আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী
Table of Contents
কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দী

বিধি-১০৪৬।
যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন এবং অন্য বন্দীদের থেকে তাকে পৃথক রাখা প্রয়োজন কিনা সে সম্পর্কে মতামত প্রদান করবেন।
বিধি-১০৪৭।
যখন মেডিকেল অফিসার কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছে মর্মে রেকর্ড করেন এবং ঐ বন্দীকে জরুরী ভিত্তিতে অন্যদের থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন মর্মে মতামত প্রদান করেন, তখন জেল সুপার বন্দীকে অন্যত্র স্থানান্তরের আদেশের জন্য বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক পঞ্চবিংশ অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে বন্দীকে এমন কোন কারাগারে স্থানান্তরের আদেশ প্রদান করবেন যেখানে কুষ্ঠ রোগীদেরকে অন্তরীণ রাখা হয়।
বিধি-১০৪৮ ।
কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে পূর্ব বিধি মতে কোন কারাগারে বদলি করার পর সে যদি মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যুর হিসাব প্রেরণকারী কারাগারের পরিসংখ্যানে রেকর্ড করা হবে।
টীকা-১।
পূর্বে অবিভক্ত বাংলায় কুষ্ঠ রোগীদেরকে মেদেনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হত। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যক্ষা রোগীদের জন্যে বিশেষ ওয়ার্ড রয়েছে, তবে কুষ্ঠ রোগীদের জন্যে বিশেষ কোন ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোন কারাগারে নেই।
টীকা-২।
পূর্বে কুষ্ঠ রোগকে অনিরাময় অযোগ্য মনে করা হত। বর্তমানে কুষ্ঠ রোগ সহজে নিরাময় যোগ্য। তবে কুষ্ঠ রোগীদের সঙ্গে অন্যদের মেলামেশায় প্রবল আপত্তি লক্ষণীয়, তাই কুষ্ঠ রোগীকে পৃথক রাখাই শ্রেয়।
বিধি-১০৪৯।
কোন বিচারাধীন বন্দী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে মেডিকেল অফিসার তাকে পৃথক রাখার সুপারিশ করলে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কুষ্ঠ রোগীদের কারাগারে স্থানান্তরের সুপারিশ করলে বা মুক্তি প্রদানের আদেশ পাওয়া গেলে, স্থানান্তর বা মুক্তি স্থগিত রাখা হলে, তাকে পৃথক একটি সেলে আটক রাখতে হবে, তবে তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়। সে অন্য বন্দীদের সাথে কথা বলতে পারবে, তবে মেলামেশা করতে দেয়া হবে না।
এ ধরনের কক্ষ পরবর্তীতে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পূর্বে সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণ মুক্ত করতে হবে, দেয়াল ঘষামাজা করে চুনকাম করতে হবে। কক্ষের বেডিং পত্র অন্য কোন কুষ্ঠ রোগী ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। কোন সিভিল বন্দী কুষ্ঠ চিহ্নসহ কারাগারে ভর্তি হলে, তাকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশের জন্যে সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

পৃথক রাখার আদেশ হয়েছে, এমন কোন কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্ব দিন পুলিশের নিকট রিপোর্ট করতে হবে, যাতে তারা ১৮৯৮ সালের ৩ নং আইনের ৭ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কুষ্ঠ আক্রান্ত বন্দীকে মুক্তির আদেশ প্রসঙ্গে বিধি ৮৫১ অনুসরণ করতে হবে।