Category Archives: আপডেট

আপডেট

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফেসবুক পাতায় অনেকেই সিকস্তিপয়স্তি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন। এই দুটি বিষয় মূলত নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠার সাথে সম্পর্কিত।

শব্দার্থ

  • সিকস্তি (Diluvion)
    ফার্সি শব্দ। অর্থ— নদীর ভাঙনে জমি বিলীন হওয়া

  • পয়স্তি (Alluvion)
    এটিও ফার্সি শব্দ। অর্থ— ভেঙে যাওয়া জমি আবার চর হিসেবে নতুন করে উত্থিত হওয়া

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি
নদী ভাঙ্গন

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

নদী ভাঙন ও ভূমির সিকস্তি–পয়স্তি বিষয়ে আইনসমূহ

বাংলাদেশে সিকস্তি ও পয়স্তি সংক্রান্ত আইনগুলো সময়ের সঙ্গে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। নিচে ধারাবাহিকভাবে তা তুলে ধরা হলো—

১. ১৮২৫ সাল

Alluvion & Diluvion Regulation
এই আইনের মাধ্যমেই প্রথমবার নদীভাঙন ও চরজমির বিষয়ে আইন করা হয়। বর্তমানে এটি কার্যকর নেই।

২. ১৯২৩ সাল

The Bengal Alluvion Lands Act
এই আইনটিও বর্তমানে বলবৎ নেই।

৩. ১৯৫০ সাল

প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ – ধারা ৮৬
এখানে বলা হয়—

সিকস্তি জমি যদি ২০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক ৪ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমির মালিকানা ফিরে পাবেন।

৪. ১৯৭২ সাল

পি. ও. ১৩৫/১৯৭২
এই আদেশে বলা হয়—

সিকস্তি জমিতে পূর্ব মালিকের স্বত্ব চিরদিনের জন্য বিলোপ হবে।

৫. ১৯৯১ সাল

অধ্যাদেশ নং ৩/১৯৯১
এতে বলা হয়—

যদি সিকস্তি জমি ২০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিকের মালিকানা বহাল থাকবে।

কিন্তু একই বছর—

অধ্যাদেশ নং ২৫/১৯৯১
দ্বারা ৩/১৯৯১ বাতিল করে আবার পি. ও. ১৩৫/১৯৭২ পুনর্বহাল করা হয়।

৬. ১৯৯৪ সাল

আইন নং ১৫/১৯৯৪
এটি প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৬ ধারার সর্বশেষ সংশোধনী।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইনের মূল রূপরেখা

সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশরা নিম্নোক্ত শর্তে মালিকানা ফিরে পাবেন—

  • পয়স্তি অবশ্যই স্বস্থানে হতে হবে (Reformation in situ)
  • পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশদের মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হলে তারা সুবিধা পাবেন না।
  • জেলা প্রশাসক বাস্তব অবস্থা যাচাই করে জমি বরাদ্দ দেবেন।
  • বরাদ্দের পরেও মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হতে পারবে না।
  • এই আইন ১৩ জুলাই ১৯৯৪-এর পর সিকস্তি/পয়স্তিকৃত জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
    এর আগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আইন কার্যকর থাকবে।

স্বস্থানে পয়স্তি (Reformation in situ) কী?

নদীভাঙনের ফলে যদি এক পাড়ের জমি ভেঙে—

  • নদীর অপর পাড়ে, বা
  • ডানে বা বামে
  • সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে
  • চর হিসেবে আবার জেগে ওঠে, তবে সেটিকে স্বস্থানে পয়স্তি বলা হয়।

নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনগুলো জানা থাকলে ভূমি হারানোর ভয় অনেকটাই কমে আসে এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

আপনার ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা বা প্রশ্ন থাকলে জানালে যথাসাধ্য দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমি আনন্দিত হব।

 

নতুন চর
নতুন চর

 

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস:

বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম নদীগঠিত বদ্বীপ অঞ্চলগুলোর একটি। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের কিছু পার্বত্য এলাকা বাদ দিলে দেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডই নদী দ্বারা গঠিত। তিনটি প্রধান নদী—গঙ্গা/পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র/যমুনা ও মেঘনা—হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি বহন করে আনে।

প্রতিবছর এই নদীগুলো কোটি কোটি টন পলি জমা করে নদীর তলদেশ উঁচু করে তোলে। কোথাও নদীর পাড় ভেঙে যায়, আবার কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে। এভাবেই একদিকে ভূমিক্ষয় (শিকস্তি বা Diluvion) ঘটে, অন্যদিকে নতুন ভূমিগঠন (পয়স্তি বা Alluvion) হয়। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চরজমি ও নদীভাঙন কবলিত অঞ্চল।

নদীভাঙন ও চরজাগার এই চক্র প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও অধিকার। ফলে এই পরিবর্তিত জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ধীরে ধীরে পয়স্তি ও শিকস্তি সংক্রান্ত আইন ও প্রথা গড়ে ওঠে।

১৮২৫ সালের প্রবিধান: প্রথম আইনগত স্বীকৃতি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে, বিশেষ করে বিচার-আদালত প্রতিষ্ঠার পর চরজমির মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে থাকে। তখন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় আদালতগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৮২৫ সালে “Bengal Alluvion and Diluvion Regulation” জারি করা হয়।

এই প্রবিধানের উদ্দেশ্য নতুন আইন তৈরি করা নয়, বরং তখনকার প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের স্বীকৃতি দেওয়া। যেখানে স্পষ্ট প্রথা ছিল, সেগুলোকেই বৈধতা দেওয়া হয়। আর যেখানে প্রথা স্পষ্ট ছিল না, সেখানে এই প্রবিধানের মূলনীতিকে আদালতের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে রাখা হয়।

এই আইনে দুই ধরনের জমির কথা বলা হয়—

  • স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি (Reformation in situ)
    অর্থাৎ, যেই জমি নদীতে ভেঙে গেছে, সেটি আবার সেই একই স্থানে জেগে উঠলে পূর্ব মালিক তার অধিকার ফিরে পাবেন।
  • নতুন ভূমিগঠন বা চরজমি
    অর্থাৎ, যেই জমি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে এবং আগে কোনো মালিকানার আওতায় ছিল না।

এই দুই ধরনের জমির মালিকানা আলাদা নীতির অধীনে নির্ধারিত হবে।

শিকস্তি জমির মালিকানার ধারণা

১৮২৫ সালের প্রবিধানের একটি মৌলিক ধারণা হলো—
জমি পানির নিচে গেলেও মালিকের অধিকার নষ্ট হয় না।

অর্থাৎ, শিকস্তি হওয়ার পর যতদিন জমি পানির নিচে থাকে, আইনগতভাবে ধরা হয় যে মালিক এখনও তার জমির দখলেই আছেন। যখন সেই জমি আবার দৃশ্যমান হয়, তখন তিনি তার মালিকানা দাবি করতে পারেন।

এই নীতিটি প্রিভি কাউন্সিলের বিচারব্যবস্থায়ও স্বীকৃত হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

১৮৫৯ ও ১৮৮৫ সালের আইন

১৮৫৯ সালের বঙ্গীয় খাজনা আইন এবং
১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন
এই দুই আইনে শিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক নীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এখানে বলা হয়—

  • যদি কোনো প্রজার জমি পয়স্তির কারণে বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে অতিরিক্ত খাজনা দিতে হবে।

  • আর যদি শিকস্তির কারণে জমি কমে যায়, তবে তার খাজনাও অনুপাতে কমবে।

১৮৮৫ সালের আইনে পরবর্তীতে ৮৬-ক ধারা যুক্ত হয়, যেখানে বলা হয়—
যদি কোনো প্রজা শিকস্তির কারণে খাজনা কমানোর সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা এই অর্থে ধরা হবে যে তিনি ঐ শিকস্তি জমির অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। তবে ১৯৩৮ সালের সংশোধনীতে বলা হয়—
২০ বছরের মধ্যে জমি পুনরায় জেগে উঠলে প্রজা তার অধিকার ফিরে পাবেন।

 

নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর
নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর

 

১৯৫০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত আইনগত পরিবর্তন

১. ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন

১৯৫০ সালে প্রণীত হয় “জমিদারি তালুক হুকুমদখল ও প্রজাস্বত্ব আইন”। এই আইনে প্রথমবারের মতো পয়স্তি ও শিকস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ও পৃথক বিধান যুক্ত করা হয়।

ধারা ৮৬ – শিকস্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • শিকস্তির কারণে যদি জমি নষ্ট হয়, তবে প্রজা খাজনা হ্রাসের সুবিধা পাবে।
  • জমি পুনরায় জেগে উঠলে (স্বস্থানে) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজা তার অধিকার ফিরে পেতে পারে।

ধারা ৮৭ – পয়স্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • নদী বা সমুদ্র থেকে ধীরে ধীরে যে জমি গঠিত হয়, সেটি পয়স্তি জমি
  • এই জমি তখনকার আইনে মূলত নদীতীরবর্তী মালিকের জমির সম্প্রসারণ বলে ধরা হতো।

এই দুটি ধারা ১৮২৫ সালের প্রবিধানের মূল নীতিকে আধুনিক আইনি কাঠামোতে যুক্ত করে।

২. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি. ও. ১৩৫/১৯৭২)

১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট জারি হয় রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৩৫/১৯৭২
এটি ছিল একটি বড় মোড়।

এতে বলা হয়—

শিকস্তি জমিতে প্রজার মালিকানা বিলুপ্ত হবে।
জমি যদি পরে পুনরায় গঠিত হয়, তবে তা সরকারি খাসজমি হিসেবে গণ্য হবে।

অর্থাৎ, আগে যেখানে প্রজার অধিকার বজায় থাকতো, সেখানে এখন সরকার মালিক হবে—এই নীতিই কার্যকর হয়।

তবে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়—
যদি ১৮২৫ সালের প্রবিধানের আলোকে পূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রজাকে মালিক বলে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তাহলে সে অধিকার বাতিল হবে না।

৩. ১৯৯৪ সালের সংশোধনী (আইন নং ১৫/১৯৯৪)

দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও বাস্তব সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার আবার আইন সংশোধন করে।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইন দ্বারা বলা হয়—

  • শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত হয়,
  • এবং প্রজার মোট জমি ৬০ বিঘার কম হয়,
  • তবে প্রজা বা তার ওয়ারিশ মালিকানা ফিরে পাবেন

তবে—

  • ৩০ বছর পার হলে জমি পুনর্গঠিত হলে তা সরকারের সম্পত্তি হবে।
  • প্রজাকে খাজনা হ্রাসের প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হবে।

এই আইনই বর্তমানে মূল অবস্থানে পুনর্গঠিত জমির মালিকানা নির্ধারণে প্রযোজ্য।

৪. ১৯৫৬ সালের পর নদীতলের মালিকানা

জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর (১৯৫৬)—

  • ছোট ও অগভীর নদী যেগুলোর জলকর (মাছ ধরার) অধিকার ছিল,
  • সেগুলোও সরকার অধিগ্রহণ করে।

ফলে এরপর থেকে এসব নদীতে জেগে ওঠা চরও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

 

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন

 

চর দখল, সহিংসতা ও বর্তমান বাস্তবতা:

১. বড় নাব্য নদীর চর ও মালিকানা

বড় নাব্য নদী (যেমন পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) এবং সমুদ্রে গঠিত চরগুলোর ক্ষেত্রে নদীতল বা সমুদ্রতল রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই এসব নদীতে গঠিত চরকে কোনো ব্যক্তির মূল জমির সম্প্রসারণ বলা যায় না।

তবে ১৮২৫ সালের প্রবিধানে তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে—

ক) ধীরে ধীরে গঠিত চর

যদি অলক্ষ্যে ও ধীরগতিতে চর গঠিত হয়, তবে সেটিকে নদীতীরবর্তী জমির সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

খ) প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন চর

যদি চরটি মূল ভূখণ্ড থেকে একটি নাব্য প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেটি সারা বছর নৌচলাচলযোগ্য হয়, তবে চরটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে।
কিন্তু যদি প্রণালীটি পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়, তবে চরটি মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

গ) এভালশান (Avulsion)

যদি নদীর আকস্মিক প্রবাহে একটি জমিখণ্ড হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জমির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে চিহ্নিত করা গেলে সেই জমি মূল মালিকেরই থাকবে

২. চর দখল ও সহিংসতা

নতুন চর অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এগুলো দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বলপ্রয়োগে চর দখলকে সাধারণভাবে “চর দখল” বলা হয়।

এতে দেখা যায়—

  • ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষকে প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করে
  • বিনিময়ে তাদের জমি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়
  • ফলে সহিংসতা, দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে

 

৩. ১৯২০ সালের বঙ্গীয় পলিগঠিত ভূমি আইন

এই সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯২০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে।

এই আইনে বলা হয়—

  • যদি কোনো চর নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকে,
  • তবে কালেক্টর লিখিত আদেশে সেই জমি ক্রোক করতে পারবেন
  • রিসিভার নিয়োগ করে জমি ব্যবস্থাপনা করবেন
  • দাবিদারদের আবেদন নিয়ে জেলা জজ স্বত্ব নির্ধারণ করবেন

কিন্তু বাস্তবে এই আইন খুব কম প্রয়োগ হয়েছে।

৪. বর্তমান বাস্তবতা

আজকের আইন অনুযায়ী—

শিকস্তির ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি ছাড়া সকল চরভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি।

এই জমিগুলো সরকার বিধি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারে।

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস শুধু আইনের গল্প নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের গল্প। নদী যেমন ভূমি গড়ে, তেমনি ভূমি ভেঙে জীবনও ভেঙে দেয়। সঠিক আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ জরিপই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।