Category Archives: আইন

আইন

জেল কোড অনুযায়ী কারা অপরাধ এবং শাস্তি

আজকে আমরা কারা অপরাধ এবং শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি । জেল কোড

বিধি-৭০৪। কোন বন্দীর নিম্নোক্ত কাজকে কারা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে :-

১। কারা আইনের ৫৯ (১) ধারার অধীনে প্রণীত বিধানে কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে এমন বিধানের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা করা;

২। কোন আক্রমণ বা অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ করা;

৩। অপমানজনক বা ভয় দেখানোর ভাষা ব্যবহার করা;

৪। অনৈতিক বা অশোভন বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা ;

৫।সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেকে কাজের অযোগ্য করা;

৬। কাজ করতে অবজ্ঞা সহকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা:

৭। অনুমতি ব্যতীত হ্যান্ডকাপ, বেড়ী বা ডান্ডা ঘষা, কাটা, পরিবর্তন বা অপসারণ করা ;

৮। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের প্রতি ইচ্ছাকৃত অলসতা বা অবহেলা করা;

৯। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক কাজের ইচ্ছাকৃত অব্যবস্থাপনা করা;

১০। কারাগারের সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করা;

১১। হিস্ট্রি টিকেট, রেকর্ড বা দলিলপত্র বিনষ্ট করা বা পরিবর্তন করা;

১২। কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ, দখলে রাখা বা হস্তান্তর করা;

১৩। অসুস্থতার ভান করা;

১৪। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বন্দীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা;

১৫। অগ্নিকান্ড, গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র, পলায়ন বা পলায়নের প্রস্তুতি এবং কোন বন্দী বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর কোন আক্রমণ বা আক্রমণের প্রস্তুতির সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানানো বা জানাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করা;

১৬। পলায়নের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা পলায়ন বা পূর্ব বর্ণিত অন্য কোন অপরাধ করতে সাহায্য করা ।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

বিধি-৭০৫। নিম্নোক্ত কাজ গুলো নিষিদ্ধ এবং কোন নদী এর কোনটি করলে ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারের নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং কারা আইনের ৪৫ ধারার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে-

(১) লাইনে বা প্যারেডে দাঁড়ানো অবস্থায় কথা বলা বা হাসাহাসি বা জোরে কথা বলা

(২) অন্য বন্দীর সাথে ঝগড়া করা;

(৩) কোন বিষয় গোপন করা;

(৪) কোন কারা কর্মকর্তা বা পরিদর্শককে অসম্মান করা;

(৫) ভিত্তিহীন অভিযোগ করা;

(৬) মিথ্যা জবাব দেয়া;

(৭) বাহিরে কারো কাছে তথ্য পাচার করা;

(৮) কারা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা;

(৯) শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা না করা;

(১০) কোন বন্দীর অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন ভাষা ব্যবহার করা;

(১১) কোন কাজ যা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট এলার্ম হিসেবে মনে হতে পারে;

(১২) অনুমতি ব্যতীত কারাগারের নির্ধারিত এলাকা বা নিজ গ্যাং ত্যাগ করা;

(১৩) অনুমতি ব্যতীত নিজ ওয়ার্ড, আঙিনা বা লাইন ত্যাগ করা;

(১৪) আঙিনায় ধীরে হাঁটা বা ওয়ার্ড খোলার পর বাহির হতে দেরী করা:

(১৫) লাইনে বা প্যারেডে মার্চ করতে অস্বীকার করা;

(১৬) ( প্রয়োগ নেই)

(১৭) খাবার বা ডায়েট গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ;

(১৮) নিজের জন্যে বরাদ্দকৃত খাবারের অতিরিক্ত কোন খাবার গ্রহণ;

(১৯) অনুমতি ছাড়া খাবার ঘর বা ষ্টোর হতে খাদ্য সরিয়ে নেয়া

(২০) ইচ্ছাকৃত ভাবে খাদ্য নষ্ট করা বা ছুঁড়ে ফেলা;

(২১) খাদ্যের মধ্যে বিস্বাদ কোন দ্রব্য মিশানো

(২২) পোশাক গ্রহণে অস্বীকার করা বা অন্য বন্দীর সঙ্গে বিনিময় করা বা ক্ষতি বা পরিবর্তন করা,

(২৩) ব্যাজ নাম্বার পরিবর্তন বা নষ্ট করা;

(২৪) নিজেকে পরিষ্কার না রাখা বা নখ চুল কাটতে অস্বীকার করা:

(২৫) পরিধেয়, বিছানা কম্বল পরিষ্কার না রাখা:

(২৬) তালা, বাতি প্রভৃতি নষ্ট করা;

(২৭) কারাগারের পোশাক বা জিনিসপত্র চুরি করা;

(২৮) কারাগারের ভিতরে উপদ্রব সৃষ্টি করা;

(২৯) মেঝে, দেয়াল প্রভৃতি গর্ত করা:

(৩০) ইচ্ছাকৃত ভাবে কৃয়া, লেট্রিন, গোসলখানা প্রভৃতি নোংরা করা;

(৩১) শাক-সব্জি, গাছপালা নষ্ট করা বা গবাদি পশুর ক্ষতি করা;

(৩২) দায়িত্বে অর্পিত কারা সম্পত্তির যত্ন না নেয়া

(৩৩) কাজে ব্যবহারের জন্যে দেয়া জিনিস পত্রের ক্ষতি করা:

(৩৪) কোন জিনিসের ক্ষতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে না জানানো;

(৩৫) অনুমতি ব্যতীত কোন জিনিস বানানো;

(৩৬) অন্য বন্দীকে প্রদত্ত কাজ করা বা নিজের কাজে অন্য বন্দীর সাহায্য নেয়া:

(৩৭) অন্য বন্দীর সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা;

(৩৮) কাজ করা জিনিসের সঙ্গে বাহিরের অন্য জিনিস মিশানো;

(৩৯) ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের অসুস্থতা বা আঘাত তৈরীর জন্যে কাজ করা;

(৪০) গোপন করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা বা অবাধ্য হওয়া বা হতে সাহায্য করা;

(৪১) কোন বন্দী বা কারা কর্মীকে আক্রমণ করা;

(৪২) পলায়ন বা আক্রমণের ঘটনা প্রতিরোধে কারা কর্মীকে সহায়তা না করা;

(৪৩) কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বৈধ আদেশ না মানা বা যে কাজ দেয়া হয়েছে তা না করা।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

বিধি-৭০৬। যখন কোন বন্দী নিম্নোক্ত কোন অপরাধ করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয়, তখন তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি মতে এ বিষয়ে বিচারিক তদন্তের জন্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অনুরোধ জানাবেন-

(১) দণ্ড বিধির ১৪৭,১৪৮ এবং ১৫২ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ- দাঙ্গা অস্ত্রসহ দাঙ্গা, কিংবা অনুরূপ দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ:

(২) দণ্ড বিধির ২২২,২২৩ এবং ২২৪ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ আইন সম্মতভাবে সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকা সত্বেও তাতে অবহেলা করা, সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অবহেলার দরুন আটক হতে বন্দী পলায়ন, এবং গ্রেফতারের চেষ্টাকালে কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ, বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ করা।

(৩) দণ্ড বিধির ৩০৪এ, ৩০৯ এবং ৩২৬ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের ফলে কারো মৃত্যু ঘটানো, আত্মহত্যার চেষ্টা করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য কিছুর সাহায্যে কাউকে গুরুতর আঘাত করা;

(৪) এমন কোন অপরাধ যাহা কেবলমাত্র দায়রা আদালতে বিচার্য।

কোন বন্দী কর্তৃক সংঘটিত কোন অপরাধ যদি একই সঙ্গে কারা অপরাধ এবং দণ্ড বিধি উভয়টির আওতায় পড়ে তবে জেল সুপার নির্ধারণ করবেন যে বন্দীকে তিনি কারা অপরাধে শাস্তি প্রদান করবেন না কি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করবেন।

বিধি-৭০৭। কারা আইনের ৫২ ধারার বিধান মতে, যদি কোন বন্দী কারা- শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শান্তি প্রাপ্ত হয়, তার দ্বারা উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের জন্য বা অন্য কারণে বন্দীকে কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি প্রদানের তার যে ক্ষমতা আছে তা যথেষ্ট নয় মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি পরিস্থিতির একটি বর্ণনাসহ এ ধরনের বন্দীকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বা এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করতে পারবেন।

ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং বন্দীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনীত হয়েছে, তার বিচার করবেন, এবং, অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন। উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ বন্দীর ভোগরত কারাদণ্ডের মেয়াদের অতিরিক্ত হবে। কিংবা অনুরূপ অপরাধের জন্যে পূর্ববর্তী বিধিসমূহে বর্ণিত সাজা প্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার সাজা প্রদান করা যাবে না।

টিকা-। যে ক্ষেত্রে কোন কিছু করা বা না করা দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, সে ক্ষেত্রে আইনগুলির যে কোন একটির অধীনে অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য তাকে দুইবার শাস্তি দেয়া যাবে না (ধারা-২৬, জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।

বিধি-৭০৮ । কোন বন্দী শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কারাগারের বিধি-বিধান লংঘন করলে জেল সুপার কারা আইনের ৪৬ ধারা, এবং সে সঙ্গে উক্ত ধারার (৪), (৬) এবং (9) উপ-ধারায় বর্ণিত মতে প্রণীত বিধানের আওতায় শাস্তি প্রদান করতে পারেন ।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে লঘু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-

১। সতর্ক করা

২। শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান

৩। অনূর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল

৪। অনূর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল

৫। উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে সাময়িকভাবে নামিয়ে দেয়া

৬। শাস্তিমূলক খাবার (বর্তমানে প্রয়োগ নেই)

৭। অনূর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা

৮। অনূর্ধ্ব ১৪ দিন পৃথক সেলে আটক রাখা

৯। হ্যান্ড কাপ পরানো

১০। অনূর্ধ্ব ৩০ দিন পায়ে বেড়ী লাগানো

১১। প্রয়োগ নেই ।

নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে গুরু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-

১। কঠোর পরিশ্রম, বিনাশ্রম বন্দী হলে;

২। (ক) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ

(খ) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ

(গ) ৩ মাস অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল

(ঘ) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা

(ঙ) উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে স্থায়ীভাবে নামিয়ে দেয়া

৩। ৭ দিনের অধিক সেলে আটক করে রাখা

৪ । ১৪ দিনের বেশী পৃথক সেলে আটক রাখা

৫। ৩০ দিনের বেশী পায়ে বেড়ী লাগানো

৬। ডান্ডা বেড়ী

৭। আড়াআড়ি বেড়ী

৮। পেছনে হ্যান্ডক্যাপ লাগানো

৯। প্রয়োগ নেই

১০। প্রয়োগ নেই

১১। এক সঙ্গে একাধিক লঘু সাজা ।

নোট-১। জেল সুপারের নিম্নের কোন কর্মকর্তা কোন শাস্তি প্রদান করতে পারবেন না।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

নোট-২ । যে সব শাস্তির জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে- (১) ১২ দিলে বেশী রেয়াত বাতিল করণ (২) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা (৩) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ, ৩ মাসের অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধ বাতিল এবং অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা- এ তিনটি একত্রে প্রয়োগ।

নোট-৩। বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহ প্রযোজ্য হবে না- (১) শ্র পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল (৪) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ (৫) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ।

নোট-৪। সিভিল বন্দীদের যে সকল শাস্তি দেয়া যাবে- (১) শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা।

বিধি-৭০৯। জেল কোডের যে কোন প্রকারের লংঘন হলে জেল সুপারকে জানাতে হবে। জেল সুপার বিবেচনা করে দেখবেন বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে কিনা বা তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না। যদি তিনি মনে করেন যে, কোন বন্দী অজ্ঞতার কারণে কিংবা অসাবধানতা বশত: বিধি লংঘন করেছ, তবে তিনি তাকে সতর্ক করে দিবেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শান্তি রেজিষ্টারে রেকর্ড না করে বাতিল করে দিবেন। কিন্তু যদি তার নিকট মনে হয়। যে, অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তবে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন এবং বিধি ৭৬ মোতাবেক শাস্তি রেজিষ্টারে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৭১০। ‘ আনুষ্ঠানিক সতর্ক’ শাস্তি হিসাবে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য জেলা সুপার কর্তৃক সরাসরি ব্যক্তিগত ভাবে অপরাধীকে মৌখিক ভাবে সাবধান করতে হবে। সাধারণত কোন অপরাধ প্রথম বার করার জন্যে প্রথমে ‘আনুষ্ঠানিক সতর্ক করা হয়ে থাকে। আনুষ্ঠানিক সতর্ক অন্য কোন শাস্তির সঙ্গে একত্রে দেয়া যাবে না ।

বিধি-৭১১। শ্রমের পরিবর্তন’ কেবল মাত্র সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে প্রদান করা যাবে। সাধারণত কম কাজ করার জন্যে বা অলসতার জন্যে এই শাস্তি উপযোগী, তবে অন্যান্য অপরাধের জন্যেও আরোপ করা যেতে পারে। এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে কিংবা স্বভাব পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্যে আরোপ করা যেতে পারে।

বিধি-৭১২। কাজ কম করার মত ছোট ধরনের অপরাধ বার বার করার জন্যে বন্দী রেয়াত ব্যবস্থার আওতায় থাকলে রেয়াত হ্রাস করার শাস্তি আরোপ করা যেতে পারে। যে কোন ধরনের লঘু অপরাধের জন্যে অন্যান্য শাস্তির তুলনায় রেয়াত হ্রাস করার শাস্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৭১৩। যখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিলের জন্যে বা কোন বন্দীকে তিন মাসের বেশী রেয়াত ব্যবস্থার বহির্ভূত রাখার জন্যে অনুমোদন চাওয়া হবে, অপরাধের পূর্ণ বিবরণী এবং বন্দী যে পরিমাণ রেয়াত অর্জন করেছে তার উল্লেখ করতে হবে এবং বন্দীর পূর্ব ইতিহাস সংক্রান্ত একটি বিবরণী এবং ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭১৪। রেয়াত সুবিধা বাজেয়াপ্ত কয়েদী কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যখন রেয়াত সুবিধা বাতিল বা গ্রেড নামিয়ে দেয়া হবে তখন তা স্থায়ী কিনা এবং স্থায়ী না হলে কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে জেল সুপার তা রেকর্ড করবেন।

বিধি-৭১৫ । প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭১৬। ৮ নম্বর লঘু অপরাধ এবং ৯ নম্বর গুরু অপরাধের জন্যে হ্যান্ডকাপ আরোপ করা যেতে পারে। তালা সহ প্রতিটি লৌহদণ্ডের হ্যান্ডকাপের ওজন ২ পাউন্ডের বেশী হবে না। ঘুরানো রিং হলে প্রতিটি সোয়া এক পাউন্ডের বেশী হবে না কিংবা চেইন হ্যান্ডকাপ হলে এক পাউন্ডের বেশী হবে না।

বিধি-৭১৭ । হ্যান্ডকাপ পরানো হবে-

(ক) হাতের কব্জির সামনে দিনে বা রাতে লাগাতে হবে। প্রতি বারে ১২ ঘন্টা বিরতসিহ একটানা ১২ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ রাত বা দিনের বেশী পরানো যাবে না।

(খ) হাতের কব্জির পিছনে শুধুমাত্র দিনে লাগাতে হবে। দৈনিক ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ দিনের বেশী পরানো যাবে না। সাধারণ আটকানোর শিকল ছাড়া অন্য কোন শিবল হ্যান্ডকাপের সাথে আরোপ করা যাবে না।

(গ) বন্দীর কব্জিতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে কোন কিছুর সাথে পর পর দিনের বেশী এবং একদিনে ৬ ঘন্টার বেশী বেঁধে রাখা যাবে না এবং প্রত্যেক মেয়াদের ৩ ঘন্টা পর এক ঘন্টার বিরতি প্রদান করতে হবে। শর্ত থাকে যে বাঁধার স্থান বন্দীর বাহুর চেয়ে উঁচু হবে না এবং কোমরের চেয়ে নীচু হবে না; অন্য বন্দীদের উপস্থিতি ছাড়া কোন বন্দীকে অনুরূপভাবে বাঁধা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ছাড়া অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে উগ্র আচরণ এবং তাচ্ছিলা সহকারে উপুর্যপরি কারা বিধি লংঘনের কারণ ব্যতীত অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না।

উপরের (ক) এবং (খ) উপ-বিধিতে বর্ণিত শাস্তি অন্য কোন ভাবে হ্যান্ডকাপ আরোপের সাথে প্রয়োগ করা যাবে না। হ্যান্ডকাপ পরানো অবস্থায় বন্দীকে সূর্যের নীচে রাখা যাবে না । বিধি-৭১৮ । বিভিন্ন প্রকারের বেড়ী।

বিধি-৭১৯। বিভিন্ন প্রকার বেড়ী অবিরামভাবে প্রয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ-(ক) লিংক বেড়ী- তিনমাস; (খ) ডান্ডা বেড়ী- তিন মাস; (গ) ক্রস বেড়ী- ২২৪ ঘন্টা।

বিধি-৭২০। কোন কারা অপরাধের জন্যে যে কোন ধরনের বেড়ী আরোপের শাস্তি প্রদানের পর পুনরায় আরোপ করতে হলে ১০ দিনের বিরতি প্রদান করতে হবে।

বিধি-৭২১। সকল প্রকারের বেড়ী উজ্জল এবং ঝকঝকে থাকবে এবং বন্দীর ত্বকের ক্ষতি রোধের জন্যে নরম চামড়া বা কম্বল বা মোটা কাপড় ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে। কারা অপরাধের জন্যে বেড়ী প্রয়োগকারী বন্দীকে আদালতে হাজির করার পূর্বে বেড়ী খুলে ফেলতে হবে।

 

বিধি-৭২২। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭২৩। ‘সেলে আটক’ বলতে এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম আটককে বুঝাবে, যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না। বন্দীকে খাবার দেয়ার জন্যে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্যে কয়েদী কর্মচারী সেলে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে বন্দী নিজের খাবার নিজে খাবে এবং তাকে সেলের মধ্যে গোসলাদি সারতে হবে। ১৪ দিনের বেশী সেলে আটকের শাস্তি দেয়া যাবে না এবং দুইটি মেয়াদের মাঝে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।

বিধি-৭২৪। ‘পৃথক কারাবাস’ অর্থ এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাবাস যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না এবং বন্দীকে দৈনিক কমপক্ষে এক ঘন্টা ব্যায়াম করতে দেয়া হবে এবং এক বা একাধিক বন্দীর সঙ্গে খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে। জেল সুপার অনধিক ৩০ দিন পৃথক কারাবাসের শাস্তি প্রদান করতে পারবেন। তার চেয়ে বেশী এবং অনধিক ৩ মাস পর্যন্ত মেয়াদের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অনুরূপ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে ।

বিধি৭২৫-৭৩২। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৩৩। আদালতের নির্দেশ ব্যতীত পূর্ব বর্ণিত বিধি সমূহের বাহিরে কোন বন্দীকে কোন শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

বিধি-৭৩৪। শান্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ সংরক্ষণ করা হবে-

১। শাস্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-১৯)

২। কারা শাস্তি অবসানের রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-২০)।

নোট-

বিচারাধীন বন্দী, বিনাশ্রম বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের ক্ষেত্রে এই বিধি সমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ৯২৭, ৯৪৪ এবং ৯০৫ অনুসরণ করতে হবে। অবরোধে আটক রাখার উদ্দেশ্যে হ্যান্ডকাপ এবং বেড়ী প্রয়োগের জন্যে বিধি ৫১৫ অনুসরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের ধর্মীয় আচার

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের ধর্মীয় আচার সম্পর্কে।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার । জেল কোড

বিধি-৬৮৯। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিম্নোক্ত গেজেটেড ছুটি প্রদান করা হবে-

  • দুর্গা পূজা- ১ দিন
  • ঈদুল আজহা – ২ দিন
  • শহীদ দিবস – ১ দিন
  • স্বাধীনতা দিবস – ১ দিন
  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী – ১ দিন
  • ঈদুল ফিতর – ২ দিন
  • বিজয় দিবস- ১ দিন
  • বড় দিন – ১ দিন
  • বুদ্ধ পূর্ণিমা – ১ দিন
  • মে দিবস – ১ দিন

টীকা- নং ২৩৫-স্ব ম:-জে (১) তারিখ ৩০-১০-১৯৭২ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৯০ । উৎসবের দিবসে বন্দীদেরকে তাদের নিজের খরচে কিংবা আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক প্রেরিত ফল এবং দুধসহ অরান্নাকৃত খাবার গ্রহণের জন্যে জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। ঈদুল ফিতর এবং দুর্গা পূজার দ্বিতীয় দিনে দৈনিক খোরাকী ভাতা বৃদ্ধি করে জেল সুপার কর্তৃক উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

টীকা- বর্তমানে সরকার কর্তৃক বিশেষ অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে দুই ঈদে, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

 

বিধি-৬৯১। একজন হিন্দু ধর্মীয় বন্দী ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ধর্মীয় তিথিতে উপবাস করতে পারে। তবে এ কারণে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শ্রম লাঘব করা হবে না, তবে উপবাস শেষে তার জন্যে বিশেষ উন্নত মানের খাবার দেয়া যেতে পারে। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্তি খাবারের ব্যয়ের পরিমাণ উপবাসকালীন সময়ে তার প্রাপ্য খোরাকী মূল্য অপেক্ষা বেশী হবে না।

বিধি-৬৯২। যে সকল মুসলমান বন্দী রমজানে রোজা রাখতে ইচ্ছুক তারা তা রাখতে পারবে। এ সকল বন্দীদেরকে দেয়া হবে-

(১) সকালের নাস্তার পরিবর্তে ইফতারের সময় শরবত এবং কিছু হাল্কা খাবার (ছোলা ভুনা বা এক টুকরো পাউরুটি),

(২) রাতের বেলায় দুই বার খাবার, একটি (সেহরী) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে খেতে হবে এবং সাধারণ খাবারের চেয়ে হাল্কা হবে।
খাবারের মোট ব্যয় অন্যান্য বন্দীদের খাবারের বায়ের চেয়ে বেশী হবে না। কোন শ্রম লাঘব অনুমোদিত হবে না, তবে সকালে আধ ঘন্টা কাজ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং বিকালে আধ ঘন্টা কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।

কাজের এই পরিবর্তীত সময়সূচী সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জন্যে প্রযোজ্য হবে। যে সব ওয়ার্ডে মুসলমান বন্দীরা আছে সেখানে এ সময় পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলা কোন ওয়ার্ড বা সেল খোলা হবে না। তবে বন্দীরা ওয়ার্ডের ভিতর তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবে।

টীকা- বর্তমানে বন্দী প্রতি ৭ টাকা হারে ইফতারী বরাদ্দ করা হয়।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বিধি-৬৯৩। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন বন্দীর রোজা অব্যাহত রাখা তার শরীরের জন্যে ক্ষতিকর বা বিপদজ্জনক, তা হলে তিনি ঐ বন্দীকে রোজা অব্যাহত না করার জন্যে পরামর্শ দিতে পারেন।

বিধি-৬৯৪। সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা পালনের জন্যে যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে, তবে প্রার্থনা পালনের বিষয়টি ঐচ্ছিক হবে। মুসলমানদের একত্রে (নামাজ) আদায় করতে দেয়া হবে তবে জেল সুপার ঠিক করে নিবেন কত জন বন্দীকে এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুমতি প্রদান করবেন। প্রার্থনার স্থান জেল সুপার নির্ধারণ করে দিবেন। কোন ধর্মীয় মাতম অনুমোদন করা হবে না ।

নোট– নামাজের) আগে আযান দেয়া ধর্মীয় মাতম হিসেবে গণ্য হবে না এবং গুরুত্ব পূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

নং- ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৬৯৫। ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে বন্দীদের মধ্যে ভেদাভেদ বা কলহ পরিহার করতে হবে। ধর্মীয় বিষয়ে কলহ সৃষ্টি করে বন্দী পলায়নের সুযোগ তৈরী করা হয় কিনা, তা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি ৬৯৬-৬৯৭। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৬৯৮ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে লভ্যতা সাপেক্ষে একজন মুসলিম এবং একজন হিন্দু, দুইজন অবৈতনিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ কর্তৃক তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন এবং নিয়োগ আদেশ গেজেটে প্রকাশিত হবে । এ সকল শিক্ষক বন্দীদেরকে নৈতিক উপদেশ দেয়ার জন্যে নিয়োজিত হবেন। যখন কোন কারাগারে (শিক্ষকের) পদ শূন্য হয় তখন জেল সুপার জেলা ম্যাজিট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একজন উপযুক্ত অবৈতনিক শিক্ষককে উক্ত শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন।

অনুরূপ শিক্ষকগণ দুই বৎসরের জন্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং ৬৯৯ বিধি মোতাবেক তাদের নিয়োগ বাতিল না হলে, অনুরূপ মেয়াদ শেষে তারা নিয়োগ লাভে সামর্থ্য থাকলে এবং আগ্রহী হলে পুন:নিয়োগের যোগা হবেন। জেল সুপার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করবেন সেরূপ ভাবে (শুক্রবার। বা অন্যান্য গেজেটেড ছুটির দিনে তারা উপদেশ প্রদানের অনুমতি পাবেন। অনুমোদিত ধর্মীয় গ্রন্থ কারাগারের লাইব্রেরীতে সরবরাহ করতে হবে।

{ অন্য কোন ধর্মের বন্দীদের জন্যেও অনুরূপ অবৈতনিক শিক্ষক ও অবৈতনিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে, যদি ঐ ধর্মের ৪ জন বা ততোধিক সংখ্যক যথাক্রমে পুরুষ বা মহিলা বন্দী থাকে । নং ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে বিলুপ্ত ।
নং ১৫৬ এইচ জে তারিখ ৩০-১-১৯৩৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

টীকা- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জি.ও নম্বর ১ম-৩-৯২-জেল-১/৩২৭ তারিখ ৬-৬-৯৩ মোতাবেক একজন অবৈতনিক শিক্ষক প্রতিবার পরিদর্শনের জন্যে ২০ (বিশ) টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিধি-৬৯৯। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্ববর্তী বিধি মোতাবেক নিয়োজিত অবৈতনিক শিক্ষকের নিয়োগ সাধারণত: বাতিল করা হবে যদি তার মেয়াদ কালে তিনি অবিরাম তিন মাস যাবত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকেন ।

বিধি-৭০০। কোন যাজক বা পাদ্রী বা ধর্মীয় উপদেষ্টা নিজ ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের বন্দীদের নিকট গমন করবেন না। কোন বন্দী অন্য ধর্মীয় উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী হলে এ বিষয়ে কারা মহা পরিদর্শকের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭০১। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭০২। অকার্যকর।

বিধি-৭০৩। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে মৃতের ধর্মীয় রীতিতে মৃতদেহের সৎকার করার জন্যে জেল সুপার নির্দেশ প্রদান করবেন। মৃতের আত্মীয় স্বজ মৃতদেহ গ্রহণ না করলে আগ্রহী স্থানীয় ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৎকারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি মৃতদেহ সৎকারের জন্যে সর্বোচ্চ ১০ টাকা প্রদান করা যেতে পারে। উক্ত টাকা ” বিবিধ সেবা এং সরবরাহ খাত হতে ব্যয় করা হবে। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে এ বিষয়ে বিধি ৯৮ অনুসরণ করতে হবে।

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

আজকে আমরা আলোচনা করবো বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

বিধি-৬৮২। বিচারাধীন ফৌজাদারি বন্দী এবং সিভিল বন্দীদেরকে যথোপযুক্ত সময় এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সাথে সাক্ষাত বা মৌখিক বা লিখিত যোগাযোগের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

বিধি-৬৮৩। বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের আলাপ- আলোচনা দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রবণ সীমানার বাহিরে কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। বন্দীর নিকট আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের সময়েও অনুরূপ সুবিধা দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৬৮৪ । কোন বিচারাধীন বন্দীর আইনজীবি হিসেবে কোন ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছুক হলে তিনি নাম, ঠিকানা এবং পেশার বিবরণ দিয়ে লিখিত আবেদন করবেন। তিনি যে ঐ বন্দীর প্রকৃত আইনজীবি সে ব্যাপারে জেল সুপারকে নিশ্চিত হতে হবে। সাক্ষাত অনুমোদন করা হলে ঐ আইনজীবির নাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে এবং অনুষ্ঠিত সকল সাক্ষাত হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

বিধি- ৬৮৫। জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে ৬৮৪ বিধিতে বর্ণিত সাক্ষাতের কোন আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ সুপারের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে পারবেন।

বিধি- ৬৮৬। কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হলে, সাক্ষাত যত শীঘ্র সম্ভব অনুষ্ঠিত হবে এবং একজন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তা তত্ত্বাবধান করার জন্য উপস্থিত থাকবেন।

বিধি- ৬৮৭। বিচারাধীন বন্দী কর্তৃক তার আইনজীবির উদ্দেশ্যে লিখিত মামলা পরিচালনার নির্দেশ সম্বলিত একান্ত গোপনীয় পত্র জেল সুপার কর্তৃক পূর্ব পরীক্ষা ছাড়াই আইনজীবির নিকট ব্যক্তিগত ভাবে প্রেরণ করা যেতে পারে।

বিধি- ৬৮৮। সিভিল বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব জেল সুপার নির্ধারিত সময়ে এবং তার প্রদত্ত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সাক্ষাত করতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই ।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

টীকা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তরীণ (ডিটেন্যু) ব্যক্তিদের সাক্ষাত করার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নং ৬২৮৬- স্ব:ম: (নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ৮-১০-৯১ এবং স্মারক নং ৭৫৬১- স্ব:ম:(নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ২৬-১১-৯১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হবেঃ-

(ক) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়- স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি ১৫ (পনর) দিনে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন:

(খ) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত ব্যতীত অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়-স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি পঞ্জিকা মাসে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন;

(গ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় পৃথক পৃথক লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে:

(ঘ)প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশী হবে না;

(ঙ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় জেল কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং পুলিশের বিশেষ শাখার একজন প্রতিনিধি আলাপ-আলোচনা শ্রবণ সীমানার বাহিরে, কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন;

(চ) সাক্ষাতের সময় পারিবারিক বিষয় সমূহ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হলে অথবা কোন কিছু আদান-প্রদান করা হলে সাক্ষাতের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের প্রদত্ত সুবিধা রহিত করতে পারবেন; এবং

(ছ) সাক্ষাতের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

২। ঢাকা মহানগর এলাকা ব্যতীত সারা দেশে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সম্মতিক্রমে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করবেন।

৩। ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্তসহ অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক, বিশেষ শাখা প্রদান করবেন।

৪। অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য সকল সাক্ষাতের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেল কোডের বিধান অনুযায়ী সে সকল সাক্ষাতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

আজকের  আলোচনার বিষয়ঃ সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র । জেল কোড

সাধারণ নিয়মাবলী

বিধি-৬৬৩। (১) প্রত্যেক নুতন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারে আগমনের পর তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাতের যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দিতে হবে, যাতে করে সে আপীল প্রস্তুত কিংবা জামিন লাভের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে পরামর্শ করতে পারে। তাকে তার সম্পত্তি বা পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত করার বা চিঠিপত্র লিখার জন্যে এক বা দুইবার বা জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে আরো বেশী বার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

(২) জরিমানা বা ফৌজদারি কার্যবিধির অষ্টম অধ্যায়ের অধীনে মুচলেকা খেলাপের জন্যে সোপর্দকৃত বন্দীকে চিঠিপত্র লিখার এবং জরিমানা পরিশোধ করার বা মুচলেকা প্রস্তুতির জন্যে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ সাক্ষাতের সময় দিতে হবে।

(৩) বর্তমানে প্রয়োগ নেই ।

(৪) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সঙ্গে সে পরিমান সাক্ষাতের এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে জেল সুপার যে পরিমাণ সঙ্গত মনে করেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৪। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত সুবিধাদি ছাড়াও একজন সাজাপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেনীর বন্দী তার আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাত এবং চিঠি পত্র আদান প্রদানের জন্যে দুই মাসে একবার সুযোগ পাবেন এবং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার মাসে একবার সুযোগ পাবে। এ সুযোগ সদাচারের সঙ্গে শর্তযুক্ত এবং অসদাচরণের জন্যে জেল সুপার তা বাতিল বা রহিত করতে পারবেন।

নোট-১। কেবল মাত্র সাক্ষাত প্রার্থনার জন্যে প্রেরিত পত্র এই বিধিতে পত্র যোগাযোগ গণনার জন্যে ধরা হবে না।

নোট-২। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সাক্ষাতের সুযোগকে চিঠিপত্র আদান প্রদাম কিংবা চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগকে সাক্ষাতে পরিবর্তন করতে পারবে।

বিধি-৬৬৫। বিশেষ বা জরুরী প্রয়োজনে জেল সুপার বিধি-৬৬৪ এ বর্ণিত বিধান ছাড়াও এবং বন্দীর অসদাচরণ সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম বিরতিতে সাক্ষা এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। যেমন-বন্দীর মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা কোন আত্মীয় স্বজন এমন দূর হতে আসে যে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে পুনরায় আসা তাদের জন্যে কষ্টকর হবে কিংবা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তি আসন্ন এবং সে চাকরির খোঁজ করছে বা অন্যান্য যুক্তি সঙ্গত কারণ।

আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সংবাদ যে কোন সময় আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব কর্তৃক জেল সুপারের কাছেও দেয়া যেতে পারে, জেল সুপার সমীচীন মনে করলে সংবাদের বিষয়বস্তু বন্দীকে জানাবেন ।

বিধি-৬৬৬। জেল সুপারের অনুমতি ছাড়া কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে কারো সাথে সাক্ষাত কিংবা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে না। এ ধরনের অনুমতির লিখিত রেকর্ড থাকবে।

বিধি-৬৬৭। জেল সুপারের বিবেচনা মতে, বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি লিখিত বা মৌখিক যে কোন প্রকারে চাওয়া যেতে পারে। বন্দী যদি সাক্ষাতের উপযুক্ত না হয় তা হলে সাক্ষাত প্রার্থীকে তা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৬৬৮। জেল সুপার সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় নির্ধারণ করবেন। ঐ সময়ের বাহিরে জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাক্ষাত করা যাবে না। সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় সংক্রান্ত একটি নোটীশ কারাগারের বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৯। প্রত্যেক সাক্ষাত যথাসম্ভব জেল গেইটের নিকটে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা বেশী না হলে একই কক্ষে একই সময়ে একটি সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে। মহিলা বন্দীদের সাক্ষাত সম্ভব হলে মহিলা বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হবে। যদি বন্দী মারাত্মক অসুস্থ হয় তবে জেল সুপার হাসপাতালে বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাধারণত তার সেলে সাক্ষাত হবে। বিশেষ কারণে, কারণ লিপিবদ্ধ করে, জেল সুপার কারাগারের যে কোন স্থানে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

বিধি-৬৭০। প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দীর সাক্ষাত জেলার কর্তৃক লিখিত ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে হবে যিনি সাক্ষাত কালে কোন অনিয়ম হলে তার জন্যে দায়ী থাকবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে তিনি দেখতে এবং শুনতে পান এবং যেন কোন দ্রব্যাদি আদান প্রদানে বাধা দিতে পারেন। শর্ত থাকে যে, কোন পুলিশ অফিসারকে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত ছাড়াই একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন ।

[ কোন আফটার কেয়ার বা প্রবেশন অফিসার কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন কোন বন্দীর সাক্ষাত কালে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হবে না।]

বিধি-৬৭১। সাক্ষাতের সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে যে কোন সাক্ষাত যে কোন সময়ে অবসান করে দেয়া যেতে পারে। এরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে | অবসানের। কারণ তাৎক্ষণিক ভাবে কারাগারে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার আদেশের জন্যে জানাতে হবে। | সাক্ষাত পর্বে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনা কিংবা বন্দীর নিকট রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান কিংবা পারিবারিক বা সাংসারিক বিষয়ের বাহিরে অন্য কোন আলোচনা করার অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিধি লংঘনকারীকে কারা আইনের ৪২ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

নং-১৯৬৩ এইচ জে, তারিখ-২১-৫-১৯৩৮। সঙ্গে

বিধি-৬৭২। প্রতিটি সাক্ষাতের অনুমোদিত সময় সাধারণত ২০ মিনিটের বেশী হবে না, তবে জেল সুপারের বিবেচনা মোতাবেক এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

বিধি-৬৭৩। যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দী এবং { বিচারাধীন ফৌজদারি | বন্দীকে প্রতিটি সাক্ষাতের পূর্বে এবং পরে সতর্কতার সাথে তল্লাশী করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে জেলার একজন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে লিখিত নির্দেশে দায়িত্ব প্রদান করবেন।

বিধি-৬৭৪ । কোন আইনজীবি কোন ফৌজদারি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সাথে সাক্ষাত করতে চাইলে ২৪ ঘন্টা পূর্বে তাকে আবেদন করতে হবে এবং সাক্ষাতের কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে। জেল সুপারের আদেশ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। যদি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়, তবে তা বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য নিয়মে হবে।

 

বিধি-৬৭৫। জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগত কোন সাক্ষাত প্রার্থীর নাম এবং ঠিকানা জানতে চাইতে পারবেন, এবং যদি সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, সাক্ষাত প্রার্থী বন্দীর জন্যে কোন নিষিদ্ধ বস্তু সঙ্গে এনেছেন, তা হলে জেলার ঐ ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ বা বন্দীর সাথে দেখা করার পূর্বে তল্লাশী করতে পারবেন; তল্লাশী অন্য কোন বন্দী বা সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে হবে না।

যদি সাক্ষাত প্রার্থী মহিলা হয় তা হলে একজন মহিলা দ্বারা তল্লাশী করতে হবে। যদি সাক্ষাত প্রার্থী তল্লাশী প্রদানে রাজী না হন, তা হলে জেলার তাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করা হলে কিংবা কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানের অস্বীকৃতি জানানো হলে জেলার পরিস্থিতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার কারণ রিপোর্ট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং পরবর্তী ডিজিটের সময় জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-৬৭৬। জেল সুপার বা জেলার বা জেল সুপারের নির্দেশিত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দ্বারা পরীক্ষা ও স্বাক্ষর করা ব্যতীত কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিলি করা হবে না, কিন্তু পত্র বিলিতে কোন অনাবশ্যক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। জেল সুপার অপিরিচিত ভাষায় লিখিত কোন পত্র বিলির পূর্বে অনুবাদ করার ব্যবস্থা করবেন। সাংকেতিক লেখা পত্র অনুমোদিত হবে। না। জেল সুপার আপত্তিকর লেখা কিংবা ঘষা মাজা করা পত্র আটক করতে পারবেন। পত্র প্রাপক বন্দীর নিকট কোন নগদ অর্থ না থাকলে অস্ট্যাম্পকৃত বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত পত্রের ডাকমাশুল জেল সুপার “বন্দীদের সম্পত্তি” খাত হতে প্রদান করতে পারবেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৭৭। কোন বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিধিগত কারণে ঐ বন্দী কর্তৃক গ্রহণের উপযুক্ত না হলে জেল সুপার তা নিজের কাছে রেখে দিবেন। আপত্তিকর না হলে বন্দী পত্র প্রাপ্তির উপযুক্ততা অর্জন করলে বা মুক্তির সময় তার কাছে পত্রটি হস্তান্তর করা হবে।

বিধি-৬৭৮। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর নিকট বিলিকৃত কোন পত্র যথাযথ অনুমতি ক্রমে সে নিজের কাছে রাখতে পারবে, যদি জেল সুপার অন্য প্রকার কোন নির্দেশ প্রদান না করেন।

বিধি-৬৭৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী চিঠি লিখার অনুমতি প্রাপ্ত তাদেরকে পোস্ট কার্ড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। একজন বন্দী বি.জে ফরম ৪১-এ চিঠি লিখবে এবং ফরমের এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।

বিধি-৬৮০। এ বিধি সমূহের অধীনে সাক্ষাতের সাধারণ অধিকার আছে এমন কোন বন্দীর সঙ্গে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোন কারণে জেল সুপার কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সাক্ষাত প্রদান না করার কারণ তিনি লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৬৮১। কোন বন্দী সাক্ষাত বা পত্রালাপের সুযোগের কোন প্রকার অপ- ব্যবহার করলে পরবর্তী কালে তার সাক্ষাতের সুযোগ রহিত করা হবে।

জেল কোড অনুযায়ী নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

আজকে আমরা নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা সম্পর্কে  আলোচনা করবো।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

(১) এলকোহল বা স্পিরিট জাতীয় যে কোন প্রকারের তরল পদার্থ:

(২) (নস্যি, কক্ষে প্রভৃতি )

(৩) গাঁজা,আফিম বা অন্য কোন ড্রাগ বা বিষাক্ত পদার্থ;

(৪) বিষাক্ত দ্রব্যাদি, আগুন জ্বালানোর দ্রব্যাদি, বা চেহারা বিকৃত করতে পারে এমন দ্রব্যাদি;

(৫) স্বর্ণ বা রুপার বাট, ধাতু, টাকা, মুদ্রা, মূল্যবান সিকিউরিটি, জুয়েলারী বা অলংকার কিংবা যে কোন প্রকারের মূল্যবান বস্তু;

(৬) বই, ছাপানো বস্তু, চিঠিপত্র বা যে কোন প্রকার লেখার দ্রব্য যা জেল সুপার কর্তৃক অনুমোদিত নয়;

(৭) ছোৱা, অস্ত্র, দড়ি, কলকাঠি, বাঁশ, মই লাঠি, পলায়নের কাজের সহায়ক এরূপ অন্য যে কোন প্রকার দ্রব্য: কারাগারের কাজের জন্যে ইস্যুকৃতগুলি ব্যতীত এবং সেগুলো কেবলমাত্র কাজের সময় এবং নির্ধারিত স্থানে অনুমোদিত।

(৮) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে সরবরাহ করা হয়নি এমন যে কোন দ্রব্য ।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

বিধি-৬৬১। কোন দ্রব্য কারা আইনের ৪২ ধারা এবং ৪৫ ধারার (১২) উপ- ধারার মর্ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে, যদি তা-

(১) কোন বন্দী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা গ্রহণ, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে ইস্যু করা হয়নি বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিকট প্রেরিত হয়নি;

(খ) যদি তাকে ব্যবহারের জন্যে দেয়া হয় কিন্তু সে অনুমোদন বহির্ভূত সময় বা স্থানে তা দখলে রাখে বা ব্যবহার করে

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার জন্য বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

(২) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু বা বরাদ করা হয়নি;

(খ) যদি তার ব্যক্তিগত পরিধানের জন্যে কোন পোশাক না হয়।

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি;

(৩) কোন পরিদর্শক সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার ব্যবহারের জন্যে প্রয়োজন নয় এবং কারাগারে প্রবেশের সময় ঘোষণা প্রদান করেননি বা সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা দখলে রাখার জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন প্রদান করা হয়নি।

(খ) অনুমতিতে বা বিনানুমতিতে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার পর কারাগার হতে বাহির হবার সময় যদি তার সঙ্গে না থাকে;

(গ) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার দখলে আসে এবং অতঃপর তিনি তা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান।

(৪) যদি অন্য কোন ব্যক্তি সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা কারাগারের ভিতর বা বাহিরে কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করে।

 

বিধি-৬৬২। ধর্ম, বর্ণ, সংস্কার, বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে বন্দীদের মধ্যে বিতর্ক নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে জেল সুপার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন। কাজের নিয়ম পরিবর্তনের অনুমতি দেয়া হবে না, তবে বন্দীদেরকে সুবিধাজনক সময়ে তাদের ধর্মীয় প্রার্থনা করার সুযোগ দেয়া হবে। হিন্দু ব্রাহ্মণদের মধ্যে যারা পৈতা পরিধান করেন তাদের জন্যে হিন্দু প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীর নিকট পৈতা রাখা যেতে পারে ।

জেল কোড অনুযায়ী শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

বিধি-৬৩৩। ব্যারাক এবং সেল বৎসর ব্যাপী প্রত্যুষে খোলা হবে। ব্যারাক এবং সেল খোলার ২০ মিনিট আগে ঘন্টা বা গং বাজানোর পর ওয়াচম্যানরা বন্দীদেরকে ডেকে উঠাবে এবং তাদের বেডিং গুছিয়ে রাখাবে। তারপর গাছ অনুসারে বন্দীরা ব্যারাকের মাঝখানে সারিবদ্ধ ভাবে বসবে। বন্দীদের কেউ অসুস্থ কিনা এবং মেডিকেল অফিসারের সাথে দেখা করতে চায় কিনা কয়েদী কর্মচারীরা তা নিশ্চিত করবে। নোট- বিধি ১২২৬ অনুসারে মেডিকেল অফিসার শীতের কারণে ওয়ার্ড খোলার সময় নির্ধারণে ক্ষমতাবান।

বিধি ৬৩৪-৬৩৬। সকালের প্রাকৃতিক কার্যাদি ।

বিধি-৬৩৭। সকালের নাস্তা খাওয়ার পর বন্দীদের হাজিরা নেয়া হবে এবং প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানের উদ্দেশ্যে চলে যাবে।

বিধি-৬৩৮ । বন্দীরা দুই সারিতে চলাচল করবে।

বিধি-৬৩৯। বন্দীরা কাজে যাবার সময় কম্বল ও বেডিং ছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাবে।

বিধি-৬৪০। যদি কোন আবদ্ধ ওয়ার্ক শপ থাকে এবং তাতে গেইট থাকে কাজের সময় তা তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৬৪১। প্রত্যেক ওয়ার্ক শেডে একটি প্রস্রাবখানা রাখতে হবে।

বিধি-৬৪২। মধ্যাহ্নে কর্ম বিরতির ঘন্টা বাজলে কাজ বন্ধ করে বন্দীরা গোসল সারবে, খাবার গ্রহণ করবে। যখন তারা খাবার গ্রহণ করবে তখন কারারক্ষীরা তাদের পিছনে খাবার প্লাটফর্মের চারদিকে দাঁড়ানো থাকবে যাতে কোন বন্দী তার খাবার অন্যকে না দিয়ে দেয় বা কোন খাবার না লুকিয়ে নেয়।

বিধি-৬৪৩। দুপুরের পর যখন আবার কাজ শুরু করার ঘন্টা বাজবে তখন প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানে চলে যাবে এবং বিকালে কাজ শেষের ঘন্টা না বাজানো পর্যন্ত কাজ করবে। কাজ শেষের ঘন্টা বাজার পর গ্যাং কাজ বন্ধ করবে এবং নিজেদের কাপড় চোপড়সহ নিজ নিজ ওয়ার্ডে বা নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসবে ।

সেখানে তাদের গণনা করা হবে এবং গ্যাং বইতে রেকর্ডকৃত সংখ্যার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। এর পর তারা টয়লেট ব্যবহার, হাত মুখ ধোয়া এবং খাবার গ্রহণ প্রভৃতি কাজ সারবে। তারপর ব্যারাক গেইটে হাজির হবে, গণনা এবং লক-আপ না করা পর্যন্ত তারা বসে থাকবে।

বিধি-৬৪৪। কারাগারের বাহিরে কাজে নিয়োজিত বন্দীর গ্যাং-কে ভিতরে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের বাহিরে গোসল করা এবং খাবার গ্রহণ নিষেধ।

বিধি-৬৪৫। বন্দীদের রাত্রিকালীন ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে নাইট- লেট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৪৬। জেল সুপার সপ্তাহে একবার সকাল বেলায় সকল বন্দীদের প্যারেড অনুষ্ঠান করবেন। সেখানে তিনি তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা শুনবেন। প্যারেডে প্রত্যেক শ্রেনীর বন্দী পৃথক পৃথক ভাবে লাইনে দাঁড়াবে ।

বিধি-৬৪৭। জেল সুপার বা জেলারের কাছে কোন বক্তব্য প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দী নিজের কাজ ছেড়ে আসবে না। জেলার দিনে কমপক্ষে একবার প্রত্যেক বন্দীকে ভিজিট করবেন এবং তাদেরকে আবেদন বা নালিশ জানানোর সুযোগ দিবেন।

বিধি-৬৪৮। বন্দীরা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ পালন করবে। তারা কয়েদী কর্মচারীদের নির্দেশও পালন করবে, যদি না তারা কারা বিধানের পরিপন্থী কোন নির্দেশ প্রদান করে।

বিধি-৬৪৯। কারাগারের ভিতর সব সময় কঠোর নীরবতা বজায় রাখতে হবে, কেবল মাত্র কাজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোন আলোচনার ক্ষেত্রে ছাড়া। রাতের বেলা ওয়ার্ডে যে কোন প্রকার কথা বলা, গান গাওয়া বা ঝগড়া করা একেবারে নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫০। কারাগারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করা এবং করলে তার পরিণতি সম্পর্কে বন্দীদেরকে সতর্ক করে দিতে হবে।

বিধি-৬৫১। জেল সুপারের প্যারেড পরিদর্শনের পূর্ব দিন বন্দীরা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার ভাবে ধৌত করবে। হাসপাতালের কাপড় ও বেডিং ধৌত করার জন্যে একজন কয়েদী ধোপা নিয়োগ করা যেতে পারে। কম্বল, কোর্তা এবং বেডিং ১১৭৩ বিধি মোতাবেক ধৌত করতে হবে।

বিধি-৬৫২। (১) এক মাসের বেশী মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সকল তৃতীয় শ্রেণীর বন্দী মাথার চুল ছোট করে ছাঁটাই করে রাখবে, গোঁফ, হাত ও পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে এবং প্রতি ১৫ দিনে একবার তা করতে হবে। প্রত্যেক কয়েদী কর্মচারী এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী স্বাস্থ্যের জন্যে যেরূপ উপযুক্ত সেরূপ পরিমাণ চুল দাঁড়ি ছোট রাখবে। তবে-

(ক) জেল সুপার এ সুবিধা থেকে যে কাউকে বাদ দিতে পারেন;

(খ) শিখ, লুসাই, বুটিয়া, চাইনিজ এবং মগ-দের চুল এভাবে ছোট করতে হবে না, তারা চিরুণী ব্যবহার করবে;

(গ) হিন্দুরা শিখি বা শিখা রাখতে পারবে;

(ঘ) মুসলমানরা যে রকম খুশী সে রকম লম্বা দাড়ি রাখতে পারবে, তাদেরকে প্রয়োজনে চিরুণী ব্যবহার করতে হবে;

(ঙ) মহিলাদের চুল কাটতে হবে না।

(চ) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ৩০ দিন বাকী থাকা অবস্থায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল কাটা যাবে না।

(ছ) জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বন্দীর চুল কাটা বা কামানোর ব্যবস্থা করবেন, এ জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত আদেশ প্রয়োজন হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তা লিখতে হবে।

(২) বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের চুল একবারে ছোট করে ছাঁটতে দেয়া হবে না বা তাদের বাহ্যিক চেহারার এমন কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না, যাতে তাদেরকে সনাক্ত করতে অসুবিধা হয়। এটা প্রতিরোধ করার জন্যে কাঁচি বা এ ধরনের কোন যন্ত্র তাদের ওয়ার্ডে রাখতে দেয়া হবে না।

এক মাসের বেশী সময় কারাগারে আছে এমন বিচারাধীন বন্দীদের চুল তারা কারাগারে আগমনের সময় যে রকম লম্বা ছিল সে রকম করে কাটতে হবে। জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বিচারাধীন বন্দীর চুল কাটার ব্যবস্থা করতে পারবেন, তবে তা প্রয়োজনের চেয়ে ছোট হবে না।

(৩) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে একটি চুল কাটার দোকান স্থাপন করতে হবে।। এ দোকানের ব্যবহার কেবলমাত্র কয়েদী কর্মচারী, বিচারাধীন বন্দী এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এর ব্যবহার অন্যান্য অস্ত্র আচরণকারী বন্দীদের জন্যেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। সেলুনে ব্যবহৃত রেজর, কাঁচি প্রভৃতি প্রত্যেক রাত্রে এবং দুপুরের বিশ্রামের সময় জেলার তার হেফাজতে রাখবেন।}

নং ১২১৩.এইচ জে তারিখ ১৬-৫-১৯৩৯ মুলে সংযোজিত। বিধি-৬৫৩। পূর্ববর্তী বিধি সমূহে বর্ণিত দৈনিক রুটিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে পালিত গেজেটেড ছুটির দিনেও অনুসরণ করা হবে, তবে সে সকল দিনে মেনিয়াল ও কারাগার চত্ত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ প্রয়োজনীয় কাজে নিয়োজিত বন্দীগণ ব্যতীত অন্যান্য বন্দীদের কাজ করতে হবে না।

তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদের গ্যাংকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০ টা পর্যন্ত কারাগার আঙিনায় ব্যয়াম করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে এবং বিকালের প্যারেডের জন্যে আরও একঘন্টা অনুমতি দেয়া হবে। এর মাঝের সময় তারা তাদের ওয়ার্ডে থাকবে। কোন ইহুদি বন্দীকে শনিবারে কাজ করতে হবে না।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৫৪। (১) শিক্ষিত এবং ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা বিশ্রামের সময়ে কারাগরের লাইব্রেরী হতে কিংবা জেল সুপার উপযুক্ত মনে করলে তার অনুমতিক্রমে বাহির হতে একটি বা দুইটি বই পড়ার জন্যে অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

(২) জেল সুপার তার ক্ষমতা বলে বিশেষ বিবেচনায় ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে বিভিন্ন প্রকার বই কারাগার লাইব্রেরী হতে প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে এক সঙ্গে ৫টির বেশী বই দেয়া যাবে না। জেল সুপার তাদেরকে নিজেদের খরচে সময়ে সময়ে অনুমোদিত ম্যাগাজিন, সাময়িকী, বই এবং খবরের কাগজ কেনার অনুমতিও প্রদান করতে পারেন, সে সব জেল সুপার কর্তৃক প্রয়োজনীয় সেন্সর করে তাদের কাছে দেয়া হবে। নিরাপত্তা বন্দী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে সরকারী খরচে প্রদত্ত খবরের কাগজ তাদের প্রয়োজন শেষে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে পড়তে দেয়া যেতে পারে।

নং- ২৫৯৬ এইচ জে, তারিখ ১৫-১২-১৯৫১ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

(৩) একজন বন্দীকে ইস্যুকৃত বই অন্য বন্দীর নিকট হস্তান্তর করা যাবে না, যদি করা হয় বরাদ্দ প্রাপকের এ সুবিধা রহিত করা হবে এবেং সে সঙ্গে শাস্তি পেতে হবে।

(৪) আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে তাদের নিজ খরচে একটি এক্সারসাইজ খাতা রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন পেন্সিল অনুমতি দেয়া হবে না, তবে কলম এবং কালি কারা কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন। এক্সারসাইজ খাতাটি সাধারণ স্কুল এক্সারসাইজ খাতা হবে, তবে তার প্রতিটি পাতায় পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া থাকবে এবং কোন পাতা খুলে ফেলা হয়েছে কিনা মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ সব কাগজে পত্র লিখার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

(৫){কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত পূর্ব অনুমতিক্রমে ভদ্র আচরণকারী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং বিচারাধীন বন্দীদেরকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই এমন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বা সরকার অনুমোদিত অন্যান্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; শর্ত থাকে যে, বই কেনা বা পরীক্ষা বা অন্য কোন ফি বাবদ এ উপলক্ষ্যে সরকারের অতিরিক্ত কোন খরচ হবে না। পরীক্ষা কারাগারের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে ।

নং- ২৭৭ এইচ জে, তারিখ ১১-২-১৯৪৬ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৫৫ । কারারক্ষীর সঙ্গে বা সঙ্গবিহীন সকল অবস্থায় বন্দীদেরকে বাজারে যেতে দেয়া নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫৬। যতজন বন্দী সাজা খাটার কথা রয়েছে ততজন ঐ দিন উপস্থিত আছে কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্যে প্রত্যেক মাসের শেষ দিনে কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা গণনা করতে হবে।

বিধি-৬৫৭। এই কোডে অনুমোদিত না হলে-

(১) কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(২) কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(৩) কোন ব্যক্তি কোন বন্দীর সাথে পত্র যোগাযোগ করবে না বা যোগাযোগের চেষ্টা করবে না।
কোন ব্যক্তি এ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করলে বা অপরাধের সহায়তা করলে, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক দুইশত ঢাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

 

বিধি-৬৫৮। যখন কোন ব্যক্তি কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত অবস্থায় ৬৫৭ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করে, এবং অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারীর দাবী অনুযায়ী নাম-ঠিকানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, অথবা অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট কোন নাম-ঠিকানা প্রদান করে, যা ঐ কর্মকর্তা- কর্মচারী মিথ্যা বলে জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারী তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই তাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করবেন, এবং অতঃপর অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা এমন ভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন যেন অপরাধটি তার উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়েছে ।

বিধি-৬৫৯। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারা মোতাবেক কারাগারে নিষিদ্ধ কাজের তালিকা এবং শাস্তি উল্লেখ করে জেল সুপার কারাগারের বাহিরে সহজ দৃষ্টি গোচর স্থানে ইংরেজী এবং বাংলা ভাষায় লিখিত একটি নোটিশ বোর্ড টানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবেন ।

বিধি-৬৬০। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৬০ (এফ) ধারা অনুসারে নিম্নোক্ত দ্রব্যাদি উক্ত আইনের ৪২ এবং ৪৫ (১২) ধারার অর্থ অনুসারে কারাগারে প্রবেশ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি বলে গণ্য হবে, যদি না এ ধরনের কোন দ্রব্য-

(ক) কর্তপক্ষের অনুমোদন মোতাবেক কোন কারাগারে প্রবেশ করানো হয় বা কারাগার হতে বাহির করা হয়,

(খ) জেল সুপার বা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সেগুলো গ্রহণ করে, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাবন্দীর শ্রেণী

আজকে আমরা কারাবন্দীর শ্রেণী  প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

কারাবন্দীর শ্রেণী । জেল কোড

বিধি-৬১৬। প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ৬ প্রকারের বন্দী থাকবে, প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার হতে আলাদা ভাবে রাখতে হবে-

(১) সিভিল বন্দী

(২) বিচারাধীন বন্দী

(৩) মহিলা বন্দী

(৪) ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী

(৫) পুরুষ বন্দী যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি

(৬) অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।

বিচারাধীন বন্দী, মহিলা বন্দী এবং কিশোর বন্দীদের বিষয়ে যথাক্রমে সপ্তবিংশ, ঊনত্রিংশ এবং ত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

বিধি-৬১৭। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন I, II ও III- এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবো-

(১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ ডিভিশন-] প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-

(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী;

(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের ; এবং

(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজা প্রাপ্ত নয়-

(এ) নৃশংসতা,নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ;

(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা;

(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ;

(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা;

(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।

(২) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন-II প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হবে না; সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণী বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীর চরিত্র এবং প্রাক- পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে।

(৩) যে সকল বন্দী ডিভিশন I এবং ডিভিশন II এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন- III এর আওতাভুক্ত হবে।

(৪) {হাই কোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, স্পেশাল জজ, সহকারী দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন- | বা ডিভিশন- II প্রদানের জন্যে প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্যে (সহকারী দায়রা জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবে বা পুনর্বিবেচনা করবে।}

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

(৫) সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায়, সুপারিশকৃত যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন- | বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয় তা হলে তারা ডিভিশন- | সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন- II সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন- II বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন III সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৬) ডিভিশন- I এবং ডিভিশন- II বন্দীদেরকে যথাসম্ভব বিধি ১০৬৮(৩) অনুযায়ী পৃথক রাখতে হবে।} নোট- ডিভিশন- । এবং ডিভিশন- II বন্দীদের বিষয়ে পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৬১৮ । – নিম্নোক্ত বন্দীদেরকে “অভ্যাসগত অপরাধী” বলে গণ্য করা হবে :-

(১) যে ব্যক্তি দণ্ড বিধির দ্বাদশ,ষোড়শ,সপ্তদশ,বা অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছে কিংবা বর্তমান মামলার অবস্থায় দৃশ্যমান হয় যে সে উক্ত পরিচ্ছেদ সমূহের যে কোনটি বা সব কয়টির অধীনে এক বা একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

(২) যে ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (ধারা ১০৯ এবং ১১০ সহপঠিত) কারাগারে সোপর্দ বা আটক রাখা হয়েছে।

টীকা- ১। ফৌজদারি কার্যবিধি। ধারা-১২৩- মুচলেকা খেলাপ করার দরুন কারাদণ্ড, ধাতু ১০৯-ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা, ধারা-১১০. অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণের মুচলেকা।

(৩) উপ-বিধি (১)-এ বর্ণিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, এমনকি পূর্বে দণ্ডিত না হলেও বর্তমান মামলার ঘটনা হতে যদি দেখা যায় যে, সে স্বভাবগতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাত বা চোর দলের সদস্য কিংবা দাস ব্যবসা বা চোরাইমালের এজেন্ট;

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তবে তা সরকারের বিবেচনা সাপেক্ষ

(৫) – (৬) অকার্যকর।

{(৭) এই বিধিতে অভ্যাসগত অপরাধী হিসাবে শ্রেণীভুক্ত বন্দীদেরকে বি শ্রেণীর বন্দী বলা হবে। ব্যাখ্যা- আলোচ্য সংজ্ঞার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “দণ্ড” বলতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১১৮ ধারা (১১০ ধারা সহ পঠিত) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশেকেও বুঝাবে।

II. – একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করার দায়িত্ব সাজা প্রদানকারী আদালতের, যদি আদালত তা না করেন, তবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারেন, বা সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হলে, সাধারণত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে নিজেই শ্রেণীক্ত করবেন। শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

 

III. কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ পূর্বক এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (১০৯ ও ১১০ ধারাসহ পঠিত) আটক কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা যাবে না এবং এরূপ আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

IV – কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যে ক্ষেত্রে যিনি হন, তাদের নিজেদের দ্বারা ধার্য শ্রেণী বিভাজন সংশোধন করতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের প্রদর শ্রেণী বিভাগও পরিবর্তন করতে পারেন, শর্ত থাকে যে এ ধরনের পরিবর্তন সে সব কারণের উপর ভিত্তি করে করতে হবে, যে সব কারণ ইতোপূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয় নি।

নোট- উপরের II, III এবং IV প্যারায় জেলা ম্যাজিট্রেট বলতে সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝায় যে জেলায় আসামী দণ্ডিত হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করেছে কিংবা আটক আছে ।

V – প্রত্যেক অভ্যাসগত অপরাধীকে সম্ভব হলে এমন বিশেষ কারাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে অভ্যাসগত অপরাধী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে রাখা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শক কারণ লিপিবদ্ধ করে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীকেও এ ধরনের বিশেষ কারাগারে পাঠাতে পারেন, যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী খুব দুর্ধর্ষ বা অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, সে অন্যান্য বন্দীদের খারাপ ইন্ধন জোগাচ্ছে বা জোগাতে পারে, তাই তাকে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীদের সাথে রাখা উচিত হবে না।

VI. উপবিধি II III এবং IV এ ” জেলা ম্যাজিট্রেট” বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটও অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
নং- ৫৫৬৬ এইচ জে তারিখ ৩-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত।

বিধি ৬১৯-৬৩২ । উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

জেল কোড অনুযায়ী আপীল ও পিটিশন

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন । জেল কোড

নোট- আপীল সম্পর্কে ফৌজদারি কার্য বিধির একত্রিংশ অধ্যায়ের বিধানাবলীর ধর মনোযোগ দিতে হবে।

বিধি-৫৯৯। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইচ্ছা করলে আপীল করতে পারবে, আদালতে আপীল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছবে বা না পৌঁছবে, তা সত্ত্বেও আপীলকারীকে আপীল করার উদ্দেশ্যে সকল যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে এবং তার অনুরোধ অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি আপন আবেদন এমন বিলম্বে পেশ করা হয় যে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্বে আপীল পেশের কারণ সম্পর্কে আপীলকারী বন্দীর বক্তব্যসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার মতামত। বিবৃ করে (যদি থাকে) আপীল আবেদনটি প্রেরণ করবেন।

টীকা-। যে সব ক্ষেত্রে আপীল চলে না-

(১) আসামীর দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে (ধারা ৪১২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(২) দায়রা জজ প্রদত্ত অনুর্ধ্ব এক মাস কারাদণ্ড; দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব পঞ্চাশ টাকা জরিমানা (ধারা-৪১৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৩) সামারী ট্রায়ালে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুইশত টাকা জরিমানা করা হলে (ধারা-৪১৪,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০০। দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে আপীল দায়েরের সময় সীমা :-

  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৭দিন (ধারা-১৫০,তামাদি আইন)
  • মৃত্যুদণ্ড ভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৬০দিন (ধারা-১৫৫, তামাদি আইন)
  • অন্য কোন আদালতে আপীল -৩০দিন (ধারা-১৫৪,তামাদি আইন)

টীকা-১। তামাদি প্রশ্নে কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তি যে দিন জেল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন দাখিল করবেন সেদিন আপীল আদালতের কাছে দায়ের হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। (৯ মাস ২৫৮)।

টীকা-২। যে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপীল করতে হবে (ধারা ৪০৭- ৪১০, ফৌজদারি কার্যবিধি)-

আদেশ প্রদানকারী আদালত আপীল আদালত
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট দায়রা জজ
সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ৫ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা হাইকোর্ট বিভাগ
দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগ

 

টীকা-৩। আপীল সাপেক্ষে আদালত দণ্ড স্থগিত এবং আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন (ধারা ৪২৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৪। সি আর মামলায় ফরিয়াদি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার খালাসের বিরুদ্ধে কিংবা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন (ধারা ৪১৭,৪৭১-ক, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৫। খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদালত আসামীকে পুনরায় গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন (ধারা-৪২৭, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৬০১। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল প্রস্তুতির জন্যে আগত আত্মীয়-স্বজন এবং আইনজীবির সঙ্গে সাক্ষাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে; এ ধরনের সাক্ষাত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে, কিন্তু শ্রুতির অগোচরে হতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার পক্ষে কাজ করার জন্যে কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করে আম-মোক্তার নামায় স্বাক্ষর প্রদানের অনুমতি দেয়া যাবে; আম-মোক্তার নামা ষ্ট্যাম্প আইন অনুসারে যথাযথ ষ্ট্যাম্পে প্রদান করতে হবে এবং আম-মোক্তার নামায় বন্দীর স্বাক্ষর জেলার বা ডেপুটি জেলার কর্তৃক অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০২। জেল সুপারের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন বন্দী বা কাৱা কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোন বন্দীর পক্ষে আপীল বা আবেদন লিখতে বা প্রস্তুত করতে বা পেশ করতে পারবেন না।

বিধি-৬০৩। (১) যদি কোন বন্দী জানায় যে সে আপীল করতে আগ্রহী কিন্তু আপীল প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করার জন্যে তার পক্ষে আগ্রহী কোন আত্মীয়,বন্ধু বা এজেন্ট নেই, সে ক্ষেত্রে জেল সুপার ২৭ নম্বর জেল ফরমে আদালতের কাছে রায়ের বা আদেশের একটি কপি চেয়ে আবেদন প্রেরণ করবেন।

(২) রায়ের বা আদেশের কপি পাবার পর, বন্দী যদি লিখতে পারে তবে তারে তার আপীল লিখার অনুমতি দেয়া হবে। যদি বন্দী নিজে লিখতে অক্ষম হয় তা হলে জেল সুপার অন্য একজন বন্দী বা একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়ে তা লিখার ব্যবস্থা করবেন।

(৩) যদি ৭ দিনের মধ্যে রায়ের কপি না আসে তা হলে জেল সুপার একটি তাগিদ প্রদান করবেন এবং অতিরিক্ত বিলম্ব ঘটলে বিষয়টি কার মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

(৪) যে বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আপীলকারী বন্দীর পক্ষে আপীল লিখবেন, তিনি আপীল কারীর নির্দেশ মোতাবেক লিখবেন, কি লিখা উচিত এ ধরনের কোন পরামর্শ প্রদান করবেন না ।

(৫) জেল সুপার কোন প্রকার বিলম্ব না করে রায় বা আদেশের কপিসহ প্রস্তুতকৃত আপীলটি আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন।

(৬) যদি কোন রায় বা আদেশের কপি পাবার পর তা বন্দীর কোন আত্মীয়- স্বজন,বন্ধু বা আইনজীবি তার পক্ষে আপীল প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করতে চায় তা হলে বন্দীর সম্মতিতে তা হস্তান্তর করা যাবে।

(৭) যদি একাধিক বন্দীকে একই মামলায় সাজা প্রদান করা হয়, একই সঙ্গে একই আদালতে তাদের পেশকৃত আপীলের সঙ্গে রায়ের একটি কপি সংযুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন একজনের জন্য আপীলে । প্রদত্ত আদেশ একই সঙ্গে আপীলকারী একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

টীকা- যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেওয়া হয়, তখন এইরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে (ধারা ৪১৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৮) কোন বন্দীকে রায়ের কপি পাবার আগে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে, রায়ের কপি যখন পাওয়া যাবে তখন যে কারাগারে সে আটক আছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট তাড়াতাড়ি তা প্রেরণ করতে হবে।

(৯) কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত সামরিক বন্দীর আপীল আবেদন দণ্ডাদেশের কপিসহ কমাণ্ড হেড কোয়ার্টার্সে প্রেরণের উদ্দেশ্যে যে জেলায় কারাগার অবস্থিত সে জেলার জিওসি’র নিকট পাঠাতে হবে।

টীকা- আপীলকারী কারাগারে থাকলে সে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের আবেদনপত্র কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দাখিল করতে পারবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত আবেদনপত্র ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবে (ধারা-৪২০. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৪। সকল আপীল এম ৯৭ বি বা সি নম্বর হাইকোর্ট ক্রিমিনাল ফরমে পিটিশন আকারে লিখিত ভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আপীলকারী কারাগারে অন্তরীণ থাকলে কারাগার হতে তার প্রেরিত আপীল স্ট্যাম্প ফি মুক্ত হবে। সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে যে আপীলকারী কর্তৃক যথাযথভাবে আপীলটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা।

আপীলকারীর স্বাক্ষর জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সকল আপীল আবেদন জেল সুপার কর্তৃক প্রেরিত হবে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরের জন্যে আপীল এম ১০৪ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে প্রেরণ করতে হবে। কারাগারে অন্তরীণ একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সকল বন্দী একরে কিংবা পৃথক পৃথক ভাবে আপীল বা রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

বিধি-৬০৫ । যখন কোন বন্দী হাইকোর্টে আপীল করে, তখন জেল সুপার উক্ত আপীলের বিষয়ে দায়রা আদালতকে (এম) ১০৫ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে অবহিত করবেন।

বিধি-৬০৬। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আপীল করার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সম্পর্কে তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে ।

বিধি-৬০৭। ডিভিশন I এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে বিধি ১০৬৮ অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্র ব্যতীত এবং সাক্ষ্য প্রদান ও অন্য মামলার অভিযোগের কারণে স্থানান্তরের প্রয়োজন ব্যতীত এবং বিধি ৮৪৩ অনুযায়ী এ বিধি অকার্যকর হবার ক্ষেত্র সমূহ ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল দায়েরের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপীল দায়ের হয়ে থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে, সেখান থেকে অন্য কারাগারে সাধারণত স্থানান্তর করা যাবে না।

কোন বন্দীকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং বেত্রদণ্ড অনিষ্পন্ন অবস্থায় কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা যাবে না।

কোন বন্দীকে বদলি করার পূর্বে সে আপীল করতে ইচ্ছুক কিনা জেল সুপার তা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বন্দী জানায় যে, কারাগারের বাহির থেকে তার জন্যে আপীল করা হবে তবে আপীল দায়েরের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বদলি করা যাবে না।

নোট- যদি কোন কারণে কোন বন্দীকে আপীলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বদলি করা প্রয়োজন হয়, তবে একই দণ্ডাদেশে একাধিক বন্দী থাকলে তাদের দল ছুট করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে তারা যে যে কারাগারে থাকবে সেখান থেকে পৃথকভাবে আপীল করতে হবে।

বিধি-৬০৮ । কারা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আপীল প্রস্তুতকারী কোন বন্দী আপীল দায়েরের সময় সীমার মধ্যে অন্য কারাগারে বদলি হয়ে গেলে, তার বদলি সম্পর্কে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী সর্বশেষ আদালতকে জানাতে হবে। যখন কোন বদলিকৃত বন্দীর মুক্তি, বা সংশোধিত ওয়ারেন্ট বা তার আপীলের বিষয়ে আপীল আদালতের কোন পত্র জেল সুপার কর্তৃক গৃহীত হয়, তা তাড়াতাড়ি ডাক যোগে বদলিকৃত কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৯। যদি আপীল দায়েরের পর পনর দিনের মধ্যে বা হাইকোর্ট বিভাগ হতে এক মাসের মধ্যে জেল সুপারকে কোন ফলাফল জানানো না হয়, জেল সুপার ১৫ নম্বর জেল ফরমে দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেটের নিকট একটি তাগিদ পত্র প্রেরণ করে আপীলের ফলাফল জানানোর জন্যে অনুরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে যুক্তি সংগত বিরতিতে পুনরায় পত্র দিবেন। যখন আপীলের ফলাফল জানা যাবে তা বন্দীকে জানাতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে লিখিত হবে। নোট- এই বিধিতে বর্ণিত কার্যক্রম বন্দীকে বদলি করা হলে বদলিকৃত কারাগার হতেও গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৬১০। (১) সাজা বাতিলের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আপীল আদালত নির্ধারিত ফরমে ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন। আদালত একই সময়ে মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। উক্ত ওয়ারেন্ট এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ সম্বলিত আপীল আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর জেল সুপার দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন।

(২) যখন আপীলে দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়, আপীল আদালত পরিবর্তিত আদেশ সম্বলিত একটি নুতন ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। অনুরূপ ওয়ারেন্ট দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

যখন ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর আপীল আদালতে প্রেরণ করা হবে, আপীল আদালত তা দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন। তবে যখন কোন আপীলকারী বন্দীকে আপীল অনিম্পন্ন অবস্থায় জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়, সে আদালতে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপীল আদালত জেল সুপারের নিকট নুতন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন না ।

(৩) যখন আপীল আদালত সাজা বহাল রাখেন তখন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। উপরের বিধি মোতাবেক আপীল আদালত আপীলকারী বন্দীকে ফলাফল জানানোর জন্যে জেল সুপারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

(৪) এই বিধি কোন আদালতের প্রদত্ত দত্ত হ্রাসকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের কপি বন্দীর ওয়ারেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বিধি-৬১১ । যখন কোন আপীল আদালত কোন বন্দীর দণ্ড বাতিল ঘোষণা করে পুন:বিচারের আদেশ প্রদান করেন, বন্দীকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কোন ওয়ারেন্ট পাওয়া না গেলে ( এবং সে অন্য কোন দণ্ডাদেশ মূলে সাজারত না থাকলে), তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে পুন:আটক রাখা হবে। জেল সুপার বন্দীকে আটকাদেশ প্রদানের ওয়ারেন্ট জারীর জন্য আদেশদানকারী আদালতকে অনুরোধ জানাবেন। ওয়ারেন্ট পাবার পর তা সে আদালতে প্রদর্শন করতে হবে, যে আদালতে বন্দীর পুনর্বিচার হবে।

বিধি-৬১২। ((এ) একজন বন্দী আদালতে আপীল করতে পারে। যদি বন্দী উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়েরের জন্য অগ্রসর হয়, তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তার নিকটজন বা এজেন্ট দ্বারা করতে হবে, কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে কিছু করবে না ।

(বি) (১) একজন বন্দী আপীলের জন্যে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরেরও অধিকারী। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে সে রায়ের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করতে হবে।

(২) একজন বন্দী আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের উদ্দেশ্যে তার আবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারেন, যিনি তা সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(৩) আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে-

(ক) আপীলের যৌক্তিকতা,

(খ) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(গ) যে ক্ষেত্রে দায়রা আদালত আবেদনকারীকে খালাস প্রদাহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সরকারের আপীলের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে দণ্ড প্রদান করেছে, সে ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(ঘ) যদি আবেদন করতে বিলম্ব হয়, বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বক বিলম্ব প্রমার্জনের আবেদন।।

নং- ৬৩০ এইচ জে তারিখ ২১-৪-১৯৫৪ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বিধি-৬১৩। (১) যদি কোন বন্দীর আপীল হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়, বা যাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সাজা প্রদান করেছেন, তিনি হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার প্রদর আদেশের তিন মাসের মধ্যে সাজা মার্জনা বা হ্রাসের জন্যে | রাষ্ট্রপতির} নিকট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক দায়ের করা না হলে পিটিশন আটক করা হবে, যদি না কোন বিশেষ কারণ উদ্ভব হয় ।

(৩) বন্দীর পারিবারিক দুর্দশা বা শারীরিক বা সদাচারের কারণ সম্বলিত পিটিশন সাধারণত আটক করা হবে।

(৪) উপ-বিধি(৩) এর আওতায় আটককৃত কোন পিটিশন অগ্রগামী করা যেতে পারে, যদি কোন সরকারী পরিদর্শক তা প্রেরণের জন্যে পরামর্শ প্রদান করেন।

নোট-১। এই কোডের ৯৯১ বিধিতে বর্ণিত শর্তাধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ক্ষমার পিটিশন দায়ের করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে ।

নোট-২। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীর স্বাস্থ্যগত খারাপ অবস্থা বা ভাল আচরণের কারণে সাজা হ্রাসের সুপারিশ করতে পারবেন, কিন্তু তা রাষ্ট্রপতির নিকট বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হবে না।

বিধি-৬১৪। অর্ধ মার্কিন ফুলস্কেপ কাগজে এবং বন্দীর মাতৃভাষায় লিখতে হবে। বন্দীর স্বাক্ষর বা টিপসহি একজন কারা কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পিটিশন হবে । পিটিশন জেল সুপার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর পিটিশন সরাসরি সরকারের {স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী পিটিশনে তার শারীরিক খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তবে তার সাথে মেডিকেল অফিসারের একটি বক্তব্য পেশ করতে হবে।

যদি বন্দীর পক্ষে কোন পিটিশন প্রস্তুতের পর জেল সুপারের নিকট বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্যে পেশ করা হয়, বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণ করার পর পিটিশন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট তা আর ফেরত দেয়া যাবে না। জেল সুপার পিটিশন যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব বা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, প্রেরণ করবেন।

বিধি-৬১৫। যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা পূর্বতন অফিস কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার নিকট জরুরী পারিবারিক বিষয়াদি, দেওয়ানী মামলা, বিষয়-সম্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে পিটিশন করতে চায়, তা হলে জেল সুপার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক তা প্রতিস্বাক্ষরান্তে প্রাপকের নিকট প্রেরণ করে দিবেন, শর্ত থাকে যে, এ ধরনের কোন আবেদন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা সরকারের নিকট প্রেরণ করা যাবে না ।

সাজাপ্রাপ্ত {বিদেশী নাগরিকদেরকে } কোন জরুরী বিষয়ে তাদের সরকারের রাষ্টদূতের নিকট জেল সুপারের বিবেচনা মতে আবেদন করার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে; কিন্তু অনুরূপ আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বা { মেট্রাপলিটান শহরের কারাগারের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

আজকে আমরা  বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড । জেল কোড

{বিধি ৫৯৮-ক । (১)দণ্ডের যথেষ্ট পরিমাণ মেয়াদ অতিবাহিত করার পর সমাজে নিরাপদে মুক্তি প্রদান করা যায়, অন্যদিকে একই সঙ্গে কারা প্রশাসনের অর্থ সাশ্রয় করা যায়, এমন কতিপয় শ্রেণীর কিছু সংখ্যক সাজাপ্রাপ্ত সংশোধিত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি উপদেষ্টা বোর্ড নিয়োগ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের ধার্য তারিখ মোতাবেক বোর্ড প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বছরে কমপক্ষে দুইবার বসবে।

(২) { বোর্ডের গঠন নিম্নরূপ হবে-

  • চেয়ারম্যান -. কারা মহাপরিদর্শক ।
  • ভাইস চেয়ারম্যান – সংশ্লিষ্ট জেলা জজ / অতিরিক্ত জেলা জজ (জেলা জজ সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)
  • সদস্য – সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক / অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেলা প্রশাসক সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)।
  • সদস্য – কারা পরিদর্শকগণ হতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দু’জন বেসরকারী সদস্য।
  • সদস্য-সচিব – কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক।}

নং ৪৪-এইচ.জে (১) তারিখ ২৪-১-১৯৭০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-খ ৷ (১) তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্যে সাজাপ্রাপ্ত অনভ্যাস গত কোন বন্দী রেয়াতসহ দুই বৎসর বা দণ্ডের অর্ধেক, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর এবং কোন অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ আড়াই বৎসর কিংবা দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর তার অকালীন মুক্তির বিষয় বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।

(২) মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্যে বিশেষ রেয়াতসহ অর্জিত মোট রেয়াত গণনা করতে হবে, তবে তা দণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশী কিংবা অতিবাহিত সময়ের বেশী হবে না।

(৩) ধর্ষণ, জালিয়াতি, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসমূলক অপরাধে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয় বোর্ডের নিকট উপস্থাপিত হবে না। দণ্ড বিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, 472,473, ৪৭৪, ৩৯৬, ৩৯৭,৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০, ৪০১ এবং ৪০২ এবং ৪৮৯-এ, ৪৮৯-বি, ৪৮৯-সি এবং ৪৮৯-ডি ধারায় দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বোর্ডের বিবেচনার যোগ্য হবে না।

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ভবঘুরে বা গুণ্ডা শ্রেণীর সদস্য এমন অভ্যাসগত অপরাধী, তিনটির বেশী সাজা পেয়েছে এমন অভ্যাসগত অপরাধী এবং ৬১৮ বিধির আওতায় অভ্যাসগত অপরাধীদেরকে বোর্ডের বিবেচনার আওতা বহির্ভূর্ত রাখা হবে।

বিধি ৫৯৮-গ ৷ বোর্ড দণ্ডবিধির ১৪৭ ৩৬৩ ৩৬৪ ৩৬৫ ৩৬৬ ৩৬৭ ৩৬৮, 1 ৩৬৯ (অপহরণ এবং হরণ), ৩৭৭ (অস্বাভাবিক অপরাধ) এবং ৪১২ ধারা এবং মুদ্রা জাল করার দায়ে দণ্ডিত অভ্যাসগত এবং অনাভ্যাসগত উভয় প্রকার সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয়ও বিবেচনা করবে। তা ছাড়া বোর্ড নারী সংক্রান্ত অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত অভ্যাসগত বন্দীদের বিষয়ও বিবেচনা করবে, তবে শর্ত থাকে যে, সে সকল অপরাধ এমন যেখানে পাশবিকতা ছিল না, দণ্ডিত ও (ভিকটিম) মহিলা পরস্পর সম্মতিতে ছিল।

বিধি ৫৯৮ ঘ ৷ অকার্যকর।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-ঙ। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের বিষয়েও বোর্ড পর্যালোচনা করবে, এ ক্ষেত্রেও বোর্ড সাধারণ আদালতে দণ্ডিতদের প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

বিধি ৫৯৮-চ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বহির্ভূত রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয়ও বোর্ড বিবেচনা করবে, তবে এরূপ বিবেচনার পূর্বে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৫৯৮-ছ। বোর্ড বৈঠক চলাকালে দণ্ডের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হয়নি কিন্তু পরবর্তী বোর্ড বৈঠকের আগে পূর্ণ হবে, এমন যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মুক্তির জন্যে বোর্ড সুপারিশ করতে পারবে।

বিধি ৫৯৮-জ। (১) যে সকল বন্দী কুষ্ঠ, যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের বিষয়েও বোর্ড বিবেচনা করবে।

নোট-(ক) যদি কুষ্ঠ রোগ অন্যদের জন্য বিপদজনক হতে পারে মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রতিবেদন প্রদান করেন এবং যদি বন্দী এই শর্তে রাজী থাকে যে, তাকে মুক্তি প্রদান করা হলে তার আত্মীয় স্বজনরা যদি তাকে গ্রহণ না করে তা হলে সে কুষ্ঠ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হবে তবে তাকে মুক্তি প্রদানের বিষয় বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় তাকে এরূপ শর্তে মুক্তি দেয়া হবে, মেডিকেল অফিসার তার প্রতিবেদনে যেরূপ উল্লেখ করেন।

নোট-(খ) অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

বিধি ৫৯৮-ঝ। (১) বোর্ড কেবলমাত্র অপরাধের ধরন বিবেচনা করবে না, সে সঙ্গে বন্দীর চরিত্র এবং পূর্ব ইতিহাস, কারাগারে তার আচরণ এবং ইতিমেধ্যে অতিবাহিত কারা ভোগের ফলাফল এবং তাকে মুক্তি প্রদান সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে কিনা প্রভৃতি বিবেচনা করবে। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীর পূর্ব পরিচিতি যাচাই সাধারণত আবশ্যক হবে না: কারাগারে তার আচরণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট হবে।

(২) সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকে নিম্নোক্ত তথ্যাদি পেশ করবেন-

(ক) দণ্ড প্রদানকারী আদালতের রায়;

(খ) বন্দী যে জেলার বাসিন্দা সে জেলার অফিসার হতে প্রাপ্ত বন্দীর পূর্ব ইতিহাস এবং চরিত্র; এবং

(গ) বন্দীর কারাগারের রেকর্ড।

সদস্য-সচিব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশ সুপারের মতামতও গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা ঐচ্ছিক হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার বোর্ডের নিকট বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং মুক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি উপস্থাপন করবেন।

নোট, কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীদের বিষয়ে বোর্ডের সদস্য-সচিব বন্দীর প্রাক-পরিচিতি, চরিত্র, অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণী এডজুট্যান্ট জেনারেল থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিধি ৫৯৮-ঞ। আওতা ভূক্ত জেলা কারাগারের জেল সুপারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের { সিনিয়র) জেল সুপারের নিকট এ বিধি সমূহে বর্ণিত উপায়ে তাদের কারাগারে আটক মুক্তির যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয় প্রেরণ করবেন।

বিধি ৫৯৮-ট। বোর্ডের সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকের কার্যবিবরণী রেকর্ড করবেন এবং ১২৩ নম্বর জেল ফরমে অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে সুপারিশকৃত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বর্ণনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্রসহ সরকারের আদেশের জন্যে পেশ করার উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দী মুক্তি

আজকে আমরা  বন্দী মুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বন্দী মুক্তি । জেল কোড

নোট- মুক্তির তারিখ গণনার জন্যে একাদশ অধ্যায়ের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিধি-৫৬৬। পরবর্তী মাসে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির তারিখ রয়েছে, পূর্ববর্তী মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে তার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

বিধি-৫৬৭। পরবর্তী পক্ষ সমূহে মুক্তি পেতে পারে এমন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দীদের স্লিপ (পি. আর, স্লিপ) প্রত্যেক মাসের ১ম এবং ৩য় রবিবারে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করতে হবে।

বিধি-৫৬৮। ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৬৫ ধারার বিধানমতে আদেশাধীন সাজা প্রাপ্ত বন্দী মুক্তির পর কোথায় বসবাস করবে মুক্তির পূর্বে জেলার তার রিলিজ ডাইরীতে সে ঠিকানা লিপিবদ্ধ করবেন। উক্ত ঠিকানা রিলিজ নোটিশেও লিখতে হবে এবং এর তিন কপি ঠিকানায় বর্ণিত জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

টীকা– কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির ২১৫,৪৮৯-ক, ৪৮৯-খ, ৪৮৯-গ, ৪৮৯-ঘ ধারা অথবা দ্বাদশ বা সপ্তদশ অধ্যায় অনুসারে তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে একবার দণ্ডিত হবার পর যদি একই ধারা সমূহ বা অধ্যায়দ্বয়ের যে কোনটি অনুসারে পুনরায় তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সময় আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, এই দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার তারিখ হতে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত তার বাসস্থান ও বাসস্থানের পরিবর্তন বা বাসস্থান হতে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানাতে হবে (ধারা eve, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৬৯। ১। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ ১৪ বৎসর সাজা অতিবাহিত করার পর তার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে, প্রস্তাব সম্ভাব্য মুক্তির তারিখের দুই মাসের কম বা তিন মাসের বেশী পূর্বে প্রেরণ করা যাবে না।

নোট-১। সকল প্রকার বিশেষ রেয়াত গণনায় ধরতে হবে।

নোট-২। অকার্যকর।

নোট-৩। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত না হলে ১৪ বৎসর সাজা ভোগের পর সরকার মুক্তি প্রদান না করলে বিধি ৭৭১ অনুসরণ করা হবে এবং পূর্ণ মেয়াদ শেষে মুক্তি দেয়া হবে। সরকারের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে সে সময় সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে না।

 

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭০। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টসহ জেল সুপারের নিকট নিয়ে আসবেন এবং জেল সুপারের উপস্থিতিতে তাকে জেল গেইটে মুক্তি দেয়া হবে । বন্দীর চূড়ান্ত মুক্তির সকল কাগজ জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়ে থাকলে তার মুক্তির আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাকে যে কারাগারে বদলি করা হয়েছে সে কারাগারে রেজিস্টার্ড ডাক যোগে পাঠাতে হবে।

বিধি-৫৭১। কোন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে ভর্তি রেজিষ্টারে বর্ণিত তথ্যাদি মিলিয়ে দেখতে হবে। জেল সুপার বা জেলার আরো নিশ্চিত হবেন যে, সঠিক লোককেই হাজির করানো হয়েছে এবং রেয়াতের ব্যতিক্রম ব্যতীত তার দণ্ডাদেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হয়েছে। মুক্তি প্রদানের সময় বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসার তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৫৭২। মুক্তির তারিখে বন্দী যে কারাগারে আটক ছিল সাধারণত সে কারাগার হতে মুক্তি পাবে,তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, কোন বন্দীকে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে এবং সেখান থেকে মুক্তি প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৭৩৷ লক আপ সময়ের পর কোন কারণেই কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না ৷ কোন আদালত থেকে মুক্তির আদেশ সূর্যাস্তের পরে জারী করা উচিত হবে না এবং যদি করা হয় তাতে উল্লেখ করতে হবে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরদিন সকালে মুক্তি প্রদান করতে হবে। সাধারণত বন্দীদের সকালের নাস্তা খাবার শেষ হবার পর এবং সূর্যোদয়ের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বন্দী মুক্তি প্রদান করতে হবে । বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে অফিসে হাজির করতে হবে এবং তার কাছ থেকে কারাগারের পোশাক ও জিনিসপত্র বুঝে নিতে হবে।

বিধি-৫৭৪। কোন বন্দীর মুক্তির তারিখ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলে তাকে পূর্ব দিন মুক্তি দিতে হবে। তবে বিচারে-দেনদারকে দাবী প্রাপকের সম্মতিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুক্তি দেয়া যাবে যদি সে দিন মাসের প্রথম তারিখ হয়।

বিধি-৫৭৫। টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশে কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না।

বিধি-৫৭৬। ছয় মাস বা ততোধিক মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময় জেল সুপার ৩১ নম্বর ফরমে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী তার সাজার পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করেছে। বন্দী কোন রেয়াত অর্জন করে থাকলে সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৫৭৭। বন্দী যে সকল জিনিস পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিল মুক্তি প্রদানের সময় সে গুলো এবং তার আনীত কোন জিনিস বিক্রি করা হয়ে থাকলে তার টাকা এবং নগদ জমা টাকা জেল সুপার বা জেলার বন্দীকে ফেরত প্রদান করবেন। জিনিসপত্র ফেরত প্রদানের প্রাপ্তি স্বীকার বন্দী থেকে স্বাক্ষর করে রাখতে হবে।

বিধি-৫৭৮। বন্দী যে পোশাকে কারাগারে এসেছিল সে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাধারণত তাকে মুক্তি দেয়া হবে। সে সব পোশাক ইতোমধ্যে নষ্ট বা নোংরা হয়ে গেলে তার নিজের কেনা পোশাক বা কারাগার থেকে দেয়া সাধারণ কাপড় পরিহিত অবস্থায় মুক্তি দেয়া হবে। মুক্তি প্রদানের আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করতে হবে।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭৯। (১) কোন বন্দীর বাড়ি কারাগার থেকে ৫ মাইলের বেশী দূরে অবস্থিত হলে এবং তার কাছে দুই টাকার বেশী না থাকলে প্রতি পনর মাইল দূরত্বের জন্যে তাকে ২৫ পয়সা হারে ভাতা দেয়া হবে ।

(২) রেল বা ষ্টিমারে যাবার জন্যে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে তার বাড়ির ষ্টেশন পর্যন্ত নিম্নতম শ্রেণীর একটি ফ্রি পাস দেয়া হবে।

(৩) নৌকা যোগে পাঠাতে হলে নৌকা ভাড়া করে দিতে হবে।

(৪) ৫ মাইলের কম দূরত্বের জন্যে কোন ভাতা দেয়া যাবে না।

(৫) শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে গাড়ি বা বাস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

(৬) প্রয়োগ নেই।

(৭) কোন মহিলা বন্দীকে মুক্তি প্রদানের কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে তার নিজ জেলায় বদলি করতে হবে। যথাসময়ে বন্দীকে জেল গেইট থেকে নেয়ার জন্যে প্রেরণ করতে হবে। তাকে নেয়ার জন্যে কেউ না এলে এবং তার বয়স ২৫ মুক্তির । একমাস আগে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ বছরের কম হলে একজন মহিলা কারারক্ষীর জিম্মায় তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে।

{(৮) উপ-বিধি (১) এবং (২) কোন বিচারাধীন বন্দীর জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিংবা রেলওয়ে আইনের অধীনে এক মাসের কম মেয়াদে কারাদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।}

(৯) এ বিধি এবং পরবর্তী বিধিতে বর্ণিত ভাতা জেল সুপারের উপস্থিতিতে প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৮০। সকল সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দীকে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। জেল সুপার এ জন্যে একদিন আগে পুলিশ সুপারকে জানাবেন। এদের ভাতা পুলিশের নিকট দিতে হবে।
নোট- এ উদ্দেশ্যে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দী বলতে ১৬ বৎসরের কম বয়সের বন্দীকে বুঝাবে।

বিধি ৫৮১-৫৮২। অকার্যকর।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৮৩। কোন বন্দী মারা গেলে বা দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি পেলে বা জামিনে মুক্তি পেলে দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে এবং সে সঙ্গে মৃত্যু বা মুক্তি বা জামিনের কারণ ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক আদেশে দত্ত প্রাপ্ত হলে মোট দণ্ড ভোগ করার পর ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং পুনরায় ধৃত না হলে পলায়নের দশ বছর পর কিংবা দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর, যা শেষে ঘটে, তার দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে।

টীকা- দণ্ড সম্পূর্ণরুপে কার্যকর হওয়ার পর যে অফিসার তা কার্যকর করেন তিনি যে ভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজ স্বাক্ষর যুক্ত সার্টিফিকেটসহ ওয়ারেন্টটি যে আদালত প্রদান করেছিলেন সে আদালতে প্রত্যার্পণ করবেন (ধারা-৪০০, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৮৪। যখন কোন বন্দীকে তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি প্রদানের জন্য কোন আদালত হতে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়, তখন জেল সুপার বন্দীর নিকট হতে তার উপস্থিতিতে বন্ডে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন। যদি ওয়ারেন্টে অন্য কোন ব্যক্তির মুচলেকা প্রদানের আদেশ থাকে তবে, ব্যক্তি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট মুচলেকা প্রদান করেছেন এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদান উল্লেখিত করা হউক, এই মর্মে আরেকটি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করা যাবে না।

বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পর ওয়ারেন্ট এবং মুচলেকা বন্ড, যদি থাকে, ঐ আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। মুক্তি প্রদানের কারণ, তারিখ এবং যে আদালতের আদেশে মুক্ত প্রদান করা হয়েছে তার নাম উল্লেখ পূর্বক কারাবাসের ওয়ারেন্ট সে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে, যে আদালত তা জারী করেছিল।

বিধি-৫৮৫। মুক্তির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় প্রেরিত বন্দীর বিষয়ে যথাযথ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন ৫৬৭ বিধি অনুযায়ী পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী রেয়াত বিধির অধীনে পূর্ণ রেয়াত প্রাপ্ত হয়েছে কিনা ।

বিধি ৫৮৬-৫৯০। অকার্যকর।

বিধি-৫৯১। (১) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সংক্রামক ব্যাধি ব্যতীত অন্য কোন অসুস্থতার কারণে যদি এমন মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয় যে, কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে তার আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাকে নিজ বাড়িতে স্বস্তিতে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দান করাই শ্রেয়, এবং সে যদি কোন জঘন্য অপরাধ বা সমাজের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের দায়ে ৭ বছরের অধিককাল দণ্ডিত না হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

(২) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর অবশিষ্ট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের বেশী না হয়, তা হলে তিনি তাকে অবিলম্বে যুক্তির আদেশ দিতে পারবেন।

(৩) অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্যে সুপারিশসহ জরুরী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

(৪) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আত্মীয়-স্বজন গ্রহণ করতে আগ্রহী না হলে এ পদ্ধতিতে মুক্তি দেয়া যাবে না ।

(৫) এ ধরনের মুক্তি প্রদত্ত বন্দীকে কারা পরিসংখ্যানে মৃত বন্দীর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে ।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৯২। (১) যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শারীরিক অবস্থা এমন মরণাপন্ন হয় যে, কারাগারে থাকলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যুক্তি প্রদান করা হলে বাঁচার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা আছে, তা হলে জেল সুপার যে জেলায় বন্দী অপরাধ করেছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান করবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিম্নোক্ত শর্তাধীনে উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তির অনুমতি প্রদান করতে পারেন-

(ক) যখন বন্দীর অনতিবাহিত সাজার পরিমাণ ৬ মাসের বেশী নেই;

(খ) যখন তাকে মুক্তি প্রদান করলে আরোগ্য লাভের যুক্তি সঙ্গত কারণ রয়েছে;

(গ) যখন রোগটি বন্দীর নিজ ইচ্ছায় অর্জিত না হয়।

(২) {মুক্তির পূর্বে বন্দীকে ১০৬এ নম্বর ফরমে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে এবং তাকে জানাতে হবে। যে, তার এ ধরনের মুক্তি প্রদানের বিষয়টি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে, যদি সরকার অনুমোদন প্রদান না করেন তবে তাকে আবার কারাগারে ফিরে এসে অবশিষ্ট অনতিবাহিত সাজা ভোগ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দীর আত্মীয়-স্বজন হতে মুচলেকা রাখতে হবে এবং তাদের পরিচয় ও ঠিকানা রেকর্ড করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি দিয়ে ধাতব্য খানায় বা হাসপাতালে প্রেরণ করা যাবে না।

(৩) যদি জেলা ম্যাজিট্রেট জেল সুপারের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, জেল সুপার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উপস্থাপনের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করতে পারেন। বিভাগীয় কমিশনার এ বিধিতে উল্লেখিত শর্তাধীনে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারেন অথবা বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্যে প্রেরণ করতে পারেন।

নোট– কুষ্ঠ,যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে গণ্য হবে।

নং- ২১৮২ এইচ জে, তারিখ ২২-১০-১৯৪৫ মূলে সংশোধিত মার

বিধি-৫৯৩। শান্তি রক্ষা কিংবা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্য সাজা ভোগরত কোন বন্দীর অসুস্থতার জন্যে মরণাপন্ন অবস্থা দেখা দিলে তার অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ যাহাই হোক না কেন, জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় প্রদত্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন।

টীকা– জেলা ম্যাজিট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিট্রেট যখন মনে করেন যে, মুচলেকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যে ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাকে মুক্তি দেয়া হলে সমাজের বা কোন লোকের কোন বিপদ ঘটবে না, তখন তিনি তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন। ( ধারা ১২৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৯৪। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যদি সম্পূর্ণ ও আরোগ্যের অতীত অস্ব হয়ে যায়, যা তার স্বেচ্ছায় আরোপিত নয়, কিংবা এমন জরাজীর্ণ কিংবা বৈকল্য হয়ে যায় যে মুক্তি প্রদান করা হলে তার দ্বারা পুনরায় কোন অপরাধ সংঘটন করা সম্ভব হবে না এবং মুক্তি প্রদান করা হলে কোন ঝামেলা বা বিপদের উদ্ভব ঘটবে না, তা হলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট উক্ত বন্দীর ব্যাপারে ১০৫ নম্বর জেল ফরমে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, তবে প্রতিবেদন প্রণয়নের পূর্বে যে জেলায় বন্দী দণ্ডিত হয়েছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

নোট-১। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণীয়।

নোট-২। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর ব্যপারে বিধি ১২৬৫, এবং গুরুতর অসুস্থ বা মরণাপন্ন সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৯৫ এবং ৯৩১ অনুসরনীয়। নোট-৩। যে ক্ষেত্রে এ বিধিসমূহ পর্যাপ্ত নয় সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুসারে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বিধি-৫৯৫। বিধি ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ মোতাবেক মুক্তি প্রদানের প্রতিটি বিষয় সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১০৫ বা ১০৬ নম্বর জেল ফরমে প্রেরণ করতে হবে, তিনি এসব মুক্তি প্রদানের বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

বিধি-৫৯৬। কোন অসুস্থ বা মরণাপন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ বিধি মোতাবেক মুক্তির নির্দেশ প্রদানের পর তার আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যে কারাগারে আটক আছে সেখান থেকে তাকে নেয়ার খরচ বহনের অপরাগতা প্রকাশ করে, তা হলে ঐ সকল আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যে জেলায় বসবাস করে জেলার কারাগারে প্রেরণ করা যাবে। স্থানান্তরের পর এবং মুক্তি প্রদানের আগেই যদি বন্দী মৃত্যুবরণ করে তবে যে কারাগার হতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছিল ঐ কারাগারের পরিসংখ্যানে মৃত্যু রেকর্ডভুক্ত হবে।

বিধি-৫৯৭। {(i) জেল সুপার যদি মনে করেন যে, কোন বন্দীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন প্রয়োজন, কিন্তু যে কারাগারে সে আছে তাতে তজ্জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুবিধাদি নেই, তা হলে যে কারাগারে এরূপ হাসপাতাল আছে সেখানে বন্দীকে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন।

(ii) যদি তা সম্ভব না হয় তবে জেল সুপার বন্দীকে গ্রহরা দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করবেন এবং বন্দী কারাগারে ফেরত না আসা পর্যন্ত কারারক্ষী দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।বাহিরের হাসপাতালে পাঠানোর পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে জরুরী ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়া সম্ভব না হলে কারা মহাপরিদর্শককে অবহিত রেখে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করার পর পরই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্যে লিখতে হবে।

(iii) জেল সুপার কারাগারের বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দীদের প্রহরার জন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ভয়ংকর এবং উগ্র বন্দীর ক্ষেত্রে কারারক্ষীকে পুলিশের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার জন্যে তিনি পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করবেন ।

(iv) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার বন্দীর চিকিৎসার জন্যে এবং তারে হাসপাতালে রাখা বা হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে দায়ী হবেন। হাসপাতালের নিয়ম কানুন বিষয়ে বন্দীর নিয়ন্ত্রণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। অন্যান্য বিষয়াদি (যেমন-পত্র যোগাযোগ, সাক্ষাত এবং অন্যান্য সুবিধাদি) কারাগার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। এতদুদ্দেশ্যে জেল সুপার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করবেন এবং মাঝে মাঝে কারা কর্মকর্তাগণ বন্দীকে ভিজিট করবেন।

নোট-১। উপ-বিধি (১) এবং (২) বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে তখন প্রযোজ্য হবে যখন তার জামিন না মঞ্জুর হবে।

নোট-২। হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দীর হাসপাতালে অবস্থান কাল ৭৫৬ বিধি মোতাবেক রেয়াত গণনার জন্য যোগ্য হবে।।
নং ৩৪৭ এইচ জে তারিখ ১৯-২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৫৯৮। ডিটেন্যু বা রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত অন্যান্য বন্দীদেরকে সিভিল হাসপাতালে প্রেরণের পূর্বে তাদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে জেল সুপার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলকে প্রয়োজনীয় বিশেষ পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করার জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।