জেল কোড অনুযায়ী অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

জেল কোড অনুযায়ী অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

নোট- “ অধস্তন কর্মচারী ” বলতে কোন কারাগারের সকল নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বুঝাবে (কয়েদী কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবে না)।

বিধি ১৬০-১৬৫। নিয়োগ সংক্রান্ত। বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য। 

টীকা-১। সরকারী কর্মচারীদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ সম্পর্কে ১৮ মে ১৯৭৯ হতে সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং ২০ আগস্ট ১৯৮৫ হতে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ কার্যকর রয়েছে।

টীকা-২। সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ কারাগারের ডেপুটি জেলার এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টরের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ জেলারের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। উল্লেখিত বিধি দুটি যে সকল অধস্তন কারা কর্মচারীর জন্যে প্রযোজ্য নয়, তাদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ জেল কোড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে ।

টীকা-৩। জেল কোডে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল মাত্র “অফিসার” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সামান্য কিছু ক্ষেত্রে “সার্ভেন্ট” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। “অফিসার” বলতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী শব্দটি ব্যবহার করা সমীচীন হবে।

বিধি-১৬৬। প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৬৭। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তার দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবেন। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার স্থলাভিষিক্ত কর্মচারীকে দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করবেন। জেলার এবং ডেপুটি জেলার তাদের হাতে একটি নোট বই রাখবেন এবং এতে জেল সুপারের মৌখিক নির্দেশ সমূহ লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-১৬৮। জেলার বা তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অন্য কোন চাকরি করতে পারবেন না।

বিধি-১৬৯ । কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করা যাবে না বা তার সাথে কোন আর্থিক লেনদেনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না। 

বিধি-১৭০। কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধ নিষিদ্ধ। অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন কাজ সংক্রান্ত বিরোধ জেলারকে কিংবা প্রয়োজনে জেল সুপারকে জানাতে হবে। সকল অভিযোগ জেল সুপার বা জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তুচ্ছ এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১৭১।কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে একত্রীকরণ করা যাবে না এবং এরূপ চেষ্টা শাস্তি যোগ্য হবে।

বিধি-১৭২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরকারী বাসা দেয়া হলে তাতে বসবাস করতে হবে। যারা সরকারী বাসা পাবেন না তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি থাকতে হবে। সরকারী বাসা সাব-লেট দেয়া যাবে না।

বিধি-১৭৩। প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে প্রবেশ ও বাহিরের সময় গেইট রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৬ ) স্বাক্ষর করতে হবে।

বিধি-১৭৪। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারাগারের অভ্যন্তরে কোন ভিজিটর নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। কোন মহিলাকে কোন অবস্থাতেই রক্ষীদের ব্যারাক, গার্ডরুম, রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।

বিধি-১৭৬। জেল সুপারের অনুমতি কিংবা আদালতের সমন ব্যতীত কোন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনে বা রাত্রে কারাগার এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন না কিংবা তার নির্ধারিত দায়িত্বকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না ।

বিধি-১৭৭। অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন এবং যাদের জন্যে প্রযোজ্য তারা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিফর্মের সাথে সিভিল পোশাকের সমন্বয় করে পরিধান করা নিষিদ্ধ।

বিধি-১৭৮। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক কারাগারে কর্তব্যরত অবস্থায় ধুমপান করা বা মদপান করা বা গান করা বা উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ এবং কারাগারে কোন মাদক দ্রব্য প্রবেশ করানো নিষেধ।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-১৭৯। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তির কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের সরবরাহ কাজের ঠিকাদারীতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন না, কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হতে কোন সুবিধা গ্রহণ করবেন না।

বিধি-১৮০। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তিয় কোন ব্যক্তি, কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান করবেন না, বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান হতে অর্জিত সুবিধা বা কোন টাকা গ্রহণ করবেন না বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন বন্দীর সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়িক কারবার করবেন না।

