আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ২– হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা
পরিচ্ছেদ ২– হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

বিধি-১২৩০।
কোন বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অসুস্থ মনে হলে কারাগারের কর্মচারীদের দায়িত্ব হ’ল সাথে সাথে তা মেডিকেল সহকারীকে জানানো। যদি কোন বন্দী স্বাভাবিকের চেয়ে বার বার পায়খানায় যায়, তাকে পর্যবেক্ষণের জন্যে আলাদা ওয়ার্ডে পৃথক করে রাখতে হবে ।
বিধি-১২৩১।
প্রত্যেক কারাগারে পুরুষ এবং মহিলা বন্দীদের চিকিৎসার জন্যে পৃথক হাসপাতালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থতার অনুযোগ আছে এমন সকল বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের নিকট নিতে হবে। মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পরীক্ষান্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে কিনা বা বিধি অনুযায়ী অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কিনা ।
বিধি-১২৩২।
(১) যে কোন বন্দীকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের জন্যে হাসপাতাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্তি ব্যতীত কারা হাসপাতালে ৪৮ ঘন্টা রাখা যাবে, তবে এর বেশী নয়। “কনভালেসেন্ট” বা “স্পেশাল” গ্যাং বা সন্দিগ্ধ পাগল না হলে, কোন বন্দী ৪৮ ঘন্টার বেশী কারা হাসপাতালে থাকলে তার নাম হাসপাতাল রেজিষ্টারে এবং হাসপাতাল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
(২) এভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের নাম “রোগীদের সকালের অবস্থা” রেজিষ্টারে ১০৪ নম্বর জেল ফরমে লিখতে হবে এবং তাদের প্রাত্যহিক চিকিৎসা বিবরণী, হাসপাতালে ভর্তি, সেখানে অবস্থান কাল এবং সেখান হতে অবমুক্তির বিবরণী রেকর্ড করতে হবে।
বিধি-১২৩৩।
‘প্রত্যেক রোগীকে কারা হাসপাতালে একটি বেড দিতে হবে যাতে থাকবে একটি মেট্রেস, একটি বালিশ এবং সাদা চাদর। তাকে মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্বলও দেয়া যাবে। যদি কোন মৃগী রোগীকে কোন সেলে রাখা হয়, তবে তাকে কোন চৌকি বা উঁচু বিছানায় রাখা যাবে না। তাকে মেঝেতে ঘুমানোর জন্যে বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিধি-১২৩৪।
কারা হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীর বেডে ১০১ নম্বর জেল ফরমে একটি টিকেট স্থাপন করতে হবে। এতে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস, রোগের উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার বিবরণী লিপিবদ্ধ থাকবে। আমাশয় রোগের বেলায় এ রোগ বন্দীর বাড়িতে হয়েছে না কারাগারে আসার পর হয়েছে, তার উল্লেখ রাখতে হবে। জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে ১০২ নম্বর জেল ফরমে জ্বরের চার্ট রাখতে হবে। এটা বেড হেড টিকেটে সংযুক্ত রাখতে হবে।
বিধি-১২৩৫ ।
কারা হাসপাতাল এবং তার আঙিনা নিখুঁত ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সুবিধামত ফুলের বাগান করা যেতে পারে। মেডিকেল অফিসার কারা হাসপাতালে বেড এবং কাপড়-চোপড় বিশেষ ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করবেন।
বিধি-১২৩৬।
মেডিকেল অফিসার অসুস্থ বন্দীর চিকিৎসার স্বার্থে অধিকতর আলো বাতাসের জন্য প্রয়োজন মনে করলে অসুস্থ বন্দীকে দিনের বেলায় কিছুক্ষণের জন্যে হাসপাতাল এলাকায় ছায়া বা গাছের নিচে রাখতে পারবেন।
বিধি-১২৩৭।
কারা হাসপাতালের কাপড়-চোপড় ধৌত ও সিদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কম্বল ও কম্বলের কাপড় প্রয়োজন মত বার বার সিদ্ধ করতে হবে। হাসপাতালের কম অসুস্থ বন্দীরা মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক রোজ গোসল করবেন ।
বিধি-১২৩৮।
কারা হাসপাতালের বন্দীর ডায়েট সম্পূর্ণরূপে মেডিকেল অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি যেরূপ মনে করবেন প্রত্যেক অসুস্থ বন্দীর জন্যে পৃথক পৃথক ভাবে সেরূপ ডায়েট এবং খাওয়ার সময় নির্ধারণ করবেন, কিন্তু নিয়ম মতে প্রত্যেক অসুস্থ বন্দী হাসপাতালে দৈনিক চার বার খাবার পাবেন এবং প্রয়োজনে বার বার দিতে হবে। বৃহৎ কারাগার গুলিতে হাসপাতালের জন্য আলাদা রান্না ঘর থাকবে এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে হতে এক বা একাধিক বাবুর্চী নিয়োগ করতে হবে। অসুস্থ বন্দীদের সাগু এবং অন্যান্য পথ্যের ব্যবস্থা রাখতে হবে ।
বিধি-১২৩৯।
বিপদজনক, উপদ্রবকারী এবং নোংরা পাগল বন্দীকে কারা হাসপাতালে রাখা যাবে না, আলাদা পৃথক সেলে রাখতে হবে।
বিধি-১২৪০।
ক্ষেত্র বিশেষ হাসপাতালে ভর্তিকৃত বন্দীদেরকে হাসপাতালের কাজে নিয়োগ করা যাবে। তাদেরকে কেবল বন্দীদের কাজে লাগানো যাবে,তবে কোন কঠিন কাজে নয়।
বিধি-১২৪১।
কোন বন্দীকে স্বাস্থ্যগত সুবিধার উদ্দেশ্যে কারা মহা পরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত বদলি করা যাবে না। স্বাস্থ্য সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে কোন কারাগারে বদলি করার পর বন্দী যদি বদলিকৃত কারাগারে আসার তিন মাসের মধ্যে মারা যায়, তা হলে এ মৃত্যুর হিসাব পূর্ববর্তী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড হবে, তিন মাসের পরে মৃত্যু হলে বদলিকৃত কারাগারের রেকর্ডভুক্ত হবে ।
বিধি-১২৪২।
যক্ষা রোগীকে আলাদাভাবে বিশেষ ওয়ার্ডে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে ঢাকা,রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিভাগ হতে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। এ ধরনের কোন বন্দীর মৃত্যু হলে যে কারাগার হতে সে আগত হয়েছিল সে কারাগারের পরিসংখ্যানে তা রেকর্ড করতে হবে।
টীকা-
বর্তমানে সকল কারাগারের যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয় ।
বিধি-১২৪৩।
মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রেজিষ্টার গুলো সংরক্ষন করবেন-
(১) নম্বর ১ : মেডিকেল অফিসারের মিনিট বই;
(২) নম্বর ২৬ : পোস্ট মর্টেম রেজিষ্টার;
(৩) নম্বর ২৭ : হাসপাতাল রেজিষ্টার ;
(৪) নম্বর ২৮ : রোগীর ডায়েট রোল;
(৫) নম্বর ২৯ : কনভালেসেন্ট এবং স্পেশাল গ্যাং রেজিষ্টার
বিধি-১২৪৪ ।
মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রিটার্নগুলো দাখিল করবেন-
(ক) রিটার্ন-২৯ : রোগীদের মাসিক ভর্তির সংখ্যা এবং প্রধান রোগে মৃত্যুর হিসাব
(খ) রিটার্ন-৯ : অপরাধী পাগলদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অর্ধ- বার্ষিকী বিবরণী
(গ) বার্ষিক রিটার্ন ৯ : অসুস্থ বন্দীদের বার্ষিক রিটার্ন
(ঘ) বার্ষিক রিটার্ন ৭ এবং ৮
(ঙ) জেল ফরম ১০৮ : মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত
(চ) এম এস ডি ১৩৫ঃ ঔষধ এবং ষ্টোরের বার্ষিক ইন্ডেন্ট ।
বিধি-১২৪৫।
মারাত্মক ভাবে অসুস্থ বা মরণাপন্ন বন্দীদেরকে দেখার জন্যে তাদের আত্মীয় স্বজনকে অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এ ধরনের বন্দীর অবস্থা অতিদ্রুত ম্যাজিষ্ট্রেটকে এবং সে সঙ্গে সরাসরি ডাকযোগে তাদের আত্মীয়- স্বজনকে জানাতে হবে ।
নোট- সাজার মেয়াদ উত্তীণ অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে বিধি ১০২, কোন বন্দীর মৃত্যু হলে আদেশের জন্যে বিধি ৯৮ এবং ৯৯, মারাত্মক অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে ৫৯১ হতে ৫৯৮ বিধি অনুসরণ করতে হবে।
পরিচ্ছেদ III- সংক্রামক ব্যাধি এবং মহামারী :
বিধি ১২৪৬-১২৬৬।
উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ নেই । পরিচ্ছেদ IV- স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন:

বিধি ১২৬৭-১২৯৬।
প্রয়োগ নেই ।

