Category Archives: আইন

আইন

কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কর্তব্য | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কর্তব্য।

কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কর্তব্য।

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কর্তব্য।

 

৮। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের নিয়ন্ত্রণ এবং কর্তব্য।-

কোন কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সুপারিনটেন্ডেন্টের আদেশ সমূহ মান্য করিবেন; জেলারের অধস্তন সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সুপারিনটেন্ডেন্টের অনুমোদনক্রমে জেলার যেইরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবেন বা ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত বিধান মোতাবেক তাহারা দায়িত্ব পালন করিবেন।

৯। কর্মকর্তা-কর্মচারী গণের বন্দীদের সঙ্গে ব্যবসা থাকিবে না।-

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাহার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তিয় কোন ব্যক্তি, কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান করিবেন না, বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান হইতে অর্জিত সুবিধা বা কোন টাকা গ্রহণ করিবেন না বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন বন্দীর সহিত অন্যান্য ব্যবসায়িক কারবার করিবেন না ।

 

 

১০। কর্মকর্তা-কর্মচারী গণ কারাগারের ঠিকাদারীতে আগ্রহী হইবেন না।-

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাহার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তিয় কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের সরবরাহ কাজের ঠিকাদারীতে আগ্রহ প্রকাশ করিবেন না, কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হইতে কোন সুবিধা গ্রহণ করিবেন না।

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কর্তব্য।

 

ব্যবস্থাপনা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ | কারা আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ব্যবস্থাপনা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ।

ব্যবস্থাপনা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ।

 

ব্যবস্থাপনা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ।

 

৪। বন্দীদের আবাসন।-

সরকার বন্দীদের আবাসনের জন্য, বন্দীদের পৃথকী করণসহ এই আইনের চাহিদা অনুযায়ী কারাগার নির্মাণ এবং পরিচালনা করিবেন

৫। মহা পরিদর্শক।

বাংলাদেশের জন্যে একজন মহাপরিদর্শক নিয়োগ করিতে হইবে যিনি, সরকারের অধীনস্থ সকল কারাগারের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধান করিবেন ।

 

৬। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।-

প্রত্যেক কারাগারের জন্য ন্য একজন সুপারিন- টেন্ডেন্ট,একজন মেডিক্যাল অফিসার (যিনি সুপারিনটেন্ডেন্টও হইতে পারিবেন), একজন মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট, একজন জেলার এবং সরকার যেইরূপ প্রয়োজন মনে করিবেন সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকিবে।

৭। বন্দীদের অস্থায়ী আবাসন।-

যদি মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন কারাগারে বন্দীর সংখ্যা উহাতে সুবিধাজনক বা নিরাপদে আটক রাখার ক্ষমতা অপেক্ষা বেশী হইয়া গিয়াছে, এবং এই অতিরিক্ত বন্দীদেরকে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তর করা সুবিধাজনক হইবে না, অথবা যখন কোন কারাগারে মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটিয়া থাকে, বা অন্য কোন কারণে, কোন বন্দীর জন্য অস্থায়ী আশ্রয় এবং নিরাপদ হেফাজতের প্রয়োজন,

 

ব্যবস্থাপনা এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ।

 

সরকার যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবেন, সেইরূপ উপায়ে অনুরূপ কর্মকর্তা কর্তৃক বন্দীদের আশ্রয় এবং নিরাপদ হেফাজতের জন্য অস্থায়ী কারাগারের ব্যবস্থা করা যাইবে, যদি বহু সংখ্যক বন্দীকে কারাগারে সুবিধাজনক ভাবে বা নিরাপদে রাখা না যায় ।

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব |পদ্ধতি এবং হিসাব, রেজিষ্টার, ফরম প্রভৃতি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

বিধি-১৩২৮।

কারাগারের হিসাব সম্পূর্ণ দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত হবে- উৎপাদন বিভাগ এবং সাধারণ বিভাগ। কতিপয় ফরম এবং রেকর্ড ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয় প্রকারের হিসাব পদ্ধতি একই প্রকারের হবে। উৎপাদন বিভাগে কাঁচামাল, উৎপাদিত দ্রব্য, উৎপাদনে ব্যবহৃত ষ্টক প্রভৃতির হিসাব রাখা হবে। অবশিষ্ট সকল হিসাব সাধারণ বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত হবে।

বিধি-১৩২৯।

দৈনিক বই এবং লেজার প্রত্যহ সকালে পরীক্ষা করতে হবে এবং কোন কারণেই পরে করার জন্যে ফেলে রাখা যাবে না। 

বিধি-১৩৩০।

কোন দলিল,রেজিষ্টার বা হিসাবে কাটা ছেঁড়া বা ঘষা মাজা করা যাবে না। কোন ভুল হয়ে থাকলে তা লাল কালিতে একটানে কেটে এর উপরে সঠিক লেখা লিখতে হবে এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।

বিধি-১৩৩১।

প্রত্যেক মাস শেষ হবার পরবর্তী ১৫ তারিখের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট মাসিক হিসাব সমাপ্তির একটি সার্টিফিকেট ৪ নম্বর রিটার্নে প্রেরণ করতে হবে। প্রেরণের পূর্বে জেল সুপার প্রত্যেক হিসাবে স্বাক্ষর প্রদান করবেন।

বিধি-১৩৩২।

জেল সুপার প্রত্যেক বৎসরের ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১৮ নম্বর রিটার্নে প্রেরণ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক বাজেটে কারাগারের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের সংস্থান রাখার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি ১৩৩৩-১৩৩৪ ।

অকার্যকর।

বিধি-১৩৩৫ ।

বিক্রয় বাবত বা পাওনা আদায় বাবত মোট টাকার অংক জেলা কারাগারে পঞ্চাশ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে একশত টাকা হলে ট্রেজারীতে জমা রাখতে হবে। 

বিধি-১৩৩৬।

ঠিকাদারদের আর্নেস্ট মানি ট্রেজারীতে ‘রেভিনিউ জমা’ খাতে রাখতে হবে। সিকিউরিটি মানি প্রমিজারী নোট বা পোস্ট্যাল ক্যাশ সার্টিফিকেট হিসাবে রাখতে হবে।{তবে তিন মাসের মধ্যে ঠিকাদারকে টাকা ফেরত না দিতে হলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিরাপদে রাখতে হবে । }

নং- ২৮৫৭ এইচ জে তারিখ ২৮-৮-১৯৪১ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১৩৩৭।

সকল প্রকার জরুরী পেটি ব্যয় মিটানোর প্রয়োজনে সাধারণ এবং উৎপাদন বিভাগে ১০০ টাকা করে পৃথক স্থায়ী অগ্রিমের ব্যবস্থা থাকবে। এ সকল টাকা মাসের যে কোন সময় বিলের মাধ্যমে সমন্বয় করা যাবে। প্রত্যেক বছর ১৫ এপ্রিল মহা-হিসাব রক্ষকের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে যে জেল সুপারদের হাতে স্থায়ী অগ্রিম হিসাবে বরাদ্দকৃত টাকা মজুত আছে ।

বিধি-১৩৩৮।

কারাগারের নগদ তহবিলের নিরাপত্তার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেল সুপার উৎপাদন বিভাগের টাকার হিসাব ও নিরাপত্তার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-১৩৩৯ ।

খরচের খাত- বর্তমানে বাজেটের কোড ভিন্নরূপ।

বিধি-১৩৪০।

নিম্নোক্ত ব্যয়ের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে-অতিরিক্ত সংস্থাপন, নির্মাণ, মেরামত, নুতন অফিস আসবাবপত্র, কনজারভেন্সী বা পানি সরবরাহের প্রয়োজনে ৫০ টাকার বেশী মূল্যের লোহার পাত্র ক্রয়, জমির খাজনা, হাসপাতালের বেড, হ্যান্ডকাপ, তালা, উৎপাদন কাজের প্ল্যান্ট, বড় ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং অন্য যে কোন ক্ষেত্রে যেখানে বাজেট বরাদ্দ ব্যয় মিটানোর জন্যে পর্যাপ্ত নয় ।

বিধি-১৩৪১।

(১) কোন ব্যয়ের অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাবে খাত উল্লেখ করতে হবে, যদি খাতের বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হয়, অন্য খাত থেকে উপযোজন সম্ভব কিনা তাও উল্লেখ করতে হবে।

 (২) কোন আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অতিরিক্ত মঞ্জুরী পাবার পূর্বে কোন খাত হতে প্রাপ্ত বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় করবেন না ।

(৩) সকল সম্পাদিত ব্যয় পরিশোধ করতে হবে, পরবর্তী বৎসরের খাত হতে পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে রেখে দেয়া যাবে না ।

বিধি-১৩৪২।

সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগে আনুষঙ্গিক ব্যয়ের পৃথক রেজিষ্টার রাখতে হবে ।

 

বিধি-১৩৪৩।

(১) সেবা এবং সরবরাহ গ্রহণ এবং নিষ্পত্তি হবে-

                                 (ক) নগদ লেনদেনের মাধ্যমে,

                                 (খ) আন্ত এবং অন্ত: বিভাগীয় সরবরাহ ।

 (২) হিসাব নিষ্পন্ন হবে-

                                 (ক) ট্রেজারী বিলের মাধ্যমে,

                                 (খ) আন্ত এবং অন্ত : বিভাগীয় ট্রান্সফার( বুক ট্রান্সফার)।

 বিধি-১৩৪৪।

(১) সকল প্রকার সরবরাহ ষ্টোর অর্ডার আকারে কিংবা চুক্তির ফরমে হবে।

(২) আন্ত বিভাগীয় সরবরাহ ষ্টোর অর্ডার আকারে হবে ।

(৩) নগদে বা বাকীতে সরবরাহ কারাগারের গুদামের বাহিরে ‘ষ্টোর ডেলিভারী অর্ডার’ আকারে হবে ।

(৪) আন্ত বা অন্ত: বিভাগীয় সরবরাহ ১৩৬২ (২) বিধি মোতাবেক হবে।

বিধি-১৩৪৫।

কারাগারে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় মূল্য বাজারে অনুরূপ দ্রব্যের বিক্রয় মূল্য অনুসারে যথা সম্ভব নির্ধারণ করতে হবে। যদি অনুরূপ বাজার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তখন নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে তা নির্ধারণ করতে হবে-

(ক) কাঁচা মালের মূল্য;

(খ) আশে পাশে প্রচলিত দর অনুসারে কারাগারে যে শ্রম নিয়োজিত হয়েছে, তার মুল্য; (1) (3)

(গ) কাঁচামালের মূল্যের উপর ৫%, প্ল্যান্টের ব্যবহার মূল্য বাবদ;

(ঘ) কাঁচামাল এবং শ্রমের মূল্যের উপর ১০% লাভ- সরকারী বা পাইকারী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, ১৫% লাভ-খুচরা ডিলারের ক্ষেত্রে এবং ২৫% লাভ- সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে

(ঙ) প্যাকিং এবং অন্যান্য ব্যয় ।

কারা অধিদপ্তর এবং তার অধীনস্থ অফিসের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র কাঁচা মালের মূল্য আদায় যোগ্য হবে।

নং- ১১০৯ এইচ জে তারিখ ১৫-৭-১৯৪৭ মূলেসংশোধিত ।

বিধি-১৩৪৬।

কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের পকেট হতে কোন অগ্রিম পরিশোধ করবেন না। পেটি ব্যয় জেল সুপার স্থায়ী অগ্রিম হতে পরিশোধ করবেন । বড় অংকের পরিশোধের ক্ষেত্রে জেল সুপার নিয়ম মাফিক ট্রেজারী হতে বিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করবেন। ট্রেজারী হতে যে কাজের উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করা হবে, সঙ্গে সঙ্গে সে কাজে টাকা পরিশোধ করে দিতে হবে, উত্তোলিত টাকা ৪৮ ঘন্টার বেশী হাতে জমা রাখা যাবে না। আসন্ন খরচের প্রয়োজন না হলে ট্রেজারী হতে কোন টাকা উত্তোলন করা যাবে না ।

স্থায়ী অগ্রিম, বন্দীদের সম্পত্তি, উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয়ের টাকা এবং সম্ভাব্য পেটি ব্যয় ব্যয় ছাড়া কোন টাকা হাতে রাখা যাবে না ।

বিধি-১৩৪৭।

যদি কোন দ্রব্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়, তাকে কোন অগ্রিম প্রদান ব্যতীতই তা করতে হবে, তবে মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। ২৫ তারিখের পরের কোন ব্যয় পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-১৩৪৮ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৩৪৯।

(১) প্রত্যেক পরিশোধের প্রাপ্তি রাখতে হবে। প্রাপ্তি সমূহ “নগদ পরিশোধের ভাউচার”-এ রাখতে হবে।

(২) প্রত্যেক খাতের খরচের জন্যে পৃথক প্রাপ্তি রাখতে হবে। বিশ টাকার অধিক পরিশোধের জন্যে রাজস্ব টিকেট প্রয়োজন হবে। (৩) প্রত্যেক নগদ পরিশোধের একটি বার্ষিক ক্রমিক নম্বর দিতে হবে।

বিধি-১৩৫০।

দুটি ক্যাশ বহি (রেজিষ্টার ৩১) সংরক্ষণ করতে হবে- একটি সাধারণ বিভাগ এবং অন্যটি উৎপাদন বিভাগের জন্যে ।

(i) { উভয় বিভাগের ক্যাশ বহি জেলার নিজে পরীক্ষা করবেন, তবে কেন্দ্রীয় কারাগারে সার্বক্ষণিক ডেপুটি সুপার থাকলে উৎপাদন বিভাগের ক্যাশ বহি তিনি পরীক্ষা করবেন। জেল সুপার দিন শেষে ক্যাশ বহির ব্যালান্স পরীক্ষা করে দেখবেন এবং বিধি ৮৫ মোতাবেক মাসের শেষে প্রত্যেক কলামের ব্যালান্স পরীক্ষা করবেন}। ক্যাশ বহি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা হবে, এবং {কারাগারে} আগত বা কারাগার হতে ব্যয়কৃত সকল টাকা যে কোন একটি ক্যাশ বহিতে অন্ত র্ভুক্ত হবে।

সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, বন্দীদের নগদ টাকা, সিভিল বন্দীদের ডায়েট মানি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জামানত সাধারণ ক্যাশ বহিতে এবং উৎপাদন বিভাগ সম্পর্কিত আয়-ব্যয় উৎপাদন ক্যাশ বহিতে রক্ষিত হবে।

(ii) {ক্যাশ বহিতে লিপিবদ্ধ যাবতীয় আর্থিক লেনদেন জেল সুপার কর্তৃক সত্যায়িত হবে। তবে কেন্দ্রীয় কারাগারে সার্বক্ষণিক ডেপুটি সুপার থাকলে উৎপাদন বিভাগের ক্যাশ বহি তিনি সত্যায়িত করবেন।}

নং- ১৯৪ এইচ জে তারিখ ২৬-৬-১৯৩৭, নং- ৮৫৩ এইচ জে তারিখ ১৪-৩-১৯৪১ এবং নং-

৩৪৫ এইচ জে তারিখ ২৬-২-১৯৫৮ মোতাবেক সংশোধিত ।

 

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

বিধি১৩৫১-১৩৮৮।

ক্যাশ বই লিখন, হিসাব ও আন্ত: বিভাগীয় লেন দেন, সরবরাহ, রেলওয়ে ক্রেডিট, রেজিষ্টার, রিটার্ন এবং ফরমের তালিকা।

প্রথম খন্ড (পার্ট-II)- সাবসিডিয়ারি জেল কোড।- বর্তমানে দেশে কোন সাবসিডিয়ারি কারাগার নেই বিধায় প্রয়োগ নেই ।

পরিচ্ছেদ ২- পত্র যোগাযোগঅফিস |পদ্ধতি এবং হিসাব, রেজিষ্টার, ফরম প্রভৃতি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – পত্র যোগাযোগ

পরিচ্ছেদ – পত্র যোগাযোগ

 

পরিচ্ছেদ ২- পত্র যোগাযোগ

 

বিধি-১৩১৬।

যোগাযোগ অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না। কোন সরকারী পত্রের জবাব প্রদানে অহেতুক বিলম্ব গ্রহণ যোগ্য হবে না। যুক্তি সঙ্গত সময়ের মধ্যে কোন পত্রের জবাব না পাওয়া গেলে তাগিদ প্রদান করতে হবে। জরুরী ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও অবস্থা বিবেচনা অনুযায়ী এবং সাধারণ ক্ষেত্রে পত্র প্রেরণের পর নিম্নোক্ত ভাবে তাগিদ দেয়া যেতে পারে-

                     হাই কোর্ট বিভাগ                             এক মাস পর

                     কারা মহাপরিদর্শক                         দশ দিন পর

                    অন্যান্য কারাগার প্রভৃতি                সাত দিন পর

বিধি-১৩১৭।

পত্র প্রেরণকালে প্রেরকের ঠিকানার স্থানে ব্যক্তি বা স্থানের সঠিক নাম লিখতে হবে। পত্রে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার পরিহার করতে হবে। একই পত্রে একাধিক পৃথক বিষয়ের অবতারণা করা যাবে না ।

বিধি-১৩১৮ ।

প্রয়োজনের চেয়ে বড় খাম ব্যবহার করা যাবে না। খামের উপর পত্র প্রেরণকারী দপ্তরের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদবী উল্লেখসহ অনুস্বাক্ষর করতে হবে।

 

বিধি-১৩১৯।

সকল পত্র, রিটার্নের অফিস কপি রাখতে হবে। যখন অধস্তন কোন কর্মচারী কোন আবেদন করে তা যথাযথভাবে অগ্রগামী করতে হবে এবং সে সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি প্রেরণ করতে হবে, যা কারা মহাপরিদর্শককে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সাহায্য করতে পারে ।

বিধি-১৩২০।

যখন ছাপানো ফরম ব্যবহার করা হবে, তখন যত্নের সাথে তা পূরণ করতে হবে। কোন অনুমোদন হীন শিরোনাম সংযোজন করা যাবে না এবং বিদ্যমান কোন শিরোনাম মুছে ফেলা যাবে না 

বিধি-১৩২১।

অসতর্কতা জনিত কারণে ধার্য অতিরিক্ত রেলওয়ে চার্জ দায়ী কর্মচারী থেকে আদায় করা হবে।

বিধি-১৩২২।

(১) প্রাপক কর্মকর্তার নিকট প্রেরতি পত্র গোপনীয় ধরনের না হলে খামের উপর তার পদবী উল্লেখ করতে হবে, নাম উল্লেখ করা যাবে না।

(২) গোপনীয় ধরনের পত্র দুইটি খামের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে। ভিতরের জেল কোড খামের উপর ‘গোপনীয়’ শব্দটি লেখা থাকবে এবং উপরে কেবল মাত্র প্রাপক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ থাকবে। উপরের খামটি (১) উপ-বিধি অনুসারে লিখতে হবে।

বিধি-১৩২৩।

জেল সুপার স্থায়ী হিসাবে সংরক্ষণ যোগ্য ব্যতীত অন্যান্য পত্রের  শ্রেণী বিভাগ করবেন ।

বিধি-১৩২৪।

পত্র যোগাযোগের রেকর্ড রাখার জন্য নিম্নোক্ত বিধি অনুসরন করতে হবে-

(ক) নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে:- পত্র প্রাপ্তি রেজিষ্টার (ফরম নম্বর ১৬) এবং পত্র জারী রেজিষ্টার(ফরম নম্বর ১৯)। 

(খ) গৃহীত পত্রের একটি ধারাবাহিক প্রাপ্তি নম্বর দিতে হবে। তেমনি ভাবে প্রেরিত পত্রের জন্যে ধারাবাহিক জারী নম্বর দিতে হবে।

(গ) ডাক যোগে প্রেরিত পত্রে ব্যবহৃত ডাক মাশুলের পরিমান রেজিষ্টারের মন্তব্য কলামে উল্লেখ করতে হবে। নুতন ডাক টিকেট কেনার আদেশ দেয়ার আগে জেল সুপার রেজিষ্টারের রেকর্ড অনুযায়ী ব্যবহৃত ডাক টিকেটের পরিমাণ এবং মজুত ডাক টিকেটের পরিমাণ মিলিয়ে দেখবেন।

বিধি-১৩২৫।

(ক) সকল পত্র যোগাযোগ বৎসর ভিত্তিক আলমারীতে সংরক্ষণ করতে হবে।

 

পরিচ্ছেদ ২- পত্র যোগাযোগ

বিধি ১৩২৬-১৩২৭।

প্রয়োগ নেই ।

অফিস পদ্ধতি এবং হিসাব, রেজিষ্টার, ফরম প্রভৃতি | পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ নিয়ন্ত্রণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – সাধারণ নিয়ন্ত্রণ

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ নিয়ন্ত্রণ

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ নিয়ন্ত্রণ

 

বিধি-১৩১২।

জেল সুপারের নির্দেশ মোতাবেক সাধারণের জন্যে প্রকাশিত পত্র ব্যতীত যথাযথ কর্তৃত্বহীন কোন ব্যক্তিকে কারাগারের রেকর্ড এবং অন্যান্য চিঠিপত্র দেখতে দেয়া হবে না, সেগুলোকে গোপনীয় গণ্য করতে হবে। অনুমতি ব্যতীত অধস্তন কর্মচারী কর্তৃক কারাগারের বিষয়ে বাহিরে প্রকাশ করা বা কারাগারে অভ্যন্তরীণ বিষয় বা তার বাসিন্দাদের সম্পর্কে গাল-গল্প করা নিষেধ।

বিধি-১৩১৩।

দলিলপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ, নির্ভুলভাবে এবং সময়মত রিটার্ন দাখিল এবং কারাগারের সাধারণ তত্ত্বাবধান বিষয়ে জেলারের দায়িত্ব ২৬২ বিধিতে বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-১৩১৪।

প্রত্যেক রেজিষ্টারের (রেজিষ্টার ১০ এবং ২ ছাড়া) ভেতরের কভারে ‘দায়িত্বের তালিকা’ নামক একটি কাগজ লাগাতে হবে যাতে রেজিষ্টারটি পরিচালনাকারীর নাম, দায়িত্ব পালন শুরু ও শেষ করার সময় উল্লেখ থাকবে। রেজিষ্টার সংরক্ষণে ত্রুটি, বিরত থাকা বা অযত্ন করার জন্যে ঐ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে। রেজিষ্টার সংরক্ষণের দায়িত্ব কোন কয়েদী কর্মচারীর উপর ন্যস্ত করা যাবে না ।

 

বিধি-১৩১৫।

প্রত্যেক কারা রেজিষ্টার, রিটার্ন, চিঠিপত্র এবং রেকর্ড নিম্নোক্ত ভাবে শ্রেণী বিভাগ এবং সংরক্ষণ করতে হবে-

শ্ৰেণী                                                                    বিবরণ

(ক) যে সকল রেকর্ড স্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে; {বয়সের কারণে বা পোকায় খাওয়া বা অন্য কোন কারণে সম্পূর্ণ ভাবে পাঠের বা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গেলে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে রেকর্ড ম্যানুয়েল অনুসারে জেল সুপারের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা যাবে} ।

(খ) যে সকল রেকর্ড ১২ বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

(গ) যে সকল রেকর্ড ৫ বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

(ঘ) যে সকল রেকর্ড ২ বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ নিয়ন্ত্রণ

 

হিসাব সংক্রান্ত রেকর্ড ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ফিন্যান্সিয়াল রুলসের পরিশিষ্ট ১৫ অনুসরণ করতে হবে । প্রত্যেক শ্রেণীর রেকর্ড আলাদা ভাবে রাখতে হবে।(ক শ্রেণীর বিনষ্টকৃত রেকর্ডের তালিকা রাখার জন্যে একটি রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে। }

নং-২৮১৮ এইচ জে তারিখ ৫-১২-১৯৪০ মূলে সংযোজিত ।

কারাগারের পূর্ত কাজ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারাগারের পূর্ত কাজ

কারাগারের পূর্ত কাজ

 

কারাগারের পূর্ত কাজ

 

বিধি-১২৯৭।

(ক) কারাগারের পূর্ত কাজ নিম্নোক্ত খাতে বিভক্ত হবে-

কারাগারের পূর্ত কাজ

(খ) ‘এ’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হবে সকল ধরনের নুতন নির্মাণ কাজ, তা সম্পূর্ণ নুতন বা বিদ্যমান কাজের অতিরিক্ত এবং পরিবর্তিত যাই হোক। নুতন ক্রয়কৃত ভবনের মেরামত কাজ এবং পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবন পুনরায় ব্যবহারের উপযুক্ত করার উদ্দেশ্যে মেরামত কাজও এই শ্রেণী ভুক্ত হবে। ভাঙ্গা হোক বা না হোক, বিদ্যমান কোন স্ট্রাকচার বা অন্য কোন কাজ প্রতিস্থাপন বা ডিজাইন পরিবর্তনের কাজও মূল কাজ হিসাবে গণ্য হবে।

অন্য সকল ক্ষেত্রে নুতন কোন কাজ “মেরামত” হিসাবে গণ্য হবে। মেরামতের মধ্যে সে সকল সাময়িক বা পেটি ধরনের কাজও অন্তর্ভুক্ত হবে, যা গণপূর্ত বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কারা মহাপরিদর্শক করতে পারেন।

(গ) ‘বি’ শ্রেণীর কাজ- স্পেশাল মেরামত কাজ হচ্ছে ব্যাপক ধরনের কাজ যা ত্রৈমাসিক কাজের মধ্যে পড়ে না, যেমন পুরাতন ছাদ বা মেঝে পুনরায় নুতন ভাবে করা। স্পেশাল মেরামত কাজের প্রাক্কলন অর্থ বৎসর শেষ হলেও তামাদি হয়ে যায় না, এটা নুতন কাজের মতই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ত্রৈমাসিক মেরামত কেবল রঙ বা চুনকাম করার মত কাজই নয়, বরং বার্ষিক এবং ত্রৈমাসিক প্রাক্কলনের মাধ্যমে ঐ সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়,

এমন ধরনের কাজও এর অর্ন্তভূক্ত হবে। আকস্মিক বা পেটি মেরামত হচ্ছে সে ধরনের কাজ যা সময়ে সময়ে প্রয়োজন অনুসারে ত্রৈমাসিক মেরামতের ফাঁকে সম্পাদন করা হয়।

বিধি-১২৯৮।

সরকারের অনুমোদনক্রমে কর্মচারীদের বাসভবন নির্মাণ ব্যতীত কারা মহাপরিদর্শকের অন্যান্য পূর্ত কাজের প্রাক্কলন অনুমোদন প্রদানের ক্ষমতা ১৩০০ থেকে ১৩০২ এবং ১৩০৯ বিধিতে বর্ণিত হয়েছে। 

বিধি-১২৯৯।

ব্যয়ের প্রাক্কলন নির্বিশেষে, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ বা মেরামতের কাজের জন্যে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে । 

বিধি-১৩০০।

কারা মহাপরিদর্শক আবাসিক ভবন ব্যতীত অন্যান্য মূল কাজের ব্যয় বাবদ প্রতি ক্ষেত্রে {১,০০,০০০} টাকা পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করতে পারবেন ।

টীকা-

আর্থিক ক্ষমতা পূন:অর্পণ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের স্মারক নং অম/অবি/ব্য:নি:-১/ডিপি- ১/২০০০/৬৩ তারিখ ৭-৩-২০০০ এবং তদানুযায়ী জারীকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর স্ম:ম:(প্র:১) বিধি-১৬/৯৮-৭০ তারিখ ২৫-১-২০০০ মোতাবেক ।

বিধি-১৩০১

{এক লক্ষ} টাকা অতিক্রম করবে না, এমন নুতন বা অতিরিক্ত কাজের জন্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে-

কারা মহাপরিদর্শক বা জেল সুপারের রিকুইজিশন পাবার পর, জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্ল্যান এবং প্রাক্কলন প্রনয়ন করবেন। যদি রিকুইজশন কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক দেয়া হয়, তা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী উক্ত প্ল্যান এবং প্রাক্কলন সরাসরি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্যে প্রেরণ করবেন। যদি রিকুইজশন জেল সুপার কর্তৃক দেয়া হয়, তা হলে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনের জন্যে প্রেরণের উদ্দেশ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী উক্ত প্ল্যান এবং প্রাক্কলন জেল সুপারের নিকট পেশ করবেন।

কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব আদেশ ব্যতীত জেল সুপার নির্বাহী প্রকৌশলীকে কোন কাজের প্রাক্কলন তৈরীর জন্য কোন অনুরোধ জানাবেন না ।আবাসিক ভবনের প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাব কারা মহাপরিদর্শক তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। তবে বাস ভবনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের প্রকল্পের অনুমোদন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-১৩০২।

যদি কাজের ব্যয় {এক লক্ষ} টাকার বেশী হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়, তবে প্ল্যান এবং প্রাক্কলন বিস্তারিতভাবে দাখিলের পূর্বে সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নিম্নোক্ত পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করতে হবে-

(১) কারা মহাপরিদর্শক ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে এবং তাতে কি কি আবাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন তা উল্লেখ পূর্বক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানাবেন ।

(২) নির্বাহী প্রকৌশলী একটি খসড়া প্লান এবং ব্যয় প্রাক্কলন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট পেশ করবেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যদি পেশকৃত প্রস্তাব সঠিক মনে করেন তবে তা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। খসড়া প্রাক্কলন প্রাপ্তির পর কারা মহাপরিদর্শক তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রেরণ করবেন। মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করার পর কারা মহাপরিদর্শক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে বিস্তারিত প্লান এবং প্রাক্কলন প্রস্ততের জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।

বিধি-১৩০৩।

জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ১৩০৪ বিধিতে বর্ণিতগুলো ব্যতীত সকল মেরামত কাজ জেল সুপারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পাদন করবেন। যখন প্রয়োজন হবে তখন জেল সুপার যে কোন মেরামতে কাজ সম্পাদনের জন্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

বিধি-১৩০৪।

জেল সুপার দরজা, জানালা মেরামতসহ সকল পেটি মেরামত কাজের জন্যে দায়ী থাকবেন। তিনি প্রত্যেক কক্ষে কাঁচ, অন্যান্য ফিটিংস এবং উই পোকার আক্রমন প্রভৃতি বিষয়ে ভবনের সাধারণ দেখাশুনার জন্যে জেলার বা অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করবেন। ঐ কর্মকর্তা ভবনের ভিতরে বাহিরের পরিচ্ছন্নতা, বৃষ্টির পানি নামার পাইপ এবং ভূ -উপরিস্থ ড্রেন প্রভৃতি জঞ্জাল মুক্ত রাখার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন।

জেল সুপার আনুষঙ্গিক খাত হতে এ সব কাজের জন্য ব্যয় সংস্থান করবেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত সরকারী বাস ভবনের মেরামত কাজ গণপূর্ত বিভাগ দ্বারা সম্পাদন করতে হবে।

 

বিধি-১৩০৫ ।

(ক)কোন একটি কাজ কোন কর্মকর্তা দ্বারা খণ্ড খণ্ড ভাবে সম্পাদন করা যাবে না, যে কাজের মোট ব্যয় অনুমোদন তার আর্থিক ক্ষমতার বহির্ভূত হয়।

(খ) গণপূর্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত ঐ বিভাগের তালিকাভুক্ত কোন ভবন পরিবর্ধন, পরিবর্তন, বা ভেঙ্গে ফেলা যাবে না বা অনুরূপ ভবনের পাশে কোন নুতন ভবন উত্তোলন করা যাবে না।

(গ) সরকারী জমিতে কোন মাজার, তীর্থস্থান বা অনুরূপ কোন স্মৃতি চিহ্ন স্থাপন করা নিষিদ্ধ; কারাগারের সীমানার মধ্যে কোন অবৈধ স্থাপনা বা দখলের ঘটনা সম্পর্কে জেলার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপারকে জানাবেন ।

(ঘ) স্থায়ী কোন ভবনের কমপক্ষে ৫০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ছন বা গোলপাতা প্রভৃতি দাহ্য উপাদানের ছানি দেয়া নুতন ভবন বানানো যাবে না । 

(ঙ) কোন কাজ আরম্ভ করা যাবে না, যে পর্যন্ত তার অনুমোদন না পাওয়া যায়, তহবিল বরাদ্দ না হয় এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যাদেশ জারী না হয়। জরুরী বা অপরিহার্য কোন প্রয়োজন সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিত  অনুরোধ জানানো যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী তার নিজের দায়িত্বে কাজ করবেন ।

(চ) প্রকৃত প্রয়োজনে কাজ শুরু বা শেষের সাত দিনের বেশী ঠিকাদারকে কারাগারে মালামাল মজুদ রাখার অনুমতি দেয়া যাবে না ।

(ছ) নির্বাহী প্রকৌশলী দৃষ্টি রাখবেন যেন কোন কাজে অহেতুক বিলম্ব না হয়। 

(জ) নির্বাহী প্রকৌশলী তার বিভাগের ভবন সংরক্ষণে এবং অবৈধ দখল রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দায়ী থাকবেন ।

বিধি-১৩০৬।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৩০৭।

যদি কাজের তহবিল গণপূর্ত বিভাগের বাজেটে বরাদ্দ করা হয়,তা হলে বিধি মোতাবেক গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক কাজ করা হবে। কাজ নিম্নোক্ত বিধান অনুসারে করা হবে-

(ক)-(ছ) । প্রয়োগ নেই ।

(জ) ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বা তার অধস্তন কর্মকর্তার একক কর্তৃত্বাধীন থাকবে, কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন হস্ত ক্ষেপ থাকবে না। কাজ কম হওয়া, কাজ খারাপ হওয়া, জিনিসপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করা, মালামালের অপচয় প্রভৃতি বিষয়ে প্রকৌশলীর প্রতিবেদন জেল সুপার কর্তৃক চূড়ান্ত বলে বিবেচিত এবং গৃহীত হবে ।

(ঝ)-(ট)। প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৩০৮ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৩০৯।

বিধি ১৩০১ অনুসারে কারা মহাপরিদর্শক অনুমোদিত অনধিক {৫০০০} টাকার মাইনর কাজ বা পরিবর্তন বা সংযোজন কাজের আদেশ পাওয়া গেলে কারা সংস্থাপন তা বাস্তবায়ন করবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হবে-

(ক) প্রাক্কলন কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক পূর্ব অনুমোদিত না হলে এবং স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ১৩০১ মোতাবেক কাজটি অনুমোদিত না হলে এই বিধি সমূহের অধীনে কোন কাজ বাস্তবায়ন করা যাবে না ।

(খ) যদি কাজটি সহজ এবং সাধারণ মানের না হয়,তবে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

(গ) প্রাক্কলনে কাজের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ব্যয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। 

(ঘ) পূর্ত কাজের নিয়মতান্ত্রিক প্রাক্কলন প্রয়োজন নেই, তবে ব্যয় ২০০ টাকার বেশী হলে কাজের পূর্ণ বর্ণনা দিতে হবে।

(ঙ) প্রাক্কলন তৈরী করার জন্য জেল ফরম ৫৯ ব্যবহার করতে হবে। সশ্রম বন্দীদেরকে কাজে লাগানো হলে তার বিবরণ এবং কাঁচামাল প্রভৃতির ব্যয় সহ কাজের পূর্ণ ব্যয়ের বর্ণনা থাকতে হবে এবং তা {৫০০০} টাকার বেশী হবে না ।

(চ) কাজের প্রাক্কলন মঞ্জুরীর জন্যে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট প্রেরণ করতে হবে ।

(ছ) গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত কোন ভবন উক্ত বিভাগের অনুমতি গ্রহণ না করে ভাঙা যাবে না ।

জ) কোন মৌলিক বা ব্যাপক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে ।

(ঝ) যদি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজ সম্পর্কে কোন মন্তব্য বা তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন মনে করেন,তবে তিনি জেল সুপারকে তা প্রদান করতে পারবেন।

(ঞ) কারাগারের কোন কাজে গণপূর্ত বিভাগের প্রয়োজন না হলে পুরাতন ভাঙ্গা মালামাল ব্যবহার করা যাবে। 

(ট) জেল সুপার ফিন্যান্সিয়াল রুল-১৫৬ মোতাবেক হিসাব রক্ষণ অফিসে বিল দাখিল করবেন এবং তহবিল উত্তোলন করবেন।

নং- ৪৪৩৬ (৫৫) এফ বি, তারিখ ৫-৫-১৯৪১ মোতাবেক সংশোধিত ।

বিধি-১৩১০।

গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত নয়,কারা সংস্থাপন কর্তৃক নির্মিত এমন কোন ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত বা খসিয়া পড়ার উপক্রম হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা পূর্বক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রদান করার জন্যে গণপূর্ত বিভাগকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে অনুরূপ উদ্দেশ্যে ন্যস্ত ভবন সমূহের একটি তালিকা প্রেরণ করতে হবে।

 

কারাগারের পূর্ত কাজ

 

বিধি-১৩১১।

কোন নির্দিষ্ট কারাগারের নামে ‘পেটি নির্মাণ’ এবং ‘মেরামত’ খাতে কোন বরাদ্দ দেয়া যাবে না; কোন কাজ করতে হলে কারা মহাপরিদর্শক তার অধীনস্থ বরাদ্দ থেকে অনুমোদন প্রদান করবেন।

মেডিকেল প্রশাসন | পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

পরিচ্ছেদ – হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

বিধি-১২৩০।

কোন বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অসুস্থ মনে হলে কারাগারের কর্মচারীদের দায়িত্ব হ’ল সাথে সাথে তা মেডিকেল সহকারীকে জানানো। যদি কোন বন্দী স্বাভাবিকের চেয়ে বার বার পায়খানায় যায়, তাকে পর্যবেক্ষণের জন্যে আলাদা ওয়ার্ডে পৃথক করে রাখতে হবে ।

বিধি-১২৩১।

প্রত্যেক কারাগারে পুরুষ এবং মহিলা বন্দীদের চিকিৎসার জন্যে পৃথক হাসপাতালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থতার অনুযোগ আছে এমন সকল বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের নিকট নিতে হবে। মেডিকেল অফিসার বন্দীকে পরীক্ষান্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে কিনা বা বিধি অনুযায়ী অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কিনা ।

বিধি-১২৩২।

(১) যে কোন বন্দীকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের জন্যে হাসপাতাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্তি ব্যতীত কারা হাসপাতালে ৪৮ ঘন্টা রাখা যাবে, তবে এর বেশী নয়। “কনভালেসেন্ট” বা “স্পেশাল” গ্যাং বা সন্দিগ্ধ পাগল না হলে, কোন বন্দী ৪৮ ঘন্টার বেশী কারা হাসপাতালে থাকলে তার নাম হাসপাতাল রেজিষ্টারে এবং হাসপাতাল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) এভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের নাম “রোগীদের সকালের অবস্থা” রেজিষ্টারে ১০৪ নম্বর জেল ফরমে লিখতে হবে এবং তাদের প্রাত্যহিক চিকিৎসা বিবরণী, হাসপাতালে ভর্তি, সেখানে অবস্থান কাল এবং সেখান হতে অবমুক্তির বিবরণী রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-১২৩৩।

‘প্রত্যেক রোগীকে কারা হাসপাতালে একটি বেড দিতে হবে যাতে থাকবে একটি মেট্রেস, একটি বালিশ এবং সাদা চাদর। তাকে মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্বলও দেয়া যাবে। যদি কোন মৃগী রোগীকে কোন সেলে রাখা হয়, তবে তাকে কোন চৌকি বা উঁচু বিছানায় রাখা যাবে না। তাকে মেঝেতে ঘুমানোর জন্যে বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-১২৩৪।

কারা হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীর বেডে ১০১ নম্বর জেল ফরমে একটি টিকেট স্থাপন করতে হবে। এতে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস, রোগের উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার বিবরণী লিপিবদ্ধ থাকবে। আমাশয় রোগের বেলায় এ রোগ বন্দীর বাড়িতে হয়েছে না কারাগারে আসার পর হয়েছে, তার উল্লেখ রাখতে হবে। জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে ১০২ নম্বর জেল ফরমে জ্বরের চার্ট রাখতে হবে। এটা বেড হেড টিকেটে সংযুক্ত রাখতে হবে।

বিধি-১২৩৫ ।

কারা হাসপাতাল এবং তার আঙিনা নিখুঁত ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সুবিধামত ফুলের বাগান করা যেতে পারে। মেডিকেল অফিসার কারা হাসপাতালে বেড এবং কাপড়-চোপড় বিশেষ ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-১২৩৬।

মেডিকেল অফিসার অসুস্থ বন্দীর চিকিৎসার স্বার্থে অধিকতর আলো বাতাসের জন্য প্রয়োজন মনে করলে অসুস্থ বন্দীকে দিনের বেলায় কিছুক্ষণের জন্যে হাসপাতাল এলাকায় ছায়া বা গাছের নিচে রাখতে পারবেন।

বিধি-১২৩৭।

কারা হাসপাতালের কাপড়-চোপড় ধৌত ও সিদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কম্বল ও কম্বলের কাপড় প্রয়োজন মত বার বার সিদ্ধ করতে হবে। হাসপাতালের কম অসুস্থ বন্দীরা মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক রোজ গোসল করবেন ।

 

বিধি-১২৩৮।

কারা হাসপাতালের বন্দীর ডায়েট সম্পূর্ণরূপে মেডিকেল অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি যেরূপ মনে করবেন প্রত্যেক অসুস্থ বন্দীর জন্যে পৃথক পৃথক ভাবে সেরূপ ডায়েট এবং খাওয়ার সময় নির্ধারণ করবেন, কিন্তু নিয়ম মতে প্রত্যেক অসুস্থ বন্দী হাসপাতালে দৈনিক চার বার খাবার পাবেন এবং প্রয়োজনে বার বার দিতে হবে। বৃহৎ কারাগার গুলিতে হাসপাতালের জন্য আলাদা রান্না ঘর থাকবে এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে হতে এক বা একাধিক বাবুর্চী নিয়োগ করতে হবে। অসুস্থ বন্দীদের সাগু এবং অন্যান্য পথ্যের ব্যবস্থা রাখতে হবে ।

বিধি-১২৩৯।

বিপদজনক, উপদ্রবকারী এবং নোংরা পাগল বন্দীকে কারা হাসপাতালে রাখা যাবে না, আলাদা পৃথক সেলে রাখতে হবে। 

বিধি-১২৪০।

ক্ষেত্র বিশেষ হাসপাতালে ভর্তিকৃত বন্দীদেরকে হাসপাতালের কাজে নিয়োগ করা যাবে। তাদেরকে কেবল বন্দীদের কাজে লাগানো যাবে,তবে কোন কঠিন কাজে নয়।

বিধি-১২৪১।

কোন বন্দীকে স্বাস্থ্যগত সুবিধার উদ্দেশ্যে কারা মহা পরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত বদলি করা যাবে না। স্বাস্থ্য সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে কোন কারাগারে বদলি করার পর বন্দী যদি বদলিকৃত কারাগারে আসার তিন মাসের মধ্যে মারা যায়, তা হলে এ মৃত্যুর হিসাব পূর্ববর্তী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড হবে, তিন মাসের পরে মৃত্যু হলে বদলিকৃত কারাগারের রেকর্ডভুক্ত হবে ।

বিধি-১২৪২।

যক্ষা রোগীকে আলাদাভাবে বিশেষ ওয়ার্ডে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে ঢাকা,রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিভাগ হতে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। এ ধরনের কোন বন্দীর মৃত্যু হলে যে কারাগার হতে সে আগত হয়েছিল সে কারাগারের পরিসংখ্যানে তা রেকর্ড করতে হবে।

টীকা-

বর্তমানে সকল কারাগারের যক্ষা আক্রান্ত বন্দীদেরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয় ।

বিধি-১২৪৩।

মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রেজিষ্টার গুলো সংরক্ষন করবেন- 

                      (১) নম্বর ১ : মেডিকেল অফিসারের মিনিট বই;

                      (২) নম্বর ২৬ : পোস্ট মর্টেম রেজিষ্টার;

                      (৩) নম্বর ২৭ : হাসপাতাল রেজিষ্টার ;

                      (৪) নম্বর ২৮ : রোগীর ডায়েট রোল;

                      (৫) নম্বর ২৯ : কনভালেসেন্ট এবং স্পেশাল গ্যাং রেজিষ্টার

বিধি-১২৪৪ ।

মেডিকেল অফিসার নিম্নোক্ত রিটার্নগুলো দাখিল করবেন-

                      (ক) রিটার্ন-২৯ : রোগীদের মাসিক ভর্তির সংখ্যা এবং প্রধান রোগে মৃত্যুর হিসাব 

                       (খ) রিটার্ন-৯ : অপরাধী পাগলদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অর্ধ- বার্ষিকী বিবরণী

                       (গ) বার্ষিক রিটার্ন ৯ : অসুস্থ বন্দীদের বার্ষিক রিটার্ন

                       (ঘ) বার্ষিক রিটার্ন ৭ এবং ৮ 

                       (ঙ) জেল ফরম ১০৮ : মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত

                       (চ) এম এস ডি ১৩৫ঃ ঔষধ এবং ষ্টোরের বার্ষিক ইন্ডেন্ট ।

বিধি-১২৪৫।

মারাত্মক ভাবে অসুস্থ বা মরণাপন্ন বন্দীদেরকে দেখার জন্যে তাদের আত্মীয় স্বজনকে অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এ ধরনের বন্দীর অবস্থা অতিদ্রুত ম্যাজিষ্ট্রেটকে এবং সে সঙ্গে সরাসরি ডাকযোগে তাদের আত্মীয়- স্বজনকে জানাতে হবে ।

নোট- সাজার মেয়াদ উত্তীণ অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে বিধি ১০২, কোন বন্দীর মৃত্যু হলে আদেশের জন্যে বিধি ৯৮ এবং ৯৯, মারাত্মক অসুস্থ বন্দীর মুক্তির বিষয়ে ৫৯১ হতে ৫৯৮ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

পরিচ্ছেদ III- সংক্রামক ব্যাধি এবং মহামারী :

বিধি ১২৪৬-১২৬৬।

উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ নেই । পরিচ্ছেদ IV- স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন:

 

পরিচ্ছেদ ২- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

 

বিধি ১২৬৭-১২৯৬।

প্রয়োগ নেই ।

মেডিকেল প্রশাসন |পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

বিধি-১২১২।

প্রত্যেক বন্দীর স্বাস্থ্য ‘ভাল’, ‘খারাপ’ বা ‘মাঝামাঝি’- এ তিন শ্রেণীর যে কোন একটিতে বর্ণনা করতে হবে। কারাগারে ভর্তির সময় কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল, কোন অসুস্থতা না থাকলে এবং গড় ওজন ঠিক থাকলে ‘ভাল’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে। কোন বন্দীর ভর্তির সময় খুব অপুষ্টি বা অসুস্থতা থাকলে এবং তখনই চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে ‘খারাপ’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-১২১৩।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক রেকর্ডকৃত বন্দীর শারীরিক অবস্থার শ্রেণী বিভাজন এবং তার থেকে যে কাজ আদায় করা হবে তার মধ্যে সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই । এটা বন্দীর দৈহিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে। মেডিকেল অফিসার লক্ষ্য রাখবেন কোন বন্দীকে যেন তার দৈহিক সামর্থ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কোন কাজ না দেয়া হয়। যেমন, একজন বন্দীর একটি হাত নেই, কিন্তু তার স্বাস্থ্য ভাল, অথচ তাকে দিয়ে কঠিন কাজ করানো যাবে না। আবার একজন শীর্ণ স্বাস্থ্যের দক্ষ প্রিন্টারের কম্পোজের কাজে পরিপূর্ণ সামর্থ্য থাকতে পারে ।

বিধি-১২১৪ ।

একজন মেডিকেল অফিসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হ’ল যে সকল বন্দীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা খারাপ বা যাদের রোগের ইতিহাস খারাপ বা যাদের দিয়ে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে তাদের দিকে খেয়াল রাখা। বন্দীর বার্ধক্য এবং বৈকল্য, রক্ত শূন্যতা, বড় প্লীহা, লিভার,মাড়ি ফোলা, মুখে ঘা থাকলে তাদেরকে আলাদা করতে হবে এবং বছরের কোন্ সময়ে রোগাক্রান্ত হয় তা নির্ণয় করতে হবে।

যে সমস্ত বন্দীর কোন শারীরিক অসুস্থতা নেই, কিন্তু প্রায়ই অনিয়মিত জ্বর, বুকের ব্যথা, পাতলা পায়খানা দেখা দেয় তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কোন অস্বাস্থ্যকর বা কোন বিশেষ অসুখের জেলা হতে কারাগারে ভর্তিকৃত বন্দীকে এক বা দুই সপ্তাহ বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তাদের খাদ্যের নোট রাখতে হবে। তাদেরকে যদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তবে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। 

বিধি-১২১৫।

কোন বন্দীর ওজনের তারতম্য তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্ণয়ের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এটা নিখুঁত ভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান গ্রহণে তা সাহায্য করে। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কারাগারে আগত অপরাধী জনগোষ্ঠির অধিকাংশই কম-বেশী অভাবগ্রস্ত, পুষ্টিহীন এবং বিভিন্ন রকম রোগে আক্রান্ত থাকে।

আটাশ হাজার মানুষের মধ্যে কাজ করে উচ্চতা ও ওজনের একটি অনুপাত বের করা হয়েছে। একবারে নিখুঁত না হলেও মোটামুটি ক্ষেত্রে এটা অনুসরণ করা যায়। যে সব বাঙালী ও বিহারী পুরুষের বয়স ২৫-৪৫ বছর তাদের জন্যে এটা প্রযোজ্য হবে। একজন লোকের ৫ ফুট উচ্চতার জন্যে ১০০ পাউন্ড এবং ৫ ফুট হতে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৩ পাউন্ড করে বেশী ধরা হয়েছে।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি হতে প্রতি এক ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৪ পাউন্ড বেশী ধরতে হবে । সূত্র-ম্যানুয়েল অব জেল হাইজিন, মেজর ডব্লিউ জে বুচানান, আই.এম.এস, দ্বিতীয় সংস্করণ,১৯০০)।

বিধি-১২১৬।

প্রতি পাক্ষিকে একবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রত্যেক বন্দীর ওজন নিতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এ কাজ করবেন এবং প্রয়োজনে অন্যদের সাহায্য গ্রহণ করবেন। ওজন নেয়ার জন্য সঠিক মানের বীম স্কেল ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-১২১৭।

ওজন নেয়ার পরবর্তী দিন জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট সে সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করতে হবে-

(১) ওজন বৃদ্ধি প্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা

(২) ওজন অপরিবর্তনীয় থাকা বন্দীর সংখ্যা

(৩) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৪) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩- ৫ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৫) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৫ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাসপ্রাপ্ত এমন বন্দীর সংখ্যা

(৬) ভর্তির পর হতে ৭ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৭) ওজন বৃদ্ধি এবং হ্রাসের শতকরা হার ।

পূর্ব উল্লেখিত ৪, ৫ এবং ৬ নম্বরের বন্দীদেরকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্য পৃথক ভাবে প্যারেড করাতে হবে। জেল ফরম ১০৩ এ দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের ওজন সংরক্ষণের এবং ১২১৫ বিধিতে বর্ণিত স্ট্যান্ডার্ডের নিম্ন ওজনের বন্দীদের একটি তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে।

 

বিধি-১২১৮ ।

হাসপাতালে প্রকৃত পক্ষে ভর্তি হয়নি এমন বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসারের পর্যবেক্ষণে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কতিপয় গ্যাংয়ে বিভক্ত করা যেতে পারে। যে সকল বন্দী বার্ধক্য এবং বৈকল্যের কারণে কাজের জন্যে অযোগ্য এবং যারা হাসপাতাল থেকে সদ্য রোগ মুক্তি প্রাপ্ত তাদেরকে কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাংয়ে (“কনভালেসেন্ট গ্যাং” নামে পরিচিত হবে) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অন্যান্য দুর্বল বন্দী এবং এখনও কাজের জন্যে অনুপযুক্ত, তবে বিশেষ বিবেচনায় কাজের জন্য প্রয়োজন তাদেরকে “স্পেশাল গ্যাং”এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যে সব বন্দীর কোন নির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ না পেলেও ওজন হ্রাস হচ্ছে তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং সাপ্তাহিক ওজন নেয়ার জন্যে “ওজন হ্রাস গ্যাং” এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক হাসপাতাল গ্যাং এ এবং বি দুটো শ্রেণীতে বিভক্ত থাকবে এবং তাদেরকে পৃথক রাখতে হবে ।

বিধি-১২১৯।

“স্পেশাল” গ্যাং এবং “কনভালেসেন্ট” গ্যাং সব সময় একত্রে রাখতে হবে এবং তাদেরকে পনর দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একবার বা মেডিকেল অফিসার মনে করলে আরো বেশী বার ওজন নিতে হবে। ওজন স্পেশাল রেজিষ্টারে ( ২৯ নম্বর রেজিষ্টারে) রেকর্ড করে মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে হবে।

বিধি-১২২০।

“স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে তাদের সুবিধাজনক হাল্কা কাজ দিতে হবে । “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং”- কে ঊল বাছাই, তাঁত বা রোগী দেখার হাল্কা কাজ দেয়া যেতে পারে। “স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার রোজ দেখবেন এবং “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং” কে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রোজ দেখবেন।

বিধি-১২২১।

মেডিকেল অফিসার এ ধরনের গ্যাংয়ের জন্যে বিশেষ ডায়েটের পরামর্শ প্রদান করবেন। তাদেরকে সাধারণ মানের চেয়ে উন্নত মানের চাল দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে গোসলের আগে গায়ে মাখার জন্যে তেল বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই, গুড়, গোল আলু, বা অতিরিক্ত সব্জি তাদেরকে বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই ডাল বা অন্য কোন কিছুর পরিবর্তে দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২২।

এ সকল বন্দীদেরকে সম্ভব হলে রাতের বেলা উপরের ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তাদের জন্যে ১১৬৮ বিধিতে বর্ণিত নিয়মে অতিরিক্ত পোশাক ও বেডিং দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২৩

। এ সকল বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে প্রতি নিয়ত পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত করা যায় এবং কোন বন্দী আরোগ্য লাভ করলে গ্যাং থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া যায়।

বিধি-১২২৪।

যখনই কোন বন্দীর অস্বাভাবিক হারে ওজন হ্রাস পেতে থাকে অথবা স্কার্ভি বা মাড়ির ক্ষত বা রক্ত স্বল্পতার সাধারণ প্রবণতা বা ডায়রিয়া বা অন্য কোন পেটের পীড়ার কারণে হাসপাতালে বন্দী ভর্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখনই মেডিকেল অফিসারকে কারণ নির্ণয়ের জন্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। প্রত্যেক বন্দীর খাদ্যে ডালের পরিবর্তে প্রাণীজ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে এবং আলু, পেঁয়াজ, মুলা প্রভৃতি তরকারীর সাথে রাখা যেতে পারে।

জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার উভয়ই মাঝে মাঝে বন্দীদের খাদ্য গ্রহণ পরিদর্শন করবেন এবং খাদ্য সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আছে কি না তা দেখবেন ; এবং খাদ্য যদি বেশীর ভাগই না খাওয়া অবস্থায় থেকে যায় তা রেকর্ড করবেন। বৈচিত্রের অভাব হেতু খাদ্য বিস্বাদ মনে হলে যথাসম্ভব এর প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-১২২৫।

যখন কোন সশ্রম বন্দীর এক কাজের তুলনায় অন্য কাজে ওজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পায়, সতর্কতার সাথে তার কাজ নির্বাচন করতে হবে; অব্যাহত ওজন হ্রাস পাচ্ছে এমন কাজ বদল করে দিতে হয়। তিনটি পর পর ওজনে কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পাওয়া দেখা গেলে বা যার বড় ধরনের ওজন হ্রাস দেখা যায় তাকে কঠিন কাজে নিয়োগ করা যাবে না।

যদি কোন বন্দী নির্ধারিত ওজনের পূর্ববর্তী দুই বেলা আহার গ্রহণ না করে কৃত্রিম ওজন হ্রাসের চেষ্টা করে,যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১২২৬।

মেডিকেল অফিসার বন্দীদের সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় যত্ন নেবেন। মৌসুম অনুসারে সকালে বন্দীদেরকে কখন ওয়ার্ডের বাহিরে নেয়া উচিত হবে প্রভৃতি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন। 

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

 

বিধি-১২২৭।

কারাগারে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্যে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে। মশার ডিম কেরাসিন বা অন্য কোন কার্যকর লার্ভা নাশক ছিটিয়ে ধ্বংস করতে হবে। সে সঙ্গে এনোফিলিশ মশার বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক খানা খন্দক, গর্ত, নালা প্রভৃতি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। খালি টিন বা পাত্র ফেলে রাখতে দেয়া যাবে না । বিধি ১২২৮-১২২৯। জলাতংক এবং প্লেগ সংক্রান্ত। বর্তমানে উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – পানি সরবরাহ

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

বিধি-১২০৩।

যেখানে পৌর সভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আছে, যদি সুবিধা জনক হয়, তবে কারাগারে তার সংযোগ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে কারাগারে নিজস্ব ব্যবস্থায় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। পানি দূষিত হওয়া প্রতিরোধ করার জন্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বাত্মক তৎপর থাকবেন।

বিধি ১২০৪-১২০৬।

অকার্যকর।

বিধি-১২০৭।

পানি উত্তোলন এবং সরবরাহ পাম্প এবং পাইপের মাধ্যমে করতে হবে।

 

বিধি-১২০৮ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১২০৯।

প্রত্যেক স্লিপিং ওয়ার্ডে এবং সেল খাবার পানি-সরবরাহ করতে হবে। কর্মরত বন্দীদেরকে কাজ করার সময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার পানি-সরবরাহ করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং দৈনিক পরিষ্কার করতে হবে। সে সকল পাত্র অন্য কোন কাজে ব্যবহার হবে না। পানি যথাসম্ভব ঠাণ্ডা রাখতে হবে ।

বিধি-১২১০ ।

প্রয়োগ নেই।

বিধি-১২১১।

 

পরিচ্ছেদ ৩- পানি সরবরাহ

 

কারাগারের প্রত্যেক বেষ্টনীতে বন্দীদের গোসলের জন্যে নির্ধারিত স্থান থাকবে। গোসল খানায় প্রত্যহ সকাল এবং বিকালে পানি ভর্তি করে রাখতে হবে। গরম কালে পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। পুকুর বা জলাধারে গোসল করা নিষিদ্ধ ।

সেনিটরি নিয়ন্ত্রণ |পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – কনজারভেন্সী

পরিচ্ছেদ – কনজারভেন্সী

 

পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

 

বিধি-১১৮৯।

জেল সুপার, মেডিকেল অফিসার, জেলার এবং সকল অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্লনজারভেন্সী বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ প্রদানের জন্য দায়ী থাকবেন। সরকারী পরিদর্শক এবং ম্যাজিষ্ট্রেটগণ তাদের ভিজিটের সময় কনজারভেন্সী কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে ব্যপারে নিশ্চিত হবেন। জেল সুপার এবং জেলার কারাগার এবং তার চারপাশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে মনোযোগী হবেন। নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে :- 

(১) ঘাস আচ্ছাদিত প্লট, পথ এবং খালি জায়গা সকল প্রকার মরা পাতা, আগাছা এবং আবর্জনা মুক্ত থাকবে। কারাগার চত্বর দৈনিক পরিষ্কার করতে হবে। ঘাসের আগা কেটে সমান রাখতে হবে এবং বছরে দুই বার সুরকী দিয়ে পথ ড্রেসিং করতে হবে ।

(২) ড্রেন এবং লেট্রিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারাগার এলাকার মধ্যে ময়লা পানি জমানোর কোন প্রকার গর্ত, খানা বা কুয়া তৈরী নিষিদ্ধ । কারাগারের কোন ড্রেনে বাহিরের কোন ময়লা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ময়লা ফেলার গর্ত তৈরী পরিহার করতে হবে। কারাগার এলাকার মধ্যে বা নিকটে ময়লা ফেলার জন্য বা জৈব সারের গর্ত তৈরীর অনুমতি দেয়া হবে না ।

কোন সেচ নালা বা অন্যান্য জৈব বর্জ্যের স্তুপ কারাগারের দেয়ালের কাছে করতে অনুমতি দেয়া হবে না। কোন বন্দী কারাগারের ড্রেন নোংরা করলে বা কোন কর্মচারী অনুরূপ কাজের অনুমতি প্রদান করলে শাস্তি পেতে হবে । 

 

(৩) বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, তৈজসপত্র, ওয়ার্ড, ওয়ার্কসপ প্রভৃতির পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে বিধি ৬৫১, ১১১৮ এবং ১১৮৩ কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। 

(8)কারাগারের ভিতর এবং বাহিরের দেয়াল বর্ষার পর ঘষা-মাজা করে চুনকাম করতে হবে।

(৫) কারাগারের প্রধান গেইটের সংলগ্ন অফিসের সিলিং, মেঝে, দেয়াল, আসবাবপত্র, প্রভৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সঠিক পর্যায়ে রাখতে হবে।

(৬) হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। গুদাম পরিচ্ছন্ন, সাজানো গুছানো এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল অবস্থায় রাখতে হবে ।

বিধি ১১৯০-১১৯৬। অকার্যকর।

বিধি-১১৯৭।

রান্না ঘরের বর্জ্য প্রভৃতি কারাগার হতে দূরে জমিতে গর্ত তৈরী করে ফেলতে হবে এবং জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিধি ১১৯৮-১২০১।

অকার্যকর। 

 

পরিচ্ছেদ ২- কনজারভেন্সী

 

বিধি-১২০২।

কারাগারের চারপাশের জমির ড্রেন সতর্কতার সাথে পরিদর্শন করতে হবে। মেডিকেল অফিসার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবেশী জনসাধারণের লেট্রিন বা পয়:নিষ্কাশন ড্রেন বন্দীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোন প্রকার ক্ষতির কারণ হলে কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।