Category Archives: আইন

আইন

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত

 

৪০। সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সহিত সাক্ষাত।

প্রত্যেক কারাগারে যথাযথ সময়ে এবং যথাযথ বাধা-নিষেধের অধীনে প্রত্যেক সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সহিত আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগ করিবার ব্যবস্থা রাখিতে হইবে হইবে, লক্ষ্য রাখিতে হইবে যে, তাহা যেন ন্যায়ের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; বিচারাধীন বন্দীরা তাহাদের যোগ্যতা সম্পন্ন আইনজীবিদের সহিত অন্য কাহারো উপস্থিতি ছাড়া সাক্ষাত করিতে পারিবে।

 

৪১। সাক্ষাত প্রার্থীদের তল্লাশী ।-

(১) জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাত প্রার্থীর নাম ও ঠিকানা দাবী করিতে পারিবেন, এবং, যখন জেলারের সন্দেহ করিবার ভিত্তি থাকিবে, কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করিতে পারিবেন বা তল্লাশীর ব্যবস্থা করিতে পারিবেন, তবে তল্লাশী কোন বন্দী বা অন্য কোন সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হইবে না ।

 

বন্দীদের সহিত সাক্ষাত ।

 

(২) অনুরূপ কোন সাক্ষাত প্রার্থী তাহাকে তল্লাশী করিতে অনুমতি প্রদান না করিলে, জেলার তাহাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অসম্মতি জানাইতে পারিবেন, এবং এই কার্যক্রমের কারণ সম্বলিত বিবরণী, সরকার যেই রূপ বিধান করিবেন সেইরূপে রেকর্ড করিবেন।

বন্দীদের স্বাস্থ্য | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের স্বাস্থ্য

বন্দীদের স্বাস্থ্য

বন্দীদের স্বাস্থ্য

 

৩৭। বন্দীদের অসুস্থতা।-

(১) মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সহিত দেখা করিতে আগ্রহী বন্দীদের নাম বা শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়ে হাজির হইতে আগ্রহী বন্দীর নাম,কোন প্রকার বিলম্ব ব্যতীত, যে কর্মকর্তা-কর্মচারারী বন্দীদের দায়িত্বে রয়েছেন, সে অফিসার কর্তৃক জেলারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

(২) জেলার, কোন বিলম্ব ব্যতীত, দেখানোর আগ্রহী বন্দী, বা কোন অসুস্থ বন্দী, বা কোন বন্দীর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবেন, এবং, অনুরূপ কোন বন্দীর শৃঙ্খলা বা পরিচালনার বিকল্প উপায়ে মেডিকেল-অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সকল লিখিত নির্দেশ কার্যকরী করিবেন।

 

৩৮। মেডিকেল অফিসারের নির্দেশের রেকর্ড।

কোন বন্দী সম্পর্কে মেডিকেল-অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের সকল নির্দেশ, ঔষধ সরবরাহের আদেশ বা যে সকল আদেশ মেডিকেল-অফিসার নিজে বাস্তবায়ন করিবেন বা তাহার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হইবে, সে সকল ছাড়া, বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে দৈনিক রেকর্ড করিতে হইবে বা সরকার বিধি দ্বারা যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং নির্দেশ বাস্তবায়িত হইয়াছে কি হয় নাই, ঘটনার উল্লেখ পূর্বক জেলার তাহার মন্তব্যসহ (যদি থাকে) সঠিক জায়গায় তারিখ উল্লেখ পূর্বক রেকর্ড করিবেন ।

 

বন্দীদের স্বাস্থ্য

 

৩৯। হাসপাতাল।-

প্রত্যেক কারাগারে একটি হাসাতাল কিংবা অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসাপত্র প্রদানের জন্য যথাযথ স্থানের ব্যবস্থা করিতে হইবে।

বন্দীদের কাজে নিয়োগ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের কাজে নিয়োগ

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

৩৪। সিভিল বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।-

(১) সিভিল বন্দীগণ সুপারিনটেন্ডেন্টের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হইতে পারিবেন ।

(২) সিভিল বন্দীগণ নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিলে এবং কারাগরের ব্যয় হইতে তাহাদের ভরণ-পোষণ করা না হইলে, তাহাদের সম্পূর্ণ আয় তাহারা গ্রহণ করিতে পারিবেন; কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগরের ভরণ-পোষণ ব্যয় হইয়া থাকিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাহাদের আয় হইতে কর্তন করা হইবে ।

৩৫। ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।-

(১) সশ্রম দণ্ডে দণ্ডিত কিংবা নিজের ইচ্ছায় শ্রমে নিয়োজিত কোন ফৌজদারি বন্দীকে, সুপারিনটেন্ডেন্টের লিখিত অনুমতিক্রমে জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত, দৈনিক ৯ ঘন্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাইবে না ।

 

(২) মেডিকেল অফিসার শ্রমে নিয়োজিত বন্দীদের সময়ে সময়ে পরীক্ষা করিবেন, এবং কমপক্ষে প্রতি পাক্ষিকে একবার শ্রমে নিয়োজিত প্রত্যেক বন্দীর ওজন হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডের ব্যবস্থা করিবেন।

(৩) যখন মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করেন যে, শ্রমে নিয়োজিত কোন বন্দী কোন প্রকার বা শ্রেণীর শ্রমের কারণে পীড়িত হইতেছে, সে বন্দীকে ঐ শ্রমে নিয়োজিত রাখা যাইবে না, তবে মেডিকেল অফিসারের বিবেচনা মতে অন্য কোন প্রকার সুবিধাজনক শ্রমে তাহাকে নিয়োজিত করা যাইবে ।

৩৬। বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিযুক্তি।

 

বন্দীদের কাজে নিয়োগ

 

সকল বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীদের কাজে নিয়োজিত (যতক্ষণ পর্যন্ত তাহারা আগ্রহ প্রকাশ করে) করিবার জন্য সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক নিয়ম করা যাইবে; কিন্তু সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হইলে কোন বন্দীকে কাজে অবহেলার করিবার জন্য ডায়েট স্কেল পরিবর্তন, যাহা অনুরূপ কোন বন্দীর কাজে অবহেলার জন্যে কারাগারের নিয়ম হিসেবে চালু করা যাইতে পারে, ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে না ।

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

৩১। কতিপয় বন্দীর ব্যক্তিগত উৎস হইতে ভরণ পোষণ।-

একজন সিভিল বন্দী বা একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেওয়া হইবে, এবং ব্যক্তিগত উৎস হইতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হইবে, কিন্তু পরীক্ষা করিবার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায় ।

 

৩২। কতিপয় বন্দীর মধ্যে খাদ্য এবং পোশাক হস্তান্তর নিষেধ।-

কোন সিভিল বা অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেওয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাইবে না; এবং কোন বন্দী এই ধারার লংঘন করিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট যে রকম উচিত মনে করিবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হইতে তাহা গ্রহণ করিবার সুযোগ হারাইবেন।

৩৩। সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পোশাক এবং বেডিং সরবরাহ।-

(১) প্রত্যেক সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিং এর সংস্থান না করিতে পারিলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট যে রকম প্রয়োজন হইবে, সে রকম পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করিবেন।

 

সিভিল এবং অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের খাদ্য, পোশাক এবং বেডিং

 

(২) যখন কোন সিভিল বন্দীকে কোন বেসরকারী ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রী জারীর জন্য কারাগারে সোপর্দ করা হয়, ঐ ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি, বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিং এর মূল্য সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক পেশকৃত লিখিত দাবী প্রাপ্তির ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সুপারিনটেন্ডেন্টের নিকট পরিশোধ করিবেন; এবং পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হইতে পারে।

বন্দীদের শৃঙ্খলা | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়  বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

২৭। বন্দীদের পৃথকীকরণ।-

এই আইনের চাহিদা মতে বন্দীদের নিম্নোক্ত ভাবে পৃথক করিতে হইবে ঃ-

(১) যে কারাগারে মহিলা এবং পুরুষ উভয় প্রকার বন্দী আছে, সেখানে মহিলাদেরকে পৃথক ভবনে অথবা একই ভবনের পৃথক অংশে এমনভাবে অন্তরীণ রাখিতে হইবে যে, পুরুষ বন্দীদের সঙ্গে তাদের দেখা, কথা বলা বা কোন যৌন সহবাস করা না যায়;

(২) যে কারাগারে একুশ বৎসরের কম বয়সের পুরুষ বন্দী আটক রহিয়াছে, তাহাদেরকে অন্যান্য বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিবার ব্যবস্থা করিতেহইবে এবং তাদের মধ্যে যাহারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হইয়াছে তাহাদেরকে যাহারা উপনীত হয় নাই তাহাদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে;

(৩) অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে; এবং

(৪) সিভিল বন্দীদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের হইতে আলাদা রাখিতে হইবে।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা

 

 ২৮। বন্দীদের একত্রীকরণ এবং পৃথক রাখা।-

পূর্ববর্তী ধারার চাহিদা সাপেক্ষে,সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদেরকে একত্রে কিংবা পৃথকভাবে সেলে কিংবা একটির আংশিক উপায়ে এবং অপরটির আংশিক উপায়ে আটক রাখা যাইতে পারে ।

 

২৯। নির্জন কারাবাস।-

নির্জন কারাবাসের জন্য কোন সেল ব্যবহার হইবে না, যদি তাহা এমনভাবে তৈরী করা না হয় যে, বন্দী সেখান হইতে যে কোন সময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহিত যোগাযোগ করিতে সক্ষম হয়, এবং সাজার অংশ হিসাবে বা অন্য যে কারণেই হউক, ২৪ ঘন্টার বেশী সময় এইরূপ সেলে আটক প্রত্যেক বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব- অর্ডিনেট দৈনিক কমপক্ষে একবার ভিজিট করিবেন।

৩০। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী।-

(১) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন বন্দীকে, দণ্ড প্রদানের পর কারাগারে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে, জেলার কর্তৃক, বা জেলারের নির্দেশে, তল্লাশী করিতে হইবে, এবং তাহার নিকট হইতে সে সকল জিনিস সরাইয়া লইতে হইবে জেলারের বিবেচনায় যে সকল জিনিস মারাত্মক বা তাহার দখলে রাখা সমীচীন হইবে না ।

 

বন্দীদের শৃঙ্খলা ।

 

(২) অনুরূপ প্রত্যেক বন্দীকে অন্য বন্দীদের হইতে আলাদা একটি সেলে আটক রাখিতে হইবে, এবং দিবারাত্র একজন প্রহরীর দায়িত্বে ন্যস্ত রাখিতে হইবে।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

২৪। ভর্তিকালে বন্দীদেরকে পরীক্ষা করিতে হইবে।-

(১) যখনই একজন বন্দীকে কারাগরে ভর্তি করা হইতেছে, তাহাকে তল্লাশী করিতে হইবে, এবং সকল অস্ত্র এবং নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি তাহার নিকট হইতে রাখিয়া দিতে হইবে। 

 (২) প্রত্যেক ফৌজদারি বন্দীকে, ভর্তির যথা শীঘ্র পরে, মেডিকেল অফিসারের সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশেও পরীক্ষা করা হইবে। মেডিকেল অফিসার জেলারের নিকট রক্ষিত একটি বইতে বন্দীর শারীরিক অবস্থার একটি বর্ণনা এবং কোন জখম বা চিহ্ন, সে যদি সশ্রম কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় কোন শ্রেণীর কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করিবেন বা করাইবেন এবং উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করিলে অন্য যে কোন বিষয় উল্লেখ করিবেন।

(৩) মহিলা বন্দীদের ক্ষেত্রে তল্লাশী এবং পরীক্ষা মেডিকেল অফিসার এর সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশে মেট্রন দ্বারা করিতে হইবে।

 

২৫। বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

সকল টাকা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি সম্পর্কে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হইলে, এবং যে সকল জিনিস যথাযথ কতৃত্ব বলে ফৌজদারি বন্দী কর্তৃক কারাগারে নিয়ে আসে বা তাহার ব্যবহারের জন্য তাহার নিকট প্রেরিত হয়, তাহা জেলারের হেফাজতে রাখিতে হইবে ।

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস

২৬। বন্দী স্থানান্তর এবং খালাস।-

(১) সকল বন্দীকে, অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পূর্বে, মেডিকেল অফিসার কর্তৃক পরীক্ষা করিতে হইবে।

(২) কোন বন্দীকে এক কারাগার হইতে অন্য কারাগারে সরানো যাইবে না, যদি না মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী সরানোর অযোগ্য করিতে পারে এমন ভীষণ অসুস্থতা হইতে মুক্ত।

 

বন্দীদের ভর্তি, অপসারণ এবং খালাস।

 

(৩) কোন মারাত্মক বা বিপদজনক রোগ ভোগ করিতেছে এমন কোন বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারাগার হইতে অবমুক্তি প্রদান করা যাইবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই বিষয়ে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান না করেন ।

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

২১। গেইট কিপারের কর্তব্য ।-

গেইট কিপার হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী, বা অন্য কোন কারা কর্মচারী, কারাগারের ভিতরে বা কারাগার হইতে বাহিরে বহনকৃত যে কোন জিনিস পরীক্ষা করিতে পারিবেন, এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে বা কারাগার হইতে বাহিরে বহনের কিংবা কারাগারের কোন সম্পত্তি বাহিরে বহনের সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে থামাইতে ও তল্লাশী করিতে বা করাইতে পারিবেন, এবং, যদি এ ধরনের কোন দ্রব্য বা সম্পত্তি পাওয়া যায়, তাহা হইলে সঙ্গে সঙ্গে উহার সম্পর্কে জেলারকে জানাইতে হইবে।

 

২২। ছুটি ব্যতীত অধস্তন কর্মচারীগণ অনুপস্থিত থাকিবেন না।-

জেলারের অধস্তন কোন কর্মচারী সুপারিনটেন্ডেন্ট কিংবা জেলার হইতে ছুটি গ্রহণ না করিয়া কারাগারে অনুপস্থিত থাকিতে পারিবেন না ।

২৩। কয়েদী কর্মচারী ।-

 

অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ

 

যে সব বন্দীকে কারাগারের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দণ্ড বিধিতে উল্লেখিত অর্থ মোতাবেক তাদেরকে গণ কর্মচারী বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

জেলার কারাগার | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় জেলার জেলার কারাগার

জেলার

 

জেলার কারাগার

 

১৬। জেলার।-

          (১) জেলার কারাগারের ভিতরে বসবাস করিবেন, যদি না সুপারিনটেন্ডেন্ট তাহাকে অন্যত্র বসবাস করিবার লিখিত অনুমতি প্রদান করেন।

          (২) মহাপরিদর্শকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত, জেলার অন্য কোন চাকরির সাথে যুক্ত হইতে পারিবেন না ।

১৭। জেলার বন্দীর মৃত্যুর নোটীশ প্রদান করিবেন।-

কোন বন্দীর মৃত্যু হইলে জেলার সঙ্গে সঙ্গে ইহার নোটীশ সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল সাব- অর্ডিনেটকে প্রদান করিবেন

 

১৮। জেলারের দায়িত্ব।-

জেলার ১২ ধারার অধীন রেকর্ডসমূহ,সোপর্দকরণের ওয়ারেন্টসমূহ এবং তাহার দায়িত্বে রাখা অন্যান্য দলিল, এবং বন্দীদের নিকট হইতে গৃহীত টাকা ও অন্যান্য দ্রব্যাদি নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার জন্য দায়ী থাকিবেন।

১৯। জেলারকে রাত্রে উপস্থিত থাকিতে হইবে।-

জেলার সুপারিনটেন্ডেন্টের লিখিত অনুমতি ব্যতীত রাতের জন্য কারাগারে অনুপস্থিত থাকিতে পারিবেন না, কিন্তু, যদি অনিবার্য প্রয়োজনে তিনি ছুটি ব্যতীত কোন রাতের জন্য অনুপস্থিত থাকেন, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সুপারিনটেন্ডেন্টকে জানাইবেন এবং কারণ ব্যাখ্যা করিবেন।

২০। ডেপুটি এবং সহকারী জেলারের ক্ষমতা।

 

জেলার কারাগার

 

যখন কোন কারাগারে ডেপুটি জেলার বা সহকারী জেলার নিয়োগ করা হয়, তিনি সুপারিনটেন্ডেন্টের আদেশ সাপেক্ষে এই আইন বা তাহার অধীনে কোন বিধি মোতাবেক জেলারের যে কোন কাজ করিতে পারিবেন এবং জেলারের সকল দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।

মেডিকেল অফিসার | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মেডিকেল অফিসার

মেডিকেল অফিসার

 

মেডিকেল অফিসার

১৩। মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব।-

সুপারিনটেন্ডেন্টের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, মেডিকেল-অফিসার কারাগারের সেনিটরী প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করিবেন এবং ৫৯ ধারার অধীনে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধান মোতাবেক অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন

১৪। কিছু বিশেষ বিষয়ে মেডিকেল অফিসার প্রতিবেদন প্রদান করিবেন। –

যখন মেডিকেল-অফিসারের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে কারাগারের আরোপিত শৃঙ্খলা বা পরিচালনার কারণে কোন বন্দী মানসিক বা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে, মেডিকেল-অফিসার কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত হইবে বলিয়া তিনি মনে করেন তাহার উল্লেখ পূর্বক বিষয়টি লিখিত ভাবে সুপারিনটেন্ডেন্টের নিকট জানাইবেন। এই রিপোর্ট, সুপারিনটেন্ডেন্টের এতদসংক্রান্ত আদেশসহ অবিলম্বে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট অবগতির জন্য প্রেরণ করিতে হইবে। 

 

 

১৫। বন্দীর মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্ট।-

কোন বন্দীর মৃত্যু হইলে, সেই সম্পর্কে মেডিকেল-অফিসার অবিলম্বে একটি রেজিষ্টারে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ যতদূর সম্ভব পাওয়া যায়, রেকর্ড করিবেন :-

     (১) প্রথম কোন দিন ঐ বন্দী অসুস্থতার কথা উল্লেখ করিয়াছিল বা তাহাকে অসুস্থ হইতে দেখা গিয়াছিল,          

     (২) যে দিন মারা গিয়াছিল, সেইদিন তাহাকে যে কাজে নিয়োজিত করা হইয়াছিল, যদি দেওয়া হইয়া থাকে

     (৩) সেই দিন তাহার ডায়েট স্কেল;

     (৪) হাসপাতালে ভর্তি হইবার তারিখ;

     (৫) কোন দিন মেডিকেল-অফিসারকে বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে প্রথম জানানো হইয়াছিল; 

     (৬) রোগের ধরন,

     (৭) মৃত্যুর পূর্বে মেডিকেল-অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট সর্বশেষ কখন তাহাকে দেখিয়াছিলেন,

 

মেডিকেল অফিসার

 

     (৮) বন্দী কখন মারা গিয়াছিল, এবং

     (৯) (যে ক্ষেত্রে পোস্ট মর্টেম করা হইয়াছে) মৃত্যুর পর চেহারার একটি বর্ণনা, সেই সঙ্গে, মেডিকেল-অফিসার প্রয়োজন মনে করিলে যে কোন বিশেষ মন্তব্য ।

সুপারিনটেন্ডেন্ট বন্দী | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সুপারিনটেন্ডেন্ট বন্দী

সুপারিনটেন্ডেন্ট

 

সুপারিনটেন্ডেন্ট বন্দী

 

১১। সুপারিনটেন্ডেন্ট।-

(১) মহাপরিদর্শকের আদেশ সাপেক্ষে সুপারিনটেন্ডেন্ট বন্দীদের শৃঙ্খলা, শ্রম, ব্যয়, শাস্তি এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা করিবেন।

      (২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুরূপ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে, কেন্দ্রীয় কারাগার ব্যতীত কোন কারাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট এই আইন বা তাহার অধীনে প্রণীত কোন বিধির সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারাগার বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের এমন সকল নির্দেশ মান্য করিবেন, এবং এই ধরনের সকল আদেশ এবং তাহার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন।

 

১২। সুপারিনটেন্ডেন্ট যে সকল রেকর্ড রাখিবেন। –

সুপারিনটেন্ডেন্ট নিম্নোক্ত রেকর্ডসমূহ রাখিবেন বা  রাখিবার ব্যবস্থা করিবেন:-

             (১) বন্দীদের ভর্তির একটি রেজিষ্টার;

             (২) প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময়ের বর্ণনা সম্বলিত একটি বই;

             (৩) কারা অপরাধের দায়ে বন্দীদেরকে আরোপিত শাস্তি অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি শাস্তি বই;

             (৪) ভিজিট কালে কারাগারের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিজিটরের কোন মতামত অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি ভিজিটর বই;

 

সুপারিনটেন্ডেন্ট বন্দী

 

             (৫) বন্দীদের নিকট হইতে গৃহীত টাকা এবং দ্রব্যাদির একটি রেকর্ড; এবং ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত বিধান মোতাবেক অনুরূপ অন্যান্য রেকর্ড।