All posts by ফিচার ডেস্ক, আইন গুরুকুল, GOLN

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি [ Intellectual property ]

বিস্তৃত অর্থে পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই এক একটি সম্পদ। সম্পদের যেমন নানা রূপ রয়েছে—জমি, বাড়ি, অর্থ, পণ্য—তেমনি মানুষের বুদ্ধি, মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে জন্ম নেওয়া সম্পদও এক ধরনের মূল্যবান সম্পদ। এই মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে উৎপন্ন সম্পদকেই বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি (Intellectual Property)

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে বুদ্ধি, বিবেক ও চিন্তাশক্তি (Rational Power) দিয়েছেন, তা প্রয়োগ করে মানুষ সৃষ্টি করে নতুন পণ্য, প্রযুক্তি, শিল্পকর্ম, সাহিত্য, গান, উদ্ভাবন, নকশা ও ব্যবসায়িক পরিচিতি। এসব অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত মূল্যবান সৃষ্টিই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আইনগত সুরক্ষা

পৃথিবীর সকল সম্পদের জন্য যেমন আইন ও বিধান রয়েছে, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ যেন তার সৃষ্টির ন্যায্য সুফল ভোগ করতে পারে এবং অন্য কেউ যেন অনুমতি ছাড়া সেই সৃষ্টি ব্যবহার করতে না পারে—এই লক্ষ্যেই Intellectual Property Law বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়েছে।

এই আইন লেখক, শিল্পী, আবিষ্কারক, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি রক্ষা-কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে—

  • স্রষ্টা তার সৃষ্টির ওপর অধিকার রাখবেন,
  • তিনি ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা লাইসেন্স দিতে পারবেন,
  • এবং অবৈধ ব্যবহার হলে আইনি প্রতিকার পাবেন।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রধান ছয়টি ধরন

বর্তমানে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন সাধারণত নিম্নোক্ত ছয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত—

  • পেটেন্ট (Patent) – নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য
  • ডিজাইন (Industrial Design) – পণ্যের বাহ্যিক নকশা ও রূপের জন্য
  • কপিরাইট (Copyright) – সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, শিল্পকর্ম ইত্যাদির জন্য
  • ট্রেডমার্ক (Trademark) – ব্যবসায়িক নাম, লোগো, ব্র্যান্ডের জন্য
  • গোপন তথ্য (Confidential Information) – ব্যবসায়িক গোপন সূত্র
  • নো-হাউ (Know-how) – শিল্প ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও কৌশল

বাংলাদেশে এসব সম্পদের জন্য আলাদা আলাদা আইন রয়েছে, যেমন—

  • কপিরাইট আইন, ২০০০
  • ট্রেডমার্কস আইন, ২০০৯
  • পেটেন্ট ও ডিজাইন আইন, ১৯১১ ইত্যাদি।

 

সম্পত্তির প্রকারভেদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অবস্থান

আইনের দৃষ্টিতে সাধারণত সম্পত্তি তিন প্রকার—

  • স্থাবর সম্পত্তি – যেমন জমি, বাড়ি
  • অস্থাবর সম্পত্তি – যেমন গাড়ি, ঘড়ি
  • বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি – মানুষের মস্তিষ্কজাত সৃষ্টি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিশেষত্ব হলো—
এটি অদৃশ্য, কিন্তু একই তথ্য বা সৃষ্টিকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অসংখ্য কপিতে ব্যবহার করা যায়। তবে সম্পত্তি কপিগুলোর মধ্যে নয়, বরং সেই মূল তথ্য ও সৃষ্টিতে নিহিত।

WIPO অনুযায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সংজ্ঞা

বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO) ১৯৬৭ সালের স্টকহোম কনভেনশনে ঘোষণা করে যে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে—

  • সাহিত্য, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক কর্ম
  • শিল্পীদের পরিবেশনা, রেকর্ডিং ও সম্প্রচার
  • আবিষ্কার
  • শিল্প নকশা
  • ট্রেডমার্ক ও ব্যবসায়িক নাম
  • অন্যায্য প্রতিযোগিতা প্রতিরোধ

 

আবিষ্কার বনাম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—

  • বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলো প্রকৃতির কোনো অজানা নিয়ম বা সত্যের সন্ধান।
  • ইনভেনশন (Invention) হলো সেই জ্ঞান ব্যবহার করে তৈরি নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান।

আইন সাধারণত ইনভেনশনকে সুরক্ষা দেয়, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে নয়।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

  • পেটেন্ট নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায়
  • ডিজাইন শিল্পকে আকর্ষণীয় করে
  • ট্রেডমার্ক ভোক্তার আস্থা সৃষ্টি করে
  • কপিরাইট চলচ্চিত্র, বই, গান, সফটওয়্যার শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে

আজকের বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠছে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের উপর নির্ভর করেই।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি কেবল আইনি ধারণা নয়—এটি সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ভিত্তি। যারা নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, এই আইন তাদের সম্মান ও সুরক্ষা দেয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার মেধা ও সৃষ্টির উপর—আর সেই মেধাকে রক্ষা করাই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইনের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

বাংলাদেশের অপরাধ আইন। বাংলাদেশের অপরাধ আইন দেশটির আইনগত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং সমাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন বিধান ও নির্দেশাবলী অন্তর্ভুক্ত করে। এই প্রবন্ধে, আমরা বাংলাদেশের অপরাধ আইনের মূল দিকগুলি পর্যালোচনা করব, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বিধি, এবং কার্যকরীতা নিয়ে আলোচনা করব।

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

বাংলাদেশের অপরাধ আইন: সাধারণ ধারণা

বাংলাদেশের অপরাধ আইন মূলত দুটি প্রধান আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়:

  • দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860): এটি অপরাধ ও দণ্ডের একটি মৌলিক আইন যা ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত হয়েছিল। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং বিভিন্ন প্রকারের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান উল্লেখ করে।
  • দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০ (Code of Criminal Procedure, 2000): এটি অপরাধের তদন্ত, মামলার পরিচালনা এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

 

দণ্ডবিধি, ১৮৬০: প্রধান অপরাধের শ্রেণীবিভাগ

১. অপরাধের সংজ্ঞা ও শ্রেণীবিভাগ:
– মামলা ও গম্ভীর অপরাধ (Cognizable and Non-Cognizable Offenses): মামলা ও গম্ভীর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার অপরাধে পুলিশ কর্তৃক অবিলম্বে তদন্ত করা যেতে পারে, যেমন হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণ। গম্ভীর অপরাধের জন্য পুলিশকে বিচারক বা আদালতের অনুমতি নিতে হয়, যেমন চুরির মত ছোট অপরাধ।
– বিচারিক শাস্তি (Punishments): দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন কারাদণ্ড, জরিমানা, এবং মৃত্যুদণ্ড। কিছু অপরাধ যেমন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

২. বিশেষ অপরাধের বিধান:
– মামলার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Offenses Against the State): রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ, যেমন বিদ্রোহ বা দেশদ্রোহিতা, দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত।
– সম্পত্তির অপরাধ (Property Crimes): চুরি, ডাকাতি, এবং ভাঙচুরের মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
– ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কিত অপরাধ (Personal Security Offenses): হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং আক্রমণের মতো অপরাধের বিধান।

 

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন | সূচিপত্র

 

দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০: প্রক্রিয়া ও পরিচালনা

১. অপরাধের তদন্ত:
– পুলিশি তদন্ত (Police Investigation): পুলিশ অপরাধের তদন্ত শুরু করতে পারে, সাক্ষ্য সংগ্রহ করে, এবং অপরাধীর গ্রেপ্তার করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে অপরাধের সত্যতা যাচাই করে।
– জমা প্রমাণ (Evidence Collection): সাক্ষ্য, নথি, এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে তদন্তের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়।

২. মামলা পরিচালনা:
– মামলার দায়ের (Filing of Cases): অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
– আদালত প্রক্রিয়া (Court Proceedings): আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান, প্রমাণ জমা, এবং বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আদালত প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় প্রদান করে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

 

বাংলাদেশে অপরাধ আইন বাস্তবায়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি

১. আইনগত চ্যালেঞ্জ:
– আইনগত ঘাটতি (Legal Gaps): কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ আইনের দুর্বলতা এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা ও অস্বচ্ছতা একটি সমস্যা।
– আইন বাস্তবায়ন (Implementation Issues): আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বল্পতাও একটি সমস্যা।

২. অগ্রগতি ও সংস্কার:
– আইন সংস্কার (Legal Reforms): নতুন আইন ও সংশোধনী কার্যকর করা হচ্ছে যা অপরাধের ন্যায়বিচার ও সঠিকতার উন্নতি করতে সহায়ক।
– আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতা (Legal Education and Awareness): সাধারণ জনগণের আইনগত শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন একটি সুসংহত কাঠামো প্রদান করে যা সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী শাস্তি নির্ধারণ করে। দণ্ডবিধি ও দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন, এবং আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। আইন সংস্কার ও কার্যকরী বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক। আইন একটি সমাজের নিয়ম, যা নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু আইনের জটিলতা এবং বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে সচেতনতা না থাকার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ আইনি সমস্যায় পড়েন। এই অবস্থায় ‘আইনি পরামর্শ’ তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আইনি পরামর্শ

আইনি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

আইনের বিভিন্ন শাখা রয়েছে, যেমন ফৌজদারি আইন, দেওয়ানি আইন, পারিবারিক আইন, মানবাধিকার আইন, ইত্যাদি। প্রতিটি আইনের নিজস্ব কিছু নিয়ম ও বিধান রয়েছে যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। যেমন:

– ফৌজদারি আইন: ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এই আইনের প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে মানুষ অনেক সময় অজানা থাকে। এমন সময় আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হয়।

– দেওয়ানি আইন: জমি, সম্পত্তি বা অন্যান্য আর্থিক বিবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়। এই ধরণের মামলায় সফল হতে হলে বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

– পারিবারিক আইন: বিবাহ, তালাক, সম্পত্তি বিভাজন, উত্তরাধিকার, ইত্যাদি নিয়ে পারিবারিক আইন ব্যবহৃত হয়। পারিবারিক বিষয়ে আইনি পরামর্শ পাওয়া বিশেষভাবে জরুরি, কারণ এটি শুধুমাত্র আইনগত নয়, বরং সামাজিক এবং নৈতিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক

আইনি পরামর্শের সুবিধা

১. বিভ্রান্তি দূরীকরণ: আইনি পরামর্শের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের আইনগত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে যায় এবং তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।

২. মামলা ব্যবস্থাপনা: অনেক সময় মানুষ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু মামলার সঠিক পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন। আইনি পরামর্শের মাধ্যমে তারা মামলার যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

৩. সমাধান প্রাপ্তি: আইনজীবীরা শুধুমাত্র মামলার সমাধান করেন না, বরং তারা বিষয়টি মীমাংসা করার বিভিন্ন উপায়ও পরামর্শ দেন। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।

আইনি পরামর্শ গ্রহণের পদ্ধতি

আইনি পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য প্রথমে আপনার সমস্যা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো প্রয়োজন। আপনি যেকোনো আইনি সমস্যা নিয়ে সরাসরি আইনজীবীর সাথে আলোচনা করতে পারেন, অথবা এখনকার ডিজিটাল যুগে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শও পাওয়া সম্ভব। নিম্নলিখিত ধাপগুলি আপনাকে সহায়ক হতে পারে:

– সমস্যা নির্ধারণ: প্রথমে আপনার আইনি সমস্যার ধরন সনাক্ত করুন। এটি হতে পারে জমি-জমা, পারিবারিক বিবাদ, বাণিজ্যিক চুক্তি, অথবা অপরাধ সংক্রান্ত।

– বিশেষজ্ঞ নির্বাচন: প্রতিটি আইনি সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী নির্বাচন করুন।

– পরামর্শের সময় নির্ধারণ: আইনজীবীর সাথে সময় নিয়ে আলোচনা করুন এবং তার থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আইনি’ পরামর্শ নিন।

– প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুতি: আপনার সমস্যার সাথে সম্পর্কিত সকল তথ্য ও প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। যেমন জমির দলিল, চুক্তিপত্র, অভিযোগপত্র ইত্যাদি।

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

অনলাইনে আইনি পরামর্শ

বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনেক প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট রয়েছে যা নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি’ পরামর্শ প্রদান করে। আপনি অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে যাদের কাছে সরাসরি আইনজীবীর সাথে দেখা করার সুযোগ নেই, অথবা যারা দূরবর্তী অঞ্চলে বাস করেন।

আইনি পরামর্শের গুরুত্ব

আইনি ‘পরামর্শ শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন, এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেন। এটি এক ধরনের নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

 

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন | সূচিপত্র

 

‘আইনি’ পরামর্শ’ সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং মানুষকে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমেই মানুষ সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। তাই, প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে আইনি ‘পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। এটি একটি সুরক্ষিত ও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

পরিবার একটি মানবিক সম্প্রদায়ের মৌলিক ইউনিট, যা সমাজের নির্মাণে অবদান রাখে। পরিবারের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিবার আইন নামে পরিচিত, যা একটি দেশে পরিবারের পরিবর্তন এবং সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত আইনী বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করে। পরিবার আইন বিষয়ক এই নিবন্ধে বাংলাদেশের পরিবার ‘প্রশাসন এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

পরিবারের গুরুত্ব

পরিবার সমাজের মৌলিক ইউনিট হিসাবে কাজ করে, যা ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংস্কারের সাথে জড়িত হতে পারে। পরিবার মাধ্যমে শিশুরা সমাজের মৌলিক মূল্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক নীতি সম্পর্কে শিখে যায়। এটি আরো পরিবারিক সংস্কৃতি, সংসারের সম্পদ এবং সামাজিক দায়িত্ব উপেক্ষা না করে সৃষ্টি করে।

 

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

 

পরিবার আইনের প্রাথমিক মূল

বাংলাদেশে, পরিবার ‘আইনের প্রাথমিক লক্ষ্য বিভিন্ন পরিবারিক সমস্যার সমাধান এবং পরিবার সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা। এটি পরিবার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও অন্যান্য সংস্থানিক অধিকার নির্ধারণ করে, যেমন সম্পদ অধিকার, ভবিষ্যতে বিবাহ’ ও তালাক, অসমত্ব, ও অভিভাবকের অধিকার।

বিবাহ এবং পরিবারের সংরক্ষণ

বিবাহ ও পরিবার সংরক্ষণ পরিবারের অন্যত্র বিভিন্ন সম্পদের সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিবাহ এবং পরিবার সংরক্ষণ আইন পরিবারের স্থিতিকে স্থায়িত করে এবং বাংলাদেশে বিবাহ’ ও তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে।

“পরিবার ‘আইন” বা “ফেমিলি লক” সম্পর্কে আলোচনা করা হলে, এটি বাংলাদেশের সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবার ‘আইন বা ফেমিলি লক বাংলাদেশে পরিবারের নির্দিষ্ট সম্পত্তি, অধিকার, দায়িত্ব, প্রকৃতি ও সংরক্ষণের নির্দেশাবলী নির্ধারণ করে। এই আইন পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সমস্যার সমাধানে ও পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্বের নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

পরিবার আইনের কাঠামো

বাংলাদেশে, পরিবার’ আইন একটি মৌলিক আইনের সেট, যা পরিবারের প্রতিটি দলের অধিকার, দায়িত্ব, অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এটি বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে, যেমন বিবাহ, তালাক, সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন পরিবারিক সম্পত্তির বিতরণ এবং পরিবারিক সম্পদের বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণ।

বিবাহ ও তালাক

পরিবার ‘আইন বাংলাদেশে বিবাহ এবং তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে। এটি বিবাহের সময় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ বিতরণের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে এবং তালাকের মামলাগুলির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিধিমালা প্রয়োজন ও প্রয়োজন বিষয়টি তারতম্যগ্রহণ করে।

 

অস্ত্র আইন শাস্তিসমূহ প্রস্তাবনা । অস্ত্র আইন, ১৮৭৮। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন [ ধারা ১৯ (ক) ]

 

সন্তানের নিয়ন্ত্রণ

পরিবার’ আইন বাংলাদেশে সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাতিষ্ঠানিকতা সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে। এটি সন্তানের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার প্রাথমিক বা ধর্মীয় প্রশিক্ষণ, ও সন্তানের ভবিষ্যতের সম্পর্কে প্রদান করে।

পরিবারের সংরক্ষণ

পরিবার ‘আইন পরিবারের সংরক্ষণ এবং পরিবারের বাস্তব সম্পত্তি সংরক্ষণ সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে।

এক নজরে বিঘা, কাঠা, একর, শতক ও মেট্রিক একক রূপান্তর সূত্র

ভূমি বা জমাজমির পরিমাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমি কেনা-বেচা, নামজারি, দলিল, খতিয়ান, কিংবা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যেকোনো কাজে জমির পরিমাপের সঠিক হিসাব জানা না থাকলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আপনি পেশাদার সার্ভেয়ার না হলেও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, বর্গফুট ও বর্গমিটার—এই এককগুলোর মৌলিক সূত্র জানা অত্যন্ত জরুরি।

নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত ভূমি পরিমাপের প্রয়োজনীয় সূত্রগুলো এক নজরে দেওয়া হলো।

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

একর ও শতক (Square Meter ভিত্তিক)

  • ১ চেইন = ২০.১২ মিটার
  • ১০ বর্গচেইন = ১ একর
  • ১ একর = ৪০৪৭ বর্গমিটার
  • ১ একর = ১০০ শতক
  • ১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার

বিঘা ও কাঠার মৌলিক সূত্র

  • ১ বিঘা = ২০ কাঠা
  • ১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ বিঘা = ৩৩ শতক (প্রায়)
  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিংক

বর্গহাত হিসাবে

  • ১ বিঘা (২০ কাঠা) = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ কাঠা = ৩২০ বর্গহাত
  • ১ ছটাক = ২০ বর্গহাত

প্রচলিত ভাঙন একক

  • ৪ কাক = ১ কড়া
  • ৪ কড়া = ১ গণ্ডা
  • ২০ গণ্ডা = ১ ছটাক
  • ১৬ ছটাক = ১ কাঠা
  • ২০ কাঠা = ১ বিঘা
  • ১ বিঘা = ১০২,৪০০ কাক

রৈখিক পরিমাপ (হাত ভিত্তিক)

  • ১ কাঠা = ৪ হাত
  • ১ ছটাক = ০.২৫ হাত
  • ১ গণ্ডা = ০.০১২৫ হাত
  • ১ কড়া = ০.০০৩১ হাত
  • ১ কাক = ০.০০০৭ হাত

বর্গফুট হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
  • ১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

বর্গগজ হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ
  • ১ ছটাক = ৫ বর্গগজ

বর্গমিটার হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ কাঠা = ৬৬.৯ বর্গমিটার
  • ১ ছটাক = ৪.১৮ বর্গমিটার

হেক্টর ও এয়ার রূপান্তর

  • ১ হেক্টর = ১০,০০০ বর্গমিটার
  • ১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
  • ১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
  • ১ হেক্টর = ১০০ এয়ার
  • ১ এয়ার ≈ ২৪.৯ বিঘা

দৈর্ঘ্য রূপান্তর

  • ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
  • ১ মিটার = ৩.২৮ ফুট
  • ১ মিটার = ১.০৯ গজ

 

এক নজরে বিঘা কাঠার সূত্র

 

এই রূপান্তর সূত্রগুলো জানা থাকলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময়, দলিল লেখার সময় কিংবা নামজারি ও জরিপ সংক্রান্ত কাজে আপনি সহজেই সঠিক হিসাব করতে পারবেন এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। ভূমি বিষয়ে সচেতন থাকাই আপনার সম্পদের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ।

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি নিয়ে আজকের আলোচনা। ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:
(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান”( Standerd Measurement) বলে পরিচিত।

উক্ত পরিমাপের কতিপয় নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
ইঞ্চি, ফুট ও গজঃ
১২” ইঞ্চি = ১ ফুট
৩ ফুট= ১ গজ
(৩) ভূমি যে কোন সাইজের কেন ভূমির দের্ঘ্য ও প্রস্থে যদি ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে এটা ১.০০ একর (এক একর) হবে।
যেমনঃ ভূমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০ গজ×২২ গজ= ৪৮৪০ বর্গগজ।

 

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

 

গান্টার শিকল জরীপঃ

ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্যে ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই শিকলের নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা জমি জরিপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একর, শতক এবং মাইলষ্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট।

গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে একে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় থাকে। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

প্রতি এক লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি
দৈর্ঘ্য ১০ চেইন ×প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর
গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয় (নস ফুলি)
২০ লিঙ্ক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৩০ লিঙ্ক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-

আমাদের দেশে জমি-জমা মাপ ঝোকের সময় চেইনের সাথে ফিতাও ব্যবহার করা হয় সরকারি ভাবে ভূমি মাপার সময় চেইন ব্যবহার করা হয় এবং আমিন সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ ভূমি মাপার সময় ফিতা ব্যবহার করেন ভূমির পরিমান বেশি হলে চেইন এবং কম হলে ফিতা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনকবিভিন্ন প্রকারের আঞ্চলিক পরিমাপ।

 

কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে পরিমাপ:

আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয় সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান

কানিঃ

কানি দুই প্রকার যথা-

(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি

 

মৌজা:

ভূমি জরিপের ভৌগলিক ইউনিটকে মৌজা রাজস্ব নির্ধারণ এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য এক ইউনিট জমির ভৌগোলিক আভিব্যক্তি হলো মৌজা একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট-বড় হয় ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের(CS) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিতি নম্বর নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০ টিদাগ নম্বর।

একটি মৌজার বিভিন্ন মালিকের বা একই মালিকের বিভিন্ন শ্রেণিভূক্ত জমিকে নকশায় যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকে দাগ বলে মৌজা মাপের উত্তর-পশ্চিম কোন থেকে দাগ নম্বর প্রদান শুরু হয় এব দক্ষিন-পূর্ব কোনে এসে শেষ হয়।

 

দাখিলা:

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের পর তহসিল অফিস হতে ভূমি মালিককে যে রশিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

 

পর্চা:

জরিপের খানাপুরি স্তর পযন্ত কাজ শেষ করে খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করে এর অনুলিপি মালিকের নিকট বিলি করা হয় খতিয়ানের এই অনুরিপি ‘পর্চা’ নামে পরিচিত।

 

খতিয়ান:

একটি মৌজায় এক বা একাধিক ভূমি মালিকানার বিবরণ তথা ভূমির পরিমান, শ্রেণি,হিস্যা ইত্যাদি যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

হাল খতিয়ান:

কোন এলাকার সর্বশেষ জরিপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার দ্বারা বিঙ্গপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে এমন খতিয়ানকে হাল খতিয়ান বলে

সাবেক খতিয়ান:

হাল খতিয়ানের পূর্ব পযন্ত চালু খতিয়ানকে সাবেক খতিয়ান বলে,যা বর্তমানে চালু নেই তবে এর গুরুত্ব অনেক বিধায় এর সংরক্ষন দরকার
সিএস খতিয়ান: সিএস খতিয়ানের পূর্ণরুপ Cadastral Survey (দেশব্যাপি জরিপ) খতিয়ান ১৯১০-১৯২০ সালে জরিপ করে এই খতিয়ান তৈরী করা হয়েছিল।

এস এ খতিয়ান:

এসএ খতিয়ান এর পূর্নরুপ State Acquisition (রাষ্ট্রকতৃক অর্জন) খতিয়ান টেস্ট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি আইন প্রণয়ন করে ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয় জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর যে খতিয়ান তৈরী করা হয় তাকে বলে এসএ খতিয়ান ১৯৫৬ সালের জরিপে এ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

আরএস খতিয়ান:

আরএস-এর অর্থ হলো Revisional Settlement বা সংশোধণী জরিপ এসএ খতিয়ানের পর ঐ আইনের ১৪৪ ধারা অনুসারে যে খতিয়ান প্রকাশিত হয় (বা হবে) তাকে আর এস খাতয়য়ান বলে।

হোল্ডিং নম্বার:

খতিয়ান শব্দের অর্থ যা হোল্ডিং শব্দের অর্থ তাই ১৯৫০ সালে State Acquisition(SA) আইন অনুসারে ‘হোল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহন:

কোন স্থবর সম্পত্তি সরকারী প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে আবশ্যক হলে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রসাসক কতৃক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহনের বিধান ভূমি অধিগ্রহন নামে পরিচিত।

 

অর্পিত সম্পত্তি:

১৯৫৬ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্থনি নাগরিক দেশ ছেড়ে ভারকে গমন করে পাকিস্থান প্রতিরক্ষা সার্ভিস কতৃক বিধি মোতাবেক তাদের শত্রু বলে ঘোসণা করা হয় এবং তাদের এদেশে রেখে যাওযা সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলে ১৯৭৪ সালে উক্ত সম্পুত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি নামকরণ করা হয়
জমির পরিমাপ:-কোন অজানা কারনে বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন কাজই কঠিন ও পেঁচানো এক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হল দেশের একেক জাইগায় একেক পরিমানগত ভিত্তির উপর নির্ভর করে ভূমি পরিমাপ করা হয় তবে সর্বজজৱনগ্রাহ এ সরকার ঘোষিত পরিমান পদ্ধাতি নিচে উটস্থাপন করা হয়।

 

ভূমি পরিমপ করা হয়:

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ক. ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক,
খ. কাঠা,
গ. বিঘা ও
ঘ. এককের ভিত্তিতেভূমি যদি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয়, তাহলে ১ একর হবে যেমন: দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০*২২ গজ=৪৮৪০ বর্গগজ বা এক একর। একরএই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান” ( Standard Measurement) বলে পরিচিত।

 

একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক

(২) কাঠা,

(৩) বিঘা এবং

(৪)  ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক।

 

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক:

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট
১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট
১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০ বর্গফুট

 

কাঠা পরিমাপঃ

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট
১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ
১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
২০ কাঠা = ১ বিঘা
৬০.৫ কাঠা =১ একর।

 

একরের পরিমাপঃ

১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

 

বিঘা পরিমাপঃ

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ
১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ
১ বিঘা = ২০ কাঠা
৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর।

 

লিঙ্ক পরিমাপঃ

১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি
১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর

 

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

১ কানি = ২০ গন্ডা
১ গন্ডা = ২ শতক
১ শতক =২ কড়া
১ কড়া = ৩ কন্ট
১ কন্ট = ২০ তিল

 

ফুট এর হিসাব:

১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু
১ শতক= ৪৩২ বফু
১ কড়া = ২১৬ বফু
১ কন্ট = ৭২ বফু
১ তিল= ৩.৬ বফুবর্গগজ

 

বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
৪৫.০৯ বর্গফুট= ১ কাঠা
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

এবার আপনি নিজেই হিসাব করে দেখুন আপনার ক্রয়কৃত বা পৈত্রিক জায়গা-জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন কত?

নিন্মে কিছু সব সময় আলোচনা হয় এমন জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন বা পরিমাপ সর্ম্পকে ধারনা দেওয়া হলোঃ-

১. একটি ৩ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ২১৬০ স্কয়ার বর্গফুট
২. একটি ৫ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৩৬০০ স্কয়ার বর্গফুট
৩. একটি ১০ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৭২০০ স্কয়ার বর্গফুটএখন আপনি ভেবে দেখুন আপনি কত স্কয়ার বর্গফুটের বাসা তৈরী করবেন বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ইমারত নিমার্ণ আইনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হয় তাহলে এই এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রেখে আপনি যে প্লট কিনেছেন তাতে কত স্কয়ার বর্গফুটের একটি বাড়ী তৈরী করা যাবে তা ভেবে দেখুন অর্থাৎ আপনি ৩ কাঠার প্লটে ১৪৪০ স্কয়ার বর্গফুটের বাড়ী করে বাকী ৭২০ স্কয়ার বর্গফুট জায়গা খালি রাখতে হবে বাড়ীর চারপাশে ড্রেন ও আলো বাতাসের জন্যধরুন বর্তমানে যারা ফ্ল্যাট কেনেন তাদের ক্ষেত্রে-

যেমন:-
১. ৯০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৬০০ থেকে ৬৫০ স্কয়ার বর্গফুট
২. ১২০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৭৮০ থেকে ৮৫০ স্কয়ার বর্গফুট৩. ১৬০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ১২০০ থেকে ১২৫০ স্কয়ার বর্গফুট।

 

সরকারি ভূমি সেবা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান:

– রেকর্ডরুম হতে কি কি সেবা প্রদান করা হয় ?

উত্তরঃ রেকর্ডরুম হতে সি.এস, পেটি, এস.এ , আর.এস পর্চার সত্যায়িত অনুলিপি, নক্শার মুদ্রিত কপি এবং নির্বাহী কোর্টের অবিকল সত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করা হয়

– সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা কত দিনে সরবরাহ করা হয় ?

উত্তরঃ সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা ৭ কার্য দিবস এবং জরুরী নক্শা/পর্চা ৩ কার্য দিবসে সরবরাহ করা হয়।

– প্রশ্নঃ জরুরী পর্চা/নক্শা ও সাধারণ পর্চা/নক্শায় কত টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয় ?

উত্তরঃ জরুরী পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (১৬+২)= ১৮/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (৮+১)= ৯/- টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। মুদ্রিত নক্শা জরুরী ১০/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ ৫/- টাকার কোর্ট ফি আবেদনের সাথে জমাসহ চালানের মাধ্যমে নক্শা প্রতি ৩৫০/- টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়কালেক্টরেট রেকর্ডরুম থেকে পর্চার (খতিয়ান) জাবেদা নকল/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ সরবরাহের নিয়মাবলীঃ

০১. প্রতিদিন (বৃহস্পতিবার বাদে) সকাল ১১.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রেকর্ডরুম এর কক্ষের সামনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। সাথে সাথে পর্চা (খতিয়ান)/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) সরবরাহের তারিখ আবেদনকারীকে সীল মোহরকৃত রশিদে জানিয়ে দেয়া হয়।

০২. প্রস্ত্তুতকৃত পর্চা (খতিয়ান) অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত একই স্থানে আবেদনকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কোন কারণে আবেদন বাতিল হলে বা বিবেচনা করা না গেলে তা বিতরণের সময় আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়:

ক)সাধারণ সময়ে অর্থা আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ৮ (আট) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ১ (এক) টাকা

খ)জরুরী ভিত্তিতে অর্থাৎ আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ১৬ (ষোল) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ২ (দুই) টাকা

গ)হাল (মুদ্রিত) পর্চা পেতে যা লাগবে
আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে, জরুরী ১৬/- টাকার কোর্ট ফি, প্রতিটি পর্চার জন্য ৬০/- টাকার কোর্ট ফি।

০৩ মৌজা নকশার (ম্যাপ) জন্য সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ০৫(পাঁচ) টাকা, জরুরী আবেদনের ক্ষেত্রে ১০/-(দশ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন বিবেচনা করা গেলে ম্যাপের জন্য যা খরচ লাগবেঃ-

মৌজা নক্সা প্রতিটি ৩৫০/- টাকা, জেলা ম্যাপ প্রতিটি (সাদা) ৫০০-টাকা, (রঙ্গিন) ৭৫০/- টাকা, বাংলাদেশ ম্যাপ প্রতিটি ১২৫০/- টাকা চালান জমা দিতে হয়। সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখে নকশা সরবরাহ করা হয় বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

# রেকর্ড রুমে কোন নগদ টাকা পয়সার বিনিময়ে পর্চা/সার্টিফাইড কপি দেয়া হয় না। শুধু কোর্ট ফি দিয়ে নকল নিতে হয়
# কেউ টাকা পয়সা চাইলে বা দালাল চক্র উৎপাত করলে নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরাসরি অবহিত করুনস ং ক্ষি প্ত ত থ্য

খতিয়ান হলো জরিপ শেষে প্রস্তুতকৃত জমির লিখিত হিসাবের দলিল এখানে জমির পরিমাণ, মালিক ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষিত থাকে

– সিএস (CS)-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.

– CS জরিপ সম্পন্ন হয়- ১৯১০-১৯২০.

– SA খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান

– SA খতিয়ান প্রস্তুত হয় ১৯৫৬ সালে

– ২০ বছর পর পর ভূমি জরিপ (ভূমিশুমারি) করা হয়

– বাংলাদেশে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হয় ১৯৫০ সালে

– আরএস খতিয়ান মানে হলো Revisional Survey.

– RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে

– নামজারি অর্থ হলো জমির সর্বশেষ মালিকের নামে দলিলপত্র হালনাগাদ করা

– কোনো পরিবার বা সংস্থা ১০০ বিঘার বেশি জমি দখলে রাখতে পারবে না

– ১০০ বিঘা সমান ৩৩.৩৩ একর

– ভূমির পরিমাপ হলো ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক, কাঠা, বিঘা ও একর

– ভূমির যদি দৈর্ঘ্য প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে ১ একর হবে

– ৪৮৪০ বর্গগজে ১০০ শতাংশ বা ১ একর

 

সার্টিফিকেট কেস:

ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়ার দায়ে আপনার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট কেস হতে পারে। এতে আপনার বাপ দাদার ভোগ দখলকৃত জমি নিলাম হয়ে যেতে পারে। সুতরাং এ দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করুন। প্রয়োজনে সার্টিফিকেট অফিসার/সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করুন।
২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনা মওকুফ
হাল নাগাদ জমির বিবরণী দাখিল করেছেন, শুধুমাত্র কৃষিজমি যদি ২৫ বিঘা বা তার নিচে হয় তাহলে খাজনা মওকুফের সুযোগ নিন। আর এ কাজে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ৫ (পাঁচ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করুন।

খতিয়ানে (Record of Rights) খতিয়ান নম্বর, জেলা ও মৌজার নাম লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়া একাধিক কলামে জমির মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, দাগ নং (Plot Number), জমির শ্রেণী, পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। খতিয়ানে কোন এক মৌজায় কোন একজন মালিকের জমির বিবরণ থাকে। আবার একটি খতিয়ানে একাধিক মালিকের জমির বিবরণও থাকতে পারে। এ খতিয়ানগুলো সাধারণত মৌজা ওয়ারী তৈরী করা হয়। অর্থাৎ কোন একটি মৌজার সকল খতিয়ান একসাথে বাধাই করা হয়। এজন্য রেকর্ড বইকে অনেকে সাধারণ বা প্রচলিতভাবে Volume- ও বলে থাকেন।

পরচাযখন পৃথক একটি কাগজে খতিয়ানের অনুলিপি তৈরী করা হয় তখন তাকে পরচা বলা হয়। এই অনুলিপি সাধারণত হাতে লিখে বা কম্পোজ করে তৈরী হয়ে থাকে। অনুলিপি যখন রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয় তখন তাকে নকল বা Certified Copy বলে। সহজ কথায় পরচা হল হাতে লিখিত বা Compose কৃত খতিয়ানের কপি বা খসড়ার রূপ।আমরা সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা’র নাম শুনে থাকি। এগুলো কী?

পরচা কী, সে সম্বন্ধে আমরা একটি ধারণা ইতোমধ্যেই পেয়েছি। সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা হল আসলে বিভিন্ন রেকর্ডের খসড়া বা অনুলিপি বা কপি। কাজেই পরচা সিএস, এসএ, আরএস বা মহানগরে জরিপ এই ৪ প্রকার হতে পারে। এছাড়া জরিপ চলা কালে প্রাথমিকভাবে হাতে লেখা একটি খসড়া বিবরণ যাচাইয়ের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়। একে মাঠ পরচা বা হাত পরচা বলে।

পরচা কোথায় পাওয়া যায়?

পরচা বা রেকর্ডের সহি মুহুরী নকল (Certified Copy) পাওয়া যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (DC office)- এর রেকর্ডরুমে। নির্ধারিত ফী সহ আবেদন করলে রেকর্ড রুম থেকে পরচা সরবরাহ করা হয়। পরচা কখনো কোন দালালের কাছ থেকে নেওয়া যৌক্তিক নয়। এতে ভুল থাকতে পারে। কেবলমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ পরচা-ই আসল বা Authentic.পরচা কেন প্রয়োজন?

জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবরণ, জমির খতিয়ান-দাগ, অংশ, হিসসা, শ্রেণী ইত্যাদি জানার জন্য পরচা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার সময় পরচা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। পরচা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি (ল্যান্ড) অফিস বা রের্কডরুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়ারিশ সনদ

উত্তরাধিকার মুসলিম আইনের গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পরেই তার সম্পদের উপর উত্তরাধিকার প্রাপ্তি/ অপ্রাপ্তির প্রশ্ন আসে। তখন ওয়ারিশ সনদের গুরুত্বও মুখ্য হয়ে ওঠে।ওয়ারিশ সনদ সাধারণত দেওয়ানী আদালত প্রেরিত যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনী উত্তরাধিকারগণ পেয়ে থাকে। যদি উইল না করেই কোন ব্যক্তি মারা যান, কোর্ট ওয়ারিশ সনদ প্রদান পূর্বক মৃত ব্যক্তির ঋণ/কর্জ নির্ধারণ করতে পারে।কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পাওয়ার অব এটর্নি কী?

হাবিব সাহেব চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। কিন্তু দেশে কিছু জরুরী কাজ রয়েছে যেখানে তাকে প্রয়োজন হতে পারে। কী করবেন কী করবেন ভাবতে ভাবতে মাথায় এলো পাওয়ার অব এটর্নির চিন্তা। এর মাধ্যমে হতে পারে তার সমস্যার সমাধান। পাওয়ার অব এটর্নি এমন এক ধরণের দলিল যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে কোন কাজ করার ক্ষমতা দিতে পারে তার পক্ষ থেকে।

সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া আদায় করা, আইনগত কাজ পরিচালনা করা সহ আরো নানা ক্ষমতা এর মাধ্যমে দেয়া যায়। পাওয়ার অব এটর্নিতে মূল মালিকের মতো প্রায় একই ক্ষমতা পাওয়ার গ্রহীতার থাকতে পারে।সবাই এই ক্ষমতা নিতে পারেনা। চুক্তি করার যোগ্যতা ( নির্দিষ্ট বয়স, সুস্থতা ) থাকলেই শুধুমাত্র এই ক্ষমতা নেয়া সম্ভব।

মৃত্যু, উদ্দেশ্য সাধন, মেয়াদের অবসান প্রভৃতি কারণে পাওয়ার অব এটর্নির অবসান হতে পারে।তফসিল (Schedule)।

 

তফসিল (Schedule):

জমিজমার ক্ষেত্রে তফসিল বলতে আসলে ভূমির পরিচয়কে বুঝায়। অর্থাৎ জমিটি কোথায়, এর মালিক কে ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। তফসিলে জেলার নাম, উপজেলা বা থানার নাম, মৌজার নাম, জমির দাগ-খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করা হয়।এতে অনেক সময় জমির পরিমাণ, শ্রেণী এবং মালিকানার বর্ণনাও থাকে।

দাগনম্বর :

এটি আসলে কোন সরলরেখা বা বক্ররেখা নয়। দাগ হচ্ছে আসলে জমির Plot Number। আমরা জানি সাধারণত মাপজোকের মাধ্যমে জমিকে একাধিক অংশে বিভক্ত করা হয়। এর প্রতিটি খন্ডকে দাগ বা Plot বলে। জরিপের সময় এরকম প্রত্যেক খন্ড জমিকে একটি নম্বর দ্বারা সূচিত করা হয়। এই নম্বরকেই দাগ নম্বর বলে।

আইনানুগ প্রতিনিধি | চুক্তি আইন

আইনানুগ প্রতিনিধি আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতিনিধি [ Law of Contracts on Agency ] ” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “আইনানুগ প্রতিনিধি” অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি আইনানুগভাবে কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করেন উক্ত ব্যক্তি; এবং যিনি কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনার সহিত সম্পৃক্ত থাকেন, এবং যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রতিনিধিত্বশীল বৈশিষ্ট্যে কার্য সম্পাদন করেন সেই ক্ষেত্রে উক্ত পক্ষের মৃত্যু হইলে যেই ব্যক্তির উপর উক্ত সম্পত্তি বর্তায় উক্ত ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(খ) “আদালত” অর্থ জেলাজজ আদালত, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন জেলাজজ আদালতের কার্য সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত অতিরিক্ত জেলাজজ আদালতও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

 

(গ) “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তি বহির্ভূত আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত বিরোধ সম্পর্কিত কোন সালিস যাহা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক বিরোধ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে কোন একটি পক্ষ-

(অ) একজন ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের নাগরিক, কিংবা ঐ দেশের স্বাভাবিক বাসিন্দা হয়; অথবা

(আ) বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রে নিগমবন্ধ সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হয়; অথবা

(ই) কোম্পানী বা সঙ্ঘ বা ব্যক্তি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান যাহার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশে প্রয়োগ হয়; অথবা

(ঈ) কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সরকার হয়;

(ঘ) “তামাদি আইন” অর্থ Limitation Act, 1908 (IX of 1908);

(ঙ) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908);

(চ) “নির্দিষ্ট রাষ্ট্র” অর্থ ধারা ৪৭ এর অধীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্র;

(ছ) “পক্ষ” অর্থ সালিস চুক্তির কোন পক্ষ;

(জ) “প্রধান বিচারপতি” অর্থ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি;

(ঝ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি;

(ঞ) “ব্যক্তি” অর্থে সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধ সংস্থা, কোম্পানী, সমিতি এবং অংশীদারী কারবারও (Partnership Firm) অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ট) “বিদেশী সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ এমন কোন সালিসী রোয়েদাদ যাহা কোন সালিস চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত হয়,

তবে কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত কোন সালিসী রোয়েদাদ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(ঠ) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ Evidence Act, 1872 (Act I of 1872);

(ড) “সালিস” অর্থ কোন সালিস যাহা স্থায়ী কোন সালিসী সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত হউক বা না হউক;

(ঢ) “সালিস চুক্তি” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তিবহির্ভূতভাবে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত কিংবা উদ্ভব হইতে পারে এইরূপ সকল বা যে কোন বিষয়ের বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য উক্ত আইনানুগ সম্পর্কের পক্ষগণ কর্তৃক সালিসে প্রেরণ করা সম্পর্কিত চুক্তি;

(ণ) “সালিসী ট্রাইব্যুনাল” অর্থ একমাত্র সালিসকারী বা সালিসকারীদের প্যানেল;

(ত) “সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ বিরোধের বিষয়বস্তুর উপর সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত;

(থ) “হাইকোর্ট বিভাগ” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

 

চুক্তির জামিন

 

আইনানুগ প্রতিনিধি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তির বিবেচনা | চুক্তি আইন

চুক্তির বিবেচনা আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – চুক্তির বিবেচনা [ Law of Contracts on Consideration of Contracts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তির বিবেচনা

চুক্তির অপরিহার্য উপাদানসমূহ

Essential elements of Contract

প্রতিটি সম্মতি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হবে যখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হবে। এ শর্তগুলিকে চুক্তির অপরিহার্য উপাদান বলা হয়। উপাদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১। একাধিক পক্ষ (More than one party) একটি বৈধ চুক্তিতে একাধিক পক্ষ থাকতে হবে। যেমন একটি পক্ষ কিছু বিক্রয় করে আর অন্য পক্ষ তা ক্রয় করে। অর্থাৎ একটি চুক্তিতে দুই বা ততোধিক পক্ষ থাকে।

২। বৈধ প্রস্তাব (Lawful offer): চুক্তি আইন অনুসারে যখন এক বা এাধিক পক্ষ অন্য পক্ষ বা পক্ষগণের নিকট কোনো কাজ করা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় তখন তাকে প্রস্তাব বলা হয়। প্রস্তাব অবশ্যই সুস্পষ্ট এবং আইন সম্মত হতে হবে।

 

চুক্তির বিবেচনা

 

৩। বৈধ স্বীকৃতি (Lawful acceptance): চুক্তি সম্পূর্ণ করতে হলে শুধুমাত্র প্রস্তাব পেশ করলে হবে না তা অপর পক্ষকে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ যে পক্ষের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে সে পক্ষ যদি শর্তহীনভাবে তা গ্রহণ করে তবে তাকে প্রস্তাব গ্রহণ বা স্বীকৃতি বলা হয়। এই গ্রহণ বা স্বীকৃতি অবশ্যই সুস্পষ্ট এবং আইন সম্মত হতে হবে।

৪। বৈধ প্রতিদান (Lawful consideration): সাধারনত প্রতিদান ছাড়া চুক্তি আইন বলবৎ যোগ্য নয়। অবশ্য এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। অর্থাৎ চুক্তি তখনই বলবৎযোগ্য যখন চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট এক পক্ষ কিছু পায় আর অন্য পক্ষ কিছু দেয় বা প্রদান করে। এ ‘কিছু’ দেওয়া অথবা অর্জনকে প্রতিদান বলা হয়। কোনো কিছুর বিনিময় ব্যতিত কোনো কাজ করার সম্মতি সাধারনত আইনে বলবৎযোগ্য নয়। প্রতিদান অতীত, বর্তমান এবং ভবিষৎ হতে পারে। তবে শুধুমাত্র সে সকল প্রতিদান বৈধ যা আইন সম্মত।

৫। আইন সম্মত উদ্দেশ্য (Lawful object): চুক্তির উদ্দেশ্য অবশ্যই আইন সম্মত অর্থাৎ বৈধ হতে হবে। যদি চুক্তির উদ্দেশ্য অবৈধ হয় তা হলে সেই চুক্তি অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

৬। পক্ষসমূহের যোগ্যতা (Capacity of parties): সম্মতিতে অংশগ্রহণ সকল পক্ষের চুক্তিতে অংশগ্রহনে আইনগত যোগ্যতা থাকতে হবে অন্যথায় চুক্তি আইনে বলবৎ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপ নাবালক, মদ্যপ, পাগল বা এ প্রকৃতির ব্যক্তিগন সাধারনত চুক্তিতে অংশ গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত এ প্রকৃতির ব্যাক্তিরা যদি চুক্তিতে অংশগ্রহণ করেন তা হলে চুক্তিটি আইনে বলবৎযোগ্য হবে না।

৭। স্বাধীন মতামত (Free consent): সম্মতির পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ঐক্যমত অবশ্যই স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে নতুবা চুক্তি আইন কার্যকর হবে না। যদি সম্মতি জোরপূর্বক, অনধিকার চর্চা বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে মতামতকে প্রভাবিত করা হয় তবে সে চুক্তি বৈধ বলে গণ্য করা হবে না।

৮। নিশ্চয়তা (Certainty): সম্মতি অবশ্যই অস্পষ্ট হওয়া যাবে না। সম্মতির অর্থ সকল পক্ষের নিকট স্পষ্ট হতে হবে অন্যথায় আইন দ্বারা তা বলবৎ করা যাবে না।

৯। কার্যকর করার সম্ভাবনা (Possibility of performance): সম্মতি বাস্তবায়ন যোগ্য হতে হবে। একটি অসম্ভব বা অসাধ্য কার্য সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি আইনে কার্যকর করা যাবে না। অতএব সম্মতি এমন হতে হবে যা বাস্তবায়ন সম্ভব।

১০। বাতিল চুক্তি (Void agreement): চুক্তি আইনে উল্লেখ করা আছে কিছু সম্মতি আইন দ্বারা বলবৎ করা যাবে না, যেমন-

ক) বিবাহ থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
খ) ব্যবসা থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
গ) আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সম্মতি।
ঘ) বাজী ধরা বা রাখা সম্মতি।

১১। আইনি বাধ্যবাধকতা (legal formalities): চুক্তি আইনে চুক্তি কার্যকর করতে হলে অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরন করতে হবে। যেমন মৌখিক চুক্তি গ্রহণযোগ্য তবে সকল ক্ষেত্রে নয়। অনেক ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী চুক্তি লিখিত এবং/অথবা নিবন্ধিত হওয়া প্রয়োজন। যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি বিধি মোতাবেক সম্পাদনের প্রয়োজন, যেমন লীজ, বিক্রয় এবং সম্পত্তি বন্ধক ইত্যাদির ক্ষেত্রে চুক্তি লিখিত হওয়া প্রয়োজন। নিবন্ধন আইনে যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সে সকল ক্ষেত্রে চুক্তি অবশ্যই নিবন্ধিত করতে হবে। অনেক সময় মৌখিক চুক্তি প্রমান করা কষ্টকর হয়ে থাকে, ফলে বাধ্যবাধকতা না থকলেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ লিখিত হয়ে থাকে।

উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতিয়মান হয় যে, সকল সম্মতি বা মতৈক্য চুক্তি হিসেবে গন্য হয় না। সম্মতির জন্য তিনটি উপাদান প্রয়োজন: প্রস্তাব, তা গ্রহণ এবং প্রতিদান। কিন্তু সম্মতির তিনটি উপাদান থাকলেই চুক্তি বলা যাবে না। বৈধ চুক্তি হতে হলে সম্মতিতে উপরোক্ত অপরিহার্য উপাদানসমূহের উপস্থিতি থাকতে হবে। সেই কারণে বলা হয় “সকল চুক্তিই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতিই চুক্তি নয়”। (All contracts are agreement but all agreements are not contracts).

 

চুক্তির জামিন

 

চুক্তির বিবেচনা নিয়ে বিস্তারিত ঃ

চুক্তির জামিন | চুক্তি আইন

চুক্তির জামিন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – চুক্তির জামিন [ Law of Contracts on Bailment of Contracts ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

চুক্তির জামিন

চুক্তি পরিসমাপ্তির পদ্ধতিসমূহ

Methods of Termination

চুক্তি দ্বারা পক্ষগনের মধ্যে দায় বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় যখন এ দায় বা বাধ্যবাধকতা সমাপ্ত হয় তখন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে। বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে চুক্তি পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে। এ পদ্ধতিসমূহ হলো:

১। চুক্তি পালনের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তি
২। সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৩। পরবর্তী অসম্ভবতার জন্য চুক্তির পরিসমাপ্তি
৪। আইনের প্রয়োগ দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি
৫। সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৬। অনুমতি ব্যতীত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি
৭। চুক্তি ভংগ করায় চুক্তির পরিসমাপ্তি

নিম্নে উপরোক্ত পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করা হলো।

 

চুক্তিতে প্রতারণা

 

১। পালনের দ্বারা পরিসমাপ্তি (Termination by Performance)

চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগন যখন তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে তখন তাদের দায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। যখন চুক্তির সকল পক্ষ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন তখন চুক্তিটির সম্পূর্ণ পরিসমাপ্তি হয়। আবার যদি চুক্তির এক পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি পালনের প্রস্তাব করেন অন্য পক্ষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জনান তখন প্রথম পক্ষের দায় পরিসমাপ্ত হবে।

 

২। সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির পরিসমাপ্তি (Termination by Mutual Agreement)

সকল পক্ষের সম্মতিতে চুক্তি বাতিল বা বাদ দেওয়া অথবা শর্তসমূহ পরিবর্তন করা অথবা বিকল্প চুক্তি প্রতিস্থাপন করা যায়। এ কার্যগুলির যে কোনো একটির মাধ্যমে পুরাতন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটানো যায়। সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নলিখিত যে কোনো একটি উপায়ে চুক্তির পরিসমাপ্তি হতে পারে।
ক) বিকল্প চুক্তি: এ প্রকার চুক্তির ফলে পুরাতন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে নতুন চুক্তি সৃষ্টি হয় এবং চুক্তির পক্ষসমূহ একই থাকতে পারে বা পরিবর্তন হতে পারে। যেমন-

খ) চুক্তিরশর্ত পরিবর্তন: চুক্তির শর্ত পরিবর্তন বলতে বুঝায় চুক্তির এক বা একাধিক শর্তসমূহের পরিবর্তন। এ ধরনের পরিবর্তন যদি চুক্তির সকল পক্ষের সম্মতিতে করা হয় তবে তা বৈধ হবে। এ পরিবর্তনে শুধুমাত্র শর্তের পরিবর্তন হয় পক্ষসমূহের পবির্তন হয় না। চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের ফলে পুরাতন চুক্তির আর অস্তিত্ব থাকে না তার পরিসমাপ্তি হয়।

গ) অব্যাহতি প্রদান অব্যাহতি বলতে বোঝায় চুক্তিতে যা বলা হয়েছে তার চেয়ে কম গ্রহণ করা। বাংলাদেশের আইনে প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ন বা আংশিক অব্যাহিত দেওয়া যায় এবং এর জন্য কোনো প্রতিদান প্রয়োজন হয় না। যেমন, ‘ক’ ৫০০০/ টাকা ‘খ’ এর নিকট থেকে ধার নিয়েছে। ‘ক’ ৫০০০/ টাকার পরির্বতে ৪০০০/ টাকা প্রদান করলো এবং ‘খ’ খুশি মনে তা গ্রহণ করলো। এর ফলে পুরাতন ঋণের সমাপ্তি হলো। চুক্তির যে পক্ষকে অধিকার দেওয়া থাকে সে পক্ষ যদি তা ত্যাগ করে তবে অপর পক্ষ দায় মুক্ত হন, তার আর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না।

ঙ) অংগীভূতকরণ: যখন একই ব্যক্তির বড় অধিকার এবং ক্ষুদ্র অধিকার এক সাথে মিলিত হয় তখন ক্ষুদ্র অধিকার বড় অধিকারে নিকট বিলীন হয়ে যায় যেমন-

এক ব্যক্তি কিছু জমি লিজ নিয়ে ছিল, পরবর্তীতে সে জমিটি ক্রয় করে নেয়। এর ফলে তার লিজ চুক্তি সমাপ্ত হয়ে যায় এবং তা মালিকানায় রুপান্তর হয়।

 

৩। পরবর্তী অসম্ভবতার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি (By subsequent supervening impossibility)

চুক্তি করার সময় যে কাজ সম্পাদন করা সম্ভব ছিল তা পরবর্তী কালে অসম্ভব বা অবৈধ হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। এ পরিস্থিতিকে উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা (supervening impossibility) বলে। একে আবার নৈরাশ্য মতবাদ (doctrine of frustration) বলা হয়। উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা অনেক কারনে হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম:

ক) চুক্তির বিষয়বস্তুর ধ্বংস চুক্তির কার্যকারিতা যদি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর উপর নির্ভর করে এবং পরবর্তীতে তা বিনষ্ট হয়ে যায় তবে চুক্তি বাতিল হবে। যেমন-একটি কমিউনিটি সেন্টার বিয়ের জন্য ভাড়া নেওয়া হলো। কিন্তু নির্ধারিত দিনের পূর্বে কমিউনিটি সেন্টারটি আগুনে পুড়ে যায়, ফলে বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে সেন্টারের মালিককে দায়ী করা যাবে না এবং চুক্তিটি বাতিল বলে গন্য হবে।

খ) আইনের পরিবর্তন: আইনের পরবর্তী পরিবর্তনের ফলে চুক্তি বৈধতা হারাতে পারে। এ ক্ষেত্রে মূল চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন ভারতের পেঁয়াজ ক্রয়ের জন্য ‘খ’ ভারতের সরবরাহকারীর সাথে চুক্তি করে। পরবর্তীতে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ফলে ‘খ’ কে সরবরাহকারী পেঁয়াজ সরবরাহ করতে পারেনি। চুক্তিটি বাতিল বলে
গন্য হবে।

গ) পূর্ব শর্তের বিফলতা: যখন কোনো চুক্তি করা হয় তখন ধরে নেওয়া হয় বর্তমানে যে অবস্থা বিদ্যমান আছে তার ধারাবাহিকতা থাকবে। যদি সে অবস্থার পরিবর্তন হয় তবে চুক্তি পরিসমাপ্তি ঘটবে। যেমন- ‘ক’ এবং ‘খ’ একে- অপরকে বিয়ের চুক্তি করলো। বিয়ের কয়েকদিন পূর্বে ‘ক’ পাগল হয়ে গেল। চুক্তিটি বাতিল বলে গন্য হবে।

ঘ) মৃত্যু বা ব্যক্তিগত অক্ষমতা যে সকল ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদিত হয় সে সকল ক্ষেত্রে মৃত্যু অথবা ব্যক্তিগত অক্ষমতার কারনে চুক্তির পরিসমাপ্তি হয়। যেমন-ক একটি গান গাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলো এবং প্রতিদান হিসেবে কিছু অর্থ দেওয়া হলো। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ক এমন অসুস্থ হলো যে তার পক্ষে গান গাওয়া সম্ভব ছিল না। এক্ষেত্রে চুক্তিটি বাতিল হবে।

ঙ) যুদ্ধের প্রাদুর্ভাব: যুদ্ধ কালীন সময় শত্রু দেশের সাথে চুক্তি বাতিল বলে ধরা হয়। যুদ্ধের পূর্বে যদি দুই দেশের নাগরিকের মধ্যে চুক্তি হয় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধ শুরু হয় তবে চুক্তি স্থগিত হয়ে যাবে। যুদ্ধের পরে চুক্তি পুন:বহাল বা বলবৎ করা যেতে পারে।

 

 

৪। আইন দ্বারা চুক্তির পরিসমাপ্তি (By operation of Law):

আইন দ্বারা যে সকল ক্ষেত্রে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে সেগুলি হলো মৃত্যু, দেওলিয়া এবং একত্রীকরণ।

মৃত্যু: যে সকল চুক্তি ব্যক্তির নৈপূণ্য অথবা সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে। যেমন, কোনো নাট্যকারের সাথে নাটকে অভিনয় করার চুক্তি হলো, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হওয়ায় তার পক্ষে নাটক করা সম্ভব হলো না। অবশ্য অন্যান্য ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির অধিকার এবং দায় তার আইনগত প্রতিনিধির উপর পড়বে।

দেওলিয়া: দেওলিয়ার অধিকার এবং দায় কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত আদালতে অর্পিত হয়। দেওলিয়ার সাধারনত কোনো অধিকার এবং দায় থাকে না।

একত্রীকরণ: বড় অধিকারের নিকট ক্ষুদ্র অধিকার বিলীন হয়ে যায়। যেমন, ‘ক’ তার গাড়ী ‘খ’ কে ভাড়া দেয়, পরবর্তীতে ‘খ’ গাড়ীটি ক্রয় করে নেয়। গাড়ী ক্রয়ের ফলে ‘ক’ ও ‘খ’এর ভাড়ার চুক্তিটির পরিসমাপ্তি হবে।

 

৫। সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে চুক্তির পরিসমাপ্তি (By lapse of time)

চুক্তিতে কার্য সম্পাদনের সময় নির্দিষ্ট থাকলে এবং সে সময়ে কার্য সম্পাদন না করলে চুক্তির পরিসমাপ্তি হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে সময় একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

 

৬। অনুমিত ব্যতিত গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তন করা হলে (By material alteration)

পক্ষগনের অনুমিত ব্যতিত যদি চুক্তির গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তন করা হয় তবে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলতে সে ধরনের পরিবর্তন বোঝানো হয়েছে যা পক্ষগণের অধিকার এবং দায়কে যথেষ্ট প্রভাবিত করবে। যেমন অর্থের পরিমানের পরিবর্তন, অর্থ পরিশোধের সময়ের পরিবর্তন, পরিশোধের স্থানের পরিবর্তন, পক্ষগনের নামের পরিবর্তন ইত্যাদি। অবশ্য যে সকল পরিবর্তন পক্ষগনের অধিকার এবং দায় প্রভাবিত করে না অথবা চুক্তি কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তার করে না সে পরিবর্তন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটায় না, যেমন মুদ্রন ত্রুটি, নামের ভুল বানান ইত্যাদি।

 

৭। চুক্তি ভংগ করার চুক্তির পরিসমাপ্তি (By breach of contract)

একটি পক্ষ চুক্তি ভংগ করলে তখন অপর পক্ষ বা পক্ষসমূহ চুক্তি সম্পাদনের বধ্যবাধকতা থেকে রেহাই পায়। চুক্তি ভংগ বলতে বোঝায় এক পক্ষের চুক্তি পালনে ব্যর্থতা অথবা চুক্তি পালনে অস্বীকৃতি, অথবা চুক্তি পালনে অক্ষমতা। চুক্তি ভংগ করলে অপরপক্ষ ক্ষতিপূরণ পেতে পারে বা সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের দাবী করতে পারে। আবার এই দুইটি প্রতিকার এক সংগে পাওয়া যেতে পারে।

আদালত যদি সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দেয় তবে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে না। অপরপক্ষ যদি চুক্তির জন্য ক্ষতিপূরন দাবী করে বা নিজে চুক্তি বাতিল করে তাহলে চুক্তির পরিসমাপ্তি হবে। চুক্তি ভংগের শ্রেনীকরন বিভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে। যেমন সমগ্র না আংশিক চুক্তি ভংগ, বা মূখ্য শর্ত না গৌণ শর্ত ভংগ। তবে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের দৃষ্টিকোন থেকে চুক্তি ভংগের শ্রেনিকরন নিম্নলিখিতভাবে করা যায়:

১। অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তি ভংগ
২। প্রকৃত বা বর্তমান চুক্তি ভংগ

অনুমানমূলক বা গঠনমূলক চুক্তি ভংগ (Anticipatory or constructive breach of contract): যখন এক পক্ষ চুক্তি পালনের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তার দায় পালনে অস্বীকৃতি জানায় অথবা যখন এক পক্ষ তার আচরন বা কার্য দ্বারা বুঝিয়ে দেয় তার পক্ষে চুক্তি পালন সম্ভব না তখন তাকে গঠনমূলক বা অনুমানমূলক চুক্তি ভংগ বলে। এধরনের চুক্তি ভঙ্গ নিম্নলিখিতভাবে হতে পারে:

ক) অস্বীকৃতির মাধ্যমে
খ) কার্য পালনে অসম্ভবতার ফলে

 

চুক্তির জামিন

 

চুক্তির জামিন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া | চুক্তি আইন

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। চুক্তি আইন – বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার [Law of Contracts on Restraint of Trade & Legal Proceeding]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘কোম্পানি আইন’ অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন);

(২) ‘নিবন্ধন’ অর্থ লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কোনো বাণিজ্য সংগঠনের কোম্পানি আইনের অধীন নিবন্ধন;

(৩) ‘নির্বাহী কমিটি’ বা ‘পরিচালনা পর্ষদ’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে নির্বাচনের মাধ্যমে উহার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ;

 

চুক্তিতে প্রতারণা

 

(৪) ‘নির্বাহী কমিটির সদস্য’ বা ‘পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধি অনুসারে উহার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটির সদস্য বা পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকসহ উহার সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি;

(৫) ‘প্রশাসক’ অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন নিযুক্ত কোনো প্রশাসক;

(৬) ‘ফেডারেশন’ অর্থ বাণিজ্য সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের চেম্বারসমূহ ও সমিতিসমূহের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন;

(৭) ‘বাণিজ্য সংগঠন’ অর্থ এইরূপ কোনো সংগঠন-

(ক) যাহা কোম্পানি আইন অনুসারে সীমিতদায় কোম্পানি হিসাবে গঠিত হইবার যোগ্য;

(খ) যাহা অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন হিসাবে পরিচালিত এবং যাহা ধারা ৩ এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বা বিভিন্ন ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বা উহাদের কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত; এবং

(গ) যাহার তহবিল বা আয় বা মুনাফা বা উদ্বৃত্ত অর্থ বা অন্যবিধ আয় উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হয়, তবে উহার কোনো অংশই উহার কোনো সদস্য বা নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো পরিচালকের মধ্যে লভ্যাংশ বা মুনাফা বা বোনাস কিংবা অন্য কোনো আকারে বণ্টন করা হয় না;

(৮) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৯) ‘মহাপরিচালক’ অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিচালক;

(১০) ‘রেজিস্ট্রার’ অর্থ কোম্পানি আইনে সংজ্ঞায়িত রেজিস্ট্রার;

(১১) ‘লাইসেন্স’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রদত্ত কোনো লাইসেন্স;

(১২) ‘সহায়ক কমিটি’ অর্থ প্রশাসকের কর্মসমূহ সম্পাদনে সহায়তা বা পরামর্শ প্রদান করিবার নিমিত্ত মহাপরিচালকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রশাসক কর্তৃক ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর অধীন গঠিত কোনো কমিটি;

(১৩) ‘সংঘবিধি’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধি;

(১৪) ‘সংঘস্মারক’ অর্থ কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সংঘস্মারক।

 

আইনি প্রক্রিয়া

 

বাণিজ্য ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ঃ