বিধি-১৮১। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না বা কারাগার সংক্রান্ত কোন তথ্য আদান প্রদান করবেন না এবং কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনকে বা মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত নিজের বাসায় থাকতে দিবেন না। 

বিধি-১৮২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগারের শৃঙ্খলার বিষয়ে বিনা প্রয়োজনে কোন বন্দীর সঙ্গে আলোচনা করবেন না এবং তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করবেন না।

বিধি-১৮৩। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগার বা সরকারের স্বার্থে ব্যতীত তার ব্যক্তিগত কাজে বা ব্যক্তিগত লাভের জন্যে বা সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে নিয়োজিত করবেন না ।

বিধি-১৮৪। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বন্দীদের সঙ্গে মানবিক, দয়াশীল এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আচরণ করবেন, তাদের অভিযোগ ও আবেদন মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন। একই সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন এবং বিধি-বিধান কার্যকর করবেন।

বিধি-১৮৫। জেল সুপারের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে অন্য কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন শাস্তি প্রদান করবেন না কিংবা শাস্তি প্রদানের ভয় দেখাবেন না, বা রুঢ় দুর্ব্যবহার, অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করবেন না । 

বিধি-১৮৬। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত কিংবা উপদ্রব দমনের ন্যূনতম প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করা যাবে না। 

বিধি-১৮৭। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দী বা অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোন বিধি ভঙ্গের বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হবেন না।

বিধি-১৮৮। অকার্যকর

বিধি-১৮৯। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিকট রক্ষিত চাবি দায়িত্ব শেষে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত অন্য কারো নিকট অর্পণ করবেন না; এবং অনুরূপভাবে তার দায়িত্ব স্থলও পরিত্যাগ করবেন না। কোন সেল, ওয়ার্ড বা গেইটের চাবি কারাগারের বাহিরে নেয়া যাবে না এবং কোন বন্দীর নিকট দেয়া। যাবে না। যদি কোন তালার চাবি কোন কারণে হারিয়ে যায়, ঐ তালা বাদ দিতে হবে এবং এর জন্যে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট হতে এর মূল্য আদায় করা হবে।

বিধি- ১৯০ ৷ কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন কারণেই রাতের বেলা একাকী কোন ওয়ার্ডে বা বন্দী সেলে যাবেন না। অসুস্থতা বা অন্য কোন জরুরী প্রয়োজনে যেতে হলে আরও একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিতে হবে। 

বিধি-১৯১। সকল কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন- 

(১) বন্দী পলায়ন রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক প্রহরা নিশ্চিত করতেঃ বন্দীরা পলায়নের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে এমন ভাবে যেন কোন মই, দড়ি,বাঁশ,পয়:নিষ্কাশন পাইপ এবং অন্যান্য বস্তু কারাগারের অভ্যন্তরে না থাকে জেলার ও তার অধস্তনদের তা দেখতে হবে;

(২) কারাবন্দীদের নিকট || আফিম, গাঁজা, বা অন্য কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ রোধ করতে;

(৩) বিধি সম্মত অনুমতি ব্যতীত বাহিরের লোকজনের সঙ্গে বন্দীদের যোগাযোগের চেষ্টা রোধ করতে; এবং কোন সন্দেহ জনক গতিবিধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করতে । 

বিধি-১৯২। সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন-

(১) কারাগার পরিচালনায় সাহায্য করতে এবং কারাগারের শৃংখলা বজায় রাখতে এবং কারাগারের প্রহরা বজায় রাখতে এবং কোন বেআইনী বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করতে;

(২) উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সকল আইন সম্মত আদেশ কঠোরভাবে পালন করতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণকে সম্মান করতে, 

(৩) সকল আইন, বিধি, বিধান, আদেশ এবং নির্দেশ যথাযথ ভাবে প্রতিপালন করতে:

(৪) তাদের দায়িত্বে অর্পিত সম্পত্তির যত্ন নিতে।

বিধি-১৯৩। প্রত্যেক জেলার বা তার অধস্তন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন দায়িত্ব বরখেলাপ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নিয়ম বা বিধি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইন সম্মত আদেশ ভঙ্গ বা অবহেলার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া বা দুই মাস পূর্বে তার অভিপ্রায় সম্পর্কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করে দপ্তরের কাজ পরিত্যাগ করার জন্যে, বা অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত অবস্থান করার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া কারাগারের কাজ ছাড়া অন্য কাজে নিয়োজিত হবার জন্য, বা কাপুরুষতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-১৯৪ । প্রত্যেক অধস্তন কর্মচারী কোন অপরাধের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হলে নিম্নোক্ত এক বা একাধিক বিভাগীয় শাস্তি প্রাপ্ত হবেন-

(১) আনুষ্ঠানিক কঠোর তিরস্কার বা ভর্ৎসনা

(২) মাসিক বেতনের অনধিক অর্ধেক জরিমানা করা:

(করণিক বা করণিক সংস্থাপনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না) } 

(৩)পাওনা ছুটি বাতিল করে দেয়া; 

(8) পাওনা ছুটি প্রদান বিলম্ব করা;

(৫) দৈনিক এক ঘন্টা করে অনধিক ৭ দিন অতিরিক্ত ড্রিল করানো;

(কারারক্ষী সংস্থাপনের রক্ষীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)

(৬) অনধিক ৬ মাস পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্তকরণ;

(৭)পদবী বা বেতন-ভাতাদি বা উভয়ই হ্রাস করণ;

(৮) {প্রদত্ত জামানত বাতিল করণ:

(৯) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করণ, }

(১০) অফিস এবং বেতন-ভাতাদি হতে বাদ দেয়া;

(১১) চাকরি হতে বরখাস্তকরণ, 

(১২) উপরের যে কোন গুলোর সমন্বয়ে প্রদত্ত শাস্তি । 

নোট। বিভাগীয় শাস্তি ফৌজদারি আইনে প্রদত্ত সাজা হতে ভিন্ন হিসেবে গণ্য হবে, তবে কাউকে একই অপরাধের জন্যে দু’বার শাস্তি দেয়া হবে না। বিধি-২০১ এর আওতায় বরখাস্ত এ বিধিতে দ্বিতীয় শাস্তি বলে গণ্য হবে না।

নং- ১৩৯৮ এইচ জে তারিখ ৪-৪-১৯৩৮ এবং ১৬৯ এইচ জে তারিখ ২৫-১-১৯৫৮ মূলে সংশোধিত ।

টীকা- সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কাজেই বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের জন্যে জেলার এবং তদু কর্মকর্তাদের জন্যে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য হবে এবং জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য হবে। যে সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য তাদেরকে জেল কোডে বর্ণিত ধারায় শাস্তি আরোপ করা যাবে না।

বিধি-১৯৫। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদাবনতি, অপসারণ বা বরখাস্তে র শান্তি তার নিয়োগ এবং বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কার্যকর করা যাবে না ।

বিধি ১৯৬-১৯৯ ৷ অকার্যকর।

বিধি-২০০। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত যে কোন অপরাধের জন্যে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, শর্ত থাকে যে, সম্ভাব্য শাস্তি প্রদানের জন্যে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকতে হবে; যদি যথেষ্ট প্রমাণাদি না থাকে কিন্তু অপরাধী অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট যুক্তি সংগত ভাবে প্রতীয়মান হলে তিনি ২০৪ বিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

(১) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা মূলক বন্দী পলায়ন করতে দেয়া; 

(২) কারাভ্যন্তরে নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করানো, বা বন্দীদের কাছে সে সব সরবরাহ করা, বা বন্দীদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ রাখা এবং এ সব কাজে সহায়তা করা;

(৩) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারে সরবরাহের ঠিকাদারীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহণ করা: 

(৪) দণ্ড বিধি বা অন্যান্য ফৌজদারি আইনের আওতায় দণ্ডনীয় উপর্যুপরি কোন অপরাধ করা।

এ ধরনের কোন অপরাধকে তুচ্ছ জ্ঞান বা মার্জনা করা যাবে না, শান্তির মাধ্যমে নাম মাত্র জরিমানা বা শাস্তি দেয়া যাবে না। এ ধরনের কোন বা বিভাগীয় বিষয়ে কোন ফৌজদারি কার্যক্রম গৃহীত না হলে তা কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি-২০১। গুরুতর অপরাধের জন্যে ফৌজদারি আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তার কৃত অপরাধের দায়ে অন্য কোন বিভাগীয় শান্তির বিবেচনা না করে চাকরি হতে সরাসরি বরখাস্ত করা হবে এবং কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা যাবে না।

বিধি-২০২। যে সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিম্নোক্ত অপরাধ করবে সাধাণরত তাদেরকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে কিংবা আরও গুরুতর অপরাধের প্রমাণ থাকলে কারা আইনের ৫৪(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে হবে-

(১) যদি মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত হয়,

(২) যদি প্রহরা কালে ঘুমায়,

(৩) যদি আত্মরক্ষার প্রয়োজন বা গোলযোগ দমনের প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করে বা বেআইনী সাজা প্রদান করে, 

(৪) যদি মহিলা বন্দীদের বেষ্টনীতে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বা অন্য কাউকে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রদান করে বা কোন মহিলা বন্দীর সাথে বিধি বহির্ভূতভাবে যোগাযোগ করে, 

(৫) যদি খাদ্য সরবরাহ বা বরাদ্দকালে অনিয়ম করে বা অনিয়মের সময় তা না দেখার ভান করে,

(৬) যদি বিধি ১৮৩ ভঙ্গ করে কোন বন্দীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করে, 

(৭) যদি জেলার বা অন্য কোন উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবজ্ঞা বা অপমান করে।

বিধি-২০৩। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে লঘু দণ্ডের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জেল সুপার কর্তৃক কেবলমাত্র উক্ত কর্মচারীর সার্ভিস বইতে তার উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে

বিধি-২০৪ । (১) যখন কোন অধস্তন কর্মচারী এমন কোন অপরাধ করে যে যার জন্য সে চাকরি হত বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনতি হতে পারে, তখন জেল সুপার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত করবেন।

(২) এ সমস্ত বিভাগীয় তদন্তের রেকর্ড ২০৫ বিধিতে বর্ণিত উপায়ে হবে এবং অন্তর্ভুক্ত থাকবে-

(ক) অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে গঠিত সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগসমূহ, যার একটি কপি অভিযুক্তকে প্রদান পূর্বক ব্যাখ্যা তলব করতে হবে;

(খ) সাক্ষীদের (যদি থাকে) প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী, কোন অসুবিধা না থাকলে অভিযুক্তের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে এবং সাক্ষীদের জেরা করার জন্যে অভিযুক্তকে সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ কোন পরিস্থিতি ব্যতীত অভিযুক্তের পক্ষে বা সরকারের পক্ষে নিযুক্ত কোন আইনজীবিকে তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা আপীল কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যাবে না। 

(গ) অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি সংগত সুযোগ দিতে হবে এবং তা লিখিত আকারে হবে। তা ছাড়া তাকে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রমাণের রেকর্ড দেখার সুযোগ দিতে হবে।

(ঘ) অভিযুক্তের চাকরি বহিতে বা অফিস রেকর্ডে পূর্ব চরিত্র সংক্রান্ত তথ্যাদির বিবরণী:

(ঙ) গঠিত প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ;

(চ) যে শাস্তি আরোপ করা হবে তার সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট উল্লেখ: অথবা তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তার শাস্তি আরোপের ক্ষমতা না থাকলে কি ধরনের শাস্তি আরোপ করা উচিত হবে মর্মে তিনি মনে করেন সে সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বিবরণী।

(৩) অকার্যকর ।

(৪) সাব্যস্ত শাস্তির রেকর্ড প্রস্তুত করতে হবে: সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে কোন করণিক যারা রেকর্ড তৈরী করা যাবে না।

(৫) যখন শাস্তি প্রদানের আদেশ হবে তখন শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারী উক্ত আদেশের একটি কপি বিনা মূল্যে পাবেন।

(৬) অকার্যকর।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-২০৫। বিভাগীয় মামলার কার্য বিবরণীতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি ধারাবাহিক ভাবে থাকবে-

(১) অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম, পদবী এবং গ্রেড; 

(২) অভিযোগ সমূহ-(অভিযোগ সমূহ সুনির্দিষ্ট হবে, প্রতিটি অভিযোগ পৃথক ভাবে লিখতে হবে এবং পৃথক ক্রমিক নম্বর প্রদান করতে হবে এবং অপরাধ সংঘটনের তারিখ, বর্ণনা এবং ধরন উল্লেখ করতে হবে)। 

(৩) সাক্ষ্য প্রমাণাদি- সাক্ষ্য গৃহীত হলে তার কপি কার্য বিবরণীর সংগে সংযুক্ত করতে হবে।

(৪) অভিযুক্তের জবার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন । 

(৫) মন্তব্য (সাক্ষ্য প্রমাণ এবং অভিযুক্তের জবাবের উপর মন্তব্য) ।

(৬) চরিত্র- (অভিযুক্তের চাকরিতে নিয়োগের তারিখ পূর্ব শাস্তি সমূহ এবং পুরস্কার প্রভৃতি)।

(৭) আদেশ।

(৮) আদেশসমূহ-যদি খোৱাকী ভাতা, পেনশন প্রভৃতি সম্পর্কে কোন আদেশ থাকে। 

বিধি-২০৬। তদন্ত কার্যের সকল বিবরণী আদেশের জন্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তবে যে ক্ষেত্রে জেল সুপার নিজেই নিয়োগকারী সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই আদেশ প্রদান করবেন।

বিধি-২০৭। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারের বাসা ছেড়ে দিতে হবে এবং তাদেরকে কারাগার আস্তিনায় পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারীর বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন থাকলে এবং তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান না করা হলে তিনি সরকারী বাসায় থাকতে পারবেন। সাময়িক বরখাস্তকৃত কোন কর্মচারীকে কারাগারে বা কারাগার অফিসে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং কোন বন্দীর সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-২০৮। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে অধস্তন কর্মচারীগণের দাবীকৃত ভাতা ফান্ডামেন্টাল রুলস ৪২,৪৩ এবং ৫৩ দ্বারা নির্ধারিত হবে ।

টীকা-১। ফান্ডামেন্টাল রুল ৪১ ও ৪৩ বর্তমানে কার্যকর নেই। একজন অধস্তন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তার বেতনের এক-তৃতীয়াংশ পরিমান ভাতা প্রাপ্য হবেন (ফান্ডামেন্টাল রুলস ৫৩)।

বিধি-২০৯। কারা মহাপরিদর্শক স্বেচ্ছায় কিংবা কোন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে জেল সুপার কর্তৃক ২০৪ ধারায় গৃহীত কোন কার্যক্রমের রেকর্ড তলব করতে পারবেন এবং পুনর্বিবেচনা পূর্বক প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-২১০। জেল সুপারে আদেশের বিরুদ্ধে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আপীল করতে হবে। চাকরিরত কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে তাদের আবেদন লিখিতভাবে করতে হবে এবং জেল সুপারের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে। প্রত্যেক আবেদনের সঙ্গে জেল সুপারের আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-২১১। আদেশ প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে ২১২ বিধি মোতাবেক আপীল করতে হবে। আপীলকারীর অপ্রয়োজনীয় এবং বিরক্তিকর বক্তব্য কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক অবাধ্যতা বলে গণ্য করা হবে।

বিধি-২১২ । অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপীলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে-

(১) বিভাগীয় শান্তি হিসেবে (ক) বরখাস্ত (খ) অপসারণ (গ) সাময়িক বরখাস্ত (ঘ)পদাবনতি (ঙ) পদোন্নতি বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত (চ) জরিমানা করা হলে আপীল করা যাবে

(২) যে কর্তৃপক্ষ শাস্তি প্রদান করছেন তার এক ধাপ উপরের কর্তৃপক্ষের নিকট শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারীর একবার আপীল পেশ করার অধিকার রয়েছে।

(৩) দ্বিতীয় বার আপীল করা যাবে না।

(৪) কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারী কর্তৃক স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আপীল করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক যে ক্ষেত্রে আপীল কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে আপীল আবেদনের উপর তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-২১৩ । নিয়োগ লাভের পর প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিজ খরচে একটি সার্ভিস বই সংরক্ষণ করবেন। এতে সে সব সকল বিষয় রেকর্ড করতে হবে যার উপর তার পেনশন নির্ভর করে এবং তার চাকরির সকল পর্যায় তাতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এতে নিয়োগের সকল তথ্যাদি এবং বদলি, ছুটি, বেতন প্রভৃতির পরিবর্তন, অপরাধ এবং শাস্তি (ধারাবাহিক ক্রমিকে) শাস্তির সক্ষিপ্ত কারণসহ লিপিবদ্ধ করতে হবে।

কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চরিত্র বা তার সম্পর্কে ভাল মন্দ বিষয় কিংবা তার কাজের ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন সার্ভিস বইতে লিপিবদ্ধ করা হবে না। তবে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক বা তার মাধ্যমে প্রদত্ত অফিসিয়াল কোন প্রশংসা বা পুরস্কার প্রদানের বিষয় তাতে লিপিবদ্ধ করা হবে।

(২) সার্ভিস বইতে সকল রেকর্ড জেল সুপারের পূর্ণ স্বাক্ষরে লিপিবদ্ধ হবে এবং কারারক্ষী সংস্থাপনের জন্যে সার্ভিস রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে।

(৩) সার্ভিস বই জেলারের এবং উৎপাদন বিভাগের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেল সুপারের হেফাজতে অফিসে রাখতে হবে। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলি হলে সকল প্রয়োজনীয় অর্ন্তভুক্তি শেষে এবং যাচাইতে তার সার্ভিস বই সাত দিনের মধ্যে বদলিকৃত কারাগারের জেল সুপারের নিকট রেজিষ্টার্ড খামে প্রেরণ করতে হবে।

নোট- নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্যে সার্ভিস বইয়ের পরিবর্তে সার্ভিস রোল সংরক্ষণ করতে হবে।

নং-২৯৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত। 

বিধি-২১৪ । এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যেক সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোল যত্নের সাথে এবং নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবর্তন যথাযথভাবে সত্যায়ন করে রাখতে হবে, না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পেনশনের আবেদন যাচাই কালে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিধি-২১৫ ৷ প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে একটি সার্ভিস রেকর্ড (জেল ফরম নং-৯৬) সংরক্ষণ করতে হবে যা সার্ভিস বইয়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এ বইতে থাকবে-

(১) “ডিক্লারেশন ফরম”-জেল ফরম নং-৮৯

(২) “ভেরিফিকেশন রোল”-জেল ফরম নং-৯৫

(৩) “ ইউনিফর্ম ইস্যুর রেকর্ড”

(৪) “সার্ভিস ভেরিফিকেশন”

(৫) “পরীক্ষার ফলাফল”

(৬) “পেনাল্টি বন্ড”–জেল ফরম নং-৯০ ।

কভারের উপরের নির্দেশাবলীর প্রতি জেলারকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি-২১৬। জেল সুপার সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ড লিপি বদ্ধ করবেন এবং পে লিস্ট ও একুইটেন্স রোল হতে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য স্বাক্ষর প্রদান পূর্বক তাতে রেকর্ড করবেন। জেলার লক্ষ্য রাখবেন কোন কারারক্ষী বদলি হলে যেন তার সার্ভিস রোল এবং সার্ভিস রেকর্ড যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার পর প্রেরণ করা হয়।

বিধি-২১৭। {কারারক্ষীর উপরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের দপ্তরে ব্যক্তিগত নথির আকারে একটি চারিত্রিক রোল সংরক্ষণ করতে হবে যার মধ্যে জেল সুপার প্রেরিত ত্রৈমাসিক গোপনীয় প্রতিবেদন হতে কারা মহাপরিদর্শক মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন। এতে পুরস্কার, শাস্তি, বদলি, ছুটি এবং পদোন্নতি প্রভৃতি বিষয়ের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করতে হবে। 

(২) চারিত্রিক রোলে রেকর্ড সন্নিবেশ করার জন্যে প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গোপনীয় প্রতিবেদন ১২১ নম্বর জেল ফরমে এবং সকল প্রধান করণিক, করণিক, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, কম্পাউন্ডার, সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগের টেকনিক্যাল স্টাফ প্রভৃতির গোপনীয় প্রতিবেদন ১২২ নম্বর জেল ফরমে জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে প্রেরণ করতে হবে।

(৩) জেল সুপার গোপনীয় প্রতিবেদন প্রদান করবেন- (ক) বৎসরান্তে জানুয়ারি মাসে এবং (খ) জেল সুপার কিংবা যার প্রতিবেদন প্রদান করা হবে তিনি বদলি হলে সে সময়।

(৪) জেল সুপার যথাযথ সতর্ক বিবেচনাপূর্বক গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন যাতে কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে রক্ষিত চারিত্রিক রোলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতিবেদনকালীন সময়ের কাজ সম্পর্কে সঠিক চিত্র ফুটে উঠে।

(৫) কারা মহাপরিদর্শক বার্ষিক পরিদর্শনের সময় গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।

(৬) সকল বিরূপ মন্তব্য এবং ত্রুটি সম্পর্কে প্রতিবেদন অধীন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে লিখিতভাবে সরাসরি জানাতে হবে। এ সময় তাকে বিরূপ মন্তব্য বা ত্রুটি উল্লেখিত প্রতিবেদনের কপি প্রেরণ করতে হবে।

(৭) সকল সর্ব প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী এবং সার্কেল রক্ষী (মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষীসহ) এর সার্ভিস রেজিষ্টার (জেল রেজিষ্টার নম্বর-৪) সার্কেল কারাগারের অফিসে রক্ষিত হবে।।

নং-২১৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি -২১৮। প্রত্যেক বছর ১লা অক্টোবর তারিখে জেলার, ডেপুটি জেলার, প্রধান করণিক, জেল করণিক, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষী প্রভৃতি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

বিধি-২১৯। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্যে ফান্ডামেন্টাল রুলসের ২৪ এবং ২৫ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

টীকা-১ স্থগিত না করা হলে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই উত্তোলন যোগ্য হবে। একজন সরকারী কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কেবলমাত্র সরকার কিংবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কর্তৃপক্ষ স্থগিত করতে পারে, যদি তার আচরণ ভাল না হয় কিংবা তার কাজ সন্তে াষজনক না হয়। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের আদেশ প্রদানকালে কত মেয়াদের জন্য তা স্থগিত থাকবে এবং এই স্থগিতাদেশের ফলে ভবিষ্যতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা তার উল্লেখ করতে হবে (বিধি-২৪, ফান্ডামেন্টাল রুলস)।

টীকা-২। যখন কোন টাইম স্কেলে দক্ষতা সীমা বিদ্যমান থাকে তখন দক্ষতা সীমা অতিক্রম করে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা যাবে না, যতক্ষণ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার ক্ষমতা সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা অনুমোদন দেয়া না হয় (বিধি-২৫. ফাণ্ডামেন্টাল রুলস)।

বিধি-২২০। কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রে বেসামরিক চাকরি বিধির নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে। কারারক্ষীদের পেনশনের জন্যে উচ্চতর স্কেল গণনা করা হবে। অবসর গ্রহণের পর পেনশন বা গ্রাচ্যুইটির জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোলসহ আবেদন পত্র দাখিল করতে হবে। পেশকৃত সার্ভিস বই জেল সুপার কর্তৃক প্রতিপাদন করা থাকতে হবে। এ উদ্দেশ্যে অবসর গ্রহণকারী যে কারাগারে হতে অবসর গ্রহণ করবেন সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট অবসর গ্রহণের অনধিক ছয় মাস পূর্বে সার্ভিস বই প্রতিপাদনের জন্যে পেশ করবেন যাতে চাকরি পরিত্যাগের পূর্বেই সকল কিছু যাচাই করা যায়।

বিধি-২২১। কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক ফান্ডামেন্টাল রুলস মোতাবেক অধস্তন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি (নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত) মঞ্জুর করা হবে। মেডিকেল অফিসার ব্যতীত অন্য যে যে কান অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জেল সুপার নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে এক বছরে মোট মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির পরিমাণ {বিশ} দিনের বেশী হবে না।

এক সঙ্গে কত দিন নৈমত্তিক ছুটি দেয়া হবে তা জেল সুপারের বিবেচনাধীন থাকবে। মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির হিসাব নৈমত্তিক ছুটি রেজিষ্টারে ( ১০৭ নম্বর ফরমে) সংরক্ষণ করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক জেল সুপারগণকে এক পঞ্জিকা বছরে অনধিক {বিশ } দিন নৈমত্তিক ছুটি প্রদানে ক্ষমতাবান।

বিধি-২২২। নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অপরাপর ছুটির জন্যে জেলার, ডেপুটি জেলার বা জেল করণিক কর্তৃক ছুটি ভোগ শুরু হবার তিনমাস পূর্বে ৪০ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন পেশ করতে হবে। অসুস্থতা এবং জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে যখন বার্ষিক পরিসংখ্যান এবং রিপোর্ট প্রনয়নের কাজ চলে তখন তা দাখিল না হওয়া পর্যন্ত কোন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না।

বিধি-২২৩। বিধিতে অনুমোদন থাকলে জেলা কারাগারের জেল সুপার তার কারাগারের কারারক্ষীকে অনুরূপ ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে, (১) মঞ্জুরীকৃত ছুটির পরিমাণ চার মাসের বেশী হবে না এবং (২) ছুটিকালীন কাজের দায়িত্ব প্রয়োজনে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালিয়ে নিতে হবে।

যদি স্থানীয় ব্যস্থাপনায় চালিয়ে নেয়া সম্ভব না হয় কিংবা প্রার্থীত ছুটির পরিমাণ চার মাসের অধিক হয় তখন বিষয়টি সার্কেল জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে যিনি প্রয়োজনে ছুটিকালে প্রতিস্থাপক প্রদান করতে পারেন। সার্কেল জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত কোন প্রধান কারা রক্ষীর নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অন্য কোন ছুটি প্রদান করা যাবে না ৷ জেল সুপার কোন ছুটির আবেদন অগ্রগামী করার সময় তিনি তাতে সুপারিশ করেছেন কিনা তার উল্লেখ করবেন। অসুস্থতা জনিত ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল অফিসারের মতামত প্রয়োজন হবে।

বিধি-২২৪। অকার্যকর

বিধি-২২৫। কারাগারে কোন অস্বাভাবিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব ঘটলে বা সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিত থাকা আবশ্যক এমন অবস্থার উদ্ভব হলে সকল প্রকার ছুটি বন্ধ করার এবং যারা ছুটি ভোগরত রয়েছে তাদেরকে ডেকে নেয়ার জন্যে জেল সুপারের ক্ষমতা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *