জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

আজকে আমরা সিভিল বন্দী সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

সিভিল বন্দী

 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

বিধি-৮৮৬৷

প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে সিভিল ওয়ার্ড বা কারাগারে আটক রাখতে হবে এবং তাদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মেলামেশার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

বিধি-৮৮৭।

প্রয়োগ নেই।

 

বিধি-৮৮৮।

সিভিল বন্দী ৬ প্রকারের-

(১) দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ (ডি) ধারায় দেওয়ানী আদালত কর্তৃক দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত ব্যক্তি,

(২) রায়ের পূর্বে সিভিল কারাগারে সোপর্দকৃত বিবাদী

(৩) দেওয়ানী আদালতের আদেশ মোতাবেক ডিক্রীজারীর জন্য আটক বিচারে-দেনদার,

(৪) সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশ মোতাবেক সরকারী পাওন আদায় আইন, ১৯১৩ অধীনে আটক বিচারে দেনদার,

(৫) ফৌজদারি কার্য বিধির { } ৫১৪ ধারায় ফৌজদারি আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড প্রদত্ত ব্যক্তি,

(৬) প্রযোজ্য অন্য কোন আইনে সিভিল কারাগারে আটককৃত ব্যক্তি।

 

বিধি-৮৮৯।

লক আপের শেষে সূর্যাস্তের পর কোন সিভিল বন্দীকে ভর্তি করা যাবে না।

 

বিধি-৮৯০।

দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার XXI, রুল ৩৯ মোতাবেক বিচারে- দেনদার সিভিল বন্দীর খাবার খরচ ডিক্রীদার বহন করবেন। ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় প্রেরিত সিভিল বন্দীর খাবার খরচ সার্টিফিকেট অফিসার বন্দীর সঙ্গে প্রেরণ করবেন অথবা বিনাশ্রম স্কেলে তাদেরকে সরকার কর্তৃক খাওয়ানো হবে মর্মে আদেশ প্রদান করবেন।

 

সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯১।

যখন ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে কোন সিভিল বন্দীকে কারাগারে সোপর্দ করা হয়, তখন প্রেরণকারী আদালত হাইকোর্ট অনুমোদিত হারে বন্দীর মাসিক খোরপোষ ভাতা ধার্য করে দিবেন। প্রথম পেমেন্ট কোর্ট অফিসারের নিকট প্রদান করতে হবে। চলতি মাসের যতদিন অবশিষ্ট আছে সে হিসাব করে, কোর্ট অফিসার তা জেলারের নিকট প্রেরণ করবেন।

যথাযথ ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত কোন বিচারে দেনদারকে সিভিল কারাগারে গ্রহণ করা হবে না। সম্পূর্ণ পরিমাণ আনুষঙ্গিক ভাতা (যদি থাকে) মাস শুরু হবার পূর্বেই জেলারের নিকট অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। ডিক্রীদার ভাতা পরিশোধ না করলে জেল সুপার আদালতকে না জানিয়ে বিচারে দেনদারকে মুক্তি দিবেন। মুক্তি সে দিন সকালে দিতে হবে, যে দিনের জন্য কোন ভাতা পরিশোধ করা হয় নি। ডিক্রীদারকে ৭৬ নম্বর জেল ফরমে তার পরিশোধকৃত টাকার প্রাপ্তি প্রদান করতে হবে।

 

বিধি-৮৯২।

আদালত দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত বন্দীর মাসিক ভাতা কেবল মাত্র শ্রেণী অনুযায়ী ধার্য করবেন, বন্দীর বংশ বা জাতীয়তা বিবেচনা করবেন না (হাইকোর্ট রুল ১৫ (সিভিল), ১৯৩২।

 

বিধি-৮৯৩।

(১) সিভিল বন্দীর মুক্তির তারিখ ৫২৪ বিধি অনুযায়ী গণনা করতে হবে এবং তার নাম রিলিজ ডাইরীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) একাধিক ওয়ারেন্ট মূলে কোন সিভিল বন্দীকে আটকের আদেশ হলে, প্রত্যেক ওয়ারেন্ট পূর্ণ ভাবে কার্যকর করতে হবে, যদিও এতে বন্দীর আটকের মেয়াদ ৬ মাস অতিক্রান্ত হতে পারে। বিধি-৮৯৪। ডিক্রীজারীর জন্যে আটককৃত প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে আটক রাখতে হবে-

(ক) যখন ৫০ টাকার বেশী পরিশোধের ডিক্রী হয়, ৬ মাস; এবং

(খ) অন্য যে কোন ক্ষেত্রে, ৬ সপ্তাহ: তবে শর্ত থাকে যে, সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে মুক্তি পেতে পারে যদি-

(১) দেওয়ানী কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ওয়ারেন্টে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করলে, বা

(২) ডিক্রী অন্য ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেলে, বা

(৩) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল তার অনুরোধ ক্রমে, বা

(৪) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল, সে খোরপোষ ভাতা পরিশোধ হতে বিচ্যুত হলে, বা

(৫) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল সে ব্যক্তি জেল সুপার কর্তৃক বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিংয়ের মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে।

আরও শর্ত থাকে যে, ঐ বন্দী আদালতের আদেশ ব্যতীত উপ-বিধি (২) এবং (৩) অনুযায়ী মুক্তি পাবে না। এই বিধান সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশে দেওয়ানী কারাগারে আটক বিচারে- দেনদারদের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব অনুসরণ করা হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯৫।

কোন বিচারে দেনদার দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

(ক) কোন সংক্রামক রোগের কারণে সরকার কর্তৃক,

(খ) গুরুতর অসুস্থতার জন্যে রায় প্রদানকারী আদালত বা তার উচ্চ আদালতের নির্দেশে।

 

বিধি-৮৯৬।

সিভিল বন্দীর মুক্তির পরে, যদি তার খাবার বাবদ কোন টাকা জেলারের হাতে অব্যয়িত থাকে, জেলার তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন। খাবার টাকা ফেরত দেয়ার প্রত্যেক প্রাপ্তি রাখতে হবে এবং ক্যাশ বইতে হিসাবের বিপরীতে লাগিয়ে রাখতে হবে।

 

বিধি-৮৯৭।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজের জামা-কাপড়, খাবার ও তৈজসপত্র ব্যবহারের এবং ক্রয় করা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে। যদি কোন সিভিল বন্দী পর্যাপ্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর ব্যবস্থা না করতে অপারগ হয়,তা হলে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে তা তাকে সরবরাহ করবেন।

 

বিধি-৮৯৮।

কোন ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে সোপর্দকৃত সিভিল বন্দীকে পূর্বোক্ত ভাবে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হলে, জেল সুপার সে ব্যক্তির নিকট বন্দীকে প্রদত্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর মূল্য বাবদ খরচের হিসাব প্রেরণ পূর্বক তা পরিশোধের জন্যে লিখিত দাবী জানাবেন। লিখিত দাবী পাবার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা পরিশোধ করা না হলে, জেল সুপার ঐ সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন।

ডিক্রীদারের নাম ঠিকানা আদালত হতে নিশ্চিত হয়ে রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে ডিক্রীদারের ঠিকানায় দাবী প্রেরণ করতে হবে। পর প্রাপ্তির যুক্তি সঙ্গত সময় অপেক্ষা করার পর পাওনা পরিশোধ না হলে জেলার সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে জেল সুপার নিশ্চিত হবেন যে, দাবী মানা হয়নি বা পরিশোধ করা হয়নি।

 

বিধি-৮৯৯।

যদি ডিক্রীদারের খরচে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হয়,বিচারে-দেনদারকে মুক্তি প্রদানের সময়, রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে ডিক্রীদারকে জানাতে হবে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জামা-কাপড় বা বেডিং দাবী না করেন তবে তা জেল সুপার নিজ দায়িত্বে বিক্রয় করে দিবেন। জামা-কাপড় বা বেডিং তদনুযায়ী বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং বিক্রয়ের আর আদালতে জমা প্রদান করা হবে।

 

বিধি-৯০০।

সিভিল বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জেল সুপারের নির্ধারিত সময় মোতাবেক কারাগারের বাহির হতে খাবার সরবরাহ করতে দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিক্রীদার কর্তৃক জমাকৃত ভাঙা বন্দীদের বন্ধুদের কাছে দেয়া যেতে পারে।

 

বিধি-৯০১।

সকল জন্মকৃত বা সরবরাহকৃত খাবার, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেলারের মাধ্যমে এবং জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এবং পরীক্ষা করে কারাগারে প্রবেশ করানো হবে।

 

বিধি-৯০২।

কোন সিভিল বন্দীর খাদ্য, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য সামগ্রী অন্য কোন বন্দীর নিকট বিক্রয় বা ভাড়ায় দেয়া যাবে না। এ বিধির লংঘনকারীকে খাদ্য কেনা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের সুযোগ রহিত করা হবে এবং কোন সিভিল বন্দী কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারায় কোন অপরাধ করলে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক বিচারে দণ্ডনীয় হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৯০৩।

বিধির পরিপন্থী না হলে, সিভিল বন্দীদের নিকট ড্রাগ বা মদ ব্যতীত টাকা বা অন্যান্য সামগ্রী দাতার ইচ্ছানুযায়ী দান বা অনুদান হিসাবে বিতরণ করা যেতে পারে। তাদেরকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই দেয়া যেতে পারে এবং তাদের নিজ খরচে জেল সুপার অনুমোদিত আপত্তিহীন বই বা সংবাদ পত্র রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে নিরাপদ ঘরোয়া খেলার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে সিভিল বন্দীর জন্য জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত মিষ্টি বা অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

 

বিধি-৯০৪।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজেদের ভরণ-পোষণের জন্য জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হবার অনুমতি দেয়া যাবে। সিভিল বন্দীরা নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে এবং কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় না হলে, সম্পূর্ণ আয় গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় হলে যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাদের আয় হতে কেটে রাখা হবে ৷ কোন সিভিল বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু, তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য চাপ দেয়া যাবে।

 

বিধি-৯০৫ ৷

সিভিল বন্দীগণ যখন দিনে কক্ষে বা ওয়ার্ডে থাকবে তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যথাযথ পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। কোন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা বা অনুমোদিত ভিজিটর সিভিল ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তারা উঠে দাঁড়াবে, সম্মান করবে এবং কাজ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিবে।

তারা কারাগারের নিয়ম এবং জেল সুপারের নির্দেশ প্রতিপালন করবে। কোন সিভিল বন্দী অপর কোন বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণ বা অপমান করলে বা ঝগড়া করলে বা জোরে কথা বললে এবং হৈ চৈ করলে কিংবা অশোভন বা অনৈতিক কোন অপরাধ করলে বা বিনা অনুমতিতে বাহিরের কারো সাথে যোগাযোগ করলে বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ প্রদান করলে বা করার চেষ্টা করলে বা জুয়া খেললে এবং ওয়ার্ডের বারান্দা নোংরা করলে এবং আদেশ অমান্য করলে বা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোন ভাবে অসম্মান প্রকাশ করলে ১,৭ এবং ৮ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ৪ নম্বর গুরু শাস্তি অথবা বলবৎ আইন মোতাবেক অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

বিধি-৯০৬।

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন সিভিল বন্দীকে পলায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা করে সুযোগ প্রদান করলে দণ্ড বিধির ২২২ বা ২২৩ ধারায় দণ্ডনীয় হবেন। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে দও বিধির ২২৫বি ধারায় দণ্ডনীয় হবে। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে ডিক্রীদারকে অবহিত করতে হবে, যিনি, বন্দীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি কারা কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে পুনঃধৃতকরণে সাহায্য করবেন। পুনঃধৃত করা গেলে বা পলায়নের চেষ্টা করলে, বন্দীর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ২২৫বি ধারায় বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা করা হবে।

 

টীকা- যে ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হয়ে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতায় কোন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিতকে আইনানুগভাবে আটক করে রাখতে আইনত বাধ্য থেকে অবহেলাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, সে ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। (ধারা-২২৩, দণ্ডবিধি)।

 

বিধি-৯০৭।

যে সকল বন্দী নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আগ্রহী, তাদেরকে জেল সুপার সকল তথ্য ও সহায়তা করবেন-এ মর্মে প্রত্যেক সিভিল ওয়ার্ডের সামনে নোটীশ টানিয়ে রাখতে হবে। দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা লেখা যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় লেখার কাগজ ও জিনিসপত্র সরবরাহ করা যেতে পারে ।

বিধি-৯০৮।

সিভিল বন্দীদের জন্য সিভিল জেল রেজিষ্টার (৯ নম্বর রেজিষ্টার) ব্যবহৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *