Category Archives: আইন

আইন

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়  পরিচ্ছেদ – ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

পরিচ্ছেদ – ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

বিধি-১১৭৯ ।

(১) প্রত্যেক স্লিপিং ওয়ার্ডে প্রত্যেক বন্দীর জন্যে নিম্নোক্ত পরিমাণ স্থান বর্ণিত শর্তাধীনে বরাদ্দ করতে হবেঃ-

যেখানে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে (ম্যালেরিয়া মুক্ত জেলায়)                                                             ৩৬ বর্গফুট

যেখানে ভূমি থেকে ১২-১৪ ফুট উঁচুতে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে(ম্যালেরিয়া আক্রান্ত জেলায়)     ৩৬,,

অস্বাস্থ্যকর জেলা যেখানে ভূমি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে ওয়ার্ডে দুই সারিতে বন্দী ঘুমাবে                               ৫০,,

যেখানে ওয়ার্ডে চার সারিতে বন্দী ঘুমাবে                                                                                                        ৫০,,

যেখানে ওয়ার্ডে চারের বেশী সারিতে বন্দী ঘুমাবে                                                                                          ১০০,,

একটি ওয়ার্ডে ৪০ জনের বেশী বন্দী থাকবে না । 

(২) যদি ব্যারাকের ছাদ সমতল হয়, সেখানে দেয়াল এবং সিলিং এর মাঝখানে ১২ ফুট x ৫ ফুট সিলিং ভেন্টিলেটর থাকবে। যদি ছাদ ত্রিকোণাকার হয়, সেখানে টালি ভেন্টিলেটর থাকবে।

(৩) ছাদ বা সিলিং মেঝে থেকে ১৩ ফুটের কম উঁচু হবে না ।

(৪) ঝাঁঝির দেয়া জানালার ক্ষেত্রে চারটি কাঠের পাল্লা থাকবে।

(৫) প্রত্যেক নুতন ব্যারাকে দুই সারিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা থাকবে।

(৬) একাধিক ওয়ার্ড সম্পন্ন লম্বা ব্যারাকে পার্টিশান দেয়ালে পূর্ণ সাইজের ঝাঁঝির দেয়া দরজা থাকবে, যাতে নাইট ওয়াচম্যান রাতের বেলা সম্পূর্ণ ব্যারাকে ঘুরতে পারে।

(৭) প্রত্যেক ব্যারাকে সম্ভব হলে, যদি বহুতল ভবন হয়, তবে পাকা ইটের এবং একতলা হলে লোহার গ্রীল দেয়া ৮ ফুট প্রশস্ত বারান্দা থাকবে।

(৮) প্রত্যেক বন্দীর জন্যে নীচতলায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি x ২ ফুট উঁচু x ২ ফুট ৩ ইঞ্চি চওড়া ইটের তৈরী চকি থাকবে। উপরের তলায় চকি মেঝে থেকে মাত্র ৬ ইঞ্চি উঁচু হবে। এসব চকির পরিবর্তে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ক্রমে আয়রন খাট দেয়া যেতে পারে।

(৯) স্লিপিং ব্যারাকে ওয়াডের বাহিরে একটি পৃথক লেট্রিনের ব্যবস্থা থাকবে।

বিধি-১১৮০।

কারা হাসপাতালে মেঝের আয়তন জন প্রতি ৭০ বর্গফুটের কম হবে না অর্থাৎ ২০ জন রোগীর জন্যে হাসপাতালের ওয়ার্ড হবে ২০ ফুট x ৭০ ফুট আয়তনের। পৃথক কারাবাস বা নির্জন কারাবাসের জন্যে সকল নুতন সেলের আয়তন ৯৬ বর্গ ফুটের কম হবে না। প্রত্যেক সেলের পিছনের অংশে উঁচুতে ছাদের সন্নিকটে একটি জানালা থাকতে পারে। নুতন নির্মিত সকল ব্যারাক,ওয়োর্ড এবং সেল মেডিকেল অফিসার ঘুরে দেখবেন এবং ব্যবহারের উপযুক্ত মর্মে সার্টিফিকেট না দেয়া পর্যন্ত সে সব ব্যবহার করা যাবে না ।

বিধি-১১৮১।

স্লিপিং ব্যারাকে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রতি বন্দীর জন্যে ১০ বর্গফুট হিসাবে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেবল বৃষ্টির কারণ ব্যতীত, বন্দীদেরকে জানালা বা ভেন্টিলেটর বন্ধ করতে দেয়া হবে না ।

বিধি-১১৮২।

প্রত্যেক ওয়ার্ডের দরজার উপর রং দিয়ে বা দেয়ালে খোদাই করে ওয়ার্ডের বন্দীদের শ্রেণী, খোপ বা সমতল আয়তনের পরিমাণ, ধারণ ক্ষমতা প্রভৃতি লিখতে হবে । প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন বন্দীর জন্যে একটি করে বেড থাকবে ।

 

বিধি-১১৮৩।

বন্দীরা ব্যারাকের বাহিরে যাবার পর সুইপার ব্যারাক পরিষ্কার করবে। স্লিপিং ব্যারাকের ভিতরের দেয়াল মাঝে মাঝে নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ঘষতে হবে এবং বৎসরে একবার বা প্রয়োজনে আরো বেশী বার চুনকাম করতে হবে। হাসপাতালের ভিতরের দেয়াল মাঝে মাঝে নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ঘষতে হবে এবং তিন মাসে একবার চুনকাম করতে হবে। স্লিপিং ব্যারাক ছার পোকা আক্রান্ত হলে কেরাসিন বা নারিকেল তেল হালকা ভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং তারপর এক বার চুনকাম করতে হবে ।

বিধি-১১৮৪ ।

প্রয়োগ বিরল।

বিধি-১১৮৫।

অনুমোদিত ধারণ ক্ষমতার বেশী বন্দী আটক রাখার পরিস্থিতি পরিহার করতে হবে। বন্দী সংখ্যা ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট অতিরিক্ত বন্দী অন্যত্র স্থানান্তরের জন্যে পত্র বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনুরোধ জানাবেন। যত তাড়াতাড়ি তাদের ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের জবাব পাবার পর,কিংবা যদি জরুরী প্রয়োজন উদ্ভব হয়, তবে জেল সুপার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পূর্বাভাস বিবেচনা করে ৮৪৩ বিধি মোতাবেক বন্দী স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-১১৮৬।

প্রত্যেক মাসের প্রথম তারিখে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ২ নম্বর রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং তাতে পূর্ববর্তী রাতে কতজন বন্দী ওয়ার্ড, সেল এবং হাসপাতালে ঘুমিয়েছে, এবং সে সঙ্গে অতিরিক্ত বন্দীর আগমনের সম্ভাবনা থাকলে তার সমাধানের প্রস্তাব উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-১১৮৭।

ওয়ার্ক শেডের ছাদ সপ্তাহে একবার ঝাড়ু দিতে হবে এবং বৎসরে একবার চুনকাম করতে হবে। প্রত্যহ বন্দীরা কাজ শেষে চলে যাবার পর ওয়ার্কশপের মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে এবং যন্ত্রপাতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

বিধি-১১৮৮।

কোন কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে জায়গার পরিমাণ ধারণ ক্ষমতার মাথাপিছু ৭৫ বর্গগজের কম হবে না। যেখানে জমির মূল্য সস্তা সেখানে ধারণ ক্ষমতার মাথাপিছু ১০০ বর্গগজের কম হবে না। একটি কেন্দ্রীয় কারাগরের জমির পরিমাণ কমপক্ষে ত্রিশ একর হবে। কারাগারের প্রধান বা বাহিরের দেয়ালের উচ্চতা {১৬} ফুট হবে। দেয়ালের সকল কর্ণার গোলাকার হবে। মহিলা ওয়ার্ডের বেষ্টনী দেওয়ালের উচ্চতা {১২}ফুট হবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ ফুট হবে।

 

পরিচ্ছেদ ১- ব্যারাক এবং ভবন সংক্রান্ত

 

প্রধান দেয়ালের বাহিরে ১৬ ফুটের মধ্যে কোন ভবন বা স্থাপনা থাকবে না। দোতলা ভবনের ক্ষেত্রে বাহিরের দেয়াল থেকে দূরত্ব ভবনের উচ্চতার সমান বা তার কাছাকাছি হবে। কোন অভ্যন্তরীন ভবন, লেট্রিন, শেড প্রভৃতি প্রধান দেয়ালের বিপরীতে স্থাপন করা যাবে না এবং এ ধরনের ভবন দেয়াল হতে ১৬ ফুট দূরত্বে (কমপক্ষে ১২ ফুট) থাকবে । এস আর ও নং ২১৩-আইন/২০০০ তারিখ ৯-৭-২০০০ মূলে সংশোধিত ।

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

 

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

বিধি-১১৫৮।

সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও বেডিং, এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করার পদ্ধতি বিধি ৯২৩ থেকে ৯২৫ এবং ৯৩৯ বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। কারা ষ্টোর হতে সে সকল বিধির আওতায় যখন কোন বিচারাধীন বন্দীকে বেডিং এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করা হবে, তা সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের প্রকারে দেয়া হবে।

তবে, সিভিল, বিচারাধীন ও বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জামা কাপড় ধোয়ার কারণে নিজের জামা কাপড় ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কোন পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করতে হলে চিহ্ন বিহীন প্লেন সুতি কাপড়ের ফুল হাতা জামা কাপড় সরবরাহ করা হবে। বিচারাধীন বন্দীকে একটি এলুমিনিয়ামের প্লেট, বাটি এবং মগ, বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৯৩৯ বিধি মোতাবেক একটি এলুমিনিয়ামের প্লেট, বাটি,মগ, কম্বল এবং বেডিং সরবরাহ করা হবে ।

বিধি-১১৫৯।

সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন III ভুক্ত সকল বন্দী কারাগারে ভর্তির পর নিম্নোক্ত কারা সরঞ্জাম পাবে-

                                         পুরুষ                                                                     মহিলা

            আইটেম                                     সংখ্যা                 আইটেম                                       সংখ্যা

সুতির কোর্তা                                              ২               প্লেন একসুতি সেমিজ                               ২

সুতির লম্বা পাজামা                                   ২                নীল পাড়ের চেক শাড়ী                             ২

গামছা                                                        ২                গামছা                                                       ২ 

টুপি                                                            ১                বেডিং বাঁধার টাপুটি                                   ১ 

বেডিং বাঁধার টাপুটি                                   ১                কম্বল                                                          ২

সুতির বিছানা চাদর                                    ১                সুতির বিছানা চাদর                                    ১

কম্বল                                                          ২               এলুমিনিয়াম মগ                                        ১

এলুমিনিয়াম মগ                                        ১                এলুমিনিয়াম প্লেট                                      ১

এলুমিনিয়াম প্লেট                                      ১                এলুমিনিয়াম বাটি                                       ১

এলুমিনিয়াম বাটি                                       ১               মোটা চট বা ম্যাট                                ২ x ২ ফুট

মোটা চট বা ম্যাট                                ২ x ২ ফুট       চিরুণী                                                         ১

বিধি-১১৬০।

এ সকল দ্রব্য কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হবে। কম্বল এবং বেডিং ছাড়া অন্য সকল জিনিস বন্দীর নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। পুরুষদের পোশাক-পরিচ্ছদের মাঝখানে সরু লম্বা নীল ডোরা থাকবে। মহিলাদের শাড়ী নীল পাড় থাকবে এবং জমিনে সরু লম্বা নীল ডোরা থাকবে। বেডিং বাঁধার টাপুটি লম্বায় ৬ ফুট এবং চওড়ায় ২ ফুট ৪ ইঞ্চি হবে। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে বালিশ অনুমোদিত হবে না ।

বিধি-১১৬১।

সাধারণ টুপির পরিবর্তে যে সকল বন্দী পলায়ন করেছিল তারা লাল রঙের টুপি এবং যারা শাস্তির কারণে রেয়াত সুবিধা বঞ্চিত তারা নীল রঙের টুপি পরিধান করবে। কেবল মাত্র সাজাপ্রাপ্ত সশ্রম বন্দীরাই কারাগারের পোশাক পরিধান করবে। তাদের কাছে ব্যক্তিগত কোন পোশাক বা অন্য কোন দ্রব্য থাকা নিষেধ। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী দিনের বেলায় কয়েদী টুপি পরিধান করবে। মাথায় গামছা বা অন্য কিছু পরিধান করা নিষেধ ।

বিধি-১১৬২ ।

প্রত্যেক বন্দীর সরঞ্জামে কমপক্ষে এক ইঞ্চি লম্বা একটি নম্বর লেখা থাকবে এবং তাদের শ্রেণী এ বা বি লেখা থাকবে ।

বিধি-১১৬৩।

১১৫৯ বিধিতে বর্ণিত সুতির পোশাক বার মাস, বেডিং টাপুটি কমপক্ষে দুই বছর, ম্যাট বা চট এবং কম্বল কমপক্ষে তিন বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-১১৬৪ ।

যে সকল বন্দী এক বছর বা তার বেশী মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত সাধারণত তাদেরকে নুতন সুতি পোশাক দেয়া হবে। পুরাতন ব্যবহার যোগ্য পোশাক তার কম মেয়াদের বন্দীদের দেয়া হবে। কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী রক্ষীদেরকে ৪১১ এবং ৪২৫ বিধি অনুযায়ী পোশাক দেয়া হবে, তবে তারা সাধারণ সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের অনুরূপ বেডিং, কম্বল, মগ, প্লেট,বাটি পাবে। কোন বন্দীকে বরাদ্দকৃত সকল পোশাক, বেডিং, সরঞ্জাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। সরবরাহকৃত দ্রব্য নুতন কিংবা পুরাতন তা রেকর্ডে উল্লেখ করতে হবে ।

বিধি-১১৬৫ ।

সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন II ভুক্ত সকল বন্দী কারাগারে ভর্তির পর নিম্নোক্ত কারা সরঞ্জাম পাবে-

                                         পুরুষ                                                                     মহিলা

                                                                    (ক) গরম কালে

            আইটেম                                     সংখ্যা                 আইটেম                                       সংখ্যা

পাজামা                                                     ৩                        শাড়ী                                              ৩

লম্বা পাজামা                                              ২                  সুতির ব্লাউজ                                       ২

কোর্তা বা হাফসার্ট                                     ২                      সেমিজ                                            ২

সুতির সার্ট                                                  ২                সুতির মোজা                                    ২ জোড়া

সুতির মোজা                                        ২ জোড়া       

টুপি                                                           ১

                                                                 (খ) শীত বা বর্ষা কালে

গরম কালের পোশাকের                                                     শাড়ী                                              ৩

সঙ্গে অতিরিক্ত                                                              সুতির ব্লাউজ                                       ১

উলেন কোট                                               ১                 উলেন ব্লাউজ                                      ১

ফ্লানেল সার্ট                                               ২                 ফ্লানেল সেমিজ                                   ২

                                                                                      সুতির মোজা                                 ২ জোড়া

                                              (গ) সকল সময়ের জন্য পুরুষ মহিলা উভয়

তোয়ালে                                                    ২                        চামুচ                                             ১

বুট বা সু                                               ১ জোড়া           এলুমিনিয়াম প্লেট                                 ১

চিরুণী                                                        ১                 এলুমিনিয়াম বাটি                                 ১

কম্বল                                                         ২                এলুমিনয়িাম কাপ                                 ১

বিছানা চাদর                                              ১                   ছোট হাত আয়না                               ১

এলুমিনিয়াম মগ                                       ১                           টুথ ব্রাশ                                      ১

 

বিধি-১১৬৬।

কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সাক্ষ্য প্রদান বা অন্য কোন মামলায়

আদালতে উপস্থিত কালে কারা পোশাক পরিধান করবে না, তবে কারাগার

থেকে তাদেরকে উপযুক্ত সাধারণ পোশাক দেয়া হবে ।

বিধি-১১৬৭।

কারা হাসপাতালে বিশেষ ধরনের সুতির কাপড়, কম্বল, ৭ ফুট লম্বা এবং ৪ ফুট চওড়া দোসুতি বেড-শিট, টাপুটি সরবরাহ করা হবে। সুতির কাপড়গুলো নীলের পরিবর্তে লাল ডোরা হবে। কম্বল এবং টাপুটিতে হাসপাতাল বুঝানোর জন্যে ইংরেজী ‘এইচ’ অক্ষর লেখা থাকবে। হাসপাতালের মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের দায়িত্বে এ সকল জিনিস থাকবে । 

বিধি-১১৬৮।

মেডিকেল অফিসার কোন বন্দীকে অসুস্থতার কারণে অতিরিক্ত সুতি বা গরম কাপড় বা বেডিং দেয়ার জন্যে আদেশ প্রদান করতে পারবেন। তবে মেডিকেল অফিসার যখন প্রয়োজন নেই মর্মে বলবেন, তখন সে গুলো ফেরত নিতে হবে ।

বিধি ১১৬৯-১১৭০ ।

প্রয়োগ নেই

 

বিধি-১১৭১।

কোন বন্দী তার নামে ইস্যুকৃত কোন পোশাকের বা সরঞ্জামের ইচ্ছাকৃত বা বিনা যত্নের কারণে ক্ষতি করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। অতিরিক্ত কোন পোশাক দখলে রাখা, অন্য বন্দীর সাথে কোন পোশাকের অদল-বদল করা, পোশাকের পকেট লাগানো বা অন্য কোন ভাবে পরিবর্তন করা, কোন নম্বর পরিবর্তন করা প্রভৃতি কাজ উনবিংশ অধ্যায় অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।

অপর পক্ষে কোন বন্দী যদি তার পোশাকের যত্ন নেয় এবং যে মেয়াদ পর্যন্ত তা চলার কথা, তার চেয়ে এক বা একাধিক মাস বেশী চলে, তা হলে জেল সুপার তাকে পুরস্কার হিসাবে ৭৬৫ বিধি মোতাবেক বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-১১৭২।

{১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত বরাদ্দকৃত সুতি কাপড় ৬ মাস ব্যবহৃত হবে, ফ্লানেল সার্ট এবং সেমিজ দুই বছর ব্যবহৃত হবে, সেগুলো ব্যতীত অন্যান্য গরম কাপড় তিন মৌসুম ব্যবহৃত হবে। সোলা টুপি, হেলমেট, চামড়ার পট্টি এবং বুট বা জুতা এক বছর ব্যবহৃত হবে। কম্বল, মশারী এবং মেট্রেস তিন বছর ব্যবহৃত হবে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ অন্য সময়েও নবায়ন করা যাবে।

জীর্ণ এবং ব্যবহারের অযোগ্য পোশাক বন্দীদের কাছে রাখতে দেয়া হবে না।}বিধি ৬৪৬ তে বর্ণিত সাপ্তাহিক প্যারেডে জেল সুপার এ ব্যাপারে মনোযোগ প্রদান করবেন। কারাগারের আকার অনুসারে এক বা একাধিক হাল্কা কাজের সশ্রম বন্দীকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরাতন পোশাক- পরিচ্ছদ রিপেয়ারের জন্যে রাখতে হবে। প্রধান কারারক্ষীর তত্ত্বাবধানে গ্যাং অনুযায়ী পুরাতন কাপড় রিপেয়ার করতে হবে। জেলারকে এ সকল ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

নং ৭৫১ এইচ জে তারিখ ২৯-৩-১৯৩৯ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত ।

বিধি-১১৭৩ ।

৫৭৩ বিধিতে নির্দেশিত ভাবে বন্দীরা নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ নিজেরা ধৌত করবে। বেডিং প্রতি তিন মাসে একবার ধৌত করতে হবে, হাসপাতাল বেডিং এবং পোশাক আরো কম সময়ের ব্যবধানে ধৌত করতে হবে; একজন গ্যাং ম্যানকে এ জন্য দায়িত্বে রাখতে হবে। পরিষ্কার করার কাজ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ওয়ার্ড অনুসারে করতে হবে। ধোয়ায় থাকা অবস্থায় অস্থায়ী ভাবে বেডিং সরবরাহ করতে হবে।

প্রয়োজন হলে ধোয়ার সময়ে পুরাতন বেডিং রিপেয়ারের জন্যে রেখে দিয়ে বন্দীকে নুতন বেডিং ইস্যু করা যেতে পারে। রিপেয়ার ও ধোয়ার পর পুরাতনটি পরবর্তী ব্যাচের জন্য বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে গুদামে রেখে দিতে হবে। প্রত্যেক কারাগারে কম্বল ধোয়ার জন্যে বয়লার রাখতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন বেডিং এবং কম্বল তিন ঘন্টা রোদে শুকাতে হবে। সাধারণত দুপুরের খাবার গ্রহণের পর এটা করা যেতে পারে।

বিধি-১১৭৪ ।

পোশাক, বেডিং এবং কারাগারের অন্যান্য সরঞ্জামাদি নির্ধারিত প্রস্তুতকারী কারাগার হতে সংগ্রহ করতে হবে। কোন কারাগারে কি পরিমান পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং ইউনিফর্ম লাগবে তার বার্ষিক চাহিদাপত্র প্রত্যেক বছরের ১লা মার্চ কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে ৬১, ৬১এ এবং ৬২ নম্বর জেল ফরমে সরবরাহকারী কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। সরবরাহকারী কারাগার ১ লা অক্টোবরের পূর্বেই অর্থাৎ শীত আসার আগে, চাহিদাকৃত পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রেরণের ব্যবস্থা করবে।

এলুমিনিয়ামের জিনিস পত্রের জন্যে যখন প্রয়োজন হবে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ইন্ডেন্ট প্রদান করতে হবে। প্রস্তুতকারী কারাগারের জেল সুপার জিনিস পত্র সরবরাহ করবেন এবং তার রেকর্ড রাখবেন। প্রস্তুতকারী কারাগারের জেল সুপার এবং জেলার অতিরিক্ত ব্যয়ের ব্যপারে দায়ী থাকবেন এবং তারা এটাও লক্ষ্য রাখবেন যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৃহৎ মজুত যেন গড়ে না উঠে ।

বিধি-১১৭৫।

অকার্যকর।

বিধি-১১৭৬।

একজন প্রধান কারারক্ষীকে পোশাকের গুদামের বিশেষ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং তিনি কাপড়ের গুণাগুণ রক্ষা করার জন্যে দায়ী থাকবেন। গুদাম শুষ্ক, অবাধ বায়ু চলাচল উপযোগী হবে এবং পর্যাপ্ত তাক বা মাচা সম্পন্ন হবে। এ সকল তাক বা মাচায় কম্বল বা পোশাক একত্রে বা পৃথকভাবে বরাদ্দের জন্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রাখতে হবে।

বিধি-১১৭৭।

গুদামের প্রধান কারারক্ষী মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর পোশাক-পরিচ্ছদ ফেরত গ্রহণের সময় দেখবেন যে, সেগুলো যত্নের সাথে ধোয়া এবং শুকানো হয়েছে কিনা। কোন অবস্থাতেই কম্বল বা পোশাক ময়লা বা আর্দ্র অবস্থায় গুদামে রাখা উচিত হবে না। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর ফেরত দেয়া পোশাক-পরিচ্ছদ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত হলে নুতন ভর্তি প্রাপ্ত বন্দীদেরকে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ষ্টোরে রাখতে হবে। ষ্টোরে রাখা কম্বল এবং পোশাক-পরিচ্ছদ অন্তত: মাসে একবার রোদে শুকাতে হবে, সম্ভব হলে তা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করতে হবে।

বিধি-১১৭৮।

জেলারের তত্ত্বাবধানে ডেপুটি জেলার বা কারাগারের করণিক পোশাকের হিসাব রেজিষ্টারে (৩৪ নম্বর রেজিষ্টার) সকল পোশাক-পরিচ্ছদ প্রাপ্তি এবং বিতরণের হিসাব যত্নের সাথে সংরক্ষণ করবেন। সকল আইটেমের জন্যে পৃথক পৃথক রেজিষ্টারও খুলতে হবে এবং দৈনিক প্রাপ্তি এবং বিতরণের হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হবে। এলুমিনিয়ামের কাপ-প্লেট, চামড়ার পট্টি এবং ফিতা প্রভৃতির জন্যে এবং হাসপাতাল পোশাকের জন্যেও পৃথক রেজিষ্টার খুলতে হবে।

 

পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং এবং কারা সরঞ্জাম

 

মাস শেষে হিসাবের জের গুদামের সঙ্গে যাচাই করে দেখতে হবে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রত্যক মাসে গুদামের পোশাক গুণে দেখবেন । ব্যবহারের অনুপযুক্ত পোশাক কমপক্ষে মাসে একবার জেল সুপারের নিকট হাজির করতে হবে এবং তিনি কোন আইটেম অনুপযুক্ত ঘোষণা করতে পারবেন এবং হিসাব বহিতে অবলোপনের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং স্বাক্ষর করবেন ।

যে সকল অনুপযুক্ত ঘোষিত পোশাক রিপেয়ার করা যাবে, সেগুলো ছাড়া অন্যগুলো (গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে) অনধিক ৬ ইঞ্চি বর্গাকার সাইজে ছিঁড়ে টুকরো করতে হবে।

কারা বাগান এবং কৃষি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারা বাগান এবং কৃষি

কারা বাগান এবং কৃষি

 

কারা বাগান এবং কৃষি

 

বিধি-১১৪৮।

কারাগারের মূল দেয়াল বেষ্টিত এলাকার চেয়ে কম নয়, এমন পরিমাণ জমি প্রত্যেক কারাগারে বাগান এবং কারারক্ষী ও অন্যান্যদের আবাসনের জন্যে রাখতে হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার কারাগারের-বাগান তত্ত্বাবধান করে লক্ষ্য রাখবেন যে প্রত্যেক মৌসুমের চাহিদা মোতাবেক সব্জি,ফল মূলের উপযুক্ত গাছ লাগানো হচ্ছে কিনা। মেডিকেল অফিসার দুর্বল বা আরোগ্য লাভকারী বন্দীদেরকে বাগানের কাজে লাগানোর সুপারিশ করতে পারেন।

জেলা কৃষি অফিসার পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিয়মিত কারাগারের-বাগান পরিদর্শন করতে পারেন এবং নুতন কোন চাষাবাদের বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারেন। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাদের ভ্রমণকালে কারাগারের-বাগান পরিদর্শন করতে পারেন ।

বিধি-১১৪৯।

কারাগারের-বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। গোবর ও অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে। বিধি-১১৫০। কারা বাগানে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাকা সেচের নালা তৈরী করতে হবে, পানির অপচয় রোধ করতে হবে ।

 

বিধি-১১৫১।

কারাগারের শাক-সব্জি, মসল্লা প্রভৃতি উৎপাদনের জন্যে বাগানে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা কারাগারে আটক মোট বন্দীর শতকরা ৬ ভাগের বেশী হবে না।{জেল সুপার প্রয়োজনে বাগানে বেশী সংখ্যক বন্দী নিয়োজিত করতে পারেন, তবে এর কারণ সম্বলিত রিপোর্ট কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে} ।বাগানের কাজে নিয়োজিত বন্দী নির্বাচনের জন্যে বিধি ৭৯৫ এবং ৭৯৬ অনুসরণ করতে হবে।

বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষীর কৃষি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন এবং সম্ভব হলে তাকে রাতের কোন দায়িত্ব না দেয়া উচিত। এ উদ্দেশ্যে তাকে বাগানের গ্যাংয়ের কাজে সারাদিনের জন্যে নিয়োজিত রাখা যেতে পারে এবং রাতে ঘুমানোর জন্যে বাগানে একটি কুঠিরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিধি-১১৫২।

বন্দীদের চাহিদা পূরণের পরিমাণ মত সব্জি কারাগারের-বাগানে উৎপাদনের জন্যে জেলার জেল সুপারের নিকট দায়ী থাকবেন। যদি বন্দীদের জন্যে বাহির থেকে সব্জি ক্রয় করতে হয়, কারাগারের-বাগান হতে সব্জি সরবরাহের ব্যর্থতার কারণ জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ব্যাখ্যা করবেন।

বিধি-১১৫৩।

 

কারা বাগান এবং কৃষি

 

কারাগারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কারা বাগানের সমগ্র এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মৌসুমী সব্জি, মসল্লা, লেবু জাতীয় ফসল প্রভৃতি চাষাবাদের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। কারাগারের দেয়ালের সন্নিকটে আদ্রতা সম্পন্ন চাষাবাদ করা যাবে না ।

বিধি ১১৫৪-১১৫৭।

উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

পরিচ্ছেদ – খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

বিধি-১১২০।

সঠিক সময়ে সস্তায় খাদ্য সংগ্রহ ও মজুদ করণের ব্যবস্থা করার

জন্যে জেল সুপার এবং জেলার দায়ী থাকবেন।

বিধি-১১২১।

দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। দরপত্র খোলার আগে জেল সুপার চলতি বাজার দর সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। দরপত্রের সঙ্গে সরবরাহতব্য দ্রব্যের নির্দিষ্ট নমুনা প্রেরণ করতে হবে। সরবরাহকারীগণ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে জোট বা আঁতাত করে, তবে জেল সুপার দরপত্র স্থগিত করে দিবেন এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য জেলা হতে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে জোট ভেঙ্গে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

দুই শত টাকার বেশী মূল্যের যে কোন দরপত্র গ্রহণের অনুমোদন কারা মহাপরিদর্শক হতে গ্রহণ করতে হবে।

 

বিধি-১১২২।

সকল সরবরাহকৃত দ্রব্য ওজন করে নিরাপদে রাখার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন, তবে জেল সুপার দানাদার দ্রব্যের একটি অংশ পরিদর্শন করে সে গুলোর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। সরবরাহ এবং ওজন করার মধ্যে কোন বিলম্ব করা যাবে না। জেল সুপারের অনুমোদনের পর অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-১১২৩।

কোন দানাদার খাদ্যশস্য ভালভাবে না শুকিয়ে গুদামজাত করা যাবে না। যদি নুতন বা আদ্র দানা হয়, তবে ২ বা ৩ দিন রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে। দানা শস্য ব্যাগে করে গুদাম জাত করতে হবে, খোলা অবস্থায় নয়।

 

পরিচ্ছেদ ৩- খাদ্য সংগ্রহ এবং গুদামজাতকরণ

 

বিধি ১১২৪-১১২৭।

প্রয়োগ নেই ।

পরিচ্ছেদ IV- দুগ্ধ-খামার । ১১২৮-১১৪৭। প্রয়োগ নেই ।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

বিধি-১১০৬।

খাদ্যের গুণগতমান, যথা নিয়মে প্রস্তুত ও রান্না করা এবং পূর্ণ পরিমাণে বরাদ্দ করা সমান গুরুত্ব বহন করে। এই সকল বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে সর্বাধিক তৎপর থাকতে হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে কমপক্ষে একবার খাবার প্রস্তুতি, পরিবেশন প্রভৃতি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন কালে খাবারের ওজন পরীক্ষা করবেন।

বিধি-১১০৭।

বরাদ্দকৃত খাবারের ওজন রান্না করার পূর্বে চূড়ান্ত প্রস্তুত অবস্থায় গ্রহণ করতে হবে এবং রান্নার এক ঘন্টার মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। নিম্নোক্ত নির্দেশ সমূহ কঠোর ভাবে প্রতিপালন করতে হবে-

(১) তিন মাসের কম পুরানো চাল বরাদ্দ করা যাবে না।

(২) প্রয়োগ নেই ।

(৩) রান্নার পূর্বে চাল ওজন করার সময় খোসা, ধূলো প্রভৃতি মুক্ত থাকবে।

(8) ভাঙ্গা চাল আলাদা করে নিতে হবে।

(৫) চালের কণা বা বাতিল অংশ বন্দীরের খাবারের কাজে কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।

(৬) ৬ ছটাক চাল রান্নার পর ১৬ থেকে ১৮ ছটাক হতে পারে। রান্না করা খাবারের ওজন বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

(৭) আটা বা ময়দা তৈরীর পূর্বে গম সম্পূর্ণ ভাবে আবর্জনা মুক্ত করতে হবে।

টীকা-

কারাগার সমূহের খাদ্যের মান নিশ্চিত করণ এবং ঔষধ ক্রয় ও ব্যবহারের বিষয়ে তদারকী করার জন্যে প্রতিটি কারাগারে নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে :-

(১) জেলা প্রশাসক – সভাপতি

(২) পৌরসভা চেয়ারম্যান( জেলার ক্ষেত্রে)/ – সদস্য

(৩) মেয়র কর্তৃক মনোনীত একজন ওয়ার্ড কমিশনার – সদস্য

(৫) পুলিশ সুপার( জেলার ক্ষেত্রে) – সদস্য

(৪) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধি – সদস্য

(৬) সিভিল সার্জন – সদস্য

(৭) সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক/তত্ত্বাবধায়ক – সদস্য-সচিব

সূত্রঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/২৯১ তারিখ ২২-২-৯৪ এবং পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/৫২৪ তারিখ ২২-৬-৯৪ ।

বিধি-১১০৮ ।

৫ ছটাক আটা হতে প্রায় সাড়ে ৭ ছটাক মাখানো খামির বা সাড়ে ছয় ছটাক কাঁচা রুটি হতে পারে। রুটি সেঁকতে হবে এমন ভাবে যেন তা না পুড়ে যায়। রুটির সাইজ দুই প্রকারের হবে, প্রতি দুই ছটাক আটায় প্রতিটি বড় সাইজ এবং প্রতি এক ছটাক আটার প্রতিটি ছোট সাইজ।

 

বিধি-১১০৯।

সুন্দর ভাবে না ভাঙ্গিয়ে এবং আস্ত দানা আলাদা না করে ডাল রান্না করা যাবে না । কলাই এবং মুগ ডাল ১০% বেশী দিতে হবে। খেসারী ডাল ব্যবহার করা নিষেধ। বিভিন্ন প্রকারের ডাল একত্রে মিশিয়ে বা ডালের সাথে অন্য দানার সাথে একত্রে রান্না করা যাবে না। বিধি-১১১০। টক জাতীয় খাবারের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ অংশের ওজন ধরতে হবে।

বিধি-১১১১।

কেবল মাত্র রসালো সব্জি বরাদ্দ করতে হবে। সব্জি ডাটা, আঁশালো অংশ এবং মরা পাতা মুক্ত হবে। রান্নার কাজে যতটুকু ব্যবহার হবে বিধি-১১১২। আঁশ, পাখনা, মাথা এবং লেজ বাদ দিয়ে মাছ ওজন করতে হবে। ততটুক পর্যন্ত কেটে তারপর ওজন করতে হবে। মাংশ বরাদ্দের সময় হাড়ের ওজন বাদ বাবদ ২৫% বেশী ওজন ধরতে হবে। 

বিধি-১১১৩।

ইস্যুকৃত সকল খাদ্য দ্রব্য মেডিকেল অফিসার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন, মানের কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে নোট করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জেলারের মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-১১১৪।

প্রত্যেক কারাগারে ওজনের জন্যে সঠিক ভাবে তৈরী বীম পাল্লা ব্যবহার করতে হবে। খাদ্যের পরিমাণ, গুণাবলী বা রান্না সম্পর্কে বন্দীদের অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপারের গোচরে নিতে হবে এবং দ্রুত তদন্ত করে দেখতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয় এবং কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীর ত্রুটির কারণে অনিয়ম হয়ে থাকে, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে তার আদেশ মিনিট বইতে রেকর্ড করবেন। 

বিধি-১১১৫।

বরাদ্দের উদ্দেশ্যে অরান্না করা খাদ্য দ্রব্য জেলার, ডেপুটি জেলার, করণিক বা গোডাউনের দায়িত্বে বিশেষভাবে নিয়োজিত প্রধান রক্ষী কর্তৃক ওজন করতে হবে। জেলার পূর্ণ পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দের জন্যে দায়ী থাকবেন ।

বিধি-১১১৬।

প্রত্যেক কারাগারে ডিভিশন III ফৌজদারি বন্দীদের জন্যে একটি

রান্নার শেড থাকবে। তা ছাড়া সিভিল বন্দীদের জন্যে একটি পৃথক শেড এবং

কারা হাসপাতালে একটি শেড থাকবে।

বিধি-১১১৭।

অকার্যকর।

বিধি-১১১৮।

বাবুর্চী সতর্কতা এবং মনোযোগের সাথে খাদ্য তৈরী করবে। লোহার তৈরী পাতিল ব্যবহার করতে হবে। সকল তৈজসপত্র, রান্না ঘর এবং খাবার স্থান সুন্দরভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো রাখতে হবে। এ বিধির কোন বাত্যয় ঘটালে শাস্তি পেতে হবে।

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

বিধি-১১১৯।

গরম আবহাওয়ায় দুপুর বেলার খাবার বা বৃষ্টির সময়ে যে কোন বেলার খাবার ছাদের তলায় খেতে হবে। যদি সাধারণ খাবার স্থানের উপর কোন ছাদ না থাকে, তবে বারান্দায় কিংবা প্রয়োজনে কারখানা শেডে বা ওয়ার্ডে, যেখানে ছাদ থাকে সেখানে খাবার খেতে হবে।

খাদ্য |পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ডায়েট

পরিচ্ছেদ ডায়েট

 

পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

 

কারাগার একটি বিশেষ আবাসস্থল, যেখানে আসামীরা অবস্থান করেন। গাউল, জেল , দ্য বিগ হাউজ, দ্য স্ল্যামার অথবা দ্য স্টোনি লোনসাম নামেও কারাগারের পরিচিতি রয়েছে। এরফলে অপরাধী ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় বাঁধাগ্রস্ত হন ও মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন না। কারাগার সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। কারাগারের ইংরেজি শব্দ হচ্ছে প্রিজন যা প্রাচীন ফরাসী শব্দ প্রিসাউন থেকে উৎপত্তি হয়েছে।

বিধি-১০৯২।

ডায়েট প্রদানের উদ্দেশ্যে বন্দীদেরকে নিম্নোক্ত ভাবে শ্রেণী বিভক্ত

করা হবে :-

শ্রেণী-I : ডিভিশন III ভুক্ত সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী শ্রেণী-II :

(১) ডিভিশন III ভুক্ত ১৬ বৎসরের নিম্ন বয়সের সকল সাজা প্রাপ্ত বন্দী।

(2) ডিভিশন III ভুক্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দী

(৩) ডিভিশন III ভুক্ত সকল বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

(8) ডিভিশন II ভুক্ত সকল পুরুষ ও মহিলা বিচারাধীন বন্দী।

বিধি-১০৯৩।

সকল বন্দীকে দিনে তিনবার খেতে দেয়া হবে- সকালে দিনের কাজ শুরুর আগে, দুপুর বেলায় এবং বিকালে লক আপে নেয়ার আগে (বিধি ৬৩৬, ৬৪২,এবং ৬৪৩ অনুসরণ করতে হবে)।

বিধি-১০৯৪ ।

অকার্যকর।

বিধি-১০৯৫/১১০০।

(ক) বন্দীদের দৈনিক খাদ্য তালিকা :-

ক্রমিক             সাজাপ্রাপ্ত বন্দী                                  বিচারাধীন বন্দী / ডিটেন্যু

নং

  ডিভিশন I ও II                 ডিভিশন III                      ডিভিশন I                    ডিভিশন II

১। সকালের খাবার

(ক) রুটি/ পাউরুটি           রুটি                                  রুটি /পাউরুটি            রুটি 

(খ) চিনি                             গুড় / ডাল                       চিনি                             গুড় / ডাল

(গ) দুধ                                                                        দুধ

(ঘ) জেলী                                                                    জেলী

(ঙ) ডিম                                                                      ডিম

(চ) ঘি/মাখন                                                               ঘি/মাখন

(ছ) কলা                                                                      কলা

(জ) চা                                                                         চা

২। দুপুরের খাবার

(ক) ভাত/রুটি                     রুটি/ ভাত                       ভাত/রুটি                  রুটি/ আটা

(খ) মাছ/মাংশ                     শাক-সব্জি                       মাছ/মাংশ                 শাক-সব্জি / ডাল

                                                                                     শাক-সব্জি / ডাল

(ঘ) ডাল                                                                       ডাল

৩। রাতের খাবার

(ক) ভাত/রুটি                     ভাত                                 ভাত/রুটি                  ভাত

(খ) মাছ/মাংশ                    মাছ/মাংশ                        মাছ/মাংশ                মাছ/মাংশ

(গ) শাক-সব্জি                     শাক-সব্জি                        শাক-সব্জি                 শাক-সব্জি

(ঘ) ডাল                              ডাল                                  ডাল                          ডাল

(খ) বন্দী প্রতি দৈনিক বরাদ্দকৃত ডায়েট স্কেল :-

                                                                খাদ্যের পরিমাণ (গ্রাম)

খাদ্য দ্রব্যের নাম                                  সাজাপ্রাপ্ত বন্দী                             বিচারাধীন বন্দী/ ডিটেনা

                                                ডিভিশন I ও II           ডিভিশন III           ডিভিশন I            ডিভিশন II

                                                 (বিধি ১১০০)            (বিধি ১০৯৫)                                     (বিধি ১০৯৫)

১। পাউরুটি( সকাল)                 ১১৬.৬৪                      –                           ৮৭.৪৮                     –

২। পাউরুটি (অন্যান্যবেলা)     ৩৪৯.৯২                      –                           ২৯১.৬                     –

৩। আটা                                    ৫৮.৩২                   ১১৬.৬৪                   ৫৮.৩২                ৮৭.৪৮

৪। চাউল                                   ১৭৪.৯৬                  ৫৮৩.২                     ১৪৫.৮                ৪৯৫.৭

৫। মাছ/মাংশ                           ৩৬৪.৫                   ৩৬.৪৫                     ২১৮.৭                ৩৬.৪৫

৬। ডাল                                     ৮৭.৪৮                   ১৪৫.৮                      ৮৭.৪৮                ১৪৫.৮

৭। সব্জি                                     ১৪৫.৮                    ২৯১.৬                     ১৪৫.৮                 ২৯১.৬

৮। তৈল ( ভোজ্য)                     ৪৩.৭৪                    ২০.৫                        ৪৩.৭৪                 ২০.৫

৯। গোল আলু                           ১১৬.৬৪                      –                           ১১৬.৬৪                    –

১০। পিঁয়াজ                               ৪৩.৭৪                    ৪.৬১                        ৪৩.৭৪                 ৪.৬১

১১। শুকনা মরিচ                           –                          ২.০৫                            –                       ২.০৫

১২। শুকনা হলুদ                           –                          ১.০২                             –                       ১.০২ 

১৩। ধনিয়া                                     –                          ০.৫১                             –                       ০.৫১ 

১৪। লবন                                  ২৯.১৬                    ৩২.৮                        ২৯.১৬                ৩২.৮

১৫। মসল্লা                                ৭.২৯                           –                            ৭.২৯                   ৩২.৮

১৬। চা                                      ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

১৭। চিনি                                   ৫৮.৩২                        –                           ৫৮.৩২                    –

১৮ । দুধ (পাউডার)                  ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

১৯। মাখন                                ২১.৮৭                         –                            ২১.৮৭                     – 

২০। জেলী                                ১৪.৫৮                         –                            ১৪.৫৮                    –

২১। গুড়                                       –                          ১৪.৫৮                            –                      ১৪.৫৮

টীকা-১।

জেল কোডের ১০৯৫ বিধিতে বাঙালী এবং অবাঙালী বন্দীদের জন্যে দু রকমের ডায়েটের বিধান রয়েছে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। উপরের তথ্যাদি জেল কোড ১০৯৫ ও ১১০০ মোতাবেক বর্তমান প্রচলিত হার অনুসারে প্রদত্ত।

টীকা-২।

কারাগার সমূহে মাছ, খাসী ও ছাগীর মাংসের সাথে এর বিকল্প হিসেবে গো-মাংস সরবরাহ করার অনুমতি দেয়া যাবে। – নং-পি-২৬/৮৯-জেল-১/২৪৪ তারিখ ৩-৬-১৯৯০। টীকা-৩। কারা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক সরকার জেল কোডে অনুমোদিত হার। অপেক্ষা মসল্লার পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করেছেন। আদেশ নং-৯৬/৮২(১) স্ব:ম:(জেল-১)/৬৪০

তারিখ ২৫-১১-৮২।

 

বিধি-১০৯৬।

I শ্রেণীর বন্দীদেরকে সকালের খাবার হিসাবে মেডিকেল অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, চালের সাথে ডাল, তেল এবং লবন মিশিয়ে খিচুড়ি আকারে দেয়া যাবে,তবে সে ক্ষেত্রে দুপুর এবং রাতের খাবার হতে ডাল বাদ যাবে। ডাল এবং চাল মেশানোর আগে পৃথক রান্না করতে হবে। যখন বন্দীদের ওজন হ্রাস পায় বা স্কাভীর প্রবণতা দেখা যায়, তখন চিটা গুড় বা বিশুদ্ধ গুড় দেয়া যেতে পারে।

ওজন হ্রাসের বিশেষ প্রবণতা দেখা দিলে সকালের খাবারে গোল আলু বা কারাগারের বাগানে উৎপাদিত অন্যান্য সব্জি দেয়া যেতে পারে। জেলার সকালের খাবারে বৈচিত্র পূর্ণ করার চেষ্টা করবেন।

বিধি-১০৯৭।

দুপুরের এবং রাতের খাবার একই প্রকার হবে। তবে যদি ভাত ও রুটি দুটি দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তবে একবেলা সম্পূর্ণ ভাত এবং অপর বেলা সম্পূর্ণ রুটি দিতে হবে। 

বিধি-১০৯৮।

প্রত্যেক কারাগারে বন্দী প্রতি দৈনিক আধা ছটাক মাছ বা মাংশ পালাক্রমে বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদি মেডিকেল অফিসার মনে করেন, মাছ বা মাংশের এই পরিমাণ দ্বিগুণ করা যেতে পারে এবং তার পরিবর্তে আধা ছটাক ডাল কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শ করে মাছের বিকল্প হিসাবে সব্জি বরাদ্দ করতে পারেন।

নোট-এ বিধিতে অনুমোদিত মাছ বা মাংশ জেল সুপার প্রত্যহ পালাক্রমে বা মোট পরিমাণ বেজায় রেখে একত্রে সপ্তাহে একবার বা দুইবার বা প্রতি চারদিন পর একবার বরাদ্দ করতে পারেন ।

বিধি-১০৯৯ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১১০১।

৯৭, ৯৪২, ১১০২ থেকে ১১০৪, ১২২১ এবং ১২২৪ বিধিতে বর্ণিত কারণ ব্যতীত অনুমোদিত ডায়েট পরিবর্তন করা যাবে না। সিভিল বন্দীদেরকে ৮৯০ বিধি মোতাবেক খাবার দেয়া হবে। ১২৩৮ বিধি অনুযায়ী হাসপাতালে ডায়েট বরাদ্দ করা হবে ।

বিধি-১১০২ ।

প্রত্যেক বন্দী তার শ্রেণী মোতাবেক খাবার পাবে। তবে শর্ত থাকে যে –

(১) যদি কোন কারাগারে উপ-জাতীয় বা পাহাড়ী লোক বেশী থাকে, জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শক্রমে তাদের উপযোগী ডায়েট প্রস্তুত করতে পারবেন;

(২) অভাব বা দুর্ভিক্ষের সময়ে নুতন ভর্তিকৃত বন্দীদের দিকে বেশী নজর দিতে হবে;

(৩) সশ্রম বন্দী কাজ থেকে বিরত থাকা অবস্থায় ১০৯৫ বিধির II স্কেলে ডিভিশন III বন্দীদের খাবার পাবে;

(8) দুগ্ধদানকারী মাতাকে দুই ছটাক চাল বা আটা এবং আধা ছটাক সরিষার তেল সাধারণ সশ্রম ডায়েটের অতিরিক্ত দিতে হবে।

বিধি-১১০৩।

মায়ের সাথে যে সব সন্তান কারাগারে ভর্তি হয় তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক খাবার দেয়া হবে; বা নিম্নোক্ত ভাবে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে-

(ক) ১২ মাসের কম বয়সের শিশুদের মায়ের বুকের দুধের অভাব হলে গরুর দুধ পানিতে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে;

(খ) ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুদের ৬ ছটাক দুধ, দুই ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল দেয়া যেতে পারে;)

(গ) ১৮-২৪ মাস বয়সের শিশুদেরকে চার ছটাক দুধ, চার ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল।

নোট- দুই বছরের বেশী বয়সের শিশুদেরকে মেডিকেল অফিসারের বিবেচেনা সাপেক্ষে ডায়েট দেয়া যেতে পারে।

 

পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

 

বিধি-১১০৪ ।

খাবারের ধরন পরিবর্তন সংক্রান্ত।

বিধি-১১০৫।

রেজিষ্টার।

বন্দীদের পরিচালনার বিধি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দীদের পরিচালনার বিধি।

বন্দীদের পরিচালনার বিধি

 

পরিচ্ছেদ – ডিভিশন বন্দী

 

ডিভিশন ১ বন্দী

 

বিধি-১০৫০।

শ্রেণী বিভাগ।-সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে ৬১৭ বিধিতে নির্দেশিত উপায়ে এবং পটভূমিতে ডিভিশন I এ ভর্তি করতে হবে।

বিধি-১০৫১।

আবাসন।-ডিভিশন । বন্দীদেরকে যখন সম্ভব হবে সেল বরাদ্দ করতে হবে, তবে কারা অপরাধের জন্য আরোপিত শাস্তি ব্যতীত, তাদের কারাবাস কোন ক্ষেত্রেই পৃথক কারাবাসের ন্যায় কোন কিছুর সংশ্লিষ্টতা থাকবে না ।

বিধি-১০৫২।

আসবাবপত্র এবং সরঞ্জাম ।- ডিভিশন | বন্দীদের বরাদ্দকৃত সেলে তাদের সাধারণ সরঞ্জাম থাকবে- একটি চেয়ার, একটি টেবিল,রাত দশটা পর্যন্ত ব্যবহারের জন্যে একটি বাতি, খাদ্য গ্রহণের জন্য এলুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, একটি আয়রন খাট, একটি পাতলা মেট্রেস, দুটি বালিশ, দুটি চাদর, চারটি বালিশের কভার, প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি কম্বল, একটি মশারী, একটি ছোট হাত আয়না এবং চিরুণী।

যদি প্রয়োজন হয়, এই ডিভিশনের প্রত্যেক বন্দীকে একটি টুথ ব্রাশ বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে এবং তার অতিরিক্ত, বন্দীর সাধারণ অভ্যাস এবং কারাগারের আবাসন সুবিধার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজ খরচে অন্যান্য আসবাবপত্র, বেডিং, তৈজসপত্র এবং চুলের তেল প্রভৃতি রাখার জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

বিধি-১০৫৩।

আটক অবস্থায় ভ্রমণ। যখন ডিভিশন | বন্দীর আটক অবস্থায় ভ্রমণ প্রয়োজন হয়, তাদেরকে {দ্বিতীয়} শ্রেণীর ভ্রমণ সুবিধা দেয়া হবে। যদি তারা পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে ভ্রমণ করে তবে দ্বিতীয় শ্রেণী পাবেন। এই শ্রেণীর বন্দী উচ্চ শ্রেণীতে ভ্রমণ করতে চাইলে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে তবে,

অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করবেন। রাতের বেলায় ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দীকে নিজের বেডিং এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেয়া যাবে। যদি বন্দীকে বিপদজনক মনে হয়, তবে একটি রিজার্ভ কামরার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিভিশন I বন্দীর দৈনিক ভাতা হবে {দশ} টাকা ।

 

বিধি-১০৫৪ ।

পোশাক-পরিচ্ছদ ।-প্রত্যেক বন্দী নিজস্ব পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে, তা পর্যাপ্ত ও ব্যবহারের যোগ্য হতে হবে এবং আপত্তিকর হবে না। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে সময়ে সময়ে নিজ খরচে অতিরিক্ত পোশাক-পরিচ্ছদ সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সুযোগে কোন রাজনৈতিক পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি যদি সরকারী খরচে পোশাক-পরিচ্ছদ নিতে আগ্রহী হন, তবে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হবে। বন্দীকে তাদের কাপড় চোপড় ধোয়ার সাবান দেয়া হবে, তবে যদি তিনি নিজে পোশাক- পরিচ্ছদ ধোয়ায় অভ্যস্ত না হন, তবে জেল সুপার, সে সব নিয়মিত ধোয়ার ব্যবস্থা করবেন, এ জন্যে বন্দীকে কোন খরচ প্রদান করতে হবে না ।

{প্রত্যেক ডিভিশন I বন্দ বা ডিভিশন II বন্দীকে পছন্দ মোতাবেক মাসে অনধিক পাঁচ আনা মূল্যের তিনটি টয়লেট সাবান অথবা তার পরিবর্তে দৈনিক এক ছটাকের পাঁচ ভাগের একভাগ পরিমাণ সরিষা বা নারিকেল তেল এবং মাসে একটি টয়লেট সাবান দেয়া হবে।}

নং- ৩৬২ এইচ জে, তারিখ ১৬-২-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১০৫৫।

পরিদর্শকগণ। যে সকল কারাগারে ডিভিশন | বন্দী থাকে, সে সব প্রত্যেক কারাগারের জন্যে সরকার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে নিয়োগকৃত দুইজন বেসরকারী ভিজিটর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিদর্শক বোর্ড গঠন করবেন। অন্যান্য বেসরকারী ভিজিটরগণকে ডিভিশন । বন্দী বা তারা যে সেল বা ওয়ার্ডে থাকেন তা ভিজিট করতে অনুমতি দেয়া হবে

বিধি-১০৫৬।

লেখার সরঞ্জাম। ১০৭৪ বিধিতে বর্ণিত বই, ম্যাগাজিন এবং পত্রিকার অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে এক্সারসাইজ খাতা, পেন্সিল, কলম ও কালি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। এক্সারসাইজ খাতা সাধারণ স্কুলের সম মানের হবে এবং পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া থাকবে। খাতার কোন পাতা নিরুদ্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে কিনা মাঝে মাঝে পরিদর্শন করা হবে। এসব পাতা চিঠি লেখার জন্যে ব্যবহার করা যাবে না।

বিধি-১০৫৭।

চুল ছাঁটাই ।- মেডিকেল অফিসার কর্তৃক কোন বন্দীর চুল ছোট করা বা কামানো প্রয়োজন বলে তার হিস্ট্রি টিকেটে উল্লেখ না করা সাপেক্ষে ডিভিশন | বন্দীরা ৬৫২ বিধিতে বর্ণিত নিয়ম হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হবে ।

 

ডিভিশন ১ বন্দী

 

বিধি-১০৫৮।

খাবার ।-ডিভিশন । প্রাপ্ত বন্দী ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার পাবেন। তা ছাড়া সাধারণ বাধা-নিষেধ ও পরীক্ষা এবং জেল সুপারের অনুমতি সাপেক্ষে তারা নিজ খরচে কোন প্রকার মদ বা লিকার জাতীয় বস্তু ব্যতীত সাধারণ ধরনের আহার সংগ্রহ করতে পারবেন। মদ বা লিকার জাতীয় বস্তু কেবল মাত্র মেডিকেল অফিসারের আদেশে নিজ খরচে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নিজ খরচে যুক্তি সংগত পরিমান সিগারেট ও তামাকের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার একটি গাইড লাইন হিসাবে বিবেচনা করবেন এবং অনুমোদিত স্কেলের মধ্যে সম্ভব রদবদল করবেন।

 

ডিভিশন ২ বন্দী

 

পরিচ্ছেদ – ডিভিশন বন্দী

 

বিধি-১০৫৯।

শ্রেণী বিভাগ।- সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে ৬১৭ বিধিতে নির্দেশিত উপায়ে এবং পটভূমিতে ডিভিশন II এ ভর্তি করতে হবে।

বিধি-১০৬০ ।

আবাসন । – ডিভিশন II বন্দীদেরকে লভ্যতা সাপেক্ষে ডিভিশন | বন্দীদের অনরূপ শর্তে সেল বরাদ্দ করতে হবে, তবে তা না হলে জেল সুপারের বিবেচনা মতে তাদেরকে একই শ্রেণীর সঙ্গে রাখতে হবে ।

বিধি-১০৬১।

আসবাবপত্র।- ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগারের সাধারণ বেডিং ছাড়াও একটি পাতলা মেট্রেস, একটি বালিশ, দুটি বিছানা চাদর, দুটি বালিশের কভার এবং একটি মশারী দেয়া হবে । তাদেরকে একটি টুল বা চেয়ার, একটি ছোট টেবিল বা সেলফ, এবং রাত দশটা পর্যন্ত তাদের সেল বা ওয়ার্ডে একটি বাতি দেয়া হবে ।

বিধি-১০৬২।

আটক অবস্থায় ভ্রমণ। যখন ডিভিশন II বন্দীর আটক অবস্থায় ভ্রমণ প্রয়োজন হয়, তাদেরকে {দ্বিতীয়} শ্রেণীর ভ্রমণ সুবিধা দেয়া হবে। যদি তারা পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে ভ্রমণ করে তবে দ্বিতীয় শ্রেণী পাবেন। রাতের বেলায় ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দীকে নিজের বেডিং এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেয়া যাবে। যদি বন্দীকে বিপদজনক মনে হয়, তবে একটি রিজার্ভ কামরার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিভিশন II বন্দীর দৈনিক ভাতা হবে (দশ) টাকা ।

বিধি-১০৬৩।

পোশাক-পরিচ্ছদ ।-(১) ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হবে।

(২) ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দী কয়েদী ওভারশিয়ার বা রক্ষী হিসাবে নিয়োগ পেলে, প্লেন সুতির পোশাক দেয়া হবে।

(৩) ডিভিশন II প্রাপ্ত এ এবং বি শ্রেণীর বন্দীকে বুকের ডান পাশে ২ ইঞ্চি x ২ ইঞ্চি সাইজের এ শ্রেণীর জন্য সবুজ এবং বি শ্রেণীর জন্য লাল রঙের সনাক্তকরণ বেজ লাগাতে হবে। 

 

বিধি-১০৬৪।

সেল প্রভৃতি পরিষ্কার রাখা। -ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীগণ তাদের সেল,ওয়ার্ড,তৈজসপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বেডিং পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখবে। তাদেরকে নিজেদের এবং পোশাক-পরিচ্ছদ ধোয়ার জন্য সাবান ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে। তবে, জেল সুপারের বিবেচনায়,যে সকল বন্দী তাদের তৈজসপত্র এবং পোশাক পরিচ্ছদ ধোয়ায় অভ্যস্ত নয়,সে সব ধোয়ার ব্যবস্থা করবেন ।}

নং- ২৭৬৪ এইচ জে তারিখ ৩০-১১১৯৪০ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১০৬৫।

লেখার সরঞ্জাম। ১০৫৬ বিধিতে ডিভিশন। বন্দীদেরকে প্রদত্ত সুবিধা ডিভিশন II বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তবে এক্সারসাইজ খাতা, পেন্সিল, কলমের মূল্য নিজেদেরকে বহন করতে হবে।

বিধি-১০৬৬।

চুল ছাঁটাই।- ৬৫২ বিধি সাপেক্ষে, ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে চুল ছাঁটাই করতে হবে এবং দাড়ি, গোঁফ মুণ্ডন করতে হবে। 

 

ডিভিশন ২ বন্দী

 

বিধি- ১০৬৭।

খাবার।- ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীগণ ১১০০ বিধিতে বর্ণিত খাবার পাবেন ।{সদাচারকারী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নিজ খরচে যুক্তি সঙ্গত পরিমাণ বিড়ি,সিগারেট,পাইপ টোবাকো এবং তামাক পাতা সরবরাহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।} জেল সুপার বর্ণিত স্কেল একটি গাইড লাইন হিসাবে বিবেচনা করবেন এবং অনুমোদিত স্কেলের মধ্যে এটাকে যথা সম্ভব রদবদল করবেন।

নং- ৫০ এইচ জে তারিখ ১৩-১-১৯৫৪ মূলে সংযেজিত।

 

সাধারণ বন্দী আইন

 

পরিচ্ছেদ – সাধারণ বন্দী

 

বিধি-১০৬৮।

কারাগার এবং আবাসন।-(১) ডিভিশন । বন্দীদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে কিংবা এই শ্রেণীর বন্দীদের জন্যে বিশেষভাবে ব্যবহৃত কারাগারে আটক রাখতে হবে। ডিভিশন II বন্দীদেরকেও সাধারণত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখতে হবে, তবে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশ মোতাবেক অন্য কারাগারেও তাদেরকে রাখা যাবে, তবে শর্ত থাকে যে, তাদেরকে যে কারাগারে প্রেরণ করা হবে সে কারাগারে এ ধরনের প্রয়োজনীয় সুবিধাদি থাকতে হবে।

(২) যে কারাগারে অনুরূপ সুবিধা নেই, যখন কোন ডিভিশন। বা II প্রাপ্ত বন্দী ভর্তি হয়, জেল সুপার তাকে অন্তরীণ রাখার স্থান সম্পর্কে আদেশ প্রদানের উদ্দেশ্যে তার ডিসক্রিপটিভ রোল কারা মহা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী আপীল করতে চায় তাকে তার বন্ধু-বান্ধব বা আইনজীবির সঙ্গে পরামর্শের সুবিধার জন্যে দুই বা তিন দিন আটক রাখা যেতে পারে। তবে আপীলের ফলাফল জানা পর্যন্ত তাকে ঐ কারাগারে আটক রাখা যাবে না ।

(৩) ডিভিশন বা II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত ডিভিশন III বন্দীদের থেকে পৃথক ওয়ার্ডে রাখতে হবে, বিনাশ্রম বন্দীদেরকে সশ্রম বন্দীদের থেকে এবং স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। আবাসনের সুবিধা অনুযায়ী এ সকল ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-১০৬৯।

টাস্ক।-জেল সুপার ডিভিশন I ও II বন্দীদেরকে যে কাজ দেয়া হয়েছে তারা সে সকল কাজ ঠিক ভাবে করছে কিনা, মেডিকেল পটভূমি, সামর্থ্য,চরিত্র, পূর্ববর্তী জীবনমান, প্রাক পরিচিতি বিবেচনা পূর্বক সতর্কতার সাথে যাচাই করে দেখবেন। বন্দীগণ অধ্যায়ন বা বিনোদনে সময় বরাদ্দের পূর্বে তাদেরকে প্রদত্ত কাজ সম্পূর্ণ ভাবে সমাপ্ত করবেন।

বিধি-১০৭০।

বন্দীদের নিকট দ্রব্যাদি সরবারাহ করা।- কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহ করা হবে না, যে পর্যন্ত তা তার হিস্ট্রি টিকেটে তা লিপিবন্দ করা না হয় এবং জেল সুপার অনুমোদন না করেন ।

বিধি-১০৭১।

পৃথক রান্না।- ডিভিশন I ও II ভূক্ত বন্দীদের খাবার ডিভিশন III

বন্দীদের থেকে পৃথক ভাবে রান্না করতে হবে । 

বিধি-১০৭২।

সাক্ষাত । -ডিভিশন I ও II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে তাদের সাজা ভোগ কালে নিম্নোক্ত বিধি সমূহ অনুযায়ী ব্যতীত সাক্ষাত করতে দেয়া হবে না ঃ-

(1) জেল সুপারের অনুমতিক্রমে ডিভিশন I প্রাপ্ত বন্দীদেরকে ১৫ দিনে একবার এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীদেরকে মাসে একবার পারিবারিক ও সাংসারিক বিষয়াদি আলোচনার উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

(2) {এ ধরনের সাক্ষাত জেলার বা জেল সুপার কর্তৃক নিয়োজিত একজন ডেপুটি জেলারের উপস্থিতিতে হবে। কোন ব্যক্তি অনুরূপ সাক্ষাতের সময় বন্দীর সাথে রাজনৈতিক ধরনের বা পারিবারিক ও সাংসারিক বিষয়াদির বাহিরে কোন আলোচনা করবেন না এবং এ বিধানের বরখেলাপকারী ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ৪২ ধারা মোতাবেক দণ্ডনীয় হবে।}

(3) কোন ব্যক্তিকে বন্দী সম্পর্কে রাজনৈতিক উস্কানি বা পত্রিকায় ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ নেয়ার উদ্দেশ্যে সাক্ষাত করতে চায় মর্মে সন্দেহ করা হলে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হবে না । 

(8) যদি সাক্ষাতে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়বস্তু বা বন্দী থেকে প্রাপ্ত পত্রের বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন এবং সরকার কোন নির্দিষ্ট বন্দীকে প্রদত্ত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুবিধা রহিত করবেন কিনা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

(৫)

অন্যান্য ক্ষেত্রে জেল সুপার সপ্তদশ অধ্যায়ে বর্ণিত সাক্ষাতের বিধান অনুসরণ করবেন।

নং- ১৯৬৩ এইচ জে তারিখ ২১-৫-১৯৩৮ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৭৩।

পত্র এবং যোগাযোগ ।- ডিভিশন I ও II প্রাপ্ত বন্দীদের থেকে বা তাদের কাছে কোন পত্র বা যোগাযোগ করার অনুমতি দেয়া হবে না। তবে সদাচারকারী ডিভিশন । বন্দীদেরকে পনর দিনে একবার এবং ডিভিশন II বন্দীদেরকে মাসে একবার, সাক্ষাতকারে যে সকল শর্তাদি পালন করা হয় অনুরূপ শর্তে, { আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের} নিকট পত্র প্রেরণ বা তাদের নিকট প্রেরিত পত্র গ্রহণের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। মৃত্যু বা মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি জরুরী ক্ষেত্রে জেল সুপার এ বিধি শিথিল করতে পারেন।

পত্রের বিষয় বস্তু সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়ে সীমিত থাকবে, কারাগারের প্রশাসন বা শৃংখলা, বা অন্য কোন বন্দী বা রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকবে না। এ সকল পত্র জেল সুপার কর্তৃক সেন্সর সাপেক্ষ হবে এবং কোন পত্র সম্পর্কে জেল সুপারের সন্দেহ হলে তিনি তা অপরাধ তদন্ত বিভাগে যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন, অনুরূপভাবে উক্ত বিভাগ কোন ডিভিশন | ও II প্রাপ্ত বন্দীর কোন পত্র পরীক্ষার জন্য চেয়ে নিতে পারে।

{নোট- একজন বন্দী জেল সুপারের অনুমতিক্রমে, একটি সাক্ষাতের পরিবর্তে একটি পত্র দিতে পারেন কিংবা একটি পত্রের পরিবর্তে একটি সাক্ষাততের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

নং-১৪১৪ এইচ জে, তারিখ ২৭-৬-১৯৪৬ মূলে সংশোধিত । নং-২৭৪৮ এইচ জে তারিখ ২৮-১১-১৯৪০ মূলে নোট সংযোজিত ।

বিধি-১০৭৪ ।

বই এবং পত্রিকা।-(১) ডিভিশন I বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীদেরকে কারাগার লাইব্রেরী হতে কিংবা বাহির হতে সর্বাধিক ৫ টি বই এক সঙ্গে রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে বাহির থেকে সাময়িকী ও ম্যাগাজিন সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন বই বা ম্যাগাজিনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেল সুপারের কোন সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে পারেন। {} সরকারের খরচে সাময়িকী কারাগার সংবাদপত্র রূপে প্রকাশ করা যেতে পারে এবং শিক্ষিত ডিভিশন।

বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীদের নিকট সরবরাহ করা যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয়, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দীকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা হতে {দৈনিক বা} সাপ্তাহিক পত্রিকা দেয়া যেতে পারে,তবে শর্ত থাকে যে জেল সুপার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কোন লেখা সেন্সর করতে পারবেন।

(২) প্রত্যেক ডিভিশন। বা II শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নিজ নিজ ধর্মের বই রাখতে পারবেন, এ সকল ধর্মীয় বই পূর্ব অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৫ টি বইয়ের অতিরিক্ত হবে।

{নোট- ডিটেন্যু এবং রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যারা কোন পাবলিক লাইব্রেরীর সদস্য, তাদেরকে লাইব্রেরী হতে বইয়ের জন্য সকল রিকুইজিশন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।}

নং ৪৩১১ এইচ জে তারিখ ২১-১১-১৯৩৮ এবং নং ৩৩ এইচ জে তারিখ ১০-৫-১৯৪০ মূলে সংশোধিত ।

নং- ৭৩৩ এইচ জে, তারিখ ২৩-২-১৯৪২ মূলে নোট সংযোজিত । 

বিধি-১০৭৫।

ব্যায়াম। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেডিকেল অফিসার যেরূপ প্রয়োজন মনে করেন সেরূপ ভাবে প্রত্যেক বন্দীকে সকালে মুক্ত বাতাসে ব্যয়াম করতে হবে।

বিধি-১০৭৬।

ব্যারাক খোলা।- ১২২৬ বিধি সাপেক্ষে ব্যারাক এবং সেল সারা বছর প্রত্যহ ভোরে খোলা হবে। খোলার বিশ মিনিট আগে ঘন্টা বাজানো হবে এবং ওয়াচম্যান বন্দীদেরকে ডেকে উঠাবে। প্রত্যেক বন্দী তার বিছানা পত্র সুন্দরভাবে ভাঁজ করে রাখবে এবং ওয়ার্ডের বাহিরে নেয়ার পূর্বে গণনার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ডের মাঝখানে সারিবদ্ধভাবে বসবে। একই ভাবে সেলের বন্দীরা সেলের গেইটের দিকে মুখ করে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। কোন বন্দী অসুস্থ কিনা বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সাথে দেখা করতে চায় কিনা কয়েদী কর্মচারারীরা তা নিশ্চিত করবে।

বিধি-১০৭৭।

লেট্রিন ব্যবস্থাপনা।-

(ক) যদি সম্ভব হয়, ডিভিশন। বা II ভুক্ত বন্দীদের জন্য পৃথক লেট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে বন্দীরা জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে নিজ খরচে একটি কামরা এবং কমোডের ব্যবস্থা করতে পারবে। 

(খ) ওয়ার্ড খোলার পর লেট্রিনের সংখ্যা অনুসারে বন্দীরা লেট্রিনে যাবে, অন্যরা তখন ওয়ার্ডে অবস্থান করবে। অসুস্থ বন্দীদেরকে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট ওয়ার্ডে দেখবেন। 

(গ) বন্দীদেরকে কমপক্ষে ৫ মিনিট করে এবং প্রয়োজনে আরো বেশী সময় লেট্রিন ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে। তবে সকল লেটিন পর্ব আধ ঘন্টার মধ্যে শেষ করতে হবে ।

বিধি-১০৭৮।

গোসল এবং ধোয়ার ব্যবস্থা।-

(ক) ডিভিশন বা II ভুক্ত বন্দী- দের জন্য পৃথক গোসলের স্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। লেট্রিন শেষে বন্দীরা গোসলের স্থানে যাবে, সেখানে { তারা } হাতমুখ ধুবে এবং ডিভিশন । বন্দী গোসল সেরে নিতে পারবে। প্রত্যেক বন্দীর ন্যায় ডিভিশন। বন্দীও গোসলের জন্য ১০ মিনিট সময় পাবে।

(খ) ধোয়া এবং গোসলের পর, সকালের খাবার পরিবেশন করা হবে। এ সময় জেলার প্রয়োজনে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করে গ্যাংয়ের কোন পরিবর্তন করে নিতে পারবেন ।

(গ) সকালের খাবার গ্রহণের পর বন্দীদের রোল ডাকা হবে এবং বন্দীরা তাদের কাজের স্থানে চলে যাবে।

নং- ২৯০০ এইচ জে তারিখ-১৪-১২-১৯৪০ মূলে সংশোধিত ।

 

বিধি-১০৭৯।

শোভনীয় ব্যবহার।- ডিভিশন | বা II ভুক্ত বন্দীগণ সব সময় শোভনীয় ব্যবহার করবেন,তবে কর্মকর্তা বা পরিদর্শকগণকে স্যালুট দিতে হবে না এবং ডিভিশন I ভূক্ত বন্দীদেরকে সারি বদ্ধভাবে হাটতে হবে না। তবে তাদেরকে জেল সুপার, জেলার, মেডিকেল অফিসার, ডেপুটি জেলার, মেডিকেল অফিসার এবং পরিদর্শকগণের সামনে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে, তবে করমর্দন করার প্রয়োজন হবে না। ডিভিশন। ভুক্ত বন্দীদেরকে খাবার গ্রহণের সময় সারিবদ্ধভাবে বসতে হবে না।

যদি ডিভিশন I বা II ভুক্ত কোন কয়েদী কর্মচারী না থাকে তবে জেল সুপার একজন বিশ্বস্ত ( অনভ্যাসগত) সাধারণ কয়েদী কর্মচারীকে এই শ্রেণীর বন্দীদের কাজের দায়িত্ব প্রদান করবেন, তবে যথাসম্ভব বন্দীদেরকে বেতনভূক রক্ষীর প্রহরায় রাখতে হবে।

বিধি-১০৮০।

সরঞ্জামাদি।- বন্দীদেরকে তাদের সরঞ্জামাদি সঙ্গে বহন করতে হবে না। কাজের সময় সরঞ্জামাদি ওয়ার্ডে বা সেলে কয়েদী কর্মচারীর দায়িত্বে রেখে আসতে হবে।

বিধি-১০৮১।

দুপুরের খাবার এবং ধোয়ার ব্যবস্থা।- বন্দীদেরকে শেড বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে খাবার দেয়া হবে। দুপুরের ঘন্টা বাজার পর বন্দীরা খাবার শেডে যাবে। তারপর তারা বিধি ১০৭৮ 

(ক) বর্ণিত গোসলের স্থানে যাবে। এ সময় সকল ডিভিশনের বন্দীদেরকে গোসলের অনুমতি দেয়া হবে। গোসলের পর তারা খাবার শেডে চলে আসবে এবং একজন কয়েদী কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে তাদেরকে খাবার দেয়া হবে। {তারা নিজেদের বাসন কোসন পরিষ্কার করবে, তবে জেল সুপার সাধারণ শ্রেণীর কোন বন্দীকে সে সকল বন্দীদের কাজে লাগাতে পারবেন, যারা বাসন কোসন ধোয়ায় অভ্যস্ত নয়।}

নং-২৭৬৪ এইচ জে তারিখ ৩০-১১-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৮২।

কাজের শুরু এবং বিরতি ।- দুপুরের পরে ঘন্টা বাজার পর বন্দীরা কাজ শুরু করবে এবং বিকালে পুনরায় ঘন্টা বাজার পর কাজ বন্দ করবে এবং সকালের ন্যায় চলে যাবে। {গরম আবহাওয়ায় ডিভিশন। বন্দীদের ন্যায় ডিভিশন II ভুক্ত বন্দীদেরকেও জেল সুপারের বিবেচনামতে এবং পানির পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে গোসলের সুযোগ দেয়া যাবে। }

নং- ২৯৫০ এইচ জে তারিখ ১৪-১২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০৮৩।

নাইট ল্যাট্রিন। প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি নাইট ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা থাকবে এবং সৌন্দর্যের খাতিরে তা পর্দা দ্বারা আড়াল করা থাকবে। কেবল মাত্র আমাশয় আক্রান্ত বন্দীরা প্রকৃত প্রয়োজনে নাইট ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারবে।

বিধি-১০৮৪।

অভিযোগ। অভিযোগ শুনার জন্য সোমবার সকালে প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে,কিন্তু তা কোন বন্দীকে জেল সুপারের সঙ্গে আইনগত অভিযোগের বিষয়ে অন্য সময়ে সাক্ষাতের সুযোগ হতে বঞ্চিত করবে না ।

বিধি-১০৮৫।

কাজের সময় নীরবতা।- কেবল মাত্র কাজের বিষয়ে আলাপ করার প্রয়োজন ব্যতীত কাজের সময় নীরবতা বজায় রাখতে হবে। জোরে কথা বলা, গান করা বা ঝগড়া করা নিষেধ, তবে বন্দীরা শান্তভাবে কাজের সময় পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবে। লক আপ হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত বন্দীরা লাইব্রেরী থেকে দেয়া বই শব্দ করে পড়তে পারবে।

বিধি-১০৮৬।

অসদাচরণ। অসদাচরণের কারণে জেল সুপার এ বিধি সমূহে প্রদত্ত সুবিধা থেকে কোন বন্দীকে বঞ্চিত করতে পারেন এবং তিন মাসের বেশী সময়ের জন্যে হলে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে। কোন বন্দীর ডিভিশন। বা ডিভিশন II সুবিধা প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত ।

বিধি-১০৮৭।

পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভৃতি এবং মুক্তির ক্ষেত্রে।-(১) ডিভিশন। বা ডিভিশন II বন্দীদেরকে ৫৭৮ এবং ৫৭৯ বিধির বিধান সাপেক্ষে একটি সার্ট,ধুতি এবং টুপি বা পাগড়ী, কিংবা তার পরিবর্তে একটি কোট, একজোড়া ট্রাউজার এবং পশমী টুপি বন্দীর পছন্দ অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে এবং ডিভিশন। বন্দীর ক্ষেত্রে একটাকা চার আনা এবং ডিভিশন II বন্দীর ক্ষেত্রে বার আনা দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে।

{যে সব বন্দীর ব্যবহার যোগ্য এক জোড়া স্যাণ্ডেল বা জুতা কারাগারে জমা দেয়া নেই,তাদেরকে এক জোড়া স্যান্ডেল বা জুতা দেয়া যেতে পারে (বন্দী কর্তৃক কারাগারে ব্যবহারকৃতগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে)। }

(২) মুক্তি প্রাপ্ত ডিভিশন | বা ডিভিশন II বন্দী নিজের বাড়ীর উদ্দেশ্যে ট্রেনে ভ্রমণের প্রয়োজন হলে তাদেরকে রেলওয়ে ক্রেডিট নোট পদ্ধতিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকেট দেয়া হবে ।

নং- ৬ এইচ জে তারিখ-১৯-৪-১৯৪০ মূলে সংযোজিত । III

বিধি-১০৮৮ ।

ওজন গ্রহণ।- ডিভিশন I বা ডিভিশন II বন্দীদেরকে ১২১৬ বিধি সাপেক্ষে সার্ট, ট্রাউজার বা ধুতি এবং মোজা পরা অবস্থায় ওজন গ্রহণ করা যাবে। ওজনের সময় অন্য সকল পোশাক-পরিচ্ছদ বাদ দিতে হবে।

বিধি-১০৮৯।

অন্য সকল ক্ষেত্রে জেল কোড মূখ্য হবে।- ডিভিশন ] বা ডিভিশন II বন্দীদের অন্য সকল বিষয়ে, যদি ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকে, জেল কোডের সাধারণ বিধান অনুযায়ীই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিজের বিবেচনায় জেল কোডের কোন বিধানের রূপান্তর,শিথিল বা পরিবর্তনের কোন ক্ষমতা জেল সুপারের নেই ।

বিধি-১০৯০।

সেল এবং ওয়ার্ডে বিধি সমূহের সারাংশ ঝুলিয়ে রাখতে হবে।- ডিভিশন I এবং ডিভিশন II বন্দীদের জন্য প্রযোজ্য শৃঙ্খলা এবং আচরণ, পুরস্কার এবং শাস্তি সংক্রান্ত বিধি সমূহের সারাংশ জেল সুপার প্রত্যেক সেল এবং ওয়ার্ডে ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবেন।

 

ডিভিশন ৩ সাধারণ

 

বিধি-১০৯১।

কতিপয় সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আন্দামান বদলির যোগ্যতা।- অকার্যকর। 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

বিধি-১০৪৬।

যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন এবং অন্য বন্দীদের থেকে তাকে পৃথক রাখা প্রয়োজন কিনা সে সম্পর্কে মতামত প্রদান করবেন।

বিধি-১০৪৭।

যখন মেডিকেল অফিসার কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছে মর্মে রেকর্ড করেন এবং ঐ বন্দীকে জরুরী ভিত্তিতে অন্যদের থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন মর্মে মতামত প্রদান করেন, তখন জেল সুপার বন্দীকে অন্যত্র স্থানান্তরের আদেশের জন্য বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক পঞ্চবিংশ অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে বন্দীকে এমন কোন কারাগারে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করবেন যেখানে কুষ্ঠ রোগীদেরকে অন্তরীণ রাখা হয়।

বিধি-১০৪৮ ।

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে পূর্ব বিধি মতে কোন কারাগারে বদলি করার পর সে যদি মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যুর হিসাব প্রেরণকারী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড করা হবে।

টীকা-১।

পূর্বে অবিভক্ত বাংলায় কুষ্ঠ রোগীদেরকে মেদেনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হত। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যক্ষা রোগীদের জন্যে বিশেষ ওয়ার্ড রয়েছে, তবে কুষ্ঠ রোগীদের জন্যে বিশেষ কোন ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোন কারাগারে নেই।

 

টীকা-২।

পূর্বে কুষ্ঠ রোগকে অনিরাময় অযোগ্য মনে করা হত। বর্তমানে কুষ্ঠ রোগ সহজে নিরাময় যোগ্য। তবে কুষ্ঠ রোগীদের সঙ্গে অন্যদের মেলামেশায় প্রবল আপত্তি লক্ষণীয়, তাই কুষ্ঠ রোগীকে পৃথক রাখাই শ্রেয়।

বিধি-১০৪৯।

কোন বিচারাধীন বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে মেডিকেল অফিসার তাকে পৃথক রাখার সুপারিশ করলে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কুষ্ঠ রোগীদের কারাগারে স্থানান্তরের সুপারিশ করলে বা মুক্তি প্রদানের আদেশ পাওয়া গেলে, স্থানান্তর বা মুক্তি স্থগিত রাখা হলে, তাকে পৃথক একটি সেলে আটক রাখতে হবে, তবে তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়। সে অন্য বন্দীদের সাথে কথা বলতে পারবে, তবে মেলামেশা করতে দেয়া হবে না।

এ ধরনের কক্ষ পরবর্তীতে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পূর্বে সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণ মুক্ত করতে হবে, দেয়াল ঘষামাজা করে চুনকাম করতে হবে। কক্ষের বেডিং পত্র অন্য কোন কুষ্ঠ রোগী ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। কোন সিভিল বন্দী কুষ্ঠ চিহ্নসহ কারাগারে ভর্তি হলে, তাকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশের জন্যে সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

 

কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

 

পৃথক রাখার আদেশ হয়েছে, এমন কোন কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্ব দিন পুলিশের নিকট রিপোর্ট করতে হবে, যাতে তারা ১৮৯৮ সালের ৩ নং আইনের ৭ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তির আদেশ প্রসঙ্গে বিধি ৮৫১ অনুসরণ করতে হবে।

পাগল বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পাগল বন্দী

পাগল বন্দী

 

পাগল বন্দী

 

বিধি-১০২৪।

যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসাবে সন্দিগ্ধ এবং যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্থ হিসাবে পরিচিত, তাদেরকে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে এবং ৫ শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে :-

(১) কোন অপরাধ করেনি এমন ব্যক্তি যাকে ১৯১২ সালের পাগল আইনের আওতায় পাগল সন্দেহে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;

(২) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত এমন ব্যক্তি যাকে পাগল সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;

(৩) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত কিন্তু নিজেকে নিরাপরাধ বলে দাবী করার মানসিক সামর্থ্যহীন ব্যক্তি যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটক রাখা হয়েছে;

(৪) কোন অপরাধ সংঘটন করেছে কিন্তু অপরাধ সংঘটন কালে পাগল ছিল বিধায় খালাস প্রাপ্ত ব্যক্তি, যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বা সরকারের সদিচ্ছায় আটক রাখা হয়েছে।

(৫)সে সকল ব্যক্তি যারা দণ্ডের পরে পাগল হয়েছে এবং কারাগারে ভর্তি হয়েছে।

শ্রেণী (১) ভুক্ত ব্যক্তিগণ নিরাপরাধ পাগল । অন্যান্য শ্রেণীর ব্যক্তিগণ ফৌজদারি পাগল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

টীকা-১।

ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন যে, আসামী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ, তা হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-২।

দায়রা আদালতের বিচারের সময় কোন ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৫, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-৩ ।

আদালত যদি মনে করেন যে, জামিন প্রদান করা উচিত নয় তা হলে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সে রূপ স্থানে উম্মাদ আসামীকে নিরাপদ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে রিপোর্ট দিবেন (ধারা -৪৬৬, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-৪।

১৯১২ সালের উম্মাদ আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুসারে ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে আসামীকে কোন পাগলা গারদে আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা -৪৭১, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

বিধি-১০২৫ ।

যখন কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন সন্দিগ্ধ পাগল বন্দীকে পরীক্ষা করার জন্যে মেডিকেল অফিসারকে অনুরোধ করেন, ঐ অনুরোধের একটি কপি জেল সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যাতে ঐ পরীক্ষা কালে পাগল বন্দী নিজের বা অন্যদের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মতে জেল সুপার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।

বিধি-১০২৬।

১৯১২ সালের পাগল আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক কোন নিরাপরাধী সন্দিগ্ধ পাগল ব্যক্তিকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে অনধিক ১৫ দিনের জন্য আটক রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; তবে মেডিকেল অফিসার যদি সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, ঐ আইন মোতাবেক পর্যবেক্ষণের জন্যে পুনরায় আটক রাখা প্রয়োজন তা হলে ম্যাজিষ্ট্রেট আটকের মেয়াদ প্রথম আটকের তারিখ থেকে ত্রিশ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।

এ মেয়াদ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার ম্যাজিষ্ট্রেট বা যে কর্মকর্তার আদেশে আটক রাখা হয়েছে তাকে জানাবেন যে, এই আইনের আওতায় অনুমোদিত আটক রাখার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং আটক ব্যক্তিকে খালাস দেয়ার জন্যে বা মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন। যদি মেয়াদ শেষ হবার পর ৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায় এবং জেল সুপার আদালত হতে কোন আদেশ না পেয়ে থাকেন, তবে তিনি বিহিত ব্যবস্থার জন্যে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

কোন নিরাপরাধী পাগল ব্যক্তিকে ত্রিশ দিনের বেশী কারাগারের আটক রাখার প্রত্যেক ক্ষেত্রে জেল সুপার কারা মহা পরিদর্শককে বিষয় সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

টীকা-

পাগল সন্দেহে কোন ব্যক্তিকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে ঐ ব্যক্তি পাগল কিনা তা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ঐ ব্যক্তিকে কোন সুবিধাজনক স্থানে অনধিক দশ দিন আটক রাখার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন। ম্যাজিষ্ট্রেট একই উদ্দেশ্যে সময়ে সময়ে ঐ ব্যক্তিকে একসঙ্গে অনধিক দশ দিন করে পুনরায় আটকের অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু কোন ব্যক্তিকে এই আইনে প্রথম আটকের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা-১৬, পাগল আইন, ১৯১২)।

বিধি-১০২৭।

নিরাপরাধী পাগলদেরকে কারাগারের সকল পরিসংখ্যান হতে বাদ রাখা হবে এবং তাদের ভরণ পোষণ এবং পোষাক (যদি দেয়া হয়) ও মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের খরচ ওয়ারেন্ট প্রদানকারী আদালত হতে আদায় করতে হবে।

বিধি-১০২৮।

শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত ফৌজদারি পাগল ব্যক্তিদেরকে • মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিষ্ট্রেট বা আদালতের আদেশে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে; এবং শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত কোন পাগলকে কোন কারাগারে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখা হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে।

বিধি-১০২৯।

(১) কারাগারে আটক কোন বন্দীর পাগল হবার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে, জেল সুপার ঐ বন্দীকে ৭৪০ বা ৯৯৩ বিধিতে বর্ণিত পদ্ধতিতে একটি সেলে মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করবেন। (২) যদি কোন সন্দিগ্ধ পাগল-

(ক) একজন বিচারাধীন বন্দী হলে জেল সুপার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেটকে অনুরোধ জানাবেন;

(খ) একজন মৃত্যুদণ্ড আদেশ প্রাপ্ত বন্দী হলে ৯৯৩ বিধি মোতাবেক জেল সুপার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন;

(গ) কোন আদালতের দণ্ড আদেশ মোতাবেক আটক বা অন্তরীণ ব্যক্তি হলে যে জেলা হতে আদেশ দেয়া হয়েছে সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে নির্ধারিত ফরমে বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

নোট- ডিসক্রিপটিভ রোল সাধারণত: ১৪ দিনের মধ্যে গৃহীত হবে। বিধি-১০৩০। কোন বন্দী কারাগারে ভর্তি হবার পর পাগল হয়ে গেলে বন্দীকে কোন মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে সরকারের আদেশ লাভের উদ্দেশ্যে। জেল সুপার অবিলম্বে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনি দুই কপি করে প্রেরণ করবেন-

(১) একটি ডিসক্রিপটিভ রোল ‘সি’, (বেঙ্গল ফরম নম্বর ২১৬);

(২) বন্দীর পাগল হওয়া সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট (ফরম নম্বর ২১৫);

(৩) বন্দীর স্থানান্তরের উপযুক্ততা সম্পর্কে সার্টিফেকেট, (জেল ফরম

(৪) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি ডিসক্রিপটিভ রোল (ফরম নম্বর ৫০৬৯)। নোট- যদি পাগল ব্যক্তি উগ্র, ভয়ংকর, বা আত্মহত্যা প্রবণ হয় সার্টিফিকেটে তার উল্লেখ করতে হবে।

 

বিধি-১০৩১।

কোন পাগল বন্দীকে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে নির্দেশ প্রদান করা হলে জেল সুপার তাকে প্রেরণের সময় আদেশের কপি,হিস্ট্রি সিট, মেডিকেল অফিসার প্রদত্ত স্থানান্তরের জন্যে উপযুক্ততার দুই কপি সার্টিফিকেট এবং পাগল বন্দী যদি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হয় তবে দণ্ডের মূল ওয়ারেন্টের কপি এবং ৮৭২ বিধিতে বর্ণিত অন্যান্য দলিলপত্র সঙ্গে দিবেন। কোন পাগলকে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়া যাবে না,

যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করেন যে, সে শারীরিক বা মানসিক ভাবে স্থানান্তরের উপযুক্ত। ঐ সার্টিফিকেটের একটি কপি তিনি ডাক যোগে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের সময় প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং তাকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

টীকা-

অপরাধী এবং অনিষ্টকর নয় এমন সনাক্তকৃকত পাগলকে পাগলা গারদে এস্কট করে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ সাদা কাপড় পরিধান করবে(প্রবিধান ৭২৪,পিআরবি)।{বিধি-১০৩১এ। যদি মানসিক হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হয়, পাগল ব্যক্তিকে কোন কারাগারে আটক রাখতে হবে। তাকে কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শককে অনুরোধ জানাবেন।

কারা মহাপরিদর্শক হতে অনুমতি পাওয়া গেলে ১০৩১ বিধিতে বর্ণিত প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করে তাকে স্থানান্তর করতে হবে। গ্রহণকারী কারাগারে পাগল ব্যক্তিকে যে তারিখে বা সময়ে গ্রহণ করতে হবে তার আগাম সংবাদ টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে যাতে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাকে গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত থাকেত পারেন।

বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগল ব্যক্তির মেডিকেল হিস্ট্রির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো আগেই প্রেরণ করতে হবে। বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগলকে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রেরণকারী কারাগারের মেডিকেল অফিসার বন্দীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় উপায় নির্ধারণ করে দিবেন। পাগল ব্যক্তি যাতে নিজের বা স্কটের বা অন্য কারো ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি লক্ষ্য রাখবেন।

কারাগারে আগমনের পর জেলার বা ডেপুটি জেলার গাগল বন্দীকে ভর্তি করার পূর্বে তার পূর্ববর্তী কারাগারের হিস্ট্রি টিকেট ভাল ভাবে পর্যালোচনা করে দেখবেন। বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে, যিনি তাকে পরীক্ষা করে এবং তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আটক রাখার নিরাপত্তা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করবেন। উগ্র প্রকৃতির পাগল বন্দীকে কারাগারে থাকা অবস্থায় বা কারাগার হতে কোথাও নেয়ার সময় সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে।

বিধি-১০৩২ ।

প্রয়োগ নেই।

বিধি-১০৩৩।

যখন কোন পাগল মহিলাকে কোন কারাগারে প্রেরণ বা কারাগার হতে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় বা মুক্তির কারণে আত্মীয় স্বজনের নিকট অর্পণ করা হয়, তখন অবশ্যই একজন মহিলা কারারক্ষী বা সঙ্গী থাকতে হবে।

বিধি-১০৩৪ ।

সরকারের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে জেল সুপার কোন পাগল বন্দীকে জরুরী ও বিশেষ অবস্থায় মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত ।

বিধি-১০৩৫ ।

কোন পাগল ব্যক্তিকে স্থানান্তরের উপযুক্ততার সার্টিফিকেট প্রদান কালে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন অক্ষমতা বা উগ্রতা সম্পর্কে রেকর্ড করবেন।

বিধি-১০৩৬।

কোন পাগল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট জেলার কর্তৃক হস্তান্তর কালে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট উপস্থিত থাকবেন। তিনি স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝিয়ে দেবেন।

বিধি-১০৩৭।

যখন শ্রেণী(৫)ভুক্ত ফৌজদারি পাগলকে সরকারের আদেশে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা যাবে না, তাকে সাজার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখতে হবে এবং নিরাপরাধী পাগল হিসাবে গণ্য করতে হবে।

বিধি-১০৩৮।

যখন কোন পাগল ভয়ংকর, কোলাহলকারী, বা নোংরা স্বভাবের হয়, তাকে একটি সেলে আটক রাখতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রেণী (১) থেকে শ্রেণী (৪) ভুক্ত পাগলদেরকে কারা হাসপাতালে কিংবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুযায়ী রাখতে হবে। সেলে আটক পাগলকে নজর রাখার বিষয়ে ৭৪০ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-১০৩৯।

মেডিকেল অফিসার ভিন্নরূপ নির্দেশ না প্রদান করলে, প্রত্যেক পাগল বন্দী কারাগারের স্বাভাবিক খাবার পাবে, তবে শ্রেণী (১)ভুক্ত ব্যক্তিদেরকে বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য ৯২৩ থেকে ৯২৫ বিধি মোতাবেক বাহির হতে খাদ্য সরবরাহ করা যেতে পারে।

বিধি-১০৪০ ।

যখন সরকারের নিকট প্রতীয়মান হবে যে, শ্রেণী (৫) ভুক্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত পাগল বন্দী আরোগ্য লাভ করেছে, তাকে যে কারাগার হতে স্থানান্তর করা হয়েছিল সে কারাগারে পুনরায় প্রেরণের জন্যে ওয়ারেন্ট জারী করবেন। জেল সুপার বন্দীর মানসিক হাসপাতালে থাকার সময়কে তার কারা ভোগের অংশ হিসাবে গণনা করবেন।

বিধি ১০৪১-১০৪৩।

প্রয়োগ বিরল ।

বিধি-১০৪৪।

ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৭১(২) ধারায় এবং ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(২) ধারায় সরকার জেল সুপারগণকে পাগল বন্দীদের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের উপর অর্পিত ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(১) ধারার এবং ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৬৬ বা ৪৭১ ধারায় কারাগারে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে উক্ত বিধির ৪৭৩ ও ৪৭৪ ধারার সকল কাজের নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন। ()

টীকা-১।

যে কারাগারে কোন ব্যক্তি ৪৬৬ ধারা ৪৭১ ধারা অনুসারে আটক রযেছে, সরকার সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৪৭৩ বা ৪৭৪ ধারা অনুসারে কারাগার সমূহের মহা পরিদর্শকের সমস্ত বা যে কোন কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে পারবেন (ধারা ৪৭১ (২)- ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা-২।

সরকার কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মহা পরিদর্শকের (১) উপ-ধারার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন যে কারাগারে অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক রাখা হবে( ধারা ৩০(২), পাগল আইন,১৯১২)।

 

পাগল বন্দী

 

বিধি-১০৪৫ ।

প্রত্যেক ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে জেল সুপার তার কারাগারে আটক প্রত্যেক পাগল বন্দীর বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ৯ নম্বর রিটার্ন দাখিল করবেন এবং ঐ ব্যক্তির সেই সময়ের এবং পূর্ববর্তী সময়ের তুলনা তুলে ধরবেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-৯৭৯।

আদালত কোন বন্দীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে, যে পুলিশ কর্মকর্তা বিচার কাজে হাজির থাকেন, তিনি জেল সুপারকে লিখিত ভাবে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড সম্পর্কে জানাবেন। দণ্ড দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত হলে হাইকোর্ট বিভাগ হতে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে আটক রাখার একটি ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী বিচারক কর্তৃক জেল সুপারকে প্রদান করবেন।

যখন দায়রা আদালতের দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন প্রদান করবে কিংবা দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদান করা হয়, দায়রা জজ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যে ক্ষেত্রে যিনি হন, বন্দী যে কারাগারে আটক রয়েছে, সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট দণ্ড কার্যকর করার ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন।

টীকা-১।

দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের নিকট কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত উক্ত দণ্ড কার্যকর করা হবে না (ধারা -৩৭৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।

টীকা- ২।

হাইকোর্ট বিভাগ (দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড) দণ্ড বহাল করতে বা আইন সমর্থিত অপর কোন দণ্ড দিতে পারেন, অথবা দণ্ড বাতিল করতে পারেন এবং আসামীকে এমন কোন অপরাধের জন্যে দণ্ডিত করতে পারেন, যে অপরাধের জন্য দায়রা আদালত আসামীকে দণ্ডিত করতে পারতেন অথবা একই অভিযোগে বা সংশোধিত অভিযোগে নুতন করে বিচারের আদেশ দিতে পারেন, অথবা আসামীকে খালাস দিতে পারেন (ধারা-৩৭৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা- ৩।

দায়রা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহালের জন্য পেশকৃত মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বহালের আদেশ বা অন্য কোন আদেশ দানের পর হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবিলম্বে উক্ত আদেশের একটি অনুলিপি হাইকোর্ট বিভাগের সীল মোহরকৃত ও তার সরকারী স্বাক্ষর দ্বারা সত্যায়িত করে দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন(ধারা-৩৭৯,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা- ৪।

দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করা হলে উক্ত দায়রা আদালত সে সম্পর্কে হাইকোর্ট বিভাগের বহাল আদেশ বা অন্য কোন আদেশ পাবার পর ওয়ারেন্ট প্রদান করে বা প্রয়োজনীয় অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে উক্ত আদেশ কার্যকর করবেন (ধারা-৩৮১, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৯৮০। প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে, দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে,

হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষা না করে অন্যান্য বন্দীদের আলাদা করে কারাগারের ভিতরে একটি স্বতন্ত্র সেলে বা কক্ষে পূর্ণ নিরাপদে। রাখতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে অনুরূপ সেলে বা কক্ষে আটক রাখার পূর্বে জেলার নিজে কক্ষটি পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কক্ষের ফিটনেস এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৯৮১।

কারাগারে আসার সঙ্গে সঙ্গে বন্দী যদি পুরুষ হয়, জেলার তার উপস্থিতিতে তার জামাকাপড় খুলে তল্লাশী করবেন এবং তার সঙ্গে আনা জামা কাপড় বা অন্য সকল জিনিস পত্র সরিয়ে ফেলবেন। তাকে এক সেট জেল পোশাক, তিনটি কম্বল, একটি এলুমিনিয়ামের মগ, প্লেট ও বাটি দিবেন। বন্দী মহিলা হলে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী কর্তৃক অনুরূপ ভাবে তল্লাশী করতে হবে। যদি প্রহরার স্বার্থে প্রয়োজন না হয়, এবং যদি বন্দী উগ্র প্রকৃতির না হয়, কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

যদি কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে এ সম্পর্কে পরিস্থিতি কারা মহা পরিদর্শককে জানাতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন-I বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীকৃত হলে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত প্রত্যেক দ্রব্য একটি করে তাকে দেয়া হবে। পরিবর্তনের জন্য দেয়া জামা কাপড় দায়িত্বরত প্রহরীর নিকট থাকবে।

{জেল সুপার তার বিবেচনা মতে অনুরূপ বন্দীকে একটি আয়রন খাট, একটি মেট্রেস, একটি বালিশ, একটি বিছানা চাদর, একটি বালিশের কভার, একটি মশারী, একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল ইস্যু করতে পারেন। অনুরূপ প্রত্যেক সেলে আটক বন্দীর জন্য একজন করে পৃথক প্রহরী স্থাপন করতে হবে, এমনকি সেলগুলি যদি পরস্পর লাগোয়াও হয় । }

নং- ৪১৮১ এইচ জে তারিখ ৮-১১-১৯৩৮

বিধি-৯৮২।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে মহিলা এলাকায় সেলে আটক রাখতে হবে এবং মহিলা প্রহরীর মাধ্যমে প্রহরা প্রদান করতে হবে ।

বিধি-৯৮৩ ।

দণ্ড প্রদানের পর বন্দী আদালত হতে কারাগারে ফিরে আসার পর, তাকে দিবারাত্র একজন কারারক্ষীর সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে। এ কাজে কোন কয়েদী কর্মচারীকে রাখা যাবে না। বিধি মতে কারাগারের সাধারণ রক্ষী মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার জন্যে যথেষ্ট হবে। তবে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকলে অতিরিক্ত দুই একজন লোক দিতে হবে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিশ্বস্ত ও স্থায়ী কর্মচারীর উপর অর্পণ করতে হবে। অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হলে তাদেরকে কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৯৮৪ ।

সেলের সম্মুখে, সম্ভব হলে দরজার বাহিরে রক্ষী অবস্থান করবে। সেলের তালার চাবি কর্তব্যরত রক্ষী বা মেট্রনের নিকট থাকবে। কারাগারের অন্য কোন চাবি দিয়ে খোলা যাবে না, এমন একটি তালা সেলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। রক্ষী এমন ভাবে থাকবেন যেন, যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি বন্দীকে দেখতে পান এবং সেলের সম্পূর্ণ অংশও দেখতে পান। রাতের বেলায় এমনভাবে বাতির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তার আলো ভালভাবে বন্দীর উপর পড়ে।

পুরুষ বন্দীর সেল, বন্দীর আত্মহত্যার উপক্রমের পরিস্থিতি ব্যতীত অন্য সময়ে তিন জন ব্যক্তির উপস্থিতি ব্যতীত খোলা যাবে না, যেন বন্দী উগ্র কোন আচরণ করলে তা ঠেকানো যায়।

বিধি-৯৮৫।

যখন একই সময়ে একাধিক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে স্বল্প দূরত্বের সেলে আটক রাখা হয়, প্রত্যেক সেলের জন্য পৃথক রক্ষী নিয়োগ করতে হবে। যদি এইরূপ সেল লাগোয়া হয়, তবে তিনজন বন্দীর জন্য একজন রক্ষী প্রহরায় দিতে হবে। বন্দী সংখ্যা তিনজনের বেশী হলে অতিরিক্ত একজন প্রহরী বেশী দিতে হবে, এমন কি সেল লাগোয়া হলেও।

বিধি-৯৮৬।

প্রধান কারারক্ষী নির্ধারিত সময়ে দিনে বা রাত্রে মাঝে মাঝে প্রহরীদের ভিজিট করবেন এবং বন্দীদের সন্দেহ জনক কোন আচরণ বা প্রহরীদের কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা জেল সুপারকে জানানোর জন্যে জেলারকে অবহিত করবেন।

বিধি-৯৮৭।

সকাল এবং বিকালে জেলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের তল্লাশী করবেন এবং সেল পরীক্ষা করবেন এবং আত্মহত্যা বা পলায়নের কোন কিছু নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন। কোন অবস্থাতেই এ দায়িত্ব অন্য কারো নিকট ন্যস্ত করা যাবে না। অনুরূপ ভাবে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের একান্ত ভাবে মেট্রন তল্লাশী করবেন, তবে সেল জেলার পরীক্ষা করবেন।

বিধি-৯৮৮।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের সাধারণ শ্রম বন্দীদের হারে খাবার দেয়া হবে। যদি সে পূর্বে ডিভিশন- II বা ডিভিশন- I বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণী পেয়ে থাকে, তবে বিধি ১১০০ অনুসারে খাবার পাবে। অতিরিক্ত খাবার বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের আকারে কোন আনুকূল্য দেখানো যাবে না।

বিধি-৯৮৯।

একজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আত্মীয় স্বজন তার অনুরোধ মোতাবেক জেল সুপারের লিখিত অনুমতিক্রমে দেখা করতে পারবেন। সকল সাক্ষাত বন্দীর সেলে জেলার বা ডেপুটি জেলারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাতের সময় বন্দীর নিকট কোন কিছু যাতে না দেয়া হয় তা দেখতে হবে। জেল সুপার, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট, জেলার, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শক, খাদ্য পরিবেশন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মচারী,

এবং বন্দীর চাহিদা মোতাবেক ধর্মীয় উপদেষ্টা বা গুরু ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি সেলে প্রবেশ অধিকার পাবে না। কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী পড়তে পারলে তাকে জেল সুপারের মাধ্যমে তার ব্যবহারের জন্যে সুবিধাজনক বই বা সাময়িকী, সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়তে দেয়া যেতে পারে। একটি এক্সারসাইজ খাতা এবং পেন্সিল ১০৫৬ বিধিতে বর্ণিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে দেয়া যেতে পারে। বন্দী ধুমপায়ী হলে তাকে সিগারেট বা তামাকের অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৯৯০।

দায়রা আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সংবাদ পাবার পর বন্দী আপীল করবে কিনা জেলার তা বন্দীকে জিজ্ঞাসা করবেন। বন্দী আপীল করতে চাইলে জেলার তৎক্ষনাৎ আপীল প্রস্তুতের সহায়তা করবেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রেরণ করবেন। এ ধরনের আপীলের সঙ্গে দণ্ডাদেশের কপি সংযোজনের প্রয়োজন নেই।

বিধি-৯৯১।

প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার অধিকার থাকবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার বা আপীলের জন্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে জেল সুপার নিম্নোক্ত বিধি সমূহ অনুসরণ করবেন :-

(1) হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার

ওয়ারেন্ট পাবার পর বা {স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হয়ে যাবার সংবাদ পাবার পর} জেল সুপার বন্দীকে তা জানাবেন এবং বন্দী ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে ইচ্ছুক কিনা তা জানতে চাইবেন। যদি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে চায় তবে অনুরূপ সংবাদ জানার ৭ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে করতে হবে।

নং- ১২৪৮ এইচ জে তারিখ ৫-৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।

(II) যদি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিধি I মোতাবেক ৭ দিনের মধ্যে আবেদন পেশ করে, উক্ত আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সরকার উভয়কে সম্বোধন করতে হবে। জেল সুপার আবেদনটি সঙ্গে সঙ্গে সরকারের স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল,এবং যে তারিখে বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।

জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, আবেদনের উপর সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড-কার্যকরী করা স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন,কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

(III)

যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিধি I এ বর্ণিত সময় সীমার পরে আবেদন পেশ করে, জেল সুপার তৎক্ষণাৎ তা সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং একই সময়ে বিষয়টির উল্লেখ পূর্বক টেলিগ্রামে সরকারের আদেশ চাইবেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, না কি স্থগিত রাখবেন এবং উল্লেখ করবেন যে, সরকারের জবাব না পেলে দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।

তবে, যদি দণ্ড কার্যকর করার ধার্য তারিখের পূর্ব দিন দুপুরের পর জেল সুপার আবেদন প্রাপ্ত হন, তা তৎক্ষণাৎ সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং টেলিগ্রাম করবেন, এতে দণ্ড কার্যকরের জন্যে ধার্য তারিখ উল্লেখ করবেন এবং আরও উল্লেখ করবেন যে, যদি সরকারের ভিন্ন কোন আদেশ না পাওয়া যায়, তা হলে ধার্য তারিখে দণ্ড কার্যকর করা হবে।

(IV) অকার্যকর ।

(V) যদি বন্দী বা তার পক্ষে জেল সুপারকে জানানো হয় যে, বন্দী আপীলের উদ্দেশ্যে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়ের করবে, জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে এ সংবাদ সরকারের { স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ যে তারিখে জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।

জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, সংবাদের প্রেক্ষিতে সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর ( স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন, কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

(VI) সরকার স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হবার সংবাদ পাবার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেল সুপারকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে তা জানাবেন এবং জেল সুপারকে উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির ২১ দিন পূর্বে নয় কিংবা ২৮ দিনের পরে নয়, এমন তারিখ দণ্ড কার্যকর করার জন্যে ধার্য করার জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হবে। তাকে সে সঙ্গে নির্দেশ প্রদান করা হবে যে, টেলিগ্রামে প্রদত্ত সংবাদের ডাক কপি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দণ্ড স্থগিত রাখবেন।

নোট- যদি বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন পাওয়া যায় তা হলে তা উপরের বিধি III মোতাবেক নিস্পত্তি করা হবে।

(VII) দণ্ড-কার্যকরী করার পূর্বে যে কোন সময় জেল সুপারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, এমন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে যে, যার কারণে দণ্ড পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে, পূর্ববর্তী বিধি সমূহে যাই বলা হোক না কেন, তিনি স্বাধীনভাবে বিষয়ের উপর স্বীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পূর্বক সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন, এবং আদেশ প্রার্থনা করবেন, এবং আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড বিলম্বিত করবেন।

(VIII) {স্বরাষ্ট্র} সচিব কর্তৃক জেল সুপারের নিকট প্রেরিত ক্ষমার আবেদন সম্পর্কে নির্দেশ সম্বলিত সকল টেলিগ্রাম যোগাযোগ প্রাপ্তির প্রমাণ হিসেবে জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে সে গুলো পুনরায় ফেরত টেলিগ্রাম করবেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর আবেদন সম্বলিত পত্রের খামের উপর “ক্ষমার জন্য আপীল” এবং “জরুরী ” লিখিত থাকবে এবং তা রেজিষ্ট্রি ডাক যোগে প্রেরিত হবে।

টীকা-১।

প্রাসঙ্গিক বিধিসমূহঃ

(ক) কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে (অনুচ্ছেদ ৪৯- বাংলাদেশের সংবিধান)।

(খ) রাষ্ট্রপতি শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমা মঞ্জুর করলে উক্ত শর্ত যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন উপযুক্ত আদালতের দণ্ড দ্বারা আরোপিত শর্ত বলে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যকরের যোগ্য হবে (ধারা- ৪০১(৫-ক),ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(গ) সরকার মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অন্য যে কোন দণ্ড দিতে পারেন। এ জন্য

দণ্ডিত ব্যক্তির অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই (ধারা ৫৪-দণ্ডবিধি)।

(ঘ) সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীতই মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারা দণ্ডে রূপান্ত র করতে পারেন (ধারা ৪০২- ফৌজদারি কার্যবিধি)। টীকা-২। কার্যবিধিমালা, ১৯৯৬ মোতাবেক সরকারের কার্যবন্টন তালিকায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। সে জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশকৃত ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন জেল সুপার কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপনের পূর্বে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে থাকে।

বিধি-৯৯২।

(১) একটি বিশেষ ধরনের লাল রঙের খাম মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত পত্র যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে, খামের উপর বাম এবং ডান কোনে যথাক্রমে “ মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক” এবং “ অবিলম্বে” লিখা থাকবে। সকল জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক যোগাযোগের জন্যে এ ধরনের খামের ব্যবহার নিশ্চিত করবেন এবং দিনে বা রাত্রে কারাগারে এ ধরনের পত্র জেলার কিংবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি জেলার গ্রহণ করবেন,যিনি-

(ক) প্রাপ্তির রেজিষ্ট্রারে প্রাপ্তির তারিখ এবং সময় উল্লেখ করবেন;

(খ) অবিলম্বে জেল সুপারের নিকট আদেশের জন্য পেশ করবেন।

(২) জেল সুপার দেখবেন যে দ্রুত জবাব এবং প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে কিনা এবং দণ্ড স্থগিত রাখার কোন আদেশ হলে বিশেষ বাহক মারফত বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে সরকারের নিকট তার প্রাপ্তি স্বীকার প্রেরণ করবেন।

বিধি-৯৯৩।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে বা তা মিথ্যা ভান কিনা পরীক্ষার জন্যে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে,বিষয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।

মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন এবং তাকে বন্দীর অনুরূপ অবস্থা সম্পর্কে জানানোর ৩০ দিনে মধ্যে, যদি তিনি কোন মতে উপনীত হতে পারেন, তাড়াতাড়ি রিপোর্ট প্রদান করবেন যে বন্দী মানসিক ভরাসাম্যহীন কি না। মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট তাৎক্ষণিক ভাবে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে প্রেরণ করতে হবে। সরকারের নির্দেশ পাবার পর নির্দেশ মোতাবেক জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

যদি সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ প্রদান করে, তা হলে দণ্ড কার্যকর করার জন্যে জেল সুপার তৎক্ষণাৎ আদেশ প্রাপ্তির পর হতে ৭ দিনের কম নয় এবং এক পক্ষ কালের বেশী নয়, এমন তারিখ নির্ধারণ করবেন। কোন কারণে এ বিধি মোতাবেক দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, সরকারের চূড়ান্ত আদেশ এবং দণ্ড কার্যকর করা প্রয়োজন হলে তার জন্যে ধার্য নুতন তারিখ মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী আদালত এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে।

বিধি-৯৯৪ ।

কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী গর্ভবতী মর্মে যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন, তখন ওয়ারেন্টের উপর তা রেকর্ড করে জেল সুপার ওয়ারেন্টটি দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করবেন এবং ফৌজাদারি কার্যবিধি ৩৮২ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ প্রদানের জন্যে দায়রা জজকে অনুরোধ জানাবেন ।

টীকা-

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রী লোককে গর্ভবর্তী পাওয়া গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন (ধারা-৩৮২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৯৯৫।

কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী যদি গর্ভবতী মর্মে নিজে দাবী করেন এবং মেডিকেল অফিসার তার সত্যতা সম্পর্কে সার্টিফাই করতে অসম্মত হন এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্যে সময় প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে লিখিতভাবে জানান, তখন ওয়ারেন্টের সাথে তার বক্তব্য সংযোজন করে পূর্ববর্তী বিধির ন্যায় কার্যক্রমের জন্য দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯৯৬।

পূর্ববর্তী দুই বিধিতে বর্ণিত যে কোনটির কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, পুনরায় সরকারের নুতন আদেশ ব্যতীত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। অনুরূপ আদেশের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট আবেদন করবেন।

বিধি-৯৯৭।

৯৯১ বিধির অধীনে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন, বা স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের কারণ ব্যতীত অন্য কোন বিশেষ বা অনিবার্য কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিলম্ব ঘটলে, জেল সুপার মূল ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান পূর্বক অবিলম্বে বিষয়টি দায়রা জজের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং নুতন ওয়ারেন্ট জারীর জন্যে, বা কতদিন পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখা হবে ঐ ওয়ারেন্টের উপর তার তারিখ উল্লেখ পূর্বক আদেশ প্রদানের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

নোট-১। আলোচ্য বিধি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮১ ধারা মোতাবেক প্রণীত এবং হাইকোর্ট বিভাগ জারীকৃত ওয়ারেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। যদি কোন কারণে অনুরূপ ওয়ারেন্টে নির্ধারিত তারিখে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না যায়, তা হলে সরকারের নির্দেশ প্রাপ্তির পর

নোট-২। যখন জেল সুপার ৯৯১ বিধি মোতাবেক ক্ষমার আবেদন বা স্পেশাল লিভ পিটিশনের কারণে দণ্ড স্থগিত করেন, ওয়ারেন্ট অপরিবর্তীত থাকলে নিজেই দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করবেন।

{বিধি-৯৯৭এ । মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মারা গেলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং যে জেলায় দণ্ড প্রদান করা হয়েছে সে জেলার দায়রা জজের নিকট সে সম্পর্কে অবিলম্বে নোটিশ প্রেরণ করতে হবে। যদি মৃত ব্যক্তির আপীল অনিষ্পন্ন তাকে তবে, হাই কোর্ট বিভাগকেও জানাতে হবে। যদি আপীল শুনানীর তারিখ সন্নিকটে থাকে তবে, টেলিগ্রাম বা বিশেষ বাহক মারফত জানাতে হবে। যে কারাগারে বন্দীকে স্থানান্তরের কথা ছিল সে কারাগারকেও জানাতে হবে। কারা মহাপরিদর্শককেও অবিলম্বে বন্দীর মৃত্যুর সংবাদ জানাতে হবে।}

নং- ২৭৬২ এইচ, জে তারিখ ২৭-৭-১৯৩৮ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯৯৮।

যখন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়, তখন আদালত কারাগার হতে তার সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে না; তবে শর্ত থাকে যে, যদি দায়রা আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্য বিধির ৪২৮ ধারা মোতাবেক অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে।

বিধি-৯৯৯।

ওয়ারেন্টে বিশেষ ভাবে নির্দেশ না থাকলে, বা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তর হয়ে থাকলে, মৃত্যুদণ্ড প্রদানের তারিখে বন্দী যে জেলার কারাগারে আটক ছিল সে জেলা সদরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট পাবার পর অবিলম্বে তা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন এবং তিনি যদি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার বা সিভিল সার্জন বা সিভিল মেডিকেল অফিসার হন,

তা হলে মৃত্যুদণ্ড যথাযথ ভাবে কার্যকর করার আয়োজনের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। জল্লাদের দায়িত্ব পালনের জন্যে একজন লোক ঠিক করতে হবে, ফাঁসীমঞ্চ ব্যবহার উপযোগী করতে হবে, দড়ি, টুপি এবং বাঁধার রশি প্রভৃতি প্রস্তুত রাখতে হবে। ১ ইঞ্চি ব্যাসের ইউরোপে তৈরী ম্যানিলা দড়ি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে ব্যবহার করতে হবে এবং এরূপ ২ টি দড়ি প্রস্তুত রাখতে হবে। দড়ি নুতন হবার প্রয়োজন নেই, তবে তা বন্দীর দেড়গুণ ওজনের ভার বহনে সক্ষম হতে হবে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এক সপ্তাহ আগে বালি বা মাটির বস্তা দিয়ে দড়ির অনুরূপ কার্যকারীতা পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার পর দড়ি তালা বদ্ধ করে নিরাপদে রেখে দিতে হবে। ফাঁসী মঞ্চ অস্থায়ী হলে তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বদিন বিকালে জেল সুপারের উপস্থিতিতে, সম্ভব হলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সেলের সন্নিকটে বন্দী দেখতে না পায় এমন স্থানে প্রস্তুত করতে হবে। জেল সুপার দড়ি যাচাই করে নিশ্চিত হবেন যে, পরীক্ষার সময় তার কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা ।

যখন কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়, তখন প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী উভয় কারাগারের জেল সুপার নিজ নিজ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তা জানাবেন।

বিধি-১০০০।

ব্যবহৃত দড়ির ঝুলন্ত দূরত্ব (ড্রপ) নিম্নোক্ত হারে বন্দীর দেহের ওজনের অনুপাতে নির্ধারণ করতে হবে, তবে জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা অনুসারে, তিনি নিজে মেডিকেল অফিসার না হলে, মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এটা বাড়ানো কমানোর ক্ষমতা রাখেন:-

বন্দীর ওজন ৯৮ পাউন্ডের নিম্নে হলে                -৬ ফুট ৬ ইঞ্চি

বন্দীর ওজন ১২৬ পাউন্ডের নিম্নে হলে              -৬ ফুট

বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ডের নিম্নে হলে              – ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি

বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ড বা তার উর্ধ্বে হলে ৫ ফুট

বিধি-১০০১।

মৃত্যুদণ্ড কারা প্রাচীরের ভিতরের আঙিনায় দিনে বা রাত্রে যে কোন সময় কার্যকরী করতে হবে; কিন্তু গৃহীত কার্যক্রমে গোপনীয় ধরনের কোন কিছু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বন্দীর প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ আত্মীয় এবং অন্যান্য মর্যাদাবান প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ,মোট ১২ জনের বেশী নয়, যদি থাকে, গেইট রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড লিখতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তাদেরকে প্রয়োজনে সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে ডাকা যেতে পারে।

এ ধরনের কোন ব্যক্তিকে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এদের সকলকে বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রবেশের অসম্মতি প্রদানের বিষয়ে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কারাগারের অন্যান্য বন্দীদেরকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হবে না, এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে লক-আপ রাখতে হবে।

টীকা- নং৪০৫ / জেল-১ তারিখ ৮-১০-৭৭ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-১০০২।

কমপক্ষে ১২ জন বন্দুকধারী রক্ষী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে রিজার্ভ গার্ড থেকে এবং জেলা কারাগারে পুলিশ সুপারকে গার্ড এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ করতে হবে।

বিধি-১০০৩।

প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে উপ-কারা মহাপরিদর্শক কিংবা ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেল সুপার উপস্থিত থাকবেন এবং অনুরূপভাবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা তার নিযুক্ত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার উপস্থিত থাকবেন।

বিধি-১০০৪ ৷

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে তার সেল থেকে বের করার পূর্বে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার উচ্চশব্দে ইংরেজী / বাংলায় দণ্ডাদেশ পাঠ করে শুনাবেন এবং জেলার বা অন্য কোন কর্মকর্তা তা বন্দীর মাতৃভাষায় অনুবাদ করে পাঠ করবেন। অতঃপর উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টে উল্লেখিত নাম অনুসারে সনাক্ত করবেন এবং জল্লাদের নিকট অর্পণ করবেন।

বিধি-১০০৫ ।

ফাঁসী মঞ্চে বন্দীকে নেয়ার পর জল্লাদের দায়িত্ব-

() বীমের যে অংশে দড়ি বাঁধা আছে তার ঠিক

দাঁড় করাতে হবে ;

(২) পা দুটি শক্ত করে বাঁধতে হবে;

(৩) সুতি কাপড়ের টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দিতে হবে;

(8) দড়ির ফাঁস গলায় মৃদু কষে লাগাতে হবে, ফাঁসের গিট বা ধাতব রিং (মেটাল আই)সামনের দিকে চোয়ালের নীচে থাকবে :

(৫) জল্লাদ দ্রুত লিভারে গিয়ে দাঁড়াবে;

(৬) উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপারের ইঙ্গিত পাবার সঙ্গে সঙ্গে লিভার টেনে ফাঁসী মঞ্চের গুপ্ত দরজা সরিয়ে দিতে হবে।

বিধি-১০০৬।

মৃত দেহ আধঘন্টা ঝুলে থাকবে। কারাগারের মেডিকেল অফিসার বা অতিরিক্ত সিভিল সার্জন কর্তৃক মৃত ঘোষণা করা না পর্যন্ত মৃত দেহ নামানো যাবে না। মৃত দেহের পোস্টমর্টেম করতে হবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ পূর্বক উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার কর্তৃক নত কার্যকরের ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান করতে হবে।)

টীকা-১।

নং ৪২৫ / জেল-১/৭৭ তারিখ ১৫-১০-৭৭ মূলে বিধি ১০০৩ – ১০০৬ প্রতিস্থাপিত

টীকা-২।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতকে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ (১) ধারা কর্তৃক নির্দেশিত। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দণ্ডে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ।

টীকা-৩।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ১৪ নং আইন)-এর ৩৪-ক ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ সাপেক্ষে ফাঁসি দিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতি অনুসৃত হবে জেল কোডে তার উল্লেখ নেই ।

বিধি-১০০৭।

দণ্ড কার্যকরের পর মৃত দেহ হস্তান্তরের ফলে জন অসন্তোষের সৃষ্টি না হলে-

(১) মৃতের আত্মীয় স্বজনের অনুরোধ মোতাবেক তাদের নিকট হস্তান্তর করা যেতে পারে, বা

(২) কোন আত্মীয় স্বজনের নিকট (১) উপ-বিধি মোতাবেক হস্তান্তর করা না হলে, পৌরসভা বা অন্য কোন স্থানীয় ব্যবস্থায় অর্পণ করা হবে।

বিধি-১০০৮।

যখন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট মনে করেন যে মৃতদেহ আত্মীয় স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা সঙ্গত হবে না, অনুরূপ মৃত দেহ ম্যাজিষ্ট্রেটের লিখিত আদেশে যতটুকু সম্ভব কারাগারের মধ্যে মৃতের ধর্মীয় পদ্ধতিতে উপযুক্তভাবে সৎকার করা হবে। মৃতের অনধিক ৪ জন বন্ধু-বান্ধবকে ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতিক্রমে এবং শর্ত সাপেক্ষে সৎকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং তাদেরকে ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত না থাকলে মৃত যে ধর্মের অনুসারী ছিলেন, সে ধর্মের সর্ব জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তা ধর্মীয় আচারের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

 

বিধি-১০০৯।

এ বাবত সকল ব্যয় কারা বিভাগ থেকে বহন করা হবে।

টীকা-

কোর্ট মার্শাল ব্যতীত অন্যান্য আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অব্যবহিত পরে তা সংবাদ পত্রে প্রকাশ করা যেতে পারে। কারা মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে ক্ষমতা প্রাপ্ত। (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-৪৪৩/পি-১০২/৮৫-জেল- II, তারিখ ৩-৮-১৯৮৬)।

দ্বাত্রিংশ অধ্যায় । রাজবন্দী। বিধি ১০১০-১০২৩ ঃ বাতিল ।

টীকা-

রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫০ এবং রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫৮ এর আওতায় আটক বন্দীদের সংক্রান্ত বিধান যা পূর্বেই বেঙ্গল স্টেট প্রিজনার্স রুলস, ১৯৪৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ১৯৭৩ সনের ৮ম আইন দ্বারা এ দুটো আইন বাতিল করা হয়েছে।