বিস্তৃত অর্থে পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই এক একটি সম্পদ। সম্পদের যেমন নানা রূপ রয়েছে—জমি, বাড়ি, অর্থ, পণ্য—তেমনি মানুষের বুদ্ধি, মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে জন্ম নেওয়া সম্পদও এক ধরনের মূল্যবান সম্পদ। এই মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে উৎপন্ন সম্পদকেই বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি (Intellectual Property)।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে বুদ্ধি, বিবেক ও চিন্তাশক্তি (Rational Power) দিয়েছেন, তা প্রয়োগ করে মানুষ সৃষ্টি করে নতুন পণ্য, প্রযুক্তি, শিল্পকর্ম, সাহিত্য, গান, উদ্ভাবন, নকশা ও ব্যবসায়িক পরিচিতি। এসব অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত মূল্যবান সৃষ্টিই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আইনগত সুরক্ষা
পৃথিবীর সকল সম্পদের জন্য যেমন আইন ও বিধান রয়েছে, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ যেন তার সৃষ্টির ন্যায্য সুফল ভোগ করতে পারে এবং অন্য কেউ যেন অনুমতি ছাড়া সেই সৃষ্টি ব্যবহার করতে না পারে—এই লক্ষ্যেই Intellectual Property Law বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়েছে।
এই আইন লেখক, শিল্পী, আবিষ্কারক, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি রক্ষা-কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে—
স্রষ্টা তার সৃষ্টির ওপর অধিকার রাখবেন,
তিনি ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা লাইসেন্স দিতে পারবেন,
এবং অবৈধ ব্যবহার হলে আইনি প্রতিকার পাবেন।
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রধান ছয়টি ধরন
বর্তমানে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন সাধারণত নিম্নোক্ত ছয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত—
পেটেন্ট (Patent) – নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য
ডিজাইন (Industrial Design) – পণ্যের বাহ্যিক নকশা ও রূপের জন্য
কপিরাইট (Copyright) – সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, শিল্পকর্ম ইত্যাদির জন্য
ট্রেডমার্ক (Trademark) – ব্যবসায়িক নাম, লোগো, ব্র্যান্ডের জন্য
গোপন তথ্য (Confidential Information) – ব্যবসায়িক গোপন সূত্র
নো-হাউ (Know-how) – শিল্প ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও কৌশল
বাংলাদেশে এসব সম্পদের জন্য আলাদা আলাদা আইন রয়েছে, যেমন—
কপিরাইট আইন, ২০০০
ট্রেডমার্কস আইন, ২০০৯
পেটেন্ট ও ডিজাইন আইন, ১৯১১ ইত্যাদি।
সম্পত্তির প্রকারভেদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অবস্থান
আইনের দৃষ্টিতে সাধারণত সম্পত্তি তিন প্রকার—
স্থাবর সম্পত্তি – যেমন জমি, বাড়ি
অস্থাবর সম্পত্তি – যেমন গাড়ি, ঘড়ি
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি – মানুষের মস্তিষ্কজাত সৃষ্টি
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিশেষত্ব হলো— এটি অদৃশ্য, কিন্তু একই তথ্য বা সৃষ্টিকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অসংখ্য কপিতে ব্যবহার করা যায়। তবে সম্পত্তি কপিগুলোর মধ্যে নয়, বরং সেই মূল তথ্য ও সৃষ্টিতে নিহিত।
WIPO অনুযায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সংজ্ঞা
বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO) ১৯৬৭ সালের স্টকহোম কনভেনশনে ঘোষণা করে যে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে—
সাহিত্য, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক কর্ম
শিল্পীদের পরিবেশনা, রেকর্ডিং ও সম্প্রচার
আবিষ্কার
শিল্প নকশা
ট্রেডমার্ক ও ব্যবসায়িক নাম
অন্যায্য প্রতিযোগিতা প্রতিরোধ
আবিষ্কার বনাম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার
একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—
বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলো প্রকৃতির কোনো অজানা নিয়ম বা সত্যের সন্ধান।
ইনভেনশন (Invention) হলো সেই জ্ঞান ব্যবহার করে তৈরি নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান।
আইন সাধারণত ইনভেনশনকে সুরক্ষা দেয়, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে নয়।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
আজকের বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠছে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের উপর নির্ভর করেই।
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি কেবল আইনি ধারণা নয়—এটি সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ভিত্তি। যারা নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, এই আইন তাদের সম্মান ও সুরক্ষা দেয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার মেধা ও সৃষ্টির উপর—আর সেই মেধাকে রক্ষা করাই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইনের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের অপরাধ আইন। বাংলাদেশের অপরাধ আইন দেশটির আইনগত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং সমাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন বিধান ও নির্দেশাবলী অন্তর্ভুক্ত করে। এই প্রবন্ধে, আমরা বাংলাদেশের অপরাধ আইনের মূল দিকগুলি পর্যালোচনা করব, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বিধি, এবং কার্যকরীতা নিয়ে আলোচনা করব।
বাংলাদেশের অপরাধ আইন
বাংলাদেশের অপরাধ আইন: সাধারণ ধারণা
বাংলাদেশের অপরাধ আইন মূলত দুটি প্রধান আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়:
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860): এটি অপরাধ ও দণ্ডের একটি মৌলিক আইন যা ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত হয়েছিল। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং বিভিন্ন প্রকারের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান উল্লেখ করে।
দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০ (Code of Criminal Procedure, 2000): এটি অপরাধের তদন্ত, মামলার পরিচালনা এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০: প্রধান অপরাধের শ্রেণীবিভাগ
১. অপরাধের সংজ্ঞা ও শ্রেণীবিভাগ:
– মামলা ও গম্ভীর অপরাধ (Cognizable and Non-Cognizable Offenses): মামলা ও গম্ভীর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার অপরাধে পুলিশ কর্তৃক অবিলম্বে তদন্ত করা যেতে পারে, যেমন হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণ। গম্ভীর অপরাধের জন্য পুলিশকে বিচারক বা আদালতের অনুমতি নিতে হয়, যেমন চুরির মত ছোট অপরাধ।
– বিচারিক শাস্তি (Punishments): দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন কারাদণ্ড, জরিমানা, এবং মৃত্যুদণ্ড। কিছু অপরাধ যেমন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
২. বিশেষ অপরাধের বিধান:
– মামলার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Offenses Against the State): রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ, যেমন বিদ্রোহ বা দেশদ্রোহিতা, দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত।
– সম্পত্তির অপরাধ (Property Crimes): চুরি, ডাকাতি, এবং ভাঙচুরের মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
– ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কিত অপরাধ (Personal Security Offenses): হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং আক্রমণের মতো অপরাধের বিধান।
দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০: প্রক্রিয়া ও পরিচালনা
১. অপরাধের তদন্ত:
– পুলিশি তদন্ত (Police Investigation): পুলিশ অপরাধের তদন্ত শুরু করতে পারে, সাক্ষ্য সংগ্রহ করে, এবং অপরাধীর গ্রেপ্তার করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে অপরাধের সত্যতা যাচাই করে।
– জমা প্রমাণ (Evidence Collection): সাক্ষ্য, নথি, এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে তদন্তের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়।
২. মামলা পরিচালনা:
– মামলার দায়ের (Filing of Cases): অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
– আদালত প্রক্রিয়া (Court Proceedings): আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান, প্রমাণ জমা, এবং বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আদালত প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় প্রদান করে।
বাংলাদেশে অপরাধ আইন বাস্তবায়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি
১. আইনগত চ্যালেঞ্জ:
– আইনগত ঘাটতি (Legal Gaps): কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ আইনের দুর্বলতা এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা ও অস্বচ্ছতা একটি সমস্যা।
– আইন বাস্তবায়ন (Implementation Issues): আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বল্পতাও একটি সমস্যা।
২. অগ্রগতি ও সংস্কার:
– আইন সংস্কার (Legal Reforms): নতুন আইন ও সংশোধনী কার্যকর করা হচ্ছে যা অপরাধের ন্যায়বিচার ও সঠিকতার উন্নতি করতে সহায়ক।
– আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতা (Legal Education and Awareness): সাধারণ জনগণের আইনগত শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের অপরাধ আইন একটি সুসংহত কাঠামো প্রদান করে যা সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী শাস্তি নির্ধারণ করে। দণ্ডবিধি ও দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন, এবং আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। আইন সংস্কার ও কার্যকরী বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক। আইন একটি সমাজের নিয়ম, যা নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু আইনের জটিলতা এবং বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে সচেতনতা না থাকার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ আইনি সমস্যায় পড়েন। এই অবস্থায় ‘আইনি পরামর্শ’ তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
আইনি পরামর্শ
আইনি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা
আইনের বিভিন্ন শাখা রয়েছে, যেমন ফৌজদারি আইন, দেওয়ানি আইন, পারিবারিক আইন, মানবাধিকার আইন, ইত্যাদি। প্রতিটি আইনের নিজস্ব কিছু নিয়ম ও বিধান রয়েছে যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। যেমন:
– ফৌজদারি আইন: ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এই আইনের প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে মানুষ অনেক সময় অজানা থাকে। এমন সময় আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হয়।
– দেওয়ানি আইন: জমি, সম্পত্তি বা অন্যান্য আর্থিক বিবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়। এই ধরণের মামলায় সফল হতে হলে বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হয়।
– পারিবারিক আইন: বিবাহ, তালাক, সম্পত্তি বিভাজন, উত্তরাধিকার, ইত্যাদি নিয়ে পারিবারিক আইন ব্যবহৃত হয়। পারিবারিক বিষয়ে আইনি পরামর্শ পাওয়া বিশেষভাবে জরুরি, কারণ এটি শুধুমাত্র আইনগত নয়, বরং সামাজিক এবং নৈতিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।
আইনি পরামর্শের সুবিধা
১. বিভ্রান্তি দূরীকরণ: আইনি পরামর্শের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের আইনগত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে যায় এবং তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
২. মামলা ব্যবস্থাপনা: অনেক সময় মানুষ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু মামলার সঠিক পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন। আইনি পরামর্শের মাধ্যমে তারা মামলার যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
৩. সমাধান প্রাপ্তি: আইনজীবীরা শুধুমাত্র মামলার সমাধান করেন না, বরং তারা বিষয়টি মীমাংসা করার বিভিন্ন উপায়ও পরামর্শ দেন। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।
আইনি পরামর্শ গ্রহণের পদ্ধতি
আইনি পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য প্রথমে আপনার সমস্যা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো প্রয়োজন। আপনি যেকোনো আইনি সমস্যা নিয়ে সরাসরি আইনজীবীর সাথে আলোচনা করতে পারেন, অথবা এখনকার ডিজিটাল যুগে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শও পাওয়া সম্ভব। নিম্নলিখিত ধাপগুলি আপনাকে সহায়ক হতে পারে:
– সমস্যা নির্ধারণ: প্রথমে আপনার আইনি সমস্যার ধরন সনাক্ত করুন। এটি হতে পারে জমি-জমা, পারিবারিক বিবাদ, বাণিজ্যিক চুক্তি, অথবা অপরাধ সংক্রান্ত।
– বিশেষজ্ঞ নির্বাচন: প্রতিটি আইনি সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী নির্বাচন করুন।
– পরামর্শের সময় নির্ধারণ: আইনজীবীর সাথে সময় নিয়ে আলোচনা করুন এবং তার থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আইনি’ পরামর্শ নিন।
– প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুতি: আপনার সমস্যার সাথে সম্পর্কিত সকল তথ্য ও প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। যেমন জমির দলিল, চুক্তিপত্র, অভিযোগপত্র ইত্যাদি।
অনলাইনে আইনি পরামর্শ
বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনেক প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট রয়েছে যা নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি’ পরামর্শ প্রদান করে। আপনি অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে যাদের কাছে সরাসরি আইনজীবীর সাথে দেখা করার সুযোগ নেই, অথবা যারা দূরবর্তী অঞ্চলে বাস করেন।
আইনি পরামর্শের গুরুত্ব
আইনি ‘পরামর্শ শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন, এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেন। এটি এক ধরনের নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে।
‘আইনি’ পরামর্শ’ সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং মানুষকে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমেই মানুষ সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। তাই, প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে আইনি ‘পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। এটি একটি সুরক্ষিত ও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবার একটি মানবিক সম্প্রদায়ের মৌলিক ইউনিট, যা সমাজের নির্মাণে অবদান রাখে। পরিবারের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিবার আইন নামে পরিচিত, যা একটি দেশে পরিবারের পরিবর্তন এবং সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত আইনী বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করে। পরিবার আইন বিষয়ক এই নিবন্ধে বাংলাদেশের পরিবার ‘প্রশাসন এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন
পরিবারের গুরুত্ব
পরিবার সমাজের মৌলিক ইউনিট হিসাবে কাজ করে, যা ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংস্কারের সাথে জড়িত হতে পারে। পরিবার মাধ্যমে শিশুরা সমাজের মৌলিক মূল্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক নীতি সম্পর্কে শিখে যায়। এটি আরো পরিবারিক সংস্কৃতি, সংসারের সম্পদ এবং সামাজিক দায়িত্ব উপেক্ষা না করে সৃষ্টি করে।
পরিবার আইনের প্রাথমিক মূল
বাংলাদেশে, পরিবার ‘আইনের প্রাথমিক লক্ষ্য বিভিন্ন পরিবারিক সমস্যার সমাধান এবং পরিবার সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা। এটি পরিবার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও অন্যান্য সংস্থানিক অধিকার নির্ধারণ করে, যেমন সম্পদ অধিকার, ভবিষ্যতে বিবাহ’ ও তালাক, অসমত্ব, ও অভিভাবকের অধিকার।
বিবাহ এবং পরিবারের সংরক্ষণ
বিবাহ ও পরিবার সংরক্ষণ পরিবারের অন্যত্র বিভিন্ন সম্পদের সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিবাহ এবং পরিবার সংরক্ষণ আইন পরিবারের স্থিতিকে স্থায়িত করে এবং বাংলাদেশে বিবাহ’ ও তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে।
“পরিবার ‘আইন” বা “ফেমিলি লক” সম্পর্কে আলোচনা করা হলে, এটি বাংলাদেশের সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবার ‘আইন বা ফেমিলি লক বাংলাদেশে পরিবারের নির্দিষ্ট সম্পত্তি, অধিকার, দায়িত্ব, প্রকৃতি ও সংরক্ষণের নির্দেশাবলী নির্ধারণ করে। এই আইন পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সমস্যার সমাধানে ও পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্বের নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবার আইনের কাঠামো
বাংলাদেশে, পরিবার’ আইন একটি মৌলিক আইনের সেট, যা পরিবারের প্রতিটি দলের অধিকার, দায়িত্ব, অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এটি বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে, যেমন বিবাহ, তালাক, সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন পরিবারিক সম্পত্তির বিতরণ এবং পরিবারিক সম্পদের বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণ।
বিবাহ ও তালাক
পরিবার ‘আইন বাংলাদেশে বিবাহ এবং তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে। এটি বিবাহের সময় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ বিতরণের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে এবং তালাকের মামলাগুলির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিধিমালা প্রয়োজন ও প্রয়োজন বিষয়টি তারতম্যগ্রহণ করে।
সন্তানের নিয়ন্ত্রণ
পরিবার’ আইন বাংলাদেশে সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাতিষ্ঠানিকতা সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে। এটি সন্তানের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার প্রাথমিক বা ধর্মীয় প্রশিক্ষণ, ও সন্তানের ভবিষ্যতের সম্পর্কে প্রদান করে।
পরিবারের সংরক্ষণ
পরিবার ‘আইন পরিবারের সংরক্ষণ এবং পরিবারের বাস্তব সম্পত্তি সংরক্ষণ সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে।
একটি রাষ্ট্রের সকল আইন, শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকারের মূল ভিত্তি হলো সংবিধান। সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, ক্ষমতার উৎস কোথায়, নাগরিকদের অধিকার কী—এসব প্রশ্নের উত্তরই সংবিধানে নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশের সংবিধান
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। এটি প্রণয়ন করেন গণপরিষদের সদস্যরা, যার নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন। সংবিধানটি চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত—
জাতীয়তাবাদ
সমাজতন্ত্র
গণতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতা
এই চার মূলনীতি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা ও আদর্শ নির্ধারণ করে।
সংবিধানের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—
এটি একটি লিখিত সংবিধান
এটি কঠোর ও সুপ্রিম সংবিধান, অর্থাৎ সব আইনের ঊর্ধ্বে
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে
ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (বিধান, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ)
মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার সংযোজন
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
মৌলিক অধিকার
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। উল্লেখযোগ্য অধিকারসমূহ—
আইনের দৃষ্টিতে সমতা
জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
চলাচলের স্বাধীনতা
সংগঠন গঠনের অধিকার
সম্পত্তির অধিকার
ন্যায়বিচার লাভের অধিকার
এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচার রোধ করে এবং নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসমূহ উল্লেখ আছে। এগুলো সরাসরি আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। যেমন—
সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
শ্রমিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা
নারীর অধিকার ও সমতা নিশ্চিতকরণ
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন
সংবিধান সংশোধনীসমূহ
এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
পঞ্চম সংশোধনী: সামরিক শাসন বৈধকরণ (পরে বাতিল)
অষ্টম সংশোধনী: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা
ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
এসব সংশোধনী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা
বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষায় বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মামলা—
পঞ্চম সংশোধনী মামলা: সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
মাসদার হোসেন মামলা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত
ইলিয়াস আলী বনাম রাষ্ট্র: মৌলিক অধিকার রক্ষা
এই মামলাগুলো সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।
সংবিধান শুধু একটি আইনি দলিল নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। তাই সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা নাগরিক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ব্রিটিশ আমলের অনেক দলিলে আগেকার কাঠার নিয়মে জমির কাত দেখিয়েছেন। যেমন ২১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় ১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় । হয়ত এমনও লেখা থাকতে পারে ॥ ৪ কাঠার কাত ।।২ কাঠা। আগের দিনে সের যেভাবে লেখার নিয়ম ছিল কাঠাও একই প্রণালীতে লেখার নিয়ম ছিল । শুধু দশ সেরে ১ চৌক হতে ৪ চৌকে ১ মণ হত কিন্তু কাঠার বেলায় ৫ কাঠায় ১ চৌক হত এভাবে ৪ চৌকে বা ২০ কাঠায় ১ বিঘা হত ।
দলিল ও খতিয়ান ছক
ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, গ = ৪ আনা, ১ আনা = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।
মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক— ২ আনা + ৩ আনা +8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা’।
এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল।
মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে
ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল এভাবে—
৫ গন্ডা বা ৩ পাই এ ১ পয়সা = ৫২ পয়সা (১০
৪ পয়সা বা ১২ পাই এ ১ আনা =) ৩ পয়সা ১৫
পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।
খতিয়ান নং ৩০
এই খতিয়ানে মোট জমি ৩ একর ৫২ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা দেখান হল।
৩ একর ৫২ শতাংশ = ৩00 + 2 = ৩৫২ শতাংশ। এখন মোট জমি অর্থাৎ ৩৫২ শতাংশকে ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলেই মালিকের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যাবে।
সুতরাং (ক) ০.১২ ভাগে পায় (৩৫২x.১২) = ৪২.২৪ শতাংশ বা সোয়া ৪২ শতাংশ (খ) ০.১৭ ভাগে পায় (৩৫২.১৭) = ৫৯.৮৪ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ
(গ) ০.১৯ ভাগে পায় (৩৫২.১৯) = ৬৬.৮৮ শতাংশ বা ৬৭ শতাংশ
(ঘ) ০.২৫ ভাগে পায় (৩৫২.২৫) = ৮৮ শতাংশ
(ঙ) ০.০৭ ভাগে পায় (৩৫২.০৭) = 24.64 শতাংশ বা ২৫ শতাংশ
(চ) ০.০৬ ভাগে পায় (৩৫২.০৬) = ২১.১২ শতাংশ বা ২১ শতাংশ
(ছ) ০.০৪ ভাগে পায় (৩৫২×.০৪) = ১৪.০৮ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ
(জ) ০.০২ ভাগে পায় (৩৫২.০২) = ০৭.০৪ শতাংশ বা ৭ শতাংশ (ঝ) ০.০৮ ভাগে পায় (৩৫২.০৮) = ২৮.১৬ শতাংশ বা ২৮ শতাংশ
খতিয়ানে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি দেয়া আছে। ধরে নিতে হবে যে, অক্ষরগুলোই কোন ব্যক্তি বা মালিকের নাম বুঝানোর জন্য দেয়া হয়েছে ।
খতিয়ান নং ৪০
মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি :
১০ গণ্ডা + ১৭ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা +১২ গণ্ডা + ২ গন্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৬ পা + ১২ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা মোট ১০০ গণ্ডা ১০০ গণ্ডায় ৫ আনা (যেহেতু ২০ গণ্ডায় এক আনা) হওয়ার দরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ৫ আনা এখন আনা যোগ করি = ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ৩ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা = হাতের ৫ আনা মোট = ১৬ আনা বা ১.০০ টাকা।
এখন মোট জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে অংশীদারের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ বের হবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট জমিকে শতাংশ করি এবং মালিকের অংশের ঘরকেও গন্ডায় পরিণত করি। মোট জমি ২ একর ৪০ শতাংশকে সব শতাংশ করলে হয় (১০০ শতাংশে ১ একর)। সুতরাং, ১০০ x ২ +৪০ = ২০০+৪০ = ২৪০ শতাংশ।
মালিকের অংশগুলো গণ্ডায় পরিণত করলে মোট গন্ডার পরিমাণ হয় ১ টাকা =১৬ আনা ।
আবার ২০ গন্ডায় ১ আনা। সুতরাং ১ টাকা = মোট গণ্ডা হয় ১৬×২০ = ৩২০ গণ্ডা। মোট জমিকে ৩২০ দ্বারা ভাগ করে দেখি প্রতি গণ্ডায় কি পরিমাণ জমি হয়। হিসাবের সুবিধার্থে মালিকের অংশগুলো সর্বনিম্ন এককে পরিণত করি (এখানেগণ্ডা হচ্ছে সর্বনিম্ন একক)।
খুব ভাল করে মনে রাখবেন, আনার ডানে বসে গন্ডা, গন্ডার ডানে বসে কড়া, কড়ার ডানে বসে কাপ অথবা ক্রান্তি। এক এক খতিয়ানে এক এক রকম থাকে অর্থ কাগে থাকলে সে খতিয়ান কাগের সূত্রে হিসাব হয়। ক্রান্তি থাকলে সে খতিয়ান ক্রান্তি সূত্রে হিসাব হয়। কাগ ক্রান্তির ডানে যথাক্রমে তিল/দন্তি সেই অনুসারে হিসাব। তিলের ডানে রেনু, রেনুর ডানে ঘুন বসে। এদের মধ্যে গণ্ডা, দণ্ডি, তিল এই সংকেতগুলো বাংলায় পাওয়া যায়।
খতিয়ান নং ৫০
৫০নং খতিয়ানের মোট জমি ৯ একর ৭৫ শতাংশ। মালিকের অংকের ঘরটা যোগ করি
(.১২+.১০+.১৩+.১৩+.১৪+.১৬+.১২+.০৫ +.০৩ +.০২) =১.০০
মোট জমি ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে কে কতটুকু পায় তা বের হবে।
ক, ১২ অংশ পায় ১৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
খ, ১০ অংশ পায় ৯৭৫x১০ = ৯৭.৫ শতাংশ বা ৯৭ শতাংশ
গ, ১৩ অংশ পায় ৯৭৫X ১৩ = ১২৬.৭৫ শতাংশ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঘ, ১৩ অংশ পায় ১৭৫X ১৩ = ১৬.৫ বা ১ একর ২৭ শতাংশ
ঙ, ১৪ অংশ পায় ৯৭৫x১৪ = ১৩৬.৫ বা ১ একর ৩৬ শতাংশ
চ, ১৬ অংশ পায় ৯৭৫x১৬ = ১৫৬ শতাংশ বা ১ একর ৫৬ শতাংশ
ছ, ১২ অংশ পায় ৯৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ
জ, ০৫ অংশ পায় ৯৭৫.০৫ = ৪৮.৭৫ শতাংশ ঝ, ০৩ অংশ পায় ৯৭৫.০৩ = ২৯.২৫ শতাংশ
ঞ. .০২ অংশ পায় ৯৭৫×.০২ = ১৯.৫ শতাংশ
[বিঃ দ্রঃ দশমিকের ডানে ৩ অংকের পর যদি ৫ হতে উপরে সংখ্যা থাকে তা হলে ঐ সংখ্যা উঠিয়ে ০.০১ যোগের নিয়ম রয়েছে।]
খতিয়ান নং ৬০
৬০নং খতিয়ানে মালিকের অংশ
ক = ) ৮। (১ আনা সোয়া ৮ গন্ডা)
খ)১০।। (২ আনা সাড়ে ১০ গন্ডা)
গ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা) ঘ = ) ১৭(১ আনা পৌনে ১৮ গন্ডা)
ঙ = / ১১। (১ আনা সোয়া ১১ গন্ডা) fe
চ = /১৩।। (১ আনা সাড়ে ১৩ গন্ডা)
ছ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা)
জ = ) ১৩। (১ আনা সোয়া ১৩ গন্ডা)
ঝ =)। (২ আনা ১ কড়া
ঞ = (! (১ কড়া)
এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১২ একর ৮০ শতাংশ; তার মধ্যে এই খতিয়ানে পায় (আট আনা) ১২.৮০ / ১৬ = ০.৮X৮=৬.৪
আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে।
আট আনায় জমির পরিমাণ হয় ৬ একর ৪০ শতাংশ।
এখন এই ৬ একর ৪০ শতাংশ জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে, কোন মালিক কটটুকু পায় তা জানা যাবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ নিম্নদিকে কড়ায় পরিণত করি (যেহেতু সর্বনিম্ন একক কড়া)।
মনে করা যাক, আমি ৬নং এই খতিয়ান বর্তমান দশমিকের হিসাবে দেখতে চাই এবং সবাইকে বুঝাতে চাই।
কারণ দশমিক সব শিক্ষিত লোকের জানা আছে ।
বইয়ের ৬নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কড়া। এখন এই খতিয়ানে ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত মোট ১ টাকা হিসাবে বণ্টন করা আছে।
সেই অনুসারে ১ টাকাতে মোট ১২৮০ কড়া (কড়া, ক্রান্তি বিশ্লেষণ এর সূত্র দেওয়া আছে।)
সুতরাং ৭ নং কলামে দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের অংশ লিখতে হবে ০.৫০। এখন মালিকের অংশ অর্থাৎ ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত এর হিসাব করি । আমাদের জানা আছে যে, ১২৮০ কড়াকে ১.০০ টাকা বা ১ এর উপর বন্টিত
আছে।
বিঃ দ্রঃ ০.০০০৭৮ সংখ্যাটি ভাগ হওয়ার দরুন ০.০০০৭৮ কে উঠাইয়া .00 ধরা হয়েছে সূক্ষভাবে।
ধরতে গেলে এতে ০.০০০২২ যোগ করা হয়েছে।
সুতরাং ৬নং খতিয়ানে সকলের বুঝার জন্য এখন বর্তমান দশমিক অংশ হবে
ক = ০.০৮৮
খ = ০.১৫৮
গ=০.১০২
ঘ = ০.১১৮
৫ = ০.০৯৮
চ = 0.১০৪
ছ = ০.১০১
জ = .১০৪
ঝ = 0.১২৫
ঞ = ০.00১
[পূর্বকার এবং বর্তমান উভয়টি ঠিক আছে কিনা বা কারও কম বেশি হয়েছে কিনা
তা জানার জন্য এই হিসাব জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।]
বিঃ দ্রঃ- দশমিক উঠানোর সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দশমিকের জন্য ১ ধরা এবং দশমিকের ডানে যত সংখ্যা থাকে ততটি শূন্য ১ এর ডানে বসাতে হবে। অংকের নিয়মমত কাজ করতে হবে।
খতিয়ান নং ৭০
৭০নং খতিয়ানে মোট জমি ২ একর, (২ একর = ২X১০০=২০০ শতাংশ) মধ্যে ৮৯০ অংশ এই খতিয়ানে প্রায় (২০০/১০০০=২০০x.৮৯০) = ১৭৮ শতাংশ বা ১ একর ৭৮ শতাংশ। এখন এই ১ একর ৭৮ শতাংশকে ১.০০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেক মালিকের অংশ পাওয়া যাবে।
খতিয়ান নং ৮০
এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৩৯ একর, ১ শতাংশ তার মধ্যে ( ।।৯১০) সাড়ে ১০ আনা এই খতিয়ানের দাবী। { ১টাকা= ৩২০ গন্ডা) ৩৯০১/ ৩২০= ১২.১৯ প্রতি গন্ডায় পায় (সাড়ে দশ আনা = ২১০ গন্ডা)। সুতরাং সাড়ে দশ আনায় পায় = ১২.১৯×210 = ২৫.৬০ শতাংশ}
এতে এ খতিয়ান পেয়েছে ২৫ একর ৬০ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার্থে এ খতিয়ানের মোট জমিকে শতাংশে পরিণত করি। ২৫ একর ৬০ শতাংশ = (২৫×১০০+৬০) = (২৫০০+৬০) = ২৫৬০ শতাংশ হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ সব একই জাতীয় রাশি বা কাগে পরিণত করি, যেহেতু সর্বনিম্ন একক কাগ।
২০ গণ্ডায় ১ আনা, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৪ কাগে ১ কড়া
ক এর মোট কাগ= ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১ গণ্ডা = ২১ গণ্ডা। ২১ গণ্ডা × ৪ = ৮৪ কড়া + ২ কড়া = ৮৬কড়া। ৮৬ কড়া x 8 = ৩৪৪ কাগ + ২ কাগ = ৩৪৬ কাগ ।
খ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১২ গণ্ডা = ৩২ গণ্ডা। ৩২ গণ্ডা ×৪ = ১২৮ কড়া। ১২৮ কড়া + ১ কড়া = ১২৯ কড়া। ১২৯ কড়া × ৪ = ৫১৬ কাগ। ৫১৬ কাগ + ১ কাগ = ৫১৭ কাগ ।
গ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গণ্ডা। ২৩ গণ্ডা × ৪ = ৯২ কড়া + ২ কড়া = ৯৪ কড়া। ৯৪ কড়া ×৪ = ৩৭৬ কাগ। ৩৭৬ কাগ + ৩ কাগ = ৩৭৯ কাগ।
ঘ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ =৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ২ কড়া = ৯৮ কড়া। ৯৮ কড়া x ৪ = ৩৯২ কাগ। ৩৯২ কাগ + ১ কাগ = ৩৯৩ কাগ ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০×১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা। ২৫ গণ্ডা x 8 = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ১ কড়া = ১০১ কড়া। ১০১ কড়া x ৪ = ৪০৪ দাগ। ৪০৪ কাগ + ২=৪০৬ কাদ।
চ এর মোট কাগ = ২০ x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা । ২৫ গণ্ডা X ৪ = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ২ কড়া = ১০২ কড়া। ১০২ কড়া x 4 = ৪০৮ কাগ। ৪০৮ কাগ + ৩ কাগ = ৪১১ কাগ।
ছ = এর মোট কাগ = ২০ x ৩ = ৬০ গণ্ডা। ৬০ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা = ৬৬ গণ্ডা ।
৬৬ গণ্ডা × ৪ কড়া = ২৬৪ কড়া। ২৬৪ কড়া + ২ কড়া। ২৬৬ কড়া ×৪ = ১০৬৪ কাগ। ১০৬৪ কাগ + ১ কাগ = ১০৬৫ কাগ ।
জ এর মোট কাগ= ২০x২ = ৪০ গণ্ডা ৪০ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা = ৪৭ গণ্ডা। ৪৭ গণ্ডা × ৪ = ১৮৮ কড়া। ১৮৮ কড়া + ১ কড়া = ১৮৯ কড়া। ১৮৯ কড়া x ৪ = ৭৫৬ কাগ। ৭৫৬ কাগ + ২ কাগ = ৭৫৮ কাগ।
ঝ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা + = ২৮ গণ্ডা। ২৮ গণ্ডা X ৪ = ১১২ কড়া। ১১২ কড়া + ১ কড়া = ১১৩ কড়া। ১১৩ কড়া x 4 = ৪৫২ কাগ ৪৫২ কাগ + ৩ কাগ = ৪৫৫ কাগ।
ঞ এর মোট কাগ = ২০ x ১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ = ৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ১ কড়া = ৯৭ কড়া। ৯৭ ×৪ = ৩৮৮ কাগ। ৩৮৮ কাগ + ২ কাগ = ৩৯০ কাগ ।
১ টাকা = ১৬ আনা x ২০ = ৩২০ গন্ডা। ৩২০ গণ্ডা X ৪ = ১২৮০ কড়া।
১২৮০x৪ = ৫১২০ কাগ । এই খতিয়ানে আসা মোট জমিকে ৫১২০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ জানা যাবে।
মনে করা যাক এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানকে সকালে বুঝার জন্য দশমিক জানতে চাইল।
৮নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কাগ। সুতরাং ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত (১নং কলামের) কে, কত কাগ করে পেয়েছে তা প্রথমে বের কারতে হবে।
আর খতিয়ানের ৭নং কলামে কাগের খতিয়ানের অংশটাকে সর্বনিম্ন একক গভা
থাকার দরুন গন্ডার উপর হিসাব করতে হবে। নিম্নে তা দেখানো হল ।
এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানের মালিকদের মোট যে কাগের হিসাব করা আছে তা হতে আমাদের এটা জানা আছে যে,
কড়া ক্রান্তি বিশ্লেষণ হতে আমাদের জানা আছে যে, ৫১২০ কাগ = ১.০০ টাকা বা ১ অংশ হয়েছে। এবং এর মধ্যেই এই খতিয়ানে বন্টিত আছে।
সুতরাং ৭নং কলামে বসবে ০.৬৫৬
৮নং খতিয়ানে দেখতে পাচ্ছি এই খতিয়ানের দাগে জমির পরিমাণ ৩৯ একর ১ শতাংশ তার মধ্যে এই খতিয়ানে এসেছে ০.৬৫৬ অংশ আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে। এখন এই মোট জমি ৩৯ একর ১ শতাংশকে ১,০০০ দ্বারা ভাগ করলে বুঝা যাবে এই খতিয়ানে কত জমি এসেছে তা দেখান হল হিসাব সুবিধার জন্য একরকে শতাংশ করে ।
সুতরাং খতিয়ানের ৭নং কলামের অংশে পায় জমির পরিমাণ (৩৯০১ x ০.৬৫৬) = ২৫৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ একর ৫৯ শতাংশ যেহেতু ১০০ শতাংশে ১ একর) এখন এই ২৫৫৯ শতাংশকে আবার মালিকের মোট অংশ অর্থাৎ ১০০০ দ্বারা ভাগ ঘরে মালিকের স্ব স্ব অংশ দ্বারা গুণ করলে তা জানা যাবে। যেহেতু এখানে হাজারের রে বন্টন রয়েছে ।
মালিকের অংশের ভাগ
২৫৫৯ = ১০০০ = ২৫৫৯ শতাংশ
সুতরাং
ক পায় ২৫৫৯ × ০.০৬৮ = ১৭৪.০১ শতাংশ
খ পায় ২৫৫৯ × 0. 101 = 258.4৫ শতাংশ
গ পায় ২৫৫৯ × ০.০৭৪ = ১৮৯.৩৬ শতাংশ
ঘ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = ১৯৭.০৪ শতাংশ
ঙ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = 202.১৬ শতাংশ
চ পায় ২৫৫৯ × ০.০৮০ = ২০৪.৭২ শতাংশ
ছু পায় ২৫৫৯ × ০.২০৮ = ৫৩২.২৭ শতাংশ
জ পায় ২৫৫৯ × ০.১৪৮ = ৩৭৮.৭৩ শতাংশ
ঝ পায় ২৫৫৯ × 0.089 = 22৭.৭৫ শতাংশ
ঞ পায় ২৫৫৯ × 0.0१৬ = ১৯৪.৪৮ শতাংশ
এভাবে পূর্বকার এবং বর্তমান তুলনা করলে কোন ভুল আছে কিনা রেকর্ডে তা বুঝা সম্ভব । তবে তুলনার ক্ষেত্রে দশমিকের সংখ্যাতে সামান্য গড়মিল থাকতে পারে।”
সাধারণত দশমিকের ৩ ঘর পরে ৫ এর উপরে সংখ্যা থাকলে ঐ সংখ্যাটি উঠিয়ে ১ যোগের নিয়ম রয়েছে যেমন কোন হিসাবে দেখা গেছে যে .২৫৬৭ শতাংশ বা ২৫৬৭ কাঠা বা যাই হোক না কেন শতাংশটার অর্থ হচ্ছে ১ শতাংশ জমিকে ১০,০০০ ভাগে ভাগ করে তার .২৫৬৭ ভাগ। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ৭ কে উঠিয়ে যদি ১ যোগ করে ৬কে ৭ করি তবে যোগ করা হয়।
০.০০১ – .০০০৭ = .০০০৩ অর্থাৎ ১ শতাংশ বা কাঠা এর দশ হাজার ভাগের ৩ ভাগ মাত্র। ইহা এ জন্যই নগন্য হিসাবে ধরে হিসাবের সুবিধার জন্য যোগ বা বিয়োগ করা হয় ।
আবার এমনও হতে পারে যে এই ৮০নং নতুন খতিয়ানেরই ছ নামক ব্যক্তি ৭২ শতাংশ জমি প নামক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেছে। সে এই খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে জানতে চাওয়া হলে। তার হিসাব নিম্নরূপ হবে ।
আমরা ৮০নং নতুন খতিয়ানে দশমিকের হিসাবে দেখতে পাই ছ ব্যক্তি মোট জমি পায় ৫৩২.২৭ শতাংশ। তা হতে ৭২ শতাংশ বিক্রয় করলে থাকে (৫৩২.২৭ – ৭২) = ৪৬০.২৭ শতাংশ ।
ছ এই খতিয়ানের অংশ পেয়েছে ০.২০৮ এবং তাতে মোট জমি পেয়েছে ৫৩২.২৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যায়। (প এর খতিয়ানের অংশ বের করবার জন্য)
নতুন ক্রেতা ব্যক্তি প এই ৮০নং নতুন খতিয়ানের বর্তমান অংশীদার হবে ০.০২৮ আর ছ ব্যক্তির থাকবে (০.২০৮ – ০.০২৮) = ০.১৮ অংশ ।
খতিয়ান নং ৯০
৯০নং খতিয়ান
এই খতিয়ানে মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি।
১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি+ ১ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি মোট ১৫ ক্রান্তি। ১৫ ক্রান্তিতে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) = ৫ কড়া হয় (হাতে থাকে) এখন কড়া যোগ করি । ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ৫ কড়া (হাতের) মোট ২০ কড়া (৪ কড়া = ১ গন্ডা বিধায়) ৫ গন্ডা হল (হাতে)।
এখন গন্ডা যোগ করি ১০ গন্ডা + ১২ গন্ডা + ৩ গন্ডা + ১৪ গন্ডা + ৬ গন্ডা + ৮ গন্ডা + ২ গন্ডা + ৪ গন্ডা + ৭ গন্ডা + ৯ গন্ডা এবং হাতের ৫ গন্ডা মোট ৮০ গন্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৪ আনা হাতে রইল। এখন আনা যোগ করি ১ আনা + ১ আনা + ১ আনা +১ আনা + ২ আনা + ২ আনা + ১ আনা +১ আনা +১ আনা + ১ আনা এবং হাতের ৪ আনা মোট ১৬ আনা ১৬ আনা= ১ টাকা।
হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশকে ক্রান্তিতে পরিণত করি। (যেহেতু সর্বনিম্ন
একক ক্রান্তি)।
১ আনা = ২০ গন্ডা
৪ কড়া = ১ গন্ডা
৩ ক্রান্তি = ১ কড়া
এভাবে ১ গণ্ডা = ০.০০৩১২৫ টাকা
১ কড়া = ০.০০০৭৮১২ টাকা
১ কাগ = ০.০০০১৯৫৩ টাকা
১ তিল = ০.০০০০০৯৭ টাকা
১ রেনু = ০.০০০০০২৪ টাকা
১ ঘুন = ০.০০০০০০৬ টাকা
১ ক্রান্তি – = ০.০০০২৬০৪ টাকা
১ দন্তি = ০.০০০০৮৬৮ টাকা
১ যব = ০.০০০০২৮৯ টাকা
এ খতিয়ানে মোট জমি ৪৬ একর ০৮ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার জন্য একরকে
শতাংশে পরিণত করি :
খতিয়ান নং ১০০
১০০ নং খতিয়ানের মালিকের অংশের ঘর যোগ করি । ২তিল + ১০তিল + ৮তিল + ১৬তিল + ৪তিল মোট ৪০ তিল ।
(২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) কিছু বসে নাই (হাতে ২ কাগ)। এখন কাগ যোগ করি। ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ + ১ কাগ + ১ কাগ এবং হাতের ২ কাগ মোট ৮ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ২ কড়া) এখন কড়া যোগ করি ১ কড়া + ২ কড়া +১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া+ ২ কড়া+ ২ কড়া এবং হাতের ২ কড়া মোট ১৬ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার দরুন) কিছু বসে নাই (হাতে ৪ গণ্ডা) এখন গণ্ডা যোগ করি।
৪ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ১০ গণ্ডা + ৮গণ্ডা + ২ গণ্ডা + ৪ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ২ গণ্ডা+ হাতের ৪ গণ্ডা মোট = ৬০ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ৩ আনা) এখন আনা যোগ করি। ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ১আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা এবং হাতে ৩ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।
মনে করা যাক, এই খতিয়ান থেকে চ-এর অংশ বের করব। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়।
মোট জমিকে ১৬ আনার উপর ভাগ করে দেখি প্রতি আনায় কি পরিমাণ হয় ।
খতিয়ান নং ১১০
এই খতিয়ানে দুটি দাগ রয়েছে। ১ম দাগ নং ৭৬। এতে মোট জমি ১৫ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে ।)(ছয় আনা) (১৫৩৬ =১৬ = ৯৬ শতাংশ ×৬ = = ৫৭৬) অংশে ৫ একর ৭৬ শতাংশ এসেছে। আর অবশিষ্ট জমি অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।
দ্বিতীয় দাগ নং ১৮ এতে মোট জমি ৭২ শতাংশ এর মধ্যে ০(১২ আনা) অংশে ৫৪ শতাংশ এই খতিয়ানে পেয়েছে। অবশিষ্ট অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।
আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
দলিল বলতে যে কোন চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ বোঝায়। তবে বাংলা ভাষায় সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়, বণ্টন এবং হস্তান্তরের জন্য ‘দলিল’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দলিলের পাঁচটি মৌলিক তথ্য হলো: (ক) সম্পত্তির বর্ণনা, (খ) দাতার পরিচয়, (গ) গ্রহীতার পরিচয়, (ঘ) সাক্ষীদের পরিচয় এবং (ঙ) দলিল সম্পাদনের তারিখ। দলিল সম্পাদনের পর সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এতে দলিলের আইনি বৈধতা দৃঢ়তর হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়।
খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের পাকা বইতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় লেনদেনগুলোর বিভন্ন প্রকার পক্ষসমূহকে পৃথক পৃথক শিরোনামের আওতায় শ্রেনীবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্তকারে লিপিবদ্ধ করা। এক কথায় খতিয়ান হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাবের সমষ্টিগত রুপ।
১ টাকা= ১৬ আনা= ৩২০ গন্ডা= ১২৮০ কড়া= ৩৮৪০ ক্রান্তি= ১১৫২০ দপ্তি= ৩৪৫৬০ যব ।
একটি খতিয়ান
ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, প = ৪ আনা, ঘ = ১ আনা, ঙ = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।
মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক ২ আনা + ৩ আনা + 8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।
এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল ।
মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
১ একর ৫৬ শতাংশ = ১০০ শতাংশ + ৫৬ = ১৫৬ শতাংশ
জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল
পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।
আবার অংশ ধরে শতাংশ বের করেও শতাংশের উপর খাজনার হিসাব করা যায়।
ভূমি সংক্রান্ত খতিয়ান, জমির পরিমাণ নির্ণয়, বণ্টন কিংবা লেনদেনের হিসাব—সবক্ষেত্রেই আজ দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। অতীতে কড়া–ক্রান্তি বা বিঘা–কাঠার মতো এককে হিসাব করা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ রেকর্ড ও গণনা দশমিকেই করা হয়। তাই দশমিক সংখ্যায় যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ জানাটা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, ভূমি অফিসের কর্মচারী, জরিপকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই লেখায় আমরা দশমিক অংকের চারটি মৌলিক নিয়ম—যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ—সহজ ভাষায়, ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছি এবং বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছি কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দশমিকের হিসাব করা যায়।
দশমিকের হিসাব
পূর্বেই বলা হয়েছে খতিয়ানে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ কিজন্য প্রয়োজন । এখন দশমিকের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দশমিকেও খতিয়ান হিসাব করা হয়েছে পরবর্তীতে। নিচের সংখ্যাগুলোর যোগফল নির্ণয় কর
(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ = কত?
(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = কত?
উত্তরঃ
(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ =৩০.৮২১
(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = ১৫.৪২৭
ব্যাখ্যাঃ এখানে যোগ অংকগুলো লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে যে, দশমিককে একই সারিতে বসানো হয়েছে তাতে দশমিকের সদৃশের মতো হয়েছে। এভাবে ঠিক করে বসিয়ে স্বাভাবিক যোগের নিয়মে যোগ করে দশমিকের সারিতে দশমিক বসালেই হবে।
বিয়োগ করঃ
(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = কত?
(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = কত?
উত্তর :
(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = .২১৪২
(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = ২৩.০৪৫
ব্যাখ্যা : প্রথমে দশমিকগুলো একই সারিতে বসানো হয়েছে। ১ নং এ ৮ এর উপরে কোন সংখ্যা না থাকায় স্বাভাবিক বিয়োগের ন্যায় ১০ ধরে ৮ বাদ দেয়া হয়েছে, হাতের ১ শূন্য এর সংগে যোগ করে ৫ হতে ১ বাদ দিয়া ৪ বসানো হয়েছে। ৯ এর উপরে • থাকার দরুন স্বাভাবিক বিয়োগের নিয়মে ১০ ধরে ৯ বাদ দেয়া হয়েছে। হাতের ১, ৯ এর সংগে যোগ করে ১০ হয়েছে উপরের সংখ্যা ছোট হওয়ার দরুন ১২ ধরে তা হতে ১০ বাদ দিয়া বসানো হয়েছে। হাতে ১ থাকে দশমিকের সোজাসুজি দশমিক বসানো হয়েছে। ১ হাতে থাকে তা নিচে ধরে বাদ দিলে কিছুই থাকে না।
দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে গুণ :
১। ৬.৪৮ কে ৫ দিয়ে গুণ কর ।
এখানে ৬.৪৮ হচ্ছে শুণ্য এবং ৫ হচ্ছে গুণক ।
২। ৬.৪৫ কে ৮ দ্বারা গুণ কর ।
এখানে ৬.৪৫ হচ্ছে গুণ্য এবং ৮ হচ্ছে গুণক ।
(১) ৬.৪৮ x ৫ = ৩২.৪০
(২) ৬.৪৫ x ৮ = ৫১.৬০
ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিকবিহীন অংক যেভাবে গুণ করতে হয় সেই একইভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু (দশমিকের ডানদিকে অংক গণনা করে) দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় উত্তরে ডানদিক হতে ২টি অংকের পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে। এখানে ডানের শূন্য না বসালেও অংকে মানের কোন পরিবর্তন হবে না। (দশমিকের পর ডানে কোন সংখ্যা না থাকলে শূন্য বসে না। )
ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিক ছাড়া অংক যেভাবে করতে হয় সেভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু গণনা দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় গুণফলের ডানদিক হইতে ২টি অংকের পূর্ব দশমিক বিন্দু বসেছে।
দশমিক সংখ্যাকে দশমিক দিয়ে গুণ :
(১) ০.৬ কে ০.৭ দ্বারা গুণ কর।
(২) ০.৮ কে ০.৯ দ্বারা গুণ কর।
উত্তর :
(১) ০.৬ x ০.৭ = ০.৪২
(২) ০.৮ x ০.৯ = ০.৭২
ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণ গুণের মত গুণ করা হয়েছে। তারপর গুণ্যে ও গুণকের দশমিক বিন্দুর ডানপাশের অংকের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। যেমন-
{১ নং ( .৬ এর জন্য) ১ সংখ্যা + এবং (.৭ এর জন্য) ১ সংখ্যা মোট ২ সংখ্যা }
গুণফলে ঐ ২ সংখ্যা অর্থাৎ ০.৪২ এর আগে দশমিক বসানো হয়েছে।
(১) ৪.৬৮৯ কে .১৪ দ্বারা গুণ কর।
(২) ০.৬৫১ কে .১৭ দ্বারা গুণ কর।
উত্তর :
ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণত গুণের মত গুণ করে বসানো হয়েছে। গুণ্যে ডানদিক থেকে ৩ সংখ্যা আগে এবং গুণক এ ডানদিক থেকে ২ সংখ্যা মোট ৫ সংখ্যা পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে।
দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে ভাগ
(১) ৪৫.৫ কে ৫ দ্বারা ভাগ কর।
(২) ৪৯.৭ কে ৭ দ্বারা ভাগ কর।
উত্তর :
ব্যাখ্যা : সাধারণ ভাগের মত ভাগ করা হয়েছে। শুধু যখনই দশমিক বিন্দুর পরের সংখ্যা ভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তখন ভাগফলে দশমিক বিন্দু বসেছে।
দশমিক সংখ্যাকে দশমিক সংখ্যা দ্বারা ভাগ :
(১) ৬.৬৫ কে ৩.৫ দ্বারা ভাগ কর।
(২) ১৫.২৫৫ কে ১.৫ দ্বারা ভাগ কর ।
ব্যাখ্যা: ভাজককে পূর্ণ সংখ্যা করার জন্য দশমিক বিন্দুকে ডানে যত অংক পর্যন্ত সরানো হবে ভাজ্যেও দশমিক বিন্দুকে ডানে তত অংক পর্যন্ত সরাতে হবে; যেমন আগের অংকে উপরে ৬.৬৫ এবং নিচে ৩.৫ ছিল। পরবর্তীতে ৬৬.৫ উপরে এবং নিচে ৩৫ লেখা হয়েছে। (এতে হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে) তারপর লবকে হর দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল পাওয়া যাবে। ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যার নাম লব এবং নিচের সংখ্যার নাম হর।
(এই লব ও হর আরও উদাহরণ দিয়ে অন্যভাবে বুঝাবার চেষ্টা করছি)।
মনে করি ২২.৬৮৮ সংখ্যাটিকে ১.৬ দ্বারা ভাগ করতে হবে।
(২২.৬৮৮×১০) / ১.৬ = ২২৬.৮৮/১৬
আবার মনে করি, ১৭.৪৩৭২ সংখ্যাটিকে ১৩.২১ দ্বারা ভাগ করতে হবে।
(১৭.৪৩৭২*১০০) / ১৩০২১
= ১৭৪৩.৭২ / ১৩২১
এই দুটি উদাহরণে লবকে অর্থাৎ উপরে প্রথমে ১০ দ্বারা এবং পরে ১০০ দ্বারা গুণ করা হয়েছে এজন্য যেন নিচের হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ পায়। যেমন— অংকে ১৭.৪৩৭২ ছিল ১০০ দ্বারা গুণের ফলে ১৭৪৩,৭২ হয়েছে লবে। আর হরে দশমিক কেটে ১৩২১ বা পূর্ণ সংখ্যা হয়েছে। ইহা দশমিকের ভাগের সুবিধার জন্য ।
আজকে আমরা আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম সম্পর্কে জানবো। বাংলাদেশ আমলের পূর্বে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানসমূহ যথা- CS ও SA খতিয়ানে একাধিক ভূমি মালিকের নাম থাকলে খতিয়ানে মোট জমিতে কোন মালিকের কতটুকু হিস্যা বা অংশ আছে তা “আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল” চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হতো। বাংলাদেশ হবার পরে আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এর পরিবর্তে খতিয়ানে জমির অংশ লেখা হয়। অর্থাৎ মোট জমিতে কার কত অংশ জমি আছে তা বুঝাতে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, যেমন- ১.০০, ১.০০০, ১.০০০০ ইত্যাদি।
CS খতিয়ানে “অত্র স্বত্বের বিবরণ ও দখলকার” ঘরে ব্যক্তির নাম এবং নামের ডানদিকে “অংশ” ঘরে ব্যক্তির মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল চিহ্ন দ্বারা লেখা থাকে। জমি ঠিকমতো ভাগ করতে গেলে চিহ্নসমূহ একসাথে লেখা ও তার যোগ, বিয়োগ, গুন ভাগের কৌশল সম্পর্কে জানা আবশ্যক।
আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম
আনার ডানে গন্ডা এবং গন্ডার ডানে কড়া, কড়ার ডানে কড়ার অংশ যেমন কাগ, ক্রান্তি, তিল, দন্ডি ইত্যাদি লিখতে হয় ৷
যোগঃ
দুই, তিনজন অংশীদার মোট কত পেয়েছে তা বুঝার জন্য যোগের প্রয়াজন-
ব্যাখ্যা:
২ তিল এবং ১৮ তিল মোট ২০ তিল। ২০ তিলে ১ কাগ বিধায় কিছু বসে নাই। (হাতে ১ কাগ রইল) উপরে ১ কাগ + নিচে ৩ কাগ + হাতের ১ কাগ মোট ৫ কাগ। ৪ কাগে ১ কড়া বিধায় এক কাগ বসেছে (হাতে ১ কড়া রইল) উপরে ১ কড়া + নিচে ১ কড়া এবং হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। এখন উপরে ১৫ গন্ডা এবং নিচে ৫ গন্ডা মোট ২০ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা, সুতরাং কিছুই বসল না। (হাতে ১ আনা) এখন আনা যোগ করি। উপরে ২ আনা + নিচে ১ আনা + হাতের ১ আনা মোট ৪ আনা বসেছে।
ব্যাখ্যা:
৫ তিল + ১০ তিল = ১৫ তিল বসেছে। ১ কাগ + ১ কাগ মোট ২ কাগ বসেছে। ১ কড়া + ২ কড়া মোট ৩ কড়া বয়েছে। ৯ গন্ডা + ১০ গণ্ডা মোট ১৯ গন্ডা বসেছে। ৬ আনা + ৪ আনা মোট ১০ আনা বসেছে।
ব্যাখ্যা:
১২ তিল + ১৪ তিল মোট ২৬ তিল। ২০ তিলে ১ কাপ হওয়ার দরুন ৬ তিল বসেছে (হাতে ১ কাগ) ২ কাপ + হাতের ১ কাপ মোট ৩ কাগ বসেছে। ৩ কড়া + ১ কড়া মোট ৪ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার সরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ১ গন্ডা) ৩ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + হাতের ১ গন্ডা = ১৭ গণ্ডা বসেছে। ৯ আনা + ১২ আনা মোট ২১ আনা, ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৫ আনা বসেছে (চোখ ধরেও যোগ করা যায় তবে এটাই প্রথমত সহজ) যেমন আনায় ১ আনা উপরে। সেই ১ আনা বসেছে।
(উপরে দুই চোখ এবং নিচে তিন চোখ মোট ৫ চোখ-৪ চোখে ১ টাকা তাই এক টাকা এবং ১ চোখ বসেছে) যদি টাকারও উপরে যায় তবে এভাবে যোগ করতে হবে। তবে খতিয়ানে টাকার উপরের হিসাব নাই। টাকার পর আনা গন্ডা না থাকলে টাকার ডানে একটু নিচে এরূপ চিহ্ন দিতে হয়।
ব্যাখ্যা:
২ দন্তি + ১ দন্তি মোট ৩ দন্তি। ৩ দন্তিতে ১ ক্রান্তি হয় সুতরাং কিছু বসে নাই। (হাতে ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি। ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ায় ১ ক্রান্তি বসেছে (হাতে ১ কড়া) ১ কড়া + ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। ৩ গন্ডা + ১২ গন্ডা মোট ১৫ গণ্ডা বসেছে। ১৫ আনা + ১০ আনা মোট ২৫ আনা। ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৯ আনা বসেছে।
ব্যাখ্যা:
২ দস্তি + ২ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৫ দন্তি। ৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি হওয়ার দরুন ২ দন্তি বসেছে । (হাতের ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি এবং হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৬ ক্রান্তি। ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন কিছুই বসল না (হাতের ২ কড়া রইল) ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া হাতের ২ কড়া মোট ৬ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হওয়ার দরুন ২ কড়া বসেছে (হাতের ১ গন্ডা) ১৫ গণ্ডা + ১২ গন্ডা + হাতের ১ গন্ডা মোট ২৮ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা হওয়ার দরুন ৮ গন্ডা বসেছে (হাতে ১ আনা) ৭ আনা +১০ আনা + ৮ আনা এবং হাতের ১ আনা মোট ২৬ আনা বা ১ টাকা ১০ আনা।
বিয়োগ:
ভিন্ন অংশে একজন অংশীদার হতে আরেকজন অংশীদার কত বেশী রেকর্ড করেছে তা বুঝার জন্য বিয়োগের দরকার।
ব্যাখ্যা:
১১ তিল হতে ৯ তিল বাদ দিলে থাকে ২ তিল তা বসেছে। ২ কাগ থেকে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ১ কড়া হলে ১ কড়া বাদ দিলে কিছুই বসে না শুধু চিহ্ন বসেছে। ২ গণ্ডা হতে ১ গন্ডা বাদ দিলে ১ গন্ডা থাকে তা বসেছে। ১৪ আনা হতে ৮ আনা বাদ দিলে ৬ আনা থাকে তা বসেছে।
ব্যাখ্যা:
১৯ তিল হতে ১২ তিল বাদ দিলে থাকে ৭ তিল তা বসেছে। ২ কাপ হতে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১০ গন্ডা হতে ৭ গণ্ডা বাদ দিলে থাকে ৩ গণ্ডা তা বসেছে। ৭ আনা হতে ৪ আনা বাদ দিলে ৩ আনা থাকে তা বসেছে।
ব্যাখ্যা:
দেখা যাচ্ছে নিচে আনা বাদে, নিচের সব সংখ্যা উপরে সব সংখ্যা হতে বড়। এ ক্ষেত্রে উপরের সংখ্যা বড় করার জন্য পাশের ১ অংক বেশী নিতে হবে যেমন ২ তিল আছে তা হতে ১৪ তিল বাদ দেয়া যায় না, সুতরাং ১ কাগ বেশী নিতে হবে (২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) ২০ তিল এবং আরও ২ তিল মোট ২২ তিল। তা হতে ১৪ তিল বাদ দিলে থাকে ৮ তিল তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ কাগ রয়েছে) হাতের ১ কাগ + ২ কাগের সাথে দিলে হবে ও কাগ নিচের।
এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটার চেয়ে বড় হয়ে যায়। সুতরাং পাশ হতে ১ অংক (১ কড়া) নিলে উপরে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৪ কাগ + ১ কাগ মোট ৫ কাগ। এখন ৫ কাগ হতে ৩ কাগ বাদ দিলে বসে ২ কাগ । (পাশের অংক হতে নেয়া ১ কড়া অর্থাৎ হাতের) ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ২ কড়া এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপর হতে বড় হয়ে গেল। সুতরাং আগের মত পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশের অংক হতে ১ অংক নিলে উপরের কড়ার পরিমাণ হবে ( ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হেতু) ৪ কড়া + ১ কড়া মোট ৫ কড়া।
এখন ৫ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ও কড়া তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ গণ্ডা থাকল) হাতের ১ গন্ডা + ১২ গণ্ডা মোট ১৩ গণ্ডা। এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটা হতে বড় হল। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক থেকে ১ অংক নিলে ( ১ আনা = ২০ গণ্ডা বিধায় ) উপরে ৩ গতা + ২০ গণ্ডা মোট ২৩ গণ্ডা। এখন ২৩ গণ্ডা হতে ১৩ গণ্ডা বাদ নিয়ে ১০ গণ্ডা বসানো হয়েছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা রইল) হাতের ১ আনা + ১ আনা মোট ১০ আনা। ১৪ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।
ব্যাখাঃ
এখানে ২ দন্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি থেকে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ। দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৫ গণ্ডা হতে ১০ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গল্প তাহা বসেছে। ১৩ আনা হতে ৯ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।
ব্যাখাঃ
২ দস্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি হতে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে ১ক্রান্তি থাকে তা বসেছে। ৩ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৭ গন্ডা হতে ১২ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গণ্ডা তা বসেছে। ১২ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ২ আনা তা বসেছে।
ব্যাখ্যাঃ
এখানে দেখা যাচ্ছে আনা বাদে নিচের সব সংখ্যা উপরের সব সংখ্যা হতে বড় সুতরাং পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশ হতে ১ অংক নিলে হবে (৩ দণ্ডিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ৩ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৪ দস্তি । এখন ৪ দন্তি হতে ৩ দন্তি বাদ দিলে বসে ১ দন্তি। (হাতে কিন্তু ১ ক্রান্তি) হাতে ১ ক্রান্তি নিচের ২ ক্রান্তির সঙ্গে যোগ করলে নিচে হবে ৩ ক্রান্তি এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড় হল।
সুতরাং পাশের অংক নিতে হবে। পার্শ্বের ১ কড়া নিলে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) উপরে মোট ক্রান্তি হবে ৩ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি। এখন ৪ ক্রান্তি হতে ৩ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। (হাতে ১ কড়া রইল) হাতের ১ কড়া এবং নিচের ২ কড়া মোট ৩ কড়া হবে, (১ কড়া + ২ কড়া = ৩ কড়া)। এক্ষেত্রেও নিচের অংক উপরের অংক হতে বড়। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক আনতে হবে।
পাশ হতে ১ গন্ডা নিলে (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়) মোট উপরে কড়া হবে ৪ কড়া + ১ কড়া = ৫ কড়া। এখন ৫ কড়া হতে ৩ কড়া বাদ দিলে ২ কড়া থাকে, তা বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা রইল) হাতের ১ গন্ডা এবং নিচের ১৫ গন্ডা মোট হবে ১৬ গন্ডা। এক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড়।
সুতরাং পাশের অংক আনতে হবে । পাশের অংক হতে ১ আনা এনে উপরে ধরলে (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) মোট হয় ২০ গন্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গন্ডা। এখন এই ২৩ গণ্ডা হতে ১৬ গন্ডা বাদ দিলে থাকবে ৭ গন্ডা তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা) এখন হাতে ১ আনা + নিচের ৪ আনা মোট ৫ আনা উপরের ১০ আনা হতে ৫ আনা বাদ দিয়ে ৫ আনা বসানো হয়েছে।
গুণ
খতিয়ানে সমান অংশে কিছু অংশীদার মিলে মোট কতটুকু পেয়েছে তা জানার জন্য গুণের দরকার হয়। ধরা যাক ৫ জন লোক প্রত্যেকে খতিয়ানের সমান অংশীদার তারা মোট কতটুকু পেয়েছে। মনে করা যাক, একজন অংশীদার ১৫ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে। ৫ জনের অংশীদার কত পাবে?
ব্যাখ্যাঃ
২ ক্রান্তি x ৫ = ১০ ক্রান্তি (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) ১০ ক্রান্তিতে হয় ৩ কড়া ১ ক্রান্তি। সেজন্য ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৩ কড়া) এখন ২ কড়া x ৫ = ১০ কড়া এবং হাতের ও কড়া মোট ১৩ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়)। (১৩ কড়া = ৪ গণ্ডা ১ কড়া) এই ১ কড়া বসেছে। (হাতে ৩ গন্ডা) এখন ১৫ গন্ডা x ৫ = ৭৫ গন্ডা + হাতের ৩ গন্ডা মোট ৭৮ গন্ডা। ৭৮ গন্ডাতে হয় (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৩ আনা ১৮ গন্ডা। ১৮ গণ্ডা বসেছে ( হাতের ও আনা) এখন আনার গুণ করলে ১ আনা x ৫ = ৫ আনা + হাতের ৩ আনা মোট ৮ আনা ।
আবার ধরা যাক, ১৫ গন্ডা ২ কড়া ১ ক্রান্তি ২ দস্তি করে প্রত্যেক অংশীদার। এরূপ দশজন অংশীদার মোট কতটুকু পায় তা হিসাব করতে হবে।
ব্যাখ্যাঃ
২ দপ্তি x ১০ = ২০ দপ্তি (৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ২০ দণ্ডিতে হয় ৬ ক্রান্তি এবং ২ দত্ত, সুতরাং ২ দস্তি বসেছে (হাতের ৬ ক্রান্তি) এখন ১ ক্রান্তি X ১০ = ১০ ক্রান্তি + হাতের ৬ ক্রান্তি মোট ১৬ ক্রান্তি। (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন) ১৬ ক্রান্তি = ৫ কড়া ১ ক্রান্তি।
এই ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৫ কড়া) এখন ২ কড়া x ১০ = ২০ কড়া + হাতের ৫ কড়া মোট ২৫ কড়া (৪ কড়ায় ১ ক্রান্তি বিধায়) ২৫ কড়া = ৬ গণ্ডা ১ কড়া। এই ১ কড়া বসেছে (হাতে ৬ গণ্ডা)। এখন ১৫ গণ্ডা x ১০ = ১৫০ গণ্ডা + হাতের ৬ গণ্ডা = ১৫৬ গণ্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা) বিধায় ১৫৬ গেণ্ডায় হয় ৭ আনা ১৬ গণ্ডা। এই ৭ আনা ১৬ গণ্ডা বসানো হয়েছে।
ব্যাখ্যা :
১৫ তিল x ৩ = ৪৫ তিল (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ) ৪৫ তিলে হয় ২ কাগ ৫ তিল। এই ৫ তিল বসেছে (হাতে ২ কাগ) এখন ১ কাপ x ৩ = ৩ কাগ + হাতের ২ কাগ মোট ৫ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৫ কাগ = ১ কড়া ১ কাগ। এই ১ কাগ বসেছে। (হাতে ১ কড়া) এখন ২ কড়া x ৩ = ৬ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৭ কড়া (৪ কড়ায় ১ গণ্ডা বিধায় ৭ কড়ায় হয় ১ গণ্ডা ৩ কড়া।
এই ৩ কড়া বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা) এখন ১৯ গণ্ডা x ৩ = ৫৭ গন্ডা + হাতের ১ গণ্ডা মোট ৫৮ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) ৫৮ গন্ডা = ২ আনা ১৮ গন্ডা। এই ১৮ গণ্ডা বসেছে। (হাতে ২ আনা) এখন ৩ আনা x ৩ = ৯ আনা + হাতের ২ আনা মোট ১১ আনা।
ভাগ :
ভাগের মাধ্যমে জানতে পারা যায় সমভাগে কোন খতিয়ানের কে কতটুকু অংশ পেয়েছে। মনে করা যাক ক কোন খতিয়ানের ১০ (৩ আনা ১০ গন্ডার অংশীদার) ক এর ৬ টি পুত্র আর কেউ নাই। ক এর মৃত্যুর পর কোন এক পুত্র তার ভাই ভাগা অংশের জমি বিক্রয় করতে গেল। এখন এই ভাই ভাগা অংশে কতটুকু পেল তা হিসাব করতে হবে।
ব্যাখ্যা নং (১) :
৩ আনা ১০ গন্ডাকে ৬ ভাগ করার সুবিধার্থে ৩ আনা ১০ গভাকে গুণ এবং যোগ করে সব গণ্ডায় পরিণত করি। মোট হল ৭০ গন্ডা। এখন এই ৭০ গণ্ডার মধ্যে ৬ এগার বার আছে তাই ১১ বসেছে। তারপরও ৪ অবশিষ্ট থাকে। এখন এই ৪ কে আবার কড়ায় পরিণত করি। কড়ায় পরিণত করলে মোট ১৬ কড়া হবে। এবার ৬, ১৬ এর মধ্যে দুবার আছে। সুতরাং ২ কড়া বসল। তবুও ৪ কড়া অবশিষ্ট থাকে।
এখন এই ৪ কড়াকে ক্রান্তি করলে মোট ক্রান্তি হবে ১২, এখন ১২ এর মধ্যে ৬ দুবার আছে। সুতরাং ২ ক্রান্তি বসল। তা হলে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক ভাই ১১। //(১১ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে।
২ নং অংক :
মনে করা যাক কোন একটি খতিয়ানে ১৪ আনার মালিক চ চ এর ৮ জন পুত্র আর কেউ নাই। চ এর মৃত্যুর পর তার পুত্ররা প্রত্যেকে কত পেল?
ব্যাখ্যা নং (২):
১৪ আনার মধ্যে ৮ একবার আছে। সুতরাং ১ আনা বসেছে। ৮ আনা ১৪ আনা হতে বাদ দিলে থাকে ৬ আনা। ৬ আনাকে ৮ দ্বারা ভাগ করা যায় না বিধায় ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করতে হবে। ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করলে হয় (৬ আনা × ২০) = ১২০ গণ্ডা। এখন ৮, ১২০ এর মধ্যে ১৫ বার আছে; সুতরাং ১৫ গন্ডা নামল। সুতরাং প্রত্যেক পুত্র পেল ১ আনা ১৫ গণ্ডা।
৩ নং অংক :
কোন খতিয়ানে আছে। ৯১৫।। (১০ আনা ১৫ গন্ডা ২ কড়ার) খ মালিক তার মৃত্যুর পর ৫ ছেলে ছাড়া কোন ওয়ারিশ না থাকলে ঐ ছেলেরা প্রত্যেকে ঐ খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে?
ব্যাখ্যা :
৫, ১০ আনার মধ্যে দুবার আছে বিধায় ২ আনা বসেছে। ৫ এখন ১৫ গন্ডার মধ্যে ৩ বার আছে বিধায় ৩ গণ্ডা বসেছে। এখন ২ কড়াকে ৫ ভাগ করা যায় না বিধায় ২ কড়াকে কাগ করলে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৮ কাগ। ৮ কাগের মধ্যে ৫ একবার আছে সেজন্য ১ কাগ বসেছে।
৮ কাগ হতে ৫ কাগ বাদ দিলে তবুও ত কাগ অবশিষ্ট থাকে, উহাকে তিল করি। (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ৩ কাগ = (৩x ২০) = ৬০ তিল । এখন ৬০ তিলের মধ্যে ৫, ১২ বার আছে, সুতরাং প্রত্যেক ওয়ারিশ পাবে ২ আনা ৩ গণ্ডা ১ কাগ ১২ তিল।
বাংলাদেশে জমির হিসাব ও পরিমাপের ইতিহাস বহু প্রাচীন। আজ আমরা একর–শতক, হেক্টর ইত্যাদি আন্তর্জাতিক এককে জমির মাপ করি। কিন্তু এই আধুনিক ব্যবস্থার আগে গ্রামবাংলা ও উপমহাদেশে ভূমির হিসাব হতো বিঘা–কাঠা, কানি–গণ্ডা, আনা–কড়া প্রভৃতি দেশীয় ও প্রথাগত পদ্ধতিতে। এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলোর অন্যতম একটি হলো কড়া বিভাগ।
আজও বহু মৌজায়, জরিপ নকশা, পুরোনো খতিয়ান ও আমিনদের মুখে আমরা এই শব্দগুলো শুনে থাকি—
“দুই কড়া”, “সাড়ে তিন গণ্ডা”, “পৌনে এক আনা” ইত্যাদি।
এই প্রাচীন হিসাব-পদ্ধতিটি বোঝা গেলে জমির হিসাব অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।
কড়া বিভাগ
গান্টার শিকল (কড়া) এর ইতিহাস
ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী Edmund Gunter (১৫৮১–১৬২৬) ভূমি পরিমাপ সহজ করার জন্য একটি ধাতব শিকল তৈরি করেন। এটি পরিচিত হয়—
Gunter’s Chain বাংলায়: গান্টার শিকল / কড়া / চেইন
ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জরিপ চালানোর সময় এই শিকল ব্যবহৃত হয়। সেই সময় জমিদারি প্রথা, নীলচাষ ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য জমির নির্ভুল মাপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তখন থেকেই বাংলায় এই চেইন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয় এবং গ্রামাঞ্চলে এটি “কড়া” নামে পরিচিত হয়।
গান্টার শিকলের পরিমাপ
বিষয়
পরিমাণ
দৈর্ঘ্য
৬৬ ফুট
মিটার
২০.১২ মিটার (প্রায়)
ভাগ
১০০ লিংক
১০ চেইন × ১ চেইন
= ১ একর
অর্থাৎ—
১০ বর্গ চেইন = ১ একর
কড়া বিভাগের মূল ধাপ
সূক্ষ্ম স্তর
ধাপ
রূপান্তর
২০ বিন্দু =
১ ধূলা
৪ ধূলা =
১ রেণু
৪ রেণু =
১ তিল
২০ তিল =
১ কাগ
৪ কাগ =
১ কড়া
৪ কড়া =
১ গণ্ডা
২০ গণ্ডা =
১ আনা
১৬ আনা =
১ কাঠা
২০ কাঠা =
১ বিঘা
কড়া → গণ্ডা গজ রূপান্তর
কড়া
গণ্ডা
১ কড়া = ৫
পৌনে এক গণ্ডা
২ কড়া = ৫½
এক গণ্ডা
৩ কড়া = ৫¾
পৌনে দুই
৪ কড়া = ৬
দুই
৫ কড়া = ৬½
সোয়া দুই
৬ কড়া = ৬¾
আড়াই
৭ কড়া = ৭
সাড়ে দুই
৮ কড়া = ৭½
তিন
৯ কড়া = ৮
সোয়া তিন
১০ কড়া = ৮½
সাড়ে তিন
১১ কড়া = ৯
চার
১২ কড়া = ৯½
সোয়া চার
১৩ কড়া = ১০
সাড়ে চার
১৪ কড়া = ১০½
পাঁচ
১৫ কড়া = ১১
সোয়া পাঁচ
১৬ কড়া = ১১½
সাড়ে পাঁচ
১৭ কড়া = ১২
ছয়
১৮ কড়া = ১২½
সোয়া ছয়
১৯ কড়া = ১৩
সাড়ে ছয়
২০ কড়া = ১৩½
সাত
২১ কড়া = ১৪
সোয়া সাত
২২ কড়া = ১৪½
সাড়ে সাত
২৩ কড়া = ১৫
আট
২৪ কড়া = ১৫½
সোয়া আট
২৫ কড়া = ১৬
সাড়ে আট
২৬ কড়া = ১৬½
নয়
২৭ কড়া = ১৭
সোয়া নয়
২৮ কড়া = ১৭½
সাড়ে নয়
২৯ কড়া = ১৮
দশ
৩০ কড়া = ১৮½
সোয়া দশ
৩১ কড়া = ১৯
সাড়ে দশ
৩২ কড়া = ১৯½
এগারো
৩৩ কড়া = ২০
সোয়া এগারো
৩৪ কড়া = ২০½
সাড়ে এগারো
৩৫ কড়া = ২১
বারো
৩৬ কড়া = ২১½
সোয়া বারো
৩৭ কড়া = ২২
সাড়ে বারো
৩৮ কড়া = ২২½
তের
৩৯ কড়া = ২৩
সোয়া তের
৪০ কড়া = ২৩½
সাড়ে তের
৮০ কড়া =
১আনা
আনা পর্যন্ত কড়া বিভাগ
কড়া
গজ
প্রচলিত নাম
১ কড়া
৫
পৌনে এক গণ্ডা
৪ কড়া
৬
দুই গণ্ডা
৮ কড়া
৭½
তিন গণ্ডা
১৬ কড়া
১১½
সাড়ে পাঁচ
২০ কড়া
১৩½
সাত
৪০ কড়া
২৩½
সাড়ে তের
৮০ কড়া
—
১ আনা
কেন কড়া বিভাগ জানা জরুরি?
১. পুরোনো দলিল ও খতিয়ান বুঝতে ২. আমিন/সার্ভেয়ারদের হিসাব বুঝতে ৩. জমির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করতে ৪. প্রতারণা থেকে বাঁচতে ৫. জমি কেনাবেচায় দরদাম বুঝতে
আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক
আজ আমরা ব্যবহার করি—
একর
শতক
বর্গমিটার
হেক্টর
কিন্তু এই সবের ভিত্তিতেই রয়েছে গান্টারের কড়া পদ্ধতি। অতএব, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থার শিকড় এই প্রাচীন কড়া বিভাগেই নিহিত।
কড়া বিভাগ কেবল একটি গণনাপদ্ধতি নয়, এটি বাংলার ভূমি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের ডিজিটাল যুগেও এই প্রাচীন সূত্র আমাদের শেখায় কীভাবে জমিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাপা যায়।
যদি আপনি জমির প্রকৃত মালিকানা বুঝতে চান, প্রতারণা থেকে বাঁচতে চান— তাহলে কড়া বিভাগ জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class