জেল কোড অনুযায়ী জেলারের দায়িত্ব

জেল কোড অনুযায়ী জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা জেলারের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-২৪১। এ কোডের যে কোন বিধিতে জেলার বলতে ডেপুটি জেলার এবং জেলারের দায়িত্ব পালনকারী অন্য ব্যক্তিকেও বুঝাবে। ডেপুটি জেলার হতে জেলার পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

বিধি-২৪২। জেলার কারাগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং জেল সুপারের নির্দেশ মোতাবেক কারাগারের সকল সংস্থাপনাদি নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং জেল সুপারকে তার কাজে সাহায্য করবেন এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা দেখবেন। জেলার কারাগার পরিচালনার জন্যে জেল কোডে বর্ণিত সকল বিধি বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্যে দায়ী থাকবেন। এ উদ্দেশ্যে সকল বিধি বিধান এবং কারা মহাপরিদর্শকের সকল সার্কুলার সম্পর্কে তিনি নিজেকে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী করবেন।

{বিধি-২৪২এ। জেলার পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে একটি বিভাগীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সিলেবাস নিম্নরূপ হবে-

(১) জেল কোড বিধি সমূহ ১ম ও ২য় খন্ড এবং কারাগার সমূহের সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, কারাগারে বন্দী আটক এবং তাদের পরিচালনা এবং শৃঙ্খলার বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী আইন ও বিধি সমূহ, 

(২) বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ১ম ও ২য় খন্ড এবং ফিন্যান্সিয়াল রুলস 

(৩) কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের সার্কুলার সমূহের বিষয়বস্তু,

(8) ড্রিল;

(৫)সাধারণ জ্ঞান ।

উপরের প্রতিটি বিষয় ১০০ নম্বরের হবে এবং ৫০ নম্বর পাস নম্বর বলে গণ্য হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন। বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কাউকে স্থায়ী করা হবে না।

নং ৭১ এইচ জে (১) ও পি-৮/৮৫ তারিখ ১৮-৪-১৯৬০ মূলে সংযোজিত

বিধি-২৪৩। জেলারের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সরাসরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবেন এবং তার নির্দেশ প্রতি পালনে বাধ্য থাকবেন ।

বিধি-২৪৪। জেলার জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে অনুপস্থিত থাকার জন্যে ছুটি প্রদান করতে পারেন, তবে এই ছুটির মেয়াদ চার ঘন্টার বেশী হবে না। অধস্তনের অনুপস্থিত কালে জেলার তার দায়িত্বের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৪৫। যদি জেল সুপার অন্যত্র বসবাসের জন্যে লিখিত অনুমতি প্রদান না করেন তবে জেলারকে কারাগারের অভ্যন্তরে বসবাস করতে হবে। আদালতে হাজির হওয়ার জন্যে অথবা জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বাহিরে যাওয়া ব্যতীত জেলার সার্বক্ষণিকভাবে কারাগার এলাকায় উপস্থিত থাকবেন। এরূপ বাহিরে যাবার প্রাক্কালে উপস্থিত অধস্তন সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন এবং তা রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী তাতে প্রতিস্বাক্ষর করবেন।

প্রত্যুষের আন-লক সময় হতে অপরাহ্নের লক-আপ সময় পর্যন্ত জেলার এবং ডেপুটি জেলার একই সময়ে কারাগারে অনুপস্থিত থাকবেন না। এ উদ্দেশ্যে তাদের আহার এবং বিশ্রামের সময় সমন্বয় করতে হবে।

বিধি-২৪৬। যদি প্রয়োজন হয়, তিনি কারাগার পরিদর্শনে আগত ম্যাজিষ্ট্রেট, মেডিকেল অফিসার, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শকগণের কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সংগে থাকবেন। জেল সুপারের কারাগার পরিদর্শনকালীন সময়ে তিনি তার সংগে থাকবেন।

বিধি-২৪৭। জেলার কারাগারের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী তার জন্য নির্ধারিত রিপোর্ট বহিতে (রেজিষ্ট্রার নং-১) লিপিবদ্ধ করে জেল সুপারের নিকট উপস্থাপন করবেন। এ ধরনের বহিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে :-

ক) কারাগারের আন-লকের সময়,

খ) এ সময় উপস্থিত কারা কর্মচারীদের সংখ্যা:

গ) বন্দীদের প্রাত্যহিক কাজ শুরুর সময়;

ঘ) দিনের মধ্যবর্তীকালীন সময়ে কাজ বন্ধের এবং আবার কাজ শুরুর সময়:

ঙ) কারাগারের কাজ বন্ধের সময় এবং লক আপের সময়।

তিনি কারাগারের যে কোন ধরনের বিদ্রোহ, মারাত্নক ধরনের অপরাধ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু অথবা মহামারির প্রাদুর্ভাবের বিষয় রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করবেন । তিনি যদি কখনো তার উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, ব্যর্থতার কারণ উল্লেখ পূর্বক রিপোর্ট বহিটি জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। জেল সুপার জেলারের সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট বহিটি মনোযোগ সহকারে পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন ।

বিধি-২৪৮ ৷ জেলারের মূখ্য দায়িত্ব হ’ল কারাগারে আটক বন্দীদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করা এবং বন্দী ও তার অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল অবস্থা বজায় রাখা, সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের নিকট হতে বিধিবদ্ধ নিয়মে কাজ আদায় করা এবং কারাগারে আটক বন্দীদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও সরবরাহকৃত খাদ্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। তিনি কারাগারের সেল এবং হাসপাতালসহ প্রতিটি অংশ প্রতিদিন পরিদর্শন করবেন যাতে করে প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রতিটি বন্দীকে তিনি দেখতে পান।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৪৯। জেলারকে বন্দীদের আন-লক এবং লক-আপ সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। একমাত্র অসুস্থতা এবং দায়িত্ব পালনে অসমর্থ না হলে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করতে পারবেন না। সাময়িক অনুমতিক্রমে এ ধরনের দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিষয়টি রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বৃহৎ কারাগারগুলোতে আন-লক এবং লক-আপ সময়ে ডেপুটি জেলার বা প্রধান কারারক্ষীদেরকে কারাগারের বিভিন্ন অংশে এমনভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে যাতে করে জেলার নিশ্চিত হতে পারেন যে, প্রতিটি বন্দীকে সঠিকভাবে আন-লক এবং লক-আপ করা হয়েছে। লক-আপের পরে জেলার পরীক্ষা করে দেখবেন কারাগারের প্রতিটি চাবি সঠিকভাবে তার নিকট জমা হয়েছে কিনা ।

বিধি-২৫০। কোন বন্দী কারগারে আগমনের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বন্দীর রীট, ওয়ারেন্ট অথবা আদেশ পরীক্ষা করে এর বৈধতা সম্পর্কে জেলারকে নিশ্চিত হতে হবে। বন্দীর সাথে আনীত নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্য যে কোন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী অথবা যে সমস্ত পোশাক বন্দীর প্রয়োজন নেই তা সংশ্লিষ্ট বন্দীর { সম্পত্তির বিবরণী ( ফরম নং ৫১৫৮) ফরমে এবং অন্যান্য রেজিষ্টারে} লিপিবদ্ধ করে জমা রাখবেন।

তিনি বন্দীর সম্পত্তি নিরাপদে রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন। তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্দীকে জেল সুপার ও মেডিকেল অফিসারের নিকট হাজির করবেন।

নং-১৫৮৭ এইচ জে তারিখ ১৯-৪-১৯৩৮ এবং নং ১৩৪৪ এচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে। সংযোজিত।

বিধি-২৫১। বন্দীদের আটক রাখার ওয়ারেন্ট সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর খালাসের তারিখ সঠিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করা হয় কিনা, তিনি তা পরীক্ষা করে দেখবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির বিষয়টি তিনি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন যাতে করে কোন বন্দী অতিরিক্ত সময়ের জন্য আটক না থাকে বা সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই খালাস না পায়।

রেয়াত ব্যবস্থায় একজন বন্দীর মুক্তির তারিখ সঠিকভাবে জেলারকে নির্ধারণ করতে হবে। কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড দেয়া হলে তিনি তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করবেন। নির্জন কারাবাসের দণ্ড প্রদান করা হলে তা নিয়ম মোতাবেক বিরতিসহ কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখবেন।

বিধি-২৫২। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জেলার সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের কারাগারে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দান করবেন। কার্য বন্টনের ক্ষেত্রে তাকে প্রতি পাক্ষিকে একবার করে বন্দীদের ওজন পরিমাপ করে দেখতে হবে। কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পেয়েছে দেখা গেলে তার কাজ পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-২৫৩। কারাগারের নিয়ম ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা জেলার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখে রাখবেন এবং জেল সুপারের সামনে অপরাধীকে হাজির করবেন, কিন্তু নিজে শাস্তি প্রদান করবেন না। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে বন্দীকে হ্যান্ড ক্যাপ বা ডান্ডা বেড়ী লাগাবেন কিংবা সেলে তালাবদ্ধ করে রাখবেন এবং অতি সত্বর তা জেল সুপারকে জানাবেন।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৫৪। কারাগারে যাতে কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ তথা কোন বন্দীর নিকট এ ধরনের অবৈধ মালামাল না থাকতে পারে সে জন্য জেলার ন্যূনপক্ষে সপ্তাহে

একবার অনির্ধারিতভাবে বন্দীদের ওয়ার্ড, সেল, ওয়ার্কশপ, কাপড় চোপড়, বিছানাপত্র, ইত্যাদি তল্লাশী করবেন।

বিধি-২৫৫। বন্দীদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ অথবা চিঠি পত্র প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পর্কে জেলার জেল কোডের সপ্তদশ অধ্যায়ের নির্দেশাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলবেন। তবে জেল কোডের চতুর্থ অধ্যায়ে মোতাবেক অনুমোদিত ব্যতীত কোন আগন্তুক অথবা বহিরাগতকে জেল সুপারের লিখিত নির্দেশ ব্যতীত কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিবেন না ।

বিধি-২৫৬। জেলার বন্দীদের রেশন সামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ এবং যথাযথভাবে রান্না ও পরিবেশনের জন্যে দায়ী থাকবেন। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ দায়িত্ব অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-২৫৭। জেলার কোন অসুস্থ বন্দী অথবা চিকিৎসার্থে মেডিকেল অফিসারের নিকট যেতে ইচ্ছুক বন্দীদের কারা হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন। কোন বন্দীর মানসিক অসুস্থতা পরিলক্ষিত হলে তাকেও অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কারা হাসপাতালে বন্দী প্রেরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিষ্টী টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিধি-২৫৮। কোন বন্দীর চিকিৎসা বিষয়ে মেডিকেল অফিসার অথবা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট যে সমস্ত নির্দেশাবলী প্রদান করবেন জেলার তা যথা নিয়মে তামিল করার ব্যবস্থা করবেন। এ সমস্ত নির্দেশাবলীর মধ্যে যেগুলো তিনি তামিল করবেন সে গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিন্ত্রী টিকেটে লিখে রাখবেন। আইন গত কারণে যে সমস্ত নির্দেশ প্রতিপালন করতে তিনি অপরাগ হবেন, তার কারণ হিস্ট্রী টিকেটে লিপিবদ্ধ করে অনতিবিলম্বে জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। তবে কোন বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের জরুরী লিখিত নির্দেশগুলো তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপালনে বাধ্য থাকবেন।

বিধি-২৫৯। কারাগারে কোন বন্দী মারা গেলে জেলার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে অবহিত করবেন। কারাগার এলাকায়  কোন বন্দী মারা গেলে জেলারকে এ মৃত্যুর বিষয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভা না থাকলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবহিত করতে হবে। মৃত্যুর সংবাদ সংশ্লিষ্ট বন্দীর আত্মীয়-স্বজনকেও জানাতে হবে । 

বিধি-২৬০। প্রতি সপ্তাহে একটি সুবিধাজনক দিবসে জেলার মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে কারাগারে আটক সমস্ত বন্দীদেরকে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করবেন ঃ-

ক) সর্তকতার সাথে প্রতিটি বন্দীকে পরিদর্শন করবেন; 

খ) প্রতিটি বন্দীর কাপড়-চোপড়, বিছানা-পত্র পরীক্ষা করে দেখবেন: 

গ) সকল বন্দী উপস্থিত রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন; বন্দীদের কাপড়-চোপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করে উহার ফলাফল সম্পর্কে রিপোর্ট বহিতে প্রতিবেদন লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-২৬১। কারারক্ষীদের ড্রীল, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি জেলার দেখবেন। রিজার্ভ গার্ডের কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ যথাযথ ভাবে সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে কিনা তাও তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। কারারক্ষীগণ যাতে রাতে তাদের নির্ধারিত কোয়ার্টার পরিত্যাগ করতে না পারে, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য প্রতি মাসের কোন একদিন জেলার উক্ত কোয়ার্টারগুলো পরিদর্শন করবেন এবং কোন রক্ষী কোয়ার্টারে অনুপস্থিত নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন।

নোট- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর স্ব:ম: ২৭১ (জেল-১) তারিখ ২৮-৫-১৯৮২ মোতাবেক কারারক্ষীদের জন্যে ৬ সপ্তাহের একটি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে।

বিধি-২৬২। কারাগারের যাবতীয় রেজিষ্টার, রেকর্ড ইত্যাদি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। জেলারকে অধস্তন কর্মচারীদের কার্যাবলী তদারকী তথা যাবতীয় কাজ সঠিক সময়ে আদায় করে নিতে হবে। তিনি কারাগারের যাবতীয় ক্যাশ বহি সংরক্ষণ করবেন এবং ক্যাশ বহি অনুসারে নদগ অর্থ সঠিকভাবে জমা রাখবেন।

বিধি-২৬৩। ব্যক্তিগত ক্যাশ হতে কারাগারের অগ্রিম খরচ মেটানো জেলারের জন্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । এ কোন্ডের একচল্লিশতম অধ্যায় এবং সিভিল একাউন্ট কোড কঠোর ভাবে অনুসরণ করে তিনি সকল আর্থিক লেনদেন করবেন।

বিধি-২৬৪। জেলার কারাগারের যাবতীয় ষ্টোর সংরক্ষণ করবেন। ষ্টোরে সংরক্ষিত যাবতীয় মালামাল যত্ন সহকারে মওজুদ রাখার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। তিনি ষ্টোরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখার ব্যবস্থা করবেন। তবে কাজের সুবিধার্থে ষ্টোরের দায়িত্ব তিনি একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও জেলার ষ্টোরের সামগ্রিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

বিধি-২৬৫। বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, পদত্যাগ এবং ছুটিতে যাবার প্রাক্কালে জেলার কারাগারের যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি, ষ্টোরের যাবতীয় মালামাল এবং অন্যান্য সামগ্রী ইনভেন্টরী সীট (বিজি ফর্ম নং ৮৭) এর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারকে বুঝিয়ে দিবেন। অনুরূপভাবে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারও সরেজমিনে পরীক্ষা করে যাবতীয় বিষয়ের সঠিকতা যাচাই করে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

টীকা- বদলির ক্ষেত্রে ভান্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার তাঁর হেফাজতে রক্ষিত ভান্ডার তাঁর উত্তরসূরীর নিকট সঠিকভাবে হস্তান্তর করে তাঁর নিকট থেকে একটি যথাযথ রসিদ গ্রহণ করবেন (প্যারা-১৫০, জেনারেল ফাইন্যান্সিয়াল রুলস)।

বিধি-২৬৬। নুতন কোন জেল সুপার কারাগারে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, জেলার তাকে কারাগারের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকার বিধি ও আদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে অবহিত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *