All posts by একাডেমিক ডেস্ক, আইন গুরুকুল, GOLN

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

দলিল বলতে যে কোন চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ বোঝায়। তবে বাংলা ভাষায় সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়, বণ্টন এবং হস্তান্তরের জন্য ‘দলিল’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দলিলের পাঁচটি মৌলিক তথ্য হলো: (ক) সম্পত্তির বর্ণনা, (খ) দাতার পরিচয়, (গ) গ্রহীতার পরিচয়, (ঘ) সাক্ষীদের পরিচয় এবং (ঙ) দলিল সম্পাদনের তারিখ। দলিল সম্পাদনের পর সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এতে দলিলের আইনি বৈধতা দৃঢ়তর হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়।

খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের পাকা বইতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় লেনদেনগুলোর বিভন্ন প্রকার পক্ষসমূহকে পৃথক পৃথক শিরোনামের আওতায় শ্রেনীবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্তকারে লিপিবদ্ধ করা। এক কথায় খতিয়ান হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাবের সমষ্টিগত রুপ।

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

(দশ কাঠা বা দুই চৌক)

১/ বিঘা 

এখন ১/১=১ বিঘা ১ কাঠা

১ বিঘা ২ কাঠা = ১/২

১ বিঘা ৩ কাঠা = ১/৩

১ বিঘা ৪ কাঠা = ১/৪

১ বিঘা ৫ কাঠা = ১ । এভাবে লেখা হইত ।

 

আগের কড়া বিভাগ এর সূত্র বিশ্লেষণ করে

১ টাকা= ১৬ আনা= ৩২০ গন্ডা = ১২৮০ কড়া = ৫১২০ কাগ = ১০২৪০০ তিল = ৪০৯৬০০ রেনু= ১৬৩৮৪০০ ঘুর্ন= ৩২৭৬৮০০০ বিন্দু । 

১ টাকা= ১৬ আনা= ৩২০ গন্ডা= ১২৮০ কড়া= ৩৮৪০ ক্রান্তি= ১১৫২০ দপ্তি= ৩৪৫৬০ যব ।

একটি খতিয়ান

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, প = ৪ আনা, ঘ = ১ আনা, ঙ = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।

মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক ২ আনা + ৩ আনা + 8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা। 

এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল ।

মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।

১ একর ৫৬ শতাংশ = ১০০ শতাংশ + ৫৬ = ১৫৬ শতাংশ

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল 

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।

 

 

 

আবার অংশ ধরে শতাংশ বের করেও শতাংশের উপর খাজনার হিসাব করা যায়।

অর্থাৎ

৫.১২ / (১৫৬ X ১০০) = ৫১২ / ১৫৬০০ = ০.০৩২৮ (প্রতি শতাংশে)

ক) ১৯.৫০ শতাংশে খাজনা দিবে (১৯.৫০x০.০৩২৮) = ০.৬৩৯৬ বা ০.৬৪ টাকা।

খ) ২৯.২৫ শতাংশে খাজনা দিবে (২৯.২৫×০.০৩২৮) = ০.৯৫৯৪ বা ০.৯৬ টাকা ।

গ) ৩৯.০০ শতাংশে খাজনা দিবে (৩৯.০০x০.0৩২৮) = ১.২৭৯২ বা ১.২৮ টাকা।

ঘ) ১.৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৯.৭৫x০.০৩২৮) = ০.৩১৯৮ বা ০.৩২ টাকা।

ঙ) ৪৮ ৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৪৮ ৭৫×০.০৩২৮) = ১.৫৯৯ বা ১.৬০ টাকা।

চ) ৯.৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৯, ৭৫×০.০৩২৮) = ০.৩১৯৮ বা ০.৩২ টাকা ।

ভূমি সংক্রান্ত দশমিকের হিসাব

ভূমি সংক্রান্ত খতিয়ান, জমির পরিমাণ নির্ণয়, বণ্টন কিংবা লেনদেনের হিসাব—সবক্ষেত্রেই আজ দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। অতীতে কড়া–ক্রান্তি বা বিঘা–কাঠার মতো এককে হিসাব করা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ রেকর্ড ও গণনা দশমিকেই করা হয়। তাই দশমিক সংখ্যায় যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ জানাটা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, ভূমি অফিসের কর্মচারী, জরিপকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই লেখায় আমরা দশমিক অংকের চারটি মৌলিক নিয়ম—যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ—সহজ ভাষায়, ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছি এবং বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছি কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দশমিকের হিসাব করা যায়।

 

দশমিকের হিসাব

 

দশমিকের হিসাব

পূর্বেই বলা হয়েছে খতিয়ানে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ কিজন্য প্রয়োজন । এখন দশমিকের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দশমিকেও খতিয়ান হিসাব করা হয়েছে পরবর্তীতে। নিচের সংখ্যাগুলোর যোগফল নির্ণয় কর

(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ = কত?

(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = কত?

উত্তরঃ

(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ =৩০.৮২১

(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = ১৫.৪২৭

ব্যাখ্যাঃ এখানে যোগ অংকগুলো লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে যে, দশমিককে একই সারিতে বসানো হয়েছে তাতে দশমিকের সদৃশের মতো হয়েছে। এভাবে ঠিক করে বসিয়ে স্বাভাবিক যোগের নিয়মে যোগ করে দশমিকের সারিতে দশমিক বসালেই হবে।

 

দশমিকের হিসাব

 

 

বিয়োগ করঃ

(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = কত? 

(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = কত?

উত্তর : 

(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = .২১৪২

(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = ২৩.০৪৫

ব্যাখ্যা : প্রথমে দশমিকগুলো একই সারিতে বসানো হয়েছে। ১ নং এ ৮ এর উপরে কোন সংখ্যা না থাকায় স্বাভাবিক বিয়োগের ন্যায় ১০ ধরে ৮ বাদ দেয়া হয়েছে, হাতের ১ শূন্য এর সংগে যোগ করে ৫ হতে ১ বাদ দিয়া ৪ বসানো হয়েছে। ৯ এর উপরে • থাকার দরুন স্বাভাবিক বিয়োগের নিয়মে ১০ ধরে ৯ বাদ দেয়া হয়েছে। হাতের ১, ৯ এর সংগে যোগ করে ১০ হয়েছে উপরের সংখ্যা ছোট হওয়ার দরুন ১২ ধরে তা হতে ১০ বাদ দিয়া বসানো হয়েছে। হাতে ১ থাকে দশমিকের সোজাসুজি দশমিক বসানো হয়েছে। ১ হাতে থাকে তা নিচে ধরে বাদ দিলে কিছুই থাকে না।

 

দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে গুণ :

১। ৬.৪৮ কে ৫ দিয়ে গুণ কর । 

এখানে ৬.৪৮ হচ্ছে শুণ্য এবং ৫ হচ্ছে গুণক ।

২। ৬.৪৫ কে ৮ দ্বারা গুণ কর ।

এখানে ৬.৪৫ হচ্ছে গুণ্য এবং ৮ হচ্ছে গুণক ।

(১) ৬.৪৮ x ৫ = ৩২.৪০  

(২) ৬.৪৫ x ৮ = ৫১.৬০ 

ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিকবিহীন অংক যেভাবে গুণ করতে হয় সেই একইভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু (দশমিকের ডানদিকে অংক গণনা করে) দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় উত্তরে ডানদিক হতে ২টি অংকের পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে। এখানে ডানের শূন্য না বসালেও অংকে মানের কোন পরিবর্তন হবে না। (দশমিকের পর ডানে কোন সংখ্যা না থাকলে শূন্য বসে না। )

 

দশমিকের হিসাব

 

 

ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিক ছাড়া অংক যেভাবে করতে হয় সেভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু গণনা দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় গুণফলের ডানদিক হইতে ২টি অংকের পূর্ব দশমিক বিন্দু বসেছে। 

দশমিক সংখ্যাকে দশমিক দিয়ে গুণ :

(১) ০.৬ কে ০.৭ দ্বারা গুণ কর। 

(২) ০.৮ কে ০.৯ দ্বারা গুণ কর।

উত্তর :

(১) ০.৬ x ০.৭  = ০.৪২

(২) ০.৮ x ০.৯ = ০.৭২

ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণ গুণের মত গুণ করা হয়েছে। তারপর গুণ্যে ও গুণকের দশমিক বিন্দুর ডানপাশের অংকের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। যেমন- 

{১ নং ( .৬ এর জন্য) ১ সংখ্যা + এবং (.৭ এর জন্য) ১ সংখ্যা মোট ২ সংখ্যা }

গুণফলে ঐ ২ সংখ্যা অর্থাৎ ০.৪২ এর আগে দশমিক বসানো হয়েছে।

(১) ৪.৬৮৯ কে .১৪ দ্বারা গুণ কর।

(২) ০.৬৫১ কে .১৭ দ্বারা গুণ কর।

উত্তর :

 

দশমিকের হিসাব

 

ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণত গুণের মত গুণ করে বসানো হয়েছে। গুণ্যে ডানদিক থেকে ৩ সংখ্যা আগে এবং গুণক এ ডানদিক থেকে ২ সংখ্যা মোট ৫ সংখ্যা পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে।

দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে ভাগ

(১) ৪৫.৫ কে ৫ দ্বারা ভাগ কর। 

(২) ৪৯.৭ কে ৭ দ্বারা ভাগ কর।

উত্তর :

 

দশমিকের হিসাব

 

ব্যাখ্যা : সাধারণ ভাগের মত ভাগ করা হয়েছে। শুধু যখনই দশমিক বিন্দুর পরের সংখ্যা ভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তখন ভাগফলে দশমিক বিন্দু বসেছে। 

দশমিক সংখ্যাকে দশমিক সংখ্যা দ্বারা ভাগ :

(১) ৬.৬৫ কে ৩.৫ দ্বারা ভাগ কর।

(২) ১৫.২৫৫ কে ১.৫ দ্বারা ভাগ কর ।

 

দশমিকের হিসাব

 

 

ব্যাখ্যা: ভাজককে পূর্ণ সংখ্যা করার জন্য দশমিক বিন্দুকে ডানে যত অংক পর্যন্ত সরানো হবে ভাজ্যেও দশমিক বিন্দুকে ডানে তত অংক পর্যন্ত সরাতে হবে; যেমন আগের অংকে উপরে ৬.৬৫ এবং নিচে ৩.৫ ছিল। পরবর্তীতে ৬৬.৫ উপরে এবং নিচে ৩৫ লেখা হয়েছে। (এতে হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে) তারপর লবকে হর দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল পাওয়া যাবে। ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যার নাম লব এবং নিচের সংখ্যার নাম হর।

(এই লব ও হর আরও উদাহরণ দিয়ে অন্যভাবে বুঝাবার চেষ্টা করছি)। 

মনে করি ২২.৬৮৮ সংখ্যাটিকে ১.৬ দ্বারা ভাগ করতে হবে। 

(২২.৬৮৮×১০) / ১.৬ = ২২৬.৮৮/১৬

 

দশমিকের হিসাব

 

আবার মনে করি, ১৭.৪৩৭২ সংখ্যাটিকে ১৩.২১ দ্বারা ভাগ করতে হবে।

(১৭.৪৩৭২*১০০) / ১৩০২১

= ১৭৪৩.৭২ / ১৩২১

 

দশমিকের হিসাব

 

এই দুটি উদাহরণে লবকে অর্থাৎ উপরে প্রথমে ১০ দ্বারা এবং পরে ১০০ দ্বারা গুণ করা হয়েছে এজন্য যেন নিচের হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ পায়। যেমন— অংকে ১৭.৪৩৭২ ছিল ১০০ দ্বারা গুণের ফলে ১৭৪৩,৭২ হয়েছে লবে। আর হরে দশমিক কেটে ১৩২১ বা পূর্ণ সংখ্যা হয়েছে। ইহা দশমিকের ভাগের সুবিধার জন্য ।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

আজকে আমরা আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম সম্পর্কে জানবো। বাংলাদেশ আমলের পূর্বে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানসমূহ যথা- CS ও SA খতিয়ানে একাধিক ভূমি মালিকের নাম থাকলে খতিয়ানে মোট জমিতে কোন মালিকের কতটুকু হিস্যা বা অংশ আছে তা “আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল” চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হতো। বাংলাদেশ হবার পরে আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এর পরিবর্তে খতিয়ানে জমির অংশ লেখা হয়। অর্থাৎ মোট জমিতে কার কত অংশ জমি আছে তা বুঝাতে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, যেমন- ১.০০, ১.০০০, ১.০০০০ ইত্যাদি।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি কাগ একসাথে লিখার নিয়ম

 

CS খতিয়ানে “অত্র স্বত্বের বিবরণ ও দখলকার” ঘরে ব্যক্তির নাম এবং নামের ডানদিকে “অংশ” ঘরে ব্যক্তির মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল চিহ্ন দ্বারা লেখা থাকে। জমি ঠিকমতো ভাগ করতে গেলে চিহ্নসমূহ একসাথে লেখা ও তার যোগ, বিয়োগ, গুন ভাগের কৌশল সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম

আনার ডানে গন্ডা এবং গন্ডার ডানে কড়া, কড়ার ডানে কড়ার অংশ যেমন কাগ, ক্রান্তি, তিল, দন্ডি ইত্যাদি লিখতে হয় ৷

 

যোগঃ

দুই, তিনজন অংশীদার মোট কত পেয়েছে তা বুঝার জন্য যোগের প্রয়াজন-

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ তিল এবং ১৮ তিল মোট ২০ তিল। ২০ তিলে ১ কাগ বিধায় কিছু বসে নাই। (হাতে ১ কাগ রইল) উপরে ১ কাগ + নিচে ৩ কাগ + হাতের ১ কাগ মোট ৫ কাগ। ৪ কাগে ১ কড়া বিধায় এক কাগ বসেছে (হাতে ১ কড়া রইল) উপরে ১ কড়া + নিচে ১ কড়া এবং হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। এখন উপরে ১৫ গন্ডা এবং নিচে ৫ গন্ডা মোট ২০ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা, সুতরাং কিছুই বসল না। (হাতে ১ আনা) এখন আনা যোগ করি। উপরে ২ আনা + নিচে ১ আনা + হাতের ১ আনা মোট ৪ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

৫ তিল + ১০ তিল = ১৫ তিল বসেছে। ১ কাগ + ১ কাগ মোট ২ কাগ বসেছে। ১ কড়া + ২ কড়া মোট ৩ কড়া বয়েছে। ৯ গন্ডা + ১০ গণ্ডা মোট ১৯ গন্ডা বসেছে। ৬ আনা + ৪ আনা মোট ১০ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১২ তিল + ১৪ তিল মোট ২৬ তিল। ২০ তিলে ১ কাপ হওয়ার দরুন ৬ তিল বসেছে (হাতে ১ কাগ) ২ কাপ + হাতের ১ কাপ মোট ৩ কাগ বসেছে। ৩ কড়া + ১ কড়া মোট ৪ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার সরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ১ গন্ডা) ৩ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + হাতের ১ গন্ডা = ১৭ গণ্ডা বসেছে। ৯ আনা + ১২ আনা মোট ২১ আনা, ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৫ আনা বসেছে (চোখ ধরেও যোগ করা যায় তবে এটাই প্রথমত সহজ) যেমন আনায় ১ আনা উপরে। সেই ১ আনা বসেছে।

(উপরে দুই চোখ এবং নিচে তিন চোখ মোট ৫ চোখ-৪ চোখে ১ টাকা তাই এক টাকা এবং ১ চোখ বসেছে) যদি টাকারও উপরে যায় তবে এভাবে যোগ করতে হবে। তবে খতিয়ানে টাকার উপরের হিসাব নাই। টাকার পর আনা গন্ডা না থাকলে টাকার ডানে একটু নিচে এরূপ চিহ্ন দিতে হয়।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ দন্তি + ১ দন্তি মোট ৩ দন্তি। ৩ দন্তিতে ১ ক্রান্তি হয় সুতরাং কিছু বসে নাই। (হাতে ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি।  ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ায় ১ ক্রান্তি বসেছে (হাতে ১ কড়া) ১ কড়া + ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। ৩ গন্ডা + ১২ গন্ডা মোট ১৫ গণ্ডা বসেছে। ১৫ আনা + ১০ আনা মোট ২৫ আনা। ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৯ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ দস্তি + ২ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৫ দন্তি। ৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি হওয়ার দরুন ২ দন্তি বসেছে । (হাতের ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি এবং হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৬ ক্রান্তি। ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন কিছুই বসল না (হাতের ২ কড়া রইল) ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া হাতের ২ কড়া মোট ৬ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হওয়ার দরুন ২ কড়া বসেছে (হাতের ১ গন্ডা) ১৫ গণ্ডা + ১২ গন্ডা + হাতের ১ গন্ডা মোট ২৮ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা হওয়ার দরুন ৮ গন্ডা বসেছে (হাতে ১ আনা) ৭ আনা +১০ আনা + ৮ আনা এবং হাতের ১ আনা মোট ২৬ আনা বা ১ টাকা ১০ আনা।

 

বিয়োগ:

ভিন্ন অংশে একজন অংশীদার হতে আরেকজন অংশীদার কত বেশী রেকর্ড করেছে তা বুঝার জন্য বিয়োগের দরকার।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১১ তিল হতে ৯ তিল বাদ দিলে থাকে ২ তিল তা বসেছে। ২ কাগ থেকে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ১ কড়া হলে ১ কড়া বাদ দিলে কিছুই বসে না শুধু চিহ্ন বসেছে। ২ গণ্ডা হতে ১ গন্ডা বাদ দিলে ১ গন্ডা থাকে তা বসেছে। ১৪ আনা হতে ৮ আনা বাদ দিলে ৬ আনা থাকে তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১৯ তিল হতে ১২ তিল বাদ দিলে থাকে ৭ তিল তা বসেছে। ২ কাপ হতে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১০ গন্ডা হতে ৭ গণ্ডা বাদ দিলে থাকে ৩ গণ্ডা তা বসেছে। ৭ আনা হতে ৪ আনা বাদ দিলে ৩ আনা থাকে তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

দেখা যাচ্ছে নিচে আনা বাদে, নিচের সব সংখ্যা উপরে সব সংখ্যা হতে বড়। এ ক্ষেত্রে উপরের সংখ্যা বড় করার জন্য পাশের ১ অংক বেশী নিতে হবে যেমন ২ তিল আছে তা হতে ১৪ তিল বাদ দেয়া যায় না, সুতরাং ১ কাগ বেশী নিতে হবে (২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) ২০ তিল এবং আরও ২ তিল মোট ২২ তিল। তা হতে ১৪ তিল বাদ দিলে থাকে ৮ তিল তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ কাগ রয়েছে) হাতের ১ কাগ + ২ কাগের সাথে দিলে হবে ও কাগ নিচের।

এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটার চেয়ে বড় হয়ে যায়। সুতরাং পাশ হতে ১ অংক (১ কড়া) নিলে উপরে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৪ কাগ + ১ কাগ মোট ৫ কাগ। এখন ৫ কাগ হতে ৩ কাগ বাদ দিলে বসে ২ কাগ । (পাশের অংক হতে নেয়া ১ কড়া অর্থাৎ হাতের) ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ২ কড়া এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপর হতে বড় হয়ে গেল। সুতরাং আগের মত পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশের অংক হতে ১ অংক নিলে উপরের কড়ার পরিমাণ হবে ( ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হেতু) ৪ কড়া + ১ কড়া মোট ৫ কড়া।

এখন ৫ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ও কড়া তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ গণ্ডা থাকল) হাতের ১ গন্ডা + ১২ গণ্ডা মোট ১৩ গণ্ডা। এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটা হতে বড় হল। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক থেকে ১ অংক নিলে ( ১ আনা = ২০ গণ্ডা বিধায় ) উপরে ৩ গতা + ২০ গণ্ডা মোট ২৩ গণ্ডা। এখন ২৩ গণ্ডা হতে ১৩ গণ্ডা বাদ নিয়ে ১০ গণ্ডা বসানো হয়েছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা রইল) হাতের ১ আনা + ১ আনা মোট ১০ আনা। ১৪ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখাঃ

এখানে ২ দন্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি থেকে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ। দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৫ গণ্ডা হতে ১০ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গল্প তাহা বসেছে। ১৩ আনা হতে ৯ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখাঃ

২ দস্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি হতে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে ১ক্রান্তি থাকে তা বসেছে। ৩ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৭ গন্ডা হতে ১২ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গণ্ডা তা বসেছে। ১২ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ২ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

এখানে দেখা যাচ্ছে আনা বাদে নিচের সব সংখ্যা উপরের সব সংখ্যা হতে বড় সুতরাং পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশ হতে ১ অংক নিলে হবে (৩ দণ্ডিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ৩ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৪ দস্তি । এখন ৪ দন্তি হতে ৩ দন্তি বাদ দিলে বসে ১ দন্তি। (হাতে কিন্তু ১ ক্রান্তি) হাতে ১ ক্রান্তি নিচের ২ ক্রান্তির সঙ্গে যোগ করলে নিচে হবে ৩ ক্রান্তি এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড় হল।

সুতরাং পাশের অংক নিতে হবে। পার্শ্বের ১ কড়া নিলে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) উপরে মোট ক্রান্তি হবে ৩ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি। এখন ৪ ক্রান্তি হতে ৩ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। (হাতে ১ কড়া রইল) হাতের ১ কড়া এবং নিচের ২ কড়া মোট ৩ কড়া হবে, (১ কড়া + ২ কড়া = ৩ কড়া)। এক্ষেত্রেও নিচের অংক উপরের অংক হতে বড়। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক আনতে হবে।

পাশ হতে ১ গন্ডা নিলে (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়) মোট উপরে কড়া হবে ৪ কড়া + ১ কড়া = ৫ কড়া। এখন ৫ কড়া হতে ৩ কড়া বাদ দিলে ২ কড়া থাকে, তা বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা রইল) হাতের ১ গন্ডা এবং নিচের ১৫ গন্ডা মোট হবে ১৬ গন্ডা। এক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড়।

সুতরাং পাশের অংক আনতে হবে । পাশের অংক হতে ১ আনা এনে উপরে ধরলে (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) মোট হয় ২০ গন্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গন্ডা। এখন এই ২৩ গণ্ডা হতে ১৬ গন্ডা বাদ দিলে থাকবে ৭ গন্ডা তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা) এখন হাতে ১ আনা + নিচের ৪ আনা মোট ৫ আনা উপরের ১০ আনা হতে ৫ আনা বাদ দিয়ে ৫ আনা বসানো হয়েছে।

 

গুণ

খতিয়ানে সমান অংশে কিছু অংশীদার মিলে মোট কতটুকু পেয়েছে তা জানার জন্য গুণের দরকার হয়। ধরা যাক ৫ জন লোক প্রত্যেকে খতিয়ানের সমান অংশীদার তারা মোট কতটুকু পেয়েছে। মনে করা যাক, একজন অংশীদার ১৫ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে। ৫ জনের অংশীদার কত পাবে?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

২ ক্রান্তি x ৫ = ১০ ক্রান্তি (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) ১০ ক্রান্তিতে হয় ৩ কড়া ১ ক্রান্তি। সেজন্য ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৩ কড়া) এখন ২ কড়া x ৫ = ১০ কড়া এবং হাতের ও কড়া মোট ১৩ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়)। (১৩ কড়া = ৪ গণ্ডা ১ কড়া) এই ১ কড়া বসেছে। (হাতে ৩ গন্ডা) এখন ১৫ গন্ডা x ৫ = ৭৫ গন্ডা + হাতের ৩ গন্ডা মোট ৭৮ গন্ডা। ৭৮ গন্ডাতে হয় (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৩ আনা ১৮ গন্ডা। ১৮ গণ্ডা বসেছে ( হাতের ও আনা) এখন আনার গুণ করলে ১ আনা x ৫ = ৫ আনা + হাতের ৩ আনা মোট ৮ আনা ।

আবার ধরা যাক, ১৫ গন্ডা ২ কড়া ১ ক্রান্তি ২ দস্তি করে প্রত্যেক অংশীদার। এরূপ দশজন অংশীদার মোট কতটুকু পায় তা হিসাব করতে হবে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

২ দপ্তি x ১০ = ২০ দপ্তি (৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ২০ দণ্ডিতে হয় ৬ ক্রান্তি এবং ২ দত্ত, সুতরাং ২ দস্তি বসেছে (হাতের ৬ ক্রান্তি) এখন ১ ক্রান্তি X ১০ = ১০ ক্রান্তি + হাতের ৬ ক্রান্তি মোট ১৬ ক্রান্তি। (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন) ১৬ ক্রান্তি = ৫ কড়া ১ ক্রান্তি।

এই ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৫ কড়া) এখন ২ কড়া x ১০ = ২০ কড়া + হাতের ৫ কড়া মোট ২৫ কড়া (৪ কড়ায় ১ ক্রান্তি বিধায়) ২৫ কড়া = ৬ গণ্ডা ১ কড়া। এই ১ কড়া বসেছে (হাতে ৬ গণ্ডা)। এখন ১৫ গণ্ডা x ১০ = ১৫০ গণ্ডা + হাতের ৬ গণ্ডা = ১৫৬ গণ্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা) বিধায় ১৫৬ গেণ্ডায় হয় ৭ আনা ১৬ গণ্ডা। এই ৭ আনা ১৬ গণ্ডা বসানো হয়েছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা :

১৫ তিল x ৩ = ৪৫ তিল (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ) ৪৫ তিলে হয় ২ কাগ ৫ তিল। এই ৫ তিল বসেছে (হাতে ২ কাগ) এখন ১ কাপ x ৩ = ৩ কাগ + হাতের ২ কাগ মোট ৫ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৫ কাগ = ১ কড়া ১ কাগ। এই ১ কাগ বসেছে। (হাতে ১ কড়া) এখন ২ কড়া x ৩ = ৬ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৭ কড়া (৪ কড়ায় ১ গণ্ডা বিধায় ৭ কড়ায় হয় ১ গণ্ডা ৩ কড়া।

এই ৩ কড়া বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা) এখন ১৯ গণ্ডা x ৩ = ৫৭ গন্ডা + হাতের ১ গণ্ডা মোট ৫৮ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) ৫৮ গন্ডা = ২ আনা ১৮ গন্ডা। এই ১৮ গণ্ডা বসেছে। (হাতে ২ আনা) এখন ৩ আনা x ৩ = ৯ আনা + হাতের ২ আনা মোট ১১ আনা।

 

ভাগ :

ভাগের মাধ্যমে জানতে পারা যায় সমভাগে কোন খতিয়ানের কে কতটুকু অংশ পেয়েছে। মনে করা যাক ক কোন খতিয়ানের ১০ (৩ আনা ১০ গন্ডার অংশীদার) ক এর ৬ টি পুত্র আর কেউ নাই। ক এর মৃত্যুর পর কোন এক পুত্র তার ভাই ভাগা অংশের জমি বিক্রয় করতে গেল। এখন এই ভাই ভাগা অংশে কতটুকু পেল তা হিসাব করতে হবে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা নং (১) :

৩ আনা ১০ গন্ডাকে ৬ ভাগ করার সুবিধার্থে ৩ আনা ১০ গভাকে গুণ এবং যোগ করে সব গণ্ডায় পরিণত করি। মোট হল ৭০ গন্ডা। এখন এই ৭০ গণ্ডার মধ্যে ৬ এগার বার আছে তাই ১১ বসেছে। তারপরও ৪ অবশিষ্ট থাকে। এখন এই ৪ কে আবার কড়ায় পরিণত করি। কড়ায় পরিণত করলে মোট ১৬ কড়া হবে। এবার ৬, ১৬ এর মধ্যে দুবার আছে। সুতরাং ২ কড়া বসল। তবুও ৪ কড়া অবশিষ্ট থাকে।

এখন এই ৪ কড়াকে ক্রান্তি করলে মোট ক্রান্তি হবে ১২, এখন ১২ এর মধ্যে ৬ দুবার আছে। সুতরাং ২ ক্রান্তি বসল। তা হলে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক ভাই ১১। //(১১ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে।

 

২ নং অংক :

মনে করা যাক কোন একটি খতিয়ানে ১৪ আনার মালিক চ চ এর ৮ জন পুত্র আর কেউ নাই। চ এর মৃত্যুর পর তার পুত্ররা প্রত্যেকে কত পেল?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা নং (২):

১৪ আনার মধ্যে ৮ একবার আছে। সুতরাং ১ আনা বসেছে। ৮ আনা ১৪ আনা হতে বাদ দিলে থাকে ৬ আনা। ৬ আনাকে ৮ দ্বারা ভাগ করা যায় না বিধায় ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করতে হবে। ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করলে হয় (৬ আনা × ২০) = ১২০ গণ্ডা। এখন ৮, ১২০ এর মধ্যে ১৫ বার আছে; সুতরাং ১৫ গন্ডা নামল। সুতরাং প্রত্যেক পুত্র পেল ১ আনা ১৫ গণ্ডা।

 

৩ নং অংক :

কোন খতিয়ানে আছে। ৯১৫।। (১০ আনা ১৫ গন্ডা ২ কড়ার) খ মালিক তার মৃত্যুর পর ৫ ছেলে ছাড়া কোন ওয়ারিশ না থাকলে ঐ ছেলেরা প্রত্যেকে ঐ খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা :

৫, ১০ আনার মধ্যে দুবার আছে বিধায় ২ আনা বসেছে। ৫ এখন ১৫ গন্ডার মধ্যে ৩ বার আছে বিধায় ৩ গণ্ডা বসেছে। এখন ২ কড়াকে ৫ ভাগ করা যায় না বিধায় ২ কড়াকে কাগ করলে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৮ কাগ। ৮ কাগের মধ্যে ৫ একবার আছে সেজন্য ১ কাগ বসেছে।

৮ কাগ হতে ৫ কাগ বাদ দিলে তবুও ত কাগ অবশিষ্ট থাকে, উহাকে তিল করি। (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ৩ কাগ = (৩x ২০) = ৬০ তিল । এখন ৬০ তিলের মধ্যে ৫, ১২ বার আছে, সুতরাং প্রত্যেক ওয়ারিশ পাবে ২ আনা ৩ গণ্ডা ১ কাগ ১২ তিল।

কড়া বিভাগ – জমির হিসাব (সম্পূর্ণ গাইড)

বাংলাদেশে জমির হিসাব ও পরিমাপের ইতিহাস বহু প্রাচীন। আজ আমরা একর–শতক, হেক্টর ইত্যাদি আন্তর্জাতিক এককে জমির মাপ করি। কিন্তু এই আধুনিক ব্যবস্থার আগে গ্রামবাংলা ও উপমহাদেশে ভূমির হিসাব হতো বিঘা–কাঠা, কানি–গণ্ডা, আনা–কড়া প্রভৃতি দেশীয় ও প্রথাগত পদ্ধতিতে।
এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলোর অন্যতম একটি হলো কড়া বিভাগ

আজও বহু মৌজায়, জরিপ নকশা, পুরোনো খতিয়ান ও আমিনদের মুখে আমরা এই শব্দগুলো শুনে থাকি—

“দুই কড়া”, “সাড়ে তিন গণ্ডা”, “পৌনে এক আনা” ইত্যাদি।

এই প্রাচীন হিসাব-পদ্ধতিটি বোঝা গেলে জমির হিসাব অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

কড়া বিভাগ

 

গান্টার শিকল (কড়া) এর ইতিহাস

ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী Edmund Gunter (১৫৮১–১৬২৬) ভূমি পরিমাপ সহজ করার জন্য একটি ধাতব শিকল তৈরি করেন। এটি পরিচিত হয়—

Gunter’s Chain
বাংলায়: গান্টার শিকল / কড়া / চেইন

ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জরিপ চালানোর সময় এই শিকল ব্যবহৃত হয়। সেই সময় জমিদারি প্রথা, নীলচাষ ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য জমির নির্ভুল মাপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তখন থেকেই বাংলায় এই চেইন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয় এবং গ্রামাঞ্চলে এটি “কড়া” নামে পরিচিত হয়।

গান্টার শিকলের পরিমাপ

বিষয় পরিমাণ
দৈর্ঘ্য ৬৬ ফুট
মিটার ২০.১২ মিটার (প্রায়)
ভাগ ১০০ লিংক
১০ চেইন × ১ চেইন = ১ একর

অর্থাৎ—

১০ বর্গ চেইন = ১ একর

কড়া বিভাগের মূল ধাপ

সূক্ষ্ম স্তর

ধাপ রূপান্তর
২০ বিন্দু = ১ ধূলা
৪ ধূলা = ১ রেণু
৪ রেণু = ১ তিল
২০ তিল = ১ কাগ
৪ কাগ = ১ কড়া
৪ কড়া = ১ গণ্ডা
২০ গণ্ডা = ১ আনা
১৬ আনা = ১ কাঠা
২০ কাঠা = ১ বিঘা

 

 

কড়া → গণ্ডা  গজ রূপান্তর

কড়া গণ্ডা
১ কড়া = ৫ পৌনে এক গণ্ডা
২ কড়া = ৫½ এক গণ্ডা
৩ কড়া = ৫¾ পৌনে দুই
৪ কড়া = ৬ দুই
৫ কড়া = ৬½ সোয়া দুই
৬ কড়া = ৬¾ আড়াই
৭ কড়া = ৭ সাড়ে দুই
৮ কড়া = ৭½ তিন
৯ কড়া = ৮ সোয়া তিন
১০ কড়া = ৮½ সাড়ে তিন
১১ কড়া = ৯ চার
১২ কড়া = ৯½ সোয়া চার
১৩ কড়া = ১০ সাড়ে চার
১৪ কড়া = ১০½ পাঁচ
১৫ কড়া = ১১ সোয়া পাঁচ
১৬ কড়া = ১১½ সাড়ে পাঁচ
১৭ কড়া = ১২ ছয়
১৮ কড়া = ১২½ সোয়া ছয়
১৯ কড়া = ১৩ সাড়ে ছয়
২০ কড়া = ১৩½ সাত
২১ কড়া = ১৪ সোয়া সাত
২২ কড়া = ১৪½ সাড়ে সাত
২৩ কড়া = ১৫ আট
২৪ কড়া = ১৫½ সোয়া আট
২৫ কড়া = ১৬ সাড়ে আট
২৬ কড়া = ১৬½ নয়
২৭ কড়া = ১৭ সোয়া নয়
২৮ কড়া = ১৭½ সাড়ে নয়
২৯ কড়া = ১৮ দশ
৩০ কড়া = ১৮½ সোয়া দশ
৩১ কড়া = ১৯ সাড়ে দশ
৩২ কড়া = ১৯½ এগারো
৩৩ কড়া = ২০ সোয়া এগারো
৩৪ কড়া = ২০½ সাড়ে এগারো
৩৫ কড়া = ২১ বারো
৩৬ কড়া = ২১½ সোয়া বারো
৩৭ কড়া = ২২ সাড়ে বারো
৩৮ কড়া = ২২½ তের
৩৯ কড়া = ২৩ সোয়া তের
৪০ কড়া = ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া = আনা

আনা পর্যন্ত কড়া বিভাগ

কড়া গজ প্রচলিত নাম
১ কড়া পৌনে এক গণ্ডা
৪ কড়া দুই গণ্ডা
৮ কড়া ৭½ তিন গণ্ডা
১৬ কড়া ১১½ সাড়ে পাঁচ
২০ কড়া ১৩½ সাত
৪০ কড়া ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া ১ আনা

 

কেন কড়া বিভাগ জানা জরুরি?

১. পুরোনো দলিল ও খতিয়ান বুঝতে
২. আমিন/সার্ভেয়ারদের হিসাব বুঝতে
৩. জমির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করতে
৪. প্রতারণা থেকে বাঁচতে
৫. জমি কেনাবেচায় দরদাম বুঝতে

আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক

আজ আমরা ব্যবহার করি—

  • একর
  • শতক
  • বর্গমিটার
  • হেক্টর

কিন্তু এই সবের ভিত্তিতেই রয়েছে গান্টারের কড়া পদ্ধতি।
অতএব, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থার শিকড় এই প্রাচীন কড়া বিভাগেই নিহিত।

 

 

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ কেবল একটি গণনাপদ্ধতি নয়, এটি বাংলার ভূমি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের ডিজিটাল যুগেও এই প্রাচীন সূত্র আমাদের শেখায় কীভাবে জমিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাপা যায়।

যদি আপনি জমির প্রকৃত মালিকানা বুঝতে চান, প্রতারণা থেকে বাঁচতে চান— তাহলে কড়া বিভাগ জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ভূমি জরিপ হলো জমির সীমানা নির্ধারণ, পরিমাণ নির্ণয় এবং নকশা তৈরির একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার বণ্টন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি—সবক্ষেত্রেই সঠিক জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল জরিপের কারণে জমি নিয়ে বিবাদ, মামলা ও আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই মাঠে কাজ করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কীভাবে পরিমাপ করতে হবে এবং কীভাবে নকশা তৈরি করতে হবে—তা জানা অত্যাবশ্যক।

এই লেখায় ভূমি জরিপের ধাপে ধাপে করণীয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং খতিয়ান পাঠের কৌশল সহজভাবে আলোচনা করা হলো।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ধাপ–১ : প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Reconnaissance)

জরিপ শুরুর আগে প্রথম কাজ হলো পুরো জমিটি ঘুরে দেখা। একে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলা হয়।

কেন এটি জরুরি?

কারণ মাঠে কী কী বাধা আছে, কোথা দিয়ে চেইন বা ফিতা টানা সহজ হবে, কোথায় গাছ, পুকুর, ঘর, নালা, খাল বা রাস্তা রয়েছে—এসব না জানলে পরিমাপে ভুল হবে।

কী কী দেখবেন?

  • জমির চারপাশে কোন প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বাধা আছে কি না
  • জমির আকৃতি (আয়তাকার, ত্রিভুজ, অনিয়মিত)
  • কোথায় ভাঙা বা বাঁকা সীমানা
  • কীভাবে জমিটিকে ২, ৩ বা ৪ ভাগে ভাগ করলে সহজে পরিমাপ করা যাবে

এই ধাপে আপনি ঠিক করবেন—জমিটিকে কতগুলো ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজে ভাগ করবেন।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

 

ধাপ–২ : স্টেশন ও স্টেশন লাইন নির্বাচন

জরিপে স্টেশন মানে হলো এমন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু, যেখান থেকে মাপ নেওয়া শুরু হবে।

কীভাবে করবেন?

  • সুবিধাজনক ও খোলা জায়গা নির্বাচন করুন
  • সেখানে একটি খুঁটি পুঁতে দিন
  • এটিই হবে আপনার প্রথম স্টেশন
  • এরপর অপর একটি পয়েন্ট বেছে নিয়ে তার সঙ্গে একটি স্টেশন লাইন তৈরি করুন

এইভাবে পুরো জমিটিকে কয়েকটি ছোট প্লটে ভাগ করুন, যেন প্রতিটি অংশ সহজে মাপা যায়।

ধাপ–৩ : কাগজে নকশা (Field Sketch)

মাঠে মাপ নেওয়ার আগে কাগজে একটি খসড়া নকশা আঁকুন।

কী করবেন?

  • প্রতিটি স্টেশন চিহ্নিত করুন
  • প্রতিটি অংশকে A, B, C, D নামে চিহ্ন দিন
  • ফিতা বা চেইন দিয়ে মাপ নিয়ে কাগজে লিখুন
  • সব অংশের ক্ষেত্রফল বের করে যোগ করুন
  • এভাবেই পুরো জমির মোট ক্ষেত্রফল পাবেন

 

জরিপ কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি

যন্ত্র ব্যবহার
গান্টার চেইন / ফিতা দৈর্ঘ্য মাপার জন্য
তিন পায়া টেবিল নকশা রাখার জন্য
লগি দূরত্ব মাপতে
থ্রি-থার্টি স্কেল স্কেল তৈরিতে
খুঁটি স্টেশন চিহ্নিত করতে
রুলার দাগ টানতে
চাঁদা চিহ্ন দিতে
ওলন দিক নির্ণয়ে
পেন্সিল লিখতে
আলামত তালিকা সীমানা চিহ্নের বিবরণ
শিট ও কাগজ নকশা আঁকতে

খতিয়ানে কড়া–ক্রান্তি হিসাব বোঝা

বাংলাদেশে খতিয়ান সাধারণত দুইভাবে লেখা হয়:

  • দশমিক পদ্ধতি
  • কড়া–ক্রান্তি পদ্ধতি

অনেকে দশমিক বোঝেন, কিন্তু কড়া–ক্রান্তি বুঝতে পারেন না।

কড়া–ক্রান্তির সম্পর্ক:

  • ১ কানি = ২০ গণ্ডা
  • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
  • ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি

খতিয়ানের মালিকানা যোগ করার সময় প্রথমে যোগ করে দেখবেন — বিন্দু সূত্রে মিলছে, না যব সূত্রে মিলছে। যে কোনো একটি সূত্রে মিললেই হিসাব সঠিক ধরা হবে।

ভূমি জরিপ একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ। সামান্য ভুল বড় আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা, সঠিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও হিসাব যাচাই—এই চারটি ধাপ মেনে চললেই একটি নির্ভুল জরিপ সম্ভব।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী 

জমির পরিমাপে আজ বিশ্বব্যাপী যে এককগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে হেক্টর (Hectare)এয়র (Are) অন্যতম। এই এককগুলো আন্তর্জাতিক মেট্রিক পদ্ধতির অংশ, যা মিটার ভিত্তিক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখন জমির হিসাব সরকারিভাবে একর–শতক ও হেক্টর–এয়র উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তাই জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড, ম্যাপিং ও সার্ভেতে এই এককগুলোর রূপান্তর জানা অত্যন্ত জরুরি।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী

 

এয়র ও হেক্টরের উৎপত্তি

এয়র ও হেক্টর উভয়ই মেট্রিক সিস্টেম থেকে উদ্ভূত।

  • Are (এয়র) = ১০০ বর্গমিটার
  • Hectare (হেক্টর) = ১০,০০০ বর্গমিটার
    অর্থাৎ,

১ হেক্টর = ১০০ এয়র

মৌলিক দৈর্ঘ্য রূপান্তর

একক রূপান্তর
১ মিটার ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
১ মিটার ৩.২৮ ফুট
১ মিটার ১.০৯ গজ

 

বর্গমিটার হিসাবে

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার

 

শতক হিসাবে

জানা আছে:

১ হেক্টর = ২.৪৭১০৫ একর = ২৪৭.১০৫ শতক

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ এয়র ২.৪৭১০৫ শতক

 

বর্গহাত হিসাবে

১ হেক্টর = ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত

একক মান
১ হেক্টর ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত
১ এয়র ৪৭৮.৩৯ বর্গহাত

 

বর্গফুট হিসাবে

১ হেক্টর = ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট

একক মান
১ হেক্টর ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট
১ এয়র ১,০৭৬.৩৯ বর্গফুট

 

বর্গগজ হিসাবে

১ হেক্টর = ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ

একক মান
১ হেক্টর ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ
১ এয়র ১১৯.৫১৯ বর্গগজ

 

বর্গলিংক হিসাবে

১ হেক্টর = ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক
১ এয়র ২,৪৭১.০৫ বর্গলিংক

 

বিঘা–কাঠা হিসাবে

বাংলাদেশের মান অনুযায়ী:

১ বিঘা ≈ ১৩৩৮ বর্গমিটার

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ≈ ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ≈ ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এক নজরে এয়র–হেক্টর

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ হেক্টর ১০০ এয়র
১ হেক্টর ২.৪৭ একর
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ হেক্টর ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার
১ এয়র ২.৪৭ শতক
১ এয়র ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এয়র ও হেক্টর হলো আধুনিক ভূমি পরিমাপের আন্তর্জাতিক মান। এই সূত্রগুলো জানা থাকলে—

  • জমির প্রকৃত আয়তন নির্ণয়
  • দলিল যাচাই
  • জরিপ বোঝা
  • এবং প্রতারণা থেকে বাঁচা
    অনেক সহজ হয়ে যায়।

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

আজকে আমরা জানবো লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

লিংক বা কড়ির হিসাবকে ফুট/ইঞ্চিতে নিতে হলে মোটামুটি হিসাবের জন্যে ১ লিংক/কড়ি = ৮ ইঞ্চি এবং ১.৫ লিংক = ১ ফুট ধরে যত লিংক হয়, তার তিন ভাগের দুই ভাগের যোগফল হলো ফুট। যেমন ১২ লিংকে কত ফুট তা বের করতে হবে । ১২ কে ৩ ভাগ করলে পাওয়া যায় ৪। এবার ৪ কে ২ দিয়ে গুণ করলেই ফুট পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ৮ ফুট।

১ লিংক = .৬৬ ফুট।

১৪০ লিংক = ১২ ফুট।

৫০০ লিংক = ৩৩০ ফুট । 

৫৭০ লিংক = ৩৭৬ ফুট ।

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

ফুট-কে লিংক/কড়ি-তে পরিবর্তনের পদ্ধতি:

যত ফুট. তার ঠিক অর্ধেক নিয়ে ঐ ফুটের সাথে যোগ করলে লিংক বা কড়িতে পরিণত হবে। ধরা যাক ৬ লিংককে ফুটে পরিবর্তন করতে হবে। ৬ ফুটের অর্ধেক হলো ৩ । এই ৩-কে ৬ ফুটের সাথে যোগ করলেই লিংক হবে। অর্থাৎ ৬ + ৩ = ৯। ২০ ফুটের লিংক হলো ২০ + ২ = ১০ + 20 = ৩০।

 

লিংক এর সাথে ফুট বা ইঞ্চির সমতা

লিংক

ফুট

ইঞ্চি

৭.৯
৩.৮
১১.৮
৭.৭
৩.৬
১১.৫
৭.৪
৩.৪
১১.৩
১০ ৭.২
১১ ৩.১
১২ ১১.১
১৩ ৭.০
১৪ ২.৯
১৫ ১০.৮
১৬ ১০ ৬.৭
১৭ ১১ ২.৬
১৮ ১১ ১০.৬
১৯ ১২ ৬.৫
২০ ১৩ ২.৪
২১ ১৩ ১০.৩
২২ ১৪ ৬.২
২৩ ১৫ ২.২
২৪ ১৫ ১০.১
২৫ ১৬ ৬.০
২৬ ১৭ ১.৯
২৭ ১৭ ৯.৮
২৮ ১৮ ৫.৮
২৯ ১৯ ১.৭
৩০ ১৯ ৯.৬
৩১ ২০ ৫.৫
৩২ ২১ ১.৪
৩৩ ২১ ৯.৪
৩৪ ২২ ৫.৩
৩৫ ২৩ ১.২
৩৬ ২৩ ৯.১
৩৭ ২৪ ৫.০
৩৮ ২৫ ১.০
৩৯ ২৫ ৮.৯
৪০ ২৬ ৪.৮
৪১ ২৭ ০.৭
৪২ ২৭ ৮.৬
৪৩ ২৮ ৪.৬
৪৪ ২৯ ০.৫
৪৫ ২৯ ৮.৪
৪৬ ৩০ ৪.৩
৪৭ ৩১ ০.২
৪৮ ৩১ ৮.২
৪৯ ৩২ ৪.২
৫০ ৩৩
৫১ ৩৩ ৭.৯
৫২ ৩৪ ৩.৮
৫৩ ৩৪ ১১.৮
৫৪ ৩৫ ৭.৭
৫৫ ৩৬ ৩.৬
৫৬ ৩৬ ১১.৫
৫৭ ৩৭ ৭.৪
৫৮ ৩৮ ৩.৪
৫৯ ৩৮ ১১.৩
৬০ ৩৯ ৭.২
৬১ ৪০ ৩.১
৬২ ৪০ ১১
৬৩ ৪১ ৭.০
৬৪ ৪২ ২.৯
৬৫ ৪২ ১০.৮
৬৬ ৪৩ ৬.৭
৬৭ ৪৪ ২.৬
৬৮ ৪৪ ১০.৬
৬৯ ৪৫ ৬.৫
৭০ ৪৬ ২.৪
৭১ ৪৬ ১০.৩
৭২ ৪৭ ৬.২
৭৩ ৪৮ ২.২
৭৪ ৪৮ ১০.১
৭৫ ৪৯ ৬.০
৭৬ ৫০ ১.৯
৭৭ ৫০ ৯.৮
৭৮ ৫১ ৫.৮
৭৯ ৫২ ১.৭
৮০ ৫২ ৯.৬
৮১ ৫৩ ৫.৫
৮২ ৫৪ ১.৪
৮৩ ৫৪ ৯.৯
৮৪ ৫৫ ৫.৩
৮৫ ৫৬ ১.২
৮৬ ৫৬ ৯.১
৮৭ ৫৭ ৫.০
৮৮ ৫৮ ১.০
৮৯ ৫৮ ৮.৯
৯০ ৫৯ ৪.৮
৯১ ৬০ ০.৭
৯২ ৬০ ৮.৬
৯৩ ৬১ ৪.৬
৯৪ ৬২ ০.৫
৯৫ ৬২ ৮.৪
৯৬ ৬৩ ৪.৩
৯৭ ৬৪ ০.২
৯৮ ৬৪ ৮.২
৯৯ ৬৫ ৪.১

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

বাংলাদেশে জমির পরিমাণ নির্ণয়ে আজও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, লিংক, হাত, গন্ডা ইত্যাদি প্রাচীন ও আধুনিক একক ব্যবহৃত হয়। সরকারি দলিল, রেজিস্ট্রি, খতিয়ান, নামজারি, মৌজা ম্যাপ—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান, বণ্টন কিংবা ভিটির হিসাব করতে হলে বিঘা–কাঠা রূপান্তর ও ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র জানা আবশ্যক।

এই লেখায় আমরা:

  • প্রচলিত জমির একক
  • রূপান্তর সূত্র
  • ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র ও অনিয়মিত জমির হিসাব
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

সবকিছু ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

প্রচলিত জমির একক (বাংলাদেশ)

একক মান
১ কাঠা ৭২০ বর্গফুট
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ১০০ শতক = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ বিঘা ২০ কাঠা
১ কাঠা ২০ ছটাক
১ শতক ১০০০ লিংক
১ মাইল ৫২৮০ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

 

১. ত্রিকোণাকার জমির উচ্চতা নির্ণয়

সমস্যা:
একটি ত্রিভুজাকার জমির ক্ষেত্রফল ৩০ শতক। ভূমি ২৫০ লিংক হলে উচ্চতা কত?

সমাধান:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
৩০ শতক = ৩০ × ১০০০ = ৩০,০০০ বর্গলিংক

ত্রিভুজের সূত্র:
উচ্চতা = (ক্ষেত্রফল × ২) / ভূমি

= (৩০,০০০ × ২) / ২৫০
= ২৪০ লিংক

উত্তর: ২৪০ লিংক

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

২. খাল খননের খরচ নির্ণয়

সমস্যা:
১ মাইল দীর্ঘ একটি খালের উপর বিস্তার ৩৫ ফুট, নিচে ২৫ ফুট, গভীরতা ১০ ফুট। প্রতি ১০০০ ঘনফুটে ২৫০ টাকা খরচ হলে মোট খরচ কত?

সূত্র:
মাটির আয়তন = (উপর + নিচ) × গভীরতা × দৈর্ঘ্য / ২

= (৩৫+২৫) × ১০ × ৫২৮০ / ২
= ১৫,৮৪,০০০ ঘনফুট

প্রতি ঘনফুট = ২৫০ / ১০০০ টাকা
= ০.২৫ টাকা

মোট খরচ = ১৫,৮৪,০০০ × ০.২৫
= ৩,৯৬,০০০ টাকা

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৩. পুকুরের মাটি দিয়ে ভিটির উচ্চতা

পুকুর: ৬০ × ৪০ × ১০ ফুট
মাটির আয়তন = ২৪,০০০ ঘনফুট

ভিটি: ৮০ × ৫০ ফুট

উচ্চতা = আয়তন / (দৈর্ঘ্য × প্রস্থ)
= ২৪,০০০ / (৮০ × ৫০)
= ৬ ফুট

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৪. মই ও টাওয়ারের উচ্চতা

পাইথাগোরাস সূত্র:
কর্ণ² = ভূমি² + উচ্চতা²

টাওয়ার: মই = ১০০ মিটার, ভূমি = ৬০ মিটার

উচ্চতা = √(১০০² − ৬০²)
= √(১০,০০০ − ৩৬০০)
= √৬৪০০
= ৮০ মিটার

 

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

৫. আয়তাকার জমি → কাঠা/বিঘা

সমস্যা: ১৩০ ফুট × ৯০ ফুট জমি
ক্ষেত্রফল = ১১,৭০০ বর্গফুট

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট

১১,৭০০ ÷ ৭২০ = ১৬ কাঠা ৪ ছটাক

 

৬. অনিয়মিত জমির হিসাব (লিংক)

দৈর্ঘ্য গড় = (১৫০+১৪৫+১৫৫)/৩ = ১৫০
প্রস্থ গড় = (৮০+৮৫+৯০)/৩ = ৮৫

ক্ষেত্রফল = ১৫০ × ৮৫ = ১২,৭৫০ বর্গলিংক

বিঘা/ কাঠায় জমির পরিমাণ 

 

জমির পরিমাণ নির্ণয় শুধু অঙ্ক নয়—এটি একটি বাস্তব জীবনের দক্ষতা। দলিল, খাজনা, খতিয়ান, বিক্রয় দলিল, ভিটি নির্মাণ—সব ক্ষেত্রে এই হিসাব জানা জরুরি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই বিঘা–কাঠা–শতক রূপান্তরে দক্ষ হতে পারে।

একর শতকে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশে জমির পরিমাপে একর ও শতক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক একক। সরকারি রেকর্ড, দলিল, খাজনা, নামজারি, জরিপ নকশা, খতিয়ান—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। অথচ অনেকেই একর–শতকের সঠিক রূপান্তর, চেইন, লিংক, হাত, নল, গন্ডা ইত্যাদির সাথে সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানবো—

  • একর ও শতকের সংজ্ঞা
  • চেইন ও লিংক থেকে একরে রূপান্তর
  • অনিয়মিত জমির গড় মাপ নির্ণয়
  • ত্রিভূজ ও সমবাহু জমির ক্ষেত্রফল
  • বাস্তব জীবনের গণিতভিত্তিক সমস্যা

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

১. একর ও শতকের মৌলিক ধারণা

একক মান
১ একর ১০০ শতক
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ একর ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১০ বর্গ চেইন ১ একর
১ বর্গ চেইন ০.১ একর

উদাহরণ:
৮৪ বর্গ চেইন = (৮৪ × ১) / ১০ = ৮.৪ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

২. পুকুরের পাড় ভাগ করে জমি বণ্টন

সমস্যা:
দৈর্ঘ্য ১৭০ হাত, প্রস্থ ১৫০ হাত একটি পুকুরের চারদিকে ৫ হাত চওড়া পাড় আছে। এই পাড় তিনজনের মধ্যে ৮ আনা, ৫ আনা ও ৩ আনা হিসেবে ভাগ করতে হবে।

সমাধান:
পাড়ের মোট পরিমাপ =
১৭০ + ১৭০ + ১৪৫ + ১৪৫ = ৬৩০ হাত

বণ্টন:

  • A পায় = ৬৩০ × ৮/১৬ = ৩১৫ হাত

  • B পায় = ৬৩০ × ৫/১৬ = ১৯৭ হাত

  • C পায় = ৬৩০ × ৩/১৬ = ১১৮ হাত

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৩. নল ও হাত থেকে কাচ্চা কানি

দৈর্ঘ্য = ৪০ নল ৫ হাত
= (৪০ × ৮) + ৫ = ৩২৫ হাত

প্রস্থ = ২৮ নল ৩ হাত
= (২৮ × ৮) + ৩ = ২২৭ হাত

ক্ষেত্রফল = ৩২৫ × ২২৭
= ৭২,৮০০ বর্গহাত

রূপান্তর অনুযায়ী:
৯ গণ্ডা ২ কড়া ১ কান্তি

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৪. অনিয়মিত জমি একর–শতকে

দৈর্ঘ্য:
(২৫৫+২৫০+২৪৫)/৩ = ২৫০ লিংক

প্রস্থ:
(১৭৫+১৭০+১৬৮)/৩ = ১৭১ লিংক

ক্ষেত্রফল = ২৫০ × ১৭১
= ৪২,৭৫০ বর্গলিংক

রূপান্তর:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
= ৪২.৭৫ শতক = ০.৪২৭৫ একর

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৫. টেলিগ্রাফ পোস্ট ও রাস্তার প্রস্থ

কর্ণ (তার) = ৫০ ফুট
উচ্চতা = ৪০ ফুট

ভূমি = √(৫০² − ৪০²)
= √(২৫০০ − ১৬০০)
= √৯০০
= ৩০ ফুট

 

একর শতকে জমির পরিমাণ

 

৬. সমবাহু ত্রিভূজ জমি → একর/হেক্টর

এক বাহু = ১৬০ ফুট

সূত্র:
ক্ষেত্রফল = a² × √৩ / ৪

= ১৬০² × ১.৭৩২ / ৪
= ১১,০৮৪ বর্গফুট

১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
অতএব = ১১,০৮৪ ÷ ৪৩,৫৬০
= ০.২৫ একর ≈ ১০.৩০ এয়ার

৭. ত্রিভুজ জমি → বিঘা/কাঠা

ভূমি = ২৫০ হাত
উচ্চতা = ২১০ হাত

ক্ষেত্রফল = (২৫০ × ২১০) / ২
= ২৬,২৫০ বর্গহাত

রূপান্তর করে বিঘা–কাঠায় প্রকাশ করা যাবে।

একর ও শতকে জমির পরিমাণ নির্ণয় একটি অপরিহার্য দক্ষতা। জমি কেনা-বেচা, উত্তরাধিকার বণ্টন, রাস্তা, পুকুর, ভিটি, খাল—সব ক্ষেত্রেই এই হিসাব কাজে লাগে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই এই হিসাব আয়ত্ত করতে পারে।

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে আজও জমির হিসাব করতে কাচ্চা কানি, গণ্ডা, কড়া ও ক্রান্তি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পুরনো দলিল, খতিয়ান, দানপত্র ও বণ্টননামায় এই পরিমাপ বহুল প্রচলিত। আধুনিক একক যেমন একর, শতক বা বর্গফুটে রূপান্তর না জানলে এসব হিসাব বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই লেখায় আমরা জানবো—

  • কাচ্চা কানি পদ্ধতির এককসমূহ
  • এককগুলোর বর্গফুটে রূপান্তর
  • কাচ্চাকানি ↔ বিঘা–কাঠা ↔ একর–শতক
  • বাস্তব সমস্যার সমাধান

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

কাচ্চাকানি পদ্ধতির একক

একক মান (৮ হাতি নলের মাপে)
১ কানি ১৭,২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ২০ গণ্ডা
১ গণ্ডা ৮৬৪ বর্গফুট
১ গণ্ডা = ৪ কড়া
১ কড়া ২১৬ বর্গফুট
১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
১ ক্রান্তি ৭২ বর্গফুট

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ
কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–১ : কাচ্চাকানি ও বিঘা–কাঠার বিনিময়ে লাভ-ক্ষতি

বিপ্লব দেয়:
১০ কানি ১২ গণ্ডা ৩ কড়া ২ ক্রান্তি

রূপান্তর:

  • ১০ কানি = ১৭,২৮০ × ১০ = ১,৭২,৮০০

  • ১২ গণ্ডা = ৮৬৪ × ১২ = ১০,৩৬৮

  • ৩ কড়া = ২১৬ × ৩ = ৬৪৮

  • ২ ক্রান্তি = ৭২ × ২ = ১৪৪

মোট দেয় = ১,৮৩,৯৬০ বর্গফুট

বিপ্লব নেয়:
১২ বিঘা ১৪ কাঠা ৮ ছটাক

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
    ১২ বিঘা = ১,৭২,৮০০

  • ১৪ কাঠা = ৭২০ × ১৪ = ১০,০৮০

  • ৮ ছটাক = ৪৫ × ৮ = ৩৬০

মোট নেয় = ১,৮৩,২৪০ বর্গফুট

ক্ষতি = ৭২০ বর্গফুট (১ কাঠা)

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–২ : একর থেকে কাচ্চাকানি ও বিঘা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট

৪.৭ একর = ৪৭০ শতক
১ শতক = ৪৩২ বর্গফুট

৪৭০ × ৪৩২ = ২,০৩,০৪০ বর্গফুট

দেওয়া জমি:

কাচ্চাকানি অংশ
২ কানি = ৩৪,৫৬০
৫ গণ্ডা = ৪,৩২০
৩ কড়া = ৬৪৮
২ ক্রান্তি = ১৪৪
মোট = ৩৯,৬৭২

বিঘা–কাঠা অংশ
৫ বিঘা = ৭২,০০০
৭ কাঠা = ৫,০৪০
১২ ছটাক = ৫৪০
মোট = ৭৭,৫৮০

মোট দেওয়া = ১,১৭,২৫২
অবশিষ্ট = ৮৫,৭৮৮ বর্গফুট

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

 

সমস্যা–৩ : ত্রিভুজ → বর্গক্ষেত্র → একর

ক্ষেত্রফল = ২৫,৯২১ বর্গমিটার

বর্গক্ষেত্রের বাহু = √২৫,৯২১ ≈ ১৬১ মিটার

রূপান্তর করলে ≈ ৬ একর ৪০.৫০ শতক

জমির ক্ষেত্রফল একর শতকে নিম্নরূপঃ

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৪ : অংশীদারদের জমি বণ্টন

মোট জমি = ৮৭৫ মি × ১৬০ মি

আনা অনুযায়ী প্রস্থ বণ্টন:

  • জহির (৭ আনা): ১৬০ × ৭/১৬ = ৭০ মি

  • রহিম (৬ আনা): ৬০ মি

  • জামাল (৩ আনা): ৩০ মি

 

কাচ্চাকানিতে জমির পরিমাণ

 

সমস্যা–৫ : বিষমবাহু ত্রিভুজ জমি

আইল = ১৩, ১৪, ১৫ চেইন

s = (১৩+১৪+১৫)/২ = ২১

ক্ষেত্রফল = √{২১(২১−১৩)(২১−১৪)(২১−১৫)}
= √(২১×৮×৭×৬)
= ৮৪ বর্গচেইন

১০ বর্গচেইন = ১ একর
অতএব = ৮.৪ একর = ৮ একর ৪০ শতক

কাচ্চাকানি পদ্ধতি বুঝতে পারলে পুরনো দলিল, বণ্টননামা ও গ্রামীণ হিসাব সহজ হয়ে যায়। আধুনিক এককে রূপান্তরের দক্ষতা থাকলে জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব।