Category Archives: আইন

আইন

একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

 

একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা
একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

 

একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

শিরোনামঃ সার্বিক মোক্তারনামা দলিল

পক্ষ পরিচয়ঃ

১ম পক্ষঃ

জনাব রহিম মিয়া, পিতা- তারা মিয়া, সাং-লোহাজুরা, ডাকঘর- লোহাজুরা, উপজেলা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা– চাকুরী মোক্তারনামা দাতা।

২য় পক্ষঃ

জনাব করিম মিয়া, পিতা- রবি মিয়া, সাং- জামালপুর, ডাকঘর- জামালপুর, উপজেলা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা…………..মোক্তারনামা দলিল গ্রহীতা ।

বর্ণনাঃ

পরম করুণাময় আল্লাহর নাম স্মরণ রেখে অত্র মোক্তারনামা দলিলের বর্ণনা শুরু করছি। যেহেতু আমি মোক্তারনামা দাতা (Principal) নিম্ন তফসিলভুক্ত সম্পত্তি/ডেইরী ফার্ম হতে দূরে বসবাস করছি এবং আমার শারিরীক অসুস্থতার জন্য স্বীয় শাসন সংরক্ষণে অসমর্থ হয়েছি, সেহেতু আমি দাতা আপনি গ্রহীতা আমার পরম হিতৈষী জেনে নিম্নলিখিত শর্তাবলীতে অন্য ইং তারিখে সর্বজন জ্ঞাতসারে আমার স্বত্ত্বাধীন নিম্ন তফসিলভুক্ত সম্পত্তির / ডেইরী ফার্মে শাসন সংরক্ষণের নিমিত্তে আপনাকে আমার বৈধ প্রতিনিধি বা মোক্তার (Attorney) নিয়োগ করলাম।

 

একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা
একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

 

দলিলের শর্তাবলী

(১) আপনি গ্রহীতা নিম্ন তফসিলভূক্ত আমার যাবতীয় সম্পত্তি/ডেইরী ফার্মের স্বত্ত্ব, স্বার্থ সংরক্ষণার্থে দলিল, চিঠিপত্র, রসিদ পত্রাদি সম্পাদন এবং এতদবিষয়ক যাবতীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করবেন।

(২) আপনি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি/ডেইরী ফার্ম সম্পর্কিত দাবি, আদায়, গ্রহণ এবং এ সম্পর্কে ব্যক্তি, কোম্পানী, সমিতি, সংস্থা, কর্তৃপক্ষ বা সরকার বা অন্য কোন সংস্থার দাবি, ক্ষতিপূরণ, দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

(৩) আপনি মিউনিসিপ্যালিটি, উন্নয়ন সংস্থা, বিমান, চেম্বার অব কমার্স, ট্রেজারী, রাজস্ব অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত আপিল আদালত আয়কর কর্তৃপক্ষ ইত্যাদিতে প্রয়োজনবোধে উপস্থিত হবেন এবং আমাকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

(৪) আপনি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি/ডেইরী ফার্মের উন্নয়নকল্পে সম্পত্তি দান, বিক্রয় বন্ধক ইত্যাদিরূপে হস্তান্তর করতে পারবেন এবং এজন্য দলিলাদি সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করতে পারবেন।

(৫) তফসিলভুক্ত সম্পত্তি রক্ষণার্থে মামলা-মোকদ্দমা মোকাবেলা করতে এবং এজন্য এডভোকেট নিয়োগ করতে এবং তার ফিসাদি নির্বাহ করতে পারবেন।

 

(৬) মামলা-মোকদ্দমার আরজি জবাব, দরখাস্তে ও ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে পারবেন এবং আপনি মামলা আপোস, নিষ্পত্তি, পরিচালনা, প্রত্যাহার এ সম্পর্কে যা ভাল মনে করবেন তাই করতে পারবেন।

(৭) আপনি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি/ডেইরী ফার্ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিল, মানি অর্ডার, চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, বণ্ড বা অন্য যে কোন জামানত গ্রহণ ও প্রদান করতে পারবেন।

আমি রহিম মিয়া নিম্ন তফসিলভুক্ত সম্পত্তি/ ডেইরী ফার্মের স্বত্বাধিকারী (আপনি গ্রহীতা) কর্তৃক সম্পাদিত উপর্যুক্ত শর্তাধীনে যাবতীয় কার্যাদি অত্র মোক্তারনামা দলিল দ্বারা অনুমোদন ও বহাল করলাম এবং এ মর্মে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে উপস্থিত নিম্নোক্ত সাক্ষীগণের সম্মুখে অত্র মোক্তারনামা পাঠ করে ও এর মর্ম অবগত হয়ে নিজে স্বাক্ষরে সম্পাদন করে দিলাম।

 

একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা
একটি মোক্তারনামা দলিলের নমুনা

 

ইতি তারিখ… ইংরেজি …. বাংলা সনের….. বৈশাখ, ইংরেজি ……. সনের …… এপ্রিল সকাল ১১:৩০ মিঃ।
তফসিল বর্ণনা

সম্পত্তি/ডেইরী ফার্মের বিবরণ: …………….

সাক্ষীদের পূর্ণ স্বাক্ষর                                 সনাক্তকারীর স্বাক্ষর                                            দাতার স্বাক্ষর
স্থান ও তারিখ

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সম্পত্তি–সংক্রান্ত নানা আইনি কাজে অনেক সময় নিজে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে জমিজমা কেনাবেচা, রেজিস্ট্রেশন, মামলা পরিচালনা বা প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কাউকে ক্ষমতা প্রদান করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রয়োজন থেকেই মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে মোক্তারনামা একটি সংবেদনশীল ও পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল হওয়ায় এটি যথাযথ নিয়ম, শর্ত ও আইন মেনে সম্পাদন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল বা অসতর্কতার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই মোক্তারনামা কী, এর প্রকারভেদ, শর্তাবলী, রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য করণীয়, রি-স্ট্যাম্পিং এবং বাতিলের নিয়ম—এসব বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই আলোচনায় মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে আইনসম্মতভাবে করতে হয়, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি একটি পরিপূর্ণ আইনী দলিল। স্ট্যাম্প এ্যাক্ট, ১৮৯৯ এর ২(২১) উপ-ধারা অনুসারে যে ‘দলিল’ দিয়ে কোন ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষে হাজির হয়ে কার্য সম্পাদন বা কোন ডিক্রি/রেজিস্ট্রি সম্পাদন, তত্ত্বাবধান ইত্যাদি বিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করার ক্ষমতা দেয়া হয় তাকে মোক্তারনামা বলে।

সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি তথা জমিজমা দান, বিক্রয়, হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, বন্ধক রাখা, ক্ষণ গ্রহণ, খাজনা প্রদান ইত্যাদি কাজে মোক্তার বা অ্যাটর্নি বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। তবে অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়েও মোক্তার নিয়োগ করা যায়।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দু’প্রকার, যথা

(ক) জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি,

(খ) স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি।

যে মোক্তারনামায় মোক্তারদাতার পক্ষে জমি-জমা ক্রয়, বিক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ, চুক্তিপত্র করা, মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করা সহ যাবতীয় কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দেয়া হয় তাকে জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বলা হয়।

অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট বা কোন বিশেষ কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দিয়ে তৈরী মোক্তারনামাকে বলে স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির শর্তাবলী

(১) মোক্তারনামা নোটারী পাবলিক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিদেশে সম্পাদিত হলে তা দূতাবাসের প্রতিনিধির সম্মুখে সম্পাদন (সহি) করতে হবে এবং তদিক/সত্যায়ন করতে হবে;

(২) মোক্তারনামা লিখিত দলিল হতে হবে;

(৩) মোক্তারনামা যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে;

(৪) মোক্তারনামা দাতা (Principal) কর্তৃক মোক্তার (Attorney) কে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রিকরণ

(ক) মোক্তার দাতা তার পক্ষে কাউকে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩২ ধারা মতে দলিল সম্পাদন ও দাখিল করার জন্য মোক্তার নিযুক্ত করে যে মোক্তারনামা তৈরি করেন তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে (রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৩ ধারা)।

(খ) মোক্তারনামা দাতার (Principal) সম্পত্তি যেখানেই থাকুক দাতা যেখানে বসবাস করেন সে জেলার রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার এর সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করতে হবে।

(গ) মোক্তারনামা সম্পাদনকালে দাতা বিদেশে বসবাসরত থেকে থাকলে তাকে নোটারী পাবলিক, আদালতের বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যদূত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে হবে এবং তার দ্বারা মোক্তারনামাটি প্রত্যয়ন করাতে হবে।

(ঘ) দলিল দাতা দলিল নিজে সম্পাদন করে তা রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করার জন্য ক্ষমতা দিয়ে মোক্তারনামা তৈরি করলে এরূপ মোক্তারনামা শুধু তসদিক বা সত্যায়ন করলেই চলবে। এরূপ মোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করতে হবে না।

(ঙ) যে সব মোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করতে হবে তা অবশ্যই সম্পাদনের ৪ মাসের মন্ত্রে দাখিল করতে হবে।

(চ) রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৩ (১) ধারায় যে সব ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়া হতে রেহাই দেয়া হয়েছে তারা বাড়িতে বা জেলে বসে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে পারবেন ।

মোক্তারনামা নিয়মিতকরণ বা রি-স্ট্যাম্পিং

বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি মোক্তারনামা করতে চাইলে তাকে মোক্তারনামাটি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্টের ৩৩(গ) ধারা মতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দ্বারা প্রত্যয়ন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে সত্যায়ন করে নিতে হবে। এরপর দলিলটি দিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট রি-স্ট্যাম্পিং এর জন্য দাখিল করতে হবে।

জেলা প্রশাসক সবকিছু যথাযথ পেলে স্ট্যাম্প এ্যাক্টের ১৮ ধারা মতে বিশেষ আঠাযুক্ত (Adhesive) স্ট্যাম্প লাগিয়ে তা বাতিল করে নিয়মিত বা রি-স্ট্যাম্পিং করে দিবেন। পাওয়ার দলিল সম্পাদনের দিন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করতে না পারলে স্ট্যাম্প এ্যাক্টের ৩৩ ধারা মতে সাধারণ ফিসের দশ গুণ বেশী ফিস দিয়ে তা নিয়মিতকরণ করা যাবে।

মোক্তারনামা বাতিলের পদ্ধতি

(ক) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হলে মেয়াদ শেষে তা বাতিল বলে গণ্য হবে;

(খ) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য করা হলে ঐ কাজ সমাপ্তিতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে

(গ) যৌথ ক্ষমতার মোক্তারনামার পক্ষদের একজনের মৃত্যুতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে:

(ঘ) মোক্তারনামা দাতা কোন মোক্তারনামা বাতিল করতে ইচ্ছুক হলে যে রেজিস্ট্রি অফিসে তা তসদিক করা হয়েছিল সে স্থানের জেলা রেজিস্ট্রারের (ডি. আর.) বরাবরে মোক্তারনামা রদের আবেদন করতে হবে। পূর্বকৃত মোক্তারনামাটি বিনষ্ট না হয়ে থাকলে আবেদনের সঙ্গে সেটিও দাখিল করতে হবে।

এতে তিনি “রদ করা হলো” কথাটি লিখে দিবেন এবং সে মোতাবেক রেজিস্ট্রার সংশোধন করবেন। রেজিস্ট্রারিং অফিসার মোক্তারনামা বাতিলের আবেদন পাবার পর তাঁর জেলার সকল রেজিস্ট্রি অফিসে বা অন্য কোন জেলা সদর অফিসকে বিষয়টি নোটিসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। নোটিস জারীর ডাকটিকেটের খরচ আবেদনকারী বহন করবেন,

(ঙ) তবে স্বার্থের সাথে যুক্ত মোক্তারনামা স্বার্থপূর্ণ বা পরিত্যক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাতিল করা যায় না। (মোক্তারনামা আইনের ৩ ধারা)

ওয়াক্ফ কেন ও কিভাবে করবেন?

আজকের দ্রুতগতির জীবনে অনেকেই নিজের সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও পরকালের জন্য স্থায়ী পুণ্য অর্জনের কথা ভাবেন। এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী উপায় হলো ওয়াক্ফ। ওয়াক্ফ শুধু একটি সম্পত্তি দানের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদকে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করার এক মহৎ আমল, যা ইহকালে সমাজের কল্যাণ এবং পরকালে অবিরাম সওয়াবের উৎস হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর মাধ্যমে ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে। এই আইন অনুসারে যেকোনো মুসলমান (এমনকি অমুসলিমও নির্দিষ্ট শর্তে) ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে পারেন। এর ফলে মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, হজ্জ সহায়তা, গরিবদের সাহায্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ এবং এমনকি ওয়াকিফের পরিবার-বংশধরদের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করা যায়—যাকে ওয়াক্ফ লিল্লাহ ও ওয়াক্ফ আল-আওলাদ নামে চিহ্নিত করা হয়।

অনেকে মনে করেন ওয়াক্ফ শুধু জমি-বাড়ি দানের বিষয়, কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে সমাজের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। তবে সঠিকভাবে ওয়াক্ফ করতে হলে এর শর্ত, উপাদান, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, ওয়াক্ফ প্রশাসকের ভূমিকা, মোতায়াল্লীর দায়িত্ব, তালিকাভুক্তি, হস্তান্তরের নিয়মসহ বিভিন্ন আইনি দিক জানা অত্যন্ত জরুরি—যাতে পরবর্তীতে কোনো বিরোধ বা অপব্যবহার না হয়।

এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো—ওয়াক্ফ কেন করবেন, কীভাবে করবেন, এর প্রকারভেদ, উদ্দেশ্য, শর্তাবলী, আইনি প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ব্যবস্থাপনা—যাতে আপনি সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন
ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন

 

ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন

সরকার ওয়াক্ফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ১৯৬২ সালে ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ জারী করে।

ওয়াকৃষ্ণ বলতে অধ্যাদেশের ২ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘কোন মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়।’ তবে কোন অমুসলিমও একই উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করতে পারেন।

ওয়াকফঃ

যিনি সম্পত্তি উৎসর্গ করে তাকে বলে ‘ওয়াকফ’।

ওয়াক্ফ দুই প্রকারঃ

(১) ওয়াকফ লিল্লাহ এবং

(২) ওয়াক্ফ আল-আওলাদ।

ওয়াক্ফ লিল্লাহ :

ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে অর্থাৎ পরকালে শান্তির আশায় পুণ্য অর্জন এবং ইহকালে জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে যে ওয়াক্ফ করা হয় তাকে বলে “ওয়াকফ লিল্লাহ’।

ওয়াকফ আল-আওলাদঃ

কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি ওয়াকফ করে এর আয় হতে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে তার বংশধরদের/পরিবারের সদস্যদের এমনকি তার নিজের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতে পারেন। এরূপ ওয়াক্ফই হলো ‘ওয়াক্ফ আল- আওলাদ’। ওয়াকিফ যদি সম্পূর্ণ সম্পত্তি এরূপ ভরণ-পোষণের লক্ষ্যে উৎসর্গ করে, তবে ওয়াকিফ বা তার বংশধরগণ নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত ওয়াকফ সম্পত্তি দাতব্য/ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হবে না। তাদের মৃত্যুর পর ওয়াক্ফ সম্পত্তির আয় দাতব্য বা ধর্মীয় কাজে ব্যয়িত হবে। আর আংশিক ধর্মীয়/দাতব্য এবং আংশিক ভরণ-পোষণ এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে ওয়াকফ করলে ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির আয় সেভাবেই ব্যয়িত হবে।

 

ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন
ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন

 

যে সব উদ্দেশ্যে ওয়াক্ফ করা যায়ঃ

মক্কা শরীফে হাজীদের জন্য ‘বোরাত’ (বোর্ডিং হাউজ) নির্মাণ, ঈদগাহে মঞ্জুরী দান, মাদ্রাসা, খানকা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ব্যয় নির্বাহ, হজ্জ পালনে সাহায্য করা, গরীবদের সাহায্য করা। ওয়াকিফ ও তার বংশধরদের ভরণ- পোষণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা যায়।

ওয়াফের উপাদান

(ক) ওয়াকফের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করতে হবে,

(খ) ওয়াকফ ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে হতে হবে,

(গ) ওয়াফের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ অবশ্যই চিরস্থায়ী হতে হবে;

(ঘ) ওয়াকিফকে উৎসর্গীকৃত সম্পত্তির বৈধ মালিক হতে হবে;

(ঙ) ওয়াকিফকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে;

(চ) ওয়াকফ শর্তমুক্ত হতে হবে।

ওয়াফের বিষয়বস্তুঃ

স্থাবর বা অস্থাবর উভয় ধরনের সম্পত্তিই ওয়াকফ করা যায়। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কোম্পানীর শেয়ার, সরকারী ঋণপত্র, নগদ অর্থ ইত্যাদি। ওয়াকফ প্রশাসক সরকার ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুসারে ‘ওয়াক্ফ প্রশাসক নিয়োগ করে থাকেন। যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ওয়াক্ফ প্রশাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

(ক) ওয়াক্ফ প্রশাসক ওয়াকফ ও এর তহবিল পরিচালনার জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট। একটি কমিটি গঠন করেন। তিনি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। (ধারা- ১৯, ২০)

(খ) প্রশাসক সরকারের অনুমতিক্রমে এবং ওয়াফের কল্যাণে/উন্নতিকল্পে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বা এর অংশবিশেষ যে কোন রূপ হস্তান্তর করতে পারেন। (ধারা- (৩৩)

(গ) প্রশাসক মোতায়াল্লীকে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে অপসারণ করতে পারেন ।(ধারা-৩২)

(ঘ) প্রশাসক তার প্রতিনিধির মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। (ধারা-৩৪ ও ৩৬) (বাস্তবে জেলাপ্রশাসকই ওয়াক্ফ প্রশাসকের পক্ষে দায়িত্ব পালন করে থাকেন ।

(ঙ) ওয়াকফ প্রশাসকের কোন আদেশে কেউ সংক্ষুব্ধ (ক্ষতিগ্রস্ত) হলে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা জজের আদালতে আপিল করতে পারেন । (ধারা-৩৫)

মোতায়াল্লী নিয়োগ

ওয়াকফ পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির সদস্য সচিবের বা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় যিনি থাকেন তাকেই বলে মোতায়াল্লী। মোতায়াল্লী সাবালক ও মানসিকভাবে সুস্থ হবেন।

 

ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন
ওয়াক্ফ কেন, কিভাবে করবেন

 

মোতায়াল্লী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ :

(১) ওয়াকিফ নিজে মোতায়াল্লী হতে পারেন।

(২) ওয়াকিফ সম্পত্তির সুবিধাভোগী (Beneficiary) ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক মনোনীত হতে পারেন।

(৩) ওয়াকিফের মৃত্যুকালীন ঘোষণা দ্বারাও কোন ব্যক্তি মোতায়ারী হতে পারেন।

(৪) ওয়াকিফের কার্যকারক (Executor) কর্তৃক মনোনীত হতে পারেন।

(৫) আধ্যাত্মিক কার্যক্রম না থাকলে মহিলাও মোতায়ারী নিযুক্ত হতে পারেন।

(৬) প্রশাসক মোতায়ারী নিয়োগ করতে পারেন, তবে এ মোতায়ারী নিয়ে কোন সমস্যা হলে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ও (দেওয়ানী) মোজায়ারী নিয়োগ দিতে পারেন। (ধারা-৩৪)

মোতায়াল্লীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

(১) ওয়াক্ফ সম্পত্তি ‘প্রশাসকের দপ্তরে (ঢাকার ইস্কাটনে) তালিকাভুক্ত করা।

(২) প্রতি ১৫ই জুলাই তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী অর্থ বছরের আয় ও বায়ের হিসেব প্রশাসকের নিকট পেশ করা।

(৩) আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষার (Audit) ব্যবস্থা করা।

(৪) ওয়াক্ফ সম্পত্তি হস্তান্তর করার প্রয়োজন হলে প্রশাসকের পূর্বানুমতি নেয়া।

(৫) ওয়াক্ফ সম্পত্তির আয়ের ৫% বার্ষিক চাঁদা প্রশাসকের দপ্তরে প্রদান করা।

(৬) ওয়াক্ফনামায় উল্লিখিত উদ্দেশ্যাবলী যথাযথভাবে পালনে মোতায়ালী আইনত বাধ্য ।

ওয়াক্ফ রেজিস্ট্রেশনঃ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর বিধান মতে স্থাবর সম্পত্তির (১০০ টাকার বেশি মূল্য হলেই) দলিল রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক। তবে অস্থাবর সম্পত্তির ওয়াক্ফ মৌখিকভাবেও করা যায়।

ওয়াক্ফ প্রত্যাহার :

অছিয়তের (উইল) মাধ্যমে ওয়াকফ সৃষ্টি হয়ে থাকলে ওয়াকিফ তার মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় তা প্রত্যাহার করতে পারেন। অছিয়ত ভিন্ন সাধারণ ওয়াফের ক্ষেত্রে ওয়াকিফ ওয়াক্ফ প্রত্যাহার কতে পারেন না।

ওয়াকফ করা বাধ্যতামূলকঃ

মোহামেডানস্ ল অনুসারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ঈদগাহ, কবরস্থান, ইমামবাড়া, মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য জমি দান করলে তা অবশ্যই ওয়াক্ফ করতে হবে।

ওয়াক্ফ সম্পত্তি হস্তান্তরঃ

মসজিদ, মাদ্রাসার নামে অনেকেই জমি দান করেন। এ সকল জমি অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন কারণে বিক্রি করে থাকেন। বাস্তবে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে ওয়াক্ফ প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় ঐ বিক্রি শুদ্ধ হবে না এবং তাতে ক্রেতার স্বত্ব সৃষ্টি হবে না। কারণ ওয়াকফ সম্পত্তির মালিক ওয়াক্ফ প্রশাসক। বিবেচ্য জমি মসজিদ-মাদ্রাসার রবর্তী হওয়ার কারণে ঐ জমি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী কোন জমি কেনার জন্য ওয়াকফ প্রশাসক এরূপ বেচা-কেনার অনুমতি দিয়ে থাকেন।

কমিটি নিয়ে মতবিরোধে করণীয়ঃ

সম্পত্তি কোন প্রতিষ্ঠানের বরাবরে ওয়াকফ করা হলেও প্রায়ই তা ওয়াকফ প্রশাসকের দপ্তরে তালিকাভুক্ত করা হয় না। তাছাড়া এসকল সম্পত্তির পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও অনেক সময় দেখা দেয় দ্বন্দ্ব ও বিরোধ। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে যে পক্ষ বিবেচ্য সম্পত্তি ওয়াক্ফ প্রশাসকের দপ্তরে তালিকাভুক্তির জন্য আগে যাবে সে পক্ষ ওয়াক্ফ প্রশাসক কর্তৃক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। আর পূর্বেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এমন ওয়াকফ সম্পত্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরোধের নিষ্পত্তি প্রশাসকই করে থাকেন।

তালিকাভুক্তির আবেদন

যে কেউ ওয়াক্ফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তির জন্য ওয়াক্ফ অধ্যাদেশের ৪৭ ধারা মতে নির্ধারিত ফরমে ওয়াক্ফ প্রশাসকের বরাবরে আবেদন করতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে মাজার লাভজনক হওয়ার কারণে তার তালিকাভুক্তি এড়ানোর প্রবণতা লক্ষ করা যায় । এরূপ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যে কেউ তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারে।

ব্যবহার ভিত্তিতে ওয়াক্ফ

অনেক সময় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা মাজারের জমিদাতা হয়ত ওয়াক্ফ করে দিয়ে যাননি কিন্তু ওয়াক্ফ আইন অনুযায়ী দীর্ঘকাল ব্যবহারের ভিত্তিতে ঐ সম্পত্তি ওয়াফ সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে থাকে। এরূপ সম্পত্তি আর নতুন করে রেজিস্ট্রির প্রয়োজন হয়। না, কেবল ওয়াক্ফ প্রশাসকের দপ্তরে তালিকাভুক্ত করতে হয় ।

দেবোত্তর সম্পত্তি

হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন মন্দিরের দেবতার উদ্দেশে পুণ্য অর্জনের লক্ষ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করলে তাকে বলে দেবোত্তর সম্পত্তি। দেবোত্তর সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ককে বলে ‘সেবাইত’। সেবাইত এরূপ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।

দেবোত্তর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ :

দেবোত্তর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একটি ‘দেবোত্তর সম্পত্তি সেল’ গঠন করা হয়েছে। উক্ত সেল থেকে এরূপ সম্পত্তির সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হয়।

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

ভূমি বা জমি মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে জমি সংক্রান্ত লেনদেন ও চুক্তির গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। জমি ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক, লীজ বা বায়না নামার মতো বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে মানুষের আর্থিক ও ভোগদখল সংক্রান্ত অধিকার নির্ধারিত হয়। তবে এসব চুক্তি যথাযথভাবে সম্পাদিত না হলে কিংবা আইনি বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে প্রায়ই বিরোধ, জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে জমি জমা সংক্রান্ত চুক্তিসমূহের প্রকৃতি, প্রকারভেদ ও প্রযোজ্য আইনগত বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই আলোচনায় জমি জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের চুক্তি, তাদের বৈশিষ্ট্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানসমূহ সংক্ষেপে ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান
জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

 

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

১। ভূমিকা;

২। জমি জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি;

৩। জমি জমা সংক্রান্ত চুক্তির কতিপয় বিধান।

১। ভূমিকা

জমি জমা নিয়ে নানা ধরনের চুক্তি হয়ে থাকে। এসব চুক্তি অবস্থার প্রেক্ষিতে সংকটের সৃষ্টি করে। সেটা নিরসনে তখন নানা ধরনের উপায় বা ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হয় ।

২। জমি জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি

২.১ বন্ধক

২.২. লীজ

২.৩. বিক্রির জন্য অগ্রিম অর্থ বা বায়না নামা

২.১. বন্ধক (Mortgage).

বন্ধক

ঋণ হিসেবে অগ্রীম প্রদত্ত বা প্রদেয় অর্থ বা কোন বর্তমান বা ভবিষ্যৎ দেনা পরিশোধ বা আর্থিক দায় সৃষ্টি করতে পারে এরূপ কোন কার্য সম্পাদনের নিশ্চয়তা বিধানের উদ্দেশ্যে কোন নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির (জমি জমা) স্বত্ব হস্তান্তরকে বন্ধক বা রেহেন বলে ।

হস্তান্তরকারীকে বন্ধকদাতা, হস্তান্তরগ্রহীতাকে বন্ধকগ্রহীতা বলে। নিশ্চয়তা স্বরূপ যে অর্থ দেয়া হয় তাকে বন্ধকী টাকা বা অর্থ বলে। যে দলিলের মাধ্যমে তা হস্তান্তর করা হয় তাকে বন্ধকী দলিল বলে ।

 

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান
জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

 

খ. বন্ধকের প্রকারভেদ

বন্ধক সাধারণত ছয় প্রকার, যথা-

১. সরল বন্ধক,

২. শর্তাধীন অধিক্ষেত্র বন্ধক

৩. খাইখালাসী বন্ধক

৪. ইংলিশ বন্ধক;

৫. দলিল জমা দেয়া বন্ধক

৬. শ্রেণীবিহীন বন্ধক ।

গ. যেভাবে একটি বন্ধকী দলিল সম্পাদিত হয়

১. লিখিত দলিল প্রণয়ন, যদি বন্ধকী সম্পত্তির মূল্য ১০০ টাকার কম হয়;

২. বন্ধকদাতা কর্তৃক স্বাক্ষর:

৩. কমপক্ষে দু’জন সাক্ষী কর্তৃক স্বাক্ষরিত

৪. রেজিস্ট্রেশন

ঘ. বন্ধকগ্রহীতাকে যা যা করতে হয় :

১. ষাট বছর পর্যন্ত বন্ধকী সম্পত্তির স্বত্বানুসন্ধান,

২. কী ধরনের বন্ধকী দলিল হবে তা নির্ধারণ:

৩. দলিল প্রণয়ন;

৪. দলির রেজিস্ট্রেশন;

৫. সকল বন্ধকী সম্পত্তির স্বত্বের দলিল হস্তান্তর গ্রহণ ।

 

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান
জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

 

ঙ. ইংলিশ বন্ধক বা কট কবলা

যে দলিলে ইংলিশ বন্ধক সম্পাদিত হয় তাকে কট কবলা বলে। এতে বন্ধকদাতা দৃশ্যত সম্পত্তি বিক্রি করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে বিক্রি চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এর মূল্য ১০০ টাকার ঊর্ধ্বে হলে তা রেজিস্ট্রেশন করতে হয় । এতে পুনঃক্রয়ের পৃথক কোন দলিল সম্পাদিত হয় না ।

চ. খাইখালাসী বন্ধকের মেয়াদ

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ৯৫ মোতাবেক যদি কোন খাইখালাসী বন্ধকে মেয়াদ উল্লেখ না থাকে তবে মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হবে।

২.২ লীজ (Lease) বা দলিল

ক. লীজ কী?

খ. লীজের উপাদান।

গ. বিভিন্ন প্রকার লীজ ।

ঘ. কিভাবে লীজ সমাপ্ত হয়।

ক. লীজ কী

স্থাবর সম্পত্তির ভোগদখলের স্বত্ত্ব, প্রকাশ্যতঃ বা উহ্যভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদে বা চিরস্থায়ীভাবে এবং প্রদত্ত বা প্রতিশ্রুত কোন মূল্যের বিনিময়ে বা অর্থ, ফসলের ভাতা, কার্য সম্পাদন বা অন্যকোন মূল্যবান দ্রব্য হস্তান্তরকারীর নিকট উক্ত শর্তসমূহে সম্মত হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক শর্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট মেয়াদ হলে বা নির্ধারিত সময়ে প্রদানের বিনিময়ে অপরের নিকট হস্তান্তর করাকে লীজ বলে।

যিনি হস্তান্তর করেন তিনি লীজদাতা, যিনি হস্তান্তর গ্রহণ করেন তিনি দীগ্রহীতা, যে মূল্য দিয়ে হস্তান্তর করা হয় তাকে সেলামী এবং যে অর্থ ফসলের ভাগ কার্য সম্পাদন ও অন্যান্য জিনিস প্রদানের ব্যবস্থা করা হয় তাকে কর বলা হয়।

খ. লীজের উপাদান

১. এটি অবশ্যই স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত হবে,

২. ভোগের অধিকারের স্থিতিকাল অবশ্যই নির্ধারিত হবে;

৩. এটি অবশ্যই পণ্যের বিনিময়ে হবে;

৪. হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক অবশ্যই হস্তান্তর গৃহীত হবে;

৫. পক্ষকে অর্থাৎ পক্ষদাতা ও কবুলিয়াতগ্রহীতাকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে।

গ. বিভিন্ন প্রকার লীজ

১. পাট্টা;

২. রায়তি পাট্টা;

৩. কোর্ফা রায়তি পাট্টা

৪. মৌরসী বা মোকরারি পাট্টা;

৫. ইজারা পাট্টা;

৬. মেয়াদী পাটা;

৭. পতনী পাট্টা;

৮. বর্গা পাট্টা;

৯. কবুলিয়াত;

১০. প্রতিলিপি ।

 

জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান
জমি জমা সংক্রান্ত কিছু চুক্তির বিধান

 

১. পাট্টাঃ

এটি এক প্রকার লীজ। এতে পাটাগ্রহীতা শর্তহীনভাবে পাট্টা প্রদত্ত সম্পত্তি ভোগ করে থাকে।

২. রায়তি পাট্টাঃ

জমিদার বা ভূম্যধিকারী চাষাবাদ বা বসবাসের জন্য যে পাট্টা দেন তাকে রায়তি পাট্টা বলে ।

৩. কোফা রায়তি পাট্টাঃ

নিজ রায়তি স্বত্বভোগকারী প্রজা অন্য কোন প্রজাকে পাট্টা প্রদান করলে তাকে কোর্ফা রায়তি পাট্টা বলে ।

৪. মৌরসী বা মোকরারি পাট্টাঃ

যে পাটা শর্তানুযায়ী প্রজা নির্দিষ্ট অর্থ জমা নিবার অঙ্গীকার চিরকালের জন্য জমিদখল করার অধিকারী হয় তাকে মৌরসী বা মোকরারি পাট্টা বলে।

৫. ইজারা পাট্টাঃ

যে পাট্টা নির্দিষ্ট জনার নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়, তাকে ইজারা পাট্টা বলে।

৬. মেখানি পাট্টাঃ

একটি নির্দিষ্ট বা পূর্ব নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হবার পর যে পাট্টা দেখা ভারতমা হতে পারে সেরূপ পাটাকে মেয়াদি পাট্টা বলে।

৭. পত্তনী পাট্টা:

স্বরূপ টাকা প্রদান করা হলে তাকে পত্তনী পাট্টা বলে।

৮. ভাগাভাগি বা বর্গা গাট্টাঃ

উৎপন্ন শস্যের অংশ নিবার শর্তে যে পাট্টা দেয়া হয় তাকে ভাগা-ভাগি বা বর্গা পাট্টা বলে।

৯. কবুলিয়াতঃ

কবুলিয়াত ও লীজ হিসেবে গণ্য করুলিয়াত হলো নির্ধারিত খাজনাদি প্রদানের ব্যাপারে লীজগ্রহীতার স্বীকারোক্তি পত্র।

১০. প্রতিলিপিঃ

এটি এক প্রকার কবুলিয়াত। লীজ গ্রহীতা এটি সম্পাদন করে।

ঘ. কিভাবে লীজ সমাপ্ত হয় :

১. সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে:

২. কোন বিশেষ ঘটনা ঘটলে;

৩. লীজদাতার স্বার্থের সমাপ্তির দ্বারা;

৪. সম্পত্তিতে লীজদাতা ও লীজগ্রহীতার স্বার্থ একত্রীকরণ দ্বারা;

৫. সমর্পণ দ্বারা:

৬. পরোক্ষ সমর্পণ দ্বারা;

৭. বাজেয়াপ্তকরণ দ্বারা:

৮. পরিত্যাগ করার নোটিসের মেয়াদের অবসান দ্বারা।

 

২.৩। বায়না নামা :

কোন সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি স্বরূপ অর্থ অগ্রিম গ্রহণ করাকে বায়না নামা বলে। এতে নানাবিধ শর্তাবলী থাকতে পারে। এটি বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যকার সমঝোতা-নির্ভর।

৩। জমি জমা সংক্রান্ত চুক্তির কতিপয় বিধান :

১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে জমি জমা সংক্রান্ত চুক্তির বিধানাবলী বর্ণিত হয়েছে। যেমন

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন অর্থাৎ চুক্তি প্রবলকরণ :

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী কোন জমি জমা বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণ করা যায়। এজন্য রেজিস্ট্রেশন না করা হলেও তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়।

২. যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছেঃ

লেনদেনের কার্যক্রম চলাকালীন বায়নার টাকা ক্রয়মূল্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। ক্রেতার বিফলতায় বায়নার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৩-তে এগুলো বলা আছে।

৩. সম্পূর্ণ ক্রয় মূল্য পরিশোধ না করলেঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২২ দ্রষ্টব্য) সম্পূর্ণ ক্রয়মূল্য পরিশোধ না করার কারণে বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করে বাদীর দাবী অস্বীকার করা যায় না।

৪. দলিল সংশোধনঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩১ অনুযায়ী কোন পক্ষের প্রতারণার দরুন ভুল, প্রতারণাশূন্য উভয় পক্ষের ভুল, উভয় পক্ষের মনোভাবকে একান্তভাবে লিখার দরুন ভুলের ক্ষেত্রে কোন রেজিস্ট্রি দলিল সংশোধন করা যায়।

৫. বিক্রি বা চুক্তি রদঃ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৫-এর বিধান অনুযায়ী বাতিলযোগ্য, অবৈধ ও আদালতের নির্দেশ মতে অর্থ পরিশোধ না করার দরুন কোন বিক্রি চুক্তি রদ করা যায় ।

বাটোয়ারা দলিলে স্ট্যাম্প ডিউটি

যৌথ সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাটোয়ারা দলিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল আইনি দলিল। এই দলিলের মাধ্যমেই সহ-মালিকদের মধ্যে সম্পত্তির পৃথক পৃথক অংশ নির্ধারিত ও আইনগতভাবে কার্যকর হয়। তবে বাটোয়ারা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি সংক্রান্ত বিধান সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে দলিলটি আইনগত স্বীকৃতি হারাতে পারে এবং ভবিষ্যতে গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। স্ট্যাম্প আইনের বিভিন্ন ধারা ও তপসিল অনুযায়ী বাটোয়ারা দলিলে কতটুকু স্ট্যাম্প ডিউটি প্রযোজ্য হবে, কে বা কারা সেই ডিউটি বহন করবেন, স্ট্যাম্প না দিলে তার কী ফলাফল হবে এবং আদালতের ডিক্রির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্পের অবস্থান কী—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। এই আলোচনায় বাটোয়ারা দলিলে স্ট্যাম্প ডিউটির আইনগত ভিত্তি, প্রযোজ্যতা, পরিণতি ও সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পাঠক বিষয়টি সহজে ও নির্ভুলভাবে অনুধাবন করতে পারেন।

স্ট্যাম্প ডিউটি
স্ট্যাম্প ডিউটি

 

স্ট্যাম্প ডিউটি

বাটোয়ারা দলিলে আইনের বিধানমতে স্ট্যাম্প ডিউটি লাগবে। বাটোয়ারা দলিলে বর্ণিত সমগ্র সম্পত্তি যেসব সহ-শরীকদের মাঝে বণ্টিত হয় তাদের অংশ অনুযায়ী অথবা যখন কোন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানী আদালত বা সালিসী কর্তৃক দেয় আদেশবলে যে যৌথ সম্পত্তি বণ্টন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা আদালত বা সালিনী তদসম্পর্কিত যে নির্দেশ প্রদান করবেন সেই অনুযায়ী হবে। 

স্ট্যাম্প আইনের ২৯ ধারায় বর্ণিত আছে যে, কে ডিউটি দিবে। ধারাটি নিম্নে বর্ণনা করা হল

বিপরীত কিছু না থাকিলে স্ট্যাম্প খরচ বহন করিতে হইবে নিম্নরূপ

(ক) প্রথম তফসিলের নিম্নরূপ যেকোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোন দলিলের ক্ষেত্রে যেমন-

অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেল নম্বর   বিষয়
 –  প্রশাসন বণ্ড
 –  স্বত্ত্বের দলিল বা নিদর্শনপত্র, বন্ধকী সম্পত্তি বা জিনিস বা জামানত সংক্রান্ত দলিলী গচ্ছিত রাখা সংক্রান্ত চুক্তিনামা
১৩  –  বিনিময় বিল
১৫  –  বণ্ড বা মুচলেকা
১৬  –  বটোমারী বণ্ড, জাহাজ বা জাহাজের মালামাল বন্ধক রেখে কর্জ গ্রহণ
২৬  –  আবগারী বণ্ড আমদানী বা রপ্তানীর উপর ধার্য শুল্কের দলিল
২৭  –   ঋণপত্র বা ঋণ স্বীকার (ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেয়)

অতিরিক্ত খরচ মূল্যাদি আদায় করা বা দাবী করা

৩৪  –  ক্ষতি নিষ্কৃতি বণ্ড, ক্ষতি বা (লোকসান এড়াবার বণ্ড বা ইনডেমনিটি বণ্ড)
৪০  –  বন্ধকী দলিল বা কোম্পানীর কাগজপত্র বা অঙ্গীকারপূর্ণ পত্র
৪৯  –  প্রত্যর্থপত্র
৫৫  –  না-দাবী পত্র বা অবমুক্ত বা স্বত্বত্যাগ, হস্তান্তর
৫৬  –  রেসপনণ্ডেনসিয়া বণ্ড বা প্রতিবাদী (বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায়) বণ্ড
৫৭  –  জামানতি বণ্ড বা বন্ধক দলিল
৫৮  –    নিরূপণপত্র বা বন্দোবস্ত, জমি জরিপ বা কর নির্ধারণ
৬২  –  (ক) বিধিবদ্ধ কোম্পানীতে কিংবা কোম্পানীর বা অন্য সংবিধিবদ্ধ সংখ্যায় শেয়ার হস্তান্তর

(খ) ৮ ধারায় প্রদত্ত ঋণ স্বীকারপত্রসমূহ ব্যতীত অন্যান্য এরূপ ঋণপত্র হস্তান্তর, ঋণপত্র স্বীকারসমূহ শুল্ক/মাশুল আদায়যোগ্য হউক বা না হোক, যাহা বিক্রিযোগ্য জামানত বটে। 

(গ) কোন বও, বন্ধকী দলিল বা বীমা পলিসি দ্বারা নিশ্চয়তা প্রদান বা নিরাপদ করা হইয়াছে এমন কোন স্বার্থের হস্তান্তর। উপরোক্ত দলিলগুলো সম্পাদনকারীকেই স্ট্যাম্প মাতল প্রদান করিতে হয়।

(খ) অগ্নিবীমা ছাড়া অন্যান্য বীমার ক্ষেত্রে বীমাকারিকে বা যিনি বীমা সম্পন্ন করে থাকেন বা যিনি বীমা করেন;

(খ) অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে যিনি পলিসি ইস্যু করেন;

(গ) হস্তান্তর দলিলের বেলায় গ্রহীতাকে একটি ইজারা ও ইজারা প্রদান করিবার চুক্তিপত্র ইজারা গ্রহীতাকে বা যিনি ইজারা গ্রহণে ইচ্ছুক

(ঘ) একটি ইজারার প্রতিরূপ বা অনুরূপ ক্ষেত্রে ইজারাদাতাকে । 

(ঙ) একটি বিনিময়পত্র বা বিনিময় দলিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে সমান অংশে। 

(চ) একটি বিক্রয় সার্টিফিকেটের বেলায় যে সম্পত্তির ক্রেতাকে বা গ্রহীতাকে।

(ছ) একটি বাটোয়ারা দলিলের ক্ষেত্রে মোট সম্পত্তিতে যেই ব্যক্তি যেরূপ অংশ পাইৰে সেই অনুপাতে প্রত্যেক পক্ষকে মোট স্ট্যাম্প মাশুলের সেই অংশ দিতে হইবে কিংবা সেইক্ষেত্রে কোন রাজস্ব সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানী আদালতের আদেশক্রমে। বা শালিসের রায় বা রোয়েদাদক্রমে যে সম্পত্তির বাটোয়ারা সম্পাদিত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা আদালত বা সালিসকারী যেরূপ বা যে অনুপাতে মাশুল প্রদানের আদেশ দেবেন, সেই অনুপাতে মাশুল প্রদান।

 

স্ট্যাম্প না দেওয়ার ফলাফলঃ

স্ট্যাম্প আইনের ১ অনুচ্ছেদের ৪৫ এর বিধান মোতাবেক বাটোয়ারা দলিলে স্ট্যাম্প না দিলে ৩৫ ধারা মতে ফলাফল বর্তাবে।

৩৫ ধারায় বলা হইয়াছে যে, দলিলে যথাযথভাবে স্ট্যাম্প না দিলে উক্ত দলিল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হইবে না। তেমনিভাবে উহা রেজিস্ট্রি করা বা যথাযথ বলে বলিয়া কোন সরকারি কর্মকর্তার নিকট বিবেচিত হইবে না।

 

স্ট্যাম্প ডিউটি
স্ট্যাম্প ডিউটি

 

স্ট্যাম্প আইনের ৩৫ ধারাঃ

কোন মাশুলযোগ্য নিদর্শনপত্র যদি যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত না হইয়া থাকে তবে তাহা সাক্ষাস্বরূপ গ্রহণের জন্য আইনানুগ কর্তৃত্বসম্পন্ন কোন বাজি কর্তৃক কোন উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না অথবা তাহা কার্যকর, রেজিস্টারী কিংবা প্রমাণে ব্যবহার করা যাইবে না।

তবে শর্ত থাকে যে,

(ক) অনুরূপ কোন নিদর্শনপত্র যাহা দশ পয়সা বা পাঁচ পয়সা মাতলযোগ্য নহে তাহা অথবা কোন বিনিময় বিল বা প্রত্যর্থপত্র, সকল ন্যায্য ব্যতিক্রম সাপেক্ষে সাক্ষাস্বরূপ গৃহীত হইবে যদি উহার জন্য ধার্যকৃত মাতল প্রদান করা হয়, অথবা ঘাটতি স্ট্যাম্পযুক্ত নিদর্শনপত্রের ক্ষেত্রে অনুরূপ ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, পাঁচ টাকা জরিমানাসহ অথবা যথাযথ মাতল বা ঘাটতি অংশের দশগুণ পাঁচ টাকা হইলে অনুরূপ মাশুল বা অংশের দশগুণের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়।

(খ) যেক্ষেত্রে রশিদ স্ট্যাম্পযুক্ত হওয়া প্রয়োজন যদি তাহাতে স্ট্যাম্প প্রদান করা না হয় তবে একটাকা জরিমানা প্রদান করবার পর উক্ত রশিদে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্পযুক্ত করা হইলে তাহা সাক্ষ্যস্বরূপ গ্রহণ করা যাইবে ।

(গ) যেক্ষেত্রে কোন চুক্তি দুই বা ততোধিক চিঠির দ্বারা সম্পদিত হয় এবং যেক্ষেত্রে একখানি চিঠিতে স্ট্যাম্পযুক্ত থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত চুক্তি যথাযথ ট্যাম্প বলিয়া গণ্য হইবে ।

(ঘ) ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ১২ ও ৩৬ পরিচ্ছেদের অধীন কোন কার্যধারা ব্যতীত ফৌজদারী কোর্টের কোন কার্যধারার কোন নিদর্শনপত্র স্ট্যাম্পযুক্ত না হইলে সাক্ষ্যস্বরূপ গৃহীত হইবার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছু বাধা হইবে না।

(ঙ) যেক্ষেত্রে কোন নিদর্শনপত্র সরকার বা সরকারের পক্ষে সম্পাদিত হইয়া থাকে অথবা এই আইনের ৩২ ধারা বা অন্যকোন বিধান প্রদত্ত কালেক্টরের সার্টিফিকেটযুক্ত হয় তবে নিদর্শনপত্র সাক্ষ্যস্বরূপ গৃহীত হইবার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছু বাধা হইবে না।

বাটোয়ারা দলিল যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত না হইলে তাহা যে কোন উদ্দেশ্যেই সাক্ষ্য- প্রমাণ হিসাবে স্বীকৃত হইবে না [33 DLR (HC)-282) 

শুল্ক আদায়যোগ্য দলিলের ক্ষেত্রেই ৩৫ ধারা প্রযোজ্য হইবে (AIR 1954 Assam ) 

যে সকল ক্ষেত্রে আইন কর্তৃক স্ট্যাম্পযুক্ত করিবার বিধান নাই সেই সকল ক্ষেত্রে ৩৫ ও ৩৬ ধারা কখনও আকর্ষিত হইবে না (PLD 1977 (SC)- 644]

পার্টিশন মামলার একটি ডিক্রী:

বাটোয়ারা মামলার একটি ডিক্রী স্ট্যাম্প আইনের ২ (১৫) ধারামতে একটি বাটোয়ারা ডিক্রী। বাটোয়ারা মোকদ্দমায় প্রাথমিক আদেশ কোন বাটোয়ারার দলিল নয়। বাদী কোন একটি নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী ঘোষণার ডিক্রী তবে বাটোয়ারা দলিল হিসাবে গণ্য হইবে না। যখন কোন যৌথ সম্পত্তির তার সহ-মালিকদের মধ্যে অংশ অনুযায়ী সরেজমিনে বন্টন করিয়া দেওয়ার জন্য মোকদ্দমা করা হয় এবং মোকদ্দমার দেয় ডিক্রীকে বাটোয়ারা দলিল বলা হয় এবং উহাতে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প সংযুক্ত করা আবশ্যক। এই ডিক্রী জারীর ক্ষেত্রে একান্তভাবে বিবেচিত হয় |1959 PLD Lah. 511

স্ট্যাম্প আইনের ২ (১৫) ধারার বর্ণনাঃ

‘বণ্টন নিদর্শনপত্র’ অর্থ এইরূপ কোন নিদর্শনপত্র যাহা দ্বারা কোন সম্পত্তির সহ-মালিকগণ অনুরূপ সম্পত্তি পৃথক পৃথকভাবে ভাগ করিয়া লয় বা লইতে সম্মত হয় এবং বণ্টন কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ অথবা দেওয়ানী আদালত প্রদত্ত কোন চূড়ান্ত আদেশ এবং কোন মালিক কর্তৃক প্রদত্ত বণ্টন নির্দেশক রোয়েদাদ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

২(১৫) ধারার প্রযোজ্যতা আকর্ষণের যৌথ মালিক কর্তৃক সম্পত্তি বণ্টনের উপাদানগুলি অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনার বিষয়। প্রকৃত কণ্টন কিংবা বন্টনের চুক্তিই এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট। সম্পত্তির মালিকেরা কোন দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি বিভাজনের জন ঐক্যমতে পৌঁছিয়া থাকিলে উক্ত দলিলটি অংশ বণ্টনের দলিল বলিয়া বিবেচিত হইবে। অংশ বণ্টনের সংজ্ঞাটি রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানী আদালত বণ্টন কার্যকরীকরণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত কোন আদেশকেও বুঝায় (PLD 1983 Kar 382 ]

যথাযথ স্ট্যাম্প মাতল নিরূপণ :

স্ট্যাম্প আইনের ৩১ ধারা মোতাবেক – (১) কোন নিদর্শনপত্র সম্পাদন করিয়া বা না করিয়া অথবা স্ট্যাম্পযুক্ত করিয়া বা না করিয়া যদি কোন ব্যক্তি তাহা কালেক্টরের নিকট উপস্থাপন করেন ও স্ট্যাম্প মাশুল নির্ণয়ের জন্য দরখাস্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করেন, যাহার পরিমাণ পাঁচ টাকা এবং ৫০ পয়সার কম নহে, তবে কালেক্টর উক্ত নিদর্শনপত্র বাবদ প্রদেয় স্ট্যাম্পমাশুল নির্ধারণ করিয়াদিবেন।

(২) এতদুদ্দেশ্যে কালেক্টর নিদর্শনপত্রের একটা সংক্ষিপ্তসার এবং তৎসহ নিদর্শনপত্রের মাতলযোগ্যতা বা মাতলের পরিমাণ প্রভাবিতকারী সকল তথ্য ও পরিস্থিতি নিদর্শনপত্রে সম্পূর্ণরূপে ও সঠিকভাবে বিবৃত হইয়াছে কি-না তাহা প্রকাশ করিবার জন্য তাহার মতে প্রয়োজনীয় হলফনামা কিংবা অন্য সাক্ষ্য পেশ করিতে নির্দেশ দিতে পারেন এবং তদনুযায়ী অনুরূপ সংক্ষিপ্তসার এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিতে পারেন তবে শর্ত থাকে যে,

(ক) এই ধারা অনুসরণে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য, নিদর্শনপত্রটি যে দলিল সম্পৰ্কীয় উহার স্ট্যাম্প মাতল নির্ণয় সংক্রান্ত অনুসন্ধানের ক্ষেত্র ব্যতীত, কোন দেওয়ানী কার্যধারার কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হইবে না; এবং

(খ) যাহারা অনুরূপ কোন সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছেন তাহাদের প্রত্যেকে উপরোক্ত কোন তথ্য বা অবস্থা অনুরূপ নিদর্শনপত্রে সঠিকভাবে বর্ণনা করিতে বিরত থাকিবার কারণে এই আইনের অধীনে আরোপিত অর্থদণ্ড ভোগ করা হইতে অব্যাহতি পাইবেন।

৩১ ও ৩২ ধারার শর্তাবলী, যেখানে প্রযোজ্য হইবে সেখানে পালনীয় পদ্ধতি হইল এই যে, কালেক্টরের সম্মুখে যেকোন দলিল উপস্থিত হইলে তিনি উক্ত দলিলের উপর তাহার মতামত প্রদান করিবেন। মতামত প্রদান করিবার পর দলিলের উপর প্রদেয় পরিশোধ করা বা না করা সম্পূর্ণ আবেদনকারীর উপর নির্ভর করিবে। এই ধারায় কালেক্টর কর্তৃক স্ট্যাম্প সম্পর্কিত ন্যায় নির্ণয় (adjudication) লইয়া আলোচনা করা হইয়াছে।

স্ট্যাম্প আইনের ৪১ ধারা দৈবক্রমে ঘাটতি স্ট্যাম্পযুক্ত নিদর্শনপত্র যে ক্ষেত্রে মাত্র ১০ পয়সা বা পাঁচ পয়সা নিদর্শনপত্র বা বিনিময় বিল বা প্রত্যর্থপত্র ব্যতীত কোন নিদর্শনপত্র যাহা মাণ্ডলযোগ্য এবং যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত নহে কোন ব্যক্তি, নিদর্শনপত্রখানি।

সম্পাদনের সময় হইতে এক বৎসরের মধ্যে তাহা স্বেচ্ছায় কালেক্টরের নিকট পেশ করিয়া উহার স্ট্যাম্প মাতলের অপূর্ণতা তাহার দৃষ্টিগোচর করেন এবং যথাযথ মাওল অথবা ঘাটতি স্ট্যাম্প মাতল প্রদান করেন তাহা হইলে তিনি যদি মনে করেন যে, উক্ত অপরাধ উক্ত ব্যক্তির স্বেচ্ছাকৃত নহে বা দৈবক্রমে অথবা জরুরী প্রয়োজন বশতঃ ঘটিয়াছে তাহা হইলে তিনি ৩৩ এবং ৪০ ধারার বিধান অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া অন্যরূপ মাশুল গ্রহণ করিবেন ।

এই ধারাটি দুর্ঘটনা, ভুল কিংবা গুরুতর প্রয়োজনের জন্য স্ট্যাম্প পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

বণ্ড সম্পাদনের এক বছরেরও পরে আদালতে উপস্থাপিত হইল যাহার সাথে ৩১ ও ৩২ ধারার সঙ্গে দরখাস্ত ছিল। এখানে ৪১ ধারার কোন প্রযোজ্যতা নাই। কালেক্টর ৪২ ধারার আওতায় অগ্রসর হইতে পারিবেন।

 

স্ট্যাম্প ডিউটি
স্ট্যাম্প ডিউটি

 

৪৯ ধারা । বিনষ্ট স্ট্যাম্প বাবদ বিশেষ সুবিধা প্রদানঃ

সরকার আবশ্যকীয় সাক্ষ্য কিংবা করণীয় অনুসন্ধান সম্পর্কে যে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারেন তাহা সাপেক্ষে, কালেক্টর, ৫০ ধারায় নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে আবেদন করা হইলে এবং প্রাপ্ত তথ্যাদি সন্তোষজনক হইলে অতঃপর উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে বিনষ্ট ইমপ্রেসড স্ট্যাম্পসমূহ বাবদ বিশেষ সুবিধা প্রদান করিতে পারিবেন। যথা-

(ক) এইরূপ কাগজের স্ট্যাম্প যাহা অসতর্কতাহেতু ও অনিচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট হইয়াছে অথবা উহাতে লিখিত কোন নিদর্শনপত্র কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হইবার পূর্বে তাহা লিখিত ভুল কিংবা অন্য কোন কারণবশত ব্যবহারের অযোগ্য হইয়া পড়ে। 

(খ) এইরূপ দলিলের স্ট্যাম্প যাহা সম্পূর্ণ বা আংশিক লিখিত কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত নহে।

(গ)দাবীক্রমে ব্যতীত অন্য প্রকারে প্রদেয় বিনিময় বিল বা প্রত্যর্থ পত্রের ক্ষেত্রে-

(১) এই বিনিময় বিলের স্ট্যাম্প যাহা রচনাকারী কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষরিত হইলেও গৃহীত হয় নাই বা কোন প্রকারে ব্যবহৃত হয় নাই বা গৃহীত হওয়ার জন্য পেশ করা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে হস্তান্তরিত হয় নাই।

তবে শর্ত থাকে যে, যেই কাগজে এইরূপ স্ট্যাম্প ছাপ মারা হইয়াছে তাহাতে পরবর্তীকালে লিখিত হইতে পারে এইরূপ কোন বিনিময় বিল গৃহীত হওয়ার জন্য অথবা তদুদ্দেশ্যমূলক কোন স্বাক্ষর থাকিবে না।

(২) এইরূপ বিনিময় বিলের স্ট্যাম্প যাহা উহার রচনাকারী কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষরিত হইলেও গৃহীত হয় নাই বা কোন প্রকারে ব্যবহৃত বা হস্তান্তরিত হয় নাই। 

(ঘ) নিদর্শনপত্রের কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত এইরূপ নিদর্শনপত্রের জন্য ব্যবহৃত স্ট্যাম্প। এই ধারা অনুসারে বিনষ্টকৃত স্ট্যাম্পের কয়েকটি শ্রেণী বিভাগ করা যাইতে পারে।

যথা— (১) সম্পাদনের পূর্বে বিনষ্ট স্ট্যাম্প; (২) সম্পাদনের পূর্বে ব্যবহারের অযোগ্য স্ট্যাম্প, (৩) বিনিময়পত্র ও প্রতিশ্রুতিপত্র; এবং (৪) সম্পাদনের পরে বিনষ্টকৃত বা ব্যবহারের অযোগ্য স্ট্যাম্প ইত্যাদি। 

৪৯ ধারা অনুযায়ী একটি বাটোয়ারা দলিল সম্পাদনের জন্য স্ট্যাম্প কাগজ ক্রয় পূর্বক আদালতে জমা দেওয়ার পর আদালতের কোন কর্মকর্তা উহা পাঞ্চ করিয়া ছাপ মারিয়া দেয়। এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত স্ট্যাম্প ব্যবহারের অনুপযোগী হইবে না।

স্ট্যাম্প আইনের তপসিল-১ এর ৪৫ অনুচ্ছেদঃ

৪৫। বণ্টন দলিলঃ

ধারা ২ (১৫) দ্বারা সংজ্ঞায়িত।

সম্পত্তির পৃথক পৃথক শেয়ারের অর্থ বা মূল্যের বণ্ড নং (১৫) বাবদ প্রদেয় একই পরিমাণ শুল্ক।

বি. দ্র.-সম্পত্তি বাটোয়ারার পর যে বৃহত্তম শেয়ার অবশিষ্ট থাকে তাহা (অথবা যদি সমমূল্যের) এইরূপ দুই বা ততোধিক শেয়ার থাকে যাহা অন্যান্য শেয়ার হইতে ক্ষুদ্রতর নহে তাহা হইলে এইরূপ সমান শেয়ারের একটি) হইতেই অন্যান্য শেয়ার পৃথক করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে ।

তবে সর্বদা শর্ত থাকে যে,

(ক) যেইক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানায় সম্পত্তি বিভক্তির সম্মতি সম্বলিত কোন বাটোয়ারা দলিল সম্পাদিত হয় এবং অনুরূপ সম্পত্তি অনুসারে বাটোয়ারা কার্যকর হয়, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ বাটোয়ারা কার্যকর করিবার দলিল বাবদ আদায়যোগ্য মাশুল হইতে প্রথমোক্ত দলিল বাবদ প্রদত্ত মাশুল বাদ যাইবে, তবে আদায়যোগ্য মাশুলের পরিমাণ এক টাকা পঞ্চাশ পয়সার কম হইবে না ।

(খ) যেইক্ষেত্রে রাজস্ব বন্দোবস্ত অনুযায়ী অনধিক ত্রিশ বৎসরের জন্য ভূমি দখলে থাকে এবং সম্পূর্ণ কর প্রদত্ত হয় সেইক্ষেত্রে মাশুলের উদ্দেশ্যে উহার মূল্য উক্ত ভূমির বার্ষিক রাজস্বের অনধিক পাঁচ গুণ হারে হিসাব করা যাইবে ।

(গ) বাটোয়ারা কার্যকরকল্পে কোন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ অথবা কোন দেওয়ানী আদালতের চূড়ান্ত আদেশ অথবা বাটোয়ারার চূড়ান্ত নির্দেশ সম্বলিত কোন সালিসের রোয়েদান যদি বাটোয়ারা দলিলের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত হয় এবং অনুরূপ আদেশ বা রোয়েদাদ অনুসারে কোন বাটোয়ারা দলিল সম্পাদিত হয় তাহা হইলে অনুরূপ দলিল বাবদ প্রদেয় মাশুল এক টাকা পঞ্চাশ পয়সার ঊর্ধ্বে হইবে না।

অধিক্ষেত্রেঃ বণ্টন মামলার একটি দলিলের উপর আনায়যোগ্য স্ট্যাম্প তত্ত্বের কোন আদালতের এখতিয়ারের উপর প্রতিকূল প্রভাব বিস্তার করিবে না কিংবা কোর্ট ফি আইনের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত কোন প্রশ্নকেও নিয়ন্ত্রণ করিবে না (PLD 1960 Dhaka 565]

বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন

আজকের আলোচনার বিষয় বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন। আদালতের অধিক্ষেত্র ও কোর্ট ফি নির্ণয়ের জন্য মামলার মূল্যায়ন নির্ধারণ করতে হয়। কোর্ট ফি আইনের ৭ এর ৫ ও ৬ উপ-ধারা এবং ১০ উপ-ধারার (খ) দফায় বর্ণিত মোকদ্দমাসমূহের এখতিয়ার নিরূপণকল্পে ভূমির মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারে। এই বিধি বলে কোর্ট এলাকার ভূমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন স্থানের ভূমির মূল্য বিভিন্নরূপ হতে পারে। ভূমির গুণাগুণের উপর জমির মূল্য কম বা বেশি হতে পারে। যে সম্পত্তির বাটোয়ারা চাওয়া হয় তার সমস্ত অংশের মূল্যের উপর কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

 

বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন

 

বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন

বিবাদী পক্ষও বাটোয়ারা চাইতে পারেঃ

বিবাদীর আলাদা পার্টিশন মামলা রুজু করার প্রয়োজন নাই। বিবাদী তার দাবী মোতাবেক দখলে থাকলে নির্ধারিত কোর্ট ফি দিয়ে বাটোয়ারা চাইতে পারে। বিবাদীর জবাবকেই প্রিডিং ধরা হয়ে থাকে। উভয়ের দাবী আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। দাবী মোতাবেক বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রী হয়। বাদী ও বিবাদী একই ফুটিং ধরা হয়।

 

বাদীর দাবী অগ্রগণ্য বিবাদীর দাবী নয়ঃ

মামলার বিষয়বস্তু বা মামলার কারণ বাদীরটা ধরা হয়। বিবাদীর দাবী বা বিষয়বস্তু নয়। ঘটনাক্রমে বিবাদীর দাবী মামলায় আনয়ন করা হয়ে থাকে। বাদীর দাবীই মামলার কারণ হিসাবে বিচার হবে। মোকদ্দমার মূল্যায়ন আদালত যেটা করবেন সেটাই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হবে ( 13 DLR (SC) 1911.

যৌথ সম্পত্তিতে বাদীর ছাহামের জন্য আনীত মামলায় নির্ধারিত কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়। মামলা ও আপিল উভয় ক্ষেত্রের কোর্ট ফির ব্যাপারে মামলার আকার- আকৃতির উপর নির্ভরশীল হবে।

বাদীর দাবীকৃত ভূমির মূল্য আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে থাকলে বিবাদীপক্ষের দাবী আর্থিক অধিক্ষেত্র অতিক্রম করলেও মামলা অচল হবে না। বিবাদীর দাবী আপীলে কার্যকর হবে এবং আর্থিক এখতিয়ার মোতাবেক চলবে। বাদীর দখলে জমি না থাকলে কেসের ধরনের উপর কোর্ট ফি দিতে হবে এবং সেভাবে আর্থিক এখতিয়ার নির্ণয় করা হবে। বাদীর দাবী যদি অর্ধেক সম্পত্তি বাবদ হয় তবে আর্থিক দাবীও অর্ধেক সম্পত্তির উপর বর্তাবে।

 

বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন

 

যৌথ সম্পত্তিতে বাদীর বাটোয়ারাঃ

নালিশী ভূমি বাদীর যদি দখলে থাকে তবে বাদীর দাবী অনুসারে সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত হবে ( 13 DLR (SC) 191 12 DLR- 329. PLD 1961 (SC)-349]

বাটোয়ারা মামলায় প্রাথমিক ডিক্রীতে বাণীর দানী আপীলেও একইরূপ নির্ণিত হবে JAIR 1947 (SAD) 407 |

বিবাদীর দাবী অনুসারে আপীলে মূল্যায়ন স্থির করতে হবে।

 

বেদখলী ভূমির বাবদ বাদীর পার্টিশন মামলাঃ

নালিশী সম্পত্তি হতে বাদী বেদখল হলে সম্পত্তির মূল্যের উপর কোর্ট ফি দিয়ে বাটোয়ারা মামলা রুজু করতে হবে। কোর্ট ফি নির্ধারণের পরে আর্থিক ক্ষেত্র নির্ণয় করা হবে 19 DLR 190, 1956 PLR 628].

 

পুনরায় পার্টিশন মামলাঃ

পূর্বের মামলায় দেখানো মূল্য বাদ দিয়ে। মূল্য নির্ধারিত হবে। কারণ ইতিমধ্যে পূর্বের একটি বাটোয়ারা মামলায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ভোগাধিকারের বিষয় নিয়ে পুনরায় মামলা হতে পারে।

 

বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন
বাটোয়ারা মামলার মূল্যায়ন এবং পার্টিশন

 

 

স্ট্যাম্প আইন এবং বাটোয়ারা দলিল:

এই আইনটি ১৮৯৯ সালের ২নং আইন দ্বারা প্রণীত ও প্রবর্তিত হয়েছে। স্ট্যাম্প আইনটি বাটোয়ারা দলিলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেখানে ৭৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল আছে।

 

বাটোয়ারা দলিলঃ

স্ট্যাম্প আইনের ২(১৫) ধারায় স্ট্যাম্প দলিলের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে৷ বাটোয়ারা দলিল বলতে যেখানে শরীকগণ কোন সম্পত্তি বণ্টন করে নিতে স্বীকৃত হয় যা কোন রেভেনিউ কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে আদেশপ্রাপ্ত হয় এবং শরিকদারের নির্দেশে রোয়েদাদ সম্পর্কিতভাবেও বাটোয়ারা দলিল হতে পারে।

আইনের মাধ্যম ব্যতিরেকে কোন শরীকগণ সুসম্পর্কের মাধ্যমে সম্পত্তি বাটোয়ারা করে নিলেও বাটোয়ারা দলিল হবে। এ সমস্ত দলিল অত্র আইনের ৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি চার্জযোগ্য। স্ট্যাম্প চার্জ না নিলে অত্র আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে দলিল সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করবে না।

একশত টাকার নিম্নের সম্পত্তির কোন রেজিট্রেশন না লাগলেও অত্র আইনের বিধান মতে প্রয়োজনীয় মূল্যমানের স্ট্যাম্প অবশ্যই লাগাতে হবে। বণ্টন দলিলের মাধ্যমে সহ-মালিকগণ তাহাদের অংশ ভাগ করে নিয়ে ভোগদখল করার অধিকার পেয়ে থাকে।

 

কোর্টের মাধ্যমে বাটোয়ারাঃ

কোর্টের মাধ্যমে বাটোয়ারার দু’টি ধরন লক্ষ করা যায় যা উক্ত আইনের ২(১৫) ধারায় প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্পের বিষয় উল্লেখ থাকে। দুটি ধরন হচ্ছে- (১) সম্পত্তি বণ্টনের নিমিত্ত চূড়ান্ত ডিক্রী, (২) চূড়ান্ত আদেশ দ্বারা সম্পত্তির পার্টিশন।

(১) চূড়ান্ত ডিক্রী দ্বারা সম্পত্তি বণ্টনঃ

প্রাথমিক ডিক্রীর চূড়ান্ত রূপ ফাইনাল ডিক্রী । দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২০ আদেশের ১৯(২) রুলের বিধানমতে যেখানে অধিকতর তদন্ত ব্যতিরেকে সুবিধাজনক ছাহাম বণ্টন সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণের অধিকার ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে আদেশ দিয়ে থাকেন।

দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৩ ও ১৪ রুলের বিধানমতে একজন কমিশনার নিযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কমিশনার বাস্তবভিত্তিক ছাহাম চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফয়সালার সুপারিশ করতে পারেন। শুনানী অন্তে আদালত চূড়ান্তভাবে আদেশ দিয়ে থাকেন।

অধিক তদন্ত ছাড়াও প্রাথমিক ডিক্রীর দ্বারা কার্যকর ছাহাম চিহ্নিত করা যায়। বাটোয়ারা মামলা রুজুর পর পক্ষগণের মধ্যে মামলা সোলে বা মীমাংসা হইলে সোলের শর্ত মোতাবেক পক্ষগণ ছাহাম চিহ্নিত করে নিলে আদালত বৈধ শর্ত মোতাবেক চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ দিতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে অধিক তদন্তের প্রয়োজন নেই।

তবে পক্ষগণের মধ্যে কিভাবে ছাহাম বণ্টন হয়েছে তার বাবদ দখলনামা নেয়া হয়। দখলনামা সোলের মর্মানুযায়ী হয়। পার্টিশনকে কার্যকর করার জন্য দখলনামা অনুসারে আদালত চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করে থাকেন।

(২) চূড়ান্ত আদেশ দ্বারা সম্পত্তির পার্টিশনঃ

চূড়ান্ত ডিক্রী বা চূড়ান্ত আদেশ পার্টিশনকে কার্যকর করার নির্মিত হয়ে থাকে। দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৪(৩) রুলের বিধান সম্পন্ন অন্তে ডিক্রী চূড়ান্ত হয়। পাস এ ডিক্রী এর অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৮ (৩) রুলের বিধান সম্পন্ন হওয়া। আদালত যখন দেওয়ানী কার্যবিধি ২৬ আদেশের ১৮ (১) রুলের বিধান মতে কমিশনারের রিপোর্ট গ্রহণ করে চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ প্রদান করেন। যার দরুন প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে বণ্টনকৃত ছাহাম বাবদ দখলনামা প্রদান করা হয়ে থাকে ।

কিন্তু যখন কমিশনার রিপোর্ট এর বিরুদ্ধে কোন পক্ষ আপত্তি দেয় তখন বৈধ কারণ সাপেক্ষে আদালত কমিশনার রিপোর্ট গ্রহণ নাও করতে পারেন। কোর্টের বিবেচনায় যা সঠিকরূপে সাব্যস্ত হবে সেই মোতাবেক চূড়ান্ত ডিক্রীর আদেশ হবে।

তামাদি আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ তামাদি আইন

 

তামাদি আইন
তামাদি আইন

 

তামাদি আইন

অন্যান্য আইনের মত ভাগ-বাটোয়ারার মামলার ক্ষেত্রেও তামাদি আইন প্রযোজ্য। সর্বাধিক প্রযোজ্য অনুচ্ছেদসমূহ
আর্টিকেল ১১(ক), ৯১, ১১৩, ১২০, ১২৭, ১৪৪, ১৮২

(১) আর্টিকেল ১১ (ক)ঃ

এতে বলা হয়েছে যে, কোন স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য ডিক্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা ডিক্রীজারীতে অনুরূপ সম্পত্তির ক্রেতা যদি উক্ত সম্পত্তির দখল অর্পণে বাধাদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ করে দরখাস্ত করে কিংবা ডিক্রীদার বা ক্রেতাকে সম্পত্তির দখল অর্পণের দরুন যে ব্যক্তি সম্পত্তি হতে বেদখল হয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে যদি কোন দরখাস্ত করে এবং অনুরূপ দরখাস্তের ফলে ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে সেই ব্যক্তির উপর কোন আদেশজারী হয়, সেই ব্যক্তি কর্তৃক আনীত মামলা আদেশদানের এক বছরের মধ্যে করতে হবে।দেওয়ানী কার্যবিধি ২১ আদেশের বিধি ১০৩ প্রযোজ্য। মোকদ্দমা কেবল স্বত্ত্বের, দখলেরই মামলা হবে না।

(২) আর্টিকেল ৯১ঃ

১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের বিধান বর্ণিত হয়েছে কেবল সেক্ষেত্রে এ আর্টিকেলটি প্রযোজ্য। নাবালকের কোন বাটোয়ারা দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে আর্টিকেল ৯১ বা ৯৫ টি প্রযোজ্য ।

(৩) আর্টিকেল ১১৩ঃ

চুক্তি প্রবলের জন্য নির্ধারিত তারিখ অথবা অনুরূপ কোন তারিখ নির্দিষ্ট না থাকে, তখন চুক্তি পালনে অস্বীকৃতির বিষয় বাদী যখন অবগত হয়, তা থেকে তিন বৎসরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়। সরল বিশ্বাসে বাটোয়ারা দলিলে যদি কোন বৈষম্য পরিলক্ষিত হয় তবে তা দলিল হিসাবে নয়, চুক্তি হিসাবে গণ্য হবে বিধায় অনুচ্ছেদ ১২০ বা ১৪৪ নয়, অনুচ্ছেদ ১১৩ প্রযোজ্য হবে (১৫৬ আই. সি. ৮৭৯ মাদ্রাজ)। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দখলের ক্ষেত্রে তিন বৎসরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে ।

(৪) অনুচ্ছেদ ১২০ঃ

এ অনুচ্ছেদ অনুসারে তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে অব তফসিলের অন্য কোথাও কোন বিধান নেই, সেই মামলার মেয়াদ গণনা করা যাবে। মামলা করার অধিকার যখন সৃষ্টি হয় তখন থেকে ছয় বৎসরের মধ্যে তামাদি গণনা করা হয়।

 

তামাদি আইন
তামাদি আইন

 

(৫) অনুচ্ছেদ ১২৭ঃ

যৌথ পরিবারের সম্পত্তির অংশ হতে বহির্ভূত ব্যক্তি কর্তৃক তার অধিকার বলবৎ করার জন্য বাদী যখন বহির্ভূত হয় তখন হতে বার বৎসরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে। এ অনুচ্ছেদ কোন বহিরাগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যৌথ সম্পত্তির সহ-মালিককে বুঝানো হয়েছে। যৌথ সম্পত্তির কোন সহ-মালিক দখলচ্যুত হলে সেক্ষেত্রে অত্র অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়। আংশিক বাটোয়ারার ক্ষেত্রেও এ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। দীর্ঘকাল যাবৎ কোন যৌথ সম্পত্তির সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তার স্বত্ব নষ্ট হবে না। যখন বহির্ভূত জানা যাবে তখন থেকে অত্র অনুচ্ছেদের তামাদি গণনা হবে।

(৬) তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৪ঃ

তামাদি আইনের ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেলে বলা হয়েছে যে, স্থাবর সম্পত্তি বা তৎসংশ্লিষ্ট কোন স্বত্ত্বের দখল লাভের জন্য অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক বার বছরের মধ্যে মামলা রুজু করতে হবে।

অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক বিবাদী যখন একটি সম্পত্তি নিরবচ্ছিন্নভাবে দখলে থাকে, বিবাদীর দখল বাদীর প্রতিকূলে হতে হবে, বাদী ১২ বৎসরের মধ্যে মামলা করবে, মামলা না করলে বিবাদী ঐ সম্পত্তিতে স্বত্বলাভ করবে, বাদী তার স্বত্ব হারাবে, বিবাদীর দখল প্রকাশ্যভাবে হতে হবে ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা করা হবে।

বেদখলকার অনুমান লাভ বা কোন সুবিধা হতে বঞ্চিত এটি বর্তমানে স্বীকৃত নীতি যে খাজনা দিলে বা কোনরূপ উপস্বত্ব ভোগ না করলে যৌথ সম্পত্তির একজন সহ- শরিক দীর্ঘকাল বিচ্যুত থাকলে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হলে বেদখলকার হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। বৈরী দখল (Adverse possession) প্রকৃত প্রকাশ্য এবং জবর দখল হলেও চলবে। বৈরী দখল সৃষ্টি করতে হলে অন্যের দখল অস্বীকার করে প্রকাশ্য এবং প্রকৃতভাবে জবরদখলে থাকতে হবে। এরূপ জবরদখল অন্যের বিরুদ্ধে ১২ বছরের ঊর্ধ্বকাল কার্যকর করতে হবে [26 CWN 65].

 

তামাদি আইন
তামাদি আইন

 

বৈরী দখল দৃশ্যতঃ

বিরূপভাবে জবরদখল, যা অন্যকে বেদখল করে, প্রমাণ করতে হবে- একজন সহ-শরীক যাতে বুঝতে পারে বা জ্ঞাতসারে বেদখল আছে মর্মে বুঝতে পারে, এরূপভাবে হতে হবে [PLD 1962 Kar 209].

একজন শরীকের দখল সকল শরীকের দখল বুঝাবে। এটি বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি। বিশেষ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম প্রমাণিত হলে বৈরী দখলের সুবিধা আসবে। প্রতিটি কেসই নিজস্ব পারিপার্শ্বিক অবস্থার ও ঘটনার উপর নির্ভর করবে একটি কেসের সঙ্গে অন্যটির তুলনা হবে না।

নিম্নে বৈরী দখল (Adverse possession) এর কিছু উল্লেখযোগ্য নজির প্রদত্তঃ

(১) স্বত্ববিহীন ব্যক্তির দখল অবশ্যই সুনির্দিষ্ট একক এবং প্রকৃত দখল হতে হবে 12 BLD (HC)-43)

(২) বায়নাপত্র মূলে বার বৎসরের ঊর্ধ্বকাল দখল হবে। বাদীর বায়নাপত্র সঠিকভাবে প্রমাণিত না হলেও প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে দখল প্রমাণিত হলে দখলী স্বত্ত্বের ডিক্রী হওয়ায় কোন বাধা নেই। [ 3 BLD (AD) 315)

(৩) প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে বৈরী দখল হয় না, এককভাবে দখল করলেই বৈরী দখল হবে না । সনসন খাজনা দেওয়া প্রমাণিত না হলেও মালিক প্রজা সম্পর্ক ক্ষুন্ন হবে 14 BLD (AD). 15).

(৪) তামাদি আইনের ১৪৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক একজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে একক দখল করতে হবে (6 BLD (HC)-63)

(৫) ভাড়াটিয়া বৈরী দখল দাবী করতে পারে না [ 6 BLD (AD) 297 38 DLR (AD)-22; 39 CWN-552].

(৬) এমনকি একজন অনুপ্রবেশকারীর দখলও প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধ ছাড়া অন্যের বিরুদ্ধে বৈরী দখল হবে। আইনের মাধ্যম ব্যতিরেকে তাকে উচ্ছেদ করা যায় না। [11 BLD (AD) 144].

(৭) শরীকের নিকট হতে খরিদ করে ১২ বৎসরের ঊর্ধ্বকাল অন্যান্য শরীকগণের জ্ঞাতসারে ভোগদখল করলে বৈরী দখল হবে | 45 DLR (HC)-5411.

(৮) সরকারের বিরুদ্ধে ৬০ বৎসরের ঊর্ধ্বকালের বৈরী দখল প্রমাণ করতে হবে [20 CWN-311].

(৯) প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে দখল বৈধ ও আইনানুগ | 3 BLD (AD) 315].

(১০) বৈরী দখলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিরূপ দখল, জবরদখল, বিরতিহীন চলমান দখল এবং প্রকৃত দখল (6 BLT (HC)-311.

(১১) অনুমতি সূত্রে দখল বৈরী দখল হবে না [5 MLR (AD) 72 79].

(১২) প্রকৃত মালিকের দখল যদি আইনানুগ হয় তবে তার বিরুদ্ধে বৈরী দখল হয়

(১৩) মৌখিকভাবে দখল থাকলেও তামাদি আইনের ২৮ ধারা মতে হবে। ঢোল-[20 BLD (HC)-407]. সহরতের প্রয়োজন নেই | 10 BLT (HC)-235 54 DLR (HC) -523].

(১৪) শরীকের নিকট হতে খরিদ করে নাম পত্তনে আলাদাভাবে দখল করলে বৈরী দখল হবে | 10 BLT (HC)-339).

(১৫) পণের টাকার রশিদ যদিও স্বত্বাগম ঘটায় না তবুও ১২ বৎসরের ঊর্ধ্বকালের দখল প্রমাণিত হলে বৈরী দখল হবে | 12 BLT (AD)-27).

 

তামাদি আইন
তামাদি আইন

 

(৭) অনুচ্ছেদ ১৮২ঃ

দেওয়ানী মামলার ডিক্রীর পর ডিক্রী বা আদেশের তারিখ হতে তিন বৎসরের মধ্যে অথবা যেকোন ক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটির সহিমোহরকৃত নকল রেজিস্টারী করা হয়েছে, সেই তারিখ হতে তিন বৎসরের মধ্যে ডিক্রীজারী দিতে হবে।

এ অনুচ্ছেদ বিবেচনায় নিম্নের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য

(ক) ডিগ্রী বা আদেশের তারিখ:

(খ) যেখানে আপীল হয়েছে, আপীল আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রী বা আদেশের তারিখ বা আপীল খারিজের তারিখ অথবা

(গ) যেখানে রায় পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের তারিখ, অথবা

(ঘ) যেক্ষেত্রে ডিক্রী সংশোধন করা হয়েছে সেই সংশোধনের তারিখ হতে,

(ঙ) যে দরখাস্ত করা হয়েছে, আইন অনুসারে উপযুক্ত আদালত ডিক্রীজারীর সুবিধার্থে যে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দরখাস্ত করা হয় সেই সম্পর্কে চূড়ান্ত আদেশের তারিখ, অথবা

(চ) টাকার ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল হইয়া থাকলে ডিক্রীতে টাকা ফেরৎদানের নির্দেশ দেওয়া হলে আপীল আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রীর তারিখ বা আপীল প্রত্যাহারের তারিখ, অথবা

(ছ) যেখানে ডিক্রী বা আদেশবলে কোন নির্দিষ্ট তারিখে কোন অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই নির্দেশ কার্যকরী করবার জন্য দরখাস্তের ব্যাপারে উক্ত নির্দিষ্ট তারিখ ।

 

ব্যাখ্যা (১)।

যেক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির অনুকূলে পৃথক পৃথকভাবে ডিক্রী বা আদেশ প্রদত্ত হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের ডিক্রীর বিষয়বস্তুর যে অংশ প্রদান বা অর্পণ করতে হবে তা পৃথক করে দেখানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে অত্র অনুচ্ছেদের ৫ দফায় যে যে দরখাস্তের বিষয় উল্লেখ আছে তা কেবল অনুরূপ দরখাস্তকারীদের বা তাদের প্রতিনিধিদের অনুকূলে কার্যকরী হবে।

কিন্তু যেক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটি একাধিক ব্যক্তির অনুকূলে যৌথভাবে প্রদত্ত হয়েছে সেক্ষেত্রে অনুরূপ দরখাস্ত তাদের একজন বা একাধিক জন অথবা তার বা তাদের প্রতিনিধি কর্তৃক দেওয়া হয়ে থাকলে তাদের সকলের অনুকূলে কার্যকরী হবে।

যেক্ষেত্রে ডিক্রী বা আদেশটি একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেক ডিক্রী বা আদেশের বিষয়বস্তুর যে অংশ প্রদান বা আপীল করবে তা স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে। ডিক্রী সকলের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে।

ব্যাখ্যা (২)।

উপযুক্ত আদালত বলতে সে আদালতকে বুঝাবে যার কর্তব্য হচ্ছে ডিক্রীজারী করা বা আদেশ কার্যকরী করা।
বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রীর কোন তামাদি শত নেই। তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ কার্যকরী হবে।

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন

আজকে আমরা আলোচনা করবো দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন সম্পর্কে ।

 

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন
দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন

 

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন

দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারার বিধানমতে আদালত কমিশন ইস্যু করেন এবং ১৮ আদেশের ২০ রুলের বিধানমতে বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রীর আদেশ প্রদান করেন।

২০ আদেশের ১৮ রুলের বিধান সম্পত্তি বাটোয়ারা বা কারো অংশের পৃথক পৃথক দখল সংক্রান্ত মামলায় ডিক্রী, যেক্ষেত্রে আদালত কোন সম্পত্তি বাটোয়ারার অথবা সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের ডিক্রী প্রদান করবেন, সেক্ষেত্রে-

(১) যদি উক্ত ডিক্রী সরকারি রাজস্ব আদায়ী কোন ভূ-সম্পত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত হয়, তবে সে ডিক্রীতে উক্ত সম্পত্তির স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের অধিকার উল্লেখ করতে হবে। তৎসহ নির্দেশ দিতে হবে যে কালেক্টর অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ধারার ভারপ্রাপ্ত কোন অধস্তন গেজেটেড অফিসার ডিক্রীর ঘোষণা ও ৫৪ বিধান অনুসারে উক্ত সম্পত্তির বাটোয়ারা বা পৃথক দখলদানের কার্য সম্পন্ন করবেন ।

(২) যদি উক্ত ডিক্রী অন্যকোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত হয় তবে উক্ত বাটোয়ারা বা পৃথক দখল দান করার জন্য অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হলে আদালত একটি প্রাথমিক ডিক্রীর দ্বারা উক্ত সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের অধিকার ঘোষণা করতে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্দেশ দান করতে পারেন ।

উক্ত আদেশে আরো উল্লেখ আছে যে-

(১) যেক্ষেত্রে সম্পত্তির হিসাব দাখিলের জন্য আদালতের ডিক্রী অনুসারে, সম্পত্তির যথাবিহিত বিলিব্যবস্থার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেখানে আদালত চূড়ান্ত ডিক্রী প্রদানের পূর্বে একটি প্রাথমিক ডিক্রী প্রদান করবেন এবং তদ্বারা উক্ত সম্পত্তির প্রয়োজনীয় হিসাবাদি গ্রহণ ও অনুসন্ধানাদি পরিচালনার আদেশ দান করবেন।

(২) আদালত কর্তৃক কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বিলিবন্টনকালে যদি প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সমস্ত দায় পরিশোধের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে যে আদালতে উক্ত সম্পত্তি বিলিব্যবস্থার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাধীন দেউলিয়া ব্যক্তিদের সম্পত্তি প্রসঙ্গে বন্ধকী পাওনাদার ও বন্ধকহীন পাওনাদারের আপেক্ষিক অধিকার, গ্রহণযোগ্য দেনা, বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ ও ভবিষ্যৎ দেনা সম্পর্কে বর্তমানে প্রচলিত আইন এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি হতে যাদের পাওনা পরিশোধ হবার যোগ্য, এরূপ সকল ব্যক্তি প্রাথমিক ডিক্রীর আওতায় পড়বে এবং এ আইন মোতাবেক তারা তাদের নিজ নিজ দাবী-দাওয়া পেশ করতে পারবে।

 

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন
দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন

 

কমিশন নিয়োগ করাঃ

আদালত বাটোয়ারা কার্যকর করার জন্য কমিশন নিয়োগ করবেন। এর জন্য ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির পরিশিষ্ট ‘জ’ এর ১০ নং নমুনা অনুসরণ করবেন ।

নমুনাটি নিম্নরূপঃ

……….. এর প্রতি

যেহেতু এ আদালত ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে প্রদত্ত ডিক্রীতে বিভিন্ন পক্ষের স্বত্বানুসারে ডিক্রীতে বর্ণিত সম্পত্তি বাটোয়ারা করবার উদ্দেশ্যে কমিশন দেওয়া আবশ্যক হয়েছে, সেহেতু এতদ্বারা আপনাকে উক্ত উদ্দেশ্যে কমিশন নিয়োগ করা হল এবং এতদ্বারা আপনাকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে যে, আপনি প্রয়োজনীয় তদন্ত সমাপ্ত করে আপনার বিবেচ্য যেরূপ হবে সেরূপভাবে উক্ত ডিক্রীতে উল্লিখিত অংশানুপাতে ভাগ-বাটোয়ারা করবেন এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তা বিলিবন্টন করবেন।

এতদ্বারা আপনাকে ক্ষমতা দেওয়া যাচ্ছে যে, বিভিন্ন পক্ষের প্রাপ্য অংশের সমতা বিধানকল্পে একপক্ষকে অপরপক্ষ কর্তৃক টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে আপনি এরূপ রোয়েদাদ প্রদান করতে পারবেন ।

এতদুদ্দেশ্যে আপনি কারো সাক্ষাৎ গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করলে বা কোন দলিল পরিদর্শন করবার প্রয়োজন মনে করলে আপনার আদেশক্রমে উক্ত সাক্ষী আপনার নিকট হাজির হওয়ার জন্য বা দলিল উপস্থিত করবার জন্য এখতিয়ারসম্পন্ন যে কোন আদালতের মাধ্যমে সমন দেওয়া যাবে।

এ নিয়োগের জন্য আপনার ফি বাবদ ……টাকা এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হল । অদ্য ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ আমার স্বাক্ষর ও আদালতের সীলমোহরযুক্ত কমিশন দেওয়া হল ।

 

দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন
দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক কোর্টের মাধ্যমে বণ্টন

 

প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তিঃ কমিশনার কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে যদি কোন আপত্তি থাকে তা আদালতে পেশ করা যাবে। তবে তার বাবদ আপত্তি দাখিলের সময়সীমা দেওয়া হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে আপত্তি দাখিল করতে হবে, অন্যথায় কোর্ট তা বিবেচনা করবেন না ।

আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত সন্ধানের আদেশ দিতে পারবেন। বিচারিক আদালতে আপত্তি উত্থাপন না করলে আপীল আদালতে আপত্তি উত্থাপন করা যায় না।

চূড়ান্ত ডিক্রী, দখল প্রদান চূড়ান্ত ডিক্রী বাস্তবায়নে যদি দেখা যায় কোন শরীকের ঘর পেচে গেছে, তখন নতুনভাবে দখল বাবদ রীট ইস্যু করে ঘর উচ্ছেদপূর্বক নিষ্কণ্টক দখল প্রদান করতে হবে (38 CWN 832 934 Cal 793 ) । ভাগ- বাটোয়ারার মামলায় ফাইনাল ডিক্রী বাবদ যথাযথ স্ট্যাম্প দিতে হবে।

শুধু বাদীর অংশ ভাগ-বাটোয়ারার আদেশ থাকলে কোর্ট ডিক্রী সংশোধন করত: বিবাদীর নিকট হতে আবেদনের মাধ্যমে এবং স্ট্যাম্প নিয়ে বিবাদীর অংশ বণ্টন করে দিতে পারবেন এবং ছাহাম মোতাবেক দখল দিবেন। তার দরুন আদালত বিবাদীর নিকট হতে অতিরিক্ত কোর্ট ফি চাইবেন না।

দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৪ ধারায় সম্পত্তি বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে- যেক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব প্রদানের প্রয়োজনে কোন অবিভক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য বা অনুরূপ কোন সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের জন্য ডিক্রী প্রদত্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে কালেক্টর অথবা কালেক্টর কর্তৃক মনোনীত অধস্তন কোন গেজেটেড পদের কর্মচারী উক্ত সম্পত্তির বাটোয়ারা বা অংশের পৃথকীকরণ সম্পন্ন করবেন এবং অনুরূপ সম্পত্তির বাটোয়ারা অংশ পৃথকীকরণ সম্পর্কে বর্তমানে প্রচলিত আইন (যদি থাকে) অনুসারে তিনি সেটা সম্পন্ন করবেন। এ ধারায় রাজস্ব প্রদানের নির্মিত এজমালী বাটোয়ারা ডিক্রীজারির বিধান প্রদত্ত হয়েছে।

 

বাটোয়ারা মামলার কোর্ট ফি

১৮৭০ সালের ৭নং কোর্ট ফি আইনের ৭ ধারা এর উপ-ধারা ৬ (ক) অনুসারে যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বা যৌথ সম্পত্তির বাটোয়ারার এবং পৃথক শেয়ার দখল অথবা অনুরূপ সম্পত্তিতে শেয়ারের অধিকার বলবৎ করার মোকদ্দমাঃ

বাদী যে সম্পত্তির সহ-অংশীদার অথবা সহ-মালিক বলে দাবী করেন, সেই সম্পত্তির দখল হতে বাদীকে বে-দখল করা হলে যে শেয়ার সম্পর্কে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে তার বাজার মূল্য অনুযায়ী হবে ।

কোর্ট ফি আইনের ৭ ধারার উপ-ধারা ৫, ৬, ৯ এবং ১০ এর খ দফায় বর্ণিত মামলাসমূহ ব্যতীত অন্য মামলাসমূহের যেখানে ১৮৭০ সালের কোর্ট ফি আইনের অধীন মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য অনুপাতে কোর্ট ফি প্রদেয়, সেখানে কোর্ট ফি নির্ধারণের জন্য মূল্য এবং আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত মূল্য একই হবে। বাটোয়ারা মামলায় বাদীর অংশের সম্পত্তির উপর মামলার মূল্যমান নির্ভর করে (AIR 1953 Pat. 342 )।

যদি সমস্ত সম্পত্তির বণ্টন উদ্দেশ্য হয়, তবে সমস্ত সম্পত্তির মূল্যের উপর মামলার ও আপীলের এখতিয়ার নির্ধারিত হয়ে থাকে। এজমালি সম্পত্তির দখলের ভিত্তিতে তার অংশের দাবী করলে এমনকি বিবাদী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অতিরিক্ত মূল্যের অংশ প্রাপ্ত হলেও আদালতের আর্থিক এখতিয়ার প্রভাবিত হবে না (12 DLR (FB)- 329

১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন

আজকে আমরা  ১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন
১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন

 

১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন

ভাগ-বণ্টন কী এবং এটি কিভাবে কার্যকর করা হয় ভাগ-বণ্টন করা অর্থ কোন যৌথ ভোগদখলকৃত সম্পত্তির শরীর মালিকদের মধ্যে অংশ মোতাবেক ভাগ করে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট ছাহাম চিহ্নিত করে দেওয়া বুঝায়।

বাটোয়ারার প্রশ্নটি মূলত কোন যৌথ ভোগদখলকৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বণ্টনের আইন কোন শ্রেণীর সুনির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা বলে দেয়নি। কেবল সম্পত্তির ভাগ-বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যের কথাই বলা হয়েছে। বাটোয়ারার বিষয়টি স্বীকৃত হলেও তার কোন সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি ।

মালিকানাভুক্ত বিষয়ই সম্পত্তি। মালিকানা বলতে কোন বিষয়ের এক বা একাধিক বাক্তির দখল ও ভোগাধিকারকে বুঝায়। সম্পত্তি কেবল স্থাবর সম্পত্তি নয়, অস্থাবর কারবার, কারখানা, ঘর-বাড়ী প্রভৃতিও বাটোয়ারা হতে পারবে। বণ্টন সুবিধাজনক না। হলে বেচা-বিক্রি পূর্বক ভাগ-বণ্টন হতে পারে ।

ধারা-১। শিরোনাম, এলাকা, বলবৎ হওয়ার তারিখ ও সংরক্ষণ :

(১) এই আইন ১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা বাংলাদেশের সর্বত্র প্রয়োগ হইবে।

(৩) বাতিল ।

(৪) এই আইন সরকারের রাজস্ব প্রদেয় স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার ক্ষেত্রে অন্য কোন আইনকে প্রভাবিত করিবে না।

[Sec. 1. Title, extend and saving-

(1) This Act may be called the Partition Act, 1893.

(2) It extends to the whole of Bangladesh.

(3) (Omitted).

(4) But nothing herein contained shall be deemed to affect any other law providing for the partition of immovable property paying revenue to Government.j

ধারা-২। বাটোয়ারার স্থলে বিক্রির আদেশঃ

অত্র আইনের পূর্বে কোন মামলা রুজু হইয়া থাকিলেও বাটোয়ারা মামলায় আদালতের নিকট যদি মনে হয় যে, সম্পত্তির প্রকৃতি অনুসারে অংশীদার অধিক বা কোন কারণে উহা যথাযথ বা সুবিধাজনকভাবে বণ্টন সম্ভব নহে, সেইক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি বিভিপূর্বক কণ্টন যদি অধিক সুবিধাজনক হয় তবে বিক্রি অন্তে বণ্টনের নির্দেশ নিতে পারেন।

 

১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন
১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন

 

[Sec. 2. Power to Court to order sale instead of division in Partition-

Whenever in any suit for partition in which if instituted prior to the commencement of this Act a decree for partition might have been made. It appears to the Court that by reason of the nature of the property to which the suit relates, or of the number of the share holders therein or of any other special circumstance, a division of the property cannot reasonably or conveniently be made, and that a sale of the property and distribution of the proceeds would be more beneficial for all the share-holders, the court may if it thinks fit on the request of any of such share-holders interested individually or collectively to the extent of one molety or upwards, direct a sale of the property and a distribution of the proceeds. ]

ধারা-৩। সহ-অংশীদার কর্তৃক ক্রয় উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াঃ

(১) যদি কোন মামলায় কোন অংশীদার পূর্বের ধারা অনুসারে বাটোয়ারাযোগ্য কোন সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশনার জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করে সেই অনুসারে অন্যকোন অংশীদার উক্ত সম্পত্তির সংশ্লিষ্ট অংশ বা অংশসমূহ নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে.. সেইক্ষেত্রে আদালত উক্ত সম্পত্তির অংশ বা অংশসমূহের সেইরূপ মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিবেন এবং উক্তরূপে নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় ইচ্ছুক অংশীদারের নিকট উহা বিক্রির জন্য অর্পণ এবং সেই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দান করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) মোতাবেক ক্রয় সুযোগের প্রেক্ষিতে দুই বা ততোধিক অংশীদার যদি পৃথক পৃথকভাবে ক্রয় করিবার সুযোগ চাহিয়া আবেদন করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত অংশ বা অংশসমূহের নির্ধারিত মূল্যের সর্বাধিক মূল্য প্রদানে সক্ষম অংশীদারের অনুকূলে বিক্রির আদেশ দিবেন।

(৩) এইরূপ নির্ধারিত অংশ বা অংশসমূহের নির্ধারিত মূল্যে যদি কোন অংশীদার ক্রয় করিতে ইচ্ছুক না হয়, তাহা হইলে আবেদনকারী বা আবেদনকারীবৃন্দকে উত্তরপ আবেদনের জন্য সমুদয় খরচ প্রদানে অবশ্যই বাধ্য করা যাইবে।

[Sec. 3. Procedure when sharer undertakes to buy-

(1) If in foregoing section to direct a sale. any other share-holder any case in which the Court is requested under the last applies for leave to buy at a valuation the share or shares of the party or parties asking for a sale the Court shall order a valuation of the share or shares in such manner as it may think fit and offer to sell the same to such share-holder at the price so ascertained and may give all necessary and proper directions in that behalf.

(2) If two or more share holders severally apply for leave to buy as provided in sub-section (1) the Court shall order a sale of the share or shares to the share holder who offers to pay the highest price above the valuation made by the Court.

(3) If no such share holder is willing to buy such share or। shares at the price so ascertained, the applicants shall be Hlable to pay all costs of or incidental to the application or applications.]

 

১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন
১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইন

 

ধারা-৪ । বসতবাড়ীর অংশের হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক বাটোয়ারা মামলা

(1) যেইক্ষেত্রে কোন অভিভক্ত পরিবারের বসতবাড়ীর একজন সহ-অংশীদার তাহার অংশ এমন কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করে যে যৌথ পরিবারের সদস্য নহে, সেইক্ষেত্রে যদি উক্ত হস্তান্তরগ্রহীতা উক্ত বসতবাড়ী বণ্টনের মোকদ্দমা রুজু করে, এইরূপ অবস্থাতে আদালত যদি উক্ত যৌথ বসতবাড়ীর কোন অংশ সহ-অংশীদার আগন্তুকের নিকট বিক্রিত অংশ ক্রয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে, যেইরূপ যথার্থতা বিবেচনা করিবেন, সেইরূপ উক্ত অংশের মূল্য নির্ধারণপূর্বক, উক্ত অংশ ক্রয়-ইচ্ছুক সহ-অংশীদারের নিকট বিক্রয়ের নির্দেশ দিবেন এবং তজ্জন্য যাহা কিছু করণীয় তাহা সম্পাদনে যথাযথ আদেশ করিবেন ।

(২) উক্ত ধারার উপ-ধারা (১) এর বর্ণনা মতে যদি উক্ত যৌথ পরিবারের দুই বা ততোধিক পরিবারের সদস্য উক্ত বসতবাড়ীর অংশ ক্রয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে, সেইক্ষেত্রে আদালত পূর্বোক্ত ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

[Sec. 4. Partition suit by transferee of share in dwelling-house–

(1) Where a share of a dwelling-house belonging to an undivided family has been transferred to a person who is not a member of such family and such transferee sues for partition, the Court shall, if any member of the family being a share-holder shall undertake to buy the share of such transferee make a valuation of such share in such manner as it thinks fit and direct the sale of such share to such share holder and may give all necessary and proper directions in that behalf.

(2) If in any case described in sub-section (1) two or more members of the family being such share-holders severally undertake to buy such share the Court shall follow the procedure prescribed by sub-section (2) of the last foregoing section.j

উপরোক্ত ৪ নং ধারাটি বিশ্লেষণ করলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পাওয়া যায়, যথা- (১) একটি বসতবাড়ী, (২) এটি অবশ্যই অবিভক্ত পরিবারের দখলাধীন থাকবে, (৩) উক্ত যৌথ বসতবাড়ী একটি অংশ একজন সহ-অংশীদার কর্তৃক একজন আগন্তুকের নিকট হস্তান্তর হবে, (৪) হস্তান্তরগ্রহীতা বসতবাড়ীর বাটোয়ারার জন্য মোকদ্দমা রুজু করবে, (৫) অন্য সহ-অংশীদার কর্তৃক তা ক্রয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করবে।

যৌথ বসতবাড়ীর কোন অংশ বহিরাগতের নিকট হস্তান্তররোধই অত্র ধারার উদ্দেশ্য। অংশীদার যৌথ বসতবাড়ীর অংশ ক্রয় সুযোগ প্রদানই অত্র ধারার অন্যতম উদ্দেশ্য বলা যায়। ধারাটি প্রবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য কোন যৌথ পরিবারের পর্দা, মর্যাদা, পারিবারিক রক্ষণশীলতা সম্পর্কে যাতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ করবার সুযোগ না পায়।

পরিবার সম্পর্কে কোন সংজ্ঞা এ আইনে দেওয়া হয়নি। তবে পরিবারের বিভিন্ন সংজ্ঞা কেস ল’ হতে পাওয়া যায়। (যেমন – Familyincludes a group of persons related in blood who live in one house under one head or management and it is not restricted to a body of persons who can trace their descent from a common ancestors. বিবাহিত মহিলা পিতার পরিবারের সদস্য হিসাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণ্য হবে না।

অবিভক্ত পরিবার (undivided family) অবিভক্ত পরিবার বলতে পরিবারের সব সদস্যকে একই বাড়ীতে বা একই মেসে বসবাস করতে হবে এমন নয়। কোন বসতবাড়ীর মালিকানা প্রকৃত দখলকার নয় ।

(An undivided family must be taken to mean undivided quo the dwelling house in question and to be a family which owns the house but has not divided it [36 DLR-351]

ধারা-৫। অসমতার দরুন পক্ষগণের প্রতিনিধিত্বঃ

যে কোন বাটোয়ারা মামলায় বিক্রির জন্য অনুরোধ কিংবা ক্রয় সুবিধা চাহিয়া অঙ্গীকার বা আবেদন করা যাইবে অথবা অক্ষম কোন পক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন পক্ষ এ মোকদ্দমায় ভূমিকা পালনে । কিন্তু এক্ষেত্রে আদালত এইরূপ অনুরোধ অঙ্গীকার বা আবেদন রক্ষা করিতে বাধ্য নহে। এ ধরনের বিক্রি যতক্ষণ না অক্ষম পক্ষের উপকারে আসিবে প্রমাণিত হইবে।

[Sec. 5. Representation of parties under disability –

In any suit for partition a request for sale may be made or an undertaking, or application for leave. to buy may be given or made on behalf of any party under disability by any person authorised to act on behalf of such party in such suit but the Court shall not be bound to comply with any such request. undertaking or application, unless it is of opinion that the sale or purchase will be for the benefit of the property under such disability .

 

 

ধারা-৬। নিলাম সংরক্ষণ এবং অংশীদারগণ কর্তৃক নিলাম ডাক :

(১) ২ ধারা এর অধীন প্রত্যেক নিলাম ডাক সংরক্ষণ সাপেক্ষে নিলাম এবং আদালত যথাবিবেচ্য নিলামের দর নির্ধারণ করিবেন এবং তাহা সময় সময় পরিবর্তনযোগ্য ।

(২) এইরূপ নীলামের ক্ষেত্রে কোন অংশীদার জমাযোগ্য অর্থ জমা না দিয়া তুল্যদাবী অথবা নিলামের অর্থের হিসাব অথবা এইরূপ কোন অংশ অর্পণ না করে, এই ব্যাপারে আদালত যেইরূপ উচিত বিবেচনা করিবেন, সেইরূপ নিলাম ডাকিতে পারেন।

(৩) যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পত্তির একজন অংশীদার যথাযথভাবে বিক্রির নিলাম ডাকাকালে নিলামের সমপরিমাণ অর্থ অগ্রিম জমা দেন, এইরূপ ক্ষেত্রে অংশীদার কর্তৃক নিলাম ডাকা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

[Sec. 6. Reserved bidding and bidding by share-holders-

Every sale under section 2 shall be subject to a reserved bidding, and the amount of such bidding shall be fixed by the Court in such manner as it may think fit and may be varied from time to time.

(2) On any such sale any of the share-holders shall be at liberty to bid at the sale on such terms as to non-payment of deposit or as to setting off or accounting for the purchase- money or any part thereof instead of paying the same as to the Court may seem reasonable

(3) If two or more persons, of whom one is a share-holder in the property respectively advance the same sum at any bidding at such sale. such bidding shall be deemed to be the bidding of the share-holder |

ধারা-৭। বিক্রির ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতিঃ

ইহার সংরক্ষিত বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন যখন কোন সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন যতদূর অনুশীলন সম্ভব, নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে। যেমন—

(ক) ১৯৭৩ সালের অষ্টম আইন দ্বারা বাতিল করা হইয়াছে।

(খ) কোন আদালতের ডিক্রী বা আদেশ বলে যদি কোন সম্পত্তি বিক্রি করিতে হয়, হাইকোর্ট সময় সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যে বিধি প্রণয়ন করিবে সেই পদ্ধতিতে তাহা বিক্রি করিতে হইবে। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বিক্রির ডিক্রীজারীর ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির পদ্ধতি অবলম্বন করিতে হইবে।

[Sec. 7 Procedure to be followed in case of sales –

Save as herein before provided, when any property is directed to be sold under this Act, the following procedure shall. as far as practicable, be adopted, namely

(a) Omitted

(b) If the property be sold under a decree or order of any other Court, such procedure as the High Court may from time to time by rules prescribed in this behalf and until such rules are made. the procedure prescribed in the Code of Civil Procedure in respect of sales in execution of decrees.]

ধারা-৮। বিক্রির আদেশ ডিক্রি হিসাবে গণ্য হবেঃ

বাটোয়ারা আইনের ২, ৩ বা ৪ ধারার বিধানমতে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বিক্রির আদেশ সেইরূপ ডিক্রী হিসাবে গণ্য হইবে যেইরূপ দেওয়ানী কার্যবিধির ২ ধারার ডিক্রীর যে সংজ্ঞা দেওয়া হইয়াছে।

[Sec. 8. Orders for sale to be deemed decrees-

Any order for sale made by the Court under sections 2. 3 or 4 shall be deemed to be deemed to be a decree within the meaning of section 2 of the Code of Civil Procedure.]

ধারা-৯। আংশিক বাটোয়ারা এবং আংশিক বিক্রির ক্ষমতা আদেশদান সংরক্ষণঃ

যে কোন বাটোয়ারা মামলায় আদালত যদি ইহা সঠিক বিবেচনা করেন তাহা হইলে এই আইনের আওতায় বাটোয়ারা মামলাভুক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ বাটোয়ারা এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রির ডিক্রী প্রদান করিতে পারেন।

[Sec. 9. Saving of power to order partly partition and partly sale-

In any suit for partition the Court may if it shall think fit, make a decree for a partion of part of the property to which the suit relates and a sale of the reminder under this Act.1

ধারা-১০। ১৯৭৩ সালের ৮ম আইন দ্বারা বাতিল।

[Sec. 10. (Omitted)]

ভূমি প্রশাসন বোর্ড

আজকে আমরা  ভূমি প্রশাসন বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড

মেমো নং- ৩০৫ (৪২৫) ১০-১২৬/৮২ বি. এল. এ                                                                          তারিখ : ১০-১১-৮২ ইং

প্রাপক জেলা প্রশাসক,

উপজেলা রাজস্ব অফিসার

বিষয়ঃ রেকর্ড-অব-রাইট সংরক্ষণ

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪২ ধারায় বিধান রাখা হয়েছে যে, ৪র্থ খণ্ডে বা এই খণ্ডের বিধানমতে প্রণীত রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন। এই সংশোধন কার্যক্রমে নিম্নোক্ত কারণে পরিবর্তনসমূহ প্রতিফলিত হতে হবেঃ

(ক) উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরমূলে মালিকানা পরিবর্তন:

(খ) সরকার কর্তৃক ক্রয়কৃত খাস জমি বন্দোবস্তু; এবং

(গ) পরিত্যক্ত বা পয়স্তির কারণে খাজনা মওকুফ; নামজারীর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা উপজেলা রাজস্ব অফিসারগণকে প্রদান করা হয়েছে।

অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করা হয়েছে যে এতদসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বাঞ্ছিত সংখ্যক নামজারীর কেইস নিয়মিতভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য কোন সঠিক প্রচেষ্টা চালানো হয়নি এবং থানা রাজস্ব অফিসারের নিকট বিপুল সংখ্যক নামজারীর কেইস অনিষ্পত্তিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ভূমিস্বত্ত্ব রেকর্ড হালকরণ না হওয়ায় কর আদায়, জমি হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকরণ, জমি বন্দোবস্ত ইত্যাদি কাজে জটিলতা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব প্রশাসন স্ট্যাণ্ডার্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে নামজারী সময়মত না হওয়ায় বিলুপ্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এই ব্যাপারে সকলের সুবিধার্থে সরকারি নির্দেশসমূহ বাংলায় পুনরায় জারি করা

ভূমি প্রশাসন বোর্ড :

শাখা-১০

স্মারক নং-৮১/৮০/১৬ বি. এল. এ.

প্রাপক জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার                                                                                                                          তারিখ ১৭-২-৮৩

বিষয়ঃ জরিপ চলাকালে নামজারী প্রসঙ্গে।

কক্সবাজার জেলায় বিগত দশ বছর যাবৎ রিভিশনাল সেটেলমেন্ট জরিপ চালু রয়েছে। কক্সবাজার জেলার রাজত্ব কর্তৃপক্ষ একটি প্রশ্নের অবতারণা করে জরিপ চলাকালে নামজারী স্থগিত থাকবে কিনা” এই মর্মে ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নির্দেশ চেয়েছেন।

একথা সকলেই অবগত আছেন যে, ভূমি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা মোতাবেক নামজারী বা ‘মিউটেশন’ করা হয় এবং তজ্জন্য রেকর্ড সংশোধন হয়ে থাকে। আবার অত্র আইনের ১৪৪ ধারামতে রিভিশনাল সেটেলমেন্ট অপারেশন পরিচালনা করা হয়, ১৪৪ ধারার ‘বি’ অনুচ্ছেদের ২ নং উপ-ধারা মোতাবেক রিভিশনাল জরিপ চলাকালে কোন সিভিল কোর্ট ও স্বত্ব দখল নির্ণয় করার নিমিত্ত কোন মোকদ্দমা গ্রহণ করতে পারে না।

২। উপরোক্ত আইন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করলে যে ক’টি কথা পরিষ্কার হয়ে দাঁড়ায় তা নিম্নরূপঃ

(ক) জরিপ চলাকালে রাজস্ব অফিসারগণ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সকল দলিলপত্র পরীক্ষা করে এবং পারিপার্শ্বিক সমস্ত সংবাদ সংগ্রহ করে যে কোন বিতর্কিত বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দানে ও গ্রহণে সক্ষম হন। শুধু তাই নয়, রেকর্ডে দুই পক্ষকে সামনে রেখে হুকুম তামিল করা হয় ।

(খ) সেটেলমেন্ট জরিপের মাধ্যমে রেকর্ড আধুনিকীকরণ করা হয়, জরিপের প্রধানতম লক্ষ্য হইল ভূমি মালিকের স্বত্ব দখল, ভূমির বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে হালকরণ, এতে কতকগুলো কাজ, যেমনঃ

(চ) ভূমি মালিকের মৃত্যুর কারণে ওয়ারিশগণের নাম রেকর্ড করা,

(ছ) ভূমি ক্রয়-বিক্রয় হলে তার রেকর্ড তৈরি করা, ও

(জ) খাস জমি বা চর জমি বন্দোবস্ত হলে রেকর্ড প্রতিফলন করা এবং জমির খাজনা ধার্য করা।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

৩। জরিপ চলাকালে সরেজমিনের সহিত রেকর্ডের প্রতিফলনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যাতে উক্ত আইনের ১১৭ ধারার বর্ণিত নিয়মে ভূমির হোল্ডিং পৃথকীকরণ ও ১১৬ ধারামতে ভূমির হোল্ডিং একত্রীকরণের কাজও ঠিকমত হয়। শুধু তাই নয়, শরিকে শরিকে বিবাদ এবং মালিকে মালিকে বহুদিনের মামলা মোকদ্দমাসমূহ আপনা-আপনি মীমাংসার চূড়ান্তরূপ ধারণ করে।

যেহেতু জায়গা জমির ব্যাপারে জরিপের মাধ্যমে সকল বিষয় ঠিকমত সমাধা হয়, সেহেতু সিভিল কোর্টেও নতুন মামলা গ্রহণ করা হয় না ও পুরাতন মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

সম্ভবত উপরোক্ত কারণবশতই কক্সবাজার সেটেলমেন্ট জরিপ অপারেশন এলাকায় ‘মিউটেশন’ বা নামজারীর কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমরা মনে করি বঙ্গীয় জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ও ১৪৪ ধারা পৃথক পৃথক দু’টি ধারা এবং এদের কাজ একটি অপরটির সম্পূরক ও সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু কোন মতেই এক ধারার কাজ অন্য ধারার কাজের প্রতিবন্ধক হয় না। অতএব, জরিপ চলাকালে ১৪৩ ধারা মোতাবেক মিউটেশন বা নামজারীর কার্যক্রম বন্ধ রাখা ঠিক নয়।

বোর্ড অব ল্যাও এ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রশাসনের চেয়ারম্যান আপীল শুনতে গিয়ে আমি যে বিষয়ের সম্মুখীন হন, সেই সম্বন্ধে রাজস্ব অফিসারগণকে নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি সতর্ক হতে হবে

১। নামজারী ও স্বত্বের মামলা এক নয়। স্মরণ করা যায় যে, কোন কোন ক্ষেত্রে একতরফা ডিক্রী নিয়ে বঙ্গীয় জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৫৪ ধারা উল্লেখ করে নামজারী মোকদ্দমা দাখিল হয়েছে ও হচ্ছে এবং রাজস্ব অফিসার ভুলক্রমে তারই ভিত্তিতে রেকর্ড পরিবর্তন করে আরও মামলা মোকদ্দমা ও জটিলতা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যক্ষেত্রে সরকারি জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে পরোক্ষভাবে আইনের পরিপন্থীভাবে রেকর্ড করে যাচ্ছেন ।

এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, যেদিন হতে যে জেলায় ভূমি দখল আইনের ৫ম অধ্যায় প্রয়োগ করা হয়েছে, সেদিন হতে ৫৪ ধারা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে অর্থাৎ তার আর প্রয়োজন নেই।

২। ১৪৩ ধারামতে জমিজমা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির জন্য নামজারী হয়, এবং নামজারী মোকদ্দমা করতে গিয়ে যে যে ক্ষেত্রে স্বত্ব দখল বিষয়ের বিবাদের সৃষ্টি হয় সেই বিষয়েই কেবল আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় । সেহেতু জরিপ চলাকালে বিরোধীয় বিষয় নামজারী মোকদ্দমার মাধ্যমে চূড়ান্ত হলে জরিপের ফাইনাল রেকর্ডের সাথে (management side) (ব্যবস্থাপনা)-এর রেকর্ড ব্যতিক্রম হতে পারে।

আবার জরিপ চলাকালে নামজারীকৃত রেকর্ডসমূহ জরিপ অফিসারের নিকট উপস্থাপিত না হলে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডে তার প্রতিফলন ঘটবে না। অন্যক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড সর্বক্ষেত্রে খাজনা ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কাজে লাগাতে হবে এবং জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর-এর আমূল পরিবর্তন হওয়ার দরুন পুরনো রেকর্ডের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। সুতরাং, নিম্নলিখিত রূপ উপদেশ দেয়া যায়

(ক) ১৪৪ ধারা মোতাবেক জরিপ চলাকালে ১৪৩ ধারামতে কার্যক্রম বন্ধ রাখা সমীচীন হবে না।

(খ) যে যে ক্ষেত্রে জরিপ চলছে সেই সেই ক্ষেত্রে ১৪৩ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত রায়গুলো চলতি জরিপ অফিসারের সম্মুখে অবশ্যই উত্থাপনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, এবং

(গ) ১৪৩ ধারায় মোকদ্দমা করতে গিয়ে বিরোধীয় বিষয়গুলো সরাসরি জরিপ অফিসারের নিকট উপস্থাপন করার জন্য পক্ষগণকে উপদেশ দেওয়া উচিত এবং সেক্ষেত্রে ১৪৩ ধারার কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা প্রয়োজনবোধে বাতিল করা বাঞ্ছনীয় ।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ঢাকা

বিষয়ঃ নামজারী, জমা খারিজ ও একত্রীকরণ।

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা মোতাবেক জমির মালিকের স্বত্ত্ব বা রেকর্ড অরাইটস সঠিকভাবে সংরক্ষণের উপর সুষ্ঠু ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থা অনেকখানি নির্ভরশীল।

উত্তরাধিকারসূত্রে বা রেজিস্ট্রিকবলামূলে প্রত্যেক মালিকানা পরিবর্তনের সময় নামজারীর স্বার্থে জমা খারিজ বা জমা একত্রীকরণের কাজ একই সঙ্গে সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয় ।

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা এবং তৎসহ ১১৬ বা ১১৭ ধারার বিধান মোতাবেক সরেজমিনে ভূমি মালিকানার প্রকৃত অবস্থা রেকর্ড-অব-রাইটে প্রতিফলনের জন্য রাজস্ব অফিসারগণকে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়ে রাজস্ব অফিসারগণ নিম্নলিখিত নীতি নির্দেশ অনুসরণ করিবেন

(ক) খাজনা আদায় এবং রেকর্ড অব রাইট সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য নামজারীকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে গণ্য করতে হবে ।

(খ) ১৪৩ ধারা ও তৎসহ ১১৭ ধারার আওতায় নামজারী কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরেজমিনে তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

(গ) অনুরূপভাবে ১৪৩ ধারা ও তৎসহ ১১৬ ধারার আওতায় খতিয়ান জমা একত্রীকরণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

৩। উপরোক্ত নিয়মে যখনই কোন নামজারীর কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়, তখনই নির্ধারিত ছকে একটি নতুন খতিয়ান খুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজস্ব অফিসার খতিয়ান যথানিয়মে স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত করবেন। এর কপি সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে ও জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুমে প্রেরণ করতে হবে এবং একটি কপি মূল খতিয়ান বইতে সংযোজিত করতে হবে।

৪। নামজারীজনিত নতুন খতিয়ানের নম্বর কোন বর্তমান খতিয়ানের নম্বরের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। বস্তুতপক্ষে নতুন খতিয়ানের নম্বর এমনভাবে দিতে হবে যাতে এটি মূল খতিয়ানের সাথে সম্পর্কিত থাকে। যদি কোন খতিয়ানের সমুদয় সম্পত্তি কারও নিকট উত্তরাধিকারসূত্রে বা কবলামূলে হস্তান্তরিত হয়ে থাকে তবে নতুন খতিয়ানে পুরাতন খতিয়ান নং অপরিবর্তিত থাকাই বাঞ্ছনীয়। যদি কোন খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তির নিকট উত্তরাধিকার বা কবলামূলে হস্তান্তরিত হয়ে থাকে,

তবে প্রত্যেক মালিকের জন্য ভিন্ন খতিয়ান প্রণয়নকালে একটি বাটা নম্বর দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ মূল খতিয়ান নং-১০ হলে, প্রথম নতুন বিভক্ত খতিয়ান নং ১০/১, ২য় খতিয়ান ১০/২ ইত্যাকারে নতুন খতিয়ান খুলতে হবে। কিন্তু পুরাতন খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তির মালিকের নামে কিছু সম্পত্তি বহাল থাকলে তার খতিয়ানের জন্য পুরাতন খতিয়ান নং অপরিবর্তিত থাকবে।

পূর্বোক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত উদাহরণের অনুসরণে খতিয়ান বিভক্তিকরণের ক্ষেত্রে ডিমাও রেজিস্টারে (২ নং রেজিস্টার) পৃথক হোল্ডিং খুলতে হবে। ২ নং রেজিস্টারের শেষ ভাগে ক্রমিক নম্বর হোল্ডিং খুলতে হবে এবং ” তারিখের কেইস মূল হোল্ডিং নম্বর খোলা হল” এই মর্মে প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করতে হবে। ডিমার নম্বর নামজারী। রেজিস্টারে উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা ফিল্ড কানুনগো এই প্রত্যয়ন স্বাক্ষর করবেন।

 

 

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এস এ অপারেশন মোতাবেক প্রণীত খতিয়ানে বর্ণিত হোল্ডিং-এর আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। তথাপি সর্বশেষ হোল্ডিং-এ উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা ফিল্ড কানুনগো কর্তৃক অনুরূপভাবে “এস এ. অপারেশন মোতাবেক শেষ হোল্ডিং” এই প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করতে হবে। অনুরূপভাবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলায় যেখানে জরিপ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখানে চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড অবরাইট অনুসরণে ডিমাও রেজিস্টার তৈরি করার সময়ও এ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

নামজারী কার্যক্রম, কি অবস্থায় নামজারী করা যায় এবং নামজারী কেইস নিষ্পত্তির পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে ইতিপূর্বে ১০-১১-৮২ তারিখের ৩০৫ (১২৫-১০- ১২৬/৮২) বি. এল. এ নম্বর স্মারক জারী করা হয়েছে। এই সার্কুলার অনুসরণ করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। সাবেক জরিপের রেকর্ড-অবরাইট, মৌজা, মানচিত্র, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ইত্যাদি কাগজপত্র নামজারী কেইস নিষ্পত্তির জন্য যত্নের সাথে পর্যালোচনা করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজাদির কপি নামজারীর মামলার শুনানীর সময় মূল দলিলাদি সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিকট প্রত্যর্পণ করতে হবে। চূড়ান্তকরণের পর খতিয়ান খুলতে হবে। ২৫.০০ (পঁচিশ) টাকা ফি প্রদান করলে পক্ষকে খতিয়ানের কপি প্রদান করতে হবে সংশোধিত আদেশ নং এ. এস. ১৭/৮৪/৪৭ বি. এল. এ তাং ১০-১-৮৬। খতিয়ান স্বাক্ষরিত ও সীলমোহর করতে হবে।

উত্তরাধিকার প্রমাণের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম শ্রেণীর অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা স্থানীয় এমপি হতে উত্তরাধিকার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মুসলমানদের ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক বা উকিল প্রদত্ত ‘ফরায়েজ’ এবং হিন্দুদের ক্ষেত্রে পণ্ডিত বা উকিল প্রদত্ত উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা যাবে।

নামজারী প্রক্রিয়া একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম হিসাবে গণ্য করতে হবে। সামান্য ভুল-ভ্রান্তি মারাত্মক আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রেতার হস্তান্তরিত সম্পত্তিতে কোন/ স্বত্ব/নখল অধিকার ছিল কিনা তা প্রধান বিবেচ্য বিষয়। হস্তান্তরকারীর মালিকী অংশের সম্পত্তির দলিল ক্রেতার নিকট হস্তান্তর হয়েছে কিনা তা যাচাই করা।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিধান ও মুসলিম হিন্দু আইনমতে 1 হস্তান্তরসিদ্ধ না হলে কোন হস্তান্তর কার্যক্রম আইনগত স্বীকৃতি পেতে পারে না। নামজারী কার্যক্রমে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা বোর্ডের বিবেচনা ও নির্দেশের জন্য বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।