Category Archives: শিক্ষা

আইনানুগ প্রতিনিধি | চুক্তি আইন

আইনানুগ প্রতিনিধি আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতিনিধি [ Law of Contracts on Agency ] ” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “আইনানুগ প্রতিনিধি” অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি আইনানুগভাবে কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করেন উক্ত ব্যক্তি; এবং যিনি কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনার সহিত সম্পৃক্ত থাকেন, এবং যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রতিনিধিত্বশীল বৈশিষ্ট্যে কার্য সম্পাদন করেন সেই ক্ষেত্রে উক্ত পক্ষের মৃত্যু হইলে যেই ব্যক্তির উপর উক্ত সম্পত্তি বর্তায় উক্ত ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(খ) “আদালত” অর্থ জেলাজজ আদালত, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন জেলাজজ আদালতের কার্য সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত অতিরিক্ত জেলাজজ আদালতও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

 

(গ) “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তি বহির্ভূত আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত বিরোধ সম্পর্কিত কোন সালিস যাহা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক বিরোধ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে কোন একটি পক্ষ-

(অ) একজন ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের নাগরিক, কিংবা ঐ দেশের স্বাভাবিক বাসিন্দা হয়; অথবা

(আ) বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রে নিগমবন্ধ সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হয়; অথবা

(ই) কোম্পানী বা সঙ্ঘ বা ব্যক্তি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান যাহার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশে প্রয়োগ হয়; অথবা

(ঈ) কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সরকার হয়;

(ঘ) “তামাদি আইন” অর্থ Limitation Act, 1908 (IX of 1908);

(ঙ) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908);

(চ) “নির্দিষ্ট রাষ্ট্র” অর্থ ধারা ৪৭ এর অধীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্র;

(ছ) “পক্ষ” অর্থ সালিস চুক্তির কোন পক্ষ;

(জ) “প্রধান বিচারপতি” অর্থ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি;

(ঝ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি;

(ঞ) “ব্যক্তি” অর্থে সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধ সংস্থা, কোম্পানী, সমিতি এবং অংশীদারী কারবারও (Partnership Firm) অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ট) “বিদেশী সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ এমন কোন সালিসী রোয়েদাদ যাহা কোন সালিস চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত হয়,

তবে কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত কোন সালিসী রোয়েদাদ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(ঠ) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ Evidence Act, 1872 (Act I of 1872);

(ড) “সালিস” অর্থ কোন সালিস যাহা স্থায়ী কোন সালিসী সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত হউক বা না হউক;

(ঢ) “সালিস চুক্তি” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তিবহির্ভূতভাবে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত কিংবা উদ্ভব হইতে পারে এইরূপ সকল বা যে কোন বিষয়ের বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য উক্ত আইনানুগ সম্পর্কের পক্ষগণ কর্তৃক সালিসে প্রেরণ করা সম্পর্কিত চুক্তি;

(ণ) “সালিসী ট্রাইব্যুনাল” অর্থ একমাত্র সালিসকারী বা সালিসকারীদের প্যানেল;

(ত) “সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ বিরোধের বিষয়বস্তুর উপর সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত;

(থ) “হাইকোর্ট বিভাগ” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

 

চুক্তির জামিন

 

আইনানুগ প্রতিনিধি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তির বিবেচনা | চুক্তি আইন

চুক্তির বিবেচনা আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – চুক্তির বিবেচনা [ Law of Contracts on Consideration of Contracts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তির বিবেচনা

চুক্তির অপরিহার্য উপাদানসমূহ

Essential elements of Contract

প্রতিটি সম্মতি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হবে যখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হবে। এ শর্তগুলিকে চুক্তির অপরিহার্য উপাদান বলা হয়। উপাদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১। একাধিক পক্ষ (More than one party) একটি বৈধ চুক্তিতে একাধিক পক্ষ থাকতে হবে। যেমন একটি পক্ষ কিছু বিক্রয় করে আর অন্য পক্ষ তা ক্রয় করে। অর্থাৎ একটি চুক্তিতে দুই বা ততোধিক পক্ষ থাকে।

২। বৈধ প্রস্তাব (Lawful offer): চুক্তি আইন অনুসারে যখন এক বা এাধিক পক্ষ অন্য পক্ষ বা পক্ষগণের নিকট কোনো কাজ করা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় তখন তাকে প্রস্তাব বলা হয়। প্রস্তাব অবশ্যই সুস্পষ্ট এবং আইন সম্মত হতে হবে।

 

চুক্তির বিবেচনা

 

৩। বৈধ স্বীকৃতি (Lawful acceptance): চুক্তি সম্পূর্ণ করতে হলে শুধুমাত্র প্রস্তাব পেশ করলে হবে না তা অপর পক্ষকে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ যে পক্ষের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে সে পক্ষ যদি শর্তহীনভাবে তা গ্রহণ করে তবে তাকে প্রস্তাব গ্রহণ বা স্বীকৃতি বলা হয়। এই গ্রহণ বা স্বীকৃতি অবশ্যই সুস্পষ্ট এবং আইন সম্মত হতে হবে।

৪। বৈধ প্রতিদান (Lawful consideration): সাধারনত প্রতিদান ছাড়া চুক্তি আইন বলবৎ যোগ্য নয়। অবশ্য এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। অর্থাৎ চুক্তি তখনই বলবৎযোগ্য যখন চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট এক পক্ষ কিছু পায় আর অন্য পক্ষ কিছু দেয় বা প্রদান করে। এ ‘কিছু’ দেওয়া অথবা অর্জনকে প্রতিদান বলা হয়। কোনো কিছুর বিনিময় ব্যতিত কোনো কাজ করার সম্মতি সাধারনত আইনে বলবৎযোগ্য নয়। প্রতিদান অতীত, বর্তমান এবং ভবিষৎ হতে পারে। তবে শুধুমাত্র সে সকল প্রতিদান বৈধ যা আইন সম্মত।

৫। আইন সম্মত উদ্দেশ্য (Lawful object): চুক্তির উদ্দেশ্য অবশ্যই আইন সম্মত অর্থাৎ বৈধ হতে হবে। যদি চুক্তির উদ্দেশ্য অবৈধ হয় তা হলে সেই চুক্তি অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

৬। পক্ষসমূহের যোগ্যতা (Capacity of parties): সম্মতিতে অংশগ্রহণ সকল পক্ষের চুক্তিতে অংশগ্রহনে আইনগত যোগ্যতা থাকতে হবে অন্যথায় চুক্তি আইনে বলবৎ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপ নাবালক, মদ্যপ, পাগল বা এ প্রকৃতির ব্যক্তিগন সাধারনত চুক্তিতে অংশ গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত এ প্রকৃতির ব্যাক্তিরা যদি চুক্তিতে অংশগ্রহণ করেন তা হলে চুক্তিটি আইনে বলবৎযোগ্য হবে না।

৭। স্বাধীন মতামত (Free consent): সম্মতির পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ঐক্যমত অবশ্যই স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে নতুবা চুক্তি আইন কার্যকর হবে না। যদি সম্মতি জোরপূর্বক, অনধিকার চর্চা বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে মতামতকে প্রভাবিত করা হয় তবে সে চুক্তি বৈধ বলে গণ্য করা হবে না।

৮। নিশ্চয়তা (Certainty): সম্মতি অবশ্যই অস্পষ্ট হওয়া যাবে না। সম্মতির অর্থ সকল পক্ষের নিকট স্পষ্ট হতে হবে অন্যথায় আইন দ্বারা তা বলবৎ করা যাবে না।

৯। কার্যকর করার সম্ভাবনা (Possibility of performance): সম্মতি বাস্তবায়ন যোগ্য হতে হবে। একটি অসম্ভব বা অসাধ্য কার্য সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি আইনে কার্যকর করা যাবে না। অতএব সম্মতি এমন হতে হবে যা বাস্তবায়ন সম্ভব।

১০। বাতিল চুক্তি (Void agreement): চুক্তি আইনে উল্লেখ করা আছে কিছু সম্মতি আইন দ্বারা বলবৎ করা যাবে না, যেমন-

ক) বিবাহ থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
খ) ব্যবসা থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
গ) আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
ঘ) বাজী ধরা বা রাখা সম্মতি।

১১। আইনি বাধ্যবাধকতা (legal formalities): চুক্তি আইনে চুক্তি কার্যকর করতে হলে অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরন করতে হবে। যেমন মৌখিক চুক্তি গ্রহণযোগ্য তবে সকল ক্ষেত্রে নয়। অনেক ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী চুক্তি লিখিত এবং/অথবা নিবন্ধিত হওয়া প্রয়োজন। যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি বিধি মোতাবেক সম্পাদনের প্রয়োজন, যেমন লীজ, বিক্রয় এবং সম্পত্তি বন্ধক ইত্যাদির ক্ষেত্রে চুক্তি লিখিত হওয়া প্রয়োজন। নিবন্ধন আইনে যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি অবশ্যই নিবন্ধিত করতে হবে। অনেক সময় মৌখিক চুক্তি প্রমান করা কষ্টকর হয়ে থাকে, ফলে বাধ্যবাধকতা না থকলেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ লিখিত হয়ে থাকে।

উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতিয়মান হয় যে, সকল সম্মতি বা মতৈক্য চুক্তি হিসেবে গন্য হয় না। সম্মতির জন্য তিনটি উপাদান প্রয়োজন: প্রস্তাব, তা গ্রহণ এবং প্রতিদান। কিন্তু সম্মতির তিনটি উপাদান থাকলেই চুক্তি বলা যাবে না। বৈধ চুক্তি হতে হলে সম্মতিতে উপরোক্ত অপরিহার্য উপাদানসমূহের উপস্থিতি থাকতে হবে। সেই কারণে বলা হয় “সকল চুক্তিই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতিই চুক্তি নয়”। (All contracts are agreement but all agreements are not contracts).

 

চুক্তির জামিন

 

চুক্তির বিবেচনা নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তির জামিন | চুক্তি আইন

চুক্তির জামিন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – চুক্তির জামিন [ Law of Contracts on Bailment of Contracts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তির জামিন

চুক্তি পরিসমাপ্তির পদ্ধতিসমূহ

Methods of Termination

চুক্তি দ্বারা পক্ষগনের মধ্যে দায় বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় যখন এ দায় বা বাধ্যবাধকতা সমাপ্ত হয় তখন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে। বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে চুক্তি পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে। এ পদ্ধতিসমূহ হলো:

১। চুক্তি পালনের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তি
২। সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৩। পরবর্তী অসম্ভবতার জন্য চুক্তির পরিসমাপ্তি
৪। আইনের প্রয়োগ দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি
৫। সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৬। অনুমতি ব্যতীত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৭। চুক্তি ভংগ করায় চুক্তির পরিসমাপ্তি

নিম্নে উপরোক্ত পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করা হলো।

 

চুক্তিতে প্রতারণা

 

১। পালনের দ্বারা পরিসমাপ্তি (Termination by Performance)

চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগন যখন তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে তখন তাদের দায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। যখন চুক্তির সকল পক্ষ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন তখন চুক্তিটির সম্পূর্ণ পরিসমাপ্তি হয়। আবার যদি চুক্তির এক পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি পালনের প্রস্তাব করেন অন্য পক্ষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জনান তখন প্রথম পক্ষের দায় পরিসমাপ্ত হবে।

 

২। সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির পরিসমাপ্তি (Termination by Mutual Agreement)

সকল পক্ষের সম্মতিতে চুক্তি বাতিল বা বাদ দেওয়া অথবা শর্তসমূহ পরিবর্তন করা অথবা বিকল্প চুক্তি প্রতিস্থাপন করা যায়। এ কার্যগুলির যে কোনো একটির মাধ্যমে পুরাতন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটানো যায়। সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নলিখিত যে কোনো একটি উপায়ে চুক্তির পরিসমাপ্তি হতে পারে।
ক) বিকল্প চুক্তি: এ প্রকার চুক্তির ফলে পুরাতন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে নতুন চুক্তি সৃষ্টি হয় এবং চুক্তির পক্ষসমূহ একই থাকতে পারে বা পরিবর্তন হতে পারে। যেমন-

খ) চুক্তিরশর্ত পরিবর্তন: চুক্তির শর্ত পরিবর্তন বলতে বুঝায় চুক্তির এক বা একাধিক শর্তসমূহের পরিবর্তন। এ ধরনের পরিবর্তন যদি চুক্তির সকল পক্ষের সম্মতিতে করা হয় তবে তা বৈধ হবে। এ পরিবর্তনে শুধুমাত্র শর্তের পরিবর্তন হয় পক্ষসমূহের পবির্তন হয় না। চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের ফলে পুরাতন চুক্তির আর অস্তিত্ব থাকে না তার পরিসমাপ্তি হয়।

গ) অব্যাহতি প্রদান অব্যাহতি বলতে বোঝায় চুক্তিতে যা বলা হয়েছে তার চেয়ে কম গ্রহণ করা। বাংলাদেশের আইনে প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ন বা আংশিক অব্যাহিত দেওয়া যায় এবং এর জন্য কোনো প্রতিদান প্রয়োজন হয় না। যেমন, ‘ক’ ৫০০০/ টাকা ‘খ’ এর নিকট থেকে ধার নিয়েছে। ‘ক’ ৫০০০/ টাকার পরির্বতে ৪০০০/ টাকা প্রদান করলো এবং ‘খ’ খুশি মনে তা গ্রহণ করলো। এর ফলে পুরাতন ঋণের সমাপ্তি হলো। চুক্তির যে পক্ষকে অধিকার দেওয়া থাকে সে পক্ষ যদি তা ত্যাগ করে তবে অপর পক্ষ দায় মুক্ত হন, তার আর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না।

ঙ) অংগীভূতকরণ: যখন একই ব্যক্তির বড় অধিকার এবং ক্ষুদ্র অধিকার এক সাথে মিলিত হয় তখন ক্ষুদ্র অধিকার বড় অধিকারে নিকট বিলীন হয়ে যায় যেমন-

এক ব্যক্তি কিছু জমি লিজ নিয়ে ছিল, পরবর্তীতে সে জমিটি ক্রয় করে নেয়। এর ফলে তার লিজ চুক্তি সমাপ্ত হয়ে যায় এবং তা মালিকানায় রুপান্তর হয়।

 

৩। পরবর্তী অসম্ভবতার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি (By subsequent supervening impossibility)

চুক্তি করার সময় যে কাজ সম্পাদন করা সম্ভব ছিল তা পরবর্তী কালে অসম্ভব বা অবৈধ হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। এ পরিস্থিতিকে উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা (supervening impossibility) বলে। একে আবার নৈরাশ্য মতবাদ (doctrine of frustration) বলা হয়। উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা অনেক কারনে হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম:

ক) চুক্তির বিষয়বস্তুর ধ্বংস চুক্তির কার্যকারিতা যদি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর উপর নির্ভর করে এবং পরবর্তীতে তা বিনষ্ট হয়ে যায় তবে চুক্তি বাতিল হবে। যেমন-একটি কমিউনিটি সেন্টার বিয়ের জন্য ভাড়া নেওয়া হলো। কিন্তু নির্ধারিত দিনের পূর্বে কমিউনিটি সেন্টারটি আগুনে পুড়ে যায়, ফলে বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে সেন্টারের মালিককে দায়ী করা যাবে না এবং চুক্তিটি বাতিল বলে গন্য হবে।

খ) আইনের পরিবর্তন: আইনের পরবর্তী পরিবর্তনের ফলে চুক্তি বৈধতা হারাতে পারে। এ ক্ষেত্রে মূল চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন ভারতের পেঁয়াজ ক্রয়ের জন্য ‘খ’ ভারতের সরবরাহকারীর সাথে চুক্তি করে। পরবর্তীতে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ফলে ‘খ’ কে সরবরাহকারী পেঁয়াজ সরবরাহ করতে পারেনি। চুক্তিটি বাতিল বলে
গন্য হবে।

গ) পূর্ব শর্তের বিফলতা: যখন কোনো চুক্তি করা হয় তখন ধরে নেওয়া হয় বর্তমানে যে অবস্থা বিদ্যমান আছে তার ধারাবাহিকতা থাকবে। যদি সে অবস্থার পরিবর্তন হয় তবে চুক্তি পরিসমাপ্তি ঘটবে। যেমন- ‘ক’ এবং ‘খ’ একে- অপরকে বিয়ের চুক্তি করলো। বিয়ের কয়েকদিন পূর্বে ‘ক’ পাগল হয়ে গেল। চুক্তিটি বাতিল বলে গন্য হবে।

ঘ) মৃত্যু বা ব্যক্তিগত অক্ষমতা যে সকল ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদিত হয় সে সকল ক্ষেত্রে মৃত্যু অথবা ব্যক্তিগত অক্ষমতার কারনে চুক্তির পরিসমাপ্তি হয়। যেমন-ক একটি গান গাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলো এবং প্রতিদান হিসেবে কিছু অর্থ দেওয়া হলো। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ক এমন অসুস্থ হলো যে তার পক্ষে গান গাওয়া সম্ভব ছিল না। এক্ষেত্রে চুক্তিটি বাতিল হবে।

ঙ) যুদ্ধের প্রাদুর্ভাব: যুদ্ধ কালীন সময় শত্রু দেশের সাথে চুক্তি বাতিল বলে ধরা হয়। যুদ্ধের পূর্বে যদি দুই দেশের নাগরিকের মধ্যে চুক্তি হয় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধ শুরু হয় তবে চুক্তি স্থগিত হয়ে যাবে। যুদ্ধের পরে চুক্তি পুন:বহাল বা বলবৎ করা যেতে পারে।

 

 

৪। আইন দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি (By operation of Law):

আইন দ্বারা যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে সেগুলি হলো মৃত্যু, দেওলিয়া এবং একত্রীকরণ।

মৃত্যু: যে সকল চুক্তি ব্যক্তির নৈপূণ্য অথবা সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে। যেমন, কোনো নাট্যকারের সাথে নাটকে অভিনয় করার চুক্তি হলো, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হওয়ায় তার পক্ষে নাটক করা সম্ভব হলো না। অবশ্য অন্যান্য ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির অধিকার এবং দায় তার আইনগত প্রতিনিধির উপর পড়বে।

দেওলিয়া: দেওলিয়ার অধিকার এবং দায় কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত আদালতে অর্পিত হয়। দেওলিয়ার সাধারনত কোনো অধিকার এবং দায় থাকে না।

একত্রীকরণ: বড় অধিকারের নিকট ক্ষুদ্র অধিকার বিলীন হয়ে যায়। যেমন, ‘ক’ তার গাড়ী ‘খ’ কে ভাড়া দেয়, পরবর্তীতে ‘খ’ গাড়ীটি ক্রয় করে নেয়। গাড়ী ক্রয়ের ফলে ‘ক’ ও ‘খ’এর ভাড়ার চুক্তিটির পরিসমাপ্তি হবে।

 

৫। সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি (By lapse of time)

চুক্তিতে কার্য সম্পাদনের সময় নির্দিষ্ট থাকলে এবং সে সময়ে কার্য সম্পাদন না করলে চুক্তির পরিসমাপ্তি হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে সময় একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

 

৬। অনুমিত ব্যতিত গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তন করা হলে (By material alteration)

পক্ষগনের অনুমিত ব্যতিত যদি চুক্তির গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তন করা হয় তবে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলতে সে ধরনের পরিবর্তন বোঝানো হয়েছে যা পক্ষগণের অধিকার এবং দায়কে যথেষ্ট প্রভাবিত করবে। যেমন অর্থের পরিমানের পরিবর্তন, অর্থ পরিশোধের সময়ের পরিবর্তন, পরিশোধের স্থানের পরিবর্তন, পক্ষগনের নামের পরিবর্তন ইত্যাদি। অবশ্য যে সকল পরিবর্তন পক্ষগনের অধিকার এবং দায় প্রভাবিত করে না অথবা চুক্তি কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তার করে না সে পরিবর্তন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটায় না, যেমন মুদ্রন ত্রুটি, নামের ভুল বানান ইত্যাদি।

 

৭। চুক্তি ভংগ করার চুক্তির পরিসমাপ্তি (By breach of contract)

একটি পক্ষ চুক্তি ভংগ করলে তখন অপর পক্ষ বা পক্ষসমূহ চুক্তি সম্পাদনের বধ্যবাধকতা থেকে রেহাই পায়। চুক্তি ভংগ বলতে বোঝায় এক পক্ষের চুক্তি পালনে ব্যর্থতা অথবা চুক্তি পালনে অস্বীকৃতি, অথবা চুক্তি পালনে অক্ষমতা। চুক্তি ভংগ করলে অপরপক্ষ ক্ষতিপূরণ পেতে পারে বা সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের দাবী করতে পারে। আবার এই দুইটি প্রতিকার এক সংগে পাওয়া যেতে পারে।

আদালত যদি সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দেয় তবে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে না। অপরপক্ষ যদি চুক্তির জন্য ক্ষতিপূরন দাবী করে বা নিজে চুক্তি বাতিল করে তাহলে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে। চুক্তি ভংগের শ্রেনীকরন বিভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে। যেমন সমগ্র না আংশিক চুক্তি ভংগ, বা মূখ্য শর্ত না গৌণ শর্ত ভংগ। তবে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের দৃষ্টিকোন থেকে চুক্তি ভংগের শ্রেনিকরন নিম্নলিখিতভাবে করা যায়:

১। অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তি ভংগ
২। প্রকৃত বা বর্তমান চুক্তি ভংগ

অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তি ভংগ (Anticipatory or constructive breach of contract): যখন এক পক্ষ চুক্তি পালনের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তার দায় পালনে অস্বীকৃতি জানায় অথবা যখন এক পক্ষ তার আচরন বা কার্য দ্বারা বুঝিয়ে দেয় তার পক্ষে চুক্তি পালন সম্ভব না তখন তাকে গঠনমূলক বা অনুমানমূলক চুক্তি ভংগ বলে। এধরনের চুক্তি ভঙ্গ নিম্নলিখিতভাবে হতে পারে:

ক) অস্বীকৃতির মাধ্যমে
খ) কার্য পালনে অসম্ভবতার ফলে

 

চুক্তির জামিন

 

চুক্তির জামিন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া | চুক্তি আইন

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। চুক্তি আইন – বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার [Law of Contracts on Restraint of Trade & Legal Proceeding]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘কোম্পানি আইন’ অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন);

(২) ‘নিবন্ধন’ অর্থ লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কোনো বাণিজ্য সংগঠনের কোম্পানি আইনের অধীন নিবন্ধন;

(৩) ‘নির্বাহী কমিটি’ বা ‘পরিচালনা পর্ষদ’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে নির্বাচনের মাধ্যমে উহার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ;

 

চুক্তিতে প্রতারণা

 

(৪) ‘নির্বাহী কমিটির সদস্য’ বা ‘পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধি অনুসারে উহার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটির সদস্য বা পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকসহ উহার সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি;

(৫) ‘প্রশাসক’ অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন নিযুক্ত কোনো প্রশাসক;

(৬) ‘ফেডারেশন’ অর্থ বাণিজ্য সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের চেম্বারসমূহ ও সমিতিসমূহের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন;

(৭) ‘বাণিজ্য সংগঠন’ অর্থ এইরূপ কোনো সংগঠন-

(ক) যাহা কোম্পানি আইন অনুসারে সীমিতদায় কোম্পানি হিসাবে গঠিত হইবার যোগ্য;

(খ) যাহা অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন হিসাবে পরিচালিত এবং যাহা ধারা ৩ এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বা বিভিন্ন ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বা উহাদের কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত; এবং

(গ) যাহার তহবিল বা আয় বা মুনাফা বা উদ্বৃত্ত অর্থ বা অন্যবিধ আয় উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হয়, তবে উহার কোনো অংশই উহার কোনো সদস্য বা নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো পরিচালকের মধ্যে লভ্যাংশ বা মুনাফা বা বোনাস কিংবা অন্য কোনো আকারে বণ্টন করা হয় না;

(৮) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৯) ‘মহাপরিচালক’ অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিচালক;

(১০) ‘রেজিস্ট্রার’ অর্থ কোম্পানি আইনে সংজ্ঞায়িত রেজিস্ট্রার;

(১১) ‘লাইসেন্স’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রদত্ত কোনো লাইসেন্স;

(১২) ‘সহায়ক কমিটি’ অর্থ প্রশাসকের কর্মসমূহ সম্পাদনে সহায়তা বা পরামর্শ প্রদান করিবার নিমিত্ত মহাপরিচালকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রশাসক কর্তৃক ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর অধীন গঠিত কোনো কমিটি;

(১৩) ‘সংঘবিধি’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধি;

(১৪) ‘সংঘস্মারক’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘস্মারক।

 

আইনি প্রক্রিয়া

 

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তিতে প্রতারণা | চুক্তি আইন

চুক্তিতে প্রতারণা আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতারণা [ Law of Contracts on Fraud, Misrepresentation ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তিতে প্রতারণা

প্রতারণা

Fraud প্রতারণার আওতায় সে সকল কার্য অন্তর্ভূক্ত যা একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে সম্পাদন করে। প্রতারণার অর্থ কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা ঘটনা সত্য বলে বিশ্বাস করানো। চুক্তি আইনের ১৭ ধারায় প্রতরণার অর্থ এবং এর অন্তর্ভূক্ত কার্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে চুক্তির এক পক্ষ প্রতারণার সাহায্যে অপর পক্ষের প্রতিনিধি বা অপর পক্ষকে চুক্তিতে অংশ গ্রহণে প্রলুব্ধকরা। প্রতারণার আওতায় নিম্নলিখিত কার্যসমূহ অর্ন্তভূক্ত:

১। এমন প্রস্তাব করা যা সত্য নয়, প্রস্তাবকারী নিজে তা জানে। ২। তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত গোপন করা। ৩। কোনো কার্য পালন না করা অভিপ্রায় থাকা সত্ত্বেও সে কাজের অংগীকার করা। ৪। প্রবঞ্চনামূলক অন্য যে কোনো কাজ করা। ৫। এমন কোনো কাজ করা বা করা থেকে বিরত থাকা যাকে আইনে প্রতরণা বলা হয়েছে।

 

চুক্তিতে প্রতারণা

 

নীরবতা কি প্রতারনা (Can silence be braudulent ?)

নীরবতা সাধারণ অর্থে প্রতারনা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ক্ষেত্রসমূহ হলো:

১। কথা বলা যেখানে আইনগত কর্তব্য: আইন হিসেবে যেখানে কথা বলা কর্তব্য সেখানে নিরব থাকা প্রতারনা। যেমন বিক্রেতা তার সম্পত্তি বিক্রি করার সময় সম্পত্তির সকল ত্রুটি প্রকাশ করবেন। বিক্রেতা কোনো বিষয় প্রকাশ না করে ইচ্ছাকৃত নীরব থাকেন তবে তা প্রতারনা হিসেবে গণ্য হবে।

২। যে ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল: অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল। যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে বললো আপনি যদি কিছু না বলেন তবে আমি ধরে নিব সাইকেলটি উন্নত মানের। বিক্রেতা নীরব থাকায় ক্রেতা সাইকেলটি ক্রয় করে নিল, প্রকৃত পক্ষে সাইকেলটি ত্রুটিপূর্ন ছিল। এক্ষেত্রে বিক্রেতার নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে।

৩। সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণার সামিল। এই চুক্তির আওতায় পড়ে: ক) বীমা চুক্তি, খ) জামিনের চুক্তি, গ) অংশীদারিত্বের চুক্তি, ঘ) কোম্পানির শেয়ার ক্রয় চুক্তি, ঙ) বিবাহ চুক্তি এবং অন্যান্য। এ সকল চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে। ৪। অবস্থার পরিবর্তন হলে: অনেক সময় দেখা যায় যখন চুক্তি হয় তখন বক্তব্য সত্য বা সঠিক ছিল। পরে অবস্থা পরিবর্তনের ফলে বক্তব্যের সত্যতা পরিবর্তন হতে পারে। পরিবর্তিত অবস্থা অপর পক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে নতুবা প্রতারণার দায়ে দায়ী হতে হবে।

 

চুক্তির ভুল

প্রতারনার ফলাফল

প্রতারনার মাধ্যমে সম্মতি আদায় করলে সে চুক্তি বাতিলযোগ্য হবে। নিম্নে প্রতারনার দায়ে চুক্তির বিভিন্ন ফলাফল উল্লেখ করা হলো:

১। যে প্রতারিত হয়েছে সে ইচ্ছা করলে চুক্তিটি বৈধ রাখতে পারে অথবা বাতিলও করতে পারে, অথবা
২। প্রতারনা না হলে চুক্তিটি যে অবস্থায় থাকতো সে অবস্থায় নিয়ে যাবার দাবি জানাতে পারে, অথবা
৩। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ক্ষতিপূরন আদায় করতে পারে।

 

চুক্তিতে প্রতারণা নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ | চুক্তি আইন

চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তিভঙ্গ এর ক্ষতিপূরণ [ Law of Contracts on Breach of Contract ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ

 

ক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত যে কোন একটি অথবা প্রয়োজন বোধে একাধিক প্রতিকার পেতে পারেঃ
  1. Rescission (চুক্তি রদ);
  2. Damages (ক্ষতি পূরণ বা খেসারত);
  3. Specific Performace of Contract (সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন);
  4. Injunction (নিষেধাজ্ঞা);
  5. Quantum Meruit (কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান)।
এইগুলির মধ্যে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও নিষেধাজ্ঞা ইকুইটি আইন হতে উৎকলিত বিধায় আদালতের সুবিচার নির্ভরশীল এবং ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act 1877) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্যগুলি বৃটিম কমন ল’ এর মাধ্যমে বিকাশ লাভ করেছে এবং বাংলাদেশ চুক্তি আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে।
চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ
চুক্তি রদ
এক পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ চুক্তিটি খারিজ করতে পারে অর্থাৎ তার অঙ্গীকার পালন করা হতে সে পক্ষ অব্যহতি পেতে পারে। সমগ্র চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে এরুপ পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া চুক্তির মুখ্য বা অপরিহার্য শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের ইচ্ছানুযায়ী চুক্তিটি বাতিল হতে পারে। গৌণ শর্ত ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ কেবল ক্ষতি পূরণ দাবী করতে পারে, চুক্তি রদ করিতে পারে না। চুক্তি আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, চুক্তিভূক্ত কোন পক্ষ যদি চুক্তি পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়, কিংবা চুক্তি পালনে নিজেকে অক্ষম মনে করে, তবে অঙ্গীকার গ্রহিতার ইচ্ছানুযায়ী চুক্তিটি রদ করা যেতে পারে।
তবে, এই অবস্থায় তার মৌণ সম্মতি থাকলে চুক্তিটি আর রদ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপঃ
“ক” একজন প্রাইভেট
“ক” হ’ল একটি জুমআ মসজিদের খতিব। তবে তিনি মসজিদ কমিটিকে না জানিয়ে মাসের দ্বিতীয় শুক্রবারের খুতবা মিস করেন। এমতাবস্থায় মসজিদ কমিটি চাইলে “ক” এর সহিত চুক্তি রদ করতে পারে। কিন্তু যদি “ক” মাসের তৃতীয় জুমআর খুতবাতে উপস্থিত হয় এবং রীতিমত খুতবা দান করে, তবে মসজিদ কমিটি আর চুক্তিটি রদ করতে পারবে না। কারণ তাতে মৌণ সম্মতি আছে বলে ধরা হবে।
Damages বা ক্ষতিপূরণ
ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ আদায় করতে পারে তাকে খেসারত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ বলে। ক্ষতিপূরণ হচ্ছে চু্ক্তি ভঙ্গের একটি সার্বজনীন প্রতিকার। চুক্তি ভঙ্গের প্রকিতি ও উদ্ভূত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ তিন প্রকারের হতে পারে, যথাঃ
Nominal damages (নামমাত্র ক্ষতিপূরণ);
Substantial damages (প্রতুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ);
Exmplary damages (দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ)।
উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়াও চুক্তির শর্তানুযায়ী ক্ষতিপূরণ Unliquidated damages (অনির্ধারিত) বা Liquidated damages (পূর্বে নির্ধারিত) ক্ষতিপূরণ হতে পারে।
এক পক্ষের চুক্তিভঙ্গের ফলে অপর পক্ষের যখন প্রকৃত কোন ক্ষতি হয় না, তখন তার অধিকারের স্বীকৃতি স্বরুপ নাম মাত্র ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়। প্রকৃত ক্ষতির ক্ষেত্রে যথার্থভাবে ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে প্রতুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। প্রকৃত ক্ষতি যে ক্ষেত্রে নিরুপণ করা সম্ভব নয় অথচ চুক্তি ভঙ্গের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বা তাকে হতাশা করেছে বা অন্যভাবে তার যথেষ্ট ক্ষতির কারণ ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়, সেক্ষেত্রে আদালত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারেন। সাধারণতঃ বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা এ জাতীয় অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন
চুক্তির শর্তানুসারে প্রত্যেক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে চুক্তি পালন দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং প্রত্যেকে দায়মুক্ত হয়।
কোন পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে আইনতঃ সে বাধ্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। অপর পক্ষের অঙ্গীকার পালনই তার কাম্য হয়। সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে চুক্তির সুনির্দিষ্টি কার্য সম্পাদন মনজুর করতে পারেন অর্থাৎ কৃত অঙ্গীকার পালন করতে বাধ্য করতে পারেন। এই প্রতিকার ইকুইট আইন হতে উদভূত বিধায় অন্যান্য প্রতিকারের ন্যায় তা আইনগত অধিকার হিসেবে দাবী করা যায় না, আদালতের সুবিবেচনার উপর তা নির্ভরশীল।

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আদালত তা ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করে থাকেনঃ
(ক) যেখানে চুক্তি ভঙ্গের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের পরিমাণ নির্ণয় করার কোন মানদন্ড নাই। যেমন “ক” একটা কোন দুর্লভ বস্তু “খ”এর নিকট বিক্রি চুক্তি ভঙ্গ করলে “খ” এর যে ক্ষতি হবে তা নিরুপণ করার কোন মানদন্ড নাই।
(খ) স্মৃতিমন্ডিত কোন সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি। যেমন, “ক” একটা বাড়ী “খ” এর নিকট বিক্রয় করতে সম্মত হলো এবং বাড়ীটি “ক” “খ” এর পিতার নিকট হতে ক্রয় করেছিল। পৈত্রিক সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের েইচ্ছায় “খ” ঐ বাড়ীটি ক্রয় করতে চায়। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারেন।
(গ) চুক্তি পালন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যেক্ষেত্রে প্রতুল পরিমাণ প্রতিকার হয় না। যেমন, “ক” তার রাজশাহীর একটি বাড়ী “খ” এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। “খ” উক্ত বাড়ি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের জন্য তার গ্রামের বাড়ীটি বিক্রয় করলো। এমতাবস্থায় “ক” চুক্তি ভঙ্গ করলে “খ” এর যে ক্ষতি হবে তার প্রতিকার হিসেব অর্থ প্রদান যথেষ্ট হবে না। তাই চুক্তি অনুসারে রাজশাহীর সেই বাড়িটি বিক্রয় করতে “ক” কে বাধ্য করা যায়।
(ঘ) কোম্পানীর শেয়ার বা ডিবেঞ্চার বিক্রয়ের চুক্তির ক্ষেত্রেও চুক্তি পালনের নির্দেশ দেওয়া যায়।
কিন্তু নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়া হয় নাঃ
(ক) চুক্তি পালন না করা হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়।
(খ) যে ক্ষেত্রে আদালতের দ্বারা চুক্তি পালন কার্য তত্বাবধায়ন করা সম্ভব নয়।
(গ) যে চুক্তি বাতিলযোগ্য।
(ঘ) যে চুক্তির শর্তগুলি সুষ্পষ্ট নয়।
(ঙ) যেখানে ব্যক্তিগত কুশলতা বা শ্রমের উপর চুক্তি নির্ভরশীল।
নিষেধাজ্ঞা
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পদনের ন্যায় আরোও একটি প্রতিকার হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। চুক্তি ভঙ্গের আশাংকা দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত চুক্তি ভঙ্গকারীকে চুক্তি ভঙ্গ করা হতে বিরত রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। যে ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না আবার সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ যথার্থ বলে বিবেচিত হয় না সে ক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে সকল কার্য হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে পারেন যা চুক্তি ভঙ্গের সামিল। সাধারণতঃ অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে এ প্রতিকার পাওয়া যায়। অনুরুপ একটি মোকাদ্দমা ওয়ার্ণার বনাম লেনসন।
নিষেধাজ্ঞা দুই প্রকারের হতে পারে। স্থায়ী ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন দ্বার। আর অস্থায়ী ১৯০৮ সালের কার্যবিধি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দুই ধরনের হতে পারেঃ
  1. Mandatory (আদেশমূলক);
  2. Prohibitory (নিষেধমূলক)।
কার্যানুপাতিক মূল্যদান
চুক্তি ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ সাধারণতঃ ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে। কিন্তু চুক্তির শর্তানুযায়ী ইতিমধ্যেই কোন কিছু করে থাকে, তবে উক্ত কাজের পারিশ্রমিক বা মূল্য দাবী করতে পারে। কাজের অনুপাতে মূল্য প্রদান কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান বলা হয়। এক পক্ষের চুক্তি ভঙ্গের ফলে বা অন্য কোন কারণে কিংবা উত্তরকালীন অসম্ভবতার ফলে বা অন্য কোন কারণে যখন চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তখন নির্দোষ পক্ষ তার কারণে যখন চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তখন নির্দোষ পক্ষ তার সম্পাদিত কাজের যে পরিমাণ মালামাল সরবরাহ করেন তার মূল্য দাবী করলে এই নীতি প্রযোজ্য হয়।

চুক্তির ভুল

 

চুক্তির ভুল নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তির ভুল | চুক্তি আইন

চুক্তির ভুল আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “ভুল [ Law of Contracts on Mistake of Facts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তির ভুল

 

ভুল (Mistake)

ভুল বলতে বোঝায় কোনো বিষয় বা তথ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা। চুক্তি গঠনের জন্য স্বাধীন সম্মতির প্রয়োজন। ভুলের বশবর্তী হয়ে সম্মতি প্রদান করলে তাকে স্বাধীন মতামত বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বলা যায় চুক্তি যথার্থভাবে গঠিত হয়নি। তবে সকল ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রয়োগ করা যায় না। ভুলের ফলাফল সম্পর্কে জানতে হলে ভুলের বিভিন্ন শ্রেনী জানা প্রয়োজন। ভুলের শ্রেনীসমূহ হলো: ১। সাধারন ভুল (common mistake) ২। পারস্পরিক ভুল (mutual mistake) ৩। এক পক্ষের ভুল (unilateral mistake)

 

অযৌক্তিক প্রভাব

 

সাধারণ ভুল

চুক্তির উভয় বা সকল পক্ষ একই ধরনের ভুল করে থাকলে সে ভুলকে সাধারণ ভুল বলা হবে। অর্থাৎ একই ধরনের ভুল চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগণের দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন, ‘ক’ তার সাইকেলটি ‘খ’ এর নিকট বিক্রির জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে সাইকেলটি চুরি হয়ে যায় যা কোনো পক্ষ জানতো না। এ ধরনের ভুলকে সাধারন ভুল বলা যায়।

পারস্পরিক ভুল

পারস্পরিক ভুল চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ ভুল করে তবে একই ভুল না। যেমন ‘ক’ এর একই মডলের দুটি গাড়ি আছে একটির রং সাদা অন্যটির সিলভার। সে সাদা গাড়িটি বিক্রি করতে চায় এবং ‘খ’ কে বললো সে একটি গাড়ী বিক্রি করতে চায়, ‘খ’ মনে করলো ‘ক’ সিলভার রং এর গাড়ীটি বিক্রি করবে এবং সে ক্রয়ে সম্মতি দিল। এক্ষেত্রে দুজনের ভুল রয়েছে তবে একই ভুল না, এ ভুলকে পারস্পরিক ভুল বলে।

এক পক্ষীয় ভুল

চুক্তির এক পক্ষ যদি ভুল করে থাকে তবে তাকে এক পক্ষীয় ভুল বলে। চুক্তির কোনো এক পক্ষের ভুলের জন্য চুক্তি বাতিল বা বাতিলযোগ্য হবে না। যেমন, একজন ক্রেতা সিকো ঘড়ি মনে করে দোকানদারের কাছে না জেনে সে ঘড়িটি ক্রয় করে, কিন্তু ঘড়িটি আসলে সিকো ঘড়ি না। এটা ক্রেতার একক ভুল। উপরোক্ত ভুল ব্যতিত আরো দুই প্রকার ভুল হতে পারে:

১। আইনগত ভুল এবং
২। তথ্যগত ভুল

 

চুক্তির ভুল

আইনগত ভুল

চুক্তির পক্ষগণ বাংলাদেশের আইনের বিধান সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা করে তবে তা হবে আইনগত ভুল। এই ধরণের ভুল দ্বারা চুক্তি প্রভাবিত হয় না। কারণ প্রতিটি নাগরিককে তার নিজের দেশের আইন সম্পর্কে জানা উচিত, যদি আইন সম্পর্কে ভুল ধারণা থাকে তবে তার পরিনতি তাকে ভোগ করতে হবে।

তথ্যগত ভুল

যদি কেউ বিদেশি আইনের কোনো বিধান ভুল করে ব্যাখ্যা করে তবে তাকে তথ্যগত ভুল বলা হয়। সাধারণত এ ধরনের তথ্যের ভুল থাকলে তা বাতিল বলে গন্য হয়।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যদি সম্মতিতে তথ্যগত ভুল থাকে তবে তা বাতিল হবে:

১। চুক্তির উভয় পক্ষ ভুল করেছে।
২। চুক্তির আবশ্যকীয় বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভুল রয়েছে।

 

চুক্তির ভুল নিয়ে বিস্তারিত ঃ

 

 

অযৌক্তিক প্রভাব | চুক্তি আইন

অযৌক্তিক প্রভাব আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “অযৌক্তিক প্রভাব [ Law of Contracts on Undue Influence ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

অযৌক্তিক প্রভাব

বলপ্রয়োগ চুক্তির ফলাফল

বল প্রয়োগের মাধ্যমে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তা বাতিলযোগ্য চুক্তি। অর্থাৎ এ চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বৈধ চুক্তি না আবার সম্পূর্ণরুপে বাতিল চুক্তিও না। এই ধরনের চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে বল প্রয়োগে শিকার ব্যক্তির ইচ্ছার উপর। তিনি ইচ্ছা করলে চুক্তিটি বাতিল করতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে চুক্তিটি কার্যকর করতে পারেন অর্থাৎ বৈধ করতে পারেন।

 

অযৌক্তিক প্রভাব

 

অনুচিত প্রভাব

স্বাধীন সম্মতি অনুচিত প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত করা যায়। চুক্তি আইনের ১৬(১) ধারায় বলা হয়েছে একটি চুক্তি অনুচিত প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যখন (১) একটি পক্ষ এমন অবস্থানে আছেন যার ফলে অন্যের ইচ্ছার উপর কর্তৃত্ব করতে পারেন এবং (২) তিনি তার অবস্থান ব্যবহার করে অন্য পক্ষ থেকে অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করেন। নিম্ন লিখিত ক্ষেত্রে একজন অপর জনের উপর অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করতে পারে:

১। যখন এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর কর্তৃত্ব বিদ্যমান থাকে,
২। যেখানে অপর পক্ষের সাথে বিশ্বাসমূলক সম্পর্ক রয়েছে অথবা
৩। অপর পক্ষের মানসিক ভারসাম্য সাময়িক বা চিরকালের জন্য বার্ধক্য, ব্যাধি অথবা শারীরিক বা মানসিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে বিনষ্ট হয়েছে।

অনুচিত প্রভাবের ফলে সকল পক্ষ সম অধিকারের ভিত্তিতে চুক্তির শর্ত সম্পর্কে আলোচনা করতে পারে না এবং স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারে না।

কখন অনুচিত প্রভাবের সন্দেহ জাগে (Undue influence when suspected):

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুচিত প্রভাবের সন্দেহ দেখা যায়

১। প্রতিদান অপর্যাপ্ত
২। যেখানে পক্ষসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস থাকে। যেমন-পিতা-পুত্র।
৩। পক্ষগণের মধ্যে বয়স, বুদ্ধি, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত অসমতা।
৪। দূর্বল পক্ষের জন্য কোনো পরামর্শক থাকে না।
৫। অযৌক্তিক দরকষাকষির ক্ষমতা, যেমন কেউ যদি অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে সে অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করেছে।

অনুচিত প্রভাবের চুক্তি বল প্রয়োগ চুক্তির ন্যায় বাতিলযোগ্য। এ ক্ষেত্রে অনুচিতভাবে প্রভাবিত পক্ষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে চুক্তির কার্যকারিতা।

 

অবাধ সম্মতি

 

অযৌক্তিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত ঃ

অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন | চুক্তি আইন

অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন [ Law of Contracts on Free consent & Coercion ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন

(১) ‘‘আশ্রয় কেন্দ্র’’ অর্থ জেলখানা ব্যতীত এমন প্রতিষ্ঠান যাহা, যেই নামেই অভিহিত হউক না কেন, মানব পাচারের শিকার বা মানব পাচার হইতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিবর্গের গ্রহণ, আশ্রয় এবং পুনর্বাসনকল্পে প্রতিষ্ঠিত;

(২) ‘‘আশ্রয় দেওয়া’’ বা ‘‘লুকাইয়া রাখা’’ (harbouring)অর্থ কোন ব্যক্তিকে তাহার দেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে বিক্রয় বা পাচারের উদ্দেশ্যে লুকাইয়া রাখা, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনভাবে সহায়তা করা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ৫২ক এ যেই অর্থে ””Harbour” অভিধাটি ব্যবহৃত হইয়াছে, তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

 

 

(৩) ‘‘ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage)”” অর্থ কোন ব্যক্তির সেইরূপ অবস্থান যাহার কারণে উক্ত ব্যক্তি কোন ঋণের জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়গ্রস্ত হইলে অথবা বেআইনিভাবে তাহাকে ঋণ-দায়গ্রস্ত বলিয়া দাবী করা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত ঋণের জামানতস্বরূপ নিজের ব্যক্তিগত সেবা বা শ্রম প্রদান করিতে হয়, কিন্তু উক্ত সেবা বা শ্রমের মূল্য ঋণ পরিশোধ হিসাবে গণ্য হয়না অথবা উক্ত সেবা বা শ্রম প্রদানের কাল অসীম হয়;

(৪) ‘‘জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা’’ অর্থ কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, অধিকার, সম্পত্তি বা সুনামের ক্ষয় বা ক্ষতি করিবার হুমকি প্রদর্শন করিয়া তাহার নিকট হইতে যে কাজ বা সেবা গ্রহণ করা হয়;

(৫) ‘‘ট্রাইব্যুনাল’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল অথবা মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসাবে নিযুক্ত (assigned) বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ট্রাইব্যুনাল;

(৬) ‘‘দাসত্ব’’ অর্থ কোন ব্যক্তির অবস্থান বা মর্যাদার (status) এমন পর্যায়ে অবনমন যাহার ফলে উক্ত ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তির মত নিয়ন্ত্রিত ও ব্যবহৃত হয় এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত কোন ঋণ বা সম্পাদিত কোন চুক্তির কারণে উদ্ভুত কোনো শর্ত বা অবস্থাও (condition) উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭) ‘‘দূতাবাস’’ অর্থ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কোন মিশন যা দূতাবাস, হাইকমিশন, উপ- হাইকমিশন, বা সহকারী হাইকমিশন এবং উক্ত দেশসমূহে অবস্থিত কনস্যুলেট- জেনারেল এবং কনস্যুলেট এবং ভিসা অফিসসমূহও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮) ‘‘পতিতাবৃত্তি’’ অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অথবা অর্থ বা সুবিধা (kind) লেনদেন করিয়া কোন ব্যক্তির যৌন শোষণ বা নিপীড়ন;

(৯) ‘‘পতিতালয়’’ অর্থ পতিতাবৃত্তি পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন বাড়ি, স্থান বা স্থাপনা;

(১০) ‘‘মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি’’ বা ‘‘ভিকটিম’’ অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত মানব পাচার অপরাধের শিকার কোন ব্যক্তি এবং উক্ত ব্যক্তির আইনগত অভিভাবক বা উত্তরাধিকারীও (legal heirs) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১১) ‘‘প্রতারণা’’ (fraud) অর্থ ঘটনা বা আইন লইয়া ইচ্ছাকৃত বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কথা বা আচরণ বা লিখিত কোন চুক্তি বা দলিল দ্বারা অন্যকে প্রতারিত (to defraud) বা প্রলুদ্ধ (to induce)বা ভুল পথে পরিচালিত করা এবং প্রতারণাকারী ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তির অভিপ্রায়কে কেন্দ্র করিয়া সংঘটিত প্রবঞ্চনা (deception) এবং চুক্তি আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ১৭ এ যেই অর্থে ”Fraud ”অভিধাটি ব্যবহৃত হইয়াছে তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১২) ‘‘বলপ্রয়োগ’’ অর্থ শক্তি প্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন বা মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপ প্রয়োগ এবং ইহার সহিত কোন প্রকার ক্ষতিসাধন করিবার বা দৈহিকভাবে আটক রাখিবার হুমকি প্রদর্শন, নির্যাতন বা কোন ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক, দাপ্তরিক বা আইনগত অবস্থানকে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাজে লাগাইবার হুমকি প্রদান বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৩) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিসহ (natural person)যে কোন কোম্পানী, অংশীদারী কারবার বা ফার্ম বা একাধিক ব্যক্তির সমিতি বা সংঘ তাহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক;

(১৪) ‘‘শিশু’’ অর্থ আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করে নাই এমন কোন ব্যক্তি;

(১৫) ‘‘শোষণ’’ বা ‘‘নিপীড়ন’’ (exploitation) অর্থ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাহার সম্মতিক্রমে বা বিনা সম্মতিতে কৃত নিম্নলিখিত কার্যসমূহ, তবে কেবল এইসব বিষয়েই ইহার অর্থ সীমিত হইবেনাঃ—

(ক) পতিতাবৃত্তি বা যৌন শোষণ বা নিপীড়নের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শোষণ বা নিপীড়ন;

(খ) কোন ব্যক্তিকে পতিতাবৃত্তি অথবা পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন বা বিতরণে নিয়োজিত করিয়া মুনাফা ভোগ;

(গ) জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা আদায়;

(ঘ) ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage), দাসত্ব বা সার্ভিচিউড্(servitude) , দাসত্বরূপ কর্মকাণ্ড, বা গৃহস্থালীতে সার্ভিচিউড্;

(ঙ) প্রতারণামূলক বিবাহের মাধ্যমে শোষণ বা নিপীড়ন;

(চ) কোন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বিনোদন ব্যবসায় ব্যবহার;

(ছ) কোন ব্যক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা; এবং

(জ) ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে অপরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহানী বা কাউকে বিকলাঙ্গ করা;

(১৬) ‘‘সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ’’ অর্থ জাতীয়তা এবং অবস্থান নির্বিশেষে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির কাঠামোবদ্ধ কোন সংগঠন যাহা নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সক্রিয় এবং যাহার সদস্যরা এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রে কাজ করে;

(১৭) ‘‘সম্মতি’’ অর্থ কোন ব্যক্তির স্বাধীন এবং স্বজ্ঞানে প্রদত্ত মতামত যাহা তাহার বয়স, লিঙ্গ এবং আর্থ- সামাজিক পশ্চাদপদতার কারণে সৃষ্ট তাহার দুর্বল অবস্থান কর্তৃক প্রভাবিত হইবেনা;

(১৮) ‘‘সরকারি কর্মকর্তা’’ (public servant/official) অর্থ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ( ১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ২১ এ বর্ণিত কোনো জনসেবক বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ এর সংজ্ঞানুসারে রাষ্ট্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনের অধীন কোন আইনি দায়িত্ব পালন বা বহন করেন;

(১৯) ‘‘সার্ভিচিউট’’ (servitude) অর্থ কাজ বা সেবা প্রদান করিবার বাধ্যবাধকতা অথবা কাজ বা সেবার জবরদস্তিমূলক শর্তাবলী যাহা হইতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিষ্কৃতি মেলেনা বা যাহা তিনি ঠেকাইতে বা পরিবর্তন করিতে পারেন না।

 

অবাধ সম্মতি

 

অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন | চুক্তি আইন

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন

চুক্তি আইন  একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কিত আইন। এর উদ্দেশ্য হলো একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা। প্রধানত দুটি উপাদানের সমন্বয়ে একটি চুক্তির জন্ম হয়, প্রথমত একটি ঐকমত্য, দ্বিতীয়ত একটি আইনগত দায়িত্ব যা আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য।

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক

 

এদেশে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে মুসলিম আইনে চুক্তির নীতিগুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের উপর প্রযোজ্য ছিল। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিশেষ বিধিবিধান বিঘ্নিত করা হতো না। সyুপ্রম কোর্ট কর্তৃক প্রেসিডেন্সি টাউন কোলকাতায় ইংলিশ আইনের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে দেশীয় লোকের অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

এ সমস্যা নিরসনকল্পে ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা এক আইন পাশ করে যা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার জন্য মুসলিম চুক্তি আইন এবং হিন্দুদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার ব্যাপারে হিন্দু চুক্তি আইন প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী প্রসিডেন্সি শহরে বসবাসরত ইংরেজ নরনারীসহ সকল বিদেশী এবং যারা প্রেসিডেন্সি শহরের বাইরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ছিলেন তাদের সবার ক্ষেত্রে সাধারণ ইংলিশ আইনের নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। ব্রিটিশরা ক্রমান্বয়ে তাদের নীতি পরিবর্তন করা শুরু করে এবং বিধিমালা জারীর মাধ্যমে ইংলিশ কমন ল’য়ের কিছু কিছু নীতি চালু করে। বিধিগুলো প্রণয়ন করেন গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা দেশের আইনকে বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

এভাবেই ১৮৭২ সালে ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টের প্রবর্তন হয় যা অল্পবিস্তর পরিবর্তন সহ এখনও বাংলাদেশে কার্যকর। এ আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিগুলো বিধৃত আছে। গোড়াতে এ আইনে ৭২-১২৩ নং ধারায় পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত বিধান সন্নিবেশিত ছিল যা পণ্য বিক্রি আইন, ১৯৩০  বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ২৩৯-২৬৬ নং ধারায় ছিল অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিধান যা অংশীদারিত্ব আইন, ১৯৩২ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়।

উপরোক্ত তিনটি আইন বিধিবদ্ধ হওয়া ছাড়াও পণ্য পরিবহন আইন, ১৮৬৫, রেলওয়েজ আইন, ১৮৯০, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫, বিমান পরিবহন আইন, ১৯৩৪ চুক্তির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উপরিউক্ত ধারাগুলোর পরিবর্তনের পর চুক্তি আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিমালা সন্নিবেশিত আছে (ধারা ১-৭৫) এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের চুক্তির বিধান আছে। যেমন, ক্ষতিপূরণ ও জামানত চুক্তি (ধারা ১২৪-১৪৭), জিম্মা ও অস্থাবর বন্ধক চুক্তি (ধারা ১৪৮-১৮১) এবং প্রতিনিধিত্ব চুক্তি (ধারা ১৮২-২৩৮)

 

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন নিয়ে বিস্তারিত ঃ