আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পাগল বন্দী
Table of Contents
পাগল বন্দী

বিধি-১০২৪।
যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসাবে সন্দিগ্ধ এবং যে সকল ব্যক্তি মানসিক বিকারগ্রস্থ হিসাবে পরিচিত, তাদেরকে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে এবং ৫ শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে :-
(১) কোন অপরাধ করেনি এমন ব্যক্তি যাকে ১৯১২ সালের পাগল আইনের আওতায় পাগল সন্দেহে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;
(২) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত এমন ব্যক্তি যাকে পাগল সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্যে আটক রাখা হয়েছে;
(৩) অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত কিন্তু নিজেকে নিরাপরাধ বলে দাবী করার মানসিক সামর্থ্যহীন ব্যক্তি যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটক রাখা হয়েছে;
(৪) কোন অপরাধ সংঘটন করেছে কিন্তু অপরাধ সংঘটন কালে পাগল ছিল বিধায় খালাস প্রাপ্ত ব্যক্তি, যাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বা সরকারের সদিচ্ছায় আটক রাখা হয়েছে।
(৫)সে সকল ব্যক্তি যারা দণ্ডের পরে পাগল হয়েছে এবং কারাগারে ভর্তি হয়েছে।
শ্রেণী (১) ভুক্ত ব্যক্তিগণ নিরাপরাধ পাগল । অন্যান্য শ্রেণীর ব্যক্তিগণ ফৌজদারি পাগল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
টীকা-১।
ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন যে, আসামী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ, তা হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৪, ফৌজদারি কার্য বিধি)।
টীকা-২।
দায়রা আদালতের বিচারের সময় কোন ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি উক্ত মর্মে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন (ধারা -৪৬৫, ফৌজদারি কার্য বিধি)।
টীকা-৩ ।
আদালত যদি মনে করেন যে, জামিন প্রদান করা উচিত নয় তা হলে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সে রূপ স্থানে উম্মাদ আসামীকে নিরাপদ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে রিপোর্ট দিবেন (ধারা -৪৬৬, ফৌজদারি কার্য বিধি)।
টীকা-৪।
১৯১২ সালের উম্মাদ আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুসারে ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে আসামীকে কোন পাগলা গারদে আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা -৪৭১, ফৌজদারি কার্য বিধি)।
বিধি-১০২৫ ।
যখন কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন সন্দিগ্ধ পাগল বন্দীকে পরীক্ষা করার জন্যে মেডিকেল অফিসারকে অনুরোধ করেন, ঐ অনুরোধের একটি কপি জেল সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যাতে ঐ পরীক্ষা কালে পাগল বন্দী নিজের বা অন্যদের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ মতে জেল সুপার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।
বিধি-১০২৬।
১৯১২ সালের পাগল আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক কোন নিরাপরাধী সন্দিগ্ধ পাগল ব্যক্তিকে মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে অনধিক ১৫ দিনের জন্য আটক রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; তবে মেডিকেল অফিসার যদি সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে, ঐ আইন মোতাবেক পর্যবেক্ষণের জন্যে পুনরায় আটক রাখা প্রয়োজন তা হলে ম্যাজিষ্ট্রেট আটকের মেয়াদ প্রথম আটকের তারিখ থেকে ত্রিশ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।
এ মেয়াদ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার ম্যাজিষ্ট্রেট বা যে কর্মকর্তার আদেশে আটক রাখা হয়েছে তাকে জানাবেন যে, এই আইনের আওতায় অনুমোদিত আটক রাখার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং আটক ব্যক্তিকে খালাস দেয়ার জন্যে বা মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন। যদি মেয়াদ শেষ হবার পর ৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায় এবং জেল সুপার আদালত হতে কোন আদেশ না পেয়ে থাকেন, তবে তিনি বিহিত ব্যবস্থার জন্যে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।
কোন নিরাপরাধী পাগল ব্যক্তিকে ত্রিশ দিনের বেশী কারাগারের আটক রাখার প্রত্যেক ক্ষেত্রে জেল সুপার কারা মহা পরিদর্শককে বিষয় সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।
টীকা-
পাগল সন্দেহে কোন ব্যক্তিকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে ঐ ব্যক্তি পাগল কিনা তা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ঐ ব্যক্তিকে কোন সুবিধাজনক স্থানে অনধিক দশ দিন আটক রাখার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন। ম্যাজিষ্ট্রেট একই উদ্দেশ্যে সময়ে সময়ে ঐ ব্যক্তিকে একসঙ্গে অনধিক দশ দিন করে পুনরায় আটকের অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু কোন ব্যক্তিকে এই আইনে প্রথম আটকের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না (ধারা-১৬, পাগল আইন, ১৯১২)।
বিধি-১০২৭।
নিরাপরাধী পাগলদেরকে কারাগারের সকল পরিসংখ্যান হতে বাদ রাখা হবে এবং তাদের ভরণ পোষণ এবং পোষাক (যদি দেয়া হয়) ও মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের খরচ ওয়ারেন্ট প্রদানকারী আদালত হতে আদায় করতে হবে।
বিধি-১০২৮।
শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত ফৌজদারি পাগল ব্যক্তিদেরকে • মেডিকেল পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিষ্ট্রেট বা আদালতের আদেশে কারাগারে আটক রাখা যেতে পারে; এবং শ্রেণী (২) এবং শ্রেণী (৩) ভুক্ত কোন পাগলকে কোন কারাগারে ত্রিশ দিনের বেশী আটক রাখা হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে।
বিধি-১০২৯।
(১) কারাগারে আটক কোন বন্দীর পাগল হবার লক্ষণ দেখা দিলে এবং তা মিথ্যা ভান নয় মর্মে মেডিকেল অফিসার মতামত প্রদান করলে, জেল সুপার ঐ বন্দীকে ৭৪০ বা ৯৯৩ বিধিতে বর্ণিত পদ্ধতিতে একটি সেলে মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করবেন। (২) যদি কোন সন্দিগ্ধ পাগল-
(ক) একজন বিচারাধীন বন্দী হলে জেল সুপার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেটকে অনুরোধ জানাবেন;
(খ) একজন মৃত্যুদণ্ড আদেশ প্রাপ্ত বন্দী হলে ৯৯৩ বিধি মোতাবেক জেল সুপার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন;
(গ) কোন আদালতের দণ্ড আদেশ মোতাবেক আটক বা অন্তরীণ ব্যক্তি হলে যে জেলা হতে আদেশ দেয়া হয়েছে সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে নির্ধারিত ফরমে বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।
নোট- ডিসক্রিপটিভ রোল সাধারণত: ১৪ দিনের মধ্যে গৃহীত হবে। বিধি-১০৩০। কোন বন্দী কারাগারে ভর্তি হবার পর পাগল হয়ে গেলে বন্দীকে কোন মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে সরকারের আদেশ লাভের উদ্দেশ্যে। জেল সুপার অবিলম্বে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।
এই প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনি দুই কপি করে প্রেরণ করবেন-
(১) একটি ডিসক্রিপটিভ রোল ‘সি’, (বেঙ্গল ফরম নম্বর ২১৬);
(২) বন্দীর পাগল হওয়া সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট (ফরম নম্বর ২১৫);
(৩) বন্দীর স্থানান্তরের উপযুক্ততা সম্পর্কে সার্টিফেকেট, (জেল ফরম
(৪) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি ডিসক্রিপটিভ রোল (ফরম নম্বর ৫০৬৯)। নোট- যদি পাগল ব্যক্তি উগ্র, ভয়ংকর, বা আত্মহত্যা প্রবণ হয় সার্টিফিকেটে তার উল্লেখ করতে হবে।
বিধি-১০৩১।
কোন পাগল বন্দীকে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে নির্দেশ প্রদান করা হলে জেল সুপার তাকে প্রেরণের সময় আদেশের কপি,হিস্ট্রি সিট, মেডিকেল অফিসার প্রদত্ত স্থানান্তরের জন্যে উপযুক্ততার দুই কপি সার্টিফিকেট এবং পাগল বন্দী যদি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হয় তবে দণ্ডের মূল ওয়ারেন্টের কপি এবং ৮৭২ বিধিতে বর্ণিত অন্যান্য দলিলপত্র সঙ্গে দিবেন। কোন পাগলকে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়া যাবে না,
যদি মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করেন যে, সে শারীরিক বা মানসিক ভাবে স্থানান্তরের উপযুক্ত। ঐ সার্টিফিকেটের একটি কপি তিনি ডাক যোগে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের সময় প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং তাকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।
টীকা-
অপরাধী এবং অনিষ্টকর নয় এমন সনাক্তকৃকত পাগলকে পাগলা গারদে এস্কট করে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ সাদা কাপড় পরিধান করবে(প্রবিধান ৭২৪,পিআরবি)।{বিধি-১০৩১এ। যদি মানসিক হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হয়, পাগল ব্যক্তিকে কোন কারাগারে আটক রাখতে হবে। তাকে কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শককে অনুরোধ জানাবেন।
কারা মহাপরিদর্শক হতে অনুমতি পাওয়া গেলে ১০৩১ বিধিতে বর্ণিত প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করে তাকে স্থানান্তর করতে হবে। গ্রহণকারী কারাগারে পাগল ব্যক্তিকে যে তারিখে বা সময়ে গ্রহণ করতে হবে তার আগাম সংবাদ টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে যাতে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাকে গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত থাকেত পারেন।
বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগল ব্যক্তির মেডিকেল হিস্ট্রির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো আগেই প্রেরণ করতে হবে। বিপদজনক বা উগ্র বা আত্মহত্যা প্রবণ পাগলকে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রেরণকারী কারাগারের মেডিকেল অফিসার বন্দীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় উপায় নির্ধারণ করে দিবেন। পাগল ব্যক্তি যাতে নিজের বা স্কটের বা অন্য কারো ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি লক্ষ্য রাখবেন।
কারাগারে আগমনের পর জেলার বা ডেপুটি জেলার গাগল বন্দীকে ভর্তি করার পূর্বে তার পূর্ববর্তী কারাগারের হিস্ট্রি টিকেট ভাল ভাবে পর্যালোচনা করে দেখবেন। বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব-অর্ডিনেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে, যিনি তাকে পরীক্ষা করে এবং তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আটক রাখার নিরাপত্তা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করবেন। উগ্র প্রকৃতির পাগল বন্দীকে কারাগারে থাকা অবস্থায় বা কারাগার হতে কোথাও নেয়ার সময় সার্বক্ষণিক প্রহরায় রাখতে হবে।
বিধি-১০৩২ ।
প্রয়োগ নেই।
বিধি-১০৩৩।
যখন কোন পাগল মহিলাকে কোন কারাগারে প্রেরণ বা কারাগার হতে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় বা মুক্তির কারণে আত্মীয় স্বজনের নিকট অর্পণ করা হয়, তখন অবশ্যই একজন মহিলা কারারক্ষী বা সঙ্গী থাকতে হবে।
বিধি-১০৩৪ ।
সরকারের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে জেল সুপার কোন পাগল বন্দীকে জরুরী ও বিশেষ অবস্থায় মানসিক হাসপাতালে প্রেরণের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত ।
বিধি-১০৩৫ ।
কোন পাগল ব্যক্তিকে স্থানান্তরের উপযুক্ততার সার্টিফিকেট প্রদান কালে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন অক্ষমতা বা উগ্রতা সম্পর্কে রেকর্ড করবেন।
বিধি-১০৩৬।
কোন পাগল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট জেলার কর্তৃক হস্তান্তর কালে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট উপস্থিত থাকবেন। তিনি স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝিয়ে দেবেন।
বিধি-১০৩৭।
যখন শ্রেণী(৫)ভুক্ত ফৌজদারি পাগলকে সরকারের আদেশে মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা যাবে না, তাকে সাজার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখতে হবে এবং নিরাপরাধী পাগল হিসাবে গণ্য করতে হবে।
বিধি-১০৩৮।
যখন কোন পাগল ভয়ংকর, কোলাহলকারী, বা নোংরা স্বভাবের হয়, তাকে একটি সেলে আটক রাখতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রেণী (১) থেকে শ্রেণী (৪) ভুক্ত পাগলদেরকে কারা হাসপাতালে কিংবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুযায়ী রাখতে হবে। সেলে আটক পাগলকে নজর রাখার বিষয়ে ৭৪০ বিধি অনুসরণ করতে হবে।
বিধি-১০৩৯।
মেডিকেল অফিসার ভিন্নরূপ নির্দেশ না প্রদান করলে, প্রত্যেক পাগল বন্দী কারাগারের স্বাভাবিক খাবার পাবে, তবে শ্রেণী (১)ভুক্ত ব্যক্তিদেরকে বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য ৯২৩ থেকে ৯২৫ বিধি মোতাবেক বাহির হতে খাদ্য সরবরাহ করা যেতে পারে।
বিধি-১০৪০ ।
যখন সরকারের নিকট প্রতীয়মান হবে যে, শ্রেণী (৫) ভুক্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত পাগল বন্দী আরোগ্য লাভ করেছে, তাকে যে কারাগার হতে স্থানান্তর করা হয়েছিল সে কারাগারে পুনরায় প্রেরণের জন্যে ওয়ারেন্ট জারী করবেন। জেল সুপার বন্দীর মানসিক হাসপাতালে থাকার সময়কে তার কারা ভোগের অংশ হিসাবে গণনা করবেন।
বিধি ১০৪১-১০৪৩।
প্রয়োগ বিরল ।
বিধি-১০৪৪।
ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৭১(২) ধারায় এবং ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(২) ধারায় সরকার জেল সুপারগণকে পাগল বন্দীদের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের উপর অর্পিত ১৯১২ সালের পাগল আইনের ৩০(১) ধারার এবং ফৌজদারি কার্য বিধির ৪৬৬ বা ৪৭১ ধারায় কারাগারে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে উক্ত বিধির ৪৭৩ ও ৪৭৪ ধারার সকল কাজের নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন। ()
টীকা-১।
যে কারাগারে কোন ব্যক্তি ৪৬৬ ধারা ৪৭১ ধারা অনুসারে আটক রযেছে, সরকার সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৪৭৩ বা ৪৭৪ ধারা অনুসারে কারাগার সমূহের মহা পরিদর্শকের সমস্ত বা যে কোন কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে পারবেন (ধারা ৪৭১ (২)- ফৌজদারি কার্য বিধি)।
টীকা-২।
সরকার কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মহা পরিদর্শকের (১) উপ-ধারার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন যে কারাগারে অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক রাখা হবে( ধারা ৩০(২), পাগল আইন,১৯১২)।

বিধি-১০৪৫ ।
প্রত্যেক ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে জেল সুপার তার কারাগারে আটক প্রত্যেক পাগল বন্দীর বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ৯ নম্বর রিটার্ন দাখিল করবেন এবং ঐ ব্যক্তির সেই সময়ের এবং পূর্ববর্তী সময়ের তুলনা তুলে ধরবেন।