আজকে আমরা কারা অপরাধ এবং শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো।

কারা অপরাধ এবং শাস্তি । জেল কোড
বিধি-৭০৪। কোন বন্দীর নিম্নোক্ত কাজকে কারা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে :-
১। কারা আইনের ৫৯ (১) ধারার অধীনে প্রণীত বিধানে কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে এমন বিধানের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা করা;
২। কোন আক্রমণ বা অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ করা;
৩। অপমানজনক বা ভয় দেখানোর ভাষা ব্যবহার করা;
৪। অনৈতিক বা অশোভন বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা ;
৫।সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেকে কাজের অযোগ্য করা;
৬। কাজ করতে অবজ্ঞা সহকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা:
৭। অনুমতি ব্যতীত হ্যান্ডকাপ, বেড়ী বা ডান্ডা ঘষা, কাটা, পরিবর্তন বা অপসারণ করা ;
৮। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের প্রতি ইচ্ছাকৃত অলসতা বা অবহেলা করা;
৯। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক কাজের ইচ্ছাকৃত অব্যবস্থাপনা করা;
১০। কারাগারের সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করা;
১১। হিস্ট্রি টিকেট, রেকর্ড বা দলিলপত্র বিনষ্ট করা বা পরিবর্তন করা;
১২। কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ, দখলে রাখা বা হস্তান্তর করা;
১৩। অসুস্থতার ভান করা;
১৪। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বন্দীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা;
১৫। অগ্নিকান্ড, গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র, পলায়ন বা পলায়নের প্রস্তুতি এবং কোন বন্দী বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর কোন আক্রমণ বা আক্রমণের প্রস্তুতির সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানানো বা জানাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করা;
১৬। পলায়নের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা পলায়ন বা পূর্ব বর্ণিত অন্য কোন অপরাধ করতে সাহায্য করা ।

বিধি-৭০৫। নিম্নোক্ত কাজ গুলো নিষিদ্ধ এবং কোন নদী এর কোনটি করলে ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারের নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং কারা আইনের ৪৫ ধারার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে-
(১) লাইনে বা প্যারেডে দাঁড়ানো অবস্থায় কথা বলা বা হাসাহাসি বা জোরে কথা বলা
(২) অন্য বন্দীর সাথে ঝগড়া করা;
(৩) কোন বিষয় গোপন করা;
(৪) কোন কারা কর্মকর্তা বা পরিদর্শককে অসম্মান করা;
(৫) ভিত্তিহীন অভিযোগ করা;
(৬) মিথ্যা জবাব দেয়া;
(৭) বাহিরে কারো কাছে তথ্য পাচার করা;
(৮) কারা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা;
(৯) শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা না করা;
(১০) কোন বন্দীর অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন ভাষা ব্যবহার করা;
(১১) কোন কাজ যা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট এলার্ম হিসেবে মনে হতে পারে;
(১২) অনুমতি ব্যতীত কারাগারের নির্ধারিত এলাকা বা নিজ গ্যাং ত্যাগ করা;
(১৩) অনুমতি ব্যতীত নিজ ওয়ার্ড, আঙিনা বা লাইন ত্যাগ করা;
(১৪) আঙিনায় ধীরে হাঁটা বা ওয়ার্ড খোলার পর বাহির হতে দেরী করা:
(১৫) লাইনে বা প্যারেডে মার্চ করতে অস্বীকার করা;
(১৬) ( প্রয়োগ নেই)
(১৭) খাবার বা ডায়েট গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ;
(১৮) নিজের জন্যে বরাদ্দকৃত খাবারের অতিরিক্ত কোন খাবার গ্রহণ;
(১৯) অনুমতি ছাড়া খাবার ঘর বা ষ্টোর হতে খাদ্য সরিয়ে নেয়া
(২০) ইচ্ছাকৃত ভাবে খাদ্য নষ্ট করা বা ছুঁড়ে ফেলা;
(২১) খাদ্যের মধ্যে বিস্বাদ কোন দ্রব্য মিশানো
(২২) পোশাক গ্রহণে অস্বীকার করা বা অন্য বন্দীর সঙ্গে বিনিময় করা বা ক্ষতি বা পরিবর্তন করা,
(২৩) ব্যাজ নাম্বার পরিবর্তন বা নষ্ট করা;
(২৪) নিজেকে পরিষ্কার না রাখা বা নখ চুল কাটতে অস্বীকার করা:
(২৫) পরিধেয়, বিছানা কম্বল পরিষ্কার না রাখা:
(২৬) তালা, বাতি প্রভৃতি নষ্ট করা;
(২৭) কারাগারের পোশাক বা জিনিসপত্র চুরি করা;
(২৮) কারাগারের ভিতরে উপদ্রব সৃষ্টি করা;
(২৯) মেঝে, দেয়াল প্রভৃতি গর্ত করা:
(৩০) ইচ্ছাকৃত ভাবে কৃয়া, লেট্রিন, গোসলখানা প্রভৃতি নোংরা করা;
(৩১) শাক-সব্জি, গাছপালা নষ্ট করা বা গবাদি পশুর ক্ষতি করা;
(৩২) দায়িত্বে অর্পিত কারা সম্পত্তির যত্ন না নেয়া
(৩৩) কাজে ব্যবহারের জন্যে দেয়া জিনিস পত্রের ক্ষতি করা:
(৩৪) কোন জিনিসের ক্ষতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে না জানানো;
(৩৫) অনুমতি ব্যতীত কোন জিনিস বানানো;
(৩৬) অন্য বন্দীকে প্রদত্ত কাজ করা বা নিজের কাজে অন্য বন্দীর সাহায্য নেয়া:
(৩৭) অন্য বন্দীর সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা;
(৩৮) কাজ করা জিনিসের সঙ্গে বাহিরের অন্য জিনিস মিশানো;
(৩৯) ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের অসুস্থতা বা আঘাত তৈরীর জন্যে কাজ করা;
(৪০) গোপন করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা বা অবাধ্য হওয়া বা হতে সাহায্য করা;
(৪১) কোন বন্দী বা কারা কর্মীকে আক্রমণ করা;
(৪২) পলায়ন বা আক্রমণের ঘটনা প্রতিরোধে কারা কর্মীকে সহায়তা না করা;
(৪৩) কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বৈধ আদেশ না মানা বা যে কাজ দেয়া হয়েছে তা না করা।

বিধি-৭০৬। যখন কোন বন্দী নিম্নোক্ত কোন অপরাধ করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয়, তখন তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি মতে এ বিষয়ে বিচারিক তদন্তের জন্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অনুরোধ জানাবেন-
(১) দণ্ড বিধির ১৪৭,১৪৮ এবং ১৫২ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ- দাঙ্গা অস্ত্রসহ দাঙ্গা, কিংবা অনুরূপ দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ:
(২) দণ্ড বিধির ২২২,২২৩ এবং ২২৪ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ আইন সম্মতভাবে সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকা সত্বেও তাতে অবহেলা করা, সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অবহেলার দরুন আটক হতে বন্দী পলায়ন, এবং গ্রেফতারের চেষ্টাকালে কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ, বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ করা।
(৩) দণ্ড বিধির ৩০৪এ, ৩০৯ এবং ৩২৬ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের ফলে কারো মৃত্যু ঘটানো, আত্মহত্যার চেষ্টা করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য কিছুর সাহায্যে কাউকে গুরুতর আঘাত করা;
(৪) এমন কোন অপরাধ যাহা কেবলমাত্র দায়রা আদালতে বিচার্য।
কোন বন্দী কর্তৃক সংঘটিত কোন অপরাধ যদি একই সঙ্গে কারা অপরাধ এবং দণ্ড বিধি উভয়টির আওতায় পড়ে তবে জেল সুপার নির্ধারণ করবেন যে বন্দীকে তিনি কারা অপরাধে শাস্তি প্রদান করবেন না কি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করবেন।
বিধি-৭০৭। কারা আইনের ৫২ ধারার বিধান মতে, যদি কোন বন্দী কারা- শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শান্তি প্রাপ্ত হয়, তার দ্বারা উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের জন্য বা অন্য কারণে বন্দীকে কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি প্রদানের তার যে ক্ষমতা আছে তা যথেষ্ট নয় মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি পরিস্থিতির একটি বর্ণনাসহ এ ধরনের বন্দীকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বা এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করতে পারবেন।
ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং বন্দীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনীত হয়েছে, তার বিচার করবেন, এবং, অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন। উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ বন্দীর ভোগরত কারাদণ্ডের মেয়াদের অতিরিক্ত হবে। কিংবা অনুরূপ অপরাধের জন্যে পূর্ববর্তী বিধিসমূহে বর্ণিত সাজা প্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার সাজা প্রদান করা যাবে না।
টিকা-। যে ক্ষেত্রে কোন কিছু করা বা না করা দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, সে ক্ষেত্রে আইনগুলির যে কোন একটির অধীনে অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য তাকে দুইবার শাস্তি দেয়া যাবে না (ধারা-২৬, জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।
বিধি-৭০৮ । কোন বন্দী শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কারাগারের বিধি-বিধান লংঘন করলে জেল সুপার কারা আইনের ৪৬ ধারা, এবং সে সঙ্গে উক্ত ধারার (৪), (৬) এবং (9) উপ-ধারায় বর্ণিত মতে প্রণীত বিধানের আওতায় শাস্তি প্রদান করতে পারেন ।

নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে লঘু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-
১। সতর্ক করা
২। শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান
৩। অনূর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল
৪। অনূর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল
৫। উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে সাময়িকভাবে নামিয়ে দেয়া
৬। শাস্তিমূলক খাবার (বর্তমানে প্রয়োগ নেই)
৭। অনূর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা
৮। অনূর্ধ্ব ১৪ দিন পৃথক সেলে আটক রাখা
৯। হ্যান্ড কাপ পরানো
১০। অনূর্ধ্ব ৩০ দিন পায়ে বেড়ী লাগানো
১১। প্রয়োগ নেই ।
নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে গুরু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-
১। কঠোর পরিশ্রম, বিনাশ্রম বন্দী হলে;
২। (ক) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ
(খ) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ
(গ) ৩ মাস অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল
(ঘ) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা
(ঙ) উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে স্থায়ীভাবে নামিয়ে দেয়া
৩। ৭ দিনের অধিক সেলে আটক করে রাখা
৪ । ১৪ দিনের বেশী পৃথক সেলে আটক রাখা
৫। ৩০ দিনের বেশী পায়ে বেড়ী লাগানো
৬। ডান্ডা বেড়ী
৭। আড়াআড়ি বেড়ী
৮। পেছনে হ্যান্ডক্যাপ লাগানো
৯। প্রয়োগ নেই
১০। প্রয়োগ নেই
১১। এক সঙ্গে একাধিক লঘু সাজা ।
নোট-১। জেল সুপারের নিম্নের কোন কর্মকর্তা কোন শাস্তি প্রদান করতে পারবেন না।

নোট-২ । যে সব শাস্তির জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে- (১) ১২ দিলে বেশী রেয়াত বাতিল করণ (২) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা (৩) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ, ৩ মাসের অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধ বাতিল এবং অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা- এ তিনটি একত্রে প্রয়োগ।
নোট-৩। বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহ প্রযোজ্য হবে না- (১) শ্র পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল (৪) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ (৫) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ।
নোট-৪। সিভিল বন্দীদের যে সকল শাস্তি দেয়া যাবে- (১) শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা।
বিধি-৭০৯। জেল কোডের যে কোন প্রকারের লংঘন হলে জেল সুপারকে জানাতে হবে। জেল সুপার বিবেচনা করে দেখবেন বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে কিনা বা তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না। যদি তিনি মনে করেন যে, কোন বন্দী অজ্ঞতার কারণে কিংবা অসাবধানতা বশত: বিধি লংঘন করেছ, তবে তিনি তাকে সতর্ক করে দিবেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শান্তি রেজিষ্টারে রেকর্ড না করে বাতিল করে দিবেন। কিন্তু যদি তার নিকট মনে হয়। যে, অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তবে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন এবং বিধি ৭৬ মোতাবেক শাস্তি রেজিষ্টারে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।
বিধি-৭১০। ‘ আনুষ্ঠানিক সতর্ক’ শাস্তি হিসাবে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য জেলা সুপার কর্তৃক সরাসরি ব্যক্তিগত ভাবে অপরাধীকে মৌখিক ভাবে সাবধান করতে হবে। সাধারণত কোন অপরাধ প্রথম বার করার জন্যে প্রথমে ‘আনুষ্ঠানিক সতর্ক করা হয়ে থাকে। আনুষ্ঠানিক সতর্ক অন্য কোন শাস্তির সঙ্গে একত্রে দেয়া যাবে না ।
বিধি-৭১১। শ্রমের পরিবর্তন’ কেবল মাত্র সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে প্রদান করা যাবে। সাধারণত কম কাজ করার জন্যে বা অলসতার জন্যে এই শাস্তি উপযোগী, তবে অন্যান্য অপরাধের জন্যেও আরোপ করা যেতে পারে। এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে কিংবা স্বভাব পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্যে আরোপ করা যেতে পারে।
বিধি-৭১২। কাজ কম করার মত ছোট ধরনের অপরাধ বার বার করার জন্যে বন্দী রেয়াত ব্যবস্থার আওতায় থাকলে রেয়াত হ্রাস করার শাস্তি আরোপ করা যেতে পারে। যে কোন ধরনের লঘু অপরাধের জন্যে অন্যান্য শাস্তির তুলনায় রেয়াত হ্রাস করার শাস্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে।
বিধি-৭১৩। যখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিলের জন্যে বা কোন বন্দীকে তিন মাসের বেশী রেয়াত ব্যবস্থার বহির্ভূত রাখার জন্যে অনুমোদন চাওয়া হবে, অপরাধের পূর্ণ বিবরণী এবং বন্দী যে পরিমাণ রেয়াত অর্জন করেছে তার উল্লেখ করতে হবে এবং বন্দীর পূর্ব ইতিহাস সংক্রান্ত একটি বিবরণী এবং ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-৭১৪। রেয়াত সুবিধা বাজেয়াপ্ত কয়েদী কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যখন রেয়াত সুবিধা বাতিল বা গ্রেড নামিয়ে দেয়া হবে তখন তা স্থায়ী কিনা এবং স্থায়ী না হলে কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে জেল সুপার তা রেকর্ড করবেন।
বিধি-৭১৫ । প্রয়োগ নেই।
বিধি-৭১৬। ৮ নম্বর লঘু অপরাধ এবং ৯ নম্বর গুরু অপরাধের জন্যে হ্যান্ডকাপ আরোপ করা যেতে পারে। তালা সহ প্রতিটি লৌহদণ্ডের হ্যান্ডকাপের ওজন ২ পাউন্ডের বেশী হবে না। ঘুরানো রিং হলে প্রতিটি সোয়া এক পাউন্ডের বেশী হবে না কিংবা চেইন হ্যান্ডকাপ হলে এক পাউন্ডের বেশী হবে না।
বিধি-৭১৭ । হ্যান্ডকাপ পরানো হবে-
(ক) হাতের কব্জির সামনে দিনে বা রাতে লাগাতে হবে। প্রতি বারে ১২ ঘন্টা বিরতসিহ একটানা ১২ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ রাত বা দিনের বেশী পরানো যাবে না।
(খ) হাতের কব্জির পিছনে শুধুমাত্র দিনে লাগাতে হবে। দৈনিক ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ দিনের বেশী পরানো যাবে না। সাধারণ আটকানোর শিকল ছাড়া অন্য কোন শিবল হ্যান্ডকাপের সাথে আরোপ করা যাবে না।
(গ) বন্দীর কব্জিতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে কোন কিছুর সাথে পর পর দিনের বেশী এবং একদিনে ৬ ঘন্টার বেশী বেঁধে রাখা যাবে না এবং প্রত্যেক মেয়াদের ৩ ঘন্টা পর এক ঘন্টার বিরতি প্রদান করতে হবে। শর্ত থাকে যে বাঁধার স্থান বন্দীর বাহুর চেয়ে উঁচু হবে না এবং কোমরের চেয়ে নীচু হবে না; অন্য বন্দীদের উপস্থিতি ছাড়া কোন বন্দীকে অনুরূপভাবে বাঁধা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ছাড়া অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে উগ্র আচরণ এবং তাচ্ছিলা সহকারে উপুর্যপরি কারা বিধি লংঘনের কারণ ব্যতীত অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না।
উপরের (ক) এবং (খ) উপ-বিধিতে বর্ণিত শাস্তি অন্য কোন ভাবে হ্যান্ডকাপ আরোপের সাথে প্রয়োগ করা যাবে না। হ্যান্ডকাপ পরানো অবস্থায় বন্দীকে সূর্যের নীচে রাখা যাবে না । বিধি-৭১৮ । বিভিন্ন প্রকারের বেড়ী।
বিধি-৭১৯। বিভিন্ন প্রকার বেড়ী অবিরামভাবে প্রয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ-(ক) লিংক বেড়ী- তিনমাস; (খ) ডান্ডা বেড়ী- তিন মাস; (গ) ক্রস বেড়ী- ২২৪ ঘন্টা।
বিধি-৭২০। কোন কারা অপরাধের জন্যে যে কোন ধরনের বেড়ী আরোপের শাস্তি প্রদানের পর পুনরায় আরোপ করতে হলে ১০ দিনের বিরতি প্রদান করতে হবে।
বিধি-৭২১। সকল প্রকারের বেড়ী উজ্জল এবং ঝকঝকে থাকবে এবং বন্দীর ত্বকের ক্ষতি রোধের জন্যে নরম চামড়া বা কম্বল বা মোটা কাপড় ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে। কারা অপরাধের জন্যে বেড়ী প্রয়োগকারী বন্দীকে আদালতে হাজির করার পূর্বে বেড়ী খুলে ফেলতে হবে।
বিধি-৭২২। প্রয়োগ নেই।
বিধি-৭২৩। ‘সেলে আটক’ বলতে এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম আটককে বুঝাবে, যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না। বন্দীকে খাবার দেয়ার জন্যে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্যে কয়েদী কর্মচারী সেলে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে বন্দী নিজের খাবার নিজে খাবে এবং তাকে সেলের মধ্যে গোসলাদি সারতে হবে। ১৪ দিনের বেশী সেলে আটকের শাস্তি দেয়া যাবে না এবং দুইটি মেয়াদের মাঝে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।
বিধি-৭২৪। ‘পৃথক কারাবাস’ অর্থ এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাবাস যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না এবং বন্দীকে দৈনিক কমপক্ষে এক ঘন্টা ব্যায়াম করতে দেয়া হবে এবং এক বা একাধিক বন্দীর সঙ্গে খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে। জেল সুপার অনধিক ৩০ দিন পৃথক কারাবাসের শাস্তি প্রদান করতে পারবেন। তার চেয়ে বেশী এবং অনধিক ৩ মাস পর্যন্ত মেয়াদের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অনুরূপ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে ।
বিধি৭২৫-৭৩২। প্রয়োগ নেই।
বিধি-৭৩৩। আদালতের নির্দেশ ব্যতীত পূর্ব বর্ণিত বিধি সমূহের বাহিরে কোন বন্দীকে কোন শাস্তি প্রদান করা যাবে না।
বিধি-৭৩৪। শান্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ সংরক্ষণ করা হবে-
১। শাস্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-১৯)
২। কারা শাস্তি অবসানের রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-২০)।
নোট-
বিচারাধীন বন্দী, বিনাশ্রম বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের ক্ষেত্রে এই বিধি সমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ৯২৭, ৯৪৪ এবং ৯০৫ অনুসরণ করতে হবে। অবরোধে আটক রাখার উদ্দেশ্যে হ্যান্ডকাপ এবং বেড়ী প্রয়োগের জন্যে বিধি ৫১৫ অনুসরণ করতে হবে।





















