আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কারাগারের পূর্ত কাজ
Table of Contents
কারাগারের পূর্ত কাজ

বিধি-১২৯৭।
(ক) কারাগারের পূর্ত কাজ নিম্নোক্ত খাতে বিভক্ত হবে-

(খ) ‘এ’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হবে সকল ধরনের নুতন নির্মাণ কাজ, তা সম্পূর্ণ নুতন বা বিদ্যমান কাজের অতিরিক্ত এবং পরিবর্তিত যাই হোক। নুতন ক্রয়কৃত ভবনের মেরামত কাজ এবং পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবন পুনরায় ব্যবহারের উপযুক্ত করার উদ্দেশ্যে মেরামত কাজও এই শ্রেণী ভুক্ত হবে। ভাঙ্গা হোক বা না হোক, বিদ্যমান কোন স্ট্রাকচার বা অন্য কোন কাজ প্রতিস্থাপন বা ডিজাইন পরিবর্তনের কাজও মূল কাজ হিসাবে গণ্য হবে।
অন্য সকল ক্ষেত্রে নুতন কোন কাজ “মেরামত” হিসাবে গণ্য হবে। মেরামতের মধ্যে সে সকল সাময়িক বা পেটি ধরনের কাজও অন্তর্ভুক্ত হবে, যা গণপূর্ত বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কারা মহাপরিদর্শক করতে পারেন।
(গ) ‘বি’ শ্রেণীর কাজ- স্পেশাল মেরামত কাজ হচ্ছে ব্যাপক ধরনের কাজ যা ত্রৈমাসিক কাজের মধ্যে পড়ে না, যেমন পুরাতন ছাদ বা মেঝে পুনরায় নুতন ভাবে করা। স্পেশাল মেরামত কাজের প্রাক্কলন অর্থ বৎসর শেষ হলেও তামাদি হয়ে যায় না, এটা নুতন কাজের মতই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ত্রৈমাসিক মেরামত কেবল রঙ বা চুনকাম করার মত কাজই নয়, বরং বার্ষিক এবং ত্রৈমাসিক প্রাক্কলনের মাধ্যমে ঐ সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়,
এমন ধরনের কাজও এর অর্ন্তভূক্ত হবে। আকস্মিক বা পেটি মেরামত হচ্ছে সে ধরনের কাজ যা সময়ে সময়ে প্রয়োজন অনুসারে ত্রৈমাসিক মেরামতের ফাঁকে সম্পাদন করা হয়।
বিধি-১২৯৮।
সরকারের অনুমোদনক্রমে কর্মচারীদের বাসভবন নির্মাণ ব্যতীত কারা মহাপরিদর্শকের অন্যান্য পূর্ত কাজের প্রাক্কলন অনুমোদন প্রদানের ক্ষমতা ১৩০০ থেকে ১৩০২ এবং ১৩০৯ বিধিতে বর্ণিত হয়েছে।
বিধি-১২৯৯।
ব্যয়ের প্রাক্কলন নির্বিশেষে, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ বা মেরামতের কাজের জন্যে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে ।
বিধি-১৩০০।
কারা মহাপরিদর্শক আবাসিক ভবন ব্যতীত অন্যান্য মূল কাজের ব্যয় বাবদ প্রতি ক্ষেত্রে {১,০০,০০০} টাকা পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করতে পারবেন ।
টীকা-
আর্থিক ক্ষমতা পূন:অর্পণ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের স্মারক নং অম/অবি/ব্য:নি:-১/ডিপি- ১/২০০০/৬৩ তারিখ ৭-৩-২০০০ এবং তদানুযায়ী জারীকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর স্ম:ম:(প্র:১) বিধি-১৬/৯৮-৭০ তারিখ ২৫-১-২০০০ মোতাবেক ।
বিধি-১৩০১
{এক লক্ষ} টাকা অতিক্রম করবে না, এমন নুতন বা অতিরিক্ত কাজের জন্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে-
কারা মহাপরিদর্শক বা জেল সুপারের রিকুইজিশন পাবার পর, জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্ল্যান এবং প্রাক্কলন প্রনয়ন করবেন। যদি রিকুইজশন কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক দেয়া হয়, তা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী উক্ত প্ল্যান এবং প্রাক্কলন সরাসরি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্যে প্রেরণ করবেন। যদি রিকুইজশন জেল সুপার কর্তৃক দেয়া হয়, তা হলে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনের জন্যে প্রেরণের উদ্দেশ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী উক্ত প্ল্যান এবং প্রাক্কলন জেল সুপারের নিকট পেশ করবেন।
কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব আদেশ ব্যতীত জেল সুপার নির্বাহী প্রকৌশলীকে কোন কাজের প্রাক্কলন তৈরীর জন্য কোন অনুরোধ জানাবেন না ।আবাসিক ভবনের প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাব কারা মহাপরিদর্শক তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। তবে বাস ভবনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের প্রকল্পের অনুমোদন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-১৩০২।
যদি কাজের ব্যয় {এক লক্ষ} টাকার বেশী হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়, তবে প্ল্যান এবং প্রাক্কলন বিস্তারিতভাবে দাখিলের পূর্বে সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নিম্নোক্ত পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করতে হবে-
(১) কারা মহাপরিদর্শক ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে এবং তাতে কি কি আবাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন তা উল্লেখ পূর্বক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানাবেন ।
(২) নির্বাহী প্রকৌশলী একটি খসড়া প্লান এবং ব্যয় প্রাক্কলন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট পেশ করবেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যদি পেশকৃত প্রস্তাব সঠিক মনে করেন তবে তা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। খসড়া প্রাক্কলন প্রাপ্তির পর কারা মহাপরিদর্শক তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রেরণ করবেন। মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করার পর কারা মহাপরিদর্শক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে বিস্তারিত প্লান এবং প্রাক্কলন প্রস্ততের জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।
বিধি-১৩০৩।
জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ১৩০৪ বিধিতে বর্ণিতগুলো ব্যতীত সকল মেরামত কাজ জেল সুপারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পাদন করবেন। যখন প্রয়োজন হবে তখন জেল সুপার যে কোন মেরামতে কাজ সম্পাদনের জন্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।
বিধি-১৩০৪।
জেল সুপার দরজা, জানালা মেরামতসহ সকল পেটি মেরামত কাজের জন্যে দায়ী থাকবেন। তিনি প্রত্যেক কক্ষে কাঁচ, অন্যান্য ফিটিংস এবং উই পোকার আক্রমন প্রভৃতি বিষয়ে ভবনের সাধারণ দেখাশুনার জন্যে জেলার বা অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করবেন। ঐ কর্মকর্তা ভবনের ভিতরে বাহিরের পরিচ্ছন্নতা, বৃষ্টির পানি নামার পাইপ এবং ভূ -উপরিস্থ ড্রেন প্রভৃতি জঞ্জাল মুক্ত রাখার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন।
জেল সুপার আনুষঙ্গিক খাত হতে এ সব কাজের জন্য ব্যয় সংস্থান করবেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত সরকারী বাস ভবনের মেরামত কাজ গণপূর্ত বিভাগ দ্বারা সম্পাদন করতে হবে।
বিধি-১৩০৫ ।
(ক)কোন একটি কাজ কোন কর্মকর্তা দ্বারা খণ্ড খণ্ড ভাবে সম্পাদন করা যাবে না, যে কাজের মোট ব্যয় অনুমোদন তার আর্থিক ক্ষমতার বহির্ভূত হয়।
(খ) গণপূর্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত ঐ বিভাগের তালিকাভুক্ত কোন ভবন পরিবর্ধন, পরিবর্তন, বা ভেঙ্গে ফেলা যাবে না বা অনুরূপ ভবনের পাশে কোন নুতন ভবন উত্তোলন করা যাবে না।
(গ) সরকারী জমিতে কোন মাজার, তীর্থস্থান বা অনুরূপ কোন স্মৃতি চিহ্ন স্থাপন করা নিষিদ্ধ; কারাগারের সীমানার মধ্যে কোন অবৈধ স্থাপনা বা দখলের ঘটনা সম্পর্কে জেলার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপারকে জানাবেন ।
(ঘ) স্থায়ী কোন ভবনের কমপক্ষে ৫০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ছন বা গোলপাতা প্রভৃতি দাহ্য উপাদানের ছানি দেয়া নুতন ভবন বানানো যাবে না ।
(ঙ) কোন কাজ আরম্ভ করা যাবে না, যে পর্যন্ত তার অনুমোদন না পাওয়া যায়, তহবিল বরাদ্দ না হয় এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যাদেশ জারী না হয়। জরুরী বা অপরিহার্য কোন প্রয়োজন সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিত অনুরোধ জানানো যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী তার নিজের দায়িত্বে কাজ করবেন ।
(চ) প্রকৃত প্রয়োজনে কাজ শুরু বা শেষের সাত দিনের বেশী ঠিকাদারকে কারাগারে মালামাল মজুদ রাখার অনুমতি দেয়া যাবে না ।
(ছ) নির্বাহী প্রকৌশলী দৃষ্টি রাখবেন যেন কোন কাজে অহেতুক বিলম্ব না হয়।
(জ) নির্বাহী প্রকৌশলী তার বিভাগের ভবন সংরক্ষণে এবং অবৈধ দখল রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দায়ী থাকবেন ।
বিধি-১৩০৬।
প্রয়োগ নেই ।
বিধি-১৩০৭।
যদি কাজের তহবিল গণপূর্ত বিভাগের বাজেটে বরাদ্দ করা হয়,তা হলে বিধি মোতাবেক গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক কাজ করা হবে। কাজ নিম্নোক্ত বিধান অনুসারে করা হবে-
(ক)-(ছ) । প্রয়োগ নেই ।
(জ) ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বা তার অধস্তন কর্মকর্তার একক কর্তৃত্বাধীন থাকবে, কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন হস্ত ক্ষেপ থাকবে না। কাজ কম হওয়া, কাজ খারাপ হওয়া, জিনিসপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করা, মালামালের অপচয় প্রভৃতি বিষয়ে প্রকৌশলীর প্রতিবেদন জেল সুপার কর্তৃক চূড়ান্ত বলে বিবেচিত এবং গৃহীত হবে ।
(ঝ)-(ট)। প্রয়োগ নেই ।
বিধি-১৩০৮ ।
প্রয়োগ নেই ।
বিধি-১৩০৯।
বিধি ১৩০১ অনুসারে কারা মহাপরিদর্শক অনুমোদিত অনধিক {৫০০০} টাকার মাইনর কাজ বা পরিবর্তন বা সংযোজন কাজের আদেশ পাওয়া গেলে কারা সংস্থাপন তা বাস্তবায়ন করবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হবে-
(ক) প্রাক্কলন কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক পূর্ব অনুমোদিত না হলে এবং স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ১৩০১ মোতাবেক কাজটি অনুমোদিত না হলে এই বিধি সমূহের অধীনে কোন কাজ বাস্তবায়ন করা যাবে না ।
(খ) যদি কাজটি সহজ এবং সাধারণ মানের না হয়,তবে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
(গ) প্রাক্কলনে কাজের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ব্যয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
(ঘ) পূর্ত কাজের নিয়মতান্ত্রিক প্রাক্কলন প্রয়োজন নেই, তবে ব্যয় ২০০ টাকার বেশী হলে কাজের পূর্ণ বর্ণনা দিতে হবে।
(ঙ) প্রাক্কলন তৈরী করার জন্য জেল ফরম ৫৯ ব্যবহার করতে হবে। সশ্রম বন্দীদেরকে কাজে লাগানো হলে তার বিবরণ এবং কাঁচামাল প্রভৃতির ব্যয় সহ কাজের পূর্ণ ব্যয়ের বর্ণনা থাকতে হবে এবং তা {৫০০০} টাকার বেশী হবে না ।
(চ) কাজের প্রাক্কলন মঞ্জুরীর জন্যে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট প্রেরণ করতে হবে ।
(ছ) গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত কোন ভবন উক্ত বিভাগের অনুমতি গ্রহণ না করে ভাঙা যাবে না ।
জ) কোন মৌলিক বা ব্যাপক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে ।
(ঝ) যদি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজ সম্পর্কে কোন মন্তব্য বা তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন মনে করেন,তবে তিনি জেল সুপারকে তা প্রদান করতে পারবেন।
(ঞ) কারাগারের কোন কাজে গণপূর্ত বিভাগের প্রয়োজন না হলে পুরাতন ভাঙ্গা মালামাল ব্যবহার করা যাবে।
(ট) জেল সুপার ফিন্যান্সিয়াল রুল-১৫৬ মোতাবেক হিসাব রক্ষণ অফিসে বিল দাখিল করবেন এবং তহবিল উত্তোলন করবেন।
নং- ৪৪৩৬ (৫৫) এফ বি, তারিখ ৫-৫-১৯৪১ মোতাবেক সংশোধিত ।
বিধি-১৩১০।
গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত নয়,কারা সংস্থাপন কর্তৃক নির্মিত এমন কোন ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত বা খসিয়া পড়ার উপক্রম হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা পূর্বক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রদান করার জন্যে গণপূর্ত বিভাগকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে অনুরূপ উদ্দেশ্যে ন্যস্ত ভবন সমূহের একটি তালিকা প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-১৩১১।
কোন নির্দিষ্ট কারাগারের নামে ‘পেটি নির্মাণ’ এবং ‘মেরামত’ খাতে কোন বরাদ্দ দেয়া যাবে না; কোন কাজ করতে হলে কারা মহাপরিদর্শক তার অধীনস্থ বরাদ্দ থেকে অনুমোদন প্রদান করবেন।