Category Archives: আইন

আইন

বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান | বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান

বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান

 

বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান

 

৩৪। এই ভাগে কারাগার, প্রভৃতির উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে।-

এই ভাগে কারাগার বা কারাবাস বা অন্তরীণ প্রভৃতির সকল উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুল বা সেখানে আটক রাখাকেও বুঝাইবে ।

৩৫। সাক্ষ্য প্রদানের প্রয়োজনে বন্দীকে হাজির করিতে দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা।-

৩৯ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোন দেওয়ানী আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, তাহার আপীল এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে, যদি তাহা হাইকোর্ট বিভাগ হয়, কিংবা, হাইকোর্ট বিভাগ না হইলে, অনুরূপ আদালত যে হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন, তাহার এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন কারাগারে আটক কোন ব্যক্তির ঐ আদালতে অনিষ্পন্ন কোন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সাক্ষ্য প্রয়োজন, ১ নম্বর তফসিলের বণর্না মোতাবেক আদালতে হাজিরের জন্য কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন

৩৬। জেলা জজকে ৩৫ ধারার অধীনে প্রদত্ত কতিপয় আদেশ প্রতিস্বাক্ষর করিতে হইবে।-

(১) যখন ৩৫ ধারা অধীনে কোন দেওয়ানী অনিষ্পন্ন বিষয়ে কোন আদেশ প্রদান করা হয়-

           (ক) জেলা জজের অধস্তন কোন আদালত কর্তৃক, বা 

           (খ) ছোট মামলার আদালত কর্তৃক; তাহা কোন অফিসারের নিকট, যিনি নির্দেশিত হইবেন বা কার্যকর করিবেন, প্রেরণ করা যাইবে না, যেই পর্যন্ত পেশ করা না                    হয় এবং প্রতিস্বাক্ষরিত না হয়-

            (i) জেলা জজ কর্তৃক, ঐ আদালত যাহার অধস্তন, বা

            (ii) জেলা জজ কর্তৃক যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে ঐ ছোট মামলার আদালত অবস্থিত।

(২)জেলা জজের নিকট উপ-ধারা (১) মোতাবেক দাখিল কৃত আদেশের সঙ্গে অধস্তন আদালত বা ছোট মামলার আদালতের বিচারকের একটি বিবৃতি থাকিবে, যাহাতে কোন কারণে আদেশ প্রদান প্রয়োজন তাহার উল্লেখ থাকিবে, এবং জেলা জজ উক্ত বিবৃতি বিবেচনা পূর্বক আদেশটি প্রতিস্বাক্ষর করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিতে পারেন।

 

বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান

 

৩৭। সাক্ষ্য প্রদান বা অভিযোগের জবাব প্রদানের জন্য বন্দীকে হাজির করিতে কতিপয় ফৌজদারি আদালতের ক্ষমতা।-

৩৯ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোন ফৌজদারি আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, তাহার আপীল এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে, যদি তাহা হাইকোর্ট বিভাগ হয়, কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ না হইলে, অনুরূপ আদালত যে হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন, তাহার এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন কারাগারে আটক কোন ব্যক্তির ঐ আদালতে অনিষ্পন্ন কোন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বা তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাব প্রদান প্রয়োজন, ২ নম্বর তফসিলের বর্ণনা মোতাবেক আদালতের হাজিরের জন্য কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যদি অনুরূপ আদালত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের নিম্নের হয়, তাহা হইলে, উক্ত আদেশ সেই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের প্রতিস্বাক্ষরের জন্য পেশ করিতে হইবে, ঐ ফৌজদারি আদালত যাহার অধস্তন বা এখতিয়ারভুক্ত এলাকার সীমানার মধ্যে অবস্থিত।

৩৮। ব্যক্তি যেখানে আটক রহিয়াছে আদেশ সেই জেলার বা মহকুমার ম্যাজিষ্ট্রেট এর মাধ্যমে অগ্রগামী করিতে হইবে।-

যে ব্যক্তির হাজিরার জন্য এই ভাগ অনুযায়ী আদেশ দেওয়া হইয়াছে, যদি আদেশ প্রদানকারী বা প্রতিস্বাক্ষকারী আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকার বাহিরের জেলায় সে আটক থাকে, তাহা হইলে যে জেলায় সে আটক রহিয়াছে সে জেলা বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে আদেশ প্রেরণ করিতে হইবে, এবং অনুরূপ জেলা বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট যে কারাগারে বন্দী আটক রহিয়াছে, সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তাহা প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।

 

৩৯। একশত মাইলের বেশী দূরে আটক ব্যক্তিকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য স্থানান্ত রের পদ্ধতি।-(১) যখন হাইকোর্টে বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে একশত মাইলের বেশী দূরে অবস্থিত কোন কারাগারে আটক কোন বন্দীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়, এবং অনুরূপ আদালত মনে করে যে, এই ভাগ অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তাহাকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন, তখন ঐ আদালতের বিচারক বা সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা যে হাইকোর্টে বিভাগের আপীল এখতিয়ারাধীন, সেই হাইকোর্ট বিভাগের নিকট লিখিত আবেদন করিবেন, যদি হাইকোর্ট বিভাগ সমীচীন মনে করেন, তাহা হইলে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১ নম্বর সিডিউল মোতাবেক আদেশ প্রদান করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ কোন আদেশ যে জেলার কারাগারে বন্দী আটক রহিয়াছে, সেই জেলা বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে প্রেরণ করিবেন, এবং অনুরূপ ম্যাজিষ্ট্রেট সেই কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তাহা প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন।

৪০। হাইকোর্ট বিভাগের আপীল এখতিয়ারের বাহিরে অন্তরীণ ব্যক্তি।-

যখন কোন বন্দী হাইকোর্ট বিভাগের আপীল এখতিয়ারভুক্ত বাহিরে কোন কারাগারে আটক থাকে, তখন অনুরূপ আদালতের কোন বিচারক যদি মনে করেন যে, আনীত অভিযোগের জবাব বা সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ঐ বন্দীকে ঐ আদালতে বা তাহার অধস্তন কোন আদালতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন, তাহা হইলে বন্দীকে স্থানান্তরের জন্য সেই সরকারের নিকট লিখিত আবেদন করিতে হইবে,

যাহার এলাকার মধ্যে ঐ কারাগার অবস্থিত, এবং ঐ সরকার সমীচীন মনে করিলে বন্দীদের প্রহরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঐ সরকার নির্ধারিত বিধান সাপেক্ষে, ঐ ব্যক্তিকে স্থানান্তর করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

৪১ । বন্দীকে লইয়া আসিতে হইবে।-

যে কারাগারে বন্দী আটক রহিয়াছে, সেই কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট এই ভাগের অধীনে প্রেরিত কোন আদেশ পৌঁছানোর পর, আদেশে উল্লেখিত সময়ে বন্দীকে আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা করিবেন, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তাহাকে পরীক্ষা না করে এবং যে কারাগারে আটক ছিল সেখানে ফেরত নেওয়ার আদেশ প্রদান না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালতের নিকটবর্তী স্থানে তাহাকে প্রহরায় আটক রাখিবার করিবেন ব্যবস্থা

৪২। সরকার কর্তৃক এই ভাগের কার্যকারিতা হইতে কতিপয় বন্দীকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা।-

সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা কোন শ্রেণীর ব্যক্তিদেরকে কারাগার হইতে স্থানান্তর না করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; এবং তাহার পর হইতে ঐ আদেশ কার্যকর থাকা পর্যন্ত ৪৪ ধারা হইতে ৪৬ ধারার বিধানসমূহ ব্যতীত, এই ভাগের অন্যান্য বিধান অনুরূপ ব্যক্তি বা অনুরূপ শ্রেণীর ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হইবে না । ৪৩। কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যখন আদেশ প্রতিপালনে বিরত থাকিতে হইবে।-নিম্ন বর্ণিত ক্ষেত্র সমূহে, যথা- 

          (ক) যখন ধারা ৩৫,৩৭ বা ৩৯ এর অধীনে প্রদত্ত আদেশে হাজির ৩১৫ করিবার জন্য এমন কোন বন্দীর নাম থাকে, যে অসুস্থতা বা বৈকল্যতার জন্য স্থানান্তরের অযোগ্য, কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঐ কারাগার যে জেলা বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেটের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় অবস্থিত, তাহার নিকট লিখিত আবেদন করিবেন, এবং যদি অনুরূপ ম্যাজিষ্ট্রেট উল্লেখিত বন্দীকে তাহার অভিমতে অসুস্থতা বা বৈকল্যের জন্য স্থানান্তরের অযোগ্য বলিয়া ঘোষণা করেন;বা

          (খ) যখন অনুরূপ আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তি বিচারের জন্য সোপর্দ থাকে;বা

          (গ) যখন অনুরূপ আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তি অনিষ্পন্ন বিচার বা প্রাথমিক অনুসন্ধানের আওতায় রিমান্ডে থাকে;বা

          (ঘ) যখন অনুরূপ আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তি যে মেয়াদের জন্য আটক রহিয়াছে, এই ভাগ মোতাবেক স্থানান্তর করিবার পূর্বেই এবং আটককৃত কারাগারে ফেরত আনিবার পূর্বেই তাহার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইয়া যাইবে; কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ প্রতিপালন হইতে বিরত থাকিবেন, এবং যে আদালত হইতে আদেশ প্রেরিত হইয়াছে সে আদালতকে এইরূপ বিরত থাকিবার কারণ বর্ণনা করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পূর্বোক্ত অনুরূপ কর্মকর্তা এইরূপ বিরত থাকিবেন না, যখন-

           (i) আদেশ ৩৭ ধারার অধীনে প্রদান করা হইয়াছে;এবং

           (ii) আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিকে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হইয়াছে, বা কোন অনিষ্পন্ন বিচারের জন্য পুন:আটক রহিয়াছে বা অনিষ্পন্ন প্রাথমিক অনুসন্ধানের আওতায় রহিয়াছে, কিন্তু অসুস্থতা বা বৈকল্যের জন্য উহাতে হাজির হইতে হইবে না; এবং

 

বন্দীদের হাজিরা এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনে বিধান

 

           (iii) আদেশে উল্লেখিত যে স্থানে সাক্ষ্য প্রদান করিতে হইবে, তাহার দূরত্ব সে যে কারাগারে আটক রহিয়াছে সেখান হইতে ৫ মাইলের বেশী নয়।

বন্দীদের-খালাস | বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের খালাস

বন্দীদের-খালাস

 

বন্দীদের-খালাস

৩৩। ক্ষমা করিবার সুপারিশকৃত বন্দীকে হাইকোর্ট-বিভাগের আদেশে ব্যক্তিগত মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি প্রদান।

হাইকোর্ট-বিভাগ কোন ক্ষেত্রে, যেখানে কোন বন্দীকে নি:শর্ত ক্ষমা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করিয়া থাকিলে,

 

সে ক্ষেত্রে ঐ বন্দীকে তাহার ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্ত করিয়া দেওয়ার অনুমতি প্রদান করিতে পারেন ।

 

বন্দীদের-খালাস

দ্বীপান্তর দণ্ডাদেশাধীন বন্দী | বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় দ্বীপান্তর দণ্ডাদেশাধীন বন্দী

দ্বীপান্তর দণ্ডাদেশাধীন বন্দী

দ্বীপান্তর দণ্ডাদেশাধীন বন্দী

 

৩২। দ্বীপান্তরের দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত-বন্দীদের আটক রাখিবার স্থান নির্ধারণ এবং সেখান হইতে স্থানান্তর।-

(১)সরকার বাংলাদেশের মধ্যে স্থান নির্ধারণ করিতে পারিবেন,যেখানে দ্বীপান্তরের দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত-বন্দীদেরকে পাঠানো হইবে; এবং সরকার বা সরকারের পক্ষে ক্ষমতা প্রাপ্ত কতিপয় কর্মকর্তা,

 

পূর্ব হইতে অন্য অপরাধের কারণে দ্বীপান্তর ভোগরত ব্যক্তি ব্যতীত, অনুরূপ সকল ব্যক্তিকে স্থান সমূহে স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) বাতিল ।

 

দ্বীপান্তর দণ্ডাদেশাধীন বন্দী

বন্দীদের স্থানান্তর করণ | বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের স্থানান্তর করণ

বন্দীদের স্থানান্তর করণ

 

বন্দীদের স্থানান্তর করণ

 

২৮। এই ভাগে কারাগার, প্রভৃতির উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে।-

এই ভাগে কারাগার বা কারাবাস বা অন্তরীণ প্রভৃতির সকল উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুল বা সেখানে আটক রাখাকেও বুঝাইবে।

২৯। বন্দীদের স্থানান্তর।-

(১) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে কোন কারাগারে,

            (ক) মৃত্যুদণ্ডাদেশ অধীন বন্দী, বা

            (খ) তদধীনে, বা তদস্থলে, কারাদণ্ড বা দ্বীপান্তর, বা

            (গ) জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য, বা

            (ঘ) শান্তিরক্ষার জন্য বা সদাচরণের জন্য মুচলেকা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য, আটক যে কোন বন্দীকে বাংলাদেশের অন্য যে কোন কারাগারে স্থানান্তরের জন্য ব্যবস্থা করিতে পারেন।

(২) সরকারের আদেশ এবং নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, কারা মহা পরিদর্শক, অনুরূপ উপায়ে, বাংলাদেশের কোন কারাগারে পূর্ব বর্ণিত আটক কোন বন্দীকে বাংলাদেশের অপর কোন কারাগারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।

 

 

৩০। উম্মাদ বন্দীদেরকে কিভাবে পরিচালনা করিতে হইবে।-

(১) যখন সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন আদালতের আদেশ বা দণ্ডাদেশে আটক বা অন্তরীণ কোন ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্ত, সরকার ঐ ব্যক্তির মানসিক বিকারগ্রস্ততার কারণে তাহাকে উম্মাদ আশ্রয় কেন্দ্র বা বাংলাদেশের অন্য কোথাও নিরাপদ হেফাজতে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; সেখানে তাহাকে আটক রাখা হইবে এবং দণ্ডাদেশ মোতাবেক অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ পর্যন্ত সরকারের নির্দেশ মোতাবেক পরিচালনা করা হইবে,

কিংবা, সাজার মেয়াদ শেষ হইয়া গেলেও, মেডিকেল অফিসার যদি সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, বন্দীর বা অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তাহাকে চিকিৎসা সেবার জন্য পুনরায় আটক রাখা প্রয়োজন, অত:পর আইন মোতাবেক খালাস প্রদান না করা পর্যন্ত তাহাকে সেখানে রাখা হইবে ।

(২) যখন সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী মানসিক সুস্থতা অর্জন করিয়াছে, যদি বন্দী হিসাবে এখনও তাহাকে আটক রাখিবার দায় থাকে, তাহা হইলে যেই কারাগার হইতে তাহাকে স্থানান্তর করা হইয়াছিল সেই কারাগারে, বা বাংলাদেশের অন্য কোন কারাগারে পুনরায় তাহাকে আটক রাখিবার জন্য, বা যদি আটক রাখিবার কোন দায় না থাকে তবে, তাহাকে খালাসের জন্য, সরকার ওয়ারেন্ট মূলে আদেশ প্রদান করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) মোতাবেক উম্মাদ আশ্রয় কেন্দ্রে আটক সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আটকের বা কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হইয়া যাওয়ার পর, ১৯১২ সালের উম্মাদ আইনের বিধান সমূহ প্রযোজ্য হইবে; এবং, যে সময় বন্দী উম্মাদ আশ্রয় কেন্দ্রে আটক ছিল ঐ সময়কে তাহার কারাভোগ বলিয়া গণনা করা হইবে, যাহা ভোগ করিবার জন্য আদালত তাহাকে দণ্ড প্রদান করিয়াছে । 

 

বন্দীদের স্থানান্তর করণ

 

৩১ । বাতিল ।

দণ্ডসমূহ কার্যকর করণ | বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় দণ্ডসমূহ কার্যকর করণ

দণ্ডসমূহ কার্যকর করণ

 

দণ্ডসমূহ কার্যকর করণ

 

১৪। এই ভাগে কারাগার, প্রভৃতির উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুলকেও বুঝাইবে।-

এই ভাগে কারাগার বা কারাবাস বা অন্তরীণ প্রভৃতির সকল উল্লেখে রিফরমেটরী স্কুল বা সেখানে আটক রাখাকেও বুঝাইবে ।

১৫। কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের কতিপয় আদালতের দণ্ড কার্যকর করিবার ক্ষমতা।-

(১) কারাগার সমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন কোন ব্যক্তিকে আটক রাখিবার জন্য কোন দণ্ড বা আদেশ বা ওয়ারেন্ট কার্যকরী করিতে পারিবেন, যাহা জারী হইয়াছে-

          (ক) সরকারের সাধারণ বা বিশেষ কর্তৃত্বে কার্যরত কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক, বা কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ                                তারিখের পূর্বে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় কার্যরত কোন সরকারের সাধারণ বা বিশেষ কর্তৃত্বে কার্যরত ছিল ।

          (খ) বাতিল ।

          (গ) বাতিল ।

          (২) বাতিল ।

১৬। অনুরূপ আদালতের কর্মকর্তার ওয়ারেন্ট যথেষ্ট হইবে।-

১৫ ধারায় বর্ণিত অনুরূপ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তার অফিসিয়াল স্বাক্ষরকৃত ওয়ারেন্ট কোন ব্যক্তিকে আটক রাখিবার জন্য বা কোন ব্যক্তিকে তাহার উপর আরোপিত দণ্ড মোতাবেক দ্বীপান্তরে প্রেরণের জন্য যথেষ্ট কর্তৃত্ব হইবে।

১৭। এই ভাগের অধীনে কার্যকর করিবার জন্য প্রেরিত ওয়ারেন্টের বৈধতা সম্পর্কে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্দেহ হইলে পদ্ধতি।-

(১)যেখানে কোন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার নিকট এই ভাগের অধীনে কার্যকর করিবার জন্য প্রেরিত কোন ওয়ারেন্ট বা আদেশের বৈধতা সম্পর্কে বা, যে কর্মকর্তার সীল বা স্বাক্ষরে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হইয়াছে এবং ওয়ারেন্ট বা আদেশ জারী হইয়াছে তাহার উপযুক্ততা সম্পর্কে সন্দেহ করেন, তিনি বিষয়টি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন, যাহার আদেশে তিনি এবং অন্যান্য সরকারী কর্মচারীগণ বন্দীদের ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তি করিবেন

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সরকারের নিকট প্রেরিত বিষয় অনিষ্পন্ন থাকা পর্যন্ত বন্দীকে ওয়ারেন্ট বা আদেশে বর্ণিত উপায়ে এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আটক রাখিতে হইবে।

 

১৮ । বাংলাদেশ, প্রভৃতিতে সাধারণত কার্যকর যোগ্য নয় এমন কতিপয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করণ।-

(১) যেখানে বাংলাদেশ এলাকার বাহিরে অনুরূপ এলাকার এখতিয়ার সম্পন্ন সরকার কর্তৃক স্থাপিত কোন আদালত –

        (ক) কোন ব্যক্তিেেক মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, এবং

        (খ) ঐ এলাকার মধ্যে অনুরূপ ব্যক্তিকে নিরাপদে আটক রাখার স্থান নাই কিংবা শোভনীয় এবং মানবিক উপায়ে দণ্ড কার্যকর করিবার সুবিধাদি না থাকায় অনুরূপ দণ্ড বাংলাদেশে কার্যকরী করা যাইতে পারে, মনে করিয়া ওয়ারেন্ট বাংলাদেশের কোন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট জারী করে, অনুরূপ কর্মকর্তা, ওয়ারেন্ট প্রাপ্তির পর, ওয়ারেন্টটি যেন ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৮১ ধারা মোতাবেক যথাযথভাবে জারী করা হইয়াছে, সেই রকম গণ্য করিয়া উহাতে বর্ণিত স্থানে অনুরূপ উপায়ে ও শর্ত সাপেক্ষে দণ্ড কার্যকর করিবার ব্যবস্থা করিবেন।

(২) পূর্বে বর্ণিত অনুরূপ ওয়ারেন্ট মোতাবেক ঐ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ মোতাবেক দণ্ড কার্যকর করিবেন ।

(৩) কোন আদালত এই ধারার উদ্দেশ্য অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আদালত বলিয়া গণ্য হইবে, যদি সভাপতিত্বকারী বিচারক বা যদি আদালত দুই বা ততোধিক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত হয়, কমপক্ষে একজন বিচারক সরকারের একজন কর্মকর্তা হন, যিনি সরকার কর্তৃক অনুরূপ বিচার কাজের ক্ষমতা প্রাপ্ত, তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীনে কোন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জারীকৃত প্রত্যেকটি ওয়ারেন্ট যদি ট্রাইব্যুনালটি একজনের বেশী সংখ্যক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত হয়, তবে এমন একজন বিচারক দ্বারা স্বাক্ষরিত হইবে, যিনি সরকার কর্তৃক পূর্বে বর্ণিত অনুরূপ ক্ষমতা প্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা হন ।

 

দণ্ডসমূহ কার্যকর করণ

 

পঞ্চম ভাগ: ধারা ১৯-২৭ বাতিল।

সাধারণ বন্দী আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সাধারণ বন্দী আইন

সাধারণ বন্দী আইন

 

সাধারণ বন্দী আইন

 

৩। কারাগারসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তাহাদের প্রহরায় যথাযথ ভাবে সোপর্দকৃত ব্যক্তিগণকে আটক রাখিবেন।-

কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে যথাযথভাবে সোপর্দকৃত সকল ব্যক্তিকে কারাগারের-ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার প্রহরায়, এই আইনের অধীনে বা অন্যভাবে, গ্রহণ করিবেন এবং আদেশ মোতাবেক বা অনুরূপ ব্যক্তি আইনের যথাযথ প্রয়োগে খালাস বা স্থানান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখিবেন।

৪। কারাগারসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ রীট, প্রভৃতি, কার্যকর করিবার পর বা খালাস প্রদানের পর ফেরত প্রদান করিবেন।

কোন কারাগারের-ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিচারের জন্য সোপর্দকরণের ওয়ারেন্ট ব্যতীত, পূর্বে বর্ণিত অনুরূপ প্রত্যেক রীট, আদেশ বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করিবার পর বা সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে খালাস প্রদানের পর, তাহা কিভাবে কার্যকর করা হইয়াছে, বা কেন কার্যকর করিবার পূর্বে সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে খালাস প্রদান করা হইয়াছে, উল্লেখ পূর্বক তাহার স্বাক্ষরিত একটি সার্টিফিকেটসহ অবিলম্বে, সেই আদালতে ফেরত প্রদান করিবেন, যেই আদালত হইতে তাহা জারী করা হইয়াছিল । তৃতীয় ভাগ:ধারা ৫-১৩ বাতিল ।

 

৩। কারাগারসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তাহাদের প্রহরায় যথাযথ ভাবে সোপর্দকৃত ব্যক্তিগণকে আটক রাখিবেন।-

কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে যথাযথভাবে সোপর্দকৃত সকল ব্যক্তিকে কারাগারের-ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার প্রহরায়, এই আইনের অধীনে বা অন্যভাবে, গ্রহণ করিবেন এবং আদেশ মোতাবেক বা অনুরূপ ব্যক্তি আইনের যথাযথ প্রয়োগে খালাস বা স্থানান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখিবেন।

৪। কারাগারসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ রীট, প্রভৃতি, কার্যকর করিবার পর বা খালাস প্রদানের পর ফেরত প্রদান করিবেন।

কোন কারাগারের-ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিচারের জন্য সোপর্দকরণের ওয়ারেন্ট ব্যতীত, পূর্বে বর্ণিত অনুরূপ প্রত্যেক রীট, আদেশ বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করিবার পর বা সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে খালাস প্রদানের পর, তাহা কিভাবে কার্যকর করা হইয়াছে, বা কেন কার্যকর করিবার পূর্বে সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে খালাস প্রদান করা হইয়াছে, উল্লেখ পূর্বক তাহার স্বাক্ষরিত একটি সার্টিফিকেটসহ অবিলম্বে, সেই আদালতে ফেরত প্রদান করিবেন, যেই আদালত হইতে তাহা জারী করা হইয়াছিল ।

 

সাধারণ বন্দী আইন

 

তৃতীয় ভাগ:ধারা ৫-১৩ বাতিল ।

বন্দী আইন প্রাথমিক ১

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দী আইন প্রাথমিক ১

বন্দী আইন প্রাথমিক

 

বন্দী আইন প্রাথমিক ১

 

আদালতের আদেশে বন্দীদের আটক সংক্রান্ত-আইন পুনর্বিন্যাসের নিমিত্ত একটি আইন । যেহেতু আদালতের আদেশে বন্দীদের আটক সংক্রান্ত-আইন পুনর্বিন্যাস করা সমীচীন; সেহেতু নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ।-(১) এই আইন বন্দী আইন, ১৯০০ নামে অভিহিত হইবে ।

                      (২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে

                      (৩) বাতিল ।

 

২। সংজ্ঞাসমূহ।-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে- 

            (ক) “আদালত” বলিতে আইনসঙ্গত ভাবে দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রেভিনিউ এখতিয়ার সম্পন্ন কোন কর্মকর্তা অন্তর্ভূক্ত হইবে; এবং

            (খ) “কারাগার” বলিতে সরকার কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশে সাবসিডয়ারী কারাগার ঘোষিত কোন স্থান অন্তর্ভুক্ত হইবে।

 

বন্দী আইন প্রাথমিক ১

বন্দী-বিবিধ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দী-বিবিধ।

বন্দী-বিবিধ

 

বন্দী-বিবিধ

 

৫৫। বন্দীদের বাহির প্রাচীরে আটক, নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ করানো।-

একজন বন্দীকে কোন কারাগারে বা কারাগার হইতে যেখানে তাহাকে আইন সম্মত ভাবে আটক রাখা যাইতে পারে, বাহিরে নেওয়া হয় বা কারাগারের বাহিরে বা কারাগারের সীমানার বাহিরে ঐ কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইন সম্মত প্রহরায় বা নিয়ন্ত্রণে যখন সে কর্মরত থাকে, তখন সে কারাগারে রহিয়াছে বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং সে প্রকৃতপক্ষে কারাগারে থাকিলে যেরূপ হইত, সেইরূপ সকল কিছুর আওতায় থাকিবে।

৫৬। লৌহ-শৃঙ্খলে আটক।-

যখন সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রয়োজন মনে করেন যে, (বন্দীর অবস্থার কারণে বা চরিত্রের কারণে) কোন বন্দীকে নিরাপদ প্রহরার জন্যে লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখিতে হইবে, সরকারের অনুমোদনক্রমে মহাপরিদর্শক নির্ধারিত বিধি এবং নির্দেশাবলী সাপেক্ষে তিনি উক্ত বন্দীকে সেভাবে আটক রাখিতে পারিবেন।

৫৭। দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে লৌহ-শৃঙ্খলে আটক।-

(১) দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে, ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত কোন বিধান সাপেক্ষে, কারাগারে ভর্তির প্রথম তিন মাস লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখা যাইতে পারে।

(২) যদি সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রয়োজন মনে করেন যে,বন্দীর নিজের নিরাপদ প্রহরা বা অন্য কোন কারণে, কোন বন্দীকে তিন মাসের অধিক কাল লৌহ-শৃংখলে আটক রাখিতে হইবে,তিনি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট যেই রকম প্রয়োজন মনে করেন সেই রকম মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করিবেন,এবং কারা মহাপরিদর্শক সেই অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারেন।

৫৮। প্রয়োজন ব্যতীত বন্দীদেরকে জেলার কর্তৃক লৌহ-শৃঙ্খলে আটক রাখা যাইবে না।-

জেলারের নিজ কর্তৃত্বে কোন বন্দীকে লৌহ-শৃঙ্খলে বা যান্ত্রিক উপায়ে আবদ্ধ করা যাইবে না, জরুরী প্রয়োজনের ব্যতিক্রম ব্যতীত,যে ক্ষেত্রে বিষয়টি অবিলম্বে সুপারিনটেন্ডেন্টকে জানাইতে হইবে।

 

৫৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।

সরকার এই আইনের সামঞ্জস বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন-

(১) কাজ সমূহকে কারা-অপরাধ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য;

(২) কারা-অপরাধকে গুরু এবং লঘু শ্রেণীতে নির্ধারনের জন্য;

(৩) কারা অপরাধের জন্য যে সকল শাস্তি দেওয়া হইবে তাহা নির্ধারণ করা;

(8) এই আইনের অধীনে যে পরিস্থিতিতে কোন কাজ কারা অপরাধ এবং দণ্ড বিধির আওতায়ও অপরাধ, তাহা কারা অপরাধের আওতায় বিবেচনা করা বা না করা ঘোষণা করার জন্য;

(৫) দণ্ডের সীমানা বা মেয়াদ হ্রাস করিবার জন্য ; 

(৬) বিদ্রোহ বা পলায়নকালে কোন বন্দী বা বন্দীর শরীরের বিরুদ্ধে অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য;

(৭) মরণাপন্ন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পরিস্থিতি নির্ধারণ এবং শর্তাদি নিয়ন্ত্রণ; 

(৮) কারাগারের শ্রেণী বিভাগ, ওয়ার্ড,সেল এবং কারাগারের অন্যান্য আটক রাখিবার স্থানের ধরন ও নির্মাণের জন্য;

(৯) প্রত্যেক শ্রেণীর কারাগারে কত সংখ্যক, কি মেয়াদের বা প্রকারের সাজা বা অন্যভাবে বন্দী আটক রাখা হইবে এই সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য;

(১০) কারাগার পরিচালনা এবং এই আইনের অধীনে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য; 

(১১) ফৌজদারি বন্দীদের এবং নিজেদের টাকায় ভরণ পোষণ করে না এমন সিভিল বন্দীদের খাদ্য,বেডিং এবং পোশাক ব্যবস্থাকরণ;

(১২) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে কাজে নিয়োগ,নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য;

(১৩) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে আনা-নেওয়া করা নিষিদ্ধ, এমন দ্রব্যাদি নির্ধারনের জন্য;

(১৪) কারাগারে শ্রমের শ্রেণী বিভাজন এবং শ্রমের ধরন নির্দিষ্ট করণ এবং বিশ্রাম করিবার সময় নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য;

(১৫) বন্দীদের কাজের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির জন্য;

(১৬) দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বেড়ী পরানোর বিধানের জন্য; 

(১৭) বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন এবং পৃথকীকরণের জন্য;

(১৮) ২৮ ধারার অধীনে সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের আটক নিয়ন্ত্রণের জন্য; 

(১৯) হিস্ট্রি টিকেট প্রস্তুতি এবং সংরক্ষণের জন্য;

(২০) বন্দীদেরকে কর্মচারীরূপে বাছাই এবং নিয়োগ করিবার জন্য;

(২১) সদাচারের জন্য পুরস্কার;

(২২) যে সকল বন্দীর দ্বীপান্তর বা কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে আসিয়াছে, তাহাদের বদলি নিয়ন্ত্রণের জন্য; 

(২৩) কারাগারে আটক ফৌজদারি উম্মাদ বন্দী বা আরোগ্য লাভকারী ফৌজদারি উম্মাদ বন্দীদেরকে পরিচালনা, স্থানান্তর এবং হস্তান্তরিত করিবার জন্য;

(২৪) বন্দীদের আপীল এবং আবেদন অগ্রগামী করিবার এবং তাহাদের বন্ধু- বান্ধবদের সাথে সাক্ষাত নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য; 

(২৫) কারাগারের পরিদর্শকগণের নিয়োগ এবং নির্দেশনার জন্য;

(২৬) এই আইনের কোন বা সকল বিধানকে বা তাহার অধীনে কোন বিধিকে সাব-সিডিয়ারী কারাগার সমূহের জন্য বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪১ ধারার অধীনে আটক রাখিবার বিশেষ স্থান সমূহের ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য এবং সে সকল স্থানে কর্মকর্তা নিয়োগ এবং বন্দী আটক রাখিবার জন্য;

(২৭) বন্দীদের ভর্তি,প্রহরা, কাজ,খাবার,পরিচালনা এবং মুক্তি সংক্রান্ত;এবং

(২৮) সাধারণভাবে এই আইনের উদ্দেশ্য সমূহের কার্যকরীতার জন্য ।

৬০ । বাতিল ।

৬১। বিধির কপিসমূহ প্রদর্শন।-

৫৯ ধারার অধীনে বিধি সমূহের কপি, যতদূর সরকার কর্তৃক কার্যকরী করিবার পর, ইংরেজী এবং বাংলা উভয় ভাষায় এমন জায়গায় প্রদর্শন করিতে হইবে, যেখানে একটি কারাগারে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রবেশ অধিকার রহিয়াছে।

 

বন্দী-বিবিধ

 

৬২। সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল অফিসারের ক্ষমতা প্রয়োগ।

এই আইন দ্বারা কোন সুপারিনটেন্ডেন্ট বা কোন মেডিকেল অফিসারের উপর ন্যস্ত এবং অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা এবং দায়িত্ব, তাহার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য কর্মকর্তা দ্বারা প্রয়োগ এবং কার্যকরী করা যাইবে, সরকার যাহাদেরকে এই উদ্দেশ্যে নামে বা তাহাদের দাপ্তরিক পদবীতে নিয়োগ করেন।

কারা অপরাধসমূহ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা অপরাধসমূহ ।

কারা অপরাধসমূহ

 

কারা - অপরাধসমূহ ।

 

৪৫। কারা-অপরাধসমূহ।-

নিম্নোক্ত কার্যাবলী কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হইল, যখন সে গুলি কোন বন্দী করিবে-

          (১) ,, ৫৯ ধারা অধীনে প্রণীত বিধানে কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হইয়াছে কারাগারের এমন বিধানের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা করা;

          (2) কোন আক্রমণ বা অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ করা; 

          (৩) অপমানজনক বা ভয় দেখানোর ভাষা ব্যবহার করা;

          (8) অনৈতিক বা অশোভন বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা;

          (৫)ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেকে কাজের অযোগ্য করা;

          (৬)কাজ করিতে অবজ্ঞা সহকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা;

          (৭) অনুমতি ব্যতীত হ্যান্ডকাপ, বেড়ী বা ডান্ডা ঘষা, কাটা, পরিবর্তন বা অপসারণ করা;

          (৮) কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের প্রতি ইচ্ছাকৃত অলসতা বা অবহেলা;

          (৯)কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক কাজের ইচ্ছাকৃত অব্যবস্থাপনা করা;

          (10) কারাগারের সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করা;

          (১১) হিস্ট্রি টিকেট, রেকর্ড, দলিলপত্র বিনষ্ট করা বা পরিবর্তন করা;

          (১২) কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ, দখলে রাখা বা হস্তান্তর করা; 

          (১৩) অসুস্থতার ভান করা;

          (১৪) কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বন্দীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা; 

          (১৫) অগ্নিকান্ড, কোন গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র, কোন পলায়ন বা পলায়নের প্রস্তুতি,এবং কোন বন্দী বা কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীর উপর কোন আক্রমণ বা আক্রমণের প্রস্তুতির সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানানো বা জানাইতে অসম্মতি জ্ঞাপন;

          (১৬) পলায়নের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা পলায়ন বা পূর্ব বর্ণিত অন্য কোন অপরাধ করিতে সাহায্য করা।

৪৬। অনুরূপ অপরাধের শাস্তি।-কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন অপরাধ করিলে সুপারিনটেন্ডেন্ট পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন, এবং অনুরূপ অপরাধের জন্য, নিম্নোক্ত শাস্তি নির্ধারণ করিতে পারিবেন-

         (১) আনুষ্ঠানিক সতর্ক করা;

ব্যাখ্যা।- আনুষ্ঠানিক সতর্ক বলিতে বুঝাইবে সুপারিনটেন্ডেন্ট কর্তৃক বন্দীকে ব্যক্তিগত ভাবে সতর্ক করিয়া দেওয়া এবং শাস্তি বইতে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তাহা রেকর্ড করা।

         (2) শ্রম পরিবর্তন করিয়া সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য আরও গুরু বা কষ্টদায়ক শ্রম প্রদান করা ;

         (৩) সাজাপ্রাপ্ত বিনাশ্রম ফৌজদারি বন্দীকে অনধিক ৭ দিনের জন্য কঠোর শ্রম প্রদান করা;

         (8) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানের অধীনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ;

         (৫) অনধিক তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের জন্য সাধারণ পোশাকের পরিবর্তে চট বা উলেন নয় এমন অন্যান্য উপাদানের মোটা কাপড়ের পোশাক পরানো ;

         (৬) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানে নির্ধারিত সময়ের জন্য অনুরূপ উপায়ে এবং অনুরূপ ধরন ও ওজনের হ্যান্ড কাপ আরোপ করা;

         (৭) সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানে নির্ধারিত সময়ের জন্য অনুরূপ উপায়ে এবং অনুরূপ ধরন ও ওজনের বেড়ী আরোপ করা; 

         (৮) অনধিক তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের পৃথক কারাবাস;

ব্যাখ্যা- পৃথক কারাবাস অর্থ এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাবাস,যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সহিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হইবে,কিন্তু তাহাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হইবে না এবং বন্দীকে দৈনিক কমপক্ষে এক ঘন্টা ব্যায়াম করিতে দেওয়া হইবে এবং এক বা একাধিক বন্দীর সহিত খাবার গ্রহণের সুযোগ পাইবে;

         (৯) শাস্তিমূলক খাবার- অর্থাৎ, পরিশ্রমের বিবেচনা সাপেক্ষে সরকার যেইরূপ নির্ধারন করিবেন সেই রকম উপায়ে খাবার গ্রহণে বাধা-নিষেধ আরোপ;

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ খাবার গ্রহণের বাধা-নিষেধ কোন ভাবেই কোন বন্দীর উপর ধারাবাহিকভাবে ৯৬ ঘন্টার বেশী প্রয়োগ করা যাইবে না, এবং নুতন অপরাধের জন্য এক সপ্তাহের বিরতি অতিবাহিত না হইলে পুনরায় প্রয়োগ করা যাইবে না ।

         (১০) অনধিক ১৪ দিন পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের জন্য একক সেলে আটক রাখা; তবে শর্ত থাকে যে, যে মেয়াদের জন্য একজন বন্দীকে একক সেলে আটক রাখা হইবে, সেই মেয়াদের কম নয়, এমন বিরতি অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত নুতন অপরাধের জন্য তাহাকে পুনরায় একক সেলে বা নির্জন কারাবাসে আটক রাখা যাইবে না ।

ব্যাখ্যা।- সেলে আটক বলিতে এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম আটককে বুঝাইবে, যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সহিত সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হইবে, কিন্তু তাহাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হইবে না।

             (১১) ৯ উপ-ধারায় সংজ্ঞায়িত শাস্তি মূলক খাবার এবং সেই সঙ্গে সেলে আটক; 

(১২)বেত্রাঘাত, শর্ত থাকে যে, আঘাতের সংখ্যা ত্রিশের বেশী হইবে না; তবে তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারায় কোন মহিলা বা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে হ্যান্ডকাপ বা বেড়ী এবং বেত্রাঘাত আরোপ করা হইবে না ।

৪৭। ৪৬ ধারার অধীনে একাধিক শাস্তি।-

(১) নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া, পূর্ববর্তী ধারায় বিবৃত যে কোন দুইটি শাস্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য এক সাথে আরোপ করা যাইতে পারে-

(ক) আনুষ্ঠানিক সতর্ক উক্ত ধারার (৪) উপ-ধারায় বর্ণিত রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তির সাথে একত্রে দেয়া যাইবে না ; 

(খ) শাস্তিমূলক খাবার উক্ত ধারার (২) উপ-ধারায় বর্ণিত শ্রম পরিবর্তনের সাথে একত্রে দেয়া যাইবে না, কিংবা এককভাবে আরোপিত অতিরিক্ত সময়ের জন্য শাস্তিমূলক খাবার এবং সেলে আটকের সঙ্গে কোন শাস্তি মূলক খাবার একত্রিত করা যাইবে না ।

(গ) অন্যান্য বন্দীদের হইতে বন্দীর নি:সঙ্গতার মোট মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সেলে আটকের সঙ্গে পৃথক কারাবাস একত্রিত করা যাইবে না; 

(ঘ) একক কারাবাস এবং পৃথক কারাবাস এবং রেয়াত সুবিধা বাতিল করণ ব্যতীত অন্যান্য শাস্তির সহিত বেত্রাঘাত একত্রে দেওয়া যাইবে না;

(ঙ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিধি লংঘন করিয়া কোন শাস্তি অন্য শাস্তির সহিত এক সাথে দেওয়া যাইবে না। 

(২) দুইটি শাস্তির কোনটি একত্রে অন্য শাস্তির সহিত আরোপ করা যাইবে না,যার একটি অনরূপ কোন অপরাধের জন্য আরোপ করা হইয়াছে।

৪৮। ৪৬ এবং ৪৭ ধারার অধীনে শাস্তি আরোপ।-

(১) পূর্ববর্তী দুইটি ধারায় বর্ণিত শাস্তি আরোপের জন্য সুপারিনটেন্ডেন্টের ক্ষমতা থাকিবে, শর্ত থাকে যে, একমাসের অতিরিক্ত পৃথক কারাবাস প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে। 

(২) সুপারিনটেন্ডেন্টের অধস্তন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোন প্রকারের শাস্তি আরোপের ক্ষমতা থাকিবে না।

৪৯। পূর্ববর্তী ধারা সমূহ অনুসারে শাস্তি হইতে হইবে।

বিচার আদালতের আদেশের ব্যতিক্রম ছাড়া, পূর্ববর্তী ধারা সমূহে বর্ণিত শাস্তি ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি কোন বন্দীর উপর প্রয়োগ করা যাইবে না, এবং কোন শাস্তি কোন বন্দীর উপর পূর্ববর্তী ধারা সমূহে বর্ণিত উপায় ব্যতীত অন্য কোন ভাবে প্রয়োগ করা যাইবে না । 

 

৫০। বন্দী শাস্তির জন্য সক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট প্রদান।-

(১) শাস্তি মূলক খাবার একক, বা যৌথভাবে, কিংবা বেত্রাঘাত, কিংবা ৪৬ ধারার (২) উপ-ধারার অধীন শ্রমের পরিবর্তনের কোন শাস্তি সেই পর্যন্ত আরোপ করা যাইবে না, যেই পর্যন্ত মেডিকেল অফিসার যে বন্দীকে শাস্তি দেওয়া হইবে তাহাকে পরীক্ষা না করেন, যিনি, যদি মনে করেন যে বন্দী উক্ত শাস্তি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত, তাহা হইলে ১২ ধারায় বর্ণিত শাস্তি বইয়ের যথোপযুক্ত কলামে সেই অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন ।

        (২) যদি তিনি মনে করেন যে, বন্দী শাস্তি গ্রহণের জন্য অনুপযুক্ত, তাহা হইলে তিনি যথোপযুক্ত রেকর্ডে তাহার মতামত লিপিবদ্ধ করিবেন এবং বর্ণনা করিবেন                   যে, বন্দীকে যে ধরনের শাস্তি প্রদান করা হইয়াছে তাহার জন্য সে একেবারেই অনুপযুক্ত, বা তিনি কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেন কিনা ।

        (৩) শেষের ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনা করিবেন যে, কি ধরণের শাস্তি বন্দী কোন প্রকার শারীরিক ক্ষতি ছাড়া গ্রহণ করিতে পারিবে।

৫১। শাস্তি বইতে অন্তর্ভুক্তকরণ।-

(১) ১২ ধারায় বর্ণিত শাস্তি বইয়ে রেকর্ড করিতে হইবে, যে সকল শাস্তি প্রয়োগ করা হইয়াছে, বন্দীর নাম, রেজিষ্টার নম্বর এবং তাহার শ্রেণী (অভ্যাসগত না অনভ্যাসগত), যে কারা অপরাধে তাহার শাস্তি হইয়াছে, উক্ত কারা অপরাধ সংঘটনের তারিখ, বন্দীর বিরুদ্ধে পূর্বে রেকর্ডকৃত শাস্তির সংখ্যা, এবং তাহার সর্বশেষ কারা অপরাধের তারিখ, এবং শাস্তি প্রয়োগের তারিখ।

(২) প্রত্যেক মারাত্মক কারা অপরাধের ক্ষেত্রে,যে সকল সাক্ষী অপরাধ প্রমাণ করিতেছে তাহাদের নাম রেকর্ড করিতে হইবে,এবং, যে অপরাধের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত প্রদান করা হইয়াছিল, সুপারিনটেন্ডেন্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্যের সারবস্তু, বন্দীর জবাব এবং কারণ সম্বলিত প্রাপ্ত তথ্যাদি রেকর্ড করিবেন ।

(৩) শাস্তি সংক্রান্ত প্রত্যেক অন্তর্ভূক্তির বিপরীতে অন্তর্ভূক্তির সঠিকতা সম্পর্কে জেলার এবং সুপারিনটেন্ডেন্ট তাহাদের স্বাক্ষর সংযোজন করিবেন।

৫২। জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পদ্ধতি।-

যদি কোন বন্দী কারা-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তাহার এই উপর্যুপরি অপরাধসমূহের জন্য বা অন্য কারণে, সুপারিনটেন্ডেন্টের মতে, এই আইনে শাস্তি প্রদানের যে ক্ষমতা তাহার আছে তাহা যথেষ্ট নয় বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, সুপারিনটেন্ডেন্ট পরিস্থিতির একটি বর্ণনাসহ এই ধরনের বন্দীকে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে বা এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করিতে পারেন,

এবং ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করিবেন এবং বন্দীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হইয়াছে, তাহার বিচার করিবেন, এবং, তাহাকে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন, এই কারাদণ্ডের মেয়াদ বন্দীর ভোগরত কারাদণ্ডের মেয়াদের অতিরিক্ত হইবে,কিংবা তাহাকে ৪৬ ধারায় বর্ণিত যে কোন শাস্তি প্রদান করিতে পারিবেন। :

শর্ত থাকে যে, এই ধরনের যে কোন মামলা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তদন্ত এবং বিচারের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন,এবং

আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি প্রদান করা যাইবে না ।

৫৩। বেত্রাঘাত।-

(১) কোন বেত্রাঘাতের শাস্তি কিস্তিতে বা সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের উপস্থিতিতে ছাড়া প্রয়োগ করা যাইবে না ।

(২) আধা ইঞ্চির বেশী পরিধি হইবে না, এমন একটি হাল্কা বেত দ্বারা বেত্রাঘাত প্রয়োগ করিতে হইবে, এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আরও হাল্কা বেত দ্বারা স্কুলে বেত্র দেয়ার মতো প্রয়োগ করিতে হইবে ।

৫৪ । কারা অধস্তনদের কর্তৃক অপরাধ।-

(১) প্রত্যেক জেলার বা তাহার অধস্তন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন দায়িত্ব বরখেলাপ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নিয়ম বা বিধি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইন সম্মত আদেশ ভঙ্গ বা অবহেলার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া বা দুই মাস পূর্বে তাহার অভিপ্রায় সম্পর্কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করিয়া দপ্তরের কাজ ছাড়িয়া চলিয়া যাইবার জন্য, বা অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত অবস্থান করিবার জন্য,

বা অনুমতি ছাড়া কারাগারের কাজ ছাড়া অন্য কাজে নিয়োজিত হইবার জন্য,বা কাপুরুষতার জন্য দোষী হইবে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা, বা অনধিক তিন মাসের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 

 

কারা - অপরাধসমূহ ।

 

(২) এই ধারার অধীনে কোন ব্যক্তি একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি পাইবে না ।

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ।

 

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ

 

৪২। নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে প্রবেশ বা কারাগার হইতে বাহির করিবার এবং বন্দীদের সাথে লেনদেন করিবার শাস্তি।

যে কেহ, ৫৯ ধারা বা তাহার অধীনের বিধানের পরিপন্থী কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করাইলে বা কারাগার হইতে বাহির করিলে বা প্রবেশ বা বাহির করিবার চেষ্টা করিলে, কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করিলে বা সরবরাহ করিবার চেষ্টা করিলে, এবং কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী, এইরূপ বিধানের পরিপন্থী ভাবে, সজ্ঞানে অনুরূপ কোন দ্রব্য কোন কারাগারে প্রবেশ করাইলে বা কারাগার হইতে বাহির করিলে,

কোন বন্দীর নিকট রাখিলে বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করিলে, এবং যে কেহ, এইরূপ বিধানের পরিপন্থী ভাবে, কোন বন্দীর সহিত যোগোযোগ করিলে বা যোগাযোগের চেষ্টা করিলে, এবং যে কেহ, এই ধারায় শাস্তি যোগ্য কোন অপরাধের সহায়তা করিলে, ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ড, বা অনধিক দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।

 

৪৩। ৪২ ধারায় অপরাধ করিলে গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা।

যখন কোন ব্যক্তি, কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে, পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত কোন অপরাধ করে, এবং অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবী অনুযায়ী নাম-ঠিকানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়,অথবা অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট কোন নাম- ঠিকানা প্রদান করে,যাহা ঐ কর্মকর্তা-কর্মচারী মিথ্যা বলিয়া জানে বা বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে, অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাহাকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই তাহাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিবেন, এবং অতঃপর অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা এই ভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন অপরাধটি তাহার উপস্থিতিতে সংঘটিত হইয়াছে ।

৪৪। শাস্তি সম্পর্কে প্রচার।-

সুপারিনটেন্ডেন্ট কারাগারের বাহিরে কোন দৃষ্টি গোচর স্থানে ৪২ ধারার অধীনে নিষিদ্ধ কার্যাবলী এবং সে সকল কাজের শাস্তির বর্ণনা সম্বলিত ইংরেজী এবং বাংলা ভাষায় লিখিত একটি নোটীশ টাঙাইয়া রাখিবার ব্যবস্থা করিবেন।

 

কারাগার সংক্রান্ত অপরাধসমূহ