Category Archives: আইন

আইন

কিশোর বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কিশোর বন্দী

কিশোর বন্দী

 

কিশোর বন্দী

 

বিধি-৯৬২।

একুশ বৎসর বয়স পর্যন্ত কোন বন্দীকে তরুণ বা কিশোর বন্দী বলে গণ্য করা হবে। কারা আইনের ২৭ ধারা মোতাবেক, একুশ বৎসরের কম বয়সের পুরুষ বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যে সকল তরুণ বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়নি, সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন উভয় ক্ষেত্রেই তাদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোরীদেরকে মহিলা ‘এ’ শ্রেণীর ওয়ার্ডে রাখা যেতে পারে, তবে প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে পৃথক রাখতে হবে।

বিধি-৯৬৩।

(১) ‘বাল-অপরাধী’ অর্থ কোন বালক যে দ্বীপান্তর বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ১৫ বৎসরের কম ছিল।

(২) যেহেতু বাল-অপরাধীদেরকে কারাগারে আটক রাখা বিভিন্ন ভাবে আপত্তিজনক, সেহেতু ১৫ বৎসরের কম বয়সের কোন কিশোরকে যখন কারাগারে ভর্তি করা হয়, তাকে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রদান না করা হলে এবং যদি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পূর্বেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে থাকেন যে, তাকে সংশোধনী স্কুলে প্রেরণ করা হবে না, তা হলে জেল সুপার এ উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ প্রদান করবেন

বিধি-৯৬৪ ।

(১) বর্তমান প্রয়োগ ভিন্ন রকম

(২) কোন বালককে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার সাজা প্রদান করা হলে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখতে হবে।

(৩) সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রাপ্ত বালকদেরকে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাদের নিজেদের সুবিধাজনক পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যাবে।

(৪) বাল-অপরাধীদেরকে অন্যান্য অপরাধীদের থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।

(৫) অকার্যকর।

বিধি-৯৬৫ ।

যে কারাগারে কিশোর বন্দীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড আছে, সে সকল ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ বানাতে হবে। যদি সকলের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ না থাকে তবে যারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়েছে, তাদেরকে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে রাখার অগ্রাধিকার দিতে হবে।

যেখানে আলাদা কিশোর ওয়ার্ড নেই, সেখানে, একমাস বা তার কম মেয়াদের সাজা প্রাপ্তদেরকে বা বদলির অপেক্ষাধীনদেরকে রাতে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে বা পৃথক ঘুমানোর জায়গায় রাখতে হবে এবং দিনের বেলায় একজন বয়স্ক ও বিশ্বস্ত কারারক্ষীর নজরদারীতে রাখতে হবে,যার দায়িত্ব হবে তাদের সাথে বয়স্ক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ঘনিষ্ঠতায় বাধা দেয়া ।

বিধি ৯৬৬-৯৬৭।

অকার্যকর।

বিধি-৯৬৮ ।

কোন সাজাপ্রাপ্ত কিশোরীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ পূর্বে জেল সুপার তার পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের নাম-ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। তিনি ঐ তথ্য ঐ ঠিকানার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কিশোরীর মুক্তির তারিখে ঐ জেলার কারাগার থেকে তাকে গ্রহণের জন্যে তাদেরকে সংবাদ প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানাবেন।

বিধি-৯৬৯।

জেল সুপার একজন মহিলা রক্ষীর দায়িত্বে মেয়েটিকে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলির ব্যবস্থা করবেন যাতে অন্তত: মুক্তির এক সপ্তাহ পূর্বে সে সেখানে পৌঁছতে পারে।

বিধি-৯৭০।

যদি কোন আত্মীয় স্বজন মেয়েটিকে গ্রহণের জন্য না আসেন, তবে জেল সুপার তাকে বাড়ীতে পৌঁছাতে সুবিধা হয় এমন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৭১।

কিশোর বন্দীরা পূর্ণ কঠোর শ্রম হতে অব্যাহতি পাবে। তারা লেখা পড়া করবে এবং সহজ হাতের কাজে নিয়োজিত হবে, যাতে কারাগার হতে বের হয়ে প্রয়োজনে এটাকে পেশা হিসাবে চালিয়ে যেতে পারে। কা

বিধি-৯৭২।

কিশোর বন্দীরা তাদের বয়স এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবার পাবে। ১৬ বৎসরের বেশী বয়সের বালকরা প্রাপ্ত বয়স্কদের সমান খাবার পাবে।

বিধি-৯৭৩।

যে সকল কিশোর বন্দী এক বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের জন্য সাজাপ্রাপ্ত, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে এক ঘন্টা করে লিখতে,পড়তে এবং গাণিতিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে এ জন্য কারা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে।

বিধি-৯৭৪ ।

তাদেরকে ব্যবহারিক জ্ঞানের সুবিধাজনক বই, স্লেট এবং পেন্সিল দেয়া হবে। স্লেট ও অন্যান্য ব্যয় “বিধি সেবা ও সরবরাহ খাত” হতে এবং বই “ বই ক্রয়” খাত হতে নির্বাহ করা হবে।

 

বিধি-৯৭৫।

শ্রেণী কক্ষে লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোন আলাপের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন কিশোর বন্দী পড়ায় আগ্রহী না হলে রিপোর্ট করা যেতে পারে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মাঝে মাঝে ক্লাশ ভিজিট করবেন এবং মাসে একবার অগ্রগতি পরীক্ষা করবেন।

বিধি-৯৭৬।

কেন্দ্রীয় কারাগারে কিশোর বন্দীরা দিনে অন্তত: আধ ঘন্টা ব্যয়াম,ড্রিল বা জিমন্যাস্টিক প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যয় করবে।

বিধি-৯৭৭।

প্রত্যেক শ্রেণীর ১৮-২১ বৎসর বয়সের পুরুষ বন্দীরা যাদেরকে পৃথক রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে অন্য পুরুষ বন্দীদের থেকে পৃথক ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বয়স্ক পুরুষ ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ থাকে, এসব বন্দীকে রাত্রে সেখানে রাখা যেতে পারে ।

টীকা-১।

জেল কোডের ৯৬২-৯৭৮ বিধান কিশোর বন্দীদের কারাবাস সংক্রান্ত। শিশুদের T হেফাজত, রক্ষণ ও তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার এবং কিশোর অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত আইন একীভূত ও সংশোধন করে প্রণীত শিশু আইন, ১৯৭৪ ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর এবং সারা বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের ১লা জুন বলবৎ হয়েছে।

উক্ত আইনের আওতায় সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় এস আরও নম্বর ১৬২-আইন/৯৯ সকম / প্রতি: শাখা/ কিশোর-১/৯১ তারিখ ২০ জুলাই ১৯৯৯ মূলে কিশোর অপরাধীদের বিচার ও সংশোধনের জন্যে গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলের হাটে দুটি পৃথক কিশোর আদালত এবং কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্র (Correctional Institute for Young Offenders ) স্থাপন করেছে। নিম্নে শিশু আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা সমূহ ও এ সংক্রান্ত নির্দেশ/ বিধি সমূহ তুলে ধরা হ’ল : –

(১) অন্য কোন আইনে বিপরীত কিছু থাকা সত্বেও কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ড দান করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিশুটি এত বেশী অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্রের যে তাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে প্রেরণ করা চলে না, তা হলে আদালত শিশুটিকে কারাদণ্ড দান অথবা যে রুপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ স্থানে বা মতে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন কিশোর অপরাধীকে প্রাপ্ত বয়স্ক আসামীর সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া যাবে না (ধারা-৫১, শিশু আইন)।

(২) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তার ক্ষেত্রে সমীচীন বিবেচনা করলে অন্যূন দুই বৎসর এবং অনধিক দশ বৎসর মেয়াদে আটক রাখার জন্যে কোন প্রত্যায়িত ইনস্টিটিউটে সোপার্দ করতে আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু কোন ক্রমেই আটকের মেয়াদ শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর আর বৃদ্ধি করা যাবে না (ধারা- ৫২. শিশু আইন)।

(৩) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় অথবা সন্দেহ জনক গতিবিধির জন্য ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের আওতায় কোন শিশু কিশোরকে গ্রেফতার করা হলে আইনের বিধান মতে তাদেরকে থানা হাজত থেকেই জামিন প্রদান কিংবা জামিনের অযোগ্য হলে আদালতে হাজির করার পূর্ব পর্যন্ত তাদেরকে নিকটবর্তী রিমান্ড হোম / নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

একই মামলায় বয়স্ক অপরাধী থাকলে শিশু কিশোরদের জন্য পৃথক ফরোয়ার্ডিং প্রদান এবং অভিযুক্ত কিশোরদেরকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করতে হবে। প্রতি থানায় কিশোর অপরাধীদের জন্যে পৃথক রেজিষ্টার খোলা এবং প্রত্যেক পরিদর্শনে সে সম্পর্কে বিশেষভাবে তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। চার্জশীট দাখিল কালে কিশোর অপরাধীদের নাম আসামীদের কলামের নিম্নভাগে লেখা এবং তা নীচে লালকালির রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।

একইভাবে জেনারেল রেজিষ্টারেও কোর্টের পুরিশ কর্মকর্তা কর্তৃক কিশোর আসামীদের নামের নীচে লাল রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। শিশুদের মামলা তদন্ত ও শিশু অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে সর্বত্র পুলিশের মহিলা ইউনিটকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৫১৮, তারিখ-৪-৮-৯৭)

(৪) প্রত্যেক জেলায় একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে চিহ্নিত করে কিশোর অপরাধীদের পৃথক বিচারের ব্যবস্থা, শিশু আইনের বিধান মতে কিশোর অপরাধীদের জামিনের ব্যবস্থা, বিচারে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ অথবা প্রবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সকল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষ করে তাদের অধীনস্থ ম্যাজিষ্ট্রেটগণনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো । { স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৬৭৫, তারিখ-২১-৯-৯৭)

(৫) শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারী উদ্যেগের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাও সংশোধন প্রতিষ্ঠান বা সার্টিফাইড হোম প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

{স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-২৫/৮৬-জেল-১/(অংশ-১)/৮৬৩, তারিখ ১৭-১২- ৯৭} (৬) রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোর অপরাধীদের যশোরস্থ কিশোর সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে হবে । {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-৬/৯৭-জেল-১/২২৮, তারিখ ২৩-৩-২০০০)

 ৭) সংশোধন বা কয়েদখানা বিশেষ স্কুল হতে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর স্কুল জীবন বা তারপর তাদের আচরণ নিরীক্ষণের প্রয়োজন হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদনক্রমে কিশোর অপরাধীদের পুলিশ সুপারের অধীনে নিরীক্ষণে রাখা যেতে পারে(প্রবিধান-৩৪৬, পিআরবি)।

টীকা-২।

বিভিন্ন বাস্তব কারণে শিশু আইনের উল্লেখিত বিধান সমূহ সম্পূর্ণ ভাবে এখনও কার্যকর করা যায় নি, ফলে কিশোরদেরকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন হয়ে থাকে। কোন কিশোর বা কিশোরী যখন কারাগারে থাকে, জেল কোডের বর্ণিত বিধানাবলী দ্বারাই তাকে পরিচালিত করতে হবে। কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রের বিধানাবলী কারাগারে প্রয়োগ করা সম্ভব ও সমীচীন হবে না।

 

কিশোর বন্দী

 

টীকা-৩ ।

বাংলাদেশে কার্যকর বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়স নিম্নরূপ:-

(১) কোন ব্যক্তি ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর সাবালকত্ব (Majority) লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে (ধারা-৩, সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫)।

(২) ‘অপিরণত’ (Minor) বলতে পুরুষের ক্ষেত্রে একুশ বৎসরের কম এবং নারীর ক্ষেত্রে আঠারো বৎসরের কম বয়সের কোন ব্যক্তিকে বুঝাবে (ধারা-২, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯)।

(৩) ‘শিশু’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স ষোল বৎসর পূর্ণ হয়নি (ধারা-২,কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

(৪) ‘শিশু’ অর্থ ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি (ধারা-২, শিশু আইন, ১৯৭৪)।

(৫) ‘শিশু’ অর্থ অনধিক চৌদ্দ বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি (ধারা-২, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০)।

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মহিলা বন্দী এবং সন্তান

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৪৫ ।

মহিলা বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে, এবং যদি সম্ভব হয় বিচারাধীন মহিলা বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলাদেরকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরুষ ওয়ার্ড থেকে দেখা না যায়; মহিলাদের জন্যে মহিলা বেষ্টনী এলাকায় বা তৎসংলগ্ন এলাকায় আলাদা হাসপাতাল থাকবে। মহিলাদেরকে কারাগারের অফিসে ডাকা যাবে না। তাদের সকল তদন্ত ও ভেরিফিকেশন জেলার কর্তৃক মহিলা বেষ্টনীতে করতে হবে।

বিধি-৯৪৬।

সেলে শাস্তি হিসাবে ব্যবহারের জন্য এবং বিচারাধীন মহিলা-বন্দীদেরকে আলাদা রাখার জন্য প্রত্যেক কারাগারের মহিলা বিভাগে যথেষ্ট সংখ্যক সেল স্থাপন করতে হবে। যদি সেল খালি থাকে, একজন বিচারাধীন মহিলা-বন্দীকে তার আগ্রহ অনুসারে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের পরিবর্তে সেলে রাখা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, ৯৫৪ বিধি মোতাবেক প্রহরা মেনে চলতে হবে।

বিধি-৯৪৭।

স্থান সংকুলান সম্ভব হলে দীর্ঘ মেয়াদী অভ্যাসগত ব্যতীত, যে মেয়াদেরই হোক সকল মহিলা সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে নিজ জেলা কারাগারে রাখতে হবে। তবে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীর সাথে ছোট সন্তান আছে তাদের সন্তানকে কোন আত্মীয় স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর না করে ঐ সব সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীকে সাধারণত কেন্দ্রীয়-কারাগারে-স্থানান্তর করা যাবে না ।

বিধি-৯৪৮।

যখন কোন কারাগারে মাত্র একজন মহিলা-বন্দী থাকে এবং সেখানে যদি কোন মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে জেল সুপার সে মহিলা-বন্দীর একজন পরিচিত মহিলাকে তার সাথে কারাগারে থাকার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। যদি ঐ মহিলার সাথে থাকার জন্যে এরূপ নিজস্ব কোন মহিলা না থাকে, তবে জেল সুপার নিজেই একজন মহিলাকে সাময়িক ভাবে কারারক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত করে কারা মহাপরিদর্শকের ঘটনাত্তোর অনুমোদন গ্রহণ করবেন।

বিধি-৯৪৯।

কোন মহিলা-বন্দীকে কোন কারণেই কারাগারের মহিলা বেষ্টনী এলাকা ত্যাগ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-৯৫০।

কারাগারের কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন কারণেই মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় একাকী প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোন কাজে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে হয়, তা হলে একজন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাতে কোন কাজে প্রবেশ করার প্রয়োজন হলে কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী এবং জেলার দুজন এক সঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৯৫১।

কোন পুলিশ অফিসার কোন মহিলা-বন্দীর হাত বা পায়ের ছাপ বা দৈহিক পরিমাপ নেয়ার প্রয়োজনে একজন ডেপুটি জেলার এবং মেট্রনের উপস্থিতিতে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।

 

বিধি-৯৫২।

কারাগারের মহিলা বিভাগের চাবি দিনের বেলায় মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীর নিকট থাকবে, লক আপের পর জেলারের নিকট দিয়ে দিতে হবে। রাত্রে সেল খোলার জন্য বিধি ২৯৩ এবং ৯৫৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯৫৩।

মহিলা বিভাগের সেল ও ওয়ার্ডের তালা কারাগারের অন্য অংশ অপেক্ষা ভিন্ন রকমের হবে এবং একই রকমের চাবি মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের তালা খোলার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। যদি কারাগারে কোন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে দিনের বেলায় কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট মহিলা ওয়ার্ডের চাবি থাকবে; তিনি জেল সুপার এবং ভিজিটরের সঙ্গে ব্যতীত মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ করবেন না। বয়স্ক রক্ষীকে এ কাজের জন্য দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

বিধি-৯৫৪।

যদি মহিলা বেষ্টনীতে সেলে কাউকে আটক রাখা হয়, তা হলে রাতের বেলায় একজন মহিলা কর্মচারী এবং দিনের বেলায় মহিলা কয়েদী কর্মচারীকে বন্দীর শ্রবণ সীমার মধ্যে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে। মহিলা কর্মচারী না থাকলে মহিলা-বন্দীকে সেলে রাখা যাবে না, সে ক্ষেত্রে তাকে অন্য কোন কারাগারে প্রেরণের জন্য কারা মহা পরিদর্শককে অনুরোধ জানাতে হবে।

বিধি-৯৫৫ ।

রান্নার কাজে নিয়োজিত মহিলা কয়েদী কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোন মহিলা-বন্দীকে নিজের জন্য রান্না করার অনুমতি দেয়া হবে না। রান্নাকৃত খাবার তাদের ওয়ার্ডে একজন কয়েদী বাবুর্চী এবং দায়িত্বরত কারারক্ষীসহ সরবরাহ করবে। মহিলা ওয়ার্ডের মেনিয়াল কাজ সম্ভব হলে মহিলা-বন্দীদের দ্বারা করতে হবে।

বিধি-৯৫৬।

{বিধি ৬৪৫ অনুযায়ী জেল সুপার কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠানে মহিলা-বন্দীগণ তাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখবেন, তবে তাদেরকে শাড়ী দিয়ে মাথা ঢেকে রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।} নং-৬৪৭৪ এইচ জে তারিখ ২৬-১০-১৯৪২ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

বিধি-৯৫৭।

মহিলা-বন্দীরা অনুর্ধ ৪ বৎসর বা জেল সুপার অনুমতি প্রদান করলে ৬ বৎসর পর্যন্ত বয়সের সন্তান নিজের কাছে রাখতে পারবে। তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের অনুমোদন মোতাবেক খাবার দেয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পোশাক দেয়া হবে ।

বিধি-৯৫৮ ।

প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৯৫৯।

যদি কোন মহিলা-বন্দীর সন্তানের বয়স ৪ বৎসর বা ৯৫৭ বিধি মতে জেল সুপারের অনুমতি প্রাপ্ত কোন সন্তানের বয়স ৬ বৎসরে উপনীত হয়,বা কোন মহিলা-বন্দী তার সঙ্গীয় সন্তান রেখে কারাগারে মৃত্যুবরণ করে, এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আত্মীয় স্বজনকে খবর দিয়ে শিশুটিকে তাদের কাছে অর্পণের ব্যবস্থা করবেন,যদি কেউ নিতে না চায় তবে তিনি কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির জিম্মায় দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৬০।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে চুল কাটার প্রয়োজন উল্লেখ না করা হলে কোন মহিলা-বন্দীকে চুল ছাঁটাই করতে হবে না। একজন মহিলা-বন্দীকে একটি চিরুণী,৪ টি তোয়ালে বা ন্যাপকিন এবং চুলের যত্নের জন্য যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে। প্রত্যেক মহিলা সেলে একটি এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি বা দুইটি আয়না দেয়া যেতে পারে।

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৩৪।

বিনাশ্রম ‘এ’ শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের এবং ‘বি’ শ্রেণীর বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে,যদি তারা শ্রমের জন্য নির্বাচিত না হয়ে থাকে (সে ক্ষেত্রে তাকে সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীদের সঙ্গে কাজের সময় একত্রে থাকতে হবে)। যদি সম্ভব হয়, ‘বি’ শ্রেণীর বিনাশ্রম বন্দীদেরকেও পৃথক রাখতে হবে,যদি সম্ভব না হয় তাদেরকে ‘বি’ শ্রেণীর সশ্রম বন্দীদের সঙ্গে রাখতে হবে।

বিধি-৯৩৫ ।

যদি কোন ডিভিশন-III সাজাপ্রাপ্ত বিনাশ্রম বন্দীকে নৈতিক অসৎ চরিত্রের কারণে জেলা-ম্যাজিষ্ট্রেট পৃথক ব্যতিক্রম স্থানে রাখা প্রয়োজন মনে করেন,তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি কারা মহাপরিদর্শক জেলা -ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তবে, তিনি ঐ বন্দীকে “প্রথম ডিগ্রীর খারাপ স্বভাবের” শ্রেণীভুক্ত করে যেরূপ প্রয়োজন মনে করেন,সেরূপ পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করবেন। যদি তিনি জেলা-ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে একমত পোষণ না করেন, তা হলে বিষয়টি তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৩৬।

ডিভিশন-III বন্দীকে “প্রথম ডিগ্রীর খারাপ স্বভাবের” শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে ১০৯৫ বিধিতে বর্ণিত দ্বিতীয় শ্রেণীর খাবার পাবে।

বিধি- ৯৩৭।

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে দিনের বেলায় কারাগারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকতে দেয়া হবে, কিন্তু সশ্রম বন্দীদের ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সাথে মিশতে দেয়া হবে না। যদি তারা কাজের জন্যে নির্বাচিত হয়ে থাকে,সে ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত গ্যাংয়ের সাথে থাকবে।

বিধি-৯৩৮ ।

কিছুটা নমনীয়তা সাপেক্ষে তাদেরকে কারাগারের-নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। বিনাশ্রম বন্দীদেরকে নিজের পোশাক পরিধানের অনুমতি দেয়া হবে। চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যতীত তাদেরকে চুল দাঁড়ি কাটার বাধ্য বাধকতা পালন করতে হবে না। কোন বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর নিজের পোশাক পর্যাপ্ত না থাকলে জেল সুপার কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করবেন।

 

বিধি-৯৩৯।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীদের মতো কম্বল এবং বেডিং, কাপ এবং প্লেট সরবরাহ করা হবে। যখন ব্যবহারে থাকবে না কম্বল ভাঁজ করে রাখতে হবে এবং কাপ-প্লেট পরিষ্কার করে ধৌত করে রেখে দিতে হবে।

বিধি-৯৪০।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে তাদের পরিধেয় পরিষ্কার এবং ভাল অবস্থায় রাখতে হবে। তাদেরকে তাদের ওয়ার্ডের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। তাদেরকে অন্য কোন কাজ করতে হবে না এবং অন্যদের জন্যে কোন মেনিয়াল সার্ভিসে নিয়োজিত হতে হবে না বা নিম্ন শ্রেণীর কোন কাজ করতে হবে না ।

বিধি-৯৪১।

প্যারেড,ব্যয়াম এবং রাত্রে ছাড়া অন্য সময় তাদেরকে তাদের ওয়ার্ডে একত্রে পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া হবে।

বিধি-৯৪২।

কোন বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগারে স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী হলে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট মোতাবেক দৈহিক সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে উপযুক্ত কাজ দেয়া যেতে পারে। যদি সে সন্তোষজনক ভাবে কাজ করতে পারে তবে তাকে প্রথম শ্রেণীর স্কেলে খাবার দেয়া হবে। যদি সে সন্তোষজনক ভাবে কাজ করতে না পারে তবে জেল সুপার তাকে বিনাশ্রম স্কেলে খাবার দেয়ার শাস্তি প্রদান করতে পারবেন।

যদি সে কাজ করতে না চায় এবং তার নিজের মূল শ্রেণীতে ফেরত যেতে চায়, তবে তাকে অনুমতি দেয়া হবে । বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের জন্যে রেয়াতে বিষয়ে ৭৫৩ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯৪৩।

বিনাশ্রম বন্দীদেরকে অনধিক সকালে এক ঘন্টা এবং বিকালে এক ঘন্টা হাঁটতে হবে, যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার উপযুক্ত মনে করেন।

 

বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৪৪।

এ অধ্যায়ে বর্ণিত ব্যতিক্রম এবং খাবার সংক্রান্ত অধ্যায়ের ব্যতিক্রম ব্যতীত এই কোডে বর্ণিত সাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীদের সকল বিধি বিনাশ্রম বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে; তবে শর্ত থাকে যে, বিনাশ্রম বন্দীদের জন্য ২, ৫ এবং ৭ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ২ নম্বর গুরু শাস্তি প্রযোজ্য হবে না, যদি না তারা রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে থাকে ।

বিচারাধীন বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিচারাধীন বন্দী

বিচারাধীন বন্দী

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯০৯।

কোন আদালত কোন অভিযুক্তকে হাজতে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, দায়রা আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিক্রমে ১৫ দিনের বেশী হাজতে রাখার আদেশ দেয়া যাবে না, এবং আরও শর্ত থাকে যে, হাইকোর্ট বিভাগ। যাতীত অন্য কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত এবং বিচারকারী জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

(নোট- অনুরূপভাবে হাজতে আটক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই কোডে ‘ বিচারাধীন বন্দী ‘ বলা হবে।

টীকা-১।

আসামীকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্র থাকুক বা না থাকুক তিনি তাঁর বিবেচনামত আসামীকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট পনর দিনের অধিক হবে না [ ধারা -১৬৭(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

টীকা-২।

সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণে যদি কোন ইনকোয়ারি বা বিচারের আরম্ভ কাজ স্থগিত রাখা অথবা ইনকোয়ারি বা বিচার মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে কারণ উল্লেখ পূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে উপযুক্ত মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যুক্তিসংগত মনে করেন সে সময়ের জন্যে তা বিভিন্ন সময়ে স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে ওয়ারেন্ট দ্বারা তাকে পুনরায় হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এ ধারা অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন আসামীকে এক সময়ে পনর দিনের অধিক মেয়াদের জন্যে হাজতে পাঠাতে পারবেন না [ধারা -৩৪৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

বিধি-৯১০।

(১) বিচারাধীন বন্দীকে ২ ভাগে বিভক্ত করা হবে-

ডিভিশন-I ঃ- শিক্ষিত,সামাজিক মর্যাদা ও উচ্চতর জীবন যাপনেঅভ্যস্ত ব্যক্তি;

ডিভিশন- II:- সাধারণ মানের ব্যক্তি

বিচারাধীন বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে বিচারিক আদালত নির্ধারণ করবেন। 

(২) ডিভিশন-I প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীদেরকে ডিভিশন- II বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে 

(৩) বিচারাধীন বন্দী পুরুষ বা মহিলা, উভয়কে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের। আলাদা রাখতে হবে। 

বিধি ৯১১।

দায়রা আদালতে সোপর্দকৃত বন্দী ব্যতীত, প্রত্যেক ওয়ারেন্টে বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেট বা অন্য কোন ওয়ারেন্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট তারিখে হাজির করতে হবে তার উল্লেখ থাকতে হবে। দায়রা আদালতে বন্দীকে হাজির করার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে জেলার তা লিখে রাখবেন। বন্দীকে আদালতে হাজির হবার তারিখ জানাতে হবে যাতে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।

প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম ও নম্বর প্রাথমিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লেখা যেতে পারে, যে তারিখে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে, তা পৃষ্ঠার উপরের দিকে দিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় কারাগারে, বন্দীর সংখ্যা বেশী থাকায় সেখানে ওয়ারেন্টগুলি প্রত্যেক দিন এবং মাসের হিসাবে পৃথক খোপ বিশিষ্ট বিশেষ আলমারিতে রাখা যেতে পারে।

টীকা-১।

বিচারাধীন বন্দীদের কারাগার হতে পাহারায় কোর্টে নেয়ার, কোর্ট হতে কারাগারে ফেরত আনার এবং কোর্টে তাদেরকে নজর রাখার দায়িত্ব কোর্ট পুলিশের (প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

টীকা-২।

বন্দীদের কারাগার হতে কোর্টে নেয়ার এবং কোর্ট হতে করাগারে ফেরত আনার সময় যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাস্তা অনুসরণ করতে হবে, তবে বাজার, অধিক জন সমাগমপূর্ণ রাস্তা পরিহার করা উচিত। সম্ভব হলে তাদেরকে গাড়ীতে করে আনা-নেয়া করতে হবে। প্রথম শ্রেণীর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রিজন ভ্যান বা ভাড়া করা গাড়ীতে আনা-নেয়া করতে হবে এবং তাদের যাতায়াতে যুক্তিসঙ্গত আরাম ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

 

টীকা-৩।

যাদের মামলা নিষ্পত্তি হয় নি তাদের জন্যে অপেক্ষা না করে সকল বন্দীকে সূর্যাস্তের এক ঘন্টা পূর্বে কারাগারে ফেরত নিয়ে আসতে হবে। যাদেরকে কোর্টে আটক রাখা হয়েছে তাদের জন্যে অতিরিক্ত পাহারা দেয়ার জন্যে কোর্ট অফিসার আর্মড ইন্সপেক্টরের নিকট আবদেন করবেন (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

টীকা-৪।

প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে কোর্ট পুলিশ লক্ষ্য রাখবে যে, কারাগারে রাতের খাবার দেয়ার সময়ের, যা সন্ধ্যার এক ঘন্টা পূর্বে দেয়া হয়, পরে বন্দীদের কারাগারের পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলে তাদেরকে কারাগারে নেয়ার পূর্বেই খাবার দিতে হবে(প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

বিধি-৯১২।

দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে একই মামলার অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যখন বিচারাধীন ওয়ার্ডে পৃথক সেল বা কম্প থাকে তখন সেগুলো এ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যদি পৃথক কম্পার্টমেন্ট না থাকে তবে দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে দিনের বেলায় পৃথক সেলে এবং রাতের বেলায় ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়।

বিধি-৯১৩।

পারাস্থাত অনুমোদন করলে বন্দী সনাক্তকরণ কারাগারের ভিতরে হবে। উপরের বিধিসমূহ কারাগারে বিচারাধীন বন্দী এবং সন্দিগ্ধ বন্দীর জন্য প্রযোজ্য। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত, জামিনে থাকা ব্যক্তিকে বিচারাধীন বন্দীদের সাথে মেশানো যাবে না।

দোষ স্বীকারকারী অভিযুক্তের ক্ষেত্রে পৃথক সনাক্তকরণ মহড়ার আয়োজন করতে হবে, যদি না ম্যাজিষ্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন যে, দোষ স্বীকারকারীর সাথে দোষ অস্বীকারকারীদের মেশানোর প্রয়োজন রয়েছে এবং সনাক্তকরণ মহড়া একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিধি-৯১৪।

কোন বিচারাধীন বন্দী পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য অবশ্যই পুলিশ সুপারকে ২৩ নম্বর জেল ফরমে জানাতে হবে। এ ফরম ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও দাখিল করতে হবে। সম্ভব হলে অভ্যাসগত বিচারাধীন বন্দীদেরকে অনভ্যাসগতদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে লঘু অপরাধে অভিযুক্তদেরকে দায়রায় সোপর্দকৃত বিচারাধীন বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।

বিধি-৯১৫।

জেল সুপার জামিনযোগ্য ধারায় আটক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার প্রতি পাক্ষিকে ২৭ নম্বর ফরমে ১৪ দিনের বেশী আটক বিচারাধীন বন্দীদের ব্যপারে একটি তাগিদ প্রদান করবেন। তবে দায়রা আদালতে বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে তাগিদ প্রদান করা যাবে না।{তা ছাড়া জেল সুপার তিন মাসের অধিক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ২৭ নম্বর ফরমে প্রত্যেক মাসের প্রথম সপ্তাহে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। }

নং-৬২১ এইচ জে তারিখ ১৩-৫-১৯৪৭ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-৯১৬।

ওয়ারেন্টে-ধার্য তারিখে বা পরবর্তী আদেশে উল্লেখিত তারিখে বিচারাধীন বন্দীদেরকে আদালতে হাজির করার জন্যে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। যদি কোন বিচারাধীন বন্দী ইচ্ছা প্রকাশ করে যে তাকে আদালতে প্রেরণকালে জেলারের নিকট রক্ষিত তার নগদ টাকা প্রদানের জন্যে তাকে ফেরত দেয়া প্রয়োজন, তবে জেলার প্রাপ্তি স্বীকার রেখে তাকে তা ফেরত প্রদান করবেন। অন্যান্য ক্ষে ে টাকা জেলারের নিকট গচ্ছিত থাকবে।

যদি বন্দী আদালত হতে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে তার আবেদন মোতাবেক জেল গেইটে তাকে তার টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি ে প্রদান করতে হবে।

নোট- অদাবীকৃত সম্পত্তির বিষয়ে বিধি ৫৪৭ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯১৭।

দৈনিক যে সকল বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তাদের নাম কোর্ট অফিসার হাজত রেজিষ্টারে (ফরম নম্বর ৩৮৩১) লিখবেন। বন্দীদেরকে ধার্য তারিখ মোতাবেক আদালতে হাজির করার জন্যে তিনি পাঠ্য থাকবেন। উক্ত তালিকা জেলার দেখবেন এবং বন্দী হাজির করণের বিষয় অবহিত হবেন।

বিধি-৯১৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী একাধিক মামলার আসামী হলে তার ওয়ারেন্টে সকল মামলার রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করা হবে।

বিধি-৯১৯।

মুক্তির আদেশ দানের পর (লক আপের পরে ছাড়া) সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি

দিতে হবে। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আদেশ কার্যকর হয়েছে মর্মে উল্লেখ পূর্বক

ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। বন্দীর কোন সম্পত্তি থেকে থাকলে

তা তাকে ফেরত দিতে হবে।

বিধি-৯২০।

আদালতে হাজিরকৃত বিচারাধীন বন্দীকে আদালত হতে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ কর্তৃক সরাসরি খালাস কিংবা জামিনে মুক্তি প্রদান করা হলে, খালাস বা মুক্তিদানকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ একই দিনে জেলারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯২১।

মুক্তি প্রদানের প্রাক্কালে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর ওজন বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড করতে হবে। আদালত হতে মুক্তি প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সর্বশেষ ওজন মুক্তিকালীন ওজন বলে গণ্য হবে।

বিধি-১২২।

(১) কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী কারাগারের বিধি এবং শৃঙ্খলা সাপেক্ষে কারাগারে আটক থাকবে। তাকে নিজের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে, তবে তার নিজের চেহারার কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। তাকে জুতা পরিধান করতে দেয়া হবে।

(২) জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে তার প্রমত কোন পেশা বা বৃত্তিতে কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে এবং তা থেকে প্রাপ্ত কোন আয় গ্রহণ করতে দেয়া হবে। যদি কারাগারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তবে তার ভাড়া কেটে রাখা হবে এবং সরকারের খরচে সে গুলি মেরামত করা হলে সে খরচও কেটে রাখা হবে। তাকে তার ওয়ার্ড, সেল ও মাতিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।

(৫) যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার পরামর্শ প্রদান করেন তবে তাকে সকালে এবং বিকালে অনধিক একঘন্টা হাঁটার ব্যয়াম করতে হবে। (8) কোন অসম্মান জনক কাজ কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দেয়া যাবে না এবং স্কিনার বাহিরে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-১২৩।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেয়া হবে এবং ব্যক্তিগত উৎস হতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে, কিন্তু পরীক্ষা করার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায়। শর্ত থাকে যে, কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বাহির হতে খাদ্য সরবরাহের জন্যে অনুমতি প্রদান করা হলে কারাগার হতে তাকে কোন খাদ্য সরবরাহ করা হবে না ।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই সরবরাহ করা যেতে পারে। জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে তাকে বাহির হতে যুক্তিসংগত পরিমাণ বই, সংবাদপত্র, ষ্টেশনারী এবং লেখার দ্রব্যাদি সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। {বন্দীর নিজ ব্যয়ে ক্ষতিকর নয় এমন ঘরোয়া খেলারও অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। }

নং ১০৯২ এইচ জে ১০৯২ তারিখ ৩-৪-১৯৪১ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯২৪।

কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাবে না এবং কোন বন্দী এ বিধির লঙ্ঘন করলে, জেল সুপার যে রকম উচিত মনে করবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণ করার সুযোগ হারাবেন।

বিধি-৯২৫।

প্রত্যেক অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিংয়ের সংস্থান না করতে পারলে, জেল সুপার প্রয়োজন মোতাবেক পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করবেন, তবে খাদ্য,পোশাক,বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলারের মাধ্যমে ক্রয় করা হবে এবং বিচারাধীন বন্দীর নিকট প্রেরণের পূর্বে জেলার তা পরীক্ষা করে দেখবেন। স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর এবং নেশা বা সুরা জাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করা যাবে না।

বাহির থেকে সরবরাহ করা খাদ্য জেলার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পাওয়া গেলে জেল সুপারকে জানাবেন। কোন বন্দীর নিকট পূর্ববর্তী দুই বিধি মোতাবেক প্রেরিত খাদ্য বা কোন দ্রব্যের সঙ্গে গোপনে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সরবরাহ করা হলে ৯২৩ বিধিতে প্রদত্ত সুবিধা রহিত করে দেয়া হবে। ৬৬০ বিধিতে বর্ণিত নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে তাদেরকে নিজেদের খরচে যুক্তি সংগত পরিমাণ পান, সুপারি এবং তামাক রাখার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। জেল সুপার অপ্রয়োজনীয় এবং অনুপযুক্ত মনে করলে কোন বিচারাধীন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

বিধি-৯২৬।

বিচারাধীন বন্দীদেরকে ছত্রিশ অধ্যায় অনুসারে খাবার দেয়া হবে। ডিভিশন-I বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন -I এবং ডিভিশন -II সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে, এবং ডিভিশন-II বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন-III সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে খাবার প্রদান করা হবে।

বিধি-৯২৭।

ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, কারা অপরাধ এবং শাস্তি বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, কিন্তু বেত্রাঘাত প্রয়োগের পূর্বে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং বেড়ী প্রয়োগ করা হলে, তার পরিপ্রেক্ষিত কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি- ৯২৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী পলায়নের চেষ্টা করলে দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় বিচারের জন্যে তাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে। টীকা- হাজতে আটক কোন ব্যক্তি যদি হাজত হতে পলায়ন করে বা পলায়নের উদ্যেগ গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উক্ত দণ্ড তার কারাবাসের মূল দন্ডের অতিরিক্ত হবে (ধারা-২২৪, দণ্ডবিধি)। বিধি-৯২৯। বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ড একজন কয়েদী-কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা নিয়মিত দেখাশুনা করবেন।

বিধি-৯৩০।

বিচারাধীন বন্দীদের সকল তথ্যাদি, সঙ্গে আনা জিনিসপত্রসহ বিচারাধীন বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্ট্রারে (রেজিষ্ট্রার-৮) লিপিভুক্ত করতে হবে। একটি হিস্ট্রি টিকেটে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম, আদালতে হাজির করার প্রথম তারিখ, কারাগারে ভর্তির তারিখ, যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, পূর্ববর্তী সাজা (যদি থাকে), মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, দোষ স্বীকারকারী বন্দী কিনা, বিচারের তারিখ সমূহ, ভর্তির সময়ে ওজন, প্রতি ১৫ দিন পরে ওজন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে।

কোন জখমী চিহ্ন আছে কিনা, থাকলে সেগুলো সম্পর্কে বন্দীর বক্তব্যসহ, সতর্কতার সঙ্গে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। এই টিকেট সব সময় পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে।

বিধি-৯৩১।

(১) কোন বিচারাধীন বন্দীর অবস্থা মরণাপন্ন হলে, জেল সুপার বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন বা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে দায়রা আদালতকে জানাবেন, আদালত আইনানুগ মনে করলে বন্দী জামিনে মুক্তি পেতে পারে। যদি জামিন অগ্রাহ্য হয়,তবে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বন্দীকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করবেন এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৫৯৭ বিধির {(i) এবং (ii) উপ-বিধি এবং নোট (১)} অনুসরণ করতে হবে। বিধি ৫৯১ এবং ৫৯২ বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। না ।

(২) কোন বিচারাধীন বন্দী অসুস্থতার কারণে আদালতে ধার্য তারিখে হাজির হতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হলে জেল সুপার আদালতকে এ ব্যপারে অবহিত করবেন। এর পর বন্দী আরোগ্য লাভ করলে বা অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হলে তিনি পুনরায় তা আদালতকে জানাবেন ।

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯৩২।

বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু বা উম্মাদ গ্রস্ততার সংবাদ জেল সুপার কর্তৃক সে আদালতকে জানাতে হবে যে আদালতের নির্দেশে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল।

বিধি-৯৩৩।

বিচারাধীন বন্দীদের জন্য “বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্টার’ (রেজিষ্ট্রার-৮) ব্যবহার করতে হবে। 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

আজকে আমরা সিভিল বন্দী সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

সিভিল বন্দী

 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

বিধি-৮৮৬৷

প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে সিভিল ওয়ার্ড বা কারাগারে আটক রাখতে হবে এবং তাদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মেলামেশার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

বিধি-৮৮৭।

প্রয়োগ নেই।

 

বিধি-৮৮৮।

সিভিল বন্দী ৬ প্রকারের-

(১) দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ (ডি) ধারায় দেওয়ানী আদালত কর্তৃক দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত ব্যক্তি,

(২) রায়ের পূর্বে সিভিল কারাগারে সোপর্দকৃত বিবাদী

(৩) দেওয়ানী আদালতের আদেশ মোতাবেক ডিক্রীজারীর জন্য আটক বিচারে-দেনদার,

(৪) সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশ মোতাবেক সরকারী পাওন আদায় আইন, ১৯১৩ অধীনে আটক বিচারে দেনদার,

(৫) ফৌজদারি কার্য বিধির { } ৫১৪ ধারায় ফৌজদারি আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড প্রদত্ত ব্যক্তি,

(৬) প্রযোজ্য অন্য কোন আইনে সিভিল কারাগারে আটককৃত ব্যক্তি।

 

বিধি-৮৮৯।

লক আপের শেষে সূর্যাস্তের পর কোন সিভিল বন্দীকে ভর্তি করা যাবে না।

 

বিধি-৮৯০।

দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার XXI, রুল ৩৯ মোতাবেক বিচারে- দেনদার সিভিল বন্দীর খাবার খরচ ডিক্রীদার বহন করবেন। ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় প্রেরিত সিভিল বন্দীর খাবার খরচ সার্টিফিকেট অফিসার বন্দীর সঙ্গে প্রেরণ করবেন অথবা বিনাশ্রম স্কেলে তাদেরকে সরকার কর্তৃক খাওয়ানো হবে মর্মে আদেশ প্রদান করবেন।

 

সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯১।

যখন ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে কোন সিভিল বন্দীকে কারাগারে সোপর্দ করা হয়, তখন প্রেরণকারী আদালত হাইকোর্ট অনুমোদিত হারে বন্দীর মাসিক খোরপোষ ভাতা ধার্য করে দিবেন। প্রথম পেমেন্ট কোর্ট অফিসারের নিকট প্রদান করতে হবে। চলতি মাসের যতদিন অবশিষ্ট আছে সে হিসাব করে, কোর্ট অফিসার তা জেলারের নিকট প্রেরণ করবেন।

যথাযথ ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত কোন বিচারে দেনদারকে সিভিল কারাগারে গ্রহণ করা হবে না। সম্পূর্ণ পরিমাণ আনুষঙ্গিক ভাতা (যদি থাকে) মাস শুরু হবার পূর্বেই জেলারের নিকট অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। ডিক্রীদার ভাতা পরিশোধ না করলে জেল সুপার আদালতকে না জানিয়ে বিচারে দেনদারকে মুক্তি দিবেন। মুক্তি সে দিন সকালে দিতে হবে, যে দিনের জন্য কোন ভাতা পরিশোধ করা হয় নি। ডিক্রীদারকে ৭৬ নম্বর জেল ফরমে তার পরিশোধকৃত টাকার প্রাপ্তি প্রদান করতে হবে।

 

বিধি-৮৯২।

আদালত দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত বন্দীর মাসিক ভাতা কেবল মাত্র শ্রেণী অনুযায়ী ধার্য করবেন, বন্দীর বংশ বা জাতীয়তা বিবেচনা করবেন না (হাইকোর্ট রুল ১৫ (সিভিল), ১৯৩২।

 

বিধি-৮৯৩।

(১) সিভিল বন্দীর মুক্তির তারিখ ৫২৪ বিধি অনুযায়ী গণনা করতে হবে এবং তার নাম রিলিজ ডাইরীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) একাধিক ওয়ারেন্ট মূলে কোন সিভিল বন্দীকে আটকের আদেশ হলে, প্রত্যেক ওয়ারেন্ট পূর্ণ ভাবে কার্যকর করতে হবে, যদিও এতে বন্দীর আটকের মেয়াদ ৬ মাস অতিক্রান্ত হতে পারে। বিধি-৮৯৪। ডিক্রীজারীর জন্যে আটককৃত প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে আটক রাখতে হবে-

(ক) যখন ৫০ টাকার বেশী পরিশোধের ডিক্রী হয়, ৬ মাস; এবং

(খ) অন্য যে কোন ক্ষেত্রে, ৬ সপ্তাহ: তবে শর্ত থাকে যে, সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে মুক্তি পেতে পারে যদি-

(১) দেওয়ানী কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ওয়ারেন্টে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করলে, বা

(২) ডিক্রী অন্য ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেলে, বা

(৩) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল তার অনুরোধ ক্রমে, বা

(৪) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল, সে খোরপোষ ভাতা পরিশোধ হতে বিচ্যুত হলে, বা

(৫) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল সে ব্যক্তি জেল সুপার কর্তৃক বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিংয়ের মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে।

আরও শর্ত থাকে যে, ঐ বন্দী আদালতের আদেশ ব্যতীত উপ-বিধি (২) এবং (৩) অনুযায়ী মুক্তি পাবে না। এই বিধান সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশে দেওয়ানী কারাগারে আটক বিচারে- দেনদারদের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব অনুসরণ করা হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯৫।

কোন বিচারে দেনদার দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

(ক) কোন সংক্রামক রোগের কারণে সরকার কর্তৃক,

(খ) গুরুতর অসুস্থতার জন্যে রায় প্রদানকারী আদালত বা তার উচ্চ আদালতের নির্দেশে।

 

বিধি-৮৯৬।

সিভিল বন্দীর মুক্তির পরে, যদি তার খাবার বাবদ কোন টাকা জেলারের হাতে অব্যয়িত থাকে, জেলার তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন। খাবার টাকা ফেরত দেয়ার প্রত্যেক প্রাপ্তি রাখতে হবে এবং ক্যাশ বইতে হিসাবের বিপরীতে লাগিয়ে রাখতে হবে।

 

বিধি-৮৯৭।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজের জামা-কাপড়, খাবার ও তৈজসপত্র ব্যবহারের এবং ক্রয় করা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে। যদি কোন সিভিল বন্দী পর্যাপ্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর ব্যবস্থা না করতে অপারগ হয়,তা হলে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে তা তাকে সরবরাহ করবেন।

 

বিধি-৮৯৮।

কোন ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে সোপর্দকৃত সিভিল বন্দীকে পূর্বোক্ত ভাবে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হলে, জেল সুপার সে ব্যক্তির নিকট বন্দীকে প্রদত্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর মূল্য বাবদ খরচের হিসাব প্রেরণ পূর্বক তা পরিশোধের জন্যে লিখিত দাবী জানাবেন। লিখিত দাবী পাবার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা পরিশোধ করা না হলে, জেল সুপার ঐ সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন।

ডিক্রীদারের নাম ঠিকানা আদালত হতে নিশ্চিত হয়ে রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে ডিক্রীদারের ঠিকানায় দাবী প্রেরণ করতে হবে। পর প্রাপ্তির যুক্তি সঙ্গত সময় অপেক্ষা করার পর পাওনা পরিশোধ না হলে জেলার সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে জেল সুপার নিশ্চিত হবেন যে, দাবী মানা হয়নি বা পরিশোধ করা হয়নি।

 

বিধি-৮৯৯।

যদি ডিক্রীদারের খরচে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হয়,বিচারে-দেনদারকে মুক্তি প্রদানের সময়, রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে ডিক্রীদারকে জানাতে হবে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জামা-কাপড় বা বেডিং দাবী না করেন তবে তা জেল সুপার নিজ দায়িত্বে বিক্রয় করে দিবেন। জামা-কাপড় বা বেডিং তদনুযায়ী বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং বিক্রয়ের আর আদালতে জমা প্রদান করা হবে।

 

বিধি-৯০০।

সিভিল বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জেল সুপারের নির্ধারিত সময় মোতাবেক কারাগারের বাহির হতে খাবার সরবরাহ করতে দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিক্রীদার কর্তৃক জমাকৃত ভাঙা বন্দীদের বন্ধুদের কাছে দেয়া যেতে পারে।

 

বিধি-৯০১।

সকল জন্মকৃত বা সরবরাহকৃত খাবার, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেলারের মাধ্যমে এবং জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এবং পরীক্ষা করে কারাগারে প্রবেশ করানো হবে।

 

বিধি-৯০২।

কোন সিভিল বন্দীর খাদ্য, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য সামগ্রী অন্য কোন বন্দীর নিকট বিক্রয় বা ভাড়ায় দেয়া যাবে না। এ বিধির লংঘনকারীকে খাদ্য কেনা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের সুযোগ রহিত করা হবে এবং কোন সিভিল বন্দী কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারায় কোন অপরাধ করলে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক বিচারে দণ্ডনীয় হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৯০৩।

বিধির পরিপন্থী না হলে, সিভিল বন্দীদের নিকট ড্রাগ বা মদ ব্যতীত টাকা বা অন্যান্য সামগ্রী দাতার ইচ্ছানুযায়ী দান বা অনুদান হিসাবে বিতরণ করা যেতে পারে। তাদেরকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই দেয়া যেতে পারে এবং তাদের নিজ খরচে জেল সুপার অনুমোদিত আপত্তিহীন বই বা সংবাদ পত্র রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে নিরাপদ ঘরোয়া খেলার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে সিভিল বন্দীর জন্য জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত মিষ্টি বা অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

 

বিধি-৯০৪।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজেদের ভরণ-পোষণের জন্য জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হবার অনুমতি দেয়া যাবে। সিভিল বন্দীরা নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে এবং কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় না হলে, সম্পূর্ণ আয় গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় হলে যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাদের আয় হতে কেটে রাখা হবে ৷ কোন সিভিল বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু, তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য চাপ দেয়া যাবে।

 

বিধি-৯০৫ ৷

সিভিল বন্দীগণ যখন দিনে কক্ষে বা ওয়ার্ডে থাকবে তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যথাযথ পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। কোন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা বা অনুমোদিত ভিজিটর সিভিল ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তারা উঠে দাঁড়াবে, সম্মান করবে এবং কাজ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিবে।

তারা কারাগারের নিয়ম এবং জেল সুপারের নির্দেশ প্রতিপালন করবে। কোন সিভিল বন্দী অপর কোন বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণ বা অপমান করলে বা ঝগড়া করলে বা জোরে কথা বললে এবং হৈ চৈ করলে কিংবা অশোভন বা অনৈতিক কোন অপরাধ করলে বা বিনা অনুমতিতে বাহিরের কারো সাথে যোগাযোগ করলে বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ প্রদান করলে বা করার চেষ্টা করলে বা জুয়া খেললে এবং ওয়ার্ডের বারান্দা নোংরা করলে এবং আদেশ অমান্য করলে বা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোন ভাবে অসম্মান প্রকাশ করলে ১,৭ এবং ৮ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ৪ নম্বর গুরু শাস্তি অথবা বলবৎ আইন মোতাবেক অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

বিধি-৯০৬।

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন সিভিল বন্দীকে পলায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা করে সুযোগ প্রদান করলে দণ্ড বিধির ২২২ বা ২২৩ ধারায় দণ্ডনীয় হবেন। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে দও বিধির ২২৫বি ধারায় দণ্ডনীয় হবে। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে ডিক্রীদারকে অবহিত করতে হবে, যিনি, বন্দীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি কারা কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে পুনঃধৃতকরণে সাহায্য করবেন। পুনঃধৃত করা গেলে বা পলায়নের চেষ্টা করলে, বন্দীর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ২২৫বি ধারায় বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা করা হবে।

 

টীকা- যে ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হয়ে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতায় কোন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিতকে আইনানুগভাবে আটক করে রাখতে আইনত বাধ্য থেকে অবহেলাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, সে ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। (ধারা-২২৩, দণ্ডবিধি)।

 

বিধি-৯০৭।

যে সকল বন্দী নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আগ্রহী, তাদেরকে জেল সুপার সকল তথ্য ও সহায়তা করবেন-এ মর্মে প্রত্যেক সিভিল ওয়ার্ডের সামনে নোটীশ টানিয়ে রাখতে হবে। দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা লেখা যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় লেখার কাগজ ও জিনিসপত্র সরবরাহ করা যেতে পারে ।

বিধি-৯০৮।

সিভিল বন্দীদের জন্য সিভিল জেল রেজিষ্টার (৯ নম্বর রেজিষ্টার) ব্যবহৃত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের কারাগার বদলি

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের কারাগার বদলি প্রসঙ্গে

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বন্দীদের কারাগার বদলি । জেল কোড

বিধি-৮৪০। একজন সাজা ভোগরত বন্দীকে কারা মহা পরিদর্শকের আদেশক্রমে সাজার মেয়াদ শেষ হবার একমাস পূর্বে বন্দীর বাড়ীর নিকটবর্তী কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে। কিন্তু বিশেষ কারণ ব্যতীত এরূপ স্থানান্তর করা উচিত হবে না। বন্দীরা সাধারণত আটক থাকার কারাগার হতেই মুক্তি পাবে। মুক্তির সময় তাদেরকে তাদের বাড়ীর নিকটবর্তী রেল ষ্টেশন পর্যন্ত ভ্রমনের জন্যে রেল টিকেট এবং দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-৮৪১। অকার্যকর।

বিধি-৮৪২। নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ব্যতীত যে কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হবে-

(১) অন্য জেলায় সাক্ষ্য প্রদান বা বিচারের প্রয়োজনে প্রেরণ,

(২) কিশোর অপরাধীকে সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ,

(৩) পি আর টি বন্দী,

টীকা-১। বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্ন বিধান না থাকলে কারাদণ্ড বা হাজতবাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে, সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন (ধারা- ৫৪১, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। ডিটেন্যুদের স্থানান্তরের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।

টীকা-৩। স্বীকারোক্তির যথার্থতা নির্ণয়ের জন্য একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে ইনস্পেক্টর জেনারেলের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পিআরবি)।

টীকা-৪। বিচারাধীন বন্দীকে প্রথমে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল সে কারাগার হতে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে কোর্ট অফিসার যে আদালতে উক্ত মামলা চলছে সে আদালতে আবেদন করবেন। অনুরূপ বন্দীকে আদালতে হাজির করার পর স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হলে স্থানান্তর করতে হবে (প্রবিধান-৪৮৫, পিআরবি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৩। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্নোক্ত ভাবে বন্দী স্থানান্তরিত হবে :-

বন্দীর শ্রেণী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য কোন কারাগারে প্রেরণ করা হবে দন্ড শেষ হবার কত দিন আগে জেলকোডের বিধি
দীর্ঘ মেয়াদী বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৯
১ম ও ২য় শ্ৰেণী প্রাপ্ত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ১০৬৮
শিক্ষিত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৭
মহিলা বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৪,৯৪৭
কিশোর বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৫,৯৬৬,৯
কুষ্ঠ রোগী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ১০৪৭
সিভিল বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৪৭,৮৫৮
প্রভাবশালী,উগ্র ও ভয়ংকর প্রকৃতির বন্দী কারাবাস আদেশ অনুযায়ী ৮৪৫
প্রয়োগ নেই কারাবাস
১০ মাদক পাচারের জন্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবাস নিজ জেলা কারাগারে ২ মাস ৮৫৩
১১ মুচলেকা খেলাপের দায়ে বন্দী মুচলেকা সম্পাদন সুবিধার্থে নিজ জেলা কারাগারে  ২ মাস ৮৫২
১২ ১ম, ২য় শ্রেণী প্রাপ্তবন্দী যারা রেয়াতসহ শর্ত যুক্ত মুক্তি প্রাপ্ত শর্তযুক্ত মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে  ১ মাস ৮৪৮
১৩ মহিলা বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ৬ সপ্তাহ ৮৪৮
১৪ পি আর টি বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ১ মাস ৮৪৮
১৫ অসুস্থ বা মৃত্যুগামী বন্দী ৫৯১,৫৯২ ও ৫৯৪ অনুসারে মুক্তির জন্যে আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুবান্ধব বাস করে সে জেলা কারাগারে ১ মাস ৫৯৬
১৬ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে আদেশ মোতাবেক ৯৯৯

এ ছাড়া কারাগারের স্থানাভাব দূর করার জন্যে, পুলিশকে তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে, পুলিশের চাহিদা মোতাবেক ছবি তোলার জন্যে, কারাগারের কাজ করার জন্যে এবং বন্দীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে আদেশ মোতাবেক প্রযোজ্য কারাগারে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে না-

(ক) ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করলে;

(খ) আপীল না করলে আপীল করার সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা আপীল না মঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত।

টীকা- স্বীকারোক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দীর কারাগার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে কারা মহাপরির্দশকের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পি আর বি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৪। প্রতিটি বদলির আদেশের আবেদনের সাথে বা আদেশ সাপেক্ষে বদলি করার পর ৮ নম্বর জেল ফরমে বদলিকৃত বা প্রেরিতব্য বন্দীদের নাম নম্বরসহ কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে দাখিল করতে হবে।

বিধি-৮৪৫। শারীরিক সক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রমী বিবেচনায় কোন বন্দীকে বদলির আদেশ দেয়ার পর যে কারাগারে বদলি করা হবে সে কারাগারের জেল। সুপারের সঙ্গে বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ করার জন্যে বদলি বিলম্বিত হতে পারে। আলোচনার পর গ্রহণকারী জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করলে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৪৬। বদলির জন্য তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শক বরাবরে প্রেরণ কালে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার প্রতিটি বন্দী সম্পর্কে মন্তব্যে কোন আপত্তি লক্ষিত হয় কিনা তা উল্লেখ করবেন; এবং কারা মহাপরিদর্শক কোন্ কোন বন্দী বদলি করা হবে তা নির্ধারণ করবেন। বদলির অনুমোদন আদেশে কারা মহাপরিদর্শক শুধুমাত্র বন্দীর নাম এবং নম্বর উল্লেখ করবেন; এবং আদেশ বন্দী যেখানে আটক আছে সে কারাগারে এবং তথ্য বিবরণী ফদটি বদলি গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করবেন। দ্বিতীয় কপি তথ্য বিবরণী ফর্দ কারাগারের অফিসে রাখা উচিত।

বিধি-৮৪৭। বদলির জন্য প্রস্তাবিত বন্দী বিশেষতঃ দীর্ঘ মেয়াদী শিক্ষিত এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বন্দীদের তথ্য বিবরণী ফর্দ যাতে যথাযথভাবে পূরণ হয় এবং যথানিয়মে কারা মহা পরিদর্শক বরাবরে আদেশের জন্য প্রেরিত হয় তা দেখা জেল সুপারের কর্তব্য।

যদি জনাধিক্য বদলির কারণ হয় তবে ১১৪৮ বিধির আদেশ অনুসারে অনতিবিলম্বে জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ ক্ষেত্রে জেলার কঠোরভাবে দায়ী থাকবেন। কোন শিক্ষিত, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির বন্দী কারাগারে আগমন করলে জেলার তা জেল সুপারের গোচরে আনয়ন করবেন এবং কোন বিধির আওতায় বদলি প্রয়োজন তাহা উল্লেখ করবেন।

৮৪৮ ৷ যে সকল প্রথম শ্রেণীর পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী ভর্তির রেজিষ্টার ও মুক্তির ডায়েরীতে যাদের নামের বিপরীতে ইংরেজী ‘টি’ অক্ষর লিখা রয়েছে এবং রেয়াত ফর্দের ১ম এবং ২য় শ্রেণীর বন্দী যারা শতাধীন মুক্তি অর্জন করেছে তাদেরকে বদলি করা উচিত ।

বিধি ৮৪৯-৮৫০। অকার্যকর।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৫১। যদি কোন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী অসুস্থতার কারণে তার মুক্তির দুই মাস পূর্বে বদলির জন্য অনুপযুক্ত হয় তবে বিষয়টি বন্দীর নিজস্ব জেলার জেল সুপার ও পুলিশ সুপারকে জানানো উচিত। পরবর্তীতে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলায় যাওয়ার সময় থাকলে তাকে সেখানে বদলী করা উচিত।

যদি সাজা খাটার মাত্র ১৫ দিন বাকী থাকে তখনও সে বদলির অনুপযুক্ত থাকে, তখন বন্দীর মুক্তি স্লিপে বিষয়টির একটি নোট সহ স্থানীয় পুলিশের নিকট পাঠিয়ে দেয়া উচিত এবং মুক্তির দিন অন্য কোন ঝুট ঝামেলা ছাড়া তাকে মুক্তি দেয়া উচিত। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত বন্দী যারা পুলিশ নিবন্ধিত তাদেরকে যথেষ্ট সময় হাতে না থাকলে কিংবা মুক্তির পূর্ব দিনে বদলিকৃত জেলে পৌছাতে না পারলে বদলি করা উচিত নয়। এই সকল বন্দীর পুলিশ নিবন্ধিত স্লিপ বন্দীর নিজ জেলার পুলিশ সুপারের নিকট কুষ্ঠাক্রান্ত কারাগারের জেল সুপার দ্বারা প্রেরিত হওয়া উচিত ।

বিধি-৮৫২। যদি মূল সাজার অতিরিক্ত হিসেবে শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেয়ার আদেশ থাকে এবং তা অমান্যে অতিরিক্ত সাজার আদেশ থাকে তা হলে মূল সাজা শেষ হবার দুই মাস পূর্বে মুচলেকা দেয়ার সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বন্দীকে নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে।

বিধি-৮৫৩। আফিম বা কোকেনের চোরাচালানের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে সাজার মেয়াদের শেষ দুই মাসের যে কোন সময় তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে। কোন বিলম্ব ছাড়া এ সকল বন্দীর তিন ফর্দ তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তিনি এ সকল বন্দীর বদলি অনুমোদন করবেন।

বিধি-৮৫৪ । কোন মহিলা বন্দীর জন্যে কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে সে সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি-৮৫৫। কোন কারাগারে কিশোর বন্দীদেরকে পৃথক রাখার ব্যবস্থা না থাকলে যে কারাগারে এ ব্যবস্থা আছে সেখানে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৮৫৬-৮৫৭। অকার্যকর।

বিধি-৮৫৮। যদি কোন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির জেল ভাঙ্গা বা ভয়ংকর চরিত্রের কোন বন্দী কোন কম নিরাপদ কারাগারে থাকে বা বন্দী যদি স্থানীয় ভাবে খুব প্রভাবশালী হয়, এ সব কারণে তার বদলি যুক্তি সঙ্গত প্রতীয়মান হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট এ মর্মে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

বিধি-৮৫৯। ৬ মাস বা ততোধিক সময়ের জন্যে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল ও বয়স ৪৫ বৎসরের অধিক না হলে জেলা কারাগার হতে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করতে হবে। ৬ মাসের কম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলির জন্যে কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতা প্রাপ্ত। তিনি প্রয়োজন অনুসারে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন ।

বিধি-৮৬০। কোন কারাগারে ঝাড়ুদার বা পেশা ভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে স্বল্প মেয়াদের বন্দী আটক না থাকলে এ সকল কাজ সম্পাদনের জন্যে নিকটস্থ কেন্দ্রীয় কারাগার হতে বন্দী আনয়ন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সকল আবেদনপত্র কারা মহা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬১ । স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যে উপযুক্ত আবহাওয়া সম্পন্ন কারাগারে বন্দীকে বদলির সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৮৬২ । কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে নেয়া যাবে না যদি না মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী স্থানান্তরের অযোগ্য অসুস্থতা মুক্ত। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বদলির আগে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে এবং তিনি ১৩ নম্বর জেল ফরমে এ মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী বদলির ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত।

বিধি-৮৬৩। প্রয়োগ নেই।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৬৪। সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির ভ্রমণের সময় সাধারণত রান্না করা খাবার সঙ্গে দেয়া হবে। ভ্রমণ একদিনের বেশী হলে জেল সুপার স্কট কমান্ডারের নিকট নগদ অর্থে দৈনিক ভাতা প্রদান করবেন, যাতে তিনি খাবার ক্রয় করতে পারেন।

টীকা-১। পুলিশ এস্কটে থাকাকালে একজন বন্দী দৈনিক ১০ টাকা হারে ভাতা পাবে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ই-৩৫/৮৪-জেল-১/৪৫৬ তারিখ-১৫-৮-৯৫)।

টীকা-২। সড়ক পথে ভ্রমনের সময় বন্দীদেরকে পথের পুকুর হতে পানি পানের অনুমতি দেয়া হবে না (প্রবিধান-৭১৯, পিআরবি)।

টীকা-৩। জেল কোডের ৮৬৪ বিধি পিআরবি’র ৭১৯ নম্বর প্রবিধান অবিকলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিধি-৮৬৫। প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৮৬৬। বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশ প্রহরার জন্যে পরিশিষ্ট ৪ অনুসরণ করতে হবে।

টীকা- প্রয়োজন হলে পুলিশ লাইন হতে পুলিশ নিয়ে কোর্ট পুলিশ জেল বা লক-আপ হতে বিচারাধীন বন্দীদের ম্যাজিষ্ট্রেটের কোর্টে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তারা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তাদেরকে পাহারা দিবে। ম্যাজিট্রেট যাদের জেল দেয়ার বা হাজতে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে পাহারা দিয়ে ফেরত নিয়ে আসবে (প্রবিধান-৪৭৯,পিআরবি।

বিধি-৮৬৭। এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তর কিংবা বিচারাধীন বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্যে প্রেরণের উদ্দেশ্যে জেল সুপার নির্ধারিত ফরমে পুলিশ সুপারের নিকট পুলিশ স্কট চেয়ে রিকুইজিশন প্রদান করবেন। বন্দীর সংখ্যা, বন্দীদের শ্রেণী-প্রকৃতি, কোন পাগল বা বিপদজনক চরিত্রের বন্দী থাকলে তার উল্লেখ পূর্বক ৪৮ ঘন্টা পূর্বে (ছুটির দিন ব্যতীত) রিকুইজিশন প্রদান করতে হবে। রিকুইজশন দেয়ার পর স্কট প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের উপর বর্তাবে। প্রস্তাবিত বদলির খবর ১২ নম্বর জেল ফরমে গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬৮। মাত্র একজন মহিলা বন্দীকে স্থানান্তর কালে এক বা দুই জন বয়স্ক ও ভাল স্বভাবের কনস্টেবল এবং একজন মহিলা কারারক্ষী সঙ্গে থাকবে ।

বিধি-৮৬৯। বদলির জন্যে নির্দিষ্ট সকল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট হস্তান্তরের পূর্বে সতর্কতার সঙ্গে তরাশী করে দেখতে হবে যেন তারা পলায়নের উদ্দেশ্যে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য যেমন রেতী, অস্ত্র, রশি, সিল্ক বা অন্য কোন দ্রব্য সঙ্গে না নিতে পারে।

বিধি-৮৭০ । ভ্রমণ/ বিরতি কালে যথা সম্ভব মহিলা ও কিশোর বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলা বন্দীদের সাথে একজন মহিলা কারারক্ষী দিতে হবে।

বিধি-৮৭১। পুরুষ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে হাঁটা অবস্থায় জোড়ায় জোড়ায় হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। এক জনের ডান কব্জি, অপর জনের বাম কব্জির সঙ্গে। যখন বন্দীর সংখ্যা ৫,৭,৯ এরূপ বেজোড় হয় তখন বেজোড় ব্যক্তিকে অন্য দুই ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। তার বোঝা অন্য বন্দীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।

পুলিশ বিভাগের বিধিতে প্রযোজ্য হলে প্রয়োজনে পুরুষ বন্দীদের বেড়ী পরাতে হবে। যদি তা করা হয় তবে চামড়া ছেঁছলানো থেকে রক্ষার জন্যে চামড়ার পট্টিও দিতে হবে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর সময় পায়ে বেড়ী পরাতে হবে। হ্যান্ডকাপ পুলিশ বিভাগ সরবরাহ করবে এবং বেড়ী, পট্টি এসব কারা বিভাগ সরবরাহ করবে। কোন মহিলা। বন্দীকে হ্যান্ডকাপ বা বেড়ী পরানো যাবে না ।

বিধি-৮৭২। বন্দীদেরকে স্কটের নিকট প্রদান কালে স্কট ইন-চার্জের নিকট জেলার বিধি মোতাবেক খরচপত্র মিটানোর জন্যে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা প্রদান। করবেন। বিধি ৮৭৭ অনুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভাড়া পরিশোধের জন্য জেলার ১৮ নম্বর জেল ফরমে একটি রেলওয়ে পাশ প্রদান করবেন এবং সরকারী সম্পত্তি ও বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নিম্নোক্ত কাগজ পত্র হস্তান্তর করবেন-

(১) দণ্ড প্রদানের মূল আদেশ (হাইকোর্ট ফরম নং-৩৮), আদেশের উপর বদলির তারিখ এবং যে কারাগারে বদলি হ’ল তা লিখতে হবে:

(২)বন্দীকে কোর্টে হাজির করণের প্রয়োজন হলে কোর্টের আদেশের কপি;

(৩) সরকারী সম্পত্তির সকল তালিকা,কাপড়-চোপড়, বিছানাপত্র, হাঁড়ি পাতিল/ তৈজস পত্র ইত্যাদি, বন্দীদের ব্যক্তিগত জামা কাপড় এবং অন্যান্য সম্পত্তি যা তাদের সাথে যাবে তা স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ১৩ নম্বর জেল ফরমে বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন বন্দী বিপজ্জনক হলে তা তালিকায় লিখে দিতে হবে;

(8) বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট;

(৫) বন্দীর রেয়াত কার্ড (জেল ফরম ১৮);

(৬) মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট,

(৭) পি. আর, স্লিপ, যদি থাকে

(৮) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি বিশদ বিবরণী

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৭৩। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারী রেল, স্টিমার বা অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থা যেখানে আছে সেগুলোর মাধ্যমে বন্দী প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৭৪। অকার্যকর

বিধি-৮৭৫। প্রয়োজন ছাড়া মেইল ট্রেনে বন্দী পাঠানো যাবে না। বন্দীদের জন্যে সংরক্ষিত কামরার দরজা অপসারণ যোগ্য লোহার জাঁজর দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিবেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ বন্দীদের যাত্রার ৪৮ ঘন্টা পূর্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কামরা সংরক্ষিত করার জন্যে ১৭ নম্বর জেল ফরমে রেলওয়ের ষ্টেশন মাষ্টারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

বিধি-৮৭৬। প্রেরণকারী কারাগারের জেল সুপার বন্দীরা যাতে লক আপের পূর্বে গ্রহণকারী কারাগারে পৌঁছতে পারে তার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-৮৭৭। যখন কোন পাগল বা বিপদজনক বন্দী ও রক্ষীসহ লোক সংখ্যা আট জনের অধিক হয় তখন রেলের সংরক্ষিত কামরা ছাড়া তাদেরকে পাঠানো যাবে না।

বিধি-৮৭৮। গন্তব্যে পৌঁছার পর স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণকারী কারাগারের জেলারের কাছে তহবিলের হিসাব দিবেন এবং জেলার কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা ট্রেজারীতে জমা দিতে হবে।

বিধি-৮৭৯। বন্দীরা বদলির মাধ্যমে আসার পর কারাগারের জেলার নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিবেন-

(১) স্কট ইনচার্জ হতে ৮৭২ বিধিতে উল্লেখিত সকল দলিলপত্র এবং হিসাবপত্র বা ৮৭৮ বিধিতে উল্লেখিত অগ্রিমকৃত টাকার কোন জের থাকলে তা বুঝে নিবেন:

(২) আগত বন্দীর সংখ্যা সঠিক কিনা দেখে নিবেন: যদি কোন বন্দী হারিয়ে যায় তা হলে স্কট ইনচার্জের কাছ থেকে তার কারণ জেনে নিবেন এবং স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে বিষয়টি উল্লেখ করবেন: বিষয়টি তিনি জেল সুপারকেও জানাবেন;

(৩) প্রেরিত কারাগার হতে যে সকল সরকারী সম্পত্তি এবং বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রেরণ করা হয়েছে তালিকা অনুযায়ী তা বুঝে নিবেন । যদি কিছু হারিয়ে থাকে তবে স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে দ্রব্যের তালিকাসহ তা লিখে দিবেন। উক্ত তালিকার একটি কপি প্রেরিত কারাগারের জেল সুপারের কাছে প্রেরণ করবেন। যদি স্কটের গাফিলতির জন্যে সম্পদের ক্ষতি হয় তবে তা তাদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে;

(8) জেলার বন্দীদেরকে তাদের সঙ্গে রাস্তায় কি ধরনের আচরণ করা হয়েছে, যাত্রা বিরতি হয়েছে এবং খাদ্য প্রদান করা হয়েছে সে সব ৮৬৪ বিধি অনুযায়ী জিজ্ঞাসা করবেন; কোন অভিযোগ থাকলে তা স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে উল্লেখ করবেন;

(৫) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছে সে কারাগারে বা স্কটের ফেরত পথে পথিমধ্যে অন্য কোন কারাগারে বন্দী প্রেরণ করার থাকলে স্কটের শক্তি অনুসারে বন্দী স্থানান্তরের জন্যে হস্তান্তর করবেন;

(৬) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে স্কট ইন-চার্জের কাছে ১১ নম্বর পি আর বি ফরমে কমান্ড সার্টিফিকেট (সিসি) প্রদান করবেন।

বিধি-৮৮০। গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার দেখবেন যে বন্দীদের সাথে প্রেরণকারী কারাগার হতে যে সকল পোশাক ও বেডিং পাঠানো হয়েছে সে সব ব্যবহার যোগ্য কিনা। যদি ব্যবহার যোগ্য না হয় তিনি কারা মহাপরিদর্শককে বিষয়টি জানাবেন। যদি কোন বন্দী নালিশ করে যে তার সাথে পথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা নির্দেশ মোতাবেক তাকে খেতে দেয়া হয়নি, তবে জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং তার এক কপি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

 

বিধি-৮৮১। কোন বন্দী পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যদি বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তাকে নিকটবর্তী থানায় বা পুলিশ চৌকিতে রেখে যেতে হবে। সেখান থেকে তাকে নিকটবর্তী কারাগারে প্রেরণ করে দিতে হবে এবং কারাগারে মেডিকেল অফিসারের চিকিৎসায় রাখতে হবে। ঘটনাটি প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

বিধি-৮৮২। যে কারাগারে অসুস্থ বন্দীকে রাখা হয়েছে সে কারাগারের জেল সুপার বন্দী সুস্থ না হওয়া পর্যস্ত তাকে সেখানে রাখবেন এবং তার হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন। সুস্থ হবার পর তাকে তার গন্তব্য কারাগারে প্রেরণ করবেন এবং তার প্রেরণের বিষয়টি গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার এবং কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

বিধি-৮৮৩। যদি স্থানান্তরের পথে কোন বন্দী মারা যায়, তবে যে জেলায় মারা যাবে সে জেলার জেলা ম্যাজিট্রেট এ ব্যপারে তদস্ত করবেন এবং দেরী না করে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করলে বদলি কালে বন্দীর মৃত্যু জেল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না ।

বিধি-৮৮৪ । কোন বন্দী পথিমধ্যে পালিয়ে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে, যারা পলাতক বন্দীকে পুনরায় ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা করবেন । যে কারাগরে বন্দীকে গ্রহণ করার কথা ছিল এবং যে কারাগার হতে প্রেরণ করা হয়েছিল, উভয় কারাগারের জেল সুপারকেই পলায়নের খবর জানাতে হবে।

যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছিল, সে কারাগরের জেল সুপার তার জেলা কর্তৃপক্ষের সাহায্যে বন্দীকে ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যদি পুনরায় ধৃত করা সম্ভব না হয় তা হলে ঐ বন্দীর কাগজপত্র, সম্পত্তি তার প্রেরক কারাগারে ফেরত যাবে।

বিধি-৮৮৫। যে সকল বন্দী আটকাবস্থা থেকে পলায়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তাদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে তাদের ডিসক্রিপটিভ রোল জেলা কারাগারের জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

নোট-নদীপথে প্রেরণকারী বন্দীদের ক্ষেত্রেও এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

জেল কোড অনুযায়ী দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা
দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা । জেল কোড

বিধি-৮০৬। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু, বা দুর্ঘটনা বা সন্দিগ্ধ আত্মহত্যা জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা মৃত দেহের সুরতহাল করতে হবে। মৃত্যুর ঘটনা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা তার নিয়োজিত অন্য কোন কর্মকর্তা যথাযথভাবে তদন্ত করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব না থাকলে, বা ঘটনার সঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকষর্ণ যোগ্য কারা প্রশাসনের কোন ত্রুটি না থাকলে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণের আবশ্যকতা নেই। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু সম্পর্কে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

বিধি-৮০৭। আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীদের ক্ষেত্রে বিধি ৭৪০ এবং ৭৪৬ অনুসরণ করতে হবে। চাকু, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, দড়ি প্রভৃতি বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। ওয়ার্কশপ, নাপিতের দোকান বা দর্জি খানায় ব্যবহৃত কাঁচি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কাজ শেষে একজন কারারক্ষী কর্তৃক গণনা পূর্বক নিরাপদ স্থানে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে। বিষাক্ত ঔষধ বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। সে সব জিনিস ডিসপেনসারীর আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে এবং চাবি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের কাছে রাখতে হবে।

বিধি ৮০৮-৮০৯। প্রয়োগ নেই ।

বিধি-৮১০। যে সব কারাগারে উৎপাদন কাজে বাষ্প, পানি বা অন্যান্য যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার হয় সে সব কারাগারে | কারখানা আইন, ১৯৬৫ এর চতুর্থ পরিচ্ছেদে বর্ণিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে} ।

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা
দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

বিধি-৮১১। নিম্নোক্ত দুর্ঘটনার রিপোর্ট অতিদ্রুত টেলিগ্রাম বা বাহকের মাধ্যমে কারখানা যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এবং কারখানা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে-

(১) মৃত্যু, বা

(২) এমন জখম যার ফলে মৃত্যু হতে পারে, বা

(৩) এমন জখম যার ফলে পরবর্তী ২০ দিন কাজ করা সম্ভব হবে না, বা

(8) স্থায়ীভাবে কোন অংগহানি, বা

(৫) স্থায়ী ভাবে দৃষ্টি বা শ্রবণ ইন্দ্রীয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।

দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যু হলে নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি দুর্ঘটনার কারণে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাজ করতে সক্ষম হবে না, এমন দুর্ঘটনার খবর ‘সামান্য দুর্ঘটনা’ হিসাবে রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। টেলিগ্রাম বা টেলিফোনে প্রেরিত দুর্ঘটনার সংবাদ পত্র দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে। কোন দুর্ঘটনার সংবাদ প্রথমে ‘সামান্য’ হিসাবে প্রেরণের পরে যদি দেখা যায় যে তা ‘গুরুতর’ তবে সংশোধিত রিপোর্ট প্রেরণ করতে হবে। অনুরূপভাবে প্রথমে ‘গুরুতর’ এবং পরে ‘সামান্য’ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

বিধি-৮১২। প্রত্যেক দুর্ঘটনার রিপোর্ট কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। উক্ত রিপোর্টে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং মেডিকেল অফিসারের কোন রিপোর্ট থাকলে তা সঙ্গে দিতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী শ্রম ও কারা শিল্প

আজকে আমরা আলোচনা করবো শ্রম ও কারা শিল্প সম্পর্কে

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

শ্রম ও কারা শিল্প । জেল কোড

বিধি-৭৮২। জেল সুপার কর্তৃক মিনিট বইতে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ কোন প্রয়োজন লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বা স্বেচ্ছায় কাজে নিয়োজিত বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাবে না। মেনিয়াল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতীত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে ঘোষিত সরকারী ছুটির দিনে কোন কাজ করা হবে না ।

টীকা, কোন কারখানার কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করানো যাবে না বা করতে দেয়া যাবে না। তবে ৫০.৫৪,৫৫ বা ৫৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে কোন কারখানার একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করতে পারে কিন্তু দশ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না (ধারা-৫৩, কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

বিধি-৭৮৩। সকালের প্যারেড এবং বন্দীদের গ্যাং বন্টন সম্পন্ন করার পর বন্দীরা দিনের কাজ শুরু করবে। সাধারণত ওয়ার্ড খোলার এক ঘন্টার মধ্যে দিনের কাজ শুরু করা উচিত। কাজের সময় সূচী নিম্নরূপ হবে-

মৌসুম সময়
পূর্বাহ্ন অপরাহ্ন
হতে পর্যন্ত কাজ শুরু কাজ বন্ধ কাজ শুরু কাজ বন্ধ
১৬ মার্চ ৩০ এপ্রিল ভোরের আনুমানিক এক ঘন্টা পর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১ লা মে ৩১ আগস্ট ১১ টা ১-৩০ টা ৫-৩০ টা
১ লা সেপ্টেম্বর ৩১ অক্টোবর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১৬ অক্টোবর ১৫ মার্চ ১১-৪৫ টা ১-০০ টা ৪-৩০ টা

কিন্তু স্পেশাল গ্যাং ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ ই মার্চের মধ্যে দুপুর দুইটা এবং বৎসরের বাকী সময় দুপুর ২-৩০ টা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করবে না। বিশ্রামের সময় বন্দীরা তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকবে ।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি-৭৮৪। কাজের জন্যে যে শারীরিক শক্তির প্রয়োজন, তা অনুসারে সকল কাজকে ‘শক্ত’, ‘মাঝারি’, এবং ‘হাল্কা’ কাজ হিসেবে বিভক্ত করা হবে। কোন বন্দী সর্বোচ্চ কি পরিমাণ কাজ করতে সক্ষম তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোন বন্দী কোন কাজের জন্যে উপযুক্ত তা মেডিকেল অফিসার নির্ধারণ করে দিবেন। মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ ছাড়া কোন বন্দীকে তার জন্যে নির্ধারিত কাজ অপেক্ষা শক্ত কাজ দেয়া যাবে না। মহিলা ও কিশোর বন্দীকে একজন পুরুষ বন্দীকে প্রদত্ত কাজের দুই তৃতীয়াংশের বেশী শক্ত বা মাঝারী কাজ দেয়া যাবে না।

বিধি-৭৮৫। প্রত্যেক কারাগারে শক্ত কাজে নিয়োজিত বন্দীদের কাজের উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। মাঝারী এবং হাল্কা কাজের উপযোগী কোন বন্দীকে লাভের আশায় কোন শক্ত কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না।

বিধি-৭৮৬। কোন বন্দীকে প্রথম বারের মত কোন প্রকার কাজে নিয়োজিত করার পর একটি যুক্তি সংগত পরিমাণ সময় দিতে হবে যাতে সে ঐ কাজে পারদর্শী হতে সক্ষম হয়। এই সময়ের মধ্যে সে অধ্যবসায় এবং সন্তোষজনক কাজের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হলে তাকে শ্রমের জন্যে রেয়াত মঞ্জুর করা যেতে পারে | এবং মুক্তির সময় ১২৪ নম্বর জেল ফরমে একটি সার্টিফিকেট দেয়া যেতে পারে}। কোন কাজে পূর্ণ মাত্রায় দক্ষতা অর্জনের জন্যে কি পরিমাণ সময় প্রয়োজন তা নির্ভর করবে কাজের ধরনের উপর। ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন পরিহার করা উচিত, তবে একই শক্ত কাজে কোন বন্দীকে অনির্দিষ্ট কাল নিয়োজিত না রেখে মাঝে মাঝে কাজের পরিবর্তন করা উচিত। বন্দীরা কাজ নির্ধারণ করার পূর্বে তার পাক্ষিক ওজন যাচাই করে দেখতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি- ৭৮৭। কোন বন্দীকে ওজন বা পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত কোন কাজ প্রদানের আগে তাকে কি পরিমাণ কাজ করতে হবে দিনের কাজ শুরুর আগে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যাতে বন্দী এবং রক্ষী উভয়ে কাজের অগ্রগতি বুঝতে পারে।

বিধি-৭৮৮। যখন দিনের শেষে বন্দী কাজ শেষ করবে, জেলার বা প্রধান কারারক্ষী বা টাস্ক টেকার বন্দীর সম্পাদিত কাজ পরিমাপ করবেন এবং বন্দীর টাস্ক টিকেটে তা রেকর্ড করবেন। কোন বন্দী তার নির্ধারিত কাজ কম করলে তা তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে এবং তাকে জেল সুপারের সামনে হাজির করতে হবে।

বিধি-৭৮৯। বিভিন্ন কাজের তালিকা, পরিমান ও মাত্রা।

বিধি-৭৯০। কোন বন্দীকে কাজে নিয়োজিত রাখার উদ্দেশ্য হ’ল তাকে অপরাধ থেকে সংশোধন করা। অনুৎপাদনশীল কাজ পরিহার করা উচিত। স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে অদক্ষ কাজে নিয়োজিত করা উচিত হবে। তবে যদি কোন কাজে বন্দীর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, সম্ভব হলে তাকে সে কাজ দেয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদেরকে কারা প্রাচীরের ভিতরের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। বন্দীদেরকে কাজের আধুনিক কলা কৌশল শিক্ষা নিতে হবে যাতে তারা মুক্তি পাবার পরে আধুনিক পরিস্থিতিতে যোগ্যতার সাথে কাজ করতে পারে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বড় কারাগারে একটি বা দুইটি প্রধান শিল্প স্থাপন করতে হবে।

কারা শিল্প প্রধানত: কারা বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে, দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন সরকারী বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে পণ্য উৎপাদনের উপযোগী হতে হবে। এ সব বিভাগ কারাগারে উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য থাকবে, যদি সেগুলি তাদের জন্যে সুবিধাজনক হয় এবং খোলা বাজারের চেয়ে নিম্নমানের বা উচ্চমূল্যের না হয়।

বিধি-৭৯১। কারাগারের উৎপাদন বিভাগের পণ্যের পূর্ণ এবং বিস্তারিত তালিকা বৎসরের শুরুতে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারী বিভাগ সমূহে প্রেরণ করতে হবে। পণ্যের মূল্য যথাসম্ভব এক বৎসরের জন্যে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা পরিবর্তন করা যাবে না।

বিধি-৭৯২ । অকার্যকর।

বিধি-৭৯৩। বাবুর্চী, নাপিত, পানিবাহক, সুইপার প্রভৃতি কাজে কারাগারের গার্হস্থ্য শ্রমিক (menial servants) হিসেবে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী হবে না। জেল সুপার লক্ষ্য রাখবেন যাতে অনুমোদিত হারের চেয়ে বেশী বন্দীকে গার্হস্থ্য শ্রমিক বা কয়েদী কর্মচারী নিয়োগ করা না হয়। যদি কোন গার্হস্থ্য শ্রমিকের দিন ব্যাপী কাজ না থাকে, তবে তাকে দিনের অবশিষ্ট সময় অন্য কোন কাজে নিয়াজিত করা যেতে পারে।

বিধি-৭৯৪। অকার্যকর।

 

বিধি-৭৯৫ । {আঠারো মাস বা তার তর কম সময়ের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বাহির প্রাচীরের কাজের জন্য যোগ্য হবে। যাদের দণ্ডের মেয়াদ বেশী,এক তৃতীয়াংশ মেয়াদ শেষ করলে তারাও যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু এখনও এক বছরের বেশী মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি ব্যতীত বাহির প্রাচীরের কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।}

নং- ৪৬৯ এইচ জে তারিখ ২১-৩-৪৭ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৭৯৬। সাধারণত অল্প মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বাগানের কাজ দেয়া হবে এবং জেল সুপার হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ ভাবে কাজ পাশ করবেন। কোন বন্দীকে শক্ত বা মাঝারী কাজ পাশ করা হলে তাকে বাগান বা কৃষির হাল্কা কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। যদি কোন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কারাগার এলাকায় সরকারী বাসায় বসবাস করেন তার বাসার বাগানের কাজে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের গ্রহরায় ৫ জন বন্দীর গ্যাংকে নিয়োজিত করা যেতে পারে। যদি ডেপুটি সুপার বা জেলারের বাসা সংলগ্ন অনুরূপ বাগান থাকে, তবে বাগানের কাজ নিয়মিত বাগানের গ্যাং যারা করতে হবে, গ্যাং ছুট কোন বন্দীকে কাজে লাগানো যাবে না ।

বিধি ৭৯৭-৭৯৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৯৯। কোন বন্দীকে কারাগারের করণিক কর্মে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ প্রয়োজনে একজন শিক্ষিত বন্দীকে কারাগারের চিঠির নকল, রোল ও রেজিষ্টার লিখার কাজে নিয়োজিত করতে পারেন। সে সব কাজ ওয়ারেন্ট, রেয়াত বা আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত হতে পারবে না। জেলারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে যে, ঐ বন্দী লেখার কাজে এমন জায়গায় বসবে, যা কারাগারের অফিস হতে বেশ দূরে হয়, গেইটের ভিতরে হয় এবং একজন কারারক্ষীর নজরদারীর আওতায় হয়।

বিধি-৮০০। বিনা অনুমোদিত কোন কাজ কারাগারের কারখানার ভিতরে বা বাহিরে করা যাবে না। জেলারের রিপোর্ট বইতে বা জেল সুপার বা ডেপুটি জেল সুপারের মিনিট বইতে আদেশ রেকর্ড না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বা মেরামত জাতীয় কোন কাজ শুরু করা যাবে না। কোন বন্দীর পোশাক রিপেয়ার করার পূর্বে তার হিস্ট্রি টিকেটে তা রেকর্ড করতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি ৮০১। উৎপাদন কাজের কাঁচামাল একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে রাখতে হবে। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ঘুরে দেখবেন ঐ দিনের জন্যে কী পরিমাণ জিনিসপত্র প্রয়োজন হবে এবং যে সকল কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়নি বিকালে তা গুদামে রেখে দিবেন। যে পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে সে পরিমাণ কাজ হয়েছে কিনা, তিনি তা নিশ্চিত করবেন।

বিধি-৮০২। কাঁচামাল সরবরাহের জন্যে প্রযোজ্য উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে জেল সুপার ঠিকাদারের মর্যাদার বিষয়টি দেখবেন এবং ঠিকাদার ও কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসাধু সম্পর্ক যাতে গড়ে না উঠে তা দেখবেন ।

বিধি-৮০৩। উৎপাদন বিভাগের সকল হিসাব জেলার বা ডেপুটি জেলারের তত্ত্বাবধানে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংরক্ষণ করবেন, যিনি হিসাবের নির্ভুলতার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-৮০৪ । যখন কারাগারের কোন উৎপাদিত পণ্যের জন্যে কোন প্রদর্শনীতে নগদ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে, কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা যেতে পারে।

বিধি-৮০৫। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে কাজ বন্টনের জন্যে বন্টন রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-৫) সংরক্ষণ করতে হবে।
টীকা- বর্তমানে কারাগার সমূহে এলুমিনিয়াম থালা, এলুমিনিয়াম বাটি, এলুমিনিয়াম গ্লাস, উলেন জাম্পার, মোজা, মোড়া, কয়েদী কাপড়, জামা, পায়জামা/ট্রোউজার, গামছা, চাদর, টুপি, মার্কিন কাপড়, পাপোষ, ঝাড়ু, ফুড কভার, কার্পেট, কলম দানি, বুক সেল্ফ, ফিনাইল, শাড়ী, লুংগী প্রভৃতি পণ্য উৎপাদন হয় ।

জেল কোড অনুযায়ী রেয়াত ব্যবস্থা

আজকে আমরা রেয়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

রেয়াত ব্যবস্থা । জেল কোড

কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৫৯ ধারার উপ-ধারা (৫) মোতাবেক রেয়াত মঞ্জুরীর মাধ্যমে দণ্ডের মেয়াদ হ্রাসের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধি-৭৫০। এই বিধিসমূহ সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে।

বিধি-৭৫১। (ক) ‘ বন্দী ‘ বলতে শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ ব্যক্তিকেও বুঝাবে ।

(খ) ‘শ্রেণী- ১ বন্দী: অর্থ বিষাক্ত ড্রাগ ব্যবসায়ী বা পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী, বা ডাকাতির মতো জঘন্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত বন্দী।

(গ) ‘শ্রেণী- ২ বন্দী ‘ অর্থ ডাকাতি বা অন্যান্য জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দী, কিন্তু পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী নয় ।

(ঘ) ‘শ্রেণী- ৩ বন্দী ‘ অর্থ শ্ৰেণী-১ বা শ্রেণী -২ বহির্ভূত বন্দী ।

(ঙ) ‘দণ্ড ‘ বলতে আপীল, রিভিশন বা অন্যভাবে চূড়ান্তকৃত দণ্ড, এবং একাধিক দণ্ডের সমষ্টি এবং শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ করার আদেশকেও বুঝাবে ।

(চ) ‘যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অর্থ (৩০ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দী)।

টীকা- ধারা ৫৭, দণ্ড বিধি মোতাবেক।

বিধি-৭৫২। অকার্যকর।

বিধি-৭৫৩। নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সাধারণ রেয়াত পাওয়া যাবে না –

(১) জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বাদে ৬ মাসের কম মেয়াদের যে কোন প্রকারের কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে

(২) বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, অবিরাম এক মাসের কম মেয়াদে স্বেচ্ছায় শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত ।

নোট- এ বিধির উদ্দেশ্য এই যে, কোন বন্দীর দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম হয় কিংবা আপীলের মাধ্যমে মোট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম নির্ধারণ করা হয়, সে সাধারণ রেয়াতের যোগ্যতা থেকে বাদ পড়বে এবং আপীলের রায় ঘোষিত হবার পূর্বে কোন রেয়াত অর্জন করে। থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

বিধি-৭৫৪। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় দণ্ড বিধির ১৪৭ ১৪৮, ১৫২, ২২৪, ৩০২, ৩০৪, ৩০৪এ, ৩০৬, ৩০৭, ৩০৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫২, ৩৫৩ বা ৩৭৭ ধারায় অপরাধ করার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা কোন কারারক্ষী বা কারা কর্মচারী কর্মকর্তাকে আক্রমণ করার কারণে কার মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে দত্ত প্রদানের তারিখ পর্যন্ত অর্জিত রেখা। বাতিল হয়ে যেতে পারে।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৫৫ । কারা আইনের ৫৯(৩) ধারার অধীনে কোন বন্দীর রেয়াত সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে উক্ত বন্দীতে রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এ বিধিতে বর্ণিত বন্দীর রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হবার পরবর্তী মাস হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৬। সাধারণ রেয়াত নিম্নোক্ত হারে অর্জিত হবে।

(ক) অবিরামভাবে সদাচার এবং কারাগারের বিধি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন;

(খ) শিল্প ও অন্যান্য দৈনিক কাজ সঠিকভাবে পালন করার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন ।

ব্যাখ্যা- কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে কাজ করতে না পারলে,যেমন – আদালতে হাজিরা প্রদান, কারাগার বদলির ট্রানজিটে থাকলে, হাসপাতালে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকলে এবং তার আচরণ পূর্ব মাসের ন্যায় চলতি মাসেও রেয়াত প্রাপ্তির যোগ্য হলে পূর্ববর্তী মাসের হারে তাকেও (ব) উপ-বিধি অনুসারে রেয়াত দেয়া হবে।

সে পূর্ব মাসের হারে উপ-বিধি (খ) অনুসারে রেয়াত পাবে যদি সে সময় কারাগারে থাকে; যদি মাসে দুই দিন হারে না হয়। শর্ত থাকে যে, কর্মে অনুপস্থিতি বন্দীর অসদাচরণের জন্যে হলে (খ) উপ-বিধির অধীনে কর্মে অনুপস্থিত সময়ের জন্যে কোন রেয়াত পাবে না। আরে শর্ত থাকে যে, সে যদি হাসপাতালে থাকে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকে (খ) উপ- বিধি মোতাবেক রেয়াত পাবে না, যদি মেডিকেল অফিসার এ মর্মে প্রত্যায়ন না। করেন যে, কাজ হতে বন্দীর অনুপস্থিতির কারণ তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল এবং কাজ হতে বিরত থাকার বা হাসপাতলে ভর্তি হবার ব্যাপারে সে কোন চেষ্টা করেনি।

নোট-“হাসপাতাল” বলতে মানসিক হাসপাতালকেও বুঝাবে ।

বিধি- ৭৫৭। বিধি ৭৫৬ মোতাবেক রেয়াত অনুমোদন সত্ত্বেও, কয়েদী কারারক্ষী ৮ দিন, কয়েদী নৈশ প্রহরী ৭ দিন, কয়েদী ওভারশিয়ার ৬ দিন এবং কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান ৫ দিন হারে প্রতি মাসে সাধারণ রেয়াত পাবে।

বিধি-৭৫৮ । বন্দীকে দণ্ড প্রদানের পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের ১ম দিন থেকে বিধি ৭৫৫ এর শর্তে, বিধি ৭৫৬ এর আওতায় রেয়াত গণনা করা হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জামিনে মুক্ত হবার বা সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত থাকার পর পুনরায় কারাগারে (অবশিষ্ট সাজা ভোগের জন্যে) অন্তরীণ হলে রেয়াত সুবিধা পুন:অন্তরীণের পরবর্তী মাসের ১ম দিন হতে গণনা শুরু হবে।

জামিনে মুক্ত হবার পূর্বে অর্জিত রেয়াতও যোগ হবে। বিধি ৭৫৭ অনুসারে কোন বন্দীকে কয়েদী রক্ষী, কয়েদী ওভারশিয়ার বা কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান নিয়োগ করার পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের প্রথম তারিখ হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগারে বাবুর্চী, সুইপার প্রভৃতি কাজে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনেও কাজ করে, এ. বিধিসমূহ মোতাবেক অন্যান্য রেয়াত পাওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে প্রতি কোয়ার্টারে তিন দিন অতিরিক্ত সাধারণ রেয়াত দেয়া যেতে পারে।

ব্যাখ্যা- কারাগারের কাজে নিয়োজিত থাকা কালে প্রতি মাসের শেষে একদিন রেয়াত যোগ হবে।

বিধি-৭৬০। এই বিধিসমূহ মোতাবেক রেয়াতের যোগ্য কোন বন্দী দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের এক তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে এবং কোন কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি ভোগের সর্বশেষ তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে বা ঐ সময়ে কোন অপরাধ না করলে অন্যান্য অর্জিত রেয়াতের অতিরিক্ত আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবে । ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সতর্ক করাকে কারা অপরাধের শাস্তি হিসেবে ধরা হবে না।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৬১। সাধারণ রেয়াত জেল সুপার কর্তৃক প্রদত্ত হবে কিংবা তার নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বিধি ৭৬২ অনুসারে ডেপুটি সুপার, জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কিংবা বিশেষ ভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা তার পক্ষে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৭৬২ । কোন কর্মকর্তা সাধারণ রেয়াত প্রদানের পূর্বে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট পর্যালোচনা করবেন, যার মধ্যে বন্দীর প্রত্যেক প্রমাণিত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত না হয়, তাকে পূর্ণ রেয়াত মঞ্জুর করা হবে।

যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তার রেয়াতের বিষয়টি জেল সুপারের নিকট পেশ করতে হবে। জেল সুপার বন্দীর শাস্তি বিবেচেনা করে রেয়াত নির্ধারণ করবেন। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সকল ত্রৈমাসিক রেয়াতের বিবরণ রেয়াত কার্ডে ( রেজিষ্টার নম্বর ১৮) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৩। সাধারণ রেয়াত জানুয়ারী, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসের ১২ তারিখের যথাসম্ভব কাছাকাছি সময়ে গণনা করতে হবে এবং তার পরিমাণ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জানাতে হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। বিধি ৭৬০ এর অধীনে প্রদত্ত রেয়াত যথাসম্ভব অবিলম্বে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৪। যে পঞ্জিকা মাসে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পাবে, সে মাসের জন্যে কোন সাধারণ রেয়াত প্রদান করা হবে না ।

বিধি-৭৬৫ । সাধারণ রেয়াতের যোগ্য হোক বা না হোক, যে কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বিশেষ কাজের জন্যে বিশেষ রেয়াত দেয়া যেতে পারে । যেমন-

(১) কারাগারের শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের কাজ খুঁজে বের করা বা প্রতিরোধে সহায়তা করা;

(২) হস্তশিল্প শিক্ষা প্রদানে কৃতিত্বের জন্যে;

(৩) বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ, বা বিরাট আয় সম্পন্ন ভাল মানের কাজের জন্যে .

(৪) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে;

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদ্রোহ, অগ্নিকান্ড বা অনুরূপ জরুরী কাজে সহায়তা করার জন্যে;

(৬) পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতার জন্যে;

(৭) { কারাগারের বিধি বিধানের প্রতি মনোযোগ প্রদান এবং পূর্ববর্তী তিন বছরে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন সাজা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ না থাকা । }

নং- ১৬৩৯ এইচ জে তারিখ- ২৯৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৭৬৬। বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে-

(১) জেল সুপার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৩০ দিন;

(২) কারা মহাপরিদর্শক বা সরকার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৬০ দিন।
ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে দত্ত প্রদানের তারিখ হতে বছর গণনা করা হবে এবং বছরের কোন অংশকে পূর্ণ বছর গণ্য করা হবে।

বিধি-৭৬৭। বিশেষ রেয়াত প্রদান করার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তা বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে, এবং জেল সুপার কর্তৃক বিশেষ রেয়াত প্রদানের কারণ সংক্ষেপে হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

 

বিধি-৭৬৮। এই বিধিসমূহে কোন বন্দীকে প্রদত্ত মোট রেয়াতের পরিমাণ সরকারের বিশেষ অনুমোদন ব্যতীত দণ্ডের মেয়াদের এক চতুর্থাংশের বেশী হবে না।

বিধি-৭৬৯। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির জন্যে তারিখ গণনার ক্ষেত্রে অর্জিত রেয়াতের দিবস সংখ্যাকে ত্রিশ দিনে একমাস হারে মাস এবং দিনে রূপান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৭০। যখন কোন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী-

(ক) একজন শ্রেণী- বন্দী, বা

(খ) একজন একাধিক সাজাপ্রাপ্ত শ্ৰেণী || বা শ্ৰেণী III বন্দী, বা

(গ) একজন এমন বন্দী যাকে সরকারের অনুমতি ব্যতীত মুক্তি দেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ থাকে,

এমন রেয়াত অর্জন করেছে যে, সে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়েছে, তখন এ বিধির নিয়মের কারণে জেল সুপার সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আলোকে তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিধি-৭৭১। যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াত অর্জনের ফলে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়, তখন ৭৭০ বিধি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে জেল সুপার তাকে মুক্তি প্রদান করবেন।

বিধি-৭৭২ । যখন বিধি ৭৭১ মোতাবেক কোন বন্দী মুক্তি লাভ করে, তখন তার ওয়ারেন্টে অর্জিত রেয়াতের মোট পরিমাণ উল্লেখ করে জেল সুপার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বিধি-৭৭৩। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে পূর্ব মাসের শেষ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণী তার ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে উল্লেখ করতে হবে এবং জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষর করতে হবে।

যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা সে ব্যপারে গ্রহণকারী কারাগার দায়ী থাকবেন। যে সকল কারাগারে বন্দী তার দণ্ডের অংশ ভোগ করেছে সে সব কারাগার তার অর্জিত রেয়াত সঠিক ভাবে গণনার জন্যে দায়ী থাকবে।

বিধি-৭৭৪। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পেয়ে যাবে তাদের রেয়াত কার্ড (জেল ফরম-১৮) এক বছর কারাগারে সংরক্ষণ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে বদলির তারিখ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণ সহ রেয়াত কার্ড সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭৭৫। পূর্বে বর্ণিত রেয়াত ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত সার ৩৬ নম্বর জেল ফরমে প্রত্যেক ব্যারাকে লাগিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৭৭৬। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কয়েদী ওয়াচম্যান, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী কারারক্ষী পদে নিয়োগের উপর তাদের অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ নির্ভর করে। এসব পদ এবং সুযোগ কারা আইনের ৪৬(৪) ধারায় বর্ণিত “রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে সুযোগ” এর আওতায় পাওয়া যায়।

বিধি ৭৭৭-৭৭৮। অকার্যকর

বিধি ৭৭৯-৭৮১। রেয়াত কার্ড লিখার পদ্ধতি।

জেল কোড অনুযায়ী সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ ২৬৩, ৯৪৭, ৯৫০, ৯৮২ এবং ১৮৫ বিধি মোতাে মহিলাদেরকে সেলে আটক রাখার ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বিধি-৭৩৫ । সম্ভব হলে সকল কারাগারে নির্জন কারাবাস ও সেলে আটকের জন্যে একাধিক সেলের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সেগুলো প্রমিত মানের না কারা মহাপরিদর্শক সেগুলো পরীক্ষা করে সেল হিসেবে ব্যবহারের জন্যে উপযুক্ত মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।

প্রত্যেক সেলের সাথে একটি আঙিনা থাকে যাতে সেলে আটক বন্দী অন্য কোন বন্দীর মাধ্যম ছাড়াই মুক্ত বাতাস পেতে পারে। সেলে আটক বন্দীদের গোসল, খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সেল এলাকায় একটি সাধারণ আঙিনা থাকবে। আঙিনা সংলগ্ন সেলের বাহিরে দরজায় একটি অক্ষি-ছিদ্র থাকবে যাতে বন্দী বাহিরে দেখতে পায়।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৬। সেল নিম্নোক্ত বন্দীদের জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে-

(১) দণ্ড বিধি ৭৩ ও ৭৪ মোতাবেক নির্জন কারাবাসের সাজা কার্যকরী করার জন্যে;

(২) কারা আইনের ৪৬ (৮), (১০) ধারায় পৃথক এবং সেলে আটক রাখার জন্যে;

(৩) ৬২৭ বিধি অনুযায়ী অভ্যাসগতদের পৃথক রাখার জন্যে;

(৪) ৯৬৫ বিধি মোতাবেক কিশোর বন্দীদের রাত্রিতে পৃথক রাখার জন্যে;

(৫) দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে ;

(৬) কারা অপরাধীকে ২৫৩ বিধি মোতাবেক সাময়িক আটক রাখার জন্যে;

(৭) পর্যবেক্ষণাধীন পাগল বন্দীকে ১০৩৮ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে;

(৮) চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণাধীন সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে;

(৯) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ৯৮০ বিধি মোতাবেক আটক রাখার জন্যেঃ

(১০) ৫০৫ এবং ১২৪৬ মোতাবেক সঙ্গ নিরোধের জন্যে;

(১১) বিচারাধীন বন্দীদেরকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে।

নোট-কোন কিছুর সাথে বেঁধে হ্যান্ড কাপ আরোপের শাস্তি সেলে কার্যকরী করা যাবে না।

বিধি-৭৩৭। অকার্যকর।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৮ । কেবল মাত্র স্থায়ী রক্ষীদেরকে সেলের প্রহরার দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। সেলের চাবি সাধারণত দিনের বেলায় রক্ষীর নিকট এবং রাতের বেলায় উহলরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট থাকবে। তবে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীর ক্ষেত্রে সেলের চাবি রক্ষীর নিকট থাকবে। সেলের চাবি কখনই কয়েদী কর্মচারীদের নিকট দেয়া যাবে না। সেলের তালা প্রধান কারারক্ষী দৈনিক এবং জেলার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন।

বিধি-৭৩৯। সেলে আটক বন্দীদের প্রহরা এমনভাবে নিয়োজিত থাকবে যে, বন্দী সেখান থেকে যে কোন সময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। সেলে আটক প্রত্যেক বন্দীকে প্রধান কারারক্ষী প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর একবার ভিজিট করবেন ।

বিধি-৭৪০। আত্মহত্যা বা নিজেদের জখমকরণ প্রতিহত করার জন্য সেলে আটক বন্দীদের উপর কড়া নজর রাখতে হবে। পাগল, সন্দিগ্ধ পাগল এবং মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীকে দিবা-রাত্র নজরে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪১। সেলে আটক কোন বন্দী অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৪২। ২৪ ঘন্টার বেশী সময়ের জন্যে সেলে আটক বন্দীকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার প্রত্যেক দিন ভিজিট করবেন। জেলারও দৈনিক সেল ভিজিট করবেন।

বিধি-৭৪৩। জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কারারক্ষী কোন বন্দীকে সেলে গ্রহণ করবেন না। চিকিৎসক কর্তৃক উপযুক্ত ঘোষণা না করলে কাউকে নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

 

বিধি-৭৪৪। প্রত্যেক সেলের সামনে বন্দীর কারাবাসের মেয়াদ এবং উ কারাবাস শুরুর তারিখ একটি টিকেটে লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৫। প্রত্যেক সেলের বন্দীর কারাবাস সংক্রান্ত একটি রেজিষ্টার সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কারারক্ষী সংরক্ষণ করবেন।

বিধি-৭৪৬। সেলে নেয়ার আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করে দেখতে হবে যাতে তার কাছে যেন পলায়ন বা আত্মহত্যার সহায়ক কোন বস্তু না থাকে। প্রত্যেক সেল দৈনিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বিধি-৭৪৭। মেডিকেল পর্যবেক্ষণ এবং অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যদের সেলে ব্যবহৃত বেডিং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দিনের বেলায় বের করে রোদে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৮। নির্জন কারাবাসে রাখা শ্রম বন্দীদেরকে তাদের উপযোগী কাজ দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৭৪৯। সেলে আটক বন্দীরা কঠোর নীরবতা পালন করবে।

নোট-মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের পরিচালনার বিষয়ে একত্রিংশ অধ্যায় অনুসরণ করতে হবে।