জেল কোড অনুযায়ী শ্রম ও কারা শিল্প

জেল কোড অনুযায়ী শ্রম ও কারা শিল্প

আজকে আমরা আলোচনা করবো শ্রম ও কারা শিল্প সম্পর্কে

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

শ্রম ও কারা শিল্প । জেল কোড

বিধি-৭৮২। জেল সুপার কর্তৃক মিনিট বইতে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ কোন প্রয়োজন লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বা স্বেচ্ছায় কাজে নিয়োজিত বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাবে না। মেনিয়াল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতীত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে ঘোষিত সরকারী ছুটির দিনে কোন কাজ করা হবে না ।

টীকা, কোন কারখানার কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করানো যাবে না বা করতে দেয়া যাবে না। তবে ৫০.৫৪,৫৫ বা ৫৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে কোন কারখানার একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করতে পারে কিন্তু দশ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না (ধারা-৫৩, কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

বিধি-৭৮৩। সকালের প্যারেড এবং বন্দীদের গ্যাং বন্টন সম্পন্ন করার পর বন্দীরা দিনের কাজ শুরু করবে। সাধারণত ওয়ার্ড খোলার এক ঘন্টার মধ্যে দিনের কাজ শুরু করা উচিত। কাজের সময় সূচী নিম্নরূপ হবে-

মৌসুম সময়
পূর্বাহ্ন অপরাহ্ন
হতে পর্যন্ত কাজ শুরু কাজ বন্ধ কাজ শুরু কাজ বন্ধ
১৬ মার্চ ৩০ এপ্রিল ভোরের আনুমানিক এক ঘন্টা পর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১ লা মে ৩১ আগস্ট ১১ টা ১-৩০ টা ৫-৩০ টা
১ লা সেপ্টেম্বর ৩১ অক্টোবর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১৬ অক্টোবর ১৫ মার্চ ১১-৪৫ টা ১-০০ টা ৪-৩০ টা

কিন্তু স্পেশাল গ্যাং ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ ই মার্চের মধ্যে দুপুর দুইটা এবং বৎসরের বাকী সময় দুপুর ২-৩০ টা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করবে না। বিশ্রামের সময় বন্দীরা তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকবে ।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি-৭৮৪। কাজের জন্যে যে শারীরিক শক্তির প্রয়োজন, তা অনুসারে সকল কাজকে ‘শক্ত’, ‘মাঝারি’, এবং ‘হাল্কা’ কাজ হিসেবে বিভক্ত করা হবে। কোন বন্দী সর্বোচ্চ কি পরিমাণ কাজ করতে সক্ষম তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোন বন্দী কোন কাজের জন্যে উপযুক্ত তা মেডিকেল অফিসার নির্ধারণ করে দিবেন। মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ ছাড়া কোন বন্দীকে তার জন্যে নির্ধারিত কাজ অপেক্ষা শক্ত কাজ দেয়া যাবে না। মহিলা ও কিশোর বন্দীকে একজন পুরুষ বন্দীকে প্রদত্ত কাজের দুই তৃতীয়াংশের বেশী শক্ত বা মাঝারী কাজ দেয়া যাবে না।

বিধি-৭৮৫। প্রত্যেক কারাগারে শক্ত কাজে নিয়োজিত বন্দীদের কাজের উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। মাঝারী এবং হাল্কা কাজের উপযোগী কোন বন্দীকে লাভের আশায় কোন শক্ত কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না।

বিধি-৭৮৬। কোন বন্দীকে প্রথম বারের মত কোন প্রকার কাজে নিয়োজিত করার পর একটি যুক্তি সংগত পরিমাণ সময় দিতে হবে যাতে সে ঐ কাজে পারদর্শী হতে সক্ষম হয়। এই সময়ের মধ্যে সে অধ্যবসায় এবং সন্তোষজনক কাজের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হলে তাকে শ্রমের জন্যে রেয়াত মঞ্জুর করা যেতে পারে | এবং মুক্তির সময় ১২৪ নম্বর জেল ফরমে একটি সার্টিফিকেট দেয়া যেতে পারে}। কোন কাজে পূর্ণ মাত্রায় দক্ষতা অর্জনের জন্যে কি পরিমাণ সময় প্রয়োজন তা নির্ভর করবে কাজের ধরনের উপর। ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন পরিহার করা উচিত, তবে একই শক্ত কাজে কোন বন্দীকে অনির্দিষ্ট কাল নিয়োজিত না রেখে মাঝে মাঝে কাজের পরিবর্তন করা উচিত। বন্দীরা কাজ নির্ধারণ করার পূর্বে তার পাক্ষিক ওজন যাচাই করে দেখতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি- ৭৮৭। কোন বন্দীকে ওজন বা পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত কোন কাজ প্রদানের আগে তাকে কি পরিমাণ কাজ করতে হবে দিনের কাজ শুরুর আগে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যাতে বন্দী এবং রক্ষী উভয়ে কাজের অগ্রগতি বুঝতে পারে।

বিধি-৭৮৮। যখন দিনের শেষে বন্দী কাজ শেষ করবে, জেলার বা প্রধান কারারক্ষী বা টাস্ক টেকার বন্দীর সম্পাদিত কাজ পরিমাপ করবেন এবং বন্দীর টাস্ক টিকেটে তা রেকর্ড করবেন। কোন বন্দী তার নির্ধারিত কাজ কম করলে তা তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে এবং তাকে জেল সুপারের সামনে হাজির করতে হবে।

বিধি-৭৮৯। বিভিন্ন কাজের তালিকা, পরিমান ও মাত্রা।

বিধি-৭৯০। কোন বন্দীকে কাজে নিয়োজিত রাখার উদ্দেশ্য হ’ল তাকে অপরাধ থেকে সংশোধন করা। অনুৎপাদনশীল কাজ পরিহার করা উচিত। স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে অদক্ষ কাজে নিয়োজিত করা উচিত হবে। তবে যদি কোন কাজে বন্দীর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, সম্ভব হলে তাকে সে কাজ দেয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদেরকে কারা প্রাচীরের ভিতরের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। বন্দীদেরকে কাজের আধুনিক কলা কৌশল শিক্ষা নিতে হবে যাতে তারা মুক্তি পাবার পরে আধুনিক পরিস্থিতিতে যোগ্যতার সাথে কাজ করতে পারে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বড় কারাগারে একটি বা দুইটি প্রধান শিল্প স্থাপন করতে হবে।

কারা শিল্প প্রধানত: কারা বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে, দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন সরকারী বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে পণ্য উৎপাদনের উপযোগী হতে হবে। এ সব বিভাগ কারাগারে উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য থাকবে, যদি সেগুলি তাদের জন্যে সুবিধাজনক হয় এবং খোলা বাজারের চেয়ে নিম্নমানের বা উচ্চমূল্যের না হয়।

বিধি-৭৯১। কারাগারের উৎপাদন বিভাগের পণ্যের পূর্ণ এবং বিস্তারিত তালিকা বৎসরের শুরুতে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারী বিভাগ সমূহে প্রেরণ করতে হবে। পণ্যের মূল্য যথাসম্ভব এক বৎসরের জন্যে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা পরিবর্তন করা যাবে না।

বিধি-৭৯২ । অকার্যকর।

বিধি-৭৯৩। বাবুর্চী, নাপিত, পানিবাহক, সুইপার প্রভৃতি কাজে কারাগারের গার্হস্থ্য শ্রমিক (menial servants) হিসেবে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী হবে না। জেল সুপার লক্ষ্য রাখবেন যাতে অনুমোদিত হারের চেয়ে বেশী বন্দীকে গার্হস্থ্য শ্রমিক বা কয়েদী কর্মচারী নিয়োগ করা না হয়। যদি কোন গার্হস্থ্য শ্রমিকের দিন ব্যাপী কাজ না থাকে, তবে তাকে দিনের অবশিষ্ট সময় অন্য কোন কাজে নিয়াজিত করা যেতে পারে।

বিধি-৭৯৪। অকার্যকর।

 

বিধি-৭৯৫ । {আঠারো মাস বা তার তর কম সময়ের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বাহির প্রাচীরের কাজের জন্য যোগ্য হবে। যাদের দণ্ডের মেয়াদ বেশী,এক তৃতীয়াংশ মেয়াদ শেষ করলে তারাও যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু এখনও এক বছরের বেশী মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি ব্যতীত বাহির প্রাচীরের কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।}

নং- ৪৬৯ এইচ জে তারিখ ২১-৩-৪৭ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৭৯৬। সাধারণত অল্প মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বাগানের কাজ দেয়া হবে এবং জেল সুপার হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ ভাবে কাজ পাশ করবেন। কোন বন্দীকে শক্ত বা মাঝারী কাজ পাশ করা হলে তাকে বাগান বা কৃষির হাল্কা কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। যদি কোন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কারাগার এলাকায় সরকারী বাসায় বসবাস করেন তার বাসার বাগানের কাজে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের গ্রহরায় ৫ জন বন্দীর গ্যাংকে নিয়োজিত করা যেতে পারে। যদি ডেপুটি সুপার বা জেলারের বাসা সংলগ্ন অনুরূপ বাগান থাকে, তবে বাগানের কাজ নিয়মিত বাগানের গ্যাং যারা করতে হবে, গ্যাং ছুট কোন বন্দীকে কাজে লাগানো যাবে না ।

বিধি ৭৯৭-৭৯৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৯৯। কোন বন্দীকে কারাগারের করণিক কর্মে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ প্রয়োজনে একজন শিক্ষিত বন্দীকে কারাগারের চিঠির নকল, রোল ও রেজিষ্টার লিখার কাজে নিয়োজিত করতে পারেন। সে সব কাজ ওয়ারেন্ট, রেয়াত বা আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত হতে পারবে না। জেলারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে যে, ঐ বন্দী লেখার কাজে এমন জায়গায় বসবে, যা কারাগারের অফিস হতে বেশ দূরে হয়, গেইটের ভিতরে হয় এবং একজন কারারক্ষীর নজরদারীর আওতায় হয়।

বিধি-৮০০। বিনা অনুমোদিত কোন কাজ কারাগারের কারখানার ভিতরে বা বাহিরে করা যাবে না। জেলারের রিপোর্ট বইতে বা জেল সুপার বা ডেপুটি জেল সুপারের মিনিট বইতে আদেশ রেকর্ড না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বা মেরামত জাতীয় কোন কাজ শুরু করা যাবে না। কোন বন্দীর পোশাক রিপেয়ার করার পূর্বে তার হিস্ট্রি টিকেটে তা রেকর্ড করতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি ৮০১। উৎপাদন কাজের কাঁচামাল একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে রাখতে হবে। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ঘুরে দেখবেন ঐ দিনের জন্যে কী পরিমাণ জিনিসপত্র প্রয়োজন হবে এবং যে সকল কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়নি বিকালে তা গুদামে রেখে দিবেন। যে পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে সে পরিমাণ কাজ হয়েছে কিনা, তিনি তা নিশ্চিত করবেন।

বিধি-৮০২। কাঁচামাল সরবরাহের জন্যে প্রযোজ্য উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে জেল সুপার ঠিকাদারের মর্যাদার বিষয়টি দেখবেন এবং ঠিকাদার ও কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসাধু সম্পর্ক যাতে গড়ে না উঠে তা দেখবেন ।

বিধি-৮০৩। উৎপাদন বিভাগের সকল হিসাব জেলার বা ডেপুটি জেলারের তত্ত্বাবধানে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংরক্ষণ করবেন, যিনি হিসাবের নির্ভুলতার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-৮০৪ । যখন কারাগারের কোন উৎপাদিত পণ্যের জন্যে কোন প্রদর্শনীতে নগদ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে, কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা যেতে পারে।

বিধি-৮০৫। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে কাজ বন্টনের জন্যে বন্টন রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-৫) সংরক্ষণ করতে হবে।
টীকা- বর্তমানে কারাগার সমূহে এলুমিনিয়াম থালা, এলুমিনিয়াম বাটি, এলুমিনিয়াম গ্লাস, উলেন জাম্পার, মোজা, মোড়া, কয়েদী কাপড়, জামা, পায়জামা/ট্রোউজার, গামছা, চাদর, টুপি, মার্কিন কাপড়, পাপোষ, ঝাড়ু, ফুড কভার, কার্পেট, কলম দানি, বুক সেল্ফ, ফিনাইল, শাড়ী, লুংগী প্রভৃতি পণ্য উৎপাদন হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *