আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী

বিধি-৯৭৯।
আদালত কোন বন্দীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে, যে পুলিশ কর্মকর্তা বিচার কাজে হাজির থাকেন, তিনি জেল সুপারকে লিখিত ভাবে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড সম্পর্কে জানাবেন। দণ্ড দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত হলে হাইকোর্ট বিভাগ হতে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে আটক রাখার একটি ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী বিচারক কর্তৃক জেল সুপারকে প্রদান করবেন।
যখন দায়রা আদালতের দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন প্রদান করবে কিংবা দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদান করা হয়, দায়রা জজ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যে ক্ষেত্রে যিনি হন, বন্দী যে কারাগারে আটক রয়েছে, সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট দণ্ড কার্যকর করার ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন।
টীকা-১।
দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের নিকট কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত উক্ত দণ্ড কার্যকর করা হবে না (ধারা -৩৭৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।
টীকা- ২।
হাইকোর্ট বিভাগ (দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড) দণ্ড বহাল করতে বা আইন সমর্থিত অপর কোন দণ্ড দিতে পারেন, অথবা দণ্ড বাতিল করতে পারেন এবং আসামীকে এমন কোন অপরাধের জন্যে দণ্ডিত করতে পারেন, যে অপরাধের জন্য দায়রা আদালত আসামীকে দণ্ডিত করতে পারতেন অথবা একই অভিযোগে বা সংশোধিত অভিযোগে নুতন করে বিচারের আদেশ দিতে পারেন, অথবা আসামীকে খালাস দিতে পারেন (ধারা-৩৭৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।
টীকা- ৩।
দায়রা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহালের জন্য পেশকৃত মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বহালের আদেশ বা অন্য কোন আদেশ দানের পর হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবিলম্বে উক্ত আদেশের একটি অনুলিপি হাইকোর্ট বিভাগের সীল মোহরকৃত ও তার সরকারী স্বাক্ষর দ্বারা সত্যায়িত করে দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন(ধারা-৩৭৯,ফৌজদারি কার্যবিধি)।
টীকা- ৪।
দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করা হলে উক্ত দায়রা আদালত সে সম্পর্কে হাইকোর্ট বিভাগের বহাল আদেশ বা অন্য কোন আদেশ পাবার পর ওয়ারেন্ট প্রদান করে বা প্রয়োজনীয় অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে উক্ত আদেশ কার্যকর করবেন (ধারা-৩৮১, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৯৮০। প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে, দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে,
হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষা না করে অন্যান্য বন্দীদের আলাদা করে কারাগারের ভিতরে একটি স্বতন্ত্র সেলে বা কক্ষে পূর্ণ নিরাপদে। রাখতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে অনুরূপ সেলে বা কক্ষে আটক রাখার পূর্বে জেলার নিজে কক্ষটি পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কক্ষের ফিটনেস এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন।
বিধি-৯৮১।
কারাগারে আসার সঙ্গে সঙ্গে বন্দী যদি পুরুষ হয়, জেলার তার উপস্থিতিতে তার জামাকাপড় খুলে তল্লাশী করবেন এবং তার সঙ্গে আনা জামা কাপড় বা অন্য সকল জিনিস পত্র সরিয়ে ফেলবেন। তাকে এক সেট জেল পোশাক, তিনটি কম্বল, একটি এলুমিনিয়ামের মগ, প্লেট ও বাটি দিবেন। বন্দী মহিলা হলে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী কর্তৃক অনুরূপ ভাবে তল্লাশী করতে হবে। যদি প্রহরার স্বার্থে প্রয়োজন না হয়, এবং যদি বন্দী উগ্র প্রকৃতির না হয়, কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা যাবে না।
যদি কোন বন্দীকে বেড়ী বা হ্যান্ডকাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে এ সম্পর্কে পরিস্থিতি কারা মহা পরিদর্শককে জানাতে হবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন-I বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীকৃত হলে ১১৬৫ বিধিতে বর্ণিত প্রত্যেক দ্রব্য একটি করে তাকে দেয়া হবে। পরিবর্তনের জন্য দেয়া জামা কাপড় দায়িত্বরত প্রহরীর নিকট থাকবে।
{জেল সুপার তার বিবেচনা মতে অনুরূপ বন্দীকে একটি আয়রন খাট, একটি মেট্রেস, একটি বালিশ, একটি বিছানা চাদর, একটি বালিশের কভার, একটি মশারী, একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল ইস্যু করতে পারেন। অনুরূপ প্রত্যেক সেলে আটক বন্দীর জন্য একজন করে পৃথক প্রহরী স্থাপন করতে হবে, এমনকি সেলগুলি যদি পরস্পর লাগোয়াও হয় । }
নং- ৪১৮১ এইচ জে তারিখ ৮-১১-১৯৩৮
বিধি-৯৮২।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে মহিলা এলাকায় সেলে আটক রাখতে হবে এবং মহিলা প্রহরীর মাধ্যমে প্রহরা প্রদান করতে হবে ।
বিধি-৯৮৩ ।
দণ্ড প্রদানের পর বন্দী আদালত হতে কারাগারে ফিরে আসার পর, তাকে দিবারাত্র একজন কারারক্ষীর সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে। এ কাজে কোন কয়েদী কর্মচারীকে রাখা যাবে না। বিধি মতে কারাগারের সাধারণ রক্ষী মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার জন্যে যথেষ্ট হবে। তবে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকলে অতিরিক্ত দুই একজন লোক দিতে হবে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর প্রহরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিশ্বস্ত ও স্থায়ী কর্মচারীর উপর অর্পণ করতে হবে। অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হলে তাদেরকে কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।
বিধি-৯৮৪ ।
সেলের সম্মুখে, সম্ভব হলে দরজার বাহিরে রক্ষী অবস্থান করবে। সেলের তালার চাবি কর্তব্যরত রক্ষী বা মেট্রনের নিকট থাকবে। কারাগারের অন্য কোন চাবি দিয়ে খোলা যাবে না, এমন একটি তালা সেলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। রক্ষী এমন ভাবে থাকবেন যেন, যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি বন্দীকে দেখতে পান এবং সেলের সম্পূর্ণ অংশও দেখতে পান। রাতের বেলায় এমনভাবে বাতির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তার আলো ভালভাবে বন্দীর উপর পড়ে।
পুরুষ বন্দীর সেল, বন্দীর আত্মহত্যার উপক্রমের পরিস্থিতি ব্যতীত অন্য সময়ে তিন জন ব্যক্তির উপস্থিতি ব্যতীত খোলা যাবে না, যেন বন্দী উগ্র কোন আচরণ করলে তা ঠেকানো যায়।
বিধি-৯৮৫।
যখন একই সময়ে একাধিক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে স্বল্প দূরত্বের সেলে আটক রাখা হয়, প্রত্যেক সেলের জন্য পৃথক রক্ষী নিয়োগ করতে হবে। যদি এইরূপ সেল লাগোয়া হয়, তবে তিনজন বন্দীর জন্য একজন রক্ষী প্রহরায় দিতে হবে। বন্দী সংখ্যা তিনজনের বেশী হলে অতিরিক্ত একজন প্রহরী বেশী দিতে হবে, এমন কি সেল লাগোয়া হলেও।
বিধি-৯৮৬।
প্রধান কারারক্ষী নির্ধারিত সময়ে দিনে বা রাত্রে মাঝে মাঝে প্রহরীদের ভিজিট করবেন এবং বন্দীদের সন্দেহ জনক কোন আচরণ বা প্রহরীদের কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা জেল সুপারকে জানানোর জন্যে জেলারকে অবহিত করবেন।
বিধি-৯৮৭।
সকাল এবং বিকালে জেলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের তল্লাশী করবেন এবং সেল পরীক্ষা করবেন এবং আত্মহত্যা বা পলায়নের কোন কিছু নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন। কোন অবস্থাতেই এ দায়িত্ব অন্য কারো নিকট ন্যস্ত করা যাবে না। অনুরূপ ভাবে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের একান্ত ভাবে মেট্রন তল্লাশী করবেন, তবে সেল জেলার পরীক্ষা করবেন।
বিধি-৯৮৮।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের সাধারণ শ্রম বন্দীদের হারে খাবার দেয়া হবে। যদি সে পূর্বে ডিভিশন- II বা ডিভিশন- I বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণী পেয়ে থাকে, তবে বিধি ১১০০ অনুসারে খাবার পাবে। অতিরিক্ত খাবার বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের আকারে কোন আনুকূল্য দেখানো যাবে না।
বিধি-৯৮৯।
একজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আত্মীয় স্বজন তার অনুরোধ মোতাবেক জেল সুপারের লিখিত অনুমতিক্রমে দেখা করতে পারবেন। সকল সাক্ষাত বন্দীর সেলে জেলার বা ডেপুটি জেলারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাতের সময় বন্দীর নিকট কোন কিছু যাতে না দেয়া হয় তা দেখতে হবে। জেল সুপার, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট, জেলার, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শক, খাদ্য পরিবেশন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মচারী,
এবং বন্দীর চাহিদা মোতাবেক ধর্মীয় উপদেষ্টা বা গুরু ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি সেলে প্রবেশ অধিকার পাবে না। কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী পড়তে পারলে তাকে জেল সুপারের মাধ্যমে তার ব্যবহারের জন্যে সুবিধাজনক বই বা সাময়িকী, সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়তে দেয়া যেতে পারে। একটি এক্সারসাইজ খাতা এবং পেন্সিল ১০৫৬ বিধিতে বর্ণিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে দেয়া যেতে পারে। বন্দী ধুমপায়ী হলে তাকে সিগারেট বা তামাকের অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।
বিধি-৯৯০।
দায়রা আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সংবাদ পাবার পর বন্দী আপীল করবে কিনা জেলার তা বন্দীকে জিজ্ঞাসা করবেন। বন্দী আপীল করতে চাইলে জেলার তৎক্ষনাৎ আপীল প্রস্তুতের সহায়তা করবেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিষ্ট্রার বরাবর প্রেরণ করবেন। এ ধরনের আপীলের সঙ্গে দণ্ডাদেশের কপি সংযোজনের প্রয়োজন নেই।
বিধি-৯৯১।
প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার অধিকার থাকবে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার বা আপীলের জন্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে জেল সুপার নিম্নোক্ত বিধি সমূহ অনুসরণ করবেন :-
(1) হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার
ওয়ারেন্ট পাবার পর বা {স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হয়ে যাবার সংবাদ পাবার পর} জেল সুপার বন্দীকে তা জানাবেন এবং বন্দী ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে ইচ্ছুক কিনা তা জানতে চাইবেন। যদি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে চায় তবে অনুরূপ সংবাদ জানার ৭ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে করতে হবে।
নং- ১২৪৮ এইচ জে তারিখ ৫-৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।
(II) যদি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিধি I মোতাবেক ৭ দিনের মধ্যে আবেদন পেশ করে, উক্ত আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সরকার উভয়কে সম্বোধন করতে হবে। জেল সুপার আবেদনটি সঙ্গে সঙ্গে সরকারের স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল,এবং যে তারিখে বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।
জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, আবেদনের উপর সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড-কার্যকরী করা স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন,কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
(III)
যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিধি I এ বর্ণিত সময় সীমার পরে আবেদন পেশ করে, জেল সুপার তৎক্ষণাৎ তা সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং একই সময়ে বিষয়টির উল্লেখ পূর্বক টেলিগ্রামে সরকারের আদেশ চাইবেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, না কি স্থগিত রাখবেন এবং উল্লেখ করবেন যে, সরকারের জবাব না পেলে দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।
তবে, যদি দণ্ড কার্যকর করার ধার্য তারিখের পূর্ব দিন দুপুরের পর জেল সুপার আবেদন প্রাপ্ত হন, তা তৎক্ষণাৎ সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং টেলিগ্রাম করবেন, এতে দণ্ড কার্যকরের জন্যে ধার্য তারিখ উল্লেখ করবেন এবং আরও উল্লেখ করবেন যে, যদি সরকারের ভিন্ন কোন আদেশ না পাওয়া যায়, তা হলে ধার্য তারিখে দণ্ড কার্যকর করা হবে।
(IV) অকার্যকর ।
(V) যদি বন্দী বা তার পক্ষে জেল সুপারকে জানানো হয় যে, বন্দী আপীলের উদ্দেশ্যে স্পেশাল লীভ পিটিশন দায়ের করবে, জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে এ সংবাদ সরকারের { স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট প্রেরণ করবেন, সে সঙ্গে প্রদত্ত পৃথক একটি পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্যে যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বন্দীকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক দণ্ড অনুমোদনের সংবাদ যে তারিখে জ্ঞাত করা হয়েছিল তার উল্লেখ করবেন।
জেল সুপার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, সংবাদের প্রেক্ষিতে সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর ( স্থগিত রাখা হবে। আবেদনটি প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কোন আদেশ না পাওয়া গেলে জেল সুপার একটি টেলিগ্রাম বার্তায় এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন, কিন্তু সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
(VI) সরকার স্পেশাল লীভ পিটিশন খারিজ হবার সংবাদ পাবার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেল সুপারকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে তা জানাবেন এবং জেল সুপারকে উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির ২১ দিন পূর্বে নয় কিংবা ২৮ দিনের পরে নয়, এমন তারিখ দণ্ড কার্যকর করার জন্যে ধার্য করার জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হবে। তাকে সে সঙ্গে নির্দেশ প্রদান করা হবে যে, টেলিগ্রামে প্রদত্ত সংবাদের ডাক কপি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দণ্ড স্থগিত রাখবেন।
নোট- যদি বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন পাওয়া যায় তা হলে তা উপরের বিধি III মোতাবেক নিস্পত্তি করা হবে।
(VII) দণ্ড-কার্যকরী করার পূর্বে যে কোন সময় জেল সুপারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, এমন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে যে, যার কারণে দণ্ড পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে, পূর্ববর্তী বিধি সমূহে যাই বলা হোক না কেন, তিনি স্বাধীনভাবে বিষয়ের উপর স্বীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পূর্বক সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন, এবং আদেশ প্রার্থনা করবেন, এবং আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড বিলম্বিত করবেন।
(VIII) {স্বরাষ্ট্র} সচিব কর্তৃক জেল সুপারের নিকট প্রেরিত ক্ষমার আবেদন সম্পর্কে নির্দেশ সম্বলিত সকল টেলিগ্রাম যোগাযোগ প্রাপ্তির প্রমাণ হিসেবে জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে সে গুলো পুনরায় ফেরত টেলিগ্রাম করবেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর আবেদন সম্বলিত পত্রের খামের উপর “ক্ষমার জন্য আপীল” এবং “জরুরী ” লিখিত থাকবে এবং তা রেজিষ্ট্রি ডাক যোগে প্রেরিত হবে।
টীকা-১।
প্রাসঙ্গিক বিধিসমূহঃ
(ক) কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে (অনুচ্ছেদ ৪৯- বাংলাদেশের সংবিধান)।
(খ) রাষ্ট্রপতি শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমা মঞ্জুর করলে উক্ত শর্ত যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন উপযুক্ত আদালতের দণ্ড দ্বারা আরোপিত শর্ত বলে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যকরের যোগ্য হবে (ধারা- ৪০১(৫-ক),ফৌজদারি কার্যবিধি)।
(গ) সরকার মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অন্য যে কোন দণ্ড দিতে পারেন। এ জন্য
দণ্ডিত ব্যক্তির অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই (ধারা ৫৪-দণ্ডবিধি)।
(ঘ) সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীতই মৃত্যুদণ্ডকে হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারা দণ্ডে রূপান্ত র করতে পারেন (ধারা ৪০২- ফৌজদারি কার্যবিধি)। টীকা-২। কার্যবিধিমালা, ১৯৯৬ মোতাবেক সরকারের কার্যবন্টন তালিকায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। সে জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশকৃত ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন জেল সুপার কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপনের পূর্বে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে থাকে।
বিধি-৯৯২।
(১) একটি বিশেষ ধরনের লাল রঙের খাম মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত পত্র যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে, খামের উপর বাম এবং ডান কোনে যথাক্রমে “ মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক” এবং “ অবিলম্বে” লিখা থাকবে। সকল জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক যোগাযোগের জন্যে এ ধরনের খামের ব্যবহার নিশ্চিত করবেন এবং দিনে বা রাত্রে কারাগারে এ ধরনের পত্র জেলার কিংবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি জেলার গ্রহণ করবেন,যিনি-
(ক) প্রাপ্তির রেজিষ্ট্রারে প্রাপ্তির তারিখ এবং সময় উল্লেখ করবেন;
(খ) অবিলম্বে জেল সুপারের নিকট আদেশের জন্য পেশ করবেন।
(২) জেল সুপার দেখবেন যে দ্রুত জবাব এবং প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে কিনা এবং দণ্ড স্থগিত রাখার কোন আদেশ হলে বিশেষ বাহক মারফত বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে সরকারের নিকট তার প্রাপ্তি স্বীকার প্রেরণ করবেন।
বিধি-৯৯৩।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে বা তা মিথ্যা ভান কিনা পরীক্ষার জন্যে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে,বিষয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং সরকারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।
মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন এবং তাকে বন্দীর অনুরূপ অবস্থা সম্পর্কে জানানোর ৩০ দিনে মধ্যে, যদি তিনি কোন মতে উপনীত হতে পারেন, তাড়াতাড়ি রিপোর্ট প্রদান করবেন যে বন্দী মানসিক ভরাসাম্যহীন কি না। মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট তাৎক্ষণিক ভাবে সরকারের {স্বরাষ্ট্র} সচিবের নিকট রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে প্রেরণ করতে হবে। সরকারের নির্দেশ পাবার পর নির্দেশ মোতাবেক জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
যদি সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ প্রদান করে, তা হলে দণ্ড কার্যকর করার জন্যে জেল সুপার তৎক্ষণাৎ আদেশ প্রাপ্তির পর হতে ৭ দিনের কম নয় এবং এক পক্ষ কালের বেশী নয়, এমন তারিখ নির্ধারণ করবেন। কোন কারণে এ বিধি মোতাবেক দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, সরকারের চূড়ান্ত আদেশ এবং দণ্ড কার্যকর করা প্রয়োজন হলে তার জন্যে ধার্য নুতন তারিখ মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী আদালত এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে।
বিধি-৯৯৪ ।
কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী গর্ভবতী মর্মে যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন, তখন ওয়ারেন্টের উপর তা রেকর্ড করে জেল সুপার ওয়ারেন্টটি দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করবেন এবং ফৌজাদারি কার্যবিধি ৩৮২ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ প্রদানের জন্যে দায়রা জজকে অনুরোধ জানাবেন ।
টীকা-
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রী লোককে গর্ভবর্তী পাওয়া গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন (ধারা-৩৮২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।
বিধি-৯৯৫।
কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দী যদি গর্ভবতী মর্মে নিজে দাবী করেন এবং মেডিকেল অফিসার তার সত্যতা সম্পর্কে সার্টিফাই করতে অসম্মত হন এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্যে সময় প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে লিখিতভাবে জানান, তখন ওয়ারেন্টের সাথে তার বক্তব্য সংযোজন করে পূর্ববর্তী বিধির ন্যায় কার্যক্রমের জন্য দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-৯৯৬।
পূর্ববর্তী দুই বিধিতে বর্ণিত যে কোনটির কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মহিলা বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হলে, পুনরায় সরকারের নুতন আদেশ ব্যতীত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। অনুরূপ আদেশের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট আবেদন করবেন।
বিধি-৯৯৭।
৯৯১ বিধির অধীনে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন, বা স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের কারণ ব্যতীত অন্য কোন বিশেষ বা অনিবার্য কারণে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিলম্ব ঘটলে, জেল সুপার মূল ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান পূর্বক অবিলম্বে বিষয়টি দায়রা জজের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং নুতন ওয়ারেন্ট জারীর জন্যে, বা কতদিন পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত রাখা হবে ঐ ওয়ারেন্টের উপর তার তারিখ উল্লেখ পূর্বক আদেশ প্রদানের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।
নোট-১। আলোচ্য বিধি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮১ ধারা মোতাবেক প্রণীত এবং হাইকোর্ট বিভাগ জারীকৃত ওয়ারেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। যদি কোন কারণে অনুরূপ ওয়ারেন্টে নির্ধারিত তারিখে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না যায়, তা হলে সরকারের নির্দেশ প্রাপ্তির পর
নোট-২। যখন জেল সুপার ৯৯১ বিধি মোতাবেক ক্ষমার আবেদন বা স্পেশাল লিভ পিটিশনের কারণে দণ্ড স্থগিত করেন, ওয়ারেন্ট অপরিবর্তীত থাকলে নিজেই দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করবেন।
{বিধি-৯৯৭এ । মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মারা গেলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং যে জেলায় দণ্ড প্রদান করা হয়েছে সে জেলার দায়রা জজের নিকট সে সম্পর্কে অবিলম্বে নোটিশ প্রেরণ করতে হবে। যদি মৃত ব্যক্তির আপীল অনিষ্পন্ন তাকে তবে, হাই কোর্ট বিভাগকেও জানাতে হবে। যদি আপীল শুনানীর তারিখ সন্নিকটে থাকে তবে, টেলিগ্রাম বা বিশেষ বাহক মারফত জানাতে হবে। যে কারাগারে বন্দীকে স্থানান্তরের কথা ছিল সে কারাগারকেও জানাতে হবে। কারা মহাপরিদর্শককেও অবিলম্বে বন্দীর মৃত্যুর সংবাদ জানাতে হবে।}
নং- ২৭৬২ এইচ, জে তারিখ ২৭-৭-১৯৩৮ মূলে সংযোজিত।
বিধি-৯৯৮।
যখন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়, তখন আদালত কারাগার হতে তার সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে না; তবে শর্ত থাকে যে, যদি দায়রা আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্য বিধির ৪২৮ ধারা মোতাবেক অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোন বন্দীর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, ১৯০০ সালের বন্দী আইনের নবম ভাগ মোতাবেক তাকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হবে।
বিধি-৯৯৯।
ওয়ারেন্টে বিশেষ ভাবে নির্দেশ না থাকলে, বা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তর হয়ে থাকলে, মৃত্যুদণ্ড প্রদানের তারিখে বন্দী যে জেলার কারাগারে আটক ছিল সে জেলা সদরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট পাবার পর অবিলম্বে তা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন এবং তিনি যদি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার বা সিভিল সার্জন বা সিভিল মেডিকেল অফিসার হন,
তা হলে মৃত্যুদণ্ড যথাযথ ভাবে কার্যকর করার আয়োজনের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। জল্লাদের দায়িত্ব পালনের জন্যে একজন লোক ঠিক করতে হবে, ফাঁসীমঞ্চ ব্যবহার উপযোগী করতে হবে, দড়ি, টুপি এবং বাঁধার রশি প্রভৃতি প্রস্তুত রাখতে হবে। ১ ইঞ্চি ব্যাসের ইউরোপে তৈরী ম্যানিলা দড়ি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে ব্যবহার করতে হবে এবং এরূপ ২ টি দড়ি প্রস্তুত রাখতে হবে। দড়ি নুতন হবার প্রয়োজন নেই, তবে তা বন্দীর দেড়গুণ ওজনের ভার বহনে সক্ষম হতে হবে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এক সপ্তাহ আগে বালি বা মাটির বস্তা দিয়ে দড়ির অনুরূপ কার্যকারীতা পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার পর দড়ি তালা বদ্ধ করে নিরাপদে রেখে দিতে হবে। ফাঁসী মঞ্চ অস্থায়ী হলে তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বদিন বিকালে জেল সুপারের উপস্থিতিতে, সম্ভব হলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সেলের সন্নিকটে বন্দী দেখতে না পায় এমন স্থানে প্রস্তুত করতে হবে। জেল সুপার দড়ি যাচাই করে নিশ্চিত হবেন যে, পরীক্ষার সময় তার কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা ।
যখন কোন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়, তখন প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী উভয় কারাগারের জেল সুপার নিজ নিজ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তা জানাবেন।
বিধি-১০০০।
ব্যবহৃত দড়ির ঝুলন্ত দূরত্ব (ড্রপ) নিম্নোক্ত হারে বন্দীর দেহের ওজনের অনুপাতে নির্ধারণ করতে হবে, তবে জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা অনুসারে, তিনি নিজে মেডিকেল অফিসার না হলে, মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এটা বাড়ানো কমানোর ক্ষমতা রাখেন:-
বন্দীর ওজন ৯৮ পাউন্ডের নিম্নে হলে -৬ ফুট ৬ ইঞ্চি
বন্দীর ওজন ১২৬ পাউন্ডের নিম্নে হলে -৬ ফুট
বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ডের নিম্নে হলে – ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি
বন্দীর ওজন ১৫৪ পাউন্ড বা তার উর্ধ্বে হলে ৫ ফুট
বিধি-১০০১।
মৃত্যুদণ্ড কারা প্রাচীরের ভিতরের আঙিনায় দিনে বা রাত্রে যে কোন সময় কার্যকরী করতে হবে; কিন্তু গৃহীত কার্যক্রমে গোপনীয় ধরনের কোন কিছু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বন্দীর প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ আত্মীয় এবং অন্যান্য মর্যাদাবান প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ,মোট ১২ জনের বেশী নয়, যদি থাকে, গেইট রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড লিখতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তাদেরকে প্রয়োজনে সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে ডাকা যেতে পারে।
এ ধরনের কোন ব্যক্তিকে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এদের সকলকে বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রবেশের অসম্মতি প্রদানের বিষয়ে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কারাগারের অন্যান্য বন্দীদেরকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হবে না, এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে লক-আপ রাখতে হবে।
টীকা- নং৪০৫ / জেল-১ তারিখ ৮-১০-৭৭ মূলে প্রতিস্থাপিত।
বিধি-১০০২।
কমপক্ষে ১২ জন বন্দুকধারী রক্ষী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে রিজার্ভ গার্ড থেকে এবং জেলা কারাগারে পুলিশ সুপারকে গার্ড এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ করতে হবে।
বিধি-১০০৩।
প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে উপ-কারা মহাপরিদর্শক কিংবা ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেল সুপার উপস্থিত থাকবেন এবং অনুরূপভাবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা তার নিযুক্ত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার উপস্থিত থাকবেন।
বিধি-১০০৪ ৷
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে তার সেল থেকে বের করার পূর্বে উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার উচ্চশব্দে ইংরেজী / বাংলায় দণ্ডাদেশ পাঠ করে শুনাবেন এবং জেলার বা অন্য কোন কর্মকর্তা তা বন্দীর মাতৃভাষায় অনুবাদ করে পাঠ করবেন। অতঃপর উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার এবং জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টে উল্লেখিত নাম অনুসারে সনাক্ত করবেন এবং জল্লাদের নিকট অর্পণ করবেন।
বিধি-১০০৫ ।
ফাঁসী মঞ্চে বন্দীকে নেয়ার পর জল্লাদের দায়িত্ব-
(১) বীমের যে অংশে দড়ি বাঁধা আছে তার ঠিক
দাঁড় করাতে হবে ;
(২) পা দুটি শক্ত করে বাঁধতে হবে;
(৩) সুতি কাপড়ের টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দিতে হবে;
(8) দড়ির ফাঁস গলায় মৃদু কষে লাগাতে হবে, ফাঁসের গিট বা ধাতব রিং (মেটাল আই)সামনের দিকে চোয়ালের নীচে থাকবে :
(৫) জল্লাদ দ্রুত লিভারে গিয়ে দাঁড়াবে;
(৬) উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপারের ইঙ্গিত পাবার সঙ্গে সঙ্গে লিভার টেনে ফাঁসী মঞ্চের গুপ্ত দরজা সরিয়ে দিতে হবে।
বিধি-১০০৬।
মৃত দেহ আধঘন্টা ঝুলে থাকবে। কারাগারের মেডিকেল অফিসার বা অতিরিক্ত সিভিল সার্জন কর্তৃক মৃত ঘোষণা করা না পর্যন্ত মৃত দেহ নামানো যাবে না। মৃত দেহের পোস্টমর্টেম করতে হবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ পূর্বক উপ-কারা মহাপরিদর্শক / জেল সুপার / ডেপুটি জেল সুপার কর্তৃক নত কার্যকরের ওয়ারেন্ট ফেরত প্রদান করতে হবে।)
টীকা-১।
নং ৪২৫ / জেল-১/৭৭ তারিখ ১৫-১০-৭৭ মূলে বিধি ১০০৩ – ১০০৬ প্রতিস্থাপিত
টীকা-২।
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতকে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ (১) ধারা কর্তৃক নির্দেশিত। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দণ্ডে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ।
টীকা-৩।
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ১৪ নং আইন)-এর ৩৪-ক ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ সাপেক্ষে ফাঁসি দিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতি অনুসৃত হবে জেল কোডে তার উল্লেখ নেই ।
বিধি-১০০৭।
দণ্ড কার্যকরের পর মৃত দেহ হস্তান্তরের ফলে জন অসন্তোষের সৃষ্টি না হলে-
(১) মৃতের আত্মীয় স্বজনের অনুরোধ মোতাবেক তাদের নিকট হস্তান্তর করা যেতে পারে, বা
(২) কোন আত্মীয় স্বজনের নিকট (১) উপ-বিধি মোতাবেক হস্তান্তর করা না হলে, পৌরসভা বা অন্য কোন স্থানীয় ব্যবস্থায় অর্পণ করা হবে।
বিধি-১০০৮।
যখন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট মনে করেন যে মৃতদেহ আত্মীয় স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা সঙ্গত হবে না, অনুরূপ মৃত দেহ ম্যাজিষ্ট্রেটের লিখিত আদেশে যতটুকু সম্ভব কারাগারের মধ্যে মৃতের ধর্মীয় পদ্ধতিতে উপযুক্তভাবে সৎকার করা হবে। মৃতের অনধিক ৪ জন বন্ধু-বান্ধবকে ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতিক্রমে এবং শর্ত সাপেক্ষে সৎকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং তাদেরকে ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত না থাকলে মৃত যে ধর্মের অনুসারী ছিলেন, সে ধর্মের সর্ব জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তা ধর্মীয় আচারের দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি-১০০৯।
এ বাবত সকল ব্যয় কারা বিভাগ থেকে বহন করা হবে।
টীকা-
কোর্ট মার্শাল ব্যতীত অন্যান্য আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অব্যবহিত পরে তা সংবাদ পত্রে প্রকাশ করা যেতে পারে। কারা মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে ক্ষমতা প্রাপ্ত। (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-৪৪৩/পি-১০২/৮৫-জেল- II, তারিখ ৩-৮-১৯৮৬)।
দ্বাত্রিংশ অধ্যায় । রাজবন্দী। বিধি ১০১০-১০২৩ ঃ বাতিল ।
টীকা-
রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫০ এবং রাষ্ট্রীয় বন্দী আইন, ১৮৫৮ এর আওতায় আটক বন্দীদের সংক্রান্ত বিধান যা পূর্বেই বেঙ্গল স্টেট প্রিজনার্স রুলস, ১৯৪৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ১৯৭৩ সনের ৮ম আইন দ্বারা এ দুটো আইন বাতিল করা হয়েছে।