আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান ছক।

ব্রিটিশ আমলের অনেক দলিলে আগেকার কাঠার নিয়মে জমির কাত দেখিয়েছেন। যেমন ২১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় ১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় । হয়ত এমনও লেখা থাকতে পারে ॥ ৪ কাঠার কাত ।।২ কাঠা। আগের দিনে সের যেভাবে লেখার নিয়ম ছিল কাঠাও একই প্রণালীতে লেখার নিয়ম ছিল । শুধু দশ সেরে ১ চৌক হতে ৪ চৌকে ১ মণ হত কিন্তু কাঠার বেলায় ৫ কাঠায় ১ চৌক হত এভাবে ৪ চৌকে বা ২০ কাঠায় ১ বিঘা হত ।
দলিল ও খতিয়ান ছক
ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, গ = ৪ আনা, ১ আনা = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।
মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক— ২ আনা + ৩ আনা +8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা’।
এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল।
মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে
ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।

জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল এভাবে—
৫ গন্ডা বা ৩ পাই এ ১ পয়সা = ৫২ পয়সা (১০
৪ পয়সা বা ১২ পাই এ ১ আনা =) ৩ পয়সা ১৫
পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।

খতিয়ান নং ৩০

এই খতিয়ানে মোট জমি ৩ একর ৫২ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা দেখান হল।
৩ একর ৫২ শতাংশ = ৩00 + 2 = ৩৫২ শতাংশ। এখন মোট জমি অর্থাৎ ৩৫২ শতাংশকে ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলেই মালিকের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যাবে।

সুতরাং (ক) ০.১২ ভাগে পায় (৩৫২x.১২) = ৪২.২৪ শতাংশ বা সোয়া ৪২ শতাংশ (খ) ০.১৭ ভাগে পায় (৩৫২.১৭) = ৫৯.৮৪ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ
(গ) ০.১৯ ভাগে পায় (৩৫২.১৯) = ৬৬.৮৮ শতাংশ বা ৬৭ শতাংশ
(ঘ) ০.২৫ ভাগে পায় (৩৫২.২৫) = ৮৮ শতাংশ
(ঙ) ০.০৭ ভাগে পায় (৩৫২.০৭) = 24.64 শতাংশ বা ২৫ শতাংশ
(চ) ০.০৬ ভাগে পায় (৩৫২.০৬) = ২১.১২ শতাংশ বা ২১ শতাংশ
(ছ) ০.০৪ ভাগে পায় (৩৫২×.০৪) = ১৪.০৮ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ
(জ) ০.০২ ভাগে পায় (৩৫২.০২) = ০৭.০৪ শতাংশ বা ৭ শতাংশ (ঝ) ০.০৮ ভাগে পায় (৩৫২.০৮) = ২৮.১৬ শতাংশ বা ২৮ শতাংশ
খতিয়ানে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি দেয়া আছে। ধরে নিতে হবে যে, অক্ষরগুলোই কোন ব্যক্তি বা মালিকের নাম বুঝানোর জন্য দেয়া হয়েছে ।
খতিয়ান নং ৪০


মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি :
১০ গণ্ডা + ১৭ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা +১২ গণ্ডা + ২ গন্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৬ পা + ১২ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা মোট ১০০ গণ্ডা ১০০ গণ্ডায় ৫ আনা (যেহেতু ২০ গণ্ডায় এক আনা) হওয়ার দরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ৫ আনা এখন আনা যোগ করি = ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ৩ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা = হাতের ৫ আনা মোট = ১৬ আনা বা ১.০০ টাকা।
এখন মোট জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে অংশীদারের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ বের হবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট জমিকে শতাংশ করি এবং মালিকের অংশের ঘরকেও গন্ডায় পরিণত করি। মোট জমি ২ একর ৪০ শতাংশকে সব শতাংশ করলে হয় (১০০ শতাংশে ১ একর)। সুতরাং, ১০০ x ২ +৪০ = ২০০+৪০ = ২৪০ শতাংশ।
মালিকের অংশগুলো গণ্ডায় পরিণত করলে মোট গন্ডার পরিমাণ হয় ১ টাকা =১৬ আনা ।
আবার ২০ গন্ডায় ১ আনা। সুতরাং ১ টাকা = মোট গণ্ডা হয় ১৬×২০ = ৩২০ গণ্ডা। মোট জমিকে ৩২০ দ্বারা ভাগ করে দেখি প্রতি গণ্ডায় কি পরিমাণ জমি হয়। হিসাবের সুবিধার্থে মালিকের অংশগুলো সর্বনিম্ন এককে পরিণত করি (এখানেগণ্ডা হচ্ছে সর্বনিম্ন একক)।


খুব ভাল করে মনে রাখবেন, আনার ডানে বসে গন্ডা, গন্ডার ডানে বসে কড়া, কড়ার ডানে বসে কাপ অথবা ক্রান্তি। এক এক খতিয়ানে এক এক রকম থাকে অর্থ কাগে থাকলে সে খতিয়ান কাগের সূত্রে হিসাব হয়। ক্রান্তি থাকলে সে খতিয়ান ক্রান্তি সূত্রে হিসাব হয়। কাগ ক্রান্তির ডানে যথাক্রমে তিল/দন্তি সেই অনুসারে হিসাব। তিলের ডানে রেনু, রেনুর ডানে ঘুন বসে। এদের মধ্যে গণ্ডা, দণ্ডি, তিল এই সংকেতগুলো বাংলায় পাওয়া যায়।
খতিয়ান নং ৫০

৫০নং খতিয়ানের মোট জমি ৯ একর ৭৫ শতাংশ। মালিকের অংকের ঘরটা যোগ করি
(.১২+.১০+.১৩+.১৩+.১৪+.১৬+.১২+.০৫ +.০৩ +.০২) =১.০০
মোট জমি ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে কে কতটুকু পায় তা বের হবে।

ক, ১২ অংশ পায় ১৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
খ, ১০ অংশ পায় ৯৭৫x১০ = ৯৭.৫ শতাংশ বা ৯৭ শতাংশ
গ, ১৩ অংশ পায় ৯৭৫X ১৩ = ১২৬.৭৫ শতাংশ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঘ, ১৩ অংশ পায় ১৭৫X ১৩ = ১৬.৫ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঙ, ১৪ অংশ পায় ৯৭৫x১৪ = ১৩৬.৫ বা ১ একর ৩৬ শতাংশ
চ, ১৬ অংশ পায় ৯৭৫x১৬ = ১৫৬ শতাংশ বা ১ একর ৫৬ শতাংশ
ছ, ১২ অংশ পায় ৯৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
জ, ০৫ অংশ পায় ৯৭৫.০৫ = ৪৮.৭৫ শতাংশ ঝ, ০৩ অংশ পায় ৯৭৫.০৩ = ২৯.২৫ শতাংশ
ঞ. .০২ অংশ পায় ৯৭৫×.০২ = ১৯.৫ শতাংশ
[বিঃ দ্রঃ দশমিকের ডানে ৩ অংকের পর যদি ৫ হতে উপরে সংখ্যা থাকে তা হলে ঐ সংখ্যা উঠিয়ে ০.০১ যোগের নিয়ম রয়েছে।]
খতিয়ান নং ৬০

৬০নং খতিয়ানে মালিকের অংশ
ক = ) ৮। (১ আনা সোয়া ৮ গন্ডা)
খ)১০।। (২ আনা সাড়ে ১০ গন্ডা)
গ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা) ঘ = ) ১৭(১ আনা পৌনে ১৮ গন্ডা)
ঙ = / ১১। (১ আনা সোয়া ১১ গন্ডা) fe
চ = /১৩।। (১ আনা সাড়ে ১৩ গন্ডা)
ছ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা)
জ = ) ১৩। (১ আনা সোয়া ১৩ গন্ডা)
ঝ =)। (২ আনা ১ কড়া
ঞ = (! (১ কড়া)
এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১২ একর ৮০ শতাংশ; তার মধ্যে এই খতিয়ানে পায় (আট আনা) ১২.৮০ / ১৬ = ০.৮X৮=৬.৪
আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে।
আট আনায় জমির পরিমাণ হয় ৬ একর ৪০ শতাংশ।
এখন এই ৬ একর ৪০ শতাংশ জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে, কোন মালিক কটটুকু পায় তা জানা যাবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ নিম্নদিকে কড়ায় পরিণত করি (যেহেতু সর্বনিম্ন একক কড়া)।


মনে করা যাক, আমি ৬নং এই খতিয়ান বর্তমান দশমিকের হিসাবে দেখতে চাই এবং সবাইকে বুঝাতে চাই।
কারণ দশমিক সব শিক্ষিত লোকের জানা আছে ।
বইয়ের ৬নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কড়া। এখন এই খতিয়ানে ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত মোট ১ টাকা হিসাবে বণ্টন করা আছে।
সেই অনুসারে ১ টাকাতে মোট ১২৮০ কড়া (কড়া, ক্রান্তি বিশ্লেষণ এর সূত্র দেওয়া আছে।)

সুতরাং ৭ নং কলামে দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের অংশ লিখতে হবে ০.৫০। এখন মালিকের অংশ অর্থাৎ ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত এর হিসাব করি । আমাদের জানা আছে যে, ১২৮০ কড়াকে ১.০০ টাকা বা ১ এর উপর বন্টিত
আছে।



বিঃ দ্রঃ ০.০০০৭৮ সংখ্যাটি ভাগ হওয়ার দরুন ০.০০০৭৮ কে উঠাইয়া .00 ধরা হয়েছে সূক্ষভাবে।
ধরতে গেলে এতে ০.০০০২২ যোগ করা হয়েছে।
সুতরাং ৬নং খতিয়ানে সকলের বুঝার জন্য এখন বর্তমান দশমিক অংশ হবে
ক = ০.০৮৮
খ = ০.১৫৮
গ=০.১০২
ঘ = ০.১১৮
৫ = ০.০৯৮
চ = 0.১০৪
ছ = ০.১০১
জ = .১০৪
ঝ = 0.১২৫
ঞ = ০.00১
[পূর্বকার এবং বর্তমান উভয়টি ঠিক আছে কিনা বা কারও কম বেশি হয়েছে কিনা
তা জানার জন্য এই হিসাব জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।]
বিঃ দ্রঃ- দশমিক উঠানোর সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দশমিকের জন্য ১ ধরা এবং দশমিকের ডানে যত সংখ্যা থাকে ততটি শূন্য ১ এর ডানে বসাতে হবে। অংকের নিয়মমত কাজ করতে হবে।
খতিয়ান নং ৭০

৭০নং খতিয়ানে মোট জমি ২ একর, (২ একর = ২X১০০=২০০ শতাংশ) মধ্যে ৮৯০ অংশ এই খতিয়ানে প্রায় (২০০/১০০০=২০০x.৮৯০) = ১৭৮ শতাংশ বা ১ একর ৭৮ শতাংশ। এখন এই ১ একর ৭৮ শতাংশকে ১.০০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেক মালিকের অংশ পাওয়া যাবে।

খতিয়ান নং ৮০


এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৩৯ একর, ১ শতাংশ তার মধ্যে ( ।।৯১০) সাড়ে ১০ আনা এই খতিয়ানের দাবী। { ১টাকা= ৩২০ গন্ডা) ৩৯০১/ ৩২০= ১২.১৯ প্রতি গন্ডায় পায় (সাড়ে দশ আনা = ২১০ গন্ডা)। সুতরাং সাড়ে দশ আনায় পায় = ১২.১৯×210 = ২৫.৬০ শতাংশ}
এতে এ খতিয়ান পেয়েছে ২৫ একর ৬০ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার্থে এ খতিয়ানের মোট জমিকে শতাংশে পরিণত করি। ২৫ একর ৬০ শতাংশ = (২৫×১০০+৬০) = (২৫০০+৬০) = ২৫৬০ শতাংশ হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ সব একই জাতীয় রাশি বা কাগে পরিণত করি, যেহেতু সর্বনিম্ন একক কাগ।
২০ গণ্ডায় ১ আনা, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৪ কাগে ১ কড়া
ক এর মোট কাগ= ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১ গণ্ডা = ২১ গণ্ডা। ২১ গণ্ডা × ৪ = ৮৪ কড়া + ২ কড়া = ৮৬কড়া। ৮৬ কড়া x 8 = ৩৪৪ কাগ + ২ কাগ = ৩৪৬ কাগ ।
খ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১২ গণ্ডা = ৩২ গণ্ডা। ৩২ গণ্ডা ×৪ = ১২৮ কড়া। ১২৮ কড়া + ১ কড়া = ১২৯ কড়া। ১২৯ কড়া × ৪ = ৫১৬ কাগ। ৫১৬ কাগ + ১ কাগ = ৫১৭ কাগ ।
গ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গণ্ডা। ২৩ গণ্ডা × ৪ = ৯২ কড়া + ২ কড়া = ৯৪ কড়া। ৯৪ কড়া ×৪ = ৩৭৬ কাগ। ৩৭৬ কাগ + ৩ কাগ = ৩৭৯ কাগ।
ঘ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ =৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ২ কড়া = ৯৮ কড়া। ৯৮ কড়া x ৪ = ৩৯২ কাগ। ৩৯২ কাগ + ১ কাগ = ৩৯৩ কাগ ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০×১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা। ২৫ গণ্ডা x 8 = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ১ কড়া = ১০১ কড়া। ১০১ কড়া x ৪ = ৪০৪ দাগ। ৪০৪ কাগ + ২=৪০৬ কাদ।
চ এর মোট কাগ = ২০ x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা । ২৫ গণ্ডা X ৪ = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ২ কড়া = ১০২ কড়া। ১০২ কড়া x 4 = ৪০৮ কাগ। ৪০৮ কাগ + ৩ কাগ = ৪১১ কাগ।
ছ = এর মোট কাগ = ২০ x ৩ = ৬০ গণ্ডা। ৬০ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা = ৬৬ গণ্ডা ।
৬৬ গণ্ডা × ৪ কড়া = ২৬৪ কড়া। ২৬৪ কড়া + ২ কড়া। ২৬৬ কড়া ×৪ = ১০৬৪ কাগ। ১০৬৪ কাগ + ১ কাগ = ১০৬৫ কাগ ।
জ এর মোট কাগ= ২০x২ = ৪০ গণ্ডা ৪০ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা = ৪৭ গণ্ডা। ৪৭ গণ্ডা × ৪ = ১৮৮ কড়া। ১৮৮ কড়া + ১ কড়া = ১৮৯ কড়া। ১৮৯ কড়া x ৪ = ৭৫৬ কাগ। ৭৫৬ কাগ + ২ কাগ = ৭৫৮ কাগ।
ঝ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা + = ২৮ গণ্ডা। ২৮ গণ্ডা X ৪ = ১১২ কড়া। ১১২ কড়া + ১ কড়া = ১১৩ কড়া। ১১৩ কড়া x 4 = ৪৫২ কাগ ৪৫২ কাগ + ৩ কাগ = ৪৫৫ কাগ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০ x ১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ = ৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ১ কড়া = ৯৭ কড়া। ৯৭ ×৪ = ৩৮৮ কাগ। ৩৮৮ কাগ + ২ কাগ = ৩৯০ কাগ ।
১ টাকা = ১৬ আনা x ২০ = ৩২০ গন্ডা। ৩২০ গণ্ডা X ৪ = ১২৮০ কড়া।
১২৮০x৪ = ৫১২০ কাগ । এই খতিয়ানে আসা মোট জমিকে ৫১২০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ জানা যাবে।

মনে করা যাক এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানকে সকালে বুঝার জন্য দশমিক জানতে চাইল।
৮নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কাগ। সুতরাং ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত (১নং কলামের) কে, কত কাগ করে পেয়েছে তা প্রথমে বের কারতে হবে।
আর খতিয়ানের ৭নং কলামে কাগের খতিয়ানের অংশটাকে সর্বনিম্ন একক গভা
থাকার দরুন গন্ডার উপর হিসাব করতে হবে। নিম্নে তা দেখানো হল ।
এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানের মালিকদের মোট যে কাগের হিসাব করা আছে তা হতে আমাদের এটা জানা আছে যে,

কড়া ক্রান্তি বিশ্লেষণ হতে আমাদের জানা আছে যে, ৫১২০ কাগ = ১.০০ টাকা বা ১ অংশ হয়েছে। এবং এর মধ্যেই এই খতিয়ানে বন্টিত আছে।




সুতরাং ৭নং কলামে বসবে ০.৬৫৬
৮নং খতিয়ানে দেখতে পাচ্ছি এই খতিয়ানের দাগে জমির পরিমাণ ৩৯ একর ১ শতাংশ তার মধ্যে এই খতিয়ানে এসেছে ০.৬৫৬ অংশ আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে। এখন এই মোট জমি ৩৯ একর ১ শতাংশকে ১,০০০ দ্বারা ভাগ করলে বুঝা যাবে এই খতিয়ানে কত জমি এসেছে তা দেখান হল হিসাব সুবিধার জন্য একরকে শতাংশ করে ।

সুতরাং খতিয়ানের ৭নং কলামের অংশে পায় জমির পরিমাণ (৩৯০১ x ০.৬৫৬) = ২৫৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ একর ৫৯ শতাংশ যেহেতু ১০০ শতাংশে ১ একর) এখন এই ২৫৫৯ শতাংশকে আবার মালিকের মোট অংশ অর্থাৎ ১০০০ দ্বারা ভাগ ঘরে মালিকের স্ব স্ব অংশ দ্বারা গুণ করলে তা জানা যাবে। যেহেতু এখানে হাজারের রে বন্টন রয়েছে ।
মালিকের অংশের ভাগ
২৫৫৯ = ১০০০ = ২৫৫৯ শতাংশ
সুতরাং
ক পায় ২৫৫৯ × ০.০৬৮ = ১৭৪.০১ শতাংশ
খ পায় ২৫৫৯ × 0. 101 = 258.4৫ শতাংশ
গ পায় ২৫৫৯ × ০.০৭৪ = ১৮৯.৩৬ শতাংশ
ঘ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = ১৯৭.০৪ শতাংশ
ঙ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = 202.১৬ শতাংশ
চ পায় ২৫৫৯ × ০.০৮০ = ২০৪.৭২ শতাংশ
ছু পায় ২৫৫৯ × ০.২০৮ = ৫৩২.২৭ শতাংশ
জ পায় ২৫৫৯ × ০.১৪৮ = ৩৭৮.৭৩ শতাংশ
ঝ পায় ২৫৫৯ × 0.089 = 22৭.৭৫ শতাংশ
ঞ পায় ২৫৫৯ × 0.0१৬ = ১৯৪.৪৮ শতাংশ
এভাবে পূর্বকার এবং বর্তমান তুলনা করলে কোন ভুল আছে কিনা রেকর্ডে তা বুঝা সম্ভব । তবে তুলনার ক্ষেত্রে দশমিকের সংখ্যাতে সামান্য গড়মিল থাকতে পারে।”
সাধারণত দশমিকের ৩ ঘর পরে ৫ এর উপরে সংখ্যা থাকলে ঐ সংখ্যাটি উঠিয়ে ১ যোগের নিয়ম রয়েছে যেমন কোন হিসাবে দেখা গেছে যে .২৫৬৭ শতাংশ বা ২৫৬৭ কাঠা বা যাই হোক না কেন শতাংশটার অর্থ হচ্ছে ১ শতাংশ জমিকে ১০,০০০ ভাগে ভাগ করে তার .২৫৬৭ ভাগ। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ৭ কে উঠিয়ে যদি ১ যোগ করে ৬কে ৭ করি তবে যোগ করা হয়।
০.০০১ – .০০০৭ = .০০০৩ অর্থাৎ ১ শতাংশ বা কাঠা এর দশ হাজার ভাগের ৩ ভাগ মাত্র। ইহা এ জন্যই নগন্য হিসাবে ধরে হিসাবের সুবিধার জন্য যোগ বা বিয়োগ করা হয় ।
আবার এমনও হতে পারে যে এই ৮০নং নতুন খতিয়ানেরই ছ নামক ব্যক্তি ৭২ শতাংশ জমি প নামক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেছে। সে এই খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে জানতে চাওয়া হলে। তার হিসাব নিম্নরূপ হবে ।
আমরা ৮০নং নতুন খতিয়ানে দশমিকের হিসাবে দেখতে পাই ছ ব্যক্তি মোট জমি পায় ৫৩২.২৭ শতাংশ। তা হতে ৭২ শতাংশ বিক্রয় করলে থাকে (৫৩২.২৭ – ৭২) = ৪৬০.২৭ শতাংশ ।
ছ এই খতিয়ানের অংশ পেয়েছে ০.২০৮ এবং তাতে মোট জমি পেয়েছে ৫৩২.২৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যায়। (প এর খতিয়ানের অংশ বের করবার জন্য)

নতুন ক্রেতা ব্যক্তি প এই ৮০নং নতুন খতিয়ানের বর্তমান অংশীদার হবে ০.০২৮ আর ছ ব্যক্তির থাকবে (০.২০৮ – ০.০২৮) = ০.১৮ অংশ ।
খতিয়ান নং ৯০

৯০নং খতিয়ান
এই খতিয়ানে মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি।
১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি+ ১ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি মোট ১৫ ক্রান্তি। ১৫ ক্রান্তিতে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) = ৫ কড়া হয় (হাতে থাকে) এখন কড়া যোগ করি । ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ৫ কড়া (হাতের) মোট ২০ কড়া (৪ কড়া = ১ গন্ডা বিধায়) ৫ গন্ডা হল (হাতে)।
এখন গন্ডা যোগ করি ১০ গন্ডা + ১২ গন্ডা + ৩ গন্ডা + ১৪ গন্ডা + ৬ গন্ডা + ৮ গন্ডা + ২ গন্ডা + ৪ গন্ডা + ৭ গন্ডা + ৯ গন্ডা এবং হাতের ৫ গন্ডা মোট ৮০ গন্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৪ আনা হাতে রইল। এখন আনা যোগ করি ১ আনা + ১ আনা + ১ আনা +১ আনা + ২ আনা + ২ আনা + ১ আনা +১ আনা +১ আনা + ১ আনা এবং হাতের ৪ আনা মোট ১৬ আনা ১৬ আনা= ১ টাকা।
হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশকে ক্রান্তিতে পরিণত করি। (যেহেতু সর্বনিম্ন
একক ক্রান্তি)।
১ আনা = ২০ গন্ডা
৪ কড়া = ১ গন্ডা
৩ ক্রান্তি = ১ কড়া



এভাবে ১ গণ্ডা = ০.০০৩১২৫ টাকা
১ কড়া = ০.০০০৭৮১২ টাকা
১ কাগ = ০.০০০১৯৫৩ টাকা
১ তিল = ০.০০০০০৯৭ টাকা
১ রেনু = ০.০০০০০২৪ টাকা
১ ঘুন = ০.০০০০০০৬ টাকা
১ ক্রান্তি – = ০.০০০২৬০৪ টাকা
১ দন্তি = ০.০০০০৮৬৮ টাকা
১ যব = ০.০০০০২৮৯ টাকা
এ খতিয়ানে মোট জমি ৪৬ একর ০৮ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার জন্য একরকে
শতাংশে পরিণত করি :


খতিয়ান নং ১০০

১০০ নং খতিয়ানের মালিকের অংশের ঘর যোগ করি । ২তিল + ১০তিল + ৮তিল + ১৬তিল + ৪তিল মোট ৪০ তিল ।
(২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) কিছু বসে নাই (হাতে ২ কাগ)। এখন কাগ যোগ করি। ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ + ১ কাগ + ১ কাগ এবং হাতের ২ কাগ মোট ৮ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ২ কড়া) এখন কড়া যোগ করি ১ কড়া + ২ কড়া +১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া+ ২ কড়া+ ২ কড়া এবং হাতের ২ কড়া মোট ১৬ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার দরুন) কিছু বসে নাই (হাতে ৪ গণ্ডা) এখন গণ্ডা যোগ করি।
৪ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ১০ গণ্ডা + ৮গণ্ডা + ২ গণ্ডা + ৪ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ২ গণ্ডা+ হাতের ৪ গণ্ডা মোট = ৬০ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ৩ আনা) এখন আনা যোগ করি। ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ১আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা এবং হাতে ৩ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।
মনে করা যাক, এই খতিয়ান থেকে চ-এর অংশ বের করব। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়।
মোট জমিকে ১৬ আনার উপর ভাগ করে দেখি প্রতি আনায় কি পরিমাণ হয় ।




খতিয়ান নং ১১০


এই খতিয়ানে দুটি দাগ রয়েছে। ১ম দাগ নং ৭৬। এতে মোট জমি ১৫ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে ।)(ছয় আনা) (১৫৩৬ =১৬ = ৯৬ শতাংশ ×৬ = = ৫৭৬) অংশে ৫ একর ৭৬ শতাংশ এসেছে। আর অবশিষ্ট জমি অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।
দ্বিতীয় দাগ নং ১৮ এতে মোট জমি ৭২ শতাংশ এর মধ্যে ০(১২ আনা) অংশে ৫৪ শতাংশ এই খতিয়ানে পেয়েছে। অবশিষ্ট অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।






























































