যে আদালতে উক্ত মামলা চলছে সে আদালতে আবেদন করবেন। অনুরূপ বন্দীকে আদালতে হাজির করার পর স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হলে স্থানান্তর করতে হবে (প্রবিধান-৪৮৫, পিআরবি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৩। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্নোক্ত ভাবে বন্দী স্থানান্তরিত হবে :-

বন্দীর শ্রেণী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য কোন কারাগারে প্রেরণ করা হবে দন্ড শেষ হবার কত দিন আগে জেলকোডের বিধি
দীর্ঘ মেয়াদী বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৯
১ম ও ২য় শ্ৰেণী প্রাপ্ত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ১০৬৮
শিক্ষিত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৭
মহিলা বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৪,৯৪৭
কিশোর বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৫,৯৬৬,৯
কুষ্ঠ রোগী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ১০৪৭
সিভিল বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৪৭,৮৫৮
প্রভাবশালী,উগ্র ও ভয়ংকর প্রকৃতির বন্দী কারাবাস আদেশ অনুযায়ী ৮৪৫
প্রয়োগ নেই কারাবাস
১০ মাদক পাচারের জন্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবাস নিজ জেলা কারাগারে ২ মাস ৮৫৩
১১ মুচলেকা খেলাপের দায়ে বন্দী মুচলেকা সম্পাদন সুবিধার্থে নিজ জেলা কারাগারে  ২ মাস ৮৫২
১২ ১ম, ২য় শ্রেণী প্রাপ্তবন্দী যারা রেয়াতসহ শর্ত যুক্ত মুক্তি প্রাপ্ত শর্তযুক্ত মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে  ১ মাস ৮৪৮
১৩ মহিলা বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ৬ সপ্তাহ ৮৪৮
১৪ পি আর টি বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ১ মাস ৮৪৮
১৫ অসুস্থ বা মৃত্যুগামী বন্দী ৫৯১,৫৯২ ও ৫৯৪ অনুসারে মুক্তির জন্যে আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুবান্ধব বাস করে সে জেলা কারাগারে ১ মাস ৫৯৬
১৬ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে আদেশ মোতাবেক ৯৯৯

এ ছাড়া কারাগারের স্থানাভাব দূর করার জন্যে, পুলিশকে তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে, পুলিশের চাহিদা মোতাবেক ছবি তোলার জন্যে, কারাগারের কাজ করার জন্যে এবং বন্দীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে আদেশ মোতাবেক প্রযোজ্য কারাগারে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে না-

(ক) ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করলে;

(খ) আপীল না করলে আপীল করার সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা আপীল না মঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত।

টীকা- স্বীকারোক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দীর কারাগার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে কারা মহাপরির্দশকের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পি আর বি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৪। প্রতিটি বদলির আদেশের আবেদনের সাথে বা আদেশ সাপেক্ষে বদলি করার পর ৮ নম্বর জেল ফরমে বদলিকৃত বা প্রেরিতব্য বন্দীদের নাম নম্বরসহ কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে দাখিল করতে হবে।

বিধি-৮৪৫। শারীরিক সক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রমী বিবেচনায় কোন বন্দীকে বদলির আদেশ দেয়ার পর যে কারাগারে বদলি করা হবে সে কারাগারের জেল। সুপারের সঙ্গে বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ করার জন্যে বদলি বিলম্বিত হতে পারে। আলোচনার পর গ্রহণকারী জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করলে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৪৬। বদলির জন্য তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শক বরাবরে প্রেরণ কালে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার প্রতিটি বন্দী সম্পর্কে মন্তব্যে কোন আপত্তি লক্ষিত হয় কিনা তা উল্লেখ করবেন; এবং কারা মহাপরিদর্শক কোন্ কোন বন্দী বদলি করা হবে তা নির্ধারণ করবেন। বদলির অনুমোদন আদেশে কারা মহাপরিদর্শক শুধুমাত্র বন্দীর নাম এবং নম্বর উল্লেখ করবেন; এবং আদেশ বন্দী যেখানে আটক আছে সে কারাগারে এবং তথ্য বিবরণী ফদটি বদলি গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করবেন। দ্বিতীয় কপি তথ্য বিবরণী ফর্দ কারাগারের অফিসে রাখা উচিত।

বিধি-৮৪৭। বদলির জন্য প্রস্তাবিত বন্দী বিশেষতঃ দীর্ঘ মেয়াদী শিক্ষিত এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বন্দীদের তথ্য বিবরণী ফর্দ যাতে যথাযথভাবে পূরণ হয় এবং যথানিয়মে কারা মহা পরিদর্শক বরাবরে আদেশের জন্য প্রেরিত হয় তা দেখা জেল সুপারের কর্তব্য।

যদি জনাধিক্য বদলির কারণ হয় তবে ১১৪৮ বিধির আদেশ অনুসারে অনতিবিলম্বে জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ ক্ষেত্রে জেলার কঠোরভাবে দায়ী থাকবেন। কোন শিক্ষিত, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির বন্দী কারাগারে আগমন করলে জেলার তা জেল সুপারের গোচরে আনয়ন করবেন এবং কোন বিধির আওতায় বদলি প্রয়োজন তাহা উল্লেখ করবেন।

৮৪৮ ৷ যে সকল প্রথম শ্রেণীর পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী ভর্তির রেজিষ্টার ও মুক্তির ডায়েরীতে যাদের নামের বিপরীতে ইংরেজী ‘টি’ অক্ষর লিখা রয়েছে এবং রেয়াত ফর্দের ১ম এবং ২য় শ্রেণীর বন্দী যারা শতাধীন মুক্তি অর্জন করেছে তাদেরকে বদলি করা উচিত ।

বিধি ৮৪৯-৮৫০। অকার্যকর।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৫১। যদি কোন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী অসুস্থতার কারণে তার মুক্তির দুই মাস পূর্বে বদলির জন্য অনুপযুক্ত হয় তবে বিষয়টি বন্দীর নিজস্ব জেলার জেল সুপার ও পুলিশ সুপারকে জানানো উচিত। পরবর্তীতে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলায় যাওয়ার সময় থাকলে তাকে সেখানে বদলী করা উচিত।

যদি সাজা খাটার মাত্র ১৫ দিন বাকী থাকে তখনও সে বদলির অনুপযুক্ত থাকে, তখন বন্দীর মুক্তি স্লিপে বিষয়টির একটি নোট সহ স্থানীয় পুলিশের নিকট পাঠিয়ে দেয়া উচিত এবং মুক্তির দিন অন্য কোন ঝুট ঝামেলা ছাড়া তাকে মুক্তি দেয়া উচিত। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত বন্দী যারা পুলিশ নিবন্ধিত তাদেরকে যথেষ্ট সময় হাতে না থাকলে কিংবা মুক্তির পূর্ব দিনে বদলিকৃত জেলে পৌছাতে না পারলে বদলি করা উচিত নয়। এই সকল বন্দীর পুলিশ নিবন্ধিত স্লিপ বন্দীর নিজ জেলার পুলিশ সুপারের নিকট কুষ্ঠাক্রান্ত কারাগারের জেল সুপার দ্বারা প্রেরিত হওয়া উচিত ।

বিধি-৮৫২। যদি মূল সাজার অতিরিক্ত হিসেবে শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেয়ার আদেশ থাকে এবং তা অমান্যে অতিরিক্ত সাজার আদেশ থাকে তা হলে মূল সাজা শেষ হবার দুই মাস পূর্বে মুচলেকা দেয়ার সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বন্দীকে নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে।

বিধি-৮৫৩। আফিম বা কোকেনের চোরাচালানের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে সাজার মেয়াদের শেষ দুই মাসের যে কোন সময় তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে। কোন বিলম্ব ছাড়া এ সকল বন্দীর তিন ফর্দ তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তিনি এ সকল বন্দীর বদলি অনুমোদন করবেন।

বিধি-৮৫৪ । কোন মহিলা বন্দীর জন্যে কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে সে সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি-৮৫৫। কোন কারাগারে কিশোর বন্দীদেরকে পৃথক রাখার ব্যবস্থা না থাকলে যে কারাগারে এ ব্যবস্থা আছে সেখানে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৮৫৬-৮৫৭। অকার্যকর।

বিধি-৮৫৮। যদি কোন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির জেল ভাঙ্গা বা ভয়ংকর চরিত্রের কোন বন্দী কোন কম নিরাপদ কারাগারে থাকে বা বন্দী যদি স্থানীয় ভাবে খুব প্রভাবশালী হয়, এ সব কারণে তার বদলি যুক্তি সঙ্গত প্রতীয়মান হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট এ মর্মে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

বিধি-৮৫৯। ৬ মাস বা ততোধিক সময়ের জন্যে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল ও বয়স ৪৫ বৎসরের অধিক না হলে জেলা কারাগার হতে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করতে হবে। ৬ মাসের কম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলির জন্যে কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতা প্রাপ্ত। তিনি প্রয়োজন অনুসারে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন ।

