চুক্তিতে প্রতারণা আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতারণা [ Law of Contracts on Fraud, Misrepresentation ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
চুক্তিতে প্রতারণা
প্রতারণা
Fraud প্রতারণার আওতায় সে সকল কার্য অন্তর্ভূক্ত যা একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে সম্পাদন করে। প্রতারণার অর্থ কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা ঘটনা সত্য বলে বিশ্বাস করানো। চুক্তি আইনের ১৭ ধারায় প্রতরণার অর্থ এবং এর অন্তর্ভূক্ত কার্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে চুক্তির এক পক্ষ প্রতারণার সাহায্যে অপর পক্ষের প্রতিনিধি বা অপর পক্ষকে চুক্তিতে অংশ গ্রহণে প্রলুব্ধকরা। প্রতারণার আওতায় নিম্নলিখিত কার্যসমূহ অর্ন্তভূক্ত:
১। এমন প্রস্তাব করা যা সত্য নয়, প্রস্তাবকারী নিজে তা জানে। ২। তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত গোপন করা। ৩। কোনো কার্য পালন না করা অভিপ্রায় থাকা সত্ত্বেও সে কাজের অংগীকার করা। ৪। প্রবঞ্চনামূলক অন্য যে কোনো কাজ করা। ৫। এমন কোনো কাজ করা বা করা থেকে বিরত থাকা যাকে আইনে প্রতরণা বলা হয়েছে।
নীরবতা কি প্রতারনা (Can silence be braudulent ?)
নীরবতা সাধারণ অর্থে প্রতারনা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ক্ষেত্রসমূহ হলো:
১। কথা বলা যেখানে আইনগত কর্তব্য: আইন হিসেবে যেখানে কথা বলা কর্তব্য সেখানে নিরব থাকা প্রতারনা। যেমন বিক্রেতা তার সম্পত্তি বিক্রি করার সময় সম্পত্তির সকল ত্রুটি প্রকাশ করবেন। বিক্রেতা কোনো বিষয় প্রকাশ না করে ইচ্ছাকৃত নীরব থাকেন তবে তা প্রতারনা হিসেবে গণ্য হবে।
২। যে ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল: অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল। যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে বললো আপনি যদি কিছু না বলেন তবে আমি ধরে নিব সাইকেলটি উন্নত মানের। বিক্রেতা নীরব থাকায় ক্রেতা সাইকেলটি ক্রয় করে নিল, প্রকৃত পক্ষে সাইকেলটি ত্রুটিপূর্ন ছিল। এক্ষেত্রে বিক্রেতার নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে।
৩। সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণার সামিল। এই চুক্তির আওতায় পড়ে: ক) বীমা চুক্তি, খ) জামিনের চুক্তি, গ) অংশীদারিত্বের চুক্তি, ঘ) কোম্পানির শেয়ার ক্রয় চুক্তি, ঙ) বিবাহ চুক্তি এবং অন্যান্য। এ সকল চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে। ৪। অবস্থার পরিবর্তন হলে: অনেক সময় দেখা যায় যখন চুক্তি হয় তখন বক্তব্য সত্য বা সঠিক ছিল। পরে অবস্থা পরিবর্তনের ফলে বক্তব্যের সত্যতা পরিবর্তন হতে পারে। পরিবর্তিত অবস্থা অপর পক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে নতুবা প্রতারণার দায়ে দায়ী হতে হবে।
প্রতারনার ফলাফল
প্রতারনার মাধ্যমে সম্মতি আদায় করলে সে চুক্তি বাতিলযোগ্য হবে। নিম্নে প্রতারনার দায়ে চুক্তির বিভিন্ন ফলাফল উল্লেখ করা হলো:
১। যে প্রতারিত হয়েছে সে ইচ্ছা করলে চুক্তিটি বৈধ রাখতে পারে অথবা বাতিলও করতে পারে, অথবা
২। প্রতারনা না হলে চুক্তিটি যে অবস্থায় থাকতো সে অবস্থায় নিয়ে যাবার দাবি জানাতে পারে, অথবা
৩। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ক্ষতিপূরন আদায় করতে পারে।
চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তিভঙ্গ এর ক্ষতিপূরণ [ Law of Contracts on Breach of Contract ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ
ক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত যে কোন একটি অথবা প্রয়োজন বোধে একাধিক প্রতিকার পেতে পারেঃ
Rescission (চুক্তি রদ);
Damages (ক্ষতি পূরণ বা খেসারত);
Specific Performace of Contract (সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন);
Injunction (নিষেধাজ্ঞা);
Quantum Meruit (কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান)।
এইগুলির মধ্যে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও নিষেধাজ্ঞা ইকুইটি আইন হতে উৎকলিত বিধায় আদালতের সুবিচার নির্ভরশীল এবং ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act 1877) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্যগুলি বৃটিম কমন ল’ এর মাধ্যমে বিকাশ লাভ করেছে এবং বাংলাদেশ চুক্তি আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে।
চুক্তি রদ
এক পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ চুক্তিটি খারিজ করতে পারে অর্থাৎ তার অঙ্গীকার পালন করা হতে সে পক্ষ অব্যহতি পেতে পারে। সমগ্র চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে এরুপ পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া চুক্তির মুখ্য বা অপরিহার্য শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের ইচ্ছানুযায়ী চুক্তিটি বাতিল হতে পারে। গৌণ শর্ত ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ কেবল ক্ষতি পূরণ দাবী করতে পারে, চুক্তি রদ করিতে পারে না। চুক্তি আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, চুক্তিভূক্ত কোন পক্ষ যদি চুক্তি পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়, কিংবা চুক্তি পালনে নিজেকে অক্ষম মনে করে, তবে অঙ্গীকার গ্রহিতার ইচ্ছানুযায়ী চুক্তিটি রদ করা যেতে পারে।
তবে, এই অবস্থায় তার মৌণ সম্মতি থাকলে চুক্তিটি আর রদ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপঃ
“ক” একজন প্রাইভেট
“ক” হ’ল একটি জুমআ মসজিদের খতিব। তবে তিনি মসজিদ কমিটিকে না জানিয়ে মাসের দ্বিতীয় শুক্রবারের খুতবা মিস করেন। এমতাবস্থায় মসজিদ কমিটি চাইলে “ক” এর সহিত চুক্তি রদ করতে পারে। কিন্তু যদি “ক” মাসের তৃতীয় জুমআর খুতবাতে উপস্থিত হয় এবং রীতিমত খুতবা দান করে, তবে মসজিদ কমিটি আর চুক্তিটি রদ করতে পারবে না। কারণ তাতে মৌণ সম্মতি আছে বলে ধরা হবে।
Damages বা ক্ষতিপূরণ
ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ আদায় করতে পারে তাকে খেসারত বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ বলে। ক্ষতিপূরণ হচ্ছে চু্ক্তি ভঙ্গের একটি সার্বজনীন প্রতিকার। চুক্তি ভঙ্গের প্রকিতি ও উদ্ভূত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ তিন প্রকারের হতে পারে, যথাঃ
Nominal damages (নামমাত্র ক্ষতিপূরণ);
Substantial damages (প্রতুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ);
Exmplary damages (দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ)।
উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়াও চুক্তির শর্তানুযায়ী ক্ষতিপূরণ Unliquidated damages (অনির্ধারিত) বা Liquidated damages (পূর্বে নির্ধারিত) ক্ষতিপূরণ হতে পারে।
এক পক্ষের চুক্তিভঙ্গের ফলে অপর পক্ষের যখন প্রকৃত কোন ক্ষতি হয় না, তখন তার অধিকারের স্বীকৃতি স্বরুপ নাম মাত্র ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়। প্রকৃত ক্ষতির ক্ষেত্রে যথার্থভাবে ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে প্রতুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। প্রকৃত ক্ষতি যে ক্ষেত্রে নিরুপণ করা সম্ভব নয় অথচ চুক্তি ভঙ্গের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বা তাকে হতাশা করেছে বা অন্যভাবে তার যথেষ্ট ক্ষতির কারণ ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়, সেক্ষেত্রে আদালত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারেন। সাধারণতঃ বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা এ জাতীয় অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন
চুক্তির শর্তানুসারে প্রত্যেক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে চুক্তি পালন দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং প্রত্যেকে দায়মুক্ত হয়।
কোন পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে আইনতঃ সে বাধ্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। অপর পক্ষের অঙ্গীকার পালনই তার কাম্য হয়। সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে চুক্তির সুনির্দিষ্টি কার্য সম্পাদন মনজুর করতে পারেন অর্থাৎ কৃত অঙ্গীকার পালন করতে বাধ্য করতে পারেন। এই প্রতিকার ইকুইট আইন হতে উদভূত বিধায় অন্যান্য প্রতিকারের ন্যায় তা আইনগত অধিকার হিসেবে দাবী করা যায় না, আদালতের সুবিবেচনার উপর তা নির্ভরশীল।
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আদালত তা ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করে থাকেনঃ
(ক) যেখানে চুক্তি ভঙ্গের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের পরিমাণ নির্ণয় করার কোন মানদন্ড নাই। যেমন “ক” একটা কোন দুর্লভ বস্তু “খ”এর নিকট বিক্রি চুক্তি ভঙ্গ করলে “খ” এর যে ক্ষতি হবে তা নিরুপণ করার কোন মানদন্ড নাই।
(খ) স্মৃতিমন্ডিত কোন সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি। যেমন, “ক” একটা বাড়ী “খ” এর নিকট বিক্রয় করতে সম্মত হলো এবং বাড়ীটি “ক” “খ” এর পিতার নিকট হতে ক্রয় করেছিল। পৈত্রিক সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের েইচ্ছায় “খ” ঐ বাড়ীটি ক্রয় করতে চায়। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারেন।
(গ) চুক্তি পালন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যেক্ষেত্রে প্রতুল পরিমাণ প্রতিকার হয় না। যেমন, “ক” তার রাজশাহীর একটি বাড়ী “খ” এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। “খ” উক্ত বাড়ি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের জন্য তার গ্রামের বাড়ীটি বিক্রয় করলো। এমতাবস্থায় “ক” চুক্তি ভঙ্গ করলে “খ” এর যে ক্ষতি হবে তার প্রতিকার হিসেব অর্থ প্রদান যথেষ্ট হবে না। তাই চুক্তি অনুসারে রাজশাহীর সেই বাড়িটি বিক্রয় করতে “ক” কে বাধ্য করা যায়।
(ঘ) কোম্পানীর শেয়ার বা ডিবেঞ্চার বিক্রয়ের চুক্তির ক্ষেত্রেও চুক্তি পালনের নির্দেশ দেওয়া যায়।
কিন্তু নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়া হয় নাঃ
(ক) চুক্তি পালন না করা হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়।
(খ) যে ক্ষেত্রে আদালতের দ্বারা চুক্তি পালন কার্য তত্বাবধায়ন করা সম্ভব নয়।
(গ) যে চুক্তি বাতিলযোগ্য।
(ঘ) যে চুক্তির শর্তগুলি সুষ্পষ্ট নয়।
(ঙ) যেখানে ব্যক্তিগত কুশলতা বা শ্রমের উপর চুক্তি নির্ভরশীল।
নিষেধাজ্ঞা
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পদনের ন্যায় আরোও একটি প্রতিকার হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। চুক্তি ভঙ্গের আশাংকা দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত চুক্তি ভঙ্গকারীকে চুক্তি ভঙ্গ করা হতে বিরত রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। যে ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না আবার সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ যথার্থ বলে বিবেচিত হয় না সে ক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে সকল কার্য হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে পারেন যা চুক্তি ভঙ্গের সামিল। সাধারণতঃ অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে এ প্রতিকার পাওয়া যায়। অনুরুপ একটি মোকাদ্দমা ওয়ার্ণার বনাম লেনসন।
নিষেধাজ্ঞা দুই প্রকারের হতে পারে। স্থায়ী ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন দ্বার। আর অস্থায়ী ১৯০৮ সালের কার্যবিধি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দুই ধরনের হতে পারেঃ
Mandatory (আদেশমূলক);
Prohibitory (নিষেধমূলক)।
কার্যানুপাতিক মূল্যদান
চুক্তি ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ সাধারণতঃ ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে। কিন্তু চুক্তির শর্তানুযায়ী ইতিমধ্যেই কোন কিছু করে থাকে, তবে উক্ত কাজের পারিশ্রমিক বা মূল্য দাবী করতে পারে। কাজের অনুপাতে মূল্য প্রদান কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান বলা হয়। এক পক্ষের চুক্তি ভঙ্গের ফলে বা অন্য কোন কারণে কিংবা উত্তরকালীন অসম্ভবতার ফলে বা অন্য কোন কারণে যখন চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তখন নির্দোষ পক্ষ তার কারণে যখন চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তখন নির্দোষ পক্ষ তার সম্পাদিত কাজের যে পরিমাণ মালামাল সরবরাহ করেন তার মূল্য দাবী করলে এই নীতি প্রযোজ্য হয়।
চুক্তির ভুল আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “ভুল [ Law of Contracts on Mistake of Facts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
চুক্তির ভুল
ভুল (Mistake)
ভুল বলতে বোঝায় কোনো বিষয় বা তথ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা। চুক্তি গঠনের জন্য স্বাধীন সম্মতির প্রয়োজন। ভুলের বশবর্তী হয়ে সম্মতি প্রদান করলে তাকে স্বাধীন মতামত বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বলা যায় চুক্তি যথার্থভাবে গঠিত হয়নি। তবে সকল ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রয়োগ করা যায় না। ভুলের ফলাফল সম্পর্কে জানতে হলে ভুলের বিভিন্ন শ্রেনী জানা প্রয়োজন। ভুলের শ্রেনীসমূহ হলো: ১। সাধারন ভুল (common mistake) ২। পারস্পরিক ভুল (mutual mistake) ৩। এক পক্ষের ভুল (unilateral mistake)
সাধারণ ভুল
চুক্তির উভয় বা সকল পক্ষ একই ধরনের ভুল করে থাকলে সে ভুলকে সাধারণ ভুল বলা হবে। অর্থাৎ একই ধরনের ভুল চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগণের দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন, ‘ক’ তার সাইকেলটি ‘খ’ এর নিকট বিক্রির জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে সাইকেলটি চুরি হয়ে যায় যা কোনো পক্ষ জানতো না। এ ধরনের ভুলকে সাধারন ভুল বলা যায়।
পারস্পরিক ভুল
পারস্পরিক ভুল চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ ভুল করে তবে একই ভুল না। যেমন ‘ক’ এর একই মডলের দুটি গাড়ি আছে একটির রং সাদা অন্যটির সিলভার। সে সাদা গাড়িটি বিক্রি করতে চায় এবং ‘খ’ কে বললো সে একটি গাড়ী বিক্রি করতে চায়, ‘খ’ মনে করলো ‘ক’ সিলভার রং এর গাড়ীটি বিক্রি করবে এবং সে ক্রয়ে সম্মতি দিল। এক্ষেত্রে দুজনের ভুল রয়েছে তবে একই ভুল না, এ ভুলকে পারস্পরিক ভুল বলে।
এক পক্ষীয় ভুল
চুক্তির এক পক্ষ যদি ভুল করে থাকে তবে তাকে এক পক্ষীয় ভুল বলে। চুক্তির কোনো এক পক্ষের ভুলের জন্য চুক্তি বাতিল বা বাতিলযোগ্য হবে না। যেমন, একজন ক্রেতা সিকো ঘড়ি মনে করে দোকানদারের কাছে না জেনে সে ঘড়িটি ক্রয় করে, কিন্তু ঘড়িটি আসলে সিকো ঘড়ি না। এটা ক্রেতার একক ভুল। উপরোক্ত ভুল ব্যতিত আরো দুই প্রকার ভুল হতে পারে:
১। আইনগত ভুল এবং
২। তথ্যগত ভুল
আইনগত ভুল
চুক্তির পক্ষগণ বাংলাদেশের আইনের বিধান সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা করে তবে তা হবে আইনগত ভুল। এই ধরণের ভুল দ্বারা চুক্তি প্রভাবিত হয় না। কারণ প্রতিটি নাগরিককে তার নিজের দেশের আইন সম্পর্কে জানা উচিত, যদি আইন সম্পর্কে ভুল ধারণা থাকে তবে তার পরিনতি তাকে ভোগ করতে হবে।
তথ্যগত ভুল
যদি কেউ বিদেশি আইনের কোনো বিধান ভুল করে ব্যাখ্যা করে তবে তাকে তথ্যগত ভুল বলা হয়। সাধারণত এ ধরনের তথ্যের ভুল থাকলে তা বাতিল বলে গন্য হয়।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যদি সম্মতিতে তথ্যগত ভুল থাকে তবে তা বাতিল হবে:
১। চুক্তির উভয় পক্ষ ভুল করেছে।
২। চুক্তির আবশ্যকীয় বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভুল রয়েছে।
অযৌক্তিক প্রভাব আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “অযৌক্তিক প্রভাব [ Law of Contracts on Undue Influence ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
অযৌক্তিক প্রভাব
বলপ্রয়োগ চুক্তির ফলাফল
বল প্রয়োগের মাধ্যমে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তা বাতিলযোগ্য চুক্তি। অর্থাৎ এ চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বৈধ চুক্তি না আবার সম্পূর্ণরুপে বাতিল চুক্তিও না। এই ধরনের চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে বল প্রয়োগে শিকার ব্যক্তির ইচ্ছার উপর। তিনি ইচ্ছা করলে চুক্তিটি বাতিল করতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে চুক্তিটি কার্যকর করতে পারেন অর্থাৎ বৈধ করতে পারেন।
অনুচিত প্রভাব
স্বাধীন সম্মতি অনুচিত প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত করা যায়। চুক্তি আইনের ১৬(১) ধারায় বলা হয়েছে একটি চুক্তি অনুচিত প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যখন (১) একটি পক্ষ এমন অবস্থানে আছেন যার ফলে অন্যের ইচ্ছার উপর কর্তৃত্ব করতে পারেন এবং (২) তিনি তার অবস্থান ব্যবহার করে অন্য পক্ষ থেকে অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করেন। নিম্ন লিখিত ক্ষেত্রে একজন অপর জনের উপর অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করতে পারে:
১। যখন এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর কর্তৃত্ব বিদ্যমান থাকে,
২। যেখানে অপর পক্ষের সাথে বিশ্বাসমূলক সম্পর্ক রয়েছে অথবা
৩। অপর পক্ষের মানসিক ভারসাম্য সাময়িক বা চিরকালের জন্য বার্ধক্য, ব্যাধি অথবা শারীরিক বা মানসিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে বিনষ্ট হয়েছে।
অনুচিত প্রভাবের ফলে সকল পক্ষ সম অধিকারের ভিত্তিতে চুক্তির শর্ত সম্পর্কে আলোচনা করতে পারে না এবং স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারে না।
কখন অনুচিত প্রভাবের সন্দেহ জাগে (Undue influence when suspected):
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুচিত প্রভাবের সন্দেহ দেখা যায়
১। প্রতিদান অপর্যাপ্ত
২। যেখানে পক্ষসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস থাকে। যেমন-পিতা-পুত্র।
৩। পক্ষগণের মধ্যে বয়স, বুদ্ধি, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত অসমতা।
৪। দূর্বল পক্ষের জন্য কোনো পরামর্শক থাকে না।
৫। অযৌক্তিক দরকষাকষির ক্ষমতা, যেমন কেউ যদি অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে সে অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করেছে।
অনুচিত প্রভাবের চুক্তি বল প্রয়োগ চুক্তির ন্যায় বাতিলযোগ্য। এ ক্ষেত্রে অনুচিতভাবে প্রভাবিত পক্ষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে চুক্তির কার্যকারিতা।
অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন [ Law of Contracts on Free consent & Coercion ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন
(১) ‘‘আশ্রয় কেন্দ্র’’ অর্থ জেলখানা ব্যতীত এমন প্রতিষ্ঠান যাহা, যেই নামেই অভিহিত হউক না কেন, মানব পাচারের শিকার বা মানব পাচার হইতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিবর্গের গ্রহণ, আশ্রয় এবং পুনর্বাসনকল্পে প্রতিষ্ঠিত;
(২) ‘‘আশ্রয় দেওয়া’’ বা ‘‘লুকাইয়া রাখা’’ (harbouring)অর্থ কোন ব্যক্তিকে তাহার দেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে বিক্রয় বা পাচারের উদ্দেশ্যে লুকাইয়া রাখা, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনভাবে সহায়তা করা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ৫২ক এ যেই অর্থে ””Harbour” অভিধাটি ব্যবহৃত হইয়াছে, তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩) ‘‘ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage)”” অর্থ কোন ব্যক্তির সেইরূপ অবস্থান যাহার কারণে উক্ত ব্যক্তি কোন ঋণের জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়গ্রস্ত হইলে অথবা বেআইনিভাবে তাহাকে ঋণ-দায়গ্রস্ত বলিয়া দাবী করা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত ঋণের জামানতস্বরূপ নিজের ব্যক্তিগত সেবা বা শ্রম প্রদান করিতে হয়, কিন্তু উক্ত সেবা বা শ্রমের মূল্য ঋণ পরিশোধ হিসাবে গণ্য হয়না অথবা উক্ত সেবা বা শ্রম প্রদানের কাল অসীম হয়;
(৪) ‘‘জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা’’ অর্থ কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, অধিকার, সম্পত্তি বা সুনামের ক্ষয় বা ক্ষতি করিবার হুমকি প্রদর্শন করিয়া তাহার নিকট হইতে যে কাজ বা সেবা গ্রহণ করা হয়;
(৫) ‘‘ট্রাইব্যুনাল’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল অথবা মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসাবে নিযুক্ত (assigned) বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ট্রাইব্যুনাল;
(৬) ‘‘দাসত্ব’’ অর্থ কোন ব্যক্তির অবস্থান বা মর্যাদার (status) এমন পর্যায়ে অবনমন যাহার ফলে উক্ত ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তির মত নিয়ন্ত্রিত ও ব্যবহৃত হয় এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত কোন ঋণ বা সম্পাদিত কোন চুক্তির কারণে উদ্ভুত কোনো শর্ত বা অবস্থাও (condition) উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭) ‘‘দূতাবাস’’ অর্থ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কোন মিশন যা দূতাবাস, হাইকমিশন, উপ- হাইকমিশন, বা সহকারী হাইকমিশন এবং উক্ত দেশসমূহে অবস্থিত কনস্যুলেট- জেনারেল এবং কনস্যুলেট এবং ভিসা অফিসসমূহও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) ‘‘পতিতাবৃত্তি’’ অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অথবা অর্থ বা সুবিধা (kind) লেনদেন করিয়া কোন ব্যক্তির যৌন শোষণ বা নিপীড়ন;
(৯) ‘‘পতিতালয়’’ অর্থ পতিতাবৃত্তি পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন বাড়ি, স্থান বা স্থাপনা;
(১০) ‘‘মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি’’ বা ‘‘ভিকটিম’’ অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত মানব পাচার অপরাধের শিকার কোন ব্যক্তি এবং উক্ত ব্যক্তির আইনগত অভিভাবক বা উত্তরাধিকারীও (legal heirs) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১১) ‘‘প্রতারণা’’ (fraud) অর্থ ঘটনা বা আইন লইয়া ইচ্ছাকৃত বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কথা বা আচরণ বা লিখিত কোন চুক্তি বা দলিল দ্বারা অন্যকে প্রতারিত (to defraud) বা প্রলুদ্ধ (to induce)বা ভুল পথে পরিচালিত করা এবং প্রতারণাকারী ব্যক্তি বা অন্য কোন ব্যক্তির অভিপ্রায়কে কেন্দ্র করিয়া সংঘটিত প্রবঞ্চনা (deception) এবং চুক্তি আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ১৭ এ যেই অর্থে ”Fraud ”অভিধাটি ব্যবহৃত হইয়াছে তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১২) ‘‘বলপ্রয়োগ’’ অর্থ শক্তি প্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন বা মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপ প্রয়োগ এবং ইহার সহিত কোন প্রকার ক্ষতিসাধন করিবার বা দৈহিকভাবে আটক রাখিবার হুমকি প্রদর্শন, নির্যাতন বা কোন ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক, দাপ্তরিক বা আইনগত অবস্থানকে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাজে লাগাইবার হুমকি প্রদান বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৩) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিসহ (natural person)যে কোন কোম্পানী, অংশীদারী কারবার বা ফার্ম বা একাধিক ব্যক্তির সমিতি বা সংঘ তাহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক;
(১৪) ‘‘শিশু’’ অর্থ আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করে নাই এমন কোন ব্যক্তি;
(১৫) ‘‘শোষণ’’ বা ‘‘নিপীড়ন’’ (exploitation) অর্থ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাহার সম্মতিক্রমে বা বিনা সম্মতিতে কৃত নিম্নলিখিত কার্যসমূহ, তবে কেবল এইসব বিষয়েই ইহার অর্থ সীমিত হইবেনাঃ—
(ক) পতিতাবৃত্তি বা যৌন শোষণ বা নিপীড়নের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শোষণ বা নিপীড়ন;
(খ) কোন ব্যক্তিকে পতিতাবৃত্তি অথবা পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন বা বিতরণে নিয়োজিত করিয়া মুনাফা ভোগ;
(গ) জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা আদায়;
(ঘ) ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage), দাসত্ব বা সার্ভিচিউড্(servitude) , দাসত্বরূপ কর্মকাণ্ড, বা গৃহস্থালীতে সার্ভিচিউড্;
(ঙ) প্রতারণামূলক বিবাহের মাধ্যমে শোষণ বা নিপীড়ন;
(চ) কোন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বিনোদন ব্যবসায় ব্যবহার;
(ছ) কোন ব্যক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা; এবং
(জ) ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে অপরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহানী বা কাউকে বিকলাঙ্গ করা;
(১৬) ‘‘সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ’’ অর্থ জাতীয়তা এবং অবস্থান নির্বিশেষে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির কাঠামোবদ্ধ কোন সংগঠন যাহা নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সক্রিয় এবং যাহার সদস্যরা এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রে কাজ করে;
(১৭) ‘‘সম্মতি’’ অর্থ কোন ব্যক্তির স্বাধীন এবং স্বজ্ঞানে প্রদত্ত মতামত যাহা তাহার বয়স, লিঙ্গ এবং আর্থ- সামাজিক পশ্চাদপদতার কারণে সৃষ্ট তাহার দুর্বল অবস্থান কর্তৃক প্রভাবিত হইবেনা;
(১৮) ‘‘সরকারি কর্মকর্তা’’ (public servant/official) অর্থ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ( ১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ২১ এ বর্ণিত কোনো জনসেবক বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ এর সংজ্ঞানুসারে রাষ্ট্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনের অধীন কোন আইনি দায়িত্ব পালন বা বহন করেন;
(১৯) ‘‘সার্ভিচিউট’’ (servitude) অর্থ কাজ বা সেবা প্রদান করিবার বাধ্যবাধকতা অথবা কাজ বা সেবার জবরদস্তিমূলক শর্তাবলী যাহা হইতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিষ্কৃতি মেলেনা বা যাহা তিনি ঠেকাইতে বা পরিবর্তন করিতে পারেন না।
অবাধ সম্মতি, জবরদস্তি বিষয়ক চুক্তি আইন নিয়ে বিস্তারিত ঃ
গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন
চুক্তি আইন একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কিত আইন। এর উদ্দেশ্য হলো একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা। প্রধানত দুটি উপাদানের সমন্বয়ে একটি চুক্তির জন্ম হয়, প্রথমত একটি ঐকমত্য, দ্বিতীয়ত একটি আইনগত দায়িত্ব যা আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য।
এদেশে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে মুসলিম আইনে চুক্তির নীতিগুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের উপর প্রযোজ্য ছিল। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিশেষ বিধিবিধান বিঘ্নিত করা হতো না। সyুপ্রম কোর্ট কর্তৃক প্রেসিডেন্সি টাউন কোলকাতায় ইংলিশ আইনের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে দেশীয় লোকের অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এ সমস্যা নিরসনকল্পে ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা এক আইন পাশ করে যা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার জন্য মুসলিম চুক্তি আইন এবং হিন্দুদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার ব্যাপারে হিন্দু চুক্তি আইন প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।
কিন্তু ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী প্রসিডেন্সি শহরে বসবাসরত ইংরেজ নরনারীসহ সকল বিদেশী এবং যারা প্রেসিডেন্সি শহরের বাইরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ছিলেন তাদের সবার ক্ষেত্রে সাধারণ ইংলিশ আইনের নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। ব্রিটিশরা ক্রমান্বয়ে তাদের নীতি পরিবর্তন করা শুরু করে এবং বিধিমালা জারীর মাধ্যমে ইংলিশ কমন ল’য়ের কিছু কিছু নীতি চালু করে। বিধিগুলো প্রণয়ন করেন গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা দেশের আইনকে বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
এভাবেই ১৮৭২ সালে ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টের প্রবর্তন হয় যা অল্পবিস্তর পরিবর্তন সহ এখনও বাংলাদেশে কার্যকর। এ আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিগুলো বিধৃত আছে। গোড়াতে এ আইনে ৭২-১২৩ নং ধারায় পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত বিধান সন্নিবেশিত ছিল যা পণ্য বিক্রি আইন, ১৯৩০ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ২৩৯-২৬৬ নং ধারায় ছিল অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিধান যা অংশীদারিত্ব আইন, ১৯৩২ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়।
উপরোক্ত তিনটি আইন বিধিবদ্ধ হওয়া ছাড়াও পণ্য পরিবহন আইন, ১৮৬৫, রেলওয়েজ আইন, ১৮৯০, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫, বিমান পরিবহন আইন, ১৯৩৪ চুক্তির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উপরিউক্ত ধারাগুলোর পরিবর্তনের পর চুক্তি আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিমালা সন্নিবেশিত আছে (ধারা ১-৭৫) এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের চুক্তির বিধান আছে। যেমন, ক্ষতিপূরণ ও জামানত চুক্তি (ধারা ১২৪-১৪৭), জিম্মা ও অস্থাবর বন্ধক চুক্তি (ধারা ১৪৮-১৮১) এবং প্রতিনিধিত্ব চুক্তি (ধারা ১৮২-২৩৮)
প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন [ Law of Contracts on Proposals ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন
প্রস্তাব উপস্থাপনের বিধানাবলী (Rules regarding offer)
একটি পক্ষ অপর পক্ষের কাছ থেকে সম্মতি/ স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় প্রস্তাব পেশ করা হয়। তাই একটি প্রস্তাব নিয়ম অনুযায়ী পেশ করতে হয়। চুক্তি আইন অনুযায়ী প্রস্তাব পেশ বা উপস্থাপনের বিধান বা নিয়মাবলী নিচে আলোচনা করা হলোঃ
১। ব্যক্ত বা অব্যক্ত উভয় প্রকারের প্রস্তাব হতে পারে ((Proposal can be both expressed or implied)
চুক্তি আইন অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রস্তাব ব্যক্ত অব্যক্ত দুই রকম ভাবেই পেশ করা যায়ঃ যেমন-
ক) ব্যক্ত প্রস্তাব (expressed Proposal) যখন কোন প্রস্তাব লিখিত কিংবা মৌখিক কথা/ ভাষা সাহায্যে পেশ করা হয় তখন সেই প্রস্তাব কে ব্যক্ত প্রস্তাব বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি সাক্ষাৎকার/ টেলিফোন/ চিঠি/ বিজ্ঞাপন প্রভৃতির মাধ্যমে প্রস্তাব ব্যক্ত করা যেতে পারে।
খ) অব্যক্ত বা ধারণামূলক প্রস্তাব ((implied Proposal) অনেক সময় দেখা যায় যে কোন ব্যক্তি তার আচার-আচরণ কিংবা হাবভাব এর মাধ্যমে প্রস্তাব রেখে থাকেন, এ ধরনের প্রস্তাবকে অব্যক্ত বা ধারণাগত প্রস্তাব বলা হয়।
২. কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি/শ্রেণী/জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রস্তাব রাখা যায় (Offer can be made for particular person, class or people at large)
চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি প্রস্তাব নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণী অথবা জনগণের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন –
ক. নির্দিষ্ট ব্যক্তিঃ ইহান আয়ানকে বললো আমার গাড়িটি তুমি দশ লক্ষ টাকায় কিনবে? তবে এটি হবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট প্রস্তাব।
খ. নির্দিষ্ট শ্রেণীঃ একটি ক্লাসে বই হারানো গিয়েছে। এ অবস্থায় ক্লাসে সকলের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হলো যে বইটি পাওয়া গেলে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
গ. সর্বসাধারণঃ জনগণ কে উদ্দেশ্য করে এমন প্রস্তাব করা হলো যে অমুক ব্যক্তি কে ধরিয়ে দিন কিংবা একটি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মুখের সন্ধানে করা হচ্ছে, ইচ্ছুক আগ্রহীগণ অতিসত্বর যোগাযোগ করুন। এরূপ প্রস্তাব হল জনগণ বা সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে পেশকৃত প্রস্তাব।
৩. প্রস্তাব শর্তাধীন হতে পারে(Offer can be conditional)
চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি চুক্তির প্রস্তাব শর্তাধীনও হতে পারে। এক বা একাধিক শর্ত জুড়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে জুড়ে দেওয়া শর্ত যুক্তিহীন বা অন্যায় বলে বিবেচিত হবে না।তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে-
ক. চুক্তির প্রস্তাবের শর্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এমন ক্ষেত্রে অপর পক্ষ দেখে নাই কিংবা বুঝে নাই এরূপ কথা বলে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার কোন সুযোগ নেই।
খ. শর্ত অবশ্যই যুক্তি সঙ্গতভাবে পেশ করা লাগবে। যাতে অন্য পক্ষটি সহজেই সব জানতে ও বুঝতে পারে। অন্যথায় এই ধরনের শর্ত কার্যকর ও প্রযোজ্য হবে না।
গ. চুক্তির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিহীন কিংবা অন্যায়মূলক শর্ত কখনোই জুড়ে দেওয়া যাবে না। তাই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য শর্ত বা শর্তসমূহ অবশ্যই থাকতে হবে। অন্যথায় শর্ত বা শর্তসমূহ বলবৎযোগ্য করা যাবে না।
৪. প্রস্তাবের শর্ত সুনির্দিষ্ট রাখা উচিত (Terms of offer must be defined):
প্রস্তাবের শর্ত বা শর্তাবলী সব সময়ই সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত হওয়া উচিত। অনির্দিষ্ট কিংবা অস্পষ্ট প্রস্তাব কখনোই প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন- কোন চিত্রকরকে বলা হলো যে আমার একটি ছবি এঁকে দিন, আপনাকে কিছু টাকা দেবো। এখানে টাকার পরিমাণ অস্পষ্ট, তাই এটি প্রস্তাব নয়।
৫. শুধুমাত্র ইচ্ছা প্রকাশ বা বিবৃতি দিলেই প্রস্তাব হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না (An intention or statement alone cannot be accepted as offer)
সম্মতি লাভের উদ্দেশ্য ব্যতিত কোন ইচ্ছা, বক্তব্য বা বিবৃতি আইনত প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন – বাবা তার মেয়ের হবু জামাইকে বললো, আমার মৃত্যুর পর সকল সম্পত্তিই মেয়ে পাবে। এটা তার শুধুই ইচ্ছে প্রকাশ। এটিকে প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৬. প্রস্তাব ও প্রস্তাবের আমন্ত্রণ পাওয়া এক বিষয় নয় (Offer & invitation to an offer isn’t be same thing)
একটি প্রস্তাব ও কোন প্রস্তাবের আমন্ত্রণ এক বিষয় নয়। যদি দোকানি কোন মূল্য তালিকা বিলি করে থাকে তবে এটি এক্ষেত্রে প্রস্তাবের আমন্ত্রণ হিসেবে গন্য হবে, প্রস্তাব হিসেবে নয়। যেমন- ঘোষণা করা হলো একটি কুকুর হারিয়ে গিয়েছে, কেউ পেলে তাকে ৫০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে, এমন হলে এটা একটা প্রস্তাব।
৭. প্রস্তাবগ্রহীতাকে অবশ্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানাতে হবে (Offer must be communicated to be offeree):
যার উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাকে অবশ্যই তা জানাতে হবে অন্যথায় তিনি তাতে স্বীকৃতি দিতে পারবেন না। কেউ যদি প্রস্তাব না জেনে প্রস্তাবিত কাজ করে দিলেও চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে না এবং পারিশ্রামিকও পাবেন না। এক্ষেত্রে Lalmon Vs Gouri Dutt 11 A.L.J. 489 মামলার বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। গৌরী দত্তের ভ্রাতুস্পুত্র হারিয়ে গেলে ৫০১ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
এদিকে বাচ্চা হারিয়ে গেছে বলে কাজের ছেলে-লালমনের খারাপ লাগলো। তাই সে খুঁজতে বের হলো। কিন্তু সে এই পুরস্কারের ঘোষণা জানতো না। তাই যখন বাচ্চাটি খুঁজে নিয়ে এসে লালমন টাকা দাবি করলেও আদালত বললো- যেহেতু পুরস্কারের ঘোষণা সম্পর্কে লালমন কিছুই জানেন না; তাই লালমন পুরস্কারও পাবেন না।
৮. প্রস্তাবে আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় থাকা উচিত (Proposal should have the intention of establishing a legal relationship)
একটি প্রস্তাবকে আইনগত ভিত্তির উপর ধার করাতে হলে প্রস্তাবের দ্বারা আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় বা ইচ্ছা অবশ্যই থাকতে হবে। উদাহারন হিসেবে বলা যায়, কোন বাসায় খাবার নিমন্ত্রণ করা হলো। এখানে একে অপর পক্ষ রাজী হয়ে নিমন্ত্রণে এসেছে তার পরও এটি চুক্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ এরূপ নিমন্ত্রণে চুক্তির ইচ্ছা থাকে না।
৯. গৃহীত হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যায় (The proposal can be revoked before it is accepted)
চুক্তি আইন-১৮৭২ এর ৫ ধারার বিধানানুসারে প্রস্তাব স্বীকৃত হওয়ার এবং প্রস্তাবকের বিপক্ষে স্বীকৃতির স্থাপন কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করন্দ্র সুযোগ থাকে, কিন্তু এর পরে আর সে সুযুগ থাকে না। প্রস্তাব প্রত্যাহার ব্যতিত বিশেষ ক্ষেত্রে তামাদি কিংবা বাতিলের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
১০. কোন প্রস্তাব চিরদিন বজায় থাকে না (Any offer isn’t stand for ever)
প্রস্তাবে স্বীকৃতির একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হবে, সময়সীমা না থাকলে যুক্তিসঙ্গত সময়ের পর এমনিতেই প্রস্তাবের বিলুপ্ত ঘটে যেতে পারে। তাই যুক্তিসঙ্গত সময়, পরিবেশ- পরিস্থিতির অবস্থা বিবেচনা এনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব রাখা উচিত।
উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, কিছু নিয়মের মধ্য দিয়েই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হয়। তা না হলে চুক্তি আইন-১৮৭২ অনুযায়ী প্রস্তাব আলোর মুখ দেখে না, আইনগত চুক্তি হিসেবেও পরিগণিত হয় না।
চুক্তি আইন আধুনিক দেওয়ানী আইনের ভিত্তি। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্র—সকল আর্থিক ও সামাজিক লেনদেনের মূলভিত্তি হলো চুক্তি। বাংলাদেশে চুক্তিসংক্রান্ত সকল আইনি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে চুক্তি আইন, ১৮৭২।
এই আইনের মৌলিক ধারণা সহজভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” প্রণয়ন করেছে “চুক্তি আইন (Contract Law)” সিরিজ, যেখানে ধাপে ধাপে চুক্তি আইনের প্রতিটি অধ্যায় আলোচনা করা হয়।
চুক্তি আইন পরিচিতি
১. চুক্তি আইন, ১৮৭২ : ঐতিহাসিক পটভূমি
চুক্তি আইন, ১৮৭২ মূলত ইংরেজি কমন ল ও ব্রিটিশ ভারতীয় চুক্তি আইনের ভিত্তিতে প্রণীত। উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে এটি প্রবর্তিত হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পুনরায় জাতীয় সংসদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।
বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রধান চুক্তি আইন হিসেবে বলবৎ রয়েছে।
২. চুক্তি আইনের পরিসর
চুক্তি আইন, ১৮৭২–এ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
প্রস্তাব ও গ্রহণযোগ্যতা
বৈধ ও অবৈধ চুক্তি
বাতিলযোগ্য ও বাতিল চুক্তি
কন্টিনজেন্ট চুক্তি
চুক্তির বাস্তবায়ন
চুক্তি ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ
জামিন (Guarantee)
সংস্থা (Agency)
অংশীদারিত্ব (Partnership)
বিবেচনা (Consideration)
ভুল উপস্থাপনা ও প্রতারণা
৩. চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা
চুক্তি আইন একটি মৌলিক দেওয়ানী আইন। অন্যান্য দেওয়ানী আইন যেমন—পণ্য বিক্রয় আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন—সবগুলোর ভিত্তি হিসেবে চুক্তি আইন কাজ করে।
চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ—
অধিকার ও দায় নিশ্চিতকরণ চুক্তির মাধ্যমে পক্ষগণের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়।
লেনদেনের নিরাপত্তা পণ্য, সেবা, সম্পত্তি ও অর্থ লেনদেনে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
বিবাদ নিষ্পত্তির পথ চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৪. চুক্তি আইনের উদ্দেশ্য
চুক্তি আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
পক্ষগণ যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে
অপর পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ করা
চুক্তি ভঙ্গ হলে ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা
চুক্তি আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে চুক্তিসংক্রান্ত মৌলিক বিষয়ের সংজ্ঞা, নীতিমালা ও আইনি কাঠামো নির্ধারণের জন্য। যেমন— প্রস্তাব, প্রতিদান, অঙ্গীকার, বাতিল চুক্তি, কন্টিনজেন্ট চুক্তি ইত্যাদি।
৫. চুক্তি আইনের সীমাবদ্ধতা
চুক্তি আইন, ১৮৭২ একটি মৌলিক আইন হলেও এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্যান্য আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়—
বিষয়
প্রযোজ্য আইন
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, চুক্তি বাতিল
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
পণ্য ক্রয়-বিক্রয়
পণ্য বিক্রয় আইন, ১৯৩০
স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২
অতএব, চুক্তি আইন একা সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং এটি অন্যান্য দেওয়ানী আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে চুক্তি আইন একটি অপরিহার্য ভিত্তি। এটি পক্ষগণের স্বাধীনতাকে সীমার মধ্যে এনে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। চুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক আইনসম্মত ও সুসংহত হয়।
চুক্তি আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা একজন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি চাইলে আমি এই লেখাটি নোট, লেকচার স্ক্রিপ্ট বা প্রশ্নোত্তর আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।
মানুষ বিচার চায় না কেন? শিরনামে বিশিষ্ট সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন:
জায়েদুল আহসান পিন্টু
১. বেশ ক’বছর ধরে শুনছি বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা। শুনতে শুনতে ক্লিশে হয়ে গেছে শব্দটা। সুশীল সমাজ আর বিরোধী পক্ষ অনেকদিন ধরেই একথা বলছে। আর আজকাল সাধারণ নাগরিকদের কেউ কেউ বিচারই চাইছেন না। তারা বলছেন বিচার চেয়ে কী হবে। সাধারণ নাগরকিদের মনের এই ভাবনা উদ্বেগেরই না। রীতিমত ভয়ানক ভবিষ্যতের ঈঙ্গিত দেয়।
২. তার মানে কি দেশে বিচার হচ্ছে না? বিচার চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না? বিষয়টা কি সত্যি তাই? আমরাতো দেখছি গড়ে প্র্রতিদিন একজন করে মানুষের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হচ্ছে। এখনো কারাগারের কনডেমড সেলে দুই হাজারেরও বেশি আসামী মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে বন্দি আছে। প্রতিদিন সারাদেশে বিচারকরা শত শত রায় দিচ্ছেন। তাহলে বিচারটা হচ্ছে না বা পাচ্ছি না বলছি কেন? উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা করা যাক।
[ মানুষ বিচার চায় না কেন? – জায়েদুল আহসান পিন্টু ]
৩. বিচার বিভাগ যে বছর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয় সেবছর অর্থাৎ ২০০৭ সালে দেশে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৫ লাখের একটু বেশি। আর বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের কাছাকাছি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ অনিষ্পন্ন মামলা যুক্ত হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা বানরের পিচ্ছিল বাশ বেয়ে ওপরে উঠার মতো। ১০টা নতুন মামলা হলে ৮টার নিষ্পত্তি হয়। ২টা জমে যায়। পরের বার ১১টা মামলা হলে ৮ নিস্পত্তি হয় জমে যায় আরো ৩টা। সাথে পুরানো ২টাতো আছেই। এভাবে জমতে জমতে ১৫ বছরে ২৫ লাখ মামলা যুক্ত হয়ে এখন ৪০ লাখ হয়েছে।
৪. দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য বিচারক একজন। তার মাথায় ২০০০ মামলা। এসব তথ্য আমরা সবাই জানি। সংসদে প্রায় প্রতি অধিবেশনেই কোন না সাংসদ এই প্রশ্নটি করেন। আর আইনমন্ত্রী মামলা জটের হিসাব দেন। পাশাপাশি এটাও বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কার্যক্রম নিয়েছে। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন আদালত গঠন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ মামলা নিষ্পত্তিতে তদারকি বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনমন্ত্রীদেরও এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ হয়ে গেছে।
৫. সরকারগুলো কী যে পদক্ষেপ নিয়েছে/নিচ্ছে তাতো দেশবাসী দেখতেই পাচ্ছে। আমারতো মনে হয় স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই একটি মন্ত্রণালয় তেমন কোন কাজই করেনি। দেশের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে যে আমূল পরিবর্তন আনা দরকার সেটা কেউই করেননি। সবাই শুধু বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই দেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ ক্রসফায়ারের পক্ষে কথা বলেন। কিছুদিন আগ পর্যন্ত সরকারগুলোও ক্রসফায়ারের পক্ষে ছিল। যার অর্থ হলো বিচারে আস্থা নেই। এই আস্থাহীনতা একটা সময় অরাজকর পরিস্থিতির জন্ম দিবে কোন সন্দেহ নেই।
৬. গত বছর এক ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বলতে হয়েছিল, ‘বিচার বিভাগ পৃথককরণ হয়েছে ২০০৭ সালে, আজ ২০২১ সালেও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবনের জন্য সব জায়গা অধিগ্রহণ হয়নি, তারপর বিল্ডিং করতে হবে। আমি আর কত বলবো?’ তাইতো প্রধান বিচারপতি আর কত বলবেন?
৭. তবে আমি বলি ভিন্ন কথা। শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ালেই বিচারের জট কমবে না। পাশাপাশি কমাতে হবে মামলার উৎপত্তিস্থল। মামলা সৃষ্টির কারণ বন্ধ করতে হবে। আর সেজন্য দরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন।
৮. হ্যা, এটা ঠিক বিচারকের সঙ্কট তাৎক্ষণিকভাবে মিটানো সম্ভব না। তাই বলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকবে না? কিছুই যদি না পারেন অবসরপ্রাপ্ত জজদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগতো দিতে পারতেন। আমলাদেরতো চুক্তিতে নিয়োগ দিতে কার্পণ্য করতে দেখি না।
৯. শুরুতে বলেছিলাম, বিচারের রায় হতে দেখি প্রতিদিন। কিন্তু যেটা দেখি না সেটা হলো রায় কার্যকর হওয়া। আবার যেটা ভাইরাল হয় না সেটার খবর রাখি না। আর বলছিলাম ফাঁসির আদেশ নিয়ে বন্দি আছে দুই হাজারেরও বেশি। হিসেব করে দেখা গেছে ২০-২৫ বছর লাগে একটি খুনের মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে। রায় পেতে যদি দুই যুগ লেগে যায় বিচারের কী দরকার। বিচার হয় কেন? সমাজে যেন অপরাধ না বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারের রায়ের কোন প্রভাবই নেই সমাজে। যে কারণে আজ দেশের মানুষ মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নীতি নির্ধারকরা এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না তাতো নয়। কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই কেন?
১০. এবার একটি পুরানো গল্প নতুন করে বলি। বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক বৃদ্ধ আসামীকে তিরস্কার করে বলছেন, আপনার মতো সিনিয়র সিটিজেন এক তরুনীর দিকে কুদৃষ্টি দিলেন কী করে? সমাজ আপনাদের কাছ থেকে কী শিখবে? তরুণ বয়স হলেও বুঝতাম বয়সের দোষ! জবাবে ওই বৃদ্ধ বলছেন, মাই লর্ড, ঘটনাটা তিন যুগ আগের, তখন আমার কাঁচা বয়সই ছিল, ওই যে দেখছেন না মামলার বাদিনী তার নাতি নাতনি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে আসছেন।
১১. উপরের গল্পটা রুপক হলেও এবার একটা আসল খবর দেই। একটা সংবাদ দেখেছিলাম মাস দুয়েক আগে। চ্যানেল ২৪ এ। খবরটা এরকম: ২০১০ সালে বগুড়ায় আড়াই হাজার টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন সরকারি এক প্রকৌশলী। দুদক মামলা করলো তার নামে। ২০১৩ সালে আদালত তাকে দুই বছরের সাজা দেয়। তিন বছর পর তাকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। মামলা যায় আপিল বিভাগে। সেই আপিল নিষ্পত্তি হয় চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে। দণ্ডাদেশ বহাল থাকে। ২৫০০ টাকার এই দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তিতে দুদকের খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা। সময় লেগেছে এক যুগ। আসামি কিন্তু লাপাত্তা।
চুক্তি আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো চুক্তির বাস্তবায়ন। একটি চুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবে পালন করা হয়। শুধুমাত্র চুক্তি সম্পাদনই যথেষ্ট নয়; বরং চুক্তির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় তখনই, যখন উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।
চুক্তি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে চুক্তি আইন (Contract Law) সিরিজ। এই সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— চুক্তির বাস্তবায়ন।
চুক্তির বাস্তবায়ন
১. চুক্তির বাস্তবায়ন কী?
চুক্তি পালনের অর্থ হলো, চুক্তির পক্ষসমূহের উপর আরোপিত দায় ও প্রতিশ্রুতিসমূহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
চুক্তি আইনের ধারা ৩৭ অনুসারে:
“The parties to a contract must either perform or offer to perform their respective promises, unless such performance is dispensed with or excused under the provisions of this Act or of any other law.”
অর্থাৎ— চুক্তির প্রত্যেক পক্ষকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে অথবা পালনের প্রস্তাব দিতে হবে, যদি না কোনো আইনগত বিধান তাদেরকে সেই দায় থেকে অব্যাহতি দেয়।
এই সংজ্ঞা থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের দুটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়—
প্রতিশ্রুতি পালন
প্রতিশ্রুতি পালনের প্রস্তাব
২. চুক্তি পালনের প্রস্তাব (Tender)
চুক্তি পালনের প্রস্তাবকে দাখিল (Tender) বলা হয়। দাখিল মানে চুক্তি বাস্তবে পালন নয়; বরং চুক্তি পালনের জন্য আন্তরিক ও বৈধ প্রয়াস।
চুক্তি আইনের ধারা ৩৮ অনুসারে, নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলে একটি দাখিল আইনসম্মত বলে গণ্য হবে—
(ক) প্রস্তাব অবশ্যই শর্তহীন হতে হবে
যদি প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত থাকে, তবে তা চুক্তি পালনের বৈধ প্রস্তাব হিসেবে গণ্য হবে না।
(খ) সঠিক সময় ও সঠিক স্থানে প্রস্তাব
চুক্তিতে নির্ধারিত সময় ও স্থানে দাখিল করতে হবে। এই বিষয় নির্ধারণে ধারা ৪৬–৫০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(গ) যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান
প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে অবশ্যই যুক্তিসংগত সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যেন তিনি প্রস্তাব গ্রহণ বা যাচাই করতে পারেন।
(ঘ) পরীক্ষার সুযোগ
যদি দ্রব্য সরবরাহের বিষয় থাকে, তবে প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে তা পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে।
৩. কে চুক্তি পালন করবে?
চুক্তি কে পালন করবে—এ বিষয়ে চুক্তি আইনে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
১. ব্যক্তিগতভাবে পালন (ধারা ৪০)
যদি চুক্তি প্রতিশ্রুতিদাতার দক্ষতা, সুনাম, নৈপূণ্য বা রুচি–র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেই ব্যক্তি নিজেই চুক্তি পালন করতে বাধ্য।
২. প্রতিনিধি দ্বারা পালন
যেসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা আবশ্যক নয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিদাতা তার প্রতিনিধি দ্বারা চুক্তি পালন করাতে পারেন।
৩. তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পালন
প্রতিশ্রুতি গ্রহীতা যদি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে চুক্তি পালনের বিষয় গ্রহণ করেন, তবে তিনি মূল প্রতিশ্রুতিদাতার বিরুদ্ধে আর দাবি তুলতে পারবেন না।
৪. প্রতিশ্রুতিদাতার মৃত্যু
যদি চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তির দায় শেষ হয়।
অন্য ক্ষেত্রে, প্রতিশ্রুতিদাতার আইনগত প্রতিনিধি বা উত্তরাধিকারী তার সম্পত্তির সীমার মধ্যে চুক্তি পালনে বাধ্য থাকবেন।
৫. যৌথ প্রতিশ্রুতি
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তারা যৌথভাবে বা পৃথকভাবে চুক্তি পালনে দায়বদ্ধ থাকবেন।
চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত ঃ
চুক্তির বাস্তবায়ন চুক্তি আইনের প্রাণভিত্তি। প্রতিশ্রুতি পালনের মাধ্যমেই চুক্তির উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং আইনগত সম্পর্ক কার্যকর রূপ পায়। ধারা ৩৭ থেকে ৪৫ পর্যন্ত বিধানসমূহ চুক্তির বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করে এবং পক্ষসমূহকে আইনের আলোকে তাদের দায় পালনে পথনির্দেশ দেয়।
আপনি চাইলে আমি পরবর্তী অংশে চুক্তি বাস্তবায়নের অব্যাহতি, অসম্ভবতা, ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ বিষয়গুলোও সংযোজন করে সম্পূর্ণ অধ্যায় তৈরি করে দিতে পারি।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class