Category Archives: আইন

আইন

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

‘প্রি এমশন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, অন্যদের চেয়ে একজনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করার অধিকার। ‘প্রি’ (Pre) অর্থ আগে এবং এমশন’ (emption) অর্থ ক্রয়।

মুসলিম আইনে প্রি এমশনকে’ ‘সাফা’ বলে।

‘প্রি এমশন’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হল অগ্রক্রয়াধিকার”।

প্রি এমশনের সংজ্ঞাঃ

কোন ক্রেতা যে মূল্যে বিক্রীত ভূমি ক্রয় করেছেন সেই একই মূল্যে অন্য কোন ব্যক্তির উক্ত ভূমি ক্রয় করার অগ্রাধিকারকে প্রি এমশন (Pre- emption) বলে।

বেলীর (Baillie) মতে “কোন ক্রেতার কাছ হতে তার ক্রীত ভূমিখণ্ড সমমূল্য প্রদান করে দখল করার অধিকারকে প্রি এমশন বলে।

(ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট নং ২৮/১৯৫১) স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০- এর ৯৬ ধারায় কৃষি ভূমির প্রি এমশনের আইন রয়েছে।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা কোন রায়তের হোল্ডিং (খতিয়ান) এর কোন খণ্ড বা অংশ হস্তান্তরিত হলে উক্ত হোল্ডিং এর এক বা একাধিক সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ ৮৯ ধারা মোতাবেক নোটিস জারীর চার মাসের মধ্যে কিংবা যদি কোন নোটিস জারী না হয়ে থাকলে, হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে তার বা তাদের কাছে উক্ত ভূমিখণ্ড বা অংশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন এবং যদি কোন হোল্ডিং বা খণ্ড কিংবা কোন অংশ হস্তান্তরিত হয়ে থাকলে হস্তান্তরিত ভূমির চিহ্নিত (লাগ) ভূমির দখলকার মালিক বা মালিকগণ (টেন্যান্ট বা টেন্যান্টগণ) এরূপ হস্তান্তরের বিষয় আত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে তার বা তাদের কাছে উক্ত হোল্ডিং বা খণ্ড কিংবা অংশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

শর্ত হলো যে, কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্টের (মালিক) অথবা হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টের (মালিক) এই ধারাবলে ক্রয় করার অধিকার থাকবে না। যদি না তিনি এমন ব্যক্তি হন যার নিকট হোল্ডিং বা এর খণ্ড কিংবা অংশ, অবস্থাভেদে যেরূপ হবে ৯০ ধারা মোতাবেক হস্তান্তর করা যেতে পারে।

(এখানে উল্লেখ্য, স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ১০ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যসহ সর্বমোট ৩৭৫ ট্যাণ্ডার্ড বিঘার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় অথবা অন্যবিধ উপায়ে অর্জন করতে পারতেন না। কিন্তু ১৯৭২ সনের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ৯৮-৭২ বলে উক্ত ৩৭৫ বিঘার সর্বোচ্চ সীমাকে ১০০ বিঘায়, পরে অধ্যাদেশ ১০/১৯৮৪ বলে কৃষি ভূমির সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘায় হ্রাস করা হয়। সুতরাং ১৪-৪-৮৪ তারিখ হতে কোন মালিক, পরিবার অথবা সংস্থা উল্লিখিত সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘার অতিরিক্ত কৃষি ভূমি ক্রয়সহ অন্যবিধ উপায়ে অর্জন বা দখল করতে পারবে না। মালিক, পরিবার ও সংস্থার সংজ্ঞা ৩৫-৩৭ পৃষ্ঠার সংজ্ঞা অনুযায়ী এবং ভূমির সিলিং ৪৯-৫৫ পৃষ্ঠা।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

৯৬ ধারা (২) উপ-ধারাঃ একজন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট বা সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ কর্তৃক (১) উপ-ধারা মোতাবেক দায়েরকৃত দরখাস্তে হোল্ডিং এর অন্য সব সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণকে এবং হস্তান্তরগ্রহীতাকে পক্ষ করতে হবে এবং হস্তান্তরিত ভূমির সহ্নিহিত (লাগ) ভূমির দখলকার টেন্যান্ট কর্তৃক এরূপ আবেদনে হস্তান্তরিত হোল্ডিং-এর সকল সহ-অংশীদার এবং হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার সব টেন্যান্টগণকে এবং গ্রহীতাকে পক্ষ করতে হবে।

(৩) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদ :(১) উপ-ধারা অনুসারে পেশকৃত দরখাস্তটি বাতিল (Dismiss) হয়ে যাবে যদি দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ এটি পেশ করার সময় হস্তান্তরিত হোল্ডিং অথবা হোল্ডিং-এর খণ্ড বা অংশের হস্তান্তরের দলিলে অথবা ৮১ ধারা অনুযায়ী নোটিসে অবস্থাভেদে যেরূপ হবে উল্লিখিত পণের টাকা (Consideration money) কিংবা মূল্য তৎসহ এরূপ টাকার শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ আদালতে জমা প্রদান না করেন ।

(বি) অনুচ্ছেদ : এরূপ জমাসহ দরখাস্ত গ্রহণের পর আদালত হস্তান্তরগ্রহীতা এবং (২) উপ-ধারা অনুসারে এতে পক্ষভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিগণকে, আদালত যে সময় নির্ধারণ করবেন সে সময়ের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেবেন এবং হস্তান্তর বাবদ যে পণের টাকা (Consideration money) কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়েছে তা বলার জন্য এরূপ ব্যক্তিকে তলব করবেন এবং হস্তান্তরের তারিখ হতে খাজনা বাবদ তিনি আরও কত টাকা পরিশোধ করেছেন এবং হস্তান্তরিত হোল্ডিং বা খণ্ডের বা অংশের “দায় মুক্ত” করতে কিংবা কোন উন্নয়ন বাবদ কি খরচাদি করেছেন তার বিবরণ প্রদানের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতাকে তলব করবেন এবং আদালত তখন, সকল পক্ষসমূহকে শুনানীর জন্য সুযোগ প্রদানান্তে প্রকৃত পণের টাকা (Consideration money)।

খাজনা পরিশোধ এবং হস্তান্তরিত ভূমির “দায় মুক্ত”, অথবা উন্নয়নের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতার ব্যয় সম্পর্কে অনুসন্ধান (Enquiry) করবেন, আদালত যেমন সঙ্গত মনে করবেন সে সময়ের মধ্যে আরও টাকা যদি প্রয়োজনীয় হয় জমা প্রদানের জন্য আবেদনকারীকে অথবা আবেদনকারীগণকে নির্দেশ দেবেন।

শর্ত থাকে যে, হস্তান্তাহা দলিলে উল্লিখিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত পণের টাকা কোন অবস্থাতেই দাবি করতে পারবেন না।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

 

৪ উপ-ধারা (১) উপ-ধারা অনুসারে কোন দরখাস্ত পেশ করা হলে, হস্তান্তগ্রহীতা, তাদের মধ্যে যদি কেউ থাকেন, তাকে সহ যে কোন অবশিষ্ট সহ- অংশীদার টেন্যান্ট এবং হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের (১) উপ- ধারায় উল্লিখিত সময়ের মধ্যে অথবা (৩) উপ-ধারা (বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে দরখাস্তের নোটিস জারীর তারিখ হতে দুই মাসের মধ্যে যা আগে হবে, উক্ত দরখাস্তে শরীক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন, কোন সহ-অংশীদার অথবা হস্তান্তরিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির দখলকার টেন্যান্ট যিনি (১) উপ-ধারা অথবা এই উপ-ধারা মতে আবেদন করেন নাই, এই ধারা অনুসারে তাদের ক্রয় করার আর কোন অধিকার থাকবে না।

উপ-ধারা ৫ অনুচ্ছেদ (এ)ঃ (1) যদি কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট যার স্বত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে উদ্ভব হয়েছে এবং (11) কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট যার স্বত্ত্ব ক্রয়সূত্রে উদ্ভব হয়েছে এবং (III) হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্ট, এই ধারা অনুসারে দরখাস্ত করেন এবং এর শর্তাবলী পালন করেন, তাহলে দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ এই ধারায় উপরোল্লিখিত ক্রমানুসারে ক্রয় করার অগ্রাধিকার পাবেন।

(বি) অনুচ্ছেদঃ যদি হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির একাধিক দখলকার টেন্যান্ট এই ধারা অনুসারে দরখাস্ত করেন, আদালত এরূপ টেন্যান্টগণের মধ্যে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন এই বিবেচনায়

(i) আবেদনকারী টেন্যান্টগণের প্রত্যেকের দখলে মোট ভূমির পরিমাণ,
(ii) টেন্যান্টের লাগ ভূমি বসতবাটির ভূমি বা অন্য শ্রেণীর ভূমি কিনা,
(ii) (Contiguity) সংলগ্নতার বিস্তৃতি,
(iv) দরখাস্তকারীর লাগ ভূমির দখল পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, এবং
(v) দরখাস্তকারীর ব্যবহার্য অধিকার (Easement right) যদি কিছু থাকে।

(৬) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদঃ (৩) উপ-ধারা অনুসারে যে ‘সময়ের মধ্যে দরখাস্ত পেশ করা যেতে পারে সে ‘সময়’ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আদালত এই ধারার শর্তাবলী অনুযায়ী স্থির করবেন (১) উপ-ধারা অথবা (৪) উপ-ধারা অনুসারে পেশকৃত দরখাস্তগুলোর মধ্যে কোনটা মঞ্জুর করবেন।

(বি) অনুচ্ছেদ : যদি আদালত দেখতে পান যে, এই ধারা অনুসারে পেশকৃত আবেদনগুলোর অনুমতির আদেশ একাধিক আবেদনকারীর অনুকূলে প্রদান করতে হবে, তাহলে আদালত এরূপ প্রত্যেক আবেদনকারী কর্তৃক যে পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবে তা নির্ধারণ করবেন এবং টাকা ন্যায্যভাবে ভাগ করার পর আদেশ দেবেন যে আবেদনকারী বা আবেদনকারীগণ যারা

(৪) উপ-ধারা অনুসারে মূল দরখাস্তে যোগদান করেছেন, আদালত যেরূপ সঙ্গত মনে করবেন সেরূপ সময়ের মধ্যে তার বা তাদের কর্তৃক পরিশোধযোগা টাকা জমা প্রদানের জন্য এবং এরূপ কোন আবেদনকারী কর্তৃক সে সময়ের মধ্যে যদি (টাকা) জমা প্রদান না করা হয় তাহলে তার আবেদন ডিসমিস হয়ে যাবে।

(৭) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদঃ (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে যে সময়ের মধ্যে জমা, যদি কিছু থাকে, প্রদান করতে হবে, সে সময় অতিক্রান্ত হলে, আদালত এই ধারা অনুসারে ক্রয় করার অধিকারী এবং এর শর্তাবলী পালন করেছেন এমন দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ কর্তৃক দরখাস্ত বা দরখাস্তগুলো অনুমোদনের আদেশ পাশ করবেন এবং যখন এরূপ আদেশ একাধিক দরখাস্তকারীর অনুকূলে পাশ করতে হয় তখন হোল্ডিংখানা বা হোল্ডিং এর খণ্ড বা অংশকে তাদের মধ্যে এরূপভাবে ভাগ করবেন যা আদালতের নিকট ন্যায় বলে গণ্য হয় এবং (১) নং উপ-ধারা অনুসারে দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ যদি কোন টাকা ফেরৎ পাওয়ার অধিকারী বলে দৃষ্ট হয়। তাহলে (৬) উপ-ধারা (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ কর্তৃক প্রদত্ত জমার টাকা হতে ফেরৎ পাবেন।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

(বি) অনুচ্ছেদঃ আদালত একই সময়, (৩) উপ-ধারা অনুসারে প্রদত্ত জমা হতে, হস্তান্তরের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক পরিশোধিত পণের টাকা (Consideration money}, এরূপ টাকার উপর শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণসহ হস্তান্তরের তারিখ হতে হস্তান্তরিত হোল্ডিং এর বা খণ্ডের কিংবা অংশের খাজনা বাবদ টাকা, যদি কিছু তার কর্তৃক পরিশোধ করা হয়ে থাকে এবং এরূপ হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশের দায়মুক্তি অথবা উন্নয়নের জন্য ব্যয়ের টাকা যদি কিছু তার কর্তৃক ব্যয় করা হয়ে থাকে তা হস্তান্তরগ্রহিতাকে পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ করে একটি আদেশ পাশ করবেন।

(৮) উপ-ধারা (৭) উপ-ধারা অনুসারে কোন বিভাগের আদেশ হোল্ডিং এর বিভাগ হিসাবে কার্যকরী হবে না।

(৯) উপ-ধারা (৭) উপ-ধারা অনুসারে আদেশ পাশ হওয়ার তারিখ হতে- (এ) অনুচ্ছেদ হস্তান্তরের ফলে হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশে হস্তান্তগ্রহীতার উদ্ধৃত অধিকার স্বত্ব, স্বার্থ উক্ত উপ-ধারা অনুসারে পাশকৃত যে কোন আদেশের সাপেক্ষে সকল দায় যা হস্তান্তরের তারিখের পরে সৃষ্ট হয়েছে তা মুক্ত হয়ে, অবস্থাভেদে সহ-অংশীদার টেন্যান্ট অথবা হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের, যাদের ক্রয় করার দরখাস্ত (৭) উপ-ধারা অনুসারে অনুমোদিত হয়েছে তাদের হাতে অর্পিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

(বি) অনুচ্ছেদ হস্তান্তরাহীতার হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশের খাজনা বাবন “দায়” হস্তান্তরের তারিখ হতে রহিত হয়ে যাবে এবং সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ বা হস্তান্তরিত ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের মানের জয় করার দরখাস্ত এরূপে অনুমোদিত হয়েছে, তারা হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য এরূপ যে কোন খাজনার জন্য দায়ী থাকবেন, এবং

(সি) অনুচ্ছেদঃ আদালত এরূপ দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণের আরও আবেদনের ভিত্তিতে তার বা তাদের হস্তে নাস্ত সম্পত্তির দখলে তাকে বা তাদেরকে, অবস্থাভেদে বহাল করে দিতে পারেন।

(১০) উপ-ধারাঃ এই ধারার কোন কিছুই প্রয়োগ করা যাবে না-

(এ) অনুচ্ছেদেঃ খতিয়ান বা জোতের (Tenancy) কোন অংশীদার যার স্বত্ব ক্রয় সূত্র ব্যতিত অন্যবিধ উপায়ে উদ্ভব হয়েছে, এরূপ অংশীদারের নিকট ভূমি হস্তান্তর করা হলে, কিংবা

(বি) অনুচ্ছেদঃ বিনিময় বা বাটোয়ারা সূত্রে হস্তান্তরিত হলে; বা

(সি) অনুচ্ছেদঃ উইল দাতা (Testator) বা দাতা (Donar) কর্তৃক তার স্বামী বা স্ত্রীকে অথবা কোন উইল দাতা বা দাতা কর্তৃক তার তিন ডিগ্রীর (বা তিন পুরুষের) মধ্যে কোন পুরুষানুক্রমিক নিকটতম আত্মীয়কে দান বা হেবা মূলে (আর্থিক বিনিময় হেবা বিল এওয়াজ ব্যতীত) হস্তান্তরিত করলে; অথবা

(ডি) অনুচ্ছেদঃ সরল (Simple) অথবা সম্পূর্ণ খাইখালাসী মর্গেজ (Complete Usufructuary Mortgage) অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত মর্গেজ মুক্ত করার অধিকার রহিতকরণের জন্য (Foreclosure) চূড়ান্ত আদেশ বা ডিক্রী করা না হয় অথবা কোন মর্গেজ দ্বারা শতাধীন বিক্রী করা হলে; কিংবা

(ই) অনুচ্ছেদঃ মুসলিম আইন (Mohammadan Law) অনুযায়ী গঠিত ওয়াকফ; বা

(এফ) অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তির জন্য আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ (Reservation) ব্যতিত কোন ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত বা দান করা হলে ।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্যে, নিকট আত্মীয় (By Consanguinity বা পুরুষানুক্রমিক নিকট আত্মীয়), হিন্দু আইনে দত্তক পুত্রকেও বুঝাবে ।

(১১) উপ-ধারাঃ এই ধারার কোন কিছুই মুসলিম আইনে প্রদত্ত কোন ব্যক্তির প্রি এমশনের অধিকার হতে তাকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

(১২) উপ-ধারাঃ এই ধারার অধীন যে কোন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল আদালতে আপীল করা যাবে এবং প্রচলিত কোন আইনে অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও প্রথম আপীলের আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপীল করা যাবে না।
কৃষি ভূমির প্রি এমশনের ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা হতে (১২) উপ-ধারা পর্যন্ত বিধি ব্যবস্থার সার-সংক্ষেপ নিম্নে প্রদান করা হলো।

প্রি এমশনের অধিকার পাবার যোগ্যতা

৯৬ ধারা (১) উপ-ধারা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত ভূমির খতিয়ান বা জোতের (হোল্ডিং) অপরাপর সহ-অংশীদারগণ এবং সহ-অংশীদারগণের মধ্যে কেউ দরখাস্তকারী না। থাকলে উক্ত হোল্ডিং এর লাগ ভূমির মালিকগণ প্রি এমশনের অধিকার পাবার যোগ্য ।

আদালতে আবেদনের সময় সীমা

হোল্ডিং এর সহ-অংশীদারের বেলায়— (ক) হস্তান্তরিত ভূমির হোল্ডিং এর বা খতিয়ানের সহ-অংশীদার বা সহ-অংশীদারগণের উপর রেজিস্ট্রি অফিস হতে স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ৮৯ ধারা মোতাবেক নোটিশ জারী হওয়ার চার মাসের মধ্যে, অথবা

(খ) উপরোক্ত নোটিশ জারী না হয়ে থাকলে, ভূমি হস্তান্তর হওয়ার বিষয় অবগত হওয়ার বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে আদালতে প্রি এমশনের আবেদন করতে হবে।

হোল্ডিং এর লাগ ভূমির মালিকদের বেলায় — (গ) হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির মালিকগণকে হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে প্রি এমশনের আবেদন করতে হবে।

পক্ষকরণ

৯৬ ধারায় (২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি হোল্ডিং এর সহ-অংশীদার বা সহ- অংশীদারগণ প্রি এমশনের জন্য ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা মোতাবেক দরখাস্ত করেন তাহলে হস্তান্তরগ্রহীতাসহ অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদার মালিকগণকে পার্টি করতে হবে এবং যদি লাগ ভূমির মালিকগণ দরখাস্ত করেন তাহলে হস্তান্তরগ্রহীতাসহ হোল্ডিং এর অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদার মালিকগণকে এবং লাগ ভূমির সকল মালিকগণকে পার্টি করতে হবে।

আদালতে ভূমির মূল্য জমা প্রদান প্রসঙ্গে

(৩) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, দলিলে বা ৮৯ ধারা অনুযায়ী। জারীকৃত নোটিশে হস্তান্তরিত হোল্ডিং-এর কিংবা খণ্ডের বা অংশের উল্লিখিত মূল্য তৎসহ উক্ত টাকার উপর শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ আবেদনকারীগণ যদি দরখাস্তের সঙ্গে আদালতে জমা প্রদান না করেন তাহলে দরখাস্ত খারিজ হয়ে যাবে এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে, আদালত ভূমির প্রকৃত পণের টাকা কত প্রদান করা হয়েছে এবং ভূমি হস্তান্তরের পর হতে খাজনা বাবদ আরও কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ও ভূমিকে দায়মুক্ত এবং উন্নয়ন বাবদ কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে তার বিবরণ প্রদানের জন্য আদালত হস্তান্তরগ্রহীতাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগণকে নির্দেশ দিবেন।

আদালত হস্তান্তরগ্রহীতার বক্তব্য শ্রবণ সাপেক্ষে তার কর্তৃক এ সকল বাবদ প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে তা তদন্তের পর যদি প্রয়োজন হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও টাকা জমা প্রদানের জন্য আবেদনকারীকে বা আবেদনকারীগণকে নির্দেশ দিবেন।

কিন্তু শর্ত হলো যে হস্তান্তরগ্রহীতা কোনমতেই দলিলে উল্লিখিত ভূমির মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য দাবী করতে পারবেন না ।

 

অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীদের প্রি এমশনের আবেদন সামিল হওয়ার সময় সীমা

৯৬ ধারার (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, (১) উপ-ধারা মতে দরখাস্ত করা হলে হস্তান্তরগ্রহীতার মধ্যে যদি কেউ থাকেন তাকে সহ হস্তান্তরিত হোল্ডিং এর অবশিষ্ট সহ- অংশীদার এবং লাগ ভূমির মালিকগণ (১) উপ-ধারার উল্লিখিত সময় (৪ মাস) অথবা (৩) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নোটিশ জারীর তারিখ হতে ২ মাসের মধ্যে, যা আগে হবে, উপরোক্ত (১) উপ-ধারা অনুসারে দরখাস্তে যোগদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। তারা যদি (১) উপ-ধারা বা এই উপ-ধারা মতে আবেদন না করেন তাহলে তাদের এই ধারায় অর্থাৎ প্রি এমশনের অধিকার প্রয়োগ করে উক্ত ভূমি ক্রয় করার আর কোন অধিকার তাদের থাকবে না।

ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্যতা

(৫) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রি এমশনের অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিকারীদের ক্রমিক অনুসারে উল্লেখ করা হয়েছে | পৃষ্ঠায় (1) হতে (11) দেখুন) এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, লাগ ভূমির একাধিক দরখাস্তকারী মালিকদের মধ্যে প্রি- এমশনের অধিকার বলে ভূমি ক্রয় করার দাবী, কে অগ্রগণ্য তা আদালত (বি) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ৫টি অবস্থার দিকে লক্ষ রেখে স্থির করবেন।

পরে যোগদানকারীদের টাকা জমা প্রদান প্রসঙ্গে

(৬) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে সময়ের মধ্যে (৪) উপ-ধারা অনুসারে আবেদন করতে হবে সে সময় অতিক্রান্ত হলে আদালত (১) উপ-ধারা অথবা (৪) উপ-ধারার আবেদনসমূহের মধ্যে কোনটা অনুমোদন করবেন তা স্থির করবেন এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যদি আদালত দেখতে পান, অনুমোদনের আদেশ একাধিক আবেদনকারীর অনুকূলে করতে হবে তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকে কত টাকা দিতে হবে তা আদালত স্থির করবেন এবং যে সকল আবেদনকারী (৪) উপ-ধারা মোতাবেক দরখাস্ত করে মূল দরখাস্তে শরীক হয়েছেন তাদেরকে আদালতের নির্ধারিত তারিখে টাকা জমা দিতে নির্দেশ দিবেন। যদি উক্ত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দেওয়া হয় তাহলে তাদের দরখাস্ত বাতিল হয়ে যাবে

প্রি এমশনের বলে ক্রীত ভূমি ক্রেতাদের মধ্যে বণ্টন ও টাকা ফেরৎ প্রসঙ্গে

(৭) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত হলে দরখাস্তকারীদের মধ্যে যারা উক্ত ৯৬ ধারার বিধি-ব্যবস্থাসমূহ পালন করেছেন, আদালত তার বা তাদের দরখাস্ত বা দরখাস্তসমূহ মঞ্জুর করার আদেশ দিবেন। যদি আদেশ একাধিক দরখাস্তকারীর অনুকূলে প্রদান করতে হয় তাহলে আদালত (হোল্ডিংটি) তাদের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করবেন যেন ন্যায়ভিত্তিক হয় এবং (১) উপ-ধারার আবেদনকারীগণ যদি আরও টাকা ফেরৎ পাওয়ার যোগ্য হন তাহলে তারা (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জমাকৃত টাকা হতে উক্ত টাকা ফেরৎ পাবেন।

হস্তান্তরগ্রহীতাকে টাকা ফেরৎ প্রদান প্রসঙ্গে

(৭) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, হস্তান্তরগ্রহীতাকে (৩) উপ-ধারা অনুযায়ী জমাকৃত টাকা হতে শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণসহ পণের টাকা এবং খাজনা, ভূমি উন্নয়ন ও দায় মুক্তি বাবদ বায়ের টাকা, যদি কিছু থাকে, তা পরিশোধ করতে হবে।

(৮) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, (৭) উপ-ধারা মোতাবেক কোন বিভক্তির আদেশ হোল্ডিং বিভাগের আদেশ হিসেবে কার্যকরী হবে না।

হস্তান্তরগ্রহীতার স্বত্বলোপ এবং প্রি এমশন বলে ক্রেতাদের স্বত্ব প্রসঙ্গে

(৯) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, (৭) উপ-ধারা মোতাবেক আদেশ হওয়ার তারিখ হতে—

(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হোল্ডিং-এ হস্তান্তগ্রহীতার সকল অধিকার, স্বত্ব ও স্বার্থ লোপ হয়ে যাবে এবং (৭) উপ-ধারার কোন আদেশের সাপেক্ষে হস্তান্তরিত হোল্ডিং, খণ্ড বা অংশ দায়মুক্ত হয়ে সহ-অংশীদারগণের অথবা লাগ ভূমির মালিকগণের যাদের দরখাস্ত (৭) উপ-ধারা অনুযায়ী মঞ্জুর হয়েছে তাদের হস্তে ন্যস্ত হবে ।

(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উক্ত তারিখ হতে হস্তান্তরগ্রহীতার জোতের দায় লোপ হয়ে যাবে এবং হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য এরূপ যে কোন খাজনার জন্য সহ- অংশীদারগণ বা লাগ ভূমির মালিকগণ দায়ী থাকবেন।

(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত আরও আবেদনের ভিত্তিতে তাদেরকে উক্ত অর্পিত সম্পত্তির দখলে বহাল করে দিতে পারবেন।

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

আজকে আমরা আলোচনা করবো জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

কোন কোন ক্ষেত্রে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়, তা স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ৯২ ধারায় উল্লেখ আছে। রায়তের সংজ্ঞা স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০ এর ৮২ (২) উপ-ধারা অনুযায়ী ‘রায়ত’ এর অর্থ হল কোন ব্যক্তি যিনি ৪৪ ধারাবলে বা অন্য উপায়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে ভূমি দখলের অধিকার অর্জন করেছেন প্রধানত তা নিজে অথবা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অথবা শরীক বা বর্গাদারদের দ্বারা বা চাষাবাদ করার উদ্দেশ্যে এবং উক্ত অধিকার অর্জনকারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণও তাতে অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

সংক্ষেপে, কৃষিকার্যের জন্য যিনি ভূমি অর্জন বা দখল করেন তাকে রায়ত বলা হয়। অকৃষি ভূমির মালিককে রায়ত বলা হয় না, তাকে অকৃষি প্ৰজা বা নন- এগ্রিকালচারাল টেন্যান্ট বলা হয়।

সুতরাং শুধু রায়তের ভূমির ক্ষেত্রে উক্ত ৯২ ধারা প্রযোজ্য। অকৃষি প্ৰজা বা টেন্যান্টের ক্ষেত্রে উক্ত ৯২ ধারা প্রযোজ্য নয়। উল্লেখ্য একই ব্যক্তি তার কৃষি ভূমির জন্য রায়ত এবং তার অকৃষি ভূমির (যদি থাকে) জন্য অকৃষি প্রজা বা টেন্যান্ট বলে গণ্য হবেন। উক্ত ৯২ ধারা তার কৃষি ভূমির জন্য প্রযোজ্য হবে কিন্তু অকৃষি ভূমির জন্য প্রযোজ্য হবে না ।

৯২ (১) ধারা, কোন হোল্ডিং এর রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হবে—

(এ) যখন তিনি যে উত্তরাধিকারী আইনের অধীন, সে উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারযোগ্য কোন উত্তরাধিকারী না রেখে ইনটেস্টেট অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন,

(বি) যখন তিনি যে কোন কৃষিবর্ষের শেষে নির্ধারিত ফরমে এবং নির্ধারিত উপায়ে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেভেনিউ অফিসারের নিকট নোটিশ প্রদান পূর্বক তার হোল্ডিং/জোত সমৰ্পণ (Surrender) করেন,

(সি) যখন তিনি খাজনা (rent) প্রাপ্য হওয়ার পর তা পরিশোধের জন্য ব্যবস্থা না করে স্বেচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করেন এবং তার হোল্ডিং নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা অথবা ভৃত্য কিংবা শ্রমিকের দ্বারা বা সাহায্যে অথবা অংশগ্রহণকারীদের কিংবা বর্গাদারদের সাহায্যে পর পর তিন বৎসর যাবৎ চাষাবাদ করা হতে বিরত থাকেন,

(ডি) যখন কোন রায়তের স্বত্ত্ব, তিনি যে উত্তরাধিকারী আইনের অধীন সে উত্তরাধিকারী আইন অনুসারে এরূপ কোন ব্যক্তির উপর বর্তায় (devolved) য প্রকৃত চাষী নন এবং এরূপ ব্যক্তি নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা অথবা ভৃত্য বা শ্রমিক দ্বারা বা সাহায্যে অথবা অংশীদারদের বা বর্গাদারদের সাহায্যে উক্ত স্বত্ত্ব, তার উপর বর্তানোর সময় হতে ৫ বৎসর সময়ের মধ্যে হোল্ডিংভুক্ত ভূমি চাষাবাদ না করেন এবং তিনি কেন উক্ত ভূমি চাষাবাদ করেননি তার কোন যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান না থাকে।

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

(২) উপ-ধারাঃ যখন কোন রায়তের কোন হোল্ডিং এর স্বত্ব (১) উপ-ধারাধীন বিলুপ্ত হবে তখন রেভেনিউ অফিসার হোল্ডিংটিতে প্রবেশের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন এবং হোল্ডিং এ রেভেনিউ অফিসারের এরূপ প্রবেশ করার তারিখ হতে উক্ত উপ-ধারার (এ) ক্লজ মোতাবেক স্বত্ব বিলুপ্ত হোল্ডিং এর দায়-দায়িত্ব ব্যতিত অন্যান্য হোল্ডিং এর সকল দায়-দায়িত্বমুক্ত হয়ে চূড়ান্তভাবে সরকারের বরাবরে ন্যস্ত (vest) হবে কিন্তু উক্ত উপ-ধারাধীন (বি), সি এবং (ডি) ক্লজসমূহ মোতাবেক যাদের হোল্ডিং এর স্বত্ত্ব বিলুপ্ত হয়েছে এরূপ হোল্ডিং দায়বদ্ধ করে গৃহীত টাকার জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

(৩) উপ-ধারাঃ (২) উপ-ধারা মোতাবেক হোল্ডিং-এ প্রবেশের পূর্বে রেভিনিউ অফিসার হোল্ডিংটিতে এরূপ প্রবেশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি নোটিশ প্রচার করবেন এবং তাতে কারণগুলো বর্ণনা করে উক্ত হোল্ডিং-এর স্বত্বাধিকারী সকল ব্যক্তিদের নিকট হতে আপত্তি আহ্বান করে এবং নোটিশে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বরাবরে পেশকৃত আপত্তিসমূহ বিবেচনা করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) উপ-ধারাঃ (১) উপ-ধারার (ঘ) ক্লজ মোতাবেক কোন রায়তের হোল্ডিং এ তার স্বত্ব বিলুপ্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিতে (৩) উপ-ধারা মোতাবেক রেভেনিউ অফিসার কর্তৃক পাশকৃত কোন আদেশে কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে আদেশের বিরুদ্ধে ১৪৭ ধারা মোতাবেক আপীল দায়েরের পরিবর্তে দেওয়ানী আদালতে মামলা রুজু করতে পারেন। এ সময় প্রচলিত অন্য কোন আইনে যাই থাকুক না কেন (৩) উপ- ধারাধীন রেভিনিউ অফিসারের আদেশের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে এরূপ মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

(৫) উপ-ধারাঃ (১) উপ-ধারাধীনে যে রায়তের হোল্ডিং-এর স্বত্ব বিলুপ্ত হয়েছে তার নিকট হোল্ডিং বাবদ প্রাপ্য যাবতীয় বকেয়া খাজনা অনাদায়যোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

সংক্ষেপেঃ ৯২ ধারা অনুযায়ী কোন রায়তের হোল্ডিং এর স্বত্ত্ব থাকবে না (এ) যখন তিনি উত্তরাধিকারী বিহীন অবস্থায় উইল না করে (Intestate) পরলোকগমন করেন।

(বি) যখন তিনি কোন কৃষিবর্ষের শেষে নির্ধারিত রেভেনিউ অফিসারের নিকট নোটিস প্রদানপূর্বক তার হোল্ডিং সমর্পণ করেন,

(সি) যখন তিনি হোল্ডিং এর খাজনাদি প্রাপ্য হওয়ার পর তা পরিশোধ করার কোন ব্যবস্থা না করে স্বেচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করেন এবং নিজস্ব পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা, বা ভৃত্য কিংবা শ্রমিক কিংবা শরীকগণ বা বর্গাদারদের দ্বারা বা সাহায্যে পর পর তিন বৎসর যাবৎ হোল্ডিংটির চাষাবাদ করা হতে বিরত থাকেন, কিংবা

(ডি) যখন কোন স্বত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে এমন ব্যক্তির উপর বর্তায় যিনি প্রকৃত কৃষক নন এবং উক্ত বক্তি নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা ভৃত্য কিংবা শ্রমিক দ্বারা বা শরিক কিংবা বর্গাদারগণ দ্বারা, যে তারিখে উক্ত স্বত্ত্ব তার উপর বর্তিয়েছে সে তারিখ হতে কোন যথেষ্ট কারণ ব্যতিত উক্ত হোল্ডিংটির ৫ বৎসর যাবৎ চাষাবাদ না করেন তাহলে উক্ত হোল্ডিং-এ রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

 

(২) যখন কোন রায়তের কোন হোল্ডিং-এ তার স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন রেভেনিউ অফিসার এতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং প্রবেশের তারিখ হতে (এ) দফা মোতাবেক স্বত্ব বিলুপ্ত হোল্ডিংটি ব্যতিত দায়মুক্ত হয়ে সরকারের উপর ন্যস্ত হবে কিন্তু যে সকল ব্যক্তির (বি) (সি) ও (ডি) দফায় বর্ণিত অবস্থায় হোল্ডিং-এ তাদের স্বত্ত্ব বিলুপ্ত হয়েছে তাদের কর্তৃক হোল্ডিং সিকিউরিটি প্রদান করে গৃহীত টাকার জন্য তাদের দায়-দায়িত্ব বহাল থাকবে।

(৩) হোল্ডিং এ প্রবেশের পূর্বে রেভেনিউ অফিসার হোল্ডিং-এ প্রবেশের জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং তাতে কারণ উল্লেখপূর্বক এবং হোল্ডিং-এ স্বত্ত্ব রয়েছে এমন সকল ব্যক্তির নিকট হতে আপত্তি আহ্বান করে একটি নোটিস প্রচার করবেন এবং নোটিসে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ে তার নিকট পেশকৃত দরখাস্ত বিবেচনা করে তার সিদ্ধান্ত নথিতে লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এর (ডি) দফায় বর্ণিত অবস্থায় রায়তের হোল্ডিং-এ তার স্বত্ত্ব বিলুপ্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির উপর রেভেনিউ অফিসারের যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে ১৪৭ ধারা মোতাবেক আপীলের পরিবর্তে উক্ত আদেশের তারিখ হতে ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।

(৫) রায়তের স্বত্ত্ব বিলুপ্তির পর তার নিকট খাজনা বাবদ সকল বকেয়ার দাবি অনাদায়যোগ্য বলে গণ্য হবে।

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

কথা আছে “পয়সা দিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ কিনতে চায় কে?’ তাই ভূমি ক্রয়ের সময় সম্ভাব্য সকল যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা অবলম্বন ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

ভূমি ক্রয়ের পূর্বে যে যে প্রধান বিষয়গুলো জানার ও দেখার তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

কেবল ভূমির মালিকই তার ভূমি যে কোনভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। তাই হস্তান্তরকারীর মালিকানা ও দলীয় স্বত্ত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বৈধ কাগজপত্র সাপেক্ষে ভাল করে দেখার প্রয়োজন।

(১) বিক্রিত ভূমির সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে বিক্রেতার নাম আছে কিনা?

(২) যদি বিক্রেতার নাম খতিয়ানে না থাকে তবে ভূমিতে বিক্রেতার স্বত্ব বৈধ কাগজপত্র দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

(৩) বিক্রিত ভূমি (১) কোন মৌজায় অবস্থিত, (২) কোন খতিয়ান ও (৩) কোন দাগভুক্ত, (৪) ইহার পরিমাণ এবং (৫) উক্ত খতিয়ানের ভূমিতে বিক্রেতার অংশ বা হিস্যা অনুযায়ী পরিমাণ ইত্যাদি ক্রয়ের পূর্বে কাগজপত্র ভালভাবে যাচাই করে দেখতে হবে।

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ক্রয় দলিল দৃষ্টে ভূমি ক্রয় করতে চাইলে দেখতে হবে

(ক) দলিলে উল্লিখিত (১) দলিলদাতা বা দাতাদের নাম ও (২) ভূমির বিবরণ ও পরিমাণ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে লেখনভুক্ত রয়েছে কিনা, যদি তার বা তাদের নাম সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে লেখনভুক্ত না হয়ে থাকে তবে খতিয়ানে লেখনভুক্ত মালিকের কাছ হতে কিভাবে তারা পেয়েছেন তা অবশ্যই কাগজপত্রের মাধ্যমে দেখাতে হবে।

এরূপ খতিয়ানে লেখনভুক্ত মালিক কর্তৃক বিক্রি হবার পর উক্ত ভূমি যতবার বিক্রি হয়েছে এবং এর দরুন যতটি দলিল সম্পাদিত হয়েছে ততটি দলিল (পিট দলিল বা ধারাবাহিক দলিল) পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

অন্য কোন ব্যতিক্রম না থাকলে কেবল সংশ্লিষ্ট খতিয়ানভুক্ত মালিক বা তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ ভূমি হস্তান্তর করতে পারেন। সুতরাং বিক্রি বা মালিকানা স্বত্ব অর্জনের ধারাবাহিকতা অবশ্যই দেখতে হবে।

(খ) হাল খতিয়ান ও হাল দাগ চালু হওয়ার পূর্বেকার সম্পাদিত দলিলে উল্লিখিত খতিয়ান ও দাগ নম্বর সাবেক দাগ ও খতিয়ান নম্বরে পরিণত হয়েছে।

সুতরাং দলিলে উল্লিখিত খতিয়ান, দাগ যাহা সাবেক খতিয়ান ও দাগ নম্বরে পরিণত হয়েছে এর সাথে বর্তমান চালু (হাল) খতিয়ান, দাগ ও জমির পরিমাণের মিল আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।

(গ) বিক্রেতার নামজারী খতিয়ান হালনাগাদ সঠিক আছে কি-না পরখ করতে হবে, অপরদিকে বিক্রির পর ক্রেতার নামজারী না হওয়ায় কিংবা ক্রেতা নাম নাম জারী না করার দরুন এই সুযোগে বিক্রেতা প্রতারণামূলকভাবে অন্যের বা ২/৩ জনের কাছে গোপনে বিক্রি করে থাকতে পারে। সুতরাং ক্রয়ের পূর্বে এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং অনুসন্ধান করতে হবে। এরূপ ঘটনা কখনো কখনো ঘটে থাকে।

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

(ঘ) বিক্রিত ভূমি বিক্রেতার দখলে আছে কিনা তাও দেখতে হবে।

(ঙ) বকেয়া ভূমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের জন্য ভূমি নিলামের বিক্রি হয়েছে। কিনা অথবা নিলামে সরকার ক্রয় করে খাস করেছেন কিনা তাও দেখতে হবে।

(চ) যে সকল হিন্দু নাগরিক তাদের জমি-জমা পরিত্যাগ করে বাস্তু ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব লাভ করে বসবাস করছেন তাদের অনেকের ভূমি অর্পিত ও অনাবাসী সম্পত্তি ( Vested and Non Resident Property) হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে – এগুলো সরকারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সুতরাং এরূপ হিন্দু মালিকদের ভূমি পরিত্যক্ত হওয়ার দরুন খাস বা অর্পিত ও নাবাসী সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে কিনা তাও দেখতে হবে।

(জ) যে সকল মালিক ১৯৭১ সানের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল এবং তাদের ভূমি ও বাড়ী-ঘর ত্যাগ করে বাংলাদেশ হতে চলে গিয়েছিল তাদের ভূমি পিও ১৬/৭২ বলে পরিত্যক্ত (Abandoned) ভূমি হিসাবে ঘোষণা করা হয় এবং সেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হয় ।

এই শ্রেণীর মালিকদের ভূমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে ।

(ঝ) যে সকল ভূমি খাজনা বা ভূমি খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর দীর্ঘদিন যাবৎ অনাদায় রয়েছে অথবা মারফতদার কর্তৃক খাজনা বা কর পরিশোধ হয় তহশীল অফিসে এর কারণ অনুসন্ধান করলে ভূমির প্রকৃত স্বত্বাধিকারীকে এবং এর অবস্থা কি তা সহজেই জানা যাবে।

(ঞ) তাছাড়া ভূমির খাজনা বা উন্নয়ন কর অপরিশোধিত থাকলে নিলামে বাস হওয়ার সন্দেহের অবকাশ থাকে। সুতরাং তহশীলে খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে।

(ট) স্টেট একুইজিশন এ০ টেনান্সি এ্যাক্টের ১৭ ধারা অনুযায়ী কোন আদিবাসীর ভূমি অনুরূপ আদিবাসী ব্যতিত অন্য কেউ ক্রয় করতে চাইলে বা অন্যের নিকট হস্তান্তর করতে চাইলে দলিল রেজিস্ট্রি করার পূর্বে রেভেনিউ অফিসারের লিখিত সম্মতি নিতে হবে যা দলিলে উল্লেখ করতে হবে। এই বিধান লংঘন করে ভূমি ক্রয় করা হলে সে ক্রয় বা হস্তাস্তর বাতিল হয়ে যাবে।

 

(ঠ) প্রেসিডেন্ট আদেশ নং ৯৮/৭২ অনুযায়ী, ১৩-৪-৮৪ তারিখ পর্যন্ত কোন পরিবার ১০০ বিঘার অতিরিক্ত ভূমি এবং (অধ্যাদেশ ১০/৯৪) ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৪ ধারা অনুযায়ী যে সকল মালিক বা পরিবারের ৬০ বিঘার নিম্নে অথবা ৬০ বিঘা পর্যন্ত ভূমি ছিল তারা উক্ত অধ্যাদেশ জারীর তারিখ হতে (অধ্যাদেশ ১০/৮৪ জারীর তারিখ ১৪-৪-৮৪ ইং, বাং ১ বৈশাখ ১৩৯১) ৬০ বিঘার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় বা অন্যবিধ উপায়ে অর্জন করতে পারবেন না ।

উক্ত আদেশ ও অধ্যাদেশ লংঘন করে যদি কোন মালিক বা পরিবার উপরোক্ত সীমার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় করেন তাহলে এরূপ অতিরিক্ত ভূমি সরকারের বরাবরে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। en five

(ড) দলিলে খতিয়ানের মালিকের নাম ভায়া দলিল থাকলে তার নম্বর দাতা, গ্রহীতা ইত্যাদির বৃত্তান্ত দলিলে উল্লেখ থাকা একান্ত আবশ্যক।

(ঢ) দলিলের তফসিলে জেলা, থানা, মৌজা, খতিয়ান, দাগ, ভূমির মোট পরিমাণ। এবং কাত যদি থাকে এবং চৌহদ্দি শহরের ভূমি হলে রাস্তা পৌর নম্বর থাকলে তা সহ তদস্থিত দালান-কোঠা যদি থাকে তবে সঠিকভাবে উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন।

ভূমি ক্রয় বিক্রয় ও অন্যান্য বৈধ হস্তান্তর বিষয়ক কতিপয় প্রয়োজনীয় আইন ও পরামর্শ

আজকে আমরা আলোচনা করব ভূমি ক্রয় বিক্রয় ও অন্যান্য বৈধ হস্তান্তর বিষয়ক কতিপয় প্রয়োজনীয় আইন ও পরামর্শ প্রসঙ্গে

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয় ও অন্যান্য বৈধ হস্তান্তর বিষয়ক কতিপয় প্রয়োজনীয় আইন ও পরামর্শ

ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট নং-২৭/১৯৫১, স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেনান্সি এ্যাক্ট, ১৯৫০ এর ৮৮ নং ধারা অনুযায়ী, একজন রায়ত এই এ্যাক্টে বিধানে শর্ত সাপেক্ষে তার হোল্ডিং বা এর অংশ বা খণ্ড তার অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির ন্যায় হস্তান্তর করতে সক্ষম।

শর্ত হলো যে ২০ ধারায় (২) উপ-ধারা মোতাবেক, দখলে রাখা ( Retained ) চা-বাগানের খাস ভূমি পূর্বাহ্নে ডেপুটি কমিশনারের লিখিত মঞ্জুরী ব্যতিত হস্তান্তর করা যাবে না এবং প্রস্তাবিত হস্তান্তর কোনমতেই সামগ্রিকভাবে চা-বাগানের অস্তিত্বকে বিনষ্ট (disrupt) করতে পারবে না বা কোন মতেই যে উদ্দেশ্যে ভূমি দখলে রাখা হয়েছে সেই চা-চাষের কোন বিঘ্ন (affect) সৃষ্টি করতে পারবে না।

উক্ত এ্যাক্টের ৮৯ ধারার (১) উপ-ধারায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্র ব্যতিত কৃষি “ভূমির যে কোনরূপ হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে।”

যে সকল ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রির প্রয়োজন নেই

(ক) আদালতের ডিক্রীর বলে বিক্রয় হলে, অথবা

(খ) সরকারী দাবী বা পাবলিক দাবী আদায়ের জন্য বেঙ্গল পাবলিক ডিমাণ্ড রিকভারী ব্র্যাক্ট, ১৯১৩ এর আওতাধীন দায়েরকৃত সার্টিফিকেট মোকদ্দমা মূলে ভূমি নিলামে বিক্রি বা ক্রয় করা হলে, এবং (গ) উইল (Bequest) মূলে

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

৮৯ ধারার (১) উপ-ধারাঃ উইল (Bequest) কিংবা আদালতের ডিক্রী বা বেঙ্গল পাবলিক ডিমাণ্ড রিকভারী এ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুসারে সার্টিফিকেট কার্যকরী (বলবৎ করার জন্য বিক্রি ব্যতিত প্রত্যেকটি এরূপ হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে করতে হবে এবং দলিলে বিক্রিমূল্য অথবা যেখানে বিক্রিমূল্য নেই সেখানে ভূমি, খণ্ড বা এর অংশের মূল্য উল্লেখ না থাকলে রেজিস্টারিং অফিসার এরূপ কোন দলিল রেজিস্ট্রির জন্য গ্রহণ করবেন না এবং যদি এর সাথে প্রদান করা না হয় –

(এ) রেভিনিউ অফিসারের নিকট প্রেরণের জন্য নির্ধারিত প্রসেস ফি সহ নির্ধারিত ফরমে হস্তান্তরের বিবরণাদি প্রদান করে একটি নোটিশ, এবং

(বি) (৪) উপ-ধারার প্রয়োজনে এরূপ নোটিশ বা প্রসেস ফি।

(২) উপ-ধারাঃ এরূপ ভূমি, খণ্ড বা এর অংশ উইলের (Bequest) ক্ষেত্রে দরখাস্তকারী অনুরূপ নোটিশ পেশ এবং (১) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত অনুরূপ টাকার প্রসেস ফি জমা না দিলে কোন আদালত প্রবেট বা লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মঞ্জুর বা গ্রান্ট করবেন না।

(৩) উপ-ধারাঃ ক্রেতা অথবা মর্গেজী, অবস্থাভেদে, অনুরূপ নোটিশ পেশ এবং (১) উপ-ধারায় বর্ণিত অনুরূপ পরিমাণের টাকার প্রসেস ফি জমা প্রদান না করলে কোন আদালত বা কোন রেভেনিউ কর্তৃপক্ষ কোন ডিক্রী বা ১৯১৩ সনের বেঙ্গল পাবলিক ডিমও রিকভারী এ্যাক্ট-এর সার্টিফিকেট কার্যকরী করার জন্য কোন হোল্ডিং, খও বা এর অংশের বিক্রি বহাল (Confirm) করবেন না এবং কোন আদালত এরূপ হোল্ডিং খণ্ড বা এর অংশ ‘বন্ধক সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার রহিতকরণের (Decree or order absolute for foreclosure) জন্য কোন ডিক্রী বা আদেশ করবেন না।

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

(৪) উপ-ধারাঃ এরূপ ভূমির কোন খণ্ড বা অংশের হস্তান্তর যদি এমন হয় যাতে ৯৬ ধারার বিধানগুলো প্রয়োগ হবে তা হলে উক্ত হোল্ডিং এর সকল সহ-অংশীদারগণ যারা হস্তান্তরের কোন পক্ষ (পার্টি) নন তাদের উপর নোটিশ জারীর জন্য প্রসেস ফিসহ নির্ধারিত ফরমে ভূমি হস্তান্তরের বিবরণ প্রদান করে এবং এর একটি কপি রেজিস্টারিং অফিসারের অফিসে অথবা কোর্ট ভবনে কিংবা রেভেনিউ কর্তৃপক্ষের অফিসে ক্ষেত্র অনুযায়ী টানিয়ে রাখার জন্য নোটিশ পেশ করতে হবে।

(৫) উপ-ধারাঃ আদালত, রেভেনিউ কর্তৃপক্ষ অথবা রেজিস্টারিং অফিসার, ক্ষেত্র অনুযায়ী (১) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদের নোটিশ রেভেনিউ অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং রেজিস্ট্রি ডাকযোগে (৪) উপ-ধারায় বর্ণিত সহ-অংশীদার প্রজাদের উপর নোটিশগুলো জারী করবেন এবং একটি নোটিশের অনুলিপি কোর্ট ভবনে অথবা রেভেনিউ কর্তৃপক্ষের অফিসে কিংবা রেজিস্টারিং অফিসারের অফিসে, ক্ষেত্র অনুযায়ী টাঙিয়ে রাখবেন ।

 

শর্ত হলো যে, এরূপ নোটিশ জারী সরকার কিংবা এরূপ হোল্ডিং এর সহ- অংশীদার টেন্যান্টে, যাদের উপর এরূপ নোটিশ জারী হয়েছে তাদের কর্তৃক খাজনার পরিমাণ অথবা এরূপ হোল্ডিং এর পরিমাণের স্বীকৃতি হিসাবে কার্যকরী হবে না কিংবা সরকার বা এরূপ সহ-অংশীদারের টেন্যান্টের হোল্ডিং-এর বিভাগ বা এর জন্য পরিশোধযোগ্য খাজনার বণ্টন হিসাবে ব্যক্ত (Expressed) সম্মতি বলে গণ্য করা হবে না।

আরও শর্ত হলো যে, পরবর্তীকালে কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা, আপীল অথবা অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে যেখানে রেভিনিউ অফিসার কোন পক্ষ নন, কোন হস্তান্তর পরিবর্তিত হলে, যে কর্তৃপক্ষের নিকট সর্ব প্রথমে এই বিশেষ মোকদ্দমা অথবা কার্যক্রম দায়ের করা হয়েছিল সে কর্তৃপক্ষ রেভিনিউ অফিসারের নিকট এরূপ আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করবেন।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক সম্পর্কে

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

গ্রাম, মৌজা, খতিয়ান, দাগ, ভূমি, হোল্ডিং ইত্যাদি শব্দগুলোর পরিচিতি ও সংজ্ঞা নিম্নে প্রদান করা হলো । আইন আদালতসহ সর্বত্র এই সংজ্ঞাগুলো গৃহীত ও বিবেচিত হয়ে থাকে।

১। গ্রাম (Village):

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০ এর ২ ধারার (২৯) ক্লজ, গ্রাম এর অর্থ— “সরকার দ্বারা বা কর্তৃত্বাধীনে অনুষ্ঠিত কোন জরীপে যে এলাকা জেলা এবং স্বতন্ত্র গ্রাম হিসেবে সীমানা চিহ্নিত, জরীপকৃত এবং রেকর্ডভুক্ত হয়েছে এবং যেখানে জরীপ হয়নি এরূপ এলাকা ভূমি প্রশাসন বোর্ডের অনুমোদনক্রমে কালেক্টরের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ বলে গ্রাম গঠিত হয়ে থাকে।

২। মৌজা (Mouja)ঃ

গ্রাম বা শহরকে এতদউদ্দেশ্যে মৌজা বলা হয়। যেমন- ঢাকা শহর মৌজা, ময়মনসিংহ শহর মৌজা, রাজশাহী শহর মৌজা ইত্যাদি। গ্রাম শুভাঢ্যা মৌজা, জিঞ্জিরা মৌজা ইত্যাদি। শহরের একাধিক মৌজা রয়েছে। যেমন ঢাকা শহর মৌজা, সূত্রাপুর মৌজা, মিরপুর মৌজা ইত্যাদি ।

উপরোক্ত জরীপে হাট-বাজারগুলো নিজ নিজ নামে মৌজা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত না হয়ে থাকলে এরা যে মৌজায় অবস্থিত সেই মৌজার নামে পরিচিত হবে।

৩। ভূমি (Land)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (১৬) দফা (Clause) ভূমির অর্থ, যে ভূমি আবাদী, অনাবাদী অথবা বৎসরের যে কোন সময় জল দ্বারা নিমজ্জিত থাকে এবং (ভূমি হতে উৎপন্ন সুবিধাদিসহ) বাড়ি ঘর, দালান-কোঠা, ভূমির সাথে সংযুক্ত বস্তুসমূহ অথবা ভূমির সাথে সংযুক্ত কোন বস্তুর সাথে স্থায়ীভাবে আবদ্ধ রয়েছে এমন বস্তু বা বস্তুসমূহ ভূমির অন্তর্ভুক্ত বা ভূমি বলে গণ্য ।

সাধারণভাবে সকল আবাদী ও অনাবাদী ভূমি এবং নদ-নদী, খাল-বিল, নালা, পুকুর, ডোবা, বাড়িঘর, দালান-কোঠাসহ যা ভূমির সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত রয়েছে ইত্যাদি ভূমি বলে গণ্য করা হয় । কিন্তু সাগর বা উপসাগরকে ভূমি বলে গণ্য করা হয় না।

(১৬-এ) আপাততঃ বলবৎ অন্য যে কোন আইনে অথবা যে কোন দলিলে কিংবা যে কোন আদালতের রায়ে, ডিক্রীতে বা আদেশে অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র বা আঞ্চলিক সকল জলমহাল (ফিশারী) ১৬ নং অনুচ্ছেদের ভূমির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এবং অন্তর্ভুক্ত বলে সর্বদা গণ্য হবে।

[ (১৬-ই) ই. পি. ১৯৬০ সনের ১২নং ই. পি. অর্ডিন্যান্সের ৩নং ধারাবলে সংযোজিত হয়েছে।]

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

 

৪ । দাগ (Plot)ঃ

ভূমির বিবরণ, হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচিতির জন্য জরীপ বিভাগ দেশের সমুদয় ভূমিকে বিভিন্ন আকারে ও পরিমাণে খণ্ডে খণ্ডে বা অংশে বিভক্ত করেছে। এ সব ভূমির খণ্ডাংশ প্রত্যেকটিকে ‘দাগ’ এবং ইংরেজিতে প্লট (Plot) বলা হয়।

বিভিন্ন দাগের ভূমির পরিমাণ বিভিন্ন পরিমাণের হয়ে থাকে। কোন কোন দাগে এক শতাংশের কম বা কোন কোনটিতে একশত একরের ঊর্ধ্বে হয়ে থাকে। এই দাগগুলো প্রতিটি ক্রম অনুসারে ১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত। প্রতি মৌজার দাগ ১ নং হতে শুরু করে উক্ত মৌজার এলাকার সমুদয় ভূমি যতটি দাগ বা ভূমি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে ঠিক ততটি নম্বর থাকবে।

কোন মৌজার এক হাজার দাগ থাকলে ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে এক (১) হতে এক হাজার (১০০০) দাগ থাকবে। তাছাড়া বাটা দাগও থাকতে পারে। এ সব দাগ বা ভূমি খণ্ড এবং এদের নম্বর ও সীমানা সরেজমিনে দৃষ্ট হবে না। জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুত মৌজার ম্যাপ বা নক্সাতে দৃষ্ট হবে। প্রত্যেক মৌজার নক্সা রয়েছে। এটা জেলা প্রশাসকের অফিসে কিনতে পাওয়া যায়। নক্সার দাগগুলো কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত সর্বক্ষেত্রে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী পাশাপাশি সন্নিহিত বা সংলগ্ন (দাগ) থাকবে।

মৌজা-নক্সার উত্তর পশ্চিম হতে ১ নং দাগ শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্বে গিয়ে শেষ হবে। একটি মৌজায় কতগুলো দাগ আছে এবং প্রতিটি দাগের মোট ভূমির পরিমাণ ও এর সমুদয় ভূমি কোন্ কোন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা স্বত্ত্বের বহির (ROR) প্রথমে প্লট ইনডেক্স বা দাগের সূচিতে পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট দাগটি কোন কোন খতিয়ানভুক্ত হয়েছে তা সূচির উক্ত দাগের ভূমির বিপরীতে উল্লেখ রয়েছে এবং ভেতরে উক্ত খতিয়ানগুলোতে দাগের কি পরিমাণ ভূমি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা দেখতে পাওয়া যাবে। পৃষ্ঠা-৬ প্লট ইনডেক্স বা দাগের সূচির একটি নমুনা প্রদান করা হল।

এই দাগগুলো হলো ভূমির প্রাথমিক পরিচয়। ‘আর ও আর’ এ দাগের ভূমির শ্রেণী যথা- কৃষি, চান্দিনা, বিল, ডোবা, পুকুর, নদী ইত্যাদি শ্রেণী হিসেবে উল্লেখ থাকে। ভূমি খণ্ডটি মৌজার কোন এলাকায় অবস্থিত দাগ নম্বর ধরে নক্সা দেখে ধারণা করা যায়।

৫। মৌজা-নক্সা (Map)ঃ

মৌজা বা গ্রামের কিংবা শহরের সীমাবদ্ধ এলাকার মানচিত্র বা ম্যাপকে নক্সা বলা হয়। এতে মৌজাস্থ ভূমির দাগ নম্বরসহ ভূমি খণ্ডের আকারের চিত্র পাওয়া যায়। এটা ছাড়া এতে সাধারণ পরিচিত স্থান যথা — বিল্ডিং, রাস্তা, নদী, কৃষ্ণা, হালট ইত্যাদি চিহ্নিত থাকে যাতে একে কেন্দ্র করে এর পার্শ্ববর্তী দাগগুলোর অবস্থান সহজে বের করা যায়।

দৃষ্টান্ত স্বরূপ, ঢাকা শহর মৌজার নক্সায় ‘গুলিস্তান’, ‘স্টেডিয়াম’ বা ‘সচিবালয়’ হিসেবে চিহ্নিত স্থান হতে প্রয়োজনীয় দাগের অবস্থানের দিক নির্ণয় করে অনুসন্ধান করলে এটা বের করা যাবে অথবা প্রয়োজনীয় দাগটির সংলগ্ন দাগের কোন মালিকের কাছ হতে উক্ত প্রয়োজনীয় দাগের ভূমির অবস্থান জেনে নেওয়া যায় অথবা উক্ত মালিকের নিজ ভূমির অবস্থান জেনে তা হতে অনুসন্ধান করলে প্রয়োজনীয় দাগ নম্বরের ভূমি খণ্ডটি পাওয়া যায়।

এস. এ. আর ও আর বহির

প্লট-ইন্ডেক্স বা দাগের সূচির নমুনা

 

জেলা- থানা- মৌজা- জে. এল. নং
দাগের নম্বর দাগের মোট ভূমির পরিমাণ দাগের ভূমি কোন কোন খতিয়ানভুক্ত হয়েছে  
০.১০ ১,২,৩  
১.০০ ১,২,৩  
৫০.০০ ১,৩  
১০০.০০  
২০.০০  
১২.০০ ২,৩  

 

১ নং দাগের ১০ শতাংশ ভূমি বিভক্ত হয়ে ১, ২, ৩ খতিয়ানে এবং ২ নং দাগের ১.০০ ভূমি বিভক্ত হয়ে ১, ২, ৩ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । অনুরূপ অন্যান্য দাগের ভূমি ওদের বিপরীত খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত।

এস. এ. দাগের ভূমি

বিভিন্ন খতিয়ানে বণ্টনের নমুনা

জেলা-                            থানা-                        মৌজা-                               জে. এল. নং

 

খতিয়ান নম্বর মালিকের নাম ও ঠিকানা অংশ    দাগ নং জমির শ্রেণী  দাগের পরিমান এঃ মোট

শঃ

দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের হিস্যা দাগের মধ্যে অত্র

খতিয়ানের জমির

পরিমাণ

রাজস্ব মন্তব্য 
২  ১০
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টর

চান্দিনা

কান্দা

বিল

নদী

খাল

 ১

৫০ 

১০০

২০

১০

০০

০০

০০

০০

  ০.০৪

০.৫০

৪৩.৫০

১০০.০০

২.০.০০/১৬৪.০৪

   
মোঃ রফিক উদ্দিন 

পিতা-

আব্দুল করিম 

সাং-নিজ

চান্দিনা

কান্দা

নাল

১২

১০

০০

০০

  ০.০৪

০.২০

৭.০০/৭.২৪

   
আব্দুল জলিল

পিতা-

আব্দুল বেপারী

মালেকা খাতুন

জং আব্দুল জলিল 

এখলাছ উদ্দিন

আব্দুল করিম

পিতা-মহিউদ্দিন 

সাং-নিজ

1.

1.

1.

1./2

চান্দিনা

কান্দা

বিল

নাল

৫০

১২

১০

০০

০০

০০

  ০.০২

০.৩০

৬.৫০

৫.০০/১১.৮২

   

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

৬। খতিয়ান (Khatian)ঃ

খতিয়ানের অর্থ হলো ‘হিসাব’। সাধারণভাবে স্বত্ত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, ঠিকানা, হিস্যা (অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগসমূহের নম্বরসহ ভূমির পরিমাণ, শ্রেণী, এদের জন্য দেয় খাজনা ইত্যাদি বিবরণসহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে খতিয়ান বলা হয় এবং উক্ত রেকর্ডকে স্বত্ত্বের রেকর্ড বা রেকর্ড অব রাইট্স (ROR) বলা হয়।

“এক বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিমাণ ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে ভূমি-স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে ‘খতিয়ান’ বলে ।

খতিয়ানগুলো ১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক খতিয়ানের একটি সংখ্যা রয়েছে। এদেরকে ‘খতিয়ান নম্বর’ বলা হয়। প্রত্যেক মৌজার খতিয়ান এক (১) হতে শুরু হয়। কোন কোন মৌজার একশত ( ১০০ ) খতিয়ানের কম থাকতে পারে আবার কোন কোন মৌজার কয়েক হাজারের বেশি থাকতে পারে। কোন মৌজায় কতটি খতিয়ান রয়েছে তা উক্ত স্বত্ত্বের রেকর্ডে (ROR) পাওয়া যাবে।

প্রত্যেক মৌজার ১নং খতিয়ানটিকে খাস খতিয়ান বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্বত্বাধীন ভূমি যথা— হাট-বাজার, খাল-বিল, রাস্তা-ঘাট এবং অন্যান্য কৃষি ও অকৃষি ভূমি উক্ত ১নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে এবং সরকারের পক্ষে “কালেক্টর’ হিসেবে উক্ত ১নং খতিয়ানে লিখনভুক্ত হয়ে থাকে।

৭। হাল খতিয়ান নম্বরঃ

কোন এলাকায় সর্বশেষ জরীপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার কর্তৃক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে এরূপ খতিয়ানসমূহকে ‘হাল খতিয়ান’ বলা হয়।

খতিয়ানে যে সব বিবরণ লেখা হয়ে থাকে তা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১। জেলার নাম।

২। থানার নাম।

৩। মৌজার নাম

8। জে. এল. নং (Jurisdiction level number)

৫। খতিয়ানের নম্বর।

৬। মালিক বা মালিকগণের নাম ও তাদের পিতা কিংবা স্বামীর নাম এবং ঠিকানা

৭। মালিক বা মালিকগণের অংশ

৮। দাগ নম্বর

৯। দাগের ভূমির শ্রেণী।

১০। দাগের ভূমির মোট পরিমাণ ।

১১। দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের হিস্যা।

১২। দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের জমির পরিমাণ

১৩। রাজস্ব।

১৪। মন্তব্য।

৮। সাবেক খতিয়ান নম্বর (Old Khatian No.)

যে সব খতিয়ান, হাল খতিয়ান চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চালু ছিল এবং বর্তমানে চালু নেই একপ খতিয়ানসমূহকে সাবেক খতিয়ান বলা হয়। এই সাবেক খতিয়ানগুলো ভূমির ধারাবাহিক পরিচিতির জন্য প্রয়োজন। এ ছাড়া সাবেক খতিয়ানগুলো হাল খতিয়ান হিসেবে চালু থাকাকালে সম্পাদিত সকল দলিল, মামলা-মোকদ্দমার রায়ে, ডিক্রিতে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এই খতিয়ানগুলো লেখা হয়েছিল। হাল খতিয়ান চালু হওয়ার পূর্বেকার সম্পাদিত দলিল দস্তাবেজ ও রায়ে উল্লিখিত খতিয়ানগুলো যা সাবেক খতিয়ানে পরিণত হয়েছে, তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজে সাবেক খতিয়ান নং বহাল থাকায় এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

সি. এস. খতিয়ান (Cadastral Survey Khatian)ঃ এই খতিয়ানগুলো ১৯১০-২০ সনের মধ্যে প্রস্তুত হয়েছিল। বাস্তবে মাঠ জরীপ করে সি এস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছিল। একে এখন সাবেক খতিয়ান বলে।

এস. এ. খতিয়ান (State Acquisition Khatian} : স্টেট একুইজিশন এর টেন্যান্সী অ্যাক্টের ৩ ধারার আওতাধীনে ৪৮২৬-এল, আর-৪৮৩৬ এল. আর. নং তারিখ ২/৪/১৯৬৫ বিজ্ঞপ্তির মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল (State Acquisition) নেওয়ার পর উক্ত অ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রযু করা হয় তা এস. এ. খতিয়ান বলে পরিচিত। সরকার কর্তৃক জমিদারী দখল একটা স্মরণীয় ঘটনা বিধায় এই নামেই সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত। উল্লেখ্য যে, অ্যাক্ট অনুযায়ী এদের আইনগত পরিচিতি হল রিভিশনাল সেটেলমেন্ট খতিয়ান। যতবার পরিবর্তিত হবে এই নামেই অভিহিত হবে। এই খতিয়ানগুলো উক্ত অ্যাক্টের ১৯(৩) ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়।

আর, এস খতিয়ান (Revisional Settlement Khatian)ঃ এস. এ. খতিয়ানের পর স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্টের ১৪৪ ধারা মোতাবেক যে সব খতিয়ান প্রস্তুত হয়ে উক্ত ধারার (৭) উপ-ধারা মোতাবেক চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হবে সেগুলোকে আর এস খতিয়ান বলে।

৯। সাবেক দাগ নং (Old Plot No.)ঃ

উল্লেখ্য যে দাগসমূহের ক্ষেত্রে সাবেক ও হাল দাগ হয়ে থাকে। ১৯৫৬ সালের জরীপে যা এখনও চালু রয়েছে এতে গ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাবেক দাগগুলো হাল দাগ হিসাবে বহাল রয়েছে। উক্ত জরীপে শহরের সাবেক দাগ নম্বরগুলো পরিবর্তন করে নতুন দাগ নম্বর করা হয়েছে। এরূপ নতুন নক্সা পুরাতন নক্সার উপরে রেখে যাচাই করলে পরিবর্তিত দাগ নম্বরটি সহজে ধরা যাবে এবং এর ভূমি সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

 

 

১০। হোল্ডিং নং (Holding)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট (২) ধারার (১৩) ক্লজ — ‘হোল্ডিং’-এর অর্থ, কোন রায়ত বা অধীনস্ত রায়তের স্বত্বাধীন দখলীয় কোন ভূমিখণ্ড বা ভূমিখণ্ডসমূহ অথবা এর অবিভক্ত হিস্যা এবং কোন স্বতন্ত্র প্রজাস্বত্বের পঠিত বিষয়।

উপরে বর্ণিত ‘হোল্ডিং’ শব্দটি ‘খতিয়ান’ শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে গণ্য করতে হবে। স্টেঃ এঃ এণ্ড টেঃ অ্যাক্টের সর্বত্র ‘হোল্ডিং’ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে, ‘খতিয়ান’ শব্দটির উল্লেখ নেই। কিন্তু ‘ROR’ সহ সকল কাজে ও বাস্তবে খতিয়ান’ শব্দের ব্যবহার দৃষ্ট হয়। অতএব এরা সমার্থক বোধক।

(অন্য এক ধরনের হোল্ডিং-এর উল্লেখ পাওয়া যাবে খাজনার দাখিলায়। এই শ্রেণীর হোল্ডিংগুলো খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করা আদায়ের বহি (২ নং বহিতে) অর্থাৎ তলব বাকি বহিতে উল্লেখ রয়েছে। এগুলো খতিয়ান নয় বা খতিয়ানের ন্যায় স্থায়ী নয়। যা হোক, এ জাতীয় হোল্ডিং নম্বর ও খতিয়ান নং কোথাও কোথাও একই হয়ে থাকে অথবা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

এই শ্রেণীর হোল্ডিংগুলো খাজনার দাখিলার নির্দিষ্ট ঘরে উল্লেখ রয়েছে এবং কেবল ভূমির খাজনা বা কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। অন্য সব ক্ষেত্রে এদের প্রয়োজন নেই কেবল খতিয়ানই যথেষ্ট।

১১। বৎসর বা কৃষি সন (Year of Agricultural Year)ঃ

স্টেঃ এঃ এণ্ড টেঃ অ্যাক্টের ২ ধারার (৩০) ক্লজ বাংলা সন ১ বৈশাখ হতে শুরু হয় ।

১২। চাষী রায়ত (Cultivating Raiyat)ঃ

অথবা ‘অধিনস্ত চাষী রায়ত” (Under Cultivating Ralyat) এর অর্থ কোন রায়ত বা অধীনস্ত রায়ত, ক্ষেত্রভেদে, যিনি হয় নিজে অথবা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা ভৃত্য দ্বারা কিংবা বর্গাদার দ্বারা অথবা ভৃত্য বা শ্রমিকদের সাহায্যে বা দ্বারা অথবা অংশীদারদের সাহায্যে কৃষিকার্যের জন্য ভূমি দখল করেন, তাকে রায়ত বা অধীনস্ত রায়ত বলা হয়।

উক্ত অ্যাক্টের ৮২ ধারায় (২) উপ-ধারা অনুযায়ী, ‘রায়ত’ শব্দের অর্থ, কোন ব্যক্তি যিনি ৪৪ ধারা অথবা অন্যভাবে সরকারের প্রত্যক্ষধীনে নিজে কিংবা পরিবারের সদস্য। দ্বারা অথবা ভৃত্য বা শ্রমিকের সাহায্যে অথবা বর্গাদার বা অংশীদারদের সাহায্যে প্রধানত কৃষিকার্যের উদ্দেশ্যে ভূমি দখল করার অধিকার অর্জন করেন এরূপ ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীগণ (Successors in Interest) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবেন।

১৩। টেন্যান্ট (Tenant. প্রজা)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০- এর ২ ধারার (২৭) ক্লজ ‘টেন্যান্ট’ বা প্রজার অর্থ, কোন ব্যক্তি যিনি অন্য একজনের অধীনে ভূমি দখল (Hold) করেন অথবা বিশেষ কোন চুক্তি ব্যতিত ঐ ভূমির জন্য ঐ ব্যক্তিকে খাজনা (রেন্ট) প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন।

শর্ত হলো যে, কোন ব্যক্তি যিনি আধি, বর্গা, অথবা ভাগ বলে সাধারণভাবে পরিচিত রীতিতে অন্যের ভূমি চাষ করেন, ফসলের একটা অংশ ঐ ব্যক্তিকে প্রদানের শর্তে তিনি টেন্যান্ট নন, যতক্ষণ না—

(i) এরূপ ব্যক্তি তার ভূমির মালিক (Land Lord) কর্তৃক সম্পাদিত বা তার অনুকূলে সম্পাদিত এবং তার কর্তৃক গ্রহীত কোন দলিলে তার টেন্যান্ট হিসেবে প্রকাশ্যভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন; অথবা

(ii) তিনি কোন দেওয়ানী আদালত কর্তৃক টেন্যান্ট হিসেবে ঘোষিত হন বা হলে।

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

 

১৪ । মালিক ও ভূমি রাজস্বঃ

স্টেট একুইজিশন এন্ড টেন্যান্সী অ্যাক্টের ৮২ ধারার (৮) উপ-ধারা অনুসারে, কোন এলাকায় এই অ্যাক্টের এই অংশ (Part-V) সম্পূর্ণভাবে বলবৎ হওয়ার তারিখ হতে ‘রায়ত’ অথবা ‘টেন্যান্ট’ শব্দের পরিবর্তে ‘মালিক’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে এবং এরূপ এলাকায় এই অংশের বিধানসমূহ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কৃষিভূমি সম্পর্কীয় এই অংশের যেখানে ‘রেন্ট’ শব্দ আছে সেখানে এর পরিবর্তে ‘ভূমি রাজস্ব’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং যেখানে কোন লীজ, কবুলীয়ত, চুক্তি (Contract) অথবা অন্যান্য চুক্তি (Agreement) দ্বারা নিরূপিত, সেখানে গভর্নমেন্টকে দেয় খাজনা ভূমি রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য।

ব্যাখ্যা ঃ যেখানে কোন ভূমির প্রজা, একে চাষাবাদের অধীনে আনয়নের অধিকার অর্জন করে থাকেন, সেখানে তিনি এটা কৃষিকার্যের উদ্দেশ্যে দখল করার অধিকার অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবে, যদিও তিনি একে উৎপন্ন ফসল জড় করা অথবা গোচারণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন। (উল্লেখ্য যে, উক্ত অ্যাক্টের পঞ্চম অংশ বহু পূর্বেই দেশের সর্বত্র বলবৎ রয়েছে।)

আরও উল্লেখ্য যে, ৪2 / 96 ( XLII / 1976) অধ্যাদেশ মূলে ‘খাজনা’ শিক্ষা কর, উন্নয়ন কর, স্থানীয় কর ইত্যাদির পরিবর্তে ভূমি উন্নয়ন কর নামে সমন্বিত কর, ১৯৬৭ ইংরেজি সনের ১৪ এপ্রিল মোতাবেক ১৩৮৩ বাংলা সনের ১ বৈশাখ হতে চালু হয়েছে। এটা ভূমি রাজস্ব হিসেবে গণ্য হবে ।

১৫। আবাস ভূমি, বাস্তু ভূমি (Homestead)ঃ

ষ্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট ১৯৫০-এর ২ ধারার (১৪) রুজ, আবাসভূমি (homestead)-এর অর্থ, বাসগৃহ ও এর অধীনস্ত ভূমিসহ এবং তৎসংলগ্ন দখলভুক্ত কোন প্রাঙ্গন, পুকুর, প্রার্থনার স্থান, প্রাইভেট কবরস্থান কিংবা শ্মশান ভূমিসহ এবং বসতবাড়ি কিংবা কৃষি অথবা হর্টিকালচারের সাথে সংশ্লিষ্ট সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বাহির বাড়ি বা গৃহ এবং সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দিভুক্ত ভূমি পতিত থাকুক বা না থাকুক এর আবাস ভূমির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

১৬। অকৃষি প্রজা (Non Agricultural tenant)ঃ

স্টেট একুইজিশন এ টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (১৭) ক্লজ অনুযায়ী, অকৃষি টেন্যান্ট বা প্রজা এর অর্থ, কোন টেন্যান্ট, যিনি কৃষি বা হর্টিকালচারের সংগে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ভূমি দখ ভোগ (hold) করেন, তিনি অকৃষি প্রজা বলে গণ্য হবেন। কিন্তু চিরস্থায়ী ইজারা (A lease in perpetuity) ব্যতিত ইজারাভুক্ত কোন ভূমি তৎসহ এতে অবস্থিত গৃহ, তৎসংলগ্ন প্রাঙ্গনের ভোগ দখলকারী ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবেন না। (অকুমি প্রজা হিসেবে গণ্য হবেন না)।

১৭। হাট/বাজার (Hat or Bazar)ঃ

স্টেট একুইজিশন এর টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (১২) দফা (Clause), হাট কিংবা বাজারের অর্থ, এমন স্থান যেখানে প্রত্যেক দিন অথবা সপ্তাহের বিশেষ দিনগুলোতে প্রধানত গৃহপালিত পত (Livestock), হাঁস-মুরগি ইত্যাদি গৃহপালিত পাখি (Poultry), কাঁচা-পাকা পতর চামড়া, মাছ, ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য কিংবা খাদ্য, পানীয় অথবা জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচা-কেনার উদ্দেশ্যে লোক সমাগম হয় এবং উক্ত স্থানের এলাকাধীনে এরূপ পণ্যের অথবা তৈরি মালামালের সকল দোকানপাটসমূহ (হাট / বাজারের সংজ্ঞার) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

১৮। পরিত্যাক্ত চা বাগান (Derelict tea garden)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (৯৩) ক্লজ অনুযায়ী, পরিত্যক্ত চা বাগান (derelict tea garden) এর অর্থ, একক ব্যবস্থাপনার অধীনে দখলীয় কোন ভূমিখণ্ড বা ভূমি খণ্ডসমূহের সমষ্টি যা চা চাষের কিংবা প্রস্তুত বা তৈরির উদ্দেশ্যে দখল করা হয়েছিল কিংবা যাতে চা এর ঝোপঝাড় বিদ্যমান ছিল কিংবা আছে এবং গভর্নমেন্ট যেগুলোকে পরিত্যক্ত চা বাগান হিসাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন এবং এরূপ ভূমির উপর যাবতীয় বিল্ডিংসও (এর) অন্তর্ভুক্ত। শর্ত হলো যে, ভূমিখণ্ড ও ভূমি খণ্ডসমূহ পরিত্যক্ত চা বাগান হিসাবে বিজ্ঞপ্তি প্রদানে গভর্নমেন্টের নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি বিবেচনা থাকা আবশ্যক-

(i) এরূপ ভূমি যা এর মোট পরিমাণের ১৫ ভাগের কম চা রোপণ করা হত কিনা এবং যার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পূর্বেকার ৫ বছর যাবৎ কোন চা রোপণ করা হত না ।

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক

 

১৯। হস্তাস্তর (Transfer)ঃ

স্টেট এর এও টেঃ এ্যাক্টের ৮২ ধারার (৭) উপ-ধারা অনুযায়ী, যখন স্পষ্টরূপে অন্য কোনরূপ ব্যবস্থা থাকা ব্যতিত, ব্যক্তিগত বিক্রি (Private Sale), বন্ধক (Mortgage), দান (Gift) অথবা কোন চুক্তি (Contract or Agreement) ‘হস্তান্তর’ এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ৮৯ ধারার (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ বন্টননামা (Partition) অথবা ‘বন্ধকী সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার বঞ্চিতকরণের আদেশ বা ডিক্রী না হওয়া পর্যন্ত (Decree of order absolute for foreclosure), সরল অথবা উপস্বত্ত্ব খাইখালাসী ( Usufructuary Mortgage) অথবা শর্তাধীন বিক্রী দ্বারা বন্ধক (by conditional sale Mortgage) ‘হস্তান্তর’ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

২০। কালেক্টরঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (৩) ক্লজ, কালেক্টর এর অর্থ, কোন জেলার কালেক্টর এবং ডেপুটি কমিশনার (জেলা প্রশাসক) এবং এই এ্যাক্ট অনুসারে কালেক্টরের সমুদয় বা যে কোন দায়িত্ব পালন করার জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত এরূপ অন্যান্য কর্মকর্তাগণও অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

২১। রেভিনিউ অফিসারঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ২ ধারার (২৪) ক্লজ. ‘রেভিনিউ অফিসার’ এর অর্থ, যে কোন অফিসার যাকে গভর্নমেন্ট এই এ্যাক্ট অথবা এর আওতাধীনে প্রণীত কোন বিধিসমূহ অনুসারে রেভিনিউ অফিসারের সমুদয় অথবা যে কোন দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য নিয়োগ করেন।

২২। ‘রেন্ট’ (Rent, খাজনা)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ২ ধারার (২২) ক্লজ, ‘রেন্ট’ বা ‘খাজনার’ অর্থ ‘প্রজা কর্তৃক দখলীয় ভূমি ব্যবহারের জন্য অথবা দখলের জন্য কোন প্রজা কর্তৃক তার ল্যাণ্ড লর্ডকে যা কিছু টাকায় বা দ্রব্যে দেয় বা প্রদেয়

২৩। ‘দায়’ (Encumbrance)ঃ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টে ১৯৫০-এর ২ (১০) ধারা ‘দায়’ এর অর্থ ‘কোন এস্টেট, টেনিউর হোল্ডিং, টেন্যান্সী অথবা ভূমি সম্পৰ্কীয় দায়, (Encumbrance) বলতে বুঝায় দখলকার কর্তৃক উক্ত এস্টেট, টেনিউর, হোল্ডিং, টেন্যান্সী কিংবা ভূমি এর উপর যে কোন বন্ধক, চার্জ, লিয়েন, সাব-টেন্যান্সী, ইজমেন্ট অথবা সৃষ্ট অন্যান্য অধিকার কিংবা স্বত্ব অথবা তথায় তার নিজ স্বার্থ সীমিতকরণ।

২৪। ল্যাণ্ড লর্ড (Land Lord)ঃ

নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৪৯ এর ২ ধারার (৩) ক্লজ, ‘ল্যাণ্ড লর্ড” এর অর্থ কোন ব্যক্তি যার অধীনে কোন অকৃষি প্রজা (টেন্যান্ট) রয়েছে ।

২৫। অকৃষি ভূমি (Non Agricultural Land)ঃ

গ্রিকালচারাল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৪৯ এর ২ ধারার (৪) ক্লজ অকৃষি ভূমির অর্থ, যে ভূমি ব্যবহারের উদ্দেশ্য’ কৃষি বা হর্টিকালচারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এবং অন্তর্ভুক্ত হবে, এরূপ যে কোন ভূমি যা লিজের (ইজারা) ভিত্তিতে দখলের উদ্দেশ্য’ কৃষি বা হর্টিকালচারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এরূপ কোন উদ্দেশ্যে এটা ব্যবহৃত হোক বা না হোক কিন্তু অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে না-

(এ) কোন বাস্তুভূমি (আবাস ভূমি) যার ক্ষেত্রে বেঙ্গল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৮৮৫ এর ১৮২ ধারার বিধি বিধানগুলো প্রয়োগ হয়,

(বি) যে ভূমি মূলতঃ কৃষি বা হর্টিকালচারের উদ্দেশ্যে লিজ প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু ল্যাণ্ড লর্ডের সুস্পষ্ট বা linplied সম্মতি ব্যতিত কৃষি বা হর্টিকালচারের সঙ্গে সম্পর্কহীন উদ্দেশ্যে’ ব্যবহৃত হয়, যদি যে সময়ের জন্য এই ভূমি ব্যবহৃত হয় তা ১২ বৎসরের কম হয়ে থাকে, এবং

(সি) যে, ভূমি দখলের উদ্দেশ্য’ চা আবাদ বা প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্তঃ

শর্ত থাকে যে, অকৃষি ভূমি নয় এরূপ ভূমি খণ্ড, ৭২ ধারায় প্রদত্ত আদেশের বলে পরিবর্তিত টেন্যান্সী যে ক্ষেত্রে এই এ্যাক্টের (নন-এগ্রিকালচারাল এই বিধিবিধান প্রযোজ্য হয়, এরূপ ভূমিকে অকৃষি ভূমি হিসেবে গণ্য করা হবে।

সংক্ষেপে ‘অকৃষি ভূমির অর্থ, যে ভূমি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কৃষি বা হর্টিকালচারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এরূপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ইজারার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এরূপ ভূমিকে অকৃষি ভূমি হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু নিম্নবর্ণিত ভূমিকে অকৃষি ভূমি হিসেবে গণ্য করা হবে না, যেমন-

(১) যে বাস্তুভূমির ক্ষেত্রে বেঙ্গল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৯৫ এর ১৮২ ধারা প্রযোজ্য হয়।

(২) যে ভূমি মূলতঃ কৃষি বা হর্টিকালচারের উদ্দেশ্যে লিজ প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু ল্যাণ্ড লর্ডের সুস্পষ্ট বা Implied সম্মতি ব্যতিত ১২ বৎসরের কম সময় ধরে উপরোক্ত ভূমি কৃষি বা হর্টিকালচারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্তহীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে, এবং

(৩) যে ভূমি ‘চা চাষাবাদ’ বা ‘চা তৈরি’-এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু শর্ত হলো এই যে, ভূমি অকৃষি ভূমি এরূপ ভূমিখণ্ডকে ৭২ ধারার আদেশের বলে পরিবর্তিত ভূমিকে অকৃষি ভূমি হিসেবে গণ্য করা হবে।

২৬। অকৃষি প্রজা (Non-Agricultural tenant)ঃ

নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৪৯-এর ২ ধারার (৫) ক্লজ ‘অকৃষি প্রজা’ এর অর্থ, এমন ব্যক্তি যিনি অন্য কোন বক্তির অধীনে উক্ত ব্যক্তির সম্মতিক্রমে অকৃষি ভূমি দখল করেন এবং বিশেষ চুক্তি ব্যতিত ঐ ভূমির জন্য উক্ত ব্যক্তিকে খাজনা (Rent) প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন এবং পূর্বোক্ত ব্যক্তির উত্তরাধীকারীগণও (Successors-in-interest) অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত হবে না এমন কোন ব্যক্তি যিনি এরূপ কোন ভূমি দখল করেন। যার উপর অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দখলকৃত কোন গৃহ বা গৃহাঙ্গন অবস্থিত রয়েছে, যদি এরূপ গৃহ এমন কোন ব্যক্তি কর্তৃক নির্মিত হয় অথবা স্বত্বাধীন হয় যার নিকট এরূপ দখলকারী বিশেষ কোন চুক্তি ব্যতিত দখলের জন্য ভাড়া (Rent) প্রদানের জন্য দায়ী বা দায়ী থাকেন।

ব্যাখ্যাঃ এই ক্লজে ‘গৃহ ও প্রাঙ্গন’ (Premises) এর অর্থ, যে কোন বিল্ডিং যেমন- বাড়ি, ফ্যাক্টরী, গুদাম, আস্তাবল, দোকান অথবা কুটির, যা রাজমিস্ত্রী দ্বারা নির্মিত ইট, কংক্রীট, কাঠ, কাদা, ধাতু বা অন্য যে কোন প্রকার উপাদন দ্বারাই নির্মিত হোক এবং এরূপ বিল্ডিং এর সংলগ্ন ভূমিও অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির অকৃষি ভূমি তার সম্মতিক্রমে তার অধীনে দখল করেন এই শর্তে যে উক্ত ভূমির জন্য খাজনা প্রদান করা হবে, এরূপ ব্যক্তিকে ও তার উত্তরাধিকারীগণ (Successors in interest) কেও অকৃষি প্রজা বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু উক্ত ব্যক্তির ভূমির উপর যদি কোন বাড়িঘর, দালান-কোঠা দোকান ইত্যাদিসহ সংলগ্ন ভূমি থাকে এবং এর দখলদার ভাড়া প্রদানের শর্তে এটা দখল করেন। তাহলে তিনি অকৃষি প্রজা হিসেবে গণ্য হবেন না। অর্থাৎ বাড়িঘর, কুটির, দোকান ইত্যাদির ভাড়াটিয়াদেরকে অকৃষি প্রজা হিসেবে গণ্য করা হয় না।

 

হোল্ডিং সাব-লেট প্রদান নিষিদ্ধ

এখানে উল্লেখ্য যে, স্টেট একুজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট-১৯৫০-এর ৯৩ ধারার (১) ও (২) উপ-ধারা অনুসারে, কোন রায়ত তার হোল্ডিং বা এর খত কিংবা অংশকে দরপত্তনী (Sub-let) দিতে পারবেন না, যদি দেন তাহলে হোল্ডিং-এ বা খণ্ডে কিংবা অংশে তার স্বত্ব লোপ পাবে এবং নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৪৯ এবং ২৬ (এ) ধারার (১) ও (২) উপ-ধারা অনুসারে, কোন অকৃষি প্রজা তার টেন্যান্সীর বা টেন্যান্সীর কোন অংশ দরপত্তনী (Sub let) দিতে পারবেন না, যদি দরপত্তনী দেন তা হলে উক্ত টেন্যান্সী বা টেন্যান্সীর অংশে তার স্বত্ব বিলুপ্ত হবে।

সরকার কর্তৃক জমিদারী দখলের প্রতিক্রিয়া

বেঙ্গল টেন্যান্সী-অ্যাক্ট, ১৮৮৫ (বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫) বলে জমিদারগণ এদেশের ভূমির প্রকৃত মালিক ছিলেন এবং প্রজাগণ খাজনা প্রদান পূর্বক জমি দখল ভোগ করতেন। স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০ (জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০) এর ৩(১) ধারা বলে সরকার দেশের সকল জমিদারী দখল গ্রহণ করেন এবং ৩(৪) (ই) ধারা মোতাবেক, জামিদারগণের সরাসরি অধীনস্ত এস্টেট, ভালুক, টেনিউর, হোল্ডিং কিংবা টেন্যান্সী এর ভূমি দখলকারী প্রজাগণ (tenant ) সরকারের সরাসরি অধীনে প্রজা হিসাবে পরিগণিত হবেন এবং তাদের দখলীয় খাজনাযোগ্য ভূমির জন্য প্রচলিত হারে সরকার ছাড়া আর কাউকে খাজনা প্রদান। করবেন না।

বেঙ্গল টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৮৮৫ (বি. টি অ্যাক্ট) মোতাবেক প্রস্তুত খতিয়ানগুলোর (C. S. Khatian) বিশুদ্ধতা সম্পর্কিত উক্ত অ্যাক্টের ১০৩ বি (৫) ধারার ইংরেজীর এবং তার বাংলা অনুবাদ নিম্নে প্রদান করা হলো- Section 103 B, Sub- Section (5): Every entry in a record of rights finally published shall be evidence of the matter referred to in such entry, and shall be presumed to be correct until it is proved by evidence to be incorrect.

১০৩ বি ধারার (৫) উপ-ধারা চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড অব রাইটস-এর প্রতিটি এন্ট্রি (entry) উক্ত এন্ট্রি সম্পর্কিত বিষয়ের সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং সাক্ষা দ্বারা অশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত এটা শুদ্ধ বলে ধরে নিতে হবে।

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর অধীনে খতিয়ানগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে উক্ত এ্যাক্টের ১৯(৩) ধারাটির ইংরেজি উদ্ধৃতি নিম্নে প্রদান করা হলোঃ

এস. এ. খতিয়ানের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ১৯(৩) ধারাঃ

Section 19(3) When all such objections and appeals have been considered and disposed of according to such rules as the [Government] may make in this behalf the Revenue Officer shall finally frame the record and shall cause such record to be finally published in the prescribed manner and the publication shall be conclusive evidence that the record has been duly prepared or revised under this Chapter.

বাংলা অনুবাদ ১৯ ধারার (৩) উপ-ধারা- সরকার এই উদ্দেশ্যে যে বিধান প্রণয়ন। করবেন সে মোতাবেক, যখন এরূপ সকল আপত্তি ও আপীলসমূহ বিবেচিত ও নিষ্পত্তি হবে তখন রেভিনিউ অফিসার রেকর্ডকে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করবেন এবং নির্ধারিত পস্থায় উক্ত রেকর্ডগুলো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ (প্রচার) করবেন এবং উক্ত প্রচার এই মর্মে চূড়ান্ত (Conclusive) সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে যে এই অধ্যায়ের অধীনে উক্ত রেকর্ড যথার্থভাবে প্রস্তুত এবং সংশোধিত (revised) হয়েছে।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র

আজকে আমরা ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইন

  • ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রারম্ভিক
  • ভূমি বিক্রয় ও অন্যান্য বৈধ হস্তান্তর বিষয়ক কতিপয় প্রয়োজনীয়
  • ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
  • জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
  • কৃষিভূমি প্রি-এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
  • অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান
  • অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
  • অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা
  • গোরস্থান, শ্মশানসহ, ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন
  • জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
  • একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
  • ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
  • জমির নামজারী (Mutation)
  • নামজারী জমাখারিজ সংক্রান্ত বিধানাবলী, ১৯৯০

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র

 

  • ভূমি প্রশাসন ম্যানুয়ালের নামজারী
  • ভূমি প্রশাসন বোর্ড
  • ১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন
  • দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন
  • তামাদি আইন
  • বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
  • স্ট্যাম্প ডিউটি
  • জমি-জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান
  • ওয়াকফ কেন, কিভাবে করবেন
  • মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
  • একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা
  • উত্তরাধিকার আইন
  • হিন্দু উত্তরাধিকার আইন
  • খ্রিস্টান উত্তরাধিকার আইন
  • বৌদ্ধ উত্তরাধিকার আইন

 

ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইনের সূচীপত্র

 

খতিয়ান ও কড়া ক্রান্তি

  • বিভিন্ন খতিয়ান দেখে এর হিস্যা বা অংশ বন্টন পদ্ধতি
  • খতিয়ানের ৭ ভাগ
  • খতিয়ানের অংশ অনুযায়ী প্রকৃত জমির পরিমাণ বের করার পদ্ধতি
  • খতিয়ানের হিস্যার হিসাব
  • বর্গফুট হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র (দেশীয় হিসাব)
  • কানি গণ্ডায়
  • বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র
  • একর শতকের সূত্রাবলী
  • প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা
  • বিঘা কাঠার সূত্রাবলী
  • কাভাকানিতে জমির পরিমাণ
  • একর শতকে জমির পরিমাণ
  • বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 
  • লিংক-কে ফুট/ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি
  • এয়র হেক্টরের সূত্র
  • ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
  • কড়া বিভাগ
  • আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

  • দশমিকের হিসাব
  • দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
  • একটি খতিয়ান
  • খতিয়ান নং ৩০
  • খতিয়ান নং ৪০
  • খতিয়ান নং ৫০
  • খতিয়ান নং ৬০
  • খতিয়ান নং ৭০
  • খতিয়ান নং ৮০
  • খতিয়ান নং ৯০
  • খতিয়ান নং ১০০
  • খতিয়ান নং ১১০

কারা আইন প্রাথমিক ১

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা আইন প্রাথমিক ১

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

কারাগার সংক্রান্ত আইন সংশোধনের নিমিত্ত একটি আইন। যেহেতু বাংলাদেশের কারাগার সংক্রান্ত আইনসমূহ সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, এবং কারাগারগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধি প্রণয়ন আবশ্যক; সেহেতু নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

১। শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন।-

           (১) এই আইন কারা আইন, ১৮৯৪ নামে অভিহিত হইবে ।

          (২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ।

          (৩) ইহা ১৮৯৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম তারিখ হইতে বলবৎ হইবে ।

          (৪) বাতিল ।

২ । বাতিল।

 

৩। সংজ্ঞাসমূহ।- এই আইনে-

      (১) “কারাগার” অর্থ কোন জেলখানা বা স্থান যাহা স্থায়ী বা সাময়িক ভাবে সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে বন্দীদের আটক রাখিবার জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং এই উদ্দেশ্যে ইহার অংশ স্বরূপ ব্যবহৃত সকল সকল জমি এবং স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হইবে, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত হইবে না- 

(ক) কেবল মাত্র পুলিশের হেফাজতে বন্দীদের আটকের জন্য কোন স্থান;

(খ) কোন স্থান, যাহা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৪১ ধারার অধীনে সরকারের বিশেষ আদেশে স্থাপিত; বা

(গ) কোন স্থান, যাহা সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে সাব-সিডিয়ারী জেল হিসেবে ঘোষিত হইবে; 

        (২) ‘ফৌজদারি বন্দী’ অর্থ কোন আদালত বা ফৌজদারি কর্তৃত্ব সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে বা কোর্ট মার্শালের আদেশে যথাযথভাবে আটক কোন বন্দী; 

        (৩) ‘সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী’ অর্থ কোন আদালত বা কোর্ট মার্শাল কর্তৃক সাজা প্রাপ্ত কোন ফৌজদারি বন্দী, এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর অষ্টম অধ্যায়ের বিধানের অধীনে, বা, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের অধীনে কারাগরে আটক কোন বন্দী।

        (৪) ‘সিভিল বন্দী’ অর্থ কোন বন্দী যে ফৌজদারি বন্দী নয়; 

        (৫) ‘রেয়াত ব্যবস্থা’ অর্থ চলমান সময়ে কার্যকর বিধান অনুযায়ী কারাগারে আটক বন্দীদের দণ্ডের মেয়াদ হ্রাস করিবার ব্যবস্থা;

        (৬) ‘হিস্ট্রি – টিকেট’ অর্থ এই আইনে বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধানের চাহিদা মতে প্রত্যেক বন্দীর তথ্যাদি প্রদর্শন করে এমন টিকেট;

        (৭) ‘মহাপরিদর্শক’ অর্থ কারাগার সমূহের মহাপরিদর্শক;  

 

কারা আইন প্রাথমিক ১

 

        (৮) ‘মেডিকেল অধস্তন’ অর্থ একজন সহকারী সার্জন, ঔষধ প্রস্তুত কারী বা যোগ্যতা সম্পন্ন হাসপাতাল সহকারী; এবং 

        (৯) ‘নিষিদ্ধ দ্রব্য 9 অর্থ কোন দ্রব্য যা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করানো অথবা কারাগার হইতে বাহির করা এই আইনের অধীনে যে কোন বিধিতে নিষেধ ।

শিশু আইন বিবিধ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু আইন বিবিধ

শিশু আইন বিবিধ

 

শিশু আইন বিবিধ

 

৬৬। বয়স অনুমান ও নির্ধারণ।-

(১) অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হইয়া বা না হইয়া কোন ব্যক্তি সাক্ষ্যদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত প্রকারান্তরে কোন ফৌজদারি আদালতে আনীত হইলে, এবং আদালতের নিকট তাহাকে শিশু বলিয়া প্রতীয়মান হইলে আদালত উক্ত ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং তদুদ্দেশ্যে মামলার শুনানিকালে যে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় তাহা গ্রহণ করিবেন এবং তাহার বয়সের যতদূর সম্ভব কাছাকাছি বর্ণনা দিয়া উক্ত তদন্ত ফল লিপিবদ্ধ করিবেন।

(২) আদালতের আদেশ অথবা রায় এইরূপ ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে আদালত কর্তৃক বর্ণিত হয় নাই বলিয়া পরবর্তীকালে প্রমাণ পাওয়া গেলেও বাতিল হইবে না এবং আদালতে হাজিরকৃত ব্যক্তির বয়স বলিয়া আদালত কর্তৃক অনুমিত বা ঘোষিত বয়স এই আইনের উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তির প্রকৃত বয়স বলিয়া গণ্য হইবে এবং যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, হাজিরকৃত ব্যক্তির বয়স ১৬ বৎসর বা তদূর্ধ সেক্ষেত্রে এই ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্যে শিশু বলিয়া গণ্য হইবে না ।

৬৭। খালাস।-

(১) সরকার যে কোন সময়ে কোন শিশু অথবা বাল- অপরাধীকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে সম্পূর্ণভাবে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে খালাসের আদেশ প্রদান করিতে পারেন। 

(২) সরকার যে কোন সময়ে, কোন শিশুকে যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এই আইনের অধীনে সোপর্দ করা হয়, তাহার নিকট হইতে সম্পূর্ণভাবে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে মুক্তি দিতে পারেন। 

৬৮ । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বদলি।-

(১) সরকার কোন শিশু অথবা বাল-অপরাধীকে এক প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে অন্য প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাসে বদলির আদেশ দিতে পারেন।

(২) প্রধান পরিদর্শক কোন শিশুকে এ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস হইতে অন্য প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাসে বদলির আদেশ দিতে পারেন ।

৬৯। মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য ক্ষতিপূরণ।-

(১) ৬১ ধারার বিধানের অধীনে কোন ব্যক্তি যে মামলা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করিয়াছে সেই মামলা সম্পর্কে আদালত ইহার মতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করিবার পর যদি মনে করেন যে, এইরূপ তথ্য মিথ্যা এবং তুচ্ছ এবং বিরক্তিকর তাহা হইলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া নির্দেশ দিবেন যে এইরূপ তথ্য সরবরাহকারী, যাহার বিপক্ষে উক্ত তথ্য প্রদান করিয়াছে তাহাকে অনূর্ধ্ব ১০০ টাকা পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ আদালত নির্ধারণ করিবে সেই পরিমান অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদান করিবে ।

(২) ক্ষতিপূরণ দানের আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত, তথ্য প্রদানকারী উক্ত ক্ষতিপুরণ কেন প্রদান করিবেন না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য তাহাকে আহবান জানাইবেন এবং তথ্য প্রদানকারী কোন কারণ দর্শাইলে তাহা বিবেচনা করিয়া দেখিবেন।

(৩) ক্ষতিপূরণ দানের নির্দেশমূলক আদেশ দ্বারা আদালত আরও আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অনুরূপ ক্ষতিপুরণ দানে ব্যর্থ ব্যক্তি অনধিক ৩০ দিনের মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করিবে ।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীনে কোন ব্যক্তি কারাদণ্ড প্রাপ্ত হইলে দণ্ড বিধির (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) ৬৮ ও ৬৯ ধারার বিধানাবলী যতদূর সম্ভব ততদূর প্রযোজ্য হইবে।

(৫) এই ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ দানের জন্য আদিষ্ট ব্যক্তি এইরূপ আদেশ প্রাপ্তির কারণে উক্ত তথ্য সংক্রান্ত কোন দেওয়ানী দায়-দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি পাইবে না, তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদত্ত যে কোন অর্থ এহেন বিষয় সম্পর্কিত কোন পরবর্তীকালীন দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে হিসাবের অর্ন্তভুক্ত হইবে, বিবেচনা করা হইবে।

৭০। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অযোগ্যতা নিরসন।-

শিশু কোন অপরাধ করিয়া ফেলিয়াছে এই অবস্থায় তাহাকে পাওয়া গেলে তাহার অপরাধ সংঘটনের ঘটনা দণ্ড বিধির ৭৫ ধারার অধীনে অথবা কার্যবিধির ৫৬৫ ধারার অধীনে কার্যকর হইবে না, অথবা কোন অফিসে চাকরি বা আইনের অধীনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসাবে কাজ করিবে না । 

৭১। ‘সাজা’ এবং ‘দণ্ডিত’ শব্দগুলি শিশুদের সম্পর্কে ব্যবহৃত হইবে না।-

এই আইনে যেইরূপ বিধান করা হইয়াছে সেইরূপে ব্যতীত, এই আইনের অধীনে যে সকল শিশু ও বাল অপরাধী সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহাদের ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত এবং দণ্ডিত শব্দগুলির ব্যবহার চলিবে না এবং কোন আইনে কোন ব্যক্তির সম্পর্কে দোষী সাব্যস্ত অথবা দণ্ডাদেশ বলিতে শিশু অথবা বাল-অপরাধীর ক্ষেত্রে কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্তকরণ অথবা উহার উপর প্রদত্ত কোন আদেশ বুঝিতে হইবে বা ব্যাখাত হইবে ।

৭২। শিশুর উপর জিম্মাদারের নিয়ন্ত্রণ।-

এই আইনের বিধানাবলীর অধীনে যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে শিশুকে সোপর্দ করা হইয়াছে, সেই ব্যক্তি শিশুটিকে উহার পিতার ন্যায় নিয়ন্ত্রণ করিবেন এবং তাহার ভরণপোষণের জন্য দায়ী থাকিবেন, এবং শিশুটিকে তাহার পিতামাতা অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি দাবী করা সত্ত্বেও আদালত কর্তৃক বর্ণিত সময়ের জন্য শিশুটি অব্যাহত ভাবে উক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকিবে ।

৭৩। এই আইনের অধীনে গৃহীত মুচলেকা।

কার্যবিধির ৪২ অধ্যায়ের বিধানাবলী যতদূর সম্ভব, হইবে । এই আইনের অধীনে গৃহীত মুচলেকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

 

৭৪ । প্রধান পরিদর্শক, প্রবেশন অফিসার, প্রভৃতি সরকারী কর্মচারী।-

প্রধান পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শকগণ, প্রবেশন অফিসারগণ এবং এই আইনের কোন বিধানের অধীনে কাজ করিতে অনুমতি প্রদত্ত অথবা অধিকার প্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি দণ্ড বিধির (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ২১ ধারার অর্থ অনুযায়ী গণ কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন।

৭৫। এই আইনে গৃহীত ব্যবস্থার হেফাজত।-

এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন কাজ করিয়া থাকিলে বা করার অভিপ্রায় করিলে তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা মামলা অথবা আইনানুগ কার্যধারা রুজু করা চলিবে না ।

৭৬। আপীল ও পুনর্বিচার।-

(১) কার্যবিধিতে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই আইনের বিধানাবলীর অধীনে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের উপর আপীল করা চলিবে-

(ক) দায়রা আদালতে, যদি আদেশটি কোন শিশু আদালত অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত কোন ম্যাজিষ্ট্রেট প্রদান করিয়া থাকেন ; এবং 

(খ) হাইকোর্ট বিভাগে, যদি আদেশটি কোন দায়রা জজ আদালত অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজের আদালত অথবা সহকারী দায়রা জজের আদালত প্রদান করিয়া থাকেন। 

(২) এই আইনের অধীনে কোন আদালত-কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ পুনর্বিচার করার জন্যে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করিবে না ।

৭৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।-

(১)সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

(২) পূর্বোক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া বিশেষ করিয়া নিম্ন লিখিত বিষয়ে বিধান করিতে পারিবেন –

                (ক) কিশোর আদালত এবং ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত অন্যান্য আদালত-কর্তৃক এই আইনের অধীনে মামলার বিচার ও কার্যধারার শুনানির জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি ;

                (খ) ধারা ৭(১) এর অধীনে কিশোর আদালতের এজলাসের স্থান, তারিখ ও পদ্ধতি ; 

                (গ) এই আইনের উদ্দেশ্যে যে সকল শর্ত সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহ শিল্প বিদ্যালয়সমূহ অথবা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রত্যায়ন অথবা অনুমোদিত আবাসকে স্বীকৃতিদান করা যাইবে সেই শর্তাবলী             

                (ঘ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের সংস্থাপন, প্রত্যয়ন, ব্যবস্থাপনা রক্ষনাবেক্ষণ, রেকর্ড ও হিসাব রক্ষণ সংক্রান্ত ;

                (ঙ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট সমূহের বাসিন্দাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং তাহাদের অনুপস্থিতি হেতু ছুটি ;

                (চ) পরিদর্শকগণের নিয়োগ ও চাকরির মেয়াদ ;

                (ছ) প্রত্যায়িত ইষ্টিটিউট ও অনুমোদিত আবাসসমূহের পরিদর্শন ; 

                (জ) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট ও অনুমোদিত আবাসসমূহের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা ; 

                (ঝ) যে সকল শর্ত সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহকে ১৪ (২) ধারার উদ্দেশ্যে অনুমোদিত স্থানরূপে স্বীকৃতি দান করা হইবে ; ;

                (ঞ) প্রধান পরিদর্শক ও প্রবেশন অফিসারের ক্ষমতা ও কতর্ব্য

                (ট) ৩২ ও ৫৫ ধারার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান পদ্ধতি; 

                (ঠ) ৫৮ ধারার অনুবিধির অধীনে প্রদেয় মুচলেকার ফরম;

                (ড) শিশুকে ৬১ (১) ধারার অধীনে নিরাপদ স্থানে পাঠাইবার পদ্ধতি ;

                (ঢ) শিশুর ভরণ পোষণের জন্য অবদান রাখিতে ;

                (ণ) ৬৪ ধারার অধীনে শিশুকে লাইসেন্সমূলে খালাস দেওয়ার শর্তাবলী এবং এইরূপ লাইসেন্সের ফরম;

                (ত) শিশুকে এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের শর্তাবলী এবং সোপর্দকৃত শিশুর প্রতি এইরূপ ব্যক্তির বাধ্যবাধকতা ; এবং 

                (থ) গ্রেফতারকৃত অথবা বিচারের জন্য পুলিশ হেফাজতে প্রেরিত শিশুকে আটক রাখার পদ্ধতি।

৭৮ । রহিতকরণ, ইত্যাদি।-

(১) বেঙ্গল চিলড্রেন এ্যাক্ট, ১৯২২(১৯২২ সনের ২ নং আইন) এতদ্বারা রহিত করা হইল ।

(২) যে এলাকায় এই আইন ১(২) ধারার অধীনে বলবৎ করা হয় সেই এলাকায় বলবৎ এর তারিখ হইতে রিফরমেটরী স্কুল আইন,১৮৯৭(১৮৯৭ সনের ৮ নং আইন) রহিত করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

 

শিশু আইন বিবিধ

 

(৩) যে এলাকায় এই আইন বলবৎ করা হইবে সেই এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯-খ এবং ৩৯৯ ধারার বিধানাবলীর প্রয়োগ রহিত হইবে।

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

৬২। পিতা-মাতার অবদান।-

(১) যে আদালত কোন শিশু বা বাল- অপরাধীকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে আটক রাখা অথবা তাহার কোন আত্মীয় কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করার আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত উক্ত শিশু বা বাল-অপরাধীকে ভরণপোষণের জন্য দায়ী পিতা-মাতা বা অন্য ব্যক্তিকে তাহার ভরণপোষণের জন্য সমর্থ হইলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অবদান রাখিতে আদেশ প্রদান করিতে পারেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত শিশু বা বাল অপরাধীর ভরণ পোষণের জন্য দায়ী পিতা-মাতা অথবা অন্য ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং যদি কোন সাক্ষাৎ প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তাহা ক্ষেত্রমত পিতামাতা অথবা এইরূপ অন্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে লিপিবদ্ধ করিবেন।

(৩) এই ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ, আদালতের নিকট দায়ীপক্ষের আবেদনক্রমে বা পক্ষান্তরে আদালত কর্তৃক রদবদল হইতে পারে। 

(৪) শিশু কিংবা বাল-অপরাধীকে ভরণপোষণ করার জন্য দায়ী ব্যক্তির মধ্যে এই ধারার উদ্দেশ্যে জারজত্বের ক্ষেত্রে অনুমিত পিতা অর্ন্তভুক্ত হইবে : 

তবে শর্ত থাকে যে, শিশু বা বাল অপরাধী জারজ হইলেও তাহার ভরণপোষণের জন্য কার্যবিধির ৪৮৮ ধারার অধীনে আদেশ প্রদান করা হইয়া থাকিলে আদালত সাধারণত অনুমিত পিতার বিরুদ্ধে অবদান রাখার আদেশ দিবেন না কিন্তু ভরণপোষণ জন্য উক্ত আদেশের অধীনে পাওনা সমুদয় অর্থ কিংবা উহার অংশ বিশেষ আদালত যাহার নাম উল্লেখ করিবেন তাহাকে প্রদান করিতে পারেন এবং এই অর্থ শিশু অথবা বাল-অপরাধীর ভরণপোষণের জন্য প্রয়োগ করিতে হইবে।

৬৩। ধর্ম সংক্রান্ত বিধান।-

(১) এই আইনের অধীনে শিশুকে যে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অনুমোদিত আবাস অথবা উপযুক্ত ব্যক্তি অথবা অন্য ব্যক্তির নিকট শিশুকে সোপর্দ করা হইবে তাহা নির্ধারণের জন্য আদালত শিশুর ধর্মীয় নাম বা আখ্যা নিরূপণ করিবেন এবং এইরূপ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট, অনুমোদিত আবাস অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নিবার্চনকালে শিশুর নিজ ধর্মে শিক্ষা-দীক্ষার জন্য যে সকল সুবিধা প্রদত্ত হয় উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে।

(২) শিশুকে যে ক্ষেত্রে এইরূপ কোন প্রত্যায়ত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করা হয় যেখানে তাহার নিজ ধর্ম সংক্রান্ত শিক্ষা-দীক্ষার কোন সুযোগ-সুবিধা নাই অথবা এইরূপ কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা হয় যিনি শিশুকে তদীয় ধর্মমতে পালন করিবার জন্য কোন বিশেষ সুযোগ দিতে পারেন না সে ক্ষেত্রে এইরূপ প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের কর্তৃপক্ষ অথবা উপযুক্ত ব্যক্তি শিশুকে তাহার নিজ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম অনুযায়ী লালন-পালন করিবেন না ।

(৩) যে ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শকের দৃষ্টিগোচর করা হয় যে, (২) উপ- ধারার বিধান ভঙ্গ করা হইয়াছে সে ক্ষেত্রে তিনি প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অনুমোদিত আবাস অথবা উপযুক্ত ব্যক্তির জিম্মা হইতে শিশুটিকে তাহার মতে অন্য কোন উপযুক্ত প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে বদলি করিবেন।

 

৬৪ । লাইসেন্সমূলে বাহিরে প্রেরণ।-

(১) কোন বাল-অপরাধী বা শিশু কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাসে আটক থাকাকালে, উক্ত ইনষ্টিটিউটে অথবা আবাসের ব্যবস্থাপকগণ যে কোনা সময়ে প্রধান পরিদর্শকের সম্মতি লইয়া, লাইসেন্সমূলে, শিশুকে হিতকর বৃত্তি বা পেশায় গ্রহণ করিতে আগ্রহী লাইসেন্সে উল্লেখিত কোন বিশ্বাসভাজন এবং সম্মানিত ব্যক্তির সহিত বাস করিতে নির্ধারিত শর্তে অনুমতি দিতে পারিবেন। 

(২) এইরূপে মঞ্জুরকৃত কোন লাইসেন্স, যে সকল শর্তে উহার মঞ্জুর করা হইয়াছিল উহার কোন একটি শর্ত ভঙ্গের কারণে প্রত্যাহারকৃত অথবা বাজেয়াপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে । 

(৩) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসের ব্যবস্থাপকগণ যে কোন সময় লিখিত আদেশ দ্বারা এইরূপ কোন লাইসেন্স প্রত্যাহার করিতে এবং বাল অপরাধী বা শিশুকে ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে ফিরিয়া যাইতে আদেশ দিতে পারেন এবং বাল অপরাধী বা শিশুকে, যাহার দায়িত্বে ন্যস্ত করার লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে তাহার অভিপ্রায় অনুযায়ী অনুরূপ আদেশ প্রদত্ত হইবে ।

(৪) যদি বাল-অপরাধী বা শিশু প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে ফিরিয়া যাইতে অস্বীকার করে বা ব্যর্থ হয় তাহা হইলে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে ব্যবস্থাপকগণ প্রয়োজন হইলে শিশুকে গ্রেফতার করিতে অথবা করাইতে পারিবে এবং তাহাকে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে ফেরত লইতে বা লইবার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।

(৫) এই ধারা অধীনে প্রদত্ত লাইসেন্স অনুসরণে কোন বাল-অপরাধী বা শিশু যতদিন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাসে অনুপস্থিত থাকে সেই সময় কাল ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট অথবা আবাসে তাহার আটক থাকাকালের অংশ বিশেষ বলিয়া গণ্য হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, লাইসেন্স প্রত্যাহার বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার কারণে যখন বাল-অপরাধী বা শিশু ক্ষেত্রমত ইনষ্টিটিউট বা আবাসে ফিরিয়া যাইতে ব্যর্থ হয় এইরূপ ব্যর্থতার পর যে সময় অতিবাহিত হয় তাহা, যে সময়ে সে ক্ষেত্র মত ইনষ্টিটিউটে বা আবাসে আটক ছিল সেই সময়ের সহিত একত্রে হিসাব করা হইতে বাদ যাইবে ।

৬৫। পলাতক শিশু সম্পর্কে পুলিশের কার্য ব্যবস্থা।-

(১) আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের বিপরীতে কিছু থাকা সত্ত্বেও কোন পুলিশ অফিসার, কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা অনুমোদিত আবাস অথবা যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকার জন্য শিশুকে নির্দেশ দান করা হইয়াছিল তাহার তত্ত্বাবধান হইতে পলাতক শিশু অথবা বাল-অপরাধীকে পরোয়ানা ব্যতীতই গ্রেফতার করিতে পারিবেন,

এবং উক্ত শিশু বা বাল-অপরাধীর কোন অপরাধ রেজিস্ট্রিভূক্ত না করিয়া বা তাহার বিরুদ্ধে মামলা না চালাইয়া তাহাকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাস কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিকট ফেরত পাঠাইবেন এবং এইরূপে পলাতক হওয়ার কারণে উক্ত শিশু অথবা বাল-অপরাধী কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

 

সোপর্দকৃত শিশুদের ভরণপোষণ ও তাহাদের পরিচালনা

 

(২) প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট বা অনুমোদিত আবাস হইতে পলাতক শিশুকে গ্রেফতার করা হইলে তাহাকে ক্ষেত্রমত উক্ত ইনষ্টিটিউট বা আবাসে অপসারণ করা সাপেক্ষে কোন নিরাপদ স্থানে আটক রাখা হইবে।

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা | শিশু আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

৫৫। শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখা।-

(১) কোন প্রবেশন অফিসার অথবা কম পক্ষে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরের পদমর্যাদা সম্পন্ন পুলিশ অফিসার অথবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি যে কোন শিশু যাহার সম্পর্কে এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছে যে, সে অপরাধ করিয়াছে বা করিতে পারে বলিয়া সম্ভাবনা রহিয়াছে তাহাকে কোন নিরাপদ স্থানে লইয়া যাইতে পারে ।

(২) যে শিশু কোন নিরাপদ-স্থানে এরূপে আনীত হইয়াছে তাহাকে এবং যে শিশু নিরাপদ স্থানে আশ্রয় লাভ করিতে চায় তাহাকেও আদালতে হাজির না করা পর্যন্ত আটক রাখা যাইতে পারে :

তবে শর্ত থাকে যে, আদালতের কোন বিশেষ আদেশ না থাকিলে, এইরূপ আটক রাখার মেয়াদ ২৪ ঘন্টার অধিক হইবে না, আটক স্থান হইতে আদালত পর্যন্ত যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় উক্ত মেয়াদ বর্হিভূত থাকিবে । 

(৩) আদালত তাহার উপর অতঃপর বর্ণিত আদেশ প্রদান করিতে পারেন।

৫৬। শিশুর যত্ন এবং আটক রাখার ব্যাপারে আদালতের ক্ষমতা।-

(১) যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উহার সমক্ষে হাজিরকৃত কোন শিশু সম্পর্কে এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছে যে, সে ৫৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করিয়াছে বা করিবে বলিয়া সম্ভাবনা রহিয়াছে এবং তাহার স্বার্থে এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন তাহা হইলে আদালত,

শিশুটি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটনের অপরাধে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য যুক্তি সঙ্গত সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে তত্ত্বাবধান করা ও আটক রাখার জন্য অথবা প্রয়োজন মোতাবেক অন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয় উহার চাহিদা অনুযায়ী আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন ।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত আটকাদেশ, উক্ত উপধারায় উল্লিখিত অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলার পরিসমাপ্তি, দোষী সাব্যস্ত হওয়া, অব্যাহতি প্রদান কিংবা খালাস দেওয়ার মাধ্যমে না ঘটা পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে ।

(৩) কোন ব্যক্তি শিশুর অভিভাবকত্ব দাবী করা সত্ত্বেও এই ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ কার্যকর করা হইবে।

৫৭। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে।-শিশু সম্পর্কে অপরাধ সংঘটনের জন্য কোন ব্যক্তি যে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয় অথবা অনুরূপ কোন অপরাধের বিচারের জন্য কোন ব্যক্তিকে যে আদালতে হাজির করা হয় সেই আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে কোন কিশোর আদালতে অথবা যেখানে কোন কিশোর আদালত নাই ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালতে হাজির হইবার নির্দেশ দিবেন, যাহাতে উক্ত আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারেন ।

 

৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুকে সোপর্দের আদেশ।

যে আদালতে ৫৭ ধারা অনুযায়ী কোন শিশুকে পেশ করা হয় সেই আদালত আদেশ দিতে পারেন যে,

                (ক) শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আরও সংশ্লিষ্ট মেয়াদের জন্য এইরূপ সংক্ষিপ্ততর মেয়াদের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া শিশুটিকে প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউট অথবা কোন অনুমোদিত আবাসে সোপর্দ করিতে হইবে, অথবা

                (খ) শিশুর আত্নীয় কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তি শিশুর যথা যথ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ এবং হেফাজত করিতে এবং প্রয়োজন হইলে অনধিক ৩ বৎসরের জন্য তত্ত্বাবধান করা সহ অন্যান্য যে সকল শর্ত আদালত শিশুর স্বার্থে আরোপ করিতে পারে সেই সকল শর্ত পালন করিতে আগ্রহী এবং সক্ষম এই মর্মে

জামিনে আদালত যেরূপ নির্দেশ দিবেন সেইরূপে মুচলেকা দানের পর শিশুকে উক্ত আত্মীয় বা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিতে হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, যদি শিশুটির পিতামাতা অথবা অভিভাবক থাকে যিনি,

আদালতের মতে শিশুর যথাযথ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজত করার জন্য উপযুক্ত বা সক্ষম তবে আদালত শিশুটিকে তাহার জিম্বায় রাখিতে অনুমতি দিতে পারেন অথবা তিনি নির্ধারিত ফরমে এবং যে সকল শর্ত আদালত শিশুর স্বার্থে আরোপ করিতে পারেন সেই সকল শর্ত পূরণের জন্য জামানতসহ বা বিনা জামানতে একটি মুচলেকা প্রদান করিলে আদালত শিশুকে তাহার তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিতে পারে।

৫৯। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের তত্ত্বাবধান।

যে আদালত পূর্ববর্তী বিধানাবলীর অধীনে শিশুকে তাহার পিতা-মাতা অভিভাবক অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত আরও আদেশ দিতে পারেন যে, তাহাকে তত্ত্বাবধানে রাখিতে হইবে ।

৬০। তদারক ভঙ্গ।

প্রবেশন অফিসারের নিকট হইতে অন্য প্রকারে রিপোর্ট পাইয়া যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, যে শিশু সম্পর্কে তদারকী আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, সেই শিশু সম্পর্কিত আদেশ ভঙ্গ করা হইয়াছে তাহা হইলে আদালত যেরূপ তদন্ত করা উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপ তদন্তের পর কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে শিশুটিকে আটক রাখিবার আদেশ দিতে পারেন ।

৬১। শিশুর তল্লাশী পরোয়ানা।-

(১) কিশোর আদালত অথবা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালতের নিকট যদি যে ব্যক্তি শিশুর স্বার্থে কাজ করিতেছে তৎকর্তৃক শপথ গ্রহণ পূর্বক ও দৃঢ়চিত্তে ঘোষিত তথ্য হইতে প্রতীয়মান হয় যে, শিশুটি সম্পর্কে একটি অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে অথবা জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে সংঘটিত হইবে বলিয়া সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে তাহা হইলে আদালত এইরূপ শিশুকে তল্লাশী করিবার জন্য এবং যদি দেখা যায় যে,

ইতিপূর্বে বর্ণিত পন্থায় শিশুর সহিত ইচ্ছাকৃত ভাবে দুর্ব্যবহার করা বা তাহাকে অবহেলা করা হইয়াছে বা হইতেছে অথবা শিশুটি সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে তবে তাহাকে আদালতে হাজির করিতে না পারা পর্যন্ত কোন নিরাপদ স্থানে লইয়া যাইয়া আটক রাখিবার জন্য কোন পুলিশ অফিসারকে কর্তৃত্ব প্রদান করিয়া একটি পরোয়ানা উহাতে তাহার নাম উল্লেখ পূর্বক জারী করিতে পারিবেন। যে আদালতে শিশুটিকে হাজির করা হয় সেই আদালত প্রথমতঃ তাহাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন নিরাপদ স্থানে প্রেরণ করিতে পারেন।

(২) এই ধারার অধীনে সমন প্রদানকারী আদালত উক্ত সমন দ্বারা নির্দেশ দিতে পারেন যে শিশুটি সম্পর্কে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়া উহার নিকট হাজির করিতে হইবে অথবা নির্দেশ দিতে পারেন যে, যদি এইরূপ ব্যক্তি এই মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করেন যে, তিনি আদালত কর্তৃক অন্য কোন প্রকার নির্দেশ প্রদত্ত না হওয়া পর্যন্ত সময়ে এবং তাহার পর আদালত হাজিরা দিতে থাকিবেন তাহা হইলে যে অফিসারের নিকট সমনটি প্রদান করা হইয়াছে তিনি উক্ত জামানত গ্রহণ করিবেন এবং সেই ব্যক্তিকে হাজত হইতে মুক্তি দেবেন।

(৩) তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি সমন কার্যকরী পুলিশ অফিসারের সঙ্গে থাকিবেন। যদি তিনি ইহা চাহেন এবং সমন প্রদানকারী আদালত যদি নির্দেশ দেন তাহা হইলে তাহার সঙ্গে একজন যথাযথভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তারও থাকিবেন।

 

শিশু এবং বাল-অপরাধীদেরকে আটক, ইত্যাদির ব্যবস্থা

 

(৪) এই ধারার অধীনে কোন তথ্য অথবা সমনে শিশুটির নাম জানা থাকিলে উল্লেখ করিতে হইবে।