আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ
Table of Contents
পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

বিধি-১১০৬।
খাদ্যের গুণগতমান, যথা নিয়মে প্রস্তুত ও রান্না করা এবং পূর্ণ পরিমাণে বরাদ্দ করা সমান গুরুত্ব বহন করে। এই সকল বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে সর্বাধিক তৎপর থাকতে হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে কমপক্ষে একবার খাবার প্রস্তুতি, পরিবেশন প্রভৃতি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন কালে খাবারের ওজন পরীক্ষা করবেন।
বিধি-১১০৭।
বরাদ্দকৃত খাবারের ওজন রান্না করার পূর্বে চূড়ান্ত প্রস্তুত অবস্থায় গ্রহণ করতে হবে এবং রান্নার এক ঘন্টার মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। নিম্নোক্ত নির্দেশ সমূহ কঠোর ভাবে প্রতিপালন করতে হবে-
(১) তিন মাসের কম পুরানো চাল বরাদ্দ করা যাবে না।
(২) প্রয়োগ নেই ।
(৩) রান্নার পূর্বে চাল ওজন করার সময় খোসা, ধূলো প্রভৃতি মুক্ত থাকবে।
(8) ভাঙ্গা চাল আলাদা করে নিতে হবে।
(৫) চালের কণা বা বাতিল অংশ বন্দীরের খাবারের কাজে কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
(৬) ৬ ছটাক চাল রান্নার পর ১৬ থেকে ১৮ ছটাক হতে পারে। রান্না করা খাবারের ওজন বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
(৭) আটা বা ময়দা তৈরীর পূর্বে গম সম্পূর্ণ ভাবে আবর্জনা মুক্ত করতে হবে।
টীকা-
কারাগার সমূহের খাদ্যের মান নিশ্চিত করণ এবং ঔষধ ক্রয় ও ব্যবহারের বিষয়ে তদারকী করার জন্যে প্রতিটি কারাগারে নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে :-
(১) জেলা প্রশাসক – সভাপতি
(২) পৌরসভা চেয়ারম্যান( জেলার ক্ষেত্রে)/ – সদস্য
(৩) মেয়র কর্তৃক মনোনীত একজন ওয়ার্ড কমিশনার – সদস্য
(৫) পুলিশ সুপার( জেলার ক্ষেত্রে) – সদস্য
(৪) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৬) সিভিল সার্জন – সদস্য
(৭) সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক/তত্ত্বাবধায়ক – সদস্য-সচিব
সূত্রঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/২৯১ তারিখ ২২-২-৯৪ এবং পত্র নং ১ম-১৬/৯২-জেল-১/৫২৪ তারিখ ২২-৬-৯৪ ।
বিধি-১১০৮ ।
৫ ছটাক আটা হতে প্রায় সাড়ে ৭ ছটাক মাখানো খামির বা সাড়ে ছয় ছটাক কাঁচা রুটি হতে পারে। রুটি সেঁকতে হবে এমন ভাবে যেন তা না পুড়ে যায়। রুটির সাইজ দুই প্রকারের হবে, প্রতি দুই ছটাক আটায় প্রতিটি বড় সাইজ এবং প্রতি এক ছটাক আটার প্রতিটি ছোট সাইজ।
বিধি-১১০৯।
সুন্দর ভাবে না ভাঙ্গিয়ে এবং আস্ত দানা আলাদা না করে ডাল রান্না করা যাবে না । কলাই এবং মুগ ডাল ১০% বেশী দিতে হবে। খেসারী ডাল ব্যবহার করা নিষেধ। বিভিন্ন প্রকারের ডাল একত্রে মিশিয়ে বা ডালের সাথে অন্য দানার সাথে একত্রে রান্না করা যাবে না। বিধি-১১১০। টক জাতীয় খাবারের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ অংশের ওজন ধরতে হবে।
বিধি-১১১১।
কেবল মাত্র রসালো সব্জি বরাদ্দ করতে হবে। সব্জি ডাটা, আঁশালো অংশ এবং মরা পাতা মুক্ত হবে। রান্নার কাজে যতটুকু ব্যবহার হবে বিধি-১১১২। আঁশ, পাখনা, মাথা এবং লেজ বাদ দিয়ে মাছ ওজন করতে হবে। ততটুক পর্যন্ত কেটে তারপর ওজন করতে হবে। মাংশ বরাদ্দের সময় হাড়ের ওজন বাদ বাবদ ২৫% বেশী ওজন ধরতে হবে।
বিধি-১১১৩।
ইস্যুকৃত সকল খাদ্য দ্রব্য মেডিকেল অফিসার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন, মানের কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে নোট করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জেলারের মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাবেন।
বিধি-১১১৪।
প্রত্যেক কারাগারে ওজনের জন্যে সঠিক ভাবে তৈরী বীম পাল্লা ব্যবহার করতে হবে। খাদ্যের পরিমাণ, গুণাবলী বা রান্না সম্পর্কে বন্দীদের অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপারের গোচরে নিতে হবে এবং দ্রুত তদন্ত করে দেখতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয় এবং কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীর ত্রুটির কারণে অনিয়ম হয়ে থাকে, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে তার আদেশ মিনিট বইতে রেকর্ড করবেন।
বিধি-১১১৫।
বরাদ্দের উদ্দেশ্যে অরান্না করা খাদ্য দ্রব্য জেলার, ডেপুটি জেলার, করণিক বা গোডাউনের দায়িত্বে বিশেষভাবে নিয়োজিত প্রধান রক্ষী কর্তৃক ওজন করতে হবে। জেলার পূর্ণ পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দের জন্যে দায়ী থাকবেন ।
বিধি-১১১৬।
প্রত্যেক কারাগারে ডিভিশন III ফৌজদারি বন্দীদের জন্যে একটি
রান্নার শেড থাকবে। তা ছাড়া সিভিল বন্দীদের জন্যে একটি পৃথক শেড এবং
কারা হাসপাতালে একটি শেড থাকবে।
বিধি-১১১৭।
অকার্যকর।
বিধি-১১১৮।
বাবুর্চী সতর্কতা এবং মনোযোগের সাথে খাদ্য তৈরী করবে। লোহার তৈরী পাতিল ব্যবহার করতে হবে। সকল তৈজসপত্র, রান্না ঘর এবং খাবার স্থান সুন্দরভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো রাখতে হবে। এ বিধির কোন বাত্যয় ঘটালে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১১১৯।
গরম আবহাওয়ায় দুপুর বেলার খাবার বা বৃষ্টির সময়ে যে কোন বেলার খাবার ছাদের তলায় খেতে হবে। যদি সাধারণ খাবার স্থানের উপর কোন ছাদ না থাকে, তবে বারান্দায় কিংবা প্রয়োজনে কারখানা শেডে বা ওয়ার্ডে, যেখানে ছাদ থাকে সেখানে খাবার খেতে হবে।