মেডিকেল প্রশাসন | পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

পরিচ্ছেদ – হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

বিধি-১২৩০।

কোন বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অসুস্থ মনে হলে কারাগারের কর্মচারীদের দায়িত্ব হ’ল সাথে সাথে তা মেডিকেল সহকারীকে জানানো। যদি কোন বন্দী স্বাভাবিকের চেয়ে বার বার পায়খানায় যায়, তাকে পর্যবেক্ষণের জন্যে আলাদা ওয়ার্ডে পৃথক করে রাখতে হবে ।

বিধি-১২৩১।

প্রত্যেক কারাগারে পুরুষ এবং মহিলা বন্দীদের চিকিৎসার জন্যে পৃথক হাসপাতালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থতার অনুযোগ আছে এমন সকল বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের নিকট নিতে হবে। মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পরীক্ষান্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে কিনা বা বিধি অনুযায়ী অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কিনা ।

বিধি-১২৩২।

(১) যে কোন বন্দীকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের জন্যে হাসপাতাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্তি ব্যতীত কারা হাসপাতালে ৪৮ ঘন্টা রাখা যাবে, তবে এর বেশী নয়। “কনভালেসেন্ট” বা “স্পেশাল” গ্যাং বা সন্দিগ্ধ পাগল না হলে, কোন বন্দী ৪৮ ঘন্টার বেশী কারা হাসপাতালে থাকলে তার নাম হাসপাতাল রেজিষ্টারে এবং হাসপাতাল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) এভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের নাম “রোগীদের সকালের অবস্থা” রেজিষ্টারে ১০৪ নম্বর জেল ফরমে লিখতে হবে এবং তাদের প্রাত্যহিক চিকিৎসা বিবরণী, হাসপাতালে ভর্তি, সেখানে অবস্থান কাল এবং সেখান হতে অবমুক্তির বিবরণী রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-১২৩৩।

‘প্রত্যেক রোগীকে কারা হাসপাতালে একটি বেড দিতে হবে যাতে থাকবে একটি মেট্রেস, একটি বালিশ এবং সাদা চাদর। তাকে মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্বলও দেয়া যাবে। যদি কোন মৃগী রোগীকে কোন সেলে রাখা হয়, তবে তাকে কোন চৌকি বা উঁচু বিছানায় রাখা যাবে না। তাকে মেঝেতে ঘুমানোর জন্যে বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-১২৩৪।

কারা হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীর বেডে ১০১ নম্বর জেল ফরমে একটি টিকেট স্থাপন করতে হবে। এতে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস, রোগের উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার বিবরণী লিপিবদ্ধ থাকবে। আমাশয় রোগের বেলায় এ রোগ বন্দীর বাড়িতে হয়েছে না কারাগারে আসার পর হয়েছে, তার উল্লেখ রাখতে হবে। জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে ১০২ নম্বর জেল ফরমে জ্বরের চার্ট রাখতে হবে। এটা বেড হেড টিকেটে সংযুক্ত রাখতে হবে।

বিধি-১২৩৫ ।

কারা হাসপাতাল এবং তার আঙিনা নিখুঁত ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সুবিধামত ফুলের বাগান করা যেতে পারে। মেডিকেল অফিসার কারা হাসপাতালে বেড এবং কাপড়-চোপড় বিশেষ ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-১২৩৬।

মেডিকেল অফিসার অসুস্থ বন্দীর চিকিৎসার স্বার্থে অধিকতর আলো বাতাসের জন্য প্রয়োজন মনে করলে অসুস্থ বন্দীকে দিনের বেলায় কিছুক্ষণের জন্যে হাসপাতাল এলাকায় ছায়া বা গাছের নিচে রাখতে পারবেন।

বিধি-১২৩৭।

কারা হাসপাতালের কাপড়-চোপড় ধৌত ও সিদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কম্বল ও কম্বলের কাপড় প্রয়োজন মত বার বার সিদ্ধ করতে হবে। হাসপাতালের কম অসুস্থ বন্দীরা মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক রোজ গোসল করবেন ।

 

বিধি-১২৩৮।

কারা হাসপাতালের বন্দীর ডায়েট সম্পূর্ণরূপে মেডিকেল অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি যেরূপ মনে করবেন প্রত্যেক অসুস্থ বন্দীর জন্যে পৃথক পৃথক ভাবে সেরূপ ডায়েট এবং খাওয়ার সময় নির্ধারণ করবেন, কিন্তু নিয়ম মতে প্রত্যেক অসুস্থ বন্দী হাসপাতালে দৈনিক চার বার খাবার পাবেন এবং প্রয়োজনে বার বার দিতে হবে। বৃহৎ কারাগার গুলিতে হাসপাতালের জন্য আলাদা রান্না ঘর থাকবে এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে হতে এক বা একাধিক বাবুর্চী নিয়োগ করতে হবে। অসুস্থ বন্দীদের সাগু এবং অন্যান্য পথ্যের ব্যবস্থা রাখতে হবে ।

বিধি-১২৩৯।

বিপদজনক, উপদ্রবকারী এবং নোংরা পাগল বন্দীকে কারা হাসপাতালে রাখা যাবে না, আলাদা পৃথক সেলে রাখতে হবে। 

বিধি-১২৪০।

ক্ষেত্র বিশেষ হাসপাতালে ভর্তিকৃত বন্দীদেরকে হাসপাতালের কাজে নিয়োগ করা যাবে। তাদেরকে কেবল বন্দীদের কাজে লাগানো যাবে,তবে কোন কঠিন কাজে নয়।

বিধি-১২৪১।

কোন বন্দীকে স্বাস্থ্যগত সুবিধার উদ্দেশ্যে কারা মহা পরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত বদলি করা যাবে না। স্বাস্থ্য সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে কোন কারাগারে বদলি করার পর বন্দী যদি বদলিকৃত কারাগারে আসার তিন মাসের মধ্যে মারা যায়, তা হলে এ মৃত্যুর হিসাব পূর্ববর্তী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড হবে, তিন মাসের পরে মৃত্যু হলে বদলিকৃত কারাগারের রেকর্ডভুক্ত হবে ।

বিধি-১২৪২।

যক্ষা রোগীকে আলাদাভাবে বিশেষ ওয়ার্ডে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে ঢাকা,রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিভাগ হতে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। এ ধরনের কোন বন্দীর মৃত্যু হলে যে কারাগার হতে সে আগত হয়েছিল সে কারাগারের পরিসংখ্যানে তা রেকর্ড করতে হবে।

টীকা-

বর্তমানে সকল কারাগারের যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয় ।

বিধি-১২৪৩।

মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রেজিষ্টার গুলো সংরক্ষন করবেন- 

                      (১) নম্বর ১ : মেডিকেল অফিসারের মিনিট বই;

                      (২) নম্বর ২৬ : পোস্ট মর্টেম রেজিষ্টার;

                      (৩) নম্বর ২৭ : হাসপাতাল রেজিষ্টার ;

                      (৪) নম্বর ২৮ : রোগীর ডায়েট রোল;

                      (৫) নম্বর ২৯ : কনভালেসেন্ট এবং স্পেশাল গ্যাং রেজিষ্টার

বিধি-১২৪৪ ।

মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রিটার্নগুলো দাখিল করবেন-

                      (ক) রিটার্ন-২৯ : রোগীদের মাসিক ভর্তির সংখ্যা এবং প্রধান রোগে মৃত্যুর হিসাব 

                       (খ) রিটার্ন-৯ : অপরাধী পাগলদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অর্ধ- বার্ষিকী বিবরণী

                       (গ) বার্ষিক রিটার্ন ৯ : অসুস্থ বন্দীদের বার্ষিক রিটার্ন

                       (ঘ) বার্ষিক রিটার্ন ৭ এবং ৮ 

                       (ঙ) জেল ফরম ১০৮ : মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত

                       (চ) এম এস ডি ১৩৫ঃ ঔষধ এবং ষ্টোরের বার্ষিক ইন্ডেন্ট ।

বিধি-১২৪৫।

মারাত্মক ভাবে অসুস্থ বা মরণাপন্ন বন্দীদেরকে দেখার জন্যে তাদের আত্মীয় স্বজনকে অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এ ধরনের বন্দীর অবস্থা অতিদ্রুত ম্যাজিষ্ট্রেটকে এবং সে সঙ্গে সরাসরি ডাকযোগে তাদের আত্মীয়- স্বজনকে জানাতে হবে ।

নোট- সাজার মেয়াদ উত্তীণ অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে বিধি ১০২, কোন বন্দীর মৃত্যু হলে আদেশের জন্যে বিধি ৯৮ এবং ৯৯, মারাত্মক অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে ৫৯১ হতে ৫৯৮ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

পরিচ্ছেদ III- সংক্রামক ব্যাধি এবং মহামারী :

বিধি ১২৪৬-১২৬৬।

উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ নেই । পরিচ্ছেদ IV- স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন:

 

পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

বিধি ১২৬৭-১২৯৬।

প্রয়োগ নেই ।

মেডিকেল প্রশাসন |পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

বিধি-১২১২।

প্রত্যেক বন্দীর স্বাস্থ্য ‘ভাল’, ‘খারাপ’ বা ‘মাঝামাঝি’- এ তিন শ্রেণীর যে কোন একটিতে বর্ণনা করতে হবে। কারাগারে ভর্তির সময় কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল, কোন অসুস্থতা না থাকলে এবং গড় ওজন ঠিক থাকলে ‘ভাল’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে। কোন বন্দীর ভর্তির সময় খুব অপুষ্টি বা অসুস্থতা থাকলে এবং তখনই চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে ‘খারাপ’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-১২১৩।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক রেকর্ডকৃত বন্দীর শারীরিক অবস্থার শ্রেণী বিভাজন এবং তার থেকে যে কাজ আদায় করা হবে তার মধ্যে সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই । এটা বন্দীর দৈহিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে। মেডিকেল অফিসার লক্ষ্য রাখবেন কোন বন্দীকে যেন তার দৈহিক সামর্থ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কোন কাজ না দেয়া হয়। যেমন, একজন বন্দীর একটি হাত নেই, কিন্তু তার স্বাস্থ্য ভাল, অথচ তাকে দিয়ে কঠিন কাজ করানো যাবে না। আবার একজন শীর্ণ স্বাস্থ্যের দক্ষ প্রিন্টারের কম্পোজের কাজে পরিপূর্ণ সামর্থ্য থাকতে পারে ।

বিধি-১২১৪ ।

একজন মেডিকেল অফিসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হ’ল যে সকল বন্দীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা খারাপ বা যাদের রোগের ইতিহাস খারাপ বা যাদের দিয়ে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে তাদের দিকে খেয়াল রাখা। বন্দীর বার্ধক্য এবং বৈকল্য, রক্ত শূন্যতা, বড় প্লীহা, লিভার,মাড়ি ফোলা, মুখে ঘা থাকলে তাদেরকে আলাদা করতে হবে এবং বছরের কোন্ সময়ে রোগাক্রান্ত হয় তা নির্ণয় করতে হবে।

যে সমস্ত বন্দীর কোন শারীরিক অসুস্থতা নেই, কিন্তু প্রায়ই অনিয়মিত জ্বর, বুকের ব্যথা, পাতলা পায়খানা দেখা দেয় তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কোন অস্বাস্থ্যকর বা কোন বিশেষ অসুখের জেলা হতে কারাগারে ভর্তিকৃত বন্দীকে এক বা দুই সপ্তাহ বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তাদের খাদ্যের নোট রাখতে হবে। তাদেরকে যদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তবে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। 

বিধি-১২১৫।

কোন বন্দীর ওজনের তারতম্য তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্ণয়ের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এটা নিখুঁত ভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান গ্রহণে তা সাহায্য করে। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কারাগারে আগত অপরাধী জনগোষ্ঠির অধিকাংশই কম-বেশী অভাবগ্রস্ত, পুষ্টিহীন এবং বিভিন্ন রকম রোগে আক্রান্ত থাকে।

আটাশ হাজার মানুষের মধ্যে কাজ করে উচ্চতা ও ওজনের একটি অনুপাত বের করা হয়েছে। একবারে নিখুঁত না হলেও মোটামুটি ক্ষেত্রে এটা অনুসরণ করা যায়। যে সব বাঙালী ও বিহারী পুরুষের বয়স ২৫-৪৫ বছর তাদের জন্যে এটা প্রযোজ্য হবে। একজন লোকের ৫ ফুট উচ্চতার জন্যে ১০০ পাউন্ড এবং ৫ ফুট হতে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৩ পাউন্ড করে বেশী ধরা হয়েছে।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি হতে প্রতি এক ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৪ পাউন্ড বেশী ধরতে হবে । সূত্র-ম্যানুয়েল অব জেল হাইজিন, মেজর ডব্লিউ জে বুচানান, আই.এম.এস, দ্বিতীয় সংস্করণ,১৯০০)।

বিধি-১২১৬।

প্রতি পাক্ষিকে একবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রত্যেক বন্দীর ওজন নিতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এ কাজ করবেন এবং প্রয়োজনে অন্যদের সাহায্য গ্রহণ করবেন। ওজন নেয়ার জন্য সঠিক মানের বীম স্কেল ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-১২১৭।

ওজন নেয়ার পরবর্তী দিন জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট সে সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করতে হবে-

(১) ওজন বৃদ্ধি প্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা

(২) ওজন অপরিবর্তনীয় থাকা বন্দীর সংখ্যা

(৩) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৪) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩- ৫ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৫) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৫ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাসপ্রাপ্ত এমন বন্দীর সংখ্যা

(৬) ভর্তির পর হতে ৭ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৭) ওজন বৃদ্ধি এবং হ্রাসের শতকরা হার ।

পূর্ব উল্লেখিত ৪, ৫ এবং ৬ নম্বরের বন্দীদেরকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্য পৃথক ভাবে প্যারেড করাতে হবে। জেল ফরম ১০৩ এ দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের ওজন সংরক্ষণের এবং ১২১৫ বিধিতে বর্ণিত স্ট্যান্ডার্ডের নিম্ন ওজনের বন্দীদের একটি তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে।

 

বিধি-১২১৮ ।

হাসপাতালে প্রকৃত পক্ষে ভর্তি হয়নি এমন বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসারের পর্যবেক্ষণে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কতিপয় গ্যাংয়ে বিভক্ত করা যেতে পারে। যে সকল বন্দী বার্ধক্য এবং বৈকল্যের কারণে কাজের জন্যে অযোগ্য এবং যারা হাসপাতাল থেকে সদ্য রোগ মুক্তি প্রাপ্ত তাদেরকে কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাংয়ে (“কনভালেসেন্ট গ্যাং” নামে পরিচিত হবে) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অন্যান্য দুর্বল বন্দী এবং এখনও কাজের জন্যে অনুপযুক্ত, তবে বিশেষ বিবেচনায় কাজের জন্য প্রয়োজন তাদেরকে “স্পেশাল গ্যাং”এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যে সব বন্দীর কোন নির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ না পেলেও ওজন হ্রাস হচ্ছে তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং সাপ্তাহিক ওজন নেয়ার জন্যে “ওজন হ্রাস গ্যাং” এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক হাসপাতাল গ্যাং এ এবং বি দুটো শ্রেণীতে বিভক্ত থাকবে এবং তাদেরকে পৃথক রাখতে হবে ।

বিধি-১২১৯।

“স্পেশাল” গ্যাং এবং “কনভালেসেন্ট” গ্যাং সব সময় একত্রে রাখতে হবে এবং তাদেরকে পনর দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একবার বা মেডিকেল অফিসার মনে করলে আরো বেশী বার ওজন নিতে হবে। ওজন স্পেশাল রেজিষ্টারে ( ২৯ নম্বর রেজিষ্টারে) রেকর্ড করে মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে হবে।

বিধি-১২২০।

“স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে তাদের সুবিধাজনক হাল্কা কাজ দিতে হবে । “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং”- কে ঊল বাছাই, তাঁত বা রোগী দেখার হাল্কা কাজ দেয়া যেতে পারে। “স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার রোজ দেখবেন এবং “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং” কে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রোজ দেখবেন।

বিধি-১২২১।

মেডিকেল অফিসার এ ধরনের গ্যাংয়ের জন্যে বিশেষ ডায়েটের পরামর্শ প্রদান করবেন। তাদেরকে সাধারণ মানের চেয়ে উন্নত মানের চাল দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে গোসলের আগে গায়ে মাখার জন্যে তেল বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই, গুড়, গোল আলু, বা অতিরিক্ত সব্জি তাদেরকে বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই ডাল বা অন্য কোন কিছুর পরিবর্তে দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২২।

এ সকল বন্দীদেরকে সম্ভব হলে রাতের বেলা উপরের ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তাদের জন্যে ১১৬৮ বিধিতে বর্ণিত নিয়মে অতিরিক্ত পোশাক ও বেডিং দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২৩

। এ সকল বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে প্রতি নিয়ত পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত করা যায় এবং কোন বন্দী আরোগ্য লাভ করলে গ্যাং থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া যায়।

বিধি-১২২৪।

যখনই কোন বন্দীর অস্বাভাবিক হারে ওজন হ্রাস পেতে থাকে অথবা স্কার্ভি বা মাড়ির ক্ষত বা রক্ত স্বল্পতার সাধারণ প্রবণতা বা ডায়রিয়া বা অন্য কোন পেটের পীড়ার কারণে হাসপাতালে বন্দী ভর্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখনই মেডিকেল অফিসারকে কারণ নির্ণয়ের জন্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। প্রত্যেক বন্দীর খাদ্যে ডালের পরিবর্তে প্রাণীজ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে এবং আলু, পেঁয়াজ, মুলা প্রভৃতি তরকারীর সাথে রাখা যেতে পারে।

জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার উভয়ই মাঝে মাঝে বন্দীদের খাদ্য গ্রহণ পরিদর্শন করবেন এবং খাদ্য সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আছে কি না তা দেখবেন ; এবং খাদ্য যদি বেশীর ভাগই না খাওয়া অবস্থায় থেকে যায় তা রেকর্ড করবেন। বৈচিত্রের অভাব হেতু খাদ্য বিস্বাদ মনে হলে যথাসম্ভব এর প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-১২২৫।

যখন কোন সশ্রম বন্দীর এক কাজের তুলনায় অন্য কাজে ওজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পায়, সতর্কতার সাথে তার কাজ নির্বাচন করতে হবে; অব্যাহত ওজন হ্রাস পাচ্ছে এমন কাজ বদল করে দিতে হয়। তিনটি পর পর ওজনে কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পাওয়া দেখা গেলে বা যার বড় ধরনের ওজন হ্রাস দেখা যায় তাকে কঠিন কাজে নিয়োগ করা যাবে না।

যদি কোন বন্দী নির্ধারিত ওজনের পূর্ববর্তী দুই বেলা আহার গ্রহণ না করে কৃত্রিম ওজন হ্রাসের চেষ্টা করে,যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১২২৬।

মেডিকেল অফিসার বন্দীদের সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় যত্ন নেবেন। মৌসুম অনুসারে সকালে বন্দীদেরকে কখন ওয়ার্ডের বাহিরে নেয়া উচিত হবে প্রভৃতি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন। 

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

 

বিধি-১২২৭।

কারাগারে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্যে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে। মশার ডিম কেরাসিন বা অন্য কোন কার্যকর লার্ভা নাশক ছিটিয়ে ধ্বংস করতে হবে। সে সঙ্গে এনোফিলিশ মশার বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক খানা খন্দক, গর্ত, নালা প্রভৃতি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। খালি টিন বা পাত্র ফেলে রাখতে দেয়া যাবে না । বিধি ১২২৮-১২২৯। জলাতংক এবং প্লেগ সংক্রান্ত। বর্তমানে উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – পানি সরবরাহ

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

বিধি-১২০৩।

যেখানে পৌর সভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আছে, যদি সুবিধা জনক হয়, তবে কারাগারে তার সংযোগ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে কারাগারে নিজস্ব ব্যবস্থায় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। পানি দূষিত হওয়া প্রতিরোধ করার জন্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বাত্মক তৎপর থাকবেন।

বিধি ১২০৪-১২০৬।

অকার্যকর।

বিধি-১২০৭।

পানি উত্তোলন এবং সরবরাহ পাম্প এবং পাইপের মাধ্যমে করতে হবে।

 

বিধি-১২০৮ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১২০৯।

প্রত্যেক স্লিপিং ওয়ার্ডে এবং সেল খাবার পানি-সরবরাহ করতে হবে। কর্মরত বন্দীদেরকে কাজ করার সময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার পানি-সরবরাহ করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং দৈনিক পরিষ্কার করতে হবে। সে সকল পাত্র অন্য কোন কাজে ব্যবহার হবে না। পানি যথাসম্ভব ঠাণ্ডা রাখতে হবে ।

বিধি-১২১০ ।

প্রয়োগ নেই।

বিধি-১২১১।

 

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

কারাগারের প্রত্যেক বেষ্টনীতে বন্দীদের গোসলের জন্যে নির্ধারিত স্থান থাকবে। গোসল খানায় প্রত্যহ সকাল এবং বিকালে পানি ভর্তি করে রাখতে হবে। গরম কালে পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। পুকুর বা জলাধারে গোসল করা নিষিদ্ধ ।

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – কনজারভেন্সী

পরিচ্ছেদ – কনজারভেন্সী

 

পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

 

বিধি-১১৮৯।

জেল সুপার, মেডিকেল অফিসার, জেলার এবং সকল অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্লনজারভেন্সী বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ প্রদানের জন্য দায়ী থাকবেন। সরকারী পরিদর্শক এবং ম্যাজিষ্ট্রেটগণ তাদের ভিজিটের সময় কনজারভেন্সী কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে ব্যপারে নিশ্চিত হবেন। জেল সুপার এবং জেলার কারাগার এবং তার চারপাশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে মনোযোগী হবেন। নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে :- 

(১) ঘাস আচ্ছাদিত প্লট, পথ এবং খালি জায়গা সকল প্রকার মরা পাতা, আগাছা এবং আবর্জনা মুক্ত থাকবে। কারাগার চত্বর দৈনিক পরিষ্কার করতে হবে। ঘাসের আগা কেটে সমান রাখতে হবে এবং বছরে দুই বার সুরকী দিয়ে পথ ড্রেসিং করতে হবে ।

(২) ড্রেন এবং লেট্রিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারাগার এলাকার মধ্যে ময়লা পানি জমানোর কোন প্রকার গর্ত, খানা বা কুয়া তৈরী নিষিদ্ধ । কারাগারের কোন ড্রেনে বাহিরের কোন ময়লা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ময়লা ফেলার গর্ত তৈরী পরিহার করতে হবে। কারাগার এলাকার মধ্যে বা নিকটে ময়লা ফেলার জন্য বা জৈব সারের গর্ত তৈরীর অনুমতি দেয়া হবে না ।

কোন সেচ নালা বা অন্যান্য জৈব বর্জ্যের স্তুপ কারাগারের দেয়ালের কাছে করতে অনুমতি দেয়া হবে না। কোন বন্দী কারাগারের ড্রেন নোংরা করলে বা কোন কর্মচারী অনুরূপ কাজের অনুমতি প্রদান করলে শাস্তি পেতে হবে । 

 

(৩) বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, তৈজসপত্র, ওয়ার্ড, ওয়ার্কসপ প্রভৃতির পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে বিধি ৬৫১, ১১১৮ এবং ১১৮৩ কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। 

(8)কারাগারের ভিতর এবং বাহিরের দেয়াল বর্ষার পর ঘষা-মাজা করে চুনকাম করতে হবে।

(৫) কারাগারের প্রধান গেইটের সংলগ্ন অফিসের সিলিং, মেঝে, দেয়াল, আসবাবপত্র, প্রভৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সঠিক পর্যায়ে রাখতে হবে।

(৬) হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। গুদাম পরিচ্ছন্ন, সাজানো গুছানো এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল অবস্থায় রাখতে হবে ।

বিধি ১১৯০-১১৯৬। অকার্যকর।

বিধি-১১৯৭।

রান্না ঘরের বর্জ্য প্রভৃতি কারাগার হতে দূরে জমিতে গর্ত তৈরী করে ফেলতে হবে এবং জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিধি ১১৯৮-১২০১।

অকার্যকর। 

 

পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

 

বিধি-১২০২।

কারাগারের চারপাশের জমির ড্রেন সতর্কতার সাথে পরিদর্শন করতে হবে। মেডিকেল অফিসার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবেশী জনসাধারণের লেট্রিন বা পয়:নিষ্কাশন ড্রেন বন্দীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোন প্রকার ক্ষতির কারণ হলে কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়  পরিচ্ছেদ – ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

পরিচ্ছেদ – ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

বিধি-১১৭৯ ।

(১) প্রত্যেক স্লিপিং ওয়ার্ডে প্রত্যেক বন্দীর জন্যে নিম্নোক্ত পরিমাণ স্থান বর্ণিত শর্তাধীনে বরাদ্দ করতে হবেঃ-

যেখানে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে (ম্যালেরিয়া মুক্ত জেলায়)                                                             ৩৬ বর্গফুট

যেখানে ভূমি থেকে ১২-১৪ ফুট উঁচুতে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে(ম্যালেরিয়া আক্রান্ত জেলায়)     ৩৬,,

অস্বাস্থ্যকর জেলা যেখানে ভূমি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে                               ৫০,,

যেখানে ওয়ার্ডে চার সারিতে বন্দী ঘুমাবে                                                                                                        ৫০,,

যেখানে ওয়ার্ডে চারের বেশী সারিতে বন্দী ঘুমাবে                                                                                          ১০০,,

একটি ওয়ার্ডে ৪০ জনের বেশী বন্দী থাকবে না । 

(২) যদি ব্যারাকের ছাদ সমতল হয়, সেখানে দেয়াল এবং সিলিং এর মাঝখানে ১২ ফুট x ৫ ফুট সিলিং ভেন্টিলেটর থাকবে। যদি ছাদ ত্রিকোণাকার হয়, সেখানে টালি ভেন্টিলেটর থাকবে।

(৩) ছাদ বা সিলিং মেঝে থেকে ১৩ ফুটের কম উঁচু হবে না ।

(৪) ঝাঁঝির দেয়া জানালার ক্ষেত্রে চারটি কাঠের পাল্লা থাকবে।

(৫) প্রত্যেক নুতন ব্যারাকে দুই সারিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা থাকবে।

(৬) একাধিক ওয়ার্ড সম্পন্ন লম্বা ব্যারাকে পার্টিশান দেয়ালে পূর্ণ সাইজের ঝাঁঝির দেয়া দরজা থাকবে, যাতে নাইট ওয়াচম্যান রাতের বেলা সম্পূর্ণ ব্যারাকে ঘুরতে পারে।

(৭) প্রত্যেক ব্যারাকে সম্ভব হলে, যদি বহুতল ভবন হয়, তবে পাকা ইটের এবং একতলা হলে লোহার গ্রীল দেয়া ৮ ফুট প্রশস্ত বারান্দা থাকবে।

(৮) প্রত্যেক বন্দীর জন্যে নীচতলায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি x ২ ফুট উঁচু x ২ ফুট ৩ ইঞ্চি চওড়া ইটের তৈরী চকি থাকবে। উপরের তলায় চকি মেঝে থেকে মাত্র ৬ ইঞ্চি উঁচু হবে। এসব চকির পরিবর্তে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ক্রমে আয়রন খাট দেয়া যেতে পারে।

(৯) স্লিপিং ব্যারাকে ওয়াডের বাহিরে একটি পৃথক লেট্রিনের ব্যবস্থা থাকবে।

বিধি-১১৮০।

কারা হাসপাতালে মেঝের আয়তন জন প্রতি ৭০ বর্গফুটের কম হবে না অর্থাৎ ২০ জন রোগীর জন্যে হাসপাতালের ওয়ার্ড হবে ২০ ফুট x ৭০ ফুট আয়তনের। পৃথক কারাবাস বা নির্জন কারাবাসের জন্যে সকল নুতন সেলের আয়তন ৯৬ বর্গ ফুটের কম হবে না। প্রত্যেক সেলের পিছনের অংশে উঁচুতে ছাদের সন্নিকটে একটি জানালা থাকতে পারে। নুতন নির্মিত সকল ব্যারাক,ওয়োর্ড এবং সেল মেডিকেল অফিসার ঘুরে দেখবেন এবং ব্যবহারের উপযুক্ত মর্মে সার্টিফিকেট না দেয়া পর্যন্ত সে সব ব্যবহার করা যাবে না ।

বিধি-১১৮১।

স্লিপিং ব্যারাকে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রতি বন্দীর জন্যে ১০ বর্গফুট হিসাবে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেবল বৃষ্টির কারণ ব্যতীত, বন্দীদেরকে জানালা বা ভেন্টিলেটর বন্ধ করতে দেয়া হবে না ।

বিধি-১১৮২।

প্রত্যেক ওয়ার্ডের দরজার উপর রং দিয়ে বা দেয়ালে খোদাই করে ওয়ার্ডের বন্দীদের শ্রেণী, খোপ বা সমতল আয়তনের পরিমাণ, ধারণ ক্ষমতা প্রভৃতি লিখতে হবে । প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন বন্দীর জন্যে একটি করে বেড থাকবে ।

 

বিধি-১১৮৩।

বন্দীরা ব্যারাকের বাহিরে যাবার পর সুইপার ব্যারাক পরিষ্কার করবে। স্লিপিং ব্যারাকের ভিতরের দেয়াল মাঝে মাঝে নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ঘষতে হবে এবং বৎসরে একবার বা প্রয়োজনে আরো বেশী বার চুনকাম করতে হবে। হাসপাতালের ভিতরের দেয়াল মাঝে মাঝে নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ঘষতে হবে এবং তিন মাসে একবার চুনকাম করতে হবে। স্লিপিং ব্যারাক ছার পোকা আক্রান্ত হলে কেরাসিন বা নারিকেল তেল হালকা ভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং তারপর এক বার চুনকাম করতে হবে ।

বিধি-১১৮৪ ।

প্রয়োগ বিরল।

বিধি-১১৮৫।

অনুমোদিত ধারণ ক্ষমতার বেশী বন্দী আটক রাখার পরিস্থিতি পরিহার করতে হবে। বন্দী সংখ্যা ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট অতিরিক্ত বন্দী অন্যত্র স্থানান্তরের জন্যে পত্র বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনুরোধ জানাবেন। যত তাড়াতাড়ি তাদের ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের জবাব পাবার পর,কিংবা যদি জরুরী প্রয়োজন উদ্ভব হয়, তবে জেল সুপার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পূর্বাভাস বিবেচনা করে ৮৪৩ বিধি মোতাবেক বন্দী স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-১১৮৬।

প্রত্যেক মাসের প্রথম তারিখে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ২ নম্বর রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং তাতে পূর্ববর্তী রাতে কতজন বন্দী ওয়ার্ড, সেল এবং হাসপাতালে ঘুমিয়েছে, এবং সে সঙ্গে অতিরিক্ত বন্দীর আগমনের সম্ভাবনা থাকলে তার সমাধানের প্রস্তাব উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-১১৮৭।

ওয়ার্ক শেডের ছাদ সপ্তাহে একবার ঝাড়ু দিতে হবে এবং বৎসরে একবার চুনকাম করতে হবে। প্রত্যহ বন্দীরা কাজ শেষে চলে যাবার পর ওয়ার্কশপের মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে এবং যন্ত্রপাতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

বিধি-১১৮৮।

কোন কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে জায়গার পরিমাণ ধারণ ক্ষমতার মাথাপিছু ৭৫ বর্গগজের কম হবে না। যেখানে জমির মূল্য সস্তা সেখানে ধারণ ক্ষমতার মাথাপিছু ১০০ বর্গগজের কম হবে না। একটি কেন্দ্রীয় কারাগরের জমির পরিমাণ কমপক্ষে ত্রিশ একর হবে। কারাগারের প্রধান বা বাহিরের দেয়ালের উচ্চতা {১৬} ফুট হবে। দেয়ালের সকল কর্ণার গোলাকার হবে। মহিলা ওয়ার্ডের বেষ্টনী দেওয়ালের উচ্চতা {১২}ফুট হবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ ফুট হবে।

 

পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

প্রধান দেয়ালের বাহিরে ১৬ ফুটের মধ্যে কোন ভবন বা স্থাপনা থাকবে না। দোতলা ভবনের ক্ষেত্রে বাহিরের দেয়াল থেকে দূরত্ব ভবনের উচ্চতার সমান বা তার কাছাকাছি হবে। কোন অভ্যন্তরীন ভবন, লেট্রিন, শেড প্রভৃতি প্রধান দেয়ালের বিপরীতে স্থাপন করা যাবে না এবং এ ধরনের ভবন দেয়াল হতে ১৬ ফুট দূরত্বে (কমপক্ষে ১২ ফুট) থাকবে । এস আর ও নং ২১৩-আইন/২০০০ তারিখ ৯-৭-২০০০ মূলে সংশোধিত ।

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

 

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

বিধি-১১৫৮।

সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও বেডিং, এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করার পদ্ধতি বিধি ৯২৩ থেকে ৯২৫ এবং ৯৩৯ বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। কারা ষ্টোর হতে সে সকল বিধির আওতায় যখন কোন বিচারাধীন বন্দীকে বেডিং এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করা হবে, তা সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের প্রকারে দেয়া হবে।

তবে, সিভিল, বিচারাধীন ও বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জামা কাপড় ধোয়ার কারণে নিজের জামা কাপড় ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কোন পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করতে হলে চিহ্ন বিহীন প্লেন সুতি কাপড়ের ফুল হাতা জামা কাপড় সরবরাহ করা হবে। বিচারাধীন বন্দীকে একটি এলুমিনিয়ামের প্লেট, বাটি এবং মগ, বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৯৩৯ বিধি মোতাবেক একটি এলুমিনিয়ামের প্লেট, বাটি,মগ, কম্বল এবং বেডিং সরবরাহ করা হবে ।

বিধি-১১৫৯।

সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন III ভুক্ত সকল বন্দী কারাগারে ভর্তির পর নিম্নোক্ত কারা সরঞ্জাম পাবে-

                                         পুরুষ                                                                     মহিলা

            আইটেম                                     সংখ্যা                 আইটেম                                       সংখ্যা

সুতির কোর্তা                                              ২               প্লেন একসুতি সেমিজ                               ২

সুতির লম্বা পাজামা                                   ২                নীল পাড়ের চেক শাড়ী                             ২

গামছা                                                        ২                গামছা                                                       ২ 

টুপি                                                            ১                বেডিং বাঁধার টাপুটি                                   ১ 

বেডিং বাঁধার টাপুটি                                   ১                কম্বল                                                          ২

সুতির বিছানা চাদর                                    ১                সুতির বিছানা চাদর                                    ১

কম্বল                                                          ২               এলুমিনিয়াম মগ                                        ১

এলুমিনিয়াম মগ                                        ১                এলুমিনিয়াম প্লেট                                      ১

এলুমিনিয়াম প্লেট                                      ১                এলুমিনিয়াম বাটি                                       ১

এলুমিনিয়াম বাটি                                       ১               মোটা চট বা ম্যাট                                ২ x ২ ফুট

মোটা চট বা ম্যাট                                ২ x ২ ফুট       চিরুণী                                                         ১

বিধি-১১৬০।

এ সকল দ্রব্য কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হবে। কম্বল এবং বেডিং ছাড়া অন্য সকল জিনিস বন্দীর নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। পুরুষদের পোশাক-পরিচ্ছদের মাঝখানে সরু লম্বা নীল ডোরা থাকবে। মহিলাদের শাড়ী নীল পাড় থাকবে এবং জমিনে সরু লম্বা নীল ডোরা থাকবে। বেডিং বাঁধার টাপুটি লম্বায় ৬ ফুট এবং চওড়ায় ২ ফুট ৪ ইঞ্চি হবে। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে বালিশ অনুমোদিত হবে না ।

বিধি-১১৬১।

সাধারণ টুপির পরিবর্তে যে সকল বন্দী পলায়ন করেছিল তারা লাল রঙের টুপি এবং যারা শাস্তির কারণে রেয়াত সুবিধা বঞ্চিত তারা নীল রঙের টুপি পরিধান করবে। কেবল মাত্র সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীরাই কারাগারের পোশাক পরিধান করবে। তাদের কাছে ব্যক্তিগত কোন পোশাক বা অন্য কোন দ্রব্য থাকা নিষেধ। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী দিনের বেলায় কয়েদী টুপি পরিধান করবে। মাথায় গামছা বা অন্য কিছু পরিধান করা নিষেধ ।

বিধি-১১৬২ ।

প্রত্যেক বন্দীর সরঞ্জামে কমপক্ষে এক ইঞ্চি লম্বা একটি নম্বর লেখা থাকবে এবং তাদের শ্রেণী এ বা বি লেখা থাকবে ।

বিধি-১১৬৩।

১১৫৯ বিধিতে বর্ণিত সুতির পোশাক বার মাস, বেডিং টাপুটি কমপক্ষে দুই বছর, ম্যাট বা চট এবং কম্বল কমপক্ষে তিন বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-১১৬৪ ।

যে সকল বন্দী এক বছর বা তার বেশী মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত সাধারণত তাদেরকে নুতন সুতি পোশাক দেয়া হবে। পুরাতন ব্যবহার যোগ্য পোশাক তার কম মেয়াদের বন্দীদের দেয়া হবে। কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী রক্ষীদেরকে ৪১১ এবং ৪২৫ বিধি অনুযায়ী পোশাক দেয়া হবে, তবে তারা সাধারণ সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের অনুরূপ বেডিং, কম্বল, মগ, প্লেট,বাটি পাবে। কোন বন্দীকে বরাদ্দকৃত সকল পোশাক, বেডিং, সরঞ্জাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। সরবরাহকৃত দ্রব্য নুতন কিংবা পুরাতন তা রেকর্ডে উল্লেখ করতে হবে ।

বিধি-১১৬৫ ।

সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন II ভুক্ত সকল বন্দী কারাগারে ভর্তির পর নিম্নোক্ত কারা সরঞ্জাম পাবে-

                                         পুরুষ                                                                     মহিলা

                                                                    (ক) গরম কালে

            আইটেম                                     সংখ্যা                 আইটেম                                       সংখ্যা

পাজামা                                                     ৩                        শাড়ী                                              ৩

লম্বা পাজামা                                              ২                  সুতির ব্লাউজ                                       ২

কোর্তা বা হাফসার্ট                                     ২                      সেমিজ                                            ২

সুতির সার্ট                                                  ২                সুতির মোজা                                    ২ জোড়া

সুতির মোজা                                        ২ জোড়া       

টুপি                                                           ১

                                                                 (খ) শীত বা বর্ষা কালে

গরম কালের পোশাকের                                                     শাড়ী                                              ৩

সঙ্গে অতিরিক্ত                                                              সুতির ব্লাউজ                                       ১

উলেন কোট                                               ১                 উলেন ব্লাউজ                                      ১

ফ্লানেল সার্ট                                               ২                 ফ্লানেল সেমিজ                                   ২

                                                                                      সুতির মোজা                                 ২ জোড়া

                                              (গ) সকল সময়ের জন্য পুরুষ মহিলা উভয়

তোয়ালে                                                    ২                        চামুচ                                             ১

বুট বা সু                                               ১ জোড়া           এলুমিনিয়াম প্লেট                                 ১

চিরুণী                                                        ১                 এলুমিনিয়াম বাটি                                 ১

কম্বল                                                         ২                এলুমিনয়িাম কাপ                                 ১

বিছানা চাদর                                              ১                   ছোট হাত আয়না                               ১

এলুমিনিয়াম মগ                                       ১                           টুথ ব্রাশ                                      ১

 

বিধি-১১৬৬।

কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সাক্ষ্য প্রদান বা অন্য কোন মামলায়

আদালতে উপস্থিত কালে কারা পোশাক পরিধান করবে না, তবে কারাগার

থেকে তাদেরকে উপযুক্ত সাধারণ পোশাক দেয়া হবে ।

বিধি-১১৬৭।

কারা হাসপাতালে বিশেষ ধরনের সুতির কাপড়, কম্বল, ৭ ফুট লম্বা এবং ৪ ফুট চওড়া দোসুতি বেড-শিট, টাপুটি সরবরাহ করা হবে। সুতির কাপড়গুলো নীলের পরিবর্তে লাল ডোরা হবে। কম্বল এবং টাপুটিতে হাসপাতাল বুঝানোর জন্যে ইংরেজী ‘এইচ’ অক্ষর লেখা থাকবে। হাসপাতালের মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের দায়িত্বে এ সকল জিনিস থাকবে । 

বিধি-১১৬৮।

মেডিকেল অফিসার কোন বন্দীকে অসুস্থতার কারণে অতিরিক্ত সুতি বা গরম কাপড় বা বেডিং দেয়ার জন্যে আদেশ প্রদান করতে পারবেন। তবে মেডিকেল অফিসার যখন প্রয়োজন নেই মর্মে বলবেন, তখন সে গুলো ফেরত নিতে হবে ।

বিধি ১১৬৯-১১৭০ ।

প্রয়োগ নেই

 

বিধি-১১৭১।

কোন বন্দী তার নামে ইস্যুকৃত কোন পোশাকের বা সরঞ্জামের ইচ্ছাকৃত বা বিনা যত্নের কারণে ক্ষতি করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। অতিরিক্ত কোন পোশাক দখলে রাখা, অন্য বন্দীর সাথে কোন পোশাকের অদল-বদল করা, পোশাকের পকেট লাগানো বা অন্য কোন ভাবে পরিবর্তন করা, কোন নম্বর পরিবর্তন করা প্রভৃতি কাজ উনবিংশ অধ্যায় অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।

অপর পক্ষে কোন বন্দী যদি তার পোশাকের যত্ন নেয় এবং যে মেয়াদ পর্যন্ত তা চলার কথা, তার চেয়ে এক বা একাধিক মাস বেশী চলে, তা হলে জেল সুপার তাকে পুরস্কার হিসাবে ৭৬৫ বিধি মোতাবেক বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-১১৭২।

{১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত বরাদ্দকৃত সুতি কাপড় ৬ মাস ব্যবহৃত হবে, ফ্লানেল সার্ট এবং সেমিজ দুই বছর ব্যবহৃত হবে, সেগুলো ব্যতীত অন্যান্য গরম কাপড় তিন মৌসুম ব্যবহৃত হবে। সোলা টুপি, হেলমেট, চামড়ার পট্টি এবং বুট বা জুতা এক বছর ব্যবহৃত হবে। কম্বল, মশারী এবং মেট্রেস তিন বছর ব্যবহৃত হবে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ অন্য সময়েও নবায়ন করা যাবে।

জীর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য পোশাক বন্দীদের কাছে রাখতে দেয়া হবে না।}বিধি ৬৪৬ তে বর্ণিত সাপ্তাহিক প্যারেডে জেল সুপার এ ব্যাপারে মনোযোগ প্রদান করবেন। কারাগারের আকার অনুসারে এক বা একাধিক হাল্কা কাজের সশ্রম বন্দীকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরাতন পোশাক- পরিচ্ছদ রিপেয়ারের জন্যে রাখতে হবে। প্রধান কারারক্ষীর তত্ত্বাবধানে গ্যাং অনুযায়ী পুরাতন কাপড় রিপেয়ার করতে হবে। জেলারকে এ সকল ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

নং ৭৫১ এইচ জে তারিখ ২৯-৩-১৯৩৯ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত ।

বিধি-১১৭৩ ।

৫৭৩ বিধিতে নির্দেশিত ভাবে বন্দীরা নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ নিজেরা ধৌত করবে। বেডিং প্রতি তিন মাসে একবার ধৌত করতে হবে, হাসপাতাল বেডিং এবং পোশাক আরো কম সময়ের ব্যবধানে ধৌত করতে হবে; একজন গ্যাং ম্যানকে এ জন্য দায়িত্বে রাখতে হবে। পরিষ্কার করার কাজ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ওয়ার্ড অনুসারে করতে হবে। ধোয়ায় থাকা অবস্থায় অস্থায়ী ভাবে বেডিং সরবরাহ করতে হবে।

প্রয়োজন হলে ধোয়ার সময়ে পুরাতন বেডিং রিপেয়ারের জন্যে রেখে দিয়ে বন্দীকে নুতন বেডিং ইস্যু করা যেতে পারে। রিপেয়ার ও ধোয়ার পর পুরাতনটি পরবর্তী ব্যাচের জন্য বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে গুদামে রেখে দিতে হবে। প্রত্যেক কারাগারে কম্বল ধোয়ার জন্যে বয়লার রাখতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন বেডিং এবং কম্বল তিন ঘন্টা রোদে শুকাতে হবে। সাধারণত দুপুরের খাবার গ্রহণের পর এটা করা যেতে পারে।

বিধি-১১৭৪ ।

পোশাক, বেডিং এবং কারাগারের অন্যান্য সরঞ্জামাদি নির্ধারিত প্রস্তুতকারী কারাগার হতে সংগ্রহ করতে হবে। কোন কারাগারে কি পরিমান পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং ইউনিফর্ম লাগবে তার বার্ষিক চাহিদাপত্র প্রত্যেক বছরের ১লা মার্চ কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে ৬১, ৬১এ এবং ৬২ নম্বর জেল ফরমে সরবরাহকারী কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। সরবরাহকারী কারাগার ১ লা অক্টোবরের পূর্বেই অর্থাৎ শীত আসার আগে, চাহিদাকৃত পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রেরণের ব্যবস্থা করবে।

এলুমিনিয়ামের জিনিস পত্রের জন্যে যখন প্রয়োজন হবে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ইন্ডেন্ট প্রদান করতে হবে। প্রস্তুতকারী কারাগারের জেল সুপার জিনিস পত্র সরবরাহ করবেন এবং তার রেকর্ড রাখবেন। প্রস্তুতকারী কারাগারের জেল সুপার এবং জেলার অতিরিক্ত ব্যয়ের ব্যপারে দায়ী থাকবেন এবং তারা এটাও লক্ষ্য রাখবেন যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৃহৎ মজুত যেন গড়ে না উঠে ।

বিধি-১১৭৫।

অকার্যকর।

বিধি-১১৭৬।

একজন প্রধান কারারক্ষীকে পোশাকের গুদামের বিশেষ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং তিনি কাপড়ের গুণাগুণ রক্ষা করার জন্যে দায়ী থাকবেন। গুদাম শুষ্ক, অবাধ বায়ু চলাচল উপযোগী হবে এবং পর্যাপ্ত তাক বা মাচা সম্পন্ন হবে। এ সকল তাক বা মাচায় কম্বল বা পোশাক একত্রে বা পৃথকভাবে বরাদ্দের জন্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রাখতে হবে।

বিধি-১১৭৭।

গুদামের প্রধান কারারক্ষী মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর পোশাক-পরিচ্ছদ ফেরত গ্রহণের সময় দেখবেন যে, সেগুলো যত্নের সাথে ধোয়া এবং শুকানো হয়েছে কিনা। কোন অবস্থাতেই কম্বল বা পোশাক ময়লা বা আর্দ্র অবস্থায় গুদামে রাখা উচিত হবে না। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর ফেরত দেয়া পোশাক-পরিচ্ছদ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত হলে নুতন ভর্তি প্রাপ্ত বন্দীদেরকে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ষ্টোরে রাখতে হবে। ষ্টোরে রাখা কম্বল এবং পোশাক-পরিচ্ছদ অন্তত: মাসে একবার রোদে শুকাতে হবে, সম্ভব হলে তা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করতে হবে।

বিধি-১১৭৮।

জেলারের তত্ত্বাবধানে ডেপুটি জেলার বা কারাগারের করণিক পোশাকের হিসাব রেজিষ্টারে (৩৪ নম্বর রেজিষ্টার) সকল পোশাক-পরিচ্ছদ প্রাপ্তি এবং বিতরণের হিসাব যত্নের সাথে সংরক্ষণ করবেন। সকল আইটেমের জন্যে পৃথক পৃথক রেজিষ্টারও খুলতে হবে এবং দৈনিক প্রাপ্তি এবং বিতরণের হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হবে। এলুমিনিয়ামের কাপ-প্লেট, চামড়ার পট্টি এবং ফিতা প্রভৃতির জন্যে এবং হাসপাতাল পোশাকের জন্যেও পৃথক রেজিষ্টার খুলতে হবে।

 

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

 

মাস শেষে হিসাবের জের গুদামের সঙ্গে যাচাই করে দেখতে হবে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রত্যক মাসে গুদামের পোশাক গুণে দেখবেন । ব্যবহারের অনুপযুক্ত পোশাক কমপক্ষে মাসে একবার জেল সুপারের নিকট হাজির করতে হবে এবং তিনি কোন আইটেম অনুপযুক্ত ঘোষণা করতে পারবেন এবং হিসাব বহিতে অবলোপনের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং স্বাক্ষর করবেন ।

যে সকল অনুপযুক্ত ঘোষিত পোশাক রিপেয়ার করা যাবে, সেগুলো ছাড়া অন্যগুলো (গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে) অনধিক ৬ ইঞ্চি বর্গাকার সাইজে ছিঁড়ে টুকরো করতে হবে।

কারা বাগান এবং কৃষি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা বাগান এবং কৃষি

কারা বাগান এবং কৃষি

 

কারা বাগান এবং কৃষি

 

বিধি-১১৪৮।

কারাগারের মূল দেয়াল বেষ্টিত এলাকার চেয়ে কম নয়, এমন পরিমাণ জমি প্রত্যেক কারাগারে বাগান এবং কারারক্ষী ও অন্যান্যদের আবাসনের জন্যে রাখতে হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার কারাগারের-বাগান তত্ত্বাবধান করে লক্ষ্য রাখবেন যে প্রত্যেক মৌসুমের চাহিদা মোতাবেক সব্জি,ফল মূলের উপযুক্ত গাছ লাগানো হচ্ছে কিনা। মেডিকেল অফিসার দুর্বল বা আরোগ্য লাভকারী বন্দীদেরকে বাগানের কাজে লাগানোর সুপারিশ করতে পারেন।

জেলা কৃষি অফিসার পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিয়মিত কারাগারের-বাগান পরিদর্শন করতে পারেন এবং নুতন কোন চাষাবাদের বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারেন। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাদের ভ্রমণকালে কারাগারের-বাগান পরিদর্শন করতে পারেন ।

বিধি-১১৪৯।

কারাগারের-বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। গোবর ও অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে। বিধি-১১৫০। কারা বাগানে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাকা সেচের নালা তৈরী করতে হবে, পানির অপচয় রোধ করতে হবে ।

 

বিধি-১১৫১।

কারাগারের শাক-সব্জি, মসল্লা প্রভৃতি উৎপাদনের জন্যে বাগানে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা কারাগারে আটক মোট বন্দীর শতকরা ৬ ভাগের বেশী হবে না।{জেল সুপার প্রয়োজনে বাগানে বেশী সংখ্যক বন্দী নিয়োজিত করতে পারেন, তবে এর কারণ সম্বলিত রিপোর্ট কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে} ।বাগানের কাজে নিয়োজিত বন্দী নির্বাচনের জন্যে বিধি ৭৯৫ এবং ৭৯৬ অনুসরণ করতে হবে।

বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষীর কৃষি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন এবং সম্ভব হলে তাকে রাতের কোন দায়িত্ব না দেয়া উচিত। এ উদ্দেশ্যে তাকে বাগানের গ্যাংয়ের কাজে সারাদিনের জন্যে নিয়োজিত রাখা যেতে পারে এবং রাতে ঘুমানোর জন্যে বাগানে একটি কুঠিরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিধি-১১৫২।

বন্দীদের চাহিদা পূরণের পরিমাণ মত সব্জি কারাগারের-বাগানে উৎপাদনের জন্যে জেলার জেল সুপারের নিকট দায়ী থাকবেন। যদি বন্দীদের জন্যে বাহির থেকে সব্জি ক্রয় করতে হয়, কারাগারের-বাগান হতে সব্জি সরবরাহের ব্যর্থতার কারণ জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ব্যাখ্যা করবেন।

বিধি-১১৫৩।

 

কারা বাগান এবং কৃষি

 

কারাগারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কারা বাগানের সমগ্র এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মৌসুমী সব্জি, মসল্লা, লেবু জাতীয় ফসল প্রভৃতি চাষাবাদের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। কারাগারের দেয়ালের সন্নিকটে আদ্রতা সম্পন্ন চাষাবাদ করা যাবে না ।

বিধি ১১৫৪-১১৫৭।

উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

পরিচ্ছেদ – খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

বিধি-১১২০।

সঠিক সময়ে সস্তায় খাদ্য সংগ্রহ ও মজুদ করণের ব্যবস্থা করার

জন্যে জেল সুপার এবং জেলার দায়ী থাকবেন।

বিধি-১১২১।

দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। দরপত্র খোলার আগে জেল সুপার চলতি বাজার দর সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। দরপত্রের সঙ্গে সরবরাহতব্য দ্রব্যের নির্দিষ্ট নমুনা প্রেরণ করতে হবে। সরবরাহকারীগণ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে জোট বা আঁতাত করে, তবে জেল সুপার দরপত্র স্থগিত করে দিবেন এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য জেলা হতে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে জোট ভেঙ্গে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

দুই শত টাকার বেশী মূল্যের যে কোন দরপত্র গ্রহণের অনুমোদন কারা মহাপরিদর্শক হতে গ্রহণ করতে হবে।

 

বিধি-১১২২।

সকল সরবরাহকৃত দ্রব্য ওজন করে নিরাপদে রাখার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন, তবে জেল সুপার দানাদার দ্রব্যের একটি অংশ পরিদর্শন করে সে গুলোর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। সরবরাহ এবং ওজন করার মধ্যে কোন বিলম্ব করা যাবে না। জেল সুপারের অনুমোদনের পর অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-১১২৩।

কোন দানাদার খাদ্যশস্য ভালভাবে না শুকিয়ে গুদামজাত করা যাবে না। যদি নুতন বা আদ্র দানা হয়, তবে ২ বা ৩ দিন রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে। দানা শস্য ব্যাগে করে গুদাম জাত করতে হবে, খোলা অবস্থায় নয়।

 

পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

বিধি ১১২৪-১১২৭।

প্রয়োগ নেই ।

পরিচ্ছেদ IV- দুগ্ধ-খামার । ১১২৮-১১৪৭। প্রয়োগ নেই ।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

বিধি-১১০৬।

খাদ্যের গুণগতমান, যথা নিয়মে প্রস্তুত ও রান্না করা এবং পূর্ণ পরিমাণে বরাদ্দ করা সমান গুরুত্ব বহন করে। এই সকল বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে সর্বাধিক তৎপর থাকতে হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে কমপক্ষে একবার খাবার প্রস্তুতি, পরিবেশন প্রভৃতি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন কালে খাবারের ওজন পরীক্ষা করবেন।

বিধি-১১০৭।

বরাদ্দকৃত খাবারের ওজন রান্না করার পূর্বে চূড়ান্ত প্রস্তুত অবস্থায় গ্রহণ করতে হবে এবং রান্নার এক ঘন্টার মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। নিম্নোক্ত নির্দেশ সমূহ কঠোর ভাবে প্রতিপালন করতে হবে-

(১) তিন মাসের কম পুরানো চাল বরাদ্দ করা যাবে না।

(২) প্রয়োগ নেই ।

(৩) রান্নার পূর্বে চাল ওজন করার সময় খোসা, ধূলো প্রভৃতি মুক্ত থাকবে।

(8) ভাঙ্গা চাল আলাদা করে নিতে হবে।

(৫) চালের কণা বা বাতিল অংশ বন্দীরের খাবারের কাজে কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।

(৬) ৬ ছটাক চাল রান্নার পর ১৬ থেকে ১৮ ছটাক হতে পারে। রান্না করা খাবারের ওজন বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

(৭) আটা বা ময়দা তৈরীর পূর্বে গম সম্পূর্ণ ভাবে আবর্জনা মুক্ত করতে হবে।

টীকা-

কারাগার সমূহের খাদ্যের মান নিশ্চিত করণ এবং ঔষধ ক্রয় ও ব্যবহারের বিষয়ে তদারকী করার জন্যে প্রতিটি কারাগারে নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে :-

(১) জেলা প্রশাসক – সভাপতি

(২) পৌরসভা চেয়ারম্যান( জেলার ক্ষেত্রে)/ – সদস্য

(৩) মেয়র কর্তৃক মনোনীত একজন ওয়ার্ড কমিশনার – সদস্য

(৫) পুলিশ সুপার( জেলার ক্ষেত্রে) – সদস্য

(৪) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধি – সদস্য

(৬) সিভিল সার্জন – সদস্য

(৭) সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক/তত্ত্বাবধায়ক – সদস্য-সচিব

সূত্রঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/২৯১ তারিখ ২২-২-৯৪ এবং পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/৫২৪ তারিখ ২২-৬-৯৪ ।

বিধি-১১০৮ ।

৫ ছটাক আটা হতে প্রায় সাড়ে ৭ ছটাক মাখানো খামির বা সাড়ে ছয় ছটাক কাঁচা রুটি হতে পারে। রুটি সেঁকতে হবে এমন ভাবে যেন তা না পুড়ে যায়। রুটির সাইজ দুই প্রকারের হবে, প্রতি দুই ছটাক আটায় প্রতিটি বড় সাইজ এবং প্রতি এক ছটাক আটার প্রতিটি ছোট সাইজ।

 

বিধি-১১০৯।

সুন্দর ভাবে না ভাঙ্গিয়ে এবং আস্ত দানা আলাদা না করে ডাল রান্না করা যাবে না । কলাই এবং মুগ ডাল ১০% বেশী দিতে হবে। খেসারী ডাল ব্যবহার করা নিষেধ। বিভিন্ন প্রকারের ডাল একত্রে মিশিয়ে বা ডালের সাথে অন্য দানার সাথে একত্রে রান্না করা যাবে না। বিধি-১১১০। টক জাতীয় খাবারের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ অংশের ওজন ধরতে হবে।

বিধি-১১১১।

কেবল মাত্র রসালো সব্জি বরাদ্দ করতে হবে। সব্জি ডাটা, আঁশালো অংশ এবং মরা পাতা মুক্ত হবে। রান্নার কাজে যতটুকু ব্যবহার হবে বিধি-১১১২। আঁশ, পাখনা, মাথা এবং লেজ বাদ দিয়ে মাছ ওজন করতে হবে। ততটুক পর্যন্ত কেটে তারপর ওজন করতে হবে। মাংশ বরাদ্দের সময় হাড়ের ওজন বাদ বাবদ ২৫% বেশী ওজন ধরতে হবে। 

বিধি-১১১৩।

ইস্যুকৃত সকল খাদ্য দ্রব্য মেডিকেল অফিসার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন, মানের কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে নোট করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জেলারের মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-১১১৪।

প্রত্যেক কারাগারে ওজনের জন্যে সঠিক ভাবে তৈরী বীম পাল্লা ব্যবহার করতে হবে। খাদ্যের পরিমাণ, গুণাবলী বা রান্না সম্পর্কে বন্দীদের অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপারের গোচরে নিতে হবে এবং দ্রুত তদন্ত করে দেখতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয় এবং কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীর ত্রুটির কারণে অনিয়ম হয়ে থাকে, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে তার আদেশ মিনিট বইতে রেকর্ড করবেন। 

বিধি-১১১৫।

বরাদ্দের উদ্দেশ্যে অরান্না করা খাদ্য দ্রব্য জেলার, ডেপুটি জেলার, করণিক বা গোডাউনের দায়িত্বে বিশেষভাবে নিয়োজিত প্রধান রক্ষী কর্তৃক ওজন করতে হবে। জেলার পূর্ণ পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দের জন্যে দায়ী থাকবেন ।

বিধি-১১১৬।

প্রত্যেক কারাগারে ডিভিশন III ফৌজদারি বন্দীদের জন্যে একটি

রান্নার শেড থাকবে। তা ছাড়া সিভিল বন্দীদের জন্যে একটি পৃথক শেড এবং

কারা হাসপাতালে একটি শেড থাকবে।

বিধি-১১১৭।

অকার্যকর।

বিধি-১১১৮।

বাবুর্চী সতর্কতা এবং মনোযোগের সাথে খাদ্য তৈরী করবে। লোহার তৈরী পাতিল ব্যবহার করতে হবে। সকল তৈজসপত্র, রান্না ঘর এবং খাবার স্থান সুন্দরভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো রাখতে হবে। এ বিধির কোন বাত্যয় ঘটালে শাস্তি পেতে হবে।

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

বিধি-১১১৯।

গরম আবহাওয়ায় দুপুর বেলার খাবার বা বৃষ্টির সময়ে যে কোন বেলার খাবার ছাদের তলায় খেতে হবে। যদি সাধারণ খাবার স্থানের উপর কোন ছাদ না থাকে, তবে বারান্দায় কিংবা প্রয়োজনে কারখানা শেডে বা ওয়ার্ডে, যেখানে ছাদ থাকে সেখানে খাবার খেতে হবে।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ডায়েট

পরিচ্ছেদ ডায়েট

 

পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

 

কারাগার একটি বিশেষ আবাসস্থল, যেখানে আসামীরা অবস্থান করেন। গাউল, জেল , দ্য বিগ হাউজ, দ্য স্ল্যামার অথবা দ্য স্টোনি লোনসাম নামেও কারাগারের পরিচিতি রয়েছে। এরফলে অপরাধী ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় বাঁধাগ্রস্ত হন ও মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন না। কারাগার সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। কারাগারের ইংরেজি শব্দ হচ্ছে প্রিজন যা প্রাচীন ফরাসী শব্দ প্রিসাউন থেকে উৎপত্তি হয়েছে।

বিধি-১০৯২।

ডায়েট প্রদানের উদ্দেশ্যে বন্দীদেরকে নিম্নোক্ত ভাবে শ্রেণী বিভক্ত

করা হবে :-

শ্রেণী-I : ডিভিশন III ভুক্ত সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী শ্রেণী-II :

(১) ডিভিশন III ভুক্ত ১৬ বৎসরের নিম্ন বয়সের সকল সাজা প্রাপ্ত বন্দী।

(2) ডিভিশন III ভুক্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দী

(৩) ডিভিশন III ভুক্ত সকল বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

(8) ডিভিশন II ভুক্ত সকল পুরুষ ও মহিলা বিচারাধীন বন্দী।

বিধি-১০৯৩।

সকল বন্দীকে দিনে তিনবার খেতে দেয়া হবে- সকালে দিনের কাজ শুরুর আগে, দুপুর বেলায় এবং বিকালে লক আপে নেয়ার আগে (বিধি ৬৩৬, ৬৪২,এবং ৬৪৩ অনুসরণ করতে হবে)।

বিধি-১০৯৪ ।

অকার্যকর।

বিধি-১০৯৫/১১০০।

(ক) বন্দীদের দৈনিক খাদ্য তালিকা :-

ক্রমিক             সাজাপ্রাপ্ত বন্দী                                  বিচারাধীন বন্দী / ডিটেন্যু

নং

  ডিভিশন I ও II                 ডিভিশন III                      ডিভিশন I                    ডিভিশন II

১। সকালের খাবার

(ক) রুটি/ পাউরুটি           রুটি                                  রুটি /পাউরুটি            রুটি 

(খ) চিনি                             গুড় / ডাল                       চিনি                             গুড় / ডাল

(গ) দুধ                                                                        দুধ

(ঘ) জেলী                                                                    জেলী

(ঙ) ডিম                                                                      ডিম

(চ) ঘি/মাখন                                                               ঘি/মাখন

(ছ) কলা                                                                      কলা

(জ) চা                                                                         চা

২। দুপুরের খাবার

(ক) ভাত/রুটি                     রুটি/ ভাত                       ভাত/রুটি                  রুটি/ আটা

(খ) মাছ/মাংশ                     শাক-সব্জি                       মাছ/মাংশ                 শাক-সব্জি / ডাল

                                                                                     শাক-সব্জি / ডাল

(ঘ) ডাল                                                                       ডাল

৩। রাতের খাবার

(ক) ভাত/রুটি                     ভাত                                 ভাত/রুটি                  ভাত

(খ) মাছ/মাংশ                    মাছ/মাংশ                        মাছ/মাংশ                মাছ/মাংশ

(গ) শাক-সব্জি                     শাক-সব্জি                        শাক-সব্জি                 শাক-সব্জি

(ঘ) ডাল                              ডাল                                  ডাল                          ডাল

(খ) বন্দী প্রতি দৈনিক বরাদ্দকৃত ডায়েট স্কেল :-

                                                                খাদ্যের পরিমাণ (গ্রাম)

খাদ্য দ্রব্যের নাম                                  সাজাপ্রাপ্ত বন্দী                             বিচারাধীন বন্দী/ ডিটেনা

                                                ডিভিশন I ও II           ডিভিশন III           ডিভিশন I            ডিভিশন II

                                                 (বিধি ১১০০)            (বিধি ১০৯৫)                                     (বিধি ১০৯৫)

১। পাউরুটি( সকাল)                 ১১৬.৬৪                      –                           ৮৭.৪৮                     –

২। পাউরুটি (অন্যান্যবেলা)     ৩৪৯.৯২                      –                           ২৯১.৬                     –

৩। আটা                                    ৫৮.৩২                   ১১৬.৬৪                   ৫৮.৩২                ৮৭.৪৮

৪। চাউল                                   ১৭৪.৯৬                  ৫৮৩.২                     ১৪৫.৮                ৪৯৫.৭

৫। মাছ/মাংশ                           ৩৬৪.৫                   ৩৬.৪৫                     ২১৮.৭                ৩৬.৪৫

৬। ডাল                                     ৮৭.৪৮                   ১৪৫.৮                      ৮৭.৪৮                ১৪৫.৮

৭। সব্জি                                     ১৪৫.৮                    ২৯১.৬                     ১৪৫.৮                 ২৯১.৬

৮। তৈল ( ভোজ্য)                     ৪৩.৭৪                    ২০.৫                        ৪৩.৭৪                 ২০.৫

৯। গোল আলু                           ১১৬.৬৪                      –                           ১১৬.৬৪                    –

১০। পিঁয়াজ                               ৪৩.৭৪                    ৪.৬১                        ৪৩.৭৪                 ৪.৬১

১১। শুকনা মরিচ                           –                          ২.০৫                            –                       ২.০৫

১২। শুকনা হলুদ                           –                          ১.০২                             –                       ১.০২ 

১৩। ধনিয়া                                     –                          ০.৫১                             –                       ০.৫১ 

১৪। লবন                                  ২৯.১৬                    ৩২.৮                        ২৯.১৬                ৩২.৮

১৫। মসল্লা                                ৭.২৯                           –                            ৭.২৯                   ৩২.৮

১৬। চা                                      ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

১৭। চিনি                                   ৫৮.৩২                        –                           ৫৮.৩২                    –

১৮ । দুধ (পাউডার)                  ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

১৯। মাখন                                ২১.৮৭                         –                            ২১.৮৭                     – 

২০। জেলী                                ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

২১। গুড়                                       –                          ১৪.৫৮                            –                      ১৪.৫৮

টীকা-১।

জেল কোডের ১০৯৫ বিধিতে বাঙালী এবং অবাঙালী বন্দীদের জন্যে দু রকমের ডায়েটের বিধান রয়েছে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। উপরের তথ্যাদি জেল কোড ১০৯৫ ও ১১০০ মোতাবেক বর্তমান প্রচলিত হার অনুসারে প্রদত্ত।

টীকা-২।

কারাগার সমূহে মাছ, খাসী ও ছাগীর মাংসের সাথে এর বিকল্প হিসেবে গো-মাংস সরবরাহ করার অনুমতি দেয়া যাবে। – নং-পি-২৬/৮৯-জেল-১/২৪৪ তারিখ ৩-৬-১৯৯০। টীকা-৩। কারা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক সরকার জেল কোডে অনুমোদিত হার। অপেক্ষা মসল্লার পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করেছেন। আদেশ নং-৯৬/৮২(১) স্ব:ম:(জেল-১)/৬৪০

তারিখ ২৫-১১-৮২।

 

বিধি-১০৯৬।

I শ্রেণীর বন্দীদেরকে সকালের খাবার হিসাবে মেডিকেল অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, চালের সাথে ডাল, তেল এবং লবন মিশিয়ে খিচুড়ি আকারে দেয়া যাবে,তবে সে ক্ষেত্রে দুপুর এবং রাতের খাবার হতে ডাল বাদ যাবে। ডাল এবং চাল মেশানোর আগে পৃথক রান্না করতে হবে। যখন বন্দীদের ওজন হ্রাস পায় বা স্কাভীর প্রবণতা দেখা যায়, তখন চিটা গুড় বা বিশুদ্ধ গুড় দেয়া যেতে পারে।

ওজন হ্রাসের বিশেষ প্রবণতা দেখা দিলে সকালের খাবারে গোল আলু বা কারাগারের বাগানে উৎপাদিত অন্যান্য সব্জি দেয়া যেতে পারে। জেলার সকালের খাবারে বৈচিত্র পূর্ণ করার চেষ্টা করবেন।

বিধি-১০৯৭।

দুপুরের এবং রাতের খাবার একই প্রকার হবে। তবে যদি ভাত ও রুটি দুটি দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তবে একবেলা সম্পূর্ণ ভাত এবং অপর বেলা সম্পূর্ণ রুটি দিতে হবে। 

বিধি-১০৯৮।

প্রত্যেক কারাগারে বন্দী প্রতি দৈনিক আধা ছটাক মাছ বা মাংশ পালাক্রমে বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদি মেডিকেল অফিসার মনে করেন, মাছ বা মাংশের এই পরিমাণ দ্বিগুণ করা যেতে পারে এবং তার পরিবর্তে আধা ছটাক ডাল কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শ করে মাছের বিকল্প হিসাবে সব্জি বরাদ্দ করতে পারেন।

নোট-এ বিধিতে অনুমোদিত মাছ বা মাংশ জেল সুপার প্রত্যহ পালাক্রমে বা মোট পরিমাণ বেজায় রেখে একত্রে সপ্তাহে একবার বা দুইবার বা প্রতি চারদিন পর একবার বরাদ্দ করতে পারেন ।

বিধি-১০৯৯ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১১০১।

৯৭, ৯৪২, ১১০২ থেকে ১১০৪, ১২২১ এবং ১২২৪ বিধিতে বর্ণিত কারণ ব্যতীত অনুমোদিত ডায়েট পরিবর্তন করা যাবে না। সিভিল বন্দীদেরকে ৮৯০ বিধি মোতাবেক খাবার দেয়া হবে। ১২৩৮ বিধি অনুযায়ী হাসপাতালে ডায়েট বরাদ্দ করা হবে ।

বিধি-১১০২ ।

প্রত্যেক বন্দী তার শ্রেণী মোতাবেক খাবার পাবে। তবে শর্ত থাকে যে –

(১) যদি কোন কারাগারে উপ-জাতীয় বা পাহাড়ী লোক বেশী থাকে, জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শক্রমে তাদের উপযোগী ডায়েট প্রস্তুত করতে পারবেন;

(২) অভাব বা দুর্ভিক্ষের সময়ে নুতন ভর্তিকৃত বন্দীদের দিকে বেশী নজর দিতে হবে;

(৩) সশ্রম বন্দী কাজ থেকে বিরত থাকা অবস্থায় ১০৯৫ বিধির II স্কেলে ডিভিশন III বন্দীদের খাবার পাবে;

(8) দুগ্ধদানকারী মাতাকে দুই ছটাক চাল বা আটা এবং আধা ছটাক সরিষার তেল সাধারণ সশ্রম ডায়েটের অতিরিক্ত দিতে হবে।

বিধি-১১০৩।

মায়ের সাথে যে সব সন্তান কারাগারে ভর্তি হয় তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক খাবার দেয়া হবে; বা নিম্নোক্ত ভাবে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে-

(ক) ১২ মাসের কম বয়সের শিশুদের মায়ের বুকের দুধের অভাব হলে গরুর দুধ পানিতে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে;

(খ) ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুদের ৬ ছটাক দুধ, দুই ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল দেয়া যেতে পারে;)

(গ) ১৮-২৪ মাস বয়সের শিশুদেরকে চার ছটাক দুধ, চার ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল।

নোট- দুই বছরের বেশী বয়সের শিশুদেরকে মেডিকেল অফিসারের বিবেচেনা সাপেক্ষে ডায়েট দেয়া যেতে পারে।

 

পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

 

বিধি-১১০৪ ।

খাবারের ধরন পরিবর্তন সংক্রান্ত।

বিধি-১১০৫।

রেজিষ্টার।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class