আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কিশোর বন্দী
Table of Contents
কিশোর বন্দী

বিধি-৯৬২।
একুশ বৎসর বয়স পর্যন্ত কোন বন্দীকে তরুণ বা কিশোর বন্দী বলে গণ্য করা হবে। কারা আইনের ২৭ ধারা মোতাবেক, একুশ বৎসরের কম বয়সের পুরুষ বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যে সকল তরুণ বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়নি, সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন উভয় ক্ষেত্রেই তাদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোরীদেরকে মহিলা ‘এ’ শ্রেণীর ওয়ার্ডে রাখা যেতে পারে, তবে প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে পৃথক রাখতে হবে।
বিধি-৯৬৩।
(১) ‘বাল-অপরাধী’ অর্থ কোন বালক যে দ্বীপান্তর বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ১৫ বৎসরের কম ছিল।
(২) যেহেতু বাল-অপরাধীদেরকে কারাগারে আটক রাখা বিভিন্ন ভাবে আপত্তিজনক, সেহেতু ১৫ বৎসরের কম বয়সের কোন কিশোরকে যখন কারাগারে ভর্তি করা হয়, তাকে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রদান না করা হলে এবং যদি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পূর্বেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে থাকেন যে, তাকে সংশোধনী স্কুলে প্রেরণ করা হবে না, তা হলে জেল সুপার এ উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ প্রদান করবেন
বিধি-৯৬৪ ।
(১) বর্তমান প্রয়োগ ভিন্ন রকম
(২) কোন বালককে সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার সাজা প্রদান করা হলে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখতে হবে।
(৩) সংশোধনী স্কুলে আটক রাখার জন্যে আদেশ প্রাপ্ত বালকদেরকে, সংশোধনীতে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাদের নিজেদের সুবিধাজনক পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যাবে।
(৪) বাল-অপরাধীদেরকে অন্যান্য অপরাধীদের থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।
(৫) অকার্যকর।
বিধি-৯৬৫ ।
যে কারাগারে কিশোর বন্দীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড আছে, সে সকল ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ বানাতে হবে। যদি সকলের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ না থাকে তবে যারা বয়:সন্ধিতে উপনীত হয়েছে, তাদেরকে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে রাখার অগ্রাধিকার দিতে হবে।
যেখানে আলাদা কিশোর ওয়ার্ড নেই, সেখানে, একমাস বা তার কম মেয়াদের সাজা প্রাপ্তদেরকে বা বদলির অপেক্ষাধীনদেরকে রাতে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষে বা পৃথক ঘুমানোর জায়গায় রাখতে হবে এবং দিনের বেলায় একজন বয়স্ক ও বিশ্বস্ত কারারক্ষীর নজরদারীতে রাখতে হবে,যার দায়িত্ব হবে তাদের সাথে বয়স্ক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ঘনিষ্ঠতায় বাধা দেয়া ।
বিধি ৯৬৬-৯৬৭।
অকার্যকর।
বিধি-৯৬৮ ।
কোন সাজাপ্রাপ্ত কিশোরীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ পূর্বে জেল সুপার তার পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের নাম-ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। তিনি ঐ তথ্য ঐ ঠিকানার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং কিশোরীর মুক্তির তারিখে ঐ জেলার কারাগার থেকে তাকে গ্রহণের জন্যে তাদেরকে সংবাদ প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানাবেন।
বিধি-৯৬৯।
জেল সুপার একজন মহিলা রক্ষীর দায়িত্বে মেয়েটিকে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলির ব্যবস্থা করবেন যাতে অন্তত: মুক্তির এক সপ্তাহ পূর্বে সে সেখানে পৌঁছতে পারে।
বিধি-৯৭০।
যদি কোন আত্মীয় স্বজন মেয়েটিকে গ্রহণের জন্য না আসেন, তবে জেল সুপার তাকে বাড়ীতে পৌঁছাতে সুবিধা হয় এমন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।
বিধি-৯৭১।
কিশোর বন্দীরা পূর্ণ কঠোর শ্রম হতে অব্যাহতি পাবে। তারা লেখা পড়া করবে এবং সহজ হাতের কাজে নিয়োজিত হবে, যাতে কারাগার হতে বের হয়ে প্রয়োজনে এটাকে পেশা হিসাবে চালিয়ে যেতে পারে। কা
বিধি-৯৭২।
কিশোর বন্দীরা তাদের বয়স এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবার পাবে। ১৬ বৎসরের বেশী বয়সের বালকরা প্রাপ্ত বয়স্কদের সমান খাবার পাবে।
বিধি-৯৭৩।
যে সকল কিশোর বন্দী এক বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের জন্য সাজাপ্রাপ্ত, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে এক ঘন্টা করে লিখতে,পড়তে এবং গাণিতিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে এ জন্য কারা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে।
বিধি-৯৭৪ ।
তাদেরকে ব্যবহারিক জ্ঞানের সুবিধাজনক বই, স্লেট এবং পেন্সিল দেয়া হবে। স্লেট ও অন্যান্য ব্যয় “বিধি সেবা ও সরবরাহ খাত” হতে এবং বই “ বই ক্রয়” খাত হতে নির্বাহ করা হবে।
বিধি-৯৭৫।
শ্রেণী কক্ষে লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোন আলাপের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন কিশোর বন্দী পড়ায় আগ্রহী না হলে রিপোর্ট করা যেতে পারে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মাঝে মাঝে ক্লাশ ভিজিট করবেন এবং মাসে একবার অগ্রগতি পরীক্ষা করবেন।
বিধি-৯৭৬।
কেন্দ্রীয় কারাগারে কিশোর বন্দীরা দিনে অন্তত: আধ ঘন্টা ব্যয়াম,ড্রিল বা জিমন্যাস্টিক প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যয় করবে।
বিধি-৯৭৭।
প্রত্যেক শ্রেণীর ১৮-২১ বৎসর বয়সের পুরুষ বন্দীরা যাদেরকে পৃথক রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে অন্য পুরুষ বন্দীদের থেকে পৃথক ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বয়স্ক পুরুষ ওয়ার্ডে পার্টিশানযুক্ত ছোট কক্ষ থাকে, এসব বন্দীকে রাত্রে সেখানে রাখা যেতে পারে ।
টীকা-১।
জেল কোডের ৯৬২-৯৭৮ বিধান কিশোর বন্দীদের কারাবাস সংক্রান্ত। শিশুদের T হেফাজত, রক্ষণ ও তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার এবং কিশোর অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত আইন একীভূত ও সংশোধন করে প্রণীত শিশু আইন, ১৯৭৪ ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর এবং সারা বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের ১লা জুন বলবৎ হয়েছে।
উক্ত আইনের আওতায় সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় এস আরও নম্বর ১৬২-আইন/৯৯ সকম / প্রতি: শাখা/ কিশোর-১/৯১ তারিখ ২০ জুলাই ১৯৯৯ মূলে কিশোর অপরাধীদের বিচার ও সংশোধনের জন্যে গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলের হাটে দুটি পৃথক কিশোর আদালত এবং কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্র (Correctional Institute for Young Offenders ) স্থাপন করেছে। নিম্নে শিশু আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা সমূহ ও এ সংক্রান্ত নির্দেশ/ বিধি সমূহ তুলে ধরা হ’ল : –
(১) অন্য কোন আইনে বিপরীত কিছু থাকা সত্বেও কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ড দান করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিশুটি এত বেশী অবাধ্য অথবা ভ্রষ্ট চরিত্রের যে তাকে কোন প্রত্যায়িত ইনষ্টিটিউটে প্রেরণ করা চলে না, তা হলে আদালত শিশুটিকে কারাদণ্ড দান অথবা যে রুপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ স্থানে বা মতে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন কিশোর অপরাধীকে প্রাপ্ত বয়স্ক আসামীর সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া যাবে না (ধারা-৫১, শিশু আইন)।
(২) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তার ক্ষেত্রে সমীচীন বিবেচনা করলে অন্যূন দুই বৎসর এবং অনধিক দশ বৎসর মেয়াদে আটক রাখার জন্যে কোন প্রত্যায়িত ইনস্টিটিউটে সোপার্দ করতে আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু কোন ক্রমেই আটকের মেয়াদ শিশুর বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর আর বৃদ্ধি করা যাবে না (ধারা- ৫২. শিশু আইন)।
(৩) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় অথবা সন্দেহ জনক গতিবিধির জন্য ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের আওতায় কোন শিশু কিশোরকে গ্রেফতার করা হলে আইনের বিধান মতে তাদেরকে থানা হাজত থেকেই জামিন প্রদান কিংবা জামিনের অযোগ্য হলে আদালতে হাজির করার পূর্ব পর্যন্ত তাদেরকে নিকটবর্তী রিমান্ড হোম / নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
একই মামলায় বয়স্ক অপরাধী থাকলে শিশু কিশোরদের জন্য পৃথক ফরোয়ার্ডিং প্রদান এবং অভিযুক্ত কিশোরদেরকে কিশোর আদালতে প্রেরণ করতে হবে। প্রতি থানায় কিশোর অপরাধীদের জন্যে পৃথক রেজিষ্টার খোলা এবং প্রত্যেক পরিদর্শনে সে সম্পর্কে বিশেষভাবে তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। চার্জশীট দাখিল কালে কিশোর অপরাধীদের নাম আসামীদের কলামের নিম্নভাগে লেখা এবং তা নীচে লালকালির রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে।
একইভাবে জেনারেল রেজিষ্টারেও কোর্টের পুরিশ কর্মকর্তা কর্তৃক কিশোর আসামীদের নামের নীচে লাল রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। শিশুদের মামলা তদন্ত ও শিশু অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে সর্বত্র পুলিশের মহিলা ইউনিটকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৫১৮, তারিখ-৪-৮-৯৭)
(৪) প্রত্যেক জেলায় একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে চিহ্নিত করে কিশোর অপরাধীদের পৃথক বিচারের ব্যবস্থা, শিশু আইনের বিধান মতে কিশোর অপরাধীদের জামিনের ব্যবস্থা, বিচারে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ অথবা প্রবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সকল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষ করে তাদের অধীনস্থ ম্যাজিষ্ট্রেটগণনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো । { স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ পি-২৫/৮৬/জেল-১ (অংশ-১)/৬৭৫, তারিখ-২১-৯-৯৭)
(৫) শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারী উদ্যেগের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাও সংশোধন প্রতিষ্ঠান বা সার্টিফাইড হোম প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
{স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-২৫/৮৬-জেল-১/(অংশ-১)/৮৬৩, তারিখ ১৭-১২- ৯৭} (৬) রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোর অপরাধীদের যশোরস্থ কিশোর সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে হবে । {স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১ পি-৬/৯৭-জেল-১/২২৮, তারিখ ২৩-৩-২০০০)
৭) সংশোধন বা কয়েদখানা বিশেষ স্কুল হতে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর স্কুল জীবন বা তারপর তাদের আচরণ নিরীক্ষণের প্রয়োজন হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদনক্রমে কিশোর অপরাধীদের পুলিশ সুপারের অধীনে নিরীক্ষণে রাখা যেতে পারে(প্রবিধান-৩৪৬, পিআরবি)।
টীকা-২।
বিভিন্ন বাস্তব কারণে শিশু আইনের উল্লেখিত বিধান সমূহ সম্পূর্ণ ভাবে এখনও কার্যকর করা যায় নি, ফলে কিশোরদেরকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন হয়ে থাকে। কোন কিশোর বা কিশোরী যখন কারাগারে থাকে, জেল কোডের বর্ণিত বিধানাবলী দ্বারাই তাকে পরিচালিত করতে হবে। কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রের বিধানাবলী কারাগারে প্রয়োগ করা সম্ভব ও সমীচীন হবে না।

টীকা-৩ ।
বাংলাদেশে কার্যকর বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়স নিম্নরূপ:-
(১) কোন ব্যক্তি ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর সাবালকত্ব (Majority) লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে (ধারা-৩, সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫)।
(২) ‘অপিরণত’ (Minor) বলতে পুরুষের ক্ষেত্রে একুশ বৎসরের কম এবং নারীর ক্ষেত্রে আঠারো বৎসরের কম বয়সের কোন ব্যক্তিকে বুঝাবে (ধারা-২, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯)।
(৩) ‘শিশু’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স ষোল বৎসর পূর্ণ হয়নি (ধারা-২,কারখানা আইন, ১৯৬৫)।
(৪) ‘শিশু’ অর্থ ১৬ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি (ধারা-২, শিশু আইন, ১৯৭৪)।
(৫) ‘শিশু’ অর্থ অনধিক চৌদ্দ বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি (ধারা-২, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০)।