বিধি-৮৬০। কোন কারাগারে ঝাড়ুদার বা পেশা ভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে স্বল্প মেয়াদের বন্দী আটক না থাকলে এ সকল কাজ সম্পাদনের জন্যে নিকটস্থ কেন্দ্রীয় কারাগার হতে বন্দী আনয়ন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সকল আবেদনপত্র কারা মহা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬১ । স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যে উপযুক্ত আবহাওয়া সম্পন্ন কারাগারে বন্দীকে বদলির সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৮৬২ । কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে নেয়া যাবে না যদি না মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী স্থানান্তরের অযোগ্য অসুস্থতা মুক্ত। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বদলির আগে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে এবং তিনি ১৩ নম্বর জেল ফরমে এ মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী বদলির ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত।

বিধি-৮৬৩। প্রয়োগ নেই।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৬৪। সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির ভ্রমণের সময় সাধারণত রান্না করা খাবার সঙ্গে দেয়া হবে। ভ্রমণ একদিনের বেশী হলে জেল সুপার স্কট কমান্ডারের নিকট নগদ অর্থে দৈনিক ভাতা প্রদান করবেন, যাতে তিনি খাবার ক্রয় করতে পারেন।

টীকা-১। পুলিশ এস্কটে থাকাকালে একজন বন্দী দৈনিক ১০ টাকা হারে ভাতা পাবে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ই-৩৫/৮৪-জেল-১/৪৫৬ তারিখ-১৫-৮-৯৫)।

টীকা-২। সড়ক পথে ভ্রমনের সময় বন্দীদেরকে পথের পুকুর হতে পানি পানের অনুমতি দেয়া হবে না (প্রবিধান-৭১৯, পিআরবি)।

টীকা-৩। জেল কোডের ৮৬৪ বিধি পিআরবি’র ৭১৯ নম্বর প্রবিধান অবিকলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিধি-৮৬৫। প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৮৬৬। বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশ প্রহরার জন্যে পরিশিষ্ট ৪ অনুসরণ করতে হবে।

টীকা- প্রয়োজন হলে পুলিশ লাইন হতে পুলিশ নিয়ে কোর্ট পুলিশ জেল বা লক-আপ হতে বিচারাধীন বন্দীদের ম্যাজিষ্ট্রেটের কোর্টে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তারা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তাদেরকে পাহারা দিবে। ম্যাজিট্রেট যাদের জেল দেয়ার বা হাজতে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে পাহারা দিয়ে ফেরত নিয়ে আসবে (প্রবিধান-৪৭৯,পিআরবি।

বিধি-৮৬৭। এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তর কিংবা বিচারাধীন বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্যে প্রেরণের উদ্দেশ্যে জেল সুপার নির্ধারিত ফরমে পুলিশ সুপারের নিকট পুলিশ স্কট চেয়ে রিকুইজিশন প্রদান করবেন। বন্দীর সংখ্যা, বন্দীদের শ্রেণী-প্রকৃতি, কোন পাগল বা বিপদজনক চরিত্রের বন্দী থাকলে তার উল্লেখ পূর্বক ৪৮ ঘন্টা পূর্বে (ছুটির দিন ব্যতীত) রিকুইজিশন প্রদান করতে হবে। রিকুইজশন দেয়ার পর স্কট প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের উপর বর্তাবে। প্রস্তাবিত বদলির খবর ১২ নম্বর জেল ফরমে গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬৮। মাত্র একজন মহিলা বন্দীকে স্থানান্তর কালে এক বা দুই জন বয়স্ক ও ভাল স্বভাবের কনস্টেবল এবং একজন মহিলা কারারক্ষী সঙ্গে থাকবে ।

বিধি-৮৬৯। বদলির জন্যে নির্দিষ্ট সকল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট হস্তান্তরের পূর্বে সতর্কতার সঙ্গে তরাশী করে দেখতে হবে যেন তারা পলায়নের উদ্দেশ্যে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য যেমন রেতী, অস্ত্র, রশি, সিল্ক বা অন্য কোন দ্রব্য সঙ্গে না নিতে পারে।

বিধি-৮৭০ । ভ্রমণ/ বিরতি কালে যথা সম্ভব মহিলা ও কিশোর বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলা বন্দীদের সাথে একজন মহিলা কারারক্ষী দিতে হবে।

বিধি-৮৭১। পুরুষ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে হাঁটা অবস্থায় জোড়ায় জোড়ায় হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। এক জনের ডান কব্জি, অপর জনের বাম কব্জির সঙ্গে। যখন বন্দীর সংখ্যা ৫,৭,৯ এরূপ বেজোড় হয় তখন বেজোড় ব্যক্তিকে অন্য দুই ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। তার বোঝা অন্য বন্দীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।

পুলিশ বিভাগের বিধিতে প্রযোজ্য হলে প্রয়োজনে পুরুষ বন্দীদের বেড়ী পরাতে হবে। যদি তা করা হয় তবে চামড়া ছেঁছলানো থেকে রক্ষার জন্যে চামড়ার পট্টিও দিতে হবে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর সময় পায়ে বেড়ী পরাতে হবে। হ্যান্ডকাপ পুলিশ বিভাগ সরবরাহ করবে এবং বেড়ী, পট্টি এসব কারা বিভাগ সরবরাহ করবে। কোন মহিলা। বন্দীকে হ্যান্ডকাপ বা বেড়ী পরানো যাবে না ।

বিধি-৮৭২। বন্দীদেরকে স্কটের নিকট প্রদান কালে স্কট ইন-চার্জের নিকট জেলার বিধি মোতাবেক খরচপত্র মিটানোর জন্যে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা প্রদান। করবেন। বিধি ৮৭৭ অনুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভাড়া পরিশোধের জন্য জেলার ১৮ নম্বর জেল ফরমে একটি রেলওয়ে পাশ প্রদান করবেন এবং সরকারী সম্পত্তি ও বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নিম্নোক্ত কাগজ পত্র হস্তান্তর করবেন-

(১) দণ্ড প্রদানের মূল আদেশ (হাইকোর্ট ফরম নং-৩৮), আদেশের উপর বদলির তারিখ এবং যে কারাগারে বদলি হ’ল তা লিখতে হবে:

(২)বন্দীকে কোর্টে হাজির করণের প্রয়োজন হলে কোর্টের আদেশের কপি;

(৩) সরকারী সম্পত্তির সকল তালিকা,কাপড়-চোপড়, বিছানাপত্র, হাঁড়ি পাতিল/ তৈজস পত্র ইত্যাদি, বন্দীদের ব্যক্তিগত জামা কাপড় এবং অন্যান্য সম্পত্তি যা তাদের সাথে যাবে তা স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ১৩ নম্বর জেল ফরমে বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন বন্দী বিপজ্জনক হলে তা তালিকায় লিখে দিতে হবে;

(8) বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট;

(৫) বন্দীর রেয়াত কার্ড (জেল ফরম ১৮);

(৬) মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট,

(৭) পি. আর, স্লিপ, যদি থাকে

(৮) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি বিশদ বিবরণী

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৭৩। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারী রেল, স্টিমার বা অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থা যেখানে আছে সেগুলোর মাধ্যমে বন্দী প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৭৪। অকার্যকর

বিধি-৮৭৫। প্রয়োজন ছাড়া মেইল ট্রেনে বন্দী পাঠানো যাবে না। বন্দীদের জন্যে সংরক্ষিত কামরার দরজা অপসারণ যোগ্য লোহার জাঁজর দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিবেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ বন্দীদের যাত্রার ৪৮ ঘন্টা পূর্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কামরা সংরক্ষিত করার জন্যে ১৭ নম্বর জেল ফরমে রেলওয়ের ষ্টেশন মাষ্টারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

বিধি-৮৭৬। প্রেরণকারী কারাগারের জেল সুপার বন্দীরা যাতে লক আপের পূর্বে গ্রহণকারী কারাগারে পৌঁছতে পারে তার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-৮৭৭। যখন কোন পাগল বা বিপদজনক বন্দী ও রক্ষীসহ লোক সংখ্যা আট জনের অধিক হয় তখন রেলের সংরক্ষিত কামরা ছাড়া তাদেরকে পাঠানো যাবে না।

বিধি-৮৭৮। গন্তব্যে পৌঁছার পর স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণকারী কারাগারের জেলারের কাছে তহবিলের হিসাব দিবেন এবং জেলার কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা ট্রেজারীতে জমা দিতে হবে।

বিধি-৮৭৯। বন্দীরা বদলির মাধ্যমে আসার পর কারাগারের জেলার নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিবেন-

(১) স্কট ইনচার্জ হতে ৮৭২ বিধিতে উল্লেখিত সকল দলিলপত্র এবং হিসাবপত্র বা ৮৭৮ বিধিতে উল্লেখিত অগ্রিমকৃত টাকার কোন জের থাকলে তা বুঝে নিবেন:

(২) আগত বন্দীর সংখ্যা সঠিক কিনা দেখে নিবেন: যদি কোন বন্দী হারিয়ে যায় তা হলে স্কট ইনচার্জের কাছ থেকে তার কারণ জেনে নিবেন এবং স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে বিষয়টি উল্লেখ করবেন: বিষয়টি তিনি জেল সুপারকেও জানাবেন;

(৩) প্রেরিত কারাগার হতে যে সকল সরকারী সম্পত্তি এবং বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রেরণ করা হয়েছে তালিকা অনুযায়ী তা বুঝে নিবেন । যদি কিছু হারিয়ে থাকে তবে স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে দ্রব্যের তালিকাসহ তা লিখে দিবেন। উক্ত তালিকার একটি কপি প্রেরিত কারাগারের জেল সুপারের কাছে প্রেরণ করবেন। যদি স্কটের গাফিলতির জন্যে সম্পদের ক্ষতি হয় তবে তা তাদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে;

(8) জেলার বন্দীদেরকে তাদের সঙ্গে রাস্তায় কি ধরনের আচরণ করা হয়েছে, যাত্রা বিরতি হয়েছে এবং খাদ্য প্রদান করা হয়েছে সে সব ৮৬৪ বিধি অনুযায়ী জিজ্ঞাসা করবেন; কোন অভিযোগ থাকলে তা স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে উল্লেখ করবেন;

(৫) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছে সে কারাগারে বা স্কটের ফেরত পথে পথিমধ্যে অন্য কোন কারাগারে বন্দী প্রেরণ করার থাকলে স্কটের শক্তি অনুসারে বন্দী স্থানান্তরের জন্যে হস্তান্তর করবেন;

(৬) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে স্কট ইন-চার্জের কাছে ১১ নম্বর পি আর বি ফরমে কমান্ড সার্টিফিকেট (সিসি) প্রদান করবেন।

বিধি-৮৮০। গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার দেখবেন যে বন্দীদের সাথে প্রেরণকারী কারাগার হতে যে সকল পোশাক ও বেডিং পাঠানো হয়েছে সে সব ব্যবহার যোগ্য কিনা। যদি ব্যবহার যোগ্য না হয় তিনি কারা মহাপরিদর্শককে বিষয়টি জানাবেন। যদি কোন বন্দী নালিশ করে যে তার সাথে পথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা নির্দেশ মোতাবেক তাকে খেতে দেয়া হয়নি, তবে জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং তার এক কপি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

 

বিধি-৮৮১। কোন বন্দী পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যদি বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তাকে নিকটবর্তী থানায় বা পুলিশ চৌকিতে রেখে যেতে হবে। সেখান থেকে তাকে নিকটবর্তী কারাগারে প্রেরণ করে দিতে হবে এবং কারাগারে মেডিকেল অফিসারের চিকিৎসায় রাখতে হবে। ঘটনাটি প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

বিধি-৮৮২। যে কারাগারে অসুস্থ বন্দীকে রাখা হয়েছে সে কারাগারের জেল সুপার বন্দী সুস্থ না হওয়া পর্যস্ত তাকে সেখানে রাখবেন এবং তার হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন। সুস্থ হবার পর তাকে তার গন্তব্য কারাগারে প্রেরণ করবেন এবং তার প্রেরণের বিষয়টি গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার এবং কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

বিধি-৮৮৩। যদি স্থানান্তরের পথে কোন বন্দী মারা যায়, তবে যে জেলায় মারা যাবে সে জেলার জেলা ম্যাজিট্রেট এ ব্যপারে তদস্ত করবেন এবং দেরী না করে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করলে বদলি কালে বন্দীর মৃত্যু জেল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না ।

বিধি-৮৮৪ । কোন বন্দী পথিমধ্যে পালিয়ে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে, যারা পলাতক বন্দীকে পুনরায় ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা করবেন । যে কারাগরে বন্দীকে গ্রহণ করার কথা ছিল এবং যে কারাগার হতে প্রেরণ করা হয়েছিল, উভয় কারাগারের জেল সুপারকেই পলায়নের খবর জানাতে হবে।

যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছিল, সে কারাগরের জেল সুপার তার জেলা কর্তৃপক্ষের সাহায্যে বন্দীকে ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যদি পুনরায় ধৃত করা সম্ভব না হয় তা হলে ঐ বন্দীর কাগজপত্র, সম্পত্তি তার প্রেরক কারাগারে ফেরত যাবে।

বিধি-৮৮৫। যে সকল বন্দী আটকাবস্থা থেকে পলায়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তাদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে তাদের ডিসক্রিপটিভ রোল জেলা কারাগারের জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

নোট-নদীপথে প্রেরণকারী বন্দীদের ক্ষেত্রেও এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class