Category Archives: আইন

আইন

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের নির্জন কারাবাস

আজকে আমরা  বন্দীদের নির্জন কারাবাস  সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস । জেল কোড

নোট-১। নির্জন কারাবাস অর্থ কোন বন্দীকে এমন ভাবে সেলে আটক রাখা যাতে সে অন্য বন্দীদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে বা তাদেরকে দেখতে না পায়।

নোট-২। মহিলাদের নির্জন কারাবাস সম্পর্কে ৯৫৪ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫৫৯ । (১) নির্জন কারাবাসের মেয়াদ –

(ক) একমাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক না হয়;

(খ) দুই মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক কিন্তু এক বছরের অধিক না হয়;

(গ) তিন মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের বেশী হয়।

টীকা- দণ্ড বিধির ৭৩ ধারা অনুযায়ী ।

(২) আদেশে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ যদি মাস হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে এক মাসকে ৪ সপ্তাহ, দুই মাসকে ৮ সপ্তাহ এবং তিন মাসকে ১২ সপ্তাহ গণনা করা হবে।

নোট-এক মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ১৪ দিন, ৭ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৭ সপ্তাহ এবং ৮ থেকে ১২ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৮ সপ্তাহ নির্জন কারাবাসের মেয়াদ হবে।

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস
বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বিধি-৫৬০। একটানা ১৪ দিনের বেশী নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না। নির্জন কারাবাসের পূর্বে ও পরে বিরতি থাকবে। কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের অধিক হলে নির্জন কারাবাস কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশী হবে না এবং দুইটি মেয়াদের মধ্যে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।

টীকা- দত্ত বিধির ৭৪ ধারা অনুযায়ী ।

বিধি-৫৬১। নির্জন কারাবাসের আদেশ দণ্ড বিধির ৭৩ ও ৭৪ ধারার সাথে অসঙ্গতি পূর্ণ হলে ৫০১ বিধি মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে ।

বিধি-৫৬২। (১) বন্দী দৈহিক ও মানসিকভাবে সক্ষম আছে এ মর্মে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নির্জন কারাবাসে প্রবেশ করানো যাবে না।

(২) প্রয়োগ বিরল।

(৩) কোন বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে সাময়িক অক্ষম হলে পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে নির্জন কারাবাসে আটক রাখা যেতে পারে।

(৪) আপীলের কারণে নির্জন কারাবাস স্থগিত করার প্রয়োজন নেই ।

(৫) নির্জন কারাবাসে থাকা প্রত্যেক বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দৈনিক ভিজিট করবেন।

(৬) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা কারা মহাপরিদর্শক এবং দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে।

(৭) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে স্থায়ীভাবে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে এবং নির্জন কারাবাসের আদেশ কার্যকরী করা যাবে না ।

বিধি-৫৬৩। কোন বন্দীকে একাধিক পৃথক ওয়ারেন্টে নির্জন কারাবাসের আদেশ প্রদান করা হলে সাজা ভোগ কালে যে কোন একটি ওয়ারেন্টের আদেশ কার্যকরী করা হবে।

বিধি-৫৬৪ । নির্জন কারা-বাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর জেল সুপার ওয়ারেন্টে সাজা কার্যকরী করার সার্টিফিকেট প্রদান করবেন, নির্জন কারাবাসে রাখার মোট সপ্তাহ উল্লেখ করবেন এবং সাজার কোন অংশ যদি কার্যকরী করা না হয় তবে তার কারণ ব্যাখ্যা করবেন ।

বিধি-৫৬৫ । কোন বন্দী যে মেয়াদ নির্জন কারাভোগ করেছে, অনুরূপ মেয়াদের সম পরিমান বিরতির মধ্যে তাকে কারা অপরাধের জন্যে পৃথক কারাবাস বা সেলে আটক রাখার শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট
বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট । জেল কোড

বিধি-৫৪৯। প্রত্যেক বন্দীকে কারাগারে গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার একটি হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণ করা হবে (ফরম নম্বর ২০, ২১ বা ২২), যার মধ্যে তার সমগ্র কারা জীবনের সকল ঘটনা এবং তার সম্পর্কে প্রদত্ত সকল আদেশ ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হবে।

বিধি-৫৫০। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার যে সকল আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন সে গুলো ব্যতীত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণের জন্যে জেলার বা জেল সুপার কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

বিধি-৫৫১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিস্ট্রি টিকেটে কোন কিছু লিখতে পারবে না। তবে ব্রাইটার হিসাবে যে সকল বন্দী দায়িত্ব পালন করবে, তারা বিভিন্ন আদেশ হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে পারবে এবং এর সঠিকতা সম্পর্কে তারা দায়ী থাকবে। কোন ঘটনার বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে বা যথাসম্ভব দ্রুত হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিধি-৫৫২। জেল সুপার কোন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন-

(ক) বন্দীর পরিচালনা সম্পর্কে কোন বিশেষ আদেশ,

(খ) কোন বন্দীকে প্রদত্ত শাস্তি (আনুষ্ঠানিক সতর্কতাসহ),

(গ) বাহির প্রাচীরের কোন কাজ পাশ করা,

(ঘ) কয়েদী ওয়াচম্যান,ওভারশিয়ার বা নৈশ প্রহরীর পদোন্নতি সংক্রান্ত, () বিশেষ রেয়াত প্রদান।

 

 

বিধি-৫৫৩। মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে ভর্তির সময় বন্দীর বয়স, উচ্চতা এবং ওজন, তার শারীরিক অবস্থা এবং সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হলে সে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত এবং কোন সংক্রামক রোগের টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি লিখবেন বা লিখার ব্যবস্থা করবেন। রোগের উল্লেখসহ হাসপাতালে ভর্তি এবং হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের প্রতিটি ঘটনা, বন্দীর পরিচালনা, কাজের ধরন বা ডায়েট প্রভৃতি পরিবর্তন সম্পর্কে নির্দেশাবলীও তিনি লিখবেন ।

যখন হাসপাতাল থেকে বন্দীকে অব্যাহতি দেয়া হবে বা সে আরোগ্য লাভ করবে, ঐ বন্দীকে পূর্বের কাজে নিয়োগ করা যাবে কিনা বা অন্য কোন কাজ দিতে হবে কিনা বা কি কাজে নিয়োজিত করতে হবে মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। তিনি আরো দেখবেন বন্দীর প্রত্যেক পাক্ষিকে ওজন গ্র করা হয় কিনা এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করা হয় কিনা। বন্দী কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত কিনা তিনি তা দেখবেন এবং সে ক্ষেত্রে বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন ।

কোন বিনাশ্রম বন্দী স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে সে কি ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। কোন বন্দীকে শাস্তি প্রদান করা হলে প্রদত্ত শাস্তি ভোগের জন্যে সে দৈহিকভাবে সক্ষম কিনা, নির্জন কারাবাস ভোগের জন্য বন্দী সামর্থ্য কিনা, বদলির জন্যে দৈহিক সামর্থ্য আছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। রোগের চিকিৎসার অংশ হিসাবে কোন মহিলা বন্দী বা অন্য কারো চুল কাটার প্রয়োজন হলে তিনি এতদ সংক্রান্ত আদেশ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

 

বিধি-৫৫৪। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার প্রতিটি ভিজিটে প্রাপ্ত ফলাফল, অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন। তিনি বন্দীর চিকিৎসার বিষয় লিখবেন, তবে মেডিকেল অফিসার হতে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। তিনি প্রতি পনর দিন অন্তর ডেপুটি জেলার বা কম্পাউন্ডারের সহযোগীতায় বন্দীদের ওজন গ্রহণ করবেন এবং তা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫৫৫। জেলার বা ডেপুটি সুপার প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন-

(ক) বন্দীকে যে কাজ দেয়া হয়েছে তার বিবরণ,

(খ) কাজের পরিবর্তন,

(গ) মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়ন না হলে তার কারণ,

(ঘ) বন্দীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত,

(ঙ) বন্দী সম্পর্কে কোন বিশেষ সুপারিশ,

(চ) জেল সুপারের রেকর্ডকৃত কোন আদেশের উপর গৃহীত ব্যবস্থা,

(ছ) বি শ্রেণীর বন্দীদেরকে দিনে বা রাতে সেলে আটকের স্থান সম্পর্কে,

(জ)কারা বিধি লংঘনের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে রেকর্ড,

(ঝ) কোন বন্দীকে জেল সুপারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িক অবরুদ্ধ রাখার জন্যে হ্যান্ডকাপ, বেড়ী পরানো বা সেলে আটক রাখা,

(ঞ) ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক নিরাপদে আটক রাখার জন্যে বেড়ী আরোপ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৬। ডেপুটি সুপার (কেন্দ্রীয় কারাগারে বা জেলার ডেপুটি জেলার বিধি জল সুপারের আদেশ মোতাবেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত করবেন-

(১)কারাগারের ভর্তির তারিখ:

(২)কারাগার হতে বন্দীকে প্রদত্ত পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সরঞ্জামের তালিকা:

(৩)বন্দী কর্তৃক অসুস্থতা সম্পর্কে কোন অভিযোগ:

(৪)আপীল করার উদ্দেশ্যে রায়ের কপির জন্যে বন্দীর আবেদন:

(৫) রায়ের কপি প্রাপ্তির স্বীকার:

(৬) আপীল প্রেরণ;

(৭) আপীল আদালতের আদেশের বিষয়বস্তু:

(৮) আপীলের জন্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপীল না করার কারণ:

(৯)আপীল না করার জন্যে বন্দীর অনিচ্ছা:

(১০) মঞ্জুরকৃত রেয়াতের পরিমাণ;

(১১)প্রতি কোয়ার্টার শেষে মোট অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ;

(১২) কাজ না করাসহ কোন অপরাধ করলে তার বিবরণী:

(১৩) বন্দীর সাক্ষাৎ অনুমোদন এবং ব্যক্তিগত পত্র প্রেরণ বা গ্রহণ

(১৪) কয়েদী রক্ষী বা নৈশ প্রহরী হিসাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন;

(১৫) আদালতে প্রেরণ, বদলি বা খালাস বা মৃত্যু:

(১৬) নির্ধারিত সময়ের বাহিরে লেট্রিন ব্যবহার;

(১৭) বিধি ৬২৩ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞাপিত কোন বন্দীর ক্ষেত্রে “অসনাক্তকৃত” শব্দ লিপিবদ্ধ করণ;

(১৮) বন্দীকে আরোপিত বেড়ীর ওজন:

(১৯) পোশাক-পরিচ্ছদ রিপেয়ার সংক্রান্ত ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৭। প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট বন্দীদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারী কোন স্থানে রেখে দিবে এবং প্রয়োজনের সময় উপস্থাপন করবে। বন্দীর গ্যাং পরিবর্তন হলে বা বন্দীকে হাসপাতাল প্রেরণ করা হলে হিস্ট্রি টিকেটও তার সঙ্গে প্রেরিত হবে। প্রত্যেক সাপ্তাহিক প্যারেডে জেল সুপারের পরিদর্শনের জন্যে প্রত্যেক বন্দী তার হিস্ট্রি টিকেট বাম হাতে রাখবে।

বিধি-৫৫৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে তার হিস্ট্রি টিকেট মৃত্যুর পর দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির পর এক বা দুই বছর পর্যন্ত তার হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষিত থাকবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে হিস্ট্রি টিকেট তার সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সম্পত্তি

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি । জেল কোড

বিধি-৫৪৩। সকল টাকা বা অন্যান্য দ্রব্যাদি আদালতের কোন আদেশ না থাকলে বা যথাযথ অনুমোদনক্রমে কোন বন্দী কর্তৃক কারাগারে আনীত হলে কিংবা বন্দীর নিকট ব্যবহারের জন্যে প্রেরিত হলে জেলারের হেফাজতে জমা দিতে হবে। বন্দীর নিকট হতে বিধি মোতাবেক গৃহীত কিংবা পরে তার কাছে প্রেরিত সকল জিনিস পত্রের তালিকা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে তার ওয়ারেন্টে এবং সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণীতে ৫১৫৮ নম্বর ফরমে লিখে জেল সুপার এবং জেলার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বন্দীদের সম্পত্তি বা টাকা তার কারাবাসের যে কোন সময়ে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বন্দীর লিখিত সম্মতিতে তার কোন নিকটজনের নিকট হস্তান্তর করা যাবে। তবে নিজের জামাকাপড়ের অভাব সৃষ্টি করে জামাকাপড় হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না। এবং কারাবাস অবস্থায় বা মুক্তির প্রাক্কালে অন্য কোন বন্দীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না।}

টীকা- নং ১৩৪৪ এইচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে প্রতিস্থাপিত

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৪। পূর্ববর্তী বিধি সাপেক্ষে বন্দীদের সম্পত্তির বিষয়ে জেলার নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন-

(ক) বন্দীদের সম্পত্তির মধ্যে নিষিদ্ধ কোন বস্তু থাকলে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(খ) বিক্রয় যোগ্য কোন পচনশীল দ্রব্য থাকলে বিক্রি করে দিতে হবে।

(গ) মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুসারে পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রামক রোগাক্রান্ত হলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(ঘ)ব্যবহার অনুপযুক্ত জামাকাপড় জেল সুপারের নির্দেশ মতে ধ্বংস করে দিতে হবে।

(ঙ) দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জামাকাপড় বিক্রয় করে দিতে হবে। অন্যান্য বন্দীদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে গুদামে বান্ডেল করে তার উপর বন্দীর নাম লিখে রেখে দিতে হবে।

(চ) মূল্যবান স্বর্ণালংকার থাকলে তা আলাদা প্যাকেটে জেলারের অফিসে নিরাপদ বাক্সে রেখে দিতে হবে।

(ছ) নগদ টাকা জেলারের কাছে রাখতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নগদ টাকা সিকিউরিটিসে বিনিয়োগ বা ব্যাংকে জমা রাখতে চাইলে সে জন্যে তাকে অনুমতি দেয়া যাবে।

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৫ । কেবলমাত্র বন্দীর যে সকল দ্রব্য কারাগারের গুদামে রাখা যায় সে সকল সম্পত্তি রাখা হবে। জামেলা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বা গবাদি পশু বিক্রয় করে দিতে হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীর নগদ টাকার সঙ্গে জেলারের নিকট রেখে দিতে হবে। সিভিল বন্দী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে ভর্তির পর তল্লাশী করে কোন দ্রব্য বা টাকা পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এর মূল্যের একটি অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়া হবে, এবং অনধিক এক তৃতীয়াংশ মূল্য জেল সুপার কর্তৃক সন্ধানকারীকে প্রদান করা যাবে ।

বিধি-৫৪৬। কোন বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হয়ে যাবার সময় তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি সঙ্গেই দিয়ে দিতে হবে, কোন বন্দী বদলি হয়ে যাবার পর কোন সম্পত্তি প্রেরণ করা যাবে না।

 

বিধি-৫৪৭। কোন বন্দী মুক্তি পেলে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ৫৭৭ এবং ৫৭৮ বিধি মোতাবেক তাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। কোন মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীর অদাবীকৃত সম্পত্তি তার মুক্তির এক বছর পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে। এর মধ্যে দাবী না করা হলে তা বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে ।

বিধি-৫৪৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। বন্দী মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি বন্টনের ব্যাপারে কোন ইচ্ছা জানিয়ে গেলে তা পত্রের মাধ্যমে থানায় জানাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং এক বছরের মধ্যে পুনঃধৃত না হলে তার সম্পত্তি বিক্রয় করে দিতে হবে এবং আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে বন্দী ভর্তি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ে “ওয়ারেন্ট” অর্থ কোন বন্দীকে কারাগারে আটক রাখার জন্যে কোন আদালতের প্রদত্ত আদেশ।

বিধি-৪৯৩। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কারাদণ্ড এবং আদেশ কার্যকর করার জন্যে জেল সুপারগণের ক্ষমতা ১৯০০ সালের বন্দী আইনে বর্ণিত আছে।

বিধি ৪৯৪-৪৯৫ । অকার্যকর।

বিধি-৪৯৬। কারাগার খোলার পর হতে সূর্যাস্তে লক-আপ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে জেলার সাধারনত কারাগারে নুতন বন্দী ভর্তি করবেন। আদালতের বিশেষ আদেশ ছাড়া লক-আপ সময়ের পর বন্দী গ্রহণ করা যাবে না। সাজাপ্রাপ্ত নুতন বন্দীকে লক আপের পর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ওয়ার্ডে ভর্তি করা যাবে না। কোন বন্দীকে সাজা প্রদানের কারণে লক-আপ সময়ের পরে কারাগারে হাজির করা হলে রাতের জন্যে তাকে একটি সেলে অথবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখা হবে।

টীকা-১। আসামীকে যখন কারাগারে আটক রাখতে হবে তখন ওয়ারেন্ট জেলারের নিকট অর্পণ করতে হবে (ধারা-৩৮৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। যে জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট সাজা প্রদান করেছেন তিনি বা তাঁর স্থলাভিষিক্ত জজ বা ম্যাজিট্রেট উক্ত সাজা কার্যকর করার জন্য ওয়ারেন্ট দিতে পারবেন (ধারা-৩৮৯, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৪৯৭। দুর্দান্ত চরিত্রের কিংবা জঘন্য অপরাধের জন্যে অভিযুক্ত কোন বন্দীকে কারাগারে প্রেরণের প্রাক্কালে কোর্ট অফিসারের দায়িত্ব হ’ল জেল সুপারকে অবহিত কারার জন্যে এ বিষয়ে জেলারকে জানানো। প্রেরিত তথ্য পৃথক পত্রে লিখিত হবে, জেল ওয়ারেন্টে লিখা যাবে না।

টীকা, কোর্ট অফিসার জেল সুপারকে অবহতি করার জন্যে একটি পৃথক রিপোর্টে জেলারকে জানাবেন যে, জেলে প্রেরিত কোন বিচারাধীন বন্দী বা দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী বেপরোয়া বা তার অপরাধ বিশেষভাবে সাংঘাতিক বা সে পূর্বে পাগল ছিল (প্রবিধান-৪৮৩, পিআরবি)।

বিধি-৪৯৮। নুতন আনীত বন্দীকে ভর্তি করার সময় জেলার বন্দীকে জিজ্ঞাসা করে তার নাম এবং ওয়ারেন্টে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। যদি বন্দী কোন জবাব প্রদান না করে এবং সঠিক তথ্য প্রদান না করে, তবে যে পুলিশ স্কট বন্দীকে কারাগারে নিয়ে এসেছে তার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দী সনাক্ত করার জন্যে জেলার অনুরোধ করবেন। যদি পুলিশ অফিসার আনীত বন্দীকে সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন তবে জেলার বন্দীকে গ্রহণে অসম্মতি জানাবেন।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৪৯৯ । উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরকৃত রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে কারাগারে গ্রহণ করা যাবে না। ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ প্রতিপালিত হয়েছে কিনা । রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে কারাগারে পাঠানো হলে জেলার তাকে ভর্তি করতে অসম্মতি জানাবেন এবং পরবর্তী ভিজিটের সময় বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি- ৫০০। ফৌজদারি আদালত সমূহের ক্ষমতা ঃ-

  • হাইকোর্ট বিভাগ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড ।
  • দায়রা জজ/ অতিরিক্ত দায়রা জজ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড, মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষ।
  • সহকারী দায়রা জজ – মৃত্যুদণ্ড অথবা দশ বছরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড । ফৌ: কা: বি: ৯(৩) ধারা মতে কোন সহকারী দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়রা জজ হিসেবে নিযুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারবেন।
  • মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট / প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ পাঁচ বছরের অনধিক কারাদণ্ড; দশ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা: বেত্রদণ্ড। ফৌ: কা: বি: ২৯-গ ধারা মতে বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড বা সাত বৎসরের অধিক কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারেন ।
  • দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ তিন বছরের অনধিক কারাদণ্ড; পাঁচ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।
  • তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – দুই বছরের অনধিক কারাদণ্ড: দুই হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।

এ ছাড়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত জরিমানা অনাদায়ে আইনে অনুমোদিত পরিমাণ কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।
টীকা ১৯৮২ সালের ২৪ নং অধ্যাদেশ মূলে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩১-৩৩ক।

বিধি-৫০১। (১) যেখানে কোন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার নিকট কার্যকর করার জন্য প্রেরিত কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশের বৈধতা সম্পর্কে বা, যে কর্মকর্তার সীল বা স্বাক্ষরে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং ওয়ারেন্ট বা আদেশ জারী হয়েছে তার উপযুক্ততা সম্পর্কে সন্দেহ করেন, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন, অতঃপর সরকারের আদেশে তিনি এবং অন্যান্য সরকারী কর্মচারীগণ বন্দীর ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তি করবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সরকারের নিকট প্রেরিত বিষয় অনিষ্পন্ন থাকা পর্যন্ত বন্দীকে রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে বর্ণিত উপায়ে এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আটক রাখতে হবে।

(৩) যদি জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ত্রুটি বশত: রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে কোন অসংগতি বা অনিয়ম রয়েছে, তা হলে তিনি অনুরূপ আদেশ দানকারী আদালত বা কর্তৃপক্ষকে জানানো সাপেক্ষে বন্দীকে গ্রহণ করবেন।

(৪) কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ত্রুটি সম্পর্কে জেল সুপারের পরের উপর কোন জবাব পাওয়া না গেলে, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট জানাবেন এবং তার মাধ্যমে সরকারের নিকট জানাতে পারবেন ।

নোট। কারাদণ্ডের আদেশে সশ্রম বা বিনাশ্রম সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকলে, তারিখ না থাকলে, সিল না থাকলে, বা, আদেশ পেন্সিল দ্বারা স্বাক্ষরিত হলে তা সংশোধনের জন্যে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে (স্বাক্ষর বিহীন ওয়ারেন্ট গ্রহণ করা যাবে না)।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫০২। যখন কোন ওয়ারেন্ট সংশোধনের জন্যে প্রেরিত হয়, মূল ওয়ারেন্টটি ফেরত না আসা পর্যন্ত তার একটি কপি সংশ্লিষ্ট আলমারীতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ পত্রের মাধ্যমে সংশোধিত কপির প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।

বিধি-৫০৩। বন্দীকে কারাগারে ভর্তির তারিখ এবং তাকে যে ক্রমিক নম্বর প্রদান করা হয়েছে তা বন্দীর ওয়ারেন্টের গায়ে লিখে জেলার স্বাক্ষর করবেন। ওয়ারেন্ট সমূহ রিলিজের ক্রম অনুসারে মাসিক বান্ডেল আকারে সাজিয়ে রাখতে হবে,বান্ডেলের বাহিরের দিকে মাস এবং বছর লিখে রাখতে হবে। একই মাসে মুক্তি পাবে এমন বন্দীদের ওয়ারেন্ট একটি বান্ডেলে রাখতে হবে।

প্রতিটি বান্ডেল মাসওয়ারী পিজিয়ন হোল বা খোপযুক্ত আলমারীতে রাখতে হবে। আলমারীর চাবি জেলার বা ডেপুটি জেলারের হেফাজতে থাকবে। পরবর্তী যে কোন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বন্দীর নামের বানান ওয়ারেন্ট অনুসারে লিখিত হবে, যদি তা ভুলও থাকে। প্রত্যেক জেল রেকর্ডে অপরাধের নাম এবং আইনের ধারা একই সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-৫০৪। কারাগারে গ্রহনের সময় বন্দীকে সম্পূর্ণরূপে তল্লাশী করতে হবে। সম্ভ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আনা জামা-কাপড়, টাকা, জুয়েলারী, ডকুমেন্টস বা অন্য সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে। বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জামা কাপড় ব্যতীত সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে ৷ বিচারাধীন বন্দীর জামাকাপড়, বেডিং এবং জুতা ব্যতীত অন্যান্য জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে।

সিভিল বন্দীর কাছে বিপদজনক কোন অস্ত্র, পলায়নের কোন জিনিস, স্পিরিট, ড্রাগ এবং অনৈতিক বই থাকলে নিয়ে নিতে হবে। সিভিল বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের সামনে তল্লাশী করা যাবে না। মহিলাদেরকে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী দ্বারা শুধুমাত্র মহিলাদের উপস্থিতিতে তল্লাশী করতে হবে। বন্দীদের কাছ থেকে গৃহীত সকল সম্পত্তির বিষয়ে নবম অধ্যায় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৫০৫। নুতন আগত বন্দীকে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে। দেখবেন, কোন বন্দী অসুস্থ থাকলে তাকে চিকিৎসার জন্যে কারা হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। যদি নুতন আগত বন্দীদেরকে পর্যবেক্ষণে বা পৃথক রাখার জন্যে কোন ওয়ার্ড থাকে, মেডিকেল অফিসার তাদেরকে অন্য বন্দীদের সাথে রাখার আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে রাখতে হবে।

বিধি-৫০৬। কারাগারে ভর্তির পর পরই বন্দীরা তাদের জামা কাপড় এবং নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ধৌত করবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে আটত্রিশতম অধ্যায়ের বর্ণনা মোতাবেক কারাগারের পোশাক ও সরঞ্জাম দেয়া হবে। তাদের নিজেদের পোশাক নিয়ে নেয়া হবে এবং সিদ্ধ ও দৌত করে ষ্টোরে রেখে দেয়া হবে ।

বিধি-৫০৭। সাধারণত কারাগারে গ্রহণের পরবর্তী সকালে সকল নুতন বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে। তিনি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং ভর্তির রেজিষ্টারে এবং হিস্ট্রি টিকেটে তাদের বয়স, ভর্তিকালীন স্বাস্থ্য, ওজন, কোন অসুখ আছে কিনা, সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত হলে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রভৃতি লিখবেন।

বিধি ৫০৮-৫০৯। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৫১০। প্রত্যেক বন্দীর একটি ক্রমিক নম্বর থাকবে এবং যতদিন সে কারাগারে থাকবে ততদিন এ নম্বর দ্বারা পরিচিত হবে। যে কোন যোগাযোগ পত্রে তার নামের সঙ্গে এ নম্বর উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক কারাগারে বন্দীদের ক্রমিক নম্বর ১ হতে ১০,০০০ পর্যন্ত হবে। বন্দীর নম্বর এবং তার শ্রেণী বুঝানোর জন্যে একটি অক্ষর তার নামের আগে উল্লেখ করতে হবে। যেমন- “বন্দী নং ২৩৬ এ, রুপ রাম”। ডিসক্রিপটিভ রোলে বন্দীর পিতার নাম উল্লেখ করতে হবে। কোন বন্দী সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের সাথে পত্র যোগাযোগের সময় তার ডিসক্রিপটিভ রোল সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৫১১। সনাক্তকরণের প্রয়োজনে ভর্তি রেজিষ্টারে প্রত্যেক বন্দীর ব্যক্তিগত বিবরণী, তার বাহ্যিক চেহারা, গায়ের রঙ, দেহ সৌষ্ঠব এবং সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্ন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কিংবা কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেলার ব্যক্তিগত বিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫১২। প্রত্যেক বন্দীর শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ভর্তি রেজিষ্টারে লিখে রাখতে হবে। এই তথ্য তিন প্রকারের হবে-

  • ইংরেজী এবং বাংলা ভালভাবে লিখতে ও পড়তে পারে,
  • বাংলা লিখতে ও পড়তে পারে,
  • অশিক্ষিত।

বিধি-৫১৩। কারাগারের আচার-আচরণ সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আগত নন্দীকে শুনাতে হবে এবং তার একটি সংক্ষিপ্ত সার প্রত্যেক ওয়ার্ডে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৫১৪ । (১) ভর্তি রেজিষ্টার এবং রিলিজ ডাইরী পূর্ববর্তী বিধি সমূহ অনুসারে প্রয়োজনীয় লিপিবদ্ধকরণ শেষে সাধারণত ভর্তির পরদিন জেলার বন্দীর ওয়ারেন্ট ও রেজিষ্টারসহ বন্দীকে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। জেল সুপার প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে লেখার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং স্বাক্ষর করবেন।

(২) প্রত্যেক বন্দীর সম্পত্তির তালিকা | সম্পত্তির তালিকা ফরমে (৫১৫৮ নম্বর ফরমে) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৮ এবং ৪৮. এ) লিপিবদ্ধ করার পর) জেল সুপারের উপস্থিতিতে বন্দীকে পাঠ করে শুনাতে হবে, যদি সে তা সঠিক বলে সম্মতি প্রদান করে তবে জেল সুপার তা স্বাক্ষর করবেন। একই সময়ে জেল সুপার প্রয়োজনে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে যে কোন বিশেষ নির্দেশ প্রদান করবেন।

নং- ১৫৮৭ এইচ জে, তারিখ ১৯-৪ ১৯৩৮ এবং নং- ১৩৪৪ এইচ জে, তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে সংশোধিত ।

বিধি-৫১৫। (১) যখন কোন ব্যক্তিকে একই বিচারে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্যে একাধিক সাজা প্রদান করা হয়, তখন একটির মেয়াদ শেষ হবার পর আরেকটি শুরু হবে, যদি আদালত নির্দেশ প্রদান না করেন যে সাজা সমূহ একসঙ্গে চলবে।

(২) পূর্ব থেকে সাজা ভোগরত কোন ব্যক্তিকে পৃথক মামলায় সাজা প্রদান করা হলে তা পর পর চলবে, যদি না আদালত আদেশে উল্লেখ করেন যে, প্রদত্ত সাজা পূর্বের সাজার সঙ্গে একই সঙ্গে চলবে। যদি ঐ ব্যক্তি জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত হয়, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৬ ধারা প্রযোজ্য হবে।

(৩) আদালতের কোন আদেশ কার্যকর সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হলে সর্বশেষ দণ্ডাদেশে প্রদত্ত নির্দেশ কার্যকর হবে।

টীকা-। কোন বাক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে যদি এক সঙ্গে চলবে নির্দেশ না থাকে তা হলে একটির পর অপরটি চলবে (ধারা ৩৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৫১৬। কোন অবস্থাতেই কোন বন্দীকে দণ্ডাদেশে উল্লেখিত সময়ের বেশী আটক রাখা হবে না। তবে অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫১৭। (১) কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় মুচলেকা খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড প্রদান করা হলে, উক্ত দণ্ডের মেয়াদ মূল সাজার পরে কার্যকরী হবে, যদি না আদালত নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত দও একই সঙ্গে কার্যকরী হবে।
যেহেতু সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে প্রদত্ত কারাদণ্ড জন সাধারণের নিরাপত্তার জন্যে একটি প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা মাত্র, কৃত অপরাধের জন্যে সাজা নয়, সেহেতু বন্দীর মূল দণ্ডের মেয়াদ শেষে জেল সুপার সমীচীন মনে করলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় বন্দীকে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

(২) ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় জামানত খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড ভোগরত কোন বন্দীকে উক্ত দণ্ডের আদেশ প্রদানের পূর্বে কৃত কোন মূল অপরাধের জন্য কারাদণ্ড প্রদান করা হলে তা ঐ আদেশের তারিখ হতে কার্যকরী হবে এবং দুটি কারাদণ্ড একই সঙ্গে চলবে ।

টীকা- যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, জামানত দিতে ব্যর্থ দণ্ডিত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়া হলে কোন বিপদ নেই, তা হলে তিনি মুক্তির আদেশ দিতে পারেন (ধারা-১২৪ ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি ৫১৮-৫১৯। প্রয়োগ বিরল

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫২০। কোন জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অতিরিক্ত কোন সাজা প্রদান। করা হলে পলায়ন কালে সে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে বন্দীর মুক্তির তারিখ ৪৭৭, 528. ৫২৫ এবং ৫২৮ বিধি অনুসারে গণনা করতে হবে।

টীকা-। জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী পলায়ন কালে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে (ধাৱা– ৩৯৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দুটি পৃথক দণ্ডাদেশের মাধ্যমে কারাগারে অন্তরীণ রাখা হলে পূর্বে প্রদত্ত দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর দ্বিতীয় দণ্ড ভোগ শুরু হবে। যদি প্রথম দণ্ডটি আপীলের মাধ্যমে অকার্যকর হয়ে যায় তবে যে তারিখ হতে প্রথম দণ্ডটি ভোগ করছিল দ্বিতীয় দণ্ড ভোগের মেয়াদ ঐ তারিখ থেকেই গণনা করা হবে ।

টীকা- ১। একটি দণ্ডের সাথে অপর দণ্ড যুক্ত করে যে কোন আইন সংগত দণ্ড দেয়া যায় (ধারা ৩২(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ।)

টীকা-২। আদালত অপরাধীকে সশ্রম বা বিনাশ্রম যে কোন প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। এরুপ কারাদণ্ড সম্পূর্ণ অংশ সম্ভ্রম কিংবা সম্পূর্ণ অংশ বিনাশ্রম কিংবা আংশিক সম এবং আংশিক বিনাশ্রম হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিতে পারেন (ধারা ৬০: দণ্ডবিধি)।

টীকা ৩। যদি কারাদণ্ডের প্রকৃতি উল্লেখ না থাকে তা হলে তা অবশ্যই বিনাশ্রম হবে (১১ ক্যাল, ডব্লিউ, এন ৭৪০ ডি.বি)।

টীকা-৪। শুধু মাত্র জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বিনাশ্রম হবে (ধারা ৬৭, দণ্ডবিধি)।

টীকা- ৫। জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় তা জরিমানা পরিশোধ করা বা আইনের প্রক্রিয়াধীনে আদায় করার সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হয়ে যাবে (ধারা ৬৮ দণ্ডবিধি)।

বিধি-৫২২ । (১) কোন ব্যক্তিকে কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় সে কারাগারে আটক না থাকলে যে তারিখে সে কারাগারে নীত হবে সে তারিখ হতে তার সাজা ভোগের মেয়াদ শুরু হবে।

(২) যদি সে দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখে কারাগারে আটক থাকে তবে আদালত অন্য রকম আদেশ প্রদান না করলে দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে তার সাজা ভোগ চলমান রয়েছে মর্মে গণ্য করতে হবে।

টীকা-। যে ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় আসামী হাজতে রয়েছে এবং যে অপরাধের জন্যে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড শাস্তির যোগ্য নয়, সে ক্ষেত্রে আদালত কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেবার সময়, পূর্বে যে মেয়াদে সে হাজতে ছিল তা বিবেচনা করতে পারেন (ধারা ৩৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৩। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কোন তারিখে মুক্তি পাবে সে তারিখ জেল সুপার এবং জেলার হিসাব করবেন এবং রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করবেন। আদালত কর্তৃক অতিরিক্ত সাজা আরোপ অথবা হ্রাস করার কারণে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন হলে তদনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।

বিধি-৫২৪। কোন বন্দীর আটকের মেয়াদ পঞ্জিকা বছর অনুসারে বা মাস হিসেবে গণনা করতে হবে, যদি আদেশে দিন অনুসারে উল্লেখ না থাকে। যে দিন আদেশ দেয়া হয়েছে এবং যে দিন মুক্তি দেয়া হবে উভয় দিনকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে একদিনের কারাদণ্ড দেয়া হলে একই দিনে আটক রাখতে হবে ও মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু আদেশে ২৪ ঘণ্টা উল্লেখ থাকলে তাকে ২৪ ঘন্টা আটক রাখতে হবে।

টীকা- ১। “মাস” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে মাস গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল রুজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭) ।

টীকা- ২। “বৎসর” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে বৎসর গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।

বিধি-৫২৫। কারাদণ্ড প্রদানের পর কোন বন্দী আপীল সাপেক্ষে কিছু মেয়াদ জামিনে মুক্ত থাকার পর সাজা ভোগের জন্যে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হলে কিংবা কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগার হতে পলায়নের কারণে কিছু মেয়াদ মুক্ত থাকার পর পুনঃধৃত হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হলে তাদের মুক্তির তারিখ নিম্নরূপ ভাবে গণনা করতে হবে:-

  • জামিনে মুক্ত থাকার মেয়াদ বা পলায়নের কারণে মুক্ত থাকার মেয়াদের পঞ্জিকা বৎসর, মাস এবং দিন মূল সাজার মেয়াদের সাথে যোগ করতে হবে: দণ্ডের তারিখ হতে ঐ যোগফলের মেয়াদ যে তারিখে অতিবাহিত হবে ঐ তারিখ বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার তারিখ হবে।
  • জামিন শেষে যে আদালতে বন্দী আত্মসমর্পণ করবে, সে আদালত বন্দীর ওয়ারেন্টে তার জামিনে মুক্তির তারিখ এবং পুনরায় অন্তরীণ রাখার তারিখ লিপিবদ্ধ করবেন।

নোট- । কোন বন্দীকে কারাদণ্ড প্রদানের তারিখে কারাগারে প্রেরণ না করে আদালত হতে জামিনে মুক্ত প্রদান করা হলে ঐ বন্দী তার সাজার কোন অংশ ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে

 

বিধি-৫২৬। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক শর্তাধীনে মুক্তি প্রাপ্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির আদেশ বাতিল করা হলে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হবার কালে দণ্ডাদেশের মূল কপি এবং সরকারী আদেশের কপি সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

টীকা- যে সমস্ত শর্তে দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছে, তার কোনটি পালন করা হয়নি বলে মনে করলে সরকার উক্ত দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আদেশ বাতিল করতে পারবেন এবং অতঃপর যে ব্যক্তির দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছিল সে মুক্ত থাকলে যে কোন পুলিশ অফিসার তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবেন এবং তার দণ্ডের অনতিবাহিত অংশ ভোগ করার জন্য তাকে কারাগারে প্রেরণ করা যাবে (ধারা ৪০১ (৩), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৭। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হলে সবগুলো দণ্ডের মেয়াদকে যোগ করে একটি দণ্ড হিসেবে গণনা করে তার মুক্তির দিন ধার্য করতে হবে।

বিধি-৫২৮। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জরিমানা অনাদায়ে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজা দেয়া হলে, ধার্য জরিমানা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে সে অনুপাতে মুক্তির তারিখ ধার্য হবে।

টীকা-১। অর্থ দণ্ডের কোন অংশ দণ্ডিত ব্যক্তি প্রদান করলে আনুপাতিক হারে অনাদায় জনিত কারাদণ্ড ভোগের মেয়াদ কমে যাবে (ধারা-৬৯. দণ্ডবিধি)।

টীকা-২। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ১ জানুয়ারীতে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৬০০ টাকা জরিমানা প্রদান হলে এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলে উক্ত বন্দী ২০০ টাকা পরিশোধ করতে সমর্থ হলো। তার কারা ভোগের মেয়াদ হবে ৬ মাস + ৪ মাস ১০ মাস।

বিধি-৫২৯। জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ মাস হিসাবে আদেশে বর্ণিত থাকলে আংশিক জরিমানা পরিশোধের কারণে দত্ত হ্রাসের হিসাব মাস হিসাবেই করতে হবে, দিনের হিসাবে নয়। কোন মাসের ভগ্নাংশ অবশিষ্ট থাকলে দিনে পরিবর্তন করা হবে। কোন দিনের ভগ্নাংশ গণনায় ধরা হবে না।

বিধি-৫৩০। কোন বন্দী সাজা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে জরিমানার কোন অংশ পরিশোধ করলে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়ারেন্টের গায়ে তা উল্লেখ করবেন।

বিধি-৫৩১। কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাভোগ অবস্থায় অন্য কারাগারে বদলি হলে দণ্ডাদেশের পর প্রথম যে কারাগারে সে অন্তরীণ ছিল সে কারাগারকে বন্দীর বদলি সম্পর্কে গ্রহণকারী কারাগার অবহিত করবে।

বিধি-৫৩২ । কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ প্রাপ্ত হলে এবং একই সময়ে বা পাশাপাশিভাবে অন্য মেয়াদের জন্যে মূল সাজাপ্রাপ্ত হলে, মূল সাজা শেষ না হলে জরিমানা অনাদায়ের দায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ভোগের আদেশ কার্যকরী করা হবে না।

বিধি-৫৩৩। জেল সুপার বা জেলার জরিমানা গ্রহণের জন্যে অনুমোদিত নয়। জরিমানা যে আদালতে তা আরোপ করা হয়েছে সে আদালতে কিংবা দায়রা আদালতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-৫৩৪। যখন কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয় এবং আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত সময় ও স্থানে হাজির হওয়ার জন্য তাকে জামিন প্রদান করা হয় কিংবা কারাদণ্ড ছাড়াও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দণ্ডের তারিখ হতে পনেরো দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বা আপীল করা হলে আপীল আদালত কর্তৃক সাজা বহাল না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

তবে পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যথাশীঘ্র বা আপীল আদালত হতে সাজা বহালের আদেশ লাভের পর যথাশীঘ্র বেদেও কার্যকরী করতে হবে। যদি কোন বন্দী কর্তৃক পনেরো দিনের মধ্যে আপীল মা করা হয় এবং অতঃপর তাকে বেত্রাঘাত প্রদানের জন্যে হাজির করার পর সে আপীল করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে তখন তাকে আপীল করতে দেয়া হবে এবং বেত্রাঘাত প্রদান স্থগিত করে আপীলের রায়ের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ।

বিধি-৫৩৫। (১) জেল সুপার বা মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব- অর্ডিনেটের সামনে বেত্রদণ্ড কার্যকর করার প্রাক্কালে এই মর্মে মেডিকেল অফিসারকে অবশ্যই সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে যে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে শারীরিক ভাবে সামর্থ্য রয়েছে। যদি বন্দী সাময়িকভাবে বেত্রাঘাত সহ্য করতে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন তবে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে সামর্থ্য রয়েছে মর্মে পুনরায় মেডিকেল অফিসার কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদান না করা পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখতে হবে।

যদি বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে স্থায়ীভাবে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন কিংবা বেত্রাঘাত প্রয়োগ কালে মেডিকেল অফিসার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী অবশিষ্ট বেত্রাঘাত ভোগ করতে শারীরিক ভাবে অসামর্থ্য তখন বেত্রাঘাত চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মতে কার্যক্রমের জন্যে সাজা প্রদানকারী আদালতে ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে।

(২) বেত্রাঘাত প্রদানকালে বন্দীর নিতম্বের উপরে জীবাণুনাশক মিশ্রিত একটি পাতলা কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে।

(৩) ষোল বৎসর বা তার বেশী বয়সের ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মোতাবেক বেতের পরিধি আধ ইঞ্চির বেশী হবে না এবং বাল- অপরাধীদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে হাল্কা বেত ব্যবহার করতে হবে, বা যদি স্কুলে শাস্তি দেয়ার মতো করে শাস্তি প্রদানের আদেশ দেয়া হয় তবে হাত দ্বারা দণ্ড কার্যকর করতে হবে।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫৩৬। যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে যদি কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয়, দণ্ড প্রদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে রাখতে হবে ।

টীকা- যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে দণ্ডদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে হাজতে রাখতে হবে এবং উক্ত আদালত নিজ বিবেচনায় দত্ত মওকুফ করতে পারবেন অথবা অপরাধীকে বেত্রদণ্ডের পরিবর্তে বার মাসের অনধিক কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারবেন এবং একই অপরাধের জন্য সে অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডিত হলে সে দণ্ড ছাড়াও এ দণ্ড দেয়া যাবে (ধারা-৩৯৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৩৭ ৷ কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে এবং কোন কারাদণ্ড প্রদান না করা হলে কারাগারে বা আদালত ভবনের নিকটবর্তী কোন বেষ্টনীতে একান্তে বেত্রাঘাত পরিচালনা করতে হবে।

বিধি-৫৩৮ । যখন কোন বন্দীকে একটি মামলায় কোন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং দ্বিতীয় আরেকটি মামলায় কারাদণ্ড ও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত আদেশ প্রাপ্তির পনেরো দিন অতিবাহিত হবার পর যথাশীঘ্র বেত্রদণ্ড কার্যকর করতে হবে, যদিও প্রথম মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ না হবার কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা মোতাবেক দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের আদেশ কার্যকর স্থগিত রয়েছে।

বিধি-৫৩৯। বেত্রাঘাতের সংখ্যা কোন ক্ষেত্রেই ত্রিশের অধিক হবে না এবং ষোল বৎসরের কম বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পনেরোর অধিক হবে না। ফলে যদি কোন বন্দীকে দুইটি মামলায় একই সময়ে বেত্রাদণ্ড প্রদান করা হয় তবে, মোট ত্রিশ বা পনেরো, যে ক্ষেত্রে যা হয়, বেত্রাঘাত করা যাবে। তবে যদি কোন বন্দী একবার বেত্রদণ্ড ভোগ করে থাকে এবং পুনরায় একই দণ্ড পেয়ে তাকে পুনরায় বেত্রঘাত প্রদানে কোন বাধা নেই ।

বিধি-৫৪০। বেত্রদণ্ড কার্যকরী করার পর কার্যকরী করার তারিখ উল্লেখ পূর্বক জেল সুপার ওয়ারেন্টের পৃষ্ঠাঙ্কন করে তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন।

টীকা- কোন বেত্রদণ্ড কিস্তিতে কার্যকরী করা যাবে না এবং স্ত্রীলোক, মৃত্যুদণ্ড বা পাঁচ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত পুরুষ কিংবা পয়তাল্লিশ বৎসরের অধিক বয়সের পুরুষকে বেত্রদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না (ধারা-৩৯৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৪১। পুলিশ রেজিষ্ট্রার বন্দী দু প্রকার ঃ-

(১) সে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তি প্রদানের আগে তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে;

(২) যে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তির আগে বদলি করা হবে না, মুক্তির তারিখে যে কারাগারে রয়েছে সেখান থেকেই মুক্তি পাবে।

বিধি-৫৪২। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ রাখতে হবে-

(১) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নং-৬)

(২) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নামীয় বর্ণমালা অনুযায়ী ইনডেক্স (রেজিষ্টার নং-৭)

(৩) রিলিজ ডাইরী (রেজিষ্টার নং-১০)

(৪) দৈনিক সার সংক্ষেপ (রেজিষ্টার নং-১৪)।

জেল কোড অনুযায়ী এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন । জেল কোড

বিধি-৪৬৩। কারাগারে গোলযোগ বা বন্দী বিদ্রোহ, পলায়নের চেষ্টা কিংবা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে আক্রান্ত হবার ক্ষেত্রে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে বা তার শরীরের উপর বা অন্য লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের জন্যে নিম্নলিখিত নিয়ম সমূহ মেনে চলতে হবে-

(১) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী পলায়নরত বা পলায়নের চেষ্টারত কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন: তবে শর্ত থাকে যে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের শেষ উপায়। গ্রহন ছাড়া পলায়ন প্রতিরোধ করার জন্যে অন্য কোন উপায় নেই মর্মে তাকে বিশ্বাস করতে হবে।

(২) যৌথ বিদ্রোহ বা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে জোর পূর্বক প্রধান ফটক খোলা বা প্রধান ফটক অথবা কারাগারের দেয়াল ভেংগে ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত কোন বন্দী বা অন্য কোন ব্যক্তির উপর কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারবেন যতক্ষণ অনুরূপ যৌথ বিদ্রোহ বা চেষ্টা চলতে থাকে।

(৩) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন যদি বন্দী কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে: তবে শর্ত থাকে যে, তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে আক্রান্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তির জীবন হানি বা অঙ্গহানি বা মারাত্মক জখম হওয়ার কারণ বিদ্যমান।

(৪) ১ নং উপ-বিধির ক্ষমতাবলে কোন বন্দীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পূর্বে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দীকে সতর্ক করবেন যে তিনি ঐ বন্দীকে গুলি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তার সিনিয়র কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঐ কর্মকর্তার আদেশ ব্যতীত বিদ্রোহ বা পলায়ন চেষ্টা কালে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে কোনরূপ অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।

নোট- বহিরাক্রমণের ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিধি ৪৬৩, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৪৭০ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত অনুসৃত হবে।

টীকা কোন কারাগারের প্রকৃত জরুরী অবস্থা ব্যতীত এবং কারা মহাপরিদর্শকের অজ্ঞাতসারে এবং রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন গার্ড সরবরাহ করা যাবে না। যে কোন জরুরী অবস্থায় যদি পুলিশ সুপার মনে করেন যে, একটি গার্ড সরবরাহ করা তার দায়িত্ব তা হলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যাপারটি উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শককে জানাবেন (প্রবিধান ৬৯৭, পিজারবি)।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৬৪। প্রতিটি কারাগারে ‘এলার্ম’ নামে পরিচিত পূর্ব পরিকল্পিত সংকেত ব্যবস্থা থাকবে যা দ্বারা কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশকে কারাগারের বিদ্রোহ, গোলযোগ, পলায়ন বা যে কোন অনভিপ্রেত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা যেতে পারে। এলার্মের ধরন হবে কারাগারের মূল গেইটের ভবন বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক বা একাধিক ঘন্টা বা ধাতব বেল (গং) অবিরাম বাজানো অথবা গেইট সেন্ট্রির নিকটস্থ স্থানে ড্রাম পিটানো অথবা বাষ্পচালিত হুইসেল বাজানো।

যদি ঘন্টা বা বেল বাজানো হয় তবে তার আওয়াজ হবে নিয়মিত প্যারেডে ব্যবহৃত আওয়াজ হতে ভিন্ন, যাতে পৃথক ইঙ্গিত বুঝতে কোন সংশয় সৃষ্টি না হয়। যদি একাধিক বেল বা গং থাকে তবে প্রথমটির শব্দ শুনার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত সেন্ট্রি দ্বিতীয়টি বাজানো শুরু করবেন এবং উভয় সংকেত ধ্বনি সম্ভব হলে উপস্থিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বন্ধের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবিরাম চলবে ।

বিধি-৪৬৫। গুরুতর কোন সংকট কালে কারারক্ষীর হুইসেলের একটি দীর্ঘ যাত্রার ধ্বনির অর্থ হ’ল সাহায্য প্রয়োজন। পর পর তিনটি হ্রস্ব ধ্বনির অর্থ হ’ল ‘এলার্ম বাজানো হোক’।

বিধি-৪৬৬। এলার্ম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে গেইট সেন্ট্রি তার বন্দুকে গুলি ভর্তি করবেন। তিনি প্রধান গেইটের বাহিরে দাঁড়ানো থাকলে গেইটের মধ্যে প্রবেশ করবেন না। তিনি সকল ঝুঁকি সত্ত্বেও বাহির ফটকটি বল প্রয়োগ থেকে রক্ষা করবেন এবং গেইট রক্ষী ও অন্যদেরকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন।

বিধি-৪৬৭। রিজার্ভ গার্ড সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেবে এবং বাহির গেইট রক্ষায় সেন্ট্রিকে সাহায্য করবে। দুই জন রক্ষী গুলি ভর্তি রাইফেল নিয়ে প্রধান গেইটের ছাদে অবস্থান গ্রহণ করবেন। তারা বন্দীদের গতি বিধি লক্ষ্য করবেন এবং ভিতর গেইটের দিকে অগ্রসরমান কোন বন্দী থাকলে সেখান থেকে সরে যাবার হুঁশিয়ারী প্রদান করবেন। কোন ব্যক্তির জীবন রক্ষার প্রয়োজনে তারা ৪৬০ বিধি | মোতাবেক গুলি বর্ষণ করতে পারবেন।

বিধি-৪৬৮। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী (বন্দীদের বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত গণ ব্যতীত), ইউনিফর্ম পরিহিত অথবা ইউনিফর্ম ছাড়াই তৎক্ষণাৎ অস্ত্রাগারে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সজ্জিত হবেন, বেয়নেট সংযুক্ত করবেন এবং উপস্থিত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে প্রধান গেইটে সমবেত হবেন। সরাসরি নির্দেশ ব্যতীত তিনি রাইফেলে গুলি ভরবেন না।

জেল সুপারকে সংবাদ দিতে হবে, দুটি দল কারা এলাকার বিপরীত প্রান্তে প্রাচীরের বাহিরে প্রেরিত হবে, তারা কারাভ্যন্তর হতে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়নের কোন চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করবেন। একটি ফাঁকা গুলি বর্ষণ হলে বুঝতে হবে যে সাহায্যের প্রয়োজন বা যে দিকে শব্দ হয়েছে সেদিকে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়ন করছে। এ সংকেত শুনার সঙ্গে সঙ্গে সিনিয়র প্রধান কারারক্ষী অবশিষ্ট রক্ষীদল সহ দৌড়ে ঘটনা স্থলে যাবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪৬৩ বিধি মোতাবেক কাজ করবেন।

নোট- একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রক্ষী বন্দুকের পরিবর্তে লাঠি হাতে থাকবে, এ সংখ্যানুপাত জেল সুপার নির্ধারণ করবেন।

বিধি-৪৬৯ ৷ এলার্ম অবস্থায় বাহির প্রাচীরের গ্যাংয়ে নিয়োজিত বন্দীদের দায়িত্ব পালনকারী রক্ষীগণ সে সকল বন্দীদেরকে সংগ্রহ করে এবং এক জায়গায় সমবেত করে বসিয়ে রাখবেন, তবে ঐ স্থান গেইটের কাছে হবে না। গোলযোগ না থামা পর্যন্ত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশ ব্যতীত তাদেরকে কারাগারে প্রবেশ করানো যাবে না। কারাগারের সকল বন্দীকেও নিকটবর্তী এবং অত্যন্ত সুবিধাজনক ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য ভবনে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৪৭০। সেন্ট্রিরা নিয়োজিত হওয়ার পর এবং কারা কর্মচারী এবং রক্ষীরা সমবেত হবার পর, জেল সুপার বা তার অনুপস্থিতিতে জেলার কিংবা উপস্থিত সর্বজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কারাগারের উভয় গেইটের ভিতরে প্রবেশ করবেন। অতঃপর বাহিরের গেইট তালাবদ্ধ করা হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে ভিতরের গেইট খোলা হবে এবং রক্ষীরা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন পূর্বক ৪৬৩ বিধি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী গোলযোগের অকুস্থলে উপস্থিত হয়ে উচ্চস্বরে বন্দীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করবেন যে তারা অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের উপর গুলি বর্ষিত হবে। যদি বিলম্ব করার মত পরিস্থিতি থাকে তা হলে এই হুঁশিয়ারী তিন বার উচ্চারণ করতে হবে। তারপরও যদি দেখা যায় যে, গোলযোগ দমনের জন্যে আর কোন উপায় নেই, তবে তিনি অবাধ্য বন্দীদের উপর গুলি চালাতে পারেন।

যদি দেখা যায় যে বন্দীরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বা আত্মসমর্পণ করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে গুলি বন্ধ করতে হবে। জেল সুপার বা কারাগারের অন্য কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আগমনের পর তার আদেশ মোতাবেক রক্ষীরা কাজ করবেন। গোপনে পলায়ন রত কোন বন্দীর উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। বন্দীরা ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক কোন কিছু না করলে বা কোন প্রকার অপরাধমূলক বল প্রয়োগ না করলে তাদের উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। কিংবা বিদ্রোহের কারণে রক্ষীদেরকে গুলি করার জন্যে আহবান না করা হলে তারা গুলি করবেন না।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৭১। পরিস্থিতির ব্যাপকতার উপর ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি নির্ভর করবে। নীরবতা বজায় রাখতে হবে এবং সকল কিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অগ্রিম নির্দেশ প্রদান করতে হবে যাতে তারা উপলব্দি করতে পারেন তাদেরকে কি করতে হবে এবং কোথায় যেতে হবে। যখন এলার্ম বাজবে তখন অবাধ্য বন্দীদেরকে আটকানোর জন্যে রক্ষীরা কিছু হ্যান্ডকাপ সঙ্গে রাখবেন।

বিধি-৪৭২। গোলযোগ, বিদ্রোহ প্রভৃতি বিপদের প্রাদুর্ভাব মুহুর্তে নিজ নিজ কর্তব্য সম্পর্কে কারা কর্মচারীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে মাসে একবার এলার্ম মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপরে বর্ণিত সকল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, তবে রক্ষীরা প্রকৃত গুলি বর্ষণের পরিবর্তে ফাঁকা আওয়াজ করবেন। জেলার মহড়ার একটি লিখিত সময় নির্ধারণ করবেন যে সময় এলার্ম বাজলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্তব্যে হাজির হবেন।

মহড়ার তারিখ এবং সময় জেলার তার রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। অনুরূপভাবে রিজার্ভ গার্ড মূল গেইটে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, অধস্তন ও অনান্য রক্ষীরা সমাবেশে হাজির হবার জন্যে এবং তাদের পোস্টে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, যারা দেরীতে উপস্থিত হয়েছে তাদের নাম এবং সম্পূর্ণ মহড়া শেষ করতে কত সময় লেগেছে প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। যদি মহড়া সফল ভাবে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে কোন অসুবিধার কারণে এবং কার ত্রুটির জন্যে তা ঠিক ভাবে হয়নি তিনি বর্ণনা করবেন।

বিধি-৪৭৩। এলার্ম প্রকৃত বা কৃত্রিম যাই হোক না কেন, প্রাথমিক সিগন্যাল থেকে শেষে হারিয়ে যাওয়া বন্দী খুঁজে বের করা পর্যন্ত উপদ্রব দমনের জন্যে যা যা করতে হয় সকল কার্যক্রম একই ভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৭৪ ৷ যেখানে পুলিশ লাইন কারাগারের খুব কাছে থাকে, কারাগার হতে এলার্ম শুনবার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লাইনে অবস্থিত কনষ্টেবলগণ এলার্ম প্যারেডে অংশ গ্রহন করবেন এবং যদি সেখানে বিদ্রোহ ঘটে থাকে তারা তা দমনে সহায়তার জন্যে মার্চ করে কারাগারে যাবেন। গোলযোগের বিষয়ে জেল সুপার পুলিশ সুপারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমন্বিত ও যুক্তি যুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিধি-৪৭৫। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব হবে কোন বন্দী পলায়ন কালে বা পলায়নের চেষ্টা কালে তাকে গ্রেফতার করা। যদি ঐ কর্মচারী কোন গ্যাংয়ের দায়িত্বরত কারারক্ষী হন, তা হলে তিনি তার গ্যাংকে অন্য কোন রক্ষীর নিকট বা কোন জ্যেষ্ঠ কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত করে পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টারত বন্দীকে অনুসরণ করবেন।

বিধি-৪৭৬। কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়েছে জানার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জেলারকে এবং তার মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাতে হবে। যদি কারাগারের চৌহদ্দীর বাহিরে কর্মরত কোন গ্যাং থেকে ঐ বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়ে থাকে তবে সেখানে কর্মরত সকল গ্যাংকে একত্রিত করে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের চৌহদ্দীর মধ্যে বাহির কাজের গ্যাং থেকে কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হলেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

যদি বন্দী দেয়াল টপকিয়ে পালিয়ে থাকে এবং মনে হয় যে, সে আশে পাশে কোথাও ওতপেতে রয়েছে, ঐ বন্দীকে খোঁজার জন্যে জেলার যত জন সম্ভব রক্ষীকে নিয়োগ করবেন এবং একই সময়ে তিনি নিকটবর্তী থানা, জেলা ম্যাজিষ্টেট ও পুলিশ সুপারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করবেন এবং বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল ও সে সাধারণত যে ঠিকানায় বসবাস করে সে ঠিকানা প্রেরণ করবেন যাতে তাকে চিনতে বা তার সম্পর্কে জানতে সুবিধা হয়।

যদি ওয়ার্ড থেকে রাতের বেলায় বা সকল গ্যাং কারাগারে ফেরত আসার পর কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়, তা হলে এলার্ম বাজাতে হবে। প্রাচীর সমূহ এলার্ম প্যারেডের সময়ের মতো গ্রহরা দিতে হবে। জেলার রিজার্ভ গার্ডকে সঙ্গে নিবেন এবং বন্দীকে খুঁজে বের করার জন্যে নিরস্ত্র রক্ষীদেরকে নিয়োজিত করবেন। যদি মনে হয় যে, বন্দী এখনও কারা দেয়ালের ভিতরে ওতপেতে বা লুকিয়ে রয়েছে, বিশ্রামরত কয়েদী রক্ষী এবং নাইট ওয়াচম্যানদেরকে কাজে নিয়োজিত করতে হবে এবং কারাগারের বাহির প্রাচীর ঘিরে রাখতে হবে।

তাদেরকে টর্চ লাইট প্রদান করতে হবে এবং কোন বন্দী দেয়ালের দিকে অগ্রসর হলে সে খবর জানানোর জন্যে তাদেরকে নির্দেশ দিতে হবে ( এ উদ্দেশ্যে কারাগারে টর্চ লাইট মজুত রাখতে হবে) যদি মনে হয় যে বন্দী দেয়াল টপকে চলে গিয়েছে তবে তা অবিলম্বে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।

বন্দী যে জেলার কারাগার হতে পলায়ন করেছে যদি সে অন্য জেলার বাসিন্দা হয় তবে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিষ্ট্রেটকে সংবাদ জানাতে হবে এবং তার নিজ জেলায় পৌঁছতে যে সকল জেলা অতিক্রম করতে হবে সে সকল জেলার ম্যাজিস্ট্রেটকেও জানাতে হবে। একটি নোটিশ রেলওয়ে পুলিশ সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যদি প্রতীয়মান হয় যে বন্দী রেল পথে যেতে পারে। যদি সমীচীন মনে হয়, টেলিগ্রামে অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদেরকেও সংবাদ জানানো যেতে পারে।

বিধি-৪৭৭। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত যে সকল কর্মকর্তাদেরকে পলায়নের ঘটনা জানানো হয়েছে বন্দী পুন:ধৃত হলে সে সংবাদ তাদেরকে জানাতে হবে। প্রত্যেক পুনঃধৃত বন্দীকে তার মূল ওয়ারেন্ট অনুসারে কারাগারে ফেরত গ্রহণ করা হবে। যতটুকু সময় সে মুক্ত ছিল ততটুকু সময় তার সাজাভোগ বলে গণনা করা হবে না। তার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ বিধি ৫২০, ৫২৪ এবং ৫২৫ অনুযায়ী হিসাব করা হবে।

বিধি-৪৭৮। পলায়ন এবং পুনঃধৃত হবার পৃথক পৃথক রিপোর্ট ২৫ এবং ২৬ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। যদি পলায়নের ঘটনা কেবলমাত্র অবহেলার কারণে ঘটে না থাকে এবং কারা ভবনের বা কারা বিধির কোন ত্রুটির কারণে ঘটে থাকে তবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৪৭৯। জেল সুপার কোন পলাতক বন্দীকে ধৃত করার জন্যে পুরস্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে পারবেন। প্রতি ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ অনধিক একশত টাকা হবে। পুলিশের প্রহরা থেকে কোন আসামী পলায়ন করলে তাকে ধৃত করণের জন্যে কারা বাজেট থেকে পুরষ্কার প্রদান করা যাবে না।

যখন কোন ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার কারণে বড় অংকের পুরস্কার প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করতে হবে, যিনি ২৫০ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করতে পারেন । তিনি যদি তার চেয়ে বেশী টাকার পুরস্কার প্রদান করা উচিৎ মনে করেন, তবে এ বিষয়ে আদেশের জন্যে সরকারের নিকট লিখতে পারেন।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৮০। পুনঃত হয়নি এমন প্রত্যেক পলাতক বন্দীর নাম, রেজিষ্টার নম্বর পারেন। এবং পলায়নের তারিখ প্রত্যেক বৎসরের চলতি রিলিজ ডাইরীর ভিতরের কভারে লিখে রাখতে হবে। যখন কোন বন্দী পুনঃধৃত হবে তার নাম কেটে দিতে হে এবং পুনঃধৃত হবার তারিখ লিখে রাখতে হবে। এর ফলে প্রত্যেক নুতন জেল সুপার এবং জেলার বুঝতে পারবেন কতজন বন্দী পলাতক অবস্থায় রয়েছে। বদলি পথ হতে পলাতক বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৮৪ এবং ৮৮৫ এবং পলাতক বন্দীর ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তির জন্যে বিধি ৫৮৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৮১। পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টাকারী প্রত্যেক বন্দীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। কোন অবস্থাতেই বিষয়টি কারাগারের বিধি ভঙ্গের পর্যায়ে গণ্য করা যাবে না।

বিধি-৪৮২। কোন বন্দীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে পলায়নের সহায়তা করণ সম্পর্কে ২০০ এবং ৩৮৭ বিধিতে বর্ণিত শাস্তির বিধান সম্পর্কে প্রত্যেক কারা কর্মচারী এবং কয়েদী কর্মচারীকে জেল সুপার এবং জেলার প্রতিনিয়ত সতর্ক করবেন। এ ধরনের অপরাধের জন্যে কোন কারারক্ষী একবার বরখাস্ত হলে আর কোন দিন কারা বিভাগে চাকরি পাবে না। পলায়ন রোধ করা প্রত্যেক বন্দীর কর্তব্য এবং যদি কোন বন্দী পলায়নে সাহায্যকারী কোন বন্ধ সংগ্রহে রাখে বা পলায়নের উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

বিধি-৪৮৩। যদি কোন বন্দী অপর কোন বন্দীর পলায়নে বাধা দেয় বা পলায়নের প্রস্তুতি বা আশংকা সম্পর্কে কোন তথ্য প্রদান করে এবং এর ফলে পলায়ন রোধ করা সম্ভব হয়, তার সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং যদি সে রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে থাকে, তবে তাকে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে বা প্রদানের জন্যে সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৪৮৪। যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে বা পলায়নের ষড়যন্ত্র করে, তাদেরকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ক্রমে ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ৫৬ ধারা মোতাবেক বেড়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। কারাগার হতে পলায়ন করা বা পলায়নের চেষ্টা করার কারণে কোন বন্দীকে অভ্যাসগত বলে গণ্য করা যাবে না, তবে অন্য বন্দী থেকে পার্থক্য করার জন্যে তাকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদনক্রমে জেল সুপার এ ধরনের কোন বন্দীকে সাধারণ টুপি পরিধানের অনুমতি প্রদান করতে পারেন, যদি সে আচরণের মাধ্যমে নিজেকে তজ্জন্য উপযুক্ত প্রমাণ করতে পারে।

নোট- যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে, দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় সাজা প্রদানের তারিখ পর্যন্ত কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে তাদের অর্জিত রেয়াত বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। পুলিশ প্রহরা বা কারাগার হতে হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কিন্তু সাজা প্রদানের আগে পুলিশ প্রহরা হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে কারাগারে কৃত প্রকৃত আচরণের দ্বারা অর্জিত এই বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধার বহির্ভূত করা উচিত হবে না।

বিধি-৪৮৫। ক্যাম্প জেল বা অস্থায়ী কারাগার ব্যতীত কারাগারের ভিতরে কোন বন্দীকে বেড়ী পরানো যাবে না, যদি না ঐ সে উগ্র, বা ভয়ংকর বা পলাতক বা পলায়নের চেষ্টাকারী বা পলায়নের প্রস্তুতি গ্রহণকারী না হয় ।

বিধি-৪৮৬। যদি জেল সুপার মনে করেন যে, কোন বন্দীকে ৪৮৫ বিধি মোতাবেক বেড়ী আরোপ করা প্রয়োজন তবে তিনি বন্দীর নম্বর, নাম, বেড়ী আরোপের এবং অপসারণের তারিখ এবং বেড়ী আরোপের প্রয়োজনীয়তার কারণ রেকর্ড করবেন। জেল সুপার নিরাপদ মনে করলে যে কোন সময় বেড়ী অপসারণের আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৪৮৭। নিরাপদ আটকের জন্যে ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক আরোপিত বেড়ী জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষী প্রত্যেক দিন এবং জেলার সপ্তাহে একবার পরীক্ষা করে দেখবেন এবং রিপোর্ট বইতে তা রেকর্ড করবেন। খেয়াল রাখতে হবে যে বেড়ীর রিং গুলি গোড়ালীর গিটের সাথে এমনভাবে লেগে থাকবে যার ফলে পা তোলা না যায়, বল্টু গুলো ছিদ্রের সাথে খাপ খায় এবং উভয় পাশে তাদের উপযুক্ত পরিমাণ মাথা বের হয়ে থাকে। আরও লক্ষ্য করতে হবে যে, বল্টুর মাথা ঘষানো বা ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়ে যায়। বেড়ী পরানোর জন্যে বন্দীকে চামড়ার পট্টি লাগাতে হবে।

 

বিধি-৪৮৮। কারাগারের বাহিরের দেয়ালের উপরে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো লাগানো যাবে না। কারণ এতে কম্বল বা কাপড় আটকিয়ে বন্দী পলায়নে সুবিধা হতে পারে। দেয়ালের উপরে কোন কার্নিশ বা অন্য কোন প্রসারিত অংশ থাকবে না। বাহিরের দেয়ালের প্রত্যেকটি সংযোগস্থল অতিরিক্ত অর্থ-গোলাকার করতে হবে যাতে কোন বন্দী তা দিয়ে আরোহণ করতে না পারে।

বিধি ৪৮৯-৪৯০। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৯১। ওয়ার্ড,সেল এবং মেইন গেইটের ব্যবহৃত সকল তালা সর্বপ্রধান কারারক্ষী বা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীগণ তাদের দায়িত্বাধীন অংশ প্রত্যেক দিন পরীক্ষা করে দেখবেন। অকেজো তালা সঙ্গে সঙ্গে জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তালায় ভোজ্য তেল ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে লিভার চটচটে হয়ে গেলে সহজে খুলে যাবার আশংকা থাকে।

ওয়ার্ড, সেল, গুদাম বা অন্যান্য অংশের কোন তালার চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি সাময়িকভাবে ব্যবহৃত সাধারণ তালার কোন চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট দিনের বেলায় থাকে তবে লক আপের আগে তা নিয়ে নিতে হবে।

বিধি-৪৯২। কোন বন্দী কর্তৃক কোন কারারক্ষী বা কয়েদী কর্মচারীর উপর কোন মারাত্মক আক্রমণ বা বন্দীদের যৌথ বিদ্রোহ সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে। বদরাগী, খিটখিটে মেজাজ বা এ স্বভাবের কোন বন্দীর নিকট কোন কারণেই চাকু বা অন্য কোন জিনিস রাখা যাবে না, যা অপরাধ সংঘটনে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হতে পারে।

টীকা-। বর্তমানে কারাগারে গোলযোগ দমনের জন্যে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেটসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি কারারক্ষীদের নিকট মজুত থাকে, সে গুলোর প্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। কোন বিদ্রোহের ঘটনা ঘটলে নিকটবর্তী থানায় এবং জেলা ম্যাজিট্রেট, পুলিশ সুপার, দমকল বিভাগ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণকে টেলিফোনে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রেরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের প্রহরা

আজকের আলোচনার বিষয় কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা । জেল কোড

বিধি-৪১৭। একটি কারাগারের প্রহরা ব্যবস্থার মূলনীতি হচ্ছে কারাগারে আটক প্রত্যেক বন্দীকে দিনে-রাত্রে সব সময়ে কোন না কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে ন্যস্ত রাখা, যাদের অবহেলার ফল স্বরূপ কোন বন্দী পলায়ন করলে যেন ফৌজদারি আদালতে তা প্রমাণ করা যায়। এটা কার্যকর করার জন্যে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অর্পিত বন্দীদের নাম একটি গ্যাং বইতে রেকর্ড করতে হবে এবং বন্দীদের গ্যাং পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডও পরিবর্তন করতে হবে। কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দায়িত্বে বন্দীদের অর্পণ করার বিষয়টি প্রধান কারারক্ষী উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করবেন এবং যাচাই করে দেখবেন।

বিধি-৪১৮। প্রত্যেক কারাগারের বন্দীদেরকে কতগুলো গ্যাংয়ে বিভক্ত করা হবে। প্রত্যেক বন্দী তার সমগ্র কারাভোগ কাল এক বা একাধিক গ্যাংয়ের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীর গ্যাংয়ের পরিবর্তন করা যাবে না। কোন বন্দী মুক্তি পাবার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য গ্যাংয়ে বদলি হবে না, যদি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ তার নাম বদলিকৃত গ্যাং বইয়ে লিখা না হয়।

বিধি-৪১৯। গ্যাং দুটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত হবে-

(১) এক্সটা মিউরাল বা দেয়ালের বাহিরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে;

(২) ইন্ট্রা মিউরাল বা দেয়ালের ভিতরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪২০। একটি গ্যাংয়ে কয়েদী কর্মচারীসহ নিম্নোক্ত সংখ্যার বেশী বন্দী থাকবে না-

(১) এক্সটা মিউরাল

(ক) কারা বেষ্টনীর বাহিরে – ২১ জন
(খ) কারা বেষ্টনীর ভিতরে – ২৫ জন

(২) ইন্ট্রা মিউরাল – ৪২ জন

বিধি-৪২১। এক্সটা মিউরাল গ্যাং অবশ্যই একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে থাকবে, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং ওয়াচম্যান তাকে সাহায্য করবে। প্রতি দশ জন বন্দীর জন্যে এক জন ওয়াচম্যান থাকবে। ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ারের দায়িত্বে কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে কয়েদী ওয়াচম্যানের দায়িত্বে থাকতে পারে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪২২। কয়েদী ওভারশিয়ারের কাছে ৩৮ নম্বর জেল ফরমে একটি গ্যাং বই থাকবে যাতে সকল বন্দীর নাম, নম্বর এবং গ্যাংয়ে যোগদানের তারিখ প্রধান কারারক্ষীর আদেশ ও স্বাক্ষরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিধি-৪২৩। একটি গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। কোন একটি গ্যাংয়ের দায়-দায়িত্ব একই সময়ে একাধিক কর্মচারীর উপর ভাগ করা যাবে না।

বিধি-৪২৪। একটি গ্যাংয়ের সদস্যরা পরবর্তী বিধি-বিধানে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া সব সময় একত্রে থাকবে; তারা একই ওয়ার্ডে ঘুমাবে এবং এক সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করবে এবং তাদের জন্যে বিশেষ নির্ধারিত স্থানে কাজ করবে।

বিধি-৪২৫। কয়েদী ওভারশিয়ার ওয়ার্ডের দরজা আন লকের সময় দাঁড়ানো থাকবে এবং তার গ্যাংকে কাজের জন্যে প্রধান কারারক্ষী হতে বুঝে নিবে। সে দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের সাথে অবস্থান করবে। সে বন্দীদের শৃঙ্খলা এবং বিধি প্রতিপালনের দিকে লক্ষ্য রাখবে। সে তার গ্যাংকে প্রধান কারারক্ষীর নিকট অর্পণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পাবে না

বিধি-৪২৬। যদি কোন কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার কোন কারণে তার গ্যাংকে সাময়িকভাবে ছেড়ে কোথাও যেতে হয়, তবে প্রধান কারারক্ষীর অনুমোদন গ্রহণ করে তার গ্যাংকে অন্য কোন কয়েদী রক্ষী বা জ্যেষ্ঠ ওয়াচম্যানের দায়িত্বে প্রদান করবেন।

বিধি-৪২৭। যদি ভিতর প্রাচীরের কোন গ্যাংয়ের কোন বন্দী তার গ্যাং থেকে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থেকে কোন প্রয়োজনে কোথাও যেতে চায়, যেমন লেট্রিন বা হাসপাতালে, সে সময় প্রধান কারারক্ষীর অনুমতিক্রমে, সে ওয়াচম্যানের তদারকীতে থাকবে।

বিধি-৪২৮। বাহিরের প্রাচীরে নিয়োজিত গ্যাংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী এবং কয়েদী রক্ষী এক সাথে কাজ করবে এবং কোন কারণেই তাদের অধীনস্থ বন্দীদেরকে চোখের আড়ালে কোথাও যেতে দিবে না। বিশেষ কারণে কোন বন্দী গ্যাং থেকে কোথাও যেতে হলে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের তদারকীতে যেতে হবে ।

বিধি-৪২৯। যদি একসঙ্গে ৪২ জনের বেশী বন্দীকে কারাগরের চৌহদ্দীর বাহিরে নেয়া হয়, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করার জন্যে দুইজন সশস্ত্র রিজার্ভ গার্ড তাদের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে।

বিধি-৪৩০। যদি কোন গ্যাংয়ের একটি অংশ কোন কারণে অন্য অংশ থেকে রাত্রে পৃথক অবস্থান করে, তখন একজন কয়েদী ওভারশিয়ার বা একজন জ্যেষ্ঠ কয়েদী ওয়াচম্যানকে প্রধান কারারক্ষী ঐ অংশ সমূহের দায়িত্ব প্রদান করবেন।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৩১। গ্যাং নিম্নোক্ত সুবিধাজনক ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে-

(১) এক্সটা মিউরাল গ্যাং

(ক) বাগান

(খ) জেল সার্ভেন্ট

(গ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

(২) ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং-

(ক) সিভিল বন্দী

(খ) বিচারাধীন বন্দী

(গ) পৃথকীকরণ

(ঘ) বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

(ঙ) হাসপাতাল

(চ) প্রাচীরের পাহারা

(ছ) দ্বাররক্ষী এবং নির্জন বন্দী

(জ) জেল সার্ভেন্ট

(ঝ) ম্যানুফ্যাকচার

(ঞ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

বিধি-৪৩২। যদি কারারক্ষী সহজলভ্য না থাকে, তবে বিশ্বস্ত কোন কয়েদী কর্মচারীকে দিনে এবং রাত্রে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের প্রহরার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৪৩৩। দিনের বেলায় বন্দীরা যখন কারাগারের ভিতরে চলাফেরা করে, তখন বাহিরের প্রাচীরের দিকে নজর রাখার জন্যে কয়েদী কর্মচারীদেরকে প্রাচীরের ভিতরে টহল প্রদান করা সমীচীন হবে।

বিধি-৪৩৪। কারারক্ষী, কয়েদী রক্ষী এবং কয়েদী নৈশ বন্দীদের সাপ্তাহিক ডিউটি রোষ্টার জেলার তৈরী করবেন এবং গার্ড রুমে ঝুলিয়ে রাখবেন। দিনের এবং রাতের ডিউটির একটি রোষ্টারও প্রস্তুত করতে হবে।

বিধি-৪৩৫। রিজার্ভ গার্ড এবং গেইট রক্ষী ব্যতীত দিনের কাজে নিয়োজিত সকল প্রধান কারারক্ষী এবং রক্ষীদেরকে দুইটি স্কোয়াডে বিভক্ত করা হবে। প্রথম স্কোয়াড ওয়ার্ড খোলার সময় কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪৩৬। সকালে ওয়ার্ড খোলার পূর্বে জেলার (এবং প্রয়োজনে ডেপুটি জেলার) এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল প্রধান কারারক্ষী রক্ষীদের নিয়ে কারাগারে একসঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৪৩৭। জেলার (বা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে সর্বপ্রধান কারারক্ষী) যে সকল কয়েদী কর্মচারী ওয়ার্ডে এবং প্রথম রাউন্ডের ডিউটিতে প্রাচীরের প্রহরায় থাকবে তাদেরকে ডেকে উঠাবেন। একজন প্রধান কারারক্ষী কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে লেট্রিনে নিয়ে যাবেন এবং পরে তাদেরকে কারা প্রাচীরের মধ্যে চারিদিকে নিয়োজিত করবেন।

বিধি-৪৩৮ । যখন প্রধান কারারক্ষী জানাবে যে, কারা প্রাচীরের প্রহরা প্রস্তুত তারপর ওয়ার্ড খোলা হবে। প্রধান কারারক্ষী এবং সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষী বন্দীদেরকে গুনবেন । গণনায় সঠিক পাওয়া গেলে বন্দীদেরকে গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী ওভারশিয়ারের নিকট ন্যস্ত করা হবে।

বিধি-৪৩৯ । তারপর একই রক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ারের অধীনে তারা লেট্রিন, বাথিং সারবে এবং খাবার গ্রহণ করবে।

বিধি-৪৪০। সকালের প্যারেড শেষে প্রধান কারারক্ষী বন্দীদের হাজিরা নেবেন এবং গ্যাং সমূহকে তাদের নির্দিষ্ট কাজের স্থানে প্রেরণ করবেন। সকালে যে কয়েদী ওভারশিয়ার বন্দীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তার অধীনেই তারা সারাদিনের জন্যে ন্যস্ত থাকবে।

বিধি-৪৪১৷ প্রত্যেক গ্যাং কারারক্ষী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারীর উপস্থিতিতে গণনা করা হবে এবং তার নাম গ্যাং বইতে লেখা হবে। দিনের বেলায় প্রতিবার দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় অনুরূপভাবে গণনা করতে হবে।

বিধি-৪৪২। প্রাচীরের প্রহরারত কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে দুপুর বেলায় পরিবর্তন করতে হবে এবং তাদের আহার গোসল প্রভৃতির জন্য সাময়িকভাবে অন্য প্রহরা নিযুক্ত করতে হবে ।

বিধি-৪৪৩। বিকালে কাজ বন্ধের ঘন্টা বাজলে দায়িত্বরত কারারক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ার কাজ বন্ধের পর তাদেরকে পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনীয় লেট্রিন এবং বাথিং সারার পর এবং আহার গ্রহণের পর ওয়ার্ডে লক আপ না করার পর্যন্ত তারা ঐ রক্ষীর দায়িত্বে থাকবে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৪৪। গ্যাং তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডের সামনে দুই সারিতে সমবেত হবে।

বিধি-৪৪৫। অতঃপর বন্দীদেরকে লক আপ করা হবে এবং প্রথম নাইট ওয়াচম্যানের দায়িত্বে অর্পণ করা হবে, যে ওয়ার্ডের ভিতরে ওয়াচ করবে।

বিধি-৪৪৬। রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষীর নেতৃত্বে প্রথম নৈশ টহল দল তাদের দায়িত্ব শুরু করবে। জেলার (কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেলার এবং প্রধান কারারক্ষীগণ) বন্দীদেরকে তাদের ওয়ার্ডের ভিতরে গণনা করবেন।

বিধি-৪৪৭। যদি অতিরিক্ত রক্ষী নেয়া হয়, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে ডিউটি করতে হবে। জরুরী প্রয়োজন না পড়লে অতিরিক্ত রক্ষীদেরকে রাতের ডিউটি দেয়া হবে না।

বিধি-৪৪৮। লক-আপের পর ওয়ার্ডের চাবিগুলো সংগ্রহ করা হবে এবং জেলারের সম্মুখে গণনা করা হবে: বন্দীর সংখ্যা এবং চাবির সংখ্যা লক-আপ রিপোর্টে (২৪ নম্বর জেল ফরমে) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৪৪৯। ওয়ার্ড লক-আপের পর প্রত্যেক পৃথক ওয়ার্ডে আটক বন্দীদের মোট সংখ্যা ১২ নম্বর লক-আপ রেজিষ্টারে লিখতে হবে। এ রেজিষ্টারের উদ্দেশ্য হ’ল ওয়ার্ড জনাধিক্য হয়ে গিয়েছে কিনা তা দেখা। রেজিষ্টারে প্রত্যেক মাসের জন্যে একটি পৃষ্ঠা এবং প্রতি দিবসের জন্যে একটি লাইন থাকবে। শিরোনামে বিভিন্ন ওয়ার্ড চিহ্নিত করা লেখা থাকবে, যেমন-‘মহিলা ওয়ার্ড”, “কিশোর ওয়ার্ড”,‘কয়েদী ওয়ার্ড নম্বর-১’ প্রভৃতি।

বিধি-৪৫০। নৈশ প্রহরীর সংখ্যা কারাগারের আকার-আকৃতি এবং আটক বন্দীদের সংখ্য ও প্রকার অনুসারে কম বেশী হতে পারে। এসব বিবেচনায় সময়ে সময়ে কারা মহাপরিদর্শক নির্দেশ প্রদান করবেন।

বিধি-৪৫১। যখন কোন কারারক্ষী ছুটিতে থাকে, কয়েদী রক্ষী তার স্থলে দায়িত্ব পালন করবে। কয়েদী কর্মচারীদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের প্রহরার দায়িত্বে এবং কারাগারের দেয়ালের বাহিরের বন্দীদের প্রহরায় নিয়োজিত করা যাবে না। নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে একজন কয়েদী রক্ষীর সাথে কমপক্ষে দুইজন কারারক্ষী থাকবে।

বিধি-৪৫২ । দেয়ালের প্রহরায় নিয়োজিত প্রহরী কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড এর দিকে দৃষ্টি রাখবেন, এ দিক সেদিক নয়। কয়েদী রক্ষী এবং নৈশ প্রহরীদের যখন রাতে দায়িত্বে না থাকে,তাদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক লক আপ করতে হবে।

বিধি-৪৫৩। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ওয়ার্ডের ভিতরে দায়িত্ব পালনকালে কো বন্দী তার জায়গা বদল করা প্রতিরোধ করবে এবং কোন বিধি লংঘন করে কিনা। লক্ষ্য রাখবে। তারা বন্দীদেরকে গণনা করবে এবং কোন অনিয়মের বিষয়ে টে দলকে জানাবে। কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটলে টহল দল প্রধান কারারক্ষীে ডেকে আনবে, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিধি ৪৫৪-৪৫৫। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৬। রাতের বেলায় কোন ওয়ার্ড খোলার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গেইট বা দরজা আন লক করার পূর্বে একটি চেইন দরজা এবং পোস্টের সাথে এমনভাবে লাগাতে হবে যেন দরজা দিয়ে একবারে মাত্র একজন লোক যাওয়া আসা করতে পারে। কোন যৌথ আক্রমণ বা বিদ্রোহ রোধের জন্যে এটা খুবই জরুরী।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৫৭। রাতের বেলায় টহল দল সার্বক্ষণিক ব্যারাকের বাহিরে চারপার্শ্বে প্রহরায় থাকবে, কোন ভাবেই তারা বসতে পারবে না এবং তাদের স্থান ত্যাগ করবে না। বৃষ্টির সময়ে তাদের ছাতা ব্যবহার করতে হবে। খারাপ আবহাওয়ার অজুহাতে দিনে বা রাত্রে অন্যত্র আশ্রয় নিতে পারবে না (কারাগারের ভিতরে কোন সেন্ট্রি বক্ষ অনুমোদিত হবে না)।

প্রত্যেক টহলদারের হাতে বেত বা লাঠি থাকবে এবং বাতি (টর্চ লাইট) থাকবে। তারা দরজা ঠিক ভাবে আছে কিনা দেখবেন,ওয়ার্ডের ভিতরে তাকাবেন এবং বন্দীরা নিজ নিজ স্থানে আছে কিনা দেখবেন। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ঠিকভাবে সতর্ক রয়েছে কিনা দেখবেন এবং তাদের কাছে বন্দীর সংখ্যা জানতে চাইবেন।

বিধি-৪৫৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৯। দিনে বা রাতে টহলের দায়িত্ব পালনকারী প্রধান কারারক্ষী কারাগারের ভিতরে টহল রক্ষী, কয়েদী নৈশ প্রহরী এবং কয়েদী ওয়াচম্যানদের কাজ ভিজিট করবেন। তিনি ওয়ার্ডের চাবি এবং উইকেটের ভিতরের তালার চাবি তার শরীরের সাথে বেঁধে রাখবেন। কোন বন্দীর গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে সংবাদ প্রদান করবেন।

রক্ষী কিংবা বন্দীদের যারা কোন অনিয়ম সংঘটিত হলে তিনি তা তদন্ত করে দেখবেন এবং লক আপ বইতে রেকর্ড করবেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এমন বিষয় যেমন- পলায়ন, দাঙ্গা,গুলি বা মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি সঙ্গে সঙ্গে জেলারকে জানাবেন।
প্রধান গেইটের সেন্ট্রি দুই গেইটের মাঝখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা এবং উত্তর গেইট বন্ধ আছে কিনা তিনি দেখবেন।

বিধি-৪৬০। যদি সকালের খাবার রান্নার কাজের জন্যে কিছু বন্দীকে ভোরের আগেই ওয়ার্ডের বাহিরে যেতে দিতে হয়, প্রধান কারারক্ষী তাদেরকে যেতে দিবেন এবং একজন কয়েদী রক্ষীর জিম্মায় তাদেরকে ন্যস্ত করবেন। খুব অল্প সময় সাজার মেয়াদ বাকী আছে এমন লোকদেরকে এ কাজের জন্যে বাছাই করতে হবে।

বিধি-৪৬১। কেবল মাত্র অনুমোদিত প্যাটার্নের তালা ব্যবহার করতে হবে। ইন্ডেন্ট মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তালা সরবরাহ করা হবে। প্রধান গেইটের জন্যে তিন ইঞ্চি এবং ওয়ার্ড ও সেলের জন্যে আড়াই ইঞ্চি তালা উত্তম হবে।

বিধি-৪৬২। জেলার এবং ডেপুটি জেলারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার এবং জেলা কারাগারের জন্যে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই বার বিভিন্ন রাত্রে বিভিন্ন সময়ে কারাগার পর্যবেক্ষণের জন্যে বের হবেন। পর্যবেক্ষণ কালে তারা দেখবেন কয়েদী ওয়াচম্যান এবং প্রহরীরা সতর্ক আছে কিনা, টহল ঠিকভাবে হয় কিনা এবং বন্দীরা ঠিকমত আছে কিনা।

পর্যবেক্ষণের রাত এবং সময় পূর্ব থেকে জানানো যাবে না, কিন্তু বিষয়টি জেলারের রিপোর্ট বইতে উল্লেখ থাকবে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কমপক্ষে মাসে দুবার (জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে মাসে একবার) লক-আপের পর কারাগার ভিজিট করবেন এবং বিধি বিধান ঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা দেখবেন এবং মিনিট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী রক্ষী

আজকের আলোচনার বিষয় কয়েদী রক্ষী প্রসঙ্গে

 

কয়েদী রক্ষী

 

কয়েদী রক্ষী । জেল কোড

বিধি-৪০৮। ৪ বৎসর বা ততোধিক মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদেরকে বিধি মোতাবেক ওভারশিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তারা ওভারশিয়ার পদে ১ বৎসর কাজ করেছে তারা কয়েদী রক্ষী হিসেবে নিয়োগ যোগ্য। এমন কোন বন্দীকে কয়েদী রক্ষী হিসেবে নিয়োগ অত্যন্ত বিপদজনক হবে, যার কোন বাড়ীঘর নেই, বা যার প্রাক-পরিচিতি যাচাই করা হয়নি।নিয়োগের আগে তার বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য, সেখানে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় প্রভৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

এ সব তথ্য বন্দীর বাসস্থানের জেলার পুলিশ সুপারের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। এ সব নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার চেয়ে যোগ্যতাকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে এবং জেল সুপার নিজে বাছাই কাজ করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের কাছে প্রেরিত পত্রে তিনি কোন বন্দীকে কেন বাছাই করলেন তার ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।

বিধি-৪০৯। এই বিধি মোতাবেক কোন কয়েদী ওভারশিয়ার কয়েদী রক্ষী পদে পদোন্নতির জন্যে পুরোপুরিভাবে যোগ্য না হলেও জেল সুপারের বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শক তাকে পদোন্নতি প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-৪১০। ক-য়েদী রক্ষীর সংখ্যা সারাদেশের মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১ ভাগের বেশী হবে না। কোন কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে তাদের কত জনকে সংযুক্তি প্রদান করা হবে তা কারা মহাপরিদর্শক নির্ধারণ করবেন।

 

কয়েদী রক্ষী

 

বিধি-৪১১। কয়েদী রক্ষীদেরকে কর্মচারী রক্ষীদের মতই কারাগারের ভিতরে একই নিয়মে এবং একই ধরনের দায়িত্ব প্রদান করা হবে, তবে তাদের নিকট প্রধান গেইট, সেল, স্লিপিং ব্যারাক, হাসপাতাল বা বন্দীদেরকে শাস্তি প্রদান বা নিরাপত্তার জন্যে আটক রাখার অন্যান্য স্থানের তালার চাবি দেয়া যাবে না। তাদেরকে কারাগারের দেয়ালের বাহিরে বন্দীদের একক দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না।

কারাগারের আন লক বা লক আপের সময় সকল কয়েদী রক্ষী বেষ্টনীর ভিতরে সমবেত হবে এবং লক আপের পর কোন কয়েদী রক্ষীকে গেইটের বাহিরে থাকতে দেয়া হবে না। ৪১৪ বিধি মোতাবেক বেত বা লাঠি ব্যতীত তাদেরকে কোন অস্ত্র দেয়া হবে না। তাদেরকে কোন অবস্থাতেই কারাগার চৌহদ্দীর বাহিরে যেতে দেয়া হবে না এবং কারারক্ষীদের সঙ্গে তাদের ব্যারাকে বা রন্ধনশালায় মেলামেশা করতে দেয়া হবে না ।

বিধি-৪১২ ৷ কোন ক-য়েদী রক্ষীর কাজ জেল সুপারের নিকট সম্পূর্ণ সন্তোষজনক মনে হলে তিনি তাকে মাসে ৮ দিন রেয়াত এবং চার আনা আনুতোষিক প্রদান করবেন এবং তাকে যুক্তিসঙ্গত অতিরিক্ত খাবার দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৪১৩। কারা মহাপরিদশকের অনুমোদন সাপেক্ষে জেল সুপার কোন কয়েদী রক্ষীকে অপসারণ করতে পারবেন। এসব প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার একজন ক-য়েদী রক্ষীকে লঘু অপরাধের শাস্তি প্রদান করতে পারবেন এবং রেয়াত থেকে সাময়িক বঞ্চিত করতে পারবেন।

বিধি-৪১৪। তারা একটি চামড়ার বেল্ট পরিধান করবে যার পিতলের বকলেসে ” কয়েদী ওয়ার্ডার” কথাটি লেখা থাকবে। টহলের সময় কিংবা একাকী পোস্টে দায়িত্ব পালনের সময়ে তাদের নিকট সাধারণ রক্ষীদের বেত থাকবে।

বিধি-৪১৫। তারা সশ্রম বন্দীদের স্কেলে খাবার পাবে। অসুস্থ হলে মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ মোতাবেক তারা হাসপাতাল ডায়েট পাবে।

বিধি ৪১৬। এ বিধি যথা সম্ভব মহিলা কয়েদী রক্ষীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তাদেরকে মহিলা বেষ্টনীর বাহিরে যেতে দেয়া হবে না।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী নৈশ প্রহরী

আজকের আলোচনার বিষয় কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী । জেল কোড

বিধি-৪০৩। যেখানে কারারক্ষীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম সেখানে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে ওভারশিয়ারদেরকে নৈশ প্রহরী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে।

বিধি-৪০৪ । কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক কোন কয়েদী ওভারশিয়ারকে নৈশ প্রহরী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে, শর্ত থাকে যে-

(ক) যদি সে তিন মাস মেয়াদ ওভারশিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকে;

খ) যদি সে চন্ডাল,বার্মিজ প্রভৃতি পলায়ন প্রবৃত্তি সম্পন্ন গোষ্ঠির লোক না হয়, স্থায়ী নিবাসহীন এবং অজ্ঞাত দলের লোক না হয় এবং তার বাড়ী সীমান্তের কাছাকাছি না হয়;

(গ) যদি তার প্রাক-পরিচিতি বিধি ৪০৮ অনুসারে যাচাই করা হয়ে থাকে।

 

কয়েদী নৈশ প্রহরী

 

বিধি-৪০৫। কোন কয়েদী ওভারশিয়ারকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ৯ নম্বর জেল ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৪০৬। নৈশ প্রহরীর কাজ হবে কারারক্ষী এবং কয়েদী রক্ষীদেরকে রাতের বেলা ওয়ার্ড টহলের দায়িত্ব পালন কালে সাহায্য করা। দিনের বেলায় তারা কয়েদী ওভারশিয়ারের সাধারণ দায়িত্ব পালন করবে।

বিধি-৪০৭। তারা কয়েদী ওভারশিয়ারদের অনুরূপ পোশাক পরিধান করবে, তবে তাদেরকে মাসে ৬ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন রেয়াত সুবিধা দেয়া হবে ।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী ওভারশিয়ার

আজকের আলোচনার বিষয়  হচ্ছে কয়েদী ওভারশিয়ার

 

কয়েদী ওভারশিয়ার

 

কয়েদী ওভারশিয়ার । জেল কোড

বিধি-৩৯৫। জেল সুপার একজন কয়েদী ওয়াচম্যানকে ওভারশিয়ার পদে পদোন্নতি দিতে পারবেন, যদি-

(ক) সে তিন মাস ওয়াচম্যান হিসেবে কাজ করে থাকে; এবং

(খ) সে রেয়াত ব্যতীত তার মোট সাজার অর্ধেক অথবা ৭ বৎসর ( রেয়াত ব্যতীত), যা কম হয়, অতিবাহিত করে থাকে ।

{নোট- কয়েদী ওভারশিয়ার পদে কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর যোগ্যতা নির্ধারণের জন্যে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজাকে ১৪ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড গণ্য করতে হবে।}

নং ২২ এইচ জে তারিখ ৯-৫-১৯৪০ মোতাবেক সংযোজিত।

বিধি-৩৯৬। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন বন্দীকে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে ওভারশিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা যাবে না।

বিধি-৩৯৭ । অকার্যকর।

বিধি-৩৯৮ । কয়েদী ওভারশিয়ারের সংখ্যা কারাগারের মোট বন্দীর শতকরা ৫ ভাগের বেশী হবে না, কিন্তু দেখতে হবে যে এ হার শতকরা ৪ ভাগের নিচে যেন না নামে। যদি বেশী সংখ্যক ওভারশিয়ার প্রয়োজন হয় তা হলে কারা মহাপরিদর্শকের বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

 

কয়েদী ওভারশিয়ার

 

বিধি-৩৯৯। এ কোডের অন্যত্র দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও প্রত্যেক কয়েদী ওভারশিয়ারের দায়িত্ব হবে-

(ক) বিধি ১৯১.১৯২ এবং ৪৬৩ বিশেষভাবে প্রতিপালন করা,

(খ) জেল সুপার, ডেপুটি জেল সুপার, জেলার বা অন্য যে কোন কর্মকর্তা বা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা (যাদের অধীনে তাদেরকে নাস্ত করা হতে পারে) প্রভৃতি কর্মকর্তাদের মান্য করা।

(গ) বন্দীদের কাজের সময়ে গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত রক্ষীকে সাহায্য করা;

(ঘ) ওয়াচম্যানারা রাতে যখন টহল দিবে তখন তাদের কাজে সহায়তা করা:

(ঙ) কোন বন্দীকে কারাগারের ভিতরে বন্দীদের স্কট প্রদান এবং প্রয়োজনে কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া;

(চ) গ্যাংয়ের বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট রাখা;

(খ) তাদের দায়িত্বে ন্যস্ত বন্দীদের গণনা করা এবং কোন নিষিদ্ধ বস্তু সম্পর্কে তল্লাশী করা:

(গ) বন্দীদের দ্বারা কারাগারের বিধি বিধানের লঙ্ঘন, গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে খবর দেয়া;

(ঘ) বন্দীদের শ্রম তদারকী করা;

(ঙ) বন্দীদের ডায়রিয়া প্রভৃতি কারণে ঘন ঘন পায়খানায় যাওয়া সম্পর্কে জানানো

(চ) বন্দীদের বিছানাপত্র ঠিক ভাবে রাখা তদারকী করা:

(ছ) বন্দীদের পরিচ্ছন্নতা এবং পোশাক-পরিচ্ছেদের যত্ন ও তদারকী করা

(জ) বিদ্রোহ দমন বা কোন আক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করা;

(ঝ) প্রয়োজন হলে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন, বা কারাগারের ভিতরে কোন গ্যাংয়ের দায়িত্ব পালন।

বিধি-৪০০। তারা একটি চামড়ার বেল্ট পরিধান করবে যার পিতলের বকলেসে কয়েদী ওভারশিয়ার” কথাটি লেখা থাকবে। তাদের হাতে কোন লাঠি বা বেত থাকবে না, তবে বৃষ্টির সময় দায়িত্ব পালন কালে তাদেরকে একটি ছাতা দেয়া হবে।

বিধি-৪০১। কয়েদী ওভারশিয়াররা ৭৫৭ বিধি মোতাবেক রেয়াত পাবে। কয়েদী রক্ষী হিসাবে তাদের পদোন্নতি লাভের সম্ভাবনা আছে। তারা বিধি ৬৬৪ মোতাবেক পত্র যোগাযোগ এবং সাক্ষাতের বিশেষ সুবিধা পাবে।

বিধি-৪০২। কয়েদী ওভারশিয়ারকে লঘু অপরাধ বা অবহেলার জন্যে রেয়াত কাটা, পদাবনতি, বেড়ি পরানো বা সেলে আটক রাখার শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে।

জেল কোড অনুযায়ী কয়েদী ওয়াচম্যান

আজকের আলোচনার বিষয়  হচ্ছে  কয়েদী ওয়াচম্যান

 

কয়েদী ওয়াচম্যান

 

কয়েদী ওয়াচম্যান । জেল কোড

বিধি-৩৯০। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দী ৩৮৪ বিধি মোতাবেক যোগ্য হলে জেল সুপার কর্তৃক ওয়াচম্যান হিসেবে নিয়োজিত হবে, তবে শর্ত থাকে যে:-

(১) ঐ ব্যক্তি ৬ মাসের কম মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত নয়, (জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে ৪ মাস); এবং

(২) রেয়াত ব্যতীত সে তার সাজার এক চতুর্থাংশ শেষ করেছে।

এক বৎসরের কম সময়ের জন্যে সাজা প্রাপ্ত বন্দীদেরকে তখনই নিয়োগ দেয়া যাবে যখন এর চেয়ে বেশী মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বন্দী পাওয়া না যায়। অভ্যাসগতদের ব্যারাকে নৈশ ওয়াচম্যান হিসেবে। অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত তাকে এর উপরের কোন পদে পদোন্নতি দেয়া যাবে না। তবে দুই বারের বেশী সাজাপ্রাপ্ত কোন অভ্যাসগত বন্দীকে নৈশ ওয়াচম্যানের দায়িত্ব দেয়া যাবে না।

{ নোট-ওয়াচম্যান পদে কোন কয়েদীর যোগ্যতা নির্ধারণের জন্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ১৪ বৎসর গণ্য করতে হবে।}

নং- ২২ এইচ জে-ডি, তারিখ ৯-৫-১৯৪০ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৩৯১। প্রকৃত প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারাগারের শিপিং ওয়ার্ড সমূহ গ্রহবার জন্যে কয়েদী ওভারশিয়ারের অতিরিক্ত হিসাবে কয়েদী ওয়াচম্যান নিয়োগ করতে হবে ৷ তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারাগারের দৈনিক গড় বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী সংখ্যক বন্দীকে কয়েদী কর্মচারী রূপে নিয়োগ করা যাবে না।

 

 

কয়েদী ওয়াচম্যান

 

বিধি-৩৯২। এ কোডের অন্যত্র দায়িত্ব সম্পর্কে যা বলা আছে, তা ছাড়াও প্রত্যেক কয়েদী ওয়াচম্যানের দায়িত্ব হবে-

(ক) বিধি ১৯১ ১৯২ এবং ৪৬৩ প্রতিপালন করা;

( খ)ওয়ার্ডের ভিতরে টহল দেয়া এবং রাতের বেলায় ওয়াডের শৃঙ্খলা রক্ষাক করা:

(গ) বন্দীদেরকে তাদের নিজের শোবার স্থান ত্যাগ করতে বাধা দেয়া;

(ঘ) তার দায়িত্বে থাকা বন্দীদেরকে গণনা করা এবং সকলে উপস্থিত রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া এবং বাহির টহল থেকে জিজ্ঞাসার জবাবে তা জানানো;

(ঙ) তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী বন্দীদের বিধি ভঙ্গ প্রতিরোধ এবং এ সম্পর্কে রিপোর্ট করা:

(চ) কোন উপদ্রব দমনে সাহায্য করা;

(ছ) অসুস্থ বন্দীদের সম্পর্কে রিপোর্ট করা:

(জ) দিনের বেলায় অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং গ্যাংয়ের কারারক্ষী এবং কয়েদী ওভারশিয়ারকে কাজে সাহায্য করা এবং

(ঝ) কারাগারের ভিতরে বার্তাবাহক এবং বন্দীদের স্কটের কাজ করা;

(ঞ) কারাগারের দেয়ালের দিকে নজর রাখা এবং সেখানে বন্দীদের ওত পেতে থাকা প্রতিহত করা,

(ট) যদি প্রয়োজন হয়, বিচারাধীন ওয়ার্ড বা কারাগারের ভিতরে কোন গ্যাংয়ের অংশের দায়িত্ব গ্রহণ, এবং

(ঠ) কয়েদী ওভারশিয়ারের অবর্তমানে তার গ্যাংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ।

(8) নোট- (জ) এবং (ঠ) দায়িত্ব অভ্যাসগতদের থেকে নিয়োজিত ওয়াচম্যানকে প্রদান করা যাবে না।

 

বিধি-৩৯৩। বন্দীদেরকে রাতে লক আপ করার আগে জেলার প্রধান কারারক্ষীর সাহায্যে কয়েদী ওয়াচম্যানদের দায়িত্বের সময় নির্ধারণ করে দিবেন এবং লক আপ রিপোর্ট বইতে রাতে টহলের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচাৰীৰ নাম লিপিবদ্ধ করবেন। কয়েদী ওয়াচম্যানদের রাতের দায়িত্ব সম্পর্কে সপ্তম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৩৯৪ । কয়েদী ওয়াচম্যানের পোশাকের ডান হাতায় একটি নীল কাপড়ের ব্যান্ড লাগানো থাকবে। বার্তাবাহক হিসাবে নিযুক্তদের ব্যান্ডের রঙ লাল হবে। তারা সাক্ষাত এবং পত্র যোগাযোগের জন্যে কতিপয় সুবিধা পাবে এবং যদি ভাল ভাবে কাজ করে তবে ৭৫৭ বিধি মোতাবেক রেয়াতের সুবিধা পাবে। কর্তব্যরত অবস্থায় কোন অপরাধের জন্যে তারা কয়েদী ওভাশিয়ারদের অনুরূপ শান্তি পাবে।