Category Archives: আইন

আইন

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ভূমি জরিপ হলো জমির সীমানা নির্ধারণ, পরিমাণ নির্ণয় এবং নকশা তৈরির একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার বণ্টন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি—সবক্ষেত্রেই সঠিক জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল জরিপের কারণে জমি নিয়ে বিবাদ, মামলা ও আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই মাঠে কাজ করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কীভাবে পরিমাপ করতে হবে এবং কীভাবে নকশা তৈরি করতে হবে—তা জানা অত্যাবশ্যক।

এই লেখায় ভূমি জরিপের ধাপে ধাপে করণীয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং খতিয়ান পাঠের কৌশল সহজভাবে আলোচনা করা হলো।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ধাপ–১ : প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Reconnaissance)

জরিপ শুরুর আগে প্রথম কাজ হলো পুরো জমিটি ঘুরে দেখা। একে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলা হয়।

কেন এটি জরুরি?

কারণ মাঠে কী কী বাধা আছে, কোথা দিয়ে চেইন বা ফিতা টানা সহজ হবে, কোথায় গাছ, পুকুর, ঘর, নালা, খাল বা রাস্তা রয়েছে—এসব না জানলে পরিমাপে ভুল হবে।

কী কী দেখবেন?

  • জমির চারপাশে কোন প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বাধা আছে কি না
  • জমির আকৃতি (আয়তাকার, ত্রিভুজ, অনিয়মিত)
  • কোথায় ভাঙা বা বাঁকা সীমানা
  • কীভাবে জমিটিকে ২, ৩ বা ৪ ভাগে ভাগ করলে সহজে পরিমাপ করা যাবে

এই ধাপে আপনি ঠিক করবেন—জমিটিকে কতগুলো ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজে ভাগ করবেন।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

 

ধাপ–২ : স্টেশন ও স্টেশন লাইন নির্বাচন

জরিপে স্টেশন মানে হলো এমন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু, যেখান থেকে মাপ নেওয়া শুরু হবে।

কীভাবে করবেন?

  • সুবিধাজনক ও খোলা জায়গা নির্বাচন করুন
  • সেখানে একটি খুঁটি পুঁতে দিন
  • এটিই হবে আপনার প্রথম স্টেশন
  • এরপর অপর একটি পয়েন্ট বেছে নিয়ে তার সঙ্গে একটি স্টেশন লাইন তৈরি করুন

এইভাবে পুরো জমিটিকে কয়েকটি ছোট প্লটে ভাগ করুন, যেন প্রতিটি অংশ সহজে মাপা যায়।

ধাপ–৩ : কাগজে নকশা (Field Sketch)

মাঠে মাপ নেওয়ার আগে কাগজে একটি খসড়া নকশা আঁকুন।

কী করবেন?

  • প্রতিটি স্টেশন চিহ্নিত করুন
  • প্রতিটি অংশকে A, B, C, D নামে চিহ্ন দিন
  • ফিতা বা চেইন দিয়ে মাপ নিয়ে কাগজে লিখুন
  • সব অংশের ক্ষেত্রফল বের করে যোগ করুন
  • এভাবেই পুরো জমির মোট ক্ষেত্রফল পাবেন

 

জরিপ কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি

যন্ত্র ব্যবহার
গান্টার চেইন / ফিতা দৈর্ঘ্য মাপার জন্য
তিন পায়া টেবিল নকশা রাখার জন্য
লগি দূরত্ব মাপতে
থ্রি-থার্টি স্কেল স্কেল তৈরিতে
খুঁটি স্টেশন চিহ্নিত করতে
রুলার দাগ টানতে
চাঁদা চিহ্ন দিতে
ওলন দিক নির্ণয়ে
পেন্সিল লিখতে
আলামত তালিকা সীমানা চিহ্নের বিবরণ
শিট ও কাগজ নকশা আঁকতে

খতিয়ানে কড়া–ক্রান্তি হিসাব বোঝা

বাংলাদেশে খতিয়ান সাধারণত দুইভাবে লেখা হয়:

  • দশমিক পদ্ধতি
  • কড়া–ক্রান্তি পদ্ধতি

অনেকে দশমিক বোঝেন, কিন্তু কড়া–ক্রান্তি বুঝতে পারেন না।

কড়া–ক্রান্তির সম্পর্ক:

  • ১ কানি = ২০ গণ্ডা
  • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
  • ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি

খতিয়ানের মালিকানা যোগ করার সময় প্রথমে যোগ করে দেখবেন — বিন্দু সূত্রে মিলছে, না যব সূত্রে মিলছে। যে কোনো একটি সূত্রে মিললেই হিসাব সঠিক ধরা হবে।

ভূমি জরিপ একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ। সামান্য ভুল বড় আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা, সঠিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও হিসাব যাচাই—এই চারটি ধাপ মেনে চললেই একটি নির্ভুল জরিপ সম্ভব।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী 

জমির পরিমাপে আজ বিশ্বব্যাপী যে এককগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে হেক্টর (Hectare)এয়র (Are) অন্যতম। এই এককগুলো আন্তর্জাতিক মেট্রিক পদ্ধতির অংশ, যা মিটার ভিত্তিক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখন জমির হিসাব সরকারিভাবে একর–শতক ও হেক্টর–এয়র উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তাই জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড, ম্যাপিং ও সার্ভেতে এই এককগুলোর রূপান্তর জানা অত্যন্ত জরুরি।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী

 

এয়র ও হেক্টরের উৎপত্তি

এয়র ও হেক্টর উভয়ই মেট্রিক সিস্টেম থেকে উদ্ভূত।

  • Are (এয়র) = ১০০ বর্গমিটার
  • Hectare (হেক্টর) = ১০,০০০ বর্গমিটার
    অর্থাৎ,

১ হেক্টর = ১০০ এয়র

মৌলিক দৈর্ঘ্য রূপান্তর

একক রূপান্তর
১ মিটার ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
১ মিটার ৩.২৮ ফুট
১ মিটার ১.০৯ গজ

 

বর্গমিটার হিসাবে

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার

 

শতক হিসাবে

জানা আছে:

১ হেক্টর = ২.৪৭১০৫ একর = ২৪৭.১০৫ শতক

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ এয়র ২.৪৭১০৫ শতক

 

বর্গহাত হিসাবে

১ হেক্টর = ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত

একক মান
১ হেক্টর ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত
১ এয়র ৪৭৮.৩৯ বর্গহাত

 

বর্গফুট হিসাবে

১ হেক্টর = ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট

একক মান
১ হেক্টর ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট
১ এয়র ১,০৭৬.৩৯ বর্গফুট

 

বর্গগজ হিসাবে

১ হেক্টর = ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ

একক মান
১ হেক্টর ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ
১ এয়র ১১৯.৫১৯ বর্গগজ

 

বর্গলিংক হিসাবে

১ হেক্টর = ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক
১ এয়র ২,৪৭১.০৫ বর্গলিংক

 

বিঘা–কাঠা হিসাবে

বাংলাদেশের মান অনুযায়ী:

১ বিঘা ≈ ১৩৩৮ বর্গমিটার

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ≈ ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ≈ ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এক নজরে এয়র–হেক্টর

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ হেক্টর ১০০ এয়র
১ হেক্টর ২.৪৭ একর
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ হেক্টর ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার
১ এয়র ২.৪৭ শতক
১ এয়র ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এয়র ও হেক্টর হলো আধুনিক ভূমি পরিমাপের আন্তর্জাতিক মান। এই সূত্রগুলো জানা থাকলে—

  • জমির প্রকৃত আয়তন নির্ণয়
  • দলিল যাচাই
  • জরিপ বোঝা
  • এবং প্রতারণা থেকে বাঁচা
    অনেক সহজ হয়ে যায়।

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

আজকে আমরা জানবো লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

লিংক বা কড়ির হিসাবকে ফুট/ইঞ্চিতে নিতে হলে মোটামুটি হিসাবের জন্যে ১ লিংক/কড়ি = ৮ ইঞ্চি এবং ১.৫ লিংক = ১ ফুট ধরে যত লিংক হয়, তার তিন ভাগের দুই ভাগের যোগফল হলো ফুট। যেমন ১২ লিংকে কত ফুট তা বের করতে হবে । ১২ কে ৩ ভাগ করলে পাওয়া যায় ৪। এবার ৪ কে ২ দিয়ে গুণ করলেই ফুট পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ৮ ফুট।

১ লিংক = .৬৬ ফুট।

১৪০ লিংক = ১২ ফুট।

৫০০ লিংক = ৩৩০ ফুট । 

৫৭০ লিংক = ৩৭৬ ফুট ।

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

ফুট-কে লিংক/কড়ি-তে পরিবর্তনের পদ্ধতি:

যত ফুট. তার ঠিক অর্ধেক নিয়ে ঐ ফুটের সাথে যোগ করলে লিংক বা কড়িতে পরিণত হবে। ধরা যাক ৬ লিংককে ফুটে পরিবর্তন করতে হবে। ৬ ফুটের অর্ধেক হলো ৩ । এই ৩-কে ৬ ফুটের সাথে যোগ করলেই লিংক হবে। অর্থাৎ ৬ + ৩ = ৯। ২০ ফুটের লিংক হলো ২০ + ২ = ১০ + 20 = ৩০।

 

লিংক এর সাথে ফুট বা ইঞ্চির সমতা

লিংক

ফুট

ইঞ্চি

৭.৯
৩.৮
১১.৮
৭.৭
৩.৬
১১.৫
৭.৪
৩.৪
১১.৩
১০ ৭.২
১১ ৩.১
১২ ১১.১
১৩ ৭.০
১৪ ২.৯
১৫ ১০.৮
১৬ ১০ ৬.৭
১৭ ১১ ২.৬
১৮ ১১ ১০.৬
১৯ ১২ ৬.৫
২০ ১৩ ২.৪
২১ ১৩ ১০.৩
২২ ১৪ ৬.২
২৩ ১৫ ২.২
২৪ ১৫ ১০.১
২৫ ১৬ ৬.০
২৬ ১৭ ১.৯
২৭ ১৭ ৯.৮
২৮ ১৮ ৫.৮
২৯ ১৯ ১.৭
৩০ ১৯ ৯.৬
৩১ ২০ ৫.৫
৩২ ২১ ১.৪
৩৩ ২১ ৯.৪
৩৪ ২২ ৫.৩
৩৫ ২৩ ১.২
৩৬ ২৩ ৯.১
৩৭ ২৪ ৫.০
৩৮ ২৫ ১.০
৩৯ ২৫ ৮.৯
৪০ ২৬ ৪.৮
৪১ ২৭ ০.৭
৪২ ২৭ ৮.৬
৪৩ ২৮ ৪.৬
৪৪ ২৯ ০.৫
৪৫ ২৯ ৮.৪
৪৬ ৩০ ৪.৩
৪৭ ৩১ ০.২
৪৮ ৩১ ৮.২
৪৯ ৩২ ৪.২
৫০ ৩৩
৫১ ৩৩ ৭.৯
৫২ ৩৪ ৩.৮
৫৩ ৩৪ ১১.৮
৫৪ ৩৫ ৭.৭
৫৫ ৩৬ ৩.৬
৫৬ ৩৬ ১১.৫
৫৭ ৩৭ ৭.৪
৫৮ ৩৮ ৩.৪
৫৯ ৩৮ ১১.৩
৬০ ৩৯ ৭.২
৬১ ৪০ ৩.১
৬২ ৪০ ১১
৬৩ ৪১ ৭.০
৬৪ ৪২ ২.৯
৬৫ ৪২ ১০.৮
৬৬ ৪৩ ৬.৭
৬৭ ৪৪ ২.৬
৬৮ ৪৪ ১০.৬
৬৯ ৪৫ ৬.৫
৭০ ৪৬ ২.৪
৭১ ৪৬ ১০.৩
৭২ ৪৭ ৬.২
৭৩ ৪৮ ২.২
৭৪ ৪৮ ১০.১
৭৫ ৪৯ ৬.০
৭৬ ৫০ ১.৯
৭৭ ৫০ ৯.৮
৭৮ ৫১ ৫.৮
৭৯ ৫২ ১.৭
৮০ ৫২ ৯.৬
৮১ ৫৩ ৫.৫
৮২ ৫৪ ১.৪
৮৩ ৫৪ ৯.৯
৮৪ ৫৫ ৫.৩
৮৫ ৫৬ ১.২
৮৬ ৫৬ ৯.১
৮৭ ৫৭ ৫.০
৮৮ ৫৮ ১.০
৮৯ ৫৮ ৮.৯
৯০ ৫৯ ৪.৮
৯১ ৬০ ০.৭
৯২ ৬০ ৮.৬
৯৩ ৬১ ৪.৬
৯৪ ৬২ ০.৫
৯৫ ৬২ ৮.৪
৯৬ ৬৩ ৪.৩
৯৭ ৬৪ ০.২
৯৮ ৬৪ ৮.২
৯৯ ৬৫ ৪.১

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

বাংলাদেশে জমির পরিমাণ নির্ণয়ে আজও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, লিংক, হাত, গন্ডা ইত্যাদি প্রাচীন ও আধুনিক একক ব্যবহৃত হয়। সরকারি দলিল, রেজিস্ট্রি, খতিয়ান, নামজারি, মৌজা ম্যাপ—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান, বণ্টন কিংবা ভিটির হিসাব করতে হলে বিঘা–কাঠা রূপান্তর ও ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র জানা আবশ্যক।

এই লেখায় আমরা:

  • প্রচলিত জমির একক
  • রূপান্তর সূত্র
  • ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র ও অনিয়মিত জমির হিসাব
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

সবকিছু ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

প্রচলিত জমির একক (বাংলাদেশ)

একক মান
১ কাঠা ৭২০ বর্গফুট
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ১০০ শতক = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ বিঘা ২০ কাঠা
১ কাঠা ২০ ছটাক
১ শতক ১০০০ লিংক
১ মাইল ৫২৮০ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

 

১. ত্রিকোণাকার জমির উচ্চতা নির্ণয়

সমস্যা:
একটি ত্রিভুজাকার জমির ক্ষেত্রফল ৩০ শতক। ভূমি ২৫০ লিংক হলে উচ্চতা কত?

সমাধান:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
৩০ শতক = ৩০ × ১০০০ = ৩০,০০০ বর্গলিংক

ত্রিভুজের সূত্র:
উচ্চতা = (ক্ষেত্রফল × ২) / ভূমি

= (৩০,০০০ × ২) / ২৫০
= ২৪০ লিংক

উত্তর: ২৪০ লিংক

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

২. খাল খননের খরচ নির্ণয়

সমস্যা:
১ মাইল দীর্ঘ একটি খালের উপর বিস্তার ৩৫ ফুট, নিচে ২৫ ফুট, গভীরতা ১০ ফুট। প্রতি ১০০০ ঘনফুটে ২৫০ টাকা খরচ হলে মোট খরচ কত?

সূত্র:
মাটির আয়তন = (উপর + নিচ) × গভীরতা × দৈর্ঘ্য / ২

= (৩৫+২৫) × ১০ × ৫২৮০ / ২
= ১৫,৮৪,০০০ ঘনফুট

প্রতি ঘনফুট = ২৫০ / ১০০০ টাকা
= ০.২৫ টাকা

মোট খরচ = ১৫,৮৪,০০০ × ০.২৫
= ৩,৯৬,০০০ টাকা

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৩. পুকুরের মাটি দিয়ে ভিটির উচ্চতা

পুকুর: ৬০ × ৪০ × ১০ ফুট
মাটির আয়তন = ২৪,০০০ ঘনফুট

ভিটি: ৮০ × ৫০ ফুট

উচ্চতা = আয়তন / (দৈর্ঘ্য × প্রস্থ)
= ২৪,০০০ / (৮০ × ৫০)
= ৬ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৪. মই ও টাওয়ারের উচ্চতা

পাইথাগোরাস সূত্র:
কর্ণ² = ভূমি² + উচ্চতা²

টাওয়ার: মই = ১০০ মিটার, ভূমি = ৬০ মিটার

উচ্চতা = √(১০০² − ৬০²)
= √(১০,০০০ − ৩৬০০)
= √৬৪০০
= ৮০ মিটার

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৫. আয়তাকার জমি → কাঠা/বিঘা

সমস্যা: ১৩০ ফুট × ৯০ ফুট জমি
ক্ষেত্রফল = ১১,৭০০ বর্গফুট

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট

১১,৭০০ ÷ ৭২০ = ১৬ কাঠা ৪ ছটাক

 

৬. অনিয়মিত জমির হিসাব (লিংক)

দৈর্ঘ্য গড় = (১৫০+১৪৫+১৫৫)/৩ = ১৫০
প্রস্থ গড় = (৮০+৮৫+৯০)/৩ = ৮৫

ক্ষেত্রফল = ১৫০ × ৮৫ = ১২,৭৫০ বর্গলিংক

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

জমির পরিমাণ নির্ণয় শুধু অঙ্ক নয়—এটি একটি বাস্তব জীবনের দক্ষতা। দলিল, খাজনা, খতিয়ান, বিক্রয় দলিল, ভিটি নির্মাণ—সব ক্ষেত্রে এই হিসাব জানা জরুরি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই বিঘা–কাঠা–শতক রূপান্তরে দক্ষ হতে পারে।

একর শতকে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশে জমির পরিমাপে একর ও শতক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক একক। সরকারি রেকর্ড, দলিল, খাজনা, নামজারি, জরিপ নকশা, খতিয়ান—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। অথচ অনেকেই একর–শতকের সঠিক রূপান্তর, চেইন, লিংক, হাত, নল, গন্ডা ইত্যাদির সাথে সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানবো—

  • একর ও শতকের সংজ্ঞা
  • চেইন ও লিংক থেকে একরে রূপান্তর
  • অনিয়মিত জমির গড় মাপ নির্ণয়
  • ত্রিভূজ ও সমবাহু জমির ক্ষেত্রফল
  • বাস্তব জীবনের গণিতভিত্তিক সমস্যা

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

১. একর ও শতকের মৌলিক ধারণা

একক মান
১ একর ১০০ শতক
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১০ বর্গ চেইন ১ একর
১ বর্গ চেইন ০.১ একর

উদাহরণ:
৮৪ বর্গ চেইন = (৮৪ × ১) / ১০ = ৮.৪ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

২. পুকুরের পাড় ভাগ করে জমি বণ্টন

সমস্যা:
দৈর্ঘ্য ১৭০ হাত, প্রস্থ ১৫০ হাত একটি পুকুরের চারদিকে ৫ হাত চওড়া পাড় আছে। এই পাড় তিনজনের মধ্যে ৮ আনা, ৫ আনা ও ৩ আনা হিসেবে ভাগ করতে হবে।

সমাধান:
পাড়ের মোট পরিমাপ =
১৭০ + ১৭০ + ১৪৫ + ১৪৫ = ৬৩০ হাত

বণ্টন:

  • A পায় = ৬৩০ × ৮/১৬ = ৩১৫ হাত

  • B পায় = ৬৩০ × ৫/১৬ = ১৯৭ হাত

  • C পায় = ৬৩০ × ৩/১৬ = ১১৮ হাত

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৩. নল ও হাত থেকে কাচ্চা কানি

দৈর্ঘ্য = ৪০ নল ৫ হাত
= (৪০ × ৮) + ৫ = ৩২৫ হাত

প্রস্থ = ২৮ নল ৩ হাত
= (২৮ × ৮) + ৩ = ২২৭ হাত

ক্ষেত্রফল = ৩২৫ × ২২৭
= ৭২,৮০০ বর্গহাত

রূপান্তর অনুযায়ী:
৯ গণ্ডা ২ কড়া ১ কান্তি

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৪. অনিয়মিত জমি একর–শতকে

দৈর্ঘ্য:
(২৫৫+২৫০+২৪৫)/৩ = ২৫০ লিংক

প্রস্থ:
(১৭৫+১৭০+১৬৮)/৩ = ১৭১ লিংক

ক্ষেত্রফল = ২৫০ × ১৭১
= ৪২,৭৫০ বর্গলিংক

রূপান্তর:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
= ৪২.৭৫ শতক = ০.৪২৭৫ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৫. টেলিগ্রাফ পোস্ট ও রাস্তার প্রস্থ

কর্ণ (তার) = ৫০ ফুট
উচ্চতা = ৪০ ফুট

ভূমি = √(৫০² − ৪০²)
= √(২৫০০ − ১৬০০)
= √৯০০
= ৩০ ফুট

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৬. সমবাহু ত্রিভূজ জমি → একর/হেক্টর

এক বাহু = ১৬০ ফুট

সূত্র:
ক্ষেত্রফল = a² × √৩ / ৪

= ১৬০² × ১.৭৩২ / ৪
= ১১,০৮৪ বর্গফুট

১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
অতএব = ১১,০৮৪ ÷ ৪৩,৫৬০
= ০.২৫ একর ≈ ১০.৩০ এয়ার

৭. ত্রিভুজ জমি → বিঘা/কাঠা

ভূমি = ২৫০ হাত
উচ্চতা = ২১০ হাত

ক্ষেত্রফল = (২৫০ × ২১০) / ২
= ২৬,২৫০ বর্গহাত

রূপান্তর করে বিঘা–কাঠায় প্রকাশ করা যাবে।

একর ও শতকে জমির পরিমাণ নির্ণয় একটি অপরিহার্য দক্ষতা। জমি কেনা-বেচা, উত্তরাধিকার বণ্টন, রাস্তা, পুকুর, ভিটি, খাল—সব ক্ষেত্রেই এই হিসাব কাজে লাগে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই এই হিসাব আয়ত্ত করতে পারে।

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আজও জমির হিসাব করতে কাচ্চা কানি, গণ্ডা, কড়া ও ক্রান্তি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পুরনো দলিল, খতিয়ান, দানপত্র ও বণ্টননামায় এই পরিমাপ বহুল প্রচলিত। আধুনিক একক যেমন একর, শতক বা বর্গফুটে রূপান্তর না জানলে এসব হিসাব বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই লেখায় আমরা জানবো—

  • কাচ্চা কানি পদ্ধতির এককসমূহ
  • এককগুলোর বর্গফুটে রূপান্তর
  • কাচ্চাকানি ↔ বিঘা–কাঠা ↔ একর–শতক
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানি পদ্ধতির একক

একক মান (৮ হাতি নলের মাপে)
১ কানি ১৭,২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ২০ গণ্ডা
১ গণ্ডা ৮৬৪ বর্গফুট
১ গণ্ডা = ৪ কড়া
১ কড়া ২১৬ বর্গফুট
১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
১ ক্রান্তি ৭২ বর্গফুট

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ
কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–১ : কাচ্চাকানি ও বিঘা–কাঠার বিনিময়ে লাভ-ক্ষতি

বিপ্লব দেয়:
১০ কানি ১২ গণ্ডা ৩ কড়া ২ ক্রান্তি

রূপান্তর:

  • ১০ কানি = ১৭,২৮০ × ১০ = ১,৭২,৮০০

  • ১২ গণ্ডা = ৮৬৪ × ১২ = ১০,৩৬৮

  • ৩ কড়া = ২১৬ × ৩ = ৬৪৮

  • ২ ক্রান্তি = ৭২ × ২ = ১৪৪

মোট দেয় = ১,৮৩,৯৬০ বর্গফুট

বিপ্লব নেয়:
১২ বিঘা ১৪ কাঠা ৮ ছটাক

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
    ১২ বিঘা = ১,৭২,৮০০

  • ১৪ কাঠা = ৭২০ × ১৪ = ১০,০৮০

  • ৮ ছটাক = ৪৫ × ৮ = ৩৬০

মোট নেয় = ১,৮৩,২৪০ বর্গফুট

ক্ষতি = ৭২০ বর্গফুট (১ কাঠা)

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–২ : একর থেকে কাচ্চাকানি ও বিঘা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট

৪.৭ একর = ৪৭০ শতক
১ শতক = ৪৩২ বর্গফুট

৪৭০ × ৪৩২ = ২,০৩,০৪০ বর্গফুট

দেওয়া জমি:

কাচ্চাকানি অংশ
২ কানি = ৩৪,৫৬০
৫ গণ্ডা = ৪,৩২০
৩ কড়া = ৬৪৮
২ ক্রান্তি = ১৪৪
মোট = ৩৯,৬৭২

বিঘা–কাঠা অংশ
৫ বিঘা = ৭২,০০০
৭ কাঠা = ৫,০৪০
১২ ছটাক = ৫৪০
মোট = ৭৭,৫৮০

মোট দেওয়া = ১,১৭,২৫২
অবশিষ্ট = ৮৫,৭৮৮ বর্গফুট

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

 

সমস্যা–৩ : ত্রিভুজ → বর্গক্ষেত্র → একর

ক্ষেত্রফল = ২৫,৯২১ বর্গমিটার

বর্গক্ষেত্রের বাহু = √২৫,৯২১ ≈ ১৬১ মিটার

রূপান্তর করলে ≈ ৬ একর ৪০.৫০ শতক

জমির ক্ষেত্রফল একর শতকে নিম্নরূপঃ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৪ : অংশীদারদের জমি বণ্টন

মোট জমি = ৮৭৫ মি × ১৬০ মি

আনা অনুযায়ী প্রস্থ বণ্টন:

  • জহির (৭ আনা): ১৬০ × ৭/১৬ = ৭০ মি

  • রহিম (৬ আনা): ৬০ মি

  • জামাল (৩ আনা): ৩০ মি

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৫ : বিষমবাহু ত্রিভুজ জমি

আইল = ১৩, ১৪, ১৫ চেইন

s = (১৩+১৪+১৫)/২ = ২১

ক্ষেত্রফল = √{২১(২১−১৩)(২১−১৪)(২১−১৫)}
= √(২১×৮×৭×৬)
= ৮৪ বর্গচেইন

১০ বর্গচেইন = ১ একর
অতএব = ৮.৪ একর = ৮ একর ৪০ শতক

কাচ্চাকানি পদ্ধতি বুঝতে পারলে পুরনো দলিল, বণ্টননামা ও গ্রামীণ হিসাব সহজ হয়ে যায়। আধুনিক এককে রূপান্তরের দক্ষতা থাকলে জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব।

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

১ বিঘা = ৮০ হাত

১ বিঘা = ৮০ X ৮০ = ৬৪০০ বর্গহাত।

বর্গহাত হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বিঘা কাঠার সাধারণ সূত্র :

৪ কাক = ১ কড়া

৪ কড়া = ১ গণ্ডা

২০ গণ্ডা = ১ ছটাক

১৬ ছটাক = ১ কাঠা

২০ কাঠা = ১ বিঘা

বিঘা কাঠার রৈখিক পরিমাপের সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গলিংক হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

বর্গফুট হিসাবে বিঘা কাঠার সুত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গগজ হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

বর্গমিটার হিসাবে বিঘা কাঠার সূত্র :

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

এক নজরে বিঘা কাঠার সূত্র :

১ বিঘা = ২০ কাঠা

১ বিঘা = ৩৩ শতক

১ বিঘা = ৩৩০০০ বর্গলিংক

১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত

১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ

১ বিঘা = ১৪৪০০ বর্গফুট

১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গফুট

১ বিঘা = ৮০ হাত।

১ বিঘা = ১৬ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ।

 

বিঘা কাঠার সূত্রাবলী

 

সমস্যা ও সমাধান :

সমস্যা : কোন শহরের দৈর্ঘ্য ২০ মাইল, প্রস্থ ১২ মাইল, শহরের আয়তন একরে প্রকাশ করুন।

সমাধান: 

শহরের দৈর্ঘ্য ২০ মাইল, 

শহরের প্রস্থ ১২ মাইল

শহরের ক্ষেত্রফল

 = ২০ মাইল × ১২ মাইল 

= ২৪০ বর্গমাইল।

আমরা জানি,

১ বর্গমাইল = ৬৪০ একর

২৪০ বর্গমাইল = ৬৪০ X ২৪০ একর = ১,৫৩,৬০০ একর।

নির্ণেয় ১,৫৩,৬০০ একর (উত্তর)।

 

সমস্যা : আয়তকার কোন জমির দৈর্ঘ্য ২৬ নল ৪ হাত, প্রস্থ ২১ নল ৫ হাত, ৮ হাতি নলের মাপে কাচ্চা কানিতে জমির পরিমাণ বুঝিয়ে দিন ।

সমাধান : প্রশ্নানুসারে

দৈর্ঘ্য = {( ২৬ নল x ৮) + ৪ হাত}

= (২০৮ + ৪) হাত

= ২১২ হাত

প্রস্থ= { (২১ নল x ৮) + ৫}

= (১৬৮ + ৫) = ১৭৩ হাত 

জমির ক্ষেত্রফল = (২১২ × ১৭৩) হাত = ৩৬,৬৭৬ বর্গহাত

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

আজকে আমরা প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

  কিলো মিটার হেক্টো মিটার ডেকা মিটার মিটার ডেসি মিটার সেন্টি মিটার মিলিমিটার
১ ইঞ্চিতে   — ০.০২৫ ০.২৫ ২.৫৪ ২৫.৪
১ ফুটে   —   — ০.০৩ ০.৩০৫ ৩.০৫ ৩০.৪৮ ৩০৪.৮
১ গজে   — ০.০১ ০.০৯ ০.৯১৪ ৯.১৪ ৯১.৪৪ ৯১৪.৪
১ফার্লং-এ ০.২ ২.০১ ২০.১২ ২০১.১৭ ২০১১.৬৮ ২০১১৬.৮ ২০১১৬৮
১ মাইল ১.৬১ ১৬.০৯ ১৬০.৯৩ ১৬০৯.৩৪ ১৬০৯৩.৪৪ ১৬০৯৩৪.৪ ১৬০৯৩৪৪

 

  ইঞ্চি ফুট গজ
১ কিলোমিটার ৩৯৩৭৮.২৪ ৩২৮১.২৫ ১০৯৩.৮৪
১ হেক্টোমিটারে ৩৯৩৭.৮২ ৩২৮.১৫ ১০৯.৩৮
১ ডেকামিটারে ৩৯৩.৭৮ ৩২.৮২ ১০.৯৪
১ মিটারে ৩৯.৩৮ ৩.২৮ ১.০৯
১ ডেসিমিটারে ৩.৯৪ ০.৩৩ ০.১১
১ সেন্টিমিটারে ০.৩৯ ০.০৩ ০.০১
১ মিলিমিটারে ০.০৪   —   —

 

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

সমস্যাঃ আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট, প্রস্থ ৮০ ফুট, জমির পরিমাণ দেশীয় কানি গণ্ডা ও ৪০ শতকের কানি গণ্ডায় প্রকাশ করুন।

সমাধান:

ক্ষেত্রফল = ১২০ × ৮০ = ১৬০০ বর্গফুট।

দেশীয় কানি গণ্ডায় জমিটির পরিমাপ :

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

নির্ণেয় ১১ কানি ১ ক্রান্তি ৬ তিল।

৪০ শতকের কানি গণ্ডায় জমির পরিমাণ :

(সরকারী হিসাব)

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

৪.৭৫ তিল = ৫ তিল প্রায়

নির্ণেয় ১১ গণ্ডা ৫ তিল

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

সমস্যা : আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক, প্রস্থ ২২০ লিংক, জমির পরিমাণ একর শতক ও কানি গণ্ডায় বের করুন।

সমাধান

 জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক

 জমির প্রস্থ ২২০ লিংক

জমিটির ক্ষেত্রফল = ২৫০ x ২২০ = ৫৫০০০ বর্গলিংক।

একর শতকে জমির পরিমাণ

১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক ) ৫৫০০০ ( ৫৫ শতক

                                               ৫৫০০০

————————————————

                                                 ০

নির্ণেয় ৫৫ শতক ।

 

কানি গণ্ডায় জমিটির পরিমাণ

 

প্রচলিত দেশী পরিমাপের সাথে মেট্রিক পরিমাপের তুলনা

 

নির্ণেয় জমির পরিমাণ একর শতকে ৫৫ শতক, কানিগণ্ডায় ১ কানি ৭ গণ্ডা ২ কড়া

একর শতকের সূত্রাবলী

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ একর শতকের সূত্রাবলী

 

একর শতকের সূত্রাবলী

 

একর শতকের সূত্রাবলী

আমাদের দেশে সরকারীভাবে একর শতকের হিসাবই প্রচলিত হয়ে আসছে। তাই প্রতিটি খতিয়ানে জমির পরিমাণ একর শতকে লেখা থাকে। একর শতকের হিসাব জানাটা খুবই জরুরী।

একর শতকের হিসাব

দৈর্ঘ্য ১০ চেইন 

প্রস্থ ১ চেইন

দৈর্ঘ্য ১০ চেইন × প্রস্থ ১ চেইন

= ১০ বর্গ চেইন ।

= ১ একর।

১ চেইন =৬৬ ফুট=৪৪ হাত = ২২ গজ = ২০.১২ মিটার=৭৯২ ইঞ্চি = ১০০ লিংক।

 

একর শতকের সূত্রাবলী

 

বর্গলিংক হিসাবে একর শতকের হিসাব :

(১ চেইন = ১০০ লিংক ।

১ বর্গ চেইন = ১০০ x ১০০ = ১,০০,০০০ বর্গলিংক = ১ একর

১ একর বা ১০০ শতক = ১,০০,০০০ বর্গলিংক

১ একর বা  ১ শতক = ১,০০০ বর্গলিংক।

বর্গগজ হিসাবে কানি-গন্ডার সূত্র :

১৯৩৬ বর্গগজ = ১ কানি বা ২০ গণ্ডা ।

৯৬.৮ বর্গগজ = ১ গণ্ডা বা ৪ কড়া 

২৪.২ বর্গগজ = ১ কড়া বা ৩ ক্রান্তি ।

৮.০৬ বর্গগজ = ১ ক্রান্তি বা ২০ তিল ।

 .৪০ বর্গগজ = ১ তিল।

বর্গফুট হিসাবে একর শতকের সূত্র :

১ চেইন = ৬৬ ফুট

১০ বৰ্গচেইন = ৬৬ X ৬৬০ 

বা, এক একর বা ১০০ শতক = ৪৩৫৬৯ বর্গফুট

:. ১ শতক = ৪৩৫.৬ বর্গফুট ।

 

একর শতকের সূত্রাবলী

 

এবার একর শতকের হিসাব অনুসারে কানি গণ্ডার সূত্র :

১ শতক = ৪৩৫.৬ বর্গফুট

১ কানি বা ৪০ শতক = 83.6 x 80 = ১৭৪২৪ বর্গফুট।

বর্গহাত হিসাবে একর শতকের সূত্র :

১ চেইন = ৪৪ হাত

১০ বর্গচেইন = ৪৪ x ৪৪০ = ১৯৩৬০ বর্গহাত। (এক একর)

১৯৩৬০ বর্গহাত = ১ একর বা ১০০ শতক/১০০

= ১৯৩.৬ = ১ শতক

৪০ শতক বা কানি

= ১৯৩.৬ × ৪০

= ৭৭৪৪ বর্গহাত।

বর্গগজ হিসাবে একর শতকের সূত্র :

১ চেইন = ২২ গজ

১০ বৰ্গচেইন বা ১ একর

= ২২০ × ২২ = ৪৮৪০ বর্গগজ

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর বা ১০০ শতক/১০০

= ৪৮.৪০ বর্গগজ = ১ শতক

১ কানি বা ৪০ বর্গগজ = ৪৮.৪০ X 8০

= ১৯৩৬ বর্গগজ।

 

বর্গমিটার হিসাবে একর শতকের সূত্র :

১ চেইন = ২০.১২ মিটার

১০ বর্গচেইন বা ১ একর = ২০১.২ x ২০.১২

= ৪০৪৭ বর্গমিটার।

(৪০৪৭ বর্গমিটার = ১ একর বা ১০০ শতক) /১০০

= ৪০.৪৭ = ১ শতক।

এক নজরে একর শতকের হিসাব :

১ একর = ১০ বর্গ চেইন।

১ একর = ১০০ শতক।

১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট ।

১ একর = ১৯৩৬০ বর্গহাত।

১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ।

১ একর = ৪০৪৭ বর্গমিটার।

১ একর = ১,০০,০০০ বর্গলিংক । 

১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক।

১ একর = ৬০.৫ কাঠা।

১ একর = ২ কানি ১০ গণ্ডা । 

(৪০ শতকের কানিতে)

১ শতক = ৪৩২.৬ বর্গফুট।

২ শতক = ১ গণ্ডা

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

সমস্যা : আয়তকার একখন্ড জমির দৈর্ঘ্য ২৫০ লিংক, প্রস্থ ২২০ লিংক, জমির পরিমাণ বের করুন ।

সমাধান :

ক্ষেত্রফল = ২৫০ x ২২০ = ৫৫,০০০ বর্গলিংক

এবার, একর শতকে জমির পরিমাণ = ১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক

= (৫৫০০০/১০০০)

= ৫৫ শতক।

[ বিঃদ্রঃ লিংক এর বেলায় ১০০,০০০ = ১০০ শতক, ১.০০০০০ = ১ একর ডানদিক থেকে তঘর পরে দশমিক দিলে শতক নির্ণীত হয় এবং ৫ ঘর পর দশমিক দিলে একর নির্ণীত হয় ।]

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

কানি গণ্ডায় জমির পরিমাণ :

১ কানি = ৪০,০০০ বর্গলিংক

১ কানি = ৪০,০০০) ৫৫,০০০ (১ কানি

                             ৪০,০০০

 ১ গণ্ডা = ২০০০ ) ১৫,০০০ ( ৭ গণ্ডা

                           ১৪,০০০

১ কড়া = ৫০০ ) ১,০০০ (২ কড়া

                         ১,০০০

সুতরাং নির্ণেয় জমির পরিমাণ একর শতকে ৫৫ শতক, কানি গণ্ডায় ১ কানি ৭ গন্ডা ২ কড়া ।

বিভিন্ন প্রকার কানি :

কানিগন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি হলো আঞ্চলিক মাপ। সরকারী হিসাবে একর শতক ব্যবহার হয়। তাই একর শতকের হিসাব সারাদেশে একই। কিন্তু আঞ্চলিক মাপগুলো একেক অঞ্চলে একেক রকমের। কানি সাধারণত ২ প্রকার, যথা-

১। সাইকানিঃ

 সাধারণত ১২০ শতক / ১৬০ শতকে হয়ে থাকে।

২। কাচ্চা কানি :

এই কানিকে কোথাও কোথাও মঘীকানি, তিপরা কানি, ছোট কানি কিংবা ৪০ শতকের কানি বলা হয়ে থাকে।

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

বর্গহাত হিসাবে ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানির সূত্র :

সমস্যা : আয়তকার কোন জমির দৈর্ঘ্য ৩২০ হাত, প্রস্থ ১৪০ হাত, জমির পরিমাণ ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানিতে বের করুন।

সমাধানঃ

 ক্ষেত্রফল = ৩২০ x ১৪০ = ৪৪৮০০ বর্গহাত।

১ কানি = ৭৬৮০ হাত) ৪৪,৮০০ ( ৫ কানি 

                                  ৩৮,৪০০

১ গণ্ডা = ৩৮৪ হাত ) ৬,৪০০ (১৬ গন্ডা

                                ৩৮৪

১ কড়া = ৯৬) ২৫৬ (২ কড়া

১ ক্রান্তি = ৩২ ) ৬৪ (২ ক্রান্তি

                         ৬৪ 

                            ০

:. নির্ণেয় ৫ কানি ১৬ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি ।

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

বর্গফুট হিসাবে ৮ হাতি নলের কাচ্চা কানির সূত্র :

সমস্যা : আয়তাকার একটি জমির দৈর্ঘ্য ২৬০ ফুট, প্রস্থ ১৮০ ফুট, জমির পরিমাণ ৮ হাতি নলের রেণু ধুলের সূত্রে বের করুন। 

সমাধান : জমিটির ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ২৬০ x ১৮০ = ৪৬৮০০ বর্গফুট । 

১ কানি = ১৭২৮০ )৪৬৮০০ ( ২ কানি

                            ৩৪৫৬০

১ গন্ডা = ৮৬৪) ১২২৪০ ( ১৪ গণ্ডা

                        ১২০৯৬

১ কণ্ঠ = ৭২ ) ১৪৪ (২ কণ্ঠ

                     ১৪৪

                      ০

নির্ণেয় জমির পরিমাণ ২ কানি ১৪ গণ্ডা ২ কণ্ঠ ।

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

বর্গগজ হিসাবে কানি গন্ডার সূত্র :

সমস্যা : আয়তকার একখন্ড জমির দৈর্ঘ্য ১২০ গজ, প্রস্থ ৮০ গজ জমির পরিমাণ একর শতক ও কানি গণ্ডায় প্রকাশ করুন।

সমাধান 

ক্ষেত্রফল ১২০ × ৮০ গজ = ৯৬০০ বর্গগজ।

একর শতকে জমিটির পরিমাণ

১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ ) ৯৬০০ বর্গগজ ( ১ একর

                                         ৪৮৪০ বর্গগজ

          ১ শতক = ৪৮.৪০, ) ৪৭৬০ বর্গগজ ( ৯৮.৩৪৭ 

                                        ৪৭৬০ বর্গগজ

                                              ০

১ একর ৯৮.৩৫ শতক ।

কানি গণ্ডা হিসাবে জমিটির পরিমাণ

১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ ) ৯৬০০ বর্গগজ ( ৪ কানি

                                        ৭৭৪৪ বর্গগজ

১ গন্ডা = ৯৬.৮ বর্গগজ ) ১৮৫৬.০০ বর্গগজ ( ১৯ গন্ডা

                                       ১৮৩৯.২০ বর্গগজ

             ১ ক্রান্তি = ৮.০৬ ) ১৬.৮০ ( ২ ক্রান্তি

                                         ১৬.১২

১ তিল = .৪০ বর্গগজ ) .৬৮ (১ তিল প্রায়

                                   .২৮

:. নির্ণের জমির পরিমাণ ৪ কানি ১৯ গল্প ২ ক্রান্তি ১ ভিল।

 

বর্গলিংক হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র 

 

বর্গমিটার হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র (দেশীয় মাপ) :

 (80.87 মি. x ৩৯.৬৭ = ১৬০৫ বর্গমিটার)

বর্গমিটার হিসাবে কানি গণ্ডার সূত্র :

১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার

১ কানি বা ৪০ শতক = 80.89 x 80 = ১৬১৮.৮ বা ১৬১৯ বর্গমিটার।

সমস্যা : আয়তকার একখণ্ড জমির দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার, প্রস্থ ৬০ মিটার। জমির পরিমাণ কানি গণ্ডায় নির্ণয় করুন।

সমাধান :

ক্ষেত্রফল = ৮০ x ৬০ = ৪৮০০ বর্গমিটার ।

১ কানি = ১৬১৯ বর্গমিটার ) ৪৮৮০ বর্গমিটার ( ২ কানি

                                         ৩২৩৮ বর্গমিটার

১ গণ্ডা = ৮১ বর্গমিটার ) ১৫৬২ বর্গমিটার ( ১৯ গণ্ডা 

                                    ১৫৩৯ বর্গমিটার

১ কড়া = ২০.২৪ ) ২৩    (১ কড়া 

                           ২০.২৪

১ তিল = ৩৩৭ বর্গ বর্গমিটার) ২.৭৬ ( ৮ তিল

                                           ২.৭৬

:. নির্ণেয় ২ কানি ১০ গণ্ডা ১ কড়া ৮ তিল।

 

এক নজরে কানি গণ্ডার সূত্রাবলী :

১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট

১ কানি = ৭৬৮০ বর্গহাত

১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ

১ কানি = ১৬১৯ বর্গমিটার

১ কানি = ৪০.০০০ বর্গলিংক

১ কানি = ৪০ একর।