সাধারণ বিষয়াদি

মেডিকেল প্রশাসন |পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

পরিচ্ছেদ – সাধারণ বিষয়াদি

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

বিধি-১২১২।

প্রত্যেক বন্দীর স্বাস্থ্য ‘ভাল’, ‘খারাপ’ বা ‘মাঝামাঝি’- এ তিন শ্রেণীর যে কোন একটিতে বর্ণনা করতে হবে। কারাগারে ভর্তির সময় কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল, কোন অসুস্থতা না থাকলে এবং গড় ওজন ঠিক থাকলে ‘ভাল’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে। কোন বন্দীর ভর্তির সময় খুব অপুষ্টি বা অসুস্থতা থাকলে এবং তখনই চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে ‘খারাপ’ স্বাস্থ্য রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-১২১৩।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক রেকর্ডকৃত বন্দীর শারীরিক অবস্থার শ্রেণী বিভাজন এবং তার থেকে যে কাজ আদায় করা হবে তার মধ্যে সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই । এটা বন্দীর দৈহিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে। মেডিকেল অফিসার লক্ষ্য রাখবেন কোন বন্দীকে যেন তার দৈহিক সামর্থ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কোন কাজ না দেয়া হয়। যেমন, একজন বন্দীর একটি হাত নেই, কিন্তু তার স্বাস্থ্য ভাল, অথচ তাকে দিয়ে কঠিন কাজ করানো যাবে না। আবার একজন শীর্ণ স্বাস্থ্যের দক্ষ প্রিন্টারের কম্পোজের কাজে পরিপূর্ণ সামর্থ্য থাকতে পারে ।

বিধি-১২১৪ ।

একজন মেডিকেল অফিসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হ’ল যে সকল বন্দীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা খারাপ বা যাদের রোগের ইতিহাস খারাপ বা যাদের দিয়ে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে তাদের দিকে খেয়াল রাখা। বন্দীর বার্ধক্য এবং বৈকল্য, রক্ত শূন্যতা, বড় প্লীহা, লিভার,মাড়ি ফোলা, মুখে ঘা থাকলে তাদেরকে আলাদা করতে হবে এবং বছরের কোন্ সময়ে রোগাক্রান্ত হয় তা নির্ণয় করতে হবে।

যে সমস্ত বন্দীর কোন শারীরিক অসুস্থতা নেই, কিন্তু প্রায়ই অনিয়মিত জ্বর, বুকের ব্যথা, পাতলা পায়খানা দেখা দেয় তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কোন অস্বাস্থ্যকর বা কোন বিশেষ অসুখের জেলা হতে কারাগারে ভর্তিকৃত বন্দীকে এক বা দুই সপ্তাহ বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তাদের খাদ্যের নোট রাখতে হবে। তাদেরকে যদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তবে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। 

বিধি-১২১৫।

কোন বন্দীর ওজনের তারতম্য তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্ণয়ের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এটা নিখুঁত ভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান গ্রহণে তা সাহায্য করে। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, কারাগারে আগত অপরাধী জনগোষ্ঠির অধিকাংশই কম-বেশী অভাবগ্রস্ত, পুষ্টিহীন এবং বিভিন্ন রকম রোগে আক্রান্ত থাকে।

আটাশ হাজার মানুষের মধ্যে কাজ করে উচ্চতা ও ওজনের একটি অনুপাত বের করা হয়েছে। একবারে নিখুঁত না হলেও মোটামুটি ক্ষেত্রে এটা অনুসরণ করা যায়। যে সব বাঙালী ও বিহারী পুরুষের বয়স ২৫-৪৫ বছর তাদের জন্যে এটা প্রযোজ্য হবে। একজন লোকের ৫ ফুট উচ্চতার জন্যে ১০০ পাউন্ড এবং ৫ ফুট হতে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৩ পাউন্ড করে বেশী ধরা হয়েছে।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি হতে প্রতি এক ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্যে ৪ পাউন্ড বেশী ধরতে হবে । সূত্র-ম্যানুয়েল অব জেল হাইজিন, মেজর ডব্লিউ জে বুচানান, আই.এম.এস, দ্বিতীয় সংস্করণ,১৯০০)।

বিধি-১২১৬।

প্রতি পাক্ষিকে একবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রত্যেক বন্দীর ওজন নিতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এ কাজ করবেন এবং প্রয়োজনে অন্যদের সাহায্য গ্রহণ করবেন। ওজন নেয়ার জন্য সঠিক মানের বীম স্কেল ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-১২১৭।

ওজন নেয়ার পরবর্তী দিন জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট সে সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করতে হবে-

(১) ওজন বৃদ্ধি প্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা

(২) ওজন অপরিবর্তনীয় থাকা বন্দীর সংখ্যা

(৩) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৪) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৩- ৫ পা: ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৫) পূর্ববর্তী তিনটি পরিমাপে ৫ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাসপ্রাপ্ত এমন বন্দীর সংখ্যা

(৬) ভর্তির পর হতে ৭ পাউন্ডের বেশী ওজন হ্রাস পেয়েছে এমন বন্দীর সংখ্যা

(৭) ওজন বৃদ্ধি এবং হ্রাসের শতকরা হার ।

পূর্ব উল্লেখিত ৪, ৫ এবং ৬ নম্বরের বন্দীদেরকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্য পৃথক ভাবে প্যারেড করাতে হবে। জেল ফরম ১০৩ এ দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের ওজন সংরক্ষণের এবং ১২১৫ বিধিতে বর্ণিত স্ট্যান্ডার্ডের নিম্ন ওজনের বন্দীদের একটি তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে।

 

বিধি-১২১৮ ।

হাসপাতালে প্রকৃত পক্ষে ভর্তি হয়নি এমন বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসারের পর্যবেক্ষণে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কতিপয় গ্যাংয়ে বিভক্ত করা যেতে পারে। যে সকল বন্দী বার্ধক্য এবং বৈকল্যের কারণে কাজের জন্যে অযোগ্য এবং যারা হাসপাতাল থেকে সদ্য রোগ মুক্তি প্রাপ্ত তাদেরকে কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাংয়ে (“কনভালেসেন্ট গ্যাং” নামে পরিচিত হবে) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অন্যান্য দুর্বল বন্দী এবং এখনও কাজের জন্যে অনুপযুক্ত, তবে বিশেষ বিবেচনায় কাজের জন্য প্রয়োজন তাদেরকে “স্পেশাল গ্যাং”এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যে সব বন্দীর কোন নির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ না পেলেও ওজন হ্রাস হচ্ছে তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং সাপ্তাহিক ওজন নেয়ার জন্যে “ওজন হ্রাস গ্যাং” এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক হাসপাতাল গ্যাং এ এবং বি দুটো শ্রেণীতে বিভক্ত থাকবে এবং তাদেরকে পৃথক রাখতে হবে ।

বিধি-১২১৯।

“স্পেশাল” গ্যাং এবং “কনভালেসেন্ট” গ্যাং সব সময় একত্রে রাখতে হবে এবং তাদেরকে পনর দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একবার বা মেডিকেল অফিসার মনে করলে আরো বেশী বার ওজন নিতে হবে। ওজন স্পেশাল রেজিষ্টারে ( ২৯ নম্বর রেজিষ্টারে) রেকর্ড করে মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে হবে।

বিধি-১২২০।

“স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে তাদের সুবিধাজনক হাল্কা কাজ দিতে হবে । “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং”- কে ঊল বাছাই, তাঁত বা রোগী দেখার হাল্কা কাজ দেয়া যেতে পারে। “স্পেশাল” গ্যাং ভুক্ত বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার রোজ দেখবেন এবং “কনভালেসেন্ট এবং বৈকল্য গ্যাং” কে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রোজ দেখবেন।

বিধি-১২২১।

মেডিকেল অফিসার এ ধরনের গ্যাংয়ের জন্যে বিশেষ ডায়েটের পরামর্শ প্রদান করবেন। তাদেরকে সাধারণ মানের চেয়ে উন্নত মানের চাল দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে গোসলের আগে গায়ে মাখার জন্যে তেল বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই, গুড়, গোল আলু, বা অতিরিক্ত সব্জি তাদেরকে বরাদ্দ করা যেতে পারে। মাংশ, মাছ, দুধ, দই ডাল বা অন্য কোন কিছুর পরিবর্তে দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২২।

এ সকল বন্দীদেরকে সম্ভব হলে রাতের বেলা উপরের ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তাদের জন্যে ১১৬৮ বিধিতে বর্ণিত নিয়মে অতিরিক্ত পোশাক ও বেডিং দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১২২৩

। এ সকল বন্দীদেরকে মেডিকেল অফিসার সতর্কতার সাথে প্রতি নিয়ত পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত করা যায় এবং কোন বন্দী আরোগ্য লাভ করলে গ্যাং থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া যায়।

বিধি-১২২৪।

যখনই কোন বন্দীর অস্বাভাবিক হারে ওজন হ্রাস পেতে থাকে অথবা স্কার্ভি বা মাড়ির ক্ষত বা রক্ত স্বল্পতার সাধারণ প্রবণতা বা ডায়রিয়া বা অন্য কোন পেটের পীড়ার কারণে হাসপাতালে বন্দী ভর্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখনই মেডিকেল অফিসারকে কারণ নির্ণয়ের জন্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। প্রত্যেক বন্দীর খাদ্যে ডালের পরিবর্তে প্রাণীজ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে এবং আলু, পেঁয়াজ, মুলা প্রভৃতি তরকারীর সাথে রাখা যেতে পারে।

জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার উভয়ই মাঝে মাঝে বন্দীদের খাদ্য গ্রহণ পরিদর্শন করবেন এবং খাদ্য সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আছে কি না তা দেখবেন ; এবং খাদ্য যদি বেশীর ভাগই না খাওয়া অবস্থায় থেকে যায় তা রেকর্ড করবেন। বৈচিত্রের অভাব হেতু খাদ্য বিস্বাদ মনে হলে যথাসম্ভব এর প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-১২২৫।

যখন কোন সশ্রম বন্দীর এক কাজের তুলনায় অন্য কাজে ওজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পায়, সতর্কতার সাথে তার কাজ নির্বাচন করতে হবে; অব্যাহত ওজন হ্রাস পাচ্ছে এমন কাজ বদল করে দিতে হয়। তিনটি পর পর ওজনে কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পাওয়া দেখা গেলে বা যার বড় ধরনের ওজন হ্রাস দেখা যায় তাকে কঠিন কাজে নিয়োগ করা যাবে না।

যদি কোন বন্দী নির্ধারিত ওজনের পূর্ববর্তী দুই বেলা আহার গ্রহণ না করে কৃত্রিম ওজন হ্রাসের চেষ্টা করে,যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১২২৬।

মেডিকেল অফিসার বন্দীদের সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় যত্ন নেবেন। মৌসুম অনুসারে সকালে বন্দীদেরকে কখন ওয়ার্ডের বাহিরে নেয়া উচিত হবে প্রভৃতি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন। 

 

পরিচ্ছেদ ১- সাধারণ বিষয়াদি

 

বিধি-১২২৭।

কারাগারে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্যে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে। মশার ডিম কেরাসিন বা অন্য কোন কার্যকর লার্ভা নাশক ছিটিয়ে ধ্বংস করতে হবে। সে সঙ্গে এনোফিলিশ মশার বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক খানা খন্দক, গর্ত, নালা প্রভৃতি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। খালি টিন বা পাত্র ফেলে রাখতে দেয়া যাবে না । বিধি ১২২৮-১২২৯। জলাতংক এবং প্লেগ সংক্রান্ত। বর্তমানে উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *