Category Archives: আইনজীবী ও পেশাজীবী কর্নার

আইনজীবী ও পেশাজীবী কর্নার

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। সেই ধারণা স্পষ্ট করতে আজকের আয়োজন। খুব সাধারণ ভাবে বললে – যে মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিচার চাওয়া হয়, সেটা দেওয়ানী মামলা। আর যেসব অপরাধ কে সাধারণত রাষ্ট্রবিরোধী ধরে নেয়া হয় যার, বা যার সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে দেওয়া আছে, সেসবের বিচার চাইতে হলে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

দেওয়ানী মামলা:

দেওয়ানী মামলার উদাহরণ হল পারিবারিক বিষয়, অফিসিয়াল পদ সংক্রান্ত, চুক্তি সংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার উদাহরণ হল অপহরণ, চুরি, খুন। দেওয়ানী মামলা ব্যক্তি নিজে করে, ফৌজদারি মামলা দায়ের করে রাষ্ট্র পক্ষ। দেওয়ানী মামলার পক্ষদের নাম হল বাদী-বিবাদী, ফৌজদারি মামলায় বলা হয় রাষ্ট্র পক্ষ বনাম আসামী।

Suits of Civil Nature —মোটামুটিভাবে কোন অধিকার বা দায়বদ্ধতা নিয়ে। চুক্তি বা দলিল দ্বারা, পদ বা অধিকার। বৈধ ঘোষণা। নিষেধাজ্ঞা। নিরোধক প্রতিকার। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। সরকারি দলিল। রেকর্ড অফ রাইটস। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব।

দেওয়ানী মামলার সচরাচর কারাদণ্ড ৬ মাসের বেশি হয়না। দেওয়ানী মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ করতে হতে পারে ৬০%।

তবে দেওয়ানি মামলায় বাদী বা বিবাদী যদি কোন তথ্য উপাত্ত মিথ্যা/ভুল/ জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং সেটা যদি আদালত কর্তৃক মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তখন ঐ মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যিনি এ অপরাধ করেছেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে মামলা করা যাবে। এধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবার জন্য আদালতের রায় রয়েছে।

 

দেওয়ানি মামলার ধরন:

দেওয়ানি মামলার অনেক ধরন রয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা, সব ধরনের স্বত্ব, মানবিক সম্পর্ক (পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক) নিয়ে বিরোধ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি।

আর্থিক ক্ষতিপূরনের মামলা:

কোনো ব্যক্তি অন্য কারো দ্বারা শারীরিকভাবে বা অন্য কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ছাড়া মানহানিকর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও মামলা দায়ের করা যায়।

সম্পত্তির অধিকারের মামলা:

নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে তিনি সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।

স্বত্ব মামলা:

কোনো ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য বা ট্রেড লাইসেন্স এবং বইয়ের স্বত্ব কাউকে দেওয়ার পর যদি ওই ব্যক্তি এসব স্বত্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হোন তাহলে তিনি এ অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভরণপোষণের অধিকার বিষয়ক মামলা:

মা-বাবা বৃদ্ধ হলে ছেলে যদি তাঁদের জন্য কোনো ভরণপোষণ না দেয় তাহলে আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন।

প্রার্থনার অধিকার মামলা:

কোনো ব্যক্তি মসজিদে নামাজ পড়তে না পারলে এবং মন্দিরে পূজা করতে না পারলে এবং গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সে অধিকার চেয়ে তিনি মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভোটাধিকারের মামলা:

দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তিনি সে অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। যা দেওয়ানি আদালতের মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

যেসব আদালতে দেওয়ানি মামলায় করা যায়:

দেওয়ানী প্রকৃতির মামলাসমূহ (জায়গা জমি, অর্থসংক্রান্ত, পদের অধিকার সংক্রান্ত) যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে দেওয়ানী আদালত বলা হয়। এই আদালতের বিচারককে জেলা জজ বলা হয়। দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা করার জন্য প্রথমেই বিচারকের নিকট পিটিশন দাখিল করতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে ও দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হয়। তবে নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের পর কেবল উচ্চ আদালতে আপিল অথবা রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা পরিচালিত হয়।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

 

ফৌজদারী মামলা:

ফৌজদারী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্র’ সংঘটিত অপরাধটির প্রতিকার/বিচার চায়। এখানে মুল পক্ষ হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম ‘অভিযুক্ত’। যেমন, আপনি হয়তো এমন অনেক ঘটনার কথা শুনে থাকবেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বলে, “আমরা মামলা করতে চাই না”। এমন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এফআইআর দাখিল করে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থাকে। সুতরাং, বাদী বা এফআইআর দাখিলকারী পরিবর্তন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এমন অনেক মামলার নজীর আছে যে, তথাকথিত ‘বাদী’র বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

এমন ক্ষেত্রে প্রসিডিউরটা হলো, তদন্তকারী ‘বাদী যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে’ তদন্তকালে স্বাক্ষ্য প্রমান পান, তবে মামলাটি চুড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) দাখিল করেন। একইসাথে, নতুন ‘সংবাদদাতা’ বা ‘বাদী’ নির্বাচন করে নতুন করে FIR দাখিল করে তদন্তকার্য শুরু করেন। আর বাদী যদি অভিযুক্ত না হয়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তাকে পরিবর্তন করতে চান; সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কগনিজেন্ট কোর্টে আবেদন দাখিল করবেন। বিজ্ঞ আদালত এক্ষেত্রে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত (Competent Authority).

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সেই কারাদণ্ড ৩০ বছর ও হতে পারে। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে সন্দেহাতীতভাবে, অর্থাৎ সাজা দেবার জন্য ১০০% সাক্ষ্য আসামীর বিপক্ষে প্রমাণিত হতে হবে।

ফৌজদারী মামলাতে বাদী হাজিরা না দিলে ওই মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য আইনগত বিধান রয়েছে। ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিন – যদি বাদী এক তিন মাস ধরে হাজিরা না দেয় তবে মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ১ বছর – যদি বাদী এক বছর ধরে হাজিরা না দেয় তবেও মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ৩ বছর – সর্বোচ্চ মামলা তিন বছর ধরে বহাল থাকতে পারে যদি বাদী একটি কারণ দেখায় যে তিনি কোনো কারণে হাজিরা দিতে পারেননি। সুতরাং, ফৌজদারী মামলায় বাদী হাজিরা না দিলে ৯০ দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তবে যতক্ষণ না নিষ্পত্তি হয়, সে মামলা বহাল থাকে।

ফৌজদারি মামলার ধরণ:

ফৌজদারি অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ বোঝায় যেগুলো দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য। এই অপরাধের বিচার হয় ফৌজদারি আদালত।

অপরাধের আমলযোগ্যতা:

যে অপরাধ সমূহ সংগঠিত হলে পরে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে, ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে, ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জামিন-যোগ্য অপরাধ:

ফৌজদারি কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিন-যোগ্য অপরাধের বা “Bailable Offence’ কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ‘জামিন-যোগ্য অপরাধ’ হচ্ছে সে সকল অপরাধ যা ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে জামিন-যোগ্য বলে দেখানো হয়েছে, অথবা যা বর্তমানে বলবত কোন আইন দ্বারা জামিন যোগ্য করা হয়েছে।

 

মামলা গ্রহণে আদালত ও থানার এখতিয়ার:

আদালতের দুই ধরনের মামলা ও মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার আছে। আরজি ও পিটিশন অফ কম্পলেইন্ট। থানা দেওয়ানী মোকদ্দমা দূরের কথা, সালিসি কার্যক্রমও করতে পারে না। এজাহার আর এফআইআর ছাড়া। আর তদন্ত কার্যক্রমে মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে পারে অপর্যাপ্ত সাক্ষের উপস্থিতিতে।

অপরাধ সম্পর্কিত মামলাসমূহ যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে আমরা ফৌজদারি আদালত ক্রিমিনাল কোর্ট বলে থাকি। আর এই আদালতের বিচারকে দায়রা জজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করার পরে প্রথমে তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

জেলা জজ আদালতের এখতিয়ার:

জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা পরিচালিত হয়। এ আদালতে দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হলে তাকে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হলে তাকে ফৌজদারি আদালত বলে। সাধারণত এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলার আপিল জেলা জজ আদালতে দায়ের করতে হয়। জেলা জজ আদালত তাঁর নিম্ন আদালতের মোকদ্দমা স্থানান্তর সম্পর্কিত দরখাস্ত, রিভিশন শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন। পারিবারিক আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে থাকেন।

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত:

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারিক ক্ষমতা জেলা জজের সমান। তবে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল এ আদালতে সরাসরি দায়ের করা যায় না। জেলা জজ আদালতে দাখিল করলে জেলা জজ আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য এ আদালতে প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।

যুগ্ম জেলা জজ আদালত:

প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক যুগ্ম জেলা জজ থাকেন। তিনি দেওয়ানি মোকদ্দমার সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচারক। এ আদালত চার লাখ এক টাকা থেকে অসীম মূল্যমানের বিষয় বস্তুর মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও বিচার নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালত:

দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রয়েছে। সম্পত্তি, অফিস, ব্যক্তিগত অপকার, ক্ষতিপূরণ ও ধর্মীয় অধিকারসংক্রান্ত যাবতীয় মোকদ্দমা সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা হয়। এ আদালত দুই লাখ এক টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সহকারী জজ আদালত:

এ আদালতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা মূল্যমানের বিষয় বস্তুর ওপর মামলা দায়ের করা যায়। এ আদালতের নিজস্ব কোনো আপিল এখতিয়ার নেই। সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চুক্তি কার্যকর, দলিল, চুক্তিপত্র, লিখিত অঙ্গীকারপত্র ইত্যাদি রদ ও রহিত, যেকোনো কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ রদ ও রহিত, দখল পাওয়া, সম্পত্তি বা অফিস সংক্রান্ত কোনো অধিকার সম্পর্কে ঘোষণা পাওয়া, টাকা আদায়, সম্পত্তি অগ্রক্রয়, নির্বাচন সংক্রান্ত মোকদ্দমা দায়ের করা যায়।

 

ফৌজদারি মামলা দায়ের:

বর্তমান বলবৎযোগ্য ফৌজদারি কার্যবিধি তে বলা আছে কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য নয়। আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ সেই অভিযোগ টি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রেরণ করবে আর আমল যোগ্য মামলায় পুলিশ আপনাকে মামলা দায়ের এর সাথে সাথে গ্রেফতার করতে পারবে আর আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা দায়ের করতে পারবে। আপনার নামে মামলা হতে পারে ২ ভাবে প্রথমত থানায় সরাসরি এজাহার দায়ের এর মাধ্যমে দ্বিতীয়ত আদালতে আর্জি দাখিলের মাধ্যমে।

থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে বা গ্রেফতার না করেও আপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারে এর পর আদালত আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে। এছাড়াও আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আপনাকে সমনের মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বা ওয়ারেন্ট বলে আটক করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। এখন এমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় যে আপনার নামে মামলা হতে পারে তাহলে আপনি সংশ্লিষ্ট থানায় এবং সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন মামলা হয়েছে কি না।

থানায় অভিযোগ দায়ের করলেই মামলা হয়ে যায় না। যদি তা এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা না হয়। আর অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনও সুযোগ নেই। যদি থানার ওসি বিষয় টি নিয়ে সন্দেহ আছে মনে করেন তাহলে একজন এস আই কে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি অপরাধ টি আমলযোগ্য হয় তাহলে এজাহার দায়ের হবে , আমল অযোগ্য হলে আদালতে অনুমতি নিয়ে মামলা দায়ের হবে যদি মিথ্যা হয় তাহলে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। আর মামলা দায়ের হয়ে গেলে ফৌজদারি কার্যবিধি র দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখ আছে কোন টি আপোষ যোগ্য কোনটি আপোষ যোগ্য নয় কোনটি আদালতে অনুমতি সাপেক্ষে আপোষ যোগ্য সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

ফৌজদারি মামলার ধাপ:

১. থানায় এজাহার এর মাধ্যমে অথবা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট নালিশ দায়ের মাধ্যমে।

২. জি আর মামলা / সি আর মামলা।

৩. ওয়ারেন্ট, আসামী জামিন প্রাপ্ত অথবা জেলে হাজতে প্রেরণ।

৪. পুলিশ কর্তৃক চার্জশীট দাখিল অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল

৫. আদালত কর্তৃক আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জ ঘটন অথবা আসামীদের অব্যাহতি।

৬. বাদী পক্ষে সাক্ষীর জবান বন্দি। আসামী কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা।

৭. যুক্তিতর্ক

৮. রায়

৯. রায়ের বিরুদ্ধে আপীল অথবা রিভিশন।

১০. উচ্চ আদালতে আপীল অথবা রিভিশন মুঞ্জর অথবা না মুঞ্জর।

 

 

অন্যান্য মামলা:

সাধারণত যেকোনো বিষয়ে হোক সেটা দেওয়ানী অথবা ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টের অধীনস্থ দেওয়ানী/ফৌজদারি আদালতে করা হয় শুধু মাত্র কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়। যেমন, কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, কপি রাইট মামলা, এডমিরালটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।

 

রিট মামলা:

রিট সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যেকোনো নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মত হলেও মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। আমরা মামলা করি প্রচলিত আইনের অধীনে হাইকোর্টের অধীনস্থ কোর্টে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন আইনের অধীনে উক্ত সমস্যার কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ জনস্বার্থে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে যাকে রিট বলা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

আবার কেউ যদি মনে করেন সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।যিনি মামলা করার যোগ্যতা রাখেন তিনি রিট ও করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়ে রিট করতে চান সে বিষয়ের প্রতিকার সরাসরি অন্য আইনে উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, কিছু কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দু’টিